মিলেনিয়াম হিউম্যান রাইটস এন্ড জার্নালিস্ট ফাউন্ডেশন এর পক্ষ থেকে পাহাড়তলী থানার নতুন অফিসার ই
২১শে নভেম্বর মঙ্গলবার মিলেনিয়াম হিউম্যান রাইটস এন্ড জার্নালিস্ট ফাউন্ডেশন (এমজেএফ) চট্টগ্রাম জেলা ও মহানগর কমিটির পক্ষ থেকে পাহাড়তলী থানায় সদ্য যোগদানকৃত অফিসার ইনর্চাজ মোঃ রফিকুল ইসলামকে ফুলেল শুভেচ্ছা প্রদান করা হয়। মোঃ লোকমান আলীর সভাপত্ত্বিতে শুভেচ্ছা প্রদানে আরো উপস্থিত ছিলেন সংস্থার জেলা কমিটির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব নীহার কান্তি দাশ, যুগ্ন মহা সচিব সাইফুল ইসলাম, নির্বাহী সদস্য টিংকু ভট্টাচার্য্য, মহানগর কমিটির চেয়ারম্যান মোঃ লোকমান আলী, মহাসচিব মৃদুল মজুমদার, সাংগঠনিক সচিব তছলিম কাদের চৌধুরী, সিনিয়র ভাইচ চেয়ারম্যান মোঃ জিয়া উদ্দিন কাদের চৌধুরী, উত্তর জেলা কমিটির চেয়ারম্যান মোঃ নূর নবী প্রমুখ। শুভেচ্ছা প্রদান অনুষ্ঠানে অফিসার ইনর্চাজ মোঃ রফিকুল ইসলাম বলেন, পাহাড়তলী থানা এলাকার শান্তি শৃংখলা বজায় রাখতে সকল সহযোগীতা করিবেন।
ভেজাল দ্রব্য তৈরির বিপুল পরিমাণ কেমিক্যাল উদ্ধারঃ গ্রেফতার ১
চট্টগ্রামে ভেজাল যৌন উত্তেজক পানীয়, এনার্জি ড্রিংস, ভেজাল দ্রব্য প্রস্তুতের বিপুল পরিমাণ বিভিন্ন কেমিক্যাল ও সরঞ্জামসহ একজনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। সোমবার বেলা পৌনে একটার দিকে চট্টগ্রামের কোতোয়ালী থানার রিয়াজউদ্দিন বাজার, চৈতন্যগলির চাঁদনী সুপার মার্কেট এর ৬ষ্ঠ তলার ৬নং রুমে বিশেষ অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেফতার করে চট্টগ্রাম মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ। গ্রেফতারকৃতের নাম, মোঃ সোহেল। তার বয়স ২৮ বছর। সে চট্টগ্রামের সাতকানিয়ার কেওচিয়া ইউনিয়নের নয়াপাড়া গ্রামের মৃত মোঃ আব্দুস ছালামের ছেলে। গ্রেফতারের পর তার হেফাজত থেকে ৫০১৬ বোতল বিভিন্ন নামের ভেজাল যৌন উত্তেজক পানীয়, এনার্জি ড্রিংস ও ভেজাল দ্রব্য প্রস্তুতের বিপুল পরিমাণ বিভিন্ন কেমিক্যাল ও সরঞ্জাম উদ্ধার করে পুলিশ। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানা যায়, সোহেল ও তার অন্যান্য সহযোগীরা মিলে বিভিন্ন ধরনের ভেজাল দ্রব্য তৈরি করে চট্টগ্রাম শহরের বিভিন্ন স্থানে বিক্রি করত। গ্রেফতারকৃতের বিরুদ্ধে কোতোয়ালী থানায় মামলা রুজু হয়েছে।
হামজারবাগ এলাকায় ট্রেনে কাটা পড়ে এক ব্যাংক কর্মকর্তার মৃত্যু
চট্টগ্রাম মহানগরীর পাঁচলাইশ থানার হামজারবাগ এলাকায় ডেমু ট্রেনে কাটা পড়ে এক ব্যাংক কর্মকর্তার মৃত্যু হয়েছে। নিহত রাশেদ খান (৩৫) ওয়ান ব্যাংক মীরসরাই মিঠাছড়া বাজার শাখার প্রিন্সিপাল অফিসার ছিলেন। আজ মঙ্গলবার (২১ নভেম্বর) বেলা ১১টার দিকে রিক্সায় করে যাওয়ার সময় হামজারবাগ রেল ক্রসিং এ লাইনের সাথে রিক্সা চাকা আটকে গেলে চবিগামী ডেমু ট্রেনের ধাক্কায় এ দুর্ঘটনা ঘটে। গুরুত্বর আহতবস্থায় তাঁকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেয়ার পর চিকিৎসকরা মৃত ঘোষণা করেন। নিহত রাশেদ মীরসরাই সদর ইউনিয়নের পূর্ব মিঠানালা গ্রামের মৃত মফিজুর রহমানের ছেলে। তিনি তার এক বছর বয়সী সন্তানকে নিয়ে ডাক্তার দেখাতে শহরে এসেছিলেন বলে তার পারিবারিক সুত্র জানায়।
ঝিনাইদহে কেসি কলেজের শিক্ষার্থীদের উদ্দ্যেগে এতিম শিশুদের মাঝে খাবার ও বস্ত্র বিতরণ
ঝিনাইদহে এতিম শিশুদের মাঝে খাবার ও বস্ত্র বিতরণ করা হয়েছে। সরকারী কেসি কলেজের ইংরেজী বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থীদের উদ্দ্যেগে এ বস্ত্র বিতরণ করা হয়। এ উপলক্ষে সোমবার দুপুর ১২ টার দিকে কলেজের ইংরেজী বিভাগের সম্মেলন কক্ষে আলোচনা সভায় অনুষ্ঠিত হয়। এসময় কলেজের ইংরেজী বিভাগের সহকারী অধ্যাপক আবু তালেব মো: মুনিরের সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি ছিলেন কলেজের অধ্যক্ষ ড. বিএম রেজাউল করিম। এসময় বিশেষ অতিথি ছিলেন কলেজ শিক্ষক আনিচুর রহমান, মাওলানা মোহাম্মদ হাফিজুর রহমান, কলেজ ছাত্রলীগের সভাপতি রেজোয়ানুল হক রিপন, সাধারন সম্পাদক আবু সুমন বিশ্বাস। এছাড়াও শিক্ষার্থী ও এতিম শিশুরা উপস্থিত ছিলেন। আলোচনা সভা শেষে শতাধীক এতিম শিশুদের মধ্যে খাবার ও বস্ত্র বিতরন করা হয়। এ মহতি অনুষ্ঠানের উদ্দোগ গ্রহন করেন ইংরেজী বিভাগের শিক্ষার্থী মোজাহিদ, রবিউল, জুবায়ের, শোভা, ফারহা প্রমুখ।
কাভার্ড ভ্যানে ইয়াবা
চট্টগ্রাম মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ বিশেষ অভিযান চালিয়ে কাভার্ড ভ্যানের ভিতরে বিশেষ কায়দায় নির্মিত কুঠুুরী হতে এক লক্ষ ২০ হাজার পিস ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধার এবং তিনজন আসামীকে গ্রেফতার করেছে। রোববার রাত দেড়টায় কোতোয়ালী থানাধীন ফিশারী ঘাট এলাকা হতে কাভার্ড ভ্যানটি (ঢাকা মেট্টো-ট-২০-৭২৫৮) আটক করা হয়। এতে ১৩০টি ককসিটের বরফযুক্ত মাছভর্তি কার্টুনও ছিল। সূত্র জানায়, মহানগর ডিবি গোপন সূত্রে সংবাদ পায় যে, কক্সবাজার টেকনাফ হতে ০১টি মাছ ভর্তি কাভার্ড ভ্যানে বিশেষভাবে লুকায়িত অবস্থায় (মাদকদ্রব্য) ইয়াবা ট্যাবলেট ঢাকায় পাচার করার উদ্দেশ্যে বহন করছে।এ প্রেক্ষিতে নতুন ব্রীজ পুলিশ বক্সের সামনে চেকপোষ্ট করাকালীন সময়ে জব্দকৃত ইয়াবা বহনকারী কাভার্ড ভ্যানটিকে থামানোর জন্য সংকেত প্রদান করিলে দ্রুত গতিতে চেকপোষ্ট অতিক্রম করিয়া মেরিন ড্রাইভ সড়ক দিয়ে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে। এ সময় ডিবি টিমের সদস্যরা গাড়ি যোগে ধাওয়া করে নতুন ফিশারীঘাট বাজারে কাভার্ড ভ্যানটি আটক করতে সমর্থ হয়। অভিনব কায়দায় (মাদকদ্রব্য) ইয়াবা পাচারের জন্য কাভার্ড ভ্যানের ভিতরে গোপনীয় স্থান তৈরী করা ছিল। গ্রেফতারকৃত আসামীরা হলো : ১। মোঃ মামুন বেপারী (ড্রাইভার)(৩৩), পিতা- সরোয়ার বেপারী, মাতা-নুর জাহান সাং- টেরবাগডি (বেপারী বাড়ি) থানা- সদর, জেলা-মাদারীপুর, ২। মোঃ শাহাজাহান(৩২), পিতা- মৃত আব্দুল সালাম সাং-পূর্ব পানখালী, হ্নীলা বাজার, থানা- টেকনাফ, জেলা- কক্সবাজার, ৩। মোঃ আনোয়ার(২২), পিতা- আব্দুস সালাম সাং- পূর্ব পানখালী, হ্নীলা বাজার, থানা- টেকনাফ জেলা- কক্সবাজার। পুলিশ জানায়, সংঘবদ্ধ ইয়াবা পাচারকারী সদস্যরা ইয়াবা পাচারের কৌশল পরিবর্তন করে নিজেরা ২/১টি কাভার্ড ভ্যান ক্রয় করে ট্রান্সপোর্টের মালিক হিসেবে পরিচয় প্রদান করে। কাভার্ড ভ্যান গুলোর বডি তৈরি করার সময় ইয়াবা পাচার করার জন্য মিস্ত্রি দ্বারা গোপন চেম্বার তৈরি করে। টেকনাফ কক্সবাজার ও চট্টগ্রাম থেকে ঢাকা ও অন্যান্য শহরে কৌশলে ইয়াবা ট্যাবলেট পরিবহনের সময় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর চোখ ফাঁকি দেওয়ার জন্য পচনশীল দ্রব্য মাছ বহন করে। এ ব্যাপারে বাকলিয়া থানায় নিয়মিত মামলা রুজু করা হয়েছে।
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের অপহৃত ছাত্রী উদ্ধার
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে হলের সামনে থেকে তুলে নিয়ে যাওয়া ছাত্রীকে ঢাকা থেকে উদ্ধার করা হয়েছে। আজ শনিবার বেলা দুইটা নাগাদ তাঁকে উদ্ধার করা হয়েছে বলে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক লুৎফর রহমান জানান। প্রক্টর বলেন, ঢাকা পুলিশের সহায়তায় রাজশাহী পুলিশের একটি দল তাঁকে উদ্ধার করে। তাঁর সঙ্গে তাঁর সাবেক স্বামীও রয়েছে। বর্তমানে তাঁদের রাজশাহীতে নিয়ে আসার প্রক্রিয়া চলছে। অপহৃত ওই ছাত্রীকে ফিরিয়ে আনতে আজ বেলা ১১টা থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগারের সামনে মানববন্ধন করছেন শিক্ষার্থীরা। বেলা দুইটা পর্যন্ত বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে সময় বেঁধে তারা। এর মধ্যে পাওয়া না গেলে আরও কঠোর কর্মসূচি দেওয়া হবে বলে আন্দোলনরত ছাত্রীরা হুমকি দেন। একই সঙ্গে তাঁরা ক্যাম্পাসে ছাত্রীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করাসহ সাত দফা দাবি জানান। ওই সময় বিশ্ববিদ্যালয়ের সহ-উপাচার্য অধ্যাপক আনন্দ কুমার সাহা সাংবাদিকদের বলেছিলেন, ওই ছাত্রীর সন্ধান পুলিশ পেয়েছে। তাঁকে উদ্ধার করে নিয়ে আসার প্রক্রিয়া শুরু করেছে পুলিশ। গতকাল শুক্রবার সকালে বিশ্ববিদ্যালয়ের তাপসী রাবেয়া হল থেকে বের হয়ে পরীক্ষা দিতে যাওয়ার সময় অপহৃত হন বিশ্ববিদ্যালয়ের চতুর্থ বর্ষের ওই ছাত্রী। একটি সাদা মাইক্রোবাসে করে ওই ছাত্রীর ‘সাবেক স্বামী’ সোহেল রানাসহ তিন-চারজন যুবক তাঁকে জোর করে তুলে নিয়ে যায় বলে প্রত্যক্ষদর্শী ছাত্রীরা অভিযোগ করেছেন। এ ঘটনায় গতকাল সন্ধ্যায় নগরের মতিহার থানায় অপহরণ মামলা করেছেন ওই ছাত্রীর বাবা।
মৃত্যুতেও ছিন্ন হয়নি দুজনের বন্ধুত্ব
রাত তিনটার দিকে হঠাৎ মুঠোফোনের রিং বেজে ওঠে। ঘুমজড়ানো কণ্ঠে হ্যালো বলতেই ওপাশ থেকে পরিচিত একজন আশীষ দাশকে জানান, বিদ্যুৎ মারা গেছে।বাবার বুকভাঙা চিৎকারে জেগে ওঠে পুরো পরিবার। বিদ্যুৎ-এর বন্ধু অপু দাশের পরিবার রাত সোয়া দুইটার দিকে দুঃসংবাদটি পায়। অপুর পরিবারের সদস্যরা অবশ্য কাঁদছিল তাঁদের ছেলের মৃত্যুর খবর শুনে। ভোরের দিকে দুই পরিবারই জানতে পারে বিদ্যুৎ-অপু কেউ নেই। সড়ক দুর্ঘটনায় একসঙ্গে প্রাণ গেছে তাঁদের। তাঁদের আরেক বন্ধু বাপ্পীও ওই সড়ক দুর্ঘটনায় গুরুতর আহত হন। চট্টগ্রাম শহরের একটি হাসপাতালে তাঁর চিকিৎসা চলছে। তিনজনই দরজি দোকান চালাতেন। ৩০ বছরের এই তিন তরুণ চট্টগ্রাম শহরের ঘাটফরহাদবেগ এলাকার বাসিন্দা। এক পাড়ায় বেড়ে ওঠা এই তিন যুবক সবসময় একসঙ্গে ঘুরতেন। বৃহস্পতিবার রাতেও তাঁরা পরিবারের অগোচরে মোটরসাইকেল নিয়ে একসঙ্গে সীতাকুণ্ডে যাচ্ছিলেন। গতকাল শুক্রবার বিকেলে ঘাটফরহাদবেগের কাটাপাহাড়ের বাসায় কথা হয় অপুর বাবা অশোক দাশের সঙ্গে। পুরো বাড়িটি নিস্তব্ধ। ছেলের সৎকার শেষ করে শ্মশান থেকে ফিরেছেন একটু আগে। একটি চেয়ারে বসে নীরবে চোখের পানি ফেলছেন অপুর মা শ্যামলী দাশ। অশোক দাশ বললেন কাল (বৃহস্পতিবার) রাতে দোকান বন্ধ করে ছেলে আমাকে বলল, বাবা আমি একটু বের হব। কোথায় যাবে বলেনি। রাতে পুলিশ ফোন করে মৃত্যুর খবর দিল... মোটরসাইকেলটি অপুর। প্রায় সাত-আট বছর ধরে তিন বন্ধু সুযোগ পেলেই মোটরসাইকেল নিয়ে ঘুরতে বের হতেন। ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের টেরিয়াল বাজার এলাকায় বৃহস্পতিবার দিবাগত রাত আড়াইটার দিকে এই দুর্ঘটনা ঘটে। তাঁদের কারও মাথায় হেলমেট ছিল না। গাড়ির ধাক্বায় ঘটনাস্থলেই অপু ও বিদ্যুৎ মারা যান। বিদ্যুতের বাবা আশীষ দাশ বলেন, দুই বন্ধু একসঙ্গে থাকত। মারা গেলও একসঙ্গে...
হাসপাতালই শিশুটির বাড়ি!
জাহাজভাঙা কারখানায় কাজ করতে গিয়ে যখন বাবার দুই পা ভেঙে যায়, তখন রিফানের বয়স ছিল ৭ দিন। সেই থেকে আহত বাবার সঙ্গে হাসপাতালেই থাকছে রিফান। মাঝখানে হাসপাতাল থেকে ছাড়া পেয়ে তিন মাস বাড়িতে ছিলেন বাবা। ওই কটা দিনই বাড়িতে ছিল রিফান। বাবা ফের হাসপাতালে ভর্তি হওয়ায় আবার হাসপাতালে এসেছে শিশুটি। মো. রিফান। এখন ১১ মাসে পড়েছে শিশুটি। এর আট মাসই বাবা-মায়ের সঙ্গে হাসপাতালে কেটেছে তার। এভাবেই বড় হচ্ছে সে। তার বাবার নাম ফারুক হোসেন। চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডের ভাটিয়ারি স্টিল শিপ ব্রেকিং ইয়ার্ড নামের একটি জাহাজভাঙা কারখানায় কাজ করতে গিয়ে গত ২ জানুয়ারি আহত হন তিনি। রাতে লোহার খণ্ডের সঙ্গে হুইন্স মেশিনের হুক লাগিয়ে ফারুক ফিরছিলেন উপকূলের দিকে। হঠাৎ হুক খুলে গিয়ে তাঁর দুই পায়ে আঘাত করে। পরে অন্য শ্রমিকেরা তাঁকে উদ্ধার করে উপজেলার ভাটিয়ারির বাংলাদেশ শিপব্রেকিং অ্যাসোসিয়েশন (বিএসবিএ) হাসপাতালে ভর্তি করেন। খবর শুনেই রিফানকে নিয়ে ফারুকের স্ত্রী রোজিনা খাতুন ছুটে আসেন হাসপাতালে। সেই থেকে শুরু। মো. ফারুক হোসেন আট মাস ধরে চিকিৎসাধীন। ফারুকের বাড়ি জামালপুরের সরিষাবাড়ি উপজেলার মালিপাড়া গ্রামে। স্ত্রীকে নিয়ে সীতাকুণ্ডের ভাটিয়ারীতেই বাসা ভাড়া নিয়ে থাকতেন তিনি। দুর্ঘটনার পর থেকে ফারুককে দেখাশোনার জন্য স্ত্রী রোজিনা ছেলেকে নিয়ে হাসপাতালে রয়েছেন। ভাড়া বাসাও এখন ছেড়ে দিয়েছেন। হাসপাতালই এখন বাড়ি। বিএসবিএ হাসপাতালের তিনতলার ১ নম্বর বেডে গত বুধবার বিকেলে ফারুকের সঙ্গে দেখা হয় এই প্রতিবেদকের। তাঁর পায়ের কাছে শিশু রিফান গড়াগড়ি করছিল। অবুঝ শিশুটি জানেই না, সে হাসপাতালে, না বাড়িতে! হাসপাতালে শত ব্যস্ততায় রিফানের ঠিকঠাক যত্ন নিতে পারছেন না মা রোজিনা। তিনি বলেন, একটু পরপরই ওষুধ কিনতে বা চিকিৎসকের সঙ্গে কথা বলতে যেতে হয়। খাবারের বন্দোবস্তও করতে হয়। এর ফাঁকে ফাঁকে সামলান ছেলেকে। যখনই ছেলে কেঁদে ওঠে, তখনই বুঝতে পারেন তার খিদে পেয়েছে। ফারুক হোসেন প্রথম আলোকে বলেন, গত জানুয়ারি থেকে জুলাই মাস পর্যন্ত তিনি বিএসবিএর দ্বিতীয় তলার ৬ নম্বর বেডে ভর্তি ছিলেন। চিকিৎসায় ডান পা সুস্থ হয়েছে। কিন্তু বাঁ পা এখনো ভাঙা এবং ঘা শুকায়নি। ফারুকের দাবি, গত ১৭ জুলাই পর্যন্ত মালিকপক্ষ তাঁর চিকিৎসা খরচ ও বেতন দিয়েছে। কিন্তু হাসপাতাল ছাড়ার পর বেতন বন্ধ রয়েছে। ফারুকের স্ত্রী রোজিনা খাতুন বলেন, বাড়িতে থাকা অবস্থায় মাসের বেতনের জন্য কারখানার ব্যবস্থাপককে ফোন দিলেও কাজ হয়নি। টাকার অভাবে বাঁ পায়ের চিকিৎসা করতে না পারায় ক্ষত বাড়তে থাকে। এখন আবারও হাসপাতালে ভর্তি করতে হয়েছে ফারুককে। এ বছরের জানুয়ারি থেকে জুলাই মাসের মাঝামাঝি পর্যন্ত বিএসবিএ হাসপাতালে ছিলেন রিফানের বাবা। এরপর সপরিবারে জামালপুরে নিজের বাড়ি চলে যান তিনি। গত মাসের ৮ তারিখ থেকে আবার একই হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ফারুক। গত ৩১ অক্টোবর ফারুকের বাঁ পায়ে অস্ত্রোপচার হয়েছে। কলকারখানা ও প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন অধিদপ্তরের উপমহাপরিদর্শক মো. আবদুল হাই খান প্রথম আলোকে বলেন, শ্রম আইন অনুসারে কর্মস্থলে কোনো শ্রমিক দুর্ঘটনায় আহত হলে চিকিৎসার ব্যয় মালিকপক্ষ বহন করবে। একই সঙ্গে দুর্ঘটনার পর প্রথম দুই মাস পূর্ণ বেতন পাবেন। পরবর্তী দুই মাস বেতনের দুই-তৃতীয়াংশ পাবেন, পরের ছয় মাস অর্ধেক বেতন পাবেন। এরপর আইন অনুযায়ী যা প্রাপ্য, তা পাবেন। ফারুকের চিকিৎসক মঈন উদ্দীন মজুমদার প্রথম আলোকে বলেন, ফারুক পুরোপুরি সুস্থ হতে আরও কয়েক মাস লাগবে। মালিকপক্ষ যথেষ্ট আন্তরিক। তাঁর যথাযথ চিকিৎসা করা হচ্ছে। কারখানার মালিক নাঈম উদ্দীন প্রথম আলোকে বলেন, এ পর্যন্ত ফারুকের চিকিৎসা ব্যয় বাবদ পাঁচ-ছয় লাখ টাকা দিয়েছেন। বেতনও দিয়েছেন। এখন হাসপাতালে যাঁরা আছেন, তাঁরা খোরাকির টাকা (খাওয়ার খরচ) পাবেন। গত বুধবারই ফারুককে অর্ধেক মাসের বেতন বাবদ কিছু টাকা দেওয়া হয়েছে।

সারা দেশ পাতার আরো খবর