৭ মে এর মধ্যে এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশিত হবে
আগামী ৩ থেকে ৭ মের মধ্যে এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশিত হতে পারে বলে জানিয়েছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। মন্ত্রণালয়ের এক কর্মকর্তা বলেছেন, ৩ থেকে ৭ মের মধ্যে ফল প্রকাশের জন্য প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে সার-সংক্ষেপ পাঠানো হয়েছে। ওই কর্মকর্তা আরও বলেন, ৩ মে বৃহস্পতিবার, ওই দিন ফল না হলে ৬ বা ৭ মে হতে পারে। তবে বিষয়টি নির্ভর করছে প্রধানমন্ত্রীর উপর। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে থেকে যেদিন সময় দেওয়া হবে সেদিন ফল প্রকাশ করা হবে। ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক তপন কুমার সরকার বলেন, ৩ থেকে ৭ মের মধ্যে ফল প্রকাশের জন্য শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের কাছে প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে। শিক্ষা মন্ত্রণালয় যেদিন সময় নির্ধারণ করে দেবে সেদিনই ফল প্রকাশ করা হবে। নিয়ম অনুযায়ী, শিক্ষামন্ত্রী বোর্ডের চেয়ারম্যানদের নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর কাছে ফলের অনুলিপি তুলে দেন। পরে সচিবালয়ে সংবাদ সম্মেলনে বিস্তারিত তুলে ধরেন শিক্ষামন্ত্রী। এরপর শিক্ষার্থীরা অনলাইন ও এসএমএসে ফল জানতে পারেন। গত ১ ফেব্রুয়ারি থেকে ২৫ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত এসএসসি ও সমমানের তত্ত্বীয় বিষয়ের পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। ব্যবহারিক পরীক্ষা ২৬ ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হয়ে ৪ মার্চ শেষ হয়। সারা দেশে তিন হাজার ৪১২টি কেন্দ্রে মোট ২০ লাখ ৩১ হাজার ৮৮৯ জন পরীক্ষার্থী অংশ নেয়। এর মধ্যে ১০ লাখ ২৩ হাজার ২১২ জন ছাত্র ও ছাত্রীর সংখ্যা ১০ লাখ ৮ হাজার ৬৮৭ জন। এবার এসএসসিতে মোট পরীক্ষার্থী ১৬ লাখ ২৭ হাজার ৩৭৮ জন, মাদরাসা বোর্ডের অধীন দাখিল পরীক্ষায় দুই লাখ ৮৯ হাজার ৭৫২ জন এবং কারিগরিতে এক লাখ ১৪ হাজার ৭৬৯ জন পরীক্ষার্থী অংশ নেয়। বিগত কয়েক বছর থেকে তত্ত্বীয় বিষয়ের পরীক্ষা শেষ হওয়ার ৬০ দিনের মধ্যে ফল প্রকাশ করে আসছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়।
ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে :শিক্ষামন্ত্রী
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের (ভিসি) বাসভবনে হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনাকে নজিরবিহীন বলে মন্তব্য করে শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ বলেছেন, এই ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে। সোমবার সচিবালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে মন্ত্রী এ কথা বলেন। কোটা সংস্কারের আন্দোলনের নামে ভাঙচুর, হামলা ও নৈরাজ্য সৃষ্টির ঘটনায় উদ্বিগ্ন ও মর্মাহত শিক্ষামন্ত্রী বলেন, ‘এর পেছনে যারা উস্কানি দিচ্ছে, তাদের স্বার্থ হাসিলের জন্য এ ধরনের ঘটনা ঘটানো হচ্ছে।’ নাহিদ বলেন, ‘চাকরির কোটা সংরক্ষণ বিষয়ে সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতা রয়েছে এবং সরকার সম্প্রতি এ বিষয়ে একটি ব্যাখ্যা দিয়েছে। প্রয়োজনীয় যোগ্যতা ও মেধা না থাকলে কোটাধারীরাও চাকরিতে আসতে পারে না। কোটা পূরণ না হলে সেসব পদ মেধা তালিকা থেকেই পূরণ করার নির্দেশনা রয়েছে।’ শিক্ষার্থী ও শিক্ষকসহ সংশ্লিষ্টদের ধৈর্য্যের সঙ্গে পরিস্থিতি মোকাবেল এবং আন্দোলনকারীদের ধ্বংসাত্মক কার্যকলাপ থেকে সরে আসার আহ্বান জানান শিক্ষামন্ত্রী। কোট ব্যবস্থা সংস্কারের দাবিতে বেশ কিছুদিন ধরেই আন্দোলন করছেন শিক্ষার্থী। সর্বশেষ রোববার তারা কোটা সংস্কারের দাবিতে শাহবাগের সড়ক অবরোধ করে রাখেন। এক পর্যায়ে পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়েন আন্দোলনকারীরা। রোববার গভীর রাত পর্যন্ত এই সংঘর্ষ চলে। এক পর্যায়ে আন্দোলনকারীরা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য আখতারুজ্জামানের বাসভবনে হামলা চালায়।
প্রশ্ন ফাঁস হবে না আশা করছি :শিক্ষামন্ত্রী
প্রশ্ন ফাঁস হওয়ার আশঙ্কা অনেক কমে এসেছে। আশা করছি, এবার কোনো ধরনের প্রশ্ন ফাঁস হবে না। হলেও যে ফাঁস করবে তাকে চিহ্নিত করে তার বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে আশা প্রকাশ করেছেন শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ। শিক্ষামন্ত্রী বলেন, প্রশ্ন ফাঁসসহ পরীক্ষায় যাবতীয় অনিয়ম ঠেকাতে বর্তমান বাস্তবতায় মানুষের পক্ষে যা যা করা সম্ভব সবই করেছি। ২৫ মিনিট আগে প্রতি কেন্দ্রে সেট কোড পাঠানো হয়েছে কেন্দ্র সচিবকে। সেই সেট কোড অনুযায়ী প্রশ্নপত্র খুলে সেই সেটে পরীক্ষা নেওয়া হচ্ছে। প্রশ্নের প্যাকেটগুলো টেপ দিয়ে আটকানো ছিল। সেটা খুললেই বোঝা যাবে কোথাও খোলা হয়েছে। রাজধানীর সিদ্ধেশ্বরী গার্লস কলেজ কেন্দ্র পরিদর্শন শেষে সোমবার তিনি এসব কথা বলেন। নাহিদ বলেন, আমরা আশা করছি শান্তিপূর্ণ পরিবেশে পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে। আগেই বলা হয়েছিল, ৩০ মিনিট আগে পরীক্ষার্থীদের কেন্দ্রে প্রবেশের কথা, সেভাবেই প্রবেশ করেছে। এই কেন্দ্রে মাত্র ১০ জন শিক্ষার্থী কয়েক মিনিট পরে পরীক্ষার হলে প্রবেশ করেছে। তাদের নাম, হল, ঠিকানা লিখে রাখা হয়েছে। যাদের সন্দেহজনক মনে হবে তাদের যাচাই-বাছাই করা হবে। এমসিকিউ প্রশ্ন বাতিল হবে কি না- জানতে চাইলে মন্ত্রী বলেন, প্রাথমিক পর্যায়ের আলোচনা ও কাজ শুরু হয়েছে। এখানে জনমতের ব্যাপার রয়েছে। এছাড়া, কোচিং সেন্টারগুলো খোলা থাকার বিষয়ে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, এখানে শুধু শিক্ষা মন্ত্রণালয় নয়, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও আইসিটি মন্ত্রণালয়সহ সংশ্লিষ্ট সবাই কাজ করছে। সবাই খুব সচেষ্ট রয়েছে।
ভারত-বাংলাদেশে যত মিল: প্রশ্নপত্র প্রশ্নফাঁসে
ভারতে মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডের পরীক্ষার প্রশ্নফাঁস হওয়াকে কেন্দ্র করে গত কয়েকদিন ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা চলছে। পরীক্ষা শুরুর আগেই প্রশ্নফাঁসের বিষয়টি কর্তৃপক্ষের নজরে এসেছিল-এটা জানাজানি হওয়ার পর সরকার চরম অস্বস্তিতে পড়েছে। এ ঘটনা নিয়ে সরকার একটু বেকায়দায় আছে। ভারতের প্রশ্নফাঁসের সঙ্গে প্রতিবেশী দেশ বাংলাদেশের প্রশ্নফাঁসের ঘটনার মিল রয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন বিশেষজ্ঞরা। প্রথমত, উভয় ক্ষেত্রেই প্রশ্নফাঁসের হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করা হয়েছে ফেসবুক বা হোয়াটসঅ্যাপের মতো সোশ্যাল মিডিয়াকে। প্রশ্নফাঁসকারীরা সোশ্যাল মিডিয়ার ক্লোজড গ্রুপে টাকার বিনিময়ে প্রশ্নপত্র পৌঁছে দিতে চেয়েছিলেন নির্দিষ্ট গ্রাহকদের হাতে। তারপরও তা ওই গ্রুপের বাইরে চলে আসে। দ্বিতীয়ত, ভারত ও বাংলাদেশ উভয় ক্ষেত্রেই এমন সন্দেহ করা হচ্ছে, কর্তৃপক্ষ আগেভাগেই জানতেন যে প্রশ্নপত্র ফাঁস হয়ে গেছে। তারপরও তারা পরীক্ষা বন্ধ করার বা স্থগিত করেনি। তৃতীয়ত, প্রশ্নফাঁসের ঘটনায় দুই দেশেই পরীক্ষার্থীদের ক্ষোভ যেন শিক্ষামন্ত্রীর ওপরই। বাংলাদেশে প্রশ্নফাঁস নিয়ে শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ যেমন অস্বস্তিতে পড়েছেন, একই দশা ভারতের শিক্ষামন্ত্রী প্রকাশ জাভরেকরেরও। প্রতারিত হওয়া পরীক্ষার্থীদের কথা ভেবে আমি তো রাতে ঘুমোতেই পারিনি এমন মন্তব্য করেও রেহাই পাননি শিক্ষামন্ত্রী। বরং সোশ্যাল মিডিয়াতে তাকে নিয়ে ব্যঙ্গবিদ্রূপ করা হয়েছে। এ বিষয়ে ভারতের সমাজতত্ত্ববিদ আশিস নন্দী বলেন,ভারত-বাংলাদেশে প্রশ্নফাঁসের ঘটনায় সবচেয়ে বড় মিল হলো সামাজিক অবক্ষয়ের। ছেলেমেয়ের মার্কশিটে বাড়তি কয়েকটা নম্বরের জন্য কিছু কিছু বাবা-মা যে কোথায় নামতে পারেন এই দুটো দেশেই, তা আমরা চোখের সামনে দেখতে পাচ্ছি। কিছুটা রসিকতা করেই তিনি বলেন,দিল্লিওয়ালা বলতে যাদের বোঝায় তাদের নৈতিক মূল্যবোধ নিয়ে অবশ্য কোনোকালেই বিশেষ সুনাম ছিল না। কিন্তু বাঙালি যে মূল্যবোধ নিয়ে এতদিন গর্ব করে এসেছে সেটাও যে কত ঠুনকো তা আজকের ঢাকা বা কলকাতা উভয়েই প্রমাণ দিচ্ছে। দিল্লি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রবীণ অধ্যাপক ও শিক্ষাবিদ নির্মলাংশু মুখার্জি বলেন,দুটো দেশেই মূল গলদটা হলো শিক্ষা ব্যবস্থার সিস্টেমে। যে সিস্টেম আপনাকে নোট মুখস্থ করে উত্তরে লিখলেই এত এত নম্বর পাওয়া যায়, সেখানে প্রশ্নফাঁস একরকম অনিবার্য। ভারতই বলুন কিংবা বাংলাদেশ, মাধ্যমিক বা উচ্চ মাধ্যমিক স্তরের প্রশ্নপত্রে শিক্ষার্থীর সৃজনশীলতা প্রমাণের সুযোগ এত কম যে আমি মনে করি আমাদের পরীক্ষা ব্যবস্থাটাই দুর্নীতিগ্রস্ত। সেখানে একটা দুর্নীতি আরও বড় দুর্নীতি ডেকে আনবে। এটাই কি স্বাভাবিক নয়? দিল্লির অ্যামিটি ইন্টারন্যাশনাল স্কুলের প্রিন্সিপাল রেনু সিংয়ের মতে, তথাকথিত কোচিং সেন্টার গুলোই যাবতীয় নষ্টের মূলে। তিনি বলেন, ;বাংলাদেশের ঘটনা আমি যতদূর শুনেছি, সেখানেও এক শ্রেণির কোচিং সেন্টারই প্রশ্নফাঁস চক্রের মূল হোতা। দিল্লিতেও পুলিশ জেরা করছে বিভিন্ন কোচিং সেন্টারকেই। আমার দৃঢ় বিশ্বাস, স্কুলেই ভালো পড়াশুনো হয় অভিভাবকদের যতদিন এটা বিশ্বাস করানো না যাবে ততদিন এ ধরনের ঘটনা আপনি ভারতেও শুনবেন, বাংলাদেশেও হয়তো শুনতে থাকবেন।সূত্র: বাংলা ট্রিবিউন
বিভ্রান্তিমূলক প্রশ্ন প্রকাশ করে প্রচারণা চালানো হয়:শিক্ষামন্ত্রী
শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ বলেছেন, পরীক্ষার আগে ভুল ও বিভ্রান্তিমূলক প্রশ্ন প্রকাশ করে প্রচারণা চালানো হয়। এ ধরনের মিথ্যা প্রচারণা থেকে সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে। বৃহস্পতিবার ঢাকার লালমাটিয়া মহিলা কলেজের বার্ষিক ক্রীড়া প্রতিযোগিতার সমাপনী ও পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় শিক্ষামন্ত্রী এ সব কথা বলেন। মন্ত্রী জানান, পরীক্ষা শুরুর ২৫ মিনিট আগে প্রশ্নের খাম খোলা হবে। সব কোচিং সেন্টার বন্ধ থাকবে। শিক্ষামন্ত্রী বলেন, জাতির ভবিষ্যতের স্বার্থে সবাইকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে। সরকারকে ছোট করার জন্য জাতিকে হতাশ করে এমন প্রচার না করার আহ্বান জানান তিনি। শিক্ষামন্ত্রী আসন্ন এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষা সুষ্ঠুভাবে সম্পাদনের লক্ষ্যে শিক্ষক, অভিভাবক, গণমাধ্যম ও সর্বস্তরের জনগণের প্রতি সহযোগিতার আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি বলেন, অতীতের অভিজ্ঞতার আলোকে এবার পরীক্ষা সুষ্ঠুভাবে অনুষ্ঠানের লক্ষে এবং প্রশ্ন ফাঁস ঠেকাতে সম্ভাব্য সব ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। শিক্ষামন্ত্রী বলেন, পরীক্ষা শুরুর ২৫ মিনিট আগে প্রশ্নের খাম খোলা হবে। সব কোচিং সেন্টার বন্ধ থাকবে। তিনি বলেন, ভুল ও বিভ্রান্তিমূলক প্রশ্ন প্রকাশ করে প্রচারণা চালানো হয়। এ ধরনের মিথ্যা প্রচারণা থেকে সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে। জাতির ভবিষ্যতের স্বার্থে সবাইকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে। সরকারকে ছোট করার জন্য জাতিকে হতাশ করে এমন প্রচার না করার আহ্বান জানান তিনি। শিক্ষামন্ত্রী বলেন,আমাদের মেয়েরা পড়াশুনায় ভালো করছে। আগামী কয়েক বছরের মধ্যে উচ্চশিক্ষার ক্ষেত্রেও জেন্ডার সমতা অর্জিত হবে। তিনি বলেন, লালমাটিয়া মহিলা কলেজের উন্নয়নে মোট ২৩ কোটি ১০ লাখ টাকার কাজ সম্পন্ন হয়েছে। লালমাটিয়া মহিলা কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর ড. মো. রফিকুল ইসলামের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে অন্যদের মধ্যে মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের সচিব মো. সোহরাব হোসাইন, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য ড. মো. মশিউর রহমান, জাতীয় পুরস্কারপ্রাপ্ত ক্রীড়াবিদ ও ঢাকা সাইক্লিং স্পোর্টিং ক্লাবের সভাপতি জোবেরা রহমান লিনু এবং মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তরের সাবেক মহাপরিচালক ড. এস এম ওয়াহিদুজ্জামান বক্তব্য দেন।
১৩ লাখের ও বেশি শিক্ষার্থী এইচএসসি-সমমানের পরীক্ষায় বসবে
সারা দেশে ১০টি শিক্ষা বোর্ডে উচ্চ মাধ্যমিক সার্টিফিকেট (এইচএসসি) ও সমমানের পরীক্ষায় ১৩ লাখ ১১ হাজার ৪৫৭ জন পরীক্ষার্থী অংশগ্রহণ করতে যাচ্ছে। যা গত বছরের তুলনায় ১ লাখ ২৭ হাজার ৭৭১ জন পরীক্ষার্থী বৃদ্ধি পেয়েছে। বৃদ্ধি হার ১০ দশমিক ৭৯ শতাংশ। এবার ছেলেদের তুলনায় মেয়ের সংখ্যা কম। ছেলেদের সংখ্যা ৬ লাখ ৯২ হাজার ৭৩০ জন, এবং মেয়েদের সংখ্যা ৬ লাখ ১৮ হাজার ৭২৮ জন। বুধবার শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে সংবাদ সম্মেলনে এইচএসসি পরীক্ষার সার্বিক দিক তুলে ধরেন শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ। তিনি জানান, এবার পরীক্ষা শুরুর ২৫ মিনিট আগে কেন্দ্রীয়ভাবে লটারির মাধ্যমে প্রশ্ন সেট নির্ধারণ করে সকল বোর্ডে অভিন্ন প্রশ্নে পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে। প্রতিটি কেন্দ্রে একাধিক প্রশ্নের সেট পৌঁছে দেয়া হবে। শিক্ষামন্ত্রী বলেন, আজ থেকে কোচিং সেন্টারগুলো বন্ধের নির্দেশ দেয়া হলো। এইচএসসি পরীক্ষা শেষ হওয়া না হওয়া পর্যন্ত এ নির্দেশনা বহাল থাকবে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী বিষয়টি তদারকি করবেন। এবার সাধারণ আট বোর্ডে শিক্ষার্থী সংখ্যা ১০ লাখ ৯২ হাজার ৬০৭ জন। তার মধ্যে ছেলেদের সংখ্যা ৫ লাখ ৫২ হাজার ৬১২ জন এবং মেয়েদের সংখ্যা ৫ লাখ ৩৯ হাজার ৯৯৫ জন। অন্যদিকে, মাদরাসা বোর্ডের পরীক্ষার্থীর সংখ্যা ১ লাখ ১২৭ জন। যার মধ্যে মেয়েদের সংখ্যা ৪৪ হাজার ১৩৫ জন। ছেলেদের সংখ্যা ৫৫ হাজার ৯৯২ জন। এছাড়াও কারিগরি শিক্ষা মোট পরীক্ষার্থীর সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। এ বোর্ডে মোট পরীক্ষার্থীর সংখ্যা ১ লাখ ১৭ হাজার ৭৫৪ জন। তথ্যমতে, এবার এইচএসসি পরীক্ষায় সারা দেশে মোট কেন্দ্রের সংখ্যা কমে গেছে। এবার মোট ২ হাজার ৫৪১ কেন্দ্রে পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে। যা গত বছরের তুলনায় ৪৪টি কমেছে। এছাড়া বিদেশি ৭টি কেন্দ্রে এবার পরীক্ষার্থীর সংখ্যা মোট ২৯৯ জন। প্রতি বছরের মতো এবারো প্রতিবন্ধী ও বিশেষ চাহিদাপ্রাপ্ত পরীক্ষার্থীদের জন্য অতিরিক্ত ৩০ মিনিট বরাদ্দ থাকবে। শিক্ষামন্ত্রী বলেন, কেন্দ্র সচিব ছাড়া অন্য কেউ পরীক্ষা কেন্দ্রে মোবাইলসহ কোনো ধরণের ডিভাইস সঙ্গে নিতে পারবে না। যদি কারো কাছে এ ধরণের ডিভাইস পাওয়া যায় তবে তাৎক্ষণিকভাবে তার বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। তিনি বলেন, প্রশ্নফাঁস ঠেকাতে প্রশ্নে প্যাকেটে সিলগালাসহ সিকিউরিটি কোডের মাধ্যমে ডাবল প্যাকেটের মাধ্যমে কেন্দ্রে প্রশ্ন পাঠানো হবে। প্রসঙ্গত, এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষা আগামী ২ এপ্রিল শুরু হবে। চলবে ১৩ মে পর্যন্ত। ১ এপ্রিল সরকারি ছুটি হওয়ায় একদিন পিছিয়ে পরীক্ষার রুটিন তৈরি করা হয়েছে।
২৫ মিনিট আগে এইচএসসির প্রশ্ন সেট নির্ধারণ শুরু হবে
আসন্ন এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষায় প্রশ্নপত্র ফাঁস ঠেকাতে পরীক্ষা শুরুর ২৫ মিনিট আগে লটারির প্রশ্নপত্রের সেট নির্ধারণ করা হবে বলে জানিয়েছেন মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের সচিব মো. সোহরাব হোসাইন। রোববার সচিবালয়ে এক সভায় তিনি এমন তথ্য জানান। মো. সোহরাব হোসাইন বলেন,পরীক্ষার ২৫ মিনিট আগে (প্রশ্নের) সেট নির্ধারিত হবে, লটারির মাধ্যমে ঢাকা বোর্ড সেট নির্ধারণ করবে। এসএসসির মত এইচএসসিতেও পরীক্ষা শুরুর ৩০ মিনিট আগে পরীক্ষার্থীদের বাধ্যতামূলকভাবে পরীক্ষার হলে বসতে হবে বলে জানান সচিব। চলতি বছরের এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষা শুরু হবে ২ এপ্রিল, তত্ত্বীয় পরীক্ষা চলবে ১৩ মে পর্যন্ত। এ পরীক্ষা সামনে রেখে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর প্রতিনিধি, সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় এবং শিক্ষা বোর্ডের প্রতিনিধিদের নিয়ে রোববার বৈঠকে বসেন শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ। কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষা বিভাগের সচিব মো. আলমগীর ছাড়াও শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অধীন দুটি বিভাগের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারাও এ সভায় অংশ নেন।
বিশ্ব সমাজকর্ম দিবস পালিত রাবিতে
সম্প্রদায় ও পরিবেশগত টেকসই উন্নীতকরণ প্রতিপাদ্যে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে (রাবি) বিশ্ব সমাজকর্ম দিবস পালিত হয়েছে। মঙ্গলবার বেলা ১২টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের মমতাজ উদ্দিন কলা ভবনের সামনে থেকে র‍্যালি বের করে সমাজকর্ম বিভাগের শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা। পরে র‍্যালিটি ক্যাম্পাসের প্রধান প্রধান সড়কগুলো প্রদক্ষিণ শেষে সংক্ষিপ্ত সমাবেশে মিলিত হয়। সমাবেশে বিভাগের সভাপতি অধ্যাপক ছাদেকুল আরেফিন বলেন, বর্তমানে বিভিন্ন কমিউনিটি বিভিন্ন কারণে তাদের অস্তিত্ব হারাচ্ছে। অসহায়, দরিদ্র মানুষগুলো নানাভাবে অনগ্রসর হয়ে পড়ছে। সেই অনগ্রসর কমিউনিটিকে উন্নীত করার জন্য সারা বিশ্বব্যাপী সমাজকর্ম অনুসারীদের কাজ করতে হবে। সেই সাথে আমাদের পরিবেশটা যাতে স্থায়িত্বশীল হয় সেজন্য আমাদের আগামী দিনের ভাবনায়, আগামী দিনের গবেষণায় ও চিন্তা-চেতনায় জ্ঞানকে কাজে লাগাতে হবে। সমাবেশে উপস্থিত ছিলেন সমাজকর্ম বিভাগের অধ্যাপক ড. এমাজ উদ্দিন, অধ্যাপক ড. আফতারুজ্জামান, ড. সৈয়দা আফরীনা মামুন, ড. শেখ কবির উদ্দিন হায়দার, অধ্যাপক শরীফুল ইসলাম, সহযোগী অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ জামিরুল ইসলামসহ বিভাগের প্রায় তিন শতাধিক শিক্ষার্থী।
শিক্ষকদের আল্টিমেটাম চাকরি জাতীয়করণের দাবিতে
চাকরি জাতীয়করণের এক দফা দাবিতে ১৮টি শিক্ষক কর্মচারী সংগঠনের সমন্বয়ে গঠিত হয়েছে শিক্ষক কর্মচারী চাকরি জাতীয়করণ বাস্তবায়ন কমিটি। মঙ্গলবার জাতীয় প্রেসক্লাবের সম্মেলন কক্ষে ৬৪টি জেলার শিক্ষক প্রতিনিধিদের মতামতে গঠিত হয় ওই জোটের কেন্দ্রীয় কমিটি। বাংলাদেশ শিক্ষক সমিতির মহাসচিব ও শিক্ষক কর্মচারী ঐক্যজোটের চেয়ারম্যান অধ্যক্ষ মো. সেলিম ভূঁইয়া এই কমিটির আহ্বায়ক। প্রতিনিধি সমাবেশ শেষে সংবাদ সম্মেলনে এই নতুন সংগঠনের আহ্বায়ক অধ্যক্ষ মো. সেলিম ভূঁইয়া চাকরি জাতীয়করণের এক দফা দাবিতে সরকারকে আগামী ২০ জুলাই পর্যন্ত আলটিমেটাম দিয়ে নতুন কর্মসূচি ঘোষণা করেন। জাতীয়করণের এক দফা দাবির সাথে বৈশাখী ভাতা ও ৫ শতাংশ বার্ষিক প্রবৃদ্ধিও দাবি করা হয়। এ দাবিতে ১৪ এপ্রিল রোববার সকল উপজেলায় বিক্ষোভ, ১৮ এপ্রিল বুধবার সকল জেলা সদরে বিক্ষোভ কর্মসূচি দেয়া হয়। আগামী ২০ জুলাইর মধ্যে চাকুরি জাতীয়করণের ঘোষণা না হলে দলমত নির্বিশেষে ২২ জুলাই থেকে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে অনির্দিষ্টকালের জন্য ধর্মঘট এবং ২৯ জুলাই ঢাকায় মহাঅবস্থান কর্মসূচি পালন করবে শিক্ষকেরা। চাকরি জাতীয়করণের দাবি বাস্তবায়নে আগামী ২০ জুলাই পর্যন্ত সরকারকে আলটিমেটাম বা সময়সীমা বেঁধে দেয়া হয়। এ দাবীতে কর্মসূচী ঘোষণা করে অধ্যক্ষ মোঃ সেলিম ভূঁইয়া বলেন, চাকুরী জাতীয়করণের দাবি শুধু শিক্ষকদের প্রাণের দাবী। এ দাবীতে সারাদেশের শিক্ষকরা আজ একমত। এ দাবী শিক্ষকদের জাতীয় দাবীতে পরিণত হয়েছে। এ দাবী আদায় না হওয়া পর্যন্ত শিক্ষকরা আর ঘরে ফিরবে না। তিনি দেশের সকল শিক্ষক সংগঠনকে এ দাবীতে জাতীয় ঐক্যমঞ্চ গড়ে তোলাও আহবান জানান। তিনি বলেন, শিক্ষকরা বার বারই বৈষম্যের ও প্রতারনার শিকার হচ্ছেন। মঙ্গলবার জাতীয় প্রেসক্লাবে দেশের ৬৪টি জেলার শিক্ষক প্রতিনিধিদের সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। এ সম্মেলনে সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ শিক্ষক সমিতির মহাসচিব ও শিক্ষক কর্মচারী ঐক্যজোটের চেয়ারম্যান অধ্যক্ষ মো. সেলিম ভূঁইয়া। প্রতিনিধি সম্মেলনে প্রিন্সিপাল রেজাউল করিম, মাওলানা মো: দেলোয়ার হোসেন, অধ্যক্ষ শামসুল হক, মো: জাকির হোসেন, বরিশাল জেলার শিক্ষক নেতা অধ্যাপক আলমগীর হোসেন, কুমিল্লা জেলার অধ্যক্ষ আবদুর রহমান, চট্টগ্রাম জেলার এম এ ছফা চৌধুরী, দিনাজপুরের অধ্যক্ষ মঞ্জুরুল ইসলাম, কক্সবাজার জেলার হোসাইন মাতবর, বান্দরবান জেলার মেহি মারমা, সিরাজগঞ্চের হাশিম তালুকদার প্রমুখ। ১৮টি শিক্ষক-কর্মচারী সংগঠনের সমন্বয়ে গঠিত নবগঠিত জোটের সংগঠনগুলো হলো- ১. বাংলাদেশ শিক্ষক সমিতি ২. বাংলাদেশ কলেজ শিক্ষক সমিতি ৩. বাংলাদেশ মাদ্রাসা শিক্ষক সমিতি ৪. বাংলাদেশ অধ্যক্ষ সমিতি ৫. বাংলাদেশ প্রধান শিক্ষক সমিতি ৬. শিক্ষা প্রতিষ্ঠান কর্মচারী ঐক্য ফেডারেশন ৭. বাংলাদেশ সহকারি অধ্যাপক সমিতি ৮. বাংলাদেশ সহকারি প্রধান শিক্ষক সমিতি ৯. বাংলাদেশ সহকারি শিক্ষক সমিতি ১০. বাংলাদেশ কারিগরি কলেজ শিক্ষক সমিতি ১১. বাংলাদেশ কারিগরি মাধ্যমিক শিক্ষক সমিতি ১২. বাংলাদেশ মুক্তিযোদ্ধা শিক্ষক সমিতি ১৩. বাংলাদেশ গ্রন্থাগার শিক্ষক সমিতি ১৪. বাংলাদেশ প্রভাষক সমিতি ১৫. বাংলাদেশ সংযুক্ত শিক্ষক ফেডারেশন ১৬. নন এমপিও শিক্ষক সমিতি ১৭. বাংলাদেশ কলেজ কর্মচারী ইউনিয়ন ১৮. বাংলাদেশ মাধ্যমিক কর্মচারী ইউনিয়ন। ১৮টি সংগঠনের সভাপতি পদাধিকার বলে যুগ্ম আহ্বায়ক। সম্পাদক ও সাংগঠনিক সম্পাদকবৃন্দ সদস্য হিসেবে থাকবে।