আড়াই লাখ টাকার জাটকা জব্দ চাঁদপুরে
চাঁদপুর মেঘনা মোহনায় এম ভি আওলাদ-৭ ও এম ভি তাসরিফ-১ দুটি যাত্রীবাহী লঞ্চে অভিযান চালিয়ে ২ লাখ ৫০ হাজার টাকা মূল্যে ১ হাজার কেজি জাটকা জব্দ করেছে কোস্ট গার্ডের সদস্যরা। বাংলাদেশ কোস্ট গার্ড বাহিনী স্টেশান চাঁদপুরের একটি অপারেশান দল শুক্রবার রাত ৩টা থেকে সাড়ে ৪টা পর্যন্ত অভিযান চালিয়ে জাটকাগুলো জব্দ করে। জানা যায়, সংবাদের ভিত্তিতে স্টেশান কমান্ডার লে এম এনায়েত উল্লাহ, (পিএন্ডআরটি), বিএন এর নেতৃত্বে টিম লিডার এম মোকারম হোসেন, পিওসহ এ অভিযান পরিচালনা করেন। এ বিষয়ে বাংলাদেশ কোস্ট গার্ড বাহিনী স্টেশান চাঁদপুরের স্টেশান কমান্ডার লে. এম এনায়েত উল্লাহ জাগো নিউজকে বলেন, বাংলাদেশ কোস্ট গার্ড বাহিনী মৎস্য সম্পদ রক্ষার নিমিত্তে অবৈধ কারেন্ট জালের ব্যবহার প্রতিরোধ, মা ইলিশ ও অভায়াশ্রমের সুরক্ষা এবং জাটকা আহরণ বন্ধের অভিযান অব্যাহত রাখবে। এ সময় জব্দকৃত জাটকাগুলো নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. মঈনুল হক ও মৎস্য কর্মকর্তার উপস্থিতিতে বিভিন্ন মাদরাসা ও এতিম খানায় বিতরণ করা হয়।
নিখোঁজ দুইজনের মরদেহ ভেসে উঠল বুড়িগঙ্গায়
নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলার ফতুল্লায় বুড়িগঙ্গা নদীতে ট্রলার ডুবির ঘটনায় নিখোঁজ দুই ব্যক্তির মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। শুক্রবার রাতে মরদেহ দুটি উদ্ধার করা হয়। গত বুধবার রাতে ঝড়ের কবলে পড়ে যাত্রীবাহী একটি ট্রলার ডুবে গেলে ওই দুইজন নিখোঁজ হন। তারা হলেন পটুয়াখালী জেলার পাটুয়া গ্রামের আদেল পেয়াদার ছেলে ট্রলার চালক ইউনুছ এবং নীলফামারী জেলার ডোমার থানার আমবাড়িয়া গ্রামের কোমর উদ্দিনের ছেলে সাবলুর রহমান। ফতুল্লার পাগলা নৌ পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ উপপরিদর্শক (এসআই) ফরহাদ জানান, বুধবার রাতে উপজেলার আকবর নগর আনন্দবাজার থেকে তিনজন যাত্রী নিয়ে ফতুল্লায় যাচ্ছিলেন ট্রলার চালক ইউনুছ। ধর্মগঞ্জ এলাকায় আসার পর কালবৈশাখীর কবলে পড়ে ট্রলারটি ডুবে যায়। তখন ট্রলারে থাকা দুইজন যাত্রী সাঁতার কেটে তীরে উঠতে সক্ষম হলেও চালকসহ দুইজন নিখোঁজ হন। এসআই ফরহাদ আরও জানান, অনেক খোঁজাখুঁজির পরও তাদের কোনো সন্ধান পাওয়া যায়নি। অবশেষে শুক্রবার রাত সাড়ে সাতটার দিকে ধর্মগঞ্জ এলাকায় বুড়িগঙ্গা নদীতে ইউনুছের এবং পানগাঁও এলাকার সাবলুর রহমানের মরদেহ ভেসে উঠে। স্থানীয়দের কাছ থেকে খবর পেয়ে মরদেহ দুটি উদ্ধার করে পুলিশ। এরপর নিহতের পরিবারের সদস্যরা এসে মরদেহ শনাক্ত করে নিয়ে যায়।
ব্যর্থতার দায় শেখ হাসিনার নয়,দায় জনপ্রতিনিধির: দোলন
সারা দেশের উন্নয়নের সঙ্গে তাল মিলিয়ে কোনো স্থানীয় এলাকার উন্নয়ন না হওয়া সেখানকার জনপ্রতিনিধিদের ব্যর্থতা বলে মন্তব্য করেছেন ফরিদপুর-১ আসনে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন-প্রত্যাশী আরিফুর রহমান দোলন। তিনি বলেছেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সারা দেশের উন্নয়ন করছেন, তার কাছে চেয়ে আনতে না পারা শেখ হাসিনার দায় নয়, জনপ্রতিনিধির ব্যর্থতা। প্রয়োজনে জনপ্রতিনিধি বদলানোর তাগিদ দিয়ে তিনি সবাইকে আবার শেখ হাসিনার নৌকায় ভোট দেয়ার আহ্বান জানান। আজ শুক্রবার বিকালে ফরিদপুরের মধুখালী উপজেলার জাননগর মহিলা সংঘের উদ্যোগে সাত দিনব্যাপী ভাগবতীয় আলোচনা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন দোলন। কৃষক লীগের কেন্দ্রীয় কমিটির অন্যতম সহসভাপতি দোলন ফরিদপুরের এই এলাকার যথাযথ উন্নয়ন না হওয়া নিয়ে দুঃখ প্রকাশ করে বলেন,আজকে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায়। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দেশের উন্নয়ন করছেন। সারা দেশে অভূতপূর্ব উন্নয়ন হচ্ছে। এ অঞ্চলের উন্নয়ন কেন হবে না। এই দায়িত্ব কার, এর জবাব কে দেবে। ফরিদপুর জেলা আওয়ামী লীগের এই কার যনির্বাহী সদস্য বলেন,আমি বিশ্বাস করি আপনারা সবাই নৌকা মার্কায় ভোট দেন। নৌকা মার্কা হচ্ছে উন্নয়নের মার্কা। তাহলে কেন এ রাস্তা কাঁচা? এই প্রশ্ন তুলে তিনি বলেন,আমরা যারা রাজনীতিতে আছি, ভোটের সময় আপনাদের কাছে যাব আর ভোটের পরে খবর থাকবে না- এটা কিন্তু রাজনীতি না। এটা জনগণের উন্নয়নের রাজনীতি না। এ অঞ্চলের উন্নয়ন না হওয়ার পেছনে জনপ্রতিনিধির ব্যর্থতাকে দায়ী করেন ঢাকাটাইমস সম্পাদক দোলন। না কাঁদলে মাও দুধ দেয় না প্রবচনটি উল্লেখ করে তিনি বলেন,প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা উন্নয়ন করতে চান। কিন্তু এখানে বোঝা যাচ্ছে শেখ হাসিনার কাছে ঠিকমতো চাওয়া হচ্ছে না। আমরা যদি শেখ হাসিনার কাছ থেকে কিছু আনতে না পারি, এটা আমাদের ব্যর্থতা, জনপ্রতিনিধিদের ব্যর্থতা। সমবেত জনগণের উদ্দেশে দোলন বলেন,আপনাদের ভোটে যারা নির্বাচিত হয়েছেন, শেখ হাসিনার কাছ থেকে আনার দায়িত্ব তাদের। আপনারা জনগণ হচ্ছেন মনিব। আর যারা নির্বাচিত হন তারা হচ্ছেন আপনাদের সেবক। আপনাদের সেবা করাই জনপ্রতিনিধিদের কাজ। তারা আপনাদের সেবাটা ঠিকমতো করছেন না। যারা নির্বাচিত হন, তারা সরকার থেকে অর্থকড়িসহ নানা সুবিধাদি পান। ঢাকাটাইমস সম্পাদক বলেন,আপনাদের টাকায় তাদের এসব সুবিধা দেয়া হয়। আপনাদের ভ্যাট ট্যাক্সের টাকায় তারা এসব সুবিধা পান। কিন্তু আপনারা যদি সুবিধা না পান, দুঃখে-কষ্টে থাকেন, তাদের সুবিধা পাওয়ার কোনো অধিকার নেই। আলফাডাঙ্গা, বোয়ালমারী, মধুখালী- এ অঞ্চলের জনগণ সব সময় নৌকায় ভোট দেয়। নয় বছর ধরে আওয়ামী লীগের সরকার ক্ষমতায়। দোলন বলেন,এ কথা বলা চলবে না যে অন্য সরকার ক্ষমতায় তাই উন্নয়ন হয় নাই। এ রাস্তা পাকা হয় নাই। আপনারা যারা শতভাগ নৌকা মার্কায় ভোট দেন, তাদের রাস্তা যদি পাকা না হয়, অন্য রাস্তা কেন পাকা হবে। আপনারা যাদের ভোট দিয়েছেন তারা কেন আপনাদের জন্য আনছেন না। এ সময় তিনি এলাকার মানুষের দুঃখ-কষ্ট লাঘবে কাঁচারাস্তা পাকা করার ব্যবস্থা করবেন বলে প্রতিশ্রুতি দেন। বলেন, স্থানীয় চেয়ারম্যানের সঙ্গে কথা বলে ফরিদপুর সদর আসনের এমপি এলজিআরডি মন্ত্রী খন্দকার মোশাররফ হোসেনের মাধ্যমে এ রাস্তা পাকা করার ব্যবস্থা করবেন তিনি। এ সময় হাজারো জনতা তার বক্তব্যকে স্বাগত জানিয়ে করতালি দেন ও উল্লাস প্রকাশ করেন। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কাছে তাদের কথা পৌঁছে দেবেন জানিয়ে সমবেতদের উদ্দেশে দোলন বলেন,নেত্রীকে বলব, এ অঞ্চলের মানুষ আপনাকে শতভাগ ভোট দেয়, এ অঞ্চল কেন পিছিয়ে থাকবে। নেত্রী যদি আপনাদের অবস্থার কথা শোনেন মনে কষ্ট পাবেন। একই সঙ্গে দোলন জনগণের কাছেও একটি আবদার রাখেন। তিনি বলেন,আপনারা দয়া করে এখানকার জনপ্রতিনিধিদের ব্যর্থতার জন্য শেখ হাসিনার ওপর মনে কষ্ট নেবেন না। শেখ হাসিনা অত্যন্ত পরিশ্রম করছেন। সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বিরাজ রাখার চেষ্টা করছেন। জঙ্গিবাদ থেকে দেশকে মুক্ত করার জন্য কাজ করছেন। বাংলাদেশকে একটি উন্নত-সমৃদ্ধ রাষ্ট্র হিসেবে দাঁড় করানোর জন্য চেষ্টা করছেন। স্থানীয় কোনো রাজনৈতিক নেতার ব্যর্থতার দায়ভার শেখ হাসিনার না। প্রয়োজনে আমরা স্থানীয় নেতা পরিবর্তন করে নেব। কিন্তু আমাদের নেত্রী শেখ হাসিনা। আগামী দিনেও নৌকায় ভোট দিয়ে শেখ হাসিনাকে জয়যুক্ত করার তাগিদ দেন তিনি। উন্নয়নের জন্য সবাইকে মিলেমিশে কাজ করার তাগিদ দিয়ে দোলন বলেন,শেখ হাসিনা ক্ষমতায় থাকলেই উন্নয়ন সম্ভব। আজকে আমি রাস্তা পাকা করে দেয়ার অঙ্গীকার করতে পারলাম। কারণ রাষ্ট্রক্ষমতায় শেখ হাসিনা। উনি যদি না থাকতেন আমি করতে পারতাম না। কথা দিচ্ছি, যেভাবে পারি, যত দ্রুত পারি এ রাস্তা পাকা করার ব্যবস্থা করব। এ সময় নিজের জন্যও সবার কাছে আশীর্বাদ চান আওয়ামী লীগের এই মনোনয়ন-প্রত্যাশী। তিনি বলেন,আমি এমপি হই আর না হই, আমার জন্য আশীর্বাদ করবেন যেন আপনাদের সেবা করে যেতে পারি। ভবিষ্যতে জাতীয় সংসদে যদি এলাকার প্র্রতিনিধিত্ব করতে পারি, ভৃত্যের মানসিকতা নিয়ে আপনাদের সেবা করে যাব, আপনাদের উন্নয়নে কাজ করব- এ অঙ্গীকার করে যাচ্ছি। এর আগে দোলন তার তার পারিবারিক ঐতিহ্যগত জনসেবার কথা তুলে ধরেন। সেই ধারাবাকিতায় জনগণের সেবক হিসেবে কাজ করার মানসিকতা নিয়ে তিনি তাদের মাঝে হাজির হয়েছেন বলে জানান ফরিদপুর জেলা আওয়ামী লীগের এই কারযনির্বাহী সদস্য। দোলন বলেন,আমার বাড়ি আলফাডাঙ্গা উপজেলার কামারগ্রামে। আমার প্রপিতামহ কাঞ্চন মুন্সী। উনি মানুষের সেবা করে গিয়েছেন। তারপর ওনার ছেলে আমার দাদা এ অঞ্চলের মানুষের সেবা করে গেছেন। স্কুল করেছেন, হাসপাতাল করেছেন, কলেজ করেছেন, হাজার হাজার মানুষের চাকরির ব্যবস্থা করেছেন। খুলনায়, কলকাতায় নিজের বাড়িতে শত শত মানুষকে রেখেছেন। লেখাপড়া শিখিয়েছেন। এই ধারাবাহিকতায় তিনিও সমাজসেবায় নিজেকে নিয়োজিত করেছেন। কাঞ্চন মুন্সী ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান বলেন, আমি মনে করি রাজনীতি হচ্ছে সমাজসেবা। রাজনীতি হচ্ছে মানুষের সেবা। সমাজসেবা আরো বড় আকারে করতে গেলে রাজনীতি করতে হয়। বক্তব্যের শুরুতে দোলন দেশে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি রক্ষায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও আওয়ামী লীগের ভূমিকার কথা তুলে ধরেন। তিনি বলেন,গত নয় বছর ধরে দেশে সাম্প্রাদায়িক সম্প্রীতি বজায় আছে। কিন্তু এর আগে বিএনপি-জামায়াত ক্ষমতায় থাকাকালীন সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বিনষ্ট করেছে। সনাতন হিন্দু সম্প্রদায়ের ওপর সারা দেশে আক্রমণ চালিয়েছিল। দোলন বলেন,আমাদের সজাগ থাকতে হবে যেন বিএনপি-জামায়াত চক্র ক্ষমতায় আসতে না পারে। তারা চেষ্টা করছে পেছনের দরজা দিয়ে ক্ষমতা দখল করার। আমাদের ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে। দেশ এগিয়ে যাচ্ছে শেখ হাসিনার নেতৃত্বে। আমরা হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিস্টান ও অন্যরা সবাই মিলে শেখ হাসিনার হাতকে শক্তিশালী করব।
অস্ত্র-গুলিসহ চট্টগ্রামে গ্রেফতার ২
চট্টগ্রামের হাটহাজারী থেকে বন্দুক, ককটেল, বিস্ফোরিত গুলির মাথা, কান্টা, কচ্চপ ও কুচিয়াসহ দুই জনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। শুক্রবার দুপুরে হাটহাজারী পৌরসভার পশ্চিম আলমপুর লালমতি পাহাড়ের একটি পরিত্যক্ত বাসা থেকে তাদের গ্রেফতার করা হয়। আটকরা হলেন- রাঙ্গামাটি জেলার কাউখালী থানাধীন ঘাগড়া এলাকার পুনং চাঁন চাকমার ছেলে মায়াধন চাকমা (৩৭) ও রাঙ্গুনিয়া থানার চৈছলাবিল এলাকার নবীন বিশ্ব চাকমার ছেলে শান্তিময় চাকমা (২৭)। জেলার হাটহাজারী সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আব্দুল্লাহ আল-মাসুম এসব তথ্য জানান। তিনি জানান, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে হাটহাজারী থানার সহকারী উপ-পরিদর্শক (এএসআই) নুরুল আমিন, কামরুজ্জামান ও মহসীনকে নিয়ে লালমতি পাহাড়ে অভিযান চালানো হয়। এ সময় ওই পাহাড় সংলগ্ন একটি পরিত্যক্ত টিনসেড নির্মিত ঘরে অবস্থান করছিল সন্ত্রাসীরা। ঘরের চার দিকে ঘিরে পরে সন্ত্রাসীদের গ্রেফতার করা হয়। সেখান থেকে উদ্ধার করা হয় একটি দৈশিয় তৈরি একনালা বন্দুক, ৪৬ রাউন্ড বিস্ফোরিত বুলেটের মাথা, একটি হাতে বানানো ককটেল, একটি কান্টা, ৪টি কচ্ছপ ও ৮টি কুচিয়া। অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আব্দুল্লাহ আল-মাসুম জানান, গ্রেফতাররা পুলিশের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে পাহাড়ে বন্যপ্রাণী শিকারের কথা স্বীকার করেছেন। তাদের বিরুদ্ধে বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ ও অস্ত্র আইনে মামলা দায়ের করা হয়েছে।
গাজীপুর ও খুলনা নির্বাচন গুরুত্বের সঙ্গে দেখছে ইসি
প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কেএম নূরুল হুদা বলেছেন, সংসদ নির্বাচন অতি সন্নিকটে। সেই সাথে ঢাকার পাশে সব থেকে বড় গাজীপুর ও খুলনায়ও নির্বাচন হবে। তাই নির্বাচনগুলোকে কমিশন অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করছে। বৃহস্পতিবার আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে বৈঠকের শুরুতে স্বাগত বক্তব্যে এসব কথা বলেন সিইসি। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের উদ্দেশ্য করে সিইসি বলেন, বিগত দিনে আপনাদের সহযোগিতায় স্থানীয় সরকার নির্বাচনসহ অন্যান্য নির্বাচন সফল হয়েছে। এই নির্বাচনও সফল হবে বলে আশা করছি। আপনাদের পরামর্শও প্রত্যাশা করছি। সিইসির সভাপতিত্বে নির্বাচন ভবনের সম্মেলন কক্ষে বেলা ১১টায় শুরু হওয়া বৈঠকে চার নির্বাচন কমিশনার, ইসি সচিব, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর শীর্ষ কর্মকর্তারা উপস্থিত রয়েছেন।
শীর্ষ সন্ত্রাসী বাবা আরিফ নিহত,মুন্সীগঞ্জের বন্দুকযুদ্ধে
মুন্সীগঞ্জের কাটাখালী হায়দ্রাবাদ গ্রামের কাছে পুলিশের সঙ্গে বন্দুকযুদ্ধে শীর্ষ সন্ত্রাসী, মাদক বিক্রেতা ও ১২ মামলার আসামি সাইফুল ইসলাম ওরফে বাবা আরিফ (৩৭) নিহত হয়েছে। বুধবার দিবাগত রাত আড়াইটার দিকে ওই এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। নিহত সাইফুল ইসলাম ওরফে বাবা আরিফ মুন্সীগঞ্জ সদর উপজেলার মিরেশ্বরাই গ্রামের জুলহাস ব্যাপারীর ছেলে। মুন্সীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আলমগীর হোসাইন জানান, বুধবার রাত ১০টার দিকে ১১০ পিস ইয়াবাসহ দূর্গাবাড়ি গ্রাম থেকে আরিফকে গ্রেফতার করা হয়। পরে রাত আড়াইটার দিকে তাকে নিয়ে অভিযানে গেলে তার সঙ্গীরা পুলিশকে লক্ষ্য করে গুলি চালায়। এতে পুলিশের এসআই আসলাম ও এএসআই কালাম আহত হন। এসময় আরিফ পালানোর চেষ্টা করলে সে গুলিবিদ্ধ হয়। পরে তাদের উদ্ধার করে মুন্সীগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক আরিফকে মৃত ঘোষণা করেন। লাশ ময়নাতদন্তের জন্য মুন্সীগঞ্জ জেনাররেল হাসপাতাল মর্গে রাখা হয়েছে। এদিকে, ঘটনাস্থল থেকে পুলিশ দুই রাউন্ড গুলি ভর্তি একটি পিস্তল, দুটি রামদা ও একটি রড উদ্ধার করা হয় বলেও জানান ওসি।
চকরিয়ার জীবন জব্বারের বলিখেলায় চ্যাম্পিয়ন
চট্টগ্রামের ঐতিহাসিক আব্দুল জব্বারের ১০৯তম বলীখেলার (কুস্তি প্রতিযোগিতা) কুমিল্লার শাহজালাল বলিকে হারিয়ে শিরোপা অর্জন করেছেন চকরিয়ার তারেকুল ইসলাম জীবন বলি। খেলার ২০ মিনিটের মাথা তারা একজন আরেকজনকে পরাস্থ করেন এ শিরোপা জিতে জীবন বলি । বুধবার (২৫ এপ্রিল) বিকেল ৪টা ২৫ মিনিটে চট্টগ্রামের লালদিঘি মাঠে ঐতিহ্যবাহী আব্দুল জব্বারে বলি খেলার ১০৯ তম আসর শুরু হয়। চুরান্ত পর্যায়ের প্রতিযোগীতার ফাইনাল শুরু হয় ৫টা ৩২ মিনিটে। ফাইনালে মুখোমুখি হন জীবন বলি এবং শাহজালাল বলি। লালদীঘির ময়দানে বালি দিয়ে তৈরি চার ফুট উঁচু বলীখেলার গ্রাউন্ডে চলে এ লড়াই। তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় তরিকুল ইসলাম জীবন বলেন, `আমি দোকানে চাকরি করি। জব্বারের বলি খেলায় পাঁচবার অংশ নিয়ে আমি চ্যাম্পিয়ন হয়েছি। আমি খুশি।’ প্রতিবারের মতো এবারও সাধারণ, চ্যালেঞ্জিং ও চ্যাম্পিয়ন- এই তিনটি বাউটে সারাদেশ থেকে আসা ১৫ থেকে ৬০ বছর বয়সী ১০২ জন বলী অংশ নেন। এর আগে বুধবার (২৫ এপ্রিল) বিকেল চারটা বলীখেলার উদ্বোধন করেন সিএমপির ভারপ্রাপ্ত পুলিশ কমিশনার মো. মাসুদুল হাসান। এবছরও খেলা পরিচালনা করেন চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের সাবেক কাউন্সিলর আবদুল মালেক। তাকে সহায়তা করেন ইকবাল বালি, জাহাঙ্গীর ও লেদু। বলিখেলার ১০৯ তম আসরে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রাম সিটি মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দীন। বিশেষ অতিথি ছিলেন স্পন্সর বাংলালিংক ডিজিটাল কমিউনিকেশন্স লিমিটেডের রিজিওনাল ডিরেক্টর সৌমেন মিত্র। আরো উপস্থিত ছিলেন জব্বারের বলীখেলা ও বৈশাখী মেলা কমিটির সভাপতি কাউন্সিলর জহরলাল হাজারী ও সাধারণ সম্পাদক শওকত আনোয়ার বাদলসহ আয়োজক কমিটির অন্যান্য সদস্যরা।
গাজীপুরের শ্রীপুরে বিদ্যুৎ বন্ধ হয়ে যায় আকাশে মেঘ দেখলেই
গাজীপুরের শ্রীপুরের ৭০ হাজার বিদ্যুৎ গ্রাহক নিয়মিত লোডশেডিংয়ে অভ্যস্ত হয়ে থাকলেও বৈশাখী হাওয়ায় দুর্ভোগ যেন মাত্রা ছাড়িয়ে যাচ্ছে। আকাশে মেঘের ঘনঘটা দেখা দিলেই বন্ধ করে দেওয়া হয় বিদ্যুৎ, যার প্রভাবে বিভ্রাটে পড়ে কষ্ট পোহাতে হচ্ছে সাধারণ মানুষের। পল্লীবিদ্যুৎ কর্তৃপক্ষের তথ্যমতে, ময়মনসিংহ পল্লীবিদ্যুৎ সমিতির-২ এর মাওনা জোনাল অফিস ও শ্রীপুর জোনাল অফিসের অধীনে শ্রীপুরে বিদ্যুৎ সঞ্চালন করা হয়। এই এলাকায় বিদ্যুৎ লাইন রয়েছে ১৬ কিলোমিটার এবং গ্রাহক রয়েছে ৭০ হাজার। ২৩টি ফিডারের মাধ্যমে দীর্ঘ এলাকার বিতরণব্যবস্থার জন্য রয়েছে ২২ জন লাইনম্যান। প্রাকৃতিক দুর্যোগের সময় স্বল্পসংখ্যক জনবল দিয়ে কাজ করতে গিয়ে নানা ধরনের সমস্যা হয়। বিশেষ করে কালবৈশাখী ঝড়ের আশংকায় গ্রামীণ এলাকায় বিদ্যুৎ বন্ধ করা হয়। পরে তা চালু করতে অনেক সময় লেগে যায়। এভাবে প্রতিদিনই শ্রীপুরের বিভিন্ন এলাকায় ঝড় হওয়ায় বিভ্রাটে পড়ছে সাধারণ লোকজন। মাওনা উত্তরপাড়া গ্রামের দিদারুজ্জামান অভিযোগ করেন, প্রতি বছর ঝড় বৃষ্টির মৌসুম এলেই আমাদের এই সমস্যা দেখা দেয়। যা চলে পুরো বর্ষাকাল জুড়েই। এবারও গত এক সপ্তাহ ধরে এই সমস্যা তৈরি হচ্ছে। দীর্ঘদিনের এই সমস্যা হতে মুক্তির কোনো লক্ষণ দেখা যাচ্ছে না। একই এলাকার স্কুল শিক্ষক আজাহারুল ইসলাম জানান, আমাদের এলাকাটি শিল্প এলাকায় হওয়ায় সবাই বিদ্যুৎ ব্যবস্থার মাধ্যমে খাবারের পানি উত্তোলন করে থাকে। কিন্তু ঘণ্টার পর ঘণ্টা বিদ্যুৎ না থাকায় আমাদের অনেক কষ্ট করতে হয়। বিদ্যুতের ওপর নির্ভরশীল থাকায় শ্রীপুরের এলাকাগুলোতে এখন টিউবওয়েলের ব্যবহার নেই। আকাশের মেঘের ঘনঘটনায় ব্যবসা বাণিজ্যের অন্যতম স্থান মাওনা চৌরাস্তায় বিদ্যুৎ সরবরাহ ব্যবস্থা খুবই অপ্রতুল। এই এলাকার ব্যবসায়ীরাও বিকল্প বিদ্যুৎ ব্যবস্থা জেনারেটরের সাহায্য নিচ্ছেন। মোবাইল মার্কেটের ব্যবসায়ী শেখ সোহাগ জানান, গত কয়েকদিন ধরে বিদ্যুতের সরবরাহ ভালো না থাকায় তিনি মোবাইল মেরামত করতে পারছেন না, এতে তার আয়ে ঘাটতি দেখা দিয়েছে। শ্রীপুর সড়কের টিউবওয়েল স্থাপনকারী প্রতিষ্ঠানের পরিচালক সোহেল মিয়া জানান, তিনি উপজেলার গাজীপুর গ্রামের মফিজউদ্দিন নামের এক গ্রাহকের কাছে একটি টিউবওয়েল বিক্রি করছেন। গত দুই দিন বিদ্যুৎ ব্যবস্থা খারাপ থাকায় তার কারিগর ফিরে এসেছে। মাওনা সিটি হাসপাতালের ল্যাব ইনচার্জ দেলোয়ার হোসেন জানান, গত কয়েকদিনের বিদ্যুতের এই অবস্থার জন্য তার ল্যাবের মেশিনের চরম ক্ষতি হয়েছে। অনেক জরুরি রোগীকেও ফেরত দিতে হয়েছে। লোহাগাছ গ্রামের তাজউদ্দিন আহমেদ জানান, রাতে বিদ্যুৎ যায় সকালে আসে, আবার দুপুরে যায় পরদিন আসে এই আমাদের বিদ্যুৎ ব্যবস্থা। তবে দীর্ঘসময় বিদ্যুৎ না থাকলেও বিল ঠিকই আসে। আসলে আমাদের বলার মতো কোনো জায়গা নেই। মাওনা জোনাল অফিসের উপমহাব্যবস্থাপক কামাল পাশা জানান, প্রাকৃতিক দুর্যোগের ওপর কারো হাত নেই। ঝড়ে বিভিন্ন বিদ্যুৎ লাইন ক্ষতিগ্রস্ত থাকায় তা চালু করতে সময় ব্যয় হয়ে যায়। এজন্য হয়ত কারো সমস্যা হতে পারে তবে কর্তৃপক্ষের কোনো ধরনের গাফিলতি নেই।
টাঙ্গাইলের বাসাইল উপজেলায় একটি ব্রিজের অপেক্ষা শেষ হয়নি ৪৭ বছরেও
টাঙ্গাইলের বাসাইল উপজেলার কাউলজানী ও ফুলকি ইউনিয়নের সীমান্তবর্তী লাংগুলিয়া নদীর খাটরা এলাকায় প্রায় অর্ধ লাখ মানুষের যাতায়াতের একমাত্র ভরসা কাঠের সাঁকো। নদীটির ওপর নির্মিত কাঠের সাঁকোটিও এখন ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে। স্থানীয়দের দীর্ঘদিনের দাবি থাকলেও স্বাধীনতার ৪৭ বছরেও এই নদীর ওপর একটি ব্রিজ নির্মাণের জন্য কোনো উদ্যোগ নেয়া হয়নি। বিষয়টি নিয়ে প্রশাসনের কোনো মাথা ব্যথা নেই বললেই চলে। উপজেলার ফুলকি ইউনিয়নের ফুলকি ও খাটরাসহ কয়েকটি গ্রামের মানুষের উপজেলা সদরে পৌঁছানোর একমাত্র সড়ক এটি। এছাড়াও কাউলজানী বোর্ড বাজার এলাকায় সরকারি প্রাথমকি বিদ্যালয়, লুৎফা শান্তা বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় ও কাউলজানী নওশেরিয়া উচ্চ বিদ্যালয়ের হাজারও শিক্ষার্থীসহ অর্ধ লাখ মানুষ জীবনের ঝুঁকি নিয়ে কাঠের সাঁকো দিয়ে প্রতিনিয়ত যাতায়াত করছে। শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ছাড়াও কয়েকটি ব্যাংক রয়েছে কাউলজানী বোর্ড বাজারে। এছাড়াও কালিহাতী উপজেলার কয়েক হাজার মানুষ এ সড়কটি দিয়ে যাতায়াত করে। প্রায় ছয় বছর আগে নদীটির ওপর স্থানীয় সংসদ সদস্য ও উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যানের সহযোগিতায় গ্রামবাসীরা কাঠের সাঁকোটি স্থাপন করেন। কাঠগুলো পঁচে গিয়ে বর্তমানে সাঁকোটি একেবারেই নড়বড়ে অবস্থা। বিগত দিনে জনপ্রতিনিধিরা ব্রিজ নির্মাণের আশ্বাস দিলেও এ পর্যন্ত এলাকাবাসীর ভাগ্যে দুর্ভোগ ছাড়া আর কিছুই জোটেনি। সাঁকো দিয়ে কোনো রকমে পায়ে হেঁটে পারাপার সম্ভব হলেও যানবাহন চলাচল করা সম্ভব হচ্ছে না। এছাড়াও উৎপাদিত খাদ্যশস্য, কৃষিপণ্যসহ বিভিন্ন কাঁচামাল বাজারজাতকরণে ব্যাপক দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। ফলে এ এলাকার মানুষের প্রায় পাঁচ কিলোমিটার এলাকা ঘুরে যানবাহন নিয়ে চলাচল করতে হচ্ছে। ভুক্তভোগী আনিসুর রহমান, আবুল খায়ের, আব্দুল্লাহ, রাশেদ মিয়া ও শুকুর মামুদ ঢাকাটাইমসকে বলেন, কয়েকটি এলাকার মানুষের উপজেলা সদর ও কাউলজানী বোর্ড বাজারে অবস্থিত বিভিন্ন ব্যাংক ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে যাতায়াতের একমাত্র পথ এটি। গ্রামবাসীদের উদ্যোগে কাঠের সাঁকোটি স্থাপন করা হয়েছে। এটিও এখন ঝুঁকিপূর্ণ। গ্রামবাসীদের দীর্ঘদিনের দাবি থাকলেও দুর্ভোগ নিরসনের জন্য ব্রিজ নির্মাণের কোনো উদ্যোগ নেয়া হচ্ছে না। অতি দ্রুত ব্রিজটি নির্মাণের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে জোর দাবি জানান স্থানীয়রা। কাউলজানী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান হাবিবুর রহমান চৌধুরী ঢাকাটাইমসকে বলেন, এই নদীর ওপর ব্রিজ নির্মাণের দাবি দীর্ঘদিনের। প্রায়াত সংসদ সদস্য শওকত মোমেন শাহজাহানের সহযোগিতায় কাঠের সাঁকো স্থাপন করা হয়। তা এখন প্রায়ই চলাচলের অযোগ্য হয়ে পড়েছে। ব্রিজ নির্মাণের জন্য সংশ্লিষ্ট দপ্তরে আবেদন করা হয়েছে। উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান কাজী শহীদুল ইসলাম এ এলাকার মানুষের চরম দুর্ভোগের কথা স্বীকার করে ঢাকাটাইমসকে বলেন, ব্রিজটি নির্মাণের জন্য পরীক্ষা-নীরিক্ষা ও পরিমাপ করে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানো হয়েছে। উপজেলা প্রকৌশলী আমজাদ হোসেন ঢাকাটাইমসকে বলেন, খাটরা নদীর ওপর ব্রিজ নির্মাণের জন্য প্রস্তাবনা পাঠানো হয়েছে।

সারা দেশ পাতার আরো খবর