প্রশ্নফাঁসের সুযোগ নেই, গুজবে কান দিবেন না: শিক্ষামন্ত্রী
৩০মার্চ,শনিবার,অনলাইন ডেক্স,নিউজ একাত্তর ডট কম: এসএসসির মতো এইচএসসিতেও প্রশ্নফাঁসের কোনো সুযোগ নেই বলে সাফ জানিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী ডাক্তার দীপু মনি। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রশ্নফাঁসের গুজবে কান না দেয়ার জন্য শিক্ষক, অভিভাবক ও শিক্ষার্থীসহ সংশ্লিষ্ট সবার প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন তিনি। গুজব ছড়ানোর অপকর্মের সাথে কারো সম্পৃক্ততার প্রমাণ পেলে তাদের আইনের আওতায় আনা হবে বলে হুশিয়ারি উচ্চারণ করেন। শনিবার দুপুরে শেরপুরের নকলা উপজেলার চন্দ্রকোণা রাজলক্ষ্মী উচ্চ বিদ্যালয়ের শতবর্ষী উদযাপন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। তিনি বলেন, শিক্ষার মান উন্নয়নে শুধুমাত্র অবকাঠামো নয়, শিক্ষা পদ্ধতিতেও প্রয়োজনীয় পরিবর্তন আনা হবে। দেশের শিক্ষা উন্নয়নে আমাদের অনেক চ্যালেঞ্জ রয়েছে, সেই চ্যালেঞ্জগুলো মোকাবেলায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশে ও পরামর্শে আমরা নিরন্তর কাজ করছি। শুধু শিক্ষা ও বিজ্ঞানে নয়, শিক্ষার্থীদের মানবিকভাবেও সমৃদ্ধ হতে হবে। এর জন্য শিক্ষিত তরুণদের দেশের উন্নয়নে এগিয়ে আসার আহবান জানান তিনি। জনতা ব্যাংকের সাবেক মহাব্যবস্থাপক মোহাম্মদ আকরাম হোসাইনের সভাপতিত্বে এ সময় বক্তব্য রাখেন কৃষি মন্ত্রণালয়বিষয়ক সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি সাবেক কৃষিমন্ত্রী মতিয়া চৌধুরী, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য ড. মোহাম্মদ মুফাখখারুল ইসলাম, সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়ের সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের সচিব মোহাম্মদ নজরুল ইসলাম, শেরপুর জেলা প্রশাসক আনার কলি মাহবুব, বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক অধ্যাপক মোহাম্মদ আসাদুজ্জামান, সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজের অধ্যাপক ডাক্তার একেএম সাইদুর রহমান প্রমুখ। অনুষ্ঠান উদ্বোধন করেন স্থানীয় এমপি সাবেক কৃষিমন্ত্রী মতিয়া চৌধুরী। এ সময় উপজেলা নির্বাহী অফিসার জাহিদুর রহমান, উপজেলা চেয়ারম্যান একেএম মাহবুবুল আলম, উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মুক্তিযোদ্ধা মোস্তাফিজুর রহমান, সাধারণ সম্পাদক মুক্তিযোদ্ধা শফিকুল ইসলাম জিন্নাহ, পৌরসভার মেয়র হাফিজুর রহমান লিটন, নকলা থানার ওসি কাজী শাহ নেওয়াজ, স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান ও বিদ্যালয় পরিচালনা পরিষদের সভাপতি সজু সাঈদ সিদ্দিকীসহ উপজেলা আওয়ামী লীগ, যুবলীগ, ছাত্রলীগ ও তার সহযোগী সংগঠনের নেতৃবৃন্দ। শতবর্ষ পূর্তি উদযাপন কমিটির অন্যতম সদস্য সফিকুল ইসলাম সুখনসহ অন্যান্য সদস্য ও বিদ্যালয় পরিচালনা পরিষদের সদস্যবৃন্দ, শিক্ষক, সাবেক ও বর্তমান শিক্ষার্থী, অভিভাবক, এলাকার সুশীল সমাজের নেতৃবৃন্দ, শিক্ষানুরাগী মহল, স্থানীয় সরকার প্রতিনিধি, বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা ও সাংবাদিক উপস্থিত ছিলেন। পরে শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি ও সাবেক কৃষিমন্ত্রী মতিয়া চৌধুরীর হাতে চিত্রশিল্পী রাঙা শাহীনের আঁকা নিজ নিজ ছবি সম্বলিত তৈলচিত্র হস্তান্তর করা হয়।
ধারাবাহিক মূল্যায়নের প্রস্তুতি হিসেবে তৈরি করা হচ্ছে মাস্টার ট্রেইনার
২৭মার্চ,বুধবার,অনলাইন ডেক্স,নিউজ একাত্তর ডট কম: প্রথম থেকে অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত কোনো পাবলিক পরীক্ষা না রাখার পরিকল্পনা করছে সরকার। পরীক্ষা বাদ দিয়ে ধারাবাহিক মূল্যায়ন করা হবে। আগামী বছর থেকে তৃতীয় শ্রেণি পর্যন্ত এই পদ্ধতি চালু হলেও পর্যায়ক্রমে চতুর্থ থেকে অষ্টম শ্রেণি পর্যন্তও সব বিষয়ে ধারাবাহিক মূল্যায়নের আওতায় নেয়া হবে। অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত সব বিষয় ধারাবাহিক মূল্যায়নের আওতায় আনার প্রক্রিয়া শেষ হলে পঞ্চম শ্রেণির পাবলিক পরীক্ষা বাদ দেয়া হবে। অষ্টম শ্রেণি শেষে অনুষ্ঠিত হবে প্রাথমিক সমাপনী পরীক্ষা। প্রাথমিক থেকে উচ্চ মাধ্যমিকের দ্বাদশ শ্রেণি পর্যন্ত সৃজনশীল পদ্ধতির আওতায় আনতে এই ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ষষ্ঠ থেকে অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত ধারাবাহিক মূল্যায়নের প্রস্তুতি হিসেবে তৈরি করা হচ্ছে মাস্টার ট্রেইনার। এসব মাস্টার ট্রেইনার সারাদেশের শিক্ষকদের সৃজনশীল পদ্ধাতিতে পাঠদান ও ধারাবাহিক মূল্যায়নে যোগ্য করে গড়ে তুলবেন। ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক মু. জিয়াউল হক বলেন, ষষ্ঠ থেকে অষ্টম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের ধারাবাহিক মূল্যায়নের জন্য প্রথমে দুটি গ্রুপে ৬০০ জন মাস্টার ট্রেইনার তৈরি করা হচ্ছে। প্রতি বিষয়েরে জন্য ৫০ জন করে মাস্টার ট্রেইনার প্রস্তুত করা হবে। এসব মাস্টর ট্রেইনার শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ দিয়ে সৃজনশীল পদ্ধতিতে পাঠদান ও ধারাবাহিক মূল্যায়নের জন্য শিক্ষকদের প্রস্তুত করবেন। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের নির্দেশে এই প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। উল্লেখ্য ২০১০ সালের জাতীয় শিক্ষানীতি অনুযায়ী অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত প্রাথমিক শিক্ষার আওতায় থাকবে। যদিও বর্তমানে প্রথম থেকে পঞ্চম শ্রেণি পর্যন্ত প্রাথমিক শিক্ষার আওতায় রয়েছে। আর ষষ্ঠ থেকে অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত রয়েছে মাধ্যমিক পর্যায়ে। ষষ্ঠ থেকে অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত প্রাথমিকের আওতায় আনা হলে সপ্তম শ্রেণি পর্যন্ত কোনও পাবলিক পরীক্ষা থাকবে না। উল্লেখ্য, সম্প্রতি প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে প্রাথমিকের তৃতীয় শ্রেণি পর্যন্ত পরীক্ষাব্যবস্থা তুলে দিয়ে ধারাবাহিক মূল্যায়নের আওতায় নেয়ার ঘোষণা দেয় প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়। ২০১৭ সালের জেএসসিতে পরীক্ষায় বাদ দেওয়া হয় চারু ও কারুকলা, শারীরিক শিক্ষা এবং কর্মমুখী শিক্ষা। ২০১৭ সালের অষ্টম শ্রেণির সমাপনী পরীক্ষা থেকে বাদ দেয়া হয়েছে কৃষি ও গার্হস্থ্য বিজ্ঞান। এসব বিষয়ের ধারাবাহিক মূল্যায়ন করছে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান। একপর্যায়ে সব বিষয় নেওয়া হবে ধারাবাহিক মূল্যায়নে।
আগামী ১ এপ্রিল থেকে ৬ মে পর্যন্ত সব কোচিং বন্ধ: শিক্ষামন্ত্রী
২৫মার্চ,সোমবার,অনলাইন ডেক্স,নিউজ একাত্তর ডট কম: উচ্চ মাধ্যমিক ও সমমানের পরীক্ষা চলাকালে আগামী ১ এপ্রিল থেকে ৬ মে পর্যন্ত দেশের সব ধরনের কোচিং সেন্টার বন্ধ থাকবে বলে জানিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি। এ সময় কোনো কোচিং সেন্টার খোলা পাওয়া গেরে তার বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেয়া হবে। সোমবার (২৫ মার্চ) সচিবালয়ে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে সংবাদ সম্মেলনে এ কথা বলেন তিনি। শিক্ষামন্ত্রী বলেন, উচ্চ মাধ্যমিক ও সমমানের পরীক্ষা সুষ্ঠু, সুন্দর ও নকলমুক্ত পরিবেশে অনুষ্ঠানের সব ধরণের প্রস্তুতি নেয়া হয়েছে। এই লক্ষ্যে আগামী ১ এপ্রিল থেকে ৬ মে পর্যন্ত সব ধরনের কোচিং সেন্টার বন্ধ থাকবে। দীপু মনি বলেন, নানা ধরনের কোচিং আছে। যেহেতু একই জায়গায় বিভিন্ন ধরনের কোচিং থাকে, অনেকে অসাধু উপায়ে নিষেধাজ্ঞা সত্ত্বেও কোচিং করিয়ে থাকে। এরকমটাও অতীতে দেখা গেছে। তাই আমরা সব কোচিং বন্ধের সিদ্ধান্ত নিয়েছি।
তৃতীয় শ্রেণি পর্যন্ত পরীক্ষা থাকছে না এ বছর থেকেই
২৪মার্চ,রবিবার,অনলাইন ডেক্স,নিউজ একাত্তর ডট কম: চলতি বছর থেকেই শিশুদের তৃতীয় শ্রেণি পর্যন্ত পরীক্ষা দিতে হবে না বলে জানিয়েছেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সচিব আকরাম আল হোসেন। রোববার (২৪ মার্চ) দুপুরে সচিবালয়ে প্রাথমিক বৃত্তির ফল প্রকাশ উপলক্ষে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ তথ্য জানান। সম্প্রতি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা শিশুদের ওপর পড়ালেখার চাপ কমানোর কথা চিন্তা করে ও প্রাথমিকে ঝরেপড়া কমানোর বিষয়ে গুরুত্বারোপ করে প্রথম থেকে তৃতীয় শ্রেণি পর্যন্ত পরীক্ষা না রাখার বিষয়ে মন্ত্রণালয়কে নির্দেশনা দেন। পরিপ্রেক্ষিতে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছিল, আগামী বছর থেকে তৃতীয় শ্রেণি পর্যন্ত পরীক্ষা নেয়া হবে না। তবে সিদ্ধান্ত বদলে চলতি বছর থেকেই পরীক্ষা বাতিলের সিদ্ধান্ত নেয়া হলো। বিষয়টি নিশ্চিত করে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা সচিব আকরাম আল হোসেন বলেন, তৃতীয় শ্রেণি পর্যন্ত পরীক্ষা তুলে দেয়া হলেও মূল্যায়ন প্রক্রিয়া থাকবে। নিচের ক্লাস থেকে ওপরের ক্লাসে উত্তীর্ণ করতে এ প্রক্রিয়া অব্যাহত থাকবে। আর চতুর্থ ও পঞ্চম শ্রেণিতে পরীক্ষা নেয়া হবে। সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, প্রাথমিক সমাপনী পরীক্ষার (পিইসি) ফলের ভিত্তিতে এ বছর ৩৩ হাজার শিক্ষার্থী ট্যালেন্টপুলে এবং সাধারণ কোটায় ৪৯ হাজার ৫০০ জনসহ মোট ৮২ হাজার ৫০০ জন বৃত্তি পাবে।
প্রাথমিকে বৃত্তি পেল ৮২৫০০ শিক্ষার্থী
২৪মার্চ,রবিবার,অনলাইন ডেক্স,নিউজ একাত্তর ডট কম: ফলাফলের ভিত্তিতে প্রাথমিক সমাপনীতে ৮২ হাজার ৫০০ জন এই বৃত্তি পেয়েছে। বেশ কয়েক বছর ধরেই এমন ফলাফল হচ্ছে। সারাদেশে ৮২ হাজার ৫০০ বৃত্তিপ্রাপ্তদের মধ্যে ট্যালেন্টপুল পেয়েছে ৩৩ হাজার এবং সাধারণ গ্রেডে ৪৯ হাজার ৫০০ জন। বৃত্তিপ্রাপ্ত শিক্ষার্থীদের তালিকা প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের ওয়েবসাইট www.dpe.gov.bd পাওয়া যাবে। সচিবালয়ে রোববার প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী মো. জাকির হোসেন সংবাদ সম্মেলনে বৃত্তিপ্রাপ্ত শিক্ষার্থীদের তালিকা প্রকাশ করে এর বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন। তিনি বলেন, ঝরে পড়া রোধ, শ্রেণিকক্ষে শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি বৃদ্ধি ও সুষম মেধা বিকাশের লক্ষ্যে প্রাথমিক সমাপনী পরীক্ষার ফলাফলের ভিত্তিতে এই বৃত্তি দেয়া হয়। মন্ত্রীর ভাষ্য,সকল শিক্ষার্থী এই প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ করতে পারে। আগে কিছু মেধাবী শিক্ষার্থীর বৃত্তি পরীক্ষায় অংশগ্রহণের সুযোগ ছিল। ফলে অনেকেই এই সুবিধা থেকে বঞ্চিত হত। বর্তমানে সে সুযোগ বেড়েছে। জাকির জানান, ট্যালেন্টপুলে বৃত্তিপ্রাপ্তদের মাসে ৩০০ টাকা এবং সাধারণ বৃত্তিপ্রাপ্তদের মাসে ২২৫ টাকা করে দেওয়া হবে। ষষ্ঠ থেকে অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত তিন বছর বৃত্তিপ্রাপ্ত শিক্ষার্থীরা বৃত্তির টাকা পাবে। আগে পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের বৃত্তি দেয়ার জন্য আলাদা পরীক্ষা নেয়া হত। ২০১০ সালে ক্ষুদে শিক্ষার্থীদের সমাপনী পরীক্ষা চালুর পর এই পরীক্ষায় উত্তীর্ণদের মধ্য থেকে উপজেলাভিত্তিক বৃত্তি দেয়া হচ্ছে। গত বছরের প্রাথমিক সমাপনীতে ৯৭ দশমিক ৫৯ শতাংশ শিক্ষার্থী পাস করেছে, এদের মধ্যে জিপিএ-৫ পেয়েছে তিন লাখ ৬৮ হাজার ১৯৩ জন।
গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ নিয়ে বেড়ে ওঠবে শিশুরা: শিক্ষামন্ত্রী
১৪মার্চ,বৃহস্পতিবার,অনলাইন ডেক্স,নিউজ একাত্তর ডট কম: শিক্ষার্থীদের নিজেদের মধ্যে সহমর্মিতা সৃষ্টি, নেতৃত্বের গুণাবলী তৈরি, ভোটাধিকার প্র্রয়োগের অভিজ্ঞতা অর্জন, সর্বোপরি গণতান্ত্রিক চর্চার লক্ষ্যে সারা দেশে আজ বৃহস্পতিবার মাধ্যমিক পর্যায়ে স্টুডেন্ট কেবিনেট নির্বাচন হচ্ছে। সরেজমিনে গাজীপুরের কালিয়াকৈরে বেগম সুফিয়া মডেল হাইস্কুলের স্টুডেন্ট কেবিনেট নির্বাচন পরিদর্শনে গিয়ে শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি বলেছেন, মাধ্যমিক পর্যায়ে স্টুডেন্ট কেবিনেট নির্বাচনের মাধ্যমে সকল শিশুরা গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ নিয়ে বেড়ে ওঠবে। তারা দায়িত্বশীল হবে ও নিজেদের কাজ নিজেরা করতে শিখবে। সবাই মিলে কিভাবে সিদ্ধান্ত নিতে হয় সেটি শেখবে। এসময় মন্ত্রী সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে বলেন, ২০১৫ সাল থেকে ধারাবাহিকভাবে স্টুডেন্ট কেবিনেট নির্বাচন হচ্ছে। এই ধারাবাহিকতায় এবারও নির্বাচন হচ্ছে। আমি আশা করি এটি অব্যাহত থাকবে, যেসব স্কুল এর আওতার বাইরে আছে তারাও এই প্রক্রিয়ার সঙ্গে যুক্ত হবে। মন্ত্রী স্কুলের বিভিন্ন কক্ষে ছাত্র-ছাত্রীদের ভোট দান কার্যক্রম ঘুরে দেখেন এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলেন। এসময় মন্ত্রীর সঙ্গে শিক্ষামন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব মো. ফসিউল্লাহ, কালিয়াকৈর থানার নির্বাহী কর্মকর্তা কাজী হাফিজুর আমিন, জেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার রেবেকা সুলতানাসহ স্থানীয় প্রশাসনের লোকজন উপস্থিত ছিলেন।-ইউএনবি
আরও ১৩ হাজার শিক্ষা প্রতিষ্ঠান পাচ্ছে আধুনিক ভবন
১৫ ফেব্রুয়ারী,শুক্রবার,অনলাইন ডেক্স,নিউজ একাত্তর ডট কম: সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে সম্যক সুযোগ-সুবিধা দেয়ার লক্ষ্যে ২০২১ সালের মধ্যে সব শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে আধুনিক ও দৃষ্টিনন্দন ভবন নির্মাণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। এতে ব্যয় হচ্ছে ২৫ হাজার কোটি টাকা। এই অবকাঠামো নির্মাণ কাজে প্রাধান্য পেয়েছে মাদ্রাসা ও কারিগরি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। শিক্ষা প্রকৌশল অধিদফতর সূত্রে জানা গেছে, গত ১০ বছরে সারা দেশের দুই হাজার ৪০০ মাদ্রাসায় নতুন ভবন নির্মাণ করা হয়েছে। নির্বাচিত আরও এক হাজার ৮০০টি মাদ্রাসায় একাডেমিক ভবন নির্মাণের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশনায় গত ১০ বছরে ২০০৯ থেকে ২০১৮ শিক্ষাখাতে ব্যাপক পরিবর্তন আনা হয়েছে। এই সময়ের মধ্যে ১১ হাজার ৩০৬টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ভবন নির্মাণ সম্পন্ন হয়েছে। আর ১২ হাজার ৬৭৩টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ভবন নির্মাণ কাজ ২০২১ সালের মধ্যে শেষ করা হবে। আর ব্যাপক সংস্কার করা হয়েছে পুরনো জরাজীর্ণ ভবনগুলোর। শিক্ষা প্রকৌশল অধিদফতরের (ইইডি) মাধ্যমে গত ১০ বছরে সারা দেশে মোট ২৩ হাজার ৯৭৯টি নতুন ভবন নির্মাণ করা হয়েছে। বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের জরাজীর্ণ আরও সাত হাজার ৬৪১টি ভবন সংস্কার করা হয়েছে। শিক্ষা প্রকৌশল অধিদফতরের প্রধান প্রকৌশলী দেওয়ান মোহাম্মদ হানজালা বলেন, প্রধানমন্ত্রীর দিক নির্দেশনা এবং শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের গাইড লাইন অনুযায়ী শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে আধুনিক সুযোগ-সুবিধার বিবেচনা করে ভবন নির্মাণ করা হয়েছে। আর ই-টেন্ডারিংয়ের মাধ্যমে অবকাঠামো নির্মাণের কার্যাদেশ দেওয়ায় নির্মাণ কাজের গুণগত মান ও স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা হয়েছে। দেওয়ান মোহাম্মদ হানজালা জানান, সরকারি হাইস্কুল ও কলেজগুলোতে শিক্ষার্থীর সংখ্যা বিবেচনায় নিয়ে ৬ থেকে ১০তলা পর্যন্ত ভবন নির্মাণ করা হচ্ছে। বাড়তি সুবিধা দিতে লিফটও স্থাপন করা হচ্ছে ভবনগুলোতে। এই পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে প্রতি বছর দেড় হাজার থেকে দুই হাজার শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে নতুন ভবন নির্মাণ করা সম্ভব হবে। ২০২১ সালের পর স্কুল, কলেজ ও মাদ্রাসায় অবকাঠামো নির্মাণের আর কোনও কাজ বাকি থাকবে না।
আরো ২ কোটি মানুষের হাতে বই তুলে দিতে চায় বিশ্ব সাহিত্য কেন্দ্র
৭ ফেব্রুয়ারী ,অনলাইন ডেক্স,নিউজ একাত্তর ডট কম : আলোকিত মানুষের খোঁজে পেরিয়ে আসা চার দশক। জ্ঞানের প্রদীপ জ্বালাতে ৯০ লাখ পাঠকের হাতে তুলে দেয়া হয়েছে বই। আগামী এক দশকে বই তুলে দেয়া হবে আরো দুই কোটি পাঠকের হাতে। সেই স্বপ্নের কথা জানালেন বিশ্ব সাহিত্য কেন্দ্রের প্রতিষ্ঠাতা আবদুল্লাহ আবু সায়ীদ। যাত্রা শুরু ১৯৭৮ সালের ১৭ ডিসেম্বর। আজকের এই বহুতল ভবনের আড়ালে রয়ে গেছে লাল রঙের দোতালা দালান। উদার ছাদ। আম্রমুকুল আর মহুয়ার সৌরভ এবং এক চিলতে সবুজ। বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রের কাজও বেড়েছে। পাঠচক্র, স্কুল-কলেজ কর্মসূচি, আলোর ইশকুল এবং পাঠকের দরজায় বই পৌঁছে দিতে ভ্রাম্যমাণ পাঠাগার। বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রের প্রতিষ্ঠাকালীন সদস্য আমীরুল ইসলাম বলেন, স্কুল কলেজ এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা আছেই। এর সংগে যে ঘাটতি থাকে ভালোবাসা মানুষের প্রতি মমতা প্রকৃতির প্রতি প্রেম এই প্রত্যেকটি জিনিস সুন্দরভাবে অন্তর্জগতে তৈরি হয়। ঠিক এই কারণেই বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রের প্রাতিষ্ঠানিক প্রয়োজনীয়তা ফুরাবে না।' পাঠ্যক্রমের বইয়ে হাঁপিয়ে উঠা শিক্ষার্থীদের আনন্দ পাঠ উপহার যেমন দিয়েছে বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্র, তেমনি সমাজের আঁধার কাটাতে সকল বয়সী মানুষকে বইয়ের আলোয় আলোকিত করতে সময়ের সঙ্গে খাপ খাইয়ে নতুন উপায় খুঁজে বেড়াচ্ছে কেন্দ্র। অধ্যাপক আবদুল্লাহ আবু সায়ীদ বিশ্বাস করেন, প্রযুক্তির আলো বইয়ের আলোকে ম্লান করতে পারবে না। তিনি বলেন, পুঁজিবাদ টাকা চায়, তার ফলে মানুষ সুন্দর বড় উন্নত জীবন থেকে সরে সে একটা পণ্যে পরিণত হয়েছে। এই বইকে যদি পৃথিবী ছেড়ে যায় তাহলে সেদিন মানুষ এবং জন্তুর কোন পার্থক্য থাকবে না।' জন্মদিন পেরিয়ে এসে ৮ ফেব্রুয়ারি বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রকে ঘিরে উৎসবে মেতে উঠার জন্য তৈরি আলোর পথের যাত্রীরা। মানুষের স্বপ্ন এবং চিন্তার প্রতিফলন ঘটাতে হলে বই পাঠের কোন বিকল্প নেই। ৪০ বছর ধরে বই চর্চা করে যাচ্ছে বিশ্ব সাহিত্য কেন্দ্র। বর্তমানে প্রযুক্তির ব্যবহার বেড়ে গেলেও মানুষের মাঝে বই চর্চাকে চ্যালেঞ্জ হিসেবে নিতে চায় এই সংস্থাটি।
এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষা শুরু
২ ফেব্রুয়ারী শনিবার,অনলাইন ডেক্স,নিউজ একাত্তর ডট কম: মাধ্যমিক স্কুল সার্টিফিকেট (এসএসসি) ও সমমানের পরীক্ষা শুরু হয়েছে। পরীক্ষা চলবে ২৬ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত। এবারের পরীক্ষায় মোট ২১ লাখ ৩৫ হাজার ৩৩৩ জন শিক্ষার্থী অংশগ্রহণ করবে। এর মধ্যে ছাত্র ১০ লাখ ৭০ হাজার ৪৪১ এবং ছাত্রী ১০ লাখ ৬৪ হাজার ৮৯২ জন। এছাড়াও সাধারণ শিক্ষা বোর্ডে ২৭ ফেব্রুয়ারি থেকে ৫ মার্চ, মাদরাসা শিক্ষা বোর্ডে ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে ৬ মার্চ এবং কারিগরি শিক্ষা বোর্ডে ২৪ থেকে ২৮ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত ব্যবহারিক পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে। ২০১৮ সালের তুলনায় এ বছর ১ লাখ ৩ হাজার ৪৩৪ জন শিক্ষার্থী বেশি পরীক্ষা দেবে। এর মধ্যে ছাত্র সংখ্যা বেড়েছে ৪৭ হাজার ২২৯ এবং ছাত্রী সংখ্যা বেড়েছে ৫৬ হাজার ২০৫ জন। এবার আটটি সাধারণ বোর্ডে এসএসসি পরীক্ষার্থীর সংখ্যা ১৭ লাখ ১০২ জন। মাদরাসা শিক্ষা বোর্ডে ৩ লাখ ১০ হাজার ১৭২ জন এবং কারিগরি ভোকেশনাল ১ লাখ ২৫ হাজার ৫৯ জন রয়েছে। মোট কেন্দ্রের সংখ্যা ৩ হাজার ৪৯৭ এবং প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা ২৮ হাজার ৬৮২টি। এছাড়াও বিদেশি আটটি পরীক্ষা কেন্দ্রে ৪৩৪ জন্য পরীক্ষার্থী রয়েছে। পরীক্ষার দিন সকালে শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি রাজধানীর আশকোনার বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিব সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয় পরিদর্শন করবেন। শিক্ষা মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, এসএসসি ও এসএসসি ভোকেশনাল পরীক্ষার প্রথম দিন বাংলা (আবশ্যিক) প্রথম পত্র অনুষ্ঠিত হবে। মাদরাসা শিক্ষা বোর্ডের আওতায় প্রথম দিন কোরআন মাজিদ ও তাজবিদ অনুষ্ঠিত হবে। সকাল ১০টা থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত টানা তিন ঘণ্টা পরীক্ষা গ্রহণ চলবে। এসএসসি পরীক্ষায় বাংলা দ্বিতীয় পত্র এবং ইংরেজি প্রথম ও দ্বিতীয় পত্র ছাড়া সব বিষয়ে সৃজনশীল প্রশ্নে এবার পরীক্ষা নেওয়া হচ্ছে।