আর্জেন্টিনা ও আইসল্যান্ড ১-১ গোলে ড্র
শুক্রবার রাতেই আগে কত কি কীর্তি গড়লেন বর্তমান সময়ের দুই সেরা ফুটবলারের একজন ক্রিস্তিয়ানো রোনালদো। স্পেনের বিপক্ষে পর্তুগিজ এই তারকার হ্যাট্রিকের প্রথমটি গোলটি ছিল স্পটকিক থেকে। আর তৃতীয়টি ছিল অসাধারণ এক ফ্রি-কিক থেকে। শনিবার মস্কোর স্পার্তাকে আইসল্যান্ডের বিপক্ষে একই রকম সুযোগ পেয়েছিলেন আরেক বিশ্বসেরা ফুটবলার লিওনেল মেসি। পেয়েছিলেন পেনাল্টি শ্যুট। করেছিলেন বেশ কয়েকটি ফ্রি-কিকও। কিন্তু গোলের দেখা পাননি তিনি। সবচেয়ে বেশি মূল্য অবশ্য দিতে হয়েছে পেনাল্টি শ্যুট মিসের জন্য। এই গোলটি করতে পারলে বিশ্বকাপে নিজেদের প্রথম ম্যাচে জয় নিয়ে মাঠ ছাড়তে পারত আর্জেন্টিনা। কিন্তু তার বদলে পুচকে আইসল্যান্ডের বিপক্ষে ১-১- গোলের ড্র নিয়ে সন্তুষ্ট থাকতে হচ্ছে দুইবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের। এদিন ম্যাচের ১৯ মিনিটেই সার্জিও আগুয়েরোর গোলে ১-০ তে এগিয়ে যায় আর্জেন্টিনা। কিন্তু পিছিয়ে পড়ার ৪ মিনিটের মধ্যেই সেটি শোধ করে ১-১ গোলে সমতায় ফেরে আইসল্যান্ড। বিশ্বকাপে দেশের হয়ে প্রথম গোলটি করে আলফ্রেড ফিনবোগাসন। ম্যাচের ফলাফল ড্র হলেও ম্যাচ জুড়ে আধিপত্য ছিল আর্জেন্টিনারই। পুরো ম্যাচে আর্জেন্টিনার অর্ধে বল গিয়েছে আতে গোনা কয়েকবার। কিন্তু লিওনেল মেসিদের রুখে দিতে মরিয়া আইসল্যান্ড প্রতিপক্ষকে গোল দিতে খুব একটা আগ্রহ দেখায়নি এদিন। যদিও বেশ কিছু ভালো আক্রমণও তারা করেছিল। এদিন আইসল্যান্ডের বিপক্ষে ১১ শট নিয়েছেন মেসি। কিন্তু একটিও আইসল্যান্ডের জাল খুঁজে পায়নি। তবে মেসিদের রুখে দেওয়ার বড় কৃতিত্ব নিতে পারেন আইসল্যান্ডের গোলকিপার হ্যানেস থর হ্যালডরসন। তার দুর্দান্ত পারফরম্যান্সে বেশ কিছু গোল থেকে রক্ষা পায় আইসল্যান্ড। এদিন ম্যাচের ১৭তম মিনিটেই এগিয়ে যেতে পারত আর্জেন্টিনা। কিন্তু মেসির দূরপাল্লার শট আটকে দেন হ্যালডরসন। তবে তার দুই মিনিট পর আইসল্যান্ডের ডিফেন্সের জমাট বরফ ভাঙেন সার্জিও আগুয়েরো। ডি-বক্সের ভেতর থেকে বাঁ পায়ে শটে গোল করেন তিনি। বিশ্বকাপে এটি তার প্রথম গোল। কিন্তু ২৩তম মিনিটে গোল করে আর্জেন্টিনার হাসি মুছে দেন আলফ্রেড ফিনবোগাসন। বিশ্বকাপে দেশের হয়ে প্রথম গোল করে অনন্য এক ইতিহাসে নাম লেখান তিনি। ১-১ গোলে সমতায় ফেরে আইসল্যান্ড। গোল খেয়ে আক্রমণের ধার বাড়িয়ে দেয় মেসিরা। কিন্তু কোনভাবেই গোলের দেখা পায় না। এর মধ্যে ম্যাচের ৬৫ মিনিটে পেনাল্টি পায় আর্জেন্টিনা। স্পটকিক নেন মেসি নিজে। কিন্তু ডান পাশে ঝাঁপিয়ে পড়ে মেসির পেনাল্টি শট রুখে দেন আইসল্যান্ডের গোলকিপার। জাতীয় দলের জার্সি গায়ে এ নিয়ে চতুর্থবারের মতো পেনাল্টি শ্যুট মিস করলেন মেসি। এরপর বাকি সময়টা একের পর এক আক্রমণ করেও গোলের দেখা না পাওয়ায় ১-১ গোলে ড্র নিয়ে মাঠ ছাড়তে হয় মেসিদের।
সৌদিকে উড়িয়ে স্বাগতিক রাশিয়ার শুভ সূচনা
২১তম বিশ্বকাপের আয়োজক দেশ হিসেবে রাশিয়ায় রঙ লেগেছিল অনেক আগে থেকেই। বৃহস্পতিবার মস্কোর লুঝনিকি স্টেডিয়ামে বর্ণিল উদ্বোধণী অনুষ্ঠানের মধ্যদিয়ে সেই রঙ ছড়িয়ে পড়লো পুরো বিশ্ব জুড়ে। কিন্তু আসল পর্ব তো শুরু মাঠের লড়াই দিয়ে। যেখানে স্বাগতিক রাশিয়ার শুরুটা হলো মনে রাখার মতো। সৌদি আরবকে ৫-০ গোলে রীতিমতো উড়িয়ে দিয়েছে দলটি। আয়োজক রাশিয়ার বিশ্বকাপ উৎসবের শুরুটা শতভাগ বর্ণিল না বলে উপায় কি! বিশ্বকাপের ম্যাচ নিয়ে যতোটা আকর্ষণ থাকে সবার, রাশিয়া-সৌদি আরব ম্যাচ আসলে সেই আকর্ষণের মানদন্ডে ছিল না। কিন্তু তারপরও বিশ্বকাপের উদ্বোধনী ম্যাচ বলে কথা। রাশিয়ার জন্য সৌদি আরব মোটেও সহজ প্রতিপক্ষও ছিল না। ম্যাচের ফলটি তাই গুরুত্বপূর্ণ ছিল খুব। রাশিয়া হোঁচট খেলে যে ২১তম বিশ্বকাপের শুরুটা রঙই হারাতো। স্বাগতিকদের গোমরা মুখে শুরু হতো বিশ্বকাপ। কিন্তু ইতিহাস বলছে বিশ্বকাপের উদ্বোধনী ম্যাচে স্বাগতিক দেশ কখনো হারেনি। রাশিয়া বিশ্বকাপেও তার ব্যতিক্রম কিছু হয়নি। বরং রুশ খেলোয়াড়রা এমন এক উপলক্ষকে রাঙালেন দারুণভাবে। তাদের দাপুটে খেলার কাছে ভেঙে পড়ল সৌদির সব পরিকল্পনা। পাঁচ পাঁচ বার সৌদি আরবের জালে বল প্রবেশ করালেন রাশিয়ান খেলোয়াড়রা। প্রথমার্ধে ২-০ গোলে লিড নেওয়া পর দ্বিতীয়ার্ধে করলেন আরো তিন গোল। জোড়া গোল করেছেন ডেনিস চেরিশিভ। বাকী গোল তিনটি এসেছে ইউরি গাজিনস্কি, আর্টেম জুবা ও রোমান জোবনিনের পা থেকে। এবারের বিশ্বকাপে প্রথম গোল করে ইতিহাসে নাম লিখেন ইউরি গাজিনস্কি।
আজ রাত ৯টায় বিশ্বকাপে মুখোমুখি হবে রাশিয়া ও সৌদি আরব
চার বছরের অপেক্ষার পালা শেষ। আজ বৃহস্পতিবার শুরু হচ্ছে ‘গ্রেটেস্ট শো অন আর্থ’ তথা ফুটবল বিশ্বকাপের একবিংশতম আসর। স্বাগতিক রাশিয়া ও সৌদি আরবের মধ্যকার ম্যাচ দিয়ে পর্দা উঠবে রাশিয়া বিশ্বকাপের। বাংলাদেশ সময় বৃহস্পতিবার রাত ৯টায় মস্কোর লিঝনিকি স্টেডিয়ামে মুখোমুখি হবে দল দুইটি। সবচেয়ে দুর্বল দুইটি দলের ম্যাচের মধ্য দিয়ে গোড়াপত্তন হচ্ছে বিশ্বকাপের এবারের আসরের। ২০১৮ বিশ্বকাপে অংশ নেওয়া ৩২ দলের মধ্যে ফিফা র‌্যাঙ্কিংয়ে সবার নিচে আছে রাশিয়া। তাদের র‌্যাঙ্কিং ৭০। তাদের থেকে তিন ধাপ এগিয়ে সৌদি আরব রয়েছে ৬৭তম স্থানে। আয়োজক হিসেবে সরাসরি বিশ্বকাপে অংশ নেওয়ার সুযোগ পেয়েছে রাশিয়া। তাদের বাছাইপর্ব খেলতে হয়নি। তবে বিশ্বকাপের ময়দানি লড়াইয়ে মাঠে নামার আগে তাদের প্রীতি ও প্রস্তুতি ম্যাচের অভিজ্ঞতা সুখকর ছিল না। সবশেষ সাত ম্যাচের একটিতেও জয় পায়নি তারা। তারপরও এই দলটিকে নিয়ে আশাবাদী রাশিয়ার কোচ স্তানিসলাভ চেরিসভ। কারণ প্রথমবারের মতো রাশিয়া তাদের ঘরের মাঠে বিশ্বকাপ খেলতে যাচ্ছে। সে কারণে দলটিকে ঘিরে স্বাগতিক দেশের মানুষের প্রত্যাশা আকাশচুম্বী। খেলোয়াড়রাও বেশ উজ্জীবিত। ঘরের মাঠে নিজ দর্শকদের আকুণ্ঠ সমর্থন নিয়ে তারা সৌদি আরবের বিপক্ষে জয় দিয়ে বিশ্বকাপ শুরু করার প্রত্যাশা করতেই পারে। প্রত্যাশা করতে পারে বিশ্বকাপে তাদের সেরা সাফল্য পাওয়ার। ঘরের মাঠে সৌদি আরবের বিপক্ষে ড্র হতে পারে রাশিয়ার জন্য ভয়াবহ ফল। কারণ ‘এ’ গ্রুপে তাদের জন্য অপেক্ষাকৃত দুর্বল দল সৌদি আরব। অপর দুই দল মিসর ও উরুগুয়ে। ফিফা র‌্যাঙ্কিংয়ে মিসর রয়েছে ৪৫তম স্থানে। তাদের রয়েছে মোহাম্মদ সালাহ ও সাঈদের মতো তারকা ফুটবলার। আর উরুগুয়ে তো এই গ্রুপের হট ফেভারিট। ফিফা র‌্যাঙ্কিংয়ে তারা রয়েছে চতুর্থদশতম স্থানে। তাদের রয়েছে লুইস সুয়ারেজ, এডিনসন কাভানিদের মতো বড় মাপের তারকা। তাদের বিপক্ষে রাশিয়া জয় পেলে সেটা অঘটন হিসেবেই ধরে নেবে ফুটবল বোদ্ধারা। আজ সৌদি আরবের বিপক্ষে জয় পেলে পরের রাউন্ডে যাওয়ার ক্ষেত্রে তারা রাশিয়া এগিয়ে থাকবে। ইতিহাস ঘাটলে দেখা যায় এর আগে চারটি আয়োজক দেশ সেমিফাইনাল পর্যন্ত খেলেছিল। সেই তালিকায় আছে ফ্রান্স, জার্মানি, ব্রাজিল ও দক্ষিণ কোরিয়া। স্বাগতিক রাশিয়া অনুপ্রেরণা নিতে পারে দক্ষিণ কোরিয়ার কাছ থেকে। ১৬ বছর আগে তারা আয়োজক দেশ হিসেবে সেমিফাইনাল পর্যন্ত খেলেছিল। এদিকে সৌদি আরব ১২ বছর পর আবার বিশ্বকাপে এসেছে। সবশেষ তারা ২০০৬ বিশ্বকাপে খেলেছিল। তাদের দলটি নতুন খেলোয়াড়দের নিয়ে গঠিত। এই দল নিয়ে সৌদি আরব বেশি আশাবাদী। ১৯৯৪ সালে বিশ্বকাপে অভিষেক হয়েছিল সৌদি আরবের। তারপর আরো তিনবার বিশ্বকাপে খেলেছে তারা। এ নিয়ে পঞ্চমবারের মতো বিশ্বকাপে খেলতে যাচ্ছে সৌদি। বিশ্বকাপে তাদের সর্বোচ্চ সাফল্য শেষ ষোলো। যাইহোক উদ্বোধনী আসরে তলানির দুই দলের লড়াই হলেও উদ্বোধনী ম্যাচটি যে হাড্ডাহাড্ডি হবে সেটা কিন্তু অনুমেয়।
বিশ্বকাপ ফুটবল শুরু আজ
বিশ্বকাপ ফুটবল- দ্য গ্রেট শো অন আর্থ। উত্তেজনার পারদ এখন তুঙ্গে। ৮ বছর চলে গেছে, তবুও বিতর্ক থেমে নেই। গত কয়েক মাস ধরে আবারো বিশ্ব কাপ ফুটবল নিয়ে সরব হয়ে ওঠেছে বিশ্ব। বিশ্বকাপ ফুটবল হবে কি হবে না এ নিয়ে সংশয় ছিল। সবকিছু সরিয়ে দিয়ে কাল উদ্বোধন। বল মাঠে গড়াতে যাচ্ছে বৃহস্পতিবার রাত ৯টায়। ফিফা বিশ্বকাপ ফুটবল আমাদের অনেক কিছুই দিয়েছে। দিয়েছে পরতে পরতে নাটকীয়তা, উন্মাদনা, অনেক কাহিনীর গল্পকথা। অতীতে বিশ্বকাপ ফুটবল দিয়েছে ম্যারাডোনার হ্যান্ড অব গড, রবার্তো ব্যজিওর পেনাল্টি মিস উপাখ্যান,জিনেদিনে জিদানের মাথা দিয়ে ধাক্কা শিল্পের বর্বরতা, সবকিছুই পিছনে ফেলে এখন আবার নতুন কাব্য লিখতে প্রস্তুত পুরো বিশ্ব। রাশিয়া বিশ্বকাপ নিয়ে একটিই সমস্যা। দীর্ঘদিন ধরে চলতে থাকা সমালোচনা যেন শেষই হতে চায় না। তবুও শেষ ভালো তার সব ভাল যার। বিশ্বের কোয়ালিফাই করা সব দেশগুলো এখন উপস্থিত রাশিয়ায়। কে নেবে এবারের বিশ্বকাপ। বৃহস্পতিবার উদ্বোধনী ম্যাচে রাশিয়া লড়বে সৌদি আরবের সাথে। এবারের বিশ্বকাপ মিস করছে ইতালি, নেদারল্যান্ড চিলির মতো দেশগুলো। চার বছর আগে জার্মানির কাছে ৭-১ গোলে নাস্তানাবুদ হওয়া ব্রাজিল কি প্রতিশোধ নিতে পারবে শিরোপা জিতে। মেসি, রোনালদো, নেইমার- কে বেশি আলো ছড়াবেন সে অপেক্ষায় পুরো বিশ্ব। ইংল্যান্ড, তারুণ্য নির্ভর যুব ফুটবলারদের নিয়ে এসেছে বিশ্বকাপে। তারা অনেকদিন হলো শিরোপার মুখ দেখেনি। তারা শিরোপার অন্যতম দাবি নিয়ে এসেছে। তবে বরাবরের মতো এবারো ফেবারিট ব্রাজিল,জার্মানি, ফ্রান্স,আর্জেন্টিনা, ইংল্যান্ড, স্পেন।
কয়েক ঘন্টা পরই বিশ্বকাপের পর্দা উঠবে
আর মাত্র কয়েক ঘন্টা। এরপরই ফুটবল প্রেমিদের দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান হচ্ছে। জমকালো উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের মধ্যে দিয়ে রাশিয়ার লুঝনিকি স্টেডিয়ামে পর্দা উঠছে ২১তম ফুটবল বিশ্বকাপের। এটিই এবারের বিশ্বকাপে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভেন্যু। বছরখানেক আগে ৩৫০ বিলিয়ন ইউরো ব্যায়ে শেষ হয়েছে এর সংস্কারকাজ। এখন যা পুরোপুরি তৈরি ‘দ্য গ্রেটেস্ট শো অন আর্থ’-এর জন্য। ৩২ টি দেশ নিয়ে বৃহস্পতিবার বাংলাদেশ সময় সন্ধ্যা ৭টায় পর্দা উঠবে বিশ্বকাপের ২১তম আসরের। এর পরই রাত ৯টায় মাঠে গড়াবে বল। উদ্বোধনী ম্যাচে মুখোমুখি হবে স্বাগতিক রাশিয়া ও সৌদি আরব। লুঝনিকি স্টেডিয়ামে এ ম্যাচটি ছাড়াও হবে একটি সেমিফাইনাল ও ফাইনালসহ মোট ৭টি ম্যাচ। আজ থেকে আট বছর আগে ২০১০ সালের ডিসেম্বরে রাশিয়ার মাটিতে বিশ্বকাপ আয়োজনের সিদ্ধান্ত হয়। যদিও তা নিয়ে বির্তক ছিল আগ্রহী বাকি দেশগুলোর মধ্যে ছিল। এ তালিকার প্রথমেই ছিল ইংল্যান্ড। যারা বাদ পড়ে যায় ভোটাভুটির প্রথম পর্বে। দেশটির সাবেক প্রধানমন্ত্রী ডেভিড ক্যামেরন তো অভিযোগ তোলেন, দুর্নীতির মাধ্যমে স্বাগতিক হওয়ার অধিকার আদায় করেছে রাশিয়া। সাবেক ফিফা প্রেসিডেন্ট সেপ ব্লাটার পর্যন্ত পরবর্তী সময়ে স্বীকার করেছেন, ভোটের আগেই নির্ধারিত হয়ে যায়, ২০১৮ বিশ্বকাপ ফুটবল হবে রাশিয়ায়। এরআগে ১৯৮০ সালে লুঝনিকি স্টেডিয়ামে অলিম্পিকের উদ্বোধনী ও সমাপনী অনুষ্ঠান হয়েছিল। এরপর ব্যাপক পরিচিতি পেয়েছিল ৬২ বছর আগে নির্মিত এ স্টেডিয়ামটি। দেশটির প্রথম প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির লেনিনের নামেই প্রথম নামকরণ করা হয়েছিল এ স্টেডিয়ামের। ১৯৯২ সালের পর স্টেডিয়ামের নাম হয় ‘লুঝনিকি’। মস্কোভো নদীর বাঁকে জন্মানো সুগভীর তৃণক্ষেত্র থেকে ‘লুঝনিকি’ নামটির উৎপত্তি। ২১তম বিশ্বকাপের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের ব্যাপ্তি মাত্র ৩০ মিনিট। বিশ্বকাপের থিম সং ‘লিভ ইট আপ’-এর মধ্যে দিয়ে শুরু হবে মূল মহড়ন। থিম সং নিয়ে সবার সামনে হাজির হবেন উইল স্মিথ এবং নিকি জ্যাম। উদ্বোধনী মঞ্চে বিশ্বখ্যাত দুই শিল্পী রবি উইলিয়ামস ও আইদা গারিয়ুফুলিনার সঙ্গে উপস্থিত থাকবেন ব্রাজিলীয় ফুটবল গ্রেট রোনালদোও। এদিকে রাশিয়ান স্থানীয় তারকাদের নানা রকম আয়োজনে মাতবে পুরো গ্যালারি। অনুষ্ঠানের পাশাপাশি তুলে ধরা হবে রাশিয়ার সংস্কৃতির বিভিন্ন দিক। পুরো গ্যালারির সামনে জিমন্যাস্ট এবং ট্র্যামপোলিনিস্টরাও পারফর্ম করবেন। বিশ্বকাপের আগের আসরের মতো এবারও রোমাঞ্চের কমতি নেই। সব কিছুর পরও রয়েছে চাপা সংশয়। কিন্তু সব কিছু ছাপিয়ে রাশানরা ঠিকই দারুণ একটি বিশ্বকাপ উপহার দেবে। এমনটাই বিশ্বাস আয়োজকদের।
সেই রবি উদ্বোধনী মঞ্চে!
মাত্র দুই বছরে কিভাবে সবকছিু পাল্টে যাওয়ার অপেক্ষায়! নাকি বিশ্বকে নতুন বার্তা দিতে চাচ্ছে রাশিয়া? বিশ্ব মাতাতে সব প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে লেলিনের দেশ। তারই অংশ হিসেবে বিশ্বকাপের উদ্বোধনী অনুষ্ঠান মাতাতে নিয়ে আসা হচ্ছে বৃটিশ পপ গায়ক রবি উইলিয়ামসকে। সেই উইলিয়ামস, যার গানের উপর নিষেধাজ্ঞা জারির দাবিতে বছর দুই আগেই সরব হয়েছিল রাশিয়ার গণমাধ্যম। হয়েছিল প্রতিবাদ সভাও। বিশ্ব খ্যাত এই পপ গায়কের প্রকাশিত দ্য বুটস ইন অ্যালবামে এমন কিছু শব্দ ব্যবহার করা হয়েছিল যাতে অপমানিত বোধ করেছিলেন রাশিয়ানরা। সেই রবিই থাকবেন উদ্বোধনী মঞ্চে রোনালদোর সঙ্গে। আগামীকাল রাশিয়া বনাম সউদী আরব ম্যাচ শুরু হওয়ার আধা ঘন্টা আগে হবে একটি সংক্ষিপ্ত উদ্বোধনী অনুষ্ঠান। ম্যাচ শুরু হবে বাংলাদেশ সময় রাত নটায়। তার মানে রাত সাড়ে আটটার দিকে লুঝনিকি স্টেডিয়ামের আশি হাজার দর্শককে সুরের মুর্ছনায় বাধবেন রবি। এসময় একমাত্র ফুটবলার হিসেবে তার পাশে থাকবেন ব্রাজিলের সাবেক তারকা রোনালদো। আগের সূচিতে সামান্য রদবদল করে করা হয়েছে এই সূচি। পরশু ফিফার পক্ষ থেকে এমনটিই জানানো হয়েছে। রবি ছাড়াও গানে গানে মঞ্চ মাতাতে দেখা যাবে রাশিয়ার যুব সমাজের জনপ্রিয় গায়িকা আইদা গ্যারিফ্লনাকে। আর স্বাগতিক হিসেবে অনুষ্ঠানে রাশিয়ান সাস্কৃতির ছোঁয়া তো থাকবেই। নিজেদের ইতিহাসে দ্বিতীয়বারের মত বিশ্বের সর্ববৃহৎ ক্রীড়াজজ্ঞের আয়োজন করতে যাচ্ছে রাশিয়া। ১৯৮০ সালে মস্কো অলিম্পিকের পর এই প্রথম বড় কোন ক্রীড়াজজ্ঞ বসছে লেলিনের দেশে। এখন পর্যন্ত সব ঠিকঠাক আছে বলেই মনে হচ্ছে। রাশিয়ার বিরধী দেশগুলো নিরাপত্তা নিয়ে নানান বাহানা করলেও এখন পর্যন্ত এমন কোন আলামত পাওয়া যায়নি। লুঝনিকিও বিশ্ব মাতাতে প্রস্তুত। শেষবারের মত টানা হচ্ছে তুলির আচড়। মাঠের ঘাস কেটে ফুটিয়ে তোলা হচ্ছে রাশিয়া নামটি। যারা উদ্বোধনী অনুষ্টানের টিকিট পাননি তাদের জন্য মাঠের বাইরে সংযুক্ত করা হয়েছে বিশাল পর্দা। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানেই একটা বার্তা পাওয়া যায় বৈকি বাকি কাজটাও সংগঠকরা কিভাবে সম্পন্ন করতে পারবেন। তবে রবি ও আইদা কিভাবে বিশ্বকে মুগ্ধতায় মাতাবেন সেটাই মূলত রয়েছে আগ্রহের কেন্দ্রবিন্দুতে। দুজনই অবশ্য প্রতিশ্রতি দিয়েছেন ভক্তদের মোহিত করার। রবি বলেছেন, রাশিয়ায় এসে ফের গান শোনাবার সুযোগ পাচ্ছি এবং সেটা দুর্দান্ত একটি অনুষ্ঠানে এটা আমার কাছে বিরাট ব্যাপার। এটা যেন স্বপ্ন ছোঁয়ার মতো ব্যাপার। আমি এমন কিছু শোনাব যা সারা বিশ্ব মনে রাখবে। আর আইদার মন্তব্য, আমার কল্পনাতেও কখনও আসেনি যে বিশ্বকাপের মঞ্চে নিজেকে কোনওদিন মেলে ধরতে পারব। আমাদের দেশে বিশ্বকাপ। সেখানে উদ্বোধনের দিন গান করার সুযোগ। এমন কিছু করতে হবে যাতে সবাই মনে রাখে। তবে রবির মত বিতর্কিত তারকাকে এনে উদ্বোধনী অনুষ্ঠান ভদিমির পুতিনের দেশ কিভাবে সামাল দেন এর উপর নির্ভর করছে অনেক কিছুই। এটাও হতে পারে, প্রবল আলোচনা সত্তেও বিতর্কিত রবিকে নিয়ে আসা মানে বিশ্বের সামনে রাশিয়াকে উন্মুক্ত করে দেয়ার এক বহিপ্রকাশ।
যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে উ.কোরিয়ার নতুন সম্পর্কের আভাস
কোরীয় উপদ্বীপের সমাজতান্ত্রিক দেশটির রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে নতুন সম্পর্ক স্থাপনের কথা ভাবছে উত্তর কোরিয়া। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে উত্তর কোরিয়ার নেতা কিম জং উনের ঐতিহাসিক সম্মেলনের একদিন আগে দেশ দুটির মধ্যে নতুন সম্পর্কের এমন আভাস এলো। আগামীকাল মঙ্গলবার সিঙ্গাপুরের সেনতোসা দ্বীপে তাদের এই বৈঠক হতে যাচ্ছে। ইতোমধ্যে রোববার সন্ধ্যায় সিঙ্গাপুর পৌঁছেছেন দুই নেতা। যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে গত কয়েক দশক ধরে উত্তর কোরিয়ার সম্পর্ক বেশ বৈরি। দেশ দুটির মধ্যে নতুন সম্পর্কের ইঙ্গিত সেই বৈরি সম্পর্ক উন্নয়নেরই পূর্বাভাস। সিঙ্গাপুর পৌঁছে ট্রাম্প এই টুইটার বার্তায় জানান, সিঙ্গাপুরে পৌঁছতে পেরে খুব ভালো লাগছে। চারদিকে উদ্দীপনা কাজ করছে। বহুলপ্রত্যাশিত এই সম্মেলন নিয়ে খুব ভালো অনুভব করছেন বলেও জানান ট্রাম্প। ট্রাম্প আশা প্রকাশ করেন, এই সম্মেলনের মধ্যে দিয়ে একটি পথ সৃষ্টি হবে, যা অবশেষে পরমাণু অস্ত্রমুক্ত উত্তর কোরিয়ার জন্ম দেবে।
ফাইনালে শিরোপা জিতে আমরা খুব খুশি: সালমা
এশিয়া কাপের গত ছয় আসরে চ্যাম্পিয়ন ভারত। দলটি এশিয়ান ক্রিকেটে অন্যতম শক্তিশালী। পাকিস্তান-শ্রীলংকার মতো দলকে বলে কয়েই হারিয়ে দেয় ভারত। ভারত-পাকিস্তান এবং শ্রীলংকার তুলনায় বাংলাদেশ নারী ক্রিকেট দল নামে মাত্র। সদ্য শেষ হওয়া এশিয়া কাপে খেলতে যাওয়ার ঠিক আগে দক্ষিণ আফ্রিকা সফরে গিয়ে তিন ম্যাচের টি-টোয়েন্টি সিরিজে ধবল ধোলাই হয় সালমা খাতুনের নেতৃত্বাধীন দলটি। যে কারণে মালয়েশিয়ায় অনুষ্ঠিত এশিয়া কাপে অংশ নিতে যাওয়ার আগে তেমন কোনো প্রত্যাশা ছিলো না সালমাদের কাছে। ক্রিকেট বোর্ডের বাড়তি প্রত্যাশা না থাকায় স্বাধীনভাবেই খেলার রসদ পান সালমা-জাহানারারা। আর সেই স্বাধীনতাই তাদের স্বপ্নপূরণে সহায়ক হয়েছে। এশিয়া কাপের হট ফেবারিট ভারতকে তিন উইকেটে হারিয়ে প্রথমবারের মতো শিরোপা নিশ্চিত করেছে বাংলাদেশ নারী ক্রিকেট দল। রোববার মালয়েশিয়ায় শক্তিশালী ভারতকে ৩ উইকেটে হারিয়ে এশিয়া কাপের শিরোপা নিশ্চিত করার পর বাংলাদেশ নারী দলের অধিনায়ক সালমা খাতুন বলেন, টুর্নামেন্টে আমাদের হারানোর কিছু ছিল না। ভারতের ছিল অনেক। এখানে আমাদের অনেক কিছুই পাওয়ার ছিল। শিরোপা জয়ের মধ্য দিয়ে আমরা আমাদের স্বপ্ন পূরণ করতে সক্ষম হয়েছি। টুর্নামেন্টের প্রথম ম্যাচে শ্রীলংকার বিপক্ষে আগে ব্যাট করে ৬৩ রানে অলআউট হয়ে যাওয়া বাংলাদেশ ৬ উইকেটে হেরে যায়। সেই অবস্থা থেকে সফল ভাবেই ঘুরে দাঁড়ায় সালমা খাতুনের নেতৃত্বাধীন দলটি। এশিয়া কাপের শিরোপা জয়ের পর সালমা খাতুন বলেন, টুর্নামেন্টে আমাদের শুরুটা ভালো হয়নি। তবে পরের ম্যাচগুলোতে আমরা ভালোভাবেই ঘুড়ে দাঁড়াতে সক্ষম হয়েছি। ফাইনালে শিরোপা জিতে আমরা খুব খুশি। আমাদের এখন একটাই লক্ষ্য এই পারফরম্যান্সের ধারাবাহিকতা ধরে রাখা।
ইতিহাস গড়ে এশিয়া কাপে চ্যাম্পিয়ন বাংলাদেশ
দেরাদুনে সাকিব আল হাসানরা বাংলাদেশের ক্রিকেটকে বিব্রতকর পরিস্থিতির মধ্যে ফেলে দিয়েছে। অন্যদিকে, মালয়েশিয়া থেকে মেয়েরা দিল বড় সুখবর। এ যেন ঈদের আগে আরেক ঈদের আনন্দ। প্রথমবার এশিয়া কাপে ইতিহাস রচনা করে চ্যাম্পিয়ন হয়েছে বাংলাদেশের মেয়েরা। রোববার ফাইনালে ভারতকে ১১২ রানেই থামিয়ে দিয়েছে বাংলাদেশের মেয়েরা। জবাবে বাংলাদেশ ৭ উইকেট হারিয়ে জয়ের লক্ষ্যে পৌঁছে যায়। বাংলাদেশ ক্রিকেট ইতিহাসে সর্বোচ্চ সাফল্য এটি। এরআগে বাংলাদেশের মেয়েদের শিরোপা জয় তো দূরের কথা কখনো ফাইনালেই উঠতে পারেনি। এর আগে যে ছয়বার এশিয়া কাপ হয়েছে। সবগুলোই নিয়ে গেছে ভারত। এবার প্রথম পর্বে ভারতকে হারানো দেখেই বোঝা গিয়েছিল সালমার দল অন্যরকম কিছুই ঘটাতে চলেছে। শেষ অবধি হলোও তাই। মেয়েদের ক্রিকেটে শক্তিধর ভারতকে হারিয়ে এশিয়া কাপ জয় করল মেয়েরা। এই জয়ে ছেলেদের ক্রিকেটের দুর্দশা সামান্য হলেও মুছবে। মজার ব্যাপার, বাংলাদেশের ফুটবল যখন ধুকছিল ঠিক তখনেই সামনে এসেছিল মেয়েররা। তাদের একের পর এক সাফল্যে ছেলেদের ব্যর্থতা খানিকটা আড়াল হয়। একইভাবে ক্রিকেটেও যখন গর্তে পড়েছে জাতীয় দল ঠিক তখনই মেয়েদের এশিয়া জয় বাংলাদেশের মানুষকে পুলকিত করছে। ঠিক মতো সুযোগ সুবিধা দিলে এই মেয়েরা যে আরো বড় সম্মান বয়ে নিয়ে আসবে সেটি এখন পানির মতো পরিস্কার। এদিন ১১৩ রানের লক্ষ্যে ব্যাট করতে নেমে বাংলাদেশকে দারুন শুরু এনে দেন দুই ওপেনার শারমিন সুলতানা আর আয়েশা খাতুন। দুজনে মিলে তোলেন ৩৫ রান। আয়েশাকে (১৭) হারানোর পরপরই বাংলাদেশ হারায় অপর ওপেনার শারমিনকে (১৬)। এরপর খানিকটা দিকভ্রান্ত হয়ে পড়ে বাংলাদেশ। তবে দলকে টেনে নিয়ে যান নিগার সুলতানা (২৭) ও রুমানা আহমেদ (২৩)। তবুও ম্যাচটি শেষ ওভার অবধি গড়ায়। যেখানে স্নায়ুচাপের পরীক্ষা দিয়ে বাংলাদেশকে জিতিয়েছেন জাহানারা আলম। শেষ বলে দরকার ছিল ২ রান। এক বলে ২ রানই নিয়েছেন এই পেসার। ম্যাচসেরা হয়েছেন রুমানা আহমেদ। এরআগে নির্ধারিত ২০ ওভারে ৯ উইকেটে ১১২ রানে তোলে ভারত। টসে জিতে বোলিংয়ে নেমে চতুর্থ ওভারেই ভারতীয় ওপেনার স্মৃতি মন্দনাকে(৭) রান আউট করেন সালমা। ভারতের রানের চাকাও শুরুতে ভালোই আটকে রাখে বাংলাদেশ। প্রথম ৫ ওভারের মধ্যে ২৩টি বল ‘ডট’ দিয়েছে বোলারেরা। রান তোলার চাপে পড়ে সপ্তম ওভারে দীপ্তি শর্মাকেও (৪) হারায় ভারত। তাঁকে সরাসরি বোল্ড করেন জাহানারা। ভারতের স্কোর তখন ৬.৪ ওভারে ২ উইকেটে ২৬। এখান থেকে ৬ রানের ব্যবধানে ভারতের আরও ২টি উইকেট তুলে নিয়েছে মেয়েরা। সাত, আট ও নয়-এই তিন ওভারে ৩ উইকেট হারায় ভারত। দীপ্তি ফিরে যাওয়ার পরের ওভারেই ওপেনার মিতালি রাজকে (১১) তুলে নেন খাদিজা। নবম ওভারে আনজুয়া পাতিল (৩) আউট হয়েছেন নিজের দোষে। ৮.২ ওভারে রান নিতে গিয়ে নিজের প্রান্তে ফেরার সময় উইকেটরক্ষকের থ্রো দেখে তিনি উইকেট ঢেকে দৌড়ান। সালমারা ‘অবস্ট্রাক্টিং দ্য ফিল্ড’ আউটের আবেদন করলে টেলিভিশন রিপ্লে দেখে আউট ঘোষণা করেন থার্ড আম্পায়ার। ১৩তম ওভারে ভেদা কৃঞ্চমূর্তিকেও তুলে নেন অধিনায়ক সালমা। তাঁকে বোল্ড আউট করেন এই স্পিনার। ১৫তম ওভারে একাই ২ উইকেট তুলে নেন রুমানা আহমেদ। খাদিজার করা শেষ ওভারের প্রথম বলে রান আউটের শিকার হন ভারতের পেসার ঝুলন গোস্বামি। সতীর্থরা এক প্রান্তে তেমন ভালো করতে না পারলেও দলের ইনিংসটা বলতে গেলে একাই টেনেছেন ভারতের অধিনায়ক হারমনপ্রীত কাউর। ৪১ বলে ৫৬ রানের ইনিংস খেলেন তিনি। বাংলাদেশের হয়ে সবচেয়ে সফল খাদিজা ও রুমানা। দুজনেই ২টি করে উইকেট নেন। ভারতের রানের চাকা আটকে রাখায় দারুণ অবদান রেখেছেন নাহিদা আক্তার ও সালমা খাতুন। ১ উইকেট নেওয়া সালমা ১৩টি ‘ডট’ দিয়েছেন। নাহিদা উইকেট না পেলেও ১৬টি ‘ডট’ দিয়েছেন।