বগুড়ায় পাসপোর্ট কার্যালয়ের কর্মকর্তাকে কুপিয়ে জখম
বগুড়া আঞ্চলিক পাসপোর্ট কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক সাজাহান কবিরকে (৩৭) দিনে দুপুরে কুপিয়ে আহত করেছে দুর্বৃত্তরা। বৃহস্পতিবার বেলা পৌনে দুইটার দিকে বগুড়া শহরের কইগাড়ি পুলিশ ফাঁড়ির অদূরে বন বিভাগের সামনে দুর্বৃত্তরা অতর্কিত তাঁর ওপর হামলা চালায়। খানদার এলাকার কার্যালয় থেকে ব্যাটারিচালিত রিকশায় চড়ে জাহাঙ্গীরাবাদ ক্যান্টনমেন্ট বাসস্ট্যান্ডের দিকে যাচ্ছিলেন তিনি। পথচারীরা তাঁকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যান। শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের উপপরিচালক নির্মলেন্দু চৌধুরী বলেন, তার মাথা, হাত ও পায়ে কোপ লেগেছে। তিনটা জখম গুরুতর। অস্ত্রোপচার চলছে। ঘটনার পর পুলিশ সুপার আলী আশরাফ ভূঞা ও জেলা প্রশাসক মোহম্মদ নূরে আলম সিদ্দিকী হাসপাতালে যান। পুলিশ সুপার জানান, হামলাকারীদের সম্পর্কে তথ্য পাওয়া গেছে। তাঁরা পাঁচ-ছয়জন ছিলেন। তাদের গ্রেপ্তারের জন্য পুলিশ মাঠে নেমেছে। পাসপোর্ট কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, এর আগে স্থানীয় যুবলীগের এক নেতা পাসপোর্টের তদবির নিয়ে আসলে তা রাখেননি সাজাহান। তারাই ক্ষুব্ধ হয়ে হামলা চালিয়েছে বলে সন্দেহ করা হচ্ছে।
মাদকাসক্ত ছেলের হাতে পিতা খুন যশোরের ঝিকরগাছায়
যশোরের ঝিকরগাছায় বাবার আলী ওরফে কাঠু (৭৫) নামে এক কৃষককে কুপিয়ে হত্যা করেছে তার মাদকাসক্ত ছেলে আনারুল ইসলাম (৩৫)। পুলিশ ঘাতক ছেলে আনারুল ইসলামকে আটক করেছে। বুধবার দিবাগত রাত ৯টার দিকে ঝিকরগাছা উপজেলার গদখালি মাঠুয়াপাড়া গ্রামে নিহতের নিজের বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে। নিহত কাঠু গদখালি মাঠয়াপাড়া গ্রামের মৃত শ্যাম মড়োল আলীর ছেলে। স্থানীয় গদখালির ইউপি সদস্য রফিকুল ইসলাম জানান, বাবর আলী পেষায় একজন কৃষক ছিলেন। তার ছেলে আনারুল ইসলাম একজন মাদক সেবি। মাদক সেবনের কারনে তাকে তিনবার করে জেলহাজতে দেওয়া হয়েছে। জেল থেকে ছাড়া পেয়ে মাদকের নেশা ছাড়তে পারেনি। বুধবার দিবগত রাতে আনারুল সে তার বাবা কাঠুর কাছে নেশার টাকা চায়। টাকা দিতে অপারগতা প্রাকাশ করলে আনারুল বিচুলি কাটা বঠি দিয়ে সে তার বাবার ঘাড়ের ডান পাশে কোপ মারে। এসময় তিনি গরুতর রক্তাক্ত জখম হন। পরিবারের লোকজন ওই রাতেই কাঠুকে যশোর জেনারেল হাসপাতালে আনতে গেলে বানিয়ালি গ্রামে তার মৃত্যু হয়। পরে পুলিশ লাশ নিয়ে ঝিকরগাছা থানায় নিয়ে যায়। ঝিকরগাছা থানার ওসি আবু সালেহ মোহাম্মদ মাসুদ করিম বলেন, মাদকাসক্ত ছেলেকে নেশার টাকা না দেওয়ায় বাবার আলী নামে এক কৃষককে কুপি হত্যা করেছে তার ছেলে আনরুল। পুলিশ নিহতের লাশ উদ্ধার করে যশোর জেনারেল হাসপাতল মর্গে পাঠিয়েছে। বাবাকে কুপিয়ে হত্যাকারী মাদকাসক্ত ছেলে আনারুলকে আটক করা হয়েছে৷
যমুনা নদীর পাথর্শী মোরাদাবাদে অবৈধ বালু উত্তোলন চলছে !
জামালপুরের ইসলামপুরের পাথর্শী ইউনিয়নের মোরাদাবাদ এলাকার কতিপয় প্রভাবশালী বালু ব্যবসায়ীরা দীর্ঘদিন যাবত যমুনা নদী থেকে বুলগেট মেশিনে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন করছেন। এতে যমুুনা নদী ভাঙ্গনের হুমকির মুখে পড়েছে নতুন নতুন এলাকাসহ সরকারের ৪৬৮কোটি টাকা ব্যয়ে সদ্য নির্মিত যমুনার তীর সংরক্ষণ বাঁধ। সরেজমিন ঘুরে জানাগেছে, ইসলামপুরের পাথর্শী ইউনিয়নের মোরাদাবাদ থেকে কুলকান্দি পাইলিং ঘাট পর্যন্ত এলাকায় যমুনার বামতীর ঘেঁষে ১৫ ফুট উচু একটি বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ র্নির্মাণ চলছে। ওই বাঁধ নির্মাণের জন্য এবং বিভিন্ন এলাকায় বালু বিক্রির উদ্দেশ্যে স্থানীয় প্রভাবশালীরা যমুনার বুকে জেগে উঠা হরিণধরা ও শশারিয়া নামক দুটি নতুন চরের পাশ থেকে বুলগেট মেশিনে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন করছেন। স্থানীয়রা জানান, যমুনার বুকে কয়েক বছর আগে জেগে উঠেছিল পাথর্শী ইউনিয়নের হরিণধরা ও শশারিয়া বাড়ি নামক দুটি বিশাল আকারের নতুন চর। ওই চর দুটি জেগে উঠার পর থেকে সেখানে ফসল ফলিয়ে জীবন ধারণ করছিলেন পাথর্শী ও কুলকান্দি ইউনিয়নের প্রায় পাঁচ হাজার পরিবার। কিন্তু চাষীদের বিধি বাম। দীর্ঘদিন যাবত স্থানীয় প্রভাবশালীরা বুলগেট মেশিনে অবৈধ ভাবে নতুন চর দুটির তিন দিক থেকে বালি উত্তোলন অব্যাহত রেখেছেন। ওই অবৈধ বালু উত্তোলনের কারণে সম্প্রতি হরিণধরা ও শশারিয়া বাড়ি নামক নতুন চর দুটির প্রায় তিন হাজার একর জমি ফসলসহ যমুনা নদী গর্ভে বিলীন হয়েছে। স্থানীয় কৃষকদের অভিযোগ, স্থানীয় প্রভাবশালী বালু ব্যবসায়ী জাহিদুল ইসলাম, সাহেব আলী, আব্দুল মান্নান, ফকির আলী খান, বেলাল মিয়া, নয়ানী শেখ, সুমন শেখ, ধন মিয়া, গেল্লা শেখ, বাহাদুর মাষ্টার, শাপলা রহমান, সামছুল হক, সুমন মন্ডল ও আতিকুর রহমান সরকার গংরা যমুনা নদী থেকে ৪টি বুলগেট মেশিনে প্রতিদিন ৫০ হাজার থেকে ৬০ হাজার সেপ্টি বালু অবৈধভাবে উত্তোলন করছেন। তারা ওই বালু মোরাদাবাদ নৌঘাট ও দক্ষিণ শ্বশারিয়াবাড়ি স্কুল মাঠের পাশে জমিয়ে সেখান থেকে ট্রাক ও ভটটভটি যোগে বিভিন্ন এলাকার মানুষের কাছে বিক্রি করে লাখ লাখ টাকা অবৈধভাবে রোজগার করছেন। ওই অবৈধ বালু ব্যবসায়ী সিন্ডিকেট সদস্যরা বালু বিক্রি করে ব্যপক লাভবান হলেও যমুনা নদী থেকে বালু উত্তোলনের বিরুপ প্রভাবে যমুনার বুকে জেগে উঠা নতুনচর সমুহ নদীগর্ভে দেবে যাচ্ছে এবং নদী ভাঙ্গনের হুমকির মুখে পড়েছে যমুনার বামতীর সংরক্ষণ বাঁধ। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক স্থানীয় কৃষকরা জানান, তারা বালু উত্তোলন বন্ধের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নিকট লিখিত অভিযোগ করেও কোন সমাধান পাননি। উল্টো বালু উত্তোলন বন্ধের অভিযোগ করায় বালু ব্যবসায়ী সিন্ডিকেট সদস্যদের হাতে নিরীহ কৃষকরা লাঞ্ছিত হয়েছে। পাথর্শী ইউনিয়নের বালু ব্যবসায়ীরা নিরীহ কৃষকদের মারধোর করাসহ কয়েক দফা প্রান নাশের হুমকিও প্রদান করেছে। ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকরা অভিযোগে আরও জানান, পাথর্শী ইউনিয়নে যমুনা নদী থেকে দীঘদিন যাবত বাঁধাহীনভাবে বালু উত্তোলন অব্যাহত রয়েছে। আর যমুনা থেকে বালু উত্তোলন অব্যাহত থাকার বিরুপ প্রভাবে সম্প্রতি হরিণধরা ও শশারিয়া বাড়ি নামক চর দুটি ইতিমধ্যেই যমুনা গর্ভে বিলীন হয়েছে। অপরদিকে যমুনা নদী ভাঙ্গনের হুমকির মুখে পড়েছে ইসলামপুরে ৪৬৮ কোটি টাকা ব্যয়ে সদ্য নির্মিত যমুনার বামতীর সংরক্ষণ বাঁধ। এব্যাপারে পাথর্শী ইউপি চেয়ারম্যান ইফতেখার আলম বাবুল বলেন, যমুনা নদী থেকে বালু উত্তোলন বন্ধ করতে উপজেলা প্রশাসনসহ উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নিকট অভিযোগ দেওয়া হয়েছে কিন্তু এখন পর্যন্ত প্রশাসন কোন প্রদক্ষেপ গ্রহন করেননি। ইসলামপুরে উপজেলা নির্বাহী অফিসার মিজানুর রহমান জানান, তিনি এ ব্যাপারে শিগ্রই প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহন করবেন। অভিযোগ উঠেছে, কুলকান্দি ইউপি চেয়ারম্যান জিয়াউর রহমান সনেট, পাথর্শী ইউপি সদস্য জাহিদুল ইসলাম এবং স্থানীয় প্রভাবশালী বালু ব্যবসায়ী আতিকুর রহমান সরকার ও সুমন মন্ডল গংরা এলাকায় বালু উত্তোলনের জন্য দুইটি সিন্ডিকেট গড়ে তুলেছে। ওই বালু উত্তোলন সিন্ডিকেট সদস্যরাই মোটা অঙ্কের বিশেষ সমঝোতায় স্থানীয় প্রশাসনকে ম্যানেজ করে প্রতিদিন গভীর রাত পর্যন্ত হাজার হাজার সেপ্টি বালি উত্তোলন পূর্বক বিক্রি করছে। তবে কুলকান্দি ইউপি চেয়ারম্যান জিয়াউর রহমান সনেট যমুনা নদী থেকে বালু উত্তোলনকারী সিন্ডিকেটের সাথে কোন ভাবেই সংশ্লিষ্ট নয় বলে দাবী করেছেন। পাথর্শী ইউপি চেয়ারম্যান ইফতেখার আলম বাবুল আরও জানান, যমুনা নদী থেকে বালু উত্তোলন বন্ধের জন্য উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এবং থানা পুলিশকে তিনি কয়েক দফা অনুরোধ করেও বালু উত্তোলন বন্ধ করতে পারেননি। এদিকে বালু উত্তোলন বন্ধ করতে না পারায় সম্প্রতি পাথর্শী ইউনিয়নের হরিণধরা ও শশারিয়া বাড়ি নামক দুটি চর যমুনা গর্ভে বিলীন হয়েছে এবং যমুনার বামতীর সংরক্ষণ বাঁধ নদী ভাঙ্গনের হুমকির মুখে পড়েছে। এছাড়াও বালু উত্তোলন করে শশারিয়া বাড়ী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পাশে স্তুপ করায় ক্লাস চলাকালীন সময় বালুর ট্রাক আসা-যাওয়ার ফলে স্কুলের ক্লাসের পরিবেশ বিঘ্ন ঘটছে।
একলাখ ইয়াবাসহ চট্টগ্রামে দুই ভাই গ্রেফতার
নগরীর পাহাড়তলী থানার একে খাঁন এলাকা থেকে ১ লাখ পিস ইয়াবাসহ মাদক ব্যবসায়ী দুই ভাইকে গ্রেফতার করেছে র‌্যাব-৭ এর একটি দল। গ্রেফতারকৃতরা হলেন, মো. মোবারক (৩৬) ও মো. সালমান (২৩)। এসময় তাদের কাছ থেকে মাদক বিক্রির ২৫ হাজার টাকা এবং ৭০ হাজার টাকার টাকার চেক উদ্ধার হয়। মঙ্গলবার পাহাড়তলী থানার একে খান এলাকার বিদ্যুৎ অফিসের সামনে মধ্যরাতে এ অভিযান চালানো হয়। র‌্যাবের সহকারী পরিচালক (মিডিয়া) মিমতানুর রহমান জানান, রাতে ব্যাগে করে ইয়াবা নিয়ে ঢাকা যাওয়ার সময় গোপন সংবাদের ভিত্তিতে খবর পেয়ে অভিযান পরিচালনা করে দুইজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। এসময় তল্লাশি চালিয়ে তাদের কাছ থেকে ১ লাখ পিস ইয়াবা উদ্ধার করা হয়। গ্রেফতারকৃতদের তাৎক্ষনিক জিজ্ঞাসাবাদে তারা জানায় ইয়াবা কক্সবাজারের টেকনাফ থেকে নিয়ে ঢাকা যাচ্ছিল। উদ্ধারকৃত ইয়াবার আনুমানিক মূল্য ৫ কোটি টাকা বলে জানান র‌্যাবের এ কর্মকর্তা।
প্রতারক নুরুল আবছার আনছারী গ্রেফতার!!!!
জামায়াত নেতা নুরুল আবছার আনছারীকে মঙ্গলবার দুপুর দুইটায় নগরীর চাঁদগাও থানা পুলিশ গ্রেফতার করেছে। প্রতারক নুরুল আবছার আনছারীর বিরুদ্ধে ৫টি মামলায় গ্রেফতারী পরোয়ানা জারি করেন আদালত। জামায়াত নেতা আনছারীর বিরুদ্ধে চট্টগ্রামের বিভিন্ন থানায় প্রায় ২১টি মামলা রয়েছে বলে পুলিশ জানায়। এরমধ্যে জামায়াত নেতা নুরুল আবছার আনছারীর বিরুদ্ধে প্রতারনা, অর্থ আত্মসাৎ,নারী ঘটিত ঘটনাসহ বিভিন্ন ধরণের মামলা রয়েছে। পুলিশের তথ্যমতে নুরুল আবছার আনছারী কখনো আইনজীবী, কখনো সাংবাদিক,কখনো চিকিৎসক,কখনো মানবাধিকার কর্মী বিভিন্ন সময় বিভিন্ন পরিচয়ে প্রতারণার কৌশল হিসেবে নিতেন বলে পুলিশ জানায়। পুলিশের তথ্যমতে নুরুল আবছার আনছারী একাধিক বিয়েও করেছে। নুরুল আবছার আনছারীর গ্রামের বাড়ি বাঁশখালী উপজেলার চাপাছড়ি এলাকার মর্তুজা আলী মুন্সির পুত্র। চাঁন্দগাও থানা অফিসার ইনচার্জ আবুল বশর জানান, প্রতারক আনছারীর বিরুদ্ধে বিভিন্ন থানায় একাধিক প্রতারণার অভিযোগ রয়েছে। তারা কোন ব্যবসা নেই মানুষের সাথে প্রতারণা করা তার এক মাত্র ব্যবসা। পুলিশ দীর্ঘদিন ধরে তাকে ধরার চেষ্ঠা চালিয়ে আসছিল। অবশেষে পুলিশের হাতে ধরা পড়েন এ প্রতারক। তাকে রিমান্ডে এনে জিজ্ঞাসাবাদ করা গেলে আরো কিছু চাঞ্চল্যকর তথ্য বেরিয়ে আসবে বলে তিনি জানান।
অটো চালককে ছুরিকাঘাতে হত্যা নারায়ণগঞ্জে
নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লায় দুর্বৃত্তদের ছুরিকাঘাতে রাব্বি মিয়া নামে এক অটোরিকশাচালক খুন হয়েছেন। সোমবার দিনগত রাত সাড়ে ১২ টার দিকে ফতুল্লার কাশিপুর আদম বাড়ি এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। নিহত রাব্বি মিয়া (১৮) ওই এলাকার নাসির হোসেনের ছেলে। ফতুল্লা মডেল থানার এসআই শাফিউল আলম জানান, রাত সাড়ে ১২টায় বাড়ির কাছে অটোরিকশাচালক রাব্বি মিয়াকে অজ্ঞাত দুই যুবক পিঠে ছুরিকাঘাত করে পালিয়ে যায়। এসময় আশপাশের লোকজন রাব্বি মিয়াকে উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যায়। সেখানে জরুরি বিভাগের চিকিৎসক তাকে মৃত বলে ঘোষণা করেন। লাশ ময়না তদন্তের জন্য ওই হাসপাতাল মর্গে রাখা হয়েছে। এ বিষয়ে আরও খোজখবর নেয়া হচ্ছে এবং অজ্ঞাত দুই যুবককে শনাক্তের চেষ্টা চলছে বলে জানান এসআই।
নড়াইলে পুলিশের উপর হামলা চালিয়ে ৪ আসামিকে ছিনতাই
নড়াইলে পুলিশের উপর হামলা চালিয়ে ৪ আসামিকে ছিনিয়ে নিয়ে গেছে আসামির স্বজনরা। এসময় পুলিশের ৪ কর্মকর্তা আহত হন। সোমবার মধ্যরাতে লোহাগড়া উপজেলায় এ ঘটনা ঘটে। পুলিশ জানায়, উপজেলার আমাদা গ্রামে বেশ কয়েকটি মামলার ৪ আসামিকে গ্রেফতারে অভিযান চালানো হয়। ফেরার পথে আসামিপক্ষের লোকজন দেশীয় অস্ত্র নিয়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ওপর হামলা চালিয়ে আসামিদের ছিনিয়ে নেয় বলে জানায় পুলিশ। এসময় আহত হন লোহাগড়া থানার এসআই গোবিন্দ এবং তিন এএসআই- কাজী বাবুল, আনিসুজ্জামান ও বাবুল হাসান। এসময় আত্নরক্ষার্থে ৪ রাউন্ড গুলি ছোঁড়ে পুলিশ। খবর পেয়ে অতিরিক্ত পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে আহতদের উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করে।
পুলিশ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে দায়ের করা অভিযোগের তদন্ত শুরু গাইবান্ধায়
গাইবান্ধার সাংবাদিক জাভেদ হোসেনকে প্রতিহিংসামূলক মিথ্যা চাঁদাবাজী মামলায় জরিয়ে হয়রানির ঘটনায় গাইবান্ধার সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা খান মো: শাহরিয়ার ও এস আই মমিরুল হকের বিরুদ্ধে তদন্ত শুরু হয়েছে। বাংলাদেশ মফস্বল সাংবাদিক ফোরামের সদস্য সচিব ও প্রতিবাদী সাংবাদিক জাভেদ হোসেনের আবেদনের প্রেক্ষিতে পুলিশ হেডকোয়াটার্সসের মহা-পুলিশ পরিদর্শকের ( আইজিপি) নির্দেশে ডিসিপ্ললন এন্ড প্রফেশনাল স্ট্যান্ডার্ডস রংপুর জোনের ইন্সপেক্টর অব পুলিশ তরিকুল ইসলাম তরিককে তদন্তের দায়িত্ব প্রদান করায় অভিযুক্ত পুলিশ কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে তদন্ত কার্যক্রর শুরু হয়েছে। কোন তদন্ত ছাড়াই তৎক্ষনাত মামলা রুজু করে হয়রানি করায় ঢাকাটাইমসের সাংবাদিক ও বাংলাদেশ মফস্বল সাংবাদিক ফোরাম (বিএমএসএফ) গাইবান্ধা জেলা শাখার সদস্য সচিব, জাভেদ হোসেন গাইবান্ধা সদর থানার ওসি ও এক এসআই-এর বিরুদ্ধে বাংলাদেশ পুলিশের মহাপরিচালক-এর (আইজিপি) কমপ্লেইন শাখায় অভিযোগ দায়ের করেছিলেন। গত ২২ফেব্রুয়ারী তিনি পুলিশ হেডকোয়াটার্সে স্বশরীরে উপস্থিত হয়ে আইজিপির কমপ্লেইন শাখায় এই অভিযোগ দায়ের করেন। অভিযোগ সুত্রে জানা যায়, জাভেদ হোসেনের বাবা মৃত. নিজাম উদ্দিন ১৯৮৫ সালে গণপূর্ত তৎকালীন বিল্ডিং ডিভিশন থেকে একটি দোকান ঘর লিজ নেয়। যা পুরাতন জেল খানার (বর্তমানে বিয়াম ল্যাবরেটরি স্কুল) পশ্চিম পাশের অবস্থিত। তার পাশে পুরাতন জজ কোর্ট তৎকালীন মুনসেফ কোর্ট-এর জায়গায় মাহাবুবুল আলমের মারিয়া বেকারী নামে একটি প্রতিষ্ঠান রয়েছে। গত ০৫.০২.১৮ইং তারিখে মাহাবুবুল আলম তার সন্ত্রসী বাহিনী নিয়ে নিজাম উদ্দিনের দোকানের পিছনের জায়গা প্রাচীর দিয়ে দখল নেয়ার সময় জাভেদ হোসেন থানায় অভিযোগ করেন। সে অভিযোগের আলোকে গাইবান্ধা সদর থানার এসআই মমিরুল হক ওসি ইনচাজ খান মোঃ শাহরিয়ারের নির্দেশে ঘটনাস্থলে গিয়ে মাহাবুবুল আলমের দখলের কাজ বন্ধ করে থানায় কাগজ নিয়ে আসতে বলেন। তার কিছুক্ষন পর মাহাবুবুল আলম তার অবৈধ শক্তি প্রয়োগ করে দখলের কাজ পূনরায় শুরু করেন। পূনরায় কাজ শুরুর খবরে সাংবাদিক জাভেদ আবার ওসি কে বিষয়টি বললে ওসি তাকে এসআই মমিদুল কে জানাতে বলেন। সাংবাদিক জাভেদ মমিদুলকে বিষটি ফোনে বললে এসআই সেখানে যেতে অপারগতা স্বীকার করে বলেন, একজন নেতা (আশাদুজ্জামান হাসু) আমাকে ফোন করে ওখানে যেতে নিষেধ করেছে সে সাংবাদিক জাভেদকে থানায় দেখা করতে বলে। জাভেদ হোসেন থানায় গিয়ে ওসি তদন্ত আরশেদুল হক কে বিষয়টি জানালে তিনি সেই নেতা (আশাদুজ্জামান হাসু) কে মামা সম্বোধন করে মাহাবুবুল আলমের দোকানের কাগজ থানায় পাঠাতে বলেন! এক ঘন্টা সাংবাদিক জাভেদ থানায় অবস্থান করলেও মাহাবুবুল আলম তার দোকানের লীজকৃত কাগজ আনতে ব্যার্থ হন। সে সময় সাংবাদিক জাভেদের ছোট ভাই জিহাদ হোসেন ঘটনাস্থলে গিয়ে সন্ত্রাসী বাহিনীকে দখলে বাঁধা দিলে সন্ত্রাসীরা তাকে লোহার রড, হাতুরী দিয়ে কুপিয়ে মারাত্মক জখম করে। তখন সাংবাদিক জাভেদ থানায় উপস্থিত ছিলেস বলে জানান। অভিযোগ সুত্রে আরও জানা যায়, সাংবাদিক জাভেদ তার ভাইকে বাঁচাতে ওসি খান মোঃ শাহরিয়ার কাছে সাহায্য চাইলে তিনি থানায় কোন পিক-আপ নেই বলে জানান। তখন জাভেদ নিজেই তার বাইক নিয়ে ভাইকে উদ্ধার করতে থানা থেকে একাই বেড়িয়ে যান। সাংবাদিক জাভেদ ঘটনাস্থলে পৌছার পর সেখানে সদর ফাঁড়ির এ.টি.এস.আই আব্দুর রউফ তার সংগীয় ফোর্স নিয়ে উপস্থিত হয় এবং ঘটনাস্থল থেকে সাংবাদিক জাভেদের ছোট ভাই জিহাদকে আশংখাজনক অবস্থায় উদ্ধার করে প্রথমে গাইবান্ধা সদর হাসপাতালে পরে তার অবস্থার অবনিত হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার্ড করেন। ঘটনার পরদিন ০৬.০২.১৮ইং তারিখে জিহাদের স্ত্রী মোছাঃ ববি বেগম বাদী হয়ে ৬জনের নাম উল্লেখ করে ৪/৫ জন অজ্ঞাত নামাকে আসামী করে গাইবান্ধা সদর থানায় একটি অভিযোগ দায়ের করেন। সে অভিযোগের ভিত্তিতে ০৭.০২.১৮ইং তারিখে তদন্তও হয় কিন্তু কোন এক অদৃশ্য কারনে মামলাটি ওসি রুজু না করে কোর্টে মামলাটি দায়ের করতে বলেন। অবশেষে রংপুর বিভাগীয় অতিরিক্ত ডিআইজি মজিদ আলী স্যার ও স্থানীয় সাংবাদিকদের তৎপরতায় ১১.০২.১৮ইং তারিখে রাতে ববি বেগমের মামলাটি সদর থানায় মামলা হিসেবে রুজু করেন সদর ওসি, যা মামলা নং২৯/৮৯। কিন্তু অবাক করার মতো ঘটনা ঘটে ১২.০২.১৮ইং তারিখ রাতে অর্থাৎ ববি বেগমের মামলাটির একদিন পর ইজাহারভুক্ত ১সং আসামী মাহাবুবুল আলম. আসাদুজ্জামান হাসু সহ থানায় উপস্থিত হয়ে ০৩.০২.১৮ইং তারিখের একটি মিথ্যা ঘটনা সাজিয়ে সাংবাদিক জাভেদ ও তার ভাই জিহাদের নামে ৫লক্ষ টাকার একটি চাঁদাবাজী মামলা দায়ের করেন এবং তা তৎক্ষনাত কোন তদন্ত ছাড়াই ওসি সদর থানায় মামলাটি রুজু করেন, যা মামলা নং ৩০/৯০। অভিযোগে সাংবাদিক জাভেদ হোসেন দাবি করেন, ০৩.০২.১৮ইং তারিখে মুলত সেখানে কোন ঘটনায় ঘটেনি। যদি ঘটেই থাকতো তবে ববি বেগমের মামলার পর অভিযোগ কেন করা হলো? বা কেন এই ৮দিন থানাকে বিষয়টি জানানো হলোনা? গত ২৬ মার্চ ডিসিপ্ললন এন্ড প্রফেশনাল স্ট্যান্ডার্ডস রংপুর জোনের ইন্সপেক্টর অব পুলিশ তরিকুল ইসলাম তরিক তার অফিসে সাংবাদিক জাভেদ হোসেনকে ডেকে অভিযোগকারী হিসাবে সনাক্ত করত লিখিত ভাবে তার জবানবন্দী গ্রহণ করেন।

সারা দেশ পাতার আরো খবর