কঠোর ব্যবস্থা শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে বাড়তি ফি নিলে: শিক্ষামন্ত্রী
অনলাইন ডেস্ক: প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা যে বিশ্বাসের ওপর আমাদের মন্ত্রিত্বের দায়িত্ব দিয়েছেন, আমরা তার বিশ্বাসের মর্যাদা দিয়ে দেশের উন্নয়নের লক্ষ্যে কাজ করে যাব। মন্ত্রিত্ব পেয়ে যেন অহংকারবোধ চলে না আসে সে ব্যাপারে নজর রাখার আহ্বান জানিয়েছেন নবনিযুক্ত শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি। নেতা-কর্মীদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, অতি উৎসাহী হয়ে কেউ যেন এমন কোনো আচরণ না করে যাতে করে সরকারের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হয়। দেশের উন্নয়নের ধারা অব্যাহত রাখতে সকলকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে। দীপু মনি শুক্রবার দুপুরে চাঁদপুর সদর উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নে নির্বাচন-পরবর্তী শুভেচ্ছা বিনিময়কালে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এসব কথা বলেন। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ছাত্র-ছাত্রীদের ভর্তি, পরীক্ষাসহ সকল ক্ষেত্রে অতিরিক্ত ফি নেয়া হলে কঠোর ব্যবস্থা নেয়া হবে বলে হুশিয়ারি দেন শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি। তিনি বলেন, ভর্তির ক্ষেত্রে অতিরিক্ত ফি আদায় নিয়ম-বহির্ভূত কাজ এবং অন্যায়। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তাদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে দীপু মনি বলেন, যেসব বিদ্যালয়ে নিয়ম বেঁধে দেয়া আছে সেই নিয়ম মেনে তারা ভর্তি করবেন। কোনো ক্ষেত্রে অতিরিক্ত ফি আদায়ের প্রমাণ পাওয়া গেলে যথোপযুক্ত ব্যবস্থা নেয়া হবে। শিক্ষার মান উন্নয়ন প্রসঙ্গে দীপু মনি বলেন, বছরের প্রথমদিনে শিক্ষার্থীদের হাতে নতুন বই তুলে দেয়া, প্রতিটি শিশুকে স্কুলমুখী করা এবং ঝরেপড়া রোধসহ শিক্ষাক্ষেত্রে ব্যাপক উন্নয়ন হয়েছে। এছাড়া বিদ্যালয়বিহীন গ্রামে বিদ্যালয় স্থাপনসহ যেসব সাফল্য রয়েছে সেসব সাফল্য এগিয়ে নিতে আগামী পাঁচ বছরে এ ধারা অব্যাহত থাকবে। এছাড়া অন্যান্য যেসব চ্যালেঞ্জ রয়েছে তা মোকাবেলা করা হবে। শিক্ষার মান উন্নয়নে যা কিছু প্রয়োজন তার সব কিছু করা হবে। আর এক্ষেত্রে সকলের সহযোগিতা চেয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি। তরপুরচন্ডী ইউনিয়ন, কল্যাণপুর ইউনিয়ন, বিষ্ণুপুর ইউনিয়নসহ বিভিন্ন ইউনিয়নের নেতাকর্মীদের সাথে নির্বাচন-পরবর্তী শুভেচ্ছা বিনিময় করেন। এ সময় তিনি বিভিন্ন পথসভায় নেতা-কর্মীদের উদ্দেশ্যে বক্তব্য রাখেন। এ সময় উপস্থিত ছিলেন, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক শওকত ওসমান, সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা কানিজ ফাতেমা, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আবু জাহেদ পারভেজ চৌধুরী, জেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি ও পৌর মেয়র নাছির উদ্দিন আহমেদ, সাধারণ সম্পাদক আবু নঈম পাটোয়ারী দুলাল, সহ-সভাপতি জেআর ওয়াদুদ টিপু প্রমুখ।
সবার সহযোগিতা প্রয়োজন প্রশ্নপত্র ফাঁস রোধে: শিক্ষামন্ত্রী
অনলাইন ডেস্ক: বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি বলেছেন, শিক্ষা মন্ত্রালয়ের কিছু জায়গায় কাজ বাকি রয়েছে। সেগুলো শুরু থেকেই সবার সহযোগিতা নিয়ে করা হবে। পাশাপাশি সব চাইতে বড় সমস্যা যেটি প্রশ্নপত্র ফাঁস, সেটি রোধ করতে হলে অভিভাবক ও শিক্ষার্থীদের বেশি সহযোগিতা লাগবে। ফাঁসকৃত প্রশ্নের যত বেশি চাহিদা থাকবে, অসৎ উপায় অবলম্বনকারীরা ততৎ বেশি বের করার চেষ্টা করবে। আমাদের দায়িত্ব হলো এটি কোনভাবেই যেন বের না হয়। আর এক্ষেত্রে শিক্ষক, অভিভাবক ও শিক্ষার্থীরা যদি চায় আমরা এসব প্রশ্ন গ্রহণ করব না। তাহলে আমাদের প্রচেষ্টা থাকলে এটি বন্ধ করা সম্ভব হবে। এরপরেও যদি কেউ করে তাহলে তাদের আইনের আওতায় আনা হবে। বৃহস্পতিবার (১০ জানুয়ারি) বিকেলে চাঁদপুর সফরে আসলে সার্কিট হাউজে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী এসব কথা বলেন। তিনি আরো বলেন, গত ৩০ ডিসেম্বর নির্বাচনে সারাদেশের মানুষ আস্থা ও বিশ্বাস নিয়ে নৌকা মার্কায় ভোট দিয়ে আমাদের বিপুল ভোটে বিজয়ী করেছেন। যার ফলে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আবার নতুন করে প্রধানমন্ত্রী হয়েছেন। দেশের জনগণের প্রত্যাশা পূরণে আমরা কাজ করব। পাশপাশি শিক্ষা মন্ত্রণালয়ও সবার সহযোগিতা নিয়ে কাজ করবে। এ সময় উপস্থিত ছিলেন চাঁদপুরের জেলা প্রশাসক মো. মাজেদুর রহমান খান, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. মিজানুর রহমান, সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) কানিজ ফাতেমা, জেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক তাফাজ্জল হোসেন এসডু পাটওয়ারীসহ আওয়ামী লীগ ও অঙ্গ সহযোগী সংগঠনের নেতা-কর্মী।
প্রশ্নফাঁস ঠেকানোর প্রত্যয় নতুন শিক্ষামন্ত্রীর
অনলাইন ডেস্ক: পরীক্ষায় প্রশ্নপত্র ফাঁস ঠেকানো বড় চ্যালেঞ্জ উল্লেখ করে তা মোকাবেলা করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন নতুন শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি। তিনি বলেন, আমাদের নির্বাচনী ইশতেহারে ২১ অঙ্গীকারের মধ্যে শিক্ষার মান উন্নত করা অন্যতম। তা অর্জনে আমরা কাজ করব। এ ক্ষেত্রে প্রশ্নপত্র ফাঁস ঠেকানো বড় চ্যালেঞ্জ। কিন্তু তা মোকাবেলা করার জন্য আমরা প্রস্তুত। মঙ্গলবার (৮ জানুয়ারি) শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে নিজ দফতরে সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাবে এসব কথা বলে শিক্ষামন্ত্রী। পাশে বসা শিক্ষা উপমন্ত্রী মহিবুল হাসান চৌধুরীকে সঙ্গে নিয়ে দীপু মনি বলেন, আমরা চেষ্টা করব প্রধানমন্ত্রী যে বিশ্বাস-আস্থা রেখেছেন তা রক্ষা করতে। শিক্ষার মান উন্নত করার চ্যালেঞ্জ সারা বিশ্বে আছে। সে চ্যালেঞ্জ অর্জনে আমরা কাজ করে যাব। শিক্ষামন্ত্রী বলেন, সরকারকে জনগণ উজার করে ভোট দিয়ে নির্বাচিত করেছে। তারা বিপুল প্রত্যাশা নিয়ে আমাদের ভোট দিয়েছে। আমরা আমাদের অঙ্গীকার পূরণের চেষ্টা করব। এ সময় উপমন্ত্রী মুহিবুল হাসান চৌধুরী বলেন, নির্বাচনের পরে প্রধানমন্ত্রী বলেছিলেন, ক্ষমতা না দায়িত্ব। সেই দায়িত্বশীল আচরণ আমরা সবাই করব। ইশতেহার বাস্তবায়নে আমরা কাজ করে যাব। এজন্য সবার সহযোগিতা চান তারা।
কমেছে জিপিএ ফাইভ,বেড়েছে পাসের হার
অনলাইন ডেস্ক: সোমবার একই সঙ্গে প্রকাশ হয়েছে প্রাথমিক সমাপনী(পিইসি), জুনিয়র স্কুল সার্টিফিকেট ও সমমান পরীক্ষার ফল। সকাল ১০টায় গণভবনে শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষামন্ত্রী মোস্তাফিজুর রহমান ফিজার ফলের অনুলিপি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার হাতে তুলে দেন। গত বছরের তুলনায় এ বছর পাসের হার বেড়েছে। পিইসিতে এ বছর পাস করেছে ৯৭.৫৯ শতাংশ শিক্ষার্থী। গতবার পাস করেছিল ৮১.৩১ শতাংশ। গত বছর ২৪ লাখ ৮২ হাজার ৩৪২ জন শিক্ষার্থী পরীক্ষা দিয়ে পাস করেছিল ২০ লাখ ১৮ হাজার ২৭১ জন। আর এবার ২৫ লাখ ৯৮ হাজার ১৬৯ জনের মধ্যে পাস করেছে ২২ লাখ ৩০ হাজার ৮২৯ জন। এ বছর প্রাথমিক শিক্ষা সমাপনীর চেয়ে ইবতেদায়ীর ফল তুলমনামূলক ভালো হয়েছে। ইবতেদায়ীতে পাসের হার ৯৭ দশমিক ৬৯ ভাগ। অন্যদিকে জুনিয়র স্কুল সার্টিফিকেট ও সমমান পরীক্ষায় এ বছর পাসের হার ৮৫.৮৩ শতাংশ। এর মধ্যে জেএসসিতে পাসের হার ৮৫.২৮ শতাংশ। গত বছর পাস করেছিল ৮৩.৬৫ শতাংশ। পাসের হার বেড়েছে ২.১৮ শতাংশ। এছাড়া জেডিসিতে পাস করেছে ৮৯.০৪ ভাগ শিক্ষার্থী। তবে পাসের হার বাড়লেও কমেছে জিপিএ ফাইভ-এর সংখ্যা। এ বছর জেএসসিতে জিপিএ ফাইভ পেয়েছে ৬৮ হাজার ৯৫ জন। গত বছর পেয়েছিল এক লাখ ৯১ হাজার ৬২৮ জন। কমেছে এক লাখ ২৩ হাজার ৫৩৩ জন। অন্যদিকে প্রাথমিক ও ইবতেদায়ীতে জিপিএ-৫ পেয়েছে তিন লাখ ৬৮ হাজার ১৯৩ জন শিক্ষার্থী। শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ জানিয়েছেন,এ বছর চতুর্থ বিষয় বাদ দিয়ে ফলাফল নির্ধারণ করায় জিপিএ ফাইভপ্রাপ্ত শিক্ষার্থীর সংখ্যা কমেছে।
মেধাবী শিক্ষার্থীরা দেশের সম্পদ : মেয়র
আগামী প্রজন্মকে মেধাবী ও সুশিক্ষিত করে গড়ে তোলার লক্ষ্যে ২২ ডিসেম্বর শনিবার অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে আ জ ম নাছির উদ্দিন মেধাবৃত্তি পরীক্ষা। পরীক্ষায় অংশ নিতে ইতোমধ্যে ফরম সংগ্রহ করেছেন তৃতীয় থেকে নবম শ্রেণীর ২ হাজার ৬৩১ জন শিক্ষার্থী। আ জ ম নাছির উদ্দীন শিক্ষা ও বৃত্তি পরিষদের প্রস্তুতি সভায় এ তথ্য জানানো হয়।বৃহস্পতিবার (১৩ ডিসেম্বর) দুপুর ১টায় নগর ভবনের সম্মেলন কক্ষে এ সভার আয়োজন করা হয়। এতে প্রধান অতিথি ছিলেন পরিষদের প্রধান পৃষ্ঠপোষক চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দীন।প্রস্তুতি সভায় মেয়র বলেন, মেধাবী শিক্ষার্থীরা দেশের সম্পদ। তাদের মাধ্যমে দেশ ও জাতির সমৃদ্ধি আসবে। গরীব ও অসহায় শিক্ষার্থীদের আমি সহযোগিতা করবো।সভায় জানানো হয়, ২২ ডিসেম্বর শনিবার সকাল সাড়ে ১০টা থেকে বেলা সাড়ে ১২টা পর্যন্ত আ জ ম নাছির উদ্দীন শিক্ষা পরিষদের উদ্যোগে মেধাবৃত্তি পরীক্ষা চলবে। চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের মিউনিসিপ্যাল মডেল স্কুল এন্ড কলেজ, কাপাসগোলা সিটি করপোরেশন বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় ও বাগমনিরাম আবদুর রশীদ সিটি করপোরেশন বালক উচ্চ বিদ্যালয়ে পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে। পরীক্ষায় অংশ নেবে নগরের ৮৪টি স্কুলের ২ হাজার ৬৩১ জন শিক্ষার্থী। এতে পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন চসিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. সাইফুর রহমান। পরীক্ষার পরপরই সব উত্তরপত্র মূল্যায়ন করে ওইদিনই ফলাফল প্রস্তুত করা হবে। ফলাফল স্ব-স্ব বিদ্যালয়ে এবং স্থানীয় ও জাতীয় দৈনিকে প্রচার করা হবে।আ জ ম নাছির উদ্দীন শিক্ষা পরিষদ সভাপতি ফয়সল বাপ্পির সভাপতিত্বে প্রস্তুতি সভায় অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন চসিক শিক্ষা স্বাস্থ্য পরিবার পরিকল্পনা এবং স্বাস্থ্য রক্ষা স্ট্যান্ডিং কমিটির সভাপতি কাউন্সিলর নাজমুল হক ডিউক, চট্টগ্রাম শিক্ষাবোর্ডের প্রাক্তন স্কুল পরিদর্শক অধ্যাপক আলী হোসেন, চসিকের প্রধান শিক্ষা কর্মকর্তা সুমন বড়ুয়া, দৈনিক বীর চট্টগ্রাম মঞ্চ সম্পাদক মো. ওমর ফারুক অপর্ণাচরণ সিটি করপোরেশন বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের অধ্যক্ষ জারেকা বেগম, সুকুমার দেবনাথ, এশিয়ান আবাসিক স্কুল এন্ড কলেজ এর উপাধ্যক্ষ দৈনিক আমাদের চট্টগ্রাম পত্রিকার সাংবাদিক লায়ন এইচ এম ওসমান সরোয়ার, জয় নিউজ সম্পাদক অহীদ সিরাজ চৌধুরী স্বপন, মো. ঈছা, রায়হান ইউসুফ, তিমির বরণ চৌধরী, কে এম শহিদুল কাউসার, রিদুয়ানুল ইসলাম, দিদারুল আলম, আব্দুল আল সুমন ,ইমরান হোসাইন ও আব্দুল্লাহ আল একে খান।এর আগে আ জ ম নাছির উদ্দিন মেধাবৃত্তি পরীক্ষার জন্য ৫ সদস্যের উপদেষ্টা কমিটি এবং ১১ সদস্যের ব্যবস্থাপনা কমিটি গঠন করা হয়।উপদেষ্টা কমিটিতে রয়েছেন চসিক শিক্ষা স্বাস্থ্য পরিবার পরিকল্পনা এবং স্বাস্থ্য রক্ষা স্ট্যান্ডিং কমিটির সভাপতি কাউন্সিলর নাজমুল হক ডিউক, চট্টগ্রাম শিক্ষাবোর্ডের প্রাক্তন স্কুল পরিদর্শক অধ্যাপক আলী হোসেন, চসিকের প্রধান শিক্ষা কর্মকর্তা সুমন বড়ুয়া, দৈনিক বীর চট্টগ্রাম মঞ্চ সম্পাদক মো. ওমর ফারুক এবং অপর্ণাচরণ সিটি করপোরেশন বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের অধ্যক্ষ জারেকা বেগম।ব্যবস্থাপনা কমিটিতে বাগমনিরাম আবদুর রশিদ সিটি করপোরেশন বালক উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক সুকুমার দেবনাথকে আহবায়ক এবং ফতেয়াবাদ শৈলবালা সিটি করপোরেশন উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক কমলেশ ধরকে সদস্য সচিব করা হয়।প্রেস বিজ্ঞপ্তি
প্রাথমিক শিক্ষা সমাপনী ও ইবতেদায়ির ফল প্রকাশ ২৪ ডিসেম্বর
অনলাইন ডেস্ক: পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের প্রাথমিক শিক্ষা ও ইবতেদায়ি শিক্ষা সমাপনী পরীক্ষার ফল আগামী ২৪ ডিসেম্বর (সোমবার) প্রকাশিত হবে। একই দিনে অষ্টম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের জুনিয়র স্কুল সার্টিফিকেট (জেএসসি) ও জুনিয়র দাখিল সার্টিফিকেট (জেডিসি) পরীক্ষার ফলও প্রকাশ হবে। শিক্ষা মন্ত্রণালয় এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা মঙ্গলবার (১১ ডিসেম্বর) সংবাদ মাধ্যমকে এ তথ্য জানান। পঞ্চম ও অষ্টম শ্রেণির সমাপনী পরীক্ষায় এবার প্রায় ৫৭ লাখ শিক্ষার্থী অংশ নেয়। শিক্ষা মন্ত্রণালয় এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা এসব তথ্য নিশ্চিত করেছেন। গত ১৮ নভেম্বর শুরু হয়ে প্রাথমিক শিক্ষা ও ইবতেদায়ি শিক্ষা সমাপনী পরীক্ষা শেষ হয় ২৬ নভেম্বর। ছয়টি বিষয়ের প্রতিটিতে ১০০ করে মোট ৬০০ নম্বরের পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। এবার পরীক্ষার বহুনির্বাচনী প্রশ্ন (এমসিকিউ) বাদ দেয়া হয়। প্রাথমিক ও ইবতেদায়ি শিক্ষা সমাপনীতে এ বছর ৩০ লাখ ৯৫ হাজার ১২৩ জন শিক্ষার্থী অংশ নেয়। এর মধ্যে প্রাথমিক সমাপনীতে ২৭ লাখ ৭৭ হাজার ২৭০ জন। আর ইবতেদায়ি শিক্ষা সমাপনী পরীক্ষায় ৩ লাখ ১৭ হাজার ৮৫৩ জন পরীক্ষার্থী অংশ নেয়। জেএসসি ও জেডিসি পরীক্ষা ১ নভেম্বর শুরু হয়ে শেষ হয় ১৫ নভেম্বর। সারাদেশে এবার ২৬ লাখ ৭০ হাজার ৩৩৩ জন শিক্ষার্থী অংশে নেয়। আট বোর্ডের অধীনে জেএসসিতে ২২ লাখ ৬৭ হাজার ৩৪৩ জন এবং মাদ্রাসা বোর্ডের অধীনে জেডিসিতে ৪ লাখ ২ হাজার ৯৯০ জন পরীক্ষা দেয়। এর আগে প্রাথমিক শিক্ষা ও ইবতেদায়ি শিক্ষা সমাপনী পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশের জন্য ২৬ থেকে ২৭ ডিসেম্বর এবং জেএসসি-জেডিসি পরীক্ষার ফলাফল ২৫-২৭ ডিসেম্বর বা সুবিধাজনক সময়ের মধ্যে প্রকাশের জন্য প্রধানমন্ত্রীর দপ্তরে অনুরোধ-প্রস্তাব পাঠানো হয়েছিল। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে ২৪ ডিসেম্বর ফল প্রকাশের জন্য সময় দেয়া হয় বলে জানিয়েছে মন্ত্রণালয়। গত কয়েক বছর ধরে একই দিন দুই সামপনী পরীক্ষার ফল প্রকাশিত হয়েছিল। রেওয়াজ অনুযায়ী, প্রধানমন্ত্রীর হাতে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী এবং শিক্ষামন্ত্রী কর্মকর্তাদের নিয়ে ফলের অনুলিপি তুলে দেন। এরপর সংবাদ সম্মেলন করে দুই মন্ত্রণালয় পূর্ণাঙ্গ ফল প্রকাশ করে। এরপরই ফল জানতে পারে পরীক্ষার্থীরা।
ভিকারুননিসার নতুন অধ্যক্ষ হাসিনা বেগম
অনলাইন ডেস্ক: ভিকারুননিসা নূন স্কুল অ্যান্ড কলেজের নতুন ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন কলেজ শাখার সহকারী অধ্যাপক হাসিনা বেগম। নবম শ্রেণির শিক্ষার্থী অরিত্রী অধিকারীর আত্মহত্যার জেরে আগের অধ্যক্ষ নাজনীন ফেরদৌসকে বহিস্কারের দুইদিন পর হাসিনা বেগমকে দায়িত্ব দেওয়া হলো। শুক্রবার (০৭ ডিসেম্বর) প্রতিষ্ঠানটির গভর্নিং বডির সভায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। গভর্নিং বডির শিক্ষক প্রতিনিধি মুশতারী সুলতানা বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, নতুন ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ হিসেবে কলেজ শাখার সহকারী অধ্যাপক হাসিনা বেগমকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে এবং প্রভাতী শাখার প্রধানের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে মহসিন তালুকদারকে। মহসিন তালুকদার অতিরিক্ত দায়িত্ব হিসেবে প্রভাতী শাখার প্রধানের দায়িত্ব পালন করবেন। গত সোমবার (০৩ ডিসেম্বর) দুপুরের দিকে রাজধানীর শান্তিনগরে গলায় ফাঁস দিয়ে অরিত্রী অধিকারী (১৫) নামে ভিকারুননিসার এক স্কুলছাত্রী আত্মহত্যা করেন। অরিত্রী শিক্ষা প্রতিষ্ঠানটির প্রধান শাখার নবম শ্রেণির ছাত্রী ছিলেন। এ ঘটনায় মঙ্গলবার (০৪ ডিসেম্বর) রাতে রাজধানীর পল্টন থানায় আত্মহত্যার প্ররোচণাকারী হিসেবে তিনজনের বিরুদ্ধে মামলা করেন অরিত্রীর বাবা। মামলার আসামিরা হচ্ছেন-অধ্যক্ষ নাজনীন ফেরদৌস, প্রভাতী শাখার প্রধান জিনাত আক্তার ও শ্রেণি শিক্ষিকা হাসনা হেনা। এ মামলায় গ্রেফতার হয়ে হাসনা হেনা বর্তমানে কারাগারে রয়েছেন। অরিত্রীর বাবা দিলীপ অধিকারী জানান, অরিত্রীর স্কুলের বার্ষিক পরীক্ষা চলছিল। রোববার (০২ ডিসেম্বর) পরীক্ষা দেওয়ার সময় অরিত্রীর কাছ থেকে একটি মোবাইল ফোন উদ্ধার করে স্কুল কর্তৃপক্ষ। এ ঘটনার পর স্কুল কর্তৃপক্ষ আমাদের স্কুলে যেতে বলে। স্কুলে যাওয়ার পর কর্তৃপক্ষ জানায়, তার মেয়ে পরীক্ষার হলে মোবাইলের মাধ্যমে নকল করছিল। তাই তাকে টিসি দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এ খবর শোনার পর স্কুল থেকে অরিত্রী বাসায় ফিরে ফ্যানের সঙ্গে ওড়না পেঁচিয়ে গলায় ফাঁস দেয়। পরে মুমূর্ষু অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।
অধ্যক্ষসহ ৩ শিক্ষক বরখাস্ত ভিকারুননিসা স্কুলের এমপিও বাতিল
অনলাইন ডেস্ক: ভিকারুননিসার শিক্ষার্থী অরিত্রি অধিকারীকে আত্মহত্যায় প্ররোচণার প্রমাণ পেয়েছে মন্ত্রণালয়ের গঠিত তিন সদস্যের কমিটি। এ ঘটনায় ভিকারুননিসার অধ্যক্ষসহ তিন শিক্ষককে বরখাস্তের সুপারিশ করেছে কমিটি। তারা হলেন- অধ্যক্ষ নাজনীন ফেরদৌস, বেইলি রোড শাখার সহকারী প্রধান শিক্ষক জিনাত আরা এবং ক্লাস টিচার হাসনা হেনা। পাশাপাশি ওই তিন শিক্ষকের এমপিও বাতিল করে তাদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা করার নির্দেশ দিয়েছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। বুধবার সচিবালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ এ কথা জানান তিনি বলেন, ভিকারুননিসা স্কুলের দোষী ব্যক্তিদের চিহ্নিত করা হয়েছে। শুধু তাই নয়, প্রতিষ্ঠানটির সব ধরণের অনিয়ম উঠে আসছে। অভিভাবকরাও নানা অনিয়মের কথা বলেছেন। ওই ঘটনার জন্য দায়ী ৩ জনের নাম এসেছে। প্রতিবেদন পর্যালোচনা করে তাদের বরখাস্ত করার নির্দেশ দেয়া হয়েছে বলেও জানান তিনি।
শিক্ষার্থীদের তোপের মুখে শিক্ষামন্ত্রী
অনলাইন ডেস্ক :ভিকারুননিসা নূন স্কুলের নবম শ্রেণির শিক্ষার্থী অরিত্রি অধিকারীর আত্মহত্যার পর ওই স্কুলে গিয়ে বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীদের তোপের মুখে পড়েছেন শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ।মঙ্গলবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে ভিকারুননিসা নূন স্কুলে গেলে শিক্ষার্থীদের তোপের মুখে পড়েন তিনি। স্কুলে যাওয়ার আগে মন্ত্রী দেশসংবাদকে বলেছেন শিক্ষার্থীর মৃত্যুর ঘটনায় শিক্ষা মন্ত্রণালয় থেকে তিন সদস্যের একটা কমিটি গঠন করা হয়েছে। তিনি আরও বলেন অভিভাবকরা মিছিল-টিছিল করছেন বিষয়টা জটিল হয়ে গেল। আমি সেখানে যাচ্ছি। গতকাল শুনেই আমি যথাসম্ভব তথ্য নিয়েছি। এরপর আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সঙ্গে আমি কথা বলেছি। আমি তাদের বলেছি, আপনারা আইনগত দিকটা দেখেন, কারণ এরমধ্যে ক্রিমিন্যাল ব্যাপার আছে একটা। আর আমরা আমাদের বিষয়টা দেখব।গতকাল সোমবার দুপুরে রাজধানীর শান্তিনগরের নিজ বাসায় ফ্যানের সঙ্গে গলায় ফাঁস দেয় অরিত্রি। মুমূর্ষু অবস্থায় উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল (ঢামেক) কলেজ হাসপাতালে নিলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।অরিত্রির আত্মহত্যার কারণ সম্পর্কে গতকাল তারা বাবা দিলীপ অধিকারী বলেন, অরিত্রির স্কুলের বার্ষিক পরীক্ষা চলছিল। গতকাল রোববার সমাজবিজ্ঞান পরীক্ষা চলার সময় তার কাছে একটি মোবাইল ফোন পাওয়া যায়। এজন্য স্কুল কর্তৃপক্ষ আমাদের ডেকে পাঠায়। সোমবার স্কুলে গেলে স্কুল কর্তৃপক্ষ আমাদের জানায়, অরিত্রি মোবাইল ফোনে নকল করছিল, তাই তাকে বহিষ্কারের (টিসি) সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। স্কুল কর্তৃপক্ষ আমার মেয়ের সামনে আমাকে অনেক অপমান করে। এই অপমান এবং পরীক্ষা আর দিতে না পারার মানসিক আঘাত সইতে না পেরে সে আত্মহত্যার পথ বেছে নেয়। বাসায় ফ্যানের সঙ্গে গলায় ফাঁস দেয় অরিত্রি।

শিক্ষা পাতার আরো খবর