ফাইনালে শিরোপা জিতে আমরা খুব খুশি: সালমা
এশিয়া কাপের গত ছয় আসরে চ্যাম্পিয়ন ভারত। দলটি এশিয়ান ক্রিকেটে অন্যতম শক্তিশালী। পাকিস্তান-শ্রীলংকার মতো দলকে বলে কয়েই হারিয়ে দেয় ভারত। ভারত-পাকিস্তান এবং শ্রীলংকার তুলনায় বাংলাদেশ নারী ক্রিকেট দল নামে মাত্র। সদ্য শেষ হওয়া এশিয়া কাপে খেলতে যাওয়ার ঠিক আগে দক্ষিণ আফ্রিকা সফরে গিয়ে তিন ম্যাচের টি-টোয়েন্টি সিরিজে ধবল ধোলাই হয় সালমা খাতুনের নেতৃত্বাধীন দলটি। যে কারণে মালয়েশিয়ায় অনুষ্ঠিত এশিয়া কাপে অংশ নিতে যাওয়ার আগে তেমন কোনো প্রত্যাশা ছিলো না সালমাদের কাছে। ক্রিকেট বোর্ডের বাড়তি প্রত্যাশা না থাকায় স্বাধীনভাবেই খেলার রসদ পান সালমা-জাহানারারা। আর সেই স্বাধীনতাই তাদের স্বপ্নপূরণে সহায়ক হয়েছে। এশিয়া কাপের হট ফেবারিট ভারতকে তিন উইকেটে হারিয়ে প্রথমবারের মতো শিরোপা নিশ্চিত করেছে বাংলাদেশ নারী ক্রিকেট দল। রোববার মালয়েশিয়ায় শক্তিশালী ভারতকে ৩ উইকেটে হারিয়ে এশিয়া কাপের শিরোপা নিশ্চিত করার পর বাংলাদেশ নারী দলের অধিনায়ক সালমা খাতুন বলেন, টুর্নামেন্টে আমাদের হারানোর কিছু ছিল না। ভারতের ছিল অনেক। এখানে আমাদের অনেক কিছুই পাওয়ার ছিল। শিরোপা জয়ের মধ্য দিয়ে আমরা আমাদের স্বপ্ন পূরণ করতে সক্ষম হয়েছি। টুর্নামেন্টের প্রথম ম্যাচে শ্রীলংকার বিপক্ষে আগে ব্যাট করে ৬৩ রানে অলআউট হয়ে যাওয়া বাংলাদেশ ৬ উইকেটে হেরে যায়। সেই অবস্থা থেকে সফল ভাবেই ঘুরে দাঁড়ায় সালমা খাতুনের নেতৃত্বাধীন দলটি। এশিয়া কাপের শিরোপা জয়ের পর সালমা খাতুন বলেন, টুর্নামেন্টে আমাদের শুরুটা ভালো হয়নি। তবে পরের ম্যাচগুলোতে আমরা ভালোভাবেই ঘুড়ে দাঁড়াতে সক্ষম হয়েছি। ফাইনালে শিরোপা জিতে আমরা খুব খুশি। আমাদের এখন একটাই লক্ষ্য এই পারফরম্যান্সের ধারাবাহিকতা ধরে রাখা।
ইতিহাস গড়ে এশিয়া কাপে চ্যাম্পিয়ন বাংলাদেশ
দেরাদুনে সাকিব আল হাসানরা বাংলাদেশের ক্রিকেটকে বিব্রতকর পরিস্থিতির মধ্যে ফেলে দিয়েছে। অন্যদিকে, মালয়েশিয়া থেকে মেয়েরা দিল বড় সুখবর। এ যেন ঈদের আগে আরেক ঈদের আনন্দ। প্রথমবার এশিয়া কাপে ইতিহাস রচনা করে চ্যাম্পিয়ন হয়েছে বাংলাদেশের মেয়েরা। রোববার ফাইনালে ভারতকে ১১২ রানেই থামিয়ে দিয়েছে বাংলাদেশের মেয়েরা। জবাবে বাংলাদেশ ৭ উইকেট হারিয়ে জয়ের লক্ষ্যে পৌঁছে যায়। বাংলাদেশ ক্রিকেট ইতিহাসে সর্বোচ্চ সাফল্য এটি। এরআগে বাংলাদেশের মেয়েদের শিরোপা জয় তো দূরের কথা কখনো ফাইনালেই উঠতে পারেনি। এর আগে যে ছয়বার এশিয়া কাপ হয়েছে। সবগুলোই নিয়ে গেছে ভারত। এবার প্রথম পর্বে ভারতকে হারানো দেখেই বোঝা গিয়েছিল সালমার দল অন্যরকম কিছুই ঘটাতে চলেছে। শেষ অবধি হলোও তাই। মেয়েদের ক্রিকেটে শক্তিধর ভারতকে হারিয়ে এশিয়া কাপ জয় করল মেয়েরা। এই জয়ে ছেলেদের ক্রিকেটের দুর্দশা সামান্য হলেও মুছবে। মজার ব্যাপার, বাংলাদেশের ফুটবল যখন ধুকছিল ঠিক তখনেই সামনে এসেছিল মেয়েররা। তাদের একের পর এক সাফল্যে ছেলেদের ব্যর্থতা খানিকটা আড়াল হয়। একইভাবে ক্রিকেটেও যখন গর্তে পড়েছে জাতীয় দল ঠিক তখনই মেয়েদের এশিয়া জয় বাংলাদেশের মানুষকে পুলকিত করছে। ঠিক মতো সুযোগ সুবিধা দিলে এই মেয়েরা যে আরো বড় সম্মান বয়ে নিয়ে আসবে সেটি এখন পানির মতো পরিস্কার। এদিন ১১৩ রানের লক্ষ্যে ব্যাট করতে নেমে বাংলাদেশকে দারুন শুরু এনে দেন দুই ওপেনার শারমিন সুলতানা আর আয়েশা খাতুন। দুজনে মিলে তোলেন ৩৫ রান। আয়েশাকে (১৭) হারানোর পরপরই বাংলাদেশ হারায় অপর ওপেনার শারমিনকে (১৬)। এরপর খানিকটা দিকভ্রান্ত হয়ে পড়ে বাংলাদেশ। তবে দলকে টেনে নিয়ে যান নিগার সুলতানা (২৭) ও রুমানা আহমেদ (২৩)। তবুও ম্যাচটি শেষ ওভার অবধি গড়ায়। যেখানে স্নায়ুচাপের পরীক্ষা দিয়ে বাংলাদেশকে জিতিয়েছেন জাহানারা আলম। শেষ বলে দরকার ছিল ২ রান। এক বলে ২ রানই নিয়েছেন এই পেসার। ম্যাচসেরা হয়েছেন রুমানা আহমেদ। এরআগে নির্ধারিত ২০ ওভারে ৯ উইকেটে ১১২ রানে তোলে ভারত। টসে জিতে বোলিংয়ে নেমে চতুর্থ ওভারেই ভারতীয় ওপেনার স্মৃতি মন্দনাকে(৭) রান আউট করেন সালমা। ভারতের রানের চাকাও শুরুতে ভালোই আটকে রাখে বাংলাদেশ। প্রথম ৫ ওভারের মধ্যে ২৩টি বল ‘ডট’ দিয়েছে বোলারেরা। রান তোলার চাপে পড়ে সপ্তম ওভারে দীপ্তি শর্মাকেও (৪) হারায় ভারত। তাঁকে সরাসরি বোল্ড করেন জাহানারা। ভারতের স্কোর তখন ৬.৪ ওভারে ২ উইকেটে ২৬। এখান থেকে ৬ রানের ব্যবধানে ভারতের আরও ২টি উইকেট তুলে নিয়েছে মেয়েরা। সাত, আট ও নয়-এই তিন ওভারে ৩ উইকেট হারায় ভারত। দীপ্তি ফিরে যাওয়ার পরের ওভারেই ওপেনার মিতালি রাজকে (১১) তুলে নেন খাদিজা। নবম ওভারে আনজুয়া পাতিল (৩) আউট হয়েছেন নিজের দোষে। ৮.২ ওভারে রান নিতে গিয়ে নিজের প্রান্তে ফেরার সময় উইকেটরক্ষকের থ্রো দেখে তিনি উইকেট ঢেকে দৌড়ান। সালমারা ‘অবস্ট্রাক্টিং দ্য ফিল্ড’ আউটের আবেদন করলে টেলিভিশন রিপ্লে দেখে আউট ঘোষণা করেন থার্ড আম্পায়ার। ১৩তম ওভারে ভেদা কৃঞ্চমূর্তিকেও তুলে নেন অধিনায়ক সালমা। তাঁকে বোল্ড আউট করেন এই স্পিনার। ১৫তম ওভারে একাই ২ উইকেট তুলে নেন রুমানা আহমেদ। খাদিজার করা শেষ ওভারের প্রথম বলে রান আউটের শিকার হন ভারতের পেসার ঝুলন গোস্বামি। সতীর্থরা এক প্রান্তে তেমন ভালো করতে না পারলেও দলের ইনিংসটা বলতে গেলে একাই টেনেছেন ভারতের অধিনায়ক হারমনপ্রীত কাউর। ৪১ বলে ৫৬ রানের ইনিংস খেলেন তিনি। বাংলাদেশের হয়ে সবচেয়ে সফল খাদিজা ও রুমানা। দুজনেই ২টি করে উইকেট নেন। ভারতের রানের চাকা আটকে রাখায় দারুণ অবদান রেখেছেন নাহিদা আক্তার ও সালমা খাতুন। ১ উইকেট নেওয়া সালমা ১৩টি ‘ডট’ দিয়েছেন। নাহিদা উইকেট না পেলেও ১৬টি ‘ডট’ দিয়েছেন।
বাংলাদেশ-আফগান সিরিজ : বাকি রইল হোয়াইটওয়াশ
সিরিজ জয়ের প্রত্যয় নিয়ে দেশত্যাগ করেছিল বাংলাদেশ ক্রিকেট দল। কিন্তু জয় তো দূরে থাক ভারতের দেরাদুনে আফগানস্তানদের সঙ্গে লড়াইও করতে পারছে না সাকিব আল হাসানের দল । প্রথম টি-টোয়েন্টিতে ৪৫ রানে হারের পর এবার ৬ উইকেটের পরাজয়। তিন ম্যাচ সিরিজে টাইগারদের এখন কেবল হোয়াইটওয়াশ হওয়াটাই বাকি। রাজিব গান্ধি আন্তর্জতিক স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠেয় প্রথম ম্যাচে টস জিতে বল বেছে নিয়েছিলেন বাংলাদেশ দলপতি; ভাগ্য সহায় হয়নি। একই মাঠে গতকালও টসভাগ্যে হাসেন সাকিব। এবার নেয়া হলো ব্যাট; কিন্তু তাতেও ভাগ্য দবল হলো না। রশিদ খান রহস্যই উদঘটন করা যাচ্ছে না কোন ভাবেই। প্রথম ম্যাচে ১৩ রানে ৩ উইকেট নিয়ে ম্যাচসেরা হওয়া এই লেগ স্পিনার এবার ১২ রানে নিয়েছেন ৪ উইকেট। উইকেট চারটিও একবার দেখুন তামিম (৪৮ বলে ৪৩, বোল্ড), সাকিব (৭ বলে ৩, ক জদরান), সৌম্য (৯ বলে ৩, ক আসগর) ও মোসাদ্দেক (প্রথম বলেই এলবিডবিউ)। ৪ উইকেট হারিয়ে বাংলাদেশ যখন একশ পেরিয়েছে তখনই দৃশ্যপটে আসেন রশিদ। এসেই এক ওভারে তুলে নেন সাকিব, তামিম ও মোসাদ্দেককে, পরের ওভারে সৌম্যকে। মুহূর্তেই ৪ উইকেটে ১০১ থেকে ৮ উইকেটে ১০৮ রানে পরিণত হয় স্কোরবোর্ড। আবু হায়দারের (১৪ বলে ২১) ক্যামিওয় স্কোরটা দাঁড়ায় ৮ উইকেটে ১৩৪। মুজিব কোন উইকেট না পেলেও ৪ ওভারে দেন মাত্র ১৫ রান, নবী নিয়েছেন ১৯ রানে ২টি। মামুলি রান তাড়া করতে ১৮.৫ ওভার খেলা লাগলেও জয়ের পথেই ছিল আফগানরা। ৩৮ রানের উদ্বোধনী জুটির পর রানের গতি কমে আসলেও উইকেট সংরক্ষণে রেখে এগুতে থাকে স্বাগতিকরা। রুবেলের করা ১৯তম ওভারে দুটি করে ছক্কা-চারে ২০ রানের হিসাবটা মিলিয়ে নেন মোহাম্মাদ নবী (১৫ বলে ৩১)। আফগানদের হয়ে ৪১ বলে সর্বোচ্চ ৪৯ রান করেন সামিউল্লাহ শেনওয়ারি। একই মাঠে আগামীকাল অনুষ্ঠিত হবে তৃতীয় ও শেষ ম্যাচ। বাংলাদেশ : ২০ ওভারে ১৩৪/৮ আফগানিস্তান : ১৮.৫ ওভারে ১৩৫/৪ ফল : আফগানিস্তান ৬ উইকেটে জয়ী। সিরিজ : আফগানিস্তান ২-০ ব্যাবধানে এগিয়ে।
নতুন রেকর্ড রশিদ খানের
একের পর এক চমক দেখানো রশিদ খানের প্রাপ্তির ঝুলিতে যোগ হলো নতুন অর্জন। রোববার বাংলাদেশের বিপক্ষে খেলতে নেমে নিজেকে অনন্য এক উচ্চতায় নিয়ে গেছেন আফগানিস্তানের এ লিগ স্পিনার। ১৯ বছর বয়সি এ স্পিনার টি-টোয়েন্টিতে দ্রুততম ৫০ উইকেট নেওয়ার কীর্তি গড়েছেন। সময়ের বিবেচনায় (২ বছর ২২০ দিন) দ্রুততম ৫০ উইকেট পাওয়ার রেকর্ড গড়ছেন রশিদ খান। এছাড়া ম্যাচ বিবেচনায় হয়েছেন দ্বিতীয় দ্রুততম। নিজের প্রথম ওভারের প্রথম বলে মুশফিকুর রহিমের উইকেট নেন রশিদ খান। উইকেটের হাফ সেঞ্চুরি পূর্ণ করতে ১ উইকেট দূরে ছিলেন তিনি। মুশফিক নিজের উইকেট বিলিয়ে আসায় দ্রুতই উদযাপনে মাতেন এ স্পিনার। পরের বলে নেন সাব্বির রহমানের উইকেট। এরপর মোসাদ্দেককেও আউট করেন। সব মিলিয়ে বাংলাদেশের বিপক্ষে ৩ ওভারে ১৩ রানে ৩ উইকেট নিয়েছেন রশিদ খান। রশিদ খানের আগে সময়ের বিবেচনায় দ্রুততম ৫০ উইকেট নেওয়ার কীর্তি গড়েছিলেন সাঈদ আজমল (২ বছর ২৯৬ দিন)। ম্যাচ বিচেনায় ৩১ ম্যাচে মাইলফলকে পৌঁছেছেন রশিদ খান। শ্রীলঙ্কার অ্যাঞ্জেলো ম্যাথুউস মাত্র ২৬ ম্যাচে ৫০ উইকেটের মাইলফক ছুঁয়েছিলেন। রশিদ খানের সঙ্গে সমান ৩১ ম্যাচে ৫০ উইকেট পেয়েছিলেন দক্ষিণ আফ্রিকার ইমরান তাহির। টি-টোয়েন্টিতে ৫০ উইকেট নেওয়ার রেকর্ড গড়ার আগে ওয়ানডের আরেকটি রেকর্ড ভেঙেছিলেন রশিদ খান। ওয়ানডেতে দ্রুততম ১০০ উইকেটের মালিক তিনি। মাত্র ৪৪ ম্যাচে রেকর্ড একশ উইকেট পেয়েছিলেন এ লেগ স্পিনার।
যেতে পারছেন না সাকিবদের সঙ্গে মুস্তাফিজ
আইপিএল থেকে ফিরে জাতীয় দলের ক্যাম্পে যোগ দিয়েছিলেন মুস্তাফিজ। কিন্তু ওয়ালশ তাকে দুইদিনের বিশ্রাম দিয়েছেন। কারণ মুম্বাইয়ের শেষ ম্যাচে বাঁ পায়ের আঙ্গুলে চোট পান কাটার মাস্টার। ফলে আফগানিস্তানের বিপক্ষে সিরিজে অংশ নিতে মঙ্গলবার সাকিবদের সঙ্গে যেতে পারছেন না মুস্তাফিজুর রহমান। বাংলাদেশ ক্রিকেটের মিডিয়া বিভাগ সোমবার রাতে বিষয়টি জানিয়েছে।আইপিএলে সময়টা ভালো যায়নি কাটার মাস্টার মুস্তাফিজুর রহমানের। খুব ভালো করতে পারেননি। অবশ্য খুব খারাপও করেননি। তবে দলের কম্বিনেশনের জন্য বেশ কিছু ম্যাচে তাকে বসে থাকতে হয়েছে। শেষ ম্যাচে পায়ের আঙ্গুলে ব্যথা পেয়েছেন। তবে মুস্তাফিজকে নিয়ে বেশ সতর্ক বাংলাদেশ দলের ভারপ্রাপ্ত কোচ কোর্টনি ওয়ালশ।কাটার মাস্টারকে নিয়ে কোনো রকম ঝুঁকি নিতে চান না কোচ। তাই বিশ্রাম দেওয়া হয়েছে মুস্তাফিজকে। ওয়ালশের দাবি, ভারতে আমরা সেরা ফর্মের মুস্তাফিজকে চাই। সে অনেক উন্নতি করেছে। সে তার শক্তিও ফিরে পেয়েছে। আমি মনে করি, আফগানিস্তানের বিপক্ষে সে তার পুরো গতি দিয়ে বোলিং করতে পারবে। সে ভালো করবে।
চমকের নাম মোসাদ্দেক!
মাস খানেক আগে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের কেন্দ্রীয় চুক্তি থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে মোসাদ্দেক হোসেন সৈকতকে। সেই মোসাদ্দেকই কিনা আফগানিস্তানের বিরুদ্ধে জাতীয় দলে ফিরলেন? সবচেয়ে হাস্যকর বিষয় হচ্ছে বিসিবির কেন্দ্রীয় চুক্তি থেকে বাদ পড়ার পর আর কোনো ম্যাচ খেলেননি এই ক্রিকেটার। তাহলে তাকে দলে ফেরানোর পেছনে কারণ কি? আর নির্বাচকদের কাছে যদি মনে হয় মোসাদ্দেকের পারফরম্যান্স তত খারাপ ছিল না, তাহলে কেন তাকে বিসিবির কেন্দ্রীয় চুক্তি থেকে বাদ দেওয়া হয়েছিল? আফগানিস্তানের বিরুদ্ধে তিন ম্যাচের টি-২০ সিরিজের জন্য চূড়ান্ত দল ঘোষণা করেছে বিসিবি। নতুন মুখ নেই। চমক কেবল মোসাদ্দেকের ফেরাটাই। টি-২০তে মোসাদ্দেকের অভিষেক হয়েছিল ২০১৬ সালের সেপ্টেম্বরে, আফগানিস্তানের বিরুদ্ধে। সংক্ষিপ্ত ফরম্যাটের এই ক্রিকেটে আহামরি কিছু পারফরম্যান্স দেখাতে পারেননি। খেলেছেন ছয় ম্যাচ। তবে জাতীয় দলের সঙ্গে নিজেকে সেভাবে মানিয়ে নিতে না পারলেও ঘরোয়া ক্রিকেটে দুর্দান্ত। বিসিএলের সব শেষ ম্যাচেও তার একটা সেঞ্চুরি রয়েছে। বল হাতেও দারুণ। বিশ্বসেরা অলরাউন্ডার সাকিব আল হাসানের বিকল্প হিসেবে মোসাদ্দেকের কথাই বার বার উঠে আসছিল। কিন্তু চাইলেই তো আর হঠাৎ করে সাকিবের বিকল্প হওয়া যায় না। এজন্য সময় দিতে হবে। কিন্তু গত মাসে হঠাৎ করে বিসিবির কেন্দ্রীয় চুক্তি থেকে বাদ দেওয়া হয় উদীয়মান এই তারকা ক্রিকেটারকে। তরুণ এক ক্রিকেটারকে চুক্তি থেকে বাদ দেওয়ার অর্থ হচ্ছে তাকে নিরুৎসাহিত করা! তারপর কোনো ম্যাচ না খেলানোর পরও কিভাবে সেই মোসাদ্দেক নির্বাচকের মন জয় করে নিলেন? প্রধান নির্বাচক মিনহাজুল আবেদীন নান্নুর ব্যাখ্যা, অলরাউন্ডারের চিন্তা থেকেই মোসাদ্দেককে সুযোগ দেওয়া হয়েছে। মিরাজের ফিটনেস নিয়ে কিছুটা সংশয় আছে আমাদের। এখন পর্যন্ত মিরাজ শতভাগ ফিট নয়। ধীরে ধীরে ওর অবস্থার উন্নতি হচ্ছে। মিরাজের বিকল্প হিসেবে মোসাদ্দেক হোসেনকে সুযোগ দেওয়া হয়েছে। কেন্দ্রীয় চুক্তি থেকে বাদ দেওয়ার পর মোসাদ্দেক কীভাবে নির্বাচকদের বিবেচনায় এসেছেন,ওটা অন্য বিষয় (চুক্তি)। আমরা মনে করছি, টি-২০তে ভালো বোলিং করার যথেষ্ট দক্ষতা আছে মোসাদ্দেকের। ও যথেষ্ট প্রতিভাবান। মাঝখানে একটু ছন্দপতন হয়েছিল। এ মুহূর্তে ফিটনেসসহ নানা বিষয়ে ওকে দেখেই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। নির্বাচকদের নাটকীয় সিদ্ধান্তে মোসাদ্দেক দলেও ফিরলেও কপাল পুড়েছে তাসকিন আহমেদের। দল থেকে বাদ পড়েছেন এই গতি তারকা। যদিও তাসকিন এই মুহূর্তে পুরোপুরি ফিট নন। পিঠের ব্যথা তাকে যথেষ্ট ভোগাচ্ছে। কিন্তু শতভাগ ফিট না হওয়ার পরও তো মেহেদী হাসান মিরাজকে দলে রাখা হয়েছে। তা ছাড়া কেবল চোটের কারণেই যে তাসকিনকে দলে রাখা হয়নি এমন নয়। পারফরম্যান্সের কারণেও তাকে আফগানিস্তান সিরিজের জন্য বিবেচনায় আনেননি নির্বাচকরা। তাসকিনকে দলে না রাখার ব্যাখ্যায় মিনহাজুল আবেদীন বলেন,চোট, পারফরম্যান্স দুইই তাসকিনকে বাদ দেওয়ার পেছনের কারণ। সে নিদাহাস ট্রফিতে গিয়েই চোটে পড়েছিল। তবে চোটটা বেশ আগের। চোট থেকে সেরে ওঠার চেষ্টা করছে তাসকিন। আমাদের বিশ্বাস ওয়েস্ট ইন্ডিজ সিরিজের আগে সেরে উঠবে সে। বিসিবির কেন্দ্রীয় চুক্তি থেকে বাদ পড়েছেন সৌম্য সরকারও। তা ছাড়া নিদাহাস ট্রফিতে দাপট দেখাতে পারেননি। কিন্তু আফগানিস্তান সিরিজে দলে জায়গা করে নিয়েছেন। মিনহাজুলের ব্যাখ্যা,টি-২০তে আমরা যত খেলোয়াড় নিয়ে চিন্তা করি সবার আগে ওর কথাটা চলে আসে। বিষয়টি নিয়ে আমরা অধিনায়ক এবং কোচের সঙ্গেও কথা বলেছি। ওরা সৌম্যের ব্যাপারে ইতিবাচক। কোর্টনি ওয়ালশের সঙ্গে আমাদের সব সময় কথা হয়। যেহেতু ও নিদাহাস ট্রফিতে দলে ছিল সে কারণেই কোচের পরামর্শে তাকে দলে রেখেছি। তাসকিন ছাড়াও টি-২০ দল থেকে বাদ পড়েছেন ইমরুল কায়েস ও নুরুল হাসান সোহান। আফগানিস্তানের বিপক্ষে বাংলাদেশ সাকিব আল হাসান (অধিনায়ক), মাহমুদুল্লাহ রিয়াদ (সহঅধিনায়ক), তামিম ইকবাল, সৌম্য সরকার, লিটন কুমার দাস, মুস্তাফিজুর রহমান, সাব্বির রহমান, মোসাদ্দেক হোসেন সৈকত, আরিফুল হক, মেহেদী হাসান মিরাজ, নাজমুল ইসলাম অপু, আবু হায়দার রনি, রুবেল হোসেন, আবু জায়েদ রাহী। স্ট্যান্ডবাই : নুরুল হাসান সোহান, আবুল হাসান রাজু, নাঈম হাসান।
প্লে-অফ নিশ্চিত করল কলকাতা
১৭২ রানের টার্গেটে ইনিংসের গোড়াপত্তন করতে আসেন সুনীল নারিন ও ক্রিস লিন। নারিন শুরু থেকেই ঝড় তোলেন। ৯ বলে ৪ চার ও ২ ছক্কায় করেন ২৯ রান। এর পরের বলে আউট হন। তিনি যখন সাকিবের বলে মানিষ পান্ডের হাতে ক্যাচ দিয়ে ফিরছিলেন তখন স্কোরবোর্ডে কলকাতার রান ৩.৪ ওভারে ৫৫! এরপর ক্রিস লিন ও রবীন উথাপ্পা কার্যকরী এক জুটি গড়েন। তারা দুজন ৬৭ রান যোগ করে ১৩.১ ওভারে দলীয় সংগ্রহকে নিয়ে যান ১১৯ রানে। এরপর লিন ৪৩ বলে ৪ চার ও ৩ ছক্কায় ৫৫ রান করে আউট হন। ১৬.৩ ওভারের সময় দলীয় ১৪৯ রানের মাথায় উথাপ্পাও আউট হন। তিনি ৩৪ বলে ৩ চার ও ২ ছক্কায় ৪৫ রান করে যান। এরপর দিনেশ কার্তিক অপরাজিত ২৬ রানের ইনিংস খেলে ৫ উইকেট ও ২ বল হাতে রেখে দলকে জিতিয়ে মাঠ ছাড়েন। এ জয়ের ফলে তৃতীয় দল হিসেবে প্লে-অফ নিশ্চিত করল কলকাতা নাইট রাইডার্স। বল হাতে সিদ্ধার্ধ কল ও কার্লোস ব্রেথওয়েট ২টি করে উইকেট নেন। ১টি উইকেট নেন সাকিব আল হাসান। আগে ব্যাট করতে নেমে টপ অর্ডার ব্যাটসম্যানরা দারুণ শুরু করেছিলেন হায়দরাবাদের। শিখন ধাওয়ান ৩৯ বলে ৫০, শ্রীভাট গোস্বামী ২৬ বলে ৩৫, কেন উইলিয়ামসন ১৭ বলে ৩৬ ও মানিষ পান্ডে ২৫ রান করেন। তাতে বড় সংগ্রহের ভিত পেয়েছিল হায়দরাবাদ। কিন্তু মিডল অর্ডারের ব্যাটসম্যানরা সুবিধা করতে না পারায় ৯ উইকেট হারিয়ে ১৭২ রানের বেশি করতে পারেনি পয়েন্ট টেবিলের শীর্ষে থাকা অরেঞ্জ আর্মিরা। বল হাতে কলকাতার প্রাসিদ কৃষ্ণ ৪ ওভার বল করে ৩০ রান দিয়ে ৪টি উইকেট নেন। ম্যাচসেরা নির্বাচিত হন ক্রিস লিন।
গোল্ডেন শু পুরস্কারের দোরগোড়ায় মেসি
ইউরোপিয়ান গোল্ডেন শু পুরস্কারের দাবি আরো জোরালো হলো লিওনেল মেসির। আর এবার এ পুরস্কার পেলে তিনি ছাড়িয়ে যাবেন ক্রিস্টিয়ানো রোনালদোকে। উভয়ের ঝুলিতে রয়েছে চারটি করে গোল্ডেন শু পুরস্কার। রোববার ইউরোপের শীর্ষ পাঁচ ফুটবল লীগের খেলা শেষে এমন পুরস্কারে প্রতিদ্বন্দ্বী বাকিদের অনেকটাই পেছনে ফেলেছেন বার্সেলোনার আর্জেন্টাইন ফরোয়ার্ড লিওনেল মেসি। বার্সেলোনার এক ম্যাচ বাকি রেখে স্প্যানিশ লা লিগায় মেসি পেয়েছেন ৩৪ গোল। যদিও বার্সেলোনার সর্বশেষ ম্যাচে দলের বাইরে ছিলেন মেসি। রোববার পর্দা নেমেছে ইংলিশ প্রিমিয়ার লীগ আসরের। এতে সম্ভাবনা শেষ মোহাম্মদ সালাহ ও হ্যারি কেইনের। এবারের ইংলিশ প্রিমিয়ার লীগে সালাহ ৩২ ও কেইন পেয়েছেন ৩০ গোল। এবার সুযোগ খোলা আছে কেবল চিরো ইম্মোবিলে, মাউরো ইকার্দি ও এডিনসন কাভানির। তবে, মেসিকে ছাড়িয়ে যেতে হলে অসাধারণ কিছু করে দেখাতে হবে তাদের। সিরি আ ফুটবল লীগে শেষ ম্যাচে ছয় গোল চাই ইম্মোবিলের। আর ইকার্দির চাই সাত গোল। ইতালিয়ান লীগে নিজেদের শেষ ম্যাচে ইকার্দির ইন্টার মিলানের মুখোমুখি হবে ইম্মোবিলের ল্যাজিও। আসরে ইতালিয়ান স্ট্রাইকার ইম্মোবিলে ২৯ ও আর্জেন্টাইন ফরোয়ার্ড ইকার্দি পেয়েছেন ২৮ গোল। মেসির মুঠো থেকে গোল্ডেন শু পুরস্কার ছিনিয়ে নিতে ফরাসি লীগ ওয়ানের শেষ ম্যাচে কাভানির চাই সাত গোল। প্যারিস সেইন্ট জার্মেইর (পিএসজি) জার্সি গায়ে চলতি মৌসুমের এক ম্যাচ বাকি রেখে ২৮ গোল রয়েছে কাভানির ঝুলিতে। তবে, আফসোস হতে পারে বেনফিকার ব্রাজিলিয়ান স্ট্রাইকার হোনাস গনসালভেস অলিভিয়েরার। পর্তুগিজ শীর্ষ লীগে এবার মেসির সমান ৩৪ গোল পেয়েছেন হোনাস। তবে, পর্তুগিজ লীগের জন্য গোলপ্রতি ধরা হয় ১.৫ পয়েন্ট। এ কারণে তালিকার অষ্টম স্থানে অবস্থান করছেন হোনাস। ক্যারিয়ারে মেসি গোল্ডেন শু পুরস্কার জিতেছেন ২০০৯-১০, ২০১১-১২, ২০১২-১৩ ও ২০১৬-১৭ মৌসুমে। রোনালদোর হাতে এ পুরস্কার ওঠে ২০০৭-০৮, ২০১০-১১, ২০১৩-১৪ (যুগ্ম) ও ২০১৪-১৫তে। এবারের ইউরোপিয়ান গোল্ডেন শু পুরস্কারের দৌড়ে ২৫ গোল নিয়ে তালিকার নবম স্থানে রয়েছেন রিয়াল মাদ্রিদের এ পর্তুগিজ স্ট্রাইকার। লীগের সর্বোচ্চ গোলদাতা খেলোয়াড় ক্লাব আসর পয়েন্ট (গোল) লিওনেল মেসি (আর্জেন্টিনা) বার্সেলোনা স্পেন ৬৮ (৩৪) মোহাম্মদ সালাহ (মিশর) লিভারপুল ইংল্যান্ড ৬৪ (৩২) হ্যারি কেইন (ইংল্যান্ড) টটেনহ্যাম ইংল্যান্ড ৬০ (৩০) চিরো ইম্মোবিলে (ইতালি) ল্যাজিও ইতালি ৫৮ (২৯) রবার্ট লেভানদস্কি (পোল্যান্ড) বায়ার্ন মিউনিখ জার্মানি ৫৮ (২৯) এডিনসন কাভানি (উরুগুয়ে) পিএসজি ফ্রান্স ৫৬ (২৮) মাউরো ইকার্দি (আর্জেন্টিনা) ইন্টার মিলান ইতালি ৫৬ (২৮) হোনাস অলিভিয়েরা (ব্রাজিল) বেনফিকা পর্তুগাল ৫১ (৩৪) রোনালদো (পর্তুগাল) রিয়াল মাদ্রিদ স্পেন ৫০ (২৫) লুইস সুয়ারেজ (উরুগুয়ে) বার্সেলোনা স্পেন ৫০ (২৫)
মুম্বাই খেলার সাহস পাচ্ছে কোথায়? মোস্তাফিজকে ছাড়া
অবশেষে জেগে উঠেছে মুম্বাই ইন্ডিয়ানস। হারের বৃত্তে ঘুরপাক খেতে খেতে জয়ের ধারায় ফিরেছে ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়নরা। টানা তিন জয়ে প্লে অফে খেলার সম্ভাবনা টিকিয়ে রেখেছে তারা। তবে কপাল পুড়েছে বাংলাদেশ বোলিং বিস্ময় মোস্তাফিজুর রহমানের। টানা পাঁচ ম্যাচে বসে থাকলেন তিনি।এ মুহূর্তে ১১ ম্যাচে ৫ জয়ে ১০ পয়েন্ট নিয়ে টেবিলের চারে আছে মুম্বাই। এর মধ্যে প্রথম ৬ ম্যাচেই মাঠে নেমেছিলেন দ্য ফিজ, ভালোও করেছিলেন। তা দুর্দান্ত করেও একাদশের বাইরে কেন তিনি? স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্নটা সামনে এসেছে। অনেকে এর সমালোচনাও করেছেন। আইপিএল বিশ্লেষক আকাশ চোপড়া তো সাফ জানিয়ে দিয়েছিলেন, মোস্তাফিজ ছাড়া খুব বেশি দূর এগোতে পারবে না মুম্বাই। মনে হয়, তার কথার বিপক্ষেই এবার ভেটো দিলেন আরেক বিশ্লেষক জহির খান। এতদিন মোস্তাফিজের পক্ষে সাফাই গেয়ে এলেও এবার তার বিপক্ষেই ইনসুইঙ্গার ছুড়লেন তিনি, হার্দিক পান্ডিয়ার অলরাউন্ড সত্তা জেগে উঠেছে। ব্যাট-বলে দুই এন্ডেই দুর্দান্ত করছে। এখন পুরো ৪ ওভারই বল করছে সে। ও এ কাজটি স্বচ্ছন্দে করতে পারায় বেন কাটিংকে নিয়ে ব্যাটিংয়ে শক্তিমত্তা বাড়াচ্ছে মুম্বাই। এ অজি অলরাউন্ডারও তার কাজটিও মোটামুটিভাবে পালন করে যাচ্ছে। মূলত এ কারণেই মোস্তাফিজের মতো বোলারকে ছাড়াই খেলার সাহস দেখাতে পারছে দলটি। চলমান আইপিএলে মুম্বাইয়ের হয়ে প্রথম ৬ ম্যাচেই মাঠে নামেন মোস্তাফিজ। বল হাতে প্রায় প্রতি মাচেই স্বমহিমায় উজ্জ্বল ছিলেন। তবে হারের ঘূর্ণি থেকে বের হতে পারছিল না দলটি। এতে বর্তমান চ্যাম্পিয়নদের প্লে অফে খেলা নিয়ে শঙ্কা দেখা দেয়। ফলে একাদশে পরিবর্তন আনতে বাধ্য হয় মুম্বাই। কাটা পড়েন মোস্তাফিজ। সুযোগ মেলে কাটিংয়ের। ভাগ্যও বদলে যায় আইপিএল ইতিহাসে সফলতম দলটির। এর পর থেকেই মাঠের বাইরে টাইগার কাটার মাস্টার।