ম্যাক্স হাসপাতাল স্বাস্থ্য অধিদপ্তর থেকে কোনো লাইসেন্স নেয়নি
চট্টগ্রামের ম্যাক্স হাসপাতাল পরিচালনায় স্বাস্থ্য অধিদপ্তর থেকে কোনো লাইসেন্স নেয়নি। নেয়নি পরিবেশ অধিদপ্তরের কোনো ছাড়পত্র। চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন থেকে একটি ট্রেড লাইসেন্স নিয়েই হাসপাতাল পরিচালনা করা হচ্ছে। এমন কথা জানালেন ভুল চিকিৎসা ও অবহেলায় সাংবাদিক কন্যা শিশু রাইফা নিহতের ঘটনা তদন্তে আসা স্বাস্থ্য অধিদফতরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক) ডা. কাজী জাহাঙ্গীর হোসেন। তিনি বলেন, 'ম্যাক্সের লাইসেন্সে ভেজাল আছে। একটি হাসপাতাল করতে যে পরিমান জায়গা থাকার কথা আমি দেখলাম তার অনুপাতে অনেক কম। আপনারা ধৈর্য্য ধারণ করেন, আমি যেখানে গেছি হাসপাতাল বা ক্লিনিক, সেটা বন্ধ হয়ে গেছে। এখানেও আপনাদের জন্য সুসংবাদ আছে।' সমকাল সাংবাদিক রুবেল খানের শিশুকন্যা রাইফা নিহতের ঘটনায় রোববার রাত পৌনে বারটায় চট্টগ্রাম প্রেসক্লাবে আসে তদন্ত টিম। এ সময় সাংবাদিকদের কাছ থেকে রাইফা হত্যার বিবরণ শুনেন স্বাস্থ্য মন্ত্রনালয়ের গঠিত তদন্ত টিমের প্রধান এই কর্মকর্তা। কাজী জাহাঙ্গীর হোসেন, 'রাইফা হত্যায় ঘটনায় মন্ত্রী মহোদয় আমাকে এখানে পাঠিয়েছেন। বেসরকারি হাসপাতাল পরিদর্শনের মধ্যে এটাই আমার প্রথম ভিজিট। তবে সরকারি অনেক হাসপাতাল আমি পরিদর্শন করেছি। যেখানে গিয়েছি সোজা হয়ে যেতে হয়েছে।' তিনি বলেন, 'আমি ঢাকায় গিয়েই প্রথমে ম্যাক্স হাসপাতালকে নোটিশ করবো। এরপর জওয়াব দেযার পরই পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে। মনে রাখবেন, কেউ কাওকে মন্দ বললো, আর সরি বলে পার পাবে সেটা সম্ভব না। সেটা ব্যক্তিবিশেষ হতে পারে। এখানে অপরাধ করার পর সরিতে মুক্তি দেয়ার সুয়োগ নেই।' বেসরকারি হাসপাতাল ও ক্লিনিক সম্পর্কে তিনি বলেন,'দেশের কতটি হাসপাতাল অনুমোদিত তা ঘরে বসেই দেখা যাবে। এখন আর স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় বা স্বাস্থ্য অধিদপ্তরে যেতে হবে না। আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে নিবন্ধিত (সরকার অনুমোদিত) সরকার হাসপাতাল, ক্লিনিক ও ডায়াগস্টিক সেন্টারের তালিকা স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইটে দিয়ে দেয়া হবে। এরপরই দেশের সরকারি আইনপ্রয়োগকারী সংস্থা ওই তালিকা দেখে দেখে এ্যাকশনে যাবে। এছাড়া পুলিশ ও আইনপ্রয়োগকারী সংস্থাকে সরকার অনুমোদিত (স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় থেকে লাইসেন্সপ্রাপ্ত) হাসপাতাল, ক্লিনিক ও ডায়াগস্টিক সেন্টারের তালিকা দিয়ে দেয়া হবে।' নতুন লাইসন্সে সম্পর্কে তিনি বলেন, 'একটি হাসপাতাল অনুমোদন নিতে হলে কমপক্ষে তিনজন স্থায়ী চিকিৎসক ও ৬ জন সনদধারী নার্স থাকতে হবে। এছাড়া একজন চিকিৎসক একটি হাসপাতালেই নিবন্ধিত হতে পারবেন। একাধিক হাসপাতালে নিবন্ধিত হওয়ার সুযোগ রাখা হয়নি। যার কারণে ব্যাংগের ছাতার মতো গড়ে ওঠা হাসপাতাল ক্লিনিক এমনিতেই বন্ধ হয়ে যাবে।' উপস্থিত সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে চট্টগ্রামের বেসরকারি হাসপাতাল ও ক্লিনিক সম্পর্কে তিনি বলেন,'আমাকে তালিকা দেন আমি কি এ্যাকশন নেই দেখুন। ডায়াগস্টিক সেন্টারের অনেক চিকিৎসক স্বাস্থ্য বাণিজ্য করেন। দেখা গেছে চিকিৎসক হজে বা অন্য কোনো স্থানে, অথচ তার স্বাক্ষরে ল্যাব পরীক্ষার সনদ দেয়া হচ্ছে। এসব আর চলবে না।' পরে রাত সাড়ে বারটার সময় নিহত শিশু রাইফার বাবা সাংবাদিক রুবেল খানের বাসায় যায় ঢাকার থেকে আসা এই তদন্ত কমিটি। সেখানে গিয়ে তদন্ত কমিটির প্রদান কাজী জাহাঙ্গীর হোসেন সাংবাদিক রুবেল খান দম্পত্তিকে সমবেদনা জ্ঞাপন করেন। এরপর শিশু রাইফাকে ম্যাক্স হাসপাতালে ভর্তি থেকে শুরু করে মৃত্যুর পর বিএমএ নেতাদের উদ্ধত্যপূর্ণ আচরণে বর্ণনা করেন। এই সময় কান্নায় ভেঙে পড়েন সাংবাদিক রুবেল খান । মুহূর্তেই পুরো পরিবেশ নিস্তব্ধ হয়ে যায়। কান্না করেন উপস্থিত সবাই। পরে কাজী জাহাঙ্গীর হোসেন সাংবাদিক রুবেল খানকে আশ্বস্ত করে বলেন, 'আমি যেটা দেখেছি ও শুনেছি সেটাই লিখবো। আমি চেয়েছিলাম পাঁচজন সাংবাদিক নেতা ও পাঁভ জন বিএমএ নেতার বক্তব্য শুনবো। কিন্তু সেটা হলো না।' এর আগে রাত নয়টার দিকে নগরের ম্যাক্স হাসপাতালে চিকিৎসকের অবহেলায় আড়াই বছরের শিশু রাইফার মৃত্যুর ঘটনায় সাংবাদিক ও বিএমএ নেতাদের সাথে ম্যাক্স হাসপাতালে বৈঠকে বসেন ঢাকা থেকে তদন্তে আসা স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা। ম্যাক্স হাসপাতালের সভাকক্ষে বৈঠকে প্রথমমে বিএমএ নেতারা তাদের বক্তব্য তুলে ধরেন। এরপর সাংবাদিক নেতারা রাইফার চিকিৎিসা অবহেলা ও ভুল চিকিৎসা প্রদানের কথা তুলে ধরতে গেলে বাধা দেন বিএমএর কিছু নেতা। এসময় সাংবাদিকদের থামিয়ে দিয়ে তদন্তকে ভিন্নখাতে প্রভাবিত করার চেষ্টা করেন। তৎক্ষনাৎ সাংবাদিক নেতৃবৃন্দ বৈঠক বয়কট করে হাসপাতাল প্রবেশমুখে অবস্থান নেন এবং দীর্ঘ দেড় ঘণ্টা বিক্ষোভ মিছিল ও প্রতিবাদ সমাবেশ করেন। ওই সময় তারা অবৈধ ম্যাক্স হাসপাতাল বন্ধ ও ভুল চিকিৎসা দিয়ে রাইফাকে হত্যায় জড়িত চিকিৎসকদের শাস্তি দাবি জানান। পরে বিক্ষোভ মিছিলটি ম্যাক্স হাসপাতাল থেকে বের হয়ে নগরের কাজির দেউড়ি গিয়ে শেষ হয়। এরপরই স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় থেকে তদন্তে আসা টিমের প্রধান সাংবাদিক নেতাদের সাথে কথা বলতে চট্টগ্রাম প্রেসক্লাবে এবং সন্তানহারা সাংবাদিক রুবেল খানের বাসায় গিয়ে বক্তব্য শুনেন। তদন্তে আসা স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের অন্য রতিনিধিরা হলেন, শেখ মো. মনজুরুল রহমান, মাকসুদুর রহমান ও চট্টগ্রামের সিভিল সার্জন ডা. আজিজুর রহমান সিদ্দিকী। সূত্র: পরিবর্তন
ভুল চিকিৎসায় শিশুর মৃত্যু, সাংবাদিকদের প্রতিবাদ সমাবেশ
নগরের বেসরকারি ম্যাক্স হাসপাতালে ভুল চিকিৎসা ও চিকিৎসকের অবহেলায় চট্টগ্রাম সাংবাদিক ইউনিয়নের সদস্য, দৈনিক সমকালের স্টাফ রিপোর্টার রুবেল খানের আড়াই বছরের শিশু রাইফা খানের মৃত্যুর প্রতিবাদে সমাবেশ করেছে সাংবাদিকরা। শনিবার (৩০ জুন) বিকেলে চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবের সামনে বিক্ষুব্ধ প্রতিবাদ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। চট্টগ্রাম সাংবাদিক ইউনিয়নের (সিইউজে) সভাপতি নাজিমুদ্দীন শ্যামলের সভাপতিত্বে সাধারণ সম্পাদক হাসান ফেরদৌসের সঞ্চালনায় সভায় বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়নের (বিএফইউজে) সাধারণ সম্পাদক ওমর ফারুক, সাবেক সাধারণ সম্পাদক আবদুল জলিল ভুইয়া, চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবের সভাপতি কলিম সরোয়ার, ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের সভাপতি আবু জাফর সুর্য, সাবেক সভাপতি শাবান মাহমুদ, সাবেক যুগ্ম সম্পাদক জাকারিয়া কাজল, বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়নের সহ-সভাপতি শহীদ উল আলম, যুগ্ম সম্পাদক তপন চক্রবর্তী, নির্বাহী সদস্য আসিফ সিরাজ, সিইউজের সিনিয়র সহ-সভাপতি মাঈনুদ্দীন দুলাল, চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবের সহ-সভাপতি কাজী আবুল মনসুর, যুগ্ম সম্পাদক চৌধুরী ফরিদ, সিইউজের অর্থ সম্পাদক কাশেম শাহ, প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক আহমেদ কুতুব, নির্বাহী সদস্য উত্তম সেনগুপ্ত ও ভুল চিকিৎসায় মৃত্যু হওয়া শিশু রাইফার বাবা সাংবাদিক রুবেল খান,নিউজ একাত্তর ডট কম এর সম্পাদক মো: নাছির উদ্দিন চৌধুরী প্রমুখ। ভুল চিকিৎসায় শিশুর মৃত্যুর প্রতিবাদে সাংবাদিকদের প্রতিবাদ সমাবেশ। ছবি: উজ্জ্বল ধরসাংবাদিক নেতারা বলেন, চট্টগ্রামের অধিকাংশ ডাক্তার সুনামের সঙ্গে চিকিৎসাসেবা দিচ্ছেন। কিন্তু কিছু ডাক্তার নামের কলঙ্ক। এ পেশার অবমাননা করছেন। তারা চিকিৎসার নামে বাণিজ্য করছে। তারা সামান্য অসুস্থ মানুষকে অর্থের লোভে লাশ করে ফেলছে। বিএমএ’কে বিক্রি করে চিকিৎসক নামধারী ডাক্তার ফয়সাল ইকবাল চৌধুরী চট্টগ্রামে বদলি বাণিজ্য, টেন্ডার বাণিজ্য, চাঁদাবাজি করছে। ফয়সাল ইকবাল নিজে আওয়ামী লীগের পরিচয় দিলেও জামায়াতের হাসপাতালের পরিচালক। তিনি মেডিকেলে তিন খুন মামলার আসামি পরিচয় দিয়ে গর্ববোধ করেন। ফয়সাল ইকবালকে আশ্রয় ও প্রশ্রয় দেওয়া মহানগর আওয়ামী লীগ নেতাদেরও হুশিয়ার করে দেন চট্টগ্রামের সাংবাদিক নেতারা। সাংবাদিক রুবেল খান বলেন, রাইফার ঠাণ্ডা লেগে গলা ব্যথা শুরু হয়। এতে খাওয়ার বন্ধ করে দেয় রাইফা। পরে বৃহস্পতিবার বিকেলে তাকে ম্যাক্স হাসপাতালে ভর্তি করানো হয়। ওই রাতে চিকিৎসক অ্যান্টিবায়োটিক দিলে রাইফা অস্বস্তিবোধ
দৈনিক সমকালের রিপোর্টার রুবেল খানের মেয়ের চিকিৎসকের ভুল চিকিৎসায় মৃত্যুর অভিযোগ
নগরের ম্যাক্স হাসপাতালে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের ভুল চিকিৎসা ও অবহেলার কারণে রাইফা খান (০৩) নামে এক শিশু কন্যার মৃত্যুর অভিযোগ উঠেছে। শুক্রবার (২৯ জুন) রাতে এ লোমহর্ষক ঘটনা ঘটে। রাইফা খান দৈনিক সমকালের স্টা্ফ রিপোর্টার রুবেল খানের মেয়ে। সাংবাদিক রুবেল খানের পরিবারের অভিযোগ, শিশু রাইফার গলার ব্যথাজনিত কারণে একজন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শে ম্যাক্স হাসপাতালে ভর্তি করানো হয়। হাসপাতালের দায়িত্বরত চিকিৎসক ও নার্সদের ভুল চিকিৎসা ও অবহেলার কারণে শিশু রাইফার মৃত্যু হয়। পরে তাৎক্ষনিকভাবে রাতেই চট্টগ্রামের সাংবাদিকনেতারা একত্রিত হয়ে ম্যাক্স হাসপাতালে অভিযুক্ত ডাক্তারসহ ৩ জনকে থানায় সোপর্দ করে। চকবাজার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আবুল কালাম বাংলানিউজকে বলেন, ম্যাক্স হাসপাতালের ঘটনায় রাতেই এক চিকিৎসকসহ ৩ জনকে থানায় নিয়ে আসা হয়। পরে সাংবাদিক ও চিকিৎসক নেতাদের সাথে আলাপ-আলোচনার মাধ্যমে একটি তদন্ত কমিটি গঠনের সিদ্ধান্ত হয়। কমিটিতে জেলা সিভিল সার্জন, সাংবাদিক ও পুলিশের প্রতিনিধি থাকবেন। তদন্তে কমিটির প্রতিবেদনে চিকিৎসায় কোন অবহেলা পাওয়া গেলে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের সিদ্ধান্ত হয়েছে। জেলা সিভিল সার্জন ডা. মো. আজিজুর রহমান সিদ্দিকী বাংলানিউজকে বলেন, সাংবাদিক কন্যার মৃত্যুর বিষয়টি শুনেছি। ঘটনার বিস্তারিত জানতে আমি এখন ম্যাক্স হাসপাতালে এসেছি। সূত্র: বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম
মরেছে ২০ প্রজাতির মাছ: হালদায় দূষণ
রুই-কাতলা-মৃগেল-কালবাউশ মাছের প্রাকৃতিক প্রজনন ক্ষেত্র ও নিষিক্ত ডিম সংগ্রহের জন্য বিখ্যাত হালদায় দূষণে সম্প্রতি ২০ প্রজাতির মাছ মারা গেছে। চারটি প্রধান মাছ ছাড়াও ৫ থেকে ৬ কেজি ওজনের আইড়, আড়াই কেজি ওজনের বামোস, চিংড়ি, চেউয়া, কুচিয়া, বুরগুনিও ছিল মরে ভেসে ওঠা মাছের তালিকায়। শুক্রবার সকালে চট্টগ্রাম প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান হালদা নদী রক্ষা কমিটির সভাপতি ড. মো. মনজুরুল কিবরীয়া। হালদা নদীতে সম্প্রতি ভয়াবহ দূষণ বিপর্যয়, কারণ চিহ্নিতকরণ এবং নদী রক্ষার উপায় জানাতে এ সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়। এতে হালদা নদী ব্যবস্থাপনায় সমন্বয়ের জন্য হালদা নদী কমিশন গঠন করারও দাবি জানানো হয়। চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণিবিদ্যা বিভাগের হালদা রিভার রিসার্চ ল্যাবরেটরির কো-অর্ডিনেটর প্রফেসর কিবরীয়া দখল-দূষণ থেকে হালদাকে রক্ষায় ১১টি সুপারিশ তুলে ধরেন। সুপারিশগুলো হচ্ছে পিডিবির হাটহাজারী পিকিং পাওয়ার প্ল্যান্টসহ অক্সিজেন মোড় এলাকা থেকে কূলগাঁও পর্যন্ত শিল্প-কারখানায় ইটিপি স্থাপন ও এশিয়ান পেপার মিলসহ অন্য কারখানাগুলো ইটিপি ব্যবহারে বাধ্য করা। এছাড়া হাটহাজারীর নন্দীর হাটের মরাছড়া খালের বর্জ্য ডাম্পিং স্থায়ীভাবে বন্ধ করা, বিক্ষিপ্তভাবে গড়ে ওঠা অবৈধ পোলট্রি খামারগুলোর দূষণরোধে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ। চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (সিডিএ) অনন্যা আবাসিক এলাকার ভরাট হয়ে যাওয়া বামনশাহী খাল পুনর্খনন করে আগে অবস্থানে ফিরিয়ে আনা এবং অনন্যা আবাসিকের মাস্টার ড্রেনেজ সিস্টেমকে বামনশাহী খাল ও কুয়াইশ খাল থেকে বিচ্ছিন্ন করা। সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন কমিটির উপদেষ্টা শামসুল হক হায়দরী, সহ-সভাপতি চৌধুরী ফরিদ, প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক রেজা মোজাম্মেল, আমিন মুন্না, ডিম সংগ্রহকারী কামাল উদ্দিন সওদাগর, আশু বড়ুয়া, দুলাল দাস, শ্রীরাম জলদাস, চবি শিক্ষক আমেনা বেগম। হালদা নদী রক্ষা কমিটির সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ আলী বলেন, হালদা জোয়ার ভাটার নদী।
আপৎকালীন ধান চাষ- শেরপুরে
বগুড়ার শেরপুরে এবার বোরোতে ফলন ভালো হয়েছে। তবে কৃষক ফসলের আশানুরূপ দাম পাননি। প্রতিকূল আবহাওয়ার কারণে তারা লোকসানে ধান বিক্রি করতে বাধ্য হয়েছেন। এরপরও তারা হতাশ নন। অনেকটা ঝুঁকি নিয়েই আবারও তারা নবউদ্যমে মাঠে নেমেছেন। বাড়তি আয় ও ক্ষতি পুষিয়ে নিতে তারা এখন বাড়তি ফসল হিসেবে ‘আপৎকালীন ধান’ চাষে ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছেন। গেল কয়েক বছরের মতো এবারও বগুড়ার শেরপুরের কৃষক বোরো ধান ঘরে তোলার পর আপৎকালীন ফসল বলে খ্যাত জিরাশাইল ও পারিজাত ধান লাগানোর কাজ গুটিয়ে এনেছেন। স্থানীয় কৃষি অফিস জানায়, উপজেলার ৫ হাজার ১০ হেক্টর জমিতে রোপা আউশ মৌসুমের জিরাশাইল ও পারিজাত ধান চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়। তবে সে লক্ষ্যমাত্রা অতিক্রম করেছে। প্রায় ৫ হাজার ২০০ হেক্টর জমিতে এ ধান চাষ করা হয়েছে। এদিকে বোরো ও রোপা আমন মৌসুমের মাঝের ফাঁকা তিন মাসে এখানকার কৃষক বাড়তি ফসল হিসেবে এ ধান চাষ করেন। অথচ শস্যভা-ার খ্যাত উত্তরাঞ্চলের কেবল বগুড়ায়ই এ সময় প্রায় সোয়া লাখ হেক্টর জমি অনাবাদি পড়ে থাকে। এসব জমি এ বাড়তি ফসল চাষের আওতায় আনা গেলে মঙ্গাপীড়িত এ অঞ্চলের অর্থনীতিতে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। অনুসন্ধানে জানা গেছে, প্রতি বছর মধ্য জুলাই থেকে মধ্য অক্টোবর পর্যন্ত রোপা আমন মৌসুম চলে। আবার একইভাবে মধ্য অক্টোবর থেকে মার্চ পর্যন্ত এ দীর্ঘ প্রায় ছয় মাস বোরো মৌসুম হিসেবে পরিচিত। আর এ দুই মৌসুমের মাঝের সময়কে রোপা আউশ মৌসুম বলে। এ ফাঁকা সময়ে দেশের প্রায় অঞ্চল বিশেষ করে উত্তরাঞ্চলের অধিকাংশ জমিতে কৃষক কোনো ফসল চাষ করেন না। অথচ এ এলাকার বিশাল অংশজুড়ে ওই দুই জাতের ধান চাষ করা হয়। স্থানীয়ভাবে যা বর্ষালী, আপৎকালীন বা বাড়তি ফসল নামে পরিচিত। গেল দুই যুগ ধরে কৃষকরা জিরাশাইল ও পারিজাত ধান চাষ করে আসছেন। দিন যতই গড়িয়ে যাচ্ছে, চাষের জমি ততই বৃদ্ধি পাচ্ছে। উপজেলার সাধুবাড়ী গ্রামের কৃষক শহিদুল ইসলাম ওরফে সদের আলী জানান, হতাশার পরও তিনি এ বছর প্রায় ১০ বিঘা জমিতে জিরাশাইল ও পারিজাত ধান লাগিয়েছেন। গতবার যা ছিল প্রায় ৭ বিঘা। তিনি ১০ থেকে ১২ বছর ধরে এ ফসল চাষ করে আসছেন। মামুরশাহী গ্রামের সোহেল হাজী জানান, তিনি এবার ২০ বিঘা জমিতে জিরা ও পারি ধান লাগিয়েছেন। তবে গেল বছর ছিল আট বিঘা। একইভাবে কৃষক গোলাম রব্বানী, লুৎফর রহমান, হায়দার আলীসহ একাধিক কৃষক জানান, আশির দশকে রোপা আউশ মৌসুমে খুব অল্প পরিমাণ জমিতে ধান চাষ করা হতো। আবার যারা চাষ করত, সেটা রোপা আকারে নয়। তারা জানান, জমি তৈরি করে সেখানে ধানবীজ ছিটিয়ে দেওয়া হতো। কিন্তু ’৯০ সালের পর থেকে এখানকার কৃষক বাড়তি আয়ের আশায় একটি নির্দিষ্ট জাতের ধান এ ফাঁকা সময়ে রোপা আকারে চাষ শুরু করেন। সেই থেকে এখানকার কৃষককে আর পিছে তাকাতে হয়নি। ধীরে ধীরে চাষের জমির আওতা বাড়িয়ে দিয়েছেন। উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা শারমিন আক্তার বলেন, উপজেলার বরেন্দ্র খ্যাত বেশ কয়েকটি ইউনিয়নে এ ফসল অধিক হারে চাষ হচ্ছে। এসব এলাকার জমি এ ফসল চাষের উপযোগী এবং পানি সমস্যাও অপেক্ষাকৃত কম। তাই এ জাতের ধান চাষে কৃষক আগ্রহী হয়ে উঠছেন। এছাড়া আগে উচ্চফলনশীল বীজের সমস্যা ছিল। এখন সে সমস্যা নেই। এখন ইচ্ছে করলেই একজন কৃষক বিভিন্ন জাতের ভালো ধানবীজ কিনতে পারছেন; যা থেকে ফলনও বেশ ভালো পাওয়া যায় বলে তিনি উল্লেখ করেন।
ইসলামে যৌতুক প্রথার কোন স্থান নেই:আল্লামা মুহাম্মদ আবুল কাশেম নূরী
আন্জুমানে রজভীয়া নূরীয়া বাংলাদেশের কেন্দ্রীয় চেয়ারম্যান পীরে তরিক্বত আল্লামা মুহাম্মদ আবুল কাশেম নূরী বলেন, কল্যাণময় জীবন ব্যবস্থা ইসলাম। অকল্যাণের সঙ্গে এ জীবন ব্যবস্থার কোনো সম্পর্ক নেই। মানব সমাজকে সত্য, সুন্দর ও কল্যাণের পথে চলতে উদ্বুদ্ধ করে ইসলাম। মানুষের জন্য অবমাননাকর কোনো কিছুই ইসলামে অনুমোদনযোগ্য নয়। মনুষ্যত্বের জন্য অবমাননাকর যৌতুক প্রথার কোনো ঠাঁই ইসলামে নেই। নারী নিগ্রহের এ প্রথা ইসলামী বিধানের সম্পূর্ণ পরিপন্থী। ইসলাম নারীকে মর্যাদার আসন দিয়েছে। বিয়ের সময় স্ত্রীর কাছ থেকে যৌতুক নেওয়া নয় বরং স্ত্রীকে মোহর দেওয়ার জন্য বাধ্যবাধকতা আরোপ করেছে। পবিত্র কোরআনের সূরা নিসার ৪ নম্বর আয়াতে ইরশাদ করা হয়েছে 'তোমরা নারীদের তাদের মোহর, স্বতঃপ্রবৃত্ত হয়ে প্রদান করবে।' তিনি বলেন, ইসলাম শুধু যৌতুক প্রথার বিরোধীই নয় বিয়েশাদির ক্ষেত্রে সব ধরনের অপচয়ের বিপক্ষে। এ ধরণের অনৈসলামিক কার্যক্রম থেকে সমাজ ও রাষ্ট্রকে রক্ষায় তিনি সংগঠনের নেতাকর্মিদের সোচ্চার হওয়ার আহবান জানান। গতকাল ২৬ জুন মঙ্গলবার দুপুরে নাসিরাবাদ শাহী জামে মসজিদে আন্জুমানে রজভীয়া নূরীয়া কাতার শাখার সভাপতির আলহাজ্ব ফোরকান রেযার সাথে মতবিনিময়কালে তিনি উপর্যুক্ত মন্তব্য করেন। এসময় উপস্থিত ছিলেন রজভীয়া নূরীয়া ইসলামী সাংস্কৃতিক ফোরামর সভাপতি ও বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রসেনা মহানগর উত্তরের সভাপতি ছাত্রনেতা শায়ের মুহাম্মদ মাছুমুর রশীদ কাদেরী, আলহাজ্ব নূরুল ইসলাম, মুহাম্মদ আলী, বিশিষ্ট ব্যবসায়ি এস.এম ইকবাল বাহার চৌধুরী, আবু গালেব মুহাম্মদ রায়হান নূরী, খুলশী ছাত্রসেনার সাংগঠনিক সম্পাদক মাওলানা নুরুজ্জামান, মুহাম্মদ রাশেদ, মুহাম্মদ বরাত প্রমুখ।প্রেস বিজ্ঞপ্তি
চট্টগ্রামে কিশোরীকে গলাকেটে হত্যা
বুধবার (২৭ জুন) সকাল পৌনে ১০টার দিকে চট্টগ্রামে বাকলিয়া থানার লায়লা ভবনে নিজ বাসায় ইলহাম (১২) নামে এক কিশোরীকে গলাকেটে হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা। চট্টগ্রামের মেরন সান স্কুল অ্যান্ড কলেজের ষষ্ঠ শ্রেণির ছাত্রী নিহত ইলহাম একই এলাকার মো. নাছিরের মেয়ে। পরিবারের বরাত দিয়ে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালের পুলিশ ফাঁড়ির সহকারী উপ পরিদর্শক (এএসআই) শীলব্রত বড়ুয়া বলেন, ইলহামকে বাসায় রেখে আরেক সন্তানকে স্কুলে দিতে যান মা। পরে মা বাসায় ফিরে দেখেন মেয়ে রক্তাক্ত অবস্থায় ছটফট করছে। তাৎক্ষণিক মেয়েকে উদ্ধার করে চমেক হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।
চট্টগ্রামে ১০০০ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট সহ আটক ১
চট্টগ্রাম :২৬ জুন চট্টগ্রাম নগরীর কোতোয়ালী থানাধীন জলসা মার্কেটের নীচ তলা আমান উল্ল্যাহ শরীফ টেলিকম নামক দোকানের সামনে সিড়ির গোড়া হইতে ১০০০ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট সহ মোঃ নাজিম উদ্দিন প্রকাশ কট নাজিম (২৭) কে কোতোয়ালী থানার পুলিশ গ্রেফতার করেন। আসামী পেশাদার অপরাধী এবং পেশাদার মাদক ব্যবসায়ী। জিজ্ঞাসাবাদে আসামী তাহার নাম ঠিকানা প্রকাশসহ ঘটনাস্থলে উক্ত মাদকদ্রব্য বিক্রয়ের উদ্দেশ্যে নিজ হেফাজতে রাখিয়াছিল মর্মে স্বীকার করে। এসআই/মোঃ হারুন অর রশিদ বাদী হইয়া এজাহার দায়ের করিলে আসামীর বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য আইনে একটি মামলা রুজু হয়। আসামীর বিরুদ্ধে কোতোয়ালী থানায় একাধিক মামলা আছে। পলাতক আসামীর গ্রেফতার অভিযান অব্যাহত আছে।