একাদশ শ্রেণিতে ভর্তির ফল প্রকাশ
দেশের সব সরকারি-বেসরকারি কলেজে একাদশ শ্রেণিতে ভর্তির জন্য মনোনীত শিক্ষার্থীদের প্রথম তালিকা বা ফলাফল প্রকাশ করেছে আন্তঃশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় সাব-কমিটি। শনিবার দিবাগত রাত ১২টার পর এ তালিকা প্রকাশ করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন ঢাকা বোর্ডের কলেজ পরিদর্শক অধ্যাপক মো. হারুন-আর-রশিদ। এবার প্রথম তালিকায় ১২ লাখ ৩৮ হাজার ২৫২ জনকে একাদশ শ্রেণিতে ভর্তির জন্য মনোনীত করা হয়েছে। যদিও আবেদন করেছিল প্রায় ১৩ লাখ শিক্ষার্থী। আবেদনকারীদের মধ্যে ৯৪ শতাংশ শিক্ষার্থী প্রথম তালিকায় স্থান পেয়েছেন, অন্যরা দ্বিতীয় এবং তৃতীয় তালিকায় আসবে। সবাই ভর্তির জন্য কলেজ পাবেন বলেও জানিয়েছেন ঢাকা বোর্ডের কলেজ পরিদর্শক অধ্যাপক মো. হারুন-আর-রশিদ। ভর্তির জন্য মনোনীত শিক্ষার্থীদের বাকি দুটি তালিকা যথাক্রমে আগামী ২১ জুন এবং ২৫ জুন প্রকাশ করা হবে। ফল প্রকাশ করে কলেজে ভর্তির ওয়েবসাইটে বলা হয়েছে, নির্বাচিত শিক্ষার্থীদের ১১ থেকে ১৮ জুনের মধ্যে মোবাইল ব্যাংকিং চার্জ বাদে ১৮৫ টাকা রেজিস্ট্রেশন ফি রকেট, টেলিটক অথবা শিওরক্যাশ- এর মাধ্যমে জমা দিয়ে ভর্তির প্রাথমিক নিশ্চায়ন করতে হবে। আর ২৭ থেকে ৩০ জুন নির্বাচিত শিক্ষার্থীদের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ভর্তি হতে হবে। বিগত কয়েক বছরের মত এবারও মাধ্যমিকের ফলের ভিত্তিতে একাদশ শ্রেণিতে অনলাইনে শিক্ষার্থী ভর্তি করা হচ্ছে।
জেএসসি-জেডিসিতে কমলো ২০০ নম্বর
এ বছর অষ্টম শ্রেণির শিক্ষা সমাপনী জুনিয়র স্কুল সার্টিফিকেট (জেএসসি) এবং জুনিয়র দাখিল সার্টিফিকেট (জেডিসি) পরীক্ষা থেকে নম্বর ও বিষয় কমানোর সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। বৃহস্পতিবার সচিবালয়ে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে জাতীয় শিক্ষাক্রম সমন্বয় কমিটির (এনসিসিসি) সভায় এ সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। সভা শেষে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের সচিব সোহরাব হোসাইন সাংবাদিকদের বলেন, শিক্ষা বোর্ডগুলোর চেয়ারম্যানদের সংগঠন আন্তশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় সাব-কমিটির সুপারিশের আলোকে জেএসসি ও জেডিসি পরীক্ষা থেকে সাতটি বিষয়ে মোট ৬৫০ নম্বরের পরীক্ষা নেয়ার প্রস্তাব করেছে। সেটি আমরা বাস্তবায়নের সিদ্ধান্ত নিয়েছি। বর্তমানে চতুর্থ বিষয়সহ ১০টি বিষয়ে মোট ৮৫০ নম্বরের পরীক্ষা হয়। এরমধ্যে বাংলা প্রথম ও দ্বিতীয় পত্র মিলে ১৫০ নম্বরে এবং ইংরেজি প্রথম ও দ্বিতীয় পত্রে ১৫০ নম্বরে পরীক্ষা হতো। সেখান থেকে বাংলায় ৫০ এবং ইংরেজিতে ৫০ কমিয়ে ১০০ নম্বরে পরীক্ষা নেয়ার সিদ্ধান্ত হয়। আর চতুর্থ বিষয় ১০০ নম্বরকে শ্রেণিকক্ষে ধারাবাহিক মূল্যায়নে নেয়া হয়। ফলে এখন থেকে জেএসসিতে ২০০ নম্বর কমে ৬৫০ নম্বরে পরীক্ষা হবে। আর জেডিসিতে আগে ১০৫০ নম্বরের পরীক্ষা হতো। এখন থেকে ৮৫০ নম্বর পরীক্ষা হবে। সর্বমোট ২০০ নম্বর কমানো হয়েছে জেএসসি ও জেডিসিতে। শিক্ষাসচিব বলেন, জেএসসিতে বাংলা প্রথম ও দ্বিতীয় পত্র মিলে ১০০ নম্বরের একটি পরীক্ষা হবে। ইংরেজিতেও দুই পত্র মিলে ১০০ নম্বরের পরীক্ষা হবে। এখন দুই পত্রের জন্য দুটি পরীক্ষা হয়, দুটি পত্র মিলিয়ে মোট নম্বর থাকে ১৫০। নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী চতুর্থ বিষয়ের পরীক্ষা এখন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানেই ধারাবাহিকভাবে মূল্যায়ন করা হবে। তবে গণিত, ধর্ম, বিজ্ঞান, বাংলাদেশ ও বিশ্ব পরিচয় এবং তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিষয়ের পরীক্ষা আগের মতো আগের নম্বরে অনুষ্ঠিত হবে। তিনি বলেন, বিভিন্ন মহল থেকে অভিযোগ করা হয়েছে শিক্ষার্থীদের উপর লেখাপড়ায় চাপ দেয়া হচ্ছে। এসব বিষয় আমলে নিয়ে জেএসসি ও জেডিসি পরীক্ষায় বিষয় ও নম্বর কমানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছি। তবে এখানে শিখন ফলাফল অক্ষুণ্ন রেখে নম্বর এবং বিষয় কমানো হয়েছে, যাতে একজন শিক্ষার্থী সঠিক শিক্ষাটা আয়ত্ব করতে পারে। শিক্ষার লক্ষ্য যেন ব্যাহত না হয়। বিভিন্ন বোর্ড চেয়ারম্যানদের সুপারিশের ভিত্তিতে বিষয় এবং নম্বর কমানো হয়েছে। সে অনুযায়ী সিলেবাসও তৈরি করা হবে। যেহেতু বিষয় এবং নম্বর কমানো হয়েছে তাই শিক্ষার্থীদের উপর এর কোনো চাপ পড়বে না। শিক্ষাসচিব বলেন, ২০১৯ সালে আমরা কারিকুলামে হাত দেবো। তখন আরও বড় আকারে বিষয় কমবে। কারণ তখন আমরা সবকিছু ভাবনা চিন্তায় রেখেই কারিকুলাম করবো। যাতে শিক্ষার্থীরা চাপে না পড়ে। চলতি বছরে জেএসসি ও জেডিসি পরীক্ষায় এমসিকিউ থাকবে কিনা সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে শিক্ষাসচিব বলেন, হঠাৎ করে এমসিকিউ বাদ দেয়া যাবে না। তবে আমরা সিস্টেমে পরিবর্তন আনবো। হয়তো শিক্ষার্থীদের একলাইন লেখা লাগতে পারে। সভায় উপস্থিত ছিলেন শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের বিভিন্ন পযায়ের কর্মকর্তা, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচায অধ্যাপক আক্তারুজ্জামান, মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদফতরের মহাপরিচালক অধ্যাপক মাহাবুবুর রহমান, বিভিন্ন শিক্ষা বোর্ড চেয়ারম্যান প্রমুখ।
শিক্ষার্থীদের উপর বেশি চাপ পড়ছে বলে আমরা চাপ কমানোর উদ্যোগ নিয়েছি
ছাত্রছাত্রীদের ওপর চাপ কমাতে জুনিয়র স্কুল সার্টিফিকেট (জেএসসি) ও জুনিয়র দাখিল সার্টফিকেট (জেডিসি) পরীক্ষার নম্বর ও বিষয় কমানো হবে কি না আগামী ৩১ মে সে বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে সরকার। রোববার জাতীয় শিক্ষাক্রম সমন্বয় কমিটির (এনসিসিসি) সভা শেষে মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভগের সচিব মো. সোহরাব হোসাইন সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে এ সভা হয়। এনসিসিসির সভায় এদিন কোনো সিদ্ধান্ত না হলেও শিক্ষার্থীদের ওপর থেকে চাপ কমাতে জেএসসি-জেডিসির বিষয় ও নম্বর কমনোর পক্ষেই সিদ্ধান্ত আসতে পারে বলে ইঙ্গিত দেন সচিব। তিনি বলেন, শিক্ষার্থীদের উপর বেশি চাপ পড়ছে বলে আমরা চাপ কমানোর উদ্যোগ নিয়েছি। আপাতত কিছু বিষয় কমানো যায় কি না... কমালে এ বছর থেকেই বাস্তবায়ন করব। এ বছর জেএসসি ও জেডিসি পরীক্ষায় এমসিকিউ থাকবে বলে জানান মো. সোহরাব হোসাইন। বিষয় কমানো কেমন হবে, তারও একটা ধারণা দেন মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভগের সচিব। তিনি বলেন, এমন হতে পারে যে সিলেবাসের পুরোটাই থাকবে, কিন্তু এক বছর এক অংশ থাকবে, পরের বছর অপর অংশ। মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের সচিব মো. সোহরাব হোসাইনের সভাপতিত্বে এনসিসিসির সভা হয়। পাঠ্যবই, কারিকুলাম ও সিলেবাস এবং পাবলিক পরীক্ষায় যেকোনো পরিবর্তন ও পরিবর্ধনের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত দেওয়ার এখতিয়ার আছে এনসিসিসির। পদাধিকার বলে শিক্ষা সচিব এ কমিটির সভাপতি। সভায় মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক, পাঠ্যপুস্তক বোর্ডের চেয়ারম্যান ও সদস্য (শিক্ষাক্রম) এবং মাদ্রাসা ও কারিগরি শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক এবং সব শিক্ষাবোর্ডের চেয়ারম্যান অংশ নেন।
আইন কঠোরভাবে প্রয়োগ করতে হবে
শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ বলেছেন, তামাকের কুফল সম্পর্কে সামাজিক সচেতনতা বৃদ্ধি এবং শিক্ষার্থী-অভিভাবকদের মধ্যে সচেতনতা তৈরি করতে পাঠ্যপুস্তকে তামাকের ক্ষতিকর দিক তুলে ধরা হবে। শিক্ষামন্ত্রী বলেন,পাঠ্যপুস্তকে মাদকের কুফল সম্পর্কে উল্লেখ আছে। তামাকের বিষয়টি আলাদাভাবে উল্লেখ নেই। ২০২০ সালের পাঠ্যপুস্তকে তামাক ব্যবহারের ক্ষতিকর বিষয়গুলো স্পষ্টভাবে উল্লেখ করে অন্তর্ভূক্ত করা হবে। শিক্ষামন্ত্রী আজ ঢাকায় সিরডাপ মিলনায়তনে প্রজ্ঞা তামাক নিয়ন্ত্রণ সাংবাদিকতা পুরস্কার প্রদান এবং বিশ্ব তামাকমুক্ত দিবস উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় একথা বলেন। বেসরকারি গবেষণা সংস্থা প্রজ্ঞা এবং এন্টি টোব্যাকো মিডিয়া এলায়েন্স (আত্মা) এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে। বিশিষ্ট সাংবাদিক মোজাম্মেল হোসেনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে আরো বক্তব্য রাখেন ন্যাশনাল হার্ট ফাউন্ডেশন অব বাংলাদেশের প্রতিষ্ঠাতা জাতীয় অধ্যাপক ব্রিগেডিয়ার (অব.) আব্দুল মালিক, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. আবুল কালাম আজাদ, এন্টি-টোব্যাকো মিডিয়া এলায়েন্সের আহবায়ক মর্তুজা হায়দার লিটন এবং প্রজ্ঞার নির্বাহী পরিচালক এবিএম জুবায়ের। অনুষ্ঠানটি পরিচালনা করেন এন্টি টোব্যাকো মিডিয়া এলায়েন্সর কো-কনভেনর নাদিরা কিরণ। শিক্ষামন্ত্রী বলেন, তামাক নিয়ন্ত্রণে বেশ কিছু আইন আছে। এই আইন কঠোরভাবে প্রয়োগ করতে হবে। ছেলেমেয়েদের সচেতন করতে হবে। তামাকের ব্যবহার শূন্যের কোটায় নামিয়ে আনতে হবে। তামাক নিয়ন্ত্রনে আরো কৌশল অবলম্বন করার উপর গুরুত্বারোপ করে তিনি বলেন, আমাদের দেশ থেকে তামাককে যেন চিরতরে বিদায় করতে পারি, সে ব্যাপারে সব্ইাকে উদ্যোগ নিতে হবে। তিনি বলেন, ভবিষ্যত প্রজন্মকে বাঁচানোর জন্য, দেশকে রক্ষার জন্য তামাককে ত্যাগ করতে হবে। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের আশেপাশে কোন তামাক পণ্যের দোকান যাতে বসতে না পারে সে ব্যাপারে উদ্যোগ নেয়া হবে বলে জানান শিক্ষামন্ত্রী । অনুষ্ঠানে শিক্ষামন্ত্রী পুরস্কারপ্রাপ্ত পাঁচজন সাংবাদিকের হাতে পুরস্কার হিসেবে ক্রেস্ট, সার্টিফিকেট ও ৫০ হাজার টাকার চেক তুলে দেন। বিভিন্ন ক্যাটাগরিতে প্রজ্ঞা তামাক নিয়ন্ত্রণ সাংবাদিকতা পুরস্কার ২০১৮ বিজয়ীরা হলেন: সেরা জাতীয় প্রিন্ট/অনলাইন মিডিয়া বিভাগে দ্য ফিনান্সিয়াল এক্স্রপ্রেসের বিশেষ প্রতিনিধি দৌলত আক্তার মালা, কালের কন্ঠের সিনিয়র রিপোর্টার আবুল কাশেম, সেরা টিভি রিপোর্টে এনটিভির এস এম আতিক, সেরা স্থানীয় পত্রিকা রিপোর্টে দৈনিক সিলেটের ডাক-এর চীফ রিপোর্টার সিরাজুল ইসলাম এবং বিশেষ বিভাগে গোলাম মর্তুজা জুয়েল।
সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়তে ব্যাপক পরিকল্পনা গ্রহণ করছে সরকার
সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়তে বর্তমান ও ভবিষ্যত শ্রমবাজারের চাহিদা বিবেচনায় কারিগরি ও বৃত্তিমূলক শিক্ষার প্রসারে ব্যাপক পরিকল্পনা গ্রহণ ও বাস্তবায়ন করছে সরকার। রবিবার রাজধানীর ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউট মিলনায়তনে ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউট এবং বাংলাদেশ কারিগরি শিক্ষাবোর্ড যৌথ গবেষণার একটি বই প্রকাশ অনুষ্ঠানে এ কথা বলেছেন শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ।এ সময় শিক্ষামন্ত্রী বলেন, চতুর্থ শিল্প বিল্পবের প্রেক্ষিতে আগামীতে কর্মক্ষেত্রে যে পরিবর্তন সূচিত হবে সেখানে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর দক্ষতা না থাকলে কর্মনিশ্চয়তা ও জাতীয় উৎপাদনশীলতা ব্যাহত হবে।গবেষণা বইয়ের মোড়ক উন্মোচন করে শিক্ষা মন্ত্রী বলেন, শেখ হাসিনার নেতৃত্বে উন্নয়নশীল দেশে উত্তরণের স্বীকৃতি অর্জন ধরে রেখে উন্নত সমৃদ্ধ দেশের অভীষ্ট লক্ষ্য অর্জনে ২০৩০ সালে ১২৮ মিলিয়ন শ্রমশক্তিকে দক্ষ করে গড়ে তোলাই বাংলাদেশের সামনে বড় চ্যালেঞ্জ। এ চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় সরকারি উদ্যোগ বাস্তবায়নে সংশ্লিষ্ট স্টেকহোল্ডারদের বিশাল ভূমিকা রয়েছে।আইডিইবি’র সভাপতি এ কে এম এ হামিদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্ততা করেন কারিগরি ও মাদরাসা শিক্ষা বিভাগের প্রতিমন্ত্রী কাজী কেরামত আলী, এফবিসিসিআই’র সভাপতি মো. সফিউল ইসলাম মহিউদ্দিন, কারিগরি ও মাদরাসা বিভাগের অতিরিক্ত সচিব এ কে এম জাকির হোসেন ভূঞা
পরীক্ষা বর্জন কর্মসূচি স্থগিত
রমজান ও সেশনজট বিবেচনায় রেখে পরীক্ষা বর্জন কর্মসূচি স্থগিত করেছেন কোটা সংস্কার আন্দোলকারীরা।শনিবার (১৯ মে) দুপুর সাড়ে ১২টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগারের সামনে সংবাদ সম্মেলনে এ ঘোষণা দেন কোটা আন্দোলনের আহ্বায়ক হাসান আল মামুন।এর আগে গত সোমবার (১৪ মে) শাহবাগের অবরোধ স্থগিত করে ক্লাস-পরীক্ষা বর্জন কর্মসূচি অব্যাহত রাখার ঘোষণা দেন আন্দোলনকারীদের যুগ্ম আহ্বায়ক নুরুল হক নুর।একদিন পর মঙ্গলবার (১৫ মে) দুপুরে হাসান আল মামুন বাংলানিউজকে বলেন, প্রধানমন্ত্রীর ঘোষণা অনুযায়ী কোটা বাতিলের প্রজ্ঞাপন চেয়ে চলমান ছাত্র ধর্মঘটে পরীক্ষা বর্জন না করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন আন্দোলনকারীরা। শনিবার সংবাদ সম্মেলনে পরীক্ষা বর্জন কর্মসূচি স্থগিত করার সেই ঘোষণাই দিলেন তিনি
২৩ এপ্রিলের পরীক্ষা পেছাল এইচএসসির
ভুলবশত একটি কেন্দ্রে ভূগোল দ্বিতীয় পত্রের পরীক্ষার প্রশ্নপত্রের প্যাকেট খুলে ফেলায় ওই পরীক্ষা পিছিয়ে দিয়েছে সরকার। ভূগোল দ্বিতীয় পত্রের পরীক্ষার নির্ধারিত দিন ছিল ২৩ এপ্রিল সোমবার। ওই পরীক্ষা ১৪ মে নেওয়া হবে বলে রোববার আন্তঃশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় সাব-কমিটির সভাপতি অধ্যাপক মু. জিয়াউল হক জানান। তিনি জানান, ময়মনসিংহের একটি কেন্দ্রে আজ ভুলবশত সোমবারের ভূগোল দ্বিতীয় পত্রের প্রশ্নের একটি প্যাকেট খুলে ফেলা হয়। এজন্য সারা দেশে ওই পরীক্ষা স্থগিত করা হয়েছে। আগামী ১৪ মে ওই পরীক্ষা নেওয়া হবে। এইচএসসিতে রোববার ভূগোল (তত্ত্বীয়) প্রথম পত্রের পরীক্ষা হয়েছে।
৭ মে এর মধ্যে এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশিত হবে
আগামী ৩ থেকে ৭ মের মধ্যে এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশিত হতে পারে বলে জানিয়েছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। মন্ত্রণালয়ের এক কর্মকর্তা বলেছেন, ৩ থেকে ৭ মের মধ্যে ফল প্রকাশের জন্য প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে সার-সংক্ষেপ পাঠানো হয়েছে। ওই কর্মকর্তা আরও বলেন, ৩ মে বৃহস্পতিবার, ওই দিন ফল না হলে ৬ বা ৭ মে হতে পারে। তবে বিষয়টি নির্ভর করছে প্রধানমন্ত্রীর উপর। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে থেকে যেদিন সময় দেওয়া হবে সেদিন ফল প্রকাশ করা হবে। ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক তপন কুমার সরকার বলেন, ৩ থেকে ৭ মের মধ্যে ফল প্রকাশের জন্য শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের কাছে প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে। শিক্ষা মন্ত্রণালয় যেদিন সময় নির্ধারণ করে দেবে সেদিনই ফল প্রকাশ করা হবে। নিয়ম অনুযায়ী, শিক্ষামন্ত্রী বোর্ডের চেয়ারম্যানদের নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর কাছে ফলের অনুলিপি তুলে দেন। পরে সচিবালয়ে সংবাদ সম্মেলনে বিস্তারিত তুলে ধরেন শিক্ষামন্ত্রী। এরপর শিক্ষার্থীরা অনলাইন ও এসএমএসে ফল জানতে পারেন। গত ১ ফেব্রুয়ারি থেকে ২৫ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত এসএসসি ও সমমানের তত্ত্বীয় বিষয়ের পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। ব্যবহারিক পরীক্ষা ২৬ ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হয়ে ৪ মার্চ শেষ হয়। সারা দেশে তিন হাজার ৪১২টি কেন্দ্রে মোট ২০ লাখ ৩১ হাজার ৮৮৯ জন পরীক্ষার্থী অংশ নেয়। এর মধ্যে ১০ লাখ ২৩ হাজার ২১২ জন ছাত্র ও ছাত্রীর সংখ্যা ১০ লাখ ৮ হাজার ৬৮৭ জন। এবার এসএসসিতে মোট পরীক্ষার্থী ১৬ লাখ ২৭ হাজার ৩৭৮ জন, মাদরাসা বোর্ডের অধীন দাখিল পরীক্ষায় দুই লাখ ৮৯ হাজার ৭৫২ জন এবং কারিগরিতে এক লাখ ১৪ হাজার ৭৬৯ জন পরীক্ষার্থী অংশ নেয়। বিগত কয়েক বছর থেকে তত্ত্বীয় বিষয়ের পরীক্ষা শেষ হওয়ার ৬০ দিনের মধ্যে ফল প্রকাশ করে আসছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়।
ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে :শিক্ষামন্ত্রী
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের (ভিসি) বাসভবনে হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনাকে নজিরবিহীন বলে মন্তব্য করে শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ বলেছেন, এই ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে। সোমবার সচিবালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে মন্ত্রী এ কথা বলেন। কোটা সংস্কারের আন্দোলনের নামে ভাঙচুর, হামলা ও নৈরাজ্য সৃষ্টির ঘটনায় উদ্বিগ্ন ও মর্মাহত শিক্ষামন্ত্রী বলেন, ‘এর পেছনে যারা উস্কানি দিচ্ছে, তাদের স্বার্থ হাসিলের জন্য এ ধরনের ঘটনা ঘটানো হচ্ছে।’ নাহিদ বলেন, ‘চাকরির কোটা সংরক্ষণ বিষয়ে সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতা রয়েছে এবং সরকার সম্প্রতি এ বিষয়ে একটি ব্যাখ্যা দিয়েছে। প্রয়োজনীয় যোগ্যতা ও মেধা না থাকলে কোটাধারীরাও চাকরিতে আসতে পারে না। কোটা পূরণ না হলে সেসব পদ মেধা তালিকা থেকেই পূরণ করার নির্দেশনা রয়েছে।’ শিক্ষার্থী ও শিক্ষকসহ সংশ্লিষ্টদের ধৈর্য্যের সঙ্গে পরিস্থিতি মোকাবেল এবং আন্দোলনকারীদের ধ্বংসাত্মক কার্যকলাপ থেকে সরে আসার আহ্বান জানান শিক্ষামন্ত্রী। কোট ব্যবস্থা সংস্কারের দাবিতে বেশ কিছুদিন ধরেই আন্দোলন করছেন শিক্ষার্থী। সর্বশেষ রোববার তারা কোটা সংস্কারের দাবিতে শাহবাগের সড়ক অবরোধ করে রাখেন। এক পর্যায়ে পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়েন আন্দোলনকারীরা। রোববার গভীর রাত পর্যন্ত এই সংঘর্ষ চলে। এক পর্যায়ে আন্দোলনকারীরা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য আখতারুজ্জামানের বাসভবনে হামলা চালায়।

শিক্ষা পাতার আরো খবর