চট্টগ্রাম মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের বিশেষ অভিযান,গ্রেফতার ৫
১৯ মার্চ ২০১৮ ইং তারিখ বিকাল ১৮.৩০ ঘটিকায় চট্টগ্রাম মহানগর গোয়েন্দা বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার(ডিবি-বন্দর), জনাব মোহাম্মদ শহীদুল্লাহ (পিপিএম) মহোদয়ের সার্বিক দিক নির্দেশনায় অতিঃ উপ-পুলিশ কমিশনার(ডিবি-পশ্চিম), জনাব এএএম হুমায়ুন কবীর এর নেতৃত্বে সহকারী পুলিশ কমিশনার (ডিবি-পশ্চিম) জনাব মোহাম্মদ মঈনুল ইসলাম, পুলিশ পরিদর্শক জনাব মোহাম্মদ মহসীন পিপিএম, পুলিশ পরিদর্শক জনাব মোহাম্মদ জহির হোসেন পিপিএম, পুলিশ পরিদর্শক জনাব মোঃ কামরুজ্জামান সঙ্গীয় এসআই/মোঃ মোমিনুল হাসান, সঙ্গীয় এসআই(নিঃ)/মোঃ জাকির হোসেন ভূঁইয়া, এএসআই(নিঃ)/সন্তু শীল, এএসআই(নিঃ)/জুলফিকার হোসেন, কং/২৩২৫ ইসমাইল হোসেন, কং/৪০৯৫ মোঃ আরিফ ভূঁইয়া, কং/৩৫৪৫ রেজাউল করিম, কং/৪২২৯ রাজিব বড়য়া, কং/৩৮৭১ মোঃ নাজিম উদ্দিন সহ গোপন সংবাদের ভিত্তিতে বায়েজীদ বোস্তামী থানাধীন ওয়াজেদিয়া মোড় এলাকায় অনন্যা আবাসিক হইতে অক্সিজেনগামী একটি ট্রাক আটক করেন। উক্ত ট্রাক হইতে ট্রাকের মালিক আসামী মিজানুর রহমান (৩৬), চালক কাজী আবুল বাশার (২৫) এবং জসীম উদ্দিন (২৮)দের গ্রেফতার করেন। গ্রেফতার পরবর্তীতে আসামীদের স্বীকারোক্তি এবং ট্রাকের মালিক এর দেখানো মতে ট্রাকের পিছনে নিচে সু-কৌশলে যোগানে বিশেষভাবে তৈরী গোপন বক্স হইতে ৬৩,০০০ হাজার পিস ওজন অনুমান ৬ কেজি ৩০০ গ্রাম ইয়াবা (মূল্য অনুমান ৬৩০০০দ্ধ৩০০=১৮৯০০০০০/- এক কোটি ঊননব্বই লক্ষ টাকা) উদ্ধার করেন। উদ্ধারকৃত বর্ণিত ইয়াবা বান্দরবান হইতে কুমিল্লার নিমসারে নিয়ে যাচ্ছিল। আসামীদের সহযোগী আসামীরা স্কট করিয়া চট্টগ্রাম মহানগরী হইতে গাড়িটি নিমসার নিয়া যাওয়ার জন্য অবস্থান করিতেছে মর্মে জানা যায়। পরবর্তীতে ধৃত আসামীদের স্বীকারোক্তি মতে অভিযান পরিচালনা করিয়া তাহাদের সহযোগী আসামী আব্দুল্লাহ আল মামুন এবং আবু তাহের কে রাত্র অনুমান ১১.৩০ ঘটিকায় লালদিঘী জেলা পরিষদ ভবনের সামনে থেকে গ্রেফতার করা হয়। গ্রেফতার পরবর্তী জিজ্ঞাসাবাদে আসামীদের দেহ তল্লাশীকালে ট্রাকে বহনকৃত ইয়াবার আংশিক মূল্য পরিশোধের জন্য নগদ ১০,০০,০০০/-(দশ লক্ষ) টাকা উদ্ধারপূর্বক জব্দ করা হয়। আসামী আব্দুল্লাহ আল মামুন ও আবু তাহের ইয়াবা পরিবহনের ট্রাকটি চট্টগ্রাম হইতে গ্রহণ করিয়া স্কট করতঃ কুমিল্লার নিমসার নিয়ে যাওয়া নিমিত্তে চট্টগ্রাম মহানগরী এলাকায় অবস্থান করিতেছে মর্মে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে সহযোগীদের গ্রেফতার করা হয়। আসামী ট্রাকের মালিক মিজানুর রহমান বান্দরবান হইতে তাহার সহযোগী পলাতক আসামী দেলোয়ার হোসেন এর কথিত মতে উপজাতি মহিলা থেকে জব্দকৃত ইয়াবা গ্রহণ করে মর্মে জানা যায়। ইতিপূর্বেও গত ১৭/০২/২০১৮ইং তারিখ ৩০,০০০(ত্রিশ হাজার) পিস ইয়াবা ট্যাবলেট পরিবহন করিয়া বর্ণিত ট্রাকযোগে কুমিল্লার নিমশার দেলোয়ার এর নিকট হস্তান্তর করে। বর্ণিত আসামীদের ধৃত পরবর্তী জিজ্ঞাসাবাদে ইয়াবা পরিবহনের আর একটি রুট বান্দরবান বলিয়া জানা যায়। আসামী মিজানুর রহমান নিজেই ট্রাকের মালিক। সে নিজে ব্যবসা করার জন্য ও বিভিন্ন ব্যবসায়ীর ইয়াবা ট্যাবলেট কমিশনের মাধ্যমে ট্রাক ব্যবহার করে বান্দরবান হইতে কুমিল্লা ঢাকা এলাকায় পরিবহন করিত।গ্রেফতারকৃত আসামী ১) মোঃ মিজানুর রহমান(৩৬), পিতা-মৃত আব্দুল মান্নান, মাতা-মোহছনা খাতুন, সাং-আকাবপুর, পূর্বপাড়া, ডাকঘর-জিয়াপুর, মৌলভী বাড়ী, থানা-বুড়িচং, জেলা-কুমিল্লা ২) মোঃ জসিম উদ্দিন(২৮) পিতা- জালাল মিয়া, মাতা-জোৎসা খাতুন, সাং-পশ্চিম সিংহ, দক্ষিণ পাড়া(কাশেম মাষ্টারের বাড়ী), থানা-বুড়িচং, জেলা-কুমিল্লা ৩) কাজী আবুল বাশার(২৫) পিতা-কাজী আব্দুল হাশেম, মাতা-ফরিদা বেগম, সাং-কোরপাই, কাজী বাড়ী, উত্তর এলাকা, থানা-বুড়িচং, জেলা-কুমিল্লা ৪) মোঃ আব্দুল্লাহ আল মামুন(৪০), পিতা- মৃত আব্দুল হান্নান, সাং- শাসনগাছা(আব্দুল হান্নান এর বাড়ী), থানা- কোতোয়ালী, জেলা- কুমিল্লা ৫) আবু তাহের(৩৮), পিতা- মৃত আব্দুর রাজ্জাক, মাতা- ছোলেমা, সাং- আকাবপুর(তাহের এর বাড়ী), থানা- বুড়িচং, জেলা- কুমিল্লা জব্দকৃত আলামত- ০১ (ক) একটি ট্রাক, যাহার রেজিষ্টেশন নাম্বার ঢাকা মেট্রো-ড- ১১-৫৫১১ (খ) ৩১৫টি বায়ুরোধক নীল রংয়ের প্যাকেট, প্রতিটি প্যাকেটে (২০০দ্ধ৩১৫)=৬৩০০০(তেষট্টি হাজার) পিচ এ্যামফেটামিন যুক্ত গোলাপী রংয়ের ইয়াবা ট্যাবলেট, প্রতিটি ট্যাবলেটের গায়ে ইংরেজীতে WYলিখা আছে সর্বমোট ওজন (৬৩০০০দ্ধ০.১)=৬.৩০০ (ছয় কেজি তিনশত গ্রাম) ইয়াবা (মূল্য অনুমান ৬৩০০০দ্ধ৩০০=১৮৯০০০০০/- এক কোটি ঊননব্বই লক্ষ টাকা) (গ) নগদ ১০,০০,০০০(দশ লক্ষ) টাকা। গ্রেফতারকৃত আসামী ০৫ জন ও পলাতক আসামী ০২ জনসহ মোট ০৭ জনের বিরুদ্ধে বায়েজীদ বোস্তামী থানার মামলা নং-২৭ তাং-২০/০৩/২০১৮ খ্রিঃ ধারা-১৯৯০ সনের মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রন আইনের ১৯(১) এর টেবিল ৯(খ)/২৫/৩৩(১) রুজু হয়।প্রেস বিজ্ঞপ্তি
সন্ত্রাসীদের গুলিতে পুলিশের পরিদর্শক জালাল নিহত
রাজধানীর মিরপুরের মধ্য পীরেরবাগে সন্ত্রাসীদের সঙ্গে গোলাগুলিতে গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) এক পরিদর্শক নিহত হয়েছেন। সোমবার দিবাগত রাতে এ ঘটনা ঘটে। নিহত পরিদর্শকের নাম মো. জালালউদ্দিন। গোলাগুলিতে আহত হওয়ার পর তাঁকে রাজধানীর বেসরকারি স্কয়ার হাসপাতালে নেওয়া হয়েছিল। সেখানে রাত দুইটার দিকে তাঁর মৃত্যু হয়। ডিবির একটি সূত্র জানিয়েছে, জালালউদ্দিনের মাথায় গুলি লেগেছিল। তাঁর রক্তপাত বন্ধ করা যাচ্ছিল না। গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) একটি সূত্র জানিয়েছে, সোমবার গভীর রাতে মিরপুরের পীরেরবাগ এলাকায় ডিবির পল্লবী জোনাল টিমের একটি দল অবৈধ অস্ত্র উদ্ধারে যায়। সেখানে সন্ত্রাসীরা গুলি চালালে পরিদর্শক জালালউদ্দিন মাথায় গুলিবিদ্ধ হোন। রাত একটার দিকে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) কমিশনার আছাদুজ্জামান মিয়া ঘটনাস্থলে যান। সেখানে তিনি সাংবাদিকদের পুরো ঘটনা জানান। তিনি বলেন, মধ্য পীরেরবাগের তিনতলা একটি বাড়িতে রাত সাড়ে ১০টা থেকে ১১টার মধ্যে অভিযান চালানো হয়। কয়েকজন সন্ত্রাসী সেখানে অবৈধ অস্ত্র জড়ো করেছে এই খবর পেয়ে পুলিশ অভিযান চালায়। অভিযান শুরুর পর সন্ত্রাসীরা পুলিশকে লক্ষ্য করে গুলি চালায়। পুলিশও পাল্টা গুলি চালায়। এ সময় আহত হোন পরিদর্শক মো. জালালউদ্দিন। গুলিবিনিময়ের এক পর্যায়ে সন্ত্রাসীরা বাড়ির পেছন দিক দিয়ে পালিয়ে গেছে বলে জানিয়েছেন ডিএমপি কমিশনার। আছাদুজ্জামান মিয়া বলেন, বাড়িটিতে থাকা লোকজন সন্ত্রাসী নাকি কোনো জঙ্গি গোষ্ঠীর সদস্য এখনই বলা যাচ্ছে না। বাড়িতে অস্ত্র-গোলাবারুদ পাওয়া যায়নি। পুরো ভবন ও আশপাশে তল্লাশি চলছে। জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ৪ জনকে আটক করা হয়েছে। তল্লাশি শেষে পুরো ঘটনা পুলিশ জানাবে।
ভালোবাসায় সিক্ত বগুড়ার এসপি আলী আশরাফ
সাধারণ মানুষের ভালোবাসা আর চোখের জলে সিক্ত বগুড়া জেলা পুলিশ সুপার মো. আলী আশরাফ ভূঞা, বিপিএম। তার প্রশংসনীয় ভূমিকায় সম্প্রতি ১০০ টাকায় ঘুষবিহীন পুলিশ কনস্টেবলে চাকরি প্রদানে অন্যরকম প্রশংসা অর্জন করেন আলী আশরাফ ভূঞা। বাহারি সাজের ফুল নিয়ে শুভেচ্ছা জানান চাকরিপ্রাপ্ত পরিবারের সদস্যরা। শুভেচ্ছা সভায় অনুভূতি প্রকাশ করতে আনন্দে কেঁদে ফেলেন পরিবারের সদস্যরা। শিবগঞ্জ উপজেলার সৈয়দপুর ইউপির বাসিন্দা ফরিদ হোসেন বলেন, তিন মেয়ে ও দুই ছেলে নিয়ে অভাবের সংসার আমার। সন্তানদের ভবিষ্যৎ নিয়ে সবসময় চিন্তায় থাকতাম। লাখ লাখ টাকা ঘুষ ছাড়া চাকরি হয় না, এমন ধারণা ছিল আমার। কিন্তু আমার ধারণা পাল্টে গেছে। বড় ছেলে মশিউর রহমান পুলিশ কনস্টেবল পদে বিনা টাকায় নিয়োগ পেয়েছে। তিনি আরও বলেন, আমার ধারণাও ছিল না, আমার ছেলে বিনা টাকায় এভাবে পুলিশের চাকরি পাবে! তিনি তার ছেলের চাকরির জন্য বগুড়ার পুলিশ সুপারের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। একইভাবে দেউলী ইউপির গাংনগর নয়াপাড়া গ্রামের তোতা মিয়ার ছেলে দুখু মিয়ার চাকরিও হয়েছে ঘুষ ছাড়া। এ রকম অনেক পরিবারের হাসিমাখা অনুভূতি প্রকাশে পুলিশ সুপার আলী আশরাফ ভূঞাকে বগুড়া জেলা আলোকিত বন্ধু ফোরাম ও অটিস্টিক সোশ্যাল ওয়েলফেয়ার অর্গানাইজেশনের পক্ষ থেকে মো. আইয়ুব আলী শুভেচ্ছা স্মারক প্রদান করেন। মো. আলী আশরাফ ভূঞা বিপিএম বলেন, এ জেলায় এবার কনস্টেবল পদে ১৭০ পুরুষ ও ৩০ জন নারী প্রার্থীকে নিয়োগের জন্য সুপারিশ করা হয়েছে। নিয়োগ পরীক্ষা শতভাগ স্বচ্ছ করতে পুলিশ লাইনস মাঠে একসঙ্গে পরীক্ষা নেওয়া হয়েছে। মেধা ও যোগ্যতার মাধ্যমে কুলি, শ্রমিক, ভ্যানচালক, ভূমিহীন বর্গাচাষি, দিনমজুর, ডাব বিক্রেতার সন্তানরাও নিয়োগের জন্য উত্তীর্ণ হয়েছেন। এ সময় তিনি মাদক, জঙ্গিবাদ ও সন্ত্রাসী কর্মকা-ের বিরুদ্ধে সবাইকে একসঙ্গে কাজ করার আহ্বান জানান।
ধূমপানে আসক্তি বাড়ছে কিশোর কিশোরীদের মধ্যে
দেশের প্রায় ১২ শতাংশ কিশোর কিশোরী নিয়মিত ধূমপানে আসক্ত। এর মধ্যে ৯ শতাংশ ছেলে এবং ৩ শতাংশ মেয়ে। সম্প্রতি বিশ্বস্বাস্থ্য সংস্থার উদ্যোগে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে এ ব্যাপারে একটি সমীক্ষা চালানো হয়েছে। সমীক্ষার নাম গ্লোবাল ইয়ুথ টোবাকো জরিপ। এ প্রসঙ্গে বৃটেনের প্রভাবশালী দৈনিক দ্য গার্ডিয়ান একটি প্রতিবেদনে প্রকাশ করেছে। ১৩ থেকে ১৫ বছর বয়সি বালক-বালিকাদের মধ্যে পরিচালিত ওই জরিপে বাংলাদেশ, ভারত, এবং ইন্দোনেশিয়ার কিশোর-কিশোরীদের ধুমপান প্রবণতাসহ বিভিন্ন পন্থায় তামাকজাত পণ্যের ব্যবহারের বিষয়টি তুলে ধরা হয়। সমীক্ষায় দেখা গেছে, এই তিন দেশের মধ্যে ইন্দোনেশিয়ায় ধূমপান আসক্ত কিশোর-কিশোরীর হার সবচেয়ে বেশি। বলা হয়, বিশ্বের শীর্ষস্থানীয় বহুজাতিক টোবাকো কোম্পানিগুলো সিগারেটের বিক্রি ও প্রচারণার কাজে ব্যবহার করছে স্কুল শিক্ষার্থীদের। এটি বেশি করা হচ্ছে করে মধ্য ও স্বল্প আয়ের দেশগুলোতে। হাজার হাজার স্কুল শিক্ষার্থীদের ব্যবহার করে কোম্পানিগুলো নিজ নিজ ব্র্যান্ডের প্রচারণা চালাচ্ছে। প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, শিশু-কিশোরদের তামাকমুক্ত করতে বিশ্বব্যাপী নতুন প্রচারণা শুরু হয়েছে। ২২ টি দেশে এই তামাক বিরোধী প্রচারণার কাজ চলছে। ধূমপান বিরোধী এই নতুন প্রচারণায় তামাকবিরোধী সংগঠন ও বেসরকারি সংস্থাগুলো সচেতন নাগরিকদের তামাকবিরোধী প্রচারনায় এগিয়ে আসার আহ্বান জানানোর পাশপাশি ধূমপান প্রতিরোধে সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর সরকারকেও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের অনুরোধ করা হয়েছে।
কারাদণ্ড হবে কোন বাড়িতে এডিসের প্রজননক্ষেত্র থাকলে
ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশন (ডিএসসিসি) আওতাধীন যেসব বাড়িতে এডিস মশার প্রজনন ক্ষেত্র কিংবা লার্ভা পাওয়া যাবে, ওইসব বাসার মালিককে মোবাইল কোর্টের মাধ্যমে অর্থদণ্ড বা কারাদণ্ড দেয়া হবে বলে জানিয়েছেন মেয়র সাঈদ খোকন। আগামী ৮ এপ্রিল থেকে শুরু হবে ডিএসসিসির এই অভিযান। সোমবার নগর ভবনের আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায় এ কথা জনান তিনি। স্বচ্ছ ঢাকা কর্মসূচির আওতায় চিকুনগুনিয়া প্রতিরোধ এবং এডিস মশক নিধনে করণীয় নির্ধারণে এ সভার আয়োজন করা হয়। মেয়র বলেন, আমরা আগামীকাল গণবিজ্ঞপ্তি জারি করবো। সব নাগরিক যেন তার বাসা পরিচ্ছন্ন রাখেন। আগামী ৮ এপ্রিল থেকে মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করবো আমরা। তিনি বলেন, যেসব ভবনে এডিসের প্রজনন ক্ষেত্র কিংবা লার্ভা পাওয়া যাবে, ওইসব বাসার মালিককে অর্থদণ্ড বা কারাদণ্ড অথবা উভয়দণ্ডে দণ্ডিত করা হবে। ডিএসসিসির আইন ২৬৯-৭০ অনুযায়ী এই জরিমানা করা হবে। আমরা সবাইকে নোটিশ দেব। আপনারা নাগরিকরা অনুগ্রহ করে বাড়ি-ঘর পরিষ্কার রাখবেন। মতবিনিময় সভায় অংশ নিয়ে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক কবিরুল বাশার বলেন, মশা নিধনে দুই সিটি কর্পোরেশন বিভিন্ন কাজ করছে। কিন্তু এই কাজগুলো সঠিকভাবে চলছে কি না সেজন্য মনিটরিং সেল করতে হবে। পাশাপাশি জনসচেতনতামূলক কর্মসূচিও নিতে হবে। চলতি বছর ডেঙ্গুর বেশি আশঙ্কা রয়েছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি। স্থপতি মোবাশ্বের হোসেন বলেন, আমি মশা মারবো, প্রতিবেশি মারবে না, তাহলে লাভ হবে না। তাই সমন্বিত উদ্যোগ নিতে হবে। সরকারি অফিসসহ সবার জন্য কঠোর নির্দেশ দিতে হবে- যদি কারো ছাদে অপরিষ্কার পানি পাওয়া যায়, তবে তার বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিশ্চত করতে হবে। বিএসআরআইয়ের পিএসও ড. দেবাশীষ সরকার বলেন, ঢাকার অনেক ফাস্ট ফুডে অ্যারোসল ব্যবহৃত হয়। এই বিষয়টি দেখার জন্য সিটি কর্পোরেশনের প্রতি আহ্বান জানান তিনি। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণিবিদ্যা বিভাগের অধ্যাপক জান্নাতুল ফেরদৌস বলেন, মশা যেখানে ডিম পাড়ে সেখানেই মরণফাঁদ তৈরি করতে হবে। সভায় ডিএসসিসির প্রধান নির্বাহী খান মোহাম্মদ বিল্লাল, প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ব্রি. জোনারেল সালাহউদ্দিন ও আইডিসিআরের বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা নুজহাত নাসরীনসহ অন্য কর্মকর্তা ও কাউন্সিলররা উপস্থিত ছিলেন। উল্লেখ্য, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ৯৮তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে সপ্তাহব্যাপী স্বচ্ছ ঢাকা অভিযান চালাচ্ছে ডিএসসিসি। গত ১৭ মার্চ থেকে যা শুরু হয়েছে।
২৩ জনের লাশ ঢাকায় আসছে আজ
কাঠমান্ডুর ত্রিভুবন বিমানবন্দরে প্লেন দুর্ঘটনায় নিহতদের মধ্যে ২৩ মরদেহ ঢাকায় পাঠানোর প্রক্রিয়া চলছে। এয়ারফোর্সের একটি প্লেনে করে তাদের পাঠানো হবে। রাষ্ট্রদূত মাশফি বিনতে শামস জানিয়েছেন, এয়ারক্রাফট যতদ্রুত পৌঁছাবে তত দ্রুতই মরদেহ ঢাকায় পৌঁছানো হবে। আশাকরি দুপুর ২টা নাগাদ মরদেহ ঢাকায় পৌঁছাবে। অবশিষ্ট তিন মরদেহ শনাক্ত হওয়া সাপেক্ষে শিগগিরই দেশে পাঠানো হবে। এ পর্যন্ত মোট ২৩ বাংলাদেশির মরদেহ শনাক্ত করা হয়েছে, যাদের জানাজা শেষে সোমবারই দেশে পাঠানো হচ্ছে। বাকি তিন বাংলাদেশির মরদেহ শনাক্ত করা যায়নি তাদের ডিএনএ পরীক্ষা করতে হবে। তারা হলেন- নজরুল ইসলাম, পিয়াস রয় ও আলিফুজ্জামান। তাছাড়া দুর্ঘটনায় আহত শাহীন ব্যাপারি নামে আরো একজনকে রোববার বিকেলে ইউএস-বাংলার তত্ত্বাবধানে বাংলাদেশে আনা হয়েছে। তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে ভর্তি করা হয়েছে। গত বৃহস্পতিবার (১৫ মার্চ) আহত যাত্রী শাহরিন আহমেদ, শুক্রবার (১৬ মার্চ) মেহেদী হাসান, কামরুন্নাহার স্বর্ণা ও আলমুন নাহার অ্যানি এবং শনিবার (১৭ মার্চ ) শেখ রাশেদ রুবায়েত ঢাকায় ফিরেছেন। তারা সবাই ঢামেক হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে চিকিৎসাধীন। এ নিয়ে প্লেন দুর্ঘটনায় আহত ৬ বাংলাদেশি দেশে ফিরেছেন। গত ১২ মার্চ কাঠমান্ডুর ত্রিভুবন আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণকালে বিধ্বস্ত হয় ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্সের একটি ফ্লাইট। এতে নিহত হন ৪৯ জন। যাদের মধ্যে ২৬ জন বাংলাদেশি। আর আহত হন ১০ বাংলাদেশি। এদের মধ্যে ডা. রেজওয়ানুল হক শাওন ও ইমরানা কবির হাসিকে সিঙ্গাপুর নিয়ে যাওয়া হয়েছে। ঢাকায় আনা হয়েছে শাহীন, তার আগে মেহেদী হাসান, তার স্ত্রী কামরুন নাহার স্বর্ণা, আলমুন নাহার অ্যানি, শেহরিন, শেখ রাশেদ রুবায়েত ও রোববার আনা হয়েছে শাহীন ব্যাপারিকে। বাকি দু’জনের মধ্যে ইয়াকুব আলীকে দিল্লি অ্যাপোলো হাসাপাতালে চিকিৎসার জন্য বিকেলেই পাঠানোর কথা। কবির হোসেন নামে অপর যাত্রীকে আনা হবে সোমবার।
চড়া দামে গ্রীষ্ণের ফল তরমুজ রাজশাহীতে
গ্রীষ্ণের ফল তরমুজ। এক ফালি তরমুজ যেন উত্তপ্ত দিনে একটু প্রশান্তি এনে দেয়। তাই গ্রীষ্ণেই তরমুজের চাহিদা থাকে ব্যাপক। কিন্তু এবার একটু আগেই রাজশাহীর বাজারে দেখা মিলছে ফলটির। গ্রীষ্ণকাল শুরু না হলেও শহরের বেশ কয়েকটি দোকানে বিক্রি করছে ছোট ছোট তরমুজ। ছোট আকৃতির এই ফল দামে পছন্দ না হলেও শখের বশেই কিনছেন অনেক। কেউবা আবার ছোট্ট সোনামনির আবদার রক্ষার জন্য দামের দিকে খেয়াল না করেই বেশি দাম দিয়ে কিনছেন। বাজারে নতুন হওয়ায় তরমুজের দাম একটু বেশি বলেই স্বীকার করেছেন ব্যবসায়ীরা। তারা বলছেন, বাজারে যে তরমুজ দেখা যাচ্ছে তা রাজশাহীর নয় বাইরের। তাই বেশি দাম দিয়ে কিনতে হচ্ছে তাদের। জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর জানিয়েছে, জেলায় এবার কোনো তরমুজই চাষ হয়নি। তবে গত বছর চাষ হয়েছিল ১০ হেক্টর জমিতে। অতিবৃষ্টি আর নি¤œমানের বীজের কারণে চাষিরা ক্ষতিতগ্রস্ত হওয়ায় এবার এক বিঘা জমিতেও চাষ হয়নি তরমুজ। তরমুজ চাষ সম্প্রসারণে কৃষি বিভাগের কোনো প্রকল্পও চালু নেই। বাজারে যে তরমুজ পাওয়া যাচ্ছে তা দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে আমদানি করা। রবিবার সকালে রাজশাহী নগরীর শালবাগান আড়তে এক ট্রাক তরমুজ নিয়ে আসেন ব্যবসায়ী রহমত উল্লাহ। তিনি বলছিলেন, বরিশাল, গাইবান্ধা, নোয়াখালি ও সিরাজগঞ্জের চরাঞ্চলে এবার আগাম তরমুজের বাম্পার ফলন হয়েছে। সেসব স্থান থেকেই তরমুজ আসছে রাজশাহীতে। তিনি প্রতি ১০০ তরমুজ কিনেছেন ৮ হাজার টাকায়। তার সঙ্গে যোগ হয়েছে গাড়িভাড়া। তাই খুচরা ব্যবসায়ীদের কাছে বিক্রি করতে হচ্ছে বেশি দামে। নগরীর সাহেববাজারে খুচরা তরমুজ বিক্রি করছিলেন ফল ব্যবসায়ী আবদুল মজিদ। তিনি জানালেন, প্রতিটি তরমুজের গড় ওজন আড়াই কেজি। আড়ৎ থেকে তিনি কিনেছেন প্রতিকেজি ৪০ টাকা দরে। বিক্রি করছেন ৫০ থেকে ৬০ টাকায়। বাজারে নতুন আসায় তরমুজের দাম একটু বেশিই বলে জানান এই ব্যবসায়ী। আরেক ব্যবসায়ী মজিবর রহমান বলেন, গরম যত বাড়বে তরমুজের বিক্রিও তত বাড়বে। প্রথম দিকে দাম একটু বেশিই থাকবে। তবে কিছু দিন পর তরমুজের দাম কমে আসবে। সপ্তাহের প্রথম দিন থেকে তিনি তরমুজ বিক্রি করছেন। এখন প্রতিদিন ৪০ থেকে ৫০ কেজি তরমুজ বিক্রি হচ্ছে তার। এতে লাভ ভালো হচ্ছে বলেও জানান মজিবর রহমান। তবে আবদুর রহমান নামে তরমুজের এক ক্রেতা বললেন, ব্যবসায়ীরা দাম চাইছেন বেশি। দাম শুনেই যেন গলা শুকিয়ে কাঠ। শুধু ছোট বাচ্চা পছন্দ করে বলে তিনি কিনলেন। তা না হলে এখন কিনতেন না। দাম বেশি হওয়ায় বাজারে এখনও তরমুজ কেনার হিড়িক পড়েনি। জেলায় চাষ হলে কম দামে তরমুজ পাওয়া যেত বলেও মনে করেন তিনি। জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের প্রশিক্ষণ কর্মকর্তা মঞ্জুরুল হক বললেন, তরমুজ সাধারণত চরের জমিতে ভালো হয়। কিন্তু রাজশাহীর চরগুলোতে তরমুজ চাষ শুরু হয়নি। গত বছর মাঠের ১০ হেক্টর জমিতে তরমুজ চাষ হয়েছিল। অতিবৃষ্টিতে তরমুজ ভালো হয়নি। তাই কেউ এবার চাষই করেননি। চরাঞ্চলে তরমুজ চাষ সম্প্রসারণের কথা তারা ভাবছেন। কিন্তু এই মুহূর্তে কোনো প্রকল্প চালু নেই।
ইটের ভাটায় মাদ্রাসা ছাত্রের মৃত্যু যশোরে
যশোরে ইটের ভাটায় কাজ করার সময় মাটি চাপা পড়ে হযরত আলী (১৮) নামে এক মাদ্রাসা ছাত্রের মৃত্যু হয়েছে। তিনি বাঘারপাড়া উপজেলার বাসুড়ি ইউনিয়নের ওয়াদিপুর গ্রামের ইমরান হোসেনের ছেলে এবং স্থানীয় একটি দখিল মাদ্রাসার নবম শ্রেণির ছাত্র ছিলো। মৃত হযরত আলীর ভাই ইসলাম হোসেন জানান, পড়াশুনার পাশাপাশি হযরত আলী স্থানীয় সুপার ওয়ান-১ ইটের ভাটায় কাজ করতো। রোবাবার বিকেল সাড়ে তিনটার দিকে ভাটার ঢিবিতে কোদাল দিয়ে মাটি কাটছিল। এ সময় হযরত অসাবধানতাবশত মটির ঢিবি থেকে পড়ে যায়। পরে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে যশোর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে আসলে জরুরি বিভাগের ডাক্তার এম আব্দুর রশিদ তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

সারা দেশ পাতার আরো খবর