মিশরকে ৩-১ গোলে উড়িয়ে নকআউট পর্বে রাশিয়া
মিশরের গড়া সব প্রতিরোধ দ্বিতীয়ার্ধে শুরুতেই ভেঙে্ গুড়িয়ে দিল রাশিয়া। ৩-১ গোলে মিশরকে হারিয়ে সবার আগে নকআউট পর্ব নিশ্চিত করেছে স্বাগতিক দল।নিজেদের প্রথম ম্যাচে সৌদি আরবকে ৫-০ গোলে উড়িয়ে দেওয়ার দ্বিতীয় ম্যাচেও বড় ব্যবধানে জয়ী হলো রাশিয়া। সেই সঙ্গে এবারের বিশ্বকাপের সর্বোচ্চ ৮ গোল দেওয়ার রেকর্ড গড়েলো স্বাগতিকরা। দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতেই আত্মঘাতি গোলে এগিয়ে যায় রাশিয়া। এরপর মাত্র ১৫ মিনিটের ব্যবধানে তিন গোলে বিশাল ব্যবধান গড়ে তুলে বিশ্বকাপের এবারের আয়োজকরা। দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতেই ৪৭ মিনিটে আলেক্সান্দর গোলোভিনের বাউন্সি শট পরিষ্কার করতে গিয়ে নিজেদের জালেই বল ঠেলে দেন মিশরের আহমেদ ফাতি (১-০)। ৫৯ মিনিটে দেনিস চেরিশভের গোলে ২-০ গোলের লিড পায় রাশিয়া। বিশ্বকাপে এটি তার তৃতীয় গোল। ফলে ক্রিস্টিয়ানো রোনালদোর সঙ্গে সর্বোচ্চ ৩ গোল করে তালিকায় শীর্ষে উঠে গেলেন তিনি। তিন মিনিট পরে আর্তেম জিউবার গোলে ৩-০ গোলে এগিয়ে যায় রাশিয়া। খেলার ৭৩ মিনিটে ভিডিও অ্যাসিটেন্ট রেফারি (ভিএআর) প্রযুক্তি থেকে পাওয়া পেনাল্টি থেকে লিভারপুল তারকা মোহামেদ সালাহ’র গোল দিয়ে রাশিয়ার সঙ্গে নিজদলের ব্যবধান কমান। এই পরাজয়ের ফলে প্রথম পর্ব থেকে সালাহ'র দল মিশরের বিদায় নিশ্চিত হলো। এর আগে সেইন্ট পিতার্সবুর্গে ম্যাচের শুরু রাশিয়ানদের আক্রমণে কোনঠাসা হয়ে পড়লেও সময় গড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে ঘুরে দাঁড়ায় মিশর। পাল্টা আক্রমণ করে খেলাকে গতিশীল করে তোলে। কিন্তু তাসের ঘরের মতোই ভেঙে পড়ে মিশরের সব প্রতিরোধ। মিশরকে ৩-১ গোলে হারিয়ে নকআউট পর্ব নিশ্চিত করে উল্লাসে মেতে ওঠে রাশিয়ানরা।
পোল্যান্ডকে ২-১ গোলে হারাল সেনেগাল
রাশিয়া বিশ্বকাপ যে নিজস্ব একটা গতি তৈরি করে নিয়েছে, সেটা প্রমাণ হলো সেনেগাল-পোল্যান্ড ম্যাচেও। এই দুই দলের মধ্য দিয়েই পূরণ হলো একটা বৃত্ত। বিশ্বকাপের ৩২টি দলই একটি করে ম্যাচ খেলে ফেলেছে ইতিমধ্যে। শেষ ম্যাচে মুখোমুখি হলো পোল্যান্ড আর সেনেগাল। এই ম্যাচে পোল্যান্ডের রক্ষণকে কাঁপিয়ে দিয়ে ২-১ গোলে হারিয়ে দিলো আফ্রিকান দেশ সেনেগাল। ২০০২ বিশ্বকাপের মতই জয় দিয়ে শুরু হলো তাদের। আফ্রিকার দেশগুলোর মধ্যে প্রথম দল হিসেবে জয় পেলো সেনেগালিজরা। এর চলতি বিশ্বকাপে আফ্রিকার প্রথম দল হিসেবে মিশরকে হারিয়েছে উরুগুয়ে। পরের ম্যাচে ইরানের কাছে হেরেছে মরক্কো। নাইজেরিয়া হেরেছে ক্রোয়েশিয়ার কাছে। তিউনিসিয়া হেরেছে ইংল্যান্ডের কাছে। শেষ প্রতিনিধি হিসেবে সেনেগালের কাছেই ছিল আফ্রিকান পতাকা। পোল্যান্ডকে শেষ পর্যন্ত ২-১ গোলে হারিয়ে আফ্রিকার সম্মানটা ধরে রাখতে পারলো তারা। ৩৭ মিনিটেই গোল করে সেনেগালকে এগিয়ে দেন ইদ্রিসা গুইয়ে। যদিও গোলটিকে আত্মঘাতি হিসেবেই ধরা হচ্ছে। কারণ, ইদ্রিসা গুইয়ের দুর্দান্ত শটটির গতিপথ আটকে দিয়েছিলেন থিয়াগো সিওনেক। তার পায়ের সঙ্গে লেগেই মূলতঃ বল চলে যায় পোল্যান্ডের জালে। প্রথমার্ধ শেষ হওয়ার ৮ মিনিট আগে গোল হজম করে বসে পোলিশরা। তার আগে সাদিও মানে এবং এমবায়ে নিয়াংয়ের সম্মিলিত আক্রমণ থেকে বক্সের মধ্যে বল পেয়েছিলেন ইদ্রিসা। দ্বিতীয়ার্ধ শুরুর পর ম্যাচের ৬০ মিনিটে আবারও এগিয়ে যায় সেনেগাল। এই গোলটায় অবশ্য পোল্যান্ডের ডিফেন্ডারদের অবদানই সবচেয়ে বেশি। কারণ, তাদের অমার্জনীয় ভুলেই এমবায়ে নিয়াং গোলটি পেয়ে যান। সেনেগালের রক্ষণ থেকে বলটা চলে আসে মিডফিল্ডে। ক্রিচোইয়াক ব্যাক পাস দিয়েছিলেন উঁচু করে। পরিবর্তিত খেলোয়াড় বেডনারেক পুরোপুরি অপ্রস্তুত অবস্থায় ছিলেন। বল বাঁচাতে অনেকখানি এগিয়ে এসেছিলেন গোলরক্ষক এসচিজনিও। কিন্তু তিনিও ক্লিয়ার করতে পারলেন না। বল ফাঁকি দিয়ে চলে যায় পোল্যান্ডের ডি বক্সে। সেখানে সামনে কেউ নেই। ফাঁকা পোস্ট। দৌড়ে বলে পেছন পেছন এলেন নিয়াং। আলতো শটে জড়িয়ে দিলেন পোল্যান্ডের জালে। সেনেগাল ২ : ০ পোল্যান্ড। খেলার ৮৬ মিনিটে একটি গোল শোধ করে দেয় পোল্যান্ড। কামিল গ্রোসিকির ফ্রি কিক থেকে ভেসে আসা বলে দারুণ এক হেড করেন গ্রেগোরিজ ক্রিচোইয়াক। সেই হেডটিই জড়িয়ে যায় সেনেগালের জালে। এরপর খেলার বাকি অংশে সমতায় ফেরার জন্য চেষ্টা করেও পারলো না আর পোল্যান্ড। শেষ বাঁশি বাজার সঙ্গে সঙ্গেই তাই জয়ের আনন্দে নেচে ওঠে সেনেগাল। ম্যাচের শুরু থেকে অবশ্য সেনেগালের রক্ষণে চাপ সৃষ্টি করে খেলার চেষ্টা করছিল পোল্যান্ড। কিন্তু ১৮ মিনিটেই গোলর দারুণ সুযোগ তৈরি করে নেয় সেনেগাল। জিয়েলিনস্কির একটি দুর্বল পাস থেকে বলের নিয়ন্ত্রন নেয় সেনেগালের সাবালি। বল নিয়ে এগিয়ে গিয়ে বক্সের মধ্যে এমবায়ে নিয়াংকে বল ঠেলে দেন সাবালি। অসাধারণ পাস। কিন্তু বলটিকে শটে পোস্টের ওপর দিয়ে পার করে দেন তিনি বাইরে। দারুণ আক্রমণের একটি বাজে ফিনিশিং ছিল ওটা। ৩০ মিনিটে লেওয়ানডস্কি একটা ভালো সুযোগ পেয়েছিলেন গোল করার। কিন্তু শেষ পর্যন্ত তিনি ব্যর্থ হলেন। একটি লং পাস থেকে বক্সের মধ্যে বল নিয়ন্ত্রণে নেয়ার চেষ্টা করেন তিনি। কিন্তু সেনেগাল গোলরক্ষক খাদিম এনদিয়াই তাকে ব্যর্থ করে দেন।
পেনাল্টি গোলে দ. কোরিয়াকে হারালো সুইডেন
গ্রুপ পর্বে নিজেদের প্রথম ম্যাচে দক্ষিণ কোরিয়াকে ১-০ গোলে হারিয়েছে সুইডেন। সুইডিশদের একমাত্র গোলটি আসে পেনাল্টি থেকে। নিঝনি নভোগরদ স্টেডিয়ামে ম্যাচের ৬৫তম মিনিটে স্পট কিক থেকে বল জালে পাঠাতে ভুল করেননি সুইডেন ডিফেন্ডার আন্দ্রেই গ্রাঙ্কভিস্ট। এর আগে ০-০ সমতা নিয়ে ম্যাচের প্রথামর্ধের খেলা শেষ করে সুইডেন ও এশিয়ার ফুটবলের পরাশক্তি দক্ষিণ কোরিয়া। নভোগোরদ মাঠে সুইডেন-কোরিয়ার লড়াইয়ে গোলবারে প্রথম শটটি দেখা যায় ম্যাচের ২০তম মিনিটে। বিশ্বকাপের ইতিহাসে ম্যাচের প্রথম শটের জন্য দ্বিতীয় দীর্ঘ সময় অপেক্ষার রেকর্ড এটি। আগের রেকর্ডটি ৫২ বছরের পুরনো। ১৯৬৬’র বিশ্বকাপে নেদারল্যান্ডস-কোস্টিারিকা ম্যাচে গোলবারে প্রথম শট নেয়া হয় ম্যাচের ২০.৫৯তম সেকেন্ডের মাথায়। এবারের বিশ্বকাপে কঠিন গ্রুপের তকমা পাচ্ছে এটি। আর এফ’ গ্রপের প্রথম ম্যাচে মেক্সিকোর কাছে শিরোপাধারী জার্মানির হারে তা হয়েছে আরো।
আর্জেন্টিনা ও আইসল্যান্ড ১-১ গোলে ড্র
শুক্রবার রাতেই আগে কত কি কীর্তি গড়লেন বর্তমান সময়ের দুই সেরা ফুটবলারের একজন ক্রিস্তিয়ানো রোনালদো। স্পেনের বিপক্ষে পর্তুগিজ এই তারকার হ্যাট্রিকের প্রথমটি গোলটি ছিল স্পটকিক থেকে। আর তৃতীয়টি ছিল অসাধারণ এক ফ্রি-কিক থেকে। শনিবার মস্কোর স্পার্তাকে আইসল্যান্ডের বিপক্ষে একই রকম সুযোগ পেয়েছিলেন আরেক বিশ্বসেরা ফুটবলার লিওনেল মেসি। পেয়েছিলেন পেনাল্টি শ্যুট। করেছিলেন বেশ কয়েকটি ফ্রি-কিকও। কিন্তু গোলের দেখা পাননি তিনি। সবচেয়ে বেশি মূল্য অবশ্য দিতে হয়েছে পেনাল্টি শ্যুট মিসের জন্য। এই গোলটি করতে পারলে বিশ্বকাপে নিজেদের প্রথম ম্যাচে জয় নিয়ে মাঠ ছাড়তে পারত আর্জেন্টিনা। কিন্তু তার বদলে পুচকে আইসল্যান্ডের বিপক্ষে ১-১- গোলের ড্র নিয়ে সন্তুষ্ট থাকতে হচ্ছে দুইবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের। এদিন ম্যাচের ১৯ মিনিটেই সার্জিও আগুয়েরোর গোলে ১-০ তে এগিয়ে যায় আর্জেন্টিনা। কিন্তু পিছিয়ে পড়ার ৪ মিনিটের মধ্যেই সেটি শোধ করে ১-১ গোলে সমতায় ফেরে আইসল্যান্ড। বিশ্বকাপে দেশের হয়ে প্রথম গোলটি করে আলফ্রেড ফিনবোগাসন। ম্যাচের ফলাফল ড্র হলেও ম্যাচ জুড়ে আধিপত্য ছিল আর্জেন্টিনারই। পুরো ম্যাচে আর্জেন্টিনার অর্ধে বল গিয়েছে আতে গোনা কয়েকবার। কিন্তু লিওনেল মেসিদের রুখে দিতে মরিয়া আইসল্যান্ড প্রতিপক্ষকে গোল দিতে খুব একটা আগ্রহ দেখায়নি এদিন। যদিও বেশ কিছু ভালো আক্রমণও তারা করেছিল। এদিন আইসল্যান্ডের বিপক্ষে ১১ শট নিয়েছেন মেসি। কিন্তু একটিও আইসল্যান্ডের জাল খুঁজে পায়নি। তবে মেসিদের রুখে দেওয়ার বড় কৃতিত্ব নিতে পারেন আইসল্যান্ডের গোলকিপার হ্যানেস থর হ্যালডরসন। তার দুর্দান্ত পারফরম্যান্সে বেশ কিছু গোল থেকে রক্ষা পায় আইসল্যান্ড। এদিন ম্যাচের ১৭তম মিনিটেই এগিয়ে যেতে পারত আর্জেন্টিনা। কিন্তু মেসির দূরপাল্লার শট আটকে দেন হ্যালডরসন। তবে তার দুই মিনিট পর আইসল্যান্ডের ডিফেন্সের জমাট বরফ ভাঙেন সার্জিও আগুয়েরো। ডি-বক্সের ভেতর থেকে বাঁ পায়ে শটে গোল করেন তিনি। বিশ্বকাপে এটি তার প্রথম গোল। কিন্তু ২৩তম মিনিটে গোল করে আর্জেন্টিনার হাসি মুছে দেন আলফ্রেড ফিনবোগাসন। বিশ্বকাপে দেশের হয়ে প্রথম গোল করে অনন্য এক ইতিহাসে নাম লেখান তিনি। ১-১ গোলে সমতায় ফেরে আইসল্যান্ড। গোল খেয়ে আক্রমণের ধার বাড়িয়ে দেয় মেসিরা। কিন্তু কোনভাবেই গোলের দেখা পায় না। এর মধ্যে ম্যাচের ৬৫ মিনিটে পেনাল্টি পায় আর্জেন্টিনা। স্পটকিক নেন মেসি নিজে। কিন্তু ডান পাশে ঝাঁপিয়ে পড়ে মেসির পেনাল্টি শট রুখে দেন আইসল্যান্ডের গোলকিপার। জাতীয় দলের জার্সি গায়ে এ নিয়ে চতুর্থবারের মতো পেনাল্টি শ্যুট মিস করলেন মেসি। এরপর বাকি সময়টা একের পর এক আক্রমণ করেও গোলের দেখা না পাওয়ায় ১-১ গোলে ড্র নিয়ে মাঠ ছাড়তে হয় মেসিদের।
সৌদিকে উড়িয়ে স্বাগতিক রাশিয়ার শুভ সূচনা
২১তম বিশ্বকাপের আয়োজক দেশ হিসেবে রাশিয়ায় রঙ লেগেছিল অনেক আগে থেকেই। বৃহস্পতিবার মস্কোর লুঝনিকি স্টেডিয়ামে বর্ণিল উদ্বোধণী অনুষ্ঠানের মধ্যদিয়ে সেই রঙ ছড়িয়ে পড়লো পুরো বিশ্ব জুড়ে। কিন্তু আসল পর্ব তো শুরু মাঠের লড়াই দিয়ে। যেখানে স্বাগতিক রাশিয়ার শুরুটা হলো মনে রাখার মতো। সৌদি আরবকে ৫-০ গোলে রীতিমতো উড়িয়ে দিয়েছে দলটি। আয়োজক রাশিয়ার বিশ্বকাপ উৎসবের শুরুটা শতভাগ বর্ণিল না বলে উপায় কি! বিশ্বকাপের ম্যাচ নিয়ে যতোটা আকর্ষণ থাকে সবার, রাশিয়া-সৌদি আরব ম্যাচ আসলে সেই আকর্ষণের মানদন্ডে ছিল না। কিন্তু তারপরও বিশ্বকাপের উদ্বোধনী ম্যাচ বলে কথা। রাশিয়ার জন্য সৌদি আরব মোটেও সহজ প্রতিপক্ষও ছিল না। ম্যাচের ফলটি তাই গুরুত্বপূর্ণ ছিল খুব। রাশিয়া হোঁচট খেলে যে ২১তম বিশ্বকাপের শুরুটা রঙই হারাতো। স্বাগতিকদের গোমরা মুখে শুরু হতো বিশ্বকাপ। কিন্তু ইতিহাস বলছে বিশ্বকাপের উদ্বোধনী ম্যাচে স্বাগতিক দেশ কখনো হারেনি। রাশিয়া বিশ্বকাপেও তার ব্যতিক্রম কিছু হয়নি। বরং রুশ খেলোয়াড়রা এমন এক উপলক্ষকে রাঙালেন দারুণভাবে। তাদের দাপুটে খেলার কাছে ভেঙে পড়ল সৌদির সব পরিকল্পনা। পাঁচ পাঁচ বার সৌদি আরবের জালে বল প্রবেশ করালেন রাশিয়ান খেলোয়াড়রা। প্রথমার্ধে ২-০ গোলে লিড নেওয়া পর দ্বিতীয়ার্ধে করলেন আরো তিন গোল। জোড়া গোল করেছেন ডেনিস চেরিশিভ। বাকী গোল তিনটি এসেছে ইউরি গাজিনস্কি, আর্টেম জুবা ও রোমান জোবনিনের পা থেকে। এবারের বিশ্বকাপে প্রথম গোল করে ইতিহাসে নাম লিখেন ইউরি গাজিনস্কি।
আজ রাত ৯টায় বিশ্বকাপে মুখোমুখি হবে রাশিয়া ও সৌদি আরব
চার বছরের অপেক্ষার পালা শেষ। আজ বৃহস্পতিবার শুরু হচ্ছে ‘গ্রেটেস্ট শো অন আর্থ’ তথা ফুটবল বিশ্বকাপের একবিংশতম আসর। স্বাগতিক রাশিয়া ও সৌদি আরবের মধ্যকার ম্যাচ দিয়ে পর্দা উঠবে রাশিয়া বিশ্বকাপের। বাংলাদেশ সময় বৃহস্পতিবার রাত ৯টায় মস্কোর লিঝনিকি স্টেডিয়ামে মুখোমুখি হবে দল দুইটি। সবচেয়ে দুর্বল দুইটি দলের ম্যাচের মধ্য দিয়ে গোড়াপত্তন হচ্ছে বিশ্বকাপের এবারের আসরের। ২০১৮ বিশ্বকাপে অংশ নেওয়া ৩২ দলের মধ্যে ফিফা র‌্যাঙ্কিংয়ে সবার নিচে আছে রাশিয়া। তাদের র‌্যাঙ্কিং ৭০। তাদের থেকে তিন ধাপ এগিয়ে সৌদি আরব রয়েছে ৬৭তম স্থানে। আয়োজক হিসেবে সরাসরি বিশ্বকাপে অংশ নেওয়ার সুযোগ পেয়েছে রাশিয়া। তাদের বাছাইপর্ব খেলতে হয়নি। তবে বিশ্বকাপের ময়দানি লড়াইয়ে মাঠে নামার আগে তাদের প্রীতি ও প্রস্তুতি ম্যাচের অভিজ্ঞতা সুখকর ছিল না। সবশেষ সাত ম্যাচের একটিতেও জয় পায়নি তারা। তারপরও এই দলটিকে নিয়ে আশাবাদী রাশিয়ার কোচ স্তানিসলাভ চেরিসভ। কারণ প্রথমবারের মতো রাশিয়া তাদের ঘরের মাঠে বিশ্বকাপ খেলতে যাচ্ছে। সে কারণে দলটিকে ঘিরে স্বাগতিক দেশের মানুষের প্রত্যাশা আকাশচুম্বী। খেলোয়াড়রাও বেশ উজ্জীবিত। ঘরের মাঠে নিজ দর্শকদের আকুণ্ঠ সমর্থন নিয়ে তারা সৌদি আরবের বিপক্ষে জয় দিয়ে বিশ্বকাপ শুরু করার প্রত্যাশা করতেই পারে। প্রত্যাশা করতে পারে বিশ্বকাপে তাদের সেরা সাফল্য পাওয়ার। ঘরের মাঠে সৌদি আরবের বিপক্ষে ড্র হতে পারে রাশিয়ার জন্য ভয়াবহ ফল। কারণ ‘এ’ গ্রুপে তাদের জন্য অপেক্ষাকৃত দুর্বল দল সৌদি আরব। অপর দুই দল মিসর ও উরুগুয়ে। ফিফা র‌্যাঙ্কিংয়ে মিসর রয়েছে ৪৫তম স্থানে। তাদের রয়েছে মোহাম্মদ সালাহ ও সাঈদের মতো তারকা ফুটবলার। আর উরুগুয়ে তো এই গ্রুপের হট ফেভারিট। ফিফা র‌্যাঙ্কিংয়ে তারা রয়েছে চতুর্থদশতম স্থানে। তাদের রয়েছে লুইস সুয়ারেজ, এডিনসন কাভানিদের মতো বড় মাপের তারকা। তাদের বিপক্ষে রাশিয়া জয় পেলে সেটা অঘটন হিসেবেই ধরে নেবে ফুটবল বোদ্ধারা। আজ সৌদি আরবের বিপক্ষে জয় পেলে পরের রাউন্ডে যাওয়ার ক্ষেত্রে তারা রাশিয়া এগিয়ে থাকবে। ইতিহাস ঘাটলে দেখা যায় এর আগে চারটি আয়োজক দেশ সেমিফাইনাল পর্যন্ত খেলেছিল। সেই তালিকায় আছে ফ্রান্স, জার্মানি, ব্রাজিল ও দক্ষিণ কোরিয়া। স্বাগতিক রাশিয়া অনুপ্রেরণা নিতে পারে দক্ষিণ কোরিয়ার কাছ থেকে। ১৬ বছর আগে তারা আয়োজক দেশ হিসেবে সেমিফাইনাল পর্যন্ত খেলেছিল। এদিকে সৌদি আরব ১২ বছর পর আবার বিশ্বকাপে এসেছে। সবশেষ তারা ২০০৬ বিশ্বকাপে খেলেছিল। তাদের দলটি নতুন খেলোয়াড়দের নিয়ে গঠিত। এই দল নিয়ে সৌদি আরব বেশি আশাবাদী। ১৯৯৪ সালে বিশ্বকাপে অভিষেক হয়েছিল সৌদি আরবের। তারপর আরো তিনবার বিশ্বকাপে খেলেছে তারা। এ নিয়ে পঞ্চমবারের মতো বিশ্বকাপে খেলতে যাচ্ছে সৌদি। বিশ্বকাপে তাদের সর্বোচ্চ সাফল্য শেষ ষোলো। যাইহোক উদ্বোধনী আসরে তলানির দুই দলের লড়াই হলেও উদ্বোধনী ম্যাচটি যে হাড্ডাহাড্ডি হবে সেটা কিন্তু অনুমেয়।
বিশ্বকাপ ফুটবল শুরু আজ
বিশ্বকাপ ফুটবল- দ্য গ্রেট শো অন আর্থ। উত্তেজনার পারদ এখন তুঙ্গে। ৮ বছর চলে গেছে, তবুও বিতর্ক থেমে নেই। গত কয়েক মাস ধরে আবারো বিশ্ব কাপ ফুটবল নিয়ে সরব হয়ে ওঠেছে বিশ্ব। বিশ্বকাপ ফুটবল হবে কি হবে না এ নিয়ে সংশয় ছিল। সবকিছু সরিয়ে দিয়ে কাল উদ্বোধন। বল মাঠে গড়াতে যাচ্ছে বৃহস্পতিবার রাত ৯টায়। ফিফা বিশ্বকাপ ফুটবল আমাদের অনেক কিছুই দিয়েছে। দিয়েছে পরতে পরতে নাটকীয়তা, উন্মাদনা, অনেক কাহিনীর গল্পকথা। অতীতে বিশ্বকাপ ফুটবল দিয়েছে ম্যারাডোনার হ্যান্ড অব গড, রবার্তো ব্যজিওর পেনাল্টি মিস উপাখ্যান,জিনেদিনে জিদানের মাথা দিয়ে ধাক্কা শিল্পের বর্বরতা, সবকিছুই পিছনে ফেলে এখন আবার নতুন কাব্য লিখতে প্রস্তুত পুরো বিশ্ব। রাশিয়া বিশ্বকাপ নিয়ে একটিই সমস্যা। দীর্ঘদিন ধরে চলতে থাকা সমালোচনা যেন শেষই হতে চায় না। তবুও শেষ ভালো তার সব ভাল যার। বিশ্বের কোয়ালিফাই করা সব দেশগুলো এখন উপস্থিত রাশিয়ায়। কে নেবে এবারের বিশ্বকাপ। বৃহস্পতিবার উদ্বোধনী ম্যাচে রাশিয়া লড়বে সৌদি আরবের সাথে। এবারের বিশ্বকাপ মিস করছে ইতালি, নেদারল্যান্ড চিলির মতো দেশগুলো। চার বছর আগে জার্মানির কাছে ৭-১ গোলে নাস্তানাবুদ হওয়া ব্রাজিল কি প্রতিশোধ নিতে পারবে শিরোপা জিতে। মেসি, রোনালদো, নেইমার- কে বেশি আলো ছড়াবেন সে অপেক্ষায় পুরো বিশ্ব। ইংল্যান্ড, তারুণ্য নির্ভর যুব ফুটবলারদের নিয়ে এসেছে বিশ্বকাপে। তারা অনেকদিন হলো শিরোপার মুখ দেখেনি। তারা শিরোপার অন্যতম দাবি নিয়ে এসেছে। তবে বরাবরের মতো এবারো ফেবারিট ব্রাজিল,জার্মানি, ফ্রান্স,আর্জেন্টিনা, ইংল্যান্ড, স্পেন।
কয়েক ঘন্টা পরই বিশ্বকাপের পর্দা উঠবে
আর মাত্র কয়েক ঘন্টা। এরপরই ফুটবল প্রেমিদের দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান হচ্ছে। জমকালো উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের মধ্যে দিয়ে রাশিয়ার লুঝনিকি স্টেডিয়ামে পর্দা উঠছে ২১তম ফুটবল বিশ্বকাপের। এটিই এবারের বিশ্বকাপে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভেন্যু। বছরখানেক আগে ৩৫০ বিলিয়ন ইউরো ব্যায়ে শেষ হয়েছে এর সংস্কারকাজ। এখন যা পুরোপুরি তৈরি ‘দ্য গ্রেটেস্ট শো অন আর্থ’-এর জন্য। ৩২ টি দেশ নিয়ে বৃহস্পতিবার বাংলাদেশ সময় সন্ধ্যা ৭টায় পর্দা উঠবে বিশ্বকাপের ২১তম আসরের। এর পরই রাত ৯টায় মাঠে গড়াবে বল। উদ্বোধনী ম্যাচে মুখোমুখি হবে স্বাগতিক রাশিয়া ও সৌদি আরব। লুঝনিকি স্টেডিয়ামে এ ম্যাচটি ছাড়াও হবে একটি সেমিফাইনাল ও ফাইনালসহ মোট ৭টি ম্যাচ। আজ থেকে আট বছর আগে ২০১০ সালের ডিসেম্বরে রাশিয়ার মাটিতে বিশ্বকাপ আয়োজনের সিদ্ধান্ত হয়। যদিও তা নিয়ে বির্তক ছিল আগ্রহী বাকি দেশগুলোর মধ্যে ছিল। এ তালিকার প্রথমেই ছিল ইংল্যান্ড। যারা বাদ পড়ে যায় ভোটাভুটির প্রথম পর্বে। দেশটির সাবেক প্রধানমন্ত্রী ডেভিড ক্যামেরন তো অভিযোগ তোলেন, দুর্নীতির মাধ্যমে স্বাগতিক হওয়ার অধিকার আদায় করেছে রাশিয়া। সাবেক ফিফা প্রেসিডেন্ট সেপ ব্লাটার পর্যন্ত পরবর্তী সময়ে স্বীকার করেছেন, ভোটের আগেই নির্ধারিত হয়ে যায়, ২০১৮ বিশ্বকাপ ফুটবল হবে রাশিয়ায়। এরআগে ১৯৮০ সালে লুঝনিকি স্টেডিয়ামে অলিম্পিকের উদ্বোধনী ও সমাপনী অনুষ্ঠান হয়েছিল। এরপর ব্যাপক পরিচিতি পেয়েছিল ৬২ বছর আগে নির্মিত এ স্টেডিয়ামটি। দেশটির প্রথম প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির লেনিনের নামেই প্রথম নামকরণ করা হয়েছিল এ স্টেডিয়ামের। ১৯৯২ সালের পর স্টেডিয়ামের নাম হয় ‘লুঝনিকি’। মস্কোভো নদীর বাঁকে জন্মানো সুগভীর তৃণক্ষেত্র থেকে ‘লুঝনিকি’ নামটির উৎপত্তি। ২১তম বিশ্বকাপের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের ব্যাপ্তি মাত্র ৩০ মিনিট। বিশ্বকাপের থিম সং ‘লিভ ইট আপ’-এর মধ্যে দিয়ে শুরু হবে মূল মহড়ন। থিম সং নিয়ে সবার সামনে হাজির হবেন উইল স্মিথ এবং নিকি জ্যাম। উদ্বোধনী মঞ্চে বিশ্বখ্যাত দুই শিল্পী রবি উইলিয়ামস ও আইদা গারিয়ুফুলিনার সঙ্গে উপস্থিত থাকবেন ব্রাজিলীয় ফুটবল গ্রেট রোনালদোও। এদিকে রাশিয়ান স্থানীয় তারকাদের নানা রকম আয়োজনে মাতবে পুরো গ্যালারি। অনুষ্ঠানের পাশাপাশি তুলে ধরা হবে রাশিয়ার সংস্কৃতির বিভিন্ন দিক। পুরো গ্যালারির সামনে জিমন্যাস্ট এবং ট্র্যামপোলিনিস্টরাও পারফর্ম করবেন। বিশ্বকাপের আগের আসরের মতো এবারও রোমাঞ্চের কমতি নেই। সব কিছুর পরও রয়েছে চাপা সংশয়। কিন্তু সব কিছু ছাপিয়ে রাশানরা ঠিকই দারুণ একটি বিশ্বকাপ উপহার দেবে। এমনটাই বিশ্বাস আয়োজকদের।
সেই রবি উদ্বোধনী মঞ্চে!
মাত্র দুই বছরে কিভাবে সবকছিু পাল্টে যাওয়ার অপেক্ষায়! নাকি বিশ্বকে নতুন বার্তা দিতে চাচ্ছে রাশিয়া? বিশ্ব মাতাতে সব প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে লেলিনের দেশ। তারই অংশ হিসেবে বিশ্বকাপের উদ্বোধনী অনুষ্ঠান মাতাতে নিয়ে আসা হচ্ছে বৃটিশ পপ গায়ক রবি উইলিয়ামসকে। সেই উইলিয়ামস, যার গানের উপর নিষেধাজ্ঞা জারির দাবিতে বছর দুই আগেই সরব হয়েছিল রাশিয়ার গণমাধ্যম। হয়েছিল প্রতিবাদ সভাও। বিশ্ব খ্যাত এই পপ গায়কের প্রকাশিত দ্য বুটস ইন অ্যালবামে এমন কিছু শব্দ ব্যবহার করা হয়েছিল যাতে অপমানিত বোধ করেছিলেন রাশিয়ানরা। সেই রবিই থাকবেন উদ্বোধনী মঞ্চে রোনালদোর সঙ্গে। আগামীকাল রাশিয়া বনাম সউদী আরব ম্যাচ শুরু হওয়ার আধা ঘন্টা আগে হবে একটি সংক্ষিপ্ত উদ্বোধনী অনুষ্ঠান। ম্যাচ শুরু হবে বাংলাদেশ সময় রাত নটায়। তার মানে রাত সাড়ে আটটার দিকে লুঝনিকি স্টেডিয়ামের আশি হাজার দর্শককে সুরের মুর্ছনায় বাধবেন রবি। এসময় একমাত্র ফুটবলার হিসেবে তার পাশে থাকবেন ব্রাজিলের সাবেক তারকা রোনালদো। আগের সূচিতে সামান্য রদবদল করে করা হয়েছে এই সূচি। পরশু ফিফার পক্ষ থেকে এমনটিই জানানো হয়েছে। রবি ছাড়াও গানে গানে মঞ্চ মাতাতে দেখা যাবে রাশিয়ার যুব সমাজের জনপ্রিয় গায়িকা আইদা গ্যারিফ্লনাকে। আর স্বাগতিক হিসেবে অনুষ্ঠানে রাশিয়ান সাস্কৃতির ছোঁয়া তো থাকবেই। নিজেদের ইতিহাসে দ্বিতীয়বারের মত বিশ্বের সর্ববৃহৎ ক্রীড়াজজ্ঞের আয়োজন করতে যাচ্ছে রাশিয়া। ১৯৮০ সালে মস্কো অলিম্পিকের পর এই প্রথম বড় কোন ক্রীড়াজজ্ঞ বসছে লেলিনের দেশে। এখন পর্যন্ত সব ঠিকঠাক আছে বলেই মনে হচ্ছে। রাশিয়ার বিরধী দেশগুলো নিরাপত্তা নিয়ে নানান বাহানা করলেও এখন পর্যন্ত এমন কোন আলামত পাওয়া যায়নি। লুঝনিকিও বিশ্ব মাতাতে প্রস্তুত। শেষবারের মত টানা হচ্ছে তুলির আচড়। মাঠের ঘাস কেটে ফুটিয়ে তোলা হচ্ছে রাশিয়া নামটি। যারা উদ্বোধনী অনুষ্টানের টিকিট পাননি তাদের জন্য মাঠের বাইরে সংযুক্ত করা হয়েছে বিশাল পর্দা। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানেই একটা বার্তা পাওয়া যায় বৈকি বাকি কাজটাও সংগঠকরা কিভাবে সম্পন্ন করতে পারবেন। তবে রবি ও আইদা কিভাবে বিশ্বকে মুগ্ধতায় মাতাবেন সেটাই মূলত রয়েছে আগ্রহের কেন্দ্রবিন্দুতে। দুজনই অবশ্য প্রতিশ্রতি দিয়েছেন ভক্তদের মোহিত করার। রবি বলেছেন, রাশিয়ায় এসে ফের গান শোনাবার সুযোগ পাচ্ছি এবং সেটা দুর্দান্ত একটি অনুষ্ঠানে এটা আমার কাছে বিরাট ব্যাপার। এটা যেন স্বপ্ন ছোঁয়ার মতো ব্যাপার। আমি এমন কিছু শোনাব যা সারা বিশ্ব মনে রাখবে। আর আইদার মন্তব্য, আমার কল্পনাতেও কখনও আসেনি যে বিশ্বকাপের মঞ্চে নিজেকে কোনওদিন মেলে ধরতে পারব। আমাদের দেশে বিশ্বকাপ। সেখানে উদ্বোধনের দিন গান করার সুযোগ। এমন কিছু করতে হবে যাতে সবাই মনে রাখে। তবে রবির মত বিতর্কিত তারকাকে এনে উদ্বোধনী অনুষ্ঠান ভদিমির পুতিনের দেশ কিভাবে সামাল দেন এর উপর নির্ভর করছে অনেক কিছুই। এটাও হতে পারে, প্রবল আলোচনা সত্তেও বিতর্কিত রবিকে নিয়ে আসা মানে বিশ্বের সামনে রাশিয়াকে উন্মুক্ত করে দেয়ার এক বহিপ্রকাশ।