মঙ্গলবার, মার্চ ৯, ২০২১
নিজ বিদ্যালয়ের মূল্যায়নে শিক্ষার্থীরা অষ্টম থেকে নবম শ্রেণিতে উন্নীত হবে
০৩সেপ্টেম্বর,বৃহস্পতিবার,শিক্ষা ডেস্ক,নিউজ একাত্তর ডট কম: করোনাভাইরাস মহামারি পরিস্থিতিতে কেন্দ্রীয়ভাবে জেএসসি ও জেডিসি পরীক্ষা হবে না। তবে বিকল্প হিসেবে এবার অষ্টম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের নিজ নিজ বিদ্যালয়ে মূল্যায়ন করে তাদের নবম শ্রেণিতে উত্তীর্ণ করা হবে। এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়ার অনুরোধ জানিয়ে মঙ্গলবার মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগ থেকে চিঠি দেয়া হয় কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষা বিভাগের সচিব, মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক এবং সব শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যাদের। এর পরিপ্রেক্ষিতে বুধবার শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান প্রধানদের চিঠি দিয়ে ঢাকা বোর্ড বলেছে, করোনা সংক্রমণের সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনায় ২০২০ সালের জেএসসি-জেডিসি পরীক্ষা না নিয়ে স্ব স্ব শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের মূল্যায়নের ভিত্তিতে নবম শ্রেণিতে উন্নীত করা হবে। চিঠিতে এ বিষয়ে পরবর্তী করণীয় সম্পর্কে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোকে যথাসময়ে নির্দেশনা দেয়া হবে বলেও উল্লেখ করা হয়েছে। তবে কোন পন্থায় এই মূল্যায়ন করা হবে- তা এখনও স্পষ্ট করা হয়নি। প্রসঙ্গত, করোনার কারণে গত ১৭ই মার্চ থেকে দেশের সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ রেখেছে সরকার। সর্বশেষ কিছুদিন আগে এই ছুটির মেয়াদ ৩রা অক্টোবর পর্যন্ত বর্ধিত করা হয়।
বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীদের জন্য ১০০ টাকায় ১ মাসের ইন্টারনেট
০২সেপ্টেম্বর,বুধবার,শিক্ষা ডেস্ক,নিউজ একাত্তর ডট কম: দেশের পাবলিক ও প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের অনলাইনে শিক্ষা কার্যক্রম চলমান রাখার জন্য নামমাত্র মূল্যে ইন্টারনেট ব্যান্ডউইথ দিবে সরকারি মোবাইল অপারেটর টেলিটক বাংলাদেশ লিমিটেড। ইউজিসি কর্তৃক পরিচালিত বিডিরেন প্লাটফর্ম ব্যবহারকারী দেশের সকল বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা এই সুবিধা পাবে। বর্তমানে ৪২টি পাবলিক ও ৬৮টি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় বিডিরেন প্লাটফর্ম ব্যবহার করছে। ছাত্রছাত্রীরা জুম অ্যাপলিকশন এর মাধ্যমে অনলাইনে ক্লাসে অংশগ্রহণ করতে পারবে। এজন্য শির্ক্ষার্থীদেরকে টেলিটকের নেটওয়ার্কের আওতায় থাকতে হবে। প্রতিমাসে ১০০ টাকা রিচার্জেল বিনিময়ে এই সুবিধা পাওয়া যাবে। রিচার্জকৃত টাকা তার মূল একাউন্টে জমা হবে। এই টাকা ভয়েস কল ও ডাটার জন্য ব্যয় করা যাবে। অব্যবহ্রত টাকা পরবর্তী রিচার্জে যোগ হবে। তবে ১০০ টাকার নিচে রিচার্জ করলে এবং সিমে ন্যূনতন ডাটা না থাকলে এই সুবিধা ভোগ করা যাবে না। শিক্ষার্থীরা যেন বিনামূল্যে অনলাইন এডুকেশন রিসোর্স ব্যবহার করতে পারে সেলক্ষ্যে বিডিরেন ২১শে জুলাই টেলিটক বাংলাদেশ লিমিটেডসহ সব মোবাইল অপারেটরকে পত্র প্রেরণ করে। বিডিরেনের এ আহ্বানে সাড়া দিয়ে টেলিটক গত ২৮শে আগস্ট একটি সম্মতি পত্র দিয়েছে। পত্রে টেলিটক জানায় জাতীয় এ সংকটে বিডিরেনের এ উদ্যোগে যুক্ত হতে পেরে নিজেকে ভাগ্যবান মনে করছে। টেলিটক মনে করে, এই উদ্যোগের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের বিশাল একটি অংশ অনলাইন ক্লাসের সময় তাদের নেটওয়ার্কের আওতায় আসবে। এ প্রসঙ্গে বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশনের (ইউজিসি) চেয়ারম্যান প্রফেসর ড. কাজী শহীদুল্লাহ বলেন, করোনা মহামারীর সময়ে বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ে শিক্ষার্থীদের অনলাইনে শিক্ষা কার্যক্রম চলমান রাখার এ উদ্যোগ অত্যন্ত সময়োপযোগী। নামমাত্র মূল্যে ইন্টারনেট ব্যান্ডউইথ প্রদানের উদ্যোগে সাড়া দিয়ে এগিয়ে আসার জন্য তিনি শিক্ষা মন্ত্রনালয়, ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগ এবং টেলিটক বাংলাদেশ লিমিটেডকে আন্তরিক ধন্যবাদ জানান। দেশের উচ্চশিক্ষা কার্যক্রমকে সচল রাখার জন্য শিক্ষার্থীদেরকে বিনামূল্যে ইন্টারনেট ব্যান্ডউইথ দেয়ার উদ্যোগে কার্যকর ব্যবস্থা নেয়ার জন্য শিক্ষামন্ত্রী ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রীর প্রতি ইউজিসি চেয়াম্যান কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।
নানা আয়োজনে রুয়েটের ১৭তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপন
০১সেপ্টেম্বর,মঙ্গলবার,এম.রবি,রাজশাহী,নিউজ একাত্তর ডট কম: নানা আয়োজনে উদযাপিত হয়েছে রাজশাহী প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (রুয়েট) ১৭তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী। মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) সকাল ১১টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ভবনের সামনে জাতীয় ও বিশ্ববিদ্যালয়ের পতাকা উত্তোলন এবং বেলুন-ফেস্টুন উড়িয়ে অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করেন উপাচার্য অধ্যাপক ড. রফিকুল ইসলাম সেখ। এসময় মুক্তিযুদ্ধে বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ ছাত্রদের সমাধিতে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানানো হয় এবং তাদের আত্মার মাগফিরাত কামনা করা হয়। দুপুরে ক্যাম্পাসে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির আয়োজন করা হয়। পরে ভার্চ্যুয়াল প্লাটফর্মে শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে 'পোস্টার প্রেজেন্টেশন অ্যান্ড ইনোভেশন আইডিয়া কন্টেস্ট' শীর্ষক প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়। এছাড়া বাদ যোহর রুয়েট কেন্দ্রীয় জামে মসজিদে রুয়েটের অগ্রযাত্রা ও দেশ জাতির কল্যাণ কামনা করে বিশেষ দোয়া অনুষ্ঠিত হয়। কর্মসূচিতে অনেকের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন- বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার অধ্যাপক ড. সেলিম হোসেন, ছাত্রকল্যাণ দফতরের পরিচালক অধ্যাপক ড. রবিউল আওয়াল, ইসিই অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. জহুরুল ইসলাম সরকার, শিক্ষক সমিতির সভাপতি অধ্যাপক ড. ফারুক হোসেন ও সাধারণ সম্পাদক ড. মিয়া জগলুল সাদত, আর্কিটেকচার বিভাগের বিভাগীয় প্রধান অধ্যাপক ড. এস এম জহুরুল ইসলাম, রুয়েট কেন্দ্রীয় কম্পিউটার সেন্টারের ইনচার্জ ড. আলী হোসেন ও অফিসার্স অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক প্রকৌশলী মুফতি মাহমুদ রনি।
এইচএসসি পরীক্ষা নিয়ে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের বিবৃতি
২৮আগস্ট,শুক্রবার,নিজস্ব প্রতিবেদক,নিউজ একাত্তর ডট কম: উচ্চমাধ্যমিক সার্টিফিকেট (এইচএসসি) পরীক্ষা বাতিল করার মতো কোনো সিদ্ধান্ত নেয়া হয়নি। পরিস্থিতি অনুকূলে আসলে পরীক্ষার আয়োজন করা হবে বলে জানিয়েছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। শুক্রবার (২৮ আগস্ট) শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের তথ্য ও জনসংযোগ কর্মকর্তা এম এ খায়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, যেহেতু করোনাভাইরাস একেবারে নির্মুল হচ্ছে না, তাই কিভাবে স্বাস্থ্যবিধি নিশ্চিত করে পাবলিক পরীক্ষার আয়োজন করা যায়, সে বিষয়ে প্রস্তুতি নিতে সংশ্লিষ্ট সবাইকে নির্দেশনা দিয়েছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) শিক্ষামন্ত্রী দীপু মনির সভাপতিত্বে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা এবং মন্ত্রণালয়ের অধীনে বিভিন্ন দফতর, সংস্থার প্রধানদের অংশগ্রহণে করোনাকালীন ও করোনা-পরবর্তী শিক্ষাব্যবস্থা নিয়ে এক অনলাইন সভায় সভায় সংশ্লিষ্টদের এ নির্দেশনা দিয়েছেন। সেইসঙ্গে মাধ্যমিক পর্যায়ের বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পরবর্তী ক্লাসে উত্তীর্ণের বিষয়ে বিকল্প মূল্যায়ন পদ্ধতি কি হতে পারে সে বিষয়েও একটি প্রস্তাবনা তৈরির নির্দেশনা দিয়েছে মন্ত্রণালয়।
জেএসসি-জেডিসি পরীক্ষাও হচ্ছে না
২৭আগস্ট,বৃহস্পতিবার,শিক্ষা ডেস্ক,নিউজ একাত্তর ডট কম: করোনা ভাইরাস সংক্রমণের কারণে প্রাথমিক ও ইবতেদায়ি শিক্ষা সমাপনী পরীক্ষা বাতিলের পর ২০২০ সালের জুনিয়র স্কুল সার্টিফিকেট (জেএসসি) ও জুনিয়র দাখিল সর্টিফিকেট (জেডিসি) পরীক্ষাও বাতিল করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের জনসংযোগ কর্মকর্তা মোহাম্মদ আবুল খায়ের জানান, ২০২০ সালের জেএসসি ও জেডিসি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে না। তবে পরবর্তী ক্লাসে উত্তীর্ণ হওয়ার ক্ষেত্রে কী ধরনের পদ্ধতি অবলম্বন করা হবে সে বিষয়ে এখনো কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি। মন্ত্রণালয় বিষয়টি নিয়ে কাজ করছে, যোগ করেন আবুল খায়ের। জাতীয় শিক্ষানীতি-২০১০ অনুযায়ী, প্রাথমিক স্তরকে অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত নিতে বলা হয়েছে। পঞ্চম ও অষ্টমে দুই সমাপনী পরীক্ষা গ্রহণেরও কথা বলা হয়েছে শিক্ষানীতিতে। গত কয়েক বছর ধরে পঞ্চম ও অষ্টমে কেন্দ্রীয়ভাবে সমাপনী পরীক্ষা নিয়ে আসছে সরকার। করোনা সংক্রমণের কারণে এর আগে এ বছরের প্রাথমিক ও ইবতেদায়ি শিক্ষা সমাপনী পরীক্ষা গ্রহণ না করে স্কুলে স্কুলে বার্ষিক পরীক্ষা নিয়ে মূল্যায়নের সিদ্ধান্ত নেয় সরকার। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের একজন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, চলতি বছর জেএসসি-জেডিসি পরীক্ষা না নিতে গত ২০ আগস্ট প্রধানমন্ত্রীর কাছে প্রস্তাব পাঠানো হয়েছিল। এর আগে প্রাথমিক ও ইবতেদায়ি শিক্ষা সমাপনী পরীক্ষা না নিয়ে স্কুলে স্কুলে মূল্যায়নের জন্য প্রস্তাবে অনুমোদন চেয়ে গত ১৯ আগস্ট সার-সংক্ষেপ পাঠায় প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়। গত ২৫ আগস্ট তাতে সম্মতি এলে পঞ্চমের দুই সমাপনী এ বছরের জন্য বাতিল করে স্কুলে স্কুলে বার্ষিক পরীক্ষা নেওয়ার সিদ্ধান্ত জানায় সরকার। মহামারির কারণে গত ১৭ মার্চ থেকে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধের মধ্যে প্রাথমিক ও মাধ্যমিক স্তরে টিভিতে ক্লাস সম্প্রচার করা হচ্ছে। আর উচ্চ মাধ্যমিক এবং উচ্চ শিক্ষাস্তরে অনলাইনে ক্লাস পরিচালনা করছে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলো। এদিকে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ছুটিও বাড়ানো হয়েছে, পূর্ব ঘোষণা অনুযায়ী আগামী ৩১ আগস্ট থেকে ছুটি বাড়িয়ে ৩ অক্টোবর পর্যন্ত নেওয়া হয়েছে। তবে গত ২৪ আগস্ট কওমি মাদরাসা খুলে দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়। শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধের কারণে এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষা স্থগিত করা হয়েছে। গত ১ এপ্রিল থেকে এই পরীক্ষা শুরুর কথা ছিল। বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের এক সভায় এইচএসসি পরীক্ষা ও মাধ্যমিক পর্যায়ের বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পরবর্তী ক্লাসে উত্তীর্ণের বিষয়ে বিকল্প মূল্যায়ন পদ্ধতি কী হতে পারে তা জানাতে সংশ্লিষ্টদের নির্দেশ দিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী দীপু মনি। অন্যদিকে, এসএসসি পরীক্ষার ফল প্রকাশের পর করোনার কারণে একাদশ শ্রেণিতে দেরিতে হলেও গত ৯ আগস্ট থেকে অনলাইনে ভর্তি কার্যক্রমও শুরু করা হয়েছে। আর উচ্চ শিক্ষাস্তরে অনলাইনে সীমিত পরিসরে ক্লাস চালু করেছে কিছু কিছু বিশ্ববিদ্যালয়। সব মিলিয়ে শিক্ষা ব্যবস্থাতেও স্থবিরতা নেমে এসেছে। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সভায় বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ে অনলাইন কার্যক্রম আরও ফলপ্রসূ করার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়েছে।
শিক্ষানীতি সংশোধনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে: শিক্ষামন্ত্রী
২৬আগস্ট,বুধবার,শিক্ষা ডেস্ক,নিউজ একাত্তর ডট কম: শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি বলেছেন, প্রায় ১০ বছর আগে শিক্ষানীতি প্রণয়ন করা হয়েছে। ১০ বছর দীর্ঘ সময়। এই দীর্ঘ সময়ে অনেক পরিবর্তন সাধিত হয়েছে। এখন সময় এসেছে শিক্ষানীতিকে সংশোধন করা, পরিমার্জন ও সংযোজন করা। তাই সরকার শিক্ষানীতি-২০১০ সংশোধন করার উদ্যোগ নিয়েছে। বুধবার (২৬ আগস্ট) পরিকল্পনা কমিশনের আয়োজনে অষ্টম পঞ্চবার্ষিকী পরিকল্পনার অংশ হিসেবে এডুকেশন টেকনোলজি অ্যান্ড এগ্রিকালচার ট্রান্সফর্মেশন শীর্ষক এক অনলাইন আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন শিক্ষামন্ত্রী। ইতোমধ্যে আমরা দেশের বিপুল জনসংখ্যাকে শিক্ষার আওতায় নিয়ে আসতে পেরেছি উল্লেখ করে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, এখন প্রয়োজন শিক্ষার গুণগত মান অর্জন। শিক্ষার সকল পর্যায়ে মানসম্মত শিক্ষা নিশ্চিত করতে সরকার বদ্ধপরিকর। একটি সমন্বিত শিক্ষা আইন প্রণয়ন প্রায় চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে। শিক্ষামন্ত্রী বলেন, শিক্ষার গুণগত মানোন্নয়নে সরকার সাইন্স, টেকনোলজি, ইঞ্জিনিয়ারিং আর্টস অ্যান্ড ম্যাথস (স্টিম) এর দিকে গুরুত্ব দিচ্ছে। আমরা চাই আমাদের শিক্ষা ব্যবস্থার মাধ্যমে দক্ষ শ্রমশক্তি তৈরি করার পাশাপাশি প্রকৃত মানুষ তৈরি করতে। এজন্য সরকার সততা, নৈতিকতা, দেশপ্রেম, কমিউনিকেশন স্কিল, টিম বিল্ডিং, ক্রিটিক্যাল থিংকিং প্রবলেম সলভিং সহ বিভিন্ন সফট স্কিলের ওপর গুরুত্বারোপ করেছে। অনলাইন শিক্ষার গুরুত্ব তুলে ধরে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, চতুর্থ শিল্প বিপ্লবের এই যুগে আমাদের কর্মক্ষেত্র এত পরিবর্তন হবে যে বর্তমানে অর্জিত জ্ঞান হয়তো ভবিষ্যতে আর প্রয়োজন হবে না। সে ক্ষেত্রে কর্মজীবীদের পক্ষে আবার বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লাসরুমে ফিরে যাওয়া সম্ভব নয়। আমাদের শিক্ষাব্যবস্থাকে এমন পর্যায়ে নিয়ে যেতে হবে যাতে করে কোনো কর্মজীবী যে কোনো সময় যে কোনো পরিবর্তনের সাথে নিজেকে খাপ খাইয়ে নিতে রি-স্কিল এবং আপ-স্কিল করতে পারে। সে যেন অনলাইনের মাধ্যমে শিখতে পারে আমাদের শিক্ষা ব্যবস্থায় সে সুযোগ রাখতে হবে। আলোচনা সভায় মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন পরিকল্পনা কমিশনের সিনিয়র সচিব ও একুশে পদকপ্রাপ্ত ড. শামসুল আলম। ড. শামসুল আলমের সঞ্চালনায় আলোচনা সভায় যুক্ত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের চেয়ারম্যান প্রফেসর ড. কাজী শহীদুল্লাহ, বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় উপাচার্যসহ দেশবরেণ্য শিক্ষাবিদবৃন্দ। কাজী শহীদুল্লাহ বলেন, আমি দায়িত্ব নেয়ার পরে বিভিন্ন জায়গা থেকে অভিযোগ পেয়েছি যে তারা প্রয়োজনীয় দক্ষতা সম্পন্ন মানব সম্পদ পাচ্ছেন না। তার মানে হলো আমরা শিক্ষার্থীদের শ্রম বাজারের চাহিদা অনুযায়ী দক্ষ করে গড়ে তুলতে পারছি না। আমাদের এখন দক্ষ জনশক্তি গড়ে তোলার দিকে গুরুত্ব দিতে হবে।
পরিবেশ অনুকূলে এলে ১৫ দিনের মধ্যেই এইচএসসি পরীক্ষা
২০আগস্ট,বৃহস্পতিবার,শিক্ষা ডেস্ক,নিউজ একাত্তর ডট কম: পরিবেশ অনুকূলে এলেই সরকার শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খুলে দেওয়ার কথা চিন্তা করবে জানিয়ে শিক্ষামন্ত্রী দীপু মনি বলেছেন, সেই পরিবেশে ১৫ দিনের মধ্যে পরীক্ষা নেওয়া হবে। বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) সন্ধ্যায় আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ইনস্টিটিউটে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের আয়োজনে জাতীয় শোক দিবস উপলক্ষে আলোচনা সভা শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নে একথা জানান শিক্ষামন্ত্রী। শিক্ষামন্ত্রী বলেন, আপনারা জানেন দেশের এই করোনা পরিস্থিতিতে এইচএসসি পরীক্ষা নেওয়া সম্ভব নয়। এই পরিস্থিতি আপনারা সবাই অবহিত। প্রায় ১৪ লাখ এইচএসসি পরীক্ষার্থী। পরীক্ষা নেওয়ার জন্য আমরা প্রস্তুত ছিলাম, এখনো আছে। ১৪ লাখ পরীক্ষার্থীর সঙ্গে আরও কয়েক লাখ লোকবল জড়িত। এত সংখ্যক মানুষকে আমরা ঝুঁকির মধ্যে ফেলতে পারি না। তিনি বলেন, অনুকূল পরিবেশ তৈরি হলে তার ১৫ দিনের মধ্যে পরীক্ষা নেওয়া হবে। যাতে পরীক্ষার্থীরাও জেনে প্রস্তুতি নিতে পারে। শিক্ষামন্ত্রী আরও বলেন, অনুকূল পরিবেশ হলেই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খুলে দেওয়ার কথা চিন্তা করবে সরকার। গত এপ্রিলে এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষার তারিখ নির্ধারিত থাকলেও করোনার কারণে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকায় পরীক্ষা নেওয়া সম্ভব হয়নি। আর ১৭ মার্চ থেকে দেশের সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ রয়েছে।
শিক্ষা প্রতিষ্ঠান খোলার সিদ্ধান্ত ২৫ আগস্টের পর
১৭আগস্ট,সোমবার,শিক্ষা ডেস্ক,নিউজ একাত্তর ডট কম: উচ্চ মাধ্যমিক (এইচএসসি) এবং জেএসসি-জেডিসি পরীক্ষার বিষয়ে এখনো কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি জানিয়ে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের সচিব মো. মাহবুব হোসেন বলেছেন, যখনই সিদ্ধান্ত হবে তা সবাইকে জানিয়ে দেওয়া হবে। আর শিক্ষা প্রতিষ্ঠান খুলছে কিনা তা ২৫ আগস্টের পর জানানো হবে। সোমবার (১৭ আগস্ট) সচিবালয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এসব কথা বলেন মাহবুব হোসেন। করোনা ভাইরাসের কারণে স্থগিত থাকা এইচএসসি পরীক্ষা নিয়ে সচিব মাহবুব হোসেন বলেন, আমরা যখনই পরীক্ষ নেব, এটা গোপন কোনো সিদ্ধান্ত নয়। আমরা প্রকাশ্যে একটি ঘোষণা করবো। অ্যাপ্রোপ্রিয়েট অথরিটির অ্যাপ্রোভাল এবং অ্যাপ্রোপ্রিয়েট অথরিটির দ্বারাই ঘোষণা করবো। এটা গুজব ছড়ানোর কোনো যৌক্তিকতা ও ভিত্তি থাকা উচিত না। তিনি বলেন, এটি (এইচএসসি) একটি পাবলিক পরীক্ষা, এর সঙ্গে আমাদের বিপুল সংখ্যক শিক্ষার্থীর জীবন জড়িত। এটা নিয়ে যদি আমরা গুজব ছড়িয়ে বিভ্রান্ত তৈরি করি, আমি বলবো যে সমাজের প্রতি শিক্ষার্থীদের প্রতি যে দায়বদ্ধতা আছে সেটির বড় ধরনের ব্যত্যয়। আমি অনুরোধ করবো, সরকারের তরফ থেকে সরকারের দায়িত্বশীল ব্যক্তিদের তরফ থেকে কোনো সিদ্ধান্ত বা ঘোষণা না পাওয়া পর্যন্ত এ ধরনের কোনো গুজব বা কোনো মন্তব্য করা থেকে বিরত থাকতে। সচিব বলেন, শিক্ষামন্ত্রী সুস্পভাবে বলেছেন আমরা যখনই পরীক্ষা নেব, দুই সপ্তহের নোটিশ দিয়ে সবাইকে জানাবো। তিনি বলেন, পরীক্ষার তারিখ ঠিক করে আমরা প্রকাশ্যে জানাবো। আমাদের তরফ থেকে সব সময় আমরা প্রস্তুত, আগেও প্রস্তুতি ছিল। এখন কোভিড-১৯ পরিস্থিতির কারণে বিশেষ প্রস্তুতি নিয়ে রেখেছি যে স্বাস্থ্যবিধি অনুসরণ করে যাতে প্রয়োজনে সেন্টার সংখ্যা বাড়িয়ে যাতে পরীক্ষা নেওয়া যায়। যখনই আমরা তারিখ ঠিক করবো, তাতে স্বাস্থ্যবিধি যেন যথাযথ অনুসরণ করতে পারি, সেটি আমরা নিশ্চিত করবো। নভেম্বরে আসন্ন জেএসসি পরীক্ষা নিয়ে সচিব বলেন, আমরা যখনই পরিপূর্ণভাবে সিদ্ধান্ত নেব, তখনই আপনাদের জানাবো। তিনি বলেন, শুধু জেএসসি না, অন্যান্য পরীক্ষার ব্যাপারে আমাদের বিশেষজ্ঞারা যে পরামর্শ দিয়েছেন সেগুলো পর্যালোচনা করে আমরা উপযুক্ত সময়ে ঘোষণা করবো আমরা কী করতে যাচ্ছি। গত ১৭ মার্চ থেকে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান আগামী ৩১ আগস্ট পর্যন্ত বন্ধ ঘোষণা রয়েছে। শিক্ষা প্রতিষ্ঠান খোলার বিষয়ে মাহবুব হোসেন বলেন, আমরা কাছাকাছি সময়ে যেয়ে তখন আমরা সিদ্ধান্ত ঘোষণা করি। ২৫ তারিখের পরে আমরা এক সময় ঘোষণা করবো। পর্যায়ক্রমে বিশ্ববিদ্যালয়, কলেজ, স্কুল খোলা হবে না কী- প্রশ্নে তিনি বলেন, যখনই আমরা ক্লিয়ারেন্স পাবো তখনই জানাবো।