পদ্মায় যানবাহনের চাপ বৃদ্ধি
আসন্ন ঈদ সামনে রেখে মুন্সীগঞ্জের লৌহজং উপজেলার শিমুলিয়াঘাট এলাকায় যাত্রী ও যানবাহনের চাপ বৃদ্ধি পেয়েছে। পদ্মায় পারাপারের অপেক্ষায় রয়েছে ৭ শতাধিক যানবাহন।বুধবার ভোর থেকে পরিবারের সঙ্গে ঈদের আনন্দ ভাগাভাগি করে নিতে নাড়ির টানে বাড়ি ফিরছে দক্ষিণাঞ্চলের মানুষ। শিমুলিয়াঘাট এলাকায় অন্তত ৭ শতাধিক যানবাহন পারাপারের অপেক্ষায় রয়েছে বলে বিআইডব্লিউটিসি সূত্রে জানা যায়। এদিকে দক্ষিণবঙ্গের যাত্রীরা ক্ষোভ প্রকাশ করে জানান, সকাল থেকে স্পিডবোটে পারাপারে ২০০ টাকা করে ভাড়া নিচ্ছে। বোটগুলো অতিরিক্ত ভাড়াসহ যাত্রীও নিচ্ছে। বিআইডব্লিউটিসির শিমুলিয়াঘাট ব্যবস্থাপক (বাণিজ্য) গিয়াসউদ্দিন পাটোয়ারী জানান, রোববার ভোর থেকেই যাত্রী ও যানবাহনের চাপ বাড়তে শুরু করেছে। বুধবার ঘাট এলাকায় ছোট-বড় মিলিয়ে প্রায় ৭ শতাধিক যানবাহন পারাপারের অপেক্ষায় রয়েছে। এর মধ্যে মোটরসাইকেল ও ছোট গাড়ির সংখ্যা বেশি। শিমুলিয়া-কাঁঠালবাড়ি নৌরুটে ছোট-বড় ২০টি ফেরি রয়েছে, যার মধ্যে যাত্রীবাহী যানবাহনগুলোকে প্রাধান্য দিয়ে পারাপার করা হচ্ছে। তবে যাত্রীবাহী যানবাহনের চাপ কম থাকলে পণ্যবাহী যানবাহনগুলো পারাপার করা হয়। সকাল থেকে এ পর্যন্ত সহস্রাধিক মোটরসাইকেল ও প্রাইভেটকার পার করা হয়েছে।
ময়মনসিংহে ট্রাকচাপায় পুলিশ সদস্যসহ দুজন নিহত
ময়মনসিংহে ট্রাকচাপায় পুলিশ সদস্যসহ দুজন নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন আরও পাঁচজন।বুধবার সকালে শহরের বাইপাস গোলচত্বরে এ দুর্ঘটনা ঘটে। নিহতরা হলেন- পুলিশের কনস্টেবল সাইফুল ইসলাম ও আবুল হাশেম।কনস্টেবল সাইফুলের বাড়ি জামালপুরে। তিনি গাজীপুর জেলায় গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশে কর্মরত ছিলেন। ঈদের ছুটিতে তিনি বাড়ি যাচ্ছিলেন। আর আবুল হাশেম ফুলবাড়ীয়া উপজেলার শুভরিয়া গ্রামের আবদুর রহমানের ছেলে।কোতোয়ালি মডেল থানার এসআই নাজমুল হক জানান, ঢাকা থেকে আসা একটি ট্রাক গোলচত্বরে যানবাহনের জন্য অপেক্ষমাণ কয়েকজনকে চাপা দেয়। আহতদের উদ্ধার করে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক দুজনকে মৃত ঘোষণা করেন। বাকিদের চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।তিনি আরও জানান, ঘটনার পর পরই চালক ও তার সহকারী ট্রাক রেখে পালিয়ে গেছেন। ট্রাকটি পুলিশ জব্দ করেছে।
জামাল উদ্দিনকে হত্যার হুমকিদাতা টিটু আটক
নিউজ একাত্তর/চট্টগ্রাম:চট্টগ্রাম বলাকা প্রকাশনীর স্বত্বাধিকারী জামাল উদ্দিনকে হত্যার হুমকিদাতা টিটু শীল জয়দেব (৩৫) কে আটক করা হয়েছে। ১২ জুন দিনগত রাত ১টার দিকে নগরের বাকলিয়া এলাকা থেকে অভিযান চালিয়ে তাকে আটক করেছে কোতোয়ালী থানা পুলিশ। আটক হওয়া টিটু শীল বোয়ালখালী এলাকার সুলাল চন্দ্র শীলের ছেলে। তিনি চট্টগ্রাম আইন কলেজের সাবেক নেতা। বিষয়টি নিশ্চিত করে কোতোয়ালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ মহসীন বলেন, প্রকাশককে মোবাইলে হত্যার হুমকির ঘটনায় এক যুবককে গ্রেফতার করা হয়েছে। প্রাথমিকভাবে তিনি মোবাইল ফোনের মাধ্যমে হত্যার হুমকি দেওয়ার বিষয়টি স্বীকার করেছেন। তাকে ব্যাপক জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। বিস্তারিত পরে জানানো হবে। এর আগে সোমবার (১১ জুন) দিনগত রাত ৯টা ৫৫ মিনিটে প্রথম ০১৯৬০৫৫৭১৯৮ নম্বর থেকে ফোন করে আমাকে মৃত্যুর হুমকি দেওয়া হয়। একইভাবে ১০টা ৩মিনিট, ১০টা ৪৫মিনিট ও রাতে ১১টা এবং ১২টায়ও একই নম্বর থেকে পরপর ফোন করে শেষ খাবার খেয়ে নেওয়ার জন্য হুমকি দেওয়া হয়। ‘হুমকিদাতা মোবাইলে বলেছিলো-মুন্সিগঞ্জে এক প্রকাশককে খুন করা হয়েছে। এবার তোর (জামাল উদ্দিন) পালা। তোর বলাকা প্রকাশনী বোমা মেরে উড়িয়ে দেব। তোকে পৃথিবীতে রাখবো না। মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস লেখিস। মুক্তিযুদ্ধ মুক্তিযুদ্ধ করিস। শেষবারের মতো খেয়ে নে।’ পরে হুমকির ঘটনায় মঙ্গলবার (১২ জুন) কোতোয়ালী থানায় জিডি করেন জামাল উদ্দিন। এরপর থেকে থানা পুলিশ অভিযানে নামে।
সিএমপির নতুন কমিশনারের দায়িত্ব গ্রহণ
চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের (সিএমপি) নতুন পুলিশ কমিশনার হিসেবে মাহবুবুর রহমান (পিপিএম/সেবা) দায়িত্বভার গ্রহণ করেছেন। মঙ্গলবার দুপুরে নগরীর লালদিঘীর পাড়স্থ সিএমপি সদর দপ্তরে তিনি নগর পুলিশ কমিশনার হিসেবে দায়িত্বভার বুঝে নেন। এর আগে মাহবুবুর রহমান সকালে সিএমপি সদর দপ্তরে এসে পৌঁছালে নগর পুলিশের অতিরিক্ত কমিশনার আমেনা বেগমসহ সিএমপির ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা তাকে স্বাগত জানান। মাহবুবুর রহমান এর আগে রাজশাহী মহানগর পুলিশ (আরএমপি) কমিশনারের দায়িত্বে ছিলেন। উল্লেখ্য, গত ২৬ এপ্রিল সিএমপি কমিশনার ইকবাল বাহারকে চট্টগ্রাম থেকে রাজারবাগ পুলিশ সদর দপ্তরে টেলিকম অ্যান্ড ইনফরমেশন ম্যানেজমেন্টে (টিঅ্যান্ডআইএম) বদলি করা হয়। গত বছরের ১৩ আগস্ট রাজশাহী মেট্রোপলিটন পুলিশের (আরএমপি) কমিশনার হিসেবে যোগ দিয়েছিলেন মাহাবুবর রহমান। জামালপুর জেলার মাদারগঞ্জ উপজেলায় জন্মগ্রহণকারী মাহাবুবর রহমান ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় হতে পদার্থ বিজ্ঞান বিভাগে অনার্স ও মাস্টার্স সম্পন্ন করেন। ১৯৯৫ সালে তিনি ১৫তম বিসিএসে সহকারী পুলিশ সুপার হিসেবে বাংলাদেশ পুলিশে যোগদান করেন। এএসপি (সদর দপ্তর) হিসেবে নরসিংদী জেলা পুলিশে, সার্কেল এএসপি হিসেবে কিশোরগঞ্জ জেলার সদর সার্কেল ও বাজিতপুর সার্কেলে এবং এএসপি সদর সার্কেল হিসেবে নেত্রকোনা জেলায় দায়িত্ব পালন করেন তিনি। এ ছাড়াও মাহাবুবুর রহমান সহকারী পুলিশ কমিশনার (কোতয়ালী) হিসেবে খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশ, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার হিসেবে আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ন ও র‌্যাবে কর্মরত ছিলেন। কমিশনার (সিও) হিসেবে মহালছড়ি আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ন ও বগুড়া এপিবিএনে কর্মরত ছিলেন। এ ছাড়াও উপপুলিশ কমিশনার (তেজগাঁও) হিসেবে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের দায়িত্ব পালন করেন মাহবুবুর রহমান। ২০০২-০৩ সালে কসোভো ও ২০০৫-০৬ সালে আইভরিকোস্টে জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনে দায়িত্ব পালন করেন মাহবুবুর রহমান। ২০১৩ সালে তিনি প্রেসিডেন্সিয়াল পুলিশ মেডেল (পিপিএম-সেবা) পদক লাভ করেন।
পটুয়াখালীর রাঙ্গাবালী উপজেলায় টর্নেডোর আঘাতে লণ্ডভণ্ড তিন গ্রাম
টর্নেডোর আঘাতে পটুয়াখালীর রাঙ্গাবালী উপজেলার ছোটবাইশদিয়া ইউনিয়নের তিনটি গ্রামে ২৫টি ঘরবাড়ির ব্যাপক কষয়ক্ষতি হয়েছে। সোমবার রাতের ওই ঘড়ে বাড়িঘরের সঙ্গে শতাধিক গাছপালার ভেঙ্গে গেছে।ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলো জানায়, সোমবার রাত ৯টার দিকে উপজেলার ছোটবাইশদিয়া ইউনিয়নের চতলাখালী, তিল্লা ও নয়াভাংগুনি গ্রামে প্রবল বেগে টর্নেডোর আঘাত হানে। মাত্র ৪ মিনিটের ওই ঝড়ের আঘাতে বেশ কয়েকটি বসতঘর বিধ্বস্ত এবং বহু বাড়িঘরে আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এসময় প্রায় শতাধিক গাছপালা উপড়ে পড়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত ওই ইউনিয়নের চতলাখালী গ্রামের কাওসার মিয়া বলেন, হঠাৎ ঝড় এসে ঘরবাড়ি তছনছ করে দিয়েছে। এখন অনেক পরিবারের মাথা গোঁজার ঠাই নেই। খোলা আকাশের নিচে পরিবার-পরিজন নিয়ে মানবেতর জীবন যাপন করছি। ছোটবাইশদিয়া ইউপি চেয়ারম্যান এবিএম আব্দুল মান্নান বলেন, এ ইউনিয়নের তিন গ্রামে বেশকিছু বসতঘর এবং গাছপালা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারকে সহায়তা দেয়া প্রয়োজন। এ ব্যাপারে উপজেলা দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কমিটির সদস্য সচিব ও উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (অতিরিক্ত দায়িত্বে) তপন কুমার ঘোষ বলেন, ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের তালিকা তৈরির কাজ চলছে। তালিকা তৈরি হলে জেলায় পাঠিয়ে দেয়া হবে।
ঘরমুখো মানুষ নির্বিঘ্নে বাড়ি পৌঁছাতে পারছেন উত্তরের পথে
উত্তরের পথে স্বস্তিতে বাড়ি ফিরছে ঘরমুখো মানুষ। রাজধানী ঢাকার সঙ্গে উত্তরবঙ্গের সড়ক পথে যোগাযোগের একমাত্র মাধ্যম এই সড়কটি। প্রতিবছর ঈদের সময় ঘরমুখো মানুষের যানবাহনের চাপে এই মহাসড়কে সৃষ্টি হয় দীর্ঘ যানজট। ফলে ভোগান্তিতে পড়েন চালক ও যাত্রীরা। এবারও এই মহাসড়কে ঈদযাত্রায় তীব্র যানজটের আশঙ্কা করলেও এখনো মঙ্গলবার ( ১২জুন) দুপুর পর্যন্ত কোনও যানজটের চিত্র দেখা যায়নি। ফলে ঘরমুখো মানুষ নির্বিঘ্নে বাড়ি পৌঁছাতে পারছেন। জানা যায়, গাজীপুরের চন্দ্রা থেকে কালিহাতীর এলেঙ্গা পর্যন্ত চার লেনের কাজ দ্রুত গতিতে চলছে। ঈদের আগে এ প্রকল্পের আওতায় চার লেন ও কয়েকটি ব্রিজ খুলে দেওয়ার ফলে যানজট তেমনটা পড়বে না বলে মনে করছেন স্থানীয়রা। বঙ্গবন্ধু সেতু পূর্ব থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোশারফ হোসেন বলেন, ‘এখনো কোনও যানজটের চিত্র দেখা যায়নি। ঘরমুখো মানুষ স্বস্তিতেই বাড়ি ফিরছেন। ’ তিনি বলেন,‘এবার ঘরমুখো মানুষকে তেমনটা যানজটের কবলে পড়তে হবে না। যানজট নিরসনে জেলা পুলিশ ও হাইওয়ে পুলিশ সার্বক্ষণিক তৎপর রয়েছে।
কক্সবাজারের মহেশখালীতে পাহাড় ধস ও গাছচাপায় প্রাণ হারালেন ২ জন
কক্সবাজারের মহেশখালীতে ভারী বৃষ্টিপাতে পাহাড় ধসে মাটি চাপায় ও উখিয়ায় রোহিঙ্গা ক্যাম্পে গাছচাপায় দুজনের মৃত্যু হয়েছে।মঙ্গলবার সকালে মহেশখালীর পানিরছড়া এলাকা এবং উখিয়ার রোহিঙ্গা ক্যাম্পের তেলিপাড়া এলাকায় এ ঘটে। নিহতরা হলেন- উপজেলার হোয়ানক ইউনিয়নের পানিরছড়া এলাকার বাসিন্দা মো. বাদশা মিয়া (৩৫) এবং উখিয়ার বালুখালী রোহিঙ্গা ক্যাম্পের জামতলী এলাকার হোসেন আহমদের ছেলে মোহাম্মদ আলী (২০)। মহেশখালীর ওসি প্রদীপ কুমার দাস বলেন, সাগরে সৃষ্ট নিম্নচাপের প্রভাবে মহেশখালীতে গত কয়েকদিন থেকে ভারী বৃষ্টিপাত হচ্ছে। আজ সকালে হোয়ানক ইউনিয়নের পানিরছড়া এলাকায় ভারী বৃষ্টিপাতের সময় পাহাড় ধসে বাড়ির পেছনের অংশের ওপর এসে পড়ে। এতে ঘটনাস্থলে মাটিচাপা পড়ে বাদশা মিয়ার মৃত্যু হয়। এদিকে, উখিয়া থানার ওসি মো. আবুল খায়ের জানান, ভারী বৃষ্টিপাতে উখিয়ার পালংখালী ইউনিয়নের বালুখালী রোহিঙ্গা ক্যাম্পের জামতলী এলাকায় গাছচাপায় মোহাম্মদ আলী নামের একজনের মৃত্যু হয়।নিহতের মৃতদেহ উদ্ধার করে ক্যাম্পের স্থানীয় এক হাসপাতালে রাখা হয়েছে বলে জানান ওসি।
ভারী বর্ষণে রাঙামাটিতে পাহাড় ধসে নিহত ১০
ভারী বর্ষণে পাহাড় ধসে রাঙামাটির নানিয়ারচরে ১০ জন নিহত হয়েছেন। মঙ্গলবার সকালে উপজেলার বড়কূলপাড়া একই পরিবারের তিনজন, হাতিমারায় তিনজন ও শিয়াইল্লাপাড়া গ্রামে শিশুসহ চারজনের মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। নিহতদের মধ্যে নয়জনের পরিচয় পাওয়া গেছে, তারা হলেন- নানিয়ারচরে বড়কূলপাড়ার একই পরিবারের তিনজন সুরেন্দ্র লাল চাকমা (৪৮), তার স্ত্রী রাজ্য দেবী চাকমা ও মেয়ে সোনালী চাকমা (০৯)। হাতিমারা গ্রামের রুমেল চাকমা (১২), রিতান চাকমা (২৫) ও রীতা চাকমা (১৭)। শিয়াইল্লাপাড়া গ্রামের ফুলদেবী চাকমা (৩২), ইতি চাকমা (২৪) ও শিশু অজ্ঞাত (২ মাস)। এ ঘটনার পর ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স এবং নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যরা উদ্ধারকাজ চালাচ্ছেন। এতে হতাহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। নানিয়ারচর থানার ওসি আবদুল লতিফ বলেন, নানিয়ারচরের তিন গ্রাম থেকে ১০ জনের মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। এটা একটা ভয়াবহ মানবিক বিপর্যয়। পাহাড় ধসের পর ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স এবং নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যরা উদ্ধারকাজ চালাচ্ছেন। এতে হতাহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। এদিকে, এ ঘটনার পর থেকে উপজেলায় অধিকাংশ এলাকাই বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন অবস্থায় রয়েছে।
পানির ট্যাংকির দেয়াল ধসে মা-ছেলে নিহত সাভারের আশুলিয়ায়
সাভারের আশুলিয়ায় একটি বাড়ির পানির ট্যাংকির দেয়াল ধসে পোশাক শ্রমিক নারী ও তার ৭ বছরের ছেলে নিহত হয়েছে। খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের একটি দল মরদেহ দুইটি উদ্ধার করে। এই ঘটনায় আহত আরও একজনকে স্থানীয় হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। সোমবার ভোর সাড়ে ৫টার দিকে সাভারের আশুলিয়ার নরসিংহপুর বাংলাবাজার এলাকায় নরু মোহাম্মদ পালোয়ানের বাড়িতে এই ঘটনা ঘটে। নিহত সেলিমা বেগম শিল্পাঞ্চলের নরসিংহপুর এলাকার হা-মীম গ্রপের পোশাক কারখানায় কাজ করতেন। ছেলে সিয়াম হোসেন ক্লাস ওয়ানে লেখাপড়া করতো। তাদের গ্রামের বাড়ি গাইবান্ধা জেলার সাঘাটা থানার কামালিয়াপাড়া এলাকায়। প্রতিবেশীরা জানান, ভোরে বিকট শব্দে ঘুম ভেঙ্গে যায়। একটু পরেই দেখেন ঘরে ভিতরে উপচে পানি ঢুকছে। দৌড়ে বাইরে এসে দেখেন সেলিনা বেগমের ঘরে উপরে দেয়াল ধসে পড়েছে। দ্রুত টুটুল নামে একজনকে উদ্ধার করতে পেরেছে। কিন্তু মা ও ছেলে ছেলে বের করতে পারেনি। আশুলিয়া ডিইপিজেডের ফায়ার সার্ভিসের স্টেশন কর্মকর্তা হুমায়ন কবির জানান, খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের একটি দল ঘটনাস্থল থেকে দেয়ালের নিচে চাপা পড়া মা ও ছেলে মৃতদেহ উদ্ধার করে। প্রাথমিকভাবে ধারনা করা হচ্ছে র্দুবল ভাবে তৈরি কারনে পানির ট্যাকিং দেয়াল ধসে পড়ে। আর ধসে নেীচের টিনের চাল ভেঙ্গে সরাসরি ঘুমন্ত মা ও ছেলের উপর পড়ে। আশুলিয়া থানার এস আই আবুল কালাম আজাদ জানান, টিনশেড আধাপাকা কক্ষের সাথে থাকা পানির ট্যাংকির দেয়াল ভোর রাতের দিকে হঠাৎ করে একটি কক্ষের উপর ধসে পড়ে। এতে করে ঘটনাস্থলেই দেয়াল চাপা পড়ে মারা যান মা সেলিনা বেগমসহ ৭ বছরের ছেলে সিয়াম হোসেন। আহত হন টুটুল নামে নিহত ওই নারীর ভাই। তাকে উদ্ধার করে স্থানীয় নারী ও শিশু হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

সারা দেশ পাতার আরো খবর