বাবার অসুস্থতায় সকলের দোয়া চেয়েছেন বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক- সফিক
২৪,জুলাই,শুক্রবার,নিজস্ব প্রতিবেদক,নিউজ একাত্তর ডট কম: গত শুক্রবারে ২য় বারের মতো বাবার মস্তিষ্কে রক্তক্ষরণজনিত কারনে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক সাখাওয়াত হোসেন সফিক এর পিতাকে বগুড়া জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করানো হয়। তিনি বলেন, আজ ৮ দিন হলো তিঁনি আই,সি,ইউ বিভাগে অনেকটাই অচেতন অবস্হায় চিকিৎসকের তত্ত্বাবধানে নিবিড় পর্যবেক্ষণে রয়েছেন। মস্তিষ্কে এবারের আঘাত বেশ গুরুতর। রক্তনালি ছিঁড়ে গিয়ে মস্তিষ্কের বেশ অংশ জুড়ে রক্ত জমাট বেঁধে আছে। বয়স এবং শারিরীক অবস্হা সহ সার্বিক বাস্তবতায় এ মুহূর্তে তার অপারেশন বা অন্য কোথাও তাঁকে স্থানান্তর করা সম্ভব নয় বলে চিকিৎসকগণের অভিমত। সহনীয় স্থিতিশীল অবস্থায় ফিরিয়ে আসতে সৃষ্টিকর্তা মহান রাব্বুল আলামিনের কাছে আমরা সর্বোচ্চ দোয়া এবং প্রার্থনা জানাই যেনো দ্রুতই অসীম দয়াময় প্রভু আমার পরম প্রিয় বাবাকে সুস্হ্যতা দান করেন। সকল বন্ধু, শুভানুধ্যায়ীদের নিকট কেবল সেই দোয়া চাই.. সকলের জীবন সুন্দর হোক, রহমানুর রাহিম আমাদের হেফাজত করুন - আ মী ন...!!
কুড়িগ্রামে তিস্তার ভাঙন রোধ ও স্পার রক্ষার দাবিতে মানববন্ধন
২৪,জুলাই,শুক্রবার,কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি ,নিউজ একাত্তর ডট কম: কুড়িগ্রামের রাজারহাট উপজেলার বিদ্যানন্দ ইউনিয়নে তিস্তা নদীর ভাঙন রোধে বুড়িরহাট ও গাবুর হেলান স্পার ভাঙন রোধে মানববন্ধন করেছে এলাকাবাসী। শুক্রবার সকালে ভাঙন কবলিত গাবুর হেলান স্পারে ঘন্টাখানিক মানববন্ধন করা হয়। মানববন্ধনে এলাকাবাসী প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা করে, ভাঙন কবলিত সন্তানদের রক্ষার জন্য এই এলাকায় নদী খনন ও স্থায়ী বাঁধ নির্মাণের দাবি জানান। এসময় এলাকাবাসীর পক্ষে বক্তব্য রাখেন সমাজকর্মী হক্কানী মিয়া, ইঞ্জিনিয়ার রেজওয়ান বাদশা, মোয়াজ্জেম বদিয়ত আলী, দিনমজুর মন্টু মিয়া, আনিছুর রহমান, আলেমা বেগম প্রমুখ। এলাকাবাসী জানান, ১৯৯৮ সালে ৩৫০ মিটার দীর্ঘ স্পারটি তিস্তার ভাঙন রোধে নির্মাণ করা হয়। গত ৮দিন ধরে এখানে ভাঙন চলছে। ভাঙন রোধে পানি উন্নয়ন বোর্ড কাজ করলেও তারা গাফিলতি করছে বলে অভিযোগ তোলা হয়। এলাকাবাসী স্বেচ্ছাশ্রমে বালু সংগ্রহ করে বস্তায় ভরালেও পানি উন্নয়ন বোর্ডের লোকজন দুর্ভোগ কবলিত এলাকায় এসে খোঁজখবর নিচ্ছেন না। তারা বস্তাগুলো শেলাই করে স্পারের মাথায় ফেলার ব্যবস্থা করছে না। ভাঙন রোধে স্থায়ী কাজের দাবিতে মানববন্ধন আয়োজন করে এলাকাবাসী। স্থানীয়রা জানান, ভাঙনরোধ করা না গেলে গাবুর হেলান মসজিদ, গাবুর হেলান সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, মাজাপাড়া বালিকা দাখিল মাদ্রাসা, সোলাগাড়ি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, তৈয়ব খা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, রাঘব সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, মহাসিনিয়া দাখিল মাদ্রাসাসহ বেশ কয়েকটি মসজিদ. মন্দির, ঈদগাহ মাঠ, কবরস্থান, রাইচমিল এবং শত শত বাড়িঘর নদীগর্ভে চলে যাবে।
ঠাকুরগাঁও সীমান্তে বিজিবির পাহারা জোরদার
২১,জুলাই,মঙ্গলবার,নিজস্ব প্রতিবেদক,নিউজ একাত্তর ডট কম: আসন্ন কোরবানির ঈদকে সামনে রেখে ঠাকুরগাঁও সীমান্তে পাহারাসহ অন্যান্য কার্যক্রম জোরদার করেছে বিজিবি। এছাড়া সীমান্ত এলাকাগুলোতেও মাদক ও চোরাচালান বিরোধী অন্যান্য কার্যক্রমও জোরদার করেছে তারা। সোমবার এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে ঠাকুরগাঁও ৫০ বিজিবির অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. শহিদুল ইসলাম এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। বিজিবি জানায়, গত কয়েকদিন অভিযান চালিয়ে জেলার কাঠালডাঙ্গী, রত্নাই, ডাবরী ও অন্যান্য সীমান্তে বিপুল পরিমাণ ভারতীয় ফেনসিডিল ও চোরাই গরু উদ্ধার করা হয়েছে। ৫০ বিজিবির অধিনায়ক আরও জানান, মাদকদ্রব্যের বিরুদ্ধে সরকার ঘোষিত জিরো টলারেন্স নীতিকে অটুট রাখার স্বার্থে ঠাকুরগাঁও সীমান্তে টহল ও অপারেশনসহ গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে বিশেষ অভিযান চালানো হচ্ছে। এছাড়া সভা সেমিনারের মাধ্যমে সীমান্তবর্তী জনসাধারণকে সচেতন করা হচ্ছে।
নড়াইলে সাংবাদিকদের ঈদ উপহার দিলেন দুদক কমিশনার
২০,জুলাই,সোমবার,মো.আব্দুল্লাহ,নড়াইল প্রতিনিধি,নিউজ একাত্তর ডট কম: পবিত্র ঈদুল আযহা উপলক্ষে দুর্নীতি দমন কমিশনার (তদন্ত) এফ এম আমিনুল ইসলামের পক্ষ থেকে নড়াইল প্রেসক্লাবের সাংবাদিকদের মাঝে ঈদ উপহার দেয়া হয়েছে। সোমবার (২০ জুলাই) বেলা ১১টার দিকে প্রেসক্লাবের ৪০ সদস্যদের মাঝে ঈদের নতুন পোশাক দেয়া হয়। নড়াইল প্রেসক্লাবের সভাপতি এনামুল কবির টুকু, সাধারণ সম্পাদক শামীমূল ইসলাম টুলু ও দুদক কমিশনারের স্বজন ফারুক আহম্মেদ সাংবাদিকদের হাতে এ উপহার তুলে দেন। এ সময় উপস্থিত ছিলেন প্রেসক্লাবের সহসভাপতি নইমুর রহমান ফিরোজ, সাবেক সভাপতি অ্যাডভোকেট আলমগীর সিদ্দিকী, সাবেক সহসভাপতি সুলতান মাহমুদ, প্রথম আলোর সাংবাদিক কার্তিক দাস, নড়াইল বার্তার নির্বাহী সম্পাদক হাফিজুর রহমান, সাংবাদিক গুলশান আরা, মাছরাঙা টিভির সাংবাদিক মীর্জা নজরুল ইসলাম, আরটিভির সাংবাদিক সুজয় বকসী, একুশে টিভির সাংবাদিক ফরহাদ খান, মোহনা টিভির সাংবাদিক হাফিজুল নিলু, প্রতিদিনের সংবাদের সাংবাদিক লুৎফুল আলম সজলসহ অন্যরা।
হুমায়ূন আহমেদ স্মরণে ২ ছেলেকে নিয়ে নুহাশপল্লীতে শাওন
১৯,জুলাই,রবিবার,নিজস্ব প্রতিবেদক,নিউজ একাত্তর ডট কম: গাজীপুরের পিরুজালীর নুহাশপল্লীতে জনপ্রিয় কথাসাহিত্যিক হুমায়ূন আহমেদের অষ্টম মৃত্যুবার্ষিকী পালিত হয়েছে। তবে করোনাকালের বাস্তবতায় অনাড়ম্বর আয়োজনে এবার এই লেখককে স্মরণ করা হলো। রবিবার সকালে লেখকের স্ত্রী মেহের আফরোজ শাওন, দুই ছেলে নিনিত ও নিষাদ হুমায়ূনের উপস্থিতিতে কবর জিয়ারত করা হয়। পরিবারের লোকজনের সাথে হুমায়ূন আহমেদের প্রকাশক, শুভানুধ্যায়ী ও ভক্তরা উপস্থিত ছিলেন। এসময় লেখকের আত্মার শান্তি কামনায় প্রার্থনা করা হয়। কবর জিয়ারত শেষে হুমায়ূন আহমদের স্ত্রী মেহের আফরোজ শাওন গণমাধ্যমকে হুমায়ূনের স্বপ্ন এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার প্রত্যয় পুনর্ব্যক্ত করেন। তবে পারিবারিক সিদ্ধান্তহীনতার কারণে ক্যান্সার হাসপাতাল ও জাদুঘর নির্মাণ শুরু করতে না পারায় দুঃখ প্রকাশ করেন। প্রতিবছর সকাল থেকে হুমায়ূন পরিবার, তার ভক্ত, কবি, লেখক এবং নাট্যজনেরা ফুল হাতে শ্রদ্ধা জানাতে ভিড় করেন নুহাশপল্লীর লিচু তলায়। নন্দিত লেখকের প্রিয় চরিত্র হলুদ পাঞ্জাবিতে হিমু এবং নীল শাড়িতে রূপা সেজে আসেন ভক্ত ও পাঠকেরা। এবার করোনা ঝুঁকিতে স্বাস্থ্যবিধির বাধ্যবাধকতা থাকায় দূর দূরান্তের বিপুল সংখ্যক লেখক ভক্তরা নুহাশপল্লীতে না এলেও কিছু সংখ্যক ভক্ত অনুরাগী উপস্থিত হয়েছিলেন। তারা লেখকের প্রতি অতল শ্রদ্ধা ও ভালোবাসার কথা জানান। প্রয়াণ দিবসের স্মরণসভায় উপস্থিত ছিলেন হুমায়ূন আহমেদের প্রকাশকেরা। এখানে আসা অন্যপ্রকাশের প্রকাশক মাজহারুল ইসলাম বলেন, বাংলা ভাষা যতদিন থাকবে ততদিন হুমায়ূন আহমেদ পঠিত হবে। ১৯৪৮ সালের ১৩ নভেম্বর নেত্রকোনার কেন্দুয়া উপজেলার কুতুবপুর গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন নন্দিত কথাসাহিত্যিক হুমায়ূন আহমেদ। তার বাবা ফয়েজুর রহমান ও মা আয়েশা ফয়েজ। ১৯৭২ সালে প্রথম উপন্যাস নন্দিত নরকে প্রকাশের পরপরই খ্যাতি লাভ করেন তিনি। বাংলাদেশে পাঠকপ্রিয় এই লেখক দুই শতাধিক ফিকসন ও নন-ফিকসন বই লিখেছেন। হিমু, মিছির আলীর মতো চরিত্র দিয়ে লাখো-কোটি পাঠক-ভক্ত তৈরি করেছেন এই কথার জাদুকর। ১৯৯০ ও ২০০০ দশকে তার বইগুলো একুশে বইমেলায় সর্বাধিক বিক্রি হয়। তাকে বাংলাদেশের স্বাধীনতা পরবর্তী শ্রেষ্ঠ লেখকদের মধ্যে অন্যতম গণ্য করা হয়। বাংলা কথাসাহিত্যে তিনি সংলাপপ্রধান নতুন শৈলীর জনক। বাংলা সাহিত্যে অসাধারণ অবদান রাখার স্বীকৃতিস্বরূপ হুমায়ূন আহমেদকে একুশে পদক, বাংলা একাডেমি পুরস্কার, মাইকেল মধুসূদন পদক দেয়া হয়। ২০১২ সালে ১৯ জুলাই মরণ ব্যাধি ক্যান্সারে আক্রান্ত হয়ে তিনি নিউইয়কের্র একটি হাসপাতালে মারা যান।
পদ্মায় পানি বেড়ে বিপদসীমার ১০৪ সেন্টিমিটার উপরে প্রবাহিত
১৯,জুলাই,রবিবার,বালিয়াকান্দি প্রতিনিধি,নিউজ একাত্তর ডট কম: পদ্মায় রাজবাড়ীর অংশে পানি বিপদসীমার ১০৪ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। এতে জেলার নিম্নঞ্চালের বাসিন্দাদের দুর্ভোগ বেড়েছে। চরাঞ্চলের মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন। জেলার সদর ,গোয়ালন্দ, কালুখালী এবং পাংশা উপজেলার মিজানপুর, বরাট খানগঞ্জ, চন্দনী, দেবগ্রাম, দৌলতদিয়া, ছোটভাকলা, রতনদিয়া, কালিকাপুর, হাবাসপুর ও বাহাদুরপুর এই ১২টি ইউনিয়নের প্রায় ৪০ গ্রামের অর্ধলাখ মানুষ বন্যায় প্লাবিত ও পানিবন্ধি রয়েছেন। সরেজমিনে দেখা যায়, গ্রামগুলো বানের পানিতে ভাসছে। প্রতিটি মানুষের বাড়ির ঘরের চাল ছুই ছুই পানিতে পরিপূর্ণ। এখানে বসবাসরত মানুষ খেয়ে না খেয়ে কোন রকমে দিন যাপন করছেন। ঘরে নেই খাবার, নেই রান্না করার চুলা, ফসলী মাঠ ভাসছে এখন বানের পানিতে। নষ্ট হচ্ছে ঘর বাড়ি, ধান, পাট ও সবজিসহ সব ধরনের ফসল। বিশুদ্ধ খাবার পানির সংকটসহ গবাদি পশুর বাসস্থান ও খাবারের চরম সংকট দেখা দিয়েছে। বিভিন্ন ধরনের রোগ বালাই দেখা দিয়েছে, সেই সঙ্গে সাপের উপদ্রপ রয়েছে। বিশেষ করে ছোট বাচ্চা ও বয়স্কদের নিয়ে পরিবারগুলো বিপাকে পড়েছেন। এরই মধ্যে কোন রকমে বেঁচে থাকার চেষ্টা করে যাচ্ছেন বানভাসিরা। প্রতিদিন পানি বৃদ্ধির কারণে নতুন নতুন এলাকা প্লাবিত হচ্ছে। কোন রকমে ঘরের মধ্যে মাচা করে রাত যাপন করছেন ভুক্তভোগীরা। তবে এখনও পর্যন্ত ভুক্তভোগী মানুষ গুলো কনো ধরনের সরকারী সাহায্য বা সহযোগিতা পাননি। প্লাবিত এলাকা পরিদর্শনে আসেননি জনপ্রতিনিধি বা স্থানীয় প্রশাসনের কেউ। এরই মধ্যে কয়েকদিনের পানি বৃদ্ধির কারণে জেলার গোয়ালন্দ, সদর পাংশা ,বালিয়াকান্দি উপজেলাসমূহে পদ্মা নদী তীরবর্তী নিম্নাঞ্চলের সংলগ্ন হওয়ায় ১২ টি ইউনিয়নের প্রায় ৩০ থেকে ৩৫ টি গ্রাম বন্যার পানিতে প্লাবিত হয়েছে। এর ফলে শতশত হেক্টর ফসলী জমির ফসল নষ্ট হয়ে গেছে। এসব অঞ্চলের প্রায় ৩০ হাজারেরও বেশি মানুষ বন্যার পানিতে দুর্ভোগে জীবন যাপন করছে। গত ২৪ ঘন্টায় পদ্মায় পানির ১ সেন্টিমিটার কমেছে। গতকাল শনিবার পদ্মার পানি বিপদসীমার ১০৫ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হলেও আজ রোববার তা ১ সেন্টিমিটার কমেছে।
ডিম আগে নাকি মুরগি, অবশেষে সমাধান এল গবেষণায়
১৮,জুলাই,শনিবার,নিজস্ব প্রতিবেদক,নিউজ একাত্তর ডট কম: ডিম আগে নাকি মুরগি, যুগে যুগে এই প্রশ্নটি চলে এসেছে। বহু বিজ্ঞানী থেকে সমাজতত্ত্ববিদ এই জটিল ধাঁধার সমাধানে কাজ করেছেন যুগের পর যুগ। কিন্তু কোনও সমাধান খুঁজে পাননি। অবশেষে সমাধান এল এক গবেষণায়। আমেরিকায় একটি গবেষণার পর জানা গেছে, এই পৃথিবীতে কার অস্তিত্ব আগে! মুরগি নাকি ডিম! এনপিআর নামক এক মার্কিন ওয়েবসাইট জানিয়েছে, বহু পুরনো এই ধাঁধার উত্তর। আর সেটা অনেকদিন ধরে চলা গবেষণার ফসল। মার্কিন সাংবাদিক রবার্ট ক্রুলউইচ এই নিয়ে রীতিমতো গবেষণা করেছেন কয়েক বছর ধরে। সেই ওয়েবসাইটে জানানো হয়েছে, কয়েকশে বছর আগে পৃথিবীতে ছিল মুরগির মতো দেখতে একটি বড় আকারের পাখি। সেই পাখির সঙ্গে মুরগির জিনগত মিল ছিল। কিন্তু সেটি মুরগি ছিল না। বিজ্ঞানীদের বক্তব্য, সেটি ছিল এক ধরনের প্রোটো-চিকেন। সেই পাখি একটি ডিম পেড়েছিল। সেই ডিমে মুরগির পুরুষসঙ্গী কিছু নতুন বৈশিষ্ট্য যোগ করে। তারপর আরও কিছু বিবর্তনগত পরিবর্তন ঘটে সেই ডিমে। সেই পরিবর্তন তখনকার সেই পুরুষ কিংবা নারী মুরগির জিন থেকে বেশ কিছুটা আলাদা। বিজ্ঞানীদের দাবি, ওই ডিম ফুটে যে বাচ্চা বেরিয়েছিল সেই নতুন প্রজাতির পাখিই আজকের মুরগির আদি এবং প্রকৃত পূর্বপুরুষ। এরপর কয়েক হাজার বছর ধরে পৃথিবীতে পরিবর্তিত পরিস্থিতির সঙ্গে মানিয়ে নিতে মুরগির শরীরে বহু পরিবর্তন হয়েছে। সেই মুরগির সঙ্গে এখনকার মুরগির হয়তো পার্থক্য অনেক। তবে ডিমের মধ্যে মিউটেশন ঘটে যাওয়ার ফলে সেই আদি মুরগির জন্ম হয়েছিল। তার মানে সেই ডিমের আগে কোনও মুরগি ছিল না। অর্থাৎ ডিম-ই আগে, মুরগি এসেছে পরে।
হায়রে মানুষ রঙিন ফানুস, দম ফুরাইলে ঠুস
১৭,জুলাই,শুক্রবার,নিজস্ব প্রতিবেদক,নিউজ একাত্তর ডট কম: মহামারি করোনা দূরে সরিয়ে দিচ্ছে আপনজনকে। আক্রান্ত রোগী থেকে মৃতব্যাক্তি, ধনী থেকে দরিদ্র, শিল্পপতি থেকে শীর্ষ নেতা কারও পাশেই দেখা মিলছে না স্বজনদের। স্ত্রী-সন্তান, বাবা-মা থেকে বন্ধু-স্বজন সবাই দূরত্ব বজায় রাখছেন। শেষ বারের মতো মৃতের মুখটাও দেখতে চায় না অনেকে। এলাকাবাসী বা স্বজনরা সহযোগিতা তো দূরের কথা, বিদায় হওয়া মানুষটির জানাযা বা দাফনে অংশ নিতেও নারাজ তারা। এ যেনো ভিন্ন এক জগতের নব রূপ দেখছি আমরা। সম্প্রতি এক শিল্পপতির মৃত্যুর পর নিজে অভিজ্ঞতা প্রকাশ করে একজন বেসরকারি টেলিভিশনের সাংবাদিক ফেসবুকে একটি স্ট্যাটাস দিয়েছিলেন। যা প্রকাশের পর সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হয়ে যায়। তিনি লিখেছিলেন- ওই শিল্পপতি যখন আইসিইউতে, ঘটনাক্রমে তিনিও কয়েকদিন তার পাশের রুমটাতে ছিলেন। এ সময়ে তিনি দেখেছেন শিল্পপতির আত্মীয় স্বজন কেউই খোঁজ নিতে আসেননি। চার দিনের মধ্যে একদিন শুধু শিল্পপতির কোম্পানির ঊর্ধতনরা এসেছিলেন দেখতে। স্যারের কি কি লাগবে? কি কম হলো? যন্ত্রণা কতটুকু কমলো? ওষুধ, ইনজেকশন দরকার হলে বেশি বেশি দিতে বলেন চিকিৎসকদের। ব্যাপারগুলো এমনই মনে হয়েছে যে- দরকার হলে স্যার একাই আইসিইউয়ের ১৫ বেডে থাকবে। এর বাইরে আর কিছুই দেখা মেলেনি। মৃত্যুর সময়ে একজন প্রিয় মানুষেরও হাতের স্পর্শ তিনি (শিল্পপতি) পাননি! কারো সাথে বিদায় শব্দটি বলতে পেরেননি। ভীষণ নি:স্তব্দ একটি রুম, আধো আলো। চারপাশে সব অর্ধমৃত, মৃতপ্রায় মানুষ। সেখানেই তিনি একা। আহারে জীবন! ঠিক এমনই আরেক ঘটনার বর্ণনা দেন স্বেচ্ছাসেবীদের এক সদস্য। তিনি জানান, মধ্যবয়সী এক মা মারা গেছেন কোভিড ১৯-এ আক্রান্ত হয়ে। মৃত্যুবরণ করেছেন রাজধানীর একটি সরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায়। মৃত্যুর পর তার লাশ রাখা ছিল সেই হাসপাতালের মর্গে। হাসপাতালে ছিলেন শুধু ওই নারীর এক ছেলে। তিনি অপেক্ষা করেছেন কখন হাসপাতালে স্বেচ্ছাসেবীরা পৌঁছাবে সে জন্য। স্বেচ্ছাসেবীরা হাসপাতাল পৌঁছার পর দেখলেন, মৃত নারীর যুবক ছেলেটি পিপিই পরে আছেন। সেটা দেখে তারা ছেলেটিকে অনুরোধ করলেন শেষ পর্যন্ত থাকতে। কিন্তু ছেলেটি মর্গে তার মায়ের লাশের নম্বর এবং নামটা বলেই চলে গেলেন। স্বেচ্ছাসেবীরা লাশ খুঁজে পেয়েছেন কিনা সেটি দেখার জন্যেও অপেক্ষা করেন নি তিনি। এদিকে স্বেচ্ছাসেবীরা মর্গের নির্দিষ্ট ড্রয়ারে তার মায়ের নামের ট্যাগসহ কোনো লাশ খুঁজে পাচ্ছেন না। একটার পর একটা ড্রয়ার তারা খুলছেন, কিন্তু সেই মায়ের নামে কোনো লাশ আর মেলে না। বেশ অনেকক্ষণ চেষ্টার পর অন্য একটি ড্রয়ারে লাশের খোঁজ মিলল। খুব ছোট করে লেখা ছিল সেই মায়ের নাম। ঘটনা এখানেই শেষ নয়। মর্গে তখন এত লাশ ছিল যে, ড্রয়ার ছাড়াও মেঝেতে অনেক লাশ পড়ে ছিল। ভদ্রমহিলার লাশ পরিচ্ছন্ন করার জন্যে নিচে নামানোর মতো জায়গা অবশিষ্ট নেই। তখন হাসপাতালের একজন কর্মচারী এলেন। তিনি কয়েকটা লাশ সরিয়ে একটু জায়গা বের করে দিয়েই মুহুর্তের মধ্যে চলে গেলেন। এরপর তার দেখাও মেলে নি আর। মৃতদেহের হাতে ইনজেকশনের ক্যানুলা এবং প্রস্রাবের ক্যাথেটার কিছুই খোলা হয় নি তখন পর্যন্ত! আশেপাশেও কেউ ছিল না এ-কাজে সহযোগিতা করার মতো। চারিদিকে লাশ পরিবেষ্টিত সেই মর্গে তখন খুব অসহায় বোধ করছিলেন মহিলা স্বেচ্ছাসেবীরা। আর ফেস শিল্ড পরে চোখেও ঝাপসা দেখছিলেন তারা। বাধ্য হয়ে অনভিজ্ঞ স্বেচ্ছাসেবীরাই ক্যানুলা খুললেন। আর ক্যাথেটার খুলতে না জানার কারণে সেটা খোলার সময় ইউরিনে মেঝে ভেসে একাকার। দাফন টিমের মহিলা সদস্যরা অনেক কষ্টে সেই মৃতদেহ পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন করেন। জীবাণুমুক্ত করে লাশ প্যাকেট করে হাসপাতালের বাইরে নিয়ে আসেন। তারপর স্বেচ্ছাসেবী দলের পুরুষ সদস্যদের সহযোগিতায় লাশ দাফন করা হয় রাজধানীর নির্ধারিত কবরস্থানে। নির্জন কবরস্থান। মধ্য দুপুরে প্রচণ্ড রোদ। কোথাও কেউ নেই। সেখানে মৃত মায়ের জন্যে নামাজে জানাজা পড়ান স্বেচ্ছাসেবীরাই। তারা নিজের মায়ের মমতায় দোয়া করলেন মৃতের জন্যে, যার শেষ বিদায়ে ছিল না কোনো আপনজন। এমনই আরেক ঘটনায় জানা যায়, দুই সন্তানের জননী। ১৯ জুন ২০২০ সন্ধ্যা ৬টার দিকে তিনি মৃত্যুবরণ করেন। মৃত্যুর পাঁচ দিন আগে তিনি করোনা আক্রান্ত হয়ে ময়মনসিংহ শহরের একটি সরকারি হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিলেন। মৃত্যুর পর হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ ফোন করে স্বেচ্ছাসেবীদের টিমকে। তারা রাতেই ঘটনাস্থলে গিয়ে দেখেন অবহেলিত অবস্থায় পড়ে আছে এক শীর্ণকায় নারীর দেহ। তার রক্তশূন্য জীর্ণ অবস্থা দেখেই চোখের পানি ধরে রাখা কঠিন হয় স্বেচ্ছাসেবীদের। দেখেই বোঝা যাচ্ছিল, ধুঁকে ধুঁকে মৃত্যুবরণ করেছেন ভগ্নস্বাস্থ্যের অসহায় এই নারী। হাসপাতাল থেকে নম্বর জোগাড় করে মৃতের আপনজনদের সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করা হয়। কোনো সহযোগিতা তারা করবেন নাকি বেওয়ারিশ হিসেবে লাশটা দাফন করা হবে, এ সিদ্ধান্তের জন্যে মূলত ফোন করা হয়। বেশ কিছুক্ষণ চেষ্টার পর মরহুমার স্বামী এবং ভাইয়ের সাথে যোগাযোগ করা সম্ভব হলো। তারা প্রথমে বললেন, লাশ নিতে হাসপাতাল আসছেন। কিন্তু মাত্র ৩০ মিনিটের দূরত্ব তারা পরবর্তী তিন-চার ঘণ্টায়ও অতিক্রম করতে পারেন নি। বার বার ফোন করা হচ্ছে। বার বার তাদের একই কথা এই তো চলে আসছি, এখনই আসছি। তিন-চার ঘণ্টা পরে তারা জানালেন, করোনাভাইরাসের কারণে গ্রামে লাশ নিতে আপত্তি জানাচ্ছে গ্রামবাসী। তখন তাদেরকে জানানো হলো প্রশাসন থেকে সহায়তা দেয়া হবে। ইতোমধ্যে যে-কোনোভাবে প্রশাসনিক কর্মকর্তারা মৃত মহিলার খবর জেনেছেন। তারাও যোগাযোগ করেছেন স্বেচ্ছাসেবীদের সাথে। এরকম পরিস্থিতিতে স্বেচ্ছাসেবীদের পক্ষে লাশের দাফন বিষয়ক সিদ্ধান্ত নেয়াটা কঠিন হয়ে পড়ে। অপেক্ষা করা ছাড়া তাদের তখন কিছুই করার ছিল না। অপেক্ষা করতে করতে রাত ১২টা। লাশ পড়ে আছে হাসপাতালের মর্গে। এসময় মরহুমার স্বামী এবং ভাই হাসপাতালে এলেন। কিন্তু তারা লাশ গ্রহণ করবেন না বলে সিদ্ধান্ত দিলেন। তখন তো স্বেচ্ছাসেবীদের মানসিক অবস্থা সহজেই অনুমেয়। কারণ বেওয়ারিশ লাশের জন্যে আলাদা আইনি ও প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হয়, যা এত রাতে আর সম্ভব নয়। তখন বাধ্য হয়ে লাশ হাসপাতালের মর্গে রেখেই তারা ফিরে গেলেন। স্বেচ্ছাসেবীরা মৃতের ভাইকে কিছু প্রশ্ন করে জানতে পারলেন, মৃত্যুর চার মাস পূর্বে দ্বিতীয় বারের মতো মা হন এই নারী। এরপর থেকেই তিনি নানারকম শারীরিক জটিলতায় ভুগতে থাকেন। এসময় স্বামী তাকে তার বাবার বাড়ি পাঠিয়ে দেন। এ চার মাস ধরে নিয়মিত রক্তক্ষরণ হতো এবং তীব্র ব্যথা ছিল তার। কিন্তু তেমন কোনো চিকিৎসা তিনি পান নি। অবস্থার আরো অবনতি ঘটে যখন তিনি করোনা আক্রান্ত হন। তখন তার স্বামী তাকে হাসপাতাল ভর্তি করে চলে যান। হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, মৃত্যুর তিন দিন আগে থেকেই তার কোনো খোঁজখবর নেন নি তার স্বামী, ভাই কিংবা পরিবারের অন্য কোনো সদস্য। পরদিন সকালে স্বেচ্ছাসেবীদের কাছে ফোন আসে, বেওয়ারিশ হিসেবেই মহিলার লাশ দাফনের জন্যে। সিদ্ধান্ত পেয়ে হাসপাতাল পৌঁছে পুরোদমে কাজ শুরু করেন তারা। লাশ প্রস্তুত করতে গিয়ে মহিলা স্বেচ্ছাসেবীরা দেখলেন, লাশের চুলে কানে গলায় পেচানো অবস্থায় অনেকগুলো তাবিজ-কবচ। পরম প্রভুই ভালো জানেন, হয়তো-বা এসব তাবিজ-কবচকে আধুনিক চিকিৎসার বিকল্প হিসেবেই ব্যবহার করা হয়েছে! তাবিজগুলো কেটে আলাদা করতেই অনেক সময় লেগে যায় স্বেচ্ছাসেবীদের। এতকিছুর পর লাশ প্রস্তুত করে শহরের একটি কবরস্থানে নিয়ে যাওয়া হলো। যাওয়ার পর দেখা গেল কবর বৃষ্টির পানিতে ভরে গেছে। পানি সেচতে হবে। এসময় আবার প্রশাসনের পক্ষ থেকে ফোন এলো। জানানো হলো, এই নারীর ভাই তার বোনের লাশ গ্রামে নিয়ে যেতে রাজি হয়েছেন, স্বেচ্ছাসেবীরা যেন আরেকটু কষ্ট করে লাশটি তাদের গ্রামে দাফন করেন। তখন আবারো লাশ বয়ে নিয়ে অ্যাম্বুলেন্সে তোলা হলো, যদিও প্রচণ্ড ভ্যাপসা গরমের মধ্যে পিপিই পরে থাকার কারণে শারীরিকভাবে কষ্ট হচ্ছিল স্বেচ্ছাসেবীদের। এই অবস্থায় আরো ৩০ মিনিটের পথ অতিক্রম করে গ্রামে নিয়ে যাওয়া সত্যিই কষ্টসাধ্য কাজ। তবুও তাদের অনুরোধে গ্রামে নিয়ে যান স্বেচ্ছাসেবীরা। সেখানে জানাজা শেষে এক পশলা বৃষ্টি। সবশেষে ২২ ঘণ্টা পর তার লাশ দাফন করা হলো। এরকম শত শত ঘটনার জন্ম দিচ্ছে মহামারি করোনা। যেখানে মমতা, মানবতা, আত্মিকবন্ধন সবই উপেক্ষিত হচ্ছে। হায়রে মানুষ রঙিন ফানুস, দম ফুরাইলে ঠুস।- একুশে টেলিভিশন
যমুনা গ্রুপের চেয়ারম্যান এর আত্মার শান্তি কামনায় নওগাঁয় দোয়া
১৭,জুলাই,শুক্রবার,সোলাইমান কাইসার,নওগাঁ প্রতিনিধি,নিউজ একাত্তর ডট কম: বিশিষ্ট শিল্পপতি,যমুনা গ্রুপের চেয়ারম্যান মুক্তিযোদ্ধা নুরুল ইসলাম বাবুল এর রুহের মাগফেরাত কামনায় নওগাঁয় দোয়া ও মিলাদ মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়েছে। শুক্রবার বাদ জুম্মা যুগান্তর স্বজন সমাবেশের আয়োজনে দক্ষিণ পার-নওগাঁ মুহিউচ্ছুন্নাহ নূরানী হাফেজিয়া মাদ্রাসা ও এতিম খানায় এই দোয়া ও মিলাদ মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়। নওগাঁ জেলা প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক আবু বকর সিদ্দিক, যুগ্ম সম্পাদক মাহমুদুন নবী বেলাল, সাংবাদিক এম আর ইসলাম রতন,খন্দকার আব্দুর রফউ পাভেল,জাহিদুল হক মিন্টু, প্রধান শিক্ষক হাফিজ আতিকুর রহমান, যুগান্তর নওগাঁ প্রতিনিধি আব্বাস আলীসহ অন্যান্যরা উপস্থিত ছিলেন। এর আগে কুরআনখানী করে মাদ্রাসার শিক্ষার্থীরা। পরে মরহুমের রুহের মাগফিরাত কামনায় দোয়া পরিচালানা করেন হযরত খাদিজা (রাঃ) মহিলা ফাজিল মাদ্রাসার আরবি প্রভাষক মাওলানা মো: সিদ্দিকুর রহমান।

সারা দেশ পাতার আরো খবর