ফটিকছড়ি হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিষ্টান ঐক্য পরিষদ, ফটিকছড়ি পূজা উদ্যাপন পরিষদ ও ফটিকছড়ি জন্মষ্টমী পরিষ
ফটিকছড়ির বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদের কেন্দ্রীয় কার্যালয় সেবা খোলা মন্দির প্রাঙ্গনে বাংলাদেশ হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিষ্টান ঐক্য পরিষদ, বাংলাদেশ পূজা উদ্যাপন পরিষদ ও ফটিকছড়ি জন্মষ্টমী পরিষদের যৌথ মতবিনিময় সভা হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিষ্টান ঐক্য পরিষদের সভাপতি বিজয় কৃষ্ণ বৈষ্ণব এর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত হয়। এতে বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি মাস্টার রতন চৌধুরী, সাধারণ সম্পাদক ডাঃ প্রতাপ রায়, হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিষ্টান ঐক্য পরিষদের সহ-সভাপতি বাবু চন্দন বড়–য়া, ফটিকছড়ি জন্মষ্টমী পরিষদের সভাপতি অধ্যাপক দয়াল রায়, ফটিকছড়ি জন্মষ্টমী পরিষদের সাধারণ সম্পাদক কাজল কান্তি শীল, বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদ ফটিকছড়ির সহ-সভাপতি কাজল কান্তি পাল, সাংগঠনিক সম্পাদক শিমুল ধর, সনাতনী ছাত্র ঐক্য পরিষদের সভাপতি সুজিত চক্রবর্তী, সাগর দে, জাতীয় গীতা শিক্ষা কমিটির উত্তর জেলা সভাপতি পণ্ডিত লিংকন চক্রবর্তী, ভূজপুর পূজা উদযাপন পরিষদের সাধারণ সম্পাদক এডভোকেট মিহির দে, গুরুপদ শীল, ভজন নাথ, কাজল শীল, সাবেক কাউন্সিলর প্রদীপ রায়, কুসুম দে, মাস্টার প্রদীপ দে, সুমন ধর, লায়ন ডাঃ বরুণ কুমার আচার্য বলাই, প্রশান্ত দে, মাস্টার মিলন নাথ, অভিজিৎ পাল, মানস চক্রবর্তী, ডাঃ রূপন শীল, অশোক চৌধুরী, ধনাঞ্জয় দেবনাথ, অঞ্জন দে, কালন নাথ, ঝন্টু শীল, রুবেল শীল, পলাশ নাথ, প্রেমাংকুর চৌধুরী, কাকন মহাজন, সুব্রত দে, উজ্জ্বল দে, পণ্ডিত তরুণ কুমার আচার্য কৃষ্ণ, মহিলা সম্পাদিক অর্চনা রাণী আচার্য, সাংবাদিক এমটি সুজন, সাংবাদিক সমীর কান্তি দাশ প্রমূখ। উক্ত সভায় সাংগঠনিক তৎপরতা বৃদ্ধির লক্ষে স্ব স্ব অবস্থান থেকে কাজ করার জন্য অনুরোধ জানান এবং যেসব ইউনিয়ন কমিটি ধীর গতিতে কাজ করে তাদের কর্ম তৎপরতাকে জোরদার করার লক্ষে এই মতবিনিময় সভা। আরো বলেন সাংগঠনিক সম্পাদক শিমুল ধরকে প্রত্যেক ইউনিয়নে সাংগঠনিক কর্মকান্ড জোরদার করার জন্য মতবিনিময় সভা করার জন্য অনুরোধ করেন। প্রেস বিজ্ঞপ্তি
এস এস সিতে মেরন সানে ১২ জন A+ ও ৮৭টি A গ্রেডসহ বিজ্ঞান শাখায় প্রায় শতভাগ সাফল্য
সদ্য প্রকাশিত এস এস সি পরীক্ষা ২০১৮ এর ফলাফলে চট্টগ্রাম শিক্ষাবোর্ডে নগরীর মেরন সান স্কুল এন্ড কলেজে ১২ জন ছাত্র-ছাত্রী জি পি এ ৫.০০ (অ+) লাভ করার গৌরব অর্জন করেছে। এছাড়াও, ৮৭টি অ গ্রেডসহ বিজ্ঞান শাখায় পাশের হার ৯৫.৫৬% এবং ব্যবসায় শিক্ষা শাখায় ৯২.৯৮%। অধ্যক্ষ ড. মোহাম্মদ সানাউল্লাহ্ সংক্ষিপ্ত এক আলোচনায় এস এস সিতে ভালো ফলাফলের জন্য শিক্ষার্থীদের পাশাপাশি সম্মানিত অভিভাবকবৃন্দসহ সংশ্লিষ্ট সকলের প্রতি কৃতজ্ঞতা ও পরম করুণাময়ের নিকট শোকরিয়া জ্ঞাপন করেন। তিনি বলেন,আল্লাহর রহমতে শিক্ষার্থীদের কঠোর অধ্যবসায়, শিক্ষকদের আন্তরিক প্রচেষ্টা, সুনিবিড় তত্ত্বাবধান, প্রশাসনের সার্বক্ষণিক তদারকি, ক্লাসনির্ভর শিক্ষাব্যবস্থার বাস্তবায়ন এবং সর্বোপরি অভিভাবকদের সার্বিক সহযোগিতায় সন্তোষজনক ফলাফল অর্জন করতে পেরেছি। সঠিক সিদ্ধান্তের মাধ্যমে পরবর্তী গুরুত্বপূর্ণ দুটি বছর লেখাপড়ায় আরো অধিক মনোনিবেশপূর্বক আলোকিত মানুষ হিসেবে প্রতিষ্ঠা লাভ করে জাতির হারানো গৌরবময় ঐতিহ্য ফিরিয়ে আনার জন্য তিনি উত্তীর্ণ শিক্ষার্থীদেরকে পরামর্শ দেন। সেই সাথে ফলাফলের এই ধারা অব্যাহত রেখে ভবিষ্যতে আরো অধিকতর ভাল ফলাফল অর্জনের লক্ষ্যে আন্তরিক প্রচেষ্টাকে আরো বেগবান করার জন্য তিনি সম্মানিত শিক্ষকদের প্রতি আহ্বান জানান। প্রেস বিজ্ঞপ্তি
কুমিল্লার বুড়িচং উপজেলায় খোলা আকাশের নিচেই পাঠদান
কুমিল্লার বুড়িচং উপজেলায় কালবৈশাখী ঝড়ে গাছ পড়ে সাদকপুর ইকরা মডেল একাডেমীর ভবন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এতে খোলা আকাশের নিচে বিদ্যালয়ের প্রায় ৩শ শিক্ষার্থীর পাঠদান কার্যক্রম চলছে। বিদ্যালয়টির অধ্যক্ষ মো. ইব্রাহিম খলিল জানান, গত সোমবার রাতে কালবৈশাখী ঝড়ে কয়েকটি অর্জুন গাছ বিদ্যালয় ভবনের উপর ভেঙে পড়ে ভবনটির টিনের চালা ও ওয়াল ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ফলে ভবনের ভেতর ছাত্র-ছাত্রীদের পাঠদান বন্ধ রয়েছে। শিক্ষার্থীদের কথা বিবেচনা করে আপাতত স্কুল মাঠে খোলা আকাশের নিচেই পাঠদান কার্যক্রম শুরু করা হয়েছে। বুড়িচং উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান মো. সাইফুল আলম ঘটনাস্থল পরিদর্শন শেষে জানান, ক্ষতিগ্রস্থ প্রতিষ্ঠানের জন্য আর্থিক সহযোগিতার চেষ্টা করব। যেন প্রতিষ্ঠানটি মেরামত করে ছাত্র-ছাত্রীদের লেখাপড়ার স্বাভাবিক পরিবেশ সৃষ্টি করা যায়।
যৌতুক না পেয়ে অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রীকে শ্বাসরোধে হত্যার অভিযোগ
কুমিল্লার নাঙ্গলকোটে যৌতুক না পেয়ে ৮মাসের অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রীকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করেছে পাষ- স্বামী। শনিবার দুপুরে নাঙ্গলকোটের বটতলী ইউনিয়নের লক্ষ্মীপুর গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। নিহত অন্তঃসত্ত্বা গৃহবধূর নাম নাছরিন আক্তার (২০)। সে ওই গ্রামের মীর হোসেনের পুত্র ইলিয়াস হোসেনের স্ত্রী। খবর পেয়ে পুলিশ দুপুরে লাশ উদ্ধার করে ময়না তদন্তের জন্য কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠিয়েছে। ঘটনার পর থেকে স্বামী ইলিয়াসসহ তার পরিবারের লোকজন পলাতক রয়েছে বলে জানিয়েছে নাঙ্গলকোট থানা পুলিশ। পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, নাঙ্গলকোট উপজেলার দৌলখাঁড় ইউনিয়নের বাম ভুঁইয়া বাড়ির মৃত আইয়ুব আলীর মেয়ে নাছরিন আক্তারের সাথে গত দশ মাস আগে বিয়ে হয় পার্শ্ববর্তী বটতলী ইউনিয়নের লক্ষীপুর গ্রামের মীর হোসেনের ছেলে ইলিয়াছ হোসেন সাগরের। এর পর থেকে ইলিয়াছ হোসেন এবং তার পরিবারের লোকজন নাছরিন আক্তারকে যৌতুকের জন্য নানাভাবে চাপ দিয়ে আসছিলো। এরই জের ধরে শনিবার দুপুরে তর্ক-বিতর্কের এক পর্যায়ে ইলিয়াছ হোসেন নাছরিন আক্তারকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করে। হত্যার পর থেকে ইলিয়াছ হোসেনসহ পরিবারের লোকজন বাড়ি থেকে পালিয়ে যায়। এরপর প্রতিবেশির মাধ্যমে খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে নাছরিনের লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য কুমেক হাসপাতালে পাঠায়। বিকেলে নিহত নাছরিন আক্তারের মা শামছুন্নাহার বাদি হয়ে মেয়ের জামাই তার শ্বশুর, শাশুড়িসহকে আসামি করে নাঙ্গলকোট থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা নাঙ্গলকোট থানা পুলিশের উপ-পরিদর্শক (এসআই) খোরশেদ আলম বলেন, খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছে লাশ উদ্ধার করেছি। নিহত নাছরিনের গলায় আঘাতের চিহ্ন দেখা গেছে। ধারণা করা হচ্ছে তাকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করা হয়েছে। এদিকে নাছরিনের শ্বশুরবাড়ি গিয়ে কাউকে পাওয়া যায়নি উল্লেখ করে তিনি বলেন, ময়নাতদন্তের রিপোর্ট পাওয়া গেলে মৃত্যুর সঠিক কারণ জানা যাবে।
পৃথক অভিযানে দুই নারীসহ গ্রেফতার ৪ ব্রাহ্মণবাড়িয়ায়
ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় পৃথক অভিযানে ৪০০ পিস ইয়াবা ও ১০০ বোতল ফেন্সিডিল নিয়ে দুই নারীসহ চারজনকে গ্রেফতার করেছেন পুলিশ। শনিবার সকাল ৯টায় কুমিল্লা-সিলেট মহাসড়কে পৌর এলাকার ভাদুঘর থেকে এক বোতল ফেন্সিডিলসহ দুইজন এবং ঢাকা-আগরতলা সড়কের সদর উপজেলার কোড্ডা ব্রিজের কাছ থেকে চারশ ইয়াবাসহ দু জনকে গ্রেফতার করা হয়। গ্রেফতারকৃতরা হলো- কিশোরগঞ্জ জেলার ভৈরব উপজেলার চন্ডিবেড় এলাকার মৃত ধনু মিয়ার স্ত্রী অঞ্জনা বেগম(২০) ও একই এলাকার আনার মিয়ার স্ত্রী মদিনা বেগম(৩৫)। বিজয়নগর উপজেলার সেজামুড়া গ্রামের কালা মিয়ার ছেলে অলী ওরফে পালন (২২) ও একই এলাকার মৃত আনু মিয়ার ছেলে সোহাগ মিয়া(২৫)। ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ওসি (তদন্ত) জিয়াউল হক ঘটনা সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।
মহাসড়কে এক্সেল লোড নিয়ন্ত্রণ বন্ধের দাবি রমজানে
রমজানে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে পণ্য পরিবহনে এক্সেল লোড নিয়ন্ত্রণ স্থগিত করার লক্ষ্যে সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রীর প্রতি আহবান জানিয়েছেন চিটাগাং চেম্বার সভাপতি মাহবুবুল আলম। শনিবার এক জরুরী পত্রের মাধ্যমে এই আহবান জানান। পত্রে তিনি বলেন-সম্প্রতি বৃহত্তর চট্টগ্রাম থেকে সারা দেশে পণ্য পরিবহনের ক্ষেত্রে ২(দুই) এক্সেল (৬ চাকা) বিশিষ্ট মোটরযানের মাধ্যমে মাত্র ১৩ টন ওজন নির্দিষ্ট করে দেয়ার ফলে পরিবহন ব্যয় দ্বিগুণ বৃদ্ধি পেয়েছে। শিল্পের কাঁচামাল, ভোগ্য ও নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য পরিবহনের ক্ষেত্রে কেজি প্রতি ৩/৪টাকা পর্যন্ত বৃদ্ধি পেয়েছে। দেশের অন্য কোন মহাসড়কে ওজন নিয়ন্ত্রণ না থাকার কারণে চট্টগ্রাম অঞ্চলের ব্যবসায়ীবৃন্দ অসম প্রতিযোগিতার সম্মুখীন হচ্ছে এবং আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছে বলে চেম্বার সভাপতি মাহবুবুল আলম মনে করেন। দেশের আমদানি-রপ্তানি বাণিজ্যের প্রায় ৮২% চট্টগ্রাম বন্দরের মাধ্যমে সম্পাদিত হয়। সুপ্রাচীন ঐতিহ্যের অধিকারী বাণিজ্যনগরী চট্টগ্রাম থেকে আমদানিকৃত নিত্যপ্রয়োজনীয় ভোগ্যপণ্য ও বিভিন্ন শিল্পের কাঁচামাল সারাদেশে সরবরাহ করা হয়ে থাকে। অন্যদিকে, আসন্ন রমজানে সরকার সারাদেশে নিত্যপ্রয়োজনীয় ভোগ্যপণ্যের মূল্য নিয়ন্ত্রণে রাখার লক্ষ্যে বিভিন্ন কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। তবে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে উল্লেখিত ওজন নিয়ন্ত্রণের কারণে পরিবহন ব্যয় বৃদ্ধির ফলে সারাদেশের সাধারণ মানুষ এসব পদক্ষেপের সুফল থেকে বঞ্চিত হবে এবং মূল্যস্ফীতি বৃদ্ধি পাবে বলে তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করেন। এ প্রেক্ষিতে বৃহত্তর চট্টগ্রাম থেকে সারাদেশে শিল্পের কাঁচামাল ভোগ্যপণ্য ও লবণ পরিবহনে অতিরিক্ত ব্যয় লাঘব করে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের মূল্য সাধারণ মানুষের নাগালে রাখার লক্ষ্যে বিশেষ করে আসন্ন রমজানে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে ২ (দুই) এক্সেলবিশিষ্ট মোটরযানে ১৩ টন ওজন পরিবহনের বাধ্যবাধকতা শিথিল করার লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রীর প্রতি চেম্বার সভাপতি মাহবুবুল আলম বিশেষ অনুরোধ জানিয়েছেন।
শান্তি আসবে না পাহাড়ে অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার না হলে
রাঙ্গামাটির নানিয়ারচর চেয়ারম্যান ও পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতির (এমএনলারমা) সহসভাপতি এডভোকেট শক্তিমান চাকমাকে হত্যা এবং শুক্রবার দাহক্রিয়াতে যোগদিতে যাওয়ার পথিমধ্যে ইউপিডিএফ (গণতান্ত্রিক) এর আহ্বায়ক তপন জ্যোতি চাকমাসহ পাঁচজন নিহতের ঘটনায় পাহাড়ে আতঙ্ক বিরাজ করছে। এই পরিস্থিতি দেখতে শনিবার সকালে রাঙ্গামাটি সফরে আসেন চট্টগ্রাম রেঞ্জের ডিআইজি ড. এস এম মনির উজ জামান। বিকেলে নানিয়ারচর বাজারে নানিয়রাচর থানার আয়োজনে বিশেষ আইন শৃঙ্খলা বিষয়ক সভা অনুষ্ঠিত হয়। নানিয়ারচরের বাচার এলাকায় এ সভা অনুষ্ঠিত হবে। সভায় প্রধান অতিথির ডিআইজি ড. এসএম মনির উজ জামান বলেন,আপনার দেখবেন ওই সব সন্ত্রাসীদের গ্রেফতার করে শাস্তির ব্যবস্থা করবো। এই ব্যাপারে আমাদের কঠোর অবস্থা থাকবে সব সময়। এই অস্ত্রের কাছে কত মা তার সন্তানকে হারিয়েছে। কত ছেলে আজ বাবা হারা। এমন বাংলাদেশ আমরা চাইনি। বাংলাদেশের অন্যান্য জেলার মত এটি কোন বিচ্ছিন্ন এলাকা নয়। আপনারা যা কিছু করবেন এটা হতে দেওয়া হবে না। এখানে যারা সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড করবে তাদের কাউকে বিন্দুমাত্র ছাড় দেওয়া হবে না। নানিয়ারচরে জোন কামান্ডার লে. কর্নেল বাহালুল আলম বলেন, আমাদের সকল শোককে শক্তিতে রূপান্তরিত করে অপরাধীদের বিরুদ্ধে এক হতে হবে। স্বার্থান্বেষী মহল যদি মনে করে জনপ্রতিনিধিকে হত্যা করে পার পাওয়া যাবে, তাদের বলবো তাদের যেখানে পাবো সেখান থেকে ধরে এনে আইনের আওতার আনা হবে। এসময় স্থানীয় এক মহিলা অবৈধ অস্ত্র উদ্ধারের দাবি জানান। তিনি বলেন, যদি পাহাড় থেকে এসব অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার করা না হয় তাহলে পাহাড়ে শান্তি আসবে না। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আব্দুলাহ আল মামুন তালুকদার সভাপতিতে এতে প্রধান অতিথি ছিলেন চট্টগ্রাম রেঞ্জের ডিআইজি ড. এসএম মনির উজ জামান, অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন, রাঙ্গামাটির জেলা প্রশাসক একেএম মামুনুর রশিদ, পুলিশ সুপার আলমগীর কবীর, নানিয়ারচর সেনা ক্যাম্পের জোন কামান্ডার লে. কর্নেল বাহালুল আলম, রাঙ্গামাটির অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর-সার্কেল) জাহাঙ্গীর আলম, উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান রণবিকাশ চাকমা, মহিলা ভাইস চেয়রাম্যান কোয়ালিটি চাকমা ও স্থানীয়রা।
দেশের জন্য জীবন উৎসর্গকারী বীরকন্যা প্রীতিলতা ওয়াদ্দেদার আমাদের সাহসের আলোকবর্তিতা
চট্টগ্রাম সাহিত্য পাঠচক্রের উদ্যোগে ব্রিটিশ বিরোধী আন্দোলনের অন্যতম পুরোধা মাষ্টার দা সূর্যসেনের সহযোদ্ধা দেশপ্রেমিক নারী বীরকন্যা প্রীতিলতা ওয়াদ্দেদারের ১০৭তম জন্মবার্ষিকী স্মরণে এক স্মরণ আলোচনা সভা সংগঠনের সভাপতি গত ৪ মে বিকেল পাহাড়তলীস্থ ইউরোপীয়ান ক্লাবস্থ প্রীতিলতা স্মারক ভাস্কর্য চত্ত্বরে অনুষ্ঠিত হয়। এতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ ও গবেষক প্রফেসর ড. গাজী সালেহ উদ্দীন। সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক আসিফ ইকবালের পরিচালনায় এতে অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সংগঠনের সহ সভাপতি ডাঃ জামাল উদ্দীন, সাংগাঠনিক সম্পাদক অমর দত্ত, দক্ষিণজেলা কৃষকলীগনেতা অমর দত্ত, সাংস্কৃতিক সংগঠক কানুরাম দে, সুমন চৌধুরী, রাশেদ মাহমুদ পিয়াস, রুমা বিশ্বাস, ইন্দিরা চৌধুরী, নুর নাহার বেগম, চুমকি দাশ, শাউলী সেন, ঝরনা বেগম, সাবিকুন নাহার সিদ্দিকী, রাজেশ দাশ, জলিল উল্লাহ,বিপ্লব প্রমুখ। সভায় প্রধান অতিথি তার বক্তব্যে বলেন প্রীতিলতারা আমাদের প্রেরণা আর এগিয়ে যাওয়ার সাহসী আলোকবর্তিতা। দেশমাতৃকার জন্য সেদিন ব্রিটিশদের বিরুদ্ধে মাষ্টার দা সূর্যসেন ও প্রীতিলতারা জীবন উৎসর্গ এদেশের স্বাধীনতার বীজ বপন করে গিয়েছিলেন। যা পরবর্তীতে হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ বাঙালী জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নেতৃত্বে আমরা আমাদের কাঙ্খিত স্বাধীনতা অর্জন করতে সক্ষম হয়েছি। তিনি আরো বলেন বর্তমান প্রজন্মের শিক্ষার্থীদেরকে বীরকন্যা প্রীতিলতা ওয়াদ্দেদারের আত্মত্যাগের ইতিহাস ও দেশপ্রেম থেকে শিক্ষা গ্রহণের আহবান জানান। সভা শেষে বীরকন্যা প্রীতিলতা ওয়াদ্দেদারের পাহাড়তলীস্থ স্মৃতি ভাস্কর্যে ফুলেল শ্রদ্ধা নিবেদন করেন নেতৃবৃন্দ।
তাসপিয়ার মৃত্যু রহস্যের কিনারা পেয়েছে পুলিশ
চট্টগ্রামের আলোচিত স্কুলছাত্রী তাসপিয়া আমিনের মৃত্যু রহস্য উদঘাটনের দ্বারপ্রান্তে পৌঁছে গেছে তদন্তকারী পুলিশ সদস্যরা। ঘটনার আরও একাধিক সিসি টিভির ফুটেজ হাতে পেয়েছে। সেগুলো পর্যালোচনায় বেশ কিছু তথ্য-উপাত্ত বেরিয়ে এসেছে। এখন অপেক্ষা ভিসেরা রিপোর্টের। এটি পেলেই তাসপিয়া আত্মহত্যা করেছে, নাকি হত্যার শিকার তার রহস্য জানা যাবে বলে আশাবাদী পুলিশ। পুলিশ এখন মোটামুটি নিশ্চিত, নগরীর চায়না গ্রিল রেস্টুরেন্ট থেকে বের হয়ে তাসপিয়া আর বাসায় ফিরে আসেনি। মৃত্যু রহস্য উদঘাটনে নতুন করে ওই রেস্টুরেন্টের সিসি টিভির একাধিক ভিডিও ফুটেজ সংগ্রহ করেছে পুলিশ। এছাড়া নগরের সন্দেহভাজন বেশ কিছু এলাকার সিসি টিভির ফুটেজও পুলিশের হাতে এসেছে। সংগ্রহ করা হয়েছে তাসপিয়াদের বাসার সিসি টিভির ফুটেজ। সূত্র জানায়, ভিডিও ফুটেজগুলো পর্যালোচনা করে পুলিশ জানতে পেরেছে, তাসপিয়া আমিনকে পতেঙ্গা সমুদ্র সৈকতে কারা নিয়ে গিয়েছিল। শুধু তাই নয়, তার মৃত্যু কিভাবে হয়েছে, তারও তথ্য-প্রমাণ পাওয়ার দাবি করেছে পুলিশ। কিন্তু, ময়নাতদন্তের রিপোর্ট (ভিসেরা ও সিআইডি) হাতে না পাওয়া পর্যন্ত এ বিষয়ে তদন্ত সংশ্লিষ্টরা প্রকাশ্যে কিছু বলছেন না। এ বিষয়ে সিএমপির সিনিয়র সহকারী পুলিশ কমিশনার (কর্ণফুলী জোন) মো. জাহেদুল ইসলাম পরিবর্তন ডটকমকে জানান, তদন্তে অনেক অগ্রগতি হয়েছে। আরেকটু অপেক্ষা করতে হবে। ঢাকা থেকে ময়নাতদন্তের রিপোর্ট হাতে পেলেই সব কিছু জানানো হবে। নতুন করে তাসপিয়ার বাসার সিসি টিভির ফুটেজে দেখা যাচ্ছে, ১ মে বিকেল পাঁচটা ২০ মিনিটে বাসা থেকে বের হয় তাসপিয়া। এরপর আর ফেরেনি। বাসার নিরাপত্তারক্ষী লোকমান হোসেনও পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে একই তথ্য দিয়েছেন। আর নগরীর গোলপাহাড় মোড়ের চায়না গ্রিল রেস্টুরেন্টের সিসি টিভির ফুটেজে দেখা গেছে, ওইদিন সন্ধ্যা সোয়া ছয়টার দিকে তাসপিয়া ও তার বন্ধু আদনান মির্জা সেখানে প্রবেশ করে। এরপর সন্ধ্যা ছয়টা ৩৭ মিনিটের দিকে তারা একসঙ্গে বেরিয়ে যায়। এরপর রেস্টুরেন্টের সামনে একটি সিএনজি অটোরিকশায় তাসপিয়াকে তুলে দিয়ে আদনান আরেকটি সিএনজি অটোরিকশায় তার পিছু নেয়। সন্ধ্যা ছয়টা ৪৮ মিনিটে ওআর নিজাম রোডে প্রিমিয়ার বিশ্ববিদ্যালয়ের সামনের সিসি টিভি ফুটেজে দেখা যায়, তাসফিয়ার বাসার গলির খানিক সামনে ধীরগতিতে চলছিল সিএনজি অটোরিকশাটি। বাসায় যেতে হলে ওয়েলফুড রেস্টুরেন্টের সামনের পথ পাড়ি দিয়ে মেডিকেল সেন্টারের গলি দিয়ে ঢোকার কথা। কিন্তু, সে পথে যায়নি তাসপিয়াকে বহনকারী সিএনজি অটোরিকশাটি। একই সিএনজি অটোরিকশাতে রাত আটটা ১০ মিনিটে তাসপিয়াকে পতেঙ্গা সমুদ্র সৈকতপাড়ে দেখা গেছে। তদন্তকারীরা বলছেন, যতটুকু জেনেছি তাসপিয়ার কাছে কোনো টাকা ছিল না। তাহলে সিএনজি অটোরিকশার ভাড়া কে দিল? পুলিশের ধারণা, চায়না গ্রিল রেস্টুরেন্টে অবস্থানকালে তাসপিয়ার আঙুলে একটি সোনার আংটি দেখা গেছে। কিন্তু, মরদেহ উদ্ধারের সময় সেটি পাওয়া যায়নি। এমনকি সঙ্গে থাকা মোবাইল ফোনটিও এখনঅব্দি পাওয়া যায়নি। উল্লেখ্য, গত ২ মে স্থানীয়রা পতেঙ্গা সমুদ্র সৈকতে একটি লাশ দেখতে পেয়ে থানায় খবর দেয়। খবর পেয়ে পুলিশ সৈকত এলাকার ১৮ নম্বর ব্রিজের উত্তর পাশে পাথরের ওপর উপুড় হয়ে পড়ে থাকা অজ্ঞাত লাশটি উদ্ধার করে। পরে স্বজনেরা লাশটি তাসপিয়ার বলে সনাক্ত করেন। সুরতহাল রিপের্টে মরদেহের এক চোখ উপড়ে ফেলা, অপর চোখ নষ্ট করে দেয়া ছাড়াও নাক-মুখ থেঁতলানো, পিঠ, বুক এবং নিতম্বে নির্যাতনের ছাপ পেয়েছে পুলিশ। তার বুকের মাঝেও নখের দাগ রয়েছে। এর আগে গত ১ মে বাসা থেকে বের হয়ে নিখোঁজ ছিল স্কুলছাত্রী তাসপিয়া আমিন। এ ঘটনায় ৩ মে তাসপিয়ার বাবা মোহাম্মদ আমিন পতেঙ্গা থানায় তাসপিয়ার বন্ধু আদনান মির্জাকে প্রধান আসামি করে ৬ জনের নামে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। আদনান মির্জা মামলার আসামি ফিরোজের পরিচালিত ‘রিচ কিডস’ নামের গ্যাংস্টারের (এডমিন) প্রধান। আর বাকি চার আসামি সেই গ্যাংস্টারের সদস্য- শওকত মিরাজ, আসিফ মিজান, ইমতিয়াজ সুলতান ইকরাম ও সোহায়েল প্রকাশ সোহেল। তাসপিয়ার বাবা মোহাম্মদ আমিন আসামিদের বিরুদ্ধে তার মেয়েকে গণধর্ষণের পর হত্যার অভিযোগ এনেছেন।