ছাত্রলীগ সহ-সভাপতিকে গুলি করে হত্যা
কুষ্টিয়া জেলা ছাত্রলীগের সহ-সভপতি নাজমুল হোসেন (২৭) দুর্বৃত্তের গুলিতে নিহত হয়েছেন। বুধবার (৩০মে) রাত ৩টার দিকে কুষ্টিয়া সদর উপজেলার হরিপুর ইউনিয়নের ফারাজি পাড়ায় নাজমুলের নিজ বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে। নাজমুলের খালতো ভাই মিলন জানান, রাতে নিজ ঘরে ঘুমন্ত অবস্থায় দুর্বৃত্তরা নাজমুলের মাথায় গুলি করে পালিয়ে যায়। রক্তাক্ত অবস্থায় এলাকাবাসী উদ্ধার করে কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালে নিলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। কুষ্টিয়া মডেল থানার এসআই আতিকুর রহমান বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, কী কারণে এবং কারা এ হত্যাকান্ড ঘটিয়েছে তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। নিহত নাজমুল কুষ্টিয়া সদর উপজেলার হরিপুর ইউনিয়নের ফারাজি পাড়ার আলতাফ হোসেনের ছেলে।
খুলনার স্থগিত ৩ কেন্দ্রে ভোটগ্রহণ চলছে
খুলনা সিটি করপোরেশন (কেসিসি) নির্বাচনে অনিয়মের কারণে স্থগিত তিন কেন্দ্রের পুনঃভোটগ্রহণ চলছে। বুধবার (৩০ মে) সকাল ৮টায় শান্তিপূর্ণভাবে ভোটগ্রহণ শুরু হয়েছে। বিরতিহীনভাবে চলবে বিকেল ৪টা পর্যন্ত। গত ১৫ মে অনুষ্ঠিত কেসিসি নির্বাচন চলাকালে সাধারণ ২৪ নম্বর ওয়ার্ডের ইকবাল নগর মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয় (একাডেমিক ভবন-২), ৩১ নম্বর ওয়ার্ডের লবণচরা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও ৩১ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলরের কার্যালয় কেন্দ্রে অনিয়মের কারণে ভোটগ্রহণ স্থগিত করা হয়। ভোট দানে বাধা, বুথ দখল, জাল ভোট ও হামলার আশঙ্কায় ভোট কেন্দ্রে ভোটারদের উপস্থিতি কম লক্ষ্য করা যাচ্ছে। রিটার্নিং অফিসার ও আঞ্চলিক নির্বাচন কর্মকর্তা মো. ইউনুচ আলী বলেন, প্রতিটি কেন্দ্রেই ২২ জন অস্ত্রধারী পুলিশের পাশাপাশি তিনজন অস্ত্রধারীসহ ১৭ জন আনসার সদস্য দায়িত্ব পালন করছেন। তাছাড়াও রয়েছে র‌্যাবের চারটি মোবাইল টিম, পুলিশের তিনটি মোবাইল টিম ও একটি স্ট্রাইকিং ফোর্স, এক প্লাটুন বিজিবি এবং তিন কেন্দ্রে তিনজন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট। রিটার্নিং অফিসার আরো বলেন, পুনঃভোটগ্রহণের জন্য ওই তিনটি কেন্দ্রের প্রিজাইডিং অফিসার, সহকারী প্রিজাইডিং অফিসার, পোলিং অফিসার এমনটি প্রার্থীদের এজেন্টও পরিবর্তন করে সম্পূর্ণ নতুন সেট আপ দিয়ে পুনঃভোটগ্রহণ করা হচ্ছে। তিনটি কেন্দ্রে ৫৭ জন ভোটগ্রহণ কর্মকর্তা দায়িত্ব পালন করছেন। প্রসঙ্গত, কেন্দ্র তিনটির দু’টি সংরক্ষিত ও দু’টি সাধারণ ওয়ার্ডের আওতায় হলেও ২৪ নম্বর ওয়ার্ডের সাধারণ কাউন্সিলর পদে ভোটের ব্যবধান বেশি থাকায় বর্তমান কাউন্সিলর মো. শমশের আলী মিন্টুকে বিজয়ী ঘোষণা করা হয়। ফলে সাধারণ ৩১ এবং সংরক্ষিত ৯ ও ১০ নম্বর ওয়ার্ডের পুনরায় ভোটগ্রহণ করা হবে। পুনঃভোটগ্রহণে সাধারণ ৩১ নম্বর ওয়ার্ডে মো. আরিফ হোসেন মিঠু (ব্যাডমিন্টন র‌্যাকেট), শেখ জাহাঙ্গীর হুসাইন হেলাল (টিফিন ক্যারিয়ার), এসএম আসাদুজ্জামান রাসেল (ঝুড়ি), কাজী মো. ইউসুফ আলী মন্টু (মিষ্টি কুমড়া), জিএম আব্দুর রব সজল (ট্রাক্টর), মো. আলী আজম মোল্লা (রেডিও), মো. আসলাম হোসেন (করাত), মো. গোলাম মোস্তফা সজিব (ঠেলাগাড়ি), মো. জাহিদ (ঘুড়ি) ও মো. শরিফুল ইসলাম মুন্না (লাটিম) প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন। তাছাড়া সংরক্ষিত দু’টি ওয়ার্ডের মধ্যে ৯ নম্বর ওয়ার্ডে মাজেদা খাতুন (আনারস), রুমা খাতুন (চশমা), কোহিনুর আক্তার (বই), লিভানা পারভীন (গ্লাস), শাহনুর বেগম (মোবাইল ফোন) এবং সংরক্ষিত ১০ নম্বর ওয়ার্ডের লুৎফুন নেছা (চশমা), রোকেয়া ফারুক (হেলিকপ্টার), বিলকিস আরা বুলি (স্টিল আলমারি), মিসেস রোকসনা কালাম লিলি (মোবাইল ফোন), মোসা. হোসনেয়ারা (গ্লাস), সাহানা পারভীন (ডলফিন), হাসিনা আকরাম (আনারস) ও হোসনেয়ারা বেগম চাঁদনী (বই) প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন।
তিন ইউপিডিএফ কর্মীকে গুলি করে হত্যা
রাঙামাটির বাঘাইছড়ি উপজেলায় তিন ইউপিডিএফ কর্মীকে গুলি করে হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা। আজ সোমবার ভোর সাড়ে ৪টার দিকে উপজেলার বাঘাইহাটের করল্যাছড়ি এলাকায় এ হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। নিহতরা হলেন- সুশীল চাকমা (৪৫), স্মৃতি চাকমা (৫০) এবং অটল চাকমা (৪০)। এদের সকলের বাড়ি বাঘাইছড়ি উপজেলায়। ইউপিডিএফ'র প্রচার বিভাগের প্রধান নিরন চাকমা বলেন, ভোরে জেএসএস (সংস্কার) ও ইউপিডিএফ'র (গণতান্ত্রিক) একদল সশস্ত্র ক্যাডার একটি বাসায় একসঙ্গে থাকা আমাদের কর্মীদের ওপর গুলি চালিয়ে তিনজনকে হত্যা করেছে।' তিনি এই হত্যাকাণ্ডের জন্য সংগঠন দুটিকে দায়ী করেছেন। বাঘাইছড়ির সাজেক থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নুরুল আনোয়ার বলেন, ভোরে একটি বাসায় হামলা চালিয়ে তিনজনকে গুলি করে হত্যা করা হয়েছে শুনেছি। পুলিশ ও সেনাবাহিনী ঘটনাস্থলে গেছে। রাঙামাটির পুলিশ সুপার আলমগীর কবিরও তিনজন নিহত হওয়ার বিষয়টি জানিয়েছেন। তবে জেএসএস’র (সংস্কার) কেন্দ্রীয় তথ্য ও প্রচার সম্পাদক সুধাকর ত্রিপুরা ঘটনা অস্বীকার করে বলেন, এটা তাদের মধ্যকার ঝামেলার কারণে হতে পারে। এ ঘটনার সঙ্গে জেএসএস (সংস্কার) সংযুক্ত নয়।
জাল দলিল জালিয়াতি মামলার আসামি মাছুদা আক্তার গ্রেফতার;জেলহাজতে প্রেরণ
রাজিব/ সুজন ,চট্টগ্রাম :আল-আমিন ট্রেডের পক্ষে আমমোক্তার মোঃ ইকরাম; পিং- মৃত ইউনুস ভূঁইয়া,সাং-সিগন্যাল কলোনী, সরাইপাড়া, থানা পাহাড়তলী, জেলা -চট্টগ্রাম বাদী হইয়া চীফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত, চট্টগ্রামে সি.আর ৪১১/১৬ ইং রুজু করিলে উক্ত মামলার অভিযোগের বিষয়ে পি.বি.আই (পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন ) তদন্তক্রমে প্রতিবেদন দাখিল করেন এবং ঘটনার সত্যতা পাওয়ায় আসামিগণের বিরুদ্ধে ওয়ারেন্ট ইস্যু করা হয় এবং গত ২৬/৫/১৭ইং তারিখ হালিশহর থানার পুলিশ অভিযুক্ত ২ নং আসামি মাছুদা আক্তার, স্বামী:মোহাম্মদ দিদারুল ইসলাম, সাং-কাশিপুর চৌধুরী বাড়ী, থানা:ছাগলনাইয়া জেলা: ফেনী,বর্তমান ঠিকানা:৬৩০,আনন্দপুর,রাজ্জাক ম্যানসন(৬ষ্টতলা) তাসফিয়া কমিউনিটি সেন্টারের পিছনে, ডাক:রামপুর,থানা:হালিশহর, জিলা: চট্টগ্রাম কে গ্রেফতার করিয়া বিজ্ঞ আদালতে সোপর্দ করিলে মাননীয় চীফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত, চট্টগ্রাম এর বিচারক জনাব মোহাম্মদ রবিউল আলম উক্ত আসামির জামিন শুনানী অন্তে না মঞ্জুর করিয়া আসামিকে জেলহাজতে প্রেরণ করেন। এই আসামি ও তার বোন শিরিন আক্তার গ্রহীতা হইয়া মুন্সি মিয়ার ৬জন ওয়ারিশকে কবলাদাতা সাজাইয়া স্থানীয় চেয়ারম্যানের স্বাক্ষর ও প্যাড নকল করিয়া ওয়ারিশন সনদপত্র বানাইয়া সীতাকুন্ড সাব রেজিস্ট্রি অফিসে বিগত ১৭/৭/১৪ইং তারিখে ৪২৪১ নং নাম ছাফ কবলা দলিল রেজিস্ট্রি করেন। উল্লেখ্য মুন্সী মিয়ার ৬জন ওয়ারিশের নাম ঠিকানা সঠিক থাকিলে উক্ত ৬জন ওয়ারিশের ছবির কলামে অন্য মানুষের ছবি বসিয়ে অন্য মানুষকে সাব-রেজিস্ট্রারের সামনে উপস্থাপন করিয়া উক্ত দলিল মঞ্জুরি ও রেজিস্ট্রি করেন। এমনকি উক্ত দলিলের সময় তাহাদের জাতীয় পরিচয় পত্র ভুয়া সৃজন করা হয়। উক্তরুপ ভুয়া সৃজিত দলিলের অনুবলে বাদীর জায়গা দখল করিতে গেলে বাদী জানিতে পারিয়া উক্ত মামলা আনয়ন করেন। এ প্রসঙ্গে বাদীর আইনজীবী অ্যাডভোকেট ধৃতিমান আইচ এর সহিত যোগাযোগ করিলে তিনি বলেন, এটি একটি সংঘবদ্ধচক্র। দলিল লেখক থেকে শুরু করে ও সাক্ষী সবাই যোগসাজশ ক্রমে ভুয়া দলিল সৃজন করিয়া অনেক নিরীহ মানুষকে সর্বস্বান্ত করেছে এবং মামলা-মোকদ্দমায় হয়রানি হচ্ছে। এই জালিয়াতি চক্রের বিরুদ্ধে প্রশাসনকে সীতাকুণ্ড সাব রেজিস্ট্রি অফিসের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সতর্ক হওয়া জরুরি কারণ একজন মানুষের জায়গা অন্য মানুষকে দাঁড় করিয়া রেজিস্ট্রি করা গ্রহণ রেজিস্ট্রি প্রদান করার এই ধরনের সুযোগ পাইলে অনেকে তাহাদের ন্যায্য সম্পত্তির অধিকার হতে বঞ্চিত হইবে।
মাদক ব্যবসায়ী আবু সাঈদ বাদশা ওরফে লাল বাদশা নিহত
চাঁদপুরের ফরিদগঞ্জে পুলিশের সঙ্গে বন্দুকযুদ্ধে পিচ্চি হান্নানের সহযোগী ও শীর্ষ মাদক ব্যবসায়ী আবু সাঈদ বাদশা ওরফে লাল বাদশা (৪৫) নিহত হয়েছে। রোববার দিবাগত রাত দেড়টার সময় পূর্ব গুপ্টি ইউনিয়নের বৈচাতরী এলকায় এই ঘটনা ঘটে। বাদশা ওই উপজেলার ১০নং গোবিন্দপুর দক্ষিণ ইউনিয়নের পূর্ব গোবিন্দপুর গ্রামের আব্দুর রশিদ ছৈয়ালের ছেলে। তার বিরুদ্ধে ফরিদগঞ্জ থানায় ৭টি, চাঁদপুর সদরে ২টি, চট্টগ্রামে ১টিসহ মোট ১০টি মাদক মামলা রয়েছে। ফরিদগঞ্জ থানা থানা সূত্রে জানা যায়, রাত ১০টার দিকে পুলিশ অভিযান চালিয়ে লাল বাদশাকে তার বাড়ির সামনে থেকে মাদক বিক্রির সময় ১১১পিস ইয়াবাসহ আটক করেন। তাকে থানায় জিজ্ঞাসাবাদ করলে তিনি আরেক শীর্ষ ইয়াবা ব্যবসায়ী হেলালের নাম পুলিশকে জানায়। বাদশার তথ্যানুযায়ী তাকে নিয়ে রাতে পুলিশের একটি দল অভিযানে বের হয়। গুপ্টি ইউনিয়নের চাঁদপুর সেচ প্রকল্প বাঁধের বৈচাতরী এলাকায় গেলে মাদক ব্যবসায়ীরা পুলিশের উপস্থিতি টের পেলে গুলি চালায়। এ সময় পুলিশও পাল্টাগুলি চালায়। এতে গুলিবিদ্ধ হয় আবু সাঈদ ওরফে লাল বাদশা। পেরে আহত অবস্থায় তাকে ফরিদগঞ্জ স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। ফরিদগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহ্ আলম জানান, পুলিশ নিহতের কাছ থেকে ১১১ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট এবং ঘটনাস্থল থেকে ১টি একনলা বন্দুক, ৩টি ককটেল, ৪ রাউন্ডগুলি উদ্ধার করেন। মাদব ব্যবসায়ীদের গুলিতে পুলিশের এএসআই বাবুল, সুমন, সুমন চৌধুরী, কনস্টেবল আশরাফ ও দেলোয়ার আহত হন। লাশের প্রাথমিক সুরতহালের সময় উপস্থিত ছিলেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট এএইচএম মাহফুজুর রহমান ও ইউএইচও জাহাঙ্গীর আলম শিপন। পরে লাশ চাঁদপুর সরকারি জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়।
ইয়াবা ব্যবসায়ীদের তালিকায় ১০ সাংবাদিক
বাংলাদেশে ইয়াবার ট্রানজিট পয়েন্ট কক্সবজারে। বিশেষ করে টেকনাফ সীমান্ত দিয়ে সবচয়ে বেশি ইয়াবা প্রবেশ করা হয়। টেকনাফের জনপ্রতিনিধি, সরকারী কর্মচারী, পুলিশ, বিজিবি সদস্য, রাজনৈতিবিদ সহ সব শ্রেণীর লোক ইয়াবা ব্যবসার সাথে জড়িত। পিছিয়ে নেই টেকনাফে কর্মরত সাংবাদিকেরাও। বিভিন্ন সরকারী সংস্থার ইয়াবা ব্যবসায়ীদের তালিকায় উঠে এসেছে টেকনাফের ১০ জন সাংবাদিকের নাম। এছাড়াও কক্সবাজারে কর্মরত বিভিন্ন জাতীয় গণমাধ্যমের আরো ৮ সাংবাদিকেরও ইয়াবা ব্যবসার সংশ্লিষ্টতা পেয়েছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। ইয়াবা ব্যাবসার মুখোশ ঢাকতে বা ইয়াবা ব্যবসায়ীদের রক্ষা করতেই সাংবাদিকতা পেশাটাকেই বেছে নিয়েছে অনেকে। অনেক বড় বড় ইয়াবা ব্যবসায়ী নিজেদের অপকর্ম ঢাকতে সাংবাদিকদের ব্যবহার করছেন। মূলত আইন-শৃঙ্খলারক্ষাকারী বাহিনীকে বিভ্রান্ত করতেই শীর্ষ ইয়াবা ব্যবসায়ীরা সাংবাদিকদের নিয়ন্ত্রণ নিয়েছেন। দেশের এক নাম্বার ইয়াবা ব্যবসায়ী হাজী সাইফুল করিম। তিনি ৫ ভাই সহ পরিবারের ১২ জন সদস্য মিলে তৈরি করেছেন দেশের সবচেয়ে শক্তিশালী ইয়াবা নেটওয়ার্ক। আবার তাদের পরিবারেই রয়েছেন টেকনাফের প্রথম শ্রেণীর ৩ জন সাংবাদিক। এই সাংবাদিকরাই পুরো টেকনাফের সংবাদ মাধ্যম নিয়ন্ত্রণ করে আসছে্ন। যার ফলে দেশের অধিকাংশ গণমাধ্যমে সাইফুল করিমের সংবাদ তেমন প্রকাশ পায় না বললেই চলে। উল্টো দেশের শীর্ষ অনেক গণমাধ্যম সাইফুল করিমের সামাজিক কর্মকান্ডের খবর প্রকাশ করে আসছে। টেকনাফের সাংবাদিকতার প্রধান নিয়ন্ত্রক হলো শীর্ষ ইয়াবা গডফাদার সাইফুল করিমের ছোটভাই রাশেদুল করিম। নানা কৌশলে ও পৃষ্ঠপোষকতা করে তিনি টেকনাফের গণমাধ্যম নিয়ন্ত্রণ করে আসছেন। চট্টগ্রামের একটি বেসরকারী বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজী বিভাগের ছাত্র রাশেদুল করিম। বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিকাংশ সময় অনুপস্থিত থাকেন তিনি। সার্বক্ষণিক টেকনাফে অবস্থান করে পরিবারের ইয়াবা ব্যবসাকে সাংবাদিকদের ধরাছোঁয়ার বাইরে রাখেন। রাশেদুল করিম সিটিজিবার্তা২৪.কম নামের একটি অনলাইন নিউজপোর্টাল পরিচালনার করে সাংবাদিকতার পরিচয় দিয়ে আসছেন। সরকারী বিভিন্ন সংস্থার তালিকায় টেকনাফের কর্মরত কয়েকটি বেসরকারী টেলিভিশন, দেশের প্রথমসারীর কয়েকটি পত্রিকা, কয়েকটি আঞ্চলিক পত্রিকা এবং অনলাইন ও কক্সবাজার থেকে প্রকাশিত কয়েকটি স্থানীয় দৈনিকের প্রতিনিধির নাম এসেছে। সরকারী সংস্থার এসব প্রতিবেদনে ওই ১০ সাংবাদিকদের ইয়াবা ব্যবসায়ী হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। এছাড়াও চট্টগ্রামে বেসরকারী চ্যানেলে কর্মরত টেকনাফের এক সাংবাদিকও রয়েছে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়েরর ইয়াবা ব্যবসায়ীর তালিকায়। এদিকে এক টেলিভিশন চ্যানেলের কক্সবাজার জেলা প্রতিনিধি ৩০ হাজার ইয়াবা সহ চট্টগ্রামে সস্ত্রীক আটক হয়ে এখনো কারাগারে আছেন। এছাড়াও কক্সবাজারে কর্মরত ৫ টি বেসরকারী চ্যানেলের জেলা প্রতিনিধি, ১ টি জাতীয় পত্রিকার সাংবাদিক, ৩টি স্থানীয় পত্রিকার সাংবাদিক ও মহেশখালীর ২ সাংবাদিকেরও ইয়াবা ব্যবসার সাথে সংশ্লিষ্টটা পেয়েছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। এই সাংবাদিকেরা কৌশলে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর তথ্য সংগ্রহ করে তা ইয়াবা ব্যবসায়ীদের কাছে পৌঁছে দেন। আবার অনেক সময় সাংবাদিকতার পরিচয়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর চোখকে ফাঁকি দিয়ে ঢাকা ও চট্টগ্রামে ইয়াবা পাচার করে আসছেন। কক্সবাজারের সিনিয়র সাংবাদিক ও চ্যানেল আই এর স্টার্ফ রিপোর্টার সরওয়ার আজম মানিক জানিয়েছেন, 'ইয়াবা ব্যববসায় সাংবাদিকদের নাম আসা খুবই লজ্জাজনক। এই ধরনের ব্যাক্তিকে সম্মিলিতভাবে প্রতিহত করতে হবে।' কক্সবাজার সাংবাদিক ইউনিয়নের সাধারন সম্পাদক জাহেদ সরওয়ার সোহেল জানিয়েছেন, 'যেই সাংবাদিকদের নাম ইয়াবার তালিকায় এসেছে তা যাচাই বাছাই করা হোক। যদি কোন সাংবাদিকের ইয়াবা ব্যবসার সাথে জড়িত থাকার প্রমাণ পাওয়া যায় তাকে দ্রুত আইনের আওতায় আনা হোক।' টেকনাফ থানার ওসি রন্জিত বড়ুয়া জানান, 'অনেক সাংবাদিকের নাম ইয়াবার তালিকায় আছে। ইয়াবা বিরুদ্ধে অভিযানে কাউকেউ ছাড় দেয়া হবে না। কোন সাংবাদিক যদি ইয়াবা ব্যবসার সাথে জড়িত থাকে তাহলে তাকে অইনের আওতায় আনা হবে।
হাটহাজারীর থানার নন্দীরহাট এশিয়া পেপার মিলে অগ্নিকাণ্ড
সজল চক্রবর্ত্তী,চট্টগ্রাম: হাটহাজারী থানার নন্দিরহাট এশিয়া পেপার মিলে আজ রবিবার বিকাল ৩টার দিকে মিলের একটি নির্মিতব্য সেডে ওয়েলডিংয়ের কাজ করার সময় বৈদ্যুতিক শর্টসার্কিট হতে আগুনের সূত্রপাত হয়। সংবাদ পেয়ে দীর্ঘ দেড় ঘন্টা চেষ্টা চালিয়ে হাটহাজারী ও বায়েজিদ ফায়ার সার্ভিসের তিনটি ইউনিট আগুন নির্বাপণ করে। হাটহাজারী ফায়ার সার্ভিসের সিনিয়র ষ্টেশন অফিসার জাকের হোসেন জানান, তিনটি ইউনিটের দেড় ঘন্টার প্রচেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে তবে ক্ষয়ক্ষতির পরিমান বেশী না হলেও দ্রুত ফায়ার সার্ভিস আসায় কোটি টাকার সম্পদ রক্ষা পায় । এশিয়া পেপার মিলের জি এম ইঞ্জিনিয়ার আর. এম চৌধুরী বলেন, ক্ষয়ক্ষতির পরিমান ৫০হাজার টাকা হবে গুদামের ছাদে বেলাল কন্ট্রাক্টরের কিছু লোক শেড ওয়েলডিংয়ের কাজ করার সময় বৈদ্যুতিক শর্টসার্কিট হতে আগুনের সূত্রপাত হয়। এ দিকে খবর পেয়ে হাটহাজারী সার্কেলের এডিশনাল এস পি আব্দুল্লাহ আল মাসুম, ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোঃ বেলাল উদ্দিন জাহাঙ্গীর ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন।
চট্টগ্রামের শীর্ষ সন্ত্রাসী গ্রেফতার
চট্টগ্রাম নগরীতে অভিযান চালিয়ে সালাহ উদ্দিন প্রকাশ দুলাল নামে তালিকাভুক্ত এক শীর্ষ সন্ত্রাসীকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। এসময় তার কাছ থেকে ইয়াবা উদ্ধার করা হয়। শনিবার ভোরে আসাদগঞ্জ আনসার ক্লাবের মোড় থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়। গ্রেফতারকৃত দুলাল কোতোয়ালী থানাধীন খাতুনগঞ্জ রামজয় মহাজন লেইনের মৃত মফজ্জল আহম্মদের ছেলে। কোতোয়ালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ মহসিন বলেন, ইয়াবাসহ সালাহ উদ্দিনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। সালাহ উদ্দিন তালিকাভুক্ত কুখ্যাত মাদক ব্যবসায়ী, ছিনতাইকারী ও ডাকাত দলের সদস্য। তার বিরুদ্ধে কোতোয়ালী থানায় ১৫টির বেশি মামলা আছে।
চট্টগ্রাম ইয়াবাসহ গ্রেফতার ৩
চট্টগ্রামের একটি দূরপাল্লার বাসে অভিযান চালিয়ে ইয়াবাসহ চালক, সুপারভাইজার ও হেলপারকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। শনিবার চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কের লোহাগাড়া উপজেলা পরিষদের সামনে এ অভিযান চালানো হয়।তারা হলেন- চালক মাসুদ রানা (৪০), সহকারী জয়নাল আবেদিন (২০) ও সুপারভাইজার আবুল কালাম (৩৮)। লোহাগাড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুহাম্মদ সাইফুল ইসলাম বলেন, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে শ্যামলী পরিবহনের একটি এসি বাসে তল্লাশি চালানো হয়। পরে বাস থেকে ইয়াবাসহ চালক, সহকারী ও সুপারভাইজারকে গ্রেফতারের পাশাপাশি বাসটি জব্দ করা হয়েছে। তিনজনকে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদ করে জানা যায়-দীর্ঘ দিন ধরে তারা ইয়াবা পাচারের কাজ চালিয়ে আসছিল। তাদের মাদক মামলায় গ্রেফতার দেখানো হয়েছে।

সারা দেশ পাতার আরো খবর