বরমা মাদরাসায় অব. শিক্ষক-কর্মচারীর বিদায় এবং কৃতী শিক্ষার্থী সংবর্ধনা
চন্দনাইশের বরমা ইসলামিয়া দাখিল মাদরাসা'র সদ্য অবসরপ্রাপ্ত সহকারী মৌলভী (প্রতিষ্ঠাকালীন শিক্ষক) সৈয়দ আহমদ শুকুরী ও চতুর্থশ্রেণির কর্মচারী (নৈশপ্রহরী) মো. আব্দুল খালেক'র বিদায় এবং সরকারি বৃত্তিপ্রাপ্ত কৃতী শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা অনুষ্ঠান ৮ জুলাই বোববার অনুষ্ঠিত হয়। মাদারাসার সুপার মাওলানা মুহাম্মদ আবুল বশরের সভাপতিত্বে ও শিক্ষক মো. জসীম উদ্দীনের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে অতিথি ছিলেন সংবর্ধিত ব্যক্তিদ্বয় ও মাদরাসা ব্যবস্থপনা কমিটির (এমএমসির) শিক্ষানুরাগী সদস্য সৈয়দ শিবলী ছাদেক কফিল। বক্তব্য রাখেন শিক্ষক ও এমএমসি সদস্য মাস্টার মো. জসীম উদ্দীন, মাওলানা আজগর হোসাইন, মাস্টার আমিন খান ও মেধাবী ছাত্রী মোছাম্মৎ আয়েশা ছিদ্দিকা। পরে সংবর্ধিতদের হাতে তুলে দেয়া হয় বিদায়ী উপহার। বক্তারা বলেন, নিবেদিত ও কৃতী মানুষরা সমাজের কাছে সম্মানিত হয়ে থাকেন। ভাল ও গুণী ব্যক্তিরা সবসময় জাতি ও প্রতিষ্ঠানের মঙ্গলের জন্য কাজ করেন। প্রেস বিজ্ঞপ্তি
চন্দনাইশে খেলোয়াড় সমিতিতে ফুটবল বিতরণ করলেন কৈয়ুম চৌধুরী
চন্দনাইশ খেলোয়াড় সমিতির উদ্যোগে উপজেলা ও পৌরসভার বিভিন্ন ক্রীড়া সংগঠন ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ফুটবল বিতরণ করা হয়। গাছবাড়িয়া নিত্যানন্দ গৌরচন্দ্র মডেল মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে গতকাল ৮ জুলাই অনুষ্ঠানের সমন্বয়ক ক্রীড়া সংগঠক আদিল আহমদ কবিরের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন গাছবাড়িয়া নিত্যানন্দ গৌরচন্দ্র মডেল মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সভাপতি, এয়ারবেল ও কক্স টুডের এমডি, রিহাব-চট্টগ্রাম চাপ্টার ও চন্দনাইশ সমিতি-চট্টগ্রামের চেয়ারপার্সন আলহাজ্ব আব্দুল কৈয়ুম চৌধুরী। বিশেষ অতিথি ছিলেন বাংলাদেশ ব্যাংকের যুগ্মপরিচালক একরাম হোসেন, চন্দনাইশ সমিতি-চট্টগ্রাম ট্রাস্টিবোডের সেক্রেটারি বাবর আলী ইনু, সৈয়দাবাদ প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সভাপতি মো. হেলাল উদ্দিন চৌধুরী, বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক নুর মোহাম্মাদ, এডিশনাল পিপি এডভোকেট দেলোয়ার হোসেন, বরমা ইউনিয়ন ক্রীড়া সংস্থার সেক্রেটারি সৈয়দ শিবলী ছাদেক কফিল, সাংবাদিক এসএম রহমান ও এম এ মুবিন। পরে প্রধান অতিথি আলহাজ্ব আব্দুল কৈয়ুম চৌধুরী ২০টি প্রতিষ্ঠান ও সংগঠনের মাঝে ফুটবল ও অন্যান্য ক্রীড়া সামগ্রী বিতরণ করেন। অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন চন্দনাইশ শেখ জামাল স্পোর্টিং ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক মোঃ শাহেদ, কাঞ্চনাবাদ স্পোটিং ক্লাবের সমন্বয়ক বেলাল উদ্দিন সুজন, জোয়ারা স্পোর্টিং ক্লাবের সমন্বয়ক আসমাউল ইরফান, হাশিমপুর স্পোর্টিং ক্লাবের সমন্বয়ক মোঃ আবির, দোহাজারী স্পোর্টিং ক্লাবের সমন্বয়ক মিনহাজ সাকিব, ধোপাছড়ি স্পোর্টিং ক্লাবের সমন্বয়ক আব্দুলাহ আল মামুন, বরকল স্পোর্টিং ক্লাবের সমন্বয়ক অনিক বড়ুয়া, বরমা স্পোর্টিং ক্লাবের সমন্বয়ক মোঃ তানিম, বৈলতলী স্পোর্টিং ক্লাবের সমন্বয়ক ফরহাদ হোসেন, সাতবাড়িয়া স্পোর্টিং ক্লাবের সমন্বয়ক নুরল কবির, গাছবাড়িয়া স্পোর্টিং ক্লাবের সমন্বয়ক মো সজিব, হারালা স্পোর্টিং ক্লাবের সমন্বয়ক খালেদ রেজা রাজু প্রমুখ। তাঁরা তাদের ক্লাব কর্মকর্তাদের নিয়ে নিজ নিজ ক্লাবের জন্য ফুটবল গ্রহণ করেন।প্রেস বিজ্ঞপ্তি
বিএফইউজে নির্বাচন ১৩ জুলাই
অনলাইন ডেস্ক :বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়নের (বিএফইউজে) স্থগিত হয়ে যাওয়া নির্বাচনের নতুন তারিখ ঘোষণা করা হয়েছে। নতুন তারিখ অনুযায়ী আগামী ১৩ জুলাই (শুক্রবার) সকাল ৮টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত জাতীয় প্রেসক্লাবে নির্বাচনের ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে।মঙ্গলবার (১০ জুলাই) বিএফইউজে নির্বাচনের জন্য গঠিত নির্বাচন কমিশনের সদস্য হাসান আরেফিন বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, আদালতের আদেশের পর মঙ্গলবার নির্বাচন কমিশন বৈঠক করে এ সিদ্ধান্ত নিয়েছে।এর আগে গত ৬ জুলাই নির্বাচন অনুষ্ঠানের কথা ছিল। কিন্তু দুই প্রার্থীর মামলার প্রেক্ষিতে গত ৫ জুলাই নির্বাচন স্থগিত করার আদেশ দেন শ্রম আদালত-১। পরে সোমবার (৯ জুলাই) ওই স্থগিতাদেশের উপর শুনানি নিয়ে তা বাতিল করেন ঢাকার প্রথম শ্রম আদালতের বিচারক ড. মো. শাহজাহান।
ধর্ষণের প্রতিবাদে ৩ পাহাড়ি সংগঠনের বিক্ষোভ খাগড়াছড়িতে
অনলাইন ডেস্ক: খাগড়াছড়ির রাউজানে এক স্কুলছাত্রীকে ধর্ষণের পর হত্যা ও কাউখালীতে এক নারীকে ধর্ষণের অভিযোগে খাগড়াছড়িতে বিক্ষোভ মিছিল ও প্রতিবাদ সভা করেছে পাহাড়ি তিনটি সংগঠন। ইউপিডিএফ সমর্থিত বৃহত্তর পার্বত্য চট্টগ্রাম পাহাড়ি ছাত্র পরিষদ, হিল উইমেন্স ফেডারেশন ও গণতান্ত্রিক যুব ফোরাম খাগড়াছড়ি জেলা শাখা এ কর্মসূচি পালন করে। মঙ্গলবার (১০ জুলাই) দুপুরে শহরের স্বনির্ভর এলাকায় অবস্থিত ইউপিডিএফের কার্যালয়ের সামনে থেকে একটি মিছিল বের করা হয়। মিছিলটি শহরতরীর বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে পুনরায় স্বনির্ভর বাজারে এসে প্রতিবাদ সমাবেশ করে। ওই প্রতিবাদ সমাবেশে বক্তব্য রাখেন- গণতান্ত্রিক যুব ফোরামের খাগড়াছড়ি জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক রতন স্মৃতি চাকমা, হিল উইমেন্স ফেডারেশনের জেলাসহ সাধারণ সম্পাদক অবনিকা চাকমা ও পিসিপি খাগড়াছড়ি জেলা শাখার দফতর সম্পাদক সমরচাকমা প্রমুখ। বক্তারা অভিযোগ করে বলেন, গত ৫ জুলাই রাউজান একটি বৌদ্ধ অনাথ আশ্রম অম্যাচিং মারমাকে হত্যা করা হয়। এর কয়েকদিনের পর গতকাল রাঙামাটির কাউখালীতে এক মারমা নারীকে ধর্ষণ করা হয়। তবে ঘটনায় কাউকে গ্রেফতার করতে পারেনি প্রশাসন। সমাবেশ থেকে বক্তারা অবিলম্বে হত্যা ও ধর্ষণের ঘটনায় জড়িতদের গ্রেফতার করে বিচারের আওতায় আনার দাবি জানান।
জমির জন্য মাকে পিটিয়ে জখম করল ছেলে
অনলাইন ডেস্ক: হবিগঞ্জের বানিয়াচং উপজেলার আওয়াল মহল গ্রামে মা আলা বানুকে (৭৫) পিটিয়ে জখম করেছে ছেলে তাজুল মিয়া। সোমবার (০৯ জুলাই) সন্ধ্যায় এ ঘটনা ঘটে। আহত আলা বানু ওই গ্রামের মৃত ছনু মিয়ার স্ত্রী। বর্তমানে তিনি হবিগঞ্জ আধুনিক জেলা সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। জানা যায়, মায়ের কিছু জমি অন্য ভাই-বোনদের না দিয়ে তাজুল মিয়া নিজে হাতিয়ে নেয়ার চেষ্টা করছিলেন। সম্প্রতি একটি জায়গা তাজুলের নামে দলিল করে দেয়ার জন্য মায়ের ওপর জন্য চাপ দেয়। এতে আলা বানু রাজি না হওয়ায় ক্ষিপ্ত হয়ে তাজুল মাকে রাস্তায় ফেলে মারপিট করে। পরে স্থানীয়রা আলা বানুকে উদ্ধার করে হবিগঞ্জ আধুনিক জেলা সদর হাসপাতালে ভর্তি করেন। চিকিৎসাধীন অবস্থায় আলা বানু বাংলানিউজকে জানান, তার কাছে সব সন্তানই সমান। তবে তিনি ছেলের বিরুদ্ধে মামলার প্রস্তুতি নিচ্ছেন। বানিয়াচং থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মোজাম্মেল হক জানান, এ ব্যাপারে লিখিত কোনো অভিযোগ পাওয়া যায়নি। অভিযোগ পেলে ব্যবস্থা নেয়া হবে। বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর
ডিএনএ প্রতিবেদনই খুলতে পারে ইলহাম খুনের জট
অনলাইন ডেস্ক: ইলহাম বিনতে নাছির খুনের বারো দিন গত হয়ে গেছে। কিন্তু এই খুনের এখনও জট খোলেনি। রহস্য উদঘাটন করতে পারেনি পুলিশ। বার বছরের এই কিশোরীকে কী কারণে কণ্ঠনালী কেটে খুন করা হয়েছে তার জবাব মিলেনি কারো কাছে। তবে মামলার তদন্তকারী পুলিশের ধারণা, বাসায় নিয়মিত যাতায়াত ছিল, চেনা-জানা এমন কেউ খুন করেছে। ইলহামকে বালিশ চাপা দিয়ে শ্বাসরোধ করার পর বা জবাই করে বালিশ চাপা দেয়া হয়েছে বলে মনে করছে পুলিশ। যেভাবেই হোক না কেন, খুন হয়েছে নাছিরের কন্যা ইলহাম। ডিএনএ (ডি–অক্সি রাইবো নিউক্লিক এসিড) প্রতিবেদন হাতে পাওয়ার পর চাঞ্চল্যকর এ খুন সম্পর্কে অনেকটা ধারণা পাওয়া যাবে বলে মনে করছে পুলিশ। গত ২৭ জুন সকালে নগরীর বাকলিয়া সৈয়দশাহ ল্যান্ডমার্ক সোসাইটির বাসার ভেতরে খাটের ওপর জবাই করে হত্যা করা হয় শিশুটিকে। এ ঘটনায় ইলহামের নানা নাছির উদ্দিন বাদি হয়ে চট্টগ্রাম মেট্টোপলিটন পুলিশ-সিএমপি বাকলিয়া থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেছেন। ওই মামলায় সুনির্দিষ্ট কাউকে আসামি করা হয়নি। তবে রিজোয়ান কবির রাজু প্রকাশ রাজু মামা নামে ছোট চাচীর ছোট ভাইকে গ্রেফতার করা হয়েছে খুনের রাতেই। এরপর জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তাকে দুই দিনের রিমান্ডে নিয়েছে পুলিশ। যদিও রাজু মামাকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ১০ দিনের রিমান্ড চেয়েছিল পুলিশ। নগর গোয়েন্দা পুলিশের অতিরিক্ত উপ–কমিশনার (এডিসি) শাহ মোহাম্মদ আবদুর রউফ বলেন, স্কুলছাত্রী ইলহাম খুনের রহস্য উদঘাটনে পুলিশ আন্তরিকভাবে কাজ করছে। রাজুকে ইতিমধ্যে রিমান্ডে নেয়া হয়েছে। এ ছাড়া ডিএনএ নমুনা ইতিমধ্যে সংশ্লিষ্ট ল্যাবে পাঠানো হয়েছে। আশা করছি, কয়েকদিনের মধ্যে ডিএনএ প্রতিবেদন হাতে পাব। ইলহামের খুনের ঘটনা জানাজানি হওয়ার পর পরই চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের লাশ ঘরে ইলহামের সুরতহাল রিপোর্ট প্রস্তুত করে পুলিশ। সেই রিপোর্টে এক পুলিশ কর্মকর্তা লিখেছেন, চোখ অর্ধখোলা অবস্থায় শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেছে ইলহাম বিনতে নাসির। ঘাতকের ধারালো ছুরিতে তার পুরো কণ্ঠনালী কেটে গেছে। রক্তে ভেসে গিয়েছিল পুরো মুখমণ্ডল। পুলিশের ওই কর্মকর্তার সুরতহাল প্রতিবেদনে ইলহামের মৃত্যু পরবর্তী শারীরিক চিত্রে লেখা হয়, ইলহামের পরনে সেলোয়ার কামিজ ছিল। ওড়নাটি ছিল রক্তমাখা। উচ্চতা চার ফুট আট ইঞ্চি। চুল আনুমানিক ২০ ইঞ্চি লম্বা। দুই চোখ অর্ধখোলা। মুখ অর্ধখোলা। মুখমণ্ডল লম্বাটে। নাকে-মুখে রক্ত বের হবার দাগ ছিল। গলার মাঝখানে কাটা। যার আয়তন সাড়ে তিন ইঞ্চি দৈর্ঘ্য ও দুই ইঞ্চি প্রস্থ। কণ্ঠনালী কাটা, দুই হাত সোজা, লম্বালম্বি। পায়খানা ও প্রস্রাবের রাস্তা স্বাভাবিক। শরীরের অন্যান্য সব অঙ্গ স্বাভাবিক। অজ্ঞাত কেউ গলা কেটে হত্যা করেছে। কন্যার করুন মৃত্যুর খবর পেয়ে সৌদি আরব প্রবাসী বাবা মো. নাছির উদ্দিন দুই দিন পরই দেশে আসেন। নাসির উদ্দিন বলেন, আমার নিষ্পাপ মেয়েকে খুন করেছে কে তা আমার জানতে হবে। খুনির চেহারাও দেখতে হবে। খুনিকে দেখার অপেক্ষায় আছি।পরিবর্তন ডটকম
সুদীপ্ত বিশ্বাস হত্যা মামলায় গ্রেফতার আরও ২
অনলাইন ডেস্ক: চট্টগ্রাম মহানগর ছাত্রলীগের সহ-সম্পাদক সুদীপ্ত বিশ্বাস হত্যা মামলায় আরও দুইজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। সোমবার বিকেলে নগরীর লালখানবাজার এলাকা থেকে তাদেরকে গ্রেফতার করা হয়। নগর গোয়েন্দা পুলিশের সিনিয়র সহকারী কমিশনার (বন্দর) আসিফ মহিউদ্দিন এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন। গ্রেফতার দুইজনের একজন রাজিব (২১) ও অপরজন রাব্বি (২০) বলে জানান তিনি। আসিফ মহিউদ্দিন বলেন, সুদীপ্ত হত্যা মামলায় গ্রেফতার হওয়া পাপ্পুর স্বীকারোক্তি মতে রাজিব ও রাব্বির নাম আসে। তারা হত্যাকাণ্ডে সরাসরি অংশ নিয়েছিল। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে লালখানবাজার এলাকা থেকে তাদেরকে গ্রেফতার করে সন্ধ্যার পর সদরঘাট থানায় সোপদ করা হয়েছে বলেও জানান তিনি। উল্লেখ্য, গত বছরের ৬ অক্টোবর নগরীর দক্ষিণ নালাপাড়ার বাসা থেকে ডেকে নিয়ে সুদীপ্ত বিশ্বাসকে পিটিয়ে হত্যা করা হয়। এ ঘটনায় সুদীপ্তর বাবা বাবুল বিশ্বাস বাদী হয়ে অজ্ঞাত পরিচয় সাত থেকে আটজনকে আসামি করে মামলা করেন। ওই মামলায় এই পর্যন্ত মোট আটজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে।
চমেকের মেইল থেকে বেসরকারি চিকিৎসা বন্ধের বিজ্ঞপ্তি!
অনলাইন ডেস্ক: নগরীর বেসরকারি ম্যাক্স হসপিটালে র‌্যাবের ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযানের প্রতিবাদে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালের মতো সরকারি প্রতিষ্ঠানের ই-মেইল আইডি থেকে (পসপ@ধপ.ফমযং.মড়া.নফ) বেসরকারি চিকিৎসা প্রতিষ্ঠান সমিতির নামে বিজ্ঞপ্তি পাঠানো হয়েছে। সমিতির সভাপতি হিসেবে ডা. আবুল কাশেম স্বাক্ষরিত বিজ্ঞপ্তিটি গতকাল রবিবার বিকাল ৫ টা ৪ মিনিটে গণমাধ্যমের কাছে পাঠানো হয়। ই-মেইলে সংবাদটি প্রকাশের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য অনুরোধও জানানো হয়েছে গণমাধ্যমের বার্তা সম্পাদককে উদ্দেশ্য করে। সরকারি প্রতিষ্ঠানের ই-মেইল আইডি থেকে বেসরকারি চিকিৎসা প্রতিষ্ঠান সমিতির ই-মেইল প্রসঙ্গে জানতে চাইলে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর ডা. সেলিম মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর পূর্বদেশকে বলেন, আমি ছুটিতে আছি। কলেজে যিনি অপারেটর দায়িত্ব পালন করছে তার কাছে বিজ্ঞপ্তিটি আসার পর গণমাধ্যমে পাঠিয়েছে। এ জন্য আমি তাকে শোকজ করার জন্য নির্দেশ দিয়েছি। পূর্বদেশ
হাসপাতাল বন্ধ দায়িত্বশীল আচরণ নয় মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দীন
অনলাইন ডেস্ক: চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দীন বলেছেন, কোনো ইস্যুকে কেন্দ্র করে হাসপাতাল বা স্বাস্থ্যসেবা বন্ধ করে দেওয়া কখনো দায়িত্বশীল আচরণ হতে পারে না। এটি আসলেই অত্যন্ত দুঃখজনক। যে অন্যায় করবে তার বিরুদ্ধে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান তদন্ত সাপেক্ষে ব্যবস্থা গ্রহণ করবে। অন্যায়কে ঢাকার জন্য এটাকে অন্যদিকে প্রবাহিত করা মোটেও উচিত নয়। এতে ভুল বোঝাবুঝির মাত্রাটা বেড়ে গিয়ে ভোগান্তিতে পড়ে সাধারণ জনগণ। জনগণের ভোগান্তির এ দায়ভার নিবে কে? সিটি মেয়র আরও বলেন, নগরীতে সাংবাদিক এবং ডাক্তার যেভাবে মুখোমুখি অবস্থান নিয়েছেন সেটা কারোর জন্য কল্যাণকর নয়। এতে ভুল বোঝাবুঝির মাত্রা দিন দিন বাড়ছে। সঠিক বিশ্লেষণ করে দু’পক্ষরই দায়িত্বশীল আচরণ করা উচিত। কেউ অন্যায় করলে সেটাকে পুঁজি করে সবদিকে উত্তেজনা ছড়িয়ে দেয়ার কোনো মানে হয় না। আর নিজের পেশাকে পুঁজি করে সাধারণ মানুষকে জিম্মি করলে একসময় জনগণ মুখ ফিরিয়ে নিবে। তিনি আরও বলেন, প্রাইভেট মেডিকেল থেকে প্রতিদিন লক্ষ লক্ষ মানুষ সেবা নিচ্ছে। প্রতিষ্ঠানগুলো নির্দিষ্ট একটি নিয়মের মধ্য দিয়ে চলে। তারা যদি নিয়ম বহিভূর্ত কিছু করে তাহলে তাদের কর্তৃপক্ষ শোকজ করবে। সময় দিবে শোধরানোর জন্য, না শোধরালে ব্যবস্থা গ্রহণ করবে। হুট করে অভিযান পরিচালনা বা হাসপাতাল বন্ধ করে দিলে তো সমস্যার সমাধান হবে না। সেবা বন্ধ করা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয় চবি উপাচার্য ড. ইফতেখার কোনো কিছুর বিনিময়ে সেবা বন্ধ রাখার সুযোগ নেই বলে মন্তব্য করেছেন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি প্রফেসর ড. ইফতেখার উদ্দিন চৌধুরী। তিনি বলেন, ডাক্তার, ইঞ্জিনিয়ার শিক্ষকদের পেশা মানবিক। এসব পেশায় অবশ্যই সেবার মানসিকতার পরিচয় দিতে হবে। সেবা দেওয়াটাকে গুরুত্ব দিতে হবে। যেখানে জীবন-মরণের প্রশ্ন, সেখানে কোনো কিছুর বিনিময়ে তা বন্ধ রাখার সুযোগ নেই। সেবা দিতে গিয়ে কোনো দুর্ঘটনা ঘটলে সেটা ভিন্ন বিষয়। সেটা একটা প্রক্রিয়ার মাধ্যমে সমঝোতা বা সমাধান করতে হবে। র‌্যাবের অভিযান সম্পর্কে তিনি বলেন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর এখতিয়ার রয়েছে অভিযান করার। কোনো কারণে যদি দেশবিরোধী কার্যক্রম বা কোনো অনিয়ম হয় সেখানে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী অভিযান পরিচালনা করতে পারে। এর বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়া ঠিক হবে না। অনিয়মের পক্ষে কারো অবস্থান নেওয়া উচিতও না। আমার মনে হয় এখানে যোগাযোগের বিচ্যুতি আছে। কেউ উদ্যোগ নিলে সেটা সমাধান হয়ে যাবে। তিনি বলেন, জনগণকে সেবাবঞ্চিত করে কোনো আন্দোলন হতে পারে না। এটা নৈতিকতায় পড়ে না। সত্যিকার নৈতিকতা থাকলে অবশ্যই মানুষকে সেবা দিতে হবে। সেবা না দেওয়াটা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। আমি ডাক্তারদের অনুরোধ করবো জনগণের ভোগান্তি কমানোর জন্য। আন্দোলন করুক, আন্দোলন হতে পারে। কিন্তু সেটা জনগণের ভোগান্তির জন্য হতে পারবে না। প্রতিবাদের ভাষা হতে হবে ভিন্ন। প্রতীকী প্রতিবাদ হতে পারে। এ ধরনের কর্মসূচি প্রকৃত পেশাজীবীর আচরণ নয় প্রফেসর সেকান্দর খান ইস্ট ডেল্টা ইউনির্ভাসিটির ভিসি প্রফেসর সেকান্দর খান বলেছেন, হাসপাতালগুলোতে সরকারের নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করা উচিত ছিল, মনিটরিং কার্যক্রম চালানো উচিত ছিল। সিভিল সার্জন আছেন, ওনারা করেন কি? নিয়মিত পরিদর্শন করা, যন্ত্রপাতি ঠিক আছে কিনা সেটা দেখা, এটা আসলে খারাপ কিছু না। তবে সবগুলো একসাথে হওয়াতে সমস্যা হয়েছে। এতো বড় একটা ঘটনা ঘটে গেলো। সরকার চিকিৎসা ব্যবস্থা নিয়ে একটু নড়েচড়ে বসতে চেষ্টা করছে। এটা আরো আগে হওয়া উচিত ছিল। বারবার এমন কর্মসূচিতে সরকারের নিরব থাকায় তারা আস্কারা পেয়েছে। আগে থেকেই সরকারের শক্ত অবস্থান থাকা প্রয়োজন ছিল। তিনি বলেন, লাইসেন্স নিয়ে সমস্যা ঠিক করার জন্য একটা নির্ধারিত সময় দেওয়ার দরকার। এ সময়ের মধ্যে তাদের সবকিছু ঠিক করা উচিত ছিল। এখন একটা ঘটনার পর তৎপরতা বেড়ে যাওয়াতে এমনটা হচ্ছে। কিছু ক্ষেত্রে মানুষকে জিম্মি করা হয় জানিয়ে তিনি বলেন, কিছুদিন আগে আগোরা স্টোরে অভিযানের পর তারা একজোট হয়ে চেইনশপ বন্ধ করার ডাক দেয়। কিন্তু তাদের জিনিসগুলো মার্কেটে পাওয়া যায়। যার কারণে তারা সেটা থেকে পরে সরে আসে। বিএমএ যেহেতু শক্তিশালী ও জোটবদ্ধ, তাই তারা শক্তি দেখায়। তবে এমন কর্মসূচি কোনো পেশাজীবীর সত্যিকারের আচরণ হতে পারে না। এটা দুঃখজনক। তারা জনসাধারণের বিরুদ্ধে দাঁড়িয়েছে। অন্যায় হলে কোর্টে যাবে। কিন্তু তাদের সমস্যা আছে বলেই তারা কোর্টে যাচ্ছে না। তিনি বলেন, একজনের উন্নয়ন অন্যজনের উন্নয়নকে সহযোগিতা করে। র‌্যাবের অভিযানে অন্যায় হলে সেটার বিরুদ্ধে তারা আইনগত ব্যবস্থায় যেতে পারে। অভিযানগুলো নিয়মিত হলে হাসপাতালগুলোতে সমস্যা থাকতো না। মানসম্মত করার ব্যবস্থা করলে ক্ষতি কি? নিয়মিত র‌্যাবের অভিযান দরকার। তদারকি জোরদার হওয়া প্রয়োজন। প্রফেসর সেখান্দর খান বলেন, ডাক্তাররা এলিট সোসাইটির মানুষ। ক্লিনিকগুলো বাণিজ্য করে। দুঃখ লাগে, এলিট সোসাইটির লোকগুলো কিভাবে বণিকদের সাথে একত্রিত হয়? অভিযানের কারণে কখনও হাসপাতাল বন্ধ হয়নি জেলা প্রশাসক ইলিয়াস হোসেন জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ ইলিয়াস হোসেন বলেছেন, হাসপাতাল কিংবা ডায়াগনস্টিক সেন্টারে মোবাইল কোর্টের অভিযান আগেও হয়েছে। জরিমানা করা হয়েছে। কিন্তু আগে তো কখনও কোন হাসপাতাল চিকিৎসা সেবা অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ করে দেয়নি। তাহলে এবার কেন বেসরকারি হাসপাতালগুলো চিকিৎসা সেবা বন্ধ করে দিল? আসলে মুশকিলটা হয়েছে ‘বিশেষ পরিস্থিতি ও সময়ের’ কারণে। এমনিতেই গত বেশ কয়েকদিন ধরে একটি বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন সাংবাদিকের শিশুকন্যার অনাকাংখিত মৃত্যুকে ঘিরে অস্থিরতা বিরাজ করছে। ঘটনাটিকে কেন্দ্র করে দুটি পেশাজীবী সংগঠন নানা কর্মসূচি পালন অব্যাহত রেখেছে। নানা পদক্ষেপ নেয়া হলেও তাতে এখন পর্যন্ত সকলের কাছে গ্রহণযোগ্য সমাধানে পৌঁছানো যায়নি। এমন পরিস্থিতি চলমান থাকাবস্থায় ওই বেসরকারি হাসপাতালসহ কয়েকটিতে মোবাইল কোর্টের অভিযানকে মালিকরা স্বাভাবিক দৃষ্টিকোণ থেকে নিতে পারে নি। আরেকটা ব্যাপার হল, মোবাইল কোর্ট কিন্তু আমরা মানে জেলা প্রশাসন পরিচালনা করিনি। এটি ঢাকা থেকে সরাসরি এসে পরিচালনা করা হয়েছে। সাধারণত ঢাকা থেকে কোন সংস্থা এসে মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করলেও আগে জেলা প্রশাসককে জানানো হয়ে থাকে। কিন্তু আমাদের আগে থেকে কিছুই জানানো হয়নি। দুপুরের দিকে বিষয়টি আমি জানার পর অফিসে আসা ফ্যাক্সগুলো ঘেঁটে দেখলাম, সকাল দশটার দিকে এ সম্পর্কিত একটা ফ্যাক্স এসেছে। কিন্তু, ততক্ষণে অভিযান থেকে শুরু করে হাসপাতাল বন্ধের ঘোষণাও অলরেডি মানুষের কানে চলে এসেছে। আমি বিষয়টি নিয়ে দুপুর থেকেই চিকিৎসকদের বিভিন্ন লেবেলে কথা বলেছি। ঢাকায় স্বাস্থ্য প্রশাসনের সংশ্লিষ্ট শীর্ষ কর্মকর্তাদের জানিয়েছি। এমনকি, স্বাস্থ্যমন্ত্রীকেও উদ্ভূত পরিস্থিতি সম্পর্কে জানানো হয়েছে। হাসপাতালগুলোতে অনেক রোগী ভর্তি আছে। তারা চিকিৎসা সেবা না পেলে তো মুশকিল হয়ে যাবে। তাই আমি সকলের সাথে যোগাযোগ অব্যাহত রেখে অন্ততপক্ষে হাসপাতাল বন্ধের ঘোষণা প্রত্যাহারের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি। আশা করি, কালকের (সোমবার) মধ্যে একটা সমাধানে আমরা পৌঁছাতে পারব। হাসপাতাল বন্ধের ঘোষণা অমানবিক অ্যাডভোকেট ইফতেখার জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি শেখ ইফতেখার সাইমুল চৌধুরী বলেছেন, যে কারণেই হোক না কেন, চিকিৎসার মত বিকল্পহীন ও জরুরি সেবা বন্ধের ঘোষণা এক কথায় অমানবিক। এটা একেবারেই অপ্রত্যাশিত। কেননা, চিকিৎসার সাথে মানুষের জীবন-মৃত্যুর বিষয় সম্পর্কিত। তিনি পূর্বদেশকে বলেন, মোবাইল কোর্টের অভিযান কিংবা অন্য কোন ঘটনাকে কেন্দ্র করে যদি আমাদের সম্মানিত চিকিৎসকরা নিগৃহীত বা বঞ্চনার শিকার হয়েছেন বলে মনে করেন, তাহলে দেশের সব নাগরিকের মতই আইন অনুযায়ী সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে প্রতিকার চাওয়ার সুযোগ রয়েছে। তাছাড়া, এভাবে হুট করে হাসপাতাল বন্ধের সিদ্ধান্ত না নিয়ে তারা কয়েকদিন সময় বেধে দিয়ে তাদের দাবিগুলো তুলে ধরতে পারতেন। ওই সময়ের মধ্যে দাবি পূরণ না হলে হাসপাতাল বন্ধের মত কঠোর সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য হবেন বলে আল্টিমেটাম দিতে পারতেন। আরও অনেক বিকল্প তাদের সামনে রয়েছে। সেই পথগুলো ধরে তারা হাঁটতে পারতেন। এখন তারা যে সিদ্ধান্ত নিয়েছেন, তাতে জনমত তাদের বিরুদ্ধে যাওয়া অস্বাভাবিক কিছু নয়। আইনজীবী ইফতেখার সাইমুল আরো বলেন, আমি সম্মানিত চিকিৎসকদের আহবান জানাচ্ছি, মানুষের জীবনকে ঝুঁকিতে ফেলে- এমন সিদ্ধান্ত থেকে তারা যেন সরে আসেন। প্রয়োজনে সব শ্রেণি-পেশার মানুষকে একটি নির্দিষ্ট ভেন্যুতে ডেকে তাদের বঞ্চনার কথাগুলো বলুক। তাদের ওপর অন্যায়-অবিচার হয়ে থাকলে, তা সকলের সামনে তুলে ধরুক। নিজেদের অবস্থান স্পষ্ট করুক। সেটাই হবে উত্তমপন্থা। মনে রাখতে হবে, অন্য পেশায় ভুল করলে আপিলের সুযোগ আছে। কিন্তু চিকিৎসক তার চিকিৎসায় ভুল করলে রোগীর নিশ্চিত ঠিকানা হল কবর। দেশের মানুষের ট্যাক্সের টাকায় তারা চিকিৎসক হচ্ছেন। তাই দেশ ও দেশের মানুষের প্রতি তাদের দায়বদ্ধতা অন্য যে কোন পেশাজীবীদের চেয়ে অনেক বেশি। তাই কোনভাবেই চিকিৎসা সেবা বন্ধ বা রোগীদের জিম্মি করা কাম্য হতে পারে না।

সারা দেশ পাতার আরো খবর