মঙ্গলবার, ডিসেম্বর ১৮, ২০১৮
বাংলাদেশকে ৮ উইকেটে হারিয়েছে ওয়েস্ট ইন্ডিজ
ক্রীড়া ডেস্ক: ওয়ানডে সিরিজে বাংলাদেশকে বড় ভুগিয়েছিলেন শাই হোপ। টি-টুয়েন্টিতে এসেও সেই হোপের তাণ্ডব। সিলেটে সিরিজের প্রথম টি-টুয়েন্টিতে ক্যারিবীয়ান এই ওপেনারের ঝড়ে উড়ে গেল বাংলাদেশ। ক্রিকেটের সংষ্করণ যত ছোট হয়, ততই ভয়ংকর হয়ে ওঠে ওয়েস্ট ইন্ডিজ। ফের এর প্রমাণও পাওয়া গেল। প্রথম টি-টোয়েন্টিতে দাপট দেখিয়ে জিতল ক্যারিবীয়রা। বাংলাদেশকে ৮ উইকেটে হারিয়েছে তারা। শুধু তাই নয়, ৫৫ বল হাতে রেখেই জয় নিশ্চিত করে ব্রাফেট বাহিনী। দাপুটে এ জয়ে ৩ ম্যাচ সিরিজে ১-০তে এগিয়ে গেল তারা। সোমবার প্রথমে ব্যাট করে ১৯ ওভারে অল আউট হওয়ার আগে ১২৯ রান করে স্বাগতিকরা। জবাবে ১০.৫ ওভারে ২ উইকেট হারিয়ে ১৩০ রান করে জয় তুলে নেয় ওয়েস্ট ইন্ডিজ। ফলে ৩ ম্যাচ সিরিজে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে গেল তারা। এদিন মাত্র ১৬ বলে হাফ সেঞ্চুরি পূর্ণ করেছেন হোপ। মাহমুদউল্লাহর বলে আউট হওয়ার আগে ২৩ বলে ৫৫ রান করেছেন তিনি। মেরেছেন ৬টি ছক্কা ও ৩টি চারের মার। এর আগে দলীয় ৫১ রানে প্রথম উইকেট হারায় ওয়েস্ট ইন্ডিজ। মোহাম্মদ সাইফউদ্দীনের বলে আরিফুল হকের কাছে ক্যাচ দিয়ে ব্যক্তিগত ১৮ রানে সাজঘরে ফিরে যান এভিন লুইস। ওয়েস্ট ইন্ডিজের দলীয় রান তখন ৯৮। এরপর নিকোলাস পুরান ও কেমো পল মিলে দলকে জয়ের দিকে টেনে নিয়ে যান। পুরান ১৭ বলে ২৩* রানে ও পল ১৪ বলে ২৯* রানে অপরাজিত ছিলেন। এর আগে টস জিতে ব্যাট করতে নেমে শুরুতেই বিপর্যয়ে পড়ে বাংলাদেশ। টাইগারদের টপ অর্ডারের পাঁচ ব্যাটসম্যান তামিম ইকবাল, লিটন দাস, সৌম্য সরকার, মুশফিকুর রহীম ও মাহমুদউল্লাহর রান যথাক্রমে ৫, ৬, ৫, ৫, ১২। এই বিপর্যয়ের সামনে দাঁড়িয়ে ব্যাট হাতে একাই লড়াই করেছেন সাকিব। তুলে নিয়েছেন টি-টুয়েন্টি ক্যারিয়ারের অষ্টম হাফ সেঞ্চুরি। আউট হওয়ার আগে ৪৩ বলে করেছেন ৬১ রান। দুর্দান্ত এই ইনিংসের পথে মেরেছেন ৮টি চার ও ২টি ছক্কা। সাকিবের পর বাংলাদেশের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ স্কোর আরিফুল হকের। ১৮ বল খেলে তিনি করেছেন ১৭ রান। এছাড়া মাহমুদউল্লাহই শুধু দুই অংকের ঘরে পৌঁছাতে পেরেছেন। তিনি করেছেন ১২ রান। ওয়েস্ট ইন্ডিজের হয়ে ২৮ রানে ৪ উইকেট নিয়েছেন কটরেল। এছাড়া ২টি উইকেট নিয়েছেন কেমো পল।
আজ মুখোমুখি হবে বাংলাদেশ-ওয়েস্ট ইন্ডিজ
ক্রীড়া ডেস্ক: সিলেটের আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামে ফেব্রয়ারিতে বাংলাদেশ সর্বশেষ টি-টোয়েন্টি খেলেছিল শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে। সেটাই ছিল সংক্ষিপ্ত ফরম্যাটে এই স্টেডিয়ামে বাংলাদেশের একমাত্র ম্যাচ। এবার দীর্ঘ ১০ মাস পর ওয়েস্ট ইন্ডিজের মুখোমুখি হবে টাইগাররা। টেস্ট ও ওয়ানডেতে দুর্দান্ত পারফর্মেন্স করছে বাংলাদেশ। তবে ক্রিকেটের শর্ট ভার্সনে রেকর্ড ভাল নয়। তাই টি-টোয়েন্টির বিশ্ব চ্যাম্পিয়নদের বিপক্ষে কঠিন চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে হবে সাকিব-মুশফিকদের। হেড কোচ স্টিভ রোডস জানিয়েছেন, ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে জেতা কঠিন। তবে সেরা দিয়ে জয় পাওয়াটা অসম্ভব কিছু নয়। অন্যদিকে টেস্ট ও ওয়ানডে সিরিজে ব্যর্থ হলেও টি-টোয়েন্টি সিরিজে ঘুরে দাঁড়াতে প্রস্তুত ওয়েস্ট ইন্ডিজ। বাংলাদেশকে ছোট করে দেখছেন না- জানিয়েছেন অধিনায়ক ব্রাথওয়েট। সিলেট আন্তর্জাতিক স্টেডিয়ামে বেলা সাড়ে ১২টায় শুরু হবে তিন ম্যাচ সিরিজের প্রথম টি-টোয়েন্টি।
বাংলাদেশের মিশন এবার টি-টোয়েন্টি
ক্রীড়া ডেস্ক: টেস্ট সিরিজে হোয়াইটওয়াশের পর ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে ওয়ানডে সিরিজেও দারুণভাবে জয় পেয়েছে বাংলাদেশ। এখন পর্যন্ত ক্যারিবীয়দের একমাত্র সাফল্য ওয়ানডে সিরিজের দ্বিতীয় ম্যাচে ঘুরে দাঁড়ানো। আগামীকাল সোমবার টি-টোয়েন্টি সিরিজের প্রথম ম্যাচে সিলেটে মাঠে নামবে বাংলাদেশ। তবে ক্রিকেটের এই সংক্ষিপ্ততম ফরম্যাটের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন দলের বিপক্ষে সেরা দল নিয়েই নামতে চাইবে স্বাগতিকরা। বাংলাদেশ দলের খেলোয়াড়রা নিজেদের প্রমাণ করতে চাইবেন টি-টোয়েন্টি সিরিজে। আসন্ন বিশ্বকাপের আগে ফর্ম ধরে রাখার জন্য কালকের ম্যাচে জ্বলে উঠতে চাইবেন সৌম্য সরকার, লিটন দাস ও মোহাম্মদ মিঠুন। তামিম ইকবাল, সাকিব আল হাসান কিংবা মুশফিকুর রহিমের মতো অভিজ্ঞ খেলোয়াড়দেরও যথেষ্ট ভূমিকা রাখতে হবে দলের জন্য। লিটন দাস কিংবা সৌম্য সরকারের মধ্যে যেকোনো একজন বিশেষজ্ঞ ব্যাটসম্যানের পরিবর্তে রুবেল হোসেন এবং নাজমুল ইসলাম অপুর দলে খেলার সম্ভাবনা রয়েছে। অবশ্য টি-টোয়েন্টিতে শুরুটা ভালো করলেও ইনিংস বড় করতে পারছেন না লিটন, যা অনেকের নজর কেড়েছে। অন্যদিকে সাম্প্রতিক সময়ে ফর্মে আছেন সৌম্য সরকার। গত দুদিনে ফ্লাড লাইটে বিদ্যুৎ সরবরাহকারী টাওয়ারে সমস্যার কারণে দুবার এগিয়েছে টি-টোয়েন্টির সময়সূচি। আগামীকাল দুপুর সাড়ে ১২টায় সিলেটে মুখোমুখি হবে দুই দল। তবে আবহাওয়া বার্তায় বৃষ্টির সম্ভাবনা দল নির্বাচনে বড় ভূমিকা রাখতে পারে। পরবর্তী দুটি টি-টোয়েন্টি যথাক্রমে ২০ ডিসেম্বর বৃহস্পতিবার এবং ২২ ডিসেম্বর শনিবার ঢাকার মিরপুরে বিকেল ৫টা থেকে অনুষ্ঠিত হবে। সম্ভাব্য একাদশ : সাকিব আল হাসান (অধিনায়ক), তামিম ইকবাল, লিটন দাস, সৌম্য সরকার, মুশফিকুর রহিম, মোহাম্মদ মিঠুন, মাহমুদউল্লাহ, মেহেদী হাসান মিরাজ, মোহাম্মদ সাইফউদ্দিন, রুবেল হোসেন ও মুস্তাফিজুর রহমান।
পার্থ টেস্টের প্রথম ইনিংসে ৩২৬ রান অলআউট অস্ট্রেলিয়া
ক্রীড়া ডেস্ক: ভারতের বিপক্ষে পার্থ টেস্টের প্রথম ইনিংসে ৩২৬ রান অলআউট হয়েছে অস্ট্রেলিয়া। দলের হয়ে সর্বোচ্চ ৭০ এসেছে রান এসেছে মার্কাস হ্যারিসের ব্যাট থেকে। ২০.৩ ওভার বল করে ৪১ রানের বিনিময়ে চার উইকেট পেয়েছে ভারতের পেসার ইশান্ত শর্মা। শুক্রবার সকালে টস জিতে ব্যাটিং নিয়েছিল অস্ট্রেলিয়া। প্রথম দিনের ৯০ ওভারে ৬ উইকেটে ২৭৭ রান তুলেছে স্বাগতিকরা। টিম পেইন ১৬ ও প্যাট কামিন্স ১১ রানে অপরাজিত ছিলেন। আজ দিনের শুরুতেই ব্যক্তিগত ৩৮ রান করে বুমরার বলে এলবিডব্লিউ হয়ে ফিরে পেইন। এর পরের ওভারের প্রথম বলেই উমেশ যাদবের বলে বোল্ড হন প্যাট কামিন্স। লায়ন ৯ রান করে অপরাজিত থাকেন। দ্বিতীয় দিনে ১৮.৩ ওভার খেলে ৪ উইকেট হারিয়ে আর মাত্র ৪৯ রান যোগ করতে পেরেছে অস্ট্রেলিয়ার লেজের সারির ব্যাটসম্যানরা।
৮ উইকেটে জিতে জয়ের উৎসবে টাইগাররা
ক্রীড়া ডেস্ক: সিলেট স্টেডিয়ামে ওয়ানডে ম্যাচে উইন্ডিজকে গুঁড়িয়ে দিয়ে জয়ের উৎসবে মেতেছে টাইগাররাসহ দেশবাসী। ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে ৮ উইকেটে জিতে ২-১ ব্যবধানে ওয়ানডে ট্রফি নিজেদের করে নিল মাশরাফি বিন মুর্তজার নেতৃত্বাধীন ক্রিকেট দল। এর আগে দুই ম্যাচের টেস্ট সিরিজে ক্যারিবীয়দের হোয়াইটওয়াশ করে সাকিব আল হাসানের বাহিনী। আগামী সোমবার সিলেটের এই ভেুন্যতে তিন ম্যাচের টি-টোয়েন্টি সিরিজ শুরু হবে। শুক্রবার শেষ বিকেলে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে বেশ ভালো শুরু করেন দুই বাংলাদেশ ওপেনার। তামিম-লিটন জুটি ৪৫ রান করার পর ক্যাচ দিয়ে ফেরেন লিটন দাস। পরে তামিম-সৌম্য গড়েন ১৩১ রানের বড় জুটি। দুরন্ত সব শট খেলা সৌম্য ফেরেন ৮০ রান করে। কেমো পলের বলে বোল্ড হওয়ার আগে তার ৮১ বলের ইনিংসে পাঁচ চার ও পাঁচটি ছক্কা হাঁকিয়েছেন। এরপর শেষ তুলির আঁচড় দিয়ে ফেরেন তামিম-মুশফিক। দারুণ সাবধানী তামিম ৮১ রানে অপরাজিত থাকেন। সৌম্যর সঙ্গেই পাল্লা দিয়ে রান তুলছিলেন মধ্যে। কিন্তু শট খেলা সৌম্যকে রান তোলার সুযোগ দিয়ে ধীরে খেলেন তিনি। তার ইনিংস ছিল নয়টি চারে সাজানো। শেষ দিকে মুশফিক দুই চার ও এক ছয়ে ১৬ রানে অপরাজিত থাকেন। এর আগে টস হেরে প্রথমে ব্যাট করে ওয়েস্ট ইন্ডিজ। নির্ধারিত ৫০ ওভারে ৯ উইকেট হারিয়ে তোলে ১৯৮ রান। সফরকারীদের হয়ে হার না-মানা ১০৮ রানের ইনিংস খেলেন শাই হোপ। এর আগের ম্যাচেও সেঞ্চুরি করেন তিনি। তবে অন্য ব্যাটসম্যানরা ভালো করতে না পারায় রান বড় হয়নি তাদের। বাংলাদেশ বোলাররা অবশ্য শুরু থেকেই তাদের দারুণ চাপে রাখে। মেহেদি মিরাজ দলের হয়ে নেন ৪ উইকেট। এছাড়া মাশরাফি নেন ২ উইকেট। সাকিব আল হাসান নেন দুটি উইকেট। রুবেলের বদলে দলে আসা সাইফউদ্দিন নেন একটি উইকেট। দারুণ দুই সেঞ্চুরি করায় সিরিজ সেরা হন শাই হোপ। ক্যারিয়ার সেরা বোলিং করে ম্যাচ সেরা মেহেদি মিরাজ।
বাংলাদেশ ক্রিকেট দলের সর্বকালের সেরা অধিনায়ক মাশরাফি!
ক্রীড়া ডেস্ক: বাংলাদেশ ক্রিকেট দলের সর্বকালের সেরা অধিনায়ক কে? চোখ বুঝে নিশ্চয় আপনিও বলতে পারবেন তার নাম। হ্যাঁ, ঠিকই ধরেছেন। সবার প্রিয় অধিনায়ক মাশরাফি বিন মুর্তজা। শুধু জনপ্রিয়তার দিক থেকেই নয়। পারফরমেন্সের গুণেও তিনি সবার ওপরে। সাবেক অধিনায়ক হাবিবুল বাসার সুমনের সমান ৬৯ ম্যাচ খেলে বাংলাদেশ দলকে জিতিয়েছেন রেকর্ড ৩৯টি ম্যাচে। যা অধিনায়ক হিসেবে এত ম্যাচ জয়ের রেকর্ড নেই অন্য কারও। ১০ জুলাই ২০১০ ইংল্যান্ডের দম্ভ চূর্ণ করে লাল সবুজের বাংলাদেশ ক্রিকেট। ব্রিস্টলে ঐতিহাসিক ঐদিনে বাংলাদেশ সব টেস্ট খেলুড়ে দলকে হারানোর কোঠা পূরণ করে। যার নেতৃত্বে ছিলেন মাশরাফি বিন মুর্তজা। দলকে স্বপ্নীল জয় এনে দেওয়া মাশরাফি/ ব্যাট বলের অসামান্য অবদানে হয়েছিলেন ম্যাচ সেরা। ২০০৯ সালেই অধিনায়কের দায়িত্ব পেয়েছিলেন। কিন্তু, ইনজুরির কারণে ছিটকে যেতে হয়েছে মাঠের বাইরে। এরপর ফিরলেন আবারো পড়লেন ইনজুরিতে। পরে অনেকটা ফিট হয়ে উঠেছিলেন। বুক ভরা স্বপ্ন দেখেছিলেন। ঘরের মাঠে ২০১১ বিশ্বকাপ খেলবেন। কিন্তু, অদৃশ্য এক কারণে খেলা হয়নি। তখনই ম্যাশের শেষ দেখেছিলেন অনেকেই। কিন্তু জীবন যুদ্ধে পরাজিত হননি নড়াইল এক্সপ্রেস। পুনরায় ২০১৪ সালে পেলেন বাংলাদেশ দলের অধিনায়কের দায়িত্ব তিনি। এরপর থেকেই দুরন্ত দুর্বার গতিতে ছুঁটে চলছে নড়াইল এক্সপ্রেসের ইঞ্জিন। জং পড়েনি কখনো। বরং, অবীরাম লাল সবুজের কেতন উড়িয়েছেন ক্রিকেট বিশ্বের মানচিত্রে। মাশরাফী মানুষটি বাংলাদেশ ক্রিকেট দলের অন্তপ্রাণ। অনুজদের শাসন বারনে আপসহীন। ঠিক তেমনি /ভালোবেসে বুকে নিয়ে সাহস জুগিয়েছেন বারবার। তার নেতৃত্ব গুনেই বাংলাদেশ এখন বিশ্ব ক্রিকেটে ওয়ানডেতে পরাশক্তি দল। এই তো ওয়েষ্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে সিরিজের দ্বিতীয় ওয়ানডেতে সাবেক অধিনায়ক হাবিবুল বাসারকে পেছনে ফেলেছেন ম্যাশ। বাংলাদেশের ওয়ানডে ক্রিকেটে ৩৫৪ ম্যাচের এর মধ্যে ১৩জন অধিনায়ক টাইগারদের নেতৃত্বে দিয়েছেন। যাদের মধ্যে মাশরাফি সবার ওপরে। বাসারের সমান ৬৯ ম্যাচ খেলে সবচেয়ে বেশি ৩৯টি ম্যাচ জয়ের রেকর্ড ম্যাশের। সাকিব, আশরাফু মুশফিকরা আছেন পেছনে। আর বাংলাদেশকে নেতৃত্ব দিয়েও একটি জয় দলকে এনে দিতে পারেননি এমন অধিনায়ক আছেন পাঁচজন। পরিসংখ্যানে স্পটই নেতৃত্বগুণে মাশরাফি এখন পর্যন্ত সর্বকালের সেরা অধিনায়ক। বিশ্বকাপ পর্যন্ত খেলবেন ম্যাশ। তার নেতৃত্বে গুণে যেভাবে এগিয়ে যাচ্ছে বাংলাদেশ। সবারই শুভ কামনা থাকছে বিশ্ব ক্রিকেট বাংলাদেশ পৌঁছাবে দূর বহু দূরে।
বাংলাদেশকে হারিয়ে সিরিজ সমতায় উইন্ডিজ
ক্রীড়া ডেস্ক: প্রথম ওয়ানডে জিতে এগিয়ে গিয়েছিল বাংলাদেশ। দ্বিতীয় ওয়ানডে জিতলেই তিন ম্যাচের সিরিজ উঠে যেত টাইগারদের ঘরে। কিন্তু শাই হোপের ব্যাটে আশার বেলুন চুপসে গেল মাশরাফিদের। দুর্দান্ত এক সেঞ্চুরি হাঁকিয়ে ওয়েস্ট ইন্ডিজকে সমতায় ফেরালেন এই ক্যারিবীয় ব্যাটসম্যান। ফলে তৃতীয় ও শেষ ওয়ানডে ম্যাচ পরিছত হলো অঘোষিত ফাইনালে। স্বাগতিক বাংলাদেশের ছুঁরে দেয়া ২৫৬ রানের চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করতে নেমে শুরুতেই উইকেট হারিয়ে চাপে পড়ে উইন্ডিজ। নিজের প্রথম স্পেলে প্রথম ওভারের দ্বিতীয় বলেই চন্দ্রপল হেমরাজকে এলবিডব্লিউয়ের ফাঁদে ফেলেন মেহেদী হাসান মিরাজ। এরপর প্রতিরোধ গড়েন শাই হোপ এবং ড্যারেন ব্রাভো। তাদের প্রতিরোধ ভাঙেন রুবেল হোসন। ৪৩ বলে এক চার, এক ছক্কায় ২৭ রান করা ব্রাভো সরাসরি বোল্ড করে সাজঘরে ফেরৎ পাঠান রুবেল। ৭০ রানে ২ উইকেট হারানো ক্যারিবীয়দের ইনিংস নতুন করে গোছাতে চেষ্টা করে শাই হোপ আর মারলন স্যামুয়েলস। প্রথম ওয়ানডেতে ৭ রানের জন্য হাফসেঞ্চুরি মিস করলেও দ্বিতীয় ম্যাচে ভুল করেননি শাই হোপ। ক্যারিয়ারের ৮ম অর্ধ শতক তুলে নেন এই ক্যারিবীয় ব্যাটসম্যান। স্যামুয়েলসের হোপের ৬২ রানের জুটির ভেঙে দেন মোস্তাফিজুর রহমান। মুশফিকের হাতে ধরা পড়ে বিদায় নেয়ার আগে ২৭ রান করেন স্যামুয়েলস। পরের ওভারেই আরও একটি উইকেট পেতে পারত বাংলাদেশ। কিন্তু রুবেল হোসেনের করা ৩০তম ওভারের ৫ম বলটি হেটমায়ারের ব্যাটে লেগে উপরে উঠে গেলেও তালুবন্দি করতে পারেননি ইমরুল কায়েস। উল্টো আহত হয়ে মাঠ ছাড়েন এই ওপেনার। তবে হেটমায়ারকে বেশি দুর এগোতে দেননি মোস্তাফিজুর রহমান। ভয়ঙ্কর হয়ে ওঠার মুহুর্তেই এই উইন্ডিজ ব্যাটসম্যান শিকার করেন বাংলাদেশের কাটার মাস্টার। বদলি খেলোয়াড় নাজমুল ইসলামের তালুবন্দি হওয়ার আগে ১০ বলে ১৪ রান করেন তিনি। পরের ওভারে বল হাতে আক্রমণে আসেন অধিনায়ক মাশরাফি বিন মর্তুজা। ক্যারিবীয় দলপতি রোভম্যান পাওয়েলকে সৌম্য সরকারের হাতে ক্যাচ দিতে বাধ্য করেন নড়াইল এক্সপ্রেস। এরপর আবার আঘাতা হানেন মোস্তাফিজ। এবার ফিজের শিকার হন রোস্টন চেজ। তামিমের হাতে ধরার পড়ার আগে ৯ রান করেন এই ক্যারিবীয় পেসার। তবে এক প্রান্ত আগলে রেখে উইন্ডিজকে জয়ের স্বপ্ন দেখাচ্ছেন শাই হোপ। দলের বিপর্যয়ে একাই লড়াই চালিয়ে যান তিনি। শুধু তাই নয়, ওয়ানডে ক্যারিয়ারের তৃতীয় সেঞ্চুরি তুলে নিয়েছেন ক্যারিবীয় এই ওপেনার। শেষ পর্যন্ত ১৪৬ রানে অপরাজিত থেকে দলকে জিতিয়ে তবেই মাঠ ছাড়লেন শাই হোপ। বাংলাদেশ হারল ৪ উইকেটে। সিরিজে সমতা ফেরাল উইন্ডিজ। এর আগে নিজেদের শততম ওয়ানডে খেলতে নামেন মাশরাফি বিন মর্তুজা, সাকিব আল হাসান, তামিম ইকবাল, মুশফিকুর রহীম এবং মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ। মাইলফলকের ম্যাচে ব্যাট হাতে জ্বলে উঠেন সাকিব, মুশফিক এবং তামিম ইকবাল। তুলে নেন হাফ সেঞ্চুরি। তাদের হাফ সেঞ্চুরিতে ভর করে ৭ উইকেটে ২৫৫ রান সংগ্রহ করে বাংলাদেশ দল। সাকিব ৬২ বলে সর্বোচ্চ ৬৫, তামিম ৬৩ বলে ৫০ এবং মুশফিক করেন ৮০ বলে ৬২ রান। উইন্ডিজের পক্ষে ওশানে থমাস সর্বোচ্চ ৩টি উইকেট শিকার করেন। এছাড়া রোভম্যান পাওয়েল, কেমার রোচ, দেবেন্দ্র বীশু ও কেমো পল একটি করে উইকেট নিয়েছেন।
ইন্ডিজকে ২৫৬ রানের লক্ষ্য দিল বাংলাদেশ
ক্রীড়া ডেস্ক: প্রথম ম্যাচে ওয়েস্ট ইন্ডিজকে হেসেখেলেই হারিয়েছে বাংলাদেশ। তাই সিরিজে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে আছে স্বাগতিকরা। আজ দ্বিতীয় ওয়ানডেতে জিতলেই নিশ্চিত হয়ে যাবে সিরিজ। এমন সমীকরণের ম্যাচে টসে হেরে ব্যাটিংয়ে নেমে শুরুটা খুব একটা ভালো না হলেও তৃতীয় ও পঞ্চম উইকেট জুটির দৃঢ়তায় শেষ পর্যন্ত ২৫৫রান গড়ে। মিরপুর শেরেবাংলা স্টেডিয়ামে ম্যাচে প্রথম ইনিংসের দ্বিতীয় ওভারে পায়ে চোট পেয়ে মাঠ ছাড়েছিলেন লিটন দাস। পরে দলীয় ১৪ রানে ইমরুল কায়েস ছয় বল খেলে নিজের ঝুলিতে কোনো রান না নিয়েই সাজঘরে ফিরলে শুরুতেই ধাক্কা লাগে বাংলাদেশের ইনিংসে। অবশ্য শুরুর এই ধাক্কা সামলান মুশফিকুর রহিম ও তামিম ইকবাল। তৃতীয় উইকেটে দুজনে ১১১ রানের জুটি গড়ে দলকে বড় সংগ্রহের পথ দেখান। পরে তামিম ৬৩ বলে ৫০ ও মুশফিক ৮০ বলে ৬২ রান করে আউট হন। পরে মাহমুদউল্লাহ ও সাকিব আল হাসান পঞ্চম উইকেটে ৬১ রান করলে আশা দেখে বাংলাদেশ। কিন্তু মাহমুদউল্লাহ ৩০ রান করে করে সাজঘরে ফেরার পর সৌম্য সরকার (৬) নেমে বেশিক্ষণ থাকতে পারেননি। পরে চোটে আক্রান্ত লিটন দাস আবার নেমে ৮ রান করে আউট হন। আর সাকিব ৬২ বলে ৬৫ রানের চমৎকার একটি ইনিংস খেললে দলের সংগ্রহটা বড় হয়। ম্যাচের বাংলাদেশ একাদশে কোনো পরিবর্তন আসেনি। সিরিজের প্রথম ওয়ানডের সব খেলোয়াড়ই দলে রয়েছেন। তবে এই ম্যাচটি বাংলাদেশের ক্রিকেটের পঞ্চপাণ্ডবের জন্য দারুণ এক কীর্তির ম্যাচ। একসঙ্গে ‘সেঞ্চুরি’ করেছেন মাশরাফি বিন মুর্তজা, সাকিব আল হাসান, তামিম ইকবাল, মুশফিকুর রহিম ও মাহমুদউল্লাহ। জাতীয় দলের সঙ্গে একসঙ্গে শততম আন্তর্জাতিক ক্রিকেট ম্যাচ খেলতে নেমেছেন তাঁরা। এই পাঁচ খেলোয়াড় এর আগে একসঙ্গে ৬৯টি ওয়ানডে, ২৯টি টি-টোয়েন্টি ও একটি টেস্ট ম্যাচ খেলেছেন। এর মধ্যে ৪৭টিতেই জিতেছে বাংলাদেশ। এই ম্যাচটির পর বাংলাদেশ দল চলে যাবে সিলেটে। সিরিজের তৃতীয় ও শেষ ওয়ানডে হবে ১৪ ডিসেম্বর সিলেট আন্তর্জাতিক স্টেডিয়ামে। এ ছাড়া তিনটি টি-টোয়েন্টি ম্যাচ হবে যথাক্রমে ১৭, ২০ ও ২২ ডিসেম্বর। প্রথম টি-টোয়েন্টি সিলেটে, বাকি দুটি হবে ঢাকায়।
সিরিজ নিশ্চিত করতে আজ মাঠে নামছে টাইগাররা
ক্রীড়া ডেস্ক: ঘরের মাঠে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে টেস্ট সিরিজের পর ওয়ানডেতেও দাপুটে শুরু করলো বাংলাদেশ। প্রথম ম্যাচে ব্যাটে-বলে দারুণ পারফরম্যান্স দেখিয়ে ৫ উইকেটের জয় পায় মাশরাফিবাহিনী। আর সিরিজ নিশ্চিত করতে আজ দ্বিতীয় ম্যাচে মাঠে নামছে টাইগাররা। মঙ্গলবার (১০ ডিসেম্বর) শেই বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে ম্যাচটি শুরু হবে বাংলাদেশ সময় দুপুর ১টায়। এদিকে চলতি বছরে টানা তিনটি ওয়ানডে সিরিজ জয়ের হ্তছানি মাশরাফিদের সামনে। দ্বিতীয় ম্যাচটি নিজেদের করে নিতে পারলেই দারুণ গন্তব্যটি ছুঁয়ে ফেলবে লাল-সবুজের অপ্রতিরোধ্য দলটি। স্টিভস রোডস শিষ্যরা বছরের প্রথম সিরিজি জয়ের সুবাস গায়ে মেখেছিলো গেল জুলাইয়ে। ওয়েস্ট ইন্ডিজ সফরে গিয়ে স্বাগতিকদের ২-১ ব্যবধানে হারের গ্লানি উপহার দিয়েছিলো। দ্বিতীয় জয়টি ধরা দিয়েছে গেল অক্টোবরে, ঘরের মাঠে। যেখানে সফরকারী জিম্বাবুয়ে উড়ে গেছে ৩-০ ব্যবধানে। তৃতীয় সিরিজ জয়ের পথে তাদের সামনে ওয়েস্ট ইন্ডিজ। যাদের বিপক্ষে প্রথম ওয়ানডেতে ৫ উইকেটের দাপুটে সেই যাত্রায় একধাপ এগিয়ে গেছে।