নিজেদের অপকর্ম লুকাতে বিএনপির এমন অপপ্রচার: রাজ্জাক
আওয়ামী লীগের সভাপতিমন্ডলীর সদস্য ড. আবদুর রাজ্জাক বলেছেন, বিএনপির অপপ্রচার ও মিথ্যাচারের রাজনীতি নতুন নয়। তারা তাদের অতীত অপকর্ম লুকাতে চিরাচরিত অপপ্রচারের আশ্রয় নিয়েছে দলটি নেতারা। আমরা দেখেছি গত কয়েকদিন বাংলাদেশের বিভিন্ন অর্থনৈতিক প্রতিষ্ঠান সম্পর্কে নির্লজ্জ মিথ্যাচার চালিয়ে যাচ্ছে বিএনপি। এ ধরনের মিথ্যাচারের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছি। তাছাড়া, দুর্নীতিপরায়ণ লোকেদের উজ্বল উদাহরণ হচ্ছে বিএনপি নেতারা। কেননা, দুর্নীতি দমন কমিশন কর্তৃক তদন্তাধীন ও বিচারাধীন প্রায় ৩২টি পাচার সংক্রান্ত মানিলন্ডারিং মামলার মধ্যে বেশিরভাগই বিএনপি নেতাদের বিরুদ্ধে। শনিবার আওয়ামী লীগ সভানেত্রী ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ধানমন্ডিস্থ রাজনৈতিক কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ কথা বলেন। তিনি বলেন, বর্তমানে দুর্নীতি দমন কমিশন কর্তৃক তদন্তাধীন ও বিচারাধীন প্রায় ৩২টি পাচার সংক্রান্ত মানিলন্ডারিং মামলা রয়েছে যার মধ্যে বেশিরভাগই বিএনপি নেতাদের বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ। এখানে যেসব উল্লেখযোগ্য নেতা রয়েছেন তাদের মধ্যে তারেক জিয়া, গিয়াস উদ্দিন আল মামুন, মোর্শেদ খান ও খন্দকার মোশাররফ হোসেনের বিরুদ্ধে ইতোমধ্যে দুদক কর্তৃক দায়েরকৃত বিদেশে অর্থপাচার ও মানিলন্ডারিং মামলা চলমান রয়েছে এবং লুৎফজ্জামান বাবর, আলী আসগর লবী, ব্যারিস্টার মওদুদ আহমেদ ও তার স্ত্রীসহ অনেক বিএনপি নেতাদের বিদেশে অর্থ পাচারের বিষয়টি তদন্তাধীন রয়েছে। বিএনপির শাসনামলে ব্যাংকের টাকা চুরির সংস্কৃতি শুরু হয়। শুরু হয় ঋণ খেলাপী সংস্কৃতি। তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার ভাই সাঈদ ইস্কান্দার, তার পুত্র তারেক রহমান ও আরাফাত রহমান কোকো এবং তাদের ব্যবসায়িক পার্টনার গিয়াস উদ্দিন আল মামুন ড্যান্ডি ডায়িং, খাম্বা লিমিটেড, ওয়ান স্পিনিংসহ ১৫টি প্রতিষ্ঠানের নামে ভুয়া সম্পত্তি দেখিয়ে ৯৮০ কোটি টাকা ঋণ গ্রহণ করে। স্বয়ং প্রধানমন্ত্রী পরিবার ভুয়া সম্পত্তি দেখিয়ে এভাবে ঋণ গ্রহণ ও ঋণ মওকুফের নজির পৃথিবীর আর কোথাও নেই। রাষ্ট্রীয় ক্ষমতা ব্যবহার করে বিএনপি নেতাদের দুর্নীতি করার বিষয়টি দেশীয় এবং আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে প্রকাশ পেয়েছে। বিএনপি নিজেদের লুটপাটের ও দুর্নীতির রাজনীতি ঢাকতে গিয়ে আজ বর্তমান সরকারের বিরুদ্ধে নানা ধরনের অপপ্রচার চালাচ্ছে। আ'লীগের এই নেতা বলেন, বর্তমান সরকারের বিরুদ্ধে বিএনপি দুই লাখ কোটি টাকা লুটের তথ্য ও অভিযোগ সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন। আমরা এ ধরনের মিথ্যা ও বিভ্রান্তিমূলক বক্তব্য প্রত্যাহারের দাবি জানাচ্ছি। বর্তমান সরকার আর্থিক খাতসহ দেশ পরিচালনার সর্বক্ষেত্রেই স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতায় বিশ্বাসী। রাজ্জাক বলেন, বাংলাদেশ ব্যাংক কর্তৃক ফার্মার্স ব্যাংক লিমিটেডকে ২০১৩ সালে লাইসেন্স প্রদান করা হয়। পরবর্তীতে ব্যাংকিং কার্যক্রম পরিচালনাকালে নানাবিধ অনিয়মের বিষয়টি কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নজরে আসলে কেন্দ্রীয় ব্যাংক কর্তৃক যথাযথ প্রক্রিয়া অনুসরণ করে ব্যাংকটির কার্যক্রম নিয়মিত পর্যবেক্ষণের আওতায় নিয়ে আসা হয়। এছাড়াও একজন বিদ্যমান সাংসদসহ ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদের প্রভাবশালী সদস্যদেরকে পদত্যাগে বাধ্য করা হয়। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাগণ ও জড়িত পরিচালকদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য বিষয়টি দুদকের তদন্তাধীন রয়েছে। একই সাথে ব্যাংকটির ব্যবস্থাপনা পরিচালককে কেন্দ্রীয় ব্যাংক অপসারণ করেছে, মামলাও করেছে। তিনি আরো বলেন, বাংলাদেশ ইসলামী ব্যাংক লিঃ এর মালিকানা পরিবর্তনের ফলে ব্যাংকটিতে আর্থিক সংকটের সৃষ্টি হয়েছে এ ধরনের তথ্য ভিত্তিহীন এবং বিভ্রান্তিকর। সংবাদ সম্মেলনে আরো উপস্থিত ছিলেন আওয়ামী লীগের দপ্তর সম্পাদক ড. আবদুস সোবাহান গোলাপ প্রমুখ।
ডাবল মার্ডারের আসামিদের গ্রেফতার দাবিতে মানববন্ধন নোয়াখালীতে
নোয়খালীর বেগমগঞ্জ উপজেলার একলাশপুরে চাঞ্চল্যকর ডাবল মার্ডারের আসামি সুমন এবং তার সহযোগী খুনিদের গ্রেফতার ও ফাঁসির দাবিতে মানববন্ধন করেছে একলাশপুর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগ ও এলাকাবাসী। একলাশপুর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের উদ্যোগে রোববার দুপুর ১২টায় নোয়াখালী প্রেসক্লাব প্রাঙ্গণে ঘণ্টাব্যাপী এ মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করা হয়। মানববন্ধন কর্মসূচিতে বক্তব্য রাখেন- বেগমগঞ্জ উপজেলা কৃষকলীগের দপ্তর সম্পাদক দেলোয়ার হোসেন, উপজেলা যুবলীগ নেতা আবদুল ওহাব, শরীফপুর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগ নেতা মন্নান, শরীফপুর ইউনিয়ন যুবলীগের আহ্বায়ক মিজানুর রহমান মিশন, নিহত মোহাম্মদ আলীর বাবা সোলায়মান, ভাই ও হত্যা মামলার বাদী শরাফত আলী প্রমুখ। বক্তারা জানান, স্থানীয় সন্ত্রাসী খালাসি সুমন ও তার বাহিনীর অপ্রতিরোধ্য অত্যাচারের শিকার হয়ে বেগমগঞ্জ উপজেলার অসহায় বিভিন্ন পরিবারসহ অসংখ্য ব্যবসায়ী নিরুপায় হয়ে প্রাণভয়ে তাদের বাড়িঘর ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ফেলে রেখে জীবন রক্ষার্থে অন্যত্র চলে যায়। আত্মগোপনে থাকার কারণে এখন প্রশাসনের সামনে দিয়ে দিব্যি চলাফেরা করছে আসামিরা। মানববন্ধনে অংশ নেওয়া শত শত মানুষের একটাই দাবি সন্ত্রাস চাঁদাবাজ ও সীমাহীন অপকর্মের নায়ক একাধিক হত্যা মামলার আসামি খালাসী সুমনকে অবিলম্বে গ্রেফতার করে আইনের আওতায় এনে ফাঁসি কার্যকর করতে হবে। উল্লেখ্য, গত ১০ মার্চ নোয়াখালীর বেগমগঞ্জ উপজেলায় মোহাম্মদ আলী ও মোহাম্মদ রবিন নামে দু’জনকে কুপিয়ে ও গুলি হত্যা করেছে সন্ত্রাসীরা। উপজেলার এখলাসপুরের ভিআইপি রোডে এ ঘটনা ঘটে। নিহত দুজন সম্পর্কে চাচা-ভাতিজা ছিলেন। এ ঘটনায় সুমনকে আসামি করে মামলা করা হয়েছে। এছাড়াও সুমনের বিরুদ্ধে বেগমগঞ্জ থানায় ১০/১২টি মামলা রয়েছে বলে জানান মানববন্ধনে অংশগ্রহনকারী এলাকাবাসীরা।
বসে দেখলেন স্ত্রী,স্বামী ফাঁস নিচ্ছেন !
অভিমানী স্বামী আত্মহত্যা করবেন। এজন্য ঘরের ফ্যানের সঙ্গে দড়ি বাঁধছেন। এরপর সেই দড়ি নিজের গলায় নিয়ে ঝুলে পড়লেন। মুহূর্তেই তার মৃত্যু নিশ্চিত হলো। দড়ি বাঁধা থেকে মৃত্যুর গোটা সময়ে স্বামীর সামনে বসেই দেখলেন স্ত্রী। না, কোনো সিনেমা বা গল্প নয়। বাস্তবেই এমন ঘটনা ঘটেছে চট্টগ্রামের পতেঙ্গা কলসির দীঘির পাড়ে। গতকাল শনিবার রাত ১০টার দিকে নগরের ইপিজেড থানা পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে মো. সালাউদ্দিনের (২০) ঝুলন্ত লাশটি উদ্ধার করেছে। এ সময় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য স্ত্রী রুনা আক্তার রুনুকে (১৮) আটক করেছে পুলিশ। নিহত সালাউদ্দিন ভোলা সদর থানার বারু বাইল্লা গ্রামের কাজল হাওলাদারের ছেলে। স্থানীয় বাসিন্দা আয়াত উল্লাহ জানান, নগরের ইপিজেড থানার কলসিরদীঘির পাড়ে হাশেম ড্রাইভারের বাসায় ভাড়ায় থাকতেন পোশাক শ্রমিক সালাউদ্দিন ও তার স্ত্রী রুনা আক্তার। ভালোবেসে তিন মাস আগে তারা বিয়ে করেন। এরপর সপ্তাহ না যেতেই সংসারে শুরু হয় দাম্পত্য কলহ। এভাবে বিগত তিন মাস তাদের মধ্যে ঝগড়া লেগেই ছিল। শনিবার সন্ধ্যায় সালাউদ্দিন বাসায় আসতেই শুরু হয় ঝগড়া। আর এতে অভিমান করে স্ত্রীর সামনেই গলায় ফাঁস নেন তিনি। নগরের ইপিজেড থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) রাজীব জানান, অভাব-অনটনের সংসার। অশান্তি ছিল। এরই জের ধরে স্ত্রীর সামনেই গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেন সালাউদ্দিন। লাশ ময়নাতদন্তের জন্য রোববার সকালে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে। আর স্ত্রী রুনা আক্তারকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করা হয়েছে বলেও জানান তিনি।
সংবাদ সম্মেলনে অভিযােগ হয়রানিমূলক মামলায় অতিষ্ঠ এক পরিবার
প্রতিপক্ষের দায়ের করা ১০টি মিথ্যা মামলায় হয়রানির শিকার হচ্ছে নিরীহ এক পরিবার। এসব মামলায় গ্রেপ্তার হয়ে তাদের এক সন্তান স্কুলের পরীক্ষায় অংশ নিতে পারেনি। এমন অভিযােগ এনেছেন নগরীর আরশাহ থানার লতিফপুর কালিহাটের মাে. জাহাঙ্গীর আলমের পরিবার। গতকাল শনিবার চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করে এ অভিযােগ করা হয়। লিখিত বক্তব্যে মাে, জাহাঙ্গীর বলেন, চট্টগ্রাম জেলা আইনজীবী সমিতির সদস্য, নােয়াখালীর সুধারাম থানার ইলামীয়া মাদ্রাসার বলিটোলা গ্রামের নুরনবী পাটোয়ারীর পুত্র এড. আফতাব উদ্দিনের (আলতাফ) একের পর এক হয়রানিমূলক মামলায় অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছি। তিনি একের পর এক মামলা দিয়ে যাচ্ছেন আমার পরিবারের সদস্য ও আতীয়-স্বজনের বিরুদ্ধে। তিনি বলেন, লতিফপুর এলাকার সীতাকুন্ড মৌজায় আমার নামে রেজিস্ট্রিকৃত বায়না দলিল মূলে ১০ শতক জমি ঘেরা-বেড়া দিয়ে রাখলে গত বছরের ১৩ নভেম্বর ভাঙচুর করে সাইবাের্ড নিয়ে যায় দুবৃর্ত্তরা। আকবরশাহ থানায় ঘটনাটি অবহিত করলে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে আসামি মাে. মাসুদ আল (২৭) ও আইয়ুব আলীকে (৩১) গ্রেঅর করলেও বাকি ১৫-১৬ জন পালিয়ে যান। গ্রেপ্তারকৃত দুই ব্যক্তিকে পুলিশ জিজ্ঞাসাবাদ করলে তারা এড. আফতাব উদ্দিনের ভাড়া করা লােক বলে জানায়। পরে এদের পুলিশ আদালতে চালান দেয়। এরপর থেকে আমাদের পিছু নেয় ওই আইনজীবী। এক পর্যায়ে আমাকে ও আমার পরিবারকে বিভিন্ন ফৌজদারি মামলায় জড়িয়ে দেওয়ার হুমকি দিতে থাকে। জাহাঙ্গীর বলেন, চট্টগ্রাম আদালতে সিআর মামলায় (নং-১৬৮/২০১৪) আমার ১২ বছর বয়সী ছেলে ননকে আসামি করা হয়েছে। পুলিশ আমার ছেলেকে গ্রেপ্তার করে আদালতে চালান দেয়। আমার ছেলে কারাগারে থাকাকালীন ওই আইনজীবী তার পেশাগত ক্ষমতা বলে কোর্ট হাতে আমার তাকে মারধর করে। পরে ওই বছরের ২১ নভেম্বর আদালত থেকে আমার ছেলে হামিন লাভ করলেও মুক্তি পায়নি। একের পর এক মামলা দিয়ে ছেলেকে কারাগারে আটকে রাখে দীর্ঘদিন। তিনি বলেন, এড, আফতাব একন আইনজীবী হওয়ায় তিনি নিজে এবং তার জুনিয়রের মাধ্যমে আমার পরিবারের সদস্য ও আতীয়-স্বনের বিরুদ্ধে এ পর্যন্ত চট্টগ্রাম আদালত ও বিভিন্ন থানায় ২২টি মামলা দায়ের করেছে। তার হয়রানি থেকে বাঁচতে গত ৮ ফেব্রুয়ারি চট্টগ্রাম জেলা আইনজীবী সমিতি বরাবরে একটি অভিযােগ দায়ের করি। সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন জাহাঙ্গীরের বাবা মতিউর রহমান, মা বায়রুন নেছা, স্ত্রী শাহানাজ বেগম, কুল পড়ুয়া সন্তান মাে. জালাল উদ্দিন (নয়ন), জাহাঙ্গীরের ভাগিনা মাে, রুবেলসহ আতীয়-স্বজনরা।
সারাদেশে বিক্ষোভ করবে বিএনপি সোমবার
বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার মুক্তি ও চিকিৎসার দাবিতে আগামী সোমবার দেশব্যাপী বিক্ষোভ করবে দলটি। শনিবার সকালে নয়াপল্টন কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলন করে এ কর্মসূচি ঘোষণা করেন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম-মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী। প্রধানমন্ত্রীর প্রতি হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে তিনি বলেন,আমি প্রধানমন্ত্রীকে বলতে চাই_ আপনার জুলুম-নির্যাতন করার দিন ফুরিয়ে এসেছে। আপনাকে সবাই মিথ্যুক ও ধমকবাজ মনে করে। আপনার কারণেই মানুষ সজ্ঞাহীন, মৃত্যুর দোলাচলে। রিজভী বলেন,এখনো সময় আছে বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে নিঃশর্ত মুক্তি দিন। নির্দলীয় নিরপেক্ষ সরকারের হাতে ক্ষমতা হস্তান্তর করে অবাধ, সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের পথ সুগম করুন। তিনি বলেন,দেশনেত্রী এবং নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে ছাড়া এদেশে কোনো জাতীয় নির্বাচন হবে না। জনগণ হতে দেবে না। অবিলম্বে খালেদা জিয়ার সুচিকিৎসা ও নিঃশর্ত মুক্তি নিশ্চিত করুন। এরপর রিজভী আগামী সোমবার ঢাকা মহানগরসহ দেশের সব মহানগর, থানা ও উপজেলা সদরে বিক্ষোভ কর্মসূচির ঘোষণা দেন। সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন- বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান নিতাই রায় চৌধুরী, সাংগঠনিক সম্পাদক রুহুল কুদ্দুস তালুকদার দুলু, যুগ্ম মহাসচিব সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল প্রমুখ।
চট্টগ্রামের হাটহাজারীতে বঙ্গবন্ধু, প্রধানমন্ত্রীর ছবি ও আলীগ কার্যালয় ভাঙচুর
চট্টগ্রামের হাটহাজারীর নাঙ্গলমোড়া ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের দলীয় কার্যালয়, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ছবি ভাঙচুর করেছে দুবৃর্ত্তরা। শুক্রবার গভীর রাতে এ ঘটনা ঘটে। নাঙ্গলমোড়া ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক মো. নুরুল আজিম জানান, শুক্রবার সন্ধ্যা ৭টার দিকে ছাত্রলীগের ১৫ থেকে ২০ জন নেতাকর্মী বসে ছিলেন দলীয় কার্যালয়ে। এ সময় হঠাৎ দলীয় কার্যালয়ে বৃষ্টির মত ইট-পাথর নিক্ষেপ করে কে বা কারা! তিনি জানান, দলীয় কার্যালয়ে ইট-পাথর নিক্ষেপ সন্দেহে বিএনপি সমর্থিত আবুল হাসেম নামের সিএনজি অটোরিকশা চালককে গণধোলাই দেয় ছাত্রলীগ নেতাকর্মীরা। এতে অটো চালক আবুল হাসেমের মাথা ও নাক ফেটে যায়। আবুল হাসেম স্থানীয় ইসমাইল দফাদারের ছেলে। নুরুল আজিম জানান, আবুল হাসেমকে মারধরের ঘটনায় হয়তো বিএনপি সমর্থিত লোকজন রাতে এসে দলীয় কার্যালয়, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ছবি ভাঙচুর করেছে। জেলার হাটহাজারী থানার অফিসার ইনচার্জ মো: বেলালউদ্দিন জাহাঙ্গীর বলেন, এই বিষয়ে থানায় কেউ অভিযোগ করেনি। অভিযোগ পেলেই ব্যবস্থা নেয়া হবে।
ভয়াবহ আগুনে পুড়ল ২০ দোকান কুমিল্লায়
কুমিল্লা মহানগরীর চকবাজারে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড ঘটেছে। প্রায় তিন ঘণ্টাব্যাপী জ্বলতে থাকা আগুনে ২০টি দোকানের কয়েক কোটি টাকার ক্ষতি হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। ফায়ার সার্ভিসের চারটি ইউনিট আড়াই ঘণ্টারও অধিক সময় চেষ্টা চালিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। শনিবার দুপুর ১টার দিকে বাজারের তেরিপট্টি এলাকার বাঁশবাজারের একটি দোকান থেকে আগুনের সূত্রপাত হয় বলে ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে প্রাপ্ত তথ্যে জানা গেছে। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, শনিবার দুপুরে কুমিল্লা মহানগরীর চকবাজার তেরেপট্টিতে বাঁশ বাজারের দক্ষিণ পাশের একটি দোকানে হঠাৎ করেই আগুনের লেলিহান শিখা জ্বলে উঠে। দখিনা বাতাসে মুহূর্তেই আগুনের শিখা আশপাশের দোকানগুলোতে ছড়াতে থাকে। খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের দুটি ইউনিট ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নেভানোর চেষ্টা করে। কিন্তু বাজারের সরু গলি, আগুনের অতিরিক্ত তীব্রতা ও বাতাসের কারণে ফায়ার সার্ভিসের কর্মীদের বেগ পেতে হয়। পরে খবর পাঠিয়ে ফায়ার সার্ভিসের আরো দু’টি ইউনিট চকবাজারে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা চালায়। ফায়ার সার্ভিসের চারটি ইউনিয়নের দীর্ঘ আড়াই ঘণ্টারও অধিক সময়ের চেষ্টায় দুপুর তিনটায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে। কুমিল্লা ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স অফিসের কর্মকতা আলমগীর হোসেন জানান, বাজারের সরু গলি আর বাতাসের কারণে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে বেগ পেতে হয়েছে। এছাড়াও উৎসুক মানুষজন গলির ভেতরে ভিড় জমানোর কারণে আগুন নেভাতে আসা গাড়িগুলোকে ভেতরে আনতে কষ্ট হয়েছে বলে জানান তিনি। আলমগীর হোসেন বলেন, প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, বৈদ্যুতিক শর্টসার্কিট থেকেই আগুনের সূত্রপাত। তবে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নিরূপণ করা সম্ভব হয়নি।
খাগড়াছড়ির মাটিরাঙ্গায় ট্রাকের ভেতরে চালকের লাশ
খাগড়াছড়ির মাটিরাঙ্গা উপজেলায় ট্রাকের ভেতর থেকে মো. দেলোয়ার হোসেন নামে এক ট্রাক চালকের লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। শনিবার সকালে স্থানীয়দের কাছ থেকে খবর পেয়ে মাটিরাঙ্গা থানার পুলিশ ট্রাক চালকের লাশ উদ্ধার করে। নিহত দেলোয়ার হোসেন মাটিরাঙ্গার আদর্শগ্রাম এলাকার মো. নুরুল ইসলামের ছেলে। তিনি স্থানীয় আমিন মিয়ার ট্রাকের চালক ছিলেন। পুলিশ জানায়, স্থানীয়দের কাছ থেকে খবর পেয়ে ট্রাকের সামনের অংশের লক ভেঙে দেলোয়ার হোসেনের মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়। তার পেটে ধারালো অস্ত্রের আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। মাটিরাঙ্গা থানার অফিসার ইনচার্জ(ওসি) সৈয়দ মো. জাকির হোসেন ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, হত্যা নাকি আত্মহত্যা সে রহস্য উদঘাটনে পুলিশ তদন্ত করছে। মৃতদেহের ময়নাতদন্তের জন্য লাশ খাগড়াছড়ি সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
চট্টগ্রামে জব্দকৃত ইয়াবা আত্মসাতের অভিযোগে এসআই বরখাস্ত, ৪ পুলিশ ক্লোজড
চট্টগ্রামে জব্দ ইয়াবা ট্যাবলেট আত্মসাতের অভিযোগে পুলিশের এক উপ-পরিদর্শক(এসআই)কে সাময়িক বরখাস্ত ও আরেক উপ-পরিদর্শক(এসআই)সহ তিন কনস্টেবলকে ক্লোজড করা হয়েছে। পুলিশের দায়িত্বশীল সূত্রে জানা যায়, গত ৮ মে চট্টগ্রামের বার আউলিয়া হাইওয়ে পুলিশের উপ-পরিদর্শক মো. মহিউদ্দিনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। একই অভিযোগে চট্টগ্রামের বার আউলিয়া হাইওয়ে পুলিশের উপ-পরিদর্শক আদম আলী এবং কনস্টেবল মামুন, ইমাম হোসেন ও মোস্তফাকে পুলিশ লাইনে ক্লোজড করা হয়েছে। জানা গেছে, গত ৭ মে বিকেলে চট্টগ্রামের বার আউলিয়া হাইওয়ে পুলিশের উপ-পরিদর্শক মো. মহিউদ্দিনের নেতৃত্বে ৫ সদস্যের একটি দল মহাসড়কে দায়িত্ব পালন করছিলেন। রাত ৩টার দিকে উপজেলার মাদাম বিবির হাট এলাকায় ঢাকামুখী শ্যামলী পরিবহন (চট্টমেট্টো ব ৫১-২১৫৫) বাসে অভিযান চালায় পুলিশ। এসময় ২১ হাজার ৮০০ পিস ইয়াবাসহ মো. মোস্তাকিম (৩৬) নামের এক ব্যক্তিকে যুবককে আটক করা হয়। পরে ইয়াবাগুলো রেখে ছেড়ে দেয়া হয় তাকে। এদিকে পূর্ব থেকে ওৎপেতে থাকা ইয়াবা পাচারকারী মোস্তাকিমকে পর্যবেক্ষণ করছিলেন গোয়েন্দা পুলিশের একটি টিম। হাইওয়ে পুলিশের কাছ থেকে ছাড়া পাওয়া ওই বাসটি ঢাকার কাছেই তল্লাশি করে গোয়েন্দা পুলিশ। তবে মোস্তাকিমের কাছে ইয়াবা না পেয়ে তাকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। হাইওয়ে পুলিশ ইয়াবা রেখে তাকে ছেড়ে দিয়েছে বলে মোস্তাকিম গোয়েন্দা পুলিশকে জানান। এ তথ্য নিশ্চিত হয়ে গোয়েন্দা পুলিশ বিষয়টি তদন্তের জন্য কুমিল্লা হাইওয়ে পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের অনুরোধ করেন। গোয়েন্দাদের আবেদনে সাড়া দিয়ে পাচারকারী মোস্তাকিমকে নিয়ে চট্টগ্রামের বার আউলিয়া হাইওয়ে থানায় আসেন কুমিল্লা হাইওয়ে পুলিশের ডিআইজি আতিকুল ইসলাম, কুমিল্লার এসপি নজরুল ইসলামসহ পুলিশের কর্মকর্তারা। সেখানে মোস্তাকিম আর বার আউলিয়া হাইওয়ে পুলিশের মুখোমুখি করা হয়। এরপর এসআই মহিউদ্দিনকে প্রত্যাহার করে কুমিল্লা হাইওয়ে পুলিশ লাইনে সংযুক্ত করা হয়। আটক ইয়াবার মূল্য ৬৬ লাখ টাকা। মোস্তাকিম গাজীপুর জেলা সদরের বারান্ডা গ্রামের তসলিম উদ্দিন খোন্দকারের ছেলে। হাইওয়ে পুলিশের কুমিল্লার পুলিশ সুপার নজরুল ইসলাম জানান, এসআই মহিউদ্দিনকে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করা হয়েছে। অভিযুক্ত এসআই আদম আলী ও ৩ কনস্টেবলের বিরুদ্ধে ৩ দিন ধরে তদন্ত শেষে শুক্রবার রাত ১০টার দিকে তাদেরকে হাইওয়ে থেকে প্রত্যাহার করে জেলা পুলিশ লাইনে পাঠানো হয়েছে। বার আউলিয়া হাইওয়ে পুলিশের অফিসার ইনচার্জ আহসান হাবিব বলেন, যাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠেছে তাদের প্রত্যাহার করে নেয়া হয়েছে।

সারা দেশ পাতার আরো খবর