শ্রীলংকার মাঠে বাংলাদেশ-ভারত লড়াই আজ
শ্রীলংকায় ত্রিদেশীয় সিরিজ নিদাহাস ট্রফির ফাইনালে আজ ভারতের বিপক্ষে নামবে বাংলাদেশ। কলম্বোর প্রেমাদাসা স্টেডিয়ামে বাংলাদেশ সময় আজ রোববার সন্ধ্যা সাড়ে ৭টায় ত্রিদেশীয় টি-২০ সিরিজ শুরু হবে। এক ম্যাচে অনেক হিসাব মেলানোর আছে বাংলাদেশের। টি ২০ তে দু দলের আগের সাত ম্যাচে কখনও ভারতকে হারাতে না পারার হতাশার গল্পটা নতুন করে লেখার চ্যালেঞ্জ। টেস্ট মর্র্যাদা পাওয়ার পর দ্বিপক্ষীয় সিরিজের বাইরে কখনও কোনো প্রতিযোগিতার শিরোপা জিততে না পারার ধারায় ছেদ টানার চ্যালেঞ্জ। আজ জিতলে খুলে যাবে ফাইনালের গেরোও। এমন ম্যাচে বাড়তি চাপ তো থাকবেই। আশার কথা হল, সিরিজে নিজেদের আগের ম্যাচেই স্নায়ুচাপের সবচেয়ে বড় পরীক্ষায় উতরে গেছে বাংলাদেশ। শুক্রবার শ্রীলংকার বিপক্ষে অলিখিত সেমিফাইনালে রূপ নেয়া প্রাথমিক পর্বের শেষ ম্যাচের শেষ ওভারে মাঠ ও মাঠের বাইরে যে অগ্নিগর্ভ পরিস্থিতি তৈরি হয়েছিল, তা ছাড়িয়ে গেছে আগের সবকিছুই। নিদাহাস ট্রফির ফাইনাল নিশ্চিত হওয়ার পরই বাংলাদেশ দলের জন্য এক কোটি টাকা বোনাস ঘোষণা করেছে বিসিবি। ফাইনালে জিততে পারলে আরও বড় বোনাস অপেক্ষা করছে সাকিব-তামিমদের জন্য। তবে ভারতকে হারাতে বাড়তি প্রেরণার প্রয়োজন নেই বাংলাদেশ দলের। বাংলাদেশ যেভাবে ঘুরে দাঁড়িয়েছে তাতে ভারতও আজ চাপে থাকবে। প্রাথমিক পর্বে অবশ্য দু বার বাংলাদেশকে হারিয়েছে তারা। কোহলি-ধোনিদের মতো মূল খেলোয়াড়দের ছাড়াই টানা তিন ম্যাচ জিতে ফেভারিটের মতোই ফাইনালে উঠেছে ভারত। তবে গত কয়েক বছরে বাংলাদেশ-ভারত দ্বৈরথ যে নতুন রূপ নিয়েছে, তাতে নির্ভার থাকতে পারছেন না দিনেশ কার্তিক। শনিবার কলম্বোয় ম্যাচপূর্ব সংবাদ সম্মেলনে দলের প্রতিনিধি হয়ে আসা ভারতের এই উইকেটকিপার-ব্যাটসম্যান জানালেন, বাংলাদেশের বিপক্ষে এখন যেকোনো ম্যাচই কঠিন। কারণটাও ব্যাখ্যা করেছেন কার্তিক,উপমহাদেশের কন্ডিশনে বাংলাদেশ এখন খুবই ভালো দল। চাপ থাকবেই। সমস্যা হল, আমাদের সমর্থকরা ধরেই নেন বাংলাদেশের বিপক্ষে আমরা জিতব। জিতলে কোনো বাহবা নেই। কিন্তু হারলেই শুনতে হয়,তোমরা বাংলাদেশের কাছে হেরেছ। কী করেছ তোমরা? আমি নিশ্চিত, এবারও তাই ঘটবে। তবে আমরা এখন পর্যন্ত টুর্নামেন্টে সফল। শেষ ম্যাচটাও জিততে চাই। আমি নিশ্চিত, খুব ভালো একটা ম্যাচ হবে। বাংলাদেশের সম্ভাব্য একাদশ: তামিম ইকবাল, সৌম্য সরকার, লিটন দাস, মুশফিকুর রহিম (উইকেটরক্ষক), সাকিব আল হাসান (অধিনায়ক), মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ, সাব্বির রহমান, মেহেদী হাসান মিরাজ, মোস্তাফিজুর রহমান, রুবেল হোসেন, নাজমুল অপু।
নুরুল এবং সাকিবের জরিমানা
শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে ম্যাচের শেষ ওভারে দুই দলের মধ্যে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। মাঠে থাকা মাহমুদুল্লাহ রিয়াদ এবং রুবেল হোসেনকে খেলা ছেড়ে দিয়ে বেরিয়ে আসতে বলেন ক্ষুব্ধ সাকিব। এ সময় মাঠের আম্পায়ারদের সঙ্গে কথার লড়াইয়ে জড়িয়ে পড়েন মাহমদুল্লাহও। এ সময় পানি হাতে মাঠে প্রবেশ করা বাংলাদেশ দলের নুরুল হাসান সোহানও লঙ্কান ক্রিকেটারদের সঙ্গে বিতণ্ডায় জড়িয়ে পড়েন। থিসারা পেরেরার সঙ্গে কিছুটা ধাক্কাধাক্কিও হয় তার। ম্যাচ শেষে কুশাল মেন্ডিসের সঙ্গেও কথার লড়াইয়ে জড়িয়ে পড়েন সোহান। প্রথম বলের পর ওভারের দ্বিতীয় বলটিও বাউন্সার করেন ইসুরু উদানা। লেগ আম্পায়ার নো বলের সংকেত দিলেও সেটি বাতিল করে দেন প্রথম আম্পায়ার। এই নিয়েই মূলত যতো সমস্যা। শেষ পর্যন্ত সিদ্ধান্তে অটল থাকে আম্পায়াররা। তবে ম্যাচটি জিতে নেয় বাংলাদেশ। ম্যাচ জিতলেও আচরণবিধি ভাঙার জন্য শাস্তি পেয়েছেন বাংলাদেশ অধিনায়ক সাকিব আল হাসান ও নুরুল হাসান। দু্ই জনকেই ম্যাচ ফির ২৫ শতাংশ জরিমানা করা হয়েছে। একই সঙ্গে তাদের নামের পাশে যোগ হয়েছে একটি করে ডিমেরিট পয়েন্ট। ২০১৬ সালে ডিমেরিট পয়েন্ট চালু হওয়ার পর এই প্রথম ডিমেরিট পয়েন্ট পেলেন তারা।
দূর্দান্ত জয় পেল বাংলাদেশ
শেষ তিন ওভারে জয়েরে জন্য দরকার ছিলো ৩৯ রান। ৫ রানে ব্যাট করছিলেন সাকিব আল হাসান আর ১৬ রান ছিলো মাহমুদুল্লাহর। তবে সতেরতম ওভারের শেষ বলে উদানার বলে ধনঞ্জয়ের হাতে ক্যাচ দিয়ে ফেরেন সাকিব (৭)। ২ ওভারে তখনও দরকার ২৩ রান। কঠিন কাজটা আরও কঠিন হয়ে যায় মাহমুদুল্লাহর জন্য। তবে কঠিন কাজের কাজীই তো মাহমুদুল্লাহ। কিন্তু যোগ্য সঙ্গী পেলেন কই! পরের ওভারে সিঙ্গেল নিতে গিয়ে রানআউট হয়ে ফিরলেন মেহেদী মিরাজ। শেষ ওভারে দরকার ছিলো ১২ রান। প্রথম বল ডট দিয়ে পরের বলেই রান আউট হলেন মোস্তাফিজ। তবে স্ট্রাইক পেলেন মাহমুদুল্লাহ। চার হাঁকিয়ে পরের বলে ২ রান। পরের বলেই ছক্কা হাঁকিয়ে বীরবেশে মাঠ ছাড়লেন মাহমুদুল্লাহ। একটি বল তখনও বাকি। ২ উইকেটের জয় নিয়ে নিদাহাস ট্রফির ফাইনালে উঠলো বাংলাদেশ। লক্ষ্য ১৬০ রান। খুব বড় না হলেও একেবারে মামুলি বলার উপায় নেই। তবে শুরুতেই দুই উইকেট হারিয়ে বিপাকে পড়ে যায় বাংলাদেশ। ওপেনার লিটন দাস ফেরেন স্কোরবোর্ডে কোন রান যোগ না করেই। এদিন তৃতীয় উইকেটে ব্যাট করার সুযোগ পেয়ে সেটাকে কাজে লাগাতে পারেননি সাব্বির রহমান। ধনঞ্জয়ের বলে এগিয়ে এসে খেলতে গিয়ে স্ট্যাম্পিংয়ের শিকার হন সাব্বির (১৩)। একপাশ আগলে রাখা তামিমের সঙ্গে যোগ দেন দারুণ ছন্দে থাকা মুশফিকুর রহিম। তবে তিনিও যেতে পারেননি বেশিদূর। মুশির ব্যাট থেকে এদিন আসে ২৮ রান। আন্তর্জাতিক টি-২০'তে ক্যারিয়ারের পঞ্চম অর্ধশতক তুলে নিয়ে ফিরে যান তামিমও (৫০)। ছন্দ হারানো সৌম্য (১০) এক ওভার পরেই। মাত্র ১২ রানের ব্যবধানে ৩ উইকেট হারিয়ে চাপে পড়ে বাংলাদেশ। অধিনায়ক সাকিবকে সঙ্গে নিয়ে চাপ সামালে দেয়ার চেষ্টা করেন মিস্টার কুল মাহমুদুল্লাহ। সংক্ষিপ্ত স্কোর: বাংলাদেশ:১৬০/৮ (তামিম ৫০, মাহমুদুল্লাহ ৪৩*; ধনঞ্জয় ২/৩৭)। শ্রীলঙ্কা: ১৫৯/৭ (কুশাল ৬১, থিসারা ৫৮; মোস্তাফিজ ২/৩৯)। বাংলাদেশ ২ উইকেটে জয়ী। আগামী রোববার ফাইনালে ভারতের মুখোমুখি হবে টাইগাররা।
নিদাহাস ট্রফির শেষ ম্যাচে দলে থাকছেন সাকিব আল হাসান
ইনজুরির কারণে নিদাহাস ট্রফির দলের বাইরে রাখা হয়েছিল সাকিব আল হাসানকে। কিন্তু ইনজুরি থেকে সেরে ওঠায় প্রাথমিক পর্বের শেষ ম্যাচকে সামনে রেখে দলে যোগ দিতে যাচ্ছেন তিনি। বৃহস্পতিবার (১৫ মার্চ) দুপুরে এক ই-মেইল বার্তায় সাকিবের দলে যোগ দেওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড। আজই তিনি শ্রীলঙ্কার উদ্দেশ্যে ঢাকা ছাড়বেন। বিকেলের দলের সঙ্গে যোগ দিবেন। শুক্রবার শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে লিগ পর্বের শেষ ম্যাচে খেলবেন তিনি। গত জানুয়ারিতে অনুষ্ঠিত ত্রিদেশীয় সিরিজের ফাইনালে ফিল্ডিং করার সময় বাম হাতের আঙ্গুলের ইনজুরিতে পড়েন সাকিব আল হাসান। অর্থোপেডিকস বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিতে সাকিব গিয়েছিলেন থাইল্যান্ডে। সেখানেই বড় দুঃসংবাদ শোনেন তিনি। কমপক্ষে দুই সপ্তাহ ফিজিওথেরাপি নিতে হবে তাকে। আঙুলের চোটের ভয়াবহতা এতটা হবে, তা ভাবতে পারেনি কেউই। এরপর থাইল্যান্ড থেকে দেশে ফিরে অস্ট্রেলিয়া যান তিনি। সেখান থেকে বিশেষজ্ঞ ডাক্তার দেখিয়ে গেল রোববার দেশে ফিরেন তিনি। দেশে ফিরে সোমবার মিরপুর শের-ই-বাংলা ক্রিকেট স্টেডিয়ামে হালকা অনুশীলনও করেন। আজ দলে যোগ দিতে শ্রীলঙ্কার উদ্দেশ্যে ঢাকা ছাড়ছেন তিনি। শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে ২১৫ রান তাড়া করে জয়ের পর বুধবার ভারতের বিপক্ষে ১৭৭ রান তাড়া করে জয় পায়নি টাইগাররা। নিদাহাস ট্রফির ফাইনালে যেতে শুক্রবার শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে জয়ের কোনো বিকল্প নেই বাংলাদেশের। তাই এই ম্যাচে দলকে আরো শক্তিশালী করতে সাকিব আল হাসানকে অন্তর্ভূক্ত করা হয়েছে।
ইনজুরির কারণে ইংল্যান্ড সিরিজ থেকে ছিটকে পড়লেন সান্টনার
হাঁটুর ইনজুরির কারণে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে আসন্ন টেস্ট সিরিজ থেকে ছিটকে গেছেন ইন-ফর্ম অল-রাউন্ডার মিচেল সান্টনার। নিউজিল্যান্ড ক্রিকেট সূত্র আজ এই তথ্য নিশ্চিত করেছে। ইনজুরির মাত্রা এতটাই গুরুতর যে অস্ত্রোপচারের প্রয়োজন রয়েছে। আর এ কারণে অন্তত ছয় থেকে নয় মাস সান্টনারকে বিশ্রামে থাকতে হবে বলে সূত্রটি জানিয়েছে। আর তাই যদি হয় তবে আইপিএল ও ইংলিশ কাউন্টি কোনটাতেই খেলা হচ্ছেনা ২৬ বছর বয়সী এই অল-রাউন্ডারের। ইতোমধ্যেই আগামী ২২ মার্চ থেকে ইডেন পার্কে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে শুরু হওয়া দুই ম্যাচের টেস্ট সিরিজের জন্য ঘাষিত ১২জনের দল থেকে বাদ পড়েছেন সান্টনার। ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ওয়ানডে সিরিজে তিনি দারুন ফর্মে ছিলেন। ওই সিরিজে ব্যাট হাতে করেছেন দুটি হাফ সেঞ্চুরি। নিউজিল্যান্ড ক্রিকেট জানিয়েছে ম্যাচের সময় সে খানিকটা অস্বস্তি বোধ করেছিল। যে কারণে পরবর্তীতে তার হাঁটুতে স্ক্যান করা হয়। সেখানেই তার হাড়ের সমস্যা ধরা পড়ে, এর চিকিৎসা অস্ত্রোপচার ছাড়া সম্ভব নয় বলে চিকিৎসকরা জানিয়েছেন। নিউজিল্যান্ডের কোচ মাইক হেসন বলেছেন,তিন ধরনের ফর্মেটেই মিচেল আমাদের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ খেলোয়াড়। সে কারণেই আসন্ন সিরিজে আমরা নিশ্চিতভাবেই তাকে মিস করবো। এখন তার দ্রুত সুস্থ হয়ে ওঠা জরুরি। আশা করছি দ্রুতই সে সুস্থ হয়ে আমাদের মাঝে ফিরে আসবে। এদিকে কোমরের ইনজুরি কাটিয়ে দলে ফিরেছেন উইকেটরক্ষক বিজে ওয়াটলিং যা কিউই শিবিওে স্বস্তি ফিরিয়েছে। থাইয়ের ইনজুরির কারণে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে শেষ ওয়ানডেতে দলের বাইরে থাকা তারকা ব্যাটসম্যান রস টেইলরও দলে ফিরেছেন। সান্টনারের পরিবর্তে টেস্ট দলে ডাকা হয়েছে স্পিনিং অল-রাউন্ডার টড এ্যাস্টেলকে। নির্বাচক গেভিন লারসেন বলেছেন, টেস্ট ক্রিকেটে বিজে তার দক্ষতার প্রমান দিয়েছেন। মাঠ ও মাঠের বাইরে সে দারুন একজন মানুষ। নিউজিল্যান্ড : জিত রাভাল, টম ল্যাথাম, কেন উইলিয়ামসন (অধিনায়ক), রস টেইলর, হেনরি নিকোলস, কলিন ডি গ্র্যান্ডহোম, বিজে ওয়াটলিং, টড অ্যাস্টেল, টিম সাউদি, নিল ওয়াগনার, ম্যাট হেনরি, ট্রেন্ট বোল্ট।
আজ বিকেলে ভারতের মুখোমুখি হচ্ছে বাংলাদেশ
সহজ সমীকরণ নিয়েই বুধবার কলম্বোর প্রেমাদাসা স্টেডিয়ামে ভারতের বিপক্ষে মাঠে নামবে বাংলাদেশ। হারলে প্রতিপক্ষ ফাইনালে। আর জিতলে নিজেরাই এক পা দিয়ে রাখবে ফাইনালে। ফাইনালিস্ট নির্ধারিত হবে বাংলাদেশ-শ্রীলঙ্কা শেষ ম্যাচে। তবে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে আগের ম্যাচেই দুর্দান্ত জয় তুলে নেয়া বাংলাদেশের চোখ ফাইনালের দিকেই। আর দুই ম্যাচে টানা জয় পেয়ে উজ্জীবিত ভারতও। ৬ উইকেটে হার দিয়েই ভারতের বিপক্ষে নিদাহাস ট্রফি শুরু করেছিল বাংলাদেশ। কিন্তু শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে রেকর্ডগড়া জয় দিয়ে ঘুরে দাঁড়ানো বাংলাদেশের লক্ষ্য শুধুই ফাইনাল। মঙ্গলবারের সংবাদ সম্মেলনে মাহমুদউল্লাহ সেই স্বপ্নের কথা জানিয়ে বললেন, আমরা এই সফরে আসার আগেই আমাদের মনের মধ্যে গেঁথে নিয়েছিলাম যে আমরা ফাইনালে খেলবো। লক্ষ্য সব সময় জয়। তিনি বলেন, শেষ ম্যাচে জয়ের পর অনেক কিছু করে ফেলেছি এমন নয়, আমরা আমাদের পা মাটিতেই রাখছি। আমাদের টি-টুয়েন্টি স্কিল নিয়ে অনেক প্রশ্ন ছিল। আমি আশা করি আমরা তা দূর করতে পারবো ভালোভাবে। কিন্তু বৈচিত্র্যময় ভারতীয় বোলিং টাইগারদের কিছুটা ভাবাচ্ছে জানিয়ে মাহমুদউল্লাহ বলেন, ভারতীয় বোলাররা তাদের বলের গতিতে তারতম্য এনেছে, বিশেষ করে পেসাররা। তারা যখন ধীরে বল করছে টার্ন আদায় করে নিচ্ছে। পেসাররা গতির তারতম্য ঘটাচ্ছে। আমাদের এই বিষয়গুলো নিয়ে ভাবতে হবে। তবে বাংলাদেশি ব্যান্ড এর ক্রিকেট খেলে ভারতকে হারিয়ে ফাইনালের পথে এগিয়ে যাওয়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করলেন টাইগারদের অধিনায়ক মাহমুদউল্লাহ। নিদাহাস ট্রফির ৩ ম্যাচের ২টিতে জিতলেও নিজেদের অধিনায়কের অফ-ফর্ম নিয়ে দুশ্চিন্তা রয়েছে ভারতের। শিখর ধাওয়ান দারুণ ফর্মে থাকলেও সুরেশ রায়না বড় করতে পারছেন না ইনিংস। সর্বশেষ ম্যাচে দিনেশ কার্তিক ২৫ বলে ৩৯ করেছেন। মনিশ পান্ডে মিডল অর্ডারে স্বস্তি দিচ্ছেন। তবে বোলিংয়ে জয়দেব উনাদকাট তিন ম্যাচ খেললেও রান দিয়েছেন বেশি। শেষ দুই ম্যাচে শারদুল ভালো করেছেন। বৈচিত্র্যে ভালো করছেন বিজয়। শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে দুই ম্যাচেই বেশি বেশি রান দিয়েছেন স্পিনার যুজবেন্দ্র চাহাল। স্পিনার ওয়াশিংটন সুন্দর প্রত্যেক ম্যাচে পাওয়ার প্লেতে আসছেন। সব মিলিয়ে বাংলাদেশের বিপক্ষে জিতে সহজ পথেই ফাইনাল নিশ্চিত করতে চাইবে টি-টুয়েন্টি সংস্করণের প্রথম বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা।
জিতিয়েই মাঠ ছেড়েছেন মুশফিক
শ্রীলঙ্কাকে শুরুতে ২১৪ রানের বিশাল সংগ্রহ জমা করতে দেখে বাংলাদেশের জয়ের আশা হয়তো ছেড়েই দিয়েছিলেন অনেকে। কিন্তু অসাধারণ ব্যাটিং করে দলকে জয়ের বন্দরে নিয়ে গেছেন বাংলাদেশের ব্যাটসম্যানরা। ৫ উইকেটের দুর্দান্ত এক জয় পেয়েছে মাহমুদউল্লাহর দল। ৩৫ বলে ৭২ রানের ঝড়ো ইনিংস খেলে দলকে জিতিয়েই মাঠ ছেড়েছেন মুশফিকুর রহিম। শ্রীলঙ্কার করা ২১৪ রানের জবাবে ব্যাট করতে নেমে শুরু থেকেই দাপুটে নৈপুণ্য দেখিয়েছেন বাংলাদেশের ব্যাটসম্যানরা। দুই ওপেনার তামিম ইকবাল ও লিটন দাসের ঝড়ো ব্যাটিং করে উদ্বোধনী জুটিতেই জমা করেছিলেন ৭৪ রান। প্রথম ১০ ওভারের মধ্যে অবশ্য দুজনেই ফিরেছেন সাজঘরে। ষষ্ঠ ওভারে দলীয় ৭৪ রানের মাথায় বাংলাদেশ হারিয়েছিল প্রথম উইকেট। ১৯ বলে ৪৩ রানের ঝড়ো ইনিংস খেলে ফিরেছিলেন লিটন। দশম ওভারে সাজঘরের পথে হেঁটেছেন তামিম। তিনি খেলেছেন ২৯ বলে ৪৭ রানের ইনিংস। তৃতীয় উইকেটে ৫১ রানের জুটি গড়ে দলকে জয়ের পথে আরও খানিকটা এগিয়ে দিয়েছিলেন মুশফিকুর রহিম ও সৌম্য সরকার। ১৫তম ওভারে সৌম্য ফিরেছিলেন ২৪ রান করে। মাহমুদউল্লাহর ব্যাট থেকে এসেছে ২০ রান। আর ৩৫ বলে ৭২ রানের অসাধারণ ইনিংস খেলে দলকে জয়ের বন্দরে নিয়ে গেছেন মুশফিক। শেষপর্যন্ত অপরাজিতই ছিলেন সাবেক এই অধিনায়ক। এর আগে টস হেরে ব্যাট করতে নেমে কুশল পেরেরার ৭৪, কুশল মেন্ডিসের ৫৭, উপুল থারাঙ্গার ৩২ ও ধনুস্কা গুনাথিলাকার ২৬ রানের ইনিংসগুলোতে ভর করে ২১৪ রান সংগ্রহ করেছে স্বাগতিক শ্রীলঙ্কা। বাংলাদেশের পক্ষে দারুণ বোলিং করে তিনটি উইকেট নিয়েছেন মুস্তাফিজুর রহমান। দুটি উইকেট গেছে অধিনায়ক মাহমুদউল্লাহর ঝুলিতে। লক্ষ্য ২১৫ রান। টি-টোয়েন্টিতে তা পাহাড়সম স্কোরই বটে। এই সংগ্রহ তাড়া করতে নেমে শুরুটা দারুণ করেছিল বাংলাদেশ। দুই ওপেনার তামিম ইকবাল ও লিটন দাস চমৎকার সূচনা এনে দেন দলকে। তারপরও কিছুটা সংশয় ছিলই, প্রতিপক্ষের এই বিশাল সংগ্রহ টপকাতে পারবে কি বাংলাদেশ। না, সব সংশয় দূরে ঠেলে দারুণ এক জয় পেয়েছে লাল-সবুজের দল। আর তা সম্ভব হয়েছে অভিজ্ঞ ব্যাটসম্যান মুশফিকুর রহিমের কল্যাণে। মুশফিকের হার-না-মানা ৭২ রানের ইনিংসের ওপর ভর করেই নিদাহাস ট্রফিতে বাংলাদেশ পাঁচ উইকেটের দারুণ জয় পেয়েছে। দলের প্রয়োজন মুহূর্তে বুক চিতিয়ে রুখে দাঁড়িয়েছেন দেশের অন্যতম সেরা এই ব্যাটসম্যান। মাত্র ৩৫ বলে এই ইনিংসটি খেলেন তিনি। পাঁচটি চার ও চারটি ছক্কায় এই ইনিংসটি সাজান তিনি। তাঁর চমৎকার ইনিংসের ওপরই ভর করেই মূলত জয় পেয়েছে বাংলাদেশ। অবশ্য এর আগে তামিম ও লিটন শুরু থেকে ঝড় তোলেন। লিটন মাত্র ১৯ বলে দুই চার ও পাঁচ ছক্কায় ৪৩ রান করে আউট হন। তার তামিম ২৯ বলে ৪৭ করে দলের জয়ের ভিত গড়ে দেন। মাঝে অধিনায়ক মাহমুদউল্লাহ ২০ রানের একটি ইনিংস খেলেন। যার ওপর ভর করেই সিরিজের প্রথম জয় পেয়েছে বাংলাদেশ। অবশ্য আসরে নিজেদের প্রথম ভারতের কাছে খুবই বাজে ভাবে হেরেছিল বাংলাদেশ। সে ম্যাচে তারা ছয় উইকেটে হেরেছে। ঘরের মাঠে দীর্ঘ ব্যর্থতার পর জয় এই বাংলাদেশ শিবিরে কিছুটা স্বস্তি এনে দিয়েছে।
নিদাহাস ট্রফির জন্য দল ঘোষণা
শ্রীলঙ্কার মাটিতে আসন্ন নিদাহাস টি-টোয়েন্টি ট্রফির জন্য ১৬ সদস্যের দল ঘোষণা করেছে বাংলাদেশ। বাংলাদেশ দলের সদস্যরা হলেন - সাকিব আল হাসান (অধিনায়ক), মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ, তামিম ইকবাল, সৌম্য সরকার, ইমরুল কায়েস, মুশফিকুর রহীম, সাব্বির রহমান, মোস্তাফিজুর রহমান, রুবেল হোসেন, তাসকিন আহমেদ, আবু হায়দার রনি, আবু জায়েদ রাহি, আরিফুল হক, নাজমুল অপু, নুরুল হাসান সোহান এবং মেহেদী হাসান মিরাজ। দলে ফিরেছেন ইমরুল, রুবেল, তাসকিন, সোহান, মিরাজ, রনি। বাদ পড়েছেন মেহেদী, সাইফুদ্দিন, আকিফ, জাকির। সর্বশেষ সিরিজের দলে থাকা নতুনদের মধ্যে নাজমুল অপু, আবু জায়েদ রাহি আর আরিফুল হক জায়গা ধরে রেখেছেন। কোর্টনি ওয়ালশই কোচ থাকছেন। আসন্ন নিদাহাস ট্রফিটি শুরু হচ্ছে আগামী ৬ মার্চ। উদ্বোধনী দিনে মুখোমুখি হবে স্বাগতিক শ্রীলঙ্কা আর ভারত। বাংলাদেশের প্রথম ম্যাচ ৮ মার্চ, ভারতের বিপক্ষে।