বজ্রপাতে কৃষকের মৃত্যু সিরাজগঞ্জে
সিরাজগঞ্জের কাজীপুরে বজ্রপাতে ছানোয়ার হোসেন (৩৭) নামে এক কৃষকের মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনায় রফিকুল ইসলাম নামে আরও এক কৃষক গুরুতর আহত হয়েছেন। বুধবার সকাল ৮টার দিকে উপজেলার মনসুরনগর ইউনিয়নের চর ছিন্না গ্রামে ধানখেতে এ ঘটনা ঘটে। ওই ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য সোহেল আলম এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। নিহত ছানোয়ার হোসেন (২৯) মনসুরনগর ইউনিয়নের চর ছিন্না গ্রামের আব্দুল হকের ছেলে ও আহত রফিকুল ইসলাম (৪৫) একই গ্রামের আব্দুস সাত্তারের ছেলে। স্থানীয়রা জানায়, বুধবার সকালে কৃষক ছানোয়ার হোসেন ও রফিকুল বাড়ির পাশে ধান কাটতে মাঠে যান। এক পর্যায়ে সকাল ৮টার দিকে বজ্রপাতে তাদের শরীর ঝলসে যায়। পরে তাদেরকে উদ্ধার করে স্থানীয় স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক ছানোয়ারকে মৃত ঘোষণা করেন। এর আগে মঙ্গলবার সারাদেশে বজ্রপাতে ১১ জনের মৃত্যু হয়। এ ঘটনায় আহত হন অন্তত পাঁচজন। বজ্রপাতে নিহতদের মধ্যে রয়েছেন- সুনামগঞ্জে চারজন, গাইবান্ধায় দুইজন, সিলেটে দুইজন, বগুড়ায় দুইজন ও শেরপুরে একজন।
শিক্ষক উধাও ছাত্রীর হাত ধরে
রাজশাহীর বাঘায় জাকির হোসেন নামের এক স্কুল শিক্ষক ছাত্রীর হাত ধরে নিরুদ্দেশ হয়েছেন। সোমবার থেকে নিরুদ্ধেশ হন তারা। মঙ্গলবার ঘটনা জানাজানি হলে এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। পরে ওই শিক্ষককে সাময়িক বরখাস্ত করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নেয় বিদ্যালয়টির পরিচালনা কমিটি। অভিযুক্ত জাকির হোসেন উপজেলার মীরগঞ্জ মুছার ঈদগাঁবাজার বালিকা বিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগের শিক্ষক। তিনি দশম শ্রেণি পড়ুয়া ওই ছাত্রীকে নিয়ে পালিয়ে যান। তাদের মধ্যে দীর্ঘদিনের প্রেমের সম্পর্ক ছিলো। এঘটনায় শিক্ষক জাকির হোসেনের মোবাইল ফোনের কয়েক দফা চেষ্টা করেও সংযোগ পাওয়া যায়নি। বিদ্যালয়টির প্রধান শিক্ষক আবদুল মালেক জানিয়েছেন, ঘটনা জানাজানি হলে তিনি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও শিক্ষা কর্মকর্তাকে বিষয়টি অবহিত করেন। এছাড়া পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে মঙ্গলবার জরুরী সভা করে পরিচালনা কমিটি। সেখানেই ওই শিক্ষককে সাময়িক বরখাস্তের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। তিনি বলেন, সাত দিনের মধ্যে ওই শিক্ষককে কারণ দর্শাণোর নোটিশ দেওয়া হয়েছে। জবাব পেলে পরবর্তী ব্যবস্থা নেবে পরিচালনা কমিটি। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শাহিন রেজা জানান, বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ তাকে বিষয়টি জানিয়েছে। তিনি এনিয়ে আইনী ব্যবস্থা নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন। বাঘা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রেজাউল হাসান জানান, এনিয়ে এখনও থানায় কোনো অভিযোগ আসেনি। অভিযোগ পেলে আইনত ব্যবস্থা নেওয়ার হবে।
শ্রমিক অধিকার আদায়ের দাবিতে প্রকম্পিত প্রেস ক্লাব প্রাঙ্গণ
শ্রমিকদের দাবি ও অধিকার আদায়ের দাবিতে মুখরিত হয়ে উঠেছে জাতীয় প্রেস ক্লাব প্রাঙ্গণ। আন্তর্জাতিক শ্রমিক দিবস উপলক্ষে মঙ্গলবার জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে বিভিন্ন শ্রমিক সংগঠন মিছিল, র্যালি, মানববন্ধন ও সমাবেশে করে দিবসটি পালন ও নিজেদের দাবি তুলে ধরছেন। ১ মে শ্রমিক দিবস উপলক্ষ্যে মঙ্গলবার সকাল থেকেই জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে একের পর এক আসতে থাকে মিছিল।সরেজমিনে দেখা যায়, ১৫ থেকে ২০টি শ্রমিক সংগঠন প্রেস ক্লাবের সামনে অবস্থান নিয়ে বিভিন্ন কর্মসূচির মাধ্যমে তাদের দাবি তুলে ধরছেন। এর মধ্যে ঢাকা মহানগরীর প্রাইভেট কার ও ট্যাক্সি ক্যাব ড্রাইভার্স ইউনিয়ন, জাতীয় গার্হস্থ্য নারী শ্রমিক ইউনিয়ন, দি সিটি ব্যাংক কর্মচারী পরিষদ, বাংলাদেশ আওয়ামী মটরচালক লীগ, শ্রমিক নিরাপত্তা ফোরাম, রেডিমেট গার্মেন্টস ওয়ার্কাস ফেডারেশন, জাগো বাংলাদেশ শিশু কিশোর ফেডারেশন, বাংলাদেশ ট্রাস্ট গার্মেন্টস শ্রমিক কর্মচারী ফেডারেশন, শ্রমিক কর্মচারী ঐক্য পরিষদ (স্কপ), বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন ফেডারেশন, বাংলাদেশ মেডিকেল অ্যাসোসিয়েশন, কারিতাস সেফ প্রকল্প, গণতান্ত্রিক যুব ফোরাম, বাংলাদেশ ট্রেড ইউনিয়ন সংঘ, গৃহশ্রমিক অধিকার প্রতিষ্ঠা নেটওয়ার্ক, ওয়্যারবী ডেভেলপমেন্ট ফাউন্ডেশন। প্রেস ক্লাবের সামনে আয়োজিত এক সমাবেশে বাংলাদেশ ট্রেড ইউনিয়ন ফেডারেশনের (টাফ) সভাপতি ফায়জুল হাকিম বলেন,আজকে শ্রমিকরা সবচেয়ে বঞ্চিত শ্রেণি। সমাজের প্রতিটি ক্ষেত্রে তারা মালিক দ্বারা নিগৃহীত হচ্ছে। এর বিরুদ্ধে শ্রমিকরা সমাজকে ঐক্যবদ্ধ আন্দোলন গড়ে তুলতে হবে। শ্রমিকের কর্মেই দেশ আজ উন্নত হচ্ছে বলে দাবি করে তিনি বলেন,দেশকে আরও সমৃদ্ধশালী করতে হলে শ্রমিকদের উন্নতির বিকল্প নেই। এ সময় তিনি কয়েকটি দাবির কথা বলেন, এর মধ্যে রয়েছে- শ্রমিকদের সপ্তাহে দুই দিন ছুটি দিতে হবে, ট্রেড ইউনিয়ন করার অধিকার দিতে হবে, ২৪ এপ্রিল শ্রমিক গণহত্যা দিবস ও সব শ্রমিক হত্যার বিচার করতে হবে, শিল্প পুলিশ ও শিল্প গোয়েন্দা বাতিল করতে হবে। বাংলাদেশ ট্রেড ইউনিয়ন সংঘের সভাপতি আব্দুল খালেক বলেন,হোটেল শ্রমিকরা কাক ডাকা ভোর থেকে গভীর রাত পর্যন্ত হাড়ভাঙা পরিশ্রম করে ভোক্তাদের সার্ভিস দেন। অথচ তাদের দাবির বিষয়টি অবহেলিত। আজও নির্ধারিত হয়নি তাদের শ্রমঘণ্টা। তিনি দৈনিক কাজের সময় ৮ ঘণ্টা নির্ধারণের দাবি জানিয়ে বলেন, শ্রমিকদের কর্মঘণ্টা নির্ধারণ, অতিরিক্ত কাজের বিনিময়ে অতিরিক্ত পারিশ্রমিক প্রদান, আইনি সুরক্ষা দিয়ে জাতীয় ন্যূনতম মজুরি ২০ হাজার টাকা ঘোষণা করতে হবে। অবাধ ট্রেড ইউনিয়নের অধিকার, গণতান্ত্রিক শ্রম আইন প্রণয়ন ও কর্মক্ষেত্রে নিরাপত্তার দাবিসহ পুঁজিবাদী শোষণের বিরুদ্ধে শ্রমিক শ্রেণির ঐক্যবদ্ধ লাগাতার আন্দোলন গড়ে তোলার আহ্বান জানান তিনি। সম্মিলিত গার্মেন্টস শ্রমিক ফেডারেশনের র্যালি শেষে শ্রমিক সমাবেশে নাজমা আক্তার বলেন,শ্রমের বিনিময়ে গার্মেন্ট শ্রমিকরা তাদের ন্যায্য মজুরি পাচ্ছেন না। ন্যুনতম ১৬ হাজার টাকা মজুরি নির্ধারণ এখন সময়ের দাবি বলে উল্লেখ করেন তিনি। মানববন্ধনে শ্রমিক গণতান্ত্রিক মোর্চার নেতৃবৃন্দ বলেন,পহেলা মে শ্রমিকদের আত্মত্যাগের বিনিময়ে ৮ ঘণ্টা শ্রমদিবসের অধিকার পুঁজিবাদী শ্রেণি ঘোষণা করলেও আজও তা বাস্তবায়ন হয়নি। আজও শ্রমিকদের ১২/১৪ ঘণ্টা কাজ করতে হয়, এটা নিঃসন্দেহে শ্রমিকদের উপর জুলুম। এ সময় তারা অবিলম্বে শ্রমিকদের দৈনিক ৮ কর্মঘণ্টা বাস্তবায়নের দাবি জানান।
বিএনপি সবসময় শ্রমিকদের অধিকার প্রতিষ্ঠায় কাজ করেছে
বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা ও আলোচনা সভার মধ্য দিয়ে জাতীয়তাবাদী নির্মাণ শ্রমিক দল চট্টগ্রাম মহানগরের উদ্যোগে মহান মে দিবস পালন করেন। এ উপলক্ষে আজ ১ মে সকাল ১০টায় নগরীর কাজীর দেউরী কাচাবাজার থেকে একটি শোভাযাত্রা বের হয়ে শহরের বিভিন্ন রাস্তা প্রদক্ষিণ করে নাছিমন ভবন চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির দলীয় কর্যালয়ে এসে শেষ হয়। এত প্রধান অতিথি হিসাবে উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ও কেন্দ্রীয় বিএনপির সাবেক সহ সাংগঠনিক সম্পাদক আবুল হাশেম বক্কর। শোভাযাত্রা শেষে সংক্ষিপ্ত আলোচনা সভায় প্রধাণ অতিথির বক্তব্যে আবুল হাশেম বক্কর বলেন, আজ মহান মে দিবস। শ্রমজীবি মানুষের অধিকার আদায়ের দিন। ১৮৮৬ সালের মে মাসের আজকের এই দিনে শ্রমজীবী মেহনতি মানুষে অধিকার প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল। তিনি শ্রমিকের ন্যায্য অধিকার আদায় করতে গিয়ে আমেরিকার শিকাগো শহরে হে মার্কেটে জীবনদানকারী এবং এই আন্দোলনের জন্য আত্মদানকারী প্রতিবাদী শ্রমিকদের স্মৃতির প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানান। তিনি বলেন, মহান মে দিবস ঐতিহাসিকভাবে একটি তাৎপর্যপূর্ণ দিন। শ্রমজীবী মানুষের রক্তঝরা ঘামেই বিশ্ব সভ্যতার বিকাশ এবং বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হয়। বিএনপি সব সময় শ্রমিকদের ন্যায্য দাবির প্রতি সম্মান ও শ্রমের মর্যাদা প্রতিষ্ঠার সংগ্রাম করে গেছে। বিএনপি সবসময় শ্রমিকদের অধিকার প্রতিষ্ঠায় কাজ করেছে। তিনি বলেন, বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান নিজেকে সবসময় একজন শ্রমিক হিসেবে পরিচয় দিতে গর্ব ও স্বাচ্ছন্দবোধ করতেন। তিনি নিজেই শ্রমজীবি মানুষের সাথে কোদাল হাতে নিয়ে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে ছুটে বেড়িয়েছেন, কাজ করেছেন। তিনি শ্রমিকদের দুটো হাতকে তিনি উন্নয়নের চাবিকাঠি ভাবতেন। এদেশের শ্রমজীবী ও পরিশ্রমী মানুষের কল্যাণে শহীদ জিয়া যুগোপযোগী পদক্ষেপ গ্রহণ করেছিলেন। আবুল হাশেম বক্কর আরও বলেন, শহীদ জিয়ার পদর্শিত পথ অনুসরণ করে বিএনপি ক্ষমতায় থাকাকালিন সময়ে এদেশের শ্রমজীবী মানুষের কল্যাণে বিভিন্ন কর্মসূচি গ্রহণ এবং বাস্তবায়ন করেছিল। তারমধ্যে অন্যতম শ্রম আইন সংস্কার ও আধুনিকীকরণ, বেতন ও মুজুরী কমিশন, গার্মেন্টস শ্রমিকদের ন্যূনতম মজুরী নির্ধারণ, বাস্তবায়ন ও তাদের বোনাস প্রদানের ব্যবস্থা গ্রহণ এবং শ্রমিক কল্যাণ ফাউন্ডেশন গঠন, গার্মেন্টস শ্রমিকদের সন্তানদের চিকিৎসা ও তাদের লেখা পড়ার জন্য বিশেষ ব্যবস্থা গ্রহণের মাধ্যমে বিএনপি এদেশের শ্রমিক সমাজের ভাগ্যোন্নয়নে যথাযথ উদ্যোগ গ্রহণ ও বাস্তবায়ন করেছে। তিনি বলেন, বর্তমান সরকার শ্রমজীবি মানুষের ভাগ্য উন্নয়নের জন্য কোন কাজ করছে না। তারা শুধু নিজেদের ভাগ্য উন্নয়নের জন্য কাজ করছে। আজকের বাস্তবতায় শ্রমজীবি মানুষ অনাহারে অর্ধহারে দিন কাটাচ্ছে। দেশে বিনিযোগ বন্ধ, কর্মসংস্থানের নতুন ক্ষেত্র তৈরি হচ্ছে না বরং বিএনপি সরকারের সময় চালু হওয়া মিল কারখানা বন্ধ হয়ে যাচ্ছে। যার ফলে নিত্যদিন বেকারত্ব বাড়ছে। তিনি বলেন, শ্রমিক তার শমশক্তি বিক্রি করে যে আয় করছে তার বিনিময়ে সে যে মজুরি পায়, তা দিয়ে তার সংকুলান হচ্ছে না। বর্তমান বাজারদর হিসেব করলে ১৫ হাজার টাকার নিচে মজুরি কোন ভাবেই ন্যায্য হতে পারে না। তিনি শ্রমিকদের মাসিক ন্যূনতম মজুরী ১৫ হাজার টাকা নির্ধারণের জোর দাবী জানান। চট্টগ্রাম মহানগর নির্মাণ শ্রমিক দলের সভাপতি মো. মনসুরের সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক মো. কামাল উদ্দিনের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত র‌্যালী শেষে আলোচনা সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন যুগ্ম সম্পাদক ইয়াছিন চৌধুরী লিটন, কোতোয়ালী থানা বিএনপির সভাপতি মনজুর রহমান চৌধুরী। এতে আরো উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও নগর যুবদল নেতা সাইফুর রহমান চৌধুরী শপথ, নগর ছাত্রদল নেতা সৈয়দ সাফওয়ান আলী, নির্মাণ শ্রমিক দলের সহসভাপতি দিদারুল আলম, মো. জিয়া, আকবর হোসেন, ফারুক হোসেন স্বপন, মো. বেলাল, মো. জাফর, মো. হানিফ, মো. জসিম, মো. মানিক, মো. আনোয়ার, মো. আলী ওয়াহাব, মো. রাজু, মো. হুমায়ুন কবীর, মো. সাইফুল, মো. করিম, মো. নিজাম, মো. বাবু, মো. ইব্রাহিম, মো. জসিম উদ্দিন, মো. জাকির, মো. বেলাল প্রমুখ। প্রেস বিজ্ঞপ্তি
ব্রাহ্মণবাড়িয়া কসবায় ট্রেনে কাটা পড়ে গৃহবধূর মৃত্যু
ব্রাহ্মণবাড়িয়া কসবায় ডেমু ট্রেনের নিচে কাটা পড়ে তাসলিমা আক্তার নামে এক গৃহবধূ নিহত হয়েছেন। সোমবার সকাল ১০টার দিকে এ দুর্ঘটনা ঘটে। খবর পেয়ে আখাউড়া থেকে রেলওয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে নিহতের লাশ উদ্ধার করে মর্গে পাঠায়। আখাউড়া রেলওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা শ্যামল কুমার দাস জানান, সকালে ঢাকা থেকে কুমিল্লাগামী ডেমু ট্রেনের নিচে কাটা পড়ে তাসলিমা আক্তার নামের একজন গৃহবধূ নিহত হন। তার বাড়ি কসবা উপজেলা সদরের খার পাড়ায়। ধারণা করা হচ্ছে, স্বামীর সংসারে পারিবারিক কলহের জের ধরে অতিষ্ঠ হয়ে তিনি ট্রেনের নিচে ঝাঁপ দিয়ে আত্মহত্যা করেছেন। এ ব্যাপারে খোঁজ নেওয়া হচ্ছে। রেলওয়ে থানায় মামলার প্রস্তুতি চলছে।
কলেজ ছাত্রীকে ধর্ষণ-মামলা তুলে নিতে পরিবারকে হুমকি কুমিল্লায়
কুমিল্লায় ধর্ষণের অভিযোগে মামলা দায়ের করায় নির্যাতনের শিকার ওই কলেজছাত্রীসহ তার পরিবার হুমকির মুখে রয়েছে। মামলা তুলে না নিলে ওই ছাত্রী ও তার পরিবারকে এলাকা ছাড়া করা হবে বলে হুমকি দিচ্ছে ধর্ষক জান্নাতুল বাকী ও তার পরিবারের লোকজন। এ কারণে ওই পরিবারটি নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে বলে জানায়। ধর্ষক জান্নাতুল বাকী জেলার সদর দক্ষিণ উপজেলার উত্তর রামপুর গ্রামের সোলাইমানের ছেলে ও এ মামলার আসামি। সে গত শুক্রবার থেকে কুমিল্লা কেন্দ্রীয় কারাগারে আছে। নির্যাতনের শিকার ওই ছাত্রী একই গ্রামে বাসিন্দা ও বাংলায় অনার্স তৃতীয় বর্ষের ছাত্রী। রবিবার ওই ছাত্রী তার বাবা-মাসহ স্থানীয় কয়েক গণ্যমান্য ব্যক্তিকে নিয়ে এ অভিযোগ করেন। মামলার অভিযোগে জানা যায়, গত ৮ মার্চ জান্নাতুল বাকী ওই ছাত্রীকে কোটবাড়ি পাহাড়ি এলাকায় নিয়ে ধর্ষণ করে এবং মোবাইল ফোনে ধর্ষণের ছবি তুলে রাখে। পরে ধর্ষণের ওই ছবি ইন্টারনেটে ছড়িয়ে দেওয়ার হুমকি দিয়ে গত ৪ এপ্রিল পর্যন্ত তাকে একাধিবার ধর্ষণ করে। এক পর্যায়ে নিরুপায় হয়ে ওই ছাত্রী বিষয়টি তার বাবা-মাকে জানায়। ছাত্রীর বাবা বিষয়টি ধর্ষকের বাবাসহ স্থানীয় গণ্যমান্য লোকজনকে জানিয়ে বিচারের দাবি জানান। ছাত্রীর বাবা মো. আবুল কাশেম জানান, এ ঘটনার বিচার দাবি করার পর ধর্ষকের বাবা ও তাদের লোকজন গত শুক্রবার অর্থের বিনিময়ে ঘটনাটি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা চালায় এবং এ নিয়ে বাড়াবাড়ি করলে পরিণতি খারাপ হবে বলে হুমকি দেয়। তার মেয়ে সদর দক্ষিণ মডেল থানায় ধর্ষক জান্নাতুল বাকীর বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেন। এর পর থেকে ধর্ষকের প্রভাবশালী বাবা ও তাদের লোকজন আরও ক্ষীপ্ত হয়ে উঠে এবং মামলাটি তুলে না নিলে তাদের এলাকাছাড়া করার হুমকি দিচ্ছে। বর্তমানে মেয়ে ধর্ষণের বিচার চাইতে গিয়ে তারা নিরাপত্তাহীনতায় রয়েছে। এ ঘটনার বিষয়ে জাকির হোসেন, মোশারফ হোসেন, নাসির উদ্দিন, সুলতান মিয়াসহ এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিরা জানান, ঘটনাটি অত্যন্ত দুঃখজনক এবং এ ধরণের ঘটনায় এলাকায় ও সামাজিক ক্ষেত্রে বিরুপ প্রভাব পড়েছে। আমরা এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচার দাবি করছি। এছাড়া এ ঘটনা জানাজানির পর ওই ছাত্রীর সহপাঠীরা ধর্ষকের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তিসহ তার পরিবারের নিরাপত্তার জন্য স্থানীয় প্রশাসনের কাছে দাবি জানিয়েছে। এ বিষয়ে সদর দক্ষিণ মডেল থানার ওসি নজরুল ইসলাম জানান, এ মামলার আসামি জান্নাতুল বাকীকে গ্রেফতার করে জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে। ওই ছাত্রী ও তার পরিবারের নিরাপত্তার জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
চট্টগ্রামের পাহাড়তলী থানার ওসিসহ সাত পুলিশ সদস্যের বিরুদ্ধে মামলা
মিথ্যা ইয়াবার মামলায় ফাঁসানোর অভিযোগ এনে চট্টগ্রাম নগরীর পাহাড়তলী থানার ওসি রফিকুল ইসলামসহ সাত পুলিশ সদস্যের বিরুদ্ধে আদালতে মামলা দায়ের করেছেন এক নারী। সোমবার (৩০ এপ্রিল) চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট শাহাদাত হোসাইন ভুইয়ার আদালতে মামলাটি দায়ের করা হয়। আইনজীবী বাদল দাশ এ তথ্য নিশ্চিত করে জানান, পাহাড়তলী এলাকার বাসিন্দা মেহেরুন্নেসা মামলাটি দায়ের করেন। অভিযুক্ত পুলিশ সদস্যরা হলেন- পাহাড়তলী থানার এসআই আবু সাঈদ, এএসআই উত্তম ধর, ফজলুল বারি, জিন্তু বড়ুয়া, কনস্টেবল নাজিম উদ্দিন ও মহিউদ্দিন। বাদীর আইনজীবী বাদল দাশ বলেন,আদালত মামলাটি গ্রহণ করে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনকে (পিবিআই) তদন্তের নির্দেশ ও আগামী ৩০ দিনের মধ্যে প্রতিবেদন দাখিলের আদেশ দিয়েছেন। মামলার এজাহারে বলা হয়েছে- গত ২৫ এপ্রিল বাদীর ছেলে মেহেদি হাসান নাঈম (২৫) ও তার বন্ধু তানজিল ইসলামসহ তিন তরুণকে তাদের বাসার সামনে থেকে এসআই আবু সাঈদ তুলে নিয়ে যান। খবর পেয়ে নাঈমের মা থানায় তাদের ধরে আনার বিষয়ে জানতে চাইলে এসআই আবু সাঈদ তার কাছে তিন লাখ টাকা দাবি করেন। টাকা দিলে তাদের ছেড়ে দেওয়া হবে বলে জানান। টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে পরদিন নাঈমকে ৪০ পিস ইয়াবা এবং তানজিলকে ১২ পিস ইয়াবাসহ গ্রেফতার করা হয়েছে উল্লেখ করে আদালতে পাঠিয়ে দেয়। জানতে চাইলে পাহাড়তলী থানার ওসি রফিকুল ইসলাম বলেন,মেহেরুন্নেসা নামে ওই নারী তাদের বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগ এনেছেন। নাঈম এবং তার বন্ধুকে পুলিশ সদস্যরা ইয়াবাসহ গ্রেফতার করেছে। নাঈমের নামে কোতোয়ালি থানায় মাদকের আরেকটি মামলা রয়েছে। ওই মামলায় ওয়ারেন্টও হয়েছে।
ইজিবাইক চালককে কুপিয়ে হত্যা মাদারীপুরে
সুলতান বেপারী নামে মাদারীপুরে এক ইজিবাইক চালককে কুপিয়ে হত্যা করেছে চার যুবক। পালিয়ে যাওয়ার সময় ওই চার যুবককে আটক করেছে এলাকাবাসী। জেলার সদর উপজেলার কুনিয়া ইউনিয়নের আশাপাট এলাকায় রোববার (২৯ এপ্রিল) রাত সাড়ে ১১টার দিকে এ ঘটনা ঘটে। নিহত সুলতান সদর উপজেলার পেয়ারপুর ইউনিয়নের গাছবাড়িয়া এলাকার জহিরুল বেপারীর ছেলে। আটকরা হলেন- রাজৈর উপজেলার বাজিতপুরের জনি বেপারী (২২), শরিফুল বেপারী (২০), শাওন জমাদ্দার (১৫) ও সাব্বির হাওলাদার (২১)। তাদের সদর হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। স্থানীয়রা জানায়, ইজিবাইকের চালক সুলতানকে হত্যা করে ইজিবাইক নিয়ে পালিয়ে যাওয়ার সময় বিপরীত থেকে আসা একটি ইজিবাইকের সঙ্গে ধাক্কা লাগে। এ সময় চার যুবকের শরীরে রক্ত দেখে সন্দেহ হলে তাদের চ্যালেঞ্জ করে অপর ইজিবাইকের যাত্রীরা। এ সময় চার যুবকের দুইজন দ্রুত পালিয়ে যায়। পরে এলাকাবাসী জড়ো হয়ে পালিয়ে যাওয়া চার যুবককে আটক করে গণপিটুনি দিয়ে পুলিশে দেয়। মাদারীপুর সদর থানার ওসি (তদন্ত) আবু নাঈম জানান, খবর পেয়ে কুনিয়া ইউনিয়নের আশাপাট এলাকায় থেকে মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহটি সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় অভিযুক্ত চার যুবককে আটক করা হয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও জানান তিনি।

সারা দেশ পাতার আরো খবর