ইংল্যান্ডে ত্রিদেশীয় সিরিজ খেলবে জুনিয়র টাইগাররা
২০,অক্টোবর,মঙ্গলবার,স্পোর্টস ডেস্ক,নিউজ একাত্তর ডট কম: কথায় বলে গাইতে গাইতে গায়েন আর বাজাতে বাজাতে বায়েন। বহুল প্রচলিত প্রবচনটির সত্যিকার ও মূল কথা হলো চর্চা। চর্চাই মান উন্নয়নের অন্যতম পূর্বশর্ত। যারা খেলোয়াড়, তারা যত বেশি খেলবেন, ততই অভিজ্ঞতা হবে। কৌশল প্রয়োগের চর্চাই মেধা স্ফুরণে অনেক বেশি কার্যকর ভূমিকা রাখে। যুব বিশ্বকাপজয়ী আকবর আলী, তানজিদ হাসান তামিম, মাহমুদুল হাসান জয়, তৌহিদ হ্রদয়, পারভেজ ইমন, শরিফুল ও রাকিবুল ইসলামরা বিশ্বকাপ খেলার আগে দেশে ও বিদেশে প্রচুর আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলে খেলে অভিজ্ঞতা সঞ্চয় করেছিলেন। দেশ ও বিদেশে ৩০টি আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলেছিল আকবর আলীর দল। ঐ বিভিন্ন দলের সাথে নানা কন্ডিশনে খেলা তাদের অভিজ্ঞতার ভাণ্ডারকে করেছিল সমৃদ্ধ। তারা অনুকূল-প্রতিকূল সব অবস্থায় অভ্যস্ত ও ধাতস্ত হয়ে পড়েছিলেন। যে কারণে বিশ্বকাপের মত বিশ্ব আসরে খেলতে নেমেও ভড়কে যাননি। ডর-ভয় স্পর্শ করেনি। নিজেদের স্বাভাবিক পারফরম্যান্স করতে পেরেছেন। দেখতে দেখতে আবার এসে যাচ্ছে যুব বিশ্বকাপ। আগামী ২০২২ সালের জানুয়ারি মাসে ওয়েস্ট ইন্ডিজে বসবে বিশ্ব যুব ক্রিকেটের পরের আসর। তার আগেও জুনিয়র টাইগারদের যত বেশি করে সম্ভব আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলার ব্যবস্থা করতে যাচ্ছে বিসিবি। করোনা না থাকলে হয়তো এরই মধ্যে দেশ আর বিদেশ মিলে একাধিক সিরিজ খেলে ফেলতেন জুনিয়র টাইগাররা। তবে ভেতরের খবর, সব কিছু ঠিক থাকলে আগামী বছরের মাঝামাঝি ইংল্যান্ড যাবে বাংলাদেশ যুবদল (অনূর্ধ্ব-১৯)। বিসিবির গেম ডেভেলপমেন্ট কমিটির চেয়ারম্যান খালেদ মাহমুদ সুজন (মঙ্গলবার) বিকেলে নিউজ একাত্তরকে জানিয়েছেন, আমরা বিশ্বকাপের প্রস্তুতি হিসেবে এবারও যুবাদের দেশে ও বিদেশে যত বেশি সম্ভব ম্যাচ খেলার ব্যবস্থা করার চেষ্টা করছি। তারই প্রথম ধাপ হিসেবে আগামী বছর জাতীয় যুব (অনূর্ধ্ব-১৯) দলকে ইংল্যান্ডে পাঠানোর সিদ্ধান্ত হয়েছে। সব কিছু ঠিক থাকলে আগামী বছর জুলাই-আগস্টে ইংল্যান্ডের মাটিতে একটি তিন জাতি টুর্নামেন্ট খেলতে যাবে যুব দল। যে আসরে স্বাগতিক ইংল্যান্ড ছাড়াও অস্ট্রেলিয়ার যুব দল অংশ নেবে-যোগ করেন সুজন।
কোহলিকে পেছনে ফেলে আইপিএলে নতুন রেকর্ড ওয়ার্নারের
১৯,অক্টোবর,সোমবার,স্পোর্টস ডেস্ক,নিউজ একাত্তর ডট কম: ইনিংস ওপেন করতে না নেমে ব্যাটিং অর্ডারে নিজেকে অনেক নিচে নামিয়ে এনেছিলেন ডেভিড ওয়ার্নার। তার এই অবনমন দেখে অনেকেই অবাক। কিন্তু এ ক্ষেত্রে আবার কিছুটা সফল হলেন সানরাইজার্স হায়দরাবাদ অধিনায়ক। কলকাতার ছুঁড়ে দেওয়া ১৬৪ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে গিয়ে দুই ওপেনার জনি বেয়ারেস্টো এবং কেন উইলিয়ামসন শুরুটা ভালোই করেন। তাদের ৫৮ রানের ওপেনিং জুটিতে ভর করেই চার নম্বরে ব্যাট করতে নেমে ডেভিড ওয়ার্নার শেষ তুলির টান দেওয়ার অপেক্ষায় ছিলেন। তবে ৩৩ বলে ৪৭ রানে অপরাজিত থেকেও অল্পের জন্য দলকে জয় এনে দিতে পারলেন না এই অসি ব্যাটসম্যান। নির্ধারিত ২০ ওভারে এদিন কলকাতা নাইট রাইডার্স বনাম সানরাইজার্স হায়দরাবাদ ম্যাচের নিষ্পত্তি হল সুপার ওভারে। সুপার ওভারে হেরে প্লে-অফের দৌড়ে আরও পিছিয়ে পড়ল সানরাইজার্স। অধিনায়কোচিত ইনিংসে দলকে জেতাতে না পারলেও কিন্তু রোববার আইপিএলে একটি ব্যক্তিগত রেকর্ড গড়লেন হায়দরাবাদ অধিনায়ক। চতুর্থ ব্যাটসম্যান হিসেবে আইপিএলে পাঁচ হাজার রানের এলিট ক্লাবে নাম লেখালেন তিনি। সব মিলিয়ে চতুর্থ হলেও, বিদেশি ব্যাটসম্যান হিসেবে ওয়ার্নারই আইপিএলে প্রথম এই মাইলফলক স্পর্শ করলেন। এর আগে আইপিএলে ৫ হাজার রানের ক্লাবে পা দেওয়া বাকি তিন ব্যাটসম্যান হলেন বিরাট কোহলি, সুরেশ রায়না এবং রোহিত শর্মা। তবে রয়েল চ্যালেঞ্জার্স ব্যাঙ্গালুরু অধিনায়ক বিরাট কোহলির রেকর্ড ভেঙে এই মাইলফলক স্পর্শ করেন অসি ব্যাটসম্যান। ৫ হাজার রানের ক্লাবে পৌঁছতে ১৩৫ ইনিংস খেলেন ওয়ার্নার। এর আগে দ্রুততম ব্যাটসম্যান হিসেবে ১৫৭ ইনিংসে এই রেকর্ড স্পর্শ করেছিলেন বিরাট কোহলি। তৃতীয় দ্রুততম হিসেবে ১৭৩ ইনিংসে এই রেকর্ড গড়েছিলেন সুরেশ রায়না। রোববার কেকেআরের বিপক্ষে শেষ ওভারে জয়ের অন্য ১৮ রান প্রয়োজন ছিল সানরাইজার্সের। আন্দ্রে রাসেলকে শেষ ওভারে ৩টি বাউন্ডারি হাঁকিয়েও অল্পের জন্য শেষরক্ষা করতে পারেননি ডেভিড ওয়ার্নার। এরপর সুপার ওভারে প্রথম বলেই ফার্গুসনের শিকার হন তিনি। সুপার ওভারে তৃতীয় বলে ফার্গুসন সামাদের উইকেট তুলে নিলে নাইটদের লক্ষ্যমাত্রা দাঁড়ায় মাত্র ৩ রান। দু’বল বাকি থাকতেই লক্ষ্যে পৌঁছে যায় নাইটরা।
খারাপ সময় যাচ্ছে মুশফিকের। পাশে পেলেন অধিনায়ককে
১৮,অক্টোবর,রবিবার,স্পোর্টস ডেস্ক,নিউজ একাত্তর ডট কম: বর্তমান সময়ে বাংলাদেশ জাতীয় ক্রিকেট দলের সেরা ব্যাটসম্যান মুশফিকুর রহিম। বিগত কয়েক বছর ধরে দুর্দান্ত ফর্মে রয়েছে এই উইকেটকিপার ব্যাটসম্যান। তবে করোনাভাইরাস এর পর ব্যাট হাতে তেমন একটি ভালো করছেননা মুশফিকুর রহিম। কোথায় যেন নিজেকে হারিয়ে ফেলেছেন তিনি। প্রেসিডেন্ট কাপ এর আগে ২ টি ২ দিনের প্রস্তুতি ম্যাচে ব্যাট হাতে ব্যর্থ হয়েছিলেন তিনি। এরপর প্রেসিডেন্ট কাপের প্রথম ম্যাচে ও রান পাননি তিনি। সবচেয়ে বড় কথা এই তিন ম্যাচেই বোল্ড আউট হয়েছেন মুশফিকুর রহিম। প্রথম দুদিনের প্রস্ততিমূলক ম্যাচে মাত্র ৩ রানে আউট হন মুশফিক। পেসার হাসান মাহমুদের পেস ও সুইংয়ের কাছে পরাস্ত হন তিনি। দ্বিতীয় প্রস্তুতিমূলক ম্যাচে পেসার রুবেল হোসেনের বলে ১১ রানে বোল্ড হন মুশফিক। মাহমুদুল্লাহ একাদশ ও নাজমুল একাদশের মধ্যকার প্রথম ওয়ানডে ম্যাচে বাজেভাবে আউট হন মুশফিকুর রহিম। পেসার ইবাদত হোসেনের ফুল লেন্থ ডেলিভারিতে ৮ বলে ১ রান করে আউট হন মুশফিক। গত তিন মাসে ধারাবাহিকভাবে অনুশীলন করার পরও তিন ইনিংসে ব্যর্থতা। কিন্তু মুশফিকের ফর্মে ফেরা নিয়ে আত্মবিশ্বাসী বিসিবি প্রেসিডেন্টস কাপের এক দলের অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্ত। মুশফিক দ্রুতই রানে ফিরবেন বলে মনে করেন তিনি, ব্যাটসম্যান হিসেবে দুর্দান্ত সে এবং এক-দুটি ম্যাচে তার ব্যর্থতায় আমি চিন্তিত নই। খুব দ্রুত-ই রানের দেখা পাবেন।
কলকাতার অধিনায়ক বদলের আসল কারণ জানালেন গম্ভীর
১৭,অক্টোবর,শনিবার,স্পোর্টস ডেস্ক,নিউজ একাত্তর ডট কম: টুর্নামেন্ট শুরুর আগে থেকেই চলছিল আলোচনা। বিশ্বকাপজয়ী অধিনায়ক ইয়ন মরগ্যান থাকতেও দিনেশ কার্তিককে অধিনায়কত্ব দেয়ায় বেশ সমালোচনাও শুনতে হয়েছে কলকাতা নাইট রাইডার্সকে। তবে নিয়মিত অধিনায়ক কার্তিকেই ভরসা রেখেছিল কেকেআর। কিন্তু কার্তিক নিজেই যেনো নিজের ওপর আর ভরসা রাখতে পারলেন না। শুক্রবার মুম্বাই ইন্ডিয়ানসের বিপক্ষে মাঠে নামার ঘণ্টাছয়েক আগে নিজ থেকে অধিনায়কত্ব ছেড়ে দিয়েছেন দিনেশ কার্তিক। তার জায়গায় শুক্রবারের ম্যাচে অধিনায়কত্ব করেছেন ইয়ন মরগ্যান। টুর্নামেন্টের বাকি ম্যাচগুলোতে তিনিই এ দায়িত্ব পালন করবেন। মুম্বাইয়ের বিপক্ষে ম্যাচ দিয়েই আইপিএলে অধিনায়কত্বের অভিষেক হয়েছে মরগ্যানের। কেকেআরের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে কার্তিক জানিয়েছেন, মূলত ব্যাটিংয়ের দিকে নজর দেয়ার লক্ষ্যেই অধিনায়কত্ব ছেড়েছেন তিনি। কেননা এবারের আসরে একটি ফিফটি হাঁকালেও এখনও পর্যন্ত প্রত্যাশামাফিক ব্যাটিং করতে পারছেন না তিনি। পরিসংখ্যান জানাচ্ছে, ৮ ম্যাচে মাত্র ১১২ রান করতে পেরেছেন কার্তিক। তবে কলকাতার সাবেক ও সফলতম অধিনায়ক গৌতম গম্ভীরের মতে, অধিনায়ক বদলের আসল কারণ ভিন্ন। এছাড়া তার বদ্ধমূল ধারণা, অধিনায়ক বদল করলেও কলকাতার বর্তমান অবস্থার খুব একটা পরিবর্তন হবে না। কেননা ক্রিকেটে সম্পর্কের জোরের কোনো জায়গা নেই, এখানে পারফরম্যান্সই মুখ্য। স্টার স্পোর্টসে কলকাতাকে দুইবার চ্যাম্পিয়ন করা গম্ভীর বলেছেন, ক্রিকেট কোনো সম্পর্কভিত্তিক খেলা নয়, এখানে পারফরম্যান্সই শেষ কথা। সত্যি বলতে, আমার মনে হয় না, এ বিষয়টিতে মরগ্যান কোনো পরিবর্তন আনতে পারবে। টুর্নামেন্টের শুরু থেকে অধিনায়কত্ব করলে হয়তো অনেক কিছুই বলদাতে পারতো সে। মাঝপথে কেউ কোনোকিছু বদলে ফেলতে পারে না। তিনি আরও যোগ করেন, ‘আমিও অবাক হয়েছি। সে (কার্তিক) গত দুই-আড়াই বছর ধরে কেকেআরকে নেতৃত্ব দিচ্ছে। কোনো মৌসুমের মাঝপথে এসে আপনি এমনটা করতে পারবেন না। কলকাতার অবস্থা এতোটাও খারাপ না যে, মাঝপথে অধিনায়ক বদলানো লাগবে। এজন্যই বেশ বিস্মিত আমি। বদলাতে চাইলে শুরুতেই এটা করা উচিত ছিল। এসময় অধিনায়ক বদলের আসর কারণ হিসেবে গম্ভীর জানান, আমার কথা হলো, কেউ যখন নিজের ব্যাটিংয়ে মনোযোগ দিতে চায়, এটা অবশ্যই ভালো বিষয়। কিন্তু আসল সত্য হলো, এমতাবস্থায় টিম ম্যানেজম্যান্টের পক্ষ থেকে বিকল্পের ব্যাপারেও বারবার কথা শুনতে হয়। এটা সত্যিই দূর্ভাগ্যজনক।
দলে সবচেয়ে অভিজ্ঞ ও ভালো ব্যাটসম্যান মুশফিক ভাই: তৌহিদ হৃদয়
১৬,অক্টোবর,শুক্রবার,স্পোর্টস ডেস্ক,নিউজ একাত্তর ডট কম: প্রেসিডেন্ট কাপ ওয়ানডে সিরিজের প্রথম ম্যাচেই আলো ছড়িয়েছেন তরুণ ব্যাটসম্যান তৌহিদ হৃদয়। যুব বিশ্বকাপ জয়ী এই ক্রিকেটার প্রথম ম্যাচে মাহমুদুল্লাহ একাদশের বিপক্ষে ৬২ বলে ৫২ রানের ম্যাচ জেতানো ইনিংস খেলে ম্যাচ সেরা হয়েছিলেন তিনি। আগামীকাল তামিম ইকবালের একাদশের বিপক্ষে মাঠে নামবেন তৌহিদ হৃদয়। এই ম্যাচেও ভালো খেলার আশাবাদ করলেন তৌহিদ হৃদয়। প্রথম ম্যাচে দল জেতানো ব্যাটিং আর পুরস্কার হিসেবে ম্যাচ সেরা পারফরমার, এরপরও তৌহিদ হৃদয় তাকিয়ে অগ্রজপ্রতিম মুশফিকুর রহীমের দিকে। তার আশা, জায়গামত মুশফিক ভাই-ই হবেন ত্রাতা এবং তিনি আছেন বলেই পুরো দল বাড়তি আত্মবিশ্ববাসী। মিস্টার ডিপেন্ডেবল মুশফিককে নিজ দলের প্রধান ব্যাটিং স্তম্ভ হিসেবে মূল্যায়ন করে হৃদয় বলেন, আমাদের দলে বাংলাদেশের সবচেয়ে অভিজ্ঞ ও ভালো ব্যাটসম্যান মুশফিক ভাই আছে। উনি বাংলাদেশের ডিপেন্ডেবল খ্যাত, উনি দলে থাকা মানে আমরা বাড়তি আত্মবিশ্বাস পাই। আশা করি মুশফিক ভাই তাড়াতাড়ি ভালো ইনিংস খেলবেন। উনাকে নিয়ে বলার কিছু নাই। যেহেতু বড় প্লেয়ার। বড় ম্যাচেই রান করবেন, ইনশাআল্লাহ আমরাও ভালো কিছু করবো। নিজ দলের গ্রাউন্ড ফিল্ডিংটাকে বড় শক্তি হিসেবে অভিহিত করে হৃদয় বলেন, আমাদের দলের সবচেয়ে ভালো দিক যদি বলি তাহলে ফিল্ডিংটা অনেক ভালো। সবাই অনেক অ্যাক্টিভ থাকে। সবাই নিজের সেরাটা দিয়ে বল সেভ করার চেষ্টা করে। আর সবাই নিজের দিকটায় অনেক সচেতন, আমাদের দলটা অনেক তরুণ।
স্বরূপে ফিরলেন গেইল, কোহলিরা হারলেন বড় ব্যবধানে
১৬,অক্টোবর,শুক্রবার,স্পোর্টস ডেস্ক,নিউজ একাত্তর ডট কম: বয়স যে কেবল একটি সংখ্যা, আবারও তার প্রমাণ দিলেন ৪১ বছর বয়সী ক্রিস গেইল। স্কোয়াডে থাকলেও এতোদিন মাঠে নামার সুযোগ পাচ্ছিলেন না জ্যামাইকান ব্যাটসম্যান। অবশেষে প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে গেইল সুযোগ পেলেন রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স ব্যাঙ্গালুরুর বিপক্ষে। সুযোগ হাতছাড়া করেননি তিনি। এখনও যে তার ব্যাটে জং ধরেনি তা জানাতে ভুল করলেন না- ইউনিভার্স বস। তার ঝড়ো ফিফটিতে দাপুটে জয় পেয়েছে কিংস ইলেভেন পাঞ্জাব। চলতি আইপিএলে অষ্টম ম্যাচে এসে দ্বিতীয় জয় পেয়েছে বলিউড অভিনেত্রী প্রীতি জিনতার মালিকাধীন দলটি। কোহলিদের ৮ উইকেটে হারিয়েছে পাঞ্জাব। ব্যাঙ্গালুরুর দেওয়া ১৭২ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে ২ উইকেটে ১৭৭ রান করে লোকেশ রাহুলের দল। এর আগে ৬ উইকেটে ১৭১ রান করে ব্যাঙ্গালুরু। অধিনায়ক কোহলি ৩৯ বলে ৪৮ করলেও দলের বাকি ব্যাটসম্যানরা ব্যর্থ হয়েছেন পাঞ্জাবের বোলারদের সামনে। দুই ওপেনার অ্যারন ফিঞ্চ (২০) ও দেবদুত পাডিক্কাল (১৮) শুরুটা ভাল করলেও বেশিক্ষণ স্থায়ী হতে পারেননি। ওয়াশিংটন সুন্দর (১৩), শিভম দুভে (২৩), এবি ডি ভিলিয়ার্স (২) স্কোরবোর্ডে তেমন অবদান রাখতে পারেননি। শেষদিকে অপরাজিত থাকা দুই ব্যাটসম্যান ক্রিস মরিসের ৮ বলে ২৫ এবং উদানার ৫ বলে ১০ রানের সুবাদের লড়াকু পুঁজি পায় ব্যাঙ্গালুরু। কিন্তু তা ভয়ঙ্কর রূপ ধারণ করা রাহুল-গেইলদের সামনে দাঁড়ায় মামুলি স্কোর হয়ে। ওপেনিং জুটিতে ৭৮ রান পায় পাঞ্জাব। ২৫ বলে ৪ চার ও ৩ ছক্কায় ৪৫ রান করে মায়াঙ্ক আগরওয়াল ফেরেন চাহালের বলে বোল্ড হয়ে। এরপর ক্রিস গেইল যখন রান আউট হয়ে সাজঘরে ফিরছেন ততক্ষণে দু’দলের স্কোর সমান। ক্যারিবিয়ান ঝড় ৪৫ বলে ১ চার ও ৫ ছক্কায় করেন ৫৩ রান। রাহুল ৪৯ বলে ৬১ রান করে নিকোলাস পুরানের (১০) সঙ্গে মাঠ ছাড়েন জয় নিয়ে। পাঞ্জাবকে জয়ে এনে দেওয়ার পাশাপাশি একটি মাইলফলকেরও চূড়ায়ও ওঠেছেন গেইল। টি-টোয়েন্টিতে প্রথম ব্যাটসম্যান হিসেবে কেবল চার-ছক্কা হাঁকিয়ে ১০ হাজার রানের ক্লাবে নাম লিখিয়েছেন। এর আগে ক্রিকেটের এই সীমিত ওভারে প্রথম ক্রিকেটার হিসেবে ১০ হাজার রানের মাইলফলক গড়েন তিনি। টি-টোয়েন্টির সব প্রতিযোগিতা মিলিয়ে গেইল তার ক্যারিয়ারে মোট ১৩ হাজার ৩৪৯ রানের মধ্যে শুধু চার-ছক্কাতেই করেছেন ১০ হাজার ৬ রান।
মরিসের শেষের ঝড়ে চ্যালেঞ্জিং পুঁজি ব্যাঙ্গালুুরুর
১৬,অক্টোবর,শুক্রবার,স্পোর্টস ডেস্ক,নিউজ একাত্তর ডট কম: রয়েল চ্যালেঞ্জার্স ব্যাঙ্গালুরু শুরুটা করেছিল ঝড়ো গতিতে। কিন্তু এরপর দারুণভাবে লড়াইয়ে ফেরে কিংস ইলেভেন পাঞ্জাব। নিয়ন্ত্রিত বোলিংয়ে বিরাট কোহলির দলকে আটকে রেখেছিলেন ক্রিস জর্ডান-মুরুগান অশ্বিনরা। ১৮ ওভার শেষে ৬ উইকেটে মাত্র ১৩৭ রান তুলতে পারে ব্যাঙ্গালুরু। প্রথম ৬ ওভারে সাড়ে নয় রানরেটে রান তোলা দলটি শেষ পর্যন্ত আর লড়াকু পুঁজি পাবে না মনে হচ্ছিল এমনটাই। অধিনায়ক কোহলিও যেন টি-টোয়েন্টির মারকাটারি ব্যাটিংটা করতে পারেননি। ৩৯ বলে মাত্র ৩ বাউন্ডারিতে ৪৮ রান করে ১৮তম ওভারে সাজঘরে ফেরেন কোহলি। তবে শেষ দুই ওভারে ইনিংস ঘুরিয়ে দিয়েছেন ক্রিস মরিস আর ইসুরু উদানা। এই যুগল ১৩ বলে যোগ করেন ৩৫ রান। এর মধ্যে মরিসই ছিলেন বেশি ভয়ংকর। ৮ বলে তার ২৫ রানের হার না মানা ইনিংসটিতে ছিল ১টি চার আর ৩টি ছক্কা। ১ ছক্কার সাহায্যে ৫ বলে ১০ রানে অপরাজিত থাকেন উদানা। টস জিতে ব্যাট করতে নেমে দুই ওপেনার দেবদূত পাডিক্কেল আর অ্যারন ফিঞ্চ ঝড়ো সূচনাই এনে দিয়েছিলেন দলকে। পাডিক্কেল ১২ বলে ১৮ আর ফিঞ্চ ১৮ বলে করেন ২০ রান। তারা দুজন যখন আউট হয়ে সাজঘরে, ৬.৩ ওভারে তখন ৬২ রান ব্যাঙ্গালুুরুর। পরের ব্যাটসম্যানদের মধ্যে শিভাম দুবে ১৯ বলে ২৩ রান করেন। কিন্তু কোহলির ইনিংসটি ছিল টি-টোয়েন্টির তুলনায় বেশ ধীরগতির। আর ব্যাঙ্গালুরুর মারকুটে ব্যাটসম্যান এবি ডি ভিলিয়ার্স এবার ২ রানের বেশি করতে পারেননি। পাঞ্জাবের বোলারদের মধ্যে ২টি করে উইকেট নেন মোহাম্মদ শামি আর মুরুগান অশ্বিন।
মিশিগানে উৎসবমুখর পরিবেশে- বাংলাদেশ কমিউনিটি কাপ
১৫,অক্টোবর,বৃহস্পতিবার,স্পোর্টস ডেস্ক,নিউজ একাত্তর ডট কম: যুক্তরাষ্ট্রের মিশিগানে বাংলাদেশ কমিউনিটি ক্রিকেট কাপ ২০২০ এ চ্যাম্পিয়ন হয়েছে ডেট্রয়েট সুপারস্টারস। এ নিয়ে টানা চারবার এই টুর্নামেন্টের শিরোপা জিতেছে দলটি। বাংলাদেশ ক্রিকেট অ্যাসোসিয়েশন অব মিশিগান ইউএস টুর্নামেন্টের আয়োজন করেছে। ডেট্রয়েট পার্ক স্টেডিয়ামে রোববার উৎসবমুখর পরিবেশে ফাইনাল খেলাটি অনুষ্ঠিত হয়। টসে জিতে প্রথমে ব্যাট করতে নেমে গ্লোবাল ইনোভেটিব গ্রুপ ২০ ওভারে ৫ উইকেটে ১৪৯ রান সংগ্রহ করে। জবাবে ডেট্রয়েট সুপারস্টারস ৩ বল বাকি থাকতেই ৭ উইকেটে জয়ের লক্ষ্যে পৌঁছে যায়। টুর্নামেন্টের সেরা ব্যাটসম্যান হন সুপারস্টারস এর ওয়াহিদুর রহমান। ম্যান অব দ্য টুনার্মেন্ট হন গ্লোবাল ইনোভেটিব গ্রুপের তামিম অনি এবং সেরা উইকেটের গৌরব অর্জন করেন রয়েল বেঙ্গল দলের খেলোয়াড় জুবেল আহমেদ। অ্যাসোসিয়েশনের প্রেসিডেন্ট তায়েফুর রহমানের সভাপতিত্বে পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠানে অতিথি ছিলেন- মোশাররফ চৌধুরী লিটু, সাইফুল আমিন ও সায়েল হুদা। পুরস্কার হিসেবে চ্যাম্পিয়ন দল পেয়েছে নগদ ২ হাজার ডলারসহ ট্রফি। রানার্সআপ দলকে দেয়া হয়েছে নগদ ১ হাজার ডলারসহ ট্রফি।
ডি ভিলিয়ার্সকে অতিমানব মনে হয় কোহলির
১৪,অক্টোবর,বুধবার,স্পোর্টস ডেস্ক,নিউজ একাত্তর ডট কম: এমন উইকেট, বিরাট কোহলিও ধুঁকলেন। ২৮ বলে হার না মানা ৩৩ রানের ইনিংসে বাউন্ডারি হাঁকাতে পারলেন মাত্র একটি। কিন্তু এবি ডি ভিলিয়ার্সের জন্য সব উইকেটই যেন এক। কোহলি সামনে অপরপ্রান্তে দাঁড়িয়ে দেখলেন কি অবলীলায় বল আছড়ে ফেলছেন প্রোটিয়া তারকা। শারজায় সোমবার রাতে কলকাতা নাইট রাইডার্সের বিপক্ষে ৩৩ বলে অপরাজিত ৭৩ রানের ইনিংস খেললেন ডি ভিলিয়ার্স। বিধ্বংসী যে ইনিংসে ৫টি বাউন্ডারির সঙ্গে ছিল ৬টি ছক্কার মার। তার ওমন ইনিংসে ভর করেই ২ উইকেটে ১৯৪ রান করে রয়েল চ্যালেঞ্জার্স ব্যাঙ্গালুরু। জবাবে ২০ ওভারে ৯ উইকেট হারিয়ে মাত্র ১১২ রান তুলতে পারে কলকাতা। উইকেটটা যে কেমন কঠিন ছিল, বোঝাই যাচ্ছে। সুপারহিউম্যান বা অতিমানব ছাড়া এমন ব্যাটিং সম্ভব নয় বলেই মনে করেন কোহলি। তার ভাষায়, শারজায় বড্ড শুকনো একটা উইকেটে আমরা খেললাম। একজন অতিমানব ছাড়া সেখানে আমরা সবাই অস্বস্তিতে ছিলাম। এবি দুরন্ত ওই ইনিংসটা না খেললে কখনওই আমাদের রান ১৯৪ হয় না। আমি তো ভেবেছিলাম, বেশি হলে ১৬০ বা ১৬৫-এর মতো রান তুলতে পারব। কোহলি যোগ করেন, ও উইকেটে আসার পরে ভাবছিলাম এবার বড় শট খেলব। বল কম আসছিল ব্যাটে। কিন্তু আমার দরকারই পড়ল না। এবি তিন নম্বর বলটাই মারার পরে জানাল, ছন্দ পেয়ে যাচ্ছে। আর আমি সেরা জায়গায় দাঁড়িয়ে ওইরকম অবিশ্বাস্য ইনিংস দেখলাম। দক্ষিণ আফ্রিকা দলের সাবেক অধিনায়কের ইনিংস দেখে মুগ্ধ ভারতের হেড কোচ রবি শাস্ত্রী তো অবসর ভেঙে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে ফেরারই আহ্বান জানালেন ডি ভিলিয়ার্সকে। তিনি মঙ্গলবার টুইট করেন, এবার আসল জিনিসটা বেরিয়ে এসেছে। কাল রাতে যা দেখলাম তা অতিলৌকিক কিছু। কঠিন এই সময়ে এবি ডিভিলিয়ার্সের মতো ইনিংসেরই দরকার ক্রিকেটের। তুমি অবসর ভেঙে ফিরে এসো। তুমি থাকলে এই খেলাটা আরও আকর্ষণীয় হয়ে উঠবে।

খেলাধূলা পাতার আরো খবর