রবিবার, জুলাই ১৫, ২০১৮
আইন কঠোরভাবে প্রয়োগ করতে হবে
শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ বলেছেন, তামাকের কুফল সম্পর্কে সামাজিক সচেতনতা বৃদ্ধি এবং শিক্ষার্থী-অভিভাবকদের মধ্যে সচেতনতা তৈরি করতে পাঠ্যপুস্তকে তামাকের ক্ষতিকর দিক তুলে ধরা হবে। শিক্ষামন্ত্রী বলেন,পাঠ্যপুস্তকে মাদকের কুফল সম্পর্কে উল্লেখ আছে। তামাকের বিষয়টি আলাদাভাবে উল্লেখ নেই। ২০২০ সালের পাঠ্যপুস্তকে তামাক ব্যবহারের ক্ষতিকর বিষয়গুলো স্পষ্টভাবে উল্লেখ করে অন্তর্ভূক্ত করা হবে। শিক্ষামন্ত্রী আজ ঢাকায় সিরডাপ মিলনায়তনে প্রজ্ঞা তামাক নিয়ন্ত্রণ সাংবাদিকতা পুরস্কার প্রদান এবং বিশ্ব তামাকমুক্ত দিবস উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় একথা বলেন। বেসরকারি গবেষণা সংস্থা প্রজ্ঞা এবং এন্টি টোব্যাকো মিডিয়া এলায়েন্স (আত্মা) এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে। বিশিষ্ট সাংবাদিক মোজাম্মেল হোসেনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে আরো বক্তব্য রাখেন ন্যাশনাল হার্ট ফাউন্ডেশন অব বাংলাদেশের প্রতিষ্ঠাতা জাতীয় অধ্যাপক ব্রিগেডিয়ার (অব.) আব্দুল মালিক, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. আবুল কালাম আজাদ, এন্টি-টোব্যাকো মিডিয়া এলায়েন্সের আহবায়ক মর্তুজা হায়দার লিটন এবং প্রজ্ঞার নির্বাহী পরিচালক এবিএম জুবায়ের। অনুষ্ঠানটি পরিচালনা করেন এন্টি টোব্যাকো মিডিয়া এলায়েন্সর কো-কনভেনর নাদিরা কিরণ। শিক্ষামন্ত্রী বলেন, তামাক নিয়ন্ত্রণে বেশ কিছু আইন আছে। এই আইন কঠোরভাবে প্রয়োগ করতে হবে। ছেলেমেয়েদের সচেতন করতে হবে। তামাকের ব্যবহার শূন্যের কোটায় নামিয়ে আনতে হবে। তামাক নিয়ন্ত্রনে আরো কৌশল অবলম্বন করার উপর গুরুত্বারোপ করে তিনি বলেন, আমাদের দেশ থেকে তামাককে যেন চিরতরে বিদায় করতে পারি, সে ব্যাপারে সব্ইাকে উদ্যোগ নিতে হবে। তিনি বলেন, ভবিষ্যত প্রজন্মকে বাঁচানোর জন্য, দেশকে রক্ষার জন্য তামাককে ত্যাগ করতে হবে। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের আশেপাশে কোন তামাক পণ্যের দোকান যাতে বসতে না পারে সে ব্যাপারে উদ্যোগ নেয়া হবে বলে জানান শিক্ষামন্ত্রী । অনুষ্ঠানে শিক্ষামন্ত্রী পুরস্কারপ্রাপ্ত পাঁচজন সাংবাদিকের হাতে পুরস্কার হিসেবে ক্রেস্ট, সার্টিফিকেট ও ৫০ হাজার টাকার চেক তুলে দেন। বিভিন্ন ক্যাটাগরিতে প্রজ্ঞা তামাক নিয়ন্ত্রণ সাংবাদিকতা পুরস্কার ২০১৮ বিজয়ীরা হলেন: সেরা জাতীয় প্রিন্ট/অনলাইন মিডিয়া বিভাগে দ্য ফিনান্সিয়াল এক্স্রপ্রেসের বিশেষ প্রতিনিধি দৌলত আক্তার মালা, কালের কন্ঠের সিনিয়র রিপোর্টার আবুল কাশেম, সেরা টিভি রিপোর্টে এনটিভির এস এম আতিক, সেরা স্থানীয় পত্রিকা রিপোর্টে দৈনিক সিলেটের ডাক-এর চীফ রিপোর্টার সিরাজুল ইসলাম এবং বিশেষ বিভাগে গোলাম মর্তুজা জুয়েল।
সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়তে ব্যাপক পরিকল্পনা গ্রহণ করছে সরকার
সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়তে বর্তমান ও ভবিষ্যত শ্রমবাজারের চাহিদা বিবেচনায় কারিগরি ও বৃত্তিমূলক শিক্ষার প্রসারে ব্যাপক পরিকল্পনা গ্রহণ ও বাস্তবায়ন করছে সরকার। রবিবার রাজধানীর ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউট মিলনায়তনে ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউট এবং বাংলাদেশ কারিগরি শিক্ষাবোর্ড যৌথ গবেষণার একটি বই প্রকাশ অনুষ্ঠানে এ কথা বলেছেন শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ।এ সময় শিক্ষামন্ত্রী বলেন, চতুর্থ শিল্প বিল্পবের প্রেক্ষিতে আগামীতে কর্মক্ষেত্রে যে পরিবর্তন সূচিত হবে সেখানে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর দক্ষতা না থাকলে কর্মনিশ্চয়তা ও জাতীয় উৎপাদনশীলতা ব্যাহত হবে।গবেষণা বইয়ের মোড়ক উন্মোচন করে শিক্ষা মন্ত্রী বলেন, শেখ হাসিনার নেতৃত্বে উন্নয়নশীল দেশে উত্তরণের স্বীকৃতি অর্জন ধরে রেখে উন্নত সমৃদ্ধ দেশের অভীষ্ট লক্ষ্য অর্জনে ২০৩০ সালে ১২৮ মিলিয়ন শ্রমশক্তিকে দক্ষ করে গড়ে তোলাই বাংলাদেশের সামনে বড় চ্যালেঞ্জ। এ চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় সরকারি উদ্যোগ বাস্তবায়নে সংশ্লিষ্ট স্টেকহোল্ডারদের বিশাল ভূমিকা রয়েছে।আইডিইবি’র সভাপতি এ কে এম এ হামিদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্ততা করেন কারিগরি ও মাদরাসা শিক্ষা বিভাগের প্রতিমন্ত্রী কাজী কেরামত আলী, এফবিসিসিআই’র সভাপতি মো. সফিউল ইসলাম মহিউদ্দিন, কারিগরি ও মাদরাসা বিভাগের অতিরিক্ত সচিব এ কে এম জাকির হোসেন ভূঞা
পরীক্ষা বর্জন কর্মসূচি স্থগিত
রমজান ও সেশনজট বিবেচনায় রেখে পরীক্ষা বর্জন কর্মসূচি স্থগিত করেছেন কোটা সংস্কার আন্দোলকারীরা।শনিবার (১৯ মে) দুপুর সাড়ে ১২টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগারের সামনে সংবাদ সম্মেলনে এ ঘোষণা দেন কোটা আন্দোলনের আহ্বায়ক হাসান আল মামুন।এর আগে গত সোমবার (১৪ মে) শাহবাগের অবরোধ স্থগিত করে ক্লাস-পরীক্ষা বর্জন কর্মসূচি অব্যাহত রাখার ঘোষণা দেন আন্দোলনকারীদের যুগ্ম আহ্বায়ক নুরুল হক নুর।একদিন পর মঙ্গলবার (১৫ মে) দুপুরে হাসান আল মামুন বাংলানিউজকে বলেন, প্রধানমন্ত্রীর ঘোষণা অনুযায়ী কোটা বাতিলের প্রজ্ঞাপন চেয়ে চলমান ছাত্র ধর্মঘটে পরীক্ষা বর্জন না করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন আন্দোলনকারীরা। শনিবার সংবাদ সম্মেলনে পরীক্ষা বর্জন কর্মসূচি স্থগিত করার সেই ঘোষণাই দিলেন তিনি
২৩ এপ্রিলের পরীক্ষা পেছাল এইচএসসির
ভুলবশত একটি কেন্দ্রে ভূগোল দ্বিতীয় পত্রের পরীক্ষার প্রশ্নপত্রের প্যাকেট খুলে ফেলায় ওই পরীক্ষা পিছিয়ে দিয়েছে সরকার। ভূগোল দ্বিতীয় পত্রের পরীক্ষার নির্ধারিত দিন ছিল ২৩ এপ্রিল সোমবার। ওই পরীক্ষা ১৪ মে নেওয়া হবে বলে রোববার আন্তঃশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় সাব-কমিটির সভাপতি অধ্যাপক মু. জিয়াউল হক জানান। তিনি জানান, ময়মনসিংহের একটি কেন্দ্রে আজ ভুলবশত সোমবারের ভূগোল দ্বিতীয় পত্রের প্রশ্নের একটি প্যাকেট খুলে ফেলা হয়। এজন্য সারা দেশে ওই পরীক্ষা স্থগিত করা হয়েছে। আগামী ১৪ মে ওই পরীক্ষা নেওয়া হবে। এইচএসসিতে রোববার ভূগোল (তত্ত্বীয়) প্রথম পত্রের পরীক্ষা হয়েছে।
৭ মে এর মধ্যে এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশিত হবে
আগামী ৩ থেকে ৭ মের মধ্যে এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশিত হতে পারে বলে জানিয়েছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। মন্ত্রণালয়ের এক কর্মকর্তা বলেছেন, ৩ থেকে ৭ মের মধ্যে ফল প্রকাশের জন্য প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে সার-সংক্ষেপ পাঠানো হয়েছে। ওই কর্মকর্তা আরও বলেন, ৩ মে বৃহস্পতিবার, ওই দিন ফল না হলে ৬ বা ৭ মে হতে পারে। তবে বিষয়টি নির্ভর করছে প্রধানমন্ত্রীর উপর। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে থেকে যেদিন সময় দেওয়া হবে সেদিন ফল প্রকাশ করা হবে। ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক তপন কুমার সরকার বলেন, ৩ থেকে ৭ মের মধ্যে ফল প্রকাশের জন্য শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের কাছে প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে। শিক্ষা মন্ত্রণালয় যেদিন সময় নির্ধারণ করে দেবে সেদিনই ফল প্রকাশ করা হবে। নিয়ম অনুযায়ী, শিক্ষামন্ত্রী বোর্ডের চেয়ারম্যানদের নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর কাছে ফলের অনুলিপি তুলে দেন। পরে সচিবালয়ে সংবাদ সম্মেলনে বিস্তারিত তুলে ধরেন শিক্ষামন্ত্রী। এরপর শিক্ষার্থীরা অনলাইন ও এসএমএসে ফল জানতে পারেন। গত ১ ফেব্রুয়ারি থেকে ২৫ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত এসএসসি ও সমমানের তত্ত্বীয় বিষয়ের পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। ব্যবহারিক পরীক্ষা ২৬ ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হয়ে ৪ মার্চ শেষ হয়। সারা দেশে তিন হাজার ৪১২টি কেন্দ্রে মোট ২০ লাখ ৩১ হাজার ৮৮৯ জন পরীক্ষার্থী অংশ নেয়। এর মধ্যে ১০ লাখ ২৩ হাজার ২১২ জন ছাত্র ও ছাত্রীর সংখ্যা ১০ লাখ ৮ হাজার ৬৮৭ জন। এবার এসএসসিতে মোট পরীক্ষার্থী ১৬ লাখ ২৭ হাজার ৩৭৮ জন, মাদরাসা বোর্ডের অধীন দাখিল পরীক্ষায় দুই লাখ ৮৯ হাজার ৭৫২ জন এবং কারিগরিতে এক লাখ ১৪ হাজার ৭৬৯ জন পরীক্ষার্থী অংশ নেয়। বিগত কয়েক বছর থেকে তত্ত্বীয় বিষয়ের পরীক্ষা শেষ হওয়ার ৬০ দিনের মধ্যে ফল প্রকাশ করে আসছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়।
ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে :শিক্ষামন্ত্রী
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের (ভিসি) বাসভবনে হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনাকে নজিরবিহীন বলে মন্তব্য করে শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ বলেছেন, এই ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে। সোমবার সচিবালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে মন্ত্রী এ কথা বলেন। কোটা সংস্কারের আন্দোলনের নামে ভাঙচুর, হামলা ও নৈরাজ্য সৃষ্টির ঘটনায় উদ্বিগ্ন ও মর্মাহত শিক্ষামন্ত্রী বলেন, ‘এর পেছনে যারা উস্কানি দিচ্ছে, তাদের স্বার্থ হাসিলের জন্য এ ধরনের ঘটনা ঘটানো হচ্ছে।’ নাহিদ বলেন, ‘চাকরির কোটা সংরক্ষণ বিষয়ে সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতা রয়েছে এবং সরকার সম্প্রতি এ বিষয়ে একটি ব্যাখ্যা দিয়েছে। প্রয়োজনীয় যোগ্যতা ও মেধা না থাকলে কোটাধারীরাও চাকরিতে আসতে পারে না। কোটা পূরণ না হলে সেসব পদ মেধা তালিকা থেকেই পূরণ করার নির্দেশনা রয়েছে।’ শিক্ষার্থী ও শিক্ষকসহ সংশ্লিষ্টদের ধৈর্য্যের সঙ্গে পরিস্থিতি মোকাবেল এবং আন্দোলনকারীদের ধ্বংসাত্মক কার্যকলাপ থেকে সরে আসার আহ্বান জানান শিক্ষামন্ত্রী। কোট ব্যবস্থা সংস্কারের দাবিতে বেশ কিছুদিন ধরেই আন্দোলন করছেন শিক্ষার্থী। সর্বশেষ রোববার তারা কোটা সংস্কারের দাবিতে শাহবাগের সড়ক অবরোধ করে রাখেন। এক পর্যায়ে পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়েন আন্দোলনকারীরা। রোববার গভীর রাত পর্যন্ত এই সংঘর্ষ চলে। এক পর্যায়ে আন্দোলনকারীরা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য আখতারুজ্জামানের বাসভবনে হামলা চালায়।
প্রশ্ন ফাঁস হবে না আশা করছি :শিক্ষামন্ত্রী
প্রশ্ন ফাঁস হওয়ার আশঙ্কা অনেক কমে এসেছে। আশা করছি, এবার কোনো ধরনের প্রশ্ন ফাঁস হবে না। হলেও যে ফাঁস করবে তাকে চিহ্নিত করে তার বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে আশা প্রকাশ করেছেন শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ। শিক্ষামন্ত্রী বলেন, প্রশ্ন ফাঁসসহ পরীক্ষায় যাবতীয় অনিয়ম ঠেকাতে বর্তমান বাস্তবতায় মানুষের পক্ষে যা যা করা সম্ভব সবই করেছি। ২৫ মিনিট আগে প্রতি কেন্দ্রে সেট কোড পাঠানো হয়েছে কেন্দ্র সচিবকে। সেই সেট কোড অনুযায়ী প্রশ্নপত্র খুলে সেই সেটে পরীক্ষা নেওয়া হচ্ছে। প্রশ্নের প্যাকেটগুলো টেপ দিয়ে আটকানো ছিল। সেটা খুললেই বোঝা যাবে কোথাও খোলা হয়েছে। রাজধানীর সিদ্ধেশ্বরী গার্লস কলেজ কেন্দ্র পরিদর্শন শেষে সোমবার তিনি এসব কথা বলেন। নাহিদ বলেন, আমরা আশা করছি শান্তিপূর্ণ পরিবেশে পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে। আগেই বলা হয়েছিল, ৩০ মিনিট আগে পরীক্ষার্থীদের কেন্দ্রে প্রবেশের কথা, সেভাবেই প্রবেশ করেছে। এই কেন্দ্রে মাত্র ১০ জন শিক্ষার্থী কয়েক মিনিট পরে পরীক্ষার হলে প্রবেশ করেছে। তাদের নাম, হল, ঠিকানা লিখে রাখা হয়েছে। যাদের সন্দেহজনক মনে হবে তাদের যাচাই-বাছাই করা হবে। এমসিকিউ প্রশ্ন বাতিল হবে কি না- জানতে চাইলে মন্ত্রী বলেন, প্রাথমিক পর্যায়ের আলোচনা ও কাজ শুরু হয়েছে। এখানে জনমতের ব্যাপার রয়েছে। এছাড়া, কোচিং সেন্টারগুলো খোলা থাকার বিষয়ে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, এখানে শুধু শিক্ষা মন্ত্রণালয় নয়, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও আইসিটি মন্ত্রণালয়সহ সংশ্লিষ্ট সবাই কাজ করছে। সবাই খুব সচেষ্ট রয়েছে।
ভারত-বাংলাদেশে যত মিল: প্রশ্নপত্র প্রশ্নফাঁসে
ভারতে মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডের পরীক্ষার প্রশ্নফাঁস হওয়াকে কেন্দ্র করে গত কয়েকদিন ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা চলছে। পরীক্ষা শুরুর আগেই প্রশ্নফাঁসের বিষয়টি কর্তৃপক্ষের নজরে এসেছিল-এটা জানাজানি হওয়ার পর সরকার চরম অস্বস্তিতে পড়েছে। এ ঘটনা নিয়ে সরকার একটু বেকায়দায় আছে। ভারতের প্রশ্নফাঁসের সঙ্গে প্রতিবেশী দেশ বাংলাদেশের প্রশ্নফাঁসের ঘটনার মিল রয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন বিশেষজ্ঞরা। প্রথমত, উভয় ক্ষেত্রেই প্রশ্নফাঁসের হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করা হয়েছে ফেসবুক বা হোয়াটসঅ্যাপের মতো সোশ্যাল মিডিয়াকে। প্রশ্নফাঁসকারীরা সোশ্যাল মিডিয়ার ক্লোজড গ্রুপে টাকার বিনিময়ে প্রশ্নপত্র পৌঁছে দিতে চেয়েছিলেন নির্দিষ্ট গ্রাহকদের হাতে। তারপরও তা ওই গ্রুপের বাইরে চলে আসে। দ্বিতীয়ত, ভারত ও বাংলাদেশ উভয় ক্ষেত্রেই এমন সন্দেহ করা হচ্ছে, কর্তৃপক্ষ আগেভাগেই জানতেন যে প্রশ্নপত্র ফাঁস হয়ে গেছে। তারপরও তারা পরীক্ষা বন্ধ করার বা স্থগিত করেনি। তৃতীয়ত, প্রশ্নফাঁসের ঘটনায় দুই দেশেই পরীক্ষার্থীদের ক্ষোভ যেন শিক্ষামন্ত্রীর ওপরই। বাংলাদেশে প্রশ্নফাঁস নিয়ে শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ যেমন অস্বস্তিতে পড়েছেন, একই দশা ভারতের শিক্ষামন্ত্রী প্রকাশ জাভরেকরেরও। প্রতারিত হওয়া পরীক্ষার্থীদের কথা ভেবে আমি তো রাতে ঘুমোতেই পারিনি এমন মন্তব্য করেও রেহাই পাননি শিক্ষামন্ত্রী। বরং সোশ্যাল মিডিয়াতে তাকে নিয়ে ব্যঙ্গবিদ্রূপ করা হয়েছে। এ বিষয়ে ভারতের সমাজতত্ত্ববিদ আশিস নন্দী বলেন,ভারত-বাংলাদেশে প্রশ্নফাঁসের ঘটনায় সবচেয়ে বড় মিল হলো সামাজিক অবক্ষয়ের। ছেলেমেয়ের মার্কশিটে বাড়তি কয়েকটা নম্বরের জন্য কিছু কিছু বাবা-মা যে কোথায় নামতে পারেন এই দুটো দেশেই, তা আমরা চোখের সামনে দেখতে পাচ্ছি। কিছুটা রসিকতা করেই তিনি বলেন,দিল্লিওয়ালা বলতে যাদের বোঝায় তাদের নৈতিক মূল্যবোধ নিয়ে অবশ্য কোনোকালেই বিশেষ সুনাম ছিল না। কিন্তু বাঙালি যে মূল্যবোধ নিয়ে এতদিন গর্ব করে এসেছে সেটাও যে কত ঠুনকো তা আজকের ঢাকা বা কলকাতা উভয়েই প্রমাণ দিচ্ছে। দিল্লি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রবীণ অধ্যাপক ও শিক্ষাবিদ নির্মলাংশু মুখার্জি বলেন,দুটো দেশেই মূল গলদটা হলো শিক্ষা ব্যবস্থার সিস্টেমে। যে সিস্টেম আপনাকে নোট মুখস্থ করে উত্তরে লিখলেই এত এত নম্বর পাওয়া যায়, সেখানে প্রশ্নফাঁস একরকম অনিবার্য। ভারতই বলুন কিংবা বাংলাদেশ, মাধ্যমিক বা উচ্চ মাধ্যমিক স্তরের প্রশ্নপত্রে শিক্ষার্থীর সৃজনশীলতা প্রমাণের সুযোগ এত কম যে আমি মনে করি আমাদের পরীক্ষা ব্যবস্থাটাই দুর্নীতিগ্রস্ত। সেখানে একটা দুর্নীতি আরও বড় দুর্নীতি ডেকে আনবে। এটাই কি স্বাভাবিক নয়? দিল্লির অ্যামিটি ইন্টারন্যাশনাল স্কুলের প্রিন্সিপাল রেনু সিংয়ের মতে, তথাকথিত কোচিং সেন্টার গুলোই যাবতীয় নষ্টের মূলে। তিনি বলেন, ;বাংলাদেশের ঘটনা আমি যতদূর শুনেছি, সেখানেও এক শ্রেণির কোচিং সেন্টারই প্রশ্নফাঁস চক্রের মূল হোতা। দিল্লিতেও পুলিশ জেরা করছে বিভিন্ন কোচিং সেন্টারকেই। আমার দৃঢ় বিশ্বাস, স্কুলেই ভালো পড়াশুনো হয় অভিভাবকদের যতদিন এটা বিশ্বাস করানো না যাবে ততদিন এ ধরনের ঘটনা আপনি ভারতেও শুনবেন, বাংলাদেশেও হয়তো শুনতে থাকবেন।সূত্র: বাংলা ট্রিবিউন
বিভ্রান্তিমূলক প্রশ্ন প্রকাশ করে প্রচারণা চালানো হয়:শিক্ষামন্ত্রী
শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ বলেছেন, পরীক্ষার আগে ভুল ও বিভ্রান্তিমূলক প্রশ্ন প্রকাশ করে প্রচারণা চালানো হয়। এ ধরনের মিথ্যা প্রচারণা থেকে সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে। বৃহস্পতিবার ঢাকার লালমাটিয়া মহিলা কলেজের বার্ষিক ক্রীড়া প্রতিযোগিতার সমাপনী ও পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় শিক্ষামন্ত্রী এ সব কথা বলেন। মন্ত্রী জানান, পরীক্ষা শুরুর ২৫ মিনিট আগে প্রশ্নের খাম খোলা হবে। সব কোচিং সেন্টার বন্ধ থাকবে। শিক্ষামন্ত্রী বলেন, জাতির ভবিষ্যতের স্বার্থে সবাইকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে। সরকারকে ছোট করার জন্য জাতিকে হতাশ করে এমন প্রচার না করার আহ্বান জানান তিনি। শিক্ষামন্ত্রী আসন্ন এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষা সুষ্ঠুভাবে সম্পাদনের লক্ষ্যে শিক্ষক, অভিভাবক, গণমাধ্যম ও সর্বস্তরের জনগণের প্রতি সহযোগিতার আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি বলেন, অতীতের অভিজ্ঞতার আলোকে এবার পরীক্ষা সুষ্ঠুভাবে অনুষ্ঠানের লক্ষে এবং প্রশ্ন ফাঁস ঠেকাতে সম্ভাব্য সব ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। শিক্ষামন্ত্রী বলেন, পরীক্ষা শুরুর ২৫ মিনিট আগে প্রশ্নের খাম খোলা হবে। সব কোচিং সেন্টার বন্ধ থাকবে। তিনি বলেন, ভুল ও বিভ্রান্তিমূলক প্রশ্ন প্রকাশ করে প্রচারণা চালানো হয়। এ ধরনের মিথ্যা প্রচারণা থেকে সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে। জাতির ভবিষ্যতের স্বার্থে সবাইকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে। সরকারকে ছোট করার জন্য জাতিকে হতাশ করে এমন প্রচার না করার আহ্বান জানান তিনি। শিক্ষামন্ত্রী বলেন,আমাদের মেয়েরা পড়াশুনায় ভালো করছে। আগামী কয়েক বছরের মধ্যে উচ্চশিক্ষার ক্ষেত্রেও জেন্ডার সমতা অর্জিত হবে। তিনি বলেন, লালমাটিয়া মহিলা কলেজের উন্নয়নে মোট ২৩ কোটি ১০ লাখ টাকার কাজ সম্পন্ন হয়েছে। লালমাটিয়া মহিলা কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর ড. মো. রফিকুল ইসলামের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে অন্যদের মধ্যে মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের সচিব মো. সোহরাব হোসাইন, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য ড. মো. মশিউর রহমান, জাতীয় পুরস্কারপ্রাপ্ত ক্রীড়াবিদ ও ঢাকা সাইক্লিং স্পোর্টিং ক্লাবের সভাপতি জোবেরা রহমান লিনু এবং মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তরের সাবেক মহাপরিচালক ড. এস এম ওয়াহিদুজ্জামান বক্তব্য দেন।