ছুঁয়েও দেখেনি তার আত্মীয় স্বজন ও প্রতিবেশীরা,বাড়ির সিঁড়িতে পড়েই মারা যান এক ব্যবসায়ী
২৬এপ্রিল,রবিবার,নিজস্ব প্রতিবেদক,নিউজ একাত্তর ডট কম: নারায়ণগঞ্জে গলাচিপা এলাকায় করোনার উপসর্গ নিয়ে বাড়ির সিঁড়িতে পড়েই মারা যান এক ব্যবসায়ী। তবে নির্মম এই মৃত্যুর পর মরদেহ ছুঁয়েও দেখেনি তার আত্মীয় স্বজন ও প্রতিবেশীরা। স্ত্রী কন্যাদের কান্না দেখেও মন গলেনি তাদের। মৃত ওই ব্যবসায়ী কালীরবাজারে একটি অভিজাত কনফেকশনারীর মালিক। তিনি স্ত্রী ও ছোট দুই মেয়ে নিয়ে বসবাস সেখানে করতেন। রোববার (২৬ এপ্রিল) বেলা ১২ টার দিকে খবর পেয়ে মরদেহ সংগ্রহ করেন নারায়ণগঞ্জের সিটি কর্পোরেশনের কাউন্সিলর মাকসুদুল আলম খন্দকার খোরশেদ। তিনি ও তার দলের লোকজন সৎকার সম্পন্ন করেন। মৃতের সম্প্রদায় কিংবা তার স্বজনরা কেউ না আসায় মুখাগ্নি করেন কাউন্সিলর খোরশেদ নিজেই।সময় টিভি। স্থানীয় সূত্র জানায়, ওই ব্যক্তির বাড়িতে তার স্ত্রী ও দুটি ছোট ছোট মেয়ে আছেন। তার শারীরিক অবস্থা যখন খারাপ হয় তখন আশপাশের ফ্ল্যাটে থাকা তার বন্ধুদের এবং পরিচিত আত্মীয় স্বজনদের ডেকেছিলেন হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার জন্য। কেউ তার ডাকে সাড়া দেয়নি। পরে স্ত্রী ও ছোট দুই মেয়েই বাবাকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে নামিয়ে আনছিলেন। তবে নামানোর পথে সিঁড়িতেই তিনি মারা যান। এরপরও কেউ এগিয়ে আসেনি। পরে কাউন্সিলর খোরশেদকে খবর দেওয়া হয়। কাউন্সিলর মাকসুদুল আলম খন্দকার খোরশেদ জানান, সকালের দিকে যখন তিনি করোনা পজিটিভ এক নারীর দাফন করছিলেন; তখন তার কাছে ফোন আসে। জানতে পারেন ওই ব্যবসায়ী মারা গেছেন। কিন্তু তার আত্মীয় স্বজন বিষয়টি ফোন করে জানালেও কেউ মরদেহের কাছে আসেনি। খোরশেদ বলেন, শহরের গলাচিপায় এলাকায় প্রতিষ্ঠিত এক ব্যবসায়ী তিনি। তিনিসহ তার ৭ বন্ধু মিলে একটি সাততলা ভবনটি তৈরি করেছিলেন। সেখানে থাকতেন। ঘটনাস্থলে গিয়ে দেখি ওই ভবনের তিন এবং চারতলার মাঝামাঝি সিঁড়িতে তার মরদেহ পড়ে আছে। পরে তার সৎকারের ব্যবস্থা করি।
মসজিদে শারীরিক দূরত্ব না মানায় ১০৮ মুসল্লির জরিমানা
২৬এপ্রিল,রবিবার,নিজস্ব প্রতিবেদক,নিউজ একাত্তর ডট কম: সরকারি নিষেধ অমান্য করে শারীরিক দূরত্ব বজায় না রাখায় নোয়াখালীর সেনবাগ উপজেলায় ১০৮ জন মুসল্লিকে অর্থদণ্ড দিয়েছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত। রোববার (২৬ এপ্রিল) যোহর নামাজের সময় এ অভিযান পরিচালনা করেন সেনবাগ উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. সাইফুল ইসলাম মজুমদার ও সহকারী কমিশনার (ভূমি) ক্ষেমালিকা চাকমা। ভ্রাম্যমাণ আদালত সূত্রে জানা গেছে, করোনাভাইরাস প্রতিরোধে সরকারের দেয়া নিষেধ অমান্য ও শারীরিক দূরত্ব বজায় না রেখে উপজেলার ছাতারপাইয়া বাজার কেন্দ্রীয় জামে মসজিদে অনেক মুসল্লি একত্রিত হয়ে যোহরের নামাজ আদায় করছেন- এমন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালায় ভ্রাম্যমাণ আদালত। সেনবাগ উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. সাইফুল ইসলাম মজুমদার বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, যোহরের নামাজের সময় ছাতারপাইয়া বাজার কেন্দ্রীয় জামে মসজিদে প্রায় ৩’শ মুসল্লি একত্রিত হয়। সরকারি নিষেধ অমান্য করে শারীরিক দূরত্ব বজায় না রাখার অপরাধে ১০৮ জন মুসল্লিকে ১০০ টাকা করে অর্থদণ্ড করা হয়েছে। একই সাথে মসজিদের অন্য মুসল্লিদের সাবধান করা হয়েছে। শারীরিক দূরত্ব বজায় রেখে সবাইকে বাড়িতে নামাজ পড়ার অনুরোধ করা হয়েছে। তিনি আরো জানান, শারীরিক দূরত্ব ছাড়াও বিভিন্ন বাজারে অভিযান চালিয়ে দোকান খোলা, নিত্য প্রয়োজনীয় দ্রব্যের মূল্যবৃদ্ধি ও মেয়াদ উত্তীর্ণ পণ্য বিক্রি করার অপরাধে সেনবাগ বাজার, ছমির মুন্সিরহাট, কানকিরহাট, সেবারহাট এবং ছাতারপাইয়া বাজারের প্রায় ১০টি প্রতিষ্ঠানকে অর্থদণ্ড করা হয়েছে।
ইসকন মন্দির লকডাউন
২৬এপ্রিল,রবিবার,নিজস্ব প্রতিবেদক,নিউজ একাত্তর ডট কম: ঢাকার স্বামীবাগের ইসকন মন্দির লকডাউন করা হয়েছে। মন্দিরের ৩৬ জন করোনা আক্রান্ত হওয়ার পর শনিবার সকালে প্রশাসনের পক্ষ থেকে মন্দিরটি লকডাউন করা হয়। আক্রান্তদের মধ্য মন্দিরের পুরোহিত সেবায়েতরা রয়েছেন।আক্রান্ত সবাই মন্দিরের ভেতরে অবস্থান করছেন। লকডাউনের পর বাহিরে থেকে কাউকে ভেতরে প্রবেশ করতে দেয়া হচ্ছে না। মন্দিরের ওপর পুলিশি নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। গেণ্ডারিয়া থানার ডিউটি অফিসার উপ পরিদর্শক এনায়েত করিম সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, শুক্রবার রাতে মন্দিরের ৩৬ জন আক্রান্ত হওয়ার খবর পেয়ে শনিবার সকালে পুলিশ মন্দিরটি লকডাউন করে দিয়েছে। আপাতত আক্রান্তদের ভেতরেই রাখা হয়েছে। মন্দিরের নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা পুলিশের একজন সহকারি উপ পরিদর্শকও করোনা আক্রান্ত হয়েছেন বলে তিনি জানান। পুলিশ জানিয়েছে, করোনা ভাইরাসের কারণে ইসকন মন্দির কর্তৃপক্ষ বেশ কিছুদিন ধরে বাইরের কাউকে ভেতরে প্রবেশ করতে দিচ্ছিলো না। আগে থেকেই এই ৩৬ জন ভেতরে অবস্থান করছিলেন। কিছুদিন ধরে তাদের কয়েকজনের মধ্য করোনা উপসর্গ দেখা দেয়। তাই সবার একসঙ্গে করোনা পরীক্ষা করলে রেজাল্ট পজিটিভ আসে।
৪৯২ উপজেলায় আনসার ভিডিপির ত্রাণ বিতরণ
২৬এপ্রিল,রবিবার,নিজস্ব প্রতিবেদক,নিউজ একাত্তর ডট কম: দেশব্যাপি বিস্তৃত প্রায় ৬১ লাখ স্বেচ্ছাসেবী ভিডিপি সদস্যদের মধ্যে পর্যায়ক্রমে সারাদেশে ত্রাণ সামগ্রী বিতরণ কার্যক্রম শুরু করেছে বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনী । এই কর্মসূচির অংশ হিসেবে আজ ঢাকা রেঞ্জের ১৩টি জেলার ৮৮টি উপজেলা এবং ঢাকা মহানগরের ২০টি থানাসহ সর্বমোট ১০৮টি উপজেলায় ত্রাণ বিতরণ করা হয়েছে। এতে ৩২ হাজার ৪শজন স্বেচ্ছাসেবী ভিডিপি-টিডিপি সদস্যদের ত্রাণ সামগ্রী বিতরণ সম্ভব হয়েছে। আনসার ভিডিপির এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে আরও জানানো হয়েছে, ঢাকা জেলার সাভার, ধামরাই, কেরানীগঞ্জ, নবাবগঞ্জ ও দোহার এই পাঁচটি উপজেলায় আজ ত্রাণ সামগ্রী বিতরণ কার্যক্রম উদ্বোধনকালে উপস্থিত ছিলেন মুহাম্মদ সাজ্জাদুর রহমান, পরিচালক ও রেঞ্জ কমান্ডার (ভারপ্রাপ্ত), বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনী, ঢাকা রেঞ্জ। এসময় আরো উপস্থিত ছিলেন আফজাল হোসেন, জেলা কমান্ড্যান্ট, ঢাকা, মো. শরফুজ্জামান, সহকারী পরিচালক (স্পেশাল) ও মো. আশরাফুল হক, সহকারী পরিচালক (টিডিপি) এবং ঢাকা জেলার বাহিনীর অন্যান্য কর্মকর্তাবৃন্দ। এই কর্মসূচির মাধ্যমে প্রায় ৫ লোখ ৫০ হাজার মানুষের এক সপ্তাহের খাবারের ব্যবস্থা করা হয়েছে। দেশের ৬৪টি জেলার প্রতি উপজেলায় ৩০০টি পরিবার হিসেবে ৪৯২টি উপজেলায় মোট ১ লাখ ৪৭ হাজার ৬শ পরিবার এবং ঢাকা মহানগরের ২০টি থানায় ৬শটি পরিবারের মধ্যে এক সপ্তাহের খাবার হিসেবে চাল, ডাল, তেল, আলু, পিয়াজ, সাবান ও মাস্ক বিতরণ কার্যক্রম চালু করা হয়েছে। এতে প্রতি পরিবারে গড়ে চার জন করে প্রায় ৬ লাখ মানুষ এক সপ্তাহের খাবারের আওতায় আসবে।
মাটির ব্যাংকে জমানো টাকা সরকারের ত্রাণ তহবিলে দিলো শিক্ষার্থী
২৬এপ্রিল,রবিবার,ইফতানা ইয়াছমিন,ঠাকুরগাঁও প্রতিনিধি,নিউজ একাত্তর ডট কম: ঠাকুরগাঁও জেলা শহরের এক শিক্ষার্থী মাটির ব্যাংকে জমানো টাকা দিয়েছে সরকারের ত্রাণ তহবিলে। রোববার সকালে ওই শিক্ষার্থী বাবার সাথে জেলা কালেক্টরেট ভবনে উপস্থিত হয়ে জেলা প্রশাসক ড. কেএম কামরুজ্জামান সেলিম এর হাতে তুলে দেন জমানো টাকার ব্যাংকটি সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী শাহরাজ চৌধুরী। সে সদর উপজেলার বালিয়া ইউনিয়নের ছোট বালিয়া গ্রামের এ্যাডভোকেট ইমরান আলীর ছেলে। ওই শিক্ষার্থী জানায়, করোনা সংকট মোকাবেলায় দরিদ্র ও অসহায় মানুষের পাশে থাকতে জেলার অনেকে ত্রাণ তহবিলে টাকা দিচ্ছেন। তাই আমিও আমার জমানো টাকা ত্রাণ তহবিলে দিতে পেরে অনেক খুশি। শিক্ষার্থীর বাবা এ্যাডভোকেট ইমরান চৌধুরী জানান, যে যেভাবে পারছে করোনা সংকট মোকাবেলায় দরিদ্র মানুষের পাশে এগিয়ে আসছে। তেমনি আমার ছেলেও মনে করেছে তার জমানো টাকা কিছুটা হলেও মানুষের সাহায্যে ভুমিকা রাখবে। তাই উৎসাহ নিয়ে সে তার জমানো টাকার ব্যাংকটি জেলা প্রশাসকের কাছে তুলে দিয়েছে। এতে আমারও ভাল লাগছে। এ বিষয়ে জেলা প্রশাসক ড. কে এম কামরুজ্জামান সেলিম নিউজ একাত্তরকে জানান, মানুষ মানুষের জন্য এই কথা মিথ্যে নয় বলেই একে একে অনেকে এগিয়ে আসছে। এভাবে যদি সমাজের বিত্তবানরা এগিয়ে আসেন তাহলে করোনা সংকট মোকাবেলায় অনেকটাই সহজ হবে। আমি ধন্যবাদ জানাই শিক্ষার্থী মুক্তা ও শাহরাজকে তারা তাদের জমানো টাকা ত্রাণ তহবিলে দিয়েছে। সামান্য হলেও তা গর্বের বিষয়। এর আগে তৃতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী মুক্তা আক্তার তার মাটির ব্যাংকে দুই বছরের জমানো টাকাসহ মাটির ব্যাংকটি জেলা প্রশাসকের হাতে তুলে দিয়ে সবার দৃষ্টি কাড়ে।
ঘরের জানালা কেটে পালিয়ে গেল করোনা
২৫এপ্রিল,শনিবার,নিজস্ব প্রতিবেদক,নিউজ একাত্তর ডট কম: কুমিল্লায় করোনা শনাক্ত হওয়া মিজানুর রহমান নামে এক ব্যক্তি ঘরের জানালা কেটে বাড়ি ছেড়ে পালিয়ে গেছেন। শুক্রবার রাতে জেলার মুরাদনগর উপজেলার দারোরা ইউনিয়নের কাজিয়াতল গ্রামে লকডাউনে থাকা একটি বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে। বিষয়টি জানাজানি হওয়ার পর শনিবার দুপুরে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার নির্দেশে ওই ব্যক্তির সন্ধানে মাঠে নামে পুলিশ। মুরাদনগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা অভিষেক দাস জানান, মিজানুর রহমান গত কয়েকদিন আগে নারায়ণগঞ্জ থেকে কাজিয়াতল এলাকায় গ্রামের বাড়িতে আসেন। বিষয়টি জানার পর আমরা তার নমুনা সংগ্রহ করে ঢাকায় প্রেরণ করি। আইইডিসিআর থেকে দেয়া রিপোর্টে ওই ব্যক্তি করোনা শনাক্ত হন। শুক্রবার দুপুরে ওই ব্যক্তির ঘরটি আইসোলেশনের জন্য নির্বাচন করে বাড়িটি লকডাউন করে দেয়া হয়। বাহিরের দিক থেকে তালা থাকলেও ঘরের জানালা কেটে শুক্রবার রাতের যে কোন সময় ওই ব্যক্তি পালিয়ে যান।মানবজমিন। তাকে উদ্ধারের জন্য পুলিশকে বিষয়টি জানানো হয়েছে। মুরাদনগর উপজেলা স্বাস্থ্য পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. নাজমুল আলম জানান, রোগীর শরীরে বাহ্যিক কোন লক্ষণ না থাকায় তাকে হাসপাতালের আইসোলেশন বেডে না রেখে বাড়িতে আইসোলেশন নিশ্চিত করে বাড়িটি লকডাউন করে দেয়া হয়েছিল। তবে পালিয়ে যাওয়া এই রোগী কারো সংস্পর্শে গেলে ওই ব্যক্তিও সংক্রমিত হওয়ার আশংকা রয়েছে। মুরাদনগর থানার ওসি একেএম মনজুর আলম জানান, পালিয়ে যাওয়া করোনা আক্রান্ত ওই ব্যক্তিকে উদ্ধারে তৎপরতা অব্যাহত রয়েছে।
ম্যাজিস্ট্রেট, ডাক্তারসহ করোনা আক্রান্ত আরও ২০
২৫এপ্রিল,শনিবার,নিজস্ব প্রতিবেদক,নিউজ একাত্তর ডট কম: হবিগঞ্জে প্রশাসনের একাধিক কর্মকর্তা, চিকিৎসকসহ নতুন আরো ২০ জন করোনা শনাক্ত হয়েছেন। এ নিয়ে জেলায় মোট করোনা আক্রান্ত হয়েছেন ৪৬ জন। আজ বিকেলে আইসিডিসিআর থেকে নতুন ২০ জন আক্রান্তের রিপোর্ট আসে। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন ডেপুটি সিভিল সার্জন ডা. মুখলেছুর রহমান উজ্জল। এর ফলে করোনা আক্রান্তের দিক থেকে সিলেট বিভাগের মাঝে ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে হবিগঞ্জ জেলা। নতুন আক্রান্তদের মধ্যে হবিগঞ্জে জেলা প্রশাসনের ১ জন অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট, ২ জন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটসহ ৪ জন রয়েছেন। এছাড়া হবিগঞ্জ আধুনিক সদর হাসপাতালের ১ জন চিকিৎসক, ২ জন নার্স, ২ জন ব্রাদার, ২ জন প্যাথলজিস্ট, ২ জন এ্যাম্বুল্যান্স ড্রাইভার ও ২ জন ঝাড়ুদার করোনা আক্রান্ত হয়েছেন। আক্রান্তরা অধিকাংশই হবিগঞ্জ জেলা শহরের বলে জানা গেছে। এর আগে বৃহস্পতিবার ১ চিকিৎসকসহ ৫ জনের শরীরে করোনাভাইরাস শনাক্ত হয়।মানবজমিন। সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজে স্থাপিত বিশেষায়িত ল্যাবে তাদের করোনা পজিটিভ ধরা পড়ে। বৃহস্পতিবারে নতুন আক্রান্ত ৫ জনের মধ্যে চিকিৎসকসহ ৪ জনই চুনারুঘাট উপজেলার। বাকি ১ জন লাখাই উপজেলার। এর আগে বৃহস্পতিবার ৩ জন রোগী করোনা শনাক্ত হন। বৃহস্পতিবার আক্রান্তদের মধ্যে বাহুবলের একজন নারী, মাধবপুর স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের একজন ব্রাদার ও আজমিরীগঞ্জের একজন নারী ছিলেন। এর আগে গত মঙ্গলবার ২ জন, সোমবার ১০ জন, বুধবার ৫ জন শনাক্ত হন। ১১ এপ্রিল হবিগঞ্জে প্রথম করোনা রোগী শনাক্ত হন। আক্রান্ত সবাই বর্তমানে হবিগঞ্জ আধুনিক সদর হাসপাতালের আইসোলেশন ওয়ার্ডে ভর্তি রয়েছেন। করোনা আক্রান্ত হওয়ায় বাহুবল উপজেলার গোহারুয়া গ্রামটি লকডাউন ঘোষণা করেছে উপজেলা প্রশাসন। লাখাই উপজেলার ডাক্তার ও নার্স করোনা আক্রান্ত হওয়ায় লাখাই উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স লকডাউন করা হয়েছে। অন্যান্য উপজেলায়ও আক্রান্ত এলাকা লকডাউন করা হয়েছে। এদিকে শুক্রবার সকালে করোনার উপসর্গ নিয়ে সিলেট সামছুদ্দিন আহমেদ হাসপাতালে হবিগঞ্জ সদর উপজেলার নিজামপুর ইউনিয়নের একজন মারা যান। তার লাশ করোনা রোগীর যাবতীয় নিয়মকানুন মেনে দাফন করা হবে বলে জানায় সিভিল সার্জন অফিস।
বিদ্যুৎ স্পর্শে সড়কে মারা গেলো ৪ টি গরু
২৫এপ্রিল,শনিবার,সালে অাহমেদ,ঢাকা,নিউজ একাত্তর ডট কম: রাজধানীর যাত্রাবাড়ীর মোমেনবাগে বিদ্যুৎ বিভাগের খামখেয়ালি পনায় মারা গেলো অসহায় এক কৃষকের শেষ সম্বলের ৪ টি গরু। যা দিয়ে সনাতন ধর্মাবলম্বীর এই কৃষকের জীবন জীবিকা নির্বাহ করতেন। গত শুক্রবার (২৪ এপ্রিল) সরেজমিনে গিয়ে জানা যায়,অাড়া বাড়ী এলাকার এক অসহায় কৃষক গরু চরানো শেষে গরু গুলো নিয়ে যখন বাড়ি ফিরে তখন হঠাৎ বিদ্যুৎ স্পর্শে ৪ টি গরু এবং ১ টি কুকুর ঘটনাস্থলে মারা যায়। তবে ভাগ্যিসক্রমে কৃষকের পায়ে জুতা পরিহিত ছিল বলে বিদ্যুৎ স্পর্শ থেকে তিনি এবং রাস্তায় চলাচলকারী পথচারীরা বেচেঁ যান। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক ব্যক্তি বলেন,বিদ্যুৎ যে রাস্তায় মাটিতে থাকবে এবং টার কারণে ৪ টা প্রানির জীবন কেঁড়ে নেবে, সেটা কে জানতো। রাস্তায় থাকা ঐ বিদ্যুৎ স্পৃষ্ট হয়ে একজন নিরিহ কৃষকের ৪ টি গরু মারা যায়।এর দায়ভার কে নিবে!দেশের এই ক্রাইসিস এর সময় অসহায় কৃষকের ৪টা গরু সেই বিদ্যুৎ তেই স্পৃষ্ট হয়ে সাথে সাথে মারা যায়। এ ব্যাপারে জানতে চাইলে কোনাপাড়া এ্যাপোলো ডেন্টালের ডা.,ফিরোজ বলেন, ঘটনাটি শোনার পর অামি নিজে সেখানে উপস্থিত হই এবং গরুগুলোর অবস্থা দেখে হতবাক হয়ে পড়ি।অামি মনে করি এখানে বিদ্যুৎ বিভাগের খামখেয়ালির কারনে এই অবস্থা তৈরি হয়েছে।তখন অামি অামার ব্যক্তিগত ফেসবুক অাইডি থেকে একটি লাইভ ভিডিও করি। তারপর সেখানে করুন কৃষকের গরু গুলোর অবস্থা তুলে ধরলে স্থানীয়রা অভিযোগ করেন যে প্রথমে বেলা ১২ টার দিকে কিছু যুবক করোনা প্রতিরোধে জন্য র্স্পে প্রয়োগ করছিলো হঠাৎ তারা বিদ্যুৎ এর অাচঁ পাচ্ছিললো।তাদের মধ্যে একজন দুপুর ২ টায় বিদ্যুৎ বিভাগের কন্ট্রোল রুমে ফোন দিলে তা বন্ধ পেয়ে লাইন ম্যান রবিউল কে জানানোর পর প্রতুত্তরে রবিউল বলে "খানকির ছেলে, তুই মরলি না ক্যান"।ডা.,ফিরোজ অারো বলেন, গরিব এই অসহায় হিন্দু লোকটা এখন কি করবে,তার মুখের দিকে তাকিয়ে তার কষ্ট সইতে পারি না। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নিকট অামার অাবেদন এই সময় কৃষকে উপযুক্ত ক্ষতিপূরণ দিলে লোকটা কিছুটা হলে সন্তোষ প্রকাশ করবে নয়তো লোকটা তিলে তিলে শেষ হয়ে যাবে। ডেমরা থানা ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি সিফাত সাদেকিন বলেন,প্রতিদিনের ন্যায় গতকাল লোকটি গরু গুলোকে মাঠে চরানোর জন্য নিয়ে গেলে বাড়িতে অাসার পথে বিদ্যুৎ স্পর্শ হয়ে মারা যায়।৪ টি গরুর দুধ বিক্রি করে তিনি জীবিকা নির্বাহ করতেন। ভাগ্যিসক্রমে কৃষক বেচেঁ গেলে ও তার গরুর নিস্তার হয় নি।অসহায় এই লোকটা এখন কি করবে। অামি মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর নিকট অাকুল অাবেদন জানাই অসহায় এই কৃষকে উপযুক্ত ক্ষতিপূরণ দিয়ে তাকে শেষ রক্ষা করুক।সেই সাথে যারা এর খামখেয়ালীর সাথে জড়িত তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হউক। এ ব্যাপারে জানতে চাইলে ডেমরা বিদ্যুৎ বিভাগের প্রকৌশলী জানাব শামীম বলেন,গ্রাহক কন্ট্রোল রুমে কল করলে অামরা তড়িৎ গতিতে ব্যবস্থা নেই।অামাদের বিকেল ৩.৪৫ মিনিটে কন্ট্রোল রুমে কল দেয়ার পর বন্ধ করেছি। লাইন ম্যানের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন,লাইন ম্যান তখন কাজে ছিল, কন্ট্রোলে জানালে অামরা সাথে সাথে বন্ধ করতে পারতাম। তবে রবিউল যে কাজটি করেছে বিয়য়টি খুবই দুঃখজনক।করোনা পরিস্থিতির জন্য এমনিতে লোকবল কম, করোনা পরিস্থিতি শেষ হলে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে বলে জানান।কৃষককে ক্ষতি পূরন দেয়া হবে কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন, বিষয়টি অামরা উধ্ধতন কতৃপক্ষের কাছে জানিয়েছি।
ময়মনসিংহ মহানগর যুবদল নেতা শাকিলের উদ্যোগে ত্রাণসামগ্রী বিতরণ
২৫এপ্রিল,শনিবার,কামরুজ্জামান মিন্টু, ময়মনসিংহ ব্যুরো,নিউজ একাত্তর ডট কম: করোনার প্রাদুর্ভাব মোকাবিলায় ময়মনসিংহে মহানগর যুবদলের সাধারণ সম্পাদক জোবায়েদ হোসেন শাকিলের উদ্যোগে পাঁচ শতাধিক কর্মহীন মানুষের মাঝে খাদ্যদ্রব্য ও সুরক্ষা সামগ্রী বিতরণ করা হয়েছে। নগরীর শিকারিকান্দায় চাল, ডাল, আলু, তেল, পেঁয়াজ, ছোলা, মুড়িসহ হ্যান্ড স্যানিটাইজার ও মাস্ক বিতরণ করেন তিনি। এসময় মহানগর যুবদলের সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক শহিদুল ইসলাম শহিদ, জেলা যুবদলের সাবেক সমাজ কল্যাণ সম্পাদক রাকিবুল হাসান খান লোমন, ময়মনসিংহ সদর থানা যুবদলের অন্যতম যুগ্ম আহবায়ক আলমগীর হোসেন, মহানগর যুবদলের অন্যতম নেতা শরিফুল ইসলাম আকন্দ, আশরাফুল আলম আকন্দ আলম, আলমগীর হোসেন, নাজিমউদ্দীন নাজিম, কাজী ইনসান, আশরাফুল ইসলাম সুখন, আহাম্মেদ আকাশ, মোহাম্মদ নয়ন মিয়া, সাইফুল ইসলাম, মোহাম্মদ সুজন, মোহাম্মদ লায়ন মিয়া, মোহাম্মদ রাশেদুল ইসলাম, হিমেল, হ্নদয়, শাওন, রায়হানসহ মহানগরের বিভিন্ন ওয়ার্ডের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

সারা দেশ পাতার আরো খবর