ঈশ্বরগঞ্জে বিদ্যুপৃষ্ট হয়ে কলেজ ছাত্র ভাতিজা ও তার চাচা নিহত
ময়মনসিংহের ঈশ্বরগঞ্জ উপজেলায় ক্ষেতে ধান কাটতে গিয়ে বিদ্যুতের ছেঁড়া তারে কৃষক চাঁন মিয়া (৫৫) জড়িয়ে গেলে তাকে বাঁচাতে গিয়ে তার ভাতিজা আনন্দমোহন কলজের সমাজবিজ্ঞান বিভাগের অনার্স শেষ বর্ষের শিক্ষার্থী মিসতারুল ইসলাম (২৫) নিজেও বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে নিহত হন। বুধবার (০২ মে) বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে ঈশ্বরগঞ্জ উপজেলার জাটিয়া ইউনিয়নের পানুর গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। ঈশ্বরগঞ্জ ফায়ার সার্ভিস সূত্রে জানা যায়, উপজেলার পানুর গ্রােেম বিদ্যুৎস্পৃষ্টের খবর পেয়ে ঈশ্বরগঞ্জ দমকল বিভাগের কর্মীরা ঘটনাস্থলে গিয়ে তাদের উদ্ধার করে উপজেলা হাসপাতালে আনার পর কর্তব্যরত চিকিৎসক দু জনকেই মৃত ঘোষণা করেন। ঈশ্বরগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোঃ বদরুল আলম খান এ ব্যাপারে জানান, চাঁন মিয়া ক্ষেতে ধান কাটতে গেলে বিদ্যুৎতের ছেঁড়া তারে জড়িয়ে যান। এসময় তাকে বাঁচাতে গিয়ে আনন্দমোহন কলজের সমাজবিজ্ঞান বিভাগের অনার্স শেষ বর্ষের শিক্ষার্থী মিসতারুল ইসলাম (২৫) নিজেও বিদুৎস্পৃষ্ট হন। নিহতরা পানুর গ্রামের বাসিন্দা এবং সম্পর্কে চাচা-ভাতিজা বলে আরও জানান তিনি। প্রেস বিজ্ঞপ্তি
তাসপিয়া এখন কাটা লাশ ফেসবুক প্রেমে
লাশকাটা ঘরে পড়ে আছে ১৫ বছর বয়সী তাসপিয়ার লাশ। পুরো নাম তাসপিয়া আমিন। পড়াশোনা নগরীর সানশাইন গ্রামার স্কুল অ্যান্ড কলেজে, নবম শ্রেণিতে। বুধবার সকাল সাড়ে ৯টার দিকে পতেঙ্গা সমুদ্র সৈকত এলাকা থেকে অজ্ঞাত হিসেবে তার মরদেহ উদ্ধার করে পতেঙ্গা থানা পুলিশ। পতেঙ্গা সমুদ্র সৈকত এলাকার ১৮ নম্বর ব্রিজের উত্তর পাশে পাথরের উপর উপুড় হয়ে পড়ে থাকা লাশটি উদ্ধার করা হয়। পতেঙ্গা থানার উপপরিদর্শক আনোয়ার হোসেন জানান, সকালে স্থানীয় পথচারীরা মৃতদেহটি দেখতে পেয়ে থানায় খবর দেয়। খবর পেয়ে পুলিশ গিয়ে মৃতদেহটি উদ্ধার করে। একই সাথে সিআইডি সংগ্রহ করেছে মরদেহের সকল তথ্য-উপাত্ত। আগামীকাল বৃহস্পতিবার সকালে ময়নাতদন্ত শেষে পরিবারের কাছে তাসপিয়ার লাশ হস্তান্তর করা হবে। এদিকে, এ ঘটনায় তাসপিয়ার বয়ফ্রেন্ড আদনান মির্জাকে আটক করেছে পুলিশ। আদনান নগরীর দক্ষিণ খুলশী এলাকায় থাকে। তাদের গ্রামের বাড়ি লোহাগাড়ার পদুয়া ইউনিয়নে। আর পড়ালেখা সানশাইন গ্রামার স্কুলেই। এর আগে মঙ্গলবার সন্ধ্যায় নগরীর ওআর নিজাম রোডের গোল পাহাড় মোড়ে চায়না গ্রিল নামে একটি রেস্টুরেন্টে প্রেমের এক মাস পূর্তিতে মিলিত হয় তাসপিয়া ও আদনান। সেখানে প্রায় ২০ মিনিট অবস্থান করে তারা দুজন। রেস্টুরেন্টের বয় উজ্জ্বল জানান, মঙ্গলবার শবে-বরাত ও মে দিবসের ছুটির কারণে বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে রেস্টুরেন্ট খোলা হয়। এর প্রায় আধা ঘণ্টা পর অর্থাৎ ৫টা ২০ মিনিটের দিকে রেস্টুরেন্টে আসে ওই যুগল। তারা রেস্টুরেন্টের ৮নং কেবিনে বসে। এরপর খাবার ওর্ডার নিতে গেলে শুধু দুটি আইসক্রিম অর্ডার করে তারা। প্রায় ১৫ থেকে ২০ মিনিট অবস্থানের পর দুজন চলে যায়। এসময় দুইটি আইসক্রিমের মূল্য ১৫০ টাকা করে মোট ৩০০ টাকা এবং ৭৫ টাকা ভ্যাট ও ট্যাক্স মিলিয়ে ৩৭৫ টাকা পরিশোধ করে আদনান। এরপর সপ্তম তলার এই রেস্টুরেন্ট থেকে লিফটে একই সাথে নেমে যায় তারা। রেস্টুরেন্ট থেকে বের হয়েই তাসপিয়াকে একটি সিএনজি অটোরিকশাতে তুলে দেয় আদনান। পরে আরেকটি সিএনজি অটোরিকশাটিযোগে আদনানও স্থান ত্যাগ করে। তাসপিয়ার পরিবারের সাথে আলাপকালে স্বজনরা জানান, তাসপিয়ার ব্যবসায়ী বাবা মো. আমিন মঙ্গলবার বিকেলে নামাজ পড়তে গিয়েছিলেন মসজিদে। বাসায় তাসপিয়ার মা ব্যস্ত ছিলেন গৃহস্থালি কাজে। তাসপিয়া বাসা থেকে কাউকে না বলেই বেরিয়ে যায়। নামাজ পড়ে এসে তাকে বাসায় না পাওয়ায় বিচলিত হন বাবা। আগে থেকেই আদনানের সাথে তাসপিয়ার সম্পর্কের বিষয়টি জানা ছিল তার। খোঁজাখুঁজির পর তাসপিয়াকে না পেয়ে তার বন্ধুদের কাছ থেকে আদনানের মোবাইল নম্বর সংগ্রহ করেন বাবা। এরপর কল করে আনা হয় আদনানকে। তাকে নিয়ে মঙ্গলবার রাত ৯টার দিকে চায়না গ্রিল রেস্টুরেন্টে যান তারা। সিসিটিভি ফুটেজ দেখে বিস্তারিত বোঝার চেষ্টা করেন। আদনানও স্বীকার করে একসাথে রেস্টুরেন্টে খাওয়ার কথা। এরপর তাসপিয়াকে আদনান সিএনজি অটোরিকশায় তুলে দিয়েছিল বলেও জানায়। মঙ্গলবার বিকেল ৬টা ১০ মিনিট পর্যন্ত ঘটনা আদনানের স্বীকারোক্তির সাথে মিলে গেছে। সিসিটিভি ফুটেজও বলছে একই কথা। তবে এর পরের ঘটনা উল্টো। অভিযোগ করা হয় নগরের পাঁচলাইশ থানায়। পুলিশ রাত সাড়ে ৯টার দিকে আদনানকে আটক করে থানায় নিয়ে যায়। এ সময় ব্যাপক জিজ্ঞাসাবাদ করা হয় আদনানকে। সেখানে প্রায় দুই-দেড় ঘণ্টার মাথায় আদনানের দুই বড়ভাই ফিরোজ ও আকরাম তাসপিয়াকে বাসায় পাঠানোর শর্তে ছাড়িয়ে নেয় আদনানকে। রফিকুল ইসলাম নামে তাসপিয়াদের এক নিকটাত্মীয় জানান, সন্ধ্যায় যখন তাসপিয়াকে পাওয়া যাচ্ছিল না, তখন তাসপিয়ার মা বেগম আমিন আদনানকে মোবাইল ফোন করে বাসায় ডাকেন। রাত ৮টার দিকে আদনান ওআর নিজাম রোডে তাসপিয়াদের বাসার সামনে গিয়ে তাসপিয়ার মায়ের সাথে দেখা করে। এসময় তাসপিয়া কোথায় জানতে চাইলে আদনান জানায়, রেস্টুরেন্ট থেকে বের হয়েই তাসপিয়া বাসায় চলে এসেছে। তবে তাসপিয়া সে সময়ও বাসায় ফিরেনি। রফিকুল ইসলাম আরো জানান, ফেসবুক ও ইমোতে যখন ম্যাসেজ আদান-প্রদান হতো, বিষয়টি ঠিকই টের পেয়েছেন তাসপিয়ার মা। এ সময় থেকে মেয়েকে চোখে চোখে রাখার চেষ্টা করেন তিনি। তবে এর মধ্যেও যে এমন হবে? নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক তাসপিয়ার এক আত্মীয় জানান, তাসপিয়ার সাথে আদনানের সম্পর্কের কথা তাসপিয়ার বাবা মোহাম্মদ আমিনকে কয়েক দিন আগে জানিয়ে দিয়েছেন তাসপিয়ার মা। ওই সময়ই তাসপিয়ার বাবা মোহাম্মদ আমিন আদনানকে ডেকে শাসিয়ে দেন। মেয়ের পথ থেকে সরে যেতে কড়া ভাষায় জানিয়ে দেন তিনি। এ ঘটনায় তদন্তকারী কর্মকর্তা ও পতেঙ্গা থানার উপপরিদর্শক আনোয়ার জানান, সকালে মৃতদেহ উদ্ধারের পর দুপুরের দিকে তাসপিয়াকে শনাক্ত করেন পরিবারের সদস্যরা। এর আগে সুরতহাল রিপোর্ট তৈরি ও সিআইডি তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহ করে। বিকেল ৫টার দিকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেয়া হয় ময়নাতদন্তের জন্য। আনোয়ার জানান, তাসপিয়াকে পাথরের উপর উপুড় হয়ে পড়ে থাকাবস্থায় পাওয়া গেছে। পরনে হালকা গোলাপি সালোয়ার কামিজ। গায়ের রঙ ফর্সা। তবে দুই চোখ ও হাঁটুতে হাল্কা আঘাতের চিহ্ন আছে। মুখের মধ্যে ফেনা ছিল। ধর্ষণ করা হয়েছে কি না জানতে চাইলে এই তদন্তকারী অফিসার জানান, সেটা সিআইডির ফরেনসিক রিপোর্ট পেলে বলা যাবে। সে ব্যাপারে সিআইডি তাদের প্রয়োজনীয় আলামত সংগ্রহ করেছে। এছাড়া তাসপিয়ার বয়ফ্রেন্ড আদনানকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করার পর বলা যাবে ঘটনাটি কী। বিকেল ৫টায় নগরীর পতেঙ্গা থানা থেকে একটি অ্যাম্বুলেন্সে করে তাসপিয়ার মৃতদেহ চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে নিয়ে আসেন পুলিশ সদস্য আরাফাত। এর কিছুক্ষণ পর একটি লাল রঙের মাইক্রো নিয়ে মর্গে আসেন তাসপিয়ার বাবা মোহাম্মদ আমিন ও চাচা নুরুল আমিনসহ প্রায় ৩০ থেকে ৪০ জন স্বজন ও প্রতিবেশী। এ সময় তাসপিয়ার বাবা মিডিয়াকে বারবার এড়িয়ে যাচ্ছিলেন। চাচা নুরুল আমিন জানান, তাসপিয়া পরিবারের সবার বড়। গ্রামের বাড়ি টেকনাফ পৌরসভার ৫নং ওয়ার্ডের ডেইলপাড়া এলাকায়। এখানে নগরীর ওআর নিজাম রোডে ভাড়া বাসায় সপরিবারে থাকেন। পরিবারের ৪ সন্তানের মাঝে তাসপিয়া সবার বড়। এরপর আরো দুই বোন। সর্বকনিষ্টজন ভাই। তবে পরিবারের সদস্য ছাড়া তাসপিয়া কখনো একা বাসা থেকে বের হয়নি। গাড়ি নিয়েই স্কুলে আসা-যাওয়া করতো। সাথে মা, না হয় বাবা থাকতেন। এর মধ্যেও ফেসবুকে সম্পর্ক হয়ে আজ এতো বড় ক্ষতি।
কুমিল্লার ৩০ গ্রাম তিনদিন বিদ্যুৎহীন
কুমিল্লার উপর দিয়ে বয়ে যাওয়া কালবৈশাখীর ছোবলের ধকল তিনদিনেও কাটিয়ে উঠতে পারেনি জেলার বিদ্যুৎ বিভাগ। আর এ ব্যর্থতার মাশুল দিতে হচ্ছে তিনটি উপজেলার ৩০টিরও অধিক গ্রামের মানুষকে। গেলো সোমবার থেকে আজ বৃহস্পতিবার পর্যন্ত বিদুৎবিহীন বুড়িচং, মুরাদনগর ও তিতাস উপজেলার কয়েক হাজার পরিবার। বিদ্যুৎহীনতায় নানাভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পাশাপাশি এসব এলাকায় জনজীবনে নেমে এসেছে বিপর্যয়। বিদ্যুৎ বিপর্যয়ের ভোগান্তি ভয়াবহরূপ দেখা দিয়েছে বুড়িংয়ে। এ উপজেলার প্রায় ২৫টি গ্রাম গেলো রোববার রাত থেকেই রয়েছে অন্ধকারে। এসব উপজেলায় বসবাসকারী কয়েক হাজার মানুষের চরম ভোগান্তিতেও মাথা ব্যথা নেই বিদ্যুৎ বিভাগের। ঢিমেতালে চলছে তাদের মেরামত কাজ। অভিযোগ রয়েছে বিদ্যুৎ অফিসে অসংখ্যবার ফোন করলেও সে ফোন কেউ রিসিভ করেন না। অথবা ফোন যন্ত্রণায় অতিষ্ঠ অফিসের কর্তাবাবুরা রিসিভার উল্টিয়ে রাখেন যন্ত্রণা-মুক্তির আশায়। কুমিল্লা পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-৩ এর জিএম মো. রফিকুল ইসলাম বলেন, কালবৈশাখী ঝড়ের কারণে বিদ্যুতের খুটি ভেঙ্গে যাওয়া এবং কিছু এলাকায় তার ছিড়ে যাওয়ার কারণে বিদ্যুৎ যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন রয়েছে। খুঁটি মেরামত ও ছিঁড়ে যাওয়া তার জোড়া লাগিয়ে বিদ্যুৎ যোগাযোগ অক্ষুন্ন রাখার লক্ষ্যে বিদ্যুৎ বিভাগের কর্মীরা কাজ করছে। অচিরেই এ সমস্যা সমাধান হয়ে যাবে বলে আশাবাদী তিনি। অপরদিকে কয়েকবার চেষ্টা করেও ফোনে নাগাল পাওয়া যায়নি কুমিল্লা পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি- ২ এর জিএম মাজহারুল ইসলামের। তবে ইতোমধ্যে অন্য যারা তাঁর সাথে যোগাযোগ করতে পেরেছেন; তাদের সাথে কথা বলে জানা গেলো-আশার আলো দেখাতে পারেননি বিদ্যুৎ বিভাগের এ কর্মকর্তা। গত সোমবার দুপুর থেকে বিকেল পর্যন্ত তিন দফায় জেলার দাউদকান্দি, তিতাস, বুড়িচং ও দেবীদ্বার উপজেলার উপর দিয়ে বয়ে যাওয়া প্রচণ্ড কালবৈশাখী ঝড়ে সব কিছু লণ্ডভণ্ড হয়ে যায়। এতে গাছপালা, ঘরবাড়ি, বৈদুতিক খুঁটি এবং ফসলের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। কালবৈশাখীর এ ছোবল ভয়ানক রূপে দেখা দিয়েছিলো বুড়িচং উপজেলায়। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ঝড়ে উপজেলার অন্তত ৩০টি গ্রামে ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। দুপুর ১২টায় শুরু হওয়া কাল বৈশাখী ঝড় প্রায় ৪০মিনিট স্থায়ী হয়। এতে বিভিন্ন এলাকার হাজার হাজার গাছপালা, শত শত ঘরবাড়ি ও প্রতিষ্ঠান বিধস্ত হয়। বিভিন্ন গ্রামে বৈদুতিক খুঁটি ভেঙ্গে যায়। ক্ষতিগ্রস্থ হয় মাঠের বোরো ফসল। প্রচণ্ড বাতাসে উপজেলার বাকশীমূল ইউনিয়ন কালিকাপুর আখন্দ বাড়ি সংলগ্ন মোটা সেগুন গাছ মূলসহ উপড়ে ঘরের চালা ভেঙ্গে যায়। এসময় নয়ন মিয়া নামে একজন আহত হন। ঝড় শেষে রাজাপুর, পীরযাত্রাপুর, ষোলনল, ময়নামতি, মোকাম ইউনিয়নসহ বিভিন্ন এলাকার সড়কের ছোট বড় গাছ উপড়ে থাকতে দেখা যায়। সোমবারের ঝড়ের পর থেকে উপজেলার পীরযাত্রাপুর ইউনিয়নের পশ্চিম সাদকপুর, উত্তর শ্যামপুর, দক্ষিণ শ্যামপুর, কোমাল্লা, বরইয়া, পীরযাত্রাপুর, গোবিন্দপুর, শ্রীপুর এলাকায় বৃহস্পতিবার সকালে এরিপোর্ট লেখা পর্যন্ত সময়ে বিদ্যুৎ সংযোগ দেয়া হয়নি। পীরযাত্রাপুর ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান আবু তাহের জানান, ইউনিয়নের ৮টি গ্রাম বিদ্যুৎবিহীন। রোববার রাতে বৃষ্টির শুরু হওয়ার পর থেকেই গ্রামগুলো অন্ধকারে ডুবে আছে বলে জানান তিনি। একই অবস্থা ষোলনল ইউনিয়নের ভরাসার, কামারখাড়া, ষোলনল, ছয়ঘুড়িয়া, ভান্তি, সোনাইসার, কোশাইয়া, পূর্বহুড়া, ইছাপুরা গ্রামেও। এছাড়াও বাকশীমূল ইউনিয়নের আজ্ঞাপুর, কালিকাপুরসহ কয়েকটি গ্রাম ও রাজাপুর ইউনিয়নের অধিকাংশ গ্রামে রোববার রাতের পর থেকে আর বিদ্যুতের দেখা মেলেনি। বিদ্যুৎ না থাকায় সবচেয়ে বেশি ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছে এইচএসসিরা পরীক্ষার্থী। এছাড়াও প্রাথমিক বিদ্যালয়েও শুরু হয়েছে সাময়িক পরীক্ষা। বিদ্যুতের অভাবে তাদের লেখাপাড়ায় বিঘ্নে ঘটছে। সোমবার পরীক্ষা চলাকালে উপজেলার কয়েকটি কেন্দ্রে বিদ্যুৎ না থাকায় মোমবাতির আলোয় পরীক্ষা দিতে হয়েছে শিক্ষার্থীদের। অপরদিকে সোমবার দুপুরের পর থেকে বয়ে যাওয়া কালবৈশাখী ঝড়ে দাউদকান্দি উপজেলার ১৩টি গ্রাম ও তিতাস উপজেলার তিনটি ইউনিয়নের প্রায় ১৫টি গ্রামের টিনের ঘর বিধস্ত হয়েছে। দুই উপজেলার মধ্যে বেশী ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বন্ধরামপুর, মৌটুপি, শিবপুর, গোপালপুরসহ ৬টি গ্রাম। এসব গ্রামের প্রায় ৩০টি টিনের ঘর বিধস্ত হয়েছে। ঝড়ে গাছপালা উপড়ে ফেলে এবং বিদ্যুতের খুঁটি উপড়ে ফেলার কারণে বিদ্যুৎ যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন রয়েছে। এছাড়াও ঝড়ে কুমিল্লার মুরাদনগর, চান্দিনা ও দেবীদ্বার উপজেলায়ও ব্যাপক ক্ষতি হয়। এর মধ্যে মুরাদনগরের ৫টি গ্রাম ও তিতাসের ২/৩টি গ্রামে এখনো বিদ্যুৎসংযোগ বন্ধ রয়েছে।
কুমিল্লায় ব্যবসায়ী হত্যা মামলায় গ্রেফতার ২, ছুরি উদ্ধার
পাওনা টাকা দেয়ার কথা বলে ডেকে নিয়ে ব্যবসায়ী নুরুল ইসলামকে কুপিয়ে হত্যার মামামলায় প্রধান আসামি রেহানসহ দুই আসামিকে গ্রেফতার করা করেছে কুমিল্লার দেবীদ্বার থানা পুলিশ। গ্রেফতার অপরজন হলেন মামলার ৬ নম্বর আসামি শফিক (৩৮)। সোমবার ও মঙ্গলবার গভীর রাতে পৃথক অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেফতারের পর বুধবার দুপুরে আদালতের মাধ্যমে কুমিল্লা কেন্দ্রীয় কারাগারে প্রেরণ করা হয়েছে। এর আগে রেহান ও শফিক পৃথক পৃথকভাবে ১৬৪ স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি প্রদান করেছে বলে জানিয়েছেন দেবীদ্বার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মিজানুর রহমান। তিনি জানান, সোমবার গোপন সংবাদের ভিত্তিতে দেবীদ্বার উপজেলার ধামতী গ্রামে অভিযান চালিয়ে আসামি মো. শফিকুল ইসলামকে গ্রেফতার করা হয়। পরে মঙ্গলবার কুমিল্লার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট বিপ্লব দেবনাথের আদালতে ১৬৪ ধারায় দেয়া জবানবন্দিতে ব্যবসায়ী নুরুল ইসলাম হত্যাকাণ্ডের সাথে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করে। পরে তার দেয়া তথ্য অনুযায়ী মঙ্গলবার রাতে অভিযান চালিয়ে হত্যা মামলার প্রধান আসামি রেহানকে দেবীদ্বার পৌর এলাকার ছোটআলমপুর গ্রাম থেকে গ্রেফতার করা হয়। ব্যাপক জিজ্ঞাবাদের পর হত্যাকাণ্ডের কথা স্বীকার করে সে। পরবর্তীতে তার দেয়া তথ্য মতে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত ধারালো ছুরিটি ধামতী বায়তুল নূর আব্বাস সরকার মসজিদের পুকুর থেকে উদ্ধার করা হয়। বুধবার দুপুরে রেহান ও শফিককে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে প্রেরণ করা হয়েছে। গত ২৮ এপ্রিল শনিবার রাত সাড়ে ১১টায় কুমিল্লার দেবীদ্বার উপজেলার ধামতী গ্রামের চৌধুরীপাড়া রসুলের বাড়ির মৃত দুধ মিয়ার ছেলে ব্যবসায়ী মো. নুরুল ইসলামকে পাওনা টাকা দেয়ার কথা বলে মোবাইল ফোনে ডেকে নিয়ে যান প্রতিবেশী রেহান উদ্দিন (৩৫)। পরে রাত ১২টায় ধামতী চৌধুরী পাড়ায় রাস্তার পাশে নুরুল ইসলামকে রক্তাক্ত অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখে স্থানীয়রা তার বাড়িতে খবর দেয়। খবর পেয়ে তার ছেলে হাসান ও বড় ভাই জাহাঙ্গীর আলম মেম্বার গুরুতর আহত নুরুল ইসলামকে উদ্ধার করে দেবীদ্বার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে আসার পর কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ (কুমেক) হাসপাতালে প্রেরণ করেন। সেখানে তার শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে রাতেই তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। রোববার বেলা সাড়ে ১১টায় ঢামেকে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। এ ঘটনায় নিহতরে ছেলে হাসান বাদী হয়ে গত ৩০ এপ্রিল ধামতী চৌধুরী পাড়ার রেহান উদ্দিন ও তার অপর ৩ ভাইসহ সাত জনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাত ২/৩ জনকে অভিযুক্ত করে দেবীদ্বার থানায় মামলা দায়ের করেন।
মহান মে দিবস উপলক্ষে চট্টগ্রাম অটোরিকশা-অটোটেম্পু শ্রমিক ইউনিয়নের সমাবেশ ও বর্ণাঢ্য র‌্যা
চট্টগ্রাম অটোরিকশা-অটোটেম্পু শ্রমিক ইউনিয়ন এর সাধারণ সম্পাদক হারুনুর রশীদ বলেছেন, আজ মহান মে দিবস। শ্রমিকের শ্রমের-ঘামের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদনের দিন। শ্রমজীবী মানুষের অধিকার আদায়ের রক্তঝরা সংগ্রামের গৌরবময় দিন। তিনি বলেন, বাংলাদেশে শ্রমজীবি মানুষেরা এখনো তাদের অধিকার ফিরে পায়নি। তিনি বলেন, দোহাজারীতে পুলিশ বেপরোয়া গুলি চালিয়ে শ্রমিকদেরকে গুরুত্বর আহত করার পর তাদের বিরুদ্ধে উল্টো মামলা দিয়ে চালকদের হয়রানী করে যাচ্ছে। অবিলম্বে মামলা প্রত্যাহার করে আহত চালকদের চিকিৎসা নিশ্চিত করা এবং তাদের পরিবার পরিজনের ভরন পোষনের ব্যবস্থা করতে হবে। চট্টগ্রাম অটোরিকশা-অটোটেম্পু শ্রমিক ইউনিয়ন এর সমাবেশ ও রেলী কর্মসূচীতে প্রধান আলোচকের বক্তব্যে হারুনুর রশীদ উপরোক্ত কথা বলেন। চট্টগ্রাম অটোরিকশা-অটোটেম্পু শ্রমিক ইউনিয়ন ১৪৪১ এর উদ্যোগে মহান মে ও আর্ন্তজাতিক শ্রমিক দিবস উপলক্ষ্যে এক বর্ণাঢ্য রেলীযালী ও শ্রমিক সমাবেশ সকাল ৯টায় চট্টগ্রাম নগরীর সিআরবি ৭রাস্তার মোড়ে অনুষ্ঠিত হয়। ইউনিয়নের সভাপতি হাজী কামাল উদ্দিনের সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক হারুনুর রশীদের সঞ্চানায় অনুষ্ঠিত বিশাল শ্রমিক সমাবেশে বক্তব্য রাখেন, সহসভাপতি বিপ্লব, এসিস্টেন্ট সেক্রেটারী মো: ওমরফ ফারুক, সাংগঠনিক সম্পাদক রফিকুল ইসলাম, লাইন সম্পাদক পেয়ারু মোহাম্মদ সিরাজুল ইসলাম, আলী আকবর, হাসান মোল্লা, মো: মানিক প্রমুখ। মেট্টো একসের চেয়ারম্যান খন্দকার আবু জাফর রিমন, চট্টগ্রামের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ওয়জি উল্লাহ, মুভার বিডি প্র:এপসের এম এ ফারুক ও মো: ইমরান। সমাবেশে হারুনুর রশীদ বলেন, ম্যাক্সিমা অটোটেম্পুর রোড পারমিট ইস্যু করার জন্য সংশ্লিষ্টদের দায়িত্ব নিতে হবে। অন্যতায় কঠোর আন্দোলনের কর্মসূচী দেওয়ারও ইঙ্গিত দেন। তিনি বলেন সার্ভিস রুল সংশোধন করে চট্টগ্রাম নগরীতে ৪হাজার গাড়ী বরাদ্দ নিশ্চিত করার মাধ্যমে বেকার চালকদের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হবে। তিনি আরো বলেন, ইউনিয়নের পেশকৃত ১২ দফা দাবী মেনে নিয়ে অটোরিকশা চালকদের মর্যাদাপূর্ণ জীবন যাপনের ব্যবস্থা করতে হবে। অটোরিকশা চালকদের উপর পুলিশের যত্রতত্র মামলা,হামলা দিয়ে হয়রানী বন্ধ করতে হবে। নো পার্কিং মামলা বন্ধ করে নগরীতে পার্কিং ব্যবস্থা নিশ্চিত করার জন্য তিনি পুলিশ ও মেয়র মহোদয়ের প্রতি আহবান জানান। সভাপতির বক্তব্যে হাজী কামাল উদ্দিন বলেন, আজ থেকে ১৩২ বছর আগে ১৮৮৬ সালের এই দিনে শ্রমিকরা আট ঘণ্টা কাজের দাবিতে যুক্তরাষ্ট্রের সব শিল্পাঞ্চলে ধর্মঘটের ডাক দিয়েছিলেন শ্রমজীবি মানুষেরা। এতে প্রায় ৩ লাখ শ্রমিক অংশ নেন। শ্রমিক সমাবেশকে ঘিরে শিকাগো শহরের হে মার্কেট রূপ নেয় শ্রমিকের বিক্ষোভ সমুদ্রে। শ্রমিকদের আন্দোলন দমন করতে সেদিন সমাবেশে পুলিশ এলোপাতাড়ি গুলি চালায়। এতে ১০ শ্রমিক প্রাণ হারান। এছাড়া গ্রেফতার করা হয় অনেককে। আন্দোলনে অংশ নেওয়ার অপরাধে ৬ শ্রমিককে ফাঁসিতে ঝুলিয়ে দেয় সে সময়কার শাসকগোষ্ঠী। কারাগারে বন্দি অবস্থায় এক শ্রমিক আত্মহননও করেন। এই খবর ছড়িয়ে পড়ার পরপরই হে মার্কেটের ওই শ্রমিক বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে সারা বিশ্বে। গড়ে ওঠে শ্রমিক-জনতার বৃহত্তর ঐক্য। অবশেষে তীব্র আন্দোলনের মুখে শ্রমিকদের দৈনিক আট ঘণ্টা কাজের দাবি মেনে নিতে বাধ্য হয় যুক্তরাষ্ট্র সরকার। তিনি শ্রমজীবি মানুষের দাবী মেনে নিয়ে তাদের অধিকার ফিরিয়ে দেয়ার জন্য সরকারের প্রতি আহবান জানান অন্যথায় সেই রক্তঝরা মের মতো শ্রমিকরা সারাদেশে আন্দোলনের ঝাপিয়ে পড়তে বাধ্য হবে। প্রেস বিজ্ঞপ্তি
৫ মে চট্টগ্রাম কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার চত্বরে মুক্তিযোদ্ধা-জনতা সংহতি মহাসমাবেশ
বীর মক্তিযোদ্ধার সন্তান ও পরিবার সমন্বয় পরিষদ-চট্টগ্রাম এর উদ্যোগে আগামী ৫ মে শনিবার বেলা দুইটায় চট্টগ্রাম কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার চত্বরে মুক্তিযোদ্ধা-জনতা সংহতি মহাসমাবেশ অনুষ্ঠিত হবে। মুক্তিযুদ্ধ ও মুক্তিযোদ্ধাদের অবমাননার প্রতিবাদ, মুক্তিযোদ্ধা পরিবারের স্থায়ী অধিকার সংরক্ষণ আইনের সাংবিধানিক স্বীকৃতি দেওযার দাবিতে এ মহাসমাবেশের আয়োজন করছে। সমাবেশে বক্তব্য রাখবেন মুক্তিযোদ্ধার সন্তান ও বীর মুক্তিযোদ্ধা মাহতাব উদ্দিন চৌধুরী, শহীদ বুদ্ধিজীবীর সন্তান শাহিন রেজা নূর, শমী কায়সার, মুক্তিযোদ্ধা সন্তান ওয়াসিকা আয়েশা খান এমপি, শহীদ মুক্তিযোদ্ধার সন্তান ডা: নুজহাত চৌধুরী, আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউটর ব্যারিস্টার ড. তুরিন আফরোজ, মুক্তিযোদ্ধার সন্তান ব্যারিস্টার মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল, মরহুম এম.এ. আজিজ এর সন্তান সাইফুদ্দিন খালেদ বাহার, মুক্তিযোদ্ধার সন্তান আবদুল লতিফ টিপু, আনিসুজ্জামান চৌধুরী রনি, মাহবুব রহমান রুহেল, বীরশ্রেষ্ঠ রহুল আমিন এর সন্তান ফাতেমা ইসলাম। সভাপতিত্ব করবেন মুক্তিযোদ্ধা সংসদের মহানগর কমান্ডার মোজাফফর আহমদ। আজ ২ মে বুধবার বেলা ১২টায় চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবের ইঞ্জিনিয়ার আবদুল খালেক মিলনায়তনে সংবাদ সম্মেলন করে লিখিত বক্তব্য রাখেন শহীদ মুক্তিযোদ্ধার সন্তান মাহবুবুর রহমান শিবলী। সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন মুক্তিযোদ্ধা নাঈম উদ্দিন চৌধুরী, ডা. সরফরাজ খান চৌধুরী বাবুল, আবু সাঈদ সরদার, কমান্ডার মোজাফফর আহমদ, পান্টু লাল সাহা, সাধন চন্দ্র বিশ্বাস, রমিজ উদ্দিন আহমেদ, আজিজ উদ্দিন কমান্ডার, মুক্তিযোদ্ধা সন্তান নওশাদ মাহমুদ রানা, মো. জসিম উদ্দিন চৌধুরী, শামীমা হক লুবনা, নাজনীন সরওয়ার কাবেরী, মো. হেলাল উদ্দিন, সায়রা বানু রুশ্নি, মো. সরফুদ্দিন আহমেদ রাজু, মো. সরওয়ার আলম চৌধুরী মণি, জাকির আহমেদ খোকন, মছরুর হোসেন, ইঞ্জিনিয়ার মশিউজ্জামান পাভেল, মিজানুর রহমান সজিব, কাজী রাজিশ ইমরান, মো: সাজ্জাদ হোসেন, সুরজিৎ দত্ত সৈকত, কামরুল হুদা পাভেল, নয়ন ধুম, ডিকু সিকদার, ইশতিয়াক আহমেদ, উত্তম বড়–য়া, আসিফ আসহাব, সাদ্দাম হোসেন মানিক, খোরশেদ আলম বাবল, প্রকশৌলী নাজমুল, মঈনুল ইসলাম প্রমুখ। লিখিত বক্তব্যে বলা হয়, মুক্তিযোদ্ধাদের অপরিসীম আত্মত্যাগ ও বীরত্বপূর্ণ কীর্তি বাংলাদেশের বুকে দাঁড়িয়ে কোটা বাতিলের আন্দোলনের অজুহাতে মুক্তিযুদ্ধ ও মুক্তিযোদ্ধার অবমাননা একটি চূড়ান্ত দৃষ্টান্ত এবং স্বাধীনতার চেতনাবিরোধী। এর অন্তরালে একাত্তরের স্বাধীনতাবিরোধী এবং চিহ্নিত প্রতিক্রিয়াশীল শক্তির সুনির্দিষ্ট অপচেষ্টা সুস্পষ্ট। মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ও আদর্শ থেকে নতুন প্রজন্মকে বিচ্যুত করার ঘৃণ্য চক্রান্ত চলছে। লিখিত বক্তব্যে বলা হয় মুক্তিযোদ্ধারা কোটার আশায় জীবন বাজি রেখে শত্রুমুক্ত করেনি বরং তাঁদের আত্মত্যাগের বিনিময়ে বিশ্বমান চিত্রে লাল-সবুজের পতাকা প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। বীর মুক্তিযোদ্ধার সন্তান ও পরিবার সমন্বয় পরিষদ-চট্টগ্রামের পক্ষে এ পর্যন্ত সরকারী প্রতিষ্ঠানে কত জন মুক্তিযোদ্ধার সন্তানের চাকুরী হয়েছে তার পূর্ণাঙ্গ তালিকা প্রকাশ, যুদ্ধাপরাধীদের বিচার ও রাজাকারদের পূর্ণাঙ্গ তালিকা প্রকাশ, জামায়াত শিবিরের রাজনীতি নিষিদ্ধ, যুদ্ধাপরাধীদের সন্তান-নাতিদের সরকারি চাকরি বাতিল, ভিয়েতনামের মতো দেশদ্রোহীদের অধিকার সংকুচিত করার আইন জারি, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের বাসভবনে হামলাকারীদের বিচার, সব স্কুল-কলেজে বাধ্যতামূলক শহীদ মিনার স্থাপন, জাতীয় সংগীত পরিবেশনা ও জাতীয় পতাকা উত্তোলনের ব্যবস্থা করতে হবে ও সব নামফলক বাংলায় লেখার দাবি জানানো হয়। সাংবাদিক সম্মেলনে জঙ্গিবাদ ও স্বাধীনতা বিরোধী, মুক্তিযোদ্ধাদের সম্মান ক্ষুন্নকারী এবং চিহ্নিত অবমাননাকারীদের বিচারের দাবী জানান। পরিশেষে মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় বিশ্বাসী দল-মত-নির্বিশেষে সকল শ্রেণী পেশার জনগণকে আগামী ৫ মে শনিবার বেলা ২টায় চট্টগ্রাম কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার চত্বরে মুক্তিযোদ্ধা-জনতা সংহতি মহাসমাবেশে উপস্থিত থাকার অনুরোধ জানান। প্রেস বিজ্ঞপ্তি
৭৫ পরবর্তী জনপ্রতিনিধিগণ সাতকানিয়া লোহাগাড়াবাসীর ভাগ্য পরিবর্তনে ব্যর্থ হয়েছেন
চট্টগ্রাম-১৫ (সাতকানিয়া-লোহাগাড়া) আসনের সাংসদ প্রফেসর ড. আবু রেজা মুহাম্মদ নেজামুদ্দীন নদভী বলেন, বিগত সাড়ে চার বছর ধরে সাতকানিয়া লোহাগাড়াবাসীর কল্যাণে সাধ্যমত চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি। নির্বাচনের পূর্বে জনগণের কাছে দেয়া অধিকাংশ অঙ্গীকার এবং প্রত্যাশা পূরণের কথা উল্লেখ করে বাকী সময়ের মধ্যে অবশিষ্ট অঙ্গীকার সমূহ বাস্তবায়ন হবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ বদান্যতায় এবং নিজের ঐকান্তিক প্রচেষ্টায় সাতকানিয়া-লোহাগাড়ায় হাজার হাজার কোটি টাকার উন্নয়ন কর্মকান্ডের ফলে ব্যাপক অবকাঠামোগত উন্নয়ন সাধিত হয়েছে। তিনি আরো বলেন, ৭৫’র রাজনৈতিক পট পরিবর্তনের পর নির্বাচিত বিভিন্ন জনপ্রতিনিধিগণ সাতকানিয়া লোহাগাড়াবাসীর ভাগ্য পরিবর্তনে ব্যর্থ হয়েছেন। আগামী নির্বাচনে দলমত নির্বিশেষে উন্নয়নের রাজনীতির সাথে সম্পৃক্ত থেকে সাতকানিয়া লোহাগাড়ায় চলমান ব্যাপক উন্নয়নের ধারাকে অব্যাহত রাখতে সচেষ্ট থাকবেন বলে তিনি দৃঢ় আশাবাদ ব্যক্ত করেন। লোহাগাড়া উপজেলার কলাউজান ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের উদ্যোগে ৩০ এপ্রিল ২০১৮ইং বিকেল তিনটায় স্থানীয় কানুরাম বাজার মাঠ প্রাঙ্গণে আয়োজিত বিরাট জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি উপরোক্ত কথাগুলো তুলে ধরেন। প্রধান বক্তার বক্তব্যে বাংলাদেশ ছাত্রলীগের সাবেক কেন্দ্রীয় সভাপতি মাঈনুদ্দিন হাসান চৌধুরী বলেন, জাতির জনক বঙ্গবন্ধু স্বপ্ন বাস্তবায়ন এবং অসমাপ্ত কাজ শেষ করার মাধ্যমে বিংশ শতাব্দীর উপযুক্ত ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ার প্রত্যয় সফল করাই জননেত্রী শেখ হাসিনার একমাত্র ব্রত। বিগত সাড়ে চার বছরে মাননীয় সংসদ প্রফেসর ড. আবু রেজা মুহাম্মদ নেজামুদ্দীন নদভী এমপির নেতৃত্বে সাতকানিয়া লোহাগাড়ায় ব্যাপক উন্নয়ন কর্মকান্ডের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, এই আসন থেকে বারবার নির্বাচিত বিএনপি জামাতের প্রার্থীরা জনগণের আশা আকাঙ্কার প্রতিফলন ঘটাতে সম্পূর্ণ ব্যর্থ হয়েছেন। তারা কেবল জনগণের ভাগ্য নিয়ে ছিনিমিনি খেলা করেছে। কলাউজান ইউনিয়নের চেয়ারম্যান এম.এ ওয়াহেদের সভাপতিত্বে জনসভায় বক্তব্য রাখেন কেন্দ্রীয় আওয়ামীলীগের দপ্তর উপ-কমিটির সদস্য মোহাম্মদ আবু বক্কর, লোহাগাড়া উপজেলা আওয়ামীলীগের সহ-সভাপতি ও সদর ইউপির চেয়ারম্যান আলহাজ্ব নুরুচ্ছাফা চৌধুরী, লোহাগাড়া উপজেলা ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি এইচ এম গনি সম্রাট,সাবেক সাধারণ সম্পাদক এসএম আবদুল জব্বার, পদুয়া ইউপি চেয়ারম্যান মোহাম্মদ জহির উদ্দিন, দক্ষিণ জেলা যুবলীগের সদস্য নুরুল আলম জিকু,উপজেলা যুবলীগের আহবায়ক মোঃ জহির উদ্দিন, উপজেলা ছাত্রলীগের যুগ্ন আহবায়ক মোহাম্মদ মিজানুর রহমান মিজান, যুগ্ম আহবায়ক মোরশেদুল আলম নিবিল। জনসভায় অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন লোহাগাড়া থানার ওসি মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম, পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) মোহাম্মদ আবদুল জলিল, উপজেলা শ্রমিক লীগের সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ নুরুল হক নুনু, আমিরাবাদ ইউপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান এসএম ইউনুচ, আমিরাবাদ ইউপি সদস্য মোহাম্মদ রফিকুল ইসলাম চৌধুরী, চরম্বা ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক সাবেক ছাত্রনেতা মোঃ আসাহাব উদ্দিন, উপজেলা যুবলীগ নেতা মোহাম্মদ সাইফুল হাকিম, মোহাম্মদ জাফর আলম, সাংসদের একান্ত সহকারী সচিব ও সোনাকানিয়া ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সভাপতি এসএম শাহাদৎ হোসাইন শাহেদ, উপজেলা যুবলীগ নেতা মোহাম্মদ সরওয়ার কামাল, কলাউজান ইউনিয়ন যুবলীগ নেতা মোহাম্মদ ফারুক, সাতকানিয়া যুবলীগ নেতা মোহাম্মদ দেলোয়ার হোসেন বেলাল। এছাড়াও কলাউজান ইউনিয়ন আওয়ামীলীগ,যুবলীগ,ছাত্রলীগ,কৃষকলীগসহ সর্বস্তরের জনসাধারণ উপস্থিত ছিলেন। জনসভার পুর্বে সাংসদ ড. নদভী এমপি কলাউজান ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকায় ছয়টি উন্নয়ন প্রকল্প উদ্বোধন করেন। প্রেস বিজ্ঞপ্তি
নারীদের জন্য বিকল্প কর্মসংস্থান সৃষ্টি করা হবে নির্বাচিত হলে
খুলনা সিটি কর্পোরেশন (কেসিসি) নির্বাচনে আওয়ামী লীগের মেয়র প্রার্থী তালুকদার আব্দুল খালেক বলেছেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন বর্তমান সরকার কর্মক্ষেত্রে পুরুষের পাশাপাশি নারীদেরও অংশগ্রহণ নিশ্চিত করেছে। নারীদের জীবনমান উন্নয়নে আমারও বিশেষ পরিকল্পনা রয়েছে। আমি খুলনা সিটি কর্পোরেশনের মেয়র নির্বাচিত হলে বিশেষ প্রকল্পের মাধ্যমে নারীদের জন্য বিকল্প কর্মসংস্থান সৃষ্টি করা হবে। বুধবার সকালে নগরীর ১৪ নম্বর ওয়ার্ডের বিভিন্ন এলাকায় গণসংযোগকালে তালুকদার আব্দুল খালেক এসব কথা বলেন।সকাল ৯টায় রায়ের মহল বড় মসজিদ রোড থেকে শুরু করে ওয়ার্ডের বিভিন্ন এলাকায় গণসংযোগ ও মতোবিনিময় করেন তিনি। এলাকাবাসীর দাবির প্রেক্ষিতে তিনি বলেন, রায়ের মহল এলাকায় খেলাধুলার জন্য মাঠের ব্যবস্থা এবং ড্রেনেজ ব্যবস্থার উন্নতি করা হবে। এজন্য আসন্ন নির্বাচনে মেয়র পদে নৌকা প্রতীকে ভোট দিয়ে নির্বাচিত করার জন্য এলাকাবাসীর প্রতি আহ্বান জানান। এ সময় মেয়র প্রার্থীর সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন খুলনা মহানগর মুক্তিযোদ্ধা সংসদের ডেপুটি কমান্ডার মনিরুজ্জামান মনি, নগর আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক শেখ মো. ফারুক আহমেদ, নগর আওয়ামী লীগ নেতা ও ওয়ার্ড কাউন্সিলর প্রার্থী শেখ মোশাররফ হোসেন, রায়ের মহল (অনার্স) কলেজের অধ্যক্ষ ড. আবুল কালাম আজাদ, সংরক্ষিত কাউন্সিলর প্রার্থী অ্যাড. মেমরী সুফিয়া রহমান শুনু, ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভাপতি এনায়েত আলী আলো কাজী, সাধারণ সম্পাদক শাহজাহান জমাদ্দার, সাবেক ছাত্রনেতা শেখ ফারুক হাসান হিটলু, নগর ছাত্রলীগের সভাপতি শেখ শাহাজালাল হোসেন সুজন ও কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগ নেতা মশিউর রহমান সুমন।
নড়িয়া উপজেলায় যুবলীগ ও ছাত্রলীগ নেতাকে হাতুড়িপেটা
আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে নড়িয়া উপজেলা যুবলীগের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক আলমগীর হোসেন ও উপজেলার ডিঙ্গামানিক ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক মনির হোসেন বেপারীকে হাতুড়িপেটার অভিযোগ উঠেছে। গত সোমবার রাতে নড়িয়া বাংলাবাজার এলাকায় নড়িয়া উপজেলা যুবলীগের যুগ্ম-আহ্বায়ক উজ্জ্বল মালতের অনুসারীরা এ ঘটনা ঘটিয়েছে বলে অভিযোগ আহতদের। গুরুতর আহত অবস্থায় আলমগীরকে শরীয়তপুর সদর হাসপাতালে ভর্তি আর মনিরকে প্রাথমিক চিকিৎসা দেয়া হয়েছে। স্থানীয় সূত্রে ও আহতদের কাজ থেকে জানা যায়, এলাকায় আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে আলমগীর ও উজ্জ্বলের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলে আসছে। তারই জেরে হামলার সূত্রপাত। গত সোমবার রাতে আলমগীর ও মনির একটি মোটরসাইকেলে করে বাংলাবাজার থেকে কালিখোলার দিকে যাচ্ছিলেন। পথে উপজেলা যুবলীগের যুগ্ম-আহ্বায়ক উজ্জ্বলের লোকজন তাদের পথরোধ করে। পরে এ দুই নেতাকে এলোপাতাড়ি মারধর করে। তখন মোটরসাইকেল নিয়ে তারা রাস্তার পাশে পানিতে পড়ে গেলে হামলাকারীরা লোহার রড ও হাতুড়ি দিয়ে তাদের পিটিয়ে জখম করে। স্থানীয়রা টের পেয়ে এগিয়ে গেলে হামলাকারীরা পালিয়ে যায়। পরে আলমগীর ও মনিরকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। তবে উজ্জ্বল মালত বিষয়টি অস্বীকার করে বলেন, আলমগীর ও মনিরকে কে বা কারা মারধর করেছে জানি না। তবে আমার লোকজন তাদের উপর হামলা করেনি। নড়িয়া থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো.আসলাম উদ্দিন বলেন, হামলার ঘটনাটি লোকমুখে শুনেছি। বিষয়টি নিয়ে কেউ অভিযোগ করতে আসেনি।

সারা দেশ পাতার আরো খবর