রংপুরে বাস-অ্যাম্বুলেন্স সংঘর্ষে নিহত ৩
১৫জানুয়ারী,বুধবার,সাদিক আবদুল্লাহ,রংপুর,নিউজ একাত্তর ডট কম: রংপুরের তারাগঞ্জ উপজেলার বাছুরবান্ধায় নাইট কোচ ও অ্যাম্বুলেন্সের মধ্যে সংঘর্ষে তিনজন নিহত হয়েছেন। এসময় আহত হয়েছেন আরও দুইজন। বুধবার সকাল সাড়ে ৭ টার দিকে এ দুর্ঘটনা ঘটে। আহতদের রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। পুলিশ জানায়, সকালে ডিপজল পরিবহনের একটি নাইট কোচ ঢাকা থেকে সৈয়দপুর যাচ্ছিল। অপরদিকে, সৈয়দপুর থেকে রোগী নিয়ে একটি অ্যাম্বুলেন্স রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের দিকে আসার সময় রংপুরের তারাগঞ্জ উপজেলার বাছুরবান্ধা নামক স্থানে নাইট কোচ ডিপজল পরিবহন অ্যাম্বুলেন্সটিকে চাপা দিলে ঘটনাস্থলেই অ্যাম্বুলেন্সের ড্রাইভার রুবেলসহ দুজন মারা যান। আহত হন তিনজন। খবর পেয়ে হাইওয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে এসে আহতদের উদ্ধার করে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠায়। হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আরও একজন মারা যান। হাইওয়ে পুলিশের ওসি গোলাম কিবরিয়া জানান, নাইট কোচ ডিপজল পরিবহন আটক করা হলেও ড্রাইভার ও হেলপারকে আটক করা সম্ভব হয়নি। নিহত বাকি দুজনের পরিচয় নিশ্চিত হওয়া যায়নি বলে পুলিশ জানায়।
দেশের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা পঞ্চগড়ে
১৪জানুয়ারী,মঙ্গলবার,সালাউদ্দিন বাবু,পঞ্চগড়,নিউজ একাত্তর ডট কম: দেশের সর্ব উত্তরের জেলা পঞ্চগড়ে আবারও জেঁকে বসেছে শীতের প্রকোপ। মৃদু শৈত্য প্রবাহ ও গুঁড়ি গুঁড়ি বৃষ্টির কারণে এ জেলায় পড়ছে হাড় কাঁপানো শীত। এতে সাধারণ খেটে খাওয়া মানুষেরা পড়েছে চরম ভোগান্তিতে। উত্তরে অবস্থিত হিমালয়ের হিম বাতাসে মৃদু শৈত্য প্রবাহ ও ঘন কুয়াশার কারণে উত্তরের এ জেলায় শীতের তাপমাত্রা উঠানামা করছে। মঙ্গলবার (১৪ জানুয়ারি) সকাল ৯টায় পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়ায় সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ৭ দশমিক ২ ডিগ্রি সেলসিয়াস। এদিকে, সরেজমিন পঞ্চগড় জেলা হাসপাতালে গিয়ে দেখা গেছে, হাড় কাঁপানো শীতের প্রকোপে শীতজনিত রোগীর সংখ্যা বাড়ছে। এতে বেশি আক্রান্ত হচ্ছেন শিশু ও বয়স্করা। আবার পঞ্চগড় হাসপাতালে কোনও শিশু বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক না চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন রোগীরা। ফলে তাদের অনেকেই পার্শ্ববর্তী জেলা ঠাকুরগাঁও যেয়ে চিকিৎসা নিতে হচ্ছে। আবহাওয়া অফিস সূত্রে জানা গেছে, গেল কয়েক দিন ধরে হিমালয়ের হিম বাতাসের কারণে এ জেলায় শীতের তীব্রতা বৃদ্ধি পেয়েছে। চলতি মাসে এ জেলার ওপর দিয়ে আরও মৃদু শৈত্য প্রবাহ বয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এদিকে, জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে ৪৫ হাজার শীতবস্ত্র বিতরণ করা হয়েছে। যা প্রয়োজনের তুলনায় খুবই কম। এছাড়াও জেলার বিভিন্ন সেচ্ছাসেবী সংগঠন ভিন্ন ভিন্ন স্থানে শীতবস্ত্র বিতরণ করেছে। আবার শীতবস্ত্রের অভাবে কেউ কেউ বাড়ির আঙ্গিনা ও ফুটপাতে আগুন জ্বালিয়ে শীত নিবারণ করার চেষ্টা করছে। তেঁতুলিয়া আবহাওয়া পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা রহিদুল ইসলাম জানান, আজ মঙ্গলবার সকাল ৯টায় পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়ায় সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ৭.২ ডিগ্রি সেলসিয়াস। যা সারা দেশের মধ্যে সর্বনিম্ন তাপমাত্রার রেকর্ড। গতকাল সোমবারও ৭.২ ডিগ্রি সেলসিয়াস রেকর্ড করা হয়ে ছিল এ জেলায় যা সারা দেশের মধ্যে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড ছিল।
যশোরে গরু চোর ধরতে মসজিদে মাইকিং, গণপিটুনিতে নিহত ৩
১৩জানুয়ারী,সোমবার,রহিদুল ইসলাম,যশোর,নিউজ একাত্তর ডট কম: যশোরের অভয়নগরে গরু চোর সন্দেহে গণপিটুনিতে তিনজন নিহত হয়েছেন। স্থানীয়রা জানান, সোমবার (১৩ জানুয়ারি) ভোর ৪টার দিকে উপজেলার প্রেমবাগের পাশেই সদরের বসুন্দিয়া ইউনিয়নের গাইদগাছি গ্রামের খোরশেদ আলমের বাড়ি থেকে তিনটি গরু চুরি করে পিকআপে উঠায় চোরেরা। খোরশেদ আলমের পরিবার ও প্রতিবেশীরা বুঝতে পেরে মসজিদের মাইকে গরু চোর ধরার ঘোষণা দেয়। এসময় গ্রামবাসী বেরিয়ে চোরদের ধাওয়া করে প্রেমবাগ রেলক্রসিংয়ের পাশে স্কুল মাঠে তাদের ধরে গণপিটুনি দেয়। এতে তাদের মৃত্যু হয়। অভয়নগর থানার ওসি তাজুল ইসলাম জানান, যশোর সদর উপজেলার বসুন্দিয়ায় কয়েকজন গরু চোরকে গ্রামবাসী ধাওয়া করে। ধাওয়া খেয়ে পলায়নরত ব্যক্তিরা অভয়নগর উপজেলার প্রেমবাগ গ্রামে ঢুকে পড়ে। এসময় এ গ্রামের মানুষরাও তাদের ধাওয়া করে স্থানীয় স্কুল মাঠে ধরে পিটুনি দেয়। গণপিটুনিতে ঘটনাস্থলে দুইজন এবং উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে অপর একজনের মৃত্যু হয়। তবে এখন পর্যন্ত তাদের পরিচয় জানা যায়নি। এসময় পিকআপ ভ্যান জব্দ ও তিনটি গরু উদ্ধার করা হয়েছে বলে জানান তিনি।
অজ্ঞান পার্টির খপ্পরে সাংবাদিক রবিন
১২জানুয়ারী,রবিবার,নিজস্ব প্রতিবেদক,নিউজ একাত্তর ডট কম: রাজধানীতে শনিবার দুপুরে মলম পার্টির খপ্পরে পড়েন আক্তার হোসেন রবিন (২৮) এক সাংবাদিক। পরে অন্য যাত্রীদের সহযোগীতায় ওইদিন বিকালে তাকে উদ্ধার করে ইসলামী ব্যাংক হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। মলম পার্টির হামলার শিকার রবিন দেবিদ্বার উপজেলার মরিচাকান্দা গ্রামের মৃত সুবেদার আবদুস সামাদ সরকারের ছোট ছেলে এবং দেবিদ্বার উপজেলার বিজনেস বাংলাদেশ পত্রিকার প্রতিনিধি ও রংধুনু মিডিয়ার বিজ্ঞাপন ব্যবস্থাপক হিসেবে দায়িত্ব পালন করে আসছিলেন। জানা গেছে, গত শনিবার দুপুরের দিকে ঢাকা যাওয়ার উদ্দেশে কুমিল্লা ক্যান্টমেন্ট এলাকা থেকে কুমিল্লা থেকে ছেড়ে আসা তিশা প্লাস বাসে উঠেন। এ সময় তার সামনে ও পিছনে আরও যাত্রী ছিলো। পরে পাশের সীট বা অন্যকোন সীট থেকে কিছু লোক এসে নাকে মুখে রুমাল বা কাপড় জাতীয় কিছু ধরে অজ্ঞান করে ফেলে। পরে সাথে থাকা নগদ ৫৫হাজার টাকা, একটি স্যামসং হ্যান্ডসেট ও প্রয়োজনীয় কাগজপত্র লুট করে নিয়ে যায়। পরে বাসের অন্য যাত্রীদের সহযোগীতায় পকেটে থাকা অন্য আরেকটি ছোট হ্যান্ডসেট থেকে তার স্বজনদের খবর দিলে তারা রবিনকে উদ্ধার করে রাজধানীর ইসলামি ব্যাংক হাসপাতালে ভর্তি করান। সাংবাদিক রবিনের স্বজনরা জানান, বর্তমানে রবিন ইসলামি ব্যাংক হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। তবে এখনও আশংঙ্কা কাটছে না।
সীতাকুণ্ডে আবারো সড়ক দূর্ঘটনায় নিহত ১ আহত ৩
১২জানুয়ারী,রবিবার,আলমগীর হোসেন,সীতাকুণ্ড,নিউজ একাত্তর ডট কম: সীতাকুণ্ডে আবারো সড়ক দূর্ঘটনায় তসলিম উদ্দিন (৪০) নামের এক যুবক নিহত হয়েছে। এ সময় আরো তিনজন আহত হয়।তাদেরকে হাসপাতলে ভর্তি করা হয়েছে। তাদের নাম পরিচয় তাৎক্ষনিক পাওয়া যায়নি। রবিবার (১২ জানুয়ারী) দুপুর ১২ টার দিকে উপজেলার বাঁশবাড়িয়া এলাকায় মহাসড়কে উক্ত দুঘর্টনা ঘটে। নিহত তসলিম বাঁশবাড়ীয়া মজিধন পাড়া গ্রামের মৃত ইদ্রিস মিয়া প্রকাশ বশর ড্রাইভারেরর পুত্র। জানাযায়, চট্টগ্রামমুখি লেইনে একটা পিকআপ দাঁড়িয়ে ছিল পিকআপের পিছনে তসলিম চট্টগ্রম শহরে যাওয়ার জন্য গাড়ির জন্য অপেক্ষা করছিলেন এসময় চট্টগ্রামমুখি আরেকটি নোহা গাড়ি তসলিম কে সজোরে ধাক্কা দিলে সে দাঁড়ানো পিকআপের সঙ্গে ধাক্কা লাগলে তসলিমের ডান পা সঙ্গে সঙ্গে শরির থেকে বিছিন্ন হয়ে পড়ে। এসময় তাকে উদ্ধার করে চট্টগ্রাম মেডিকেল নিয়ে গেলে ডাক্তার তাকে মৃত ঘোষনা করেন। বিষয় নিশ্চিত করেছেন কুমিরা হাইওয়ে পুলিশ ফাঁড়ির সার্জেন্ট মো: আবদুল্লাহ। চমেক হাসপাতালের ফাঁড়ির এসআই আলাউদ্দিন বলেন, সড়ক দূর্ঘটনায় আহত এক যুবককে হাসপাতলে নিয়ে এলে কিছুক্ষন পর তার মৃত্যু হয়।
হিলিতে মাদকবিরোধী অভিযানে আটক ২৭
১২জানুয়ারী,রবিবার,হিলি প্রতিনিধি,নিউজ একাত্তর ডট কম: দিনাজপুরের হিলিতে মাদকবিরোধী বিশেষ অভিযান চালিয়ে ওয়ারেন্টভুক্ত পলাতক আসামীসহ ২৭ মাদকসেবীকে আটক করেছে পুলিশ। শুক্রবার সন্ধ্যা থেকে শনিবার সকাল পর্যন্ত হিলি সীমান্তের বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদের আটক করে পুলিশ। হাকিমপুর থানার ওসি আব্দর রাজ্জাক আকন্দ জানান, জেলা পুলিশ সুপারের নির্দেশে ও হাকিমপুর সার্কেলের সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপারের তত্বাবধানে হাকিমপুর থানা পুলিশ শুক্রবার সন্ধ্যা থেকে সকাল পর্যন্ত হিলি সীমান্তের বিভিন্ন এলাকায় মাদকবিরোধী বিশেষ অভিযান চালায়। এসময় মাদকসেবনের দায়ে ২৫জনকে আটক করা হয় এবং ওয়ারেন্টভুক্ত পলাতক দুই আসামীকে গ্রেফতার করা হয়। পরে হাকিমপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে খবর দেওয়া হলে ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে রাতে ও সকালে দুদফায় ভ্রাম্যমান আদালত পরিচালনা করে অপরাধ স্বিকার করায় ১১জনকে বিভিন্ন মেয়াদে কারাদন্ড প্রদান করেন। বাকীদের বিরুদ্ধে নিয়মিত মামলা দায়েরের নির্দেশনা প্রদান করেন। পরে তাদের সকলের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহন পূর্বক শনিবার বিকেলে আদালতের মাধ্যমে দিনাজপুর কারাগারে প্রেরন করা হয়েছে। তাদের সকলের বাড়ি হিলি, গাইবান্ধা ও রংপুর জেলার বিভিন্ন এলাকায়।
২০১৯ সালে সড়ক দুর্ঘটনায় ৭৮৫৫ জন নিহত, ১৩৩৩০ জন আহত:যাত্রী কল্যাণ সমিতি
১১জানুয়ারী,শনিবার,বিশেষ প্রতিনিধি,নিউজ একাত্তর ডট কম: বিদায়ী ২০১৯ সালে ৫৫১৬ টি সড়ক দুর্ঘটনায় ৭৮৫৫ জন নিহত, ১৩৩৩০ জন আহত হয়েছে। একই সময় রেলপথে ৪৮২ টি দুর্ঘটনায় ৪৬৯ জন নিহত, ৭০৬ জন আহত হয়েছে। নৌ-পথে ২০৩ টি দুর্ঘটনায় ২১৯ জন নিহত, ২৮২ জন আহত এবং ৩৭৫ জন নিখোঁজ হয়। সড়ক, রেল, নৌ-পথে সর্বমোট ৬২০১ টি দুর্ঘটনায় ৮৫৪৩ জন নিহত এবং ১৪৩১৮ জন আহত হয়েছে। বাংলাদেশ যাত্রী কল্যাণ সমিতির বার্ষিক সড়ক দুর্ঘটনা পর্যবেক্ষণ প্রতিবেদনে এই তথ্য উঠে এসেছে। আজ ১১ জানুয়ারী শনিবার সকালে রাজধানীর সেগুনবাগিচাস্থ বাংলাদেশ ক্রাইম রিপোর্টার্স এসোসিয়েশন মিলনায়তনে এক সংবাদ সম্মেলনে সংগঠনের মহাসচিব মোঃ মোজাম্মেল হক চৌধুরী এই প্রতিবেদন তুলে ধরেন। দেশের জাতীয়, আঞ্চলিক ও অনলাইন সংবাদপত্রে প্রকাশিত সড়ক, রেল ও নৌ দুর্ঘটনার সংবাদ মনিটরিং করে প্রতি বছরের মত এবারো এই প্রতিবেদন তৈরি করা হয়। এতে দেখা গেছে , বিদায়ী ২০১৯ সালে ৫৫১৬ টি সড়ক দুর্ঘটনায় ৭৮৫৫ জন নিহত হয়েছে এবং আহত হয়েছে ১৩৩৩০ জন। বিদায়ী ২০১৯ সালে সড়ক দুর্ঘটনার পরিমাণ ২০১৮ সালের সমপরিমাণ হলেও প্রাণহানী ৮.০৭ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। সড়কে দুর্ঘটনায় আক্রান্ত ৯৮৯ জন চালক, ৮৪৪ জন পরিবহন শ্রমিক, ৮০৯ জন শিক্ষার্থী, ১১৫ জন শিক্ষক, ২১৬ জন আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য, ৮৯৪ জন নারী, ৫৪৩ জন শিশু, ৩৬ জন সাংবাদিক, ২৬ জন চিকিৎসক, ১৬ জন আইনজীবী ও প্রকৌশলী এবং ১৫৩ জন রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীর পরিচয় মিলেছে। এর মধ্যে নিহত হয়েছে ২৪ জন সেনা সদস্য, ৫৩ জন পুলিশ ও র‌্যাব সদস্য, ০৩ জন বিজিবি সদস্য, ০১ জন ফায়ার সার্ভিস কর্মী, ০১ জন নৌ-বাহিনীর সদস্য, ০৮ জন বীর মুক্তিযোদ্ধা, ০৬ জন সাংবাদিক, ৫৮২ জন নারী, ৪৪৭ জন শিশু, ৪৭৪ জন শিক্ষার্থী, ৮১ জন শিক্ষক, ৬৯১ জন চালক, ৩৫৭ জন পরিবহন শ্রমিক, ০৯ জন প্রকৌশলী, ০৫ জন আইনজীবি, ১১৫ জন বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মী, ২৫ জন চিকিৎসক ছিল। উল্লেখিত সময়ে সংগঠিত দুর্ঘটনায় সর্বমোট ৭৩৫৬ টি যানবাহনের পরিচয় মিলেছে, যার ১৮.৯৯ শতাংশ বাস, ২৯.৮১ শতাংশ ট্রাক ও কাভার্ডভ্যান, ৫.২২ শতাংশ কার-জীপ-মাইক্রোবাস, ৯.৩৫ শতাংশ সিএনজিচালিত অটোরিক্সা, ২১.৪ শতাংশ মোটরসাইকেল, ৮.০৪ শতাংশ ব্যাটারিচালিত রিক্সা ও ইজিবাইক, ৭.৩২ শতাংশ নছিমন-করিমন-মাহিন্দ্রা-ট্রাক্টর ও লেগুনা সড়ক দুর্ঘটনার কবলে পড়েছে। সংগঠিত মোট দুর্ঘটনার ৫৬.৩৫ শতাংশ গাড়ি চাপা দেওয়ার ঘটনা, ১৮.৩৬ শতাংশ মুখোমুখি সংঘর্ষ, ১৮.০৭ শতাংশ খাদে পড়ে, ৫.৯১ শতাংশ বিবিধ কারনে, ০.৩৪ শতাংশ চাকায় ওড়না পেছিয়ে এবং ০.৯৭ শতাংশ ট্রেন-যানবাহন সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। ২০১৮ সালের তুলনায় বিগত বছরে সড়ক দুর্ঘটনায় সংগঠিত যানবাহনের ৪.৩২ শতাংশ ব্যাটারিচালিত রিক্সা-ভ্যান-ইজিবাইক, ১.৫২ শতাংশ নসিমন-মাহিন্দ্রা-লেগুনা, ১.১৩ শতাংশ ট্রাক-কাভার্ডভ্যান-লরি, ০.০৭ শতাংশ বাসে দুর্ঘটনার হার বৃদ্ধি পেলেও মোটরসাইকেলে হেলমেট বাধ্যতামূলক করা, তিন আরোহী পরিবহন নিষিদ্ধ করা, মোটরসাইকেল চলাচলে কঠোর নজরধারির কারণে দুর্ঘটনার হার ৪.২৬ শতাংশ কমেছে। এছাড়াও ২.৭১ শতাংশ কার- জীপ-মাইক্রোবাস, ০.২৬ শতাংশ সিএনজিচালিত অটোরিক্সা দুর্ঘটনা বিগত বছরের চেয়ে কমেছে। পরিসংখ্যানের তুলনামূলক বিশ্লেষণে দেখা গেছে, ২০১৮ সালের তুলনায় বিদায়ী ২০১৯ সালে পথচারীকে গাড়ি চাপা দেওয়ার ঘটনা ১৪.৮২ শতাংশ, বেপরোয়া গতির কারণে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে খাদে পড়ার ঘটনা ১.৮৯ শতাংশ ও ট্রেন যানবাহন সংঘর্ষের ঘটনা ০.০৮ শতাংশ বৃদ্ধি পেলেও দেশের সড়ক-মহাসড়কের উন্নয়ন, ব্লাকস্পট নিরসন, রোড ডিভাইডার স্থাপন, সড়ক নিরাপত্তামূলক প্রচারণার কারণে মুখোমুখি সংঘর্ষের ঘটনা ১১.৩৬ শতাংশ কমেছে। দুর্ঘটনার ধরন বিশ্লেষণে দেখা গেছে এই বছর মোট সংঘটিত দুর্ঘটনার ৩২.৩৮ শতাংশ জাতীয় মহাসড়কে, ৩৭.৫১ শতাংশ আঞ্চলিক মহাসড়কে, ২১.৩ শতাংশ ফিডার রোডে সংঘটিত হয়। এছাড়াও সারা দেশে সংঘটিত মোট দুর্ঘটনার ৫.৪৭ শতাংশ ঢাকা মহানগরীতে, ২.৩৭ শতাংশ চট্টগ্রাম মহানগরীতে ও ০.৯৭ শতাংশ রেলক্রসিংয়ে সংঘটিত হয়। বিগত বছরের চেয়ে বিদায়ী বছরে গতি বাড়ার কারণে জাতীয় মহাসড়কে ৪.৪৭ শতাংশ, রেলক্রসিং এ ০.১১ শতাংশ সড়ক দুর্ঘটনা বৃদ্ধি পেলেও , আঞ্চলিক মহাসড়কে ২.১৫ শতাংশ, ফিডার রোডে ২.৪২ শতাংশ সড়ক দুর্ঘটনা কমেছে। ২০১৯ সালে সবচেয়ে বেশি সড়ক দুর্ঘটনা সংগঠিত হয় ১৫ জুন এইদিনে ৩১টি সড়ক দুর্ঘটনায় ২৭ জন নিহত ১২১ জন আহত হয়। এইবছর সবচেয়ে কম সড়ক দুর্ঘটনা সংগঠিত হয় ১৪ জুলাই এইদিনে ০২টি সড়ক দুর্ঘটনায় ০২জন নিহত হয়। এইবছর একদিনে সবচেয়ে বেশি সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত হয় গত ০৫ জুন এইদিনে ২২টি সড়ক দুর্ঘটনায় ৩৬ জন নিহত ৯৩ জন আহত হয়। একইবছর সবচেয়ে বেশি আহত হয় ১৫ আগষ্ট এইদিনে ২১টি সড়ক দুর্ঘটনায় ৩০ জন নিহত ২২১ জন আহত। বাংলাদেশ যাত্রী কল্যাণ সমিতির পর্যবেক্ষণ মতে সড়ক দুর্ঘটনার কারণ সমূহ ঃ ১। বেপরোয়া গতিতে গাড়ী চালনা। ২। বিপদজনক অভারটেকিং। ৩। রাস্তা-ঘাটের ক্রটি। ৪। ফিটনেস বিহীন যানবাহন। ৫। যাত্রী ও পথচারীদের অসতর্কতা। ৬। চালকের অদক্ষতা। ৭। চলন্ত অবস্থায় মোবাইল বা হেড ফোন ব্যবহার। ৮। মাদক সেবন করে যানবাহন চালানো। ৯। রেলক্রসিং ও মহাসড়কে হঠাৎ ফিডার রোড থেকে যানবাহন উঠে আসা। ১০। রাস্তায় ফুটপাত না থাকা বা ফুটপাত বেদখলে থাকা । ১১। ট্রাফিক আইনের দুর্বল প্রয়োগ। ১২। ছোট যানবাহন বৃদ্ধি। সড়ক দুর্ঘটনা রোধে সুপারিশ মালা ঃ ১। ডিজিটাল পদ্ধতিতে সি সি ক্যামেরা স্থাপন করে সড়ক পরিবহন আইন ২০১৮ কঠোর ভাবে বাস্তবায়ন করা। ২। টিভি চ্যানেল ও সংবাদপত্র সমূহে সড়ক দুর্ঘটনা প্রতিরোধে ব্যাপক প্রচারের ব্যবস্থা করা। ৩। জাতীয় ও আঞ্চলিক মহাসড়কের পাশ থেকে হাট-বাজার অপসারণ করা, ফুটপাত বেদখল মুক্ত করা। ৪। দেশের সড়ক-মহাসড়কে রোড সাইন (ট্রাফিক চিহ্ন) স্থাপন করা। জেব্রাক্রসিং অংকন করা। ৫। গণপরিবহন চালকদের প্রফেশনাল ট্রেনিং ও নৈতিক শিক্ষার ব্যবস্থা করা। ৬। যাত্রী,পথচারী ও গণপরিবহনবান্ধব সড়ক পরিবহন বিধিমালা প্রনয়ন। ৭। গাড়ীর ফিটনেস ও চালদের লাইসেন্স প্রদানের পদ্ধতি উন্নত বিশ্বের সাথে তালমিলিয়ে আধুনিকায়ন করা। ৮। সড়ক দুর্ঘটনায় আর্থিক সহায়তা তহবিল গঠনপূর্বক হতাহতদের চিকিৎসা ও পূণর্বাসনের ব্যবস্থা করা। ৯। দেশব্যাপী চাহিদানুযায়ী পর্যাপ্ত মানসম্মত নতুন গণপরিবহন নামানোর উদ্যোগ নেয়া । ১০। ট্রাফিক পুলিশের কর্মকর্তা ও সদস্যদের প্রশিক্ষণের জন্য একাডেমী গড়ে তোলা। ১১। গণপরিবহনে সেবা ও নিরাপত্তার মান পর্যবেক্ষণের জন্য দেশের সকল মন্ত্রী, সংসদ সদস্য, সচিব, জেলা প্রশাসকসহ জনপ্রতিনিধি ও সরকারি কর্মকর্তাদের প্রতিমাসে একদিন গণপরিবহন ব্যবহার বাধ্যতামূলক করা। ১২। সড়কে চাদাঁবাজি বন্ধে কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ করা।
ফেনীতে ৬,৩২০পিস ইয়াবা ট্যাবলেটসহ ৩ জনকে আটক করেছে RAB
১১জানুয়ারী,শনিবার,কমল চক্রবর্তী,চট্টগ্রাম,নিউজ একাত্তর ডট কম: ফেনী জেলার সদর থানাধীন মহিপাল এলাকায় অভিযান চালিয়ে ৬,৩২০ পিস ইয়াবা ট্যাবলেটসহ ৩ জন মাদক ব্যবসায়ীকে আটক করেছে RAB-7 । এসময় মাদক পরিবহনে ব্যবহৃত একটি কাভার্ড ভ্যান জব্দ করা হয়। শনিবার ১১ই জানুয়ারি বিকেল সাড়ে চার টার দিকে ফেনী জেলার সদর থানাধীন মহিপাল এলাকায় অভিযান চালিয়ে ৬,৩২০ পিস ইয়াবা ট্যাবলেটসহ ৩ জন মাদক ব্যবসায়ীকে আটক করা হয়েছে বলে জানান RAB-7 এর সহকারী পরিচালক (মিডিয়া) এএসপি মো. মাহমুদুল হাসান মামুন। গ্রেফতারকৃতরা হল মোঃ নাহিদ (২২) লক্ষীপুর জেলার রামগতি থানার তোরাবগঞ্জ গ্রামের মোঃ হোসেন আহম্মেদ এর ছেলে ও মোঃ আরিফ (২৩) কুমিল্লা জেলার লাঙ্গলকোট থানার বক্সগঞ্জ গ্রামের আবুল হাসেম এর ছেলে, এবং নুর হোসেন (১৮)কুমিল্লা জেলার চৌদ্দগ্রাম থানার গুনবতী গ্রামের মোঃ সালেহ এর ছেলে। RAB-7 এর সহকারী পরিচালক এএসপি কাজী মোহাম্মদ তারেক আজিজ জানান, এক গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে জানতে পারি যে, কতিপয় মাদক ব্যবসায়ী একটি কাভার্ড ভ্যান যোগে চট্টগ্রাম হতে বিপুল পরিমান ইয়াবা ট্যাবলেট নিয়ে ঢাকার দিকে যাচ্ছে। এমন তথ্যের ভিত্তিতে আজ RAB-7 এর একটি টহল দল ফেনী জেলার সদর থানাধীন মহিপাল ফ্লাইওভার এর নিচে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের উপর একটি বিশেষ চেকপোস্ট বসিয়ে গাড়ি তল্লাশি করতে থাকে। এসময় RAB এর চেকপোস্টের দিকে আসা চট্টগ্রাম হতে ঢাকাগামী একটি কাভার্ড ভ্যান (ঢাকা মেট্রো-ট-২০-১২১০) তল্লাশির জন্য সংকেত দিলে ১ জন ব্যক্তি কাভার্ড ভ্যানের দরজা খুলে লাফ দেয়। তাৎক্ষনিক RAB সদস্যরা উক্ত ব্যক্তি এবং কাভার্ড ভ্যানে থাকা আরো ২ জন মাদক ব্যবসায়ীকে আটক করে। পরে কাভার্ড ভ্যানটি তল্লাশী করে কাভার্ড ভ্যানের ড্রাইভিং সিটের পিছনে একটি শপিং ব্যাগের ভিতরে বিশেষ কায়দায় লুকানো ৬,৩২০ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধার করা হয় এবং কাভার্ড ভ্যানটি জব্দ করা হয়। আটককৃতদের প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহনের জন্য ফেনী সদর থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে। তিনি আরো জানান, উদ্ধারকৃত ইয়াবা ট্যাবলেটের আনুমানিক মূল্য ৩১ লক্ষ ৬০ হাজার টাকা এবং জব্দকৃত কাভার্ড ভ্যানের আনুমানিক মূল্য ৫০ লক্ষ টাকা টাকা। RAB-7 এর অপারেশন অফিসার এএসপি মো. মাশকুর রহমান জানান, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে RAB এর একটি টহল দল ফেনী জেলার সদর থানাধীন মহিপাল ফ্লাইওভার এর নিচে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের উপর একটি বিশেষ চেকপোস্ট বসিয়ে তল্লাশি চালিয়ে কাভার্ড ভ্যানের ড্রাইভিং সিটের পিছনে একটি শপিং ব্যাগের ভিতরে বিশেষ কায়দায় লুকানো ৬,৩২০ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধার করা হয় এবং কাভার্ড ভ্যানটি জব্দ করা হয়। গ্রেফতারকৃত আসামীদেরকে আরো জিজ্ঞাসাবাদে জানা যায়, তারা দীর্ঘদিন যাবত বিভিন্ন সীমান্তবর্তী এলাকা হতে মাদকদ্রব্য সংগ্রহ করে কাভার্ড ভ্যানের মাধ্যমে মালামাল পরিবহনের আড়ালে বিভিন্ন কৌশল অবলম্বন করে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে পাচার করে আসছে। আটককৃতদের প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহনের জন্য ফেনী সদর থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।
ধামরাইয়ে শ্রমিককে ধর্ষণের পর হত্যা, বাসচালক আটক
১১জানুয়ারী,শনিবার,জাহিদুর রহমান,সাভার,নিউজ একাত্তর ডট কম: সাভারের ধামরাইয়ে সিরামিকস কারখানার এক শ্রমিককে ধর্ষণের পর হত্যার অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ ঘটনায় এক বাসেরচালক সোহেলকে (৩০) আটক করেছে পুলিশ। সোহেল ফরিদপুর জেলার আমানত খানের ছেলে। তিনি ধামরাই উপজেলার জেঠাইল গ্রামে তার শশুরবাড়িতে থেকে বাস চালাতেন। নিহত নারীর নাম মমতা আক্তার (১৮)। তিনি উপজেলার কুশুরা ইউনিয়নের কাঠাঁলিয়া গ্রামের শাজাহান মিন্টুর মেয়ে। মমতা ঢাকা-আরিচা মহাসড়কের পাশে ডাউটিয়া এলাকায় প্রতীক সিরামিকস কারখানায় কাজ করতেন।নিহতের মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। শনিবার সকালে অভিযুক্ত বাসচালককে সোহেলকে আটকের বিষয়টি নিশ্চিত করেন ধামরাই থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) দীপক চন্দ্র সাহা। এর আগে গতকাল শুক্রবার রাত ১১ টার দিকে হিজলী খোলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পশ্চিম পাশের একটি জঙ্গলের মধ্যে থেকে মমতার মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। জানা যায়, প্রতিদিন সকাল ছয়টার দিকে কারখানায় যোগ দিতে হতো মমতাকে। প্রতিদিনের মতো গতকাল শুক্রবার ভোর সাড়ে চারটার দিকে মমতার মা জুলেখা বেগম তার মেয়েকে বাড়ির পাশ থেকেই একটি বাসে কারখানায় যাওয়ার উদ্দেশে উঠিয়ে দেন। কিন্তু সন্ধ্যা পরও মেয়ে আর বাড়ি ফিরে আসেনি। পরিবারের লোকজন বিভিন্ন স্থানে খোঁজ করেও তার সন্ধান পাননি। পরে শুক্রবার রাত আটটার দিকে ধামরাই থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করে মমতার পরিবার। ধামরাই থানাধীন কাওয়ালীপাড়া পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের ইনচার্জ (পুলিশ পরিদর্শক) রাসেল মোল্লা জানান, খবর পেয়ে রাতেই কাওয়ালীপাড়া-বালিয়া আঞ্চলিক মহাসড়কের পাশের একটি জঙ্গল থেকে মমতা নামে ওই শ্রমিকের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এ সময় লাশের গলায় ও শরীরের বিভিন্ন জায়গায় আঘাতের চিহ্ন ছিল। এছাড়া নিহতের নারীর পড়নের কামিজ ছেড়া অবস্থায় পাওয়া গেছে বলেও জানান তিনি।

সারা দেশ পাতার আরো খবর