ভালুকায় বোরো ধানে নেক ব্লাস্ট রোগে দিশেহারা কৃষক
২৩এপ্রিল,বৃহস্পতিবার,মো.মোকছেদুর রহমান মামুন,ভালুকা প্রতিনিধি,নিউজ একাত্তর ডট কম: ময়মনসিংহের ভালুকা উপজেলায় কয়েকটি ইউনিয়নের বোরো ধানে নেক ব্লাস্ট রোগ সংক্রমণ করেছে। এতে ধান গাছ পুরে যাওয়ার মতো করে শুকিয়ে যাচ্ছে। প্রতিকার না পেয়ে চাষিদের মধ্যে আতঙ্ক দেখা দিয়েছে। এ রোগে ধান ক্ষেতের ব্যাপক ক্ষতি হওয়ায় এখন কৃষকদের মাথায় হাত। দিশেহারা হচ্ছেন কৃষকরা। উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, এবার উপজেলার ১১টি ইউনিয়নে ১৮হাজার ৬৫০ হেক্টর জমিতে বোরো চাষ হয়েছে। প্রতিকূল আবহাওয়ায় কয়েকটি ইউনিয়নে নেক ব্লাস্ট রোগ ছড়িয়ে পরছে। এ রোগের প্রভাবে ক্ষেতের ধানের শীষ আস্তে আস্তে সাদা হয়ে শুকিয়ে যাচ্ছে। ধান চিঠা হয়ে যাচ্ছে। সরেজমিনে মঙ্গলবার দুপুরে ডাকাতিয়া ইউনিয়নের আঙ্গারগাড়া গ্রামে গেলে আতাউর রহমান নামে একজন মৌসূমী কৃষক বলেন, আমার ৪ একর বোরো ধানের ক্ষেতে বর্তমানে প্রায় ৫০শতাংশ ক্ষেতে নেক ব্লাস্ট রোগ ছরিয়ে পরছে। ধানের শীষ গুলো চিঠা হয়ে যাচ্ছে। বাকী ধান গুলোও হুমকির মধ্যে আছে। দোকান থেকে কিটনাশক এনে ক্ষেতে প্রয়োগ করে কোন প্রতিকার পাচ্ছি না। আমাদের এলাকায় নিয়োজিত কৃষি ব্লক সুপারভাইজারকে আমরা চিনি না। আজ পর্যন্ত তাকে পাওয়া যায়নি। সুপারভাইজারকে আমাদের গ্রামে কখনও দেখা যায়নি। একই গ্রামের কৃষক আফতাব উদ্দিনের ২০শতাংশ, শাহ আলমের ৪০শতাংশ, মনির হোসেনের ৩০শতাংশ জমিতে নেক ব্লাস্ট রোগ দেখা দিয়েছে। যার মধ্যে মনিরের ৩০শতাংশ ক্ষেতে সবচেয়ে বেশী ক্ষতিগ্রস্থ। এক মুঠ ধানও সে ঘরে নিতে পারবে না। এলাকার আরও অনেক কৃষকের ক্ষেতে এ রোগ দেখা দিয়েছে। ওই এলাকার কৃষকরা জানান, তারা দিশেহারা হয়ে হাটে-বাজারে ছোটাছুটি করে দোকানদারদের পরামর্শে কিটনাশক স্প্রে করেও কোন প্রতিকার পাচ্ছে না। কৃষি বিভাগের প্রতি তারা ক্ষোভ প্রকাশ করে জানান তারা আমাদের কোন খোঁজ খবর নেয়নি। তাছারা ওই ইউনিয়নের ডালুয়া গ্রামের কৃষক আশ্রাবউদ্দিনের ১০কাঠা, আ.রহমানের ১২কাঠা সহ বহু কৃষকের ক্ষেতে এই রোগ দেখা দিয়েছে। অধিকাংশ কৃষকের অভিযোগ ১০/১২দিন যাবৎ এ রোগ দেখা দিলেও কৃষি বিভাগের লোকজন তাদের কোন খবর নিচ্ছে না। এছাড়া মেদুয়ারী ইউনিয়নের অনেক কৃষককের ধান ক্ষেতে নেক ব্লাস্ট রোগে শেষ পর্যায়ে এসে ধান নষ্ট হয়ে চিঠা হয়ে যাচ্ছে। পানিভান্ডা গ্রামের কৃষক সুলতান আহম্মেদ জানান, আমার প্রায় ১০কাঠা জমিতে ব্লাষ্ট রোগে শেষ হয়ে গেছে। আমার অন্য জমিগুলো নিয়ে খুব চিন্তিত আছি। আঙ্গারগাড়া কৃষক আতাউর রহমান কামাল জানান, আমি মঙ্গলবার দিন আমার ক্ষেতের ব্লাস্ট রোগের ছবি সহ ফেইজবুকে পোষ্ট দিলে বুধবার দিন উপ সহকারী ব্লক সুপারভাইজার আমার ক্ষেত পরিদর্শন করতে আসে। এর আগে তাঁকে আমরা পায়নি। আঙ্গারগাড়া ব্লকের উপ-সহকারী ব্লক সুপারভাইজার মো. আবদুল্লাহ আল মাসুদ জানান, আমি আর একটা ব্লকে কাজ করি এই ব্লকে আমি ভারপ্রাপ্ত হিসাবে আছি। আমি আগামীকালকে গিয়ে খোঁজ খবর নিবো। ২টা ব্লক চালানোর কারনে হিমশিম খাচ্ছি। উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা নারিগিছ আক্তার জানান, আমরা কৃষকদের ব্রি ২৮ ধান চাষ না করতে নিরুৎসাহিত করি। এই ধানে এই রোগটা বেশী হয়। আমার ৩৪জন এস এ এ ও থাকার কথা কিন্তু আছে ২২জন। ১২টা ব্লক ফাঁকা । তাদের একজন ব্লক সুপারভাইজদেরকে ২টি ব্লক দেখতে হচ্ছে। তাই এ ধরনের সমস্যা হচ্ছে। পুরো ডাকাতিয়া ইউনিয়নে মাত্র ২জন ব্লক সুপারভাইজার দিয়ে কাজ করানো হচ্ছে। আমি আগামী কালকে তাদের ওই এলাকায় পাঠাবো ।
প্রত্যন্ত অঞ্চলে সেনাবাহিনীর খাদ্য সামগ্রী বিতরণ
২২এপ্রিল,বুধবার,নিজস্ব প্রতিবেদক,নিউজ একাত্তর ডট কম: করোনাভাইরাস মহামারীর এ সময়ে সামাজিক নিরাপত্তা নিশ্চিতের পাশাপাশি প্রত্যন্ত অঞ্চলে কর্মহীন মানুষের বাড়ি-বাড়ি গিয়ে খাদ্য সহায়তা দিয়েছেন সেনাবাহিনী। আজ দুপুরে সেনাবাহিনীর ক্যাপ্টেন সাফায়েত খানের নেতৃত্বে জেলার রাজারহাট উপজেলার ঘড়িয়াল ইউনিয়নের নাখান্দা গ্রামের বাড়ি-বাড়ি গিয়ে সেনাবাহিনীর একটি দল চাল, ডাল আটা, তেল, লবণ, বিস্কুট ও সুজি বিতরণ করেন। ক্যাপ্টেন সাফায়েত খান জানান, করোনাভাইরাস মোকাবেলায় শুরু থেকে সামাজিক নিরাপত্তা নিশ্চিতসহ বিভিন্ন কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে সেনাবাহিনী। এ সময় প্রত্যন্ত অঞ্চলে যারা কর্মহীন হয়ে পড়েছে তাদের খাদ্য সহায়তা দিচ্ছে সেনাবাহিনী। এ কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।
ফেনীতে এক ধর্ষককে আটক করেছে Rab-7
২১এপ্রিল,মঙ্গলবার,নিজস্ব প্রতিবেদক,নিউজ একাত্তর ডট কম: ফেনী জেলার ফেনী সদর থানাধীন পাঠানবাড়ী পুলিশ কোয়াটার এলাকায় অভিযান চালিয়ে গৃহবধুকে ধর্ষনের অভিযোগে মোঃ নজরুল ইসলাম টিপু (৩০) নামক এক যুবককে আটক করেছে Rab-7, ফেনী ক্যাম্প। মঙ্গলবার ২১ এপ্রিল সকালে ফেনী সদর থানাধীন পাঠানবাড়ী পুলিশ কোয়াটার এলাকায় অভিযান চালিয়ে এক গৃহবধুকে ধর্ষনের অভিযোগে মোঃ নজরুল ইসলাম টিপু (৩০) এক ধর্ষককে আটক করা হয়েছে বলে জানান, Rab-7 এর সহকারী পরিচালক( মিডিয়া) এএসপি মাহমুদুল হাসান মামুন। আটককৃত আসামী হলেন মোঃ নজরুল ইসলাম টিপু (৩০) ফেনী জেলার সোনাগাজী থানাধীন শাহের আলী গ্রামের মোঃ মোস্তফার ছেলে। বর্তমান ঠিকানাঃ রেনেসা টাওয়ার(৭ম তলা) ফালাছিয়া মাদ্রাসার পাশে, ফেনী সদর। Rab-7 এর ফেনী ক্যাম্প কমান্ডার মোঃ নুরুজ্জামান জানান, ভিকটিমের অভিযোগের ভিত্তিতে ফেনী সদর থানাধীন পাঠানবাড়ী পুলিশ কোয়াটার এলাকায় অভিযান চালিয়ে অভিযোগকারী গৃহবধুকে ধর্ষনের অভিযোগে মোঃ নজরুল ইসলাম টিপু (৩০) নামক এক যুবককে আটক করা হয়েছে। সে ধর্ষিতার নিজ বাসায় এসে রুমালে নেশা জাতীয় কিছু মিশিয়ে নাক চেপে ধরে অজ্ঞান করে ধর্ষণ করে এবং ভিডিও করে রাখে। পরে ভিডিও ধর্ষিতার স্বামীকে দেখাবে ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ার কথা বলে দীর্ঘদিন যাবত ধর্ষণ করে এবং মোটা অংকের টাকা দাবি করে আসছিল। আটককৃত আসামীকে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহনের জন্য ফেনী মডেল থানায় হস্তান্তর করা হয়। ফেনী মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোঃ আলমগীর হোসেন জানান, Rab-7 এর ফেনী ক্যাম্প কতৃক ধর্ষনের অভিযোগে আটককৃত মোঃ নজরুল ইসলাম টিপু (৩০) নামে একজনকে ফেনী মডেল থানায় হস্তান্তর করা হয়। ধর্ষিতা বাদি হয়ে তার বিরুদ্ধে ধর্ষনের অভিযোগে থানায় একটি মামলা করেছে। আটককৃত আসামী ফেনী জেলার সোনাগাজী থানাধীন শাহের আলী গ্রামের মোঃ মোস্তফার ছেলে। উল্লেখ্য, আসামীর বিরুদ্ধে ফেনী সদর থানায় অশ্র ও পুলিশের উপর হামলার ঘটনায় ২ টি মামলা রয়েছে।
সহকারী কমিশনারসহ ৩২ পুলিশ করোনায় আক্রান্ত
২১এপ্রিল,মঙ্গলবার,স্টাফ রিপোর্টার,নিউজ একাত্তর ডট কম:গাজীপুরে সহকারী কমিশনারসহ (এসি) পুলিশের ৩২ জন সদস্য করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন। এরমধ্যে ২৫ জন গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের অধীন গাছা থানার এবং বাকি ৭ জন হলেন গাজীপুর জেলা পুলিশের অধীন কালীগঞ্জ থানার পুলিশ। গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের (জিএমপি) কমিশনার মো. আনোয়ার হোসেন জানান, সোমবার বিকেলের তথ্যমতে মহানগর পুলিশের গাছা থানার আরো ২০ জন সদস্যের দেহে নতুন করে করোনাভাইরাস পজিটিভ (আক্রান্ত) শনাক্ত হয়েছে। এর কয়েকদিন আগে এ থানার আরো পাঁচজনের মধ্যে করোনা সংক্রমণ পজেটিভ ধরা পড়ে। করোনায় আক্রান্তদের মধ্যে গাছা জোনের এসি, একজন পুলিশ পরিদর্শক ও পুলিশের মহিলা সদস্যরাও রয়েছেন। করোনায় আক্রান্ত পুলিশের তিন নারী সদস্য ছাড়া সকলেই থানায় আইসোলেশনে আছেন।বণিক বার্তা। গাজীপুর সদর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কর্মকর্তা ডা. মো. শাহীন জানান, গত ১৩ এপ্রিল জিএমপির গাছা থানার এক এসআই প্রথম করোনায় আক্রান্ত হন। এরপর ১৬ এপ্রিল গাছা জোনের সহকারী পুলিশ কমিশনার (এসি) ও পুলিশের আরো দুই সদস্য এবং থানার এক কর্মীর (বাবুর্চি) দেহে করোনা ভাইরাস পজেটিভ শনাক্ত হয়েছে। করোনা ভাইরাসের সংক্রমন নিশ্চিত হতে গত ১৮এপ্রিল মেডিকেল টিম গাছা থানা পুলিশের আরও ২৬ জনের নমুনা সংগ্রহ করে পরীক্ষার জন্য ঢাকায় পাঠায়। সোমবার তাদের ২০জনের নমুনায় করোনা ভাইরাস শনাক্ত হয়। এনিয়ে গাছা থানার ২৫ জন কর্মকর্তা-কর্মচরীর শরীরের করোনা ভাইরাসের সংক্রমন পাওয়া গেছে। গাছা থানার আরো ৪২ জনের মতো পুলিশের ও স্টাফের নমুনা ঢাকায় পাঠানো হয়েছে। তাদের প্রতিবেদন এখনও আসেনি। এছাড়া জেলা পুলিশের কালীগঞ্জ থানার সাতজনের মধ্যে করোনা সংক্রমনের তথ্য জানিয়েছেন জেলা পুলিশের কালীগঞ্জ-কাপাসিয়া সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার পঙ্কজ দত্ত। তবে করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ নিশ্চিত হতে ওই থানার আরো কয়েক সদস্যের নমুনা ঢাকায় পাঠানো হয়েছে।
গ্যাস সিলিন্ডার বিস্ফোরণে দগ্ধ বাবা-ছেলের মৃত্যু
২০এপ্রিল,সোমবার,নিজস্ব প্রতিবেদক,নিউজ একাত্তর ডট কম: পাবনার বেড়া উপজেলার শেখপাড়ার এক বাসায় গ্যাস সিলিন্ডার বিস্ফোরণের ঘটনায় দগ্ধ বাবা-ছেলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন। চারদিন মৃত্যুর সাথে পাঞ্জা লড়ে অবশেষে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে মারা যান বাবা আবু শেখ (৪৫) ও তার ছেলে কালাম শেখ (৩৪)। বেড়া মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহিদ মাহমুদ খান এ তথ্য নিশিচত করে জানান, ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রোববার রাতে আবু শেখ (৪৫) ও সোমবার সকালে তার ছেলে কালাম শেখ (৩৪) মারা গেছেন। তাদের লাশ নিয়ে স্বজনরা নিজ এলাকার উদ্দেশ্যে রওনা হয়েছেন।যমুনা টিভি। উল্লেখ্য, গত ১৬ এপ্রিল স্থানীয় গ্যাস ব্যবসায়ী জাহাঙ্গীর হোসেনের দোকান থেকে একটি সিলিন্ডার গ্যাস নিয়ে বাসায় সংযোগ দেওয়ার সময় আগুন ধরে যায়। পরে সিলিন্ডারটি বিস্ফোরণ হলে ঘটনাস্থলেই দোকানদার জাহাঙ্গীর হোসেন, বাড়ির মালিক আবু শেখ, তার ছেলে কালাম শেখ, কালু শেখ, প্রতিবেশি আলহাজ্ব শেখ ও নিতি নামের এক শিশু অগ্নিদগ্ধ হয়। ঘটনার দিন প্রথমেই তাদের সবাইকে বেড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেয়া হয়। সেখানে চিকিৎসা দেয়ার পর আবু শেখ ও তার পুত্র কালাম শেখকে বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। সেখানে তাদের অবস্থার অবনতি হওয়ায় পরে তাদের ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে স্থানান্তর করা হয়।
ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় ফের সংঘর্ষ-গুলি, পুলিশসহ আহত ৬৫
২০এপ্রিল,সোমবার,নিজস্ব প্রতিবেদক,নিউজ একাত্তর ডট কম: সাম্প্রতিক করোনা মহামারীর মধ্যেই একের পর এক ঘটনার জন্ম দিয়ে যাচ্ছে ঐতিহ্যবাহী জেলা ব্রাহ্মণবাড়িয়া। এবার জেলার নাসিরনগরে ধান মাড়াই করা নিয়ে তুমুল সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এ সময় ৫ পুলিশ সদস্যসহ উভয় পক্ষের ৬০ আহত হয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ ৯ রাউন্ড ফাঁকাগুলি ছোড়ে। পরবর্তী সংঘর্ষ এড়াতে এলাকায় বিপুল সংখক পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। ঘটনাটি ১৯ এপ্রিল উপজেলার গোকর্ণ ইউনিয়নের। পুলিশ ও স্থানীয়রা জানান, রোববার (১৯ এপ্রিল) সন্ধ্যায় ডিঘর ও সূচীউড়ার তিতাস নদীর পাড়ে ফারুক মিয়া ধান মাড়াই করছিল। ওই সময় কামাল মিয়া নামে এক ব্যক্তি ধান মাড়াইয়ের উপর একটি ছোট ট্রাক উঠিয়ে দেয়। তখন ফারুক তাতে বাঁধা দেয়। এ নিয়ে দুজনের মধ্যে তর্কবিতর্ক শুরু হয়। পরে বিষয়টি দুপক্ষের লোকজন জানতে পেরে এলাকায় উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। তখন উভয়পক্ষ দেশিয় অস্ত্র নিয়ে সংঘর্ষে লিপ্ত হয়। সংঘর্ষ চলে রাত ৯টা পর্যন্ত টানা ৪ ঘন্টা। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। সে সময় কামালের পক্ষের লোকজন পুলিশের উপর চড়াও হয়। তখন শুরু হয় ত্রিমুখী সংঘর্ষ। এসময় ৫ পুলিশ সদস্যসহ উভয় পক্ষের ৬০ জন আহত হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ ৯ রাউন্ড ফাঁকা গুলি ছোড়ে। আহতদেরকে হাসপাতালে চিকিৎসা দেয় হয়।একুশে টেলিভিশন। গোকর্ণ ইউনিয়নের ইউপি চেয়ারম্যান জানান, তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে ভয়াবহ সংর্ঘষ হয়। উভয় পক্ষের আহতদের হাসপাতালে নিয়ে চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হয়েছে। পুলিশের উপস্থিতিতে উভয়পক্ষকে বাড়িতে পৌঁছে দিয়েছি। তবে এলাকায় পুলিশ মোতায়েন আছে। নাসিরনগর থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সাজেদুর রহমান বলেন, করোনার ভয়ে মানুষ যখন ঘরে বন্দী, নাসিরনগরে তখন প্রতিদিনই ঘটছে সংঘর্ষের ঘটনা। যা খুবই দুঃখজনক। গতকাল একটি সাধারণ বিষয় নিয়ে উভয় পক্ষের সংঘর্ষ হয়। এতে ৫ পুলিশসহ উভয় পক্ষের ৬০ জন আহত হয় এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে ৯ রাউন্ড ফাঁকা গুলি ছোড়া হয়।
চুয়াডাঙ্গাবাসীর পাশে থাকার ঘোষনা সকালের সময় সম্পাদক নূর হাকিমের
২০এপ্রিল,সোমবার,চুয়াডাঙ্গা প্রতিনিধি,নিউজ একাত্তর ডট কম: দৈনিক সকালের সময়ের সম্পাদক ও প্রকাশক এবং সামাজিক পরিবেশ ও মানবাধিকার বাস্তবায়ন সংস্থার মহাসচিব এবং আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে চুয়াডাঙ্গা-২ আসনে সংসদ সদস্য পদপ্রার্থী এবং বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের মনোনয়ন প্রত্যাশী মোঃ নূর হাকিম বলেছেন আমি চুয়াডাঙ্গা-২ আসনের অসহায় ও দুস্থ্য মানুষের মুখে হাসি ফোটানোর মহান ব্রত নিয়ে মাঠে নেমেছি, করোনার বিরুদ্ধে চূড়ান্ত বিজয় অর্জিত না হওয়া পর্যন্ত আমরা ঘরে ফিরবো না। এ এলাকারএকজন মানুষও যেন না খেয়ে থাকে এবং প্রানঘাতী করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত না হয় সে ব্যাপারে আমাদের সবাইকে সজাগ ও সচেতন থাকতে হবে। আমাদের সকলকে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলতে হবে, এ ব্যাপারে কোন রকমেই অবহেলা করা চলবেনা। তিনি চুয়াডাঙ্গা-২ আসনের সর্বস্তরের মানুষকে দূর্যোগকালীন সময়ে নিজ নিজ ঘরে অবস্থান করা এবং কোন প্রকারেই বাইরে বের না হওয়ার উপরে গুরুত্বারোপ করেন। এ সময়ে যদি কারো খাবারের সংকট দেখা দেয়, তবে তিনি বা তারা যেন তাকে ফোন দেয় উল্লেখ করে নূর হাকিম জানান, মহান আল্লাহপাকের রহমতে তিনি তাদের খাবারের ব্যবস্থা করতে পারবেন। তিনি গত শনিবার নিজ এলাকা চুয়াঙ্গার জীবননগরে ব্যক্তিগত তহবিল থেকে নিয়মিত ত্রান বিতরণ ও সচেতনতা কার্যক্রম চালানোর সময় এই ঘোষনা দেন। এ সময় তিনি বলেন আমি সম্পূর্ন ব্যক্তিগত উদ্যোগে এলাকার কর্মহীন অসহায় ও দুস্থ্য পরিবারের বাড়ি বাড়ি গিয়ে চাল, ডাল, তেল, লবণ, সাবানসহ বিভিন্ন খাদ্য সামগ্রী পৌছে দেয়ার চেষ্টা করছি। তিনি এ সব খাদ্য সামগ্রীকে দান বা ত্রাণ নয় , এটা তাঁর ভালবাসার উপহার হিসাবে দেখার জন্য এলাকাবাসীর প্রতি উদাত্ত আহবান জানান। তিনি আরও বলেন যতদিন এ দূর্যোগ থাকবে ততদিন এ এলাকার কর্মহীন অসহায় ও দুস্থ্য মানুষের মাঝে তার পক্ষ থেকে এরুপ উপহার প্রদান অব্যাহত থাকবে। এসময় উপস্থিত ছিলেন কাফিউদ্দীন টুটুল, ছুটি ডাক্তার, আ. সামাদ, রিংকুসহ বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ। এছাড়া চুয়াডাঙ্গা, দর্শনা ও দামুড়হুদায় কর্মরত বেশ কয়েকজন সাংবাদিক তার সাথে উপস্থিত ছিলেন। চরম দুঃসময়ে তাদের সন্তান নূর হাকিমের এই উপহারের কথা তারা কোন দিন ভূলতে পারবেনা জানিয়ে এসব অসহায় ও বয়সের ভারে নুয়ে পড়া মানুষগুলি চোখের পানিতে আপ্লুত হয়ে পড়েন, ফলে সেখানে এক আবেগঘন পরিবেশের অবতারনা হয়। গত ৩০ মার্চ বিশিষ্ট সাংবাদিক নূর হাকিমের নিজ গ্রাম দামুড়হুদা উপজেলার কুড়ুলগাছীতে মহতি এ কার্যক্রমের সূচনা করেন তার রত্নগর্ভা মা জবেদা বেগম। প্রানঘাতী করোনার প্রাদূর্ভাব শেষ না হওয়া পর্যন্ত তিনি এলাকার মানুষের মাঝে উপস্থিত থেকে চুয়াডাঙ্গা-২ আসনের অধীন দামুড়হুদা, জীবননগর উপজেলা ও দর্শনা থানার ৪ শতাধিক গ্রামে গোপনে প্রস্তুতকৃত তালিকার প্রায় ১০ হাজার কর্মহীন দুস্থ্য ও অসহায় পরিবারের মাঝে নিজে উপস্থিত হয়ে এভাবে খাদ্য বিতরণ কর্মসূচি চালিয়ে যাবেন বলে এ প্রতিবেদককে জানিয়েছেন। নিজের সাধ্যের সবটুকু উজাড় করে হলেও তিনি এলাকার দুঃখি ও অসহায় মানুষের দুঃখ মোচনে কাজ করে যাবেন সারাজীবন এবং তাদের মুখে খাবার তুলে দিবেন।
পা কেটে জয় বাংলা শ্লোগান,গ্রেফতারের ৪২
১৩এপ্রিল,সোমবার,নিজস্ব প্রতিবেদক,নিউজ একাত্তর ডট কম:ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগর উপজেলার কৃষ্ণনগর ইউনিয়নের থানাকান্দি গ্রামে রোববার ঘটে যাওয়া দুই পক্ষের রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের ঘটনায় কৃষ্ণনগর ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান ও ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি জিল্লুর রহমান ও অপর গ্রুপের দলনেতা কৃষ্ণনগর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সিনিয়র নেতা কাউসার মোল্লাকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। এ নিয়ে সংঘর্ষের ঘটনায় গ্রেফতারের সংখ্যা ৪২ জন। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (নবীনগর সার্কেল) মকবুল হোসেন। পুলিশের একটি সূত্র জানায়, সংঘর্ষের ঘটনার মূলহোতা কৃষ্ণনগর ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান জিল্লুর রহমানকে সোমবার ভোরে ঢাকার কলাবাগান থেকে ও থানাকান্দি গ্রামের কাউছার মোল্লাকে রোববার গভীর রাতে আশুগঞ্জের বায়েরক গ্রাম থেকে গ্রেফতার করে পুলিশ। সংঘর্ষের ঘটনায় ওই দুজনকে আসামি করে মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে। স্থানীয়রা জানান, প্রায় তিন যুগ ধরে চলা এই বিরোধের নেতৃত্বে ছিলেন ওই গ্রামের আবু মেম্বার ও মোসলেম মেম্বার। বাধ্যর্কজনিত কারণে তারা নেতৃত্ব থেকে সরে যাওয়ার পর আবু মেম্বারের দলের নেতৃত্ব আসেন কৃষ্ণনগর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান জিল্লুর রহমান আর মোসলেম মেম্বারের দলের নেতৃত্বে আসেন থানাকান্দি গ্রামের সর্দার কাউসার মোল্লা। তাদের বিরোধের কারণে গত কয়েক বছরে ৪ জন খুন হয়েছে, আরো বিভিন্ন ঘটনায় মারা গেছে ৫ জন। আহত হয়েছেন হাজারো মানুষ। ওই গ্রামে এমন কোনো বাড়ি ঘড় নেই যে বাড়িতে ভাংচুর ও অগ্নি সংযোগের ঘটনা ঘটেনি। দীর্ঘদিন ধরে চলে আসা ওই বিরোধের জের ধরে রোববার উভয় পক্ষের লোকজন দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। সংঘর্ষ চলাকালে ধারালো অস্ত্র দিয়ে জিল্লুর রহমানের সমর্থক মোবারক মিয়ার (৪৫) এক পা কেটে নিয়ে জয় বাংলা শ্লোগান দিয়ে গ্রামে আনন্দ মিছিল করে আবু কাউসার মোল্লার সমর্থকরা।
নারায়ণগঞ্জে করোনায় আরেক নারীর মৃত্যু
১৩এপ্রিল,সোমবার,নিজস্ব প্রতিবেদক,নিউজএকাত্তরডটকম: নারায়ণগঞ্জ ফতুল্লা ইসদাইর এলাকায় রহিমা বেগম (৬০) নামে এক নারী করোনা আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন। রোববার রাত সাড়ে ৯টায় ঢাকা কুয়েত মৈত্রী হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান। জেলা স্বাস্থ্য বিভাগ এই তথ্য নিশ্চিত করেছে। এর আগে শুক্রবার (১০ এপ্রিল) রাত সাড়ে ১০টায় তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে থেকে কুয়েত মৈত্রী হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। বর্তমানে তার লাশ কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতাল মর্গে রয়েছে। মৃত রহিমা বেগম পূর্ব ইসদাইর বুড়ির দোকান এলাকার বাসিন্দা ব্যাংক কর্মী সুলতানের স্ত্রী। তাদের দুই ছেলে রয়েছে। যার মধ্যে একজন বর্তমানে মালয়েশিয়া আছেন। নিহতের ছেলে রিপন বলেন, মা অসুস্থ্য ছিলেন। করোনার কোনো উপসর্গ ছিল না। তাই প্রথমে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যাই।মানবজমিন। সেখানে তার নমুনা পরীক্ষা করা হলে পজেটিভ আসে এবং কুয়েত মৈত্রী হাসপাতালে ভর্তি হতে বলা হয়। রোববার রাত সাড়ে ৯টায় তিনি মারা যানদ তিনি আরো বলেন, আমার মায়ের লাশ তারা নারায়ণগঞ্জ আনতে দেবে না। বলেছেন পরিবারের একজন দাফনের সময় উপস্থিত থাকতে পারবে। তাই আমি ঢাকা যাবো। এ বিষয়ে ফতুল্লা মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আসলাম হোসেন বলেন, মৃত্যুর সংবাদ পেয়ে আমরা ঘটনাস্থলে যাই। কাউকে বাড়ি থেকে বের না হওয়ার নির্দশনা দেয়া হয়েছে। উল্লেখ্য নারায়ণগঞ্জের বন্দরের রসুলবাগে করোনায় আক্রান্ত হয়ে ৩০ মার্চ প্রথম পুতুল (৫০) নামে এক নারী মারা যায়।

সারা দেশ পাতার আরো খবর