রবিবার, জুলাই ১৫, ২০১৮
আগামী সপ্তাহে এমপিওভুক্তির আবেদনের বিজ্ঞপ্তি
অনলাইন ডেস্ক :বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানকে এমপিও (মান্থলি পেমেন্ট অর্ডার) দিতে অনলাইনে আবেদনের জন্য আগামী সপ্তাহে বিজ্ঞপ্তি জারি করবে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এমপিওভুক্ত করতে গঠন করা ও এমপিওভুক্তির জন্য বাছাই’ কমিটি‘ সদস্য ও মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের যুগ্ম সচিব (সরকারি মাধ্যমিক) সালমা জাহান এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, অনলাইনের মধ্যে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এমপিওভুক্ত করতে দ্রুত সময়ে আবেদনপত্র জমা দেওয়ার জন্য বিজ্ঞপ্তি দেওয়া হবে। আগামী রবিবার বৈঠক অনলাইনে আবেদন ফরম চূড়ান্ত করা হবে। ওইদিনই সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে বিজ্ঞপ্তি দেওয়ার। আশাকরি সোমবার বা মঙ্গলবারের মধ্যে বিজ্ঞপ্তি দেওয়া সম্ভব হবে। বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এমপিও দিতে গত ২০ জুন দু’টি কমিটি গঠন করে মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগ। এর একটি শর্তপূরণ করা প্রতিষ্ঠানের তালিকা প্রস্তুতের জন্য ‘অনলাইন অ্যাপলিকেশন গ্রহণ ও ব্যবস্থাপনা’ কমিটি এবং অন্যটি‘এমপিওভুক্তির জন্য বাছাই’ কমিটি। এর আগে ‘এমপিওভুক্তির জন্য বাছাই’ কমিটির আহ্বায়ক জাবেদ আহমেদ জানিয়েছিলেন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এমপিওভুক্তির জন্য আগামী ১৫ জুলাইয়ের পর আবেদন গ্রহণের লক্ষ্য নিয়ে কাজ করছে কমিটি। অনলাইন আবেদন ফরম সম্পন্ন হলে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোকে আবেদন জানাতে বিজ্ঞপ্তি দেওয়া হবে। সর্বশেষ ২০১০ সালে এক হাজার ৬২৪টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এমপিওভুক্ত করা হয়। এরপর এমপিওভুক্তি সাময়িকভাবে বন্ধ রয়েছে।
নন-এমপিও শিক্ষা প্রতিষ্ঠান দ্রুত এমপিওভুক্তি করা হবে
অনলাইন ডেস্ক :নন-এমপিও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলো দ্রুত এমপিওভুক্তির চেষ্টা করা হবে বলে জানিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ। তিনি বলেন, যে সব শিক্ষক এমপিওভুক্ত হবেন, তারা জুলাই মাস থেকেই বেতন প্রাপ্য হবেন। এজন্য মন্ত্রণালয়ে দুটি কমিটি কাজ করছে। শিক্ষামন্ত্রী আজ বুধবার সচিবালয়ে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অফিসকক্ষে নন-এমপিও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক প্রতিনিধি সদস্যদের একটি প্রতিনিধিদলের সাথে বৈঠকে এ কথা বলেন। নুরুল ইসলাম নাহিদ বলেন, শিক্ষা মন্ত্রণালয় শুরু থেকেই শিক্ষকদের কল্যাণে কাজ করছে। এবারও সর্বোচ্চ চেষ্টা করে যাব। বৈঠকে শিক্ষামন্ত্রী বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এমপিওভুক্ত করতে সরকারের বিভিন্ন প্রচেষ্টা ও উদ্যোগ তুলে ধরেন। শিক্ষক প্রতিনিধিদলে উপস্থিত ছিলেন নন-এমপিও শিক্ষা প্রতিষ্ঠান শিক্ষক-কর্মচারী ফেডারেশনের সভাপতি অধ্যক্ষ গোলাম মাহমুদুন্নবী, সাধারণ সম্পাদক অধ্যক্ষ ড. বিনয় ভূষণ রায়, সদস্য মো. শফিকুল ইসলাম, মো. আনোয়ার হোসেন এবং জহুরুল ইসলাম।
এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষার ফল প্রকাশ ১৯ জুলাই
অনলাইন ডেস্ক :এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষার ফল প্রকাশিত হবে আগামী ১৯ জুলাই। ওইদিন সকালে শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ শিক্ষা বোর্ড চেয়ারম্যানদের সঙ্গে নিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কাছে ফলাফলের কপি তুলে দেবেন। এরপর দুপুরে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে শিক্ষামন্ত্রী সংবাদ সম্মেলনে আনুষ্ঠানিকভাবে ফলাফল ঘোষণা করবেন।বৃহস্পতিবার শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের জনসংযোগ কর্মকর্তা আফরাজুর রহমান জাগো নিউজকে বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী ১৯ জুলাই এইচএসসির ফল প্রকাশের জন্য সময় দিয়েছেন।’ শিক্ষা মন্ত্রণালয় থেকে জানা গেছে, আটটি সাধারণ শিক্ষা বোর্ডের এইচএসসি, মাদরাসা শিক্ষা বোর্ডের আলিম ও কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের এইচএসসি (ভোকেশনাল) ও ডিআইবিএস পরীক্ষার ফল ১৯ জুলাই দুপুরে সংবাদ সম্মেলনের পর থেকে পাওয়া যাবে। দেশের শিক্ষা বোর্ডগুলোর ওয়েবসাইট, সংশ্লিষ্ট সকল পরীক্ষা কেন্দ্র/শিক্ষা প্রতিষ্ঠান (সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের ওয়েব মেইল) এবং এসএমএস এর মাধ্যমে একযোগে প্রকাশ করা হবে।এ বছর এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষা শুরু হয় গত ২ এপ্রিল। এবার ১০ বোর্ডে মোট ১৩ লাখ ১১ হাজার ৪৫৭ জন পরীক্ষার্থী অংশ নিয়েছে। তত্ত্বীয় (লিখিত) পরীক্ষা শেষ হয় ১৪ মে।
দাওরায়ে হাদিসের ফলাফল প্রকাশ
অনলাইন ডেস্ক :আল-হাইআতুল উলয়া লিল-জামি‘আতিল কওমিয়া বাংলাদেশ-এর কেন্দ্রীয় পরীক্ষার ফলাফল বৃহস্পতিবার প্রকাশিত হয়েছে। পরীক্ষার গড় পাসের হার ৭৩.৩৪ শতাংশ। ছাত্রদের পাসের হার ৭৬ শতাংশ আর ছাত্রীদের পাশের হার ৬৬.৮৩ শতাংশ। আল-হাইআতুল উলয়া লিল-জামি‘আতিল কওমিয়ার কো-চেয়ারম্যান আল্লামা আশরাফ আলী। ফলাফল ঘোষণার আগে পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক আল্লামা হাফেয মাওলানা ইসমাঈল ফলাফলের ফাইল কো-চেয়ারম্যানের কাছে হস্তান্তর করেন।বৃহস্পতিবার সকালে মতিঝিলস্থ কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ ফলাফল ঘোষণা করার সময় ছয়টি বোর্ডের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন। প্রতিনিধিগণ আগামী পরীক্ষার ফলাফল রমযান মাসে প্রকাশ করার অনুরোধ জানান।আনুষ্ঠানিকভাবে ফল প্রকাশ করে আল্লামা আশরাফ আলী বলেন, দাওরায়ে হাদীসের মাস্টার্সের সমমান দেয়ার পর কেন্দ্রীয় পরীক্ষা শুরু হওয়ায় ছাত্রছাত্রীদের মধ্যে মেধার প্রতিযোগিতা শুরু হয়েছে। এ প্রতিযোগিতার কারণে শিক্ষার্থীদের বেশি লেখাপড়া করতে হচ্ছে।। অভিন্ন প্রশ্নপত্রে দ্বিতীয়বারের মতো কেন্দ্রীয় পরীক্ষা সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন হওয়ার পর অনেক সীমাবদ্ধতা সত্ত্বেও নির্ধারিত তারিখে ফলাফল ঘোষণা করা সম্ভব হয়েছে। উল্লেখ্য ২০১৭ সালের ১১ এপ্রিল গণভবনে প্রধানমন্ত্রী কওমী মাদরাসার দাওরায়ে হাদীসের সনদকে মাস্টার্স (ইসলামিক স্টাডিজ এবং আরবি) এর সমমান প্রদানের ঘোষণা দেন।)দিবিতীয়বারের পরীক্ষায় মোট পরীক্ষার্থী ছিল ২০ হাজার ৭৪৯ জন। এদের মধ্যে উত্তীর্ণ হয়েছে ১৪ হাজার ৫৩৪ জন। এর মধ্যে ছাত্র ১০ হাজার ৬৮৮ জন এবং ছাত্রী ৩ হাজার ৮৪৬ জন। পাসের হার ছাত্র ৭৬ শতাংশ, ছাত্রী ৬৬.৮৩ শতাংশ। মুমতায (স্টার মার্ক) পেয়েছে ছাত্র ৬৫৬ জন এবং ছাত্রী ৫৯ জন। জায়্যিদ জিদ্দান (১ম) বিভাগে উত্তীর্ণ হয়েছে ছাত্র ২ হাজার ৮৩৫ জন, ছাত্রী ৬৭২ জন। জায়্যিদ (২য়) বিভাগে উত্তীর্ণ হয়েছে ছাত্র ৪ হাজার ৩৪ জন, ছাত্রী ১ হাজার ৫৫২ জন এবং মাকবূল (৩য়) বিভাগে উত্তীর্ণ হয়েছে ছাত্র ৩ হাজার ১৬৩ জন, ছাত্রী ১ হাজার ৫৬৩ জন।ছাত্রদের মেধা তালিকায় শীর্ষে স্থান অর্জন করেছেন যৌথভাবে ২ জন। তারা হলেন, বগুড়া জেলার জামেয়া ইসলামিয়া কাছেমুল উলূম (জামিল মাদরাসা)-এর মুহাঃ শামসুল হক এবং ঢাকা জেলার জামিয়া আরাবিয়া ইমদাদুল উলূম ফরিদাবাদ মাদরাসার খলিল আহমদ নাদিম। মেধা তালিকায় ২য় স্থান অর্জন করেছেন যৌথভাবে ২ জন। তারা হল কিশোরগঞ্জ জেলার জামিয়া নূরানিয়া তারাপাশা মাদরাসার মুহাঃ নাসীরুদ্দীন এবং চট্টগ্রাম জেলার আল-জামিয়া আল-ইসলামিয়া পটিয়া মাদরাসার মোহাম্মদ খুবাইব রাজী। মেধা তালিকায় ৩য় স্থানও অর্জন করেছেন যৌথভাবে ২ জন পরীক্ষার্থী। তারা হলেন ঢাকা জেলার জামিয়াতুল উলুমিল ইসলামিয়া মাদরাসার জিহাদুল ইসলাম এবং চট্টগ্রাম জেলার আল-জামিয়া আল-ইসলামিয়া পটিয়া মাদরাসার আয়াতুল্লাহ।ছাত্রীদের মেধা তালিকায় শীষ স্থান অর্জন করেছেন, ঢাকা জেলার মাহমুদিয়া মহিলা মাদরাসার মুনজিয়া ইসলাম। মেধা তালিকায় ২য় স্থান অর্জন করেছেন নরসিংদী জেলার আয়েশা সিদ্দীকা মহিলা মাদরাসার মোসা: শামিমা এবং ৩য় স্থান লাভ করেছেন যৌথভাবে ৩ জন ছাত্রী। তারা হলেন চট্টগ্রাম জেলার আল হুদা মহিলা মাদরাসার রাহমা, ও ঢাকা জেলার আয়েশা সিদ্দীকা (রা.) ঢালকানগর মহিলা মাদরাসার হাফসা সুলতানা এবং ফাহিমা মুসাররাত।
১৯ জুলাই এইচএসসি ও সমমানের ফল প্রকাশ
আগামী ১৯ জুলাই এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষার ফল প্রকাশিত হতে পারে। ওইদিন সকাল ১০টায় প্রধানমন্ত্রীর হাতে ফলাফলের সার-সংক্ষেপ তুলে দেয়ার মাধ্যমে ফল প্রকাশের প্রক্রিয়া শুরু হবে। দুপুর ২টায় আনুষ্ঠানিকভাবে সব কলেজ-মাদ্রাসায় এবং এসএমএস ও অনলাইনে ফল জানা যাবে। ঢাকা শিক্ষাবোর্ডের চেয়ারম্যান ও আন্তঃশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় কমিটির আহ্বায়ক অধ্যাপক মুহা. জিয়াউল হক জানান, ১৯ জুলাই ফল প্রকাশের প্রস্তুতি নিয়ে আমরা এগুচ্ছি। ২ এপ্রিল এই পরীক্ষা শুরু হয়ে শেষ হয় ১৩ মে। ১৪ মে ব্যবহারিক পরীক্ষা শুরু হয়ে ২৩ মে শেষ হয়। সেই হিসাবে ৫৮ দিনে ফল প্রকাশ করা হচ্ছে। এবার সারাদেশে ১০টি শিক্ষাবোর্ডের অধীনে এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষায় ১৩ লাখ ১১ হাজার ৪৫৭ পরীক্ষার্থী অংশ নেয়। এর মধ্যে সাধারণ আট বোর্ডে শিক্ষার্থী ছিল ১০ লাখ ৯২ হাজার ৬০৭ জন। মাদ্রাসা বোর্ডের পরীক্ষার্থীর সংখ্যা ১ লাখ ১২৭ জন। এছাড়াও কারিগরি শিক্ষায় পরীক্ষার্থীর সংখ্যা ছিল ১ লাখ ১৭ হাজার ৭৫৪।
চবির ভর্তি পরীক্ষা ২৭ অক্টোবর
চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে ২০১৮-১৯ সেশনের স্নাতক (সম্মান) শ্রেণিতে ভর্তি পরীক্ষা ২৭-৩০ অক্টোবর নির্ধারিত হয়েছে। গতকাল মঙ্গলবার বিশ্ববিদ্যালয়ের তথ্য শাখা হতে প্রেরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এ কথা জানানো হয় । বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, বেলা দেড়টায় উপাচার্যের সভাকক্ষে ভর্তি পরীক্ষাবিষয়ক এক সভা অনুষ্ঠিত হয়। উপাচার্যের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এ সভায় উপ-উপাচার্য, ডীন, ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রিার, প্রক্টরসহ ভর্তি কার্যক্রমে সংশ্লিষ্ট শিক্ষক ও কর্মকর্তারা উপস্হিত ছিলেন। সভায় আগামী ২৭-৩০ অক্টোবর ভর্তি পরীক্ষার দিন নির্ধারিত হয়। পরীক্ষার বিস্তারিত সময়সূচি পরবর্তীতে জানানো হবে । ভর্তি পরীক্ষা বিষয়ে চবি উপাচার্য প্রফেসর ড. ইফতেখার উদ্দিন চৌধুরী বলেন, বরাবরের মতোই বিশ্ববিদ্যালয়ের গৌরবোজ্জ্বল মর্যাদা সমুন্নত রেখে এবারের ভর্তি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে। ভর্তি প্রক্রিয়াকে সুষ্ঠু ও নির্বিঘ্ন করতে সংশ্লিষ্ট সকলের সহযোগিতা কামনা করছি।
মোট ২৩ হাজার ৯৮৯ নতুন ভবন করা হবে
নিজের বিরুদ্ধে মিথ্যা প্রপাগান্ডা চালানো হচ্ছে জানিয়ে এ থেকে পরিত্রাণ পেতে জাতীয় সংসদে এমপিদের সহানুভূতি চাইলেন শিক্ষামন্ত্রী নূরুল ইসলাম নাহিদ। বৃহস্পতিবার শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের বরাদ্দের উপর আনা ছাটাই প্রস্তাবের জবাব দিতে গিয়ে এ সহানভূতি চান তিনি। অধিবেশনে ২০১৮-১৯ অর্থবছরে মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগে বরাদ্দের বিরোধিতা করে বিরোধী দল জাতীয় পার্টির (জাপা) ৯ জন সদস্য ছাঁটাই প্রস্তাব দেন। এরা হলেন- ফখরুল ইমাম, নূরুল ইসলাম ওমর, সেলিম উদ্দিন, মোহাম্মদ আব্দুল মুনিম চৌধুরী, রুস্তম আলী ফরাজী, রওশন আরা মান্নান, নুরুল ইসলাম মিলন, পীর ফজলুর রহমান। বাজেটে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে ২০১৯ সালের ৩০ জুলাই পর্যন্ত ১৮ হাজার ১৬৬ কোটি ৩১ লাখ টাকা বরাদ্দ রাখা হয়। ফখরুল ইমাম এ বরাদ্দের বিরোধিতা করে বলেন, শিক্ষাখাতে বরাদ্দ বাড়ানো দরকার। কিন্তু এই মন্ত্রণালয়ে জিপিএ-৫ কেনা-বেচার ঘটনা ঘটে। এগুলো খারাপ কাজ। এসব বিষয়ে শিক্ষা মন্ত্রণালয় কোনো পদক্ষেপ নেয়নি। যতক্ষণ এটা ঠিক না করবে, ততক্ষণ টাকা ছাড় করা ঠিক হবে না। রুস্তম আলী ফরাজী বলেন, আমাদের শিক্ষকরা এমপিওভূক্তির জন্য রাস্তায় বসে অনশন করছেন। তাদের বিষয়টি বিবেচনা করে বরাদ্দ বাড়ানো উচিত। তবে এসব সমস্যার সমাধান না করে বরাদ্দ বাড়িয়ে কী হবে? জবাব দিতে গিয়ে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, জিপিএ-৫ টাকায় বিক্রি হয়। এ ধরনের একটা খবর একটা টিভিতে প্রচার করা হয়েছে। তবে এটা প্রমাণিত হয়নি। তারপরও আমরা বোর্ড থেকে বুয়েটের একটি তদন্ত কমিটি করে দিয়েছি। এছাড়া মন্ত্রণালয় থেকে আরেকটি কমিটি করেছি। যখনই এসব অভিযোগ আসে আমরা গোপন রাখি না। প্রকাশ করি। আমি অভিযোগ অস্বীকার করছি না। তবে প্রতিবেদন এলে বলতে পারবো। শিক্ষামন্ত্রী বলেন, এবার এসএসসির প্রশ্নফাঁস নিয়ে অনেক কথা হয়েছে। এমনকি মিডিয়াতেও ব্যাপক প্রচার করা হয়েছে। এসব অভিযোগ আমলে নিয়ে আমরা সংশ্লিষ্ট পাঁচটি মন্ত্রণালয় ও সব ধরনের নিরাপত্তা সংস্থার মাধ্যমে কমিটি করেছিলাম। তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনে বেরিয়ে এসেছে মাত্র কয়েকটি প্রশ্ন আংশিক, তাও পরীক্ষা শুরুর ৩০ মিনিট পর ফাঁস হয়েছে। সেটি ৩০ নম্বরের এমসিকিউ প্রশ্ন ছিল। আমরা গোপন রাখিনি, তদন্ত করে প্রকাশ করেছি। অন্য দেশের প্রশ্নফাঁসের নমুনা তুলে ধরে তিনি বলেন, ভারতের দিল্লীতে কেন্দ্রীয়ভাবে এবং রাজ্যভিত্তিক কিছু পরীক্ষা হয়। এবার রাজ্যের কিছু পরীক্ষার প্রশ্নফাঁস হয়েছে। সিঙ্গাপুরেও প্রশ্নফাঁস হয়েছে। ইংল্যান্ডেও প্রশ্নফাঁস হয়েছে। ইন্টারনেটের যুগে এগুলো সব জায়গায়ই হচ্ছে। ঘুষ নিয়ে নিজের বক্তব্যের ব্যাখ্যা দিয়ে মন্ত্রী বলেন, আমাকে নিয়ে একটা পত্রিকাতে মিথ্যা কথা প্রচার করা হয়েছে। আমি নাকি বলেছি, দুর্নীতি সহনীয় পর্যায়ে করার জন্য। আমি উদাহরণ দিয়ে বলেছিলাম। দুর্নীতির জন্য ডিআইএ একটা আখড়া ছিল। আমরা সেটাকে ভেঙে নতুন ফরম্যাটে শুরু করেছি। সেদিন অতীতের উদাহরণ দিয়ে বলেছিলাম, আমরা অভিযোগ পেয়েছি এখানে বিভিন্ন জায়গায় ঘুষ দিতে হতো, ওপর লেবেল পর্যন্তও নাকি দিতে হতো, তখন আমি ওপর লেবেল বলতে আমাকে মিন করেছিলাম। ওপর লেবেল হলে তো আমি মন্ত্রীই। আমি নাকি সব মন্ত্রীকে বলেছি। একথা মোটেই সঠিক না। এটি নিয়ে বারবার আমাকে নির্যাতন করা হয়। আপনারা এমপিরাও এই পর্যায়ে বিষয়টি নিয়ে অনেক সমালোচনা করেন। দয়া করে আপনারা সত্য, ন্যায়বিচার করুন, আপনাদের কাছে সহানুভূতি চাই। নিজ এলাকায় স্কুল, কলেজের নতুন ভবন ও এমপিওভুক্তি প্রসঙ্গে এমপিদের দাবির ব্যাপারে মন্ত্রী বলেন, আওয়ামী লীগের নেতৃত্বাধীন সরকার ক্ষমতায় আসার পর ২০০৯ সাল থেকে ১০ হাজার ৩০১টি নতুন ভবন নির্মাণের কাজ চালিয়ে যাচ্ছি। আরও ২ হাজার ১৯৮টি নির্মাণ হবে। এরইমধ্যে ১১ হাজার ৪৪৯টি ভবন নির্মাণ হয়েছে। আরো ১২ হাজার ৪৯৯টি নির্মাণ হবে। মোট ২৩ হাজার ৯৮৯ নতুন ভবন করা হবে। আর এমপিওভুক্তির বিষয়ে অর্থমন্ত্রী তার বাজেট সমাপনী বক্তৃতায় বলেছেন পহেলা জুলাই থেকে কার্যকর করা হবে। অর্থ পেলে আমরা পর্যালোচনা করে এমপিওভুক্তির কাজ অব্যাহত রাখতে চাইবো।
একাদশ শ্রেণিতে ভর্তির ফল প্রকাশ
দেশের সব সরকারি-বেসরকারি কলেজে একাদশ শ্রেণিতে ভর্তির জন্য মনোনীত শিক্ষার্থীদের প্রথম তালিকা বা ফলাফল প্রকাশ করেছে আন্তঃশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় সাব-কমিটি। শনিবার দিবাগত রাত ১২টার পর এ তালিকা প্রকাশ করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন ঢাকা বোর্ডের কলেজ পরিদর্শক অধ্যাপক মো. হারুন-আর-রশিদ। এবার প্রথম তালিকায় ১২ লাখ ৩৮ হাজার ২৫২ জনকে একাদশ শ্রেণিতে ভর্তির জন্য মনোনীত করা হয়েছে। যদিও আবেদন করেছিল প্রায় ১৩ লাখ শিক্ষার্থী। আবেদনকারীদের মধ্যে ৯৪ শতাংশ শিক্ষার্থী প্রথম তালিকায় স্থান পেয়েছেন, অন্যরা দ্বিতীয় এবং তৃতীয় তালিকায় আসবে। সবাই ভর্তির জন্য কলেজ পাবেন বলেও জানিয়েছেন ঢাকা বোর্ডের কলেজ পরিদর্শক অধ্যাপক মো. হারুন-আর-রশিদ। ভর্তির জন্য মনোনীত শিক্ষার্থীদের বাকি দুটি তালিকা যথাক্রমে আগামী ২১ জুন এবং ২৫ জুন প্রকাশ করা হবে। ফল প্রকাশ করে কলেজে ভর্তির ওয়েবসাইটে বলা হয়েছে, নির্বাচিত শিক্ষার্থীদের ১১ থেকে ১৮ জুনের মধ্যে মোবাইল ব্যাংকিং চার্জ বাদে ১৮৫ টাকা রেজিস্ট্রেশন ফি রকেট, টেলিটক অথবা শিওরক্যাশ- এর মাধ্যমে জমা দিয়ে ভর্তির প্রাথমিক নিশ্চায়ন করতে হবে। আর ২৭ থেকে ৩০ জুন নির্বাচিত শিক্ষার্থীদের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ভর্তি হতে হবে। বিগত কয়েক বছরের মত এবারও মাধ্যমিকের ফলের ভিত্তিতে একাদশ শ্রেণিতে অনলাইনে শিক্ষার্থী ভর্তি করা হচ্ছে।
জেএসসি-জেডিসিতে কমলো ২০০ নম্বর
এ বছর অষ্টম শ্রেণির শিক্ষা সমাপনী জুনিয়র স্কুল সার্টিফিকেট (জেএসসি) এবং জুনিয়র দাখিল সার্টিফিকেট (জেডিসি) পরীক্ষা থেকে নম্বর ও বিষয় কমানোর সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। বৃহস্পতিবার সচিবালয়ে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে জাতীয় শিক্ষাক্রম সমন্বয় কমিটির (এনসিসিসি) সভায় এ সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। সভা শেষে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের সচিব সোহরাব হোসাইন সাংবাদিকদের বলেন, শিক্ষা বোর্ডগুলোর চেয়ারম্যানদের সংগঠন আন্তশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় সাব-কমিটির সুপারিশের আলোকে জেএসসি ও জেডিসি পরীক্ষা থেকে সাতটি বিষয়ে মোট ৬৫০ নম্বরের পরীক্ষা নেয়ার প্রস্তাব করেছে। সেটি আমরা বাস্তবায়নের সিদ্ধান্ত নিয়েছি। বর্তমানে চতুর্থ বিষয়সহ ১০টি বিষয়ে মোট ৮৫০ নম্বরের পরীক্ষা হয়। এরমধ্যে বাংলা প্রথম ও দ্বিতীয় পত্র মিলে ১৫০ নম্বরে এবং ইংরেজি প্রথম ও দ্বিতীয় পত্রে ১৫০ নম্বরে পরীক্ষা হতো। সেখান থেকে বাংলায় ৫০ এবং ইংরেজিতে ৫০ কমিয়ে ১০০ নম্বরে পরীক্ষা নেয়ার সিদ্ধান্ত হয়। আর চতুর্থ বিষয় ১০০ নম্বরকে শ্রেণিকক্ষে ধারাবাহিক মূল্যায়নে নেয়া হয়। ফলে এখন থেকে জেএসসিতে ২০০ নম্বর কমে ৬৫০ নম্বরে পরীক্ষা হবে। আর জেডিসিতে আগে ১০৫০ নম্বরের পরীক্ষা হতো। এখন থেকে ৮৫০ নম্বর পরীক্ষা হবে। সর্বমোট ২০০ নম্বর কমানো হয়েছে জেএসসি ও জেডিসিতে। শিক্ষাসচিব বলেন, জেএসসিতে বাংলা প্রথম ও দ্বিতীয় পত্র মিলে ১০০ নম্বরের একটি পরীক্ষা হবে। ইংরেজিতেও দুই পত্র মিলে ১০০ নম্বরের পরীক্ষা হবে। এখন দুই পত্রের জন্য দুটি পরীক্ষা হয়, দুটি পত্র মিলিয়ে মোট নম্বর থাকে ১৫০। নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী চতুর্থ বিষয়ের পরীক্ষা এখন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানেই ধারাবাহিকভাবে মূল্যায়ন করা হবে। তবে গণিত, ধর্ম, বিজ্ঞান, বাংলাদেশ ও বিশ্ব পরিচয় এবং তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিষয়ের পরীক্ষা আগের মতো আগের নম্বরে অনুষ্ঠিত হবে। তিনি বলেন, বিভিন্ন মহল থেকে অভিযোগ করা হয়েছে শিক্ষার্থীদের উপর লেখাপড়ায় চাপ দেয়া হচ্ছে। এসব বিষয় আমলে নিয়ে জেএসসি ও জেডিসি পরীক্ষায় বিষয় ও নম্বর কমানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছি। তবে এখানে শিখন ফলাফল অক্ষুণ্ন রেখে নম্বর এবং বিষয় কমানো হয়েছে, যাতে একজন শিক্ষার্থী সঠিক শিক্ষাটা আয়ত্ব করতে পারে। শিক্ষার লক্ষ্য যেন ব্যাহত না হয়। বিভিন্ন বোর্ড চেয়ারম্যানদের সুপারিশের ভিত্তিতে বিষয় এবং নম্বর কমানো হয়েছে। সে অনুযায়ী সিলেবাসও তৈরি করা হবে। যেহেতু বিষয় এবং নম্বর কমানো হয়েছে তাই শিক্ষার্থীদের উপর এর কোনো চাপ পড়বে না। শিক্ষাসচিব বলেন, ২০১৯ সালে আমরা কারিকুলামে হাত দেবো। তখন আরও বড় আকারে বিষয় কমবে। কারণ তখন আমরা সবকিছু ভাবনা চিন্তায় রেখেই কারিকুলাম করবো। যাতে শিক্ষার্থীরা চাপে না পড়ে। চলতি বছরে জেএসসি ও জেডিসি পরীক্ষায় এমসিকিউ থাকবে কিনা সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে শিক্ষাসচিব বলেন, হঠাৎ করে এমসিকিউ বাদ দেয়া যাবে না। তবে আমরা সিস্টেমে পরিবর্তন আনবো। হয়তো শিক্ষার্থীদের একলাইন লেখা লাগতে পারে। সভায় উপস্থিত ছিলেন শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের বিভিন্ন পযায়ের কর্মকর্তা, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচায অধ্যাপক আক্তারুজ্জামান, মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদফতরের মহাপরিচালক অধ্যাপক মাহাবুবুর রহমান, বিভিন্ন শিক্ষা বোর্ড চেয়ারম্যান প্রমুখ।