যৌতুক না পেয়ে অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রীকে শ্বাসরোধে হত্যার অভিযোগ
কুমিল্লার নাঙ্গলকোটে যৌতুক না পেয়ে ৮মাসের অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রীকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করেছে পাষ- স্বামী। শনিবার দুপুরে নাঙ্গলকোটের বটতলী ইউনিয়নের লক্ষ্মীপুর গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। নিহত অন্তঃসত্ত্বা গৃহবধূর নাম নাছরিন আক্তার (২০)। সে ওই গ্রামের মীর হোসেনের পুত্র ইলিয়াস হোসেনের স্ত্রী। খবর পেয়ে পুলিশ দুপুরে লাশ উদ্ধার করে ময়না তদন্তের জন্য কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠিয়েছে। ঘটনার পর থেকে স্বামী ইলিয়াসসহ তার পরিবারের লোকজন পলাতক রয়েছে বলে জানিয়েছে নাঙ্গলকোট থানা পুলিশ। পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, নাঙ্গলকোট উপজেলার দৌলখাঁড় ইউনিয়নের বাম ভুঁইয়া বাড়ির মৃত আইয়ুব আলীর মেয়ে নাছরিন আক্তারের সাথে গত দশ মাস আগে বিয়ে হয় পার্শ্ববর্তী বটতলী ইউনিয়নের লক্ষীপুর গ্রামের মীর হোসেনের ছেলে ইলিয়াছ হোসেন সাগরের। এর পর থেকে ইলিয়াছ হোসেন এবং তার পরিবারের লোকজন নাছরিন আক্তারকে যৌতুকের জন্য নানাভাবে চাপ দিয়ে আসছিলো। এরই জের ধরে শনিবার দুপুরে তর্ক-বিতর্কের এক পর্যায়ে ইলিয়াছ হোসেন নাছরিন আক্তারকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করে। হত্যার পর থেকে ইলিয়াছ হোসেনসহ পরিবারের লোকজন বাড়ি থেকে পালিয়ে যায়। এরপর প্রতিবেশির মাধ্যমে খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে নাছরিনের লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য কুমেক হাসপাতালে পাঠায়। বিকেলে নিহত নাছরিন আক্তারের মা শামছুন্নাহার বাদি হয়ে মেয়ের জামাই তার শ্বশুর, শাশুড়িসহকে আসামি করে নাঙ্গলকোট থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা নাঙ্গলকোট থানা পুলিশের উপ-পরিদর্শক (এসআই) খোরশেদ আলম বলেন, খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছে লাশ উদ্ধার করেছি। নিহত নাছরিনের গলায় আঘাতের চিহ্ন দেখা গেছে। ধারণা করা হচ্ছে তাকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করা হয়েছে। এদিকে নাছরিনের শ্বশুরবাড়ি গিয়ে কাউকে পাওয়া যায়নি উল্লেখ করে তিনি বলেন, ময়নাতদন্তের রিপোর্ট পাওয়া গেলে মৃত্যুর সঠিক কারণ জানা যাবে।
পৃথক অভিযানে দুই নারীসহ গ্রেফতার ৪ ব্রাহ্মণবাড়িয়ায়
ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় পৃথক অভিযানে ৪০০ পিস ইয়াবা ও ১০০ বোতল ফেন্সিডিল নিয়ে দুই নারীসহ চারজনকে গ্রেফতার করেছেন পুলিশ। শনিবার সকাল ৯টায় কুমিল্লা-সিলেট মহাসড়কে পৌর এলাকার ভাদুঘর থেকে এক বোতল ফেন্সিডিলসহ দুইজন এবং ঢাকা-আগরতলা সড়কের সদর উপজেলার কোড্ডা ব্রিজের কাছ থেকে চারশ ইয়াবাসহ দু জনকে গ্রেফতার করা হয়। গ্রেফতারকৃতরা হলো- কিশোরগঞ্জ জেলার ভৈরব উপজেলার চন্ডিবেড় এলাকার মৃত ধনু মিয়ার স্ত্রী অঞ্জনা বেগম(২০) ও একই এলাকার আনার মিয়ার স্ত্রী মদিনা বেগম(৩৫)। বিজয়নগর উপজেলার সেজামুড়া গ্রামের কালা মিয়ার ছেলে অলী ওরফে পালন (২২) ও একই এলাকার মৃত আনু মিয়ার ছেলে সোহাগ মিয়া(২৫)। ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ওসি (তদন্ত) জিয়াউল হক ঘটনা সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।
মহাসড়কে এক্সেল লোড নিয়ন্ত্রণ বন্ধের দাবি রমজানে
রমজানে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে পণ্য পরিবহনে এক্সেল লোড নিয়ন্ত্রণ স্থগিত করার লক্ষ্যে সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রীর প্রতি আহবান জানিয়েছেন চিটাগাং চেম্বার সভাপতি মাহবুবুল আলম। শনিবার এক জরুরী পত্রের মাধ্যমে এই আহবান জানান। পত্রে তিনি বলেন-সম্প্রতি বৃহত্তর চট্টগ্রাম থেকে সারা দেশে পণ্য পরিবহনের ক্ষেত্রে ২(দুই) এক্সেল (৬ চাকা) বিশিষ্ট মোটরযানের মাধ্যমে মাত্র ১৩ টন ওজন নির্দিষ্ট করে দেয়ার ফলে পরিবহন ব্যয় দ্বিগুণ বৃদ্ধি পেয়েছে। শিল্পের কাঁচামাল, ভোগ্য ও নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য পরিবহনের ক্ষেত্রে কেজি প্রতি ৩/৪টাকা পর্যন্ত বৃদ্ধি পেয়েছে। দেশের অন্য কোন মহাসড়কে ওজন নিয়ন্ত্রণ না থাকার কারণে চট্টগ্রাম অঞ্চলের ব্যবসায়ীবৃন্দ অসম প্রতিযোগিতার সম্মুখীন হচ্ছে এবং আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছে বলে চেম্বার সভাপতি মাহবুবুল আলম মনে করেন। দেশের আমদানি-রপ্তানি বাণিজ্যের প্রায় ৮২% চট্টগ্রাম বন্দরের মাধ্যমে সম্পাদিত হয়। সুপ্রাচীন ঐতিহ্যের অধিকারী বাণিজ্যনগরী চট্টগ্রাম থেকে আমদানিকৃত নিত্যপ্রয়োজনীয় ভোগ্যপণ্য ও বিভিন্ন শিল্পের কাঁচামাল সারাদেশে সরবরাহ করা হয়ে থাকে। অন্যদিকে, আসন্ন রমজানে সরকার সারাদেশে নিত্যপ্রয়োজনীয় ভোগ্যপণ্যের মূল্য নিয়ন্ত্রণে রাখার লক্ষ্যে বিভিন্ন কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। তবে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে উল্লেখিত ওজন নিয়ন্ত্রণের কারণে পরিবহন ব্যয় বৃদ্ধির ফলে সারাদেশের সাধারণ মানুষ এসব পদক্ষেপের সুফল থেকে বঞ্চিত হবে এবং মূল্যস্ফীতি বৃদ্ধি পাবে বলে তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করেন। এ প্রেক্ষিতে বৃহত্তর চট্টগ্রাম থেকে সারাদেশে শিল্পের কাঁচামাল ভোগ্যপণ্য ও লবণ পরিবহনে অতিরিক্ত ব্যয় লাঘব করে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের মূল্য সাধারণ মানুষের নাগালে রাখার লক্ষ্যে বিশেষ করে আসন্ন রমজানে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে ২ (দুই) এক্সেলবিশিষ্ট মোটরযানে ১৩ টন ওজন পরিবহনের বাধ্যবাধকতা শিথিল করার লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রীর প্রতি চেম্বার সভাপতি মাহবুবুল আলম বিশেষ অনুরোধ জানিয়েছেন।
শান্তি আসবে না পাহাড়ে অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার না হলে
রাঙ্গামাটির নানিয়ারচর চেয়ারম্যান ও পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতির (এমএনলারমা) সহসভাপতি এডভোকেট শক্তিমান চাকমাকে হত্যা এবং শুক্রবার দাহক্রিয়াতে যোগদিতে যাওয়ার পথিমধ্যে ইউপিডিএফ (গণতান্ত্রিক) এর আহ্বায়ক তপন জ্যোতি চাকমাসহ পাঁচজন নিহতের ঘটনায় পাহাড়ে আতঙ্ক বিরাজ করছে। এই পরিস্থিতি দেখতে শনিবার সকালে রাঙ্গামাটি সফরে আসেন চট্টগ্রাম রেঞ্জের ডিআইজি ড. এস এম মনির উজ জামান। বিকেলে নানিয়ারচর বাজারে নানিয়রাচর থানার আয়োজনে বিশেষ আইন শৃঙ্খলা বিষয়ক সভা অনুষ্ঠিত হয়। নানিয়ারচরের বাচার এলাকায় এ সভা অনুষ্ঠিত হবে। সভায় প্রধান অতিথির ডিআইজি ড. এসএম মনির উজ জামান বলেন,আপনার দেখবেন ওই সব সন্ত্রাসীদের গ্রেফতার করে শাস্তির ব্যবস্থা করবো। এই ব্যাপারে আমাদের কঠোর অবস্থা থাকবে সব সময়। এই অস্ত্রের কাছে কত মা তার সন্তানকে হারিয়েছে। কত ছেলে আজ বাবা হারা। এমন বাংলাদেশ আমরা চাইনি। বাংলাদেশের অন্যান্য জেলার মত এটি কোন বিচ্ছিন্ন এলাকা নয়। আপনারা যা কিছু করবেন এটা হতে দেওয়া হবে না। এখানে যারা সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড করবে তাদের কাউকে বিন্দুমাত্র ছাড় দেওয়া হবে না। নানিয়ারচরে জোন কামান্ডার লে. কর্নেল বাহালুল আলম বলেন, আমাদের সকল শোককে শক্তিতে রূপান্তরিত করে অপরাধীদের বিরুদ্ধে এক হতে হবে। স্বার্থান্বেষী মহল যদি মনে করে জনপ্রতিনিধিকে হত্যা করে পার পাওয়া যাবে, তাদের বলবো তাদের যেখানে পাবো সেখান থেকে ধরে এনে আইনের আওতার আনা হবে। এসময় স্থানীয় এক মহিলা অবৈধ অস্ত্র উদ্ধারের দাবি জানান। তিনি বলেন, যদি পাহাড় থেকে এসব অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার করা না হয় তাহলে পাহাড়ে শান্তি আসবে না। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আব্দুলাহ আল মামুন তালুকদার সভাপতিতে এতে প্রধান অতিথি ছিলেন চট্টগ্রাম রেঞ্জের ডিআইজি ড. এসএম মনির উজ জামান, অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন, রাঙ্গামাটির জেলা প্রশাসক একেএম মামুনুর রশিদ, পুলিশ সুপার আলমগীর কবীর, নানিয়ারচর সেনা ক্যাম্পের জোন কামান্ডার লে. কর্নেল বাহালুল আলম, রাঙ্গামাটির অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর-সার্কেল) জাহাঙ্গীর আলম, উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান রণবিকাশ চাকমা, মহিলা ভাইস চেয়রাম্যান কোয়ালিটি চাকমা ও স্থানীয়রা।
দেশের জন্য জীবন উৎসর্গকারী বীরকন্যা প্রীতিলতা ওয়াদ্দেদার আমাদের সাহসের আলোকবর্তিতা
চট্টগ্রাম সাহিত্য পাঠচক্রের উদ্যোগে ব্রিটিশ বিরোধী আন্দোলনের অন্যতম পুরোধা মাষ্টার দা সূর্যসেনের সহযোদ্ধা দেশপ্রেমিক নারী বীরকন্যা প্রীতিলতা ওয়াদ্দেদারের ১০৭তম জন্মবার্ষিকী স্মরণে এক স্মরণ আলোচনা সভা সংগঠনের সভাপতি গত ৪ মে বিকেল পাহাড়তলীস্থ ইউরোপীয়ান ক্লাবস্থ প্রীতিলতা স্মারক ভাস্কর্য চত্ত্বরে অনুষ্ঠিত হয়। এতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ ও গবেষক প্রফেসর ড. গাজী সালেহ উদ্দীন। সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক আসিফ ইকবালের পরিচালনায় এতে অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সংগঠনের সহ সভাপতি ডাঃ জামাল উদ্দীন, সাংগাঠনিক সম্পাদক অমর দত্ত, দক্ষিণজেলা কৃষকলীগনেতা অমর দত্ত, সাংস্কৃতিক সংগঠক কানুরাম দে, সুমন চৌধুরী, রাশেদ মাহমুদ পিয়াস, রুমা বিশ্বাস, ইন্দিরা চৌধুরী, নুর নাহার বেগম, চুমকি দাশ, শাউলী সেন, ঝরনা বেগম, সাবিকুন নাহার সিদ্দিকী, রাজেশ দাশ, জলিল উল্লাহ,বিপ্লব প্রমুখ। সভায় প্রধান অতিথি তার বক্তব্যে বলেন প্রীতিলতারা আমাদের প্রেরণা আর এগিয়ে যাওয়ার সাহসী আলোকবর্তিতা। দেশমাতৃকার জন্য সেদিন ব্রিটিশদের বিরুদ্ধে মাষ্টার দা সূর্যসেন ও প্রীতিলতারা জীবন উৎসর্গ এদেশের স্বাধীনতার বীজ বপন করে গিয়েছিলেন। যা পরবর্তীতে হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ বাঙালী জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নেতৃত্বে আমরা আমাদের কাঙ্খিত স্বাধীনতা অর্জন করতে সক্ষম হয়েছি। তিনি আরো বলেন বর্তমান প্রজন্মের শিক্ষার্থীদেরকে বীরকন্যা প্রীতিলতা ওয়াদ্দেদারের আত্মত্যাগের ইতিহাস ও দেশপ্রেম থেকে শিক্ষা গ্রহণের আহবান জানান। সভা শেষে বীরকন্যা প্রীতিলতা ওয়াদ্দেদারের পাহাড়তলীস্থ স্মৃতি ভাস্কর্যে ফুলেল শ্রদ্ধা নিবেদন করেন নেতৃবৃন্দ।
তাসপিয়ার মৃত্যু রহস্যের কিনারা পেয়েছে পুলিশ
চট্টগ্রামের আলোচিত স্কুলছাত্রী তাসপিয়া আমিনের মৃত্যু রহস্য উদঘাটনের দ্বারপ্রান্তে পৌঁছে গেছে তদন্তকারী পুলিশ সদস্যরা। ঘটনার আরও একাধিক সিসি টিভির ফুটেজ হাতে পেয়েছে। সেগুলো পর্যালোচনায় বেশ কিছু তথ্য-উপাত্ত বেরিয়ে এসেছে। এখন অপেক্ষা ভিসেরা রিপোর্টের। এটি পেলেই তাসপিয়া আত্মহত্যা করেছে, নাকি হত্যার শিকার তার রহস্য জানা যাবে বলে আশাবাদী পুলিশ। পুলিশ এখন মোটামুটি নিশ্চিত, নগরীর চায়না গ্রিল রেস্টুরেন্ট থেকে বের হয়ে তাসপিয়া আর বাসায় ফিরে আসেনি। মৃত্যু রহস্য উদঘাটনে নতুন করে ওই রেস্টুরেন্টের সিসি টিভির একাধিক ভিডিও ফুটেজ সংগ্রহ করেছে পুলিশ। এছাড়া নগরের সন্দেহভাজন বেশ কিছু এলাকার সিসি টিভির ফুটেজও পুলিশের হাতে এসেছে। সংগ্রহ করা হয়েছে তাসপিয়াদের বাসার সিসি টিভির ফুটেজ। সূত্র জানায়, ভিডিও ফুটেজগুলো পর্যালোচনা করে পুলিশ জানতে পেরেছে, তাসপিয়া আমিনকে পতেঙ্গা সমুদ্র সৈকতে কারা নিয়ে গিয়েছিল। শুধু তাই নয়, তার মৃত্যু কিভাবে হয়েছে, তারও তথ্য-প্রমাণ পাওয়ার দাবি করেছে পুলিশ। কিন্তু, ময়নাতদন্তের রিপোর্ট (ভিসেরা ও সিআইডি) হাতে না পাওয়া পর্যন্ত এ বিষয়ে তদন্ত সংশ্লিষ্টরা প্রকাশ্যে কিছু বলছেন না। এ বিষয়ে সিএমপির সিনিয়র সহকারী পুলিশ কমিশনার (কর্ণফুলী জোন) মো. জাহেদুল ইসলাম পরিবর্তন ডটকমকে জানান, তদন্তে অনেক অগ্রগতি হয়েছে। আরেকটু অপেক্ষা করতে হবে। ঢাকা থেকে ময়নাতদন্তের রিপোর্ট হাতে পেলেই সব কিছু জানানো হবে। নতুন করে তাসপিয়ার বাসার সিসি টিভির ফুটেজে দেখা যাচ্ছে, ১ মে বিকেল পাঁচটা ২০ মিনিটে বাসা থেকে বের হয় তাসপিয়া। এরপর আর ফেরেনি। বাসার নিরাপত্তারক্ষী লোকমান হোসেনও পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে একই তথ্য দিয়েছেন। আর নগরীর গোলপাহাড় মোড়ের চায়না গ্রিল রেস্টুরেন্টের সিসি টিভির ফুটেজে দেখা গেছে, ওইদিন সন্ধ্যা সোয়া ছয়টার দিকে তাসপিয়া ও তার বন্ধু আদনান মির্জা সেখানে প্রবেশ করে। এরপর সন্ধ্যা ছয়টা ৩৭ মিনিটের দিকে তারা একসঙ্গে বেরিয়ে যায়। এরপর রেস্টুরেন্টের সামনে একটি সিএনজি অটোরিকশায় তাসপিয়াকে তুলে দিয়ে আদনান আরেকটি সিএনজি অটোরিকশায় তার পিছু নেয়। সন্ধ্যা ছয়টা ৪৮ মিনিটে ওআর নিজাম রোডে প্রিমিয়ার বিশ্ববিদ্যালয়ের সামনের সিসি টিভি ফুটেজে দেখা যায়, তাসফিয়ার বাসার গলির খানিক সামনে ধীরগতিতে চলছিল সিএনজি অটোরিকশাটি। বাসায় যেতে হলে ওয়েলফুড রেস্টুরেন্টের সামনের পথ পাড়ি দিয়ে মেডিকেল সেন্টারের গলি দিয়ে ঢোকার কথা। কিন্তু, সে পথে যায়নি তাসপিয়াকে বহনকারী সিএনজি অটোরিকশাটি। একই সিএনজি অটোরিকশাতে রাত আটটা ১০ মিনিটে তাসপিয়াকে পতেঙ্গা সমুদ্র সৈকতপাড়ে দেখা গেছে। তদন্তকারীরা বলছেন, যতটুকু জেনেছি তাসপিয়ার কাছে কোনো টাকা ছিল না। তাহলে সিএনজি অটোরিকশার ভাড়া কে দিল? পুলিশের ধারণা, চায়না গ্রিল রেস্টুরেন্টে অবস্থানকালে তাসপিয়ার আঙুলে একটি সোনার আংটি দেখা গেছে। কিন্তু, মরদেহ উদ্ধারের সময় সেটি পাওয়া যায়নি। এমনকি সঙ্গে থাকা মোবাইল ফোনটিও এখনঅব্দি পাওয়া যায়নি। উল্লেখ্য, গত ২ মে স্থানীয়রা পতেঙ্গা সমুদ্র সৈকতে একটি লাশ দেখতে পেয়ে থানায় খবর দেয়। খবর পেয়ে পুলিশ সৈকত এলাকার ১৮ নম্বর ব্রিজের উত্তর পাশে পাথরের ওপর উপুড় হয়ে পড়ে থাকা অজ্ঞাত লাশটি উদ্ধার করে। পরে স্বজনেরা লাশটি তাসপিয়ার বলে সনাক্ত করেন। সুরতহাল রিপের্টে মরদেহের এক চোখ উপড়ে ফেলা, অপর চোখ নষ্ট করে দেয়া ছাড়াও নাক-মুখ থেঁতলানো, পিঠ, বুক এবং নিতম্বে নির্যাতনের ছাপ পেয়েছে পুলিশ। তার বুকের মাঝেও নখের দাগ রয়েছে। এর আগে গত ১ মে বাসা থেকে বের হয়ে নিখোঁজ ছিল স্কুলছাত্রী তাসপিয়া আমিন। এ ঘটনায় ৩ মে তাসপিয়ার বাবা মোহাম্মদ আমিন পতেঙ্গা থানায় তাসপিয়ার বন্ধু আদনান মির্জাকে প্রধান আসামি করে ৬ জনের নামে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। আদনান মির্জা মামলার আসামি ফিরোজের পরিচালিত ‘রিচ কিডস’ নামের গ্যাংস্টারের (এডমিন) প্রধান। আর বাকি চার আসামি সেই গ্যাংস্টারের সদস্য- শওকত মিরাজ, আসিফ মিজান, ইমতিয়াজ সুলতান ইকরাম ও সোহায়েল প্রকাশ সোহেল। তাসপিয়ার বাবা মোহাম্মদ আমিন আসামিদের বিরুদ্ধে তার মেয়েকে গণধর্ষণের পর হত্যার অভিযোগ এনেছেন।
বাসের ধাক্কায় মা-মেয়ে নিহত ফেনীতে
ফেনীতে যাত্রীবাহী বাসের সঙ্গে সিএনজিচালিত অটোরিকশার সংঘর্ষে মা ও মেয়ে নিহত হয়েছেন। শনিবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে ফুলগাজী-ফেনী সড়কের বন্ধুয়া এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে। নিহতের ভাই আলী হোসেন ও স্থানীয়রা জানান, সকালে শহরে বাবার বাসা থেকে সিএনজিচালিত অটোরিকশাযোগে মেয়েসহ ফুলগাজীতে স্বামীর বাড়ীর উদ্দেশে বের হন হাসিনা আক্তার। তাদের বহনক অটোরিকশাটি বন্ধুয়া এলাকায় পৌঁছালে বিপরীত দিক থেকে আসা একটি যাত্রীবাহী বাসের সঙ্গে মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। এতে ঘটনাস্থলে হাসিনা আক্তার (২৮) ও তার মেয়ে উম্মে হাফসা (২) নিহত হয়। এসময় চালকসহ আরো দুইজন আহত হয়েছেন। নিহত হাসিনা আক্তার ফুলগাজী বিজয়পুর উপজেলার মো. সবুজের স্ত্রী। ফেনী সদর হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএমও) ডা. অসীম কুমার সাহা দুর্ঘটনায় দুইজন নিহতের সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।
পাহাড় হঠাৎ অশান্ত
আঞ্চলিক সংগঠনগুলোর দ্বন্দ্বে ফের অশান্ত হয়ে উঠেছে পাহাড়। গত বৃহস্পতিবার রাঙ্গামাটির নানিয়ারচর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ও জনসংহতি সমিতি-জেএসএসের (এমএন লারমা) সহ-সভাপতি শক্তিমান চাকমাকে হত্যার একদিনের মাথায় প্রকাশ্যে ব্রাশফায়ার করে মারা হয়েছে আরও পাঁচজনকে। গতকাল শুক্রবার শক্তিমানের শেষকৃত্য অনুষ্ঠানে যাওয়ার পথে খালিয়াজুড়ি এলাকায় দুর্বৃত্তরা এ ঘটনা ঘটিয়েছে। নিহতরা হলেন- ইউনাইটেড পিপলস ডেমোক্রেটিক ফ্রন্ট-ইউপিডিএফের (গণতান্ত্রিক) আহ্বায়ক তপন জ্যোতি চাকমা ওরফে বর্মা, জেএসএসের সহযোগী সংগঠন যুব সমিতির (এমএন লারমা) মহালছড়ি শাখার সভাপতি সুজন চাকমা, সদস্য তনয় চাকমা, রবিন চাকমা এবং তাদের বহনকারী মাইক্রোবাসচালক মো. সজীব। জেএসএসের (এমএন লারমা) কেন্দ্রীয় ছাত্রবিষয়ক সম্পাদক বাঘাইছড়ি উপজেলার সাবেক চেয়ারম্যান সুদর্শন চাকমা জানিয়েছেন, দুর্বৃত্তদের ব্রাশফায়ারে ঘটনাস্থলেই মারা যান তপন, সুজন ও তনয়। পরে হাসপাতালে নেওয়ার পথে মারা যান রবিন ও সজীব। তিনি জানান, শক্তিমানের অন্ত্যেষ্টিক্রিয়ায় যোগ দিতে সংগঠনের ১২ জন নেতাকর্মী খাগড়াছড়ি থেকে মাইক্রোবাসে করে রাঙ্গামাটির নানিয়ারচরের উদ্দেশে রওনা হয়েছিলেন। পথে বেতছড়ি এলাকায় তাদের গাড়িতে অতর্কিতে ব্রাশফায়ার করা হয়। জেএসএস (এমএন লারমা) এবং ইউপিডিএফ (গণতান্ত্রিক) দাবি করেছে, ইউপিডিএফের সন্ত্রাসীরাই এ ঘটনা ঘটিয়েছে। আগের দিন শক্তিমান চাকমাকেও হত্যা করেছে তারাই। জেএসএসের তথ্য ও প্রচার সম্পাদক সুধাকর ত্রিপুরা স্বাক্ষরিত এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে,ইউপিডিএফের সভাপতি প্রসিত বিকাশ খীসা, সাধারণ সম্পাদক রবি শংকর চাকমা, আনন্দ প্রকাশ চাকমা ও রঞ্জন মনি (আদি) চাকমার সিদ্ধান্তে জনসংহতি সমিতির নেতাদের খুন করার নির্দেশ দেওয়া হয়। রঞ্জন মনি (আদি) চাকমা বর্তমানে ইউপিডিএফের কোম্পানি কমান্ডার। তিনি মোবাইল ফোনে বিভিন্ন ইউনিটে এ সিদ্ধান্ত কার্যকর করার জন্য নির্দেশ দেন। নির্দেশ পাওয়ার পর সাজেক ইউনিয়ন পরিষদের মাচালং দীপুপাড়া এলাকার লক্কোচ চাকমা, ডাক নাম বাবু চাকমা, দলীয় নাম অর্পন চাকমা (কালেক্টর) একজন সহকারী নিয়ে মোটরসাইকেলে করে দুই ঝোলা কাঁধে রেখে অ্যাডভোকেট শক্তিমান চাকমাকে খুব কাছে ও সামনে থেকে গুলি করে মৃত্যু নিশ্চিত করে পালিয়ে যায়। বিবৃতিতে বলা হয়, এই বর্বরোচিত ও ন্যক্কারজনক হত্যাকাণ্ডের জন্য সন্ত্রাসী ও হত্যাকারী সংগঠন ইউপিডিএফ সরাসরি দায়ী। পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতির পক্ষ থেকে এ নৃশংস হত্যাকাণ্ডের তীব্র নিন্দা, ঘৃণা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছি এবং এ হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে অবিলম্বে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার জোর দাবি জানাই। ইউপিডিএফের (গণতান্ত্রিক) মিডিয়া উইংয়ের দায়িত্বে থাকা লিটন চাকমা বলেন, শক্তিমান চাকমাকে হত্যা করার পর তপনজ্যোতি চাকমা বর্মাকে হত্যার মধ্য দিয়ে পার্বত্য চট্টগ্রামে একক সন্ত্রাসী সংগঠন হিসেবে নিজেদের নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার জন্য ইউপিডিএফ একের পর এক খুনের ঘটনা ঘটিয়ে চলেছে। তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছে ইউপিডিএফ। গত বৃহস্পতিবার হত্যাকাণ্ডের পরপরই এতে জড়িত থাকার অভিযোগ অস্বীকার করেন ইউপিডিএফের মুখপাত্র নিরন চাকমা। তিনি বলেন,এটা মিথ্যা ও বানোয়াট। এ ঘটনার সঙ্গে ইউপিডিএফের কোনো সম্পৃক্ততা নেই। এ হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে কোনোভাবেই ইউপিডিএফ জড়িত না। জেএসএসের এমন অভিযোগের কোনো ভিত্তি নেই। এটা তাদের মনগড়া অভিযোগ। শক্তিমান যেখানে থাকতেন সেখান থেকে বাইরের কেউ গিয়ে তাকে হত্যা করে ফিরে আসা কঠিন। তাই আমার মনে হয়, এটি তাদের অভ্যন্তরীণ কোন্দলের কারণে হতে পারে। অথবা তৃতীয় কোনো পক্ষ ঘটনাটি ঘটিয়ে থাকতে পারে। রাঙ্গামাটি জেলা সদরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. জাহাঙ্গীর আলম জানিয়েছেন, তাৎক্ষণিকভাবে শক্তিমানের হত্যাকারীদের চিহ্নিত করা যায়নি। একইভাবে শক্তিমানের শেষকৃত্যে আসার পথে যারা হত্যার শিকার হয়েছেন তাদের কারা হত্যা করেছে সেটাও বলা যাচ্ছে না। তবে পুলিশ চেষ্টা করছে দ্রুততম সময়ে দুর্বৃত্তদের শনাক্ত করার। এ ঘটনার নিন্দা ও ক্ষোভ জানিয়েছে, পার্বত্য চট্টগ্রামবিষয়ক আন্তর্জাতিক কমিশন। গতকাল শুক্রবার কমিশনের কো-চেয়ারপারসন সুলতানা কামাল, এলসা স্টামাতোপৌলৌ ও মির্না কানিংহাম কেইন স্বাক্ষরিত এক বিবৃতিতে অবিলম্বে হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের গ্রেপ্তারের দাবি জানানো হয়। দেশের তিন পার্বত্য জেলা রাঙ্গামাটি, বান্দরবান ও খাগড়াছড়িতে আত্মনিয়ন্ত্রণ অধিকারের দাবিতে সন্তু লারমার নেতৃত্বাধীন পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতির (জেএসএস) সঙ্গে ১৯৯৭ সালে সরকারের শান্তিচুক্তির সময়ই মত ও পথ নিয়ে দ্বন্দ্বের কারণে জেএসএস থেকে বের হয়ে যায় একটি বিদ্রোহী গ্রুপ এবং শান্তিচুক্তির বিরোধিতা করে ১৯৯৮ সালে প্রসিত বিকাশ খীসার নেতৃত্বে তারা গড়ে তোলে ইউনাইটেড পিপলস ডেমোক্রেটিক ফ্রন্ট (ইউপিডিএফ)। টানা ১৯ বছর পর ইউপিডিএফও ভাঙনের মুখে পড়ে গত বছরের নভেম্বরে। ইউপিডিএফ থেকে বেরিয়ে গিয়ে নতুন দল হিসেবে আত্মপ্রকাশ করে ইউপিডিএফ (গণতান্ত্রিক), যার নেতৃত্ব দিচ্ছিলেন তপনজ্যোতি চাকমা বর্মা। অপরদিকে ২০১০ সালেই জেএসএস থেকে বেরিয়ে গিয়ে জেএসএস (এমএন লারমা) নামে পৃথক সংগঠন গড়ে তোলেন সুধাসিধু খীসা। বৃহস্পতিবার দুর্বৃত্তের গুলিতে নিহত নানিয়ারচর উপজেলা চেয়ারম্যান শক্তিমান চাকমা জেএসএসের এ অংশের সহ-সভাপতি ছিলেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে আইন বিষয়ে পড়াকালে তিনি ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় কমিটির নেতাও ছিলেন। পরে পড়াশোনা শেষ করে নিজ এলাকায় ফিরে গিয়ে যুক্ত হন জেএসএসের রাজনীতিতে। অভিযোগ উঠেছে, জুম্ম জনগোষ্ঠীর আত্মনিয়ন্ত্রণাধিকারের চেয়ে বিভক্ত আঞ্চলিক সংগঠনগুলোর আধিপত্য বিস্তারের ক্ষেত্র হয়ে উঠেছে তিন পার্বত্য জেলা। দীর্ঘদিন ধরে পার্বত্য অঞ্চলে গ্রুপগুলো নিজেদের মধ্যে রক্তারক্তিতে মেতে উঠেছে। ভাতৃঘাতী হয়ে উঠেছে এসব সংগঠনের নেতাকর্মীরা। পরস্পরে প্রভাব ও আধিপত্য বিস্তারের জের ধরেই পাহাড়ে একের পর এক খুন, ধর্ষণ, অপহরণ, চাঁদাবাজির মতো ঘটনা সবুজ পাহাড়কে রক্তে রঞ্জিত করছে। প্রতিটি ঘটনার জন্য সংগঠনগুলো দুষছে একে-অপরকে। এ নিয়ে সাধারণ পাহাড়িদের প্রতিমুহূর্তে উদ্বেগ-উৎকণ্ঠার মধ্যেই দিন কাটাতে হয়। এক পরিসংখ্যানে উঠে এসেছে পাহাড়ে বিবদমান জেএসএস, ইউপিডিএফ, জেএসএস (এমএন লারমা) এবং নবসৃষ্ট ইউপিডিএফ (গণতান্ত্রিক)-এ চার সংগঠনের আধিপত্য বিস্তারের জেরে হামলা-পাল্টা হামলার ঘটনায় গত দুই দশকে প্রায় ৬০০ জনকে প্রাণ হারাতে হয়েছে। এর মধ্যে গত বছরের নভেম্বর পর্যন্ত প্রায় তিন বছরের মতো পার্বত্যাঞ্চলে কোথাও ভাতৃঘাতী ঘটনা ঘটেনি। জানা গেছে, তিন আঞ্চলিক সংগঠন জেএসএস (মূলধারা), ইউপিডিএফ ও জেএসএসের (এমএন লারমা) মধ্যে অস্ত্রবিরতি চলছিল এ তিন বছর। কিন্তু ২০১৭ সালের ১৫ নভেম্বর ইউপিডিএফ-গণতান্ত্রিক নামে সংগঠনটির আত্মপ্রকাশের পর ফের অশান্তির মুখে পড়ে পাহাড়। সংগঠনটি আত্মপ্রকাশের মাত্র ২০ দিনের মাথায় ৫ ডিসেম্বর রাঙ্গামাটির নানিয়ারচরে সাবেক ইউপি সদস্য ও ইউপিডিএফ নেতা অনাদি রঞ্জন চাকমাকে ব্রাশফায়ারে হত্যা করা হয়। এর মধ্য দিয়ে ফের উত্তপ্ত হয়ে পড়ে পার্বত্য অঞ্চল। একই দিন পৃথক ঘটনায় জুরাছড়ি উপজেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক অরবিন্দু চাকমা, ১৫ ডিসেম্বর রাতে ধামাইছড়া এলাকায় ইউপিডিএফের সংগঠক অনল বিকাশ চাকমা ওরফে প্লুটো, ১০ মার্চ মধ্য রাতে ইউপিডিএফ নেতা নতুন মনি চাকমাকে হত্যা করে সন্ত্রাসীরা। খাগড়াছড়িতে ৩ জানুয়ারি আদালতে মামলার হাজিরা দিয়ে ফেরার পথে ইউপিডিএফ সংগঠক মিঠুন চাকমাকে মারা হয় গুলি করে। ১৭ ফেব্রুয়ারি খাগড়াছড়ি সদরের হরিনাথ পাড়ায় ইউপিডিএফ কর্মী দীলিপ কুমার চাকমা, ২১ ফেব্রুয়ারি দীঘিনালা জামতলি এলাকায় সাইন চাকমা হত্যার ঘটনা আরও উত্তাপ ছড়িয়ে দেয় পাহাড়ে। সর্বশেষ গত ১৮ মার্চ রাঙ্গামাটিতে ইউপিডিএফ সমর্থিত হিল উইমেন্স ফেডারেশনের কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক মন্টি চাকমা ও রাঙ্গামাটি শাখার সাধারণ সম্পাদক দয়াসোনা চাকমা অপহরণের ঘটনা সংঘাতে জড়িত দলগুলোর মধ্যে আরও প্রতিহিংসা তৈরি করে। ওই অপহরণের ঘটনায় ইউপিডিএফ-গণতান্ত্রিককে দায়ী করেছে হিল উইমেন্স ফেডারেশন। এমনই উত্তপ্ত পরিস্থিতিতে সর্বশেষ গত ১৫ এপ্রিল রাঙ্গামাটির বাঘাইছড়ি ও মারিশ্যা দীঘিনালার জোড়া ব্রিজ এলাকায় ইউপিডিএফের দুই নেতা তপন চাকমা (৪০) ও বিজয় চাকমাকে (৩২) গুলি করে হত্যা করা হয়। বৃহস্পতিবার জেএসএস (এমএন লারমা) নেতা ও নানিয়ারচর উপজেলা চেয়ারম্যান শক্তিমান চাকমা এবং গতকাল তার শেষকৃত্য অনুষ্ঠানে যাওয়ার পথে আরও পাঁচজনকে হত্যার ঘটনায় তিন পার্বত্যাঞ্চলকে চূড়ান্ত অশান্তি ও অনিশ্চয়তার দিকে ঠেলে দিল। এ ঘটনার পর থেকেই পার্বত্যাঞ্চলের সাধারণ পাহাড়ি ও বাঙালি অধিবাসীরা চরম উদ্বেগ ও উৎকণ্ঠায় রয়েছেন বলে জানিয়েছে স্থানীয় বিভিন্ন রাজনৈতিক সামাজিক মহল। পার্বত্য চট্টগ্রাম কমিশনের নিন্দা উপজেলা চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট শক্তিমান চাকমা হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় তীব্র নিন্দা ও ক্ষোভ জানিয়েছে পার্বত্য চট্টগ্রামবিষয়ক আন্তর্জাতিক কমিশন। গতকাল গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে কমিশনের পক্ষ থেকে এ নিন্দা ও ক্ষোভ জানানো হয়। পার্বত্যাঞ্চলে সহিংসতার ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে পার্বত্য চট্টগ্রামবিষয়ক আন্তর্জাতিক কমিশন বলেছে, সম্প্রতি পার্বত্য চট্টগ্রামে একের পর এক হত্যাকাণ্ড ও অপহরণের মতো ঘটনা সংঘটিত হচ্ছে। কিন্তু এসব ঘটনায় জড়িতদের গ্রেপ্তারের কোনো খবর এখনো শোনা যায়নি। সংঘটিত এসব ঘটনা সম্পর্কে স্থানীয় প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নীরব ভূমিকা নিয়ে যথেষ্ট সন্দেহের অবকাশ রয়েছে। বর্তমান সরকার পার্বত্য চুক্তি বাস্তবায়নের মাধ্যমে পাহাড়ে স্থায়ী শান্তি ফিরিয়ে আনার অঙ্গীকার যেখানে পুনর্বার ব্যক্ত করছে, সেখানে স্থানীয় প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর এমন নীরব ভূমিকা মোটেও কাম্য নয়। বিবৃতিতে ভবিষ্যতে পার্বত্য চট্টগ্রামে যাতে আর কোনো হত্যাকাণ্ড ও অপহরণের মতো ঘটনা সংঘটিত না হয় সে জন্য স্থানীয় প্রশাসন ও সরকারকে এ বিষয়ে আরও সোচ্চার থাকতে জোরালো আহ্বান জানানো হয়। বিবৃতিতে স্বাক্ষর করেছেন- পার্বত্য চট্টগ্রামবিষয়ক আন্তর্জাতিক কমিশনের কো-চেয়ারপারসন সুলতানা কামাল, এলসা স্টামাতোপৌলৌ ও মির্না কানিংহাম কেইন। কমিশনের সদস্য হিসেবে- ড. স্বপন আদনান, লারস এন্ডারস বেয়ার, টোনা ব্লাই, হার্স্ট হেনাম, ড. ইয়াসমিন হক, ড. জাফর ইকবাল, ব্যারিস্টার সারা হোসেন, খুশী কবির, মাইকেল সি ভন ওয়াল্ট প্রাগ, ড. ইফতেখারুজ্জামান, ড. বীণা ডিকস্টা এবং উপদেষ্টা ইয়েনেকি এরেঞ্জ, টম এস্কিলসন, ড. মেঘনা গুহঠাকুরতার নাম উল্লেখ রয়েছে বিবৃতিতে।
বোয়ালখালীতে বোদ্ধ ভিক্ষুকে লাঞ্চিত ও হামলার ঘটনায় আদলতে মামলা দায়ের
নিজেস্ব সংবাদদাতা,চট্টগ্রামঃ চট্টগ্রামের বোয়ালখালী থানাধীন হাজারীরচর এলাকায় গত ২৯ শে এপ্রিল বৌদ্ধ ধর্মের প্রধান ধর্মীয় অনুষ্ঠান বৌদ্ধ পূর্নিমা পালনের দিনে হাজারীরচর বৌদ্ধ মন্দিরের কতৃত্ব নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ হয়। বিজ্ঞ আদালতে দায়ের কৃত মামলার সূত্রে জানাযায় বৌদ্ধ ধর্মের প্রধান ধর্মীয় উৎসব বৌদ্দ পুর্নিমা পালনের উদ্দেশ্যে পল্টু বড়য়া উক্ত বৌদ্ধ বিহারে ধর্মীয় আয়োজন করা কালীন সময়ে উক্ত বৌদ্ধ বিহারে শান্তি শৃঙ্খলা রক্ষার্থে ঝুন্টু বড়য়া ও যীশু বড়য়া কতৃক স্বাক্ষরিত একটি আবেদন গত ২৮ শে এপ্রিল অফিসার ইনচার্জ বোয়ালখালী থানাকে প্রদান করেছিলেন কিন্তু দুর্ভাগ্যবশত বোয়ালখালী থানার পুলিশ কতৃক উক্ত আবেদনের প্রেক্ষিতে কোন রুপ আইনগত সহযোগীতা প্রদান না করার কারনে গত ২৯ শে এপ্রিল বৌদ্ধদের ধর্মীয় অনুষ্ঠানের ষড়যন্ত্র কারী ব্যক্তিগন কতৃক অতর্কিত ধারালো অস্ত্র-সস্ত্র সজ্জিত হয়ে বাংলাদেশ বৌদ্ধ ভিক্ষু মহাসভা ও বাংলাদেশ বৌদ্ধ কৃষ্টি প্রচার সংঘের অনুমোদিত শ্রীমৎ সংঘপাল ভিক্ষু মন্দিরে সন্নিকটে পূর্ব কালুরঘাট বাদামতলে তাহাকে লাঞ্চিত ও নির্যাতন করা কালীন সময়ে মাইকেল বড়য়া,বিপ্লব বড়য়া ও এলফেট বড়য়া (আশুতোষ) তাহারা বাধা প্রদান করিলে সত্যেন্দ্র বড়য়া সহ আরো ১৫/১৬ জন ব্যক্তিগনে হামলা করিলে তাহাতে এলফেট বড়য়া (আশুতোষ) আহত হয়ে চট্টগ্রাম মেডিকেলে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। উক্ত ঘটনায় বোয়ালখালী থানা কতৃক কোন প্রকার আইনগত সহযোগীতা প্রদান না করায় মাইকেল বড়য়া গত ৩ মে বিজ্ঞ সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত চট্টগ্রামে উল্লেখিত ব্যক্তিগনকে আসামী করিয়া একটি সি আর মামলা দায়ের করেন সি আর মামলা নং৭৭/১৮,উক্ত মামলা বিজ্ঞ আদালতে গ্রহন করিয়া বোয়ালখালী থানার ওসিকে ২০ দিনের মধ্যে সত্যতা তদন্ত পূর্বক প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ প্রদান করেন। মাইকেল বড়য়া কতৃক দায়ের কৃত মামলার আইনজিবী এডভোকেট জিয়া উদ্দিন বলেন,আমার মক্কেল সহ আরো অপরাপর ব্যক্তিগনে প্রতিপক্ষের সন্ত্রাসী হামলার শিকার হলেও বোয়ালখালী থানায় গিয়ে তারা কোন প্রকার আইনি সহযোগিতা না পেয়ে বিজ্ঞ আদালতের দারস্থ হয়েছেন, আশা করি আমরা বিজ্ঞ আদালতের মাধ্যমে ন্যায় বিচার পাব।

সারা দেশ পাতার আরো খবর