প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়
মুনাফার জন্য শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালনা এবং যেসব বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় এখনো নিজস্ব ক্যাম্পাসে যায়নি তাদের বিরুদ্ধে আইনি হুঁশিয়ারি দিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ। রোববার সকালে রাজধানীর বসুন্ধরা এলাকার ইন্ডিপেনডেন্ট ইউনিভার্সিটির উনিশতম সমাবর্তনে যোগ দেন শিক্ষামন্ত্রী। এ সময় তিনি আরো বলেন, দেশের তরুণ জনগোষ্ঠীকে দক্ষ জলসম্পদে পরিণত করতে কাজ করছে সরকার। শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ বলেন, 'যে সকল বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় নির্ধারিত পরিচালনা পরিবেশ ও শর্ত পালন করতে পারে নি, মুনাফার লক্ষ্যে চলতে চান, নিজস্ব ক্যাম্পাসে যাননি সেসব প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে চাপ প্রয়োগ করেও কোনো লাভ হয়নি। সুতরাং এখন তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা ছাড়া তারা আর কোনো পথ খোলা রাখেননি।'
আগামী ২ এপ্রিল এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষা শুরু
উচ্চ মাধ্যমিক সার্টিফিকেট (এইচএসসি) ও সমমানের পরীক্ষা আগামী ২ এপ্রিল শুরু হবে। চলবে ১৩ মে পর্যন্ত আগামী ১ এপ্রিল ইস্টার সানডে উপলক্ষে সরকারি ছুটি থাকায় একদিন পিছিয়ে পরীক্ষা নেওয়ার প্রস্তাব পাঠিয়েছে আন্তঃশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় সাব-কমিটি। সোমবার সন্ধ্যায় উপ-পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক অদ্বৈত কুমার রায় এ তথ্য জানান। উপ-পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক জানান, গত বছরের মতোই এ বছরের রুটিন প্রস্তত করে সোমবার (১৫ জানুয়ারি) শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে জমা দেওয়া হয়। মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগ থেকে জানা গেছে, প্রস্তাবিত রুটিন অনুযায়ী আগামী ২ এপ্রিল বাংলা প্রথম পত্র (তত্ত্বীয়) পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে। তত্ত্বীয় পরীক্ষা পরীক্ষা চলবে ১৩ মে পর্যন্ত। এরপর পরবর্তী পাঁচদিন চলবে ব্যবহারিক পরীক্ষা। মন্ত্রণালয়ের অনুমোদনের পর আন্তঃশিক্ষা বোর্ড থেকে রুটিন প্রকাশ করা হবে। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, এ বছর এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষায় প্রায় ১২ লাখ পরীক্ষার্থী অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে।
আসন্ন এসএসসি ও সমমান পরীক্ষা শুরুর তিন দিন আগে থেকে সব কোচিং সেন্টার বন্ধ
আসন্ন এসএসসি ও সমমান পরীক্ষা শুরুর তিন দিন আগে থেকে শুরু করে সব পরীক্ষা শেষ হওয়া পর্যন্ত দেশে সব ধরনের কোচিং সেন্টার বন্ধ থাকবে। এ সময়ের মধ্যে কোন কোচিং সেন্টার খোলা রাখা যাবে না। আসন্ন মাধ্যমিক স্কুল সার্টিফিকেট (এসএসসি) ও সমমান পরীক্ষা সুষ্ঠু, নকলমুক্ত ও ইতিবাচক পরিবেশে অনুষ্ঠানের লক্ষ্যে সোমবার সচিবালয়ে অনুষ্ঠিত জাতীয় মনিটরিং কমিটির সভায় এ সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। সভায় পরীক্ষা শুরুর আগে থেকে পরীক্ষার সময় দেশে ইন্টারনেট ও ফেসবুক বন্ধ রাখার বিষয়েও আলোচনা হয়েছে। তবে এখনও ইন্টারনেট ও ফেসবুক বন্ধ রাখার বিষয়ে চূড়ান্ত কোন সিদ্ধান্ত নেয়া হয়নি জানিয়ে কর্মকর্তারা বলেছেন, সভায় এ বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। আরও আলোচনা চলবে। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে অনুষ্ঠিত এ সভায় সভাপতিত্ব করেন শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ। সভায় আরও ছিলেন মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের সচিব মোঃ সোহরাব হোসাইন, কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষা বিভাগের সচিব মোঃ আলমগীর, মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদফতরের মহাপরিচালক প্রফেসর মোঃ মাহাবুবুর রহমান, মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের অতিরিক্ত সচিব চৌধুরী মুফাদ আহমদ, ড. অরুনা বিশ্বাস ও জাবেদ আহমেদ, কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষা বিভাগের অতিরিক্ত সচিব অশোক কুমার বিশ্বাস, বিজি প্রেসের প্রতিনিধি ও বিভিন্ন শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান উপস্থিত ছিলেন। জানা গেছে, সভায় আসন্ন এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষা সুষ্ঠু, নির্বিঘœ ও নকলমুক্ত পরিবেশে অনুষ্ঠানের জন্য আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ, প্রশ্নপত্র ফাঁসের গুজব ছড়ানো রোধ, ফেসবুকে প্রশ্ন সরবরাহকারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়াসহ বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা হয় এবং বেশ কিছু সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। সভায় সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে, আসন্ন এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষায় পরীক্ষার্থীদের পরীক্ষা শুরুর আধা ঘণ্টা আগে অবশ্যই পরীক্ষার হলে প্রবেশ করে স্ব স্ব আসনে বসতে হবে। এক্ষেত্রে কোন ধরনের অজুহাত গ্রহণযোগ্য হবে না এবং এর অন্যথা পরীক্ষার্থীকে পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করতে দেয়া হবে না। কোন পরীক্ষার্থীর হাতে কোন মোবাইল ফোন পাওয়া গেলে তাকে তৎক্ষণাৎ বহিস্কার করা হবে। নকলমুক্ত পরিবেশে পরীক্ষা অনুষ্ঠানের জন্য এ সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। সভায় আরও সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে, এসএসসি ও সমমান পরীক্ষা শুরুর ৩ দিন আগে থেকে শুরু করে সব পরীক্ষা শেষ হওয়া পর্যন্ত দেশে সব ধরনের কোচিং সেন্টার বন্ধ থাকবে। এ সময়ের মধ্যে কোন কোচিং সেন্টার খোলা রাখা যাবে না। পরীক্ষা কেন্দ্রে কেউ স্মার্টফোন ব্যবহার করতে পারবে না। শুধু কেন্দ্র সচিব একটি সাধারণ ফোন ব্যবহার করতে পারবেন।
২০১৮শিক্ষাবর্ষের বিনামূল্যে পাঠ্যপুস্তক বিতরণ কর্মসূচীর উদ্বোধন করেছেন প্রধানমন্ত্রী
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ২০১৮ শিক্ষাবর্ষের বিনামূল্যে পাঠ্যপুস্তক বিতরণ কর্মসূচীর আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধন করেছেন। ১ জানুয়ারি দেশব্যাপী জাতীয় পাঠ্যপুস্তক উৎসবঅনুষ্ঠিত হবে। শেখ হাসিনা শনিবার সকালে গণভবনে এক অনুষ্ঠানে প্রাথমিক ও মাধ্যমিক পর্যায়ের ছাত্র-ছাত্রীদের কাছে বই হস্তান্তরের মাধ্যমে আনুষ্ঠানিকভাবে বিনামূল্যে পাঠ্যপুস্তক বিতরণ কর্মসূচী উদ্বোধন করেন। অনুষ্ঠানে শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষামন্ত্রী মোস্তাফিজুর রহমান বক্তব্য রাখেন। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন শিক্ষা সচিব সোহরাব হোসেন। এর আগে শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ প্রধানমন্ত্রীর কাছে মাধ্যমিক পর্যায়ের এক সেট এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষামন্ত্রী মোস্তাফিজুর রহমান প্রাথমিক পর্যায়ের এক সেট পাঠ্যপুস্তক হস্তান্তর করেন। এ সময় অন্যদের মধ্যে বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ, প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির চেয়ারম্যান মোতাহার হোসেন, প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব ড. কামাল আবদুল নাসের চৌধুরী এবং প্রেস সচিব ইহসানুল করিম উপস্থিত ছিলেন। শিক্ষামন্ত্রী বলেন, দেশব্যাপী প্রি-প্রাইমারী, প্রাইমারী, সেকেন্ডারি, ইবতেদায়ি, দাখিল-ভোকেশনাল, এসএসসি-ভোকেশনাল, স্মল এনথ্রোপলোজিক্যাল গ্রুপ এবং ভিজুয়ালিটি-চ্যালেঞ্জের চার কোটি ৩৭ লাখ ছাত্র-ছাত্রীর মধ্যে ৩৫ কোটি ৪২ লাখ ৯০ হাজার ১৬২ পাঠ্যপুস্তক বিতরণ করা হবে। বর্তমান সরকার ২০১০ শিক্ষাবর্ষ থেকে বিনামূল্যে পাঠ্যপুস্তক বিতরণ শুরু করেছে। গণভবন প্রাঙ্গণে শিশুদের খেলার অনুমতি দিলেন প্রধানমন্ত্রীর ।। প্রধানমন্ত্রীর কাছ থেকে পাঠ্যবই নেয়ার পর স্কুলশিশুরা গণভবন প্রাঙ্গণে খেলাধুলা করেছে। এ সময় প্রধানমন্ত্রী তাদের সঙ্গে কিছু সময় কাটান। প্রধানমন্ত্রীর উপ-প্রেস সচিব আশরাফুল আলম খোকন জানান, পাঠ্যপুস্তক গ্রহণ করার পর ২০ স্কুলশিশু প্রধানমন্ত্রীর কাছে গণভবন প্রাঙ্গণে খেলা করার অনুমতি চায়। প্রধানমন্ত্রী শিশুদের খেলার অনুমতি দিলে তারা খুশিতে গণভবনের দক্ষিণ প্রাঙ্গণে খেলাধুলা শুরু করে। তারা সেখানে থাকা দোলনা, মই ও স্লিপারসহ বিভিন্ন রাইডারে আরোহণ করে।
শনিবার বিনামূল্যে পাঠ্যপুস্তক বিতরণ কার্যক্রমের উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী
বিনামূল্যে পাঠ্যপুস্তক বিতরণ কার্যক্রমের উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রী শিশুদের হাতে বই তুলে দিয়ে ২০১৮ শিক্ষাবর্ষের জন্য বিনামূল্যে পাঠ্যপুস্তক বিতরণ কার্যক্রমের উদ্বোধন করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। আজ শনিবার সকালে গণভবনে এ কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী। কার্যক্রম উদ্বোধনের সময় প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে ছিলেন শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ, বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ, প্রাথমিক ও গণশিক্ষামন্ত্রী মোস্তাফিজুর রহমান প্রমুখ। জানা গেছে, এবার ৩৫,৪২,৯০,১৬২টি বই বিনামূল্যে বিতরণ করা হবে। ১ জানুয়ারি (সোমবার) 'বই উৎসব'-এর মাধ্যমে স্কুলগুলোতে কোমলমতি শিশুদের হাতে এ বই তুলে দেওয়া হবে।
আজ প্রাথমিক ও জুনিয়র শিক্ষা সমাপনীর ফল
আজ প্রাথমিক ও জুনিয়র শিক্ষা সমাপনীর ফল আজ দেওয়া হবে জেএসসি ও জেডিসির ফলাফল। মোবাইলে যেভাবে জানা যাবে জেএসসি/জেডিসির ফল : যেকোনো মোবাইল অপারেটর থেকে ফল জানতে মেসেজ অপশনে গিয়ে JSC/JDC লিখে স্পেস দিয়ে শিক্ষা বোর্ডের নামের প্রথম তিন অক্ষর (যেমন, Dhaka বোর্ডের জন্য DHA) লিখে স্পেস দিয়ে রোল নম্বর লিখে স্পেস দিয়ে 2017 লিখে 16222 নম্বরে এসএমএস পাঠাতে হবে বিভিন্ন বোর্ডের নামের তিন অক্ষর যেমন: DHA = Dhaka Board, COM = Comilla Board, RAJ = Rajshahi Board, JES = Jessore Board, CHI= Chittagong Board, BAR = Barisal Board, SYL = Sylhet Board, DIN = Dinajpur Board, MAD = Madrassah Board , TEC= Technical Board এরপর একটি স্পেস দিয়ে রোল লিখতে হবে আবার একটি স্পেস দিয়ে পরীক্ষার সাল 2017 লিখতে হবে। জেএসসির জন্য Example : JSC স্পেসDHA স্পেস123456 স্পেস2017, এই মেসেজটি পাঠাতে হবে 16222 নম্বরে। জেডিসির জন্য Example :JDCস্পেসMADস্পেস123456স্পেস2017, এই মেসেজটি পাঠাতে হবে 16222 নম্বরে এ ছাড়া অনলাইনে www.educationboardresults.gov.bd/www.moedu.gov.bd ওয়েবসাইটে ও নিজ নিজ বোর্ডের ওয়েবসাইট থেকেও ফলাফল জানা যাবে। মোবাইলে যেভাবে জানা যাবে প্রাথমিক/ইবতেদায়ি শিক্ষা সমাপনীর ফল : DPE লিখে স্পেস দিয়ে থানা/উপজেলার কোড নম্বর লিখে স্পেস দিয়ে রোল নম্বর লিখে স্পেস দিয়ে 2017 লিখে 16222 নম্বরে এসএমএস পাঠিয়ে জানা যাবে প্রাথমিক শিক্ষা সমাপনীর ফল। প্রাথমিক শিক্ষা সমাপনীর জন্য Example : DPE স্পেসThana Code স্পেস Roll Number স্পেস> 2017, এই মেসেজটি পাঠাতে হবে 16222 নম্বরে। আর ইবতেদায়ির ফল পেতে EBT লিখে স্পেস দিয়ে থানা/উপজেলার কোড নম্বর লিখে স্পেস দিয়ে রোল নম্বর লিখে স্পেস দিয়ে 2017 লিখে 16222 নম্বরে এসএমএস পাঠিয়ে জানা যাবে প্রাথমিক শিক্ষা সমাপনীর ফল। ইবতেদায়ি শিক্ষা সমাপনীর জন্য Example : EBT স্পেসThana Code স্পেস>Roll Number স্পেস 2017,এই মেসেজটি পাঠাতে হবে 16222 নম্বরে। এবং অনলাইনে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের ওয়েবসাইট www.dpe.gov.bd ওয়েবসাইটেও ফলাফল পাওয়া যাবে।
ডিএনসিসি ভোটের তারিখ নির্ধারণের জন্য ২৪ ও ২৫ ফেব্রুয়ারির এসএসসি পরীক্ষা পেছাচ্ছে
ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) মেয়র পদে উপ-নির্বাচন এবং দুই সিটির ৩৬ ওয়ার্ডে ভোটের জন্য আগামী ২৪ ও ২৫ ফেব্রুয়ারির এসএসসি পরীক্ষা পিছিয়ে দেওয়া হচ্ছে। মঙ্গলবার রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্বাচন ভবনে শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও বোর্ড কর্মকর্তাদের সঙ্গে এক বৈঠকে এ সিদ্ধান্ত হয় বলে ইসির ভারপ্রাপ্ত সচিব হেলালুদ্দীন আহমদ সাংবাদিকদের জানান। তিনি বলেন, ভোটের তারিখ নির্ধারণের জন্য ২৪ ও ২৫ ফেব্রুয়ারি এসএসসিতে নির্ধারিত পরীক্ষা পেছাতে অনুরোধ করা হয়েছিল। ঢাকার মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ড, মাদরাসা শিক্ষা বোর্ড ও কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যানরা তাতে সম্মতি দিয়েছেন। তিনি বলেন, বোর্ডের চেয়ারম্যানরা বলেছেন, পরীক্ষা পেছতে কোনো সমস্যা নেই। তফসিল ঘোষণার পর মার্চে পরীক্ষার নতুন তারিখ দেওয়া হবে। আনিসুল হকের মৃত্যুতে শূন্য হওয়া ঢাকা উত্তরের মেয়র পদে ফেব্রুয়ারির শেষ সপ্তাহে ভোট করতে জানুয়ারির দ্বিতীয় সপ্তাহে তফসিল ঘোষণার কথা রয়েছে নির্বাচন কমিশনের। সম্প্রসারিত সীমানায় ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের নবগঠিত ৩৬টি সাধারণ ও ১২টি সংরক্ষিত ওয়ার্ডে কাউন্সিলর পদেও একই দিনে ভোট করতে চায় ইসি। কিন্তু ১ ফেব্রুয়ারি থেকে এবারের এসএসসি পরীক্ষার যে সূচি ঘোষণা করা হয়েছে, তাতে ২৪ ও ২৫ তারিখও পরীক্ষা থাকায় শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও বোর্ড কর্মকর্তাদের নিয়ে এই বৈঠক ডাকে কমিশন। হেলালুদ্দীন আহমদ বলেন, সব ধরনের জটিলতা পেরিয়ে তফসিল ঘোষণার প্রস্তুতি নিচ্ছে নির্বাচন কমিশন। ২৪ ফেব্রুয়ারির পর যে কোনো দিন ভোটের তারিখ ঠিক করে এই তফসিল হবে। নিয়ম অনুযায়ী ২৭ ফেব্রুয়ারির মধ্যে এ নির্বাচন শেষ করার বাধ্যবাধকতা রয়েছে ইসির। তার আগে ২৫ বা ২৬ ফেব্রুয়ারি ভোটের তারিখ চূড়ান্ত হতে পারে বলে আভাস দিয়েছেন ইসি কর্মকর্তারা।
এবার প্রাথমিক বিদ্যালয়ের বার্ষিক পরীক্ষার প্রশ্ন ফাঁসে তোলপাড় সর্বত্র
পাবলিক ও নিয়োগ পরীক্ষার প্রশ্ন ফাঁসের উদ্বেগের মধ্যেই শিক্ষার এ সঙ্কট এবার নতুন মোড় নিয়েছে। এতদিন পাবলিক ও নিয়োগ পরীক্ষার প্রশ্ন ফাঁস নিয়েই ছিল উদ্বেগ। এবার প্রাথমিক বিদ্যালয়ের বার্ষিক পরীক্ষার প্রশ্ন ফাঁসের অব্যাহত ঘটনায় তোলপাড় শুরু হয়েছে সর্বত্র। গত কয়েক দিনে বিভিন্ন জেলা ও উপজেলায় প্রথম, দ্বিতীয়, তৃতীয়, চতুর্থ ও শ্রেণীর বার্ষিক পরীক্ষার প্রশ্ন ফাঁসের ঘটনায় সহস্রাধিক স্কুলের পরীক্ষা স্থগিত করতে হয়েছে। এক সপ্তাহে প্রায় প্রতিদিনই কোন না কোন এলাকায় প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রশ্ন ফাঁস হয়েছে। পরীক্ষা বন্ধ করে তদন্ত কমিটির মাধ্যমে প্রশাসন পরিস্থিতি সামাল দেয়ার চেষ্টা করলেও শিশুদের অভ্যন্তরীণ এ পরীক্ষার প্রশ্ন ফাঁসের ভয়াবহ চেহারায় বাড়ছে উদ্বেগ।এদিকে শিশুদের অভ্যন্তরীণ এ পরীক্ষার প্রশ্ন ফাঁসের অব্যাহত ঘটনায় রীতিমতো বিচলিত প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়। প্রাথমিক শিক্ষা অধিদফতরও হতচকিত। বার্ষিক পরীক্ষার এ প্রশ্ন ফাঁসের ঘটনা নিয়ে এখন পর্যন্ত প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় বা সংশ্লিষ্ট অধিদফতর আনুষ্ঠানিক কোন বক্তব্য দেয়নি। মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে কেউ ই এ নিয়ে কথা বলতে রাজি হচ্ছেন না। তবে অতিরিক্ত সচিব (বিদ্যালয়) ড. এ এফ এম মনজুর কাদিরের সঙ্গে সেলফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি পরিস্থিতিতে উদ্বেগ প্রকাশ করে বলছিলেন, প্রশ্ন ফাঁস ক্যান্সারে রূপ নিয়েছে। এ থেকে মুক্তি পেতে হলে সরকারের সকল সংস্থা ছাড়াও জনসচেতনতা সৃষ্টির বিকল্প নেই। যে অবস্থা দেখা যাচ্ছে তাতে ভবিষ্যত কোন দিকে যাবে তা আল্লাহই জানেন বলেও হতাশা প্রকাশ করেন সরকারের এ কর্মকর্তা। এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, এর আগে তো এমন হয়নি। তবে আমরা মাঠপর্যায় থেকে তদন্ত করে তথ্য সংগ্রহ করছি। কারন কি? কারা জড়িত? সকল তথ্য পেলে সেভাবে ব্যবস্থা নিতে হবে। আসলে সরকারের কোন পক্ষেরই সঙ্কট সমাধানে চেষ্টার কমতি নেই। তারপরেও সমাধান হচ্ছে না। জনগণকে এর বিরুদ্ধে জাগিয়ে তুলতে হবে।জানা গেছে, গত ১২ ডিসেম্বর ঢাকার পাশে মুন্সীগঞ্জে প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগ ওঠায় জেলা সদরের ১১৩টি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের বার্ষিক পরীক্ষা স্থগিত করা হয়েছে। মুন্সীগঞ্জের জেলা প্রশাসক সায়লা ফারজানা জানান, পরীক্ষার আগের রাতে প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগ ওঠে ও আমার ই-মেইলে সেই প্রশ্ন পাঠায় কয়েকজন। যার পরিপ্রেক্ষিতে পরীক্ষা স্থগিত করার নির্দেশ দেই। এ নিয়ে জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা পঞ্চানন বালা বলেন, প্রশ্ন ফাঁসের অভিযোগ ওঠায় সদরের ১১৩টি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের দ্বিতীয়, তৃতীয় ও চতুর্থ শ্রেণীর বাংলা পরীক্ষা স্থগিত রাখা হয়। তবে প্রথম শ্রেণীর পরীক্ষা যথারীতি সম্পন্ন হয়েছে। স্থগিত ওই পরীক্ষা পরে নেয়া হবে। এ ঘটনা তদন্তে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) এডিএম শওকত আলম মজুমদারকে প্রধান করে তিন সদস্যের কমিটি করা হয়েছে।তার আগে গত ৯ ডিসেম্বর শনিবার বরগুনা সরকারী বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের বার্ষিক পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁস হয়। পরে ওই বিষয়ের পরীক্ষা বাতিল করে নির্ধারিত সময়ের (সকাল ১০টা) তিন ঘণ্টা পরে জেলা প্রশাসনের তত্ত্বাবধানে নতুন প্রশ্ন করে পরীক্ষা নেয়া হয়। এ ঘটনায় প্রশ্নপত্র ফাঁস করার অভিযোগে ওই বিদ্যালয়ের দুই শিক্ষককে কারণ দর্শানোর নোটিস দেয়া হয় এবং এ বিষয়ে পৃথক দুটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। এরপর গত ১১ ডিসেম্বর বরগুনাতেই ইংরেজী পরীক্ষার চতুর্থ শ্রেণীর বার্ষিক পরীক্ষার প্রশ্ন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রকাশ পায়। বিষয়টি জেলা প্রশাসন আমলে নিয়ে শিক্ষা অফিসের মাধ্যমে ১২ ডিসেম্বর বরগুনা সদর উপজেলার ২৪৮টি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে চতুর্থ শ্রেণীর শিক্ষার্থীদের ইংরেজী পরীক্ষা স্থগিত করা হয়। এ ঘটনায় জেলা প্রশাসন দুই সদস্য বিশিষ্ট কমিটি গঠন করে।কমিটির সদস্যরা হলেন- বরগুনার অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা) মোঃ মাহবুবুল আলম ও বরগুনা প্রাইমারী টিচার্স ইনস্টিটিউটের (পিটিআই) সুপার মোঃ জাহাঙ্গীর আলম। এ ঘটনায় প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগে আয়লা সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক গোলাম সরোয়ার ননীকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। পরে হাজির করা হলে আদালত তাকে জামিন দেন।তার দুদিন পর বরগুনার স্কুলগুলোয় চলমান বার্ষিক পরীক্ষায় দ্বিতীয় শ্রেণীর গণিত পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁস হয়েছে। এ ঘটনা জানাজানি হওয়ার পর বেতাগী উপজেলার ১৪০টি বিদ্যালয়ের পরীক্ষা স্থগিত করেছে উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস। জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মোঃ আবদুল মজিদ জানান, ১৬ ডিসেম্বর রাতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে প্রশ্নপত্র ফাঁসের বিষয়টি নজরে আসে। তাৎক্ষণিকভাবে উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস পরদিন অনুষ্ঠিতব্য দ্বিতীয় শ্রেণীর বার্ষিক পরীক্ষা স্থগিত করার ঘোষণা দেন। গণিত পরীক্ষার প্রশ্ন ফাঁস হওয়ায় পরীক্ষা স্থগিত করে আগামী ২১ ডিসেম্বর বৃহস্পতিবার নতুন প্রশ্নে এই পরীক্ষা নেয়া হবে।সর্বশেষ সোমবারই নাটোরে পরীক্ষা শুরুর আগেই শিক্ষার্থীদের হাতে পাওয়া গেছে প্রথম ও চতুর্থ শ্রেণীর গণিত পরীক্ষার হাতে লেখা প্রশ্নপত্র। আর এ ঘটনায় ১০২টি বিদ্যালয়ের পরীক্ষা বাতিল করেছে উপজেলা শিক্ষা কমিটি। সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা ঘটনার শুরুতেই পদক্ষেপ নিয়ে পরীক্ষা বন্ধ করেন। সদর উপজেলার আগদিঘা প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক সিপ্রা রানী দত্ত বলছিলেন, সোমবার সকাল থেকে সদর উপজেলার প্রতিটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সঙ্গে আগদিঘা সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়েও প্রথম এবং চতুর্থ শ্রেণীর গণিত বিষয়ে পরীক্ষা ছিল। পরীক্ষা শুরুর কিছু আগেই বিদ্যালয়ের বেশ কিছু শিক্ষার্থীর কাছে হাতে লেখা প্রশ্ন পাওয়া যায়। যা মূল প্রশ্নের সঙ্গে হুবহু মিলে যায়। পরে আমি বিষয়টি উপজেলা শিক্ষা কমিটির সভাপতি ও সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জেসমিন আক্তার বানু এবং প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা ও উপজেলা শিক্ষা কমিটির সদস্য সচিব আলী আশরাফকে জানাই। তারা ঘটনাস্থলে পৌঁছে তদন্ত শেষে ঘটনার সত্যতা পান। পরে সদর উপজেলার ১০২টি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রথম ও চতুর্থ শ্রেণীর গণিত পরীক্ষা বাতিল ঘোষণা করেন। সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জেসমিন আক্তার বানুর সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনিও এ ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেন।সদর উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা আলী আশরাফ দাবি করেন, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার নির্দেশনায় দ্রুত এ ঘটনায় একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হবে। তদন্ত রিপোর্ট পাওয়ার পর দোষীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। এছাড়া বাতিল করা পরীক্ষা আগামী ২১ তারিখের মধ্যেই নিতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।কিন্তু এসব প্রশ্ন ফাঁস কি ভাবে হচ্ছে, কোথা থেকে হচ্ছে? প্রশ্নপত্র ছাপা ও বিতরণের সঙ্গে জড়িত কর্মকর্তারা বলছেন, আসলে প্রশ্নপত্র প্রণয়ন, ছাপানো এবং বিতরণ -এই তিনটি পর্বের মধ্যে প্রায় ৪০টি ধাপ আছে। প্রতিটা ধাপেই ফাঁস হবার ঝুঁকি আছে। কোচিং বাণিজ্য হচ্ছে প্রশ্নপত্র ফাঁসের কেন্দ্রবিন্দুতে। কোচিং বাণিজ্যের সঙ্গে শিক্ষক, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা এবং পাবলিক পরীক্ষার ক্ষেত্রে সরকারী-বেসরকারী স্টেকহোল্ডার বা অংশীজনরা এর সঙ্গে জড়িত। এদের একটা সিন্ডিকেট তৈরি হয়ে গেছে।তবে প্রাথমিকের বার্ষিক পরীক্ষার প্রশ্ন ফাঁসের ঘটনায় উদ্বেগ এখন অভিভাবকদের। তাদের প্রশ্ন কিভাবে প্রাথমিকের প্রশ্নপত্র ফাঁস হয়? কে এ কাজে জড়িত? প্রশাসন জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিচ্ছে না কেন? একের পর এক প্রশ্নপত্র ফাঁস হওয়ায় সন্তানদের লেখাপড়া নিয়ে চিন্তিত হয়ে পড়েছেন অভিভাবকরা। অনেকে মনে করেন, এভাবে সরকারী বিদ্যালয়ের প্রশ্নপত্র ফাঁস হলে শিক্ষর্থীদের কিন্ডারগার্টেনে পড়ানোর আগ্রহ বাড়বে। রাজধানীর ভিকারুন নিসা নূন স্কুল এ্যান্ড কলেজের দ্বিতীয় শ্রেণীর এক ছাত্রীর অভিভাবক নাসরিন বেগম বলছিলেন, এমন করে প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনায় আমরা হতাশ। প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রশ্ন ফাঁস করে শিক্ষকরা শিক্ষার্থীদের ধ্বংস করার পাঁয়তারা করছে একটি মহল। অসৎ ও লোভী শিক্ষকরা কোচিং বাণিজ্যে তাদের সফল্য দেখানোর জন্য এ জঘন্য কাজ করছেন। এ স্কুলেরই আরেক অভিভাবক সজল চৌধুরী বলছিলেন, প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রশ্ন ফাঁস হলে শিক্ষার্থীরা কী শিখবে? এমন করে প্রশ্ন ফাঁস হলে সাধারণ শিক্ষার্থীদের লেখাপড়ার প্রতি আগ্রহ কমে যাবে। এতে শিশুরা লেখাপড়ায় ফাঁকি দেয়ার চেষ্টা করবে। ফলে আমরা সন্তানের ভবিষ্যত নিয়ে চিন্তিত হয়ে পড়েছি।অভিভাবক সমন্বয় পরিষদের সাধারণ সম্পাদক নিপা সুলতানা বলছিলেন, প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনায় যারা জড়িত তাদের শনাক্ত করে শাস্তির আওতায় আনা উচিত। ভবিষ্যতে যাতে এ ধরনের জঘন্য কাজ করার সাহস কেউ না পায় সে ব্যবস্থা করা উচিত।নিজ জেলায় একের পর এক প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন বরগুনার সচেতন নাগরিক সমাজ। তারা এ প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন। সেই সঙ্গে জড়িতদের খুঁজে বের করে আইনের আওতায় আনার দাবিও জানান। বরগুনা পাবলিক পলিসি ফোরামের আহ্বায়ক মোঃ হাসানুর রহমান ঝন্টু বলেন, আমাদের মূল্যবোধের অবক্ষয় হয়েছে। আমরা আমাদের আগামীর ভবিষ্যত জাতিকে একটি মেধাশূন্য জাতিতে পরিণত করে ফেলছি। তাই আমাদের এই প্রশ্নপত্র ফাঁসের সঙ্গে জড়িতদের কঠোর শাস্তি দেয়া উচিত।বরগুনার বেতাগী উপজেলার প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক আঃ মন্নান বলেন, অপরাধ যে করেছে তার শাস্তি হোক এটা আমরা চাই। নৈতিকতা যারা বিকিয়ে দিতে পারে তারাই এমন কাজ করে। তবে তদন্তের মাধ্যমে দোষীকে চিহ্নিত করে শাস্তির আওতায় আনতে হবে।
পরীক্ষায় অতিরিক্ত ফি নেয়াকে অবৈধ ঘোষণা করেছেন হাইকোর্ট
এসএসসি, এইচএসসি এবং সমমানের পরীক্ষায় অতিরিক্ত ফি নেয়াকে অবৈধ ঘোষণা করেছেন হাইকোর্ট। একই সঙ্গে আগামী ৩০ দিনের মধ্যে বর্ধিত ফি ফেরত না দিলে প্রতিষ্ঠানগুলোর গভর্নিং বডির কার্যক্রম স্থগিত করা হবে বলে আদেশ দিয়েছেন। বুধবার বিচারপতি কাজী রেজা-উল হক ও বিচারপতি মোহাম্মদ উল্লাহর হাইকোর্ট বেঞ্চ এ আদেশ দেন। গত ২৮ নভেম্বর এসএসসি ও এইচএসসি পরীক্ষার্থীদের কাছ থেকে ফরম পূরণ বাবদ সরকারি ফির বাইরে অতিরিক্ত ফি আদায় কেন বেআইনি হবে না, তা জানতে চেয়ে রুল জারি করেন হাইকোর্ট। রুলে শিক্ষা সচিব, সিলেট শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান, হবিগঞ্জের জেলা প্রশাসক, শিক্ষা অফিসারসহ সংশ্লিষ্ট নয়জনকে চার সপ্তাহের মধ্যে জবাব দিতে বলা হয়েছে। একই সঙ্গে হবিগঞ্জের চুনারুঘাট থানার গাজীপুর স্কুল অ্যান্ড কলেজের অধ্যক্ষ, পরিচালক পর্ষদের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের বিরুদ্ধে অতিরিক্ত ফি আদায়ের জন্য কী ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে, তা ৪ জানুয়ারির মধ্যে সিলেট শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যানকে জানাতে বলা হয়েছিল। গত ২৩ নভেম্বর হবিগঞ্জের চুনারুঘাট থানার গাজীপুর স্কুল অ্যান্ড কলেজের এক শিক্ষার্থীর অভিভাবক মো. জালাল উদ্দিন খান এ রিটটি করেন। আদালতে রিটের পক্ষে শুনানি করেন অ্যাডভোকেট জহির উদ্দিন লিমন।