বুধবার, ডিসেম্বর ১৩, ২০১৭
১৯৫ রানেই অলআউট ইংল্যান্ড
১৭ বল আর ১০ রানে শেষ ৪ উইকেট হারিয়ে ব্রিসবেন টেস্টে দ্বিতীয় ইনিংসে ১৯৫ রানেই অলআউট হয়েছে ইংল্যান্ড। অ্যাশেজের প্রথম টেস্ট জিততে অস্ট্রেলিয়াকে করতে হবে ১৭০ রান। তৃতীয় দিনের ২ উইকেটে ৩৩ রান নিয়ে আজ চতুর্থ দিন শুরু করেছিল ইংল্যান্ড। মার্ক স্টোনম্যানকে (২৭) ফিরিয়ে অস্ট্রেলিয়াকে দিনের প্রথম সাফল্য এনে দেন স্পিনার নাথান লায়ন। ওই লায়নের বলেই দ্রুত ফেরেন ডেভিড মালানও (৪)। দুজনই ক্যাচ দেন স্টিভ স্মিথকে। ২ উইকেটে ৬২ থেকে ইংল্যান্ডের স্কোর তখন ৪ উইকেটে ৭৪! ৫ রান নিয়ে দিন শুরু করা জো রুট তুলে নিয়েছিলেন ফিফটি। কিন্তু এরপর আর ইনিংস বড় করতে পারেননি ইংলিশ অধিনায়ক। ৫১ রান করা রুটকে এলবিডব্লিউ করেন পেসার জশ হ্যাজেলউড। ষষ্ঠ উইকেটে ৪২ রানের জুটি গড়েছিলেন মঈন আলী ও জনি বেয়ারস্টো। লায়নের বলে টিম পাইনের হাতে মঈন (৪০) স্টাম্পড হয়ে গেলে ভাঙে এ জুটি। সপ্তম উইকেটে ক্রিস ওকসকে সঙ্গে নিয়ে ৩০ রানের জুটি গড়েন বেয়ারস্টো। কিন্তু এ জুটি ভাঙার পর ইংল্যান্ডের লেজ গুটিয়ে যেতে খুব একটা সময় লাগেনি। মিচেল স্টার্ক একই ওভারে ফিরিয়ে দেন বেয়ারস্টো (৪২) ও স্টুয়ার্ট ব্রডকে। পরের ওভারে জেক বলকে ফিরিয়ে সফরকারীদের ইনিংসের ইতি টানেন প্যাট কামিন্স। এর আগে ওকসকে (১৭) ফেরান স্টার্ক। চা বিরতির পর লক্ষ্য তাড়া করতে নেমেছে অস্ট্রেলিয়া। এর আগে প্রথম ইনিংসে ইংল্যান্ডের ৩০২ রানের জবাবে স্মিথের অপরাজিত সেঞ্চুরিতে অস্ট্রেলিয়া করেছিল ৩২৮।
২৪ নভেম্বর থেকে চট্টগ্রামে বিপিএল
সিলেটে-ঢাকা মাতিয়ে এবার বন্দর নগরী চট্টগ্রামে যাচ্ছে বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগের (বিপিএল) পঞ্চম আসর। সে জন্য ২২ এবং ২৩ নভেম্বর বিপিএলের কোনো খেলা মাঠে গড়াবে না। ২৪ নভেম্বর থেকে চট্টগ্রামের জহুর আহমেদ চৌধুরী স্টেডিয়ামে শুরু হবে বিপিএল তৃতীয় পর্ব। যাত্রা দিনের প্রথম ম্যাচে খুলনা টাইটানসের মুখোমুখি হবে রংপুর রাইডার্স। দ্বিতীয় ম্যাচে ঘরের দল চিটাগং ভাইকিংস খেলবে সিলেট সিক্সার্সের বিপক্ষে। ২৯ নভেম্বর পর্যন্ত খেলা চলবে চট্টগ্রামের মাটিতে। ২ ডিসেম্বর দ্বিতীয়বারের মতো ঢাকায় ফিরে ১২ ডিসেম্বর পর্দা নামবে বিপিএলের। দুই পর্ব শেষে পয়েন্ট টেবিলের শীর্ষে আছে তামিম ইকবালের দল কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ানস। তাদের পয়েন্ট ৬ ম্যাচে ১০। দুইয়ে আছে সাকিব আল হাসানের ঢাকা ডায়নামাইটস। ৮ ম্যাচে ৯ পয়েন্ট রয়েছে তাদের ঝুলিতে। তিন নম্বর জায়গাটা দখলে নিয়েছে মাহমুদউল্লাহ রিয়াদের খুলনা টাইটানস। ৭ ম্যাচে ৯ পয়েন্ট তাদের। চারে আছে নাসির হোসেনের সিলেট সিক্সার্স। তাদের নামের পাশে আছে ৭ পয়েন্ট। পাঁচ, ছয় এবং সাতে যথাক্রমে রংপুর রাইডার্স (৬ ম্যাচে ৬ পয়েন্ট), রাজশাহী কিংস ( ৭ ম্যাচে পয়েন্ট ৪), চিটাগং ভাইকিংস ( ৬ ম্যাচে ৩ পয়েন্ট)।
সুজনকে অন্তর্বর্তীকালীন কোচ নিয়োগ
চন্ডিকা হাথুরুসিংহে থাকবেন কী থাকবেন না- এখনও এ বিষয়ে অন্ধকারে রয়েছে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড। এখনও তারা আশা করছেন, হাথুরু ঢাকায় আসবেন এবং তার সঙ্গে সব বিষয়ে কথা-বার্তা বলার সুযোগ পাবেন তারা। তবে, আগামী মাসের শেষের দিকেই যেহেতু পূর্ণাঙ্গ সিরিজ খেলার জন্য শ্রীলঙ্কা ক্রিকেট দল বাংলাদেশে আসছে, সে জন্য হাথুরু আসছে না ধরে নিয়েই খালেদ মাহমুদ সুজনকে অন্তর্বর্তীকালীন কোচ নিয়োগ দিয়েছে বিসিবি। সোমবার বোর্ড সভাপতি নাজমুল হাসান পাপন নিজেই এক সংবাদ সম্মেলনে এ ঘোষণা দিয়েছেন। চন্ডিকা হাথুরুসিংহে আর আসছেন না- এমন নিশ্চিত সংবাদ আগেও একাধিকবার প্রকাশ হয়েছে বিভিন্ন অনলাইনে। বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড থেকে বারবার বলা হচ্ছিল, তারা হাথুরুর অপেক্ষায় রয়েছেন। তিনি ঢাকায় এসে তাদের (বিসিবির) সঙ্গে আলোচনা না করা পর্যন্ত আনুষ্ঠানিক কোনো ঘোষণাও দিতে পারছেন না তারা। এমনকি এটাও বলছিলেন, নির্দিষ্ট একটা সময় পর্যন্ত তারা অপেক্ষা করবেন। হাথুরু এর মধ্যে না আসলে ভিন্ন কোনো সিদ্ধান্ত নেবে বিসিবি।
কোহলির সেঞ্চুরির ফিফটিতে জয়ের হাতছানি ভারতের!
বিরাট কোহলির ক্যারিয়ার সাফল্যে মোড়া। তাঁর সাফল্যের মুকুটে প্রতিনিয়তই যোগ হচ্ছে নতুন নতুন রত্ন। আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে ইতিহাসের দ্রুততম সময়ে ৫০তম সেঞ্চুরি তুলে নিলেন ভারত-অধিনায়ক। সেঞ্চুরির ‘ফিফটি’ করতে তিনি খেলেছেন ৩৪৮টি ইনিংস। কোহলির সঙ্গে এখানে অবশ্য ‘খেলা’ অমীমাংসিতই থাকছে হাশিম আমলার। প্রোটিয়া ব্যাটসম্যানও নিজের আন্তর্জাতিক সেঞ্চুরির ‘ফিফটি’ করতে খেলেছেন ৩৪৮টি ইনিংস। কলকাতা টেস্টের পঞ্চম দিনে হঠাৎ করেই চালকের আসনে চলে এসেছে ভারত। সেটি যে অধিনায়ক কোহলির সেঞ্চুরির সুবাদেই, তা না বললেও চলছে। পঞ্চম দিনের উইকেটেও দারুণ স্বচ্ছন্দে ১১৯ বলে ১০৪ রানের ইনিংস খেলে অপরাজিত ছিলেন। এর আগে গতকাল দুই ওপেনার লোকেশ রাহুল (৭৯) ও শিখর ধাওয়ানের (৯৪) দ্রুতগতির দুটি ইনিংসেই ৩৫২ রানে ইনিংস ঘোষণা করতে পেরেছেন কোহলি। গতকাল দুই ওপেনারের গড়ে দেওয়া ভিত্তিটা আজ অবশ্য ভেস্তে যেতে বসেছিল। মাত্র ২১ রানের মধ্যে ৩ উইকেট হারিয়ে ফেলেছিল ভারত। আড়াই শ ছাড়ানোর আগেই পঞ্চম উইকেট হারিয়ে ফেলা ভারত তখন বেশ বিপদেই। অন্য প্রান্ত থেকে কোনো সহযোগিতা ছাড়াই একাই দলকে টেনে নিয়েছেন কোহলি। দলকে লিড এনে দিয়েছেন ২৩০ রানের। বোলাররাও মান রেখেছেন কোহলির এই ইনিংসে। এ টেস্ট ড্র করতে হলে কমপক্ষে ৪৭ ওভার ব্যাট করতে হবে শ্রীলঙ্কাকে। আর জিততে চাইলে এর মাঝেই তুলে নিতে হবে ২৩১ রান। নবম ওভারেই ১৪ রানে ৩ উইকেট হারিয়ে ফেলা শ্রীলঙ্কার সংগ্রহ ১৮ ওভারে ৪ উইকেটে ৬২।
এক পায়েই খেলছেন ‘ডানা ভাঙা দেবদূত’
হে য়িয়ি তখন ১২ বছরের দুরন্ত কিশোর। চোখে ফুটবলার হওয়ার স্বপ্ন, জাদুকরি দুটি পায়ে সেই স্বপ্নের প্রতিফলন। একদিন নজরে পড়ে গেলেন এক ফরাসি স্কাউটের। ২০০৮ সালের সেই সময়ে য়িয়ির কাছে ব্যাপারটা ছিল মেঘ না চাইতেই বৃষ্টি! কিন্তু সেই বৃষ্টি এসেছিল ঝড় হয়ে। বাঁ পা ভীষণ ভোগাচ্ছিল। মাঝেমধ্যে ব্যথা অনুভব করতেন। তাই ধরনা দিলেন ডাক্তারের কাছে। নানা পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর ধরা পড়ল ‘অস্টিওসারকোমা’—মানে, ক্যানসার! শিশু-কিশোরদের এ রোগটা বেশি হয়ে থাকে। ডাক্তারের পরামর্শ, বেশি দিন বেঁচে থাকার ইচ্ছে থাকলে বাঁ পা কেটে ফেলতে হবে। এ অবস্থায় ফ্রান্সে গিয়ে পেশাদার ফুটবলার হওয়ার স্বপ্ন ধাওয়া করার চেয়ে জীবনের মূল্য অনেক বেশি। য়িয়ি তাই বাঁ পা কেটে ফেললেন, কেটে গেল তাঁর ইউরোপে খেলার স্বপ্ন ঘুড়ির সুতো। কিন্তু খেলা থামেনি। বাঁকানো পা নিয়ে জন্মানোয় ব্রাজিলিয়ান কিংবদন্তি গারিঞ্চাকে বলা হতো ‘বাঁকানো পায়ের দেবদূত’। আর এক পা না থাকায় চায়নিজ ফুটবলভক্তদের কাছে ক্রাচের য়িয়ি এখন, ‘ডানা ভাঙা দেবদূত’। কেউ বলেন ‘এক পায়ে বলের রাজা’, কারও কাছে আবার ‘জাদুকর ছেলেটা’! পা হারিয়ে ফুটবলার হওয়ার স্বপ্ন বিসর্জনকারীদের জন্য ২১ বছরের এই ছেলে এখন সত্যিই এক অনুপম উদাহরণ। এক পায়ের স্ট্রাইকার কিক নিচ্ছেন গোলে। ছবি: এএফপি চায়নিজ ফুটবলভক্তদের কাছে য়িয়ির ভিডিও ভীষণ সাড়া ফেলেছেন। ভিডিওটি দেখার সংখ্যা ছাড়িয়ে গেছে ৪০ লাখ এবং তা বেড়েই চলছে। সেই ভিডিওতে শারীরিকভাবে সক্ষম প্রতিপক্ষ খেলোয়াড়দের বোকা বানানো ছাড়াও এক পায়ে গোলও করেন ‘ক্রাচের স্ট্রাইকার’ য়িয়ি! বক্সের মধ্যে বল পেয়ে এক পা দিয়েই রিসিভ করেন দারুণভাবে। আলতো ছোঁয়ায় একটু সামনে নিয়েই চকিত শট এবং গোল। আরেকটি ভিডিওতে দেখা যায়, ক্রাচে ভর দিয়েই বাইলাইন দিয়ে দুরন্ত বেগে ছুটছেন য়িয়ি। দিয়েছেন নিখুঁত পাসও। চায়নিজ ফুটবলের কিছু উৎসাহী ভক্তের মত, জাতীয় দলের বেহাল দশা কাটানোর জবাব হতে পারেন য়িয়ি। কিন্তু জাতীয় দল দুর অস্ত, চীনের অপেশাদার লিগেও তিনি খেলার অনুমতি পাননি। দেশটির দক্ষিণাঞ্চলীয় প্রদেশ গুয়াডংয়ে মাঝেমধ্যে ‘খ্যাপ’ খেলার ডাক পান। য়িয়ির কাছে ওটুকুই প্রতিযোগিতামূলক ফুটবল। অপেশাদার লিগের আয়োজকদের সঙ্গে যোগাযোগ করেছেন বেশ কয়েক দফা। কিন্তু আয়োজকেরা তাঁর অনুরোধে কর্ণপাত করেননি। সংবাদ সংস্থা এএফপির কাছে য়িয়ির অনুযোগ, ‘আমি কাউকে আঘাত করি না। শুধু আয়োজকদের সঙ্গে একবার ঝামেলা হয়েছিল। অপেশাদার ম্যাচ সবাই খেলতে পারে। সবাই পারলে আমার কী সমস্যা?’ য়িয়ি প্রতিযোগিতামূলক ফুটবলে খেলার সুযোগ পান কালেভদ্রে। সেসব ম্যাচে মাঠে নামলে তাঁকে ফুটবল খেলার সঙ্গে আরও অনেক কিছুর মোকাবিলা করতে হয়। এই যেমন প্রতিপক্ষ খেলোয়াড়দের আঘাত করার ‘টার্গেট’ হওয়া থেকে নিজেকে বাঁচানো কিংবা কটূক্তিতে কান না দেওয়ার চেষ্টা। য়িয়ির ভাষায়, ‘তাদের ভাবখানা এমন যে পারলে আমাকে ম্যাচের প্রথম কয়েক মিনিটের মধ্যেই বের করে দেয়! চিৎকার করে বলে, এখানে কী করছ?’
চার-ছক্কা মেরেই তো ম্যাচ হেরেছে বাংলাদেশ!
টি-টোয়েন্টি চার-ছক্কার খেলা? লোকে তো তা-ই বলে। কাল চার-ছক্কা থেকে বাংলাদেশ নিয়েছে ৯৮ রান। দক্ষিণ আফ্রিকা নিয়েছে ৮৮ রান। তাহলে? বাউন্ডারিতে ১০ রান বেশি নিয়েও ২০ রানে ম্যাচ হেরেছে বাংলাদেশ। কারণ? রান মানে হলো দৌড়, ক্রিকেট রানের খেলা মানে দৌড়ের খেলা। আর বাংলাদেশ এই সিঙ্গেলগুলোই বের করতে পারে না। একাধিক ডট বল সর্বনাশ ডেকে আনে। কালকের ম্যাচের গল্পটাও একই রকম। বেশি চার-ছক্কা মেরেও লাভের খাতায় যোগফল শূন্য। এই হারের কাটাছেঁড়া করতে গেলে হয়তো অনেক কারণই উঠে আসবে। তবে সবচেয়ে বেশি প্রভাব রেখেছে ‘ডট বল’! টানা কয়েকটি ডট বল ব্যাটসম্যানদের ধৈর্যচ্যুতি ঘটায়। ব্যাটসম্যান ঝুঁকি নিতে চান। উড়িয়ে মারতে চান, ডাউন দ্য উইকেটে আসেন, যে শট না খেললেও হতো, সেই শট খেলেন...কি, কাল সাব্বিরদের আউট হওয়ার ধরনগুলো চোখে ভাসছে তো? অথচ, দক্ষিণ আফ্রিকার রানের পাহাড় থেকেই শিক্ষা নিতে পারত বাংলাদেশ। এই মুহূর্তে সবচেয়ে বিধ্বংসী ব্যাটসম্যান এ বি ডি ভিলিয়ার্স, ডেভিড মিলাররা এই দলে খেলেন। চার-ছক্কা মারতেই তাঁরা ভালোবাসেন। তবু দক্ষিণ আফ্রিকার রানের বণ্টন দেখুন। ৪টি ছক্কা, ১৬ বাউন্ডারি মিলিয়ে মোট ৮৮ রান। ‘মি. এক্সট্রা’ থেকে যোগ করুন আরও ১০ রান। ইনিংসের বাকি ৯৭ রান তাঁরা ‌চুরি করেছেন সিঙ্গেলস-ডাবলস থেকে, টি-টোয়েন্টির ইতিহাসেই যা রেকর্ড! এই রানের পাহাড় দাঁড় করাতে গিয়ে প্রোটিয়াদের ছাড় দিতে হয়েছে ২২টি ‘ডট বল’। তার জবাবে বাংলাদেশে হেঁটেছে সেই পুরোনো পথে—সামনে রানের পাহাড় মানেই কচুকাটা করো! কিন্তু অলক্ষ্যে কোপটা পড়েছে নিজেদের পায়েই। পরিসংখ্যান বলছে, চার-ছক্কা ও অতিরিক্ত খাত থেকে প্রোটিয়াদের চেয়ে বেশি রান নিয়েও পারেনি বাংলাদেশ। ৭ ছক্কা থেকে এসেছে মোট ৪২ রান। ১৪ বাউন্ডারি থেকে আরও ৫৬ এবং ‘মি. এক্সট্রা’ থেকে ১৪। অর্থাৎ, সব মিলিয়ে ১১২। সিঙ্গেলস-ডাবলস থেকে এসেছে মাত্র ৬৩! সবচেয়ে দুশ্চিন্তার কথা হলো, বড় সংগ্রহ তাড়া করতে নেমে স্ট্রাইক অদল-বদলের ‘বেসিক’ ভুলে গেছে বাংলাদেশ। মানে, বলে-বলে সিঙ্গেলস নিয়ে চাপ কমানোর কৌশলটা অন্তত প্রোটিয়াদের বিপক্ষে প্রথম টি-টোয়েন্টিতে খুব একটা দেখা যায়নি ব্যাটসম্যানদের মধ্যে। তা না হলে, হারের সঙ্গে একটি-দুটি নয়, ৪৫টি ‘ডট বল’-এর কলঙ্ক লেগে থাকত না। ২০ ওভারের খেলায় সাড়ে সাত ওভার তো রানই তুলতে পারেনি বাংলাদেশের ব্যাটসম্যানরা! হারের পর অধিনায়ক সাকিব কিন্তু এ কথাটাই মনে করিয়ে দিলেন ব্যাটসম্যানদের, ‘বেশ কিছু জায়গায় উন্নতি করতে হবে। ডট বল সমস্যা নিয়ে আমরা কথা বলেছি। এটা ভুগিয়েছে। আক্রমণের সঙ্গে দায়িত্বশীল ব্যাটিংয়ের দরকার ছিল।’ টি-টোয়েন্টিতে ‘ডট বল’ দেওয়ার খেসারত কতটা মারাত্মক, সেটি নতুন করে বলার কিছু নেই। যেমন ধরুন, ৪৫টি ‘ডট বল’-এর মধ্যে থেকে বাংলাদেশ যদি এক এক করে এর অর্ধেক রানও নিতে পারত, তাহলে কিন্তু ম্যাচটা জেতা হতো। এ ম্যাচে যেহেতু তা সম্ভব হয়নি, সৌম্য সরকার তাই ভুল শুধরে নিতে চান পরের ম্যাচে, ‘ডট বল টি-টোয়েন্টিতে অনেক বড় জিনিস। আমরা যখন বোলিং-ফিল্ডিং করেছি, তখন যদি কিছু রান কম দিতাম যেমন—রুবেল ভাইয়ের নো বলে ওয়াইড, ফিল্ডিংয়ে কিছু মিস হয়েছে। ওই রানগুলো আটকাতে পারলে ওদের স্কোর হয়তো ১৭০-এর মতো থাকত। পরের ম্যাচে ডট বল যদি কম দিতে পারি স্কোরটা আরও বড় হবে।’
11বুঝবে ডিভাইস চোখের ভাষা 11
আগামী বছর হতে যাওয়া বিশ্বকাপের প্রস্তুতিপর্বের শুরুতে শনিবার মস্কোয় টুর্নামেন্টের স্বাগতিকদের ১-০ গোলে হারিয়েছে আর্জেন্টিনা।স্বাগতিক রাশিয়ার বিপক্ষে নিয়মিত আক্রমণ চালিয়ে শেষমেশ সার্জিও আগুয়েরোর গোলে হাসল হোর্হে সাম্পাওলির দল। কনকনে শীত উপেক্ষা ম্যাচের ২১তম মিনিটে এগিয়ে যাওয়ার সুযোগ পায় আর্জেন্টিনা। ডি মারিয়ার নিচু শট গোলরক্ষককে ছুঁয়ে আসে আগুয়েরোর পায়ে।সুযোগটা কাজে লাগাতে পারেননি আর্জেন্টাইন ফরোয়ার্ড।বিরতির ঠিক আগে সুযোগটি হারান আগুয়েরো।গোলশূন্য নিয়ে বিরতিতে মাঠ ছাড়ে যায় দুদল। ম্যাচের ৮৬তম মিনিটে গোলের দেখা পায় আর্জেন্টিনা। মেসির ডান দিক থেকে বাড়ানো পাস থেকে ক্রিস্তিয়ান পাভোনের ক্রস পেয়ে শট নেন আগুয়েরো কিন্ত সেই সর্ট টেঁকিয়ে দেন এক মিডফিল্ডার। সেই শট ফিরে আসে। দ্বিতীয় চেষ্টায় দারুণ হেডে বল পাঠিয়ে দেন রাশিয়ার জালে ম্যানচেস্টার সিটির এই স্ট্রাইকার। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে আর কোনো গোল না হওয়ায় ১-০ ব্যবধানের জয় নিয়ে মাঠ ছাড়ে আর্জেন্টিনা দল। মঙ্গলবার সাম্পাওলির দল আর্জেন্টিনা নাইজেরিয়ার বিপক্ষে দ্বিতীয় প্রীতি ম্যাচে মাঠে নামবে । নাইজেরিয়ার বিপক্ষে খেলবেন না মেসি। বার্সেলোনায় ফিরে যেতে হচ্ছে আর্জেন্টিনার এই অধিনায়ককে। তিনি কোনোরকম চোট পাননি বলেও নিশ্চিত করা হয়েছে।