বুধবার, নভেম্বর ২১, ২০১৮
দৈনিক ইত্তেফাক পত্রিকার ৬৫ তম প্রতিষ্ঠার বার্ষিকী পালন
আলোচনা সভা, কেক কাটা ও রযালীর মধ্যে দিয়ে নওগাঁয় দৈনিক ইত্তেফাক পত্রিকার ৬৫ তম প্রতিষ্ঠার বার্ষিকী পালন করা হয়েছে। এ উপলক্ষে আজ রোববার সকাল ১১ টায় শহরের ঐতিহ্যবাহী প্যারীমোহন সাধারণ গ্রন্থাগার হল রুমে এক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। এতে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন ও কেক কেটে পত্রিকার প্রতিষ্ঠা বার্ষিকীর উদ্বোধন করেন নওগাঁর সুযোগ্য পুলিশ সুপার ইকবাল হোসেন। নওগাঁ মুক্তিযোদ্ধা সংসদের সদর উপজেলা কমান্ড বীর মুক্তিযোদ্ধা গোলাম সামদানীর সভাপতিত্বে এতে বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন, অতিরিক্তি পুলিশ সুপার (সার্বিক) রাশেদুল হক, কবি ও সাহিত্যিক প্রাক্তন অধ্যাপক আতাউল হক সিদ্দিকী, জাতীয় পার্টির কেন্দ্রীয় যুগ্ম মহাসচিব ও জেলার সভাপতি অ্যাডভোকেট তোফাজ্জল হোসেন খান, সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব রোটারিয়ান চন্দন দেব। এ ছাড়াও বক্তব্য রাখেন, নওগাঁ সদর মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) তোরিকুল ইসলাম, কলামিষ্ট ও প্রবীন সাংবাদিক এবিএম রফিকুল ইসলাম, সিনিয়র সাংবাদিক মাসুদুর রহমান রতন, জহির রায়হান চলচ্চিত্র সংসদ নওগাঁর সভাপতি হবিবর রহমান চৌধুরী, বরেন্দ্র রেডিওর চিফ পোগ্রাম ও সিনিয়র রিপোর্টার রিফাত হোসেন সবুজ, ইত্তেফাকের মহাদেবপুর সংবাদদাতা আজাদুল ইসলাম, মান্দার সংবাদদাতা হাবিবুর রহমান, নিয়ামতপুর সংবাদদাতা জনি আহমেদ। বক্তরা দৈনিক ইত্তেফাক পত্রিকার বর্ণাঢ্য কর্মপথ চলা এবং নানান দিক নিয়ে আলোচনা করেন। তারা এ সময় বলেন, সার্বভৌমত্ব, মানুষের অধিকার রক্ষা, সমাজে পিছিয়ে থাকা বা খেটে খাওয়া মানুষের অধিকার সুরক্ষা, দেশের স্বাধীনতা অর্জনের প্রশংনীয় ভূমিকার কথা তুলে ধরেন । এ ছাড়ার উপস্থিত ছিলেন বৈশাখীর টিভির প্রতিনিধি এবাদুল হক, বাংলা টিভির প্রতিনিধি আশরাফুল ইসলাম নয়ন, দৈনিক যুগান্তরের প্রতিনিধি আব্বাস আলী, তৃতীয় মাত্রার প্রতিনিধি আব্দুল মান্নান, প্রত্যাশা প্রতিদিনের প্রতিনিধি ফারমান আলী, যায়যায় দিনের প্রতিনিধি রুহুল আমিনসহ জেলার বিভিন্ন সাংস্কৃতিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ। অনুষ্ঠান সংঞ্চালন করেন জহির রায়হান চলচ্চিত্র সংসদ নওগাঁর সাধারন সম্পাদক রহমান রায়হান। অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন, দৈনিক ইত্তেফাক পত্রিকা ও একাত্তর টেলিভিশনের জেলা প্রতিনিধি তন্ময় ভৌমিক। পরে একটি রযালী শহরের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে।
পদদলিত হয়ে নিহত ১০ সংখ্যালঘুর পরিবারকে ৫ লাখ টাকা করে অনুদান দেয়ার ঘোষণা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী
চট্টগ্রামের রীমা কনভেনশন সেন্টারে মহিউদ্দিন চৌধুরীর জেয়াফত উপলক্ষে মেজবান খেতে গিয়ে ভিড়ের চাপে পদদলিত হয়ে নিহত ১০ সংখ্যালঘুর পরিবারকে ৫ লাখ টাকা করে অনুদান দেয়ার ঘোষণা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। আজ রবিবার বিকালে নগরীর চশমা হিলের বাসায় মহিউদ্দিন পরিবারকে শান্তনা জানাতে এসে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এ অনুদানের ঘোষণা দেন। প্রসঙ্গত, প্রয়াত মহানগর আওয়ামীলীগের সভাপতি ও সাবেক সিটি মেয়র এবিএম মহিউদ্দিন চৌধুরীরর কুলখানি উপলক্ষে গত ১৮ ডিসেম্বর সোমবার দুপুরে নগরীর বিভিন্ন স্থানের ১২টি কমিউনিটি সেন্টারে অন্তত দেড় লাখ লোকের জন্য মেজবানের আয়োজন করা হয়। সকাল ১১ টা থেকে মেজবান খাওয়ানো শুরু হয়। নগরীরর এস এস খালেদ রোডস্থ (আসকার দীঘির পাড়) রীমা কনভেনশন সেন্টারে হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিষ্ট্রান সহ সংখ্যালঘুদের জন্য খাবারের ব্যাবস্থা করা হয়। দুপুর দেড়টার দিকে, প্রচন্ড ভীড়ের চাপে পদদলিত হয়ে ১০ জন নিহত ও অন্তত ৪০ জন আহত হয়।
নির্বাচনে জয়ের পর প্রতিদন্দী প্রার্থিদের সঙ্গে সাক্ষাত মোস্তাফিজার
সাবেক মেয়র সরফুদ্দীন আহমেদ ঝন্টুর সঙ্গে তার বাসায় গিয়ে সাক্ষাত করেছেন রংপুর সিটি করপোরেশনের নব নির্বাচিত মেয়র মোস্তাফিজার রহমান। গতরাত (শুক্রবার) ৮টার দিকে দলীয় নেতাকর্মীদের সঙ্গে নিয়ে সরফুদ্দীন আহমেদ ঝন্টুর বাসায় গিয়ে সাক্ষাৎ করেন তিনি। এ সময় রংপুর সিটি করপোরেশনের নব নির্বাচিত মেয়রকে স্বাগত জানান সাবেক মেয়র ও প্রবীণ আওয়ামী লীগ নেতা সরফুদ্দীন আহমেদ ঝন্টু। এ সময় সিটি করপোরেশনের উন্নয়নে সব ধরনের সহযোগিতার আশ্বাস দেন তিনি। এসময় মোস্তাফিজার রহমান বলেন, 'আগামী দিনে সিটি করপোরেশন চালানোর জন্য উনারও প্রয়োজন আছে সেজন্যই আমি উনার কাছে এসেছি। উনি দোয়া করেছেন। আগামী দিনে সহযোগিতা করবেন, সেটাও বলেছেন। এখানে যত রাজনৈতিক দল আছে তাদের সঙ্গে আমি সহযোগিতার ভিত্তিতে কাজ করবো। আমি বাবলা (বিএনপি মনোনীত প্রার্থী) সাহেবের কাছেও যাবো।'
এ সরকারের আমলে সুষ্ঠু নির্বাচন সম্ভব না সেটা আবারও প্রমাণ করেছে-বিএনপি
রংপুর সিটি করপোরেশন নির্বাচনে চূড়ান্ত ফল ঘোষণার আগেই তা প্রত্যাখ্যান করলেন বিএনপি প্রার্থী কাওসার জামান বাবলা। বিভিন্ন কেন্দ্রে ব্যাপক হারে কারচুপি হয়েছে দাবি করে তিনি এই ফল প্রত্যাখ্যান করেন। বৃহস্পতিবার (২১ ডিসেম্বর) রাত ৯টার দিকে জেলা বিএনপির দলীয় কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলন করেন কাওসার জামান বাবলা। এই সংবাদ সম্মেলনেই তিনি ফল প্রত্যাখ্যানসহ নির্বাচন নিয়ে বিভিন্ন অভিযোগ করেন। সংবাদ সম্মেলনে বাবলা অভিযোগ করে বলেন, ভোটারদের ভয় দেখিয়ে ভোটকেন্দ্রে যাওয়া থেকে বিরত রাখা হয়েছে। জীবনের ঝুঁকির কারণে অনেক মানুষই ভোট দিতে যায়নি। নির্বাচনে ৩৩নং ওয়ার্ডের একটি ভোটকেন্দ্রের অনিয়মের উদাহরণ তুলে ধরে বাবলা জানান, ওই কেন্দ্র থেকে তার এক কর্মী ফোন দিয়ে জানায়, সেখানকার ব্যালট পেপারে সিল বা সই- কিছুই নেই। সে সময় তিনি ওই কেন্দ্রের প্রিসাইডিং অফিসারের সঙ্গে কথা বলেন। দাবি করেন, এ বিষয়ে প্রিসাইডিং অফিসার ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দিলেও এর এক ঘণ্টা পরও তিনি খোঁজ নিয়ে জানতে পারেন, কোনও ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। বাবলা জানান, ইভিএম ব্যবহার করা একমাত্র ভোটকেন্দ্র সরকারি বেগম রোকেয়া কলেজ পরিদর্শনে গিয়েছিলেন তিনি। সেখানে রংপুরের জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপারের সঙ্গে তার কথা হয়। বাবলা বলেন, রংপুরের জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপারের সঙ্গে আমার কথা হলো। তাদের ওই কেন্দ্রের বিষয়ে অভিযোগের কথা জানালাম। তারা নোট করলেন, আমাকে আশ্বস্ত করলেন। আমি জেলা রিটার্নিং অফিসারকেও এ বিষয়ে জানিয়েছি। কিন্তু কোনও ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। বাবলা দাবি করেন, ৩৩নং ওয়ার্ডের মতো এই নির্বাচনে অনেক ভোটকেন্দ্রেই ব্যাপক অনিয়ম হয়েছে, ব্যাপক কারচুপি করা হয়েছে। আর সে কারণেই তিনি এই নির্বাচনের ফল প্রত্যাখ্যান করেছেন। সংবাদ সম্মেলনে এক সাংবাদিক জানতে চান, ফল প্রত্যাখ্যানের এই সিদ্ধান্ত তার নিজের নাকি দলের কেন্দ্রের সিদ্ধান্তে তিনি ফল প্রত্যাখ্যান করছেন। এর জবাবে বাবলা বলেন, কেন্দ্রের সঙ্গে আমার কোনও আলাপ হয়নি। আমি এখানকার অবস্থা দেখে নিজে থেকেই ফল প্রত্যাখ্যান করছি।
মিলেনিয়াম হিউম্যান রাইটস এর পক্ষ থেকে চ.সি.ক ভারপ্রাপ্ত মেয়রকে ফুলেল শুভেচ্ছা
-নিজস্ব প্রতিনিধি, চট্টগ্রাম। চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের ভারপ্রাপ্ত মেয়র আলহাজ্ব নিছার উদ্দিন আহম্মেদ মঞ্জুকে, মিলেনিয়াম হিউম্যান রাইটস্ এন্ড জর্নালিস্ট ফাউন্ডেশন, চট্টগ্রাম এর সকল কমিটির পক্ষ থেকে জেলা কমিটির মহাসচিব ফয়সাল হাসান এর নেতৃত্বে অদ্য নগর ভবনে ফুলেল শুভেচ্ছা প্রধান করা হয়। এতে আরো উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রাম জেলা কমিটির চেয়ারম্যান লোকমান আলী, মহারগর কমিটির চেয়ারম্যান জিয়া উদ্দীন কাদের, মহাসচিব মৃদুল মজুমদার জেলার সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান এম.এ হক রানা, যুগ্ন-মহাসচিব সাইফুল ইসলাম, সমাজ কল্যান সচিব নিহার কান্তি দাশ। উত্তর জেলার চেয়ারম্যান নুর নবী চৌধুরী প্রমুখ। উপস্থিত সকলে একজন পরিচ্ছন্ন নিরপেক্ষ এবং সমাজসেবা ১০ নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর নিছার উদ্দীন আহম্মেদ মঞ্জুর দীর্ঘায়ু কামনা এবং তাহার কর্মের সফলতায় সকলকে একযোগে কাজ করার জন্য আহব্বান জনান।
নির্বাচনে ভোটদানে বাধা দেওয়ার বিষয়ে বিএনপির অভিযোগ সঠিক নয় বলে মনে করেন (সিইসি)
রংপুর সিটি করপোরেশন নির্বাচনে ভোটদানে বাধা দেওয়ার বিষয়ে বিএনপির অভিযোগ সঠিক নয় বলে মনে করেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কে এম নুরুল হুদা। রংপুরের নির্বাচনের সার্বিক পরিস্থিতিতে ইসি সন্তুষ্ট বলে জানান তিনি। আজ বৃহস্পতিবার নির্বাচন ভবনে সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে সিইসি এ কথা বলেন। সকাল থেকে ভোটারদের কাছ থেকে তথ্য নিয়েছেন জানিয়ে সিইসি বলেন, ভোটাররা কোনো ধরনের অভিযোগ করেননি। গণমাধ্যমও কাজ করছে। ভোটদানে বাধা দেওয়ার কোনো অভিযোগ আসেনি। রংপুরের যেসব কেন্দ্রে পরীক্ষামূলকভাবে ইভিএমে ভোট গ্রহণ চলছে, সেখানকার সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সঙ্গে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে কথা হয়েছে বলেও জানান সিইসি। বলেন, তাঁরা সতর্কতার সঙ্গে ইভিএম ব্যবহারের চিন্তা করেছিলেন। এখন পর্যন্ত কোনো বিচ্যুতি হয়নি। ইভিএম ব্যবহারকারী ভোটাররা সন্তোষ প্রকাশ করেছেন। ইভিএম ব্যবহার সংক্রান্ত এক প্রশ্নের জবাবে সিইসি বলেন, স্থানীয় সরকার নির্বাচনের কোথাও কোথাও ইভিএম ব্যবহার হবে। তবে আগামী জাতীয় নির্বাচনে সম্ভব হবে না। এ সময় নির্বাচন কমিশনার রফিকুল ইসলাম, কবিতা খানম, শাহাদাত হোসেন চৌধুরীসহ ইসির কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
রংপুরে রোকেয়া কলেজ ভোটকেন্দ্রে ইভিএম পদ্ধতিতে ভোটগ্রহণ চলছে
সকাল থেকেই শুরু হয়েছে রংপুর সিটি করপোরেশন নির্বাচনের ভোটগ্রহণ। নগরীর ৩৩টি ওয়ার্ডের ১৯৩টি ভোটকেন্দ্রের মধ্যে পরীক্ষামূলকভাবে কেবলমাত্র বেগম রোকেয়া কলেজ ভোটকেন্দ্রে ইভিএম পদ্ধতিতে ভোটগ্রহণ চলছে। বাকি কেন্দ্রগুলোতে ব্যালট পেপার ব্যবহৃত হচ্ছে। ৩৩টি ওয়ার্ডের ১৯৩টি ভোটকেন্দ্রের ১১২২টি বুথে শান্তিপূর্ণ ভোটগ্রহণ চলছে। কেন্দ্রগুলোর মোট ভোটার সংখ্যা ৩ লাখ ৯৩ হাজার ৯৯৪ জন। নির্বাচন সুষ্ঠু ও অবাধ করতে প্রশাসন ও নির্বাচন কমিশন সব ধরনের ব্যবস্থা সম্পন্ন করেছে। এখন পর্যন্ত কোনো ভোটকেন্দ্রেই অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি। তবে শীতে সকাল হওয়ায় ভোটকেন্দ্রে ভোটারদের আনাগোনা তুলনামূলকভাবে কম ছিলো। বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে ভোটারদের অংগ্রহণ বাড়তে শুরু করেছে। রসিক নির্বাচনে মোট ভোটারদের মধ্যে পুরুষ এক লাখ ৯৬ হাজার ৩৫৬ জন এবং নারী এক লাখ ৯৭ হাজার ৬৩৮ জন।
রংপুরে ভোট যুদ্ধ শুরু
রংপুর সিটি করপোরেশন নির্বাচনে ভোট গ্রহণ শুরু হয়েছে। আজ বৃহস্পতিবার সকাল ৮টায় ভোট গ্রহণ শুরু হয়। বিকেল ৪টা পর্যন্ত একটানা ভোট গ্রহণ চলবে। রংপুর সিটিতে এবার ভোটার সংখ্যা ৩ লাখ ৯৩ হাজার ৯৯৪। গতবারের চেয়ে ভোটার বেড়েছে ২৪ হাজার। ভোট গ্রহণের কেন্দ্র ১৯৩টি। এর মধ্যে ১২৮ কেন্দ্রকে গুরুত্বপূর্ণ বা ঝুঁকিপূর্ণ বলে চিহ্নিত করেছে নির্বাচন কমিশন। রংপুর সিটিতে এবার দলীয় প্রতীকে প্রথমবার ভোট হচ্ছে। জাতীয় নির্বাচনের জটিল সব সমীকরণ সামনে রেখে আজ রংপুরে ভোটের লড়াইয়ে রয়েছে তিন প্রধান রাজনৈতিক দল। জাতীয় পার্টি এই নির্বাচনকে প্রধান বিরোধী দল প্রমাণের সুযোগ হিসেবে নিয়েছে। হার-জিতের হিসাবের চেয়ে জাতীয় পার্টির সঙ্গে সুসম্পর্ক রক্ষা এবং সুষ্ঠু নির্বাচনের সুনাম অর্জনই মূল লক্ষ্য সরকারি দল আওয়ামী লীগের। আর রংপুরে বরাবরই দুর্বল বিএনপি এবার ভালো কিছু করে সরকারকে একটি বার্তা দিতে চাইছে। প্রতিদ্বন্দ্বী এই তিন দলের নীতিনির্ধারকদের সঙ্গে কথা বলে এমন মনোভাব জানা গেছে। নির্বাচনের প্রচার-প্রচারণা আগেই শেষ হয়েছে। গতকাল বুধবার দুপুর থেকে পিকআপে করে কেন্দ্রে কেন্দ্রে পুলিশি পাহারায় ব্যালট পেপার আর ব্যালট বাক্স পাঠানো হয়। ভোটের আগের দিন এখানে-সেখানে প্রার্থীদের পোস্টার ছাড়া বাড়তি কোনো উচ্ছ্বাস-উত্তেজনা দেখা যায়নি। ভোটার, স্থানীয় রাজনীতিক ও প্রশাসনের কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলে দুই ধরনের ধারণা পাওয়া যায়। এক. এই নির্বাচন মোটামুটি সুষ্ঠুই হবে। দুই. ভোটারদের মধ্যে দলের চেয়ে ব্যক্তি সুনাম বেশি প্রাধান্য পাচ্ছে। জাতীয় পার্টির প্রার্থী মোস্তাফিজার রহমান গত সিটি করপোরেশন নির্বাচনে দলীয় সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে স্বতন্ত্র হিসেবে লড়েও দ্বিতীয় অবস্থানে ছিলেন। এ কারণে তাঁকে নিয়ে ভোটারদের মধ্যে আলোচনাটা বেশি। আওয়ামী লীগের প্রার্থী ও সদ্য সাবেক মেয়র সরফুদ্দীন আহম্মেদ ও বিএনপির কাওছার জামানও এই নির্বাচনে বেশ আলোচিত। নির্বাচন সুষ্ঠু হওয়ার ধারণার পেছনে এখন পর্যন্ত বড় ধরনের সংঘাত না হওয়াকে কারণ মনে করছেন স্থানীয় লোকজন। নির্বাচনী কার্যক্রম শুরু হয়েছে গত নভেম্বর থেকে। কিন্তু এ পর্যন্ত প্রতিদ্বন্দ্বীদের মধ্যে উল্লেখ করার মতো কোনো সংঘাত-সহিংসতা হয়নি। রিটার্নিং কর্মকর্তা সুভাষ চন্দ্র সরকার প্রথম আলোকে বলেছেন, নির্বাচনের পরিবেশ সম্পূর্ণ অনুকূলে। সুষ্ঠু নির্বাচনের সব ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। সরকার ও আওয়ামী লীগের দায়িত্বশীল উচ্চপর্যায়ের সূত্র জানিয়েছে, হার-জিত যা-ই হোক, দলের উচ্চপর্যায় থেকে সুষ্ঠু ভোটের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। আর স্থানীয় প্রশাসনও সুষ্ঠু ভোটের বিষয়ে রাজনৈতিক দলগুলোকে ইঙ্গিত দিয়েছে। আওয়ামী লীগ ও জাতীয় পার্টিও বিশ্বাস করে নির্বাচন সুষ্ঠু হবে। এ কারণে দলের চেয়ারম্যান এইচ এম এরশাদ নির্বাচনে সেনাবাহিনী মোতায়েনের দরকার নেই বলে মন্তব্য করেছেন। জাতীয় পার্টির মহাসচিব এ বি এম রুহুল আমিন হাওলাদার প্রথম আলোকে বলেছেন, কুমিল্লা ও নারায়ণগঞ্জের পর রংপুরের নির্বাচন সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ করে সরকার প্রমাণ করবে, এই নির্বাচন কমিশনের অধীন সুষ্ঠু নির্বাচন হতে পারে। তাঁর বিশ্বাস, এ পরীক্ষায় সরকার ও নির্বাচন কমিশন উত্তীর্ণ হবে। গত চার বছর জাতীয় সংসদের বিরোধী দল জাতীয় পার্টি। কিন্তু সারা দেশের স্থানীয় সরকারের নির্বাচন অর্থাৎ সিটি করপোরেশন, পৌরসভা, উপজেলা ও ইউনিয়ন পরিষদের ভোটে এর কোনো প্রভাব রাখতে পারেনি তারা। একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সমাগত। এ নির্বাচনের আগে রংপুর সিটি করপোরেশন নির্বাচন দিয়ে সরকারের শরিক দলটি নিজেদের উজ্জীবিত করার লক্ষ্য নিয়েছে। এখন পর্যন্ত সরকারি দলের যে ভূমিকা, তাতে এই লক্ষ্য ভন্ডুল করার কোনো আলামত এখানে দেখছে না জাতীয় পার্টি। আওয়ামী লীগের নীতিনির্ধারণী সূত্র বলছে, জাতীয় পার্টিকে বিএনপির বিকল্প শক্তি হিসেবে দাঁড় করানোর একটা প্রবণতা দীর্ঘদিন ধরেই আওয়ামী লীগের আছে। আর অভ্যন্তরীণ জরিপ বলছে, আওয়ামী লীগের প্রার্থী জাতীয় পার্টির প্রার্থীর চেয়ে পিছিয়ে। তাই জবরদস্তি করে রংপুরে জয়ী হওয়ার চেয়ে জাতীয় পার্টিকে উজ্জীবিত রাখাকেই ভালো বিকল্প মনে করছে সরকারি দল। এর মাধ্যমে এই সরকার ও নির্বাচন কমিশনের অধীনে সুষ্ঠু নির্বাচন সম্ভব, এটাও দেখানো যাবে। এ জন্য রংপুরে দলীয় প্রার্থীর পক্ষে কেন্দ্রীয় নেতাদের দৌড়ঝাঁপ কম দেখা গেছে। জানতে চাইলে আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য ও স্বাস্থ্যমন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম প্রথম আলোকে বলেন, আমরা হারলেও দোষ, জিতলেও দোষ। হারলে বলে ছেড়ে দিয়েছি। আর জিতলে বলে নির্বাচন সুষ্ঠু হয়নি। এটা তো ঠিক না। নির্বাচন কেমন হবে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ভোট খুব সুষ্ঠু ও অবাধ হবে। এতে জনগণ যে রায় দেবে, তা মেনে নেবে আওয়ামী লীগ। এরশাদের কারণে রংপুর জাতীয় পার্টির দুর্গ হিসেবে পরিচিত। কিন্তু বিগত কয়েক বছরে জাতীয় সংসদ ও স্থানীয় সরকারে আওয়ামী লীগ এর দখল নিয়েছে। গত নির্বাচনে জেলার ছয়টি সংসদীয় আসনের চারটি পেয়েছে আওয়ামী লীগ। বাকি দুটি জাতীয় পার্টি। জেলার তিনটি পৌরসভার তিনটিই আওয়ামী লীগের দখলে। আটটি উপজেলার চারটি আওয়ামী লীগের, তিনটি বিএনপির, আর একটি জামায়াতে ইসলামীর। জাতীয় পার্টি একটিতেও জিততে পারেনি। ৭৬টি ইউনিয়ন পরিষদের মধ্যে ৫৮টি আওয়ামী লীগের। বাকিগুলো বিএনপি, জাতীয় পার্টি ও জামায়াতের। অর্থাৎ রংপুরের নির্বাচনী রাজনীতিতে জাতীয় পার্টি গত চার বছরে কোনো প্রভাব ফেলতে পারেনি। স্থানীয় আওয়ামী লীগ ও ছাত্রলীগের একাধিক শীর্ষ নেতার সঙ্গে কথা বলে হতাশা ও গাছাড়া ভাব দেখা গেছে। দুজন নেতা বলেন, কেন্দ্র থেকে শুরু করে মাঠ পর্যন্ত কেউ এই নির্বাচনে সর্বশক্তি নিয়োগ করেনি। সরকারি দলের ঢিলেঢালা ভাব দেখে জাতীয় পার্টি নেতাদের মধ্যে একধরনের স্বস্তিভাব দেখা গেছে। এরপরও দলের শীর্ষ নেতারা মাঠ চষে বেড়াচ্ছেন। দলের চেয়ারম্যান এইচ এম এরশাদ এখন রংপুরে আছেন। দলের কো-চেয়ারম্যান জি এম কাদের ও মহাসচিবসহ দলের এক ডজন শীর্ষ নেতা ও সাংসদ সিটি এলাকার আশপাশে অবস্থান করছেন। রংপুর সিটি নির্বাচনে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন পেতে দলের ১৬ জন ফরম সংগ্রহ করেছিলেন। নানা জরিপ, দলীয় বিশ্লেষণ করে দলীয় নীতি-নির্ধারকেরা মনে করেছেন, দলীয় ভোটের বাইরে ব্যক্তিগত ভোটে সরফুদ্দীন আহম্মেদ এগিয়ে। তাঁকেই মনোনয়ন দেওয়া হয়। তিনি গতবার ১ লাখ ৬ হাজার ভোট পেয়ে মেয়র হন। কিন্তু দলে তাঁর বড় কোনো পদ নেই। তিনি জেলা আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য। জাতীয় পার্টির প্রার্থী ও দলের মহানগর কমিটির সভাপতি মোস্তাফিজুর রহমান গত সিটি নির্বাচনে দলের সমর্থন না পেলেও দ্বিতীয় হয়েছিলেন, ভোট পান প্রায় ৭৮ হাজার। তাঁর ব্যক্তিগত জনপ্রিয়তা রয়েছে। আর বিএনপির মহানগর সহসভাপতি কাওছার জামান গত নির্বাচনে প্রার্থী হয়ে ২১ হাজার ভোট পেয়েছিলেন। এবার দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরসহ কেন্দ্রীয় নেতারা লাগাতার প্রচার চালিয়েছেন। প্রধান সমন্বয়ক দলের ভাইস চেয়ারম্যান ইকবাল হাছান মাহমুদ প্রথম আলোকে বলেন, প্রথম দিন থেকেই বিএনপির প্রার্থীর সঙ্গে বৈষম্য হয়েছে। সবার জন্য সমান মাঠ ছিল না। নির্বাচন সুষ্ঠু হলে হার-জিত যাই হোক মেনে নিতে সমস্যা নেই। অবশ্য রংপুরে প্রচারে এসে গত সোমবার ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছিলেন, এই নির্বাচনের মধ্য দিয়ে সরকার পরিবর্তন হবে না। কিন্তু এর মধ্য দিয়ে সরকারকে একটা বার্তা দিতে পারি যে দেশের জনগণ তোমাদের আর চায় না। কয়েক দিন ধরে স্থানীয়ভাবে গুঞ্জন আছে যে এই নির্বাচনে আওয়ামী লীগের সঙ্গে রাজনৈতিক মিত্র জাতীয় পার্টির একরকম সমঝোতা হয়েছে। এ কারণে আওয়ামী লীগ খুব একটা তৎপর নয়। এর পক্ষে যুক্তি হিসেবে স্থানীয় রাজনীতিকেরা বলছেন, জাতীয় পার্টির মেয়র প্রার্থীর অবস্থান অনেকটাই সুস্পষ্ট। কিন্তু দলটি ৩৩টি ওয়ার্ডের মাত্র ১৫ টিতে প্রার্থী দিয়েছে। অথচ ৩৩টি ওয়ার্ডে আওয়ামী লীগের মনোনীত ও বিদ্রোহী মিলে প্রার্থী হয়েছেন ৯৯ জন। বিএনপির কাউন্সিলর প্রার্থীর সংখ্যা ১৮ জন। সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, ক্ষমতাসীনদের সঙ্গে সমঝোতা করে জাতীয় পার্টি সব ওয়ার্ডে প্রার্থী দেয়নি। এ বিষয়ে জানতে চাইলে জাতীয় পার্টির সাবেক মহাসচিব ও সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য জিয়াউদ্দিন আহম্মেদ বলেন,আমরা মেয়রের দিকে বেশি মনোযোগ দিয়েছি, তাই সব ওয়ার্ডে প্রার্থী দিইনি। নগরীর ১৮টি ওয়ার্ড একসময় ইউনিয়ন ছিল। গত নির্বাচনেই সেগুলো সিটি করপোরেশনে অন্তর্ভুক্ত করা হয়। গত পাঁচ বছরে এসব ওয়ার্ডে তেমন কোনো উন্নয়ন হয়নি। এই ১৮টি ওয়ার্ডে ভোটার সংখ্যা ১ লাখ ৭৫ হাজার।
পরিস্থিতি সম্পূর্ণ ইসির অনুকূলে
প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কে এম নুরুল হুদা বলেছেন, রংপুর সিটি করপোরেশন নির্বাচনের জন্য সব প্রস্তুতি শেষ হয়েছে। পরিস্থিতি ইসির নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। রংপুর সিটি করপোরেশনে ভোটের আগের দিন আজ বুধবার রাজধানীতে নির্বাচন ভবনে সংবাদ সম্মেলনে সিইসি এ কথা বলেন। তবে একটি ভোটকেন্দ্রে নতুন ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিন (ইভিএম) ব্যবহার করা নিয়ে তিনি সংশয় প্রকাশ করেন। সিইসি বলেন, এখন পর্যন্ত ইসির যে পর্যবেক্ষণ, তাতে পরিস্থিতি সম্পূর্ণ ইসির অনুকূলে রয়েছে। সুন্দর, সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন করা সম্ভব হবে। তিনি বলেন, রংপুরে তিনটি ভোটকেন্দ্রে সিসিটিভি ক্যামেরা ব্যবহার করা হবে। একটি কেন্দ্রে ইভিএম ব্যবহারের কথা ছিল। সম্পূর্ণভাবে সিকিউরড হলেই এই যন্ত্র ব্যবহার করা হবে। ইভিএম ব্যবহার নিয়ে এক প্রশ্নের জবাবে সিইসি বলেন, এটা কারিগরি বিষয়। কারিগরি দল পরীক্ষা-নিরীক্ষা করছে। শতভাগ নিশ্চিত না হয়ে তা ব্যবহার করা হবে না। নতুন ইভিএম ব্যবহারের বিষয়ে বৃহস্পতিবার সকালে নিশ্চিত হওয়া যাবে। সংবাদ সম্মেলনে নির্বাচন কমিশনার মো. রফিকুল ইসলাম বলেন, রংপুর সিটি করপোরেশনে একটি মডেল নির্বাচন করার জন্য সব প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। যাতে পরবর্তী সিটি করপোরেশন নির্বাচনগুলোও একইভাবে করা যায়। সংবাদ সম্মেলনে নির্বাচন কমিশনার কবিতা খানম, শাহাদাত হোসেন চৌধুরী ও ইসির ভারপ্রাপ্ত সচিব হেলালুদ্দীন আহমদ উপস্থিত ছিলেন। আগামীকাল বৃহস্পতিবার প্রথমবারের মতো রংপুর সিটি করপোরেশনে নির্বাচনে দলীয় প্রতীকে ভোট গ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে।

সারা দেশ পাতার আরো খবর