বুধবার, এপ্রিল ২১, ২০২১
করোনায় বিপর্যস্ত উরুগুয়ে ফুটবল দল, আক্রান্ত ১৬ জন
২২নভেম্বর,রবিবার,স্পোর্টস ডেস্ক,নিউজ একাত্তর ডট কম: করোনা যেন জেঁকে ধরেছে উরুগুয়ে ফুটবল দলকে। শিবিরে একের পর এক করোনার হানা পড়ছে। সর্বশেষ সংযোজন দলটির অধিনায়ক ডিয়েগো গডিন। ১৬তম সদস্য হিসেবে শুক্রবার কোভিড-১৯ পজিটিভ হয়েছেন তিনি। আন্তর্জাতিক বিরতিতে বিশ্বকাপ বাছাইপর্ব খেলতে এসে উরুগুয়ে জাতীয় দলের খেলোয়াড় ও কোচিং স্টাফরা করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন। ২০২২ বিশ্বকাপের লাতিন আমেরিকা অঞ্চলের বাছাইপর্বের দুটি ম্যাচ খেলতে গিয়ে যথাযথ স্বাস্ব্য প্রোটোকল না মানায় উরুগুয়ে ফুটবল ফেডারেশনকে ১৫ হাজার মার্কিন ডলার জরিমানা করেছে দেশটির স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়। গত সপ্তাহে কলম্বিয়ার বিপক্ষে ম্যাচ জেতার পর প্রথম দুঃসংবাদ পায় উরুগুয়ে। দলের প্রথম খেলোয়াড় হিসেবে করোনা পজিটিভ হন মাতিয়াস ভিনা। এরপর করোনা পজিটিভ হিসেবে ধরা পড়েন উরুগুয়ের তারকা স্ট্রাইকার লুইস সুয়ারেজ। ফলে মঙ্গলবার ব্রাজিলের বিপক্ষে ম্যাচে খেলতে পারেননি তিনি। যে ম্যাচে হেরেছে উরুগুয়ে। এদিকে উরুগুয়ের স্বাস্থ্যমন্ত্রী ড্যানিয়েল সালিনাস শনিবার টুইটারে একটি ছবি পোস্ট করেছেন যেখানে দেখা যাচ্ছে নয়জন খেলোয়াড় একটি বারবিকিউ পার্টিতে একত্রিত হয়েছে। তাদের মধ্যে পাঁচজনই করোনা পজিটিভ হয়েছেন। সবমিলিয়ে আক্রান্ত ১৬ জন।
আন্তর্জাতিক ক্রিকেট খেলার ন্যূনতম বয়স কত? জানাল আইসিসি
২১নভেম্বর,শনিবার,স্পোর্টস ডেস্ক,নিউজ একাত্তর ডট কম: আন্তর্জাতিক ক্রিকেট খেলতে গেলে ক্রিকেটারের সর্বনিম্ন বয়স নির্ধারণ করে দিল আইসিসি। এখন থেকে দেশের হয়ে নামতে গেলে সর্বনিম্ন ১৫ বছর বয়স হতে হবে খেলোয়াড়ের। যদি কোনও দেশ ১৫ বছরের কম বয়সি কাউকে খেলাতে চায় তা হলে আইসিসি-র কাছ থেকে আগে থেকে অনুমতি নিতে হবে। আইসিসির পক্ষ থেকে জানানো হয়, আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের সব বিভাগেই সর্বনিম্ন বয়স আনা হল। এর ফলে ছেলেদের ক্রিকেটের সঙ্গে মেয়েদের ক্রিকেট এবং অনূর্ধ্ব-১৯ ক্রিকেটেও খেলতে হলে ক্রিকেটারের বয়স হতে হবে ১৫ বছর। তার চেয়ে ছোট বয়সের কাউকে খেলাতে হলে আইসিসি-কে জানাতে হবে। সেই খেলোয়াড়ের অভিজ্ঞতা, মানসিক অবস্থা দেখে তবেই সিদ্ধান্ত নেবে আইসিসি।
বিশ্বের সম্ভাবনাময় ২০ ক্রিকেটারের তালিকায় বাংলাদেশের মুর্শিদা
২০নভেম্বর,শুক্রবার,স্পোর্টস ডেস্ক,নিউজ একাত্তর ডট কম: গত দশকে (২০১০-২০১৯) দ্রুতগতিতে এগিয়েছে নারী ক্রিকেট। চলতি শতাব্দীর প্রথম দশকে যেখানে নারী ক্রিকেটে আন্তর্জাতিক ম্যাচ হয়েছে মাত্র ৪৮৬টি, সেখানে ২০১০ থেকে ২০১৯ পর্যন্ত সময়ে প্রায় তিনগুণ বেড়ে মাঠে গড়িয়েছে অন্তত ১২৩৭টি নারী ক্রিকেট ম্যাচ। এই বর্ধিত ম্যাচের সঙ্গে স্বাভাবিকভাবেই বেড়েছে নারী ক্রিকেটারের সংখ্যাও। ২০০০ সালে ১ জানুয়ারি থেকে ২০০৯ সালে ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অভিষেক হয়েছে ৬৬২ জন নারী ক্রিকেটারের। অন্যদিকে ২০১০ থেকে ২০১৯ পর্যন্ত সময়টায় প্রথমবারের মতো আন্তর্জাতিক মঞ্চে নাম লিখিয়েছেন ১৪৫৫ জন নারী ক্রিকেটার। শুধু আন্তর্জাতিক ক্রিকেটই নয়, ঘরোয়া ক্রিকেটেও বেড়েছে নারীদের ম্যাচ সংখ্যা। পুরুষদের পাশাপাশি শুরু হয়েছে নারীদের বিভিন্ন ফ্যাঞ্চাইজি ক্রিকেট লিগও। বর্তমানে বিশ্বের শীর্ষ ৯টি ক্রিকেট খেলুড়ে দেশ তাদের নারী ক্রিকেটারদেরও বোর্ডের কেন্দ্রীয় চুক্তির মধ্যেই রাখে। খেলার পরিধি বাড়ার সঙ্গে নারী খেলোয়াড়দের ভক্ত-সমর্থকও বেড়েছে বহুগুণে। গত এক দশকে অস্ট্রেলিয়ার এলিস পেরি, ম্যাগ লেনিং ও অ্যালিসা হিলি, ভারতের হারমানপ্রিত কৌর, নিউজিল্যান্ডের সুজি বেটস, ও সোফি ডিভাইন, ওয়েস্ট ইন্ডিজের স্টেফানি টেলর, দেয়ান্দ্র ডটিন ও আনিস মোহাম্মদ, ইংল্যান্ডের সারাহ টেলর ও ক্যাথরিন ব্রান্ট, দক্ষিণ আফ্রিকার শাবনিম ইসমাইলরা বনে গেছেন বিশ্ব তারকা। এখন দেখার বিষয় নারী ক্রিকেটের আগামী এক দশক (২০২০-২০২৯) কারা হন বিশ্ব তারকা, কাদের পারফরম্যান্সের দ্যুতিতে ভাস্বর হবে বিশ্ব ক্রিকেট। জনপ্রিয় ক্রিকেটভিত্তিক ওয়েবসাইট ক্রিকইনফো সাজিয়েছে এমনই তালিকা, যারা হতে পারেন চলতি দশকের সেরা খেলোয়াড়। যেমনটা তারা গত জুনে করেছিল, পুরুষ ক্রিকেটারদের নিয়ে। এবার বিশেষজ্ঞদের মতামতের ভিত্তিতে এমন ২০ নারী ক্রিকেটারের নাম প্রকাশ করেছে ক্রিকইনফো। সেখানে রয়েছে বাংলাদেশ নারী ক্রিকেট দলের বাঁহাতি ওপেনার মুর্শিদা খাতুন হ্যাপি। খুলনার ২১ বছর বয়সী এ ব্যাটসম্যান এখনও পর্যন্ত খেলেছেন ৫ ওয়ানডে ও ১০ টি-টোয়েন্টি ম্যাচ। মূলত ভারতের বিপক্ষে সবশেষ নারী টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের ম্যাচে ২৬ বলে ৩০ রানের ইনিংস খেলে সবার নজরে আসেন মুর্শিদা। সেদিন দৃষ্টিনন্দন সব শট খেলে নিজের সামর্থ্যের প্রমাণ দেন তিনি। যে কারণে আগামী দশকের সম্ভাবনাময় তারকাদের তালিকায় মুর্শিদাকেও রেখেছে ক্রিকইনফো।
জেমিকে ছাড়াই কাতার গেল বাংলাদেশ
১৯নভেম্বর,বৃহস্পতিবার,স্পোর্টস ডেস্ক,নিউজ একাত্তর ডট কম: করোনা ভাইরাস থেকে এখনো মুক্তি মেলেনি কোচ জেমি ডে’র। প্রধান কোচকে ছাড়াই আজ বৃহস্পতিবার সকাল ১০টায় কাতারের বিমান ধরেছে বাংলাদেশ দল। আগামী ৪ঠা ডিসেম্বর বিশ্বকাপ বাছাইপর্বে কাতারের মুখোমুখি হবে জামাল-সুফিলরা। কোচ জেমি ডে ছাড়াও দলের সঙ্গী হতে পারেননি ডিফেন্ডার মনজুরুর রহমান মানিক ও স্ট্রাইকার নাবীব নেওয়াজ জীবন। হাঁটুর ইনজুরির কারণে শেষ মুহূর্তে দল থেকে বাদ পড়েছেন জীবন। করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হওয়ায় মনজুরুর রহমান ও ইনজুরিতে পড়া নাবীব নেওয়াজকে ছাড়া ২৫ সদস্যের দল ঢাকা ছেড়েছে। দুই দিন পর মনজুরুর রহমানের আবারো করোনা পরীক্ষা করা হবে। ফল পজেটিভ আসলে বিকল্প হিসেবে একজনকে কাতার পাঠানো হবে বলে জানিয়েছে বাফুফে। সুস্থ হয়ে উঠার পর দলের সঙ্গে যোগ দেবেন কোচ জেমি ডে। আপাতত প্রধান কোচের দায়িত্ব পালন করবেন জেমির সহকারী স্টুয়ার্ট ওয়াটকিস। কাতারে তিন দিনের কোয়ারেন্টিন শেষে অনুশীলন শুরু করবে বাংলাদেশ দল। ২৫ ও ২৮শে নভেম্বর কাতারে দুটি প্রস্তুতি ম্যাচ খেলবে লাল-সবুজরা। প্রস্তুতি ম্যাচের প্রতিপক্ষ এখনো ঠিক হয়নি। বিশ্বকাপ বাছাই পর্বে কাতারের সঙ্গে প্রথম দেখায় ঘরের মাঠে ২-০ গোলে হেরেছিল বাংলাদেশ। এখনো পর্যন্ত বিশ্বকাপ বাছাইপর্বে চার ম্যাচ খেলে ১ পয়েন্ট বাংলাদেশের। পাঁচ ম্যাচ করে খেলেছে ই গ্রুপে বাংলাদেশের অপর চার প্রতিপক্ষ। ১৩ পয়েন্ট নিয়ে শীর্ষে কাতার। দুইয়ে থাকা ওমানের সংগ্রহ ১২ পয়েন্ট। তিন ও চারে থাকা আফগানিস্তান ও ভারতের পয়েন্ট ৪ ও ৩। ২৫ জনের দল: আশরাফুল ইসলাম রানা, আনিসুর রহমান জিকো, পাপ্পু হোসেন, তপু বর্মণ, ইয়াসিন খান, বিশ্বনাথ ঘোষ, সুশান্ত ত্রিপুরা, রহমত মিয়া, রিয়াদুল হাসান, জামাল ভূইয়া, আতিকুর রহমান ফাহাদ, মামুনুল ইসলাম, সোহেল রানা, রবিউল হাসান, বিপলু আহমেদ, মাহবুবুর রহমান সুফিল, মোহাম্মদ ইব্রাহিম, সাদ উদ্দিন, তৌহিদুল আলম সবুজ, রায়হান হাসান, রাকিব হোসেন, এম এস বাবলু, সুমন রেজা, মানিক হোসেন মোল্লা ও ইয়াসিন আরাফাত।
জার্মানিকে ৬-০ গোলে উড়িয়ে দিলো স্পেন
১৮নভেম্বর,বুধবার,স্পোর্টস ডেস্ক,নিউজ একাত্তর ডট কম: উয়েফা নেশনস লিগের ফাইনালসের টিকিট পেতে জার্মানের প্রয়োজন ছিল স্রেফ একটি ড্র। অথচ তারা কি না পেল নিজেদের ইতিহাসের সবচেয়ে বড় পরাজয়। জার্মানিকে তাদের ইতিহাসের সবচেয়ে বড় ব্যবধানে হারিয়ে নেশনস লিগের শিরোপা দৌড়ে এগিয়ে গেল স্পেন। এ- লিগের চার নম্বর গ্রুপে শেষ ম্যাচটি ছিল মূলত ফাইনালসে ওঠার টিকিটের লড়াই। যেখানে স্পেনের কাছে পাত্তাই পায়নি জার্মানি। নিজেদের ঘরের মাঠে ইউরোপের অন্যতম শক্তিশালী দলটিকে নিয়ে রীতিমতো ছেলেখেলা করেছে স্পেন, ম্যাচ জিতেছে ৬-০ গোলের বড় ব্যবধানে। নিজেদের দীর্ঘ ইতিহাসে কোন প্রতিযোগিতামূলক ম্যাচে এত বড় ব্যবধানে আগে কখনও হারেনি জার্মানি। তাদের অর্ধ ডজন গোলে হারানোর মূল কারিগর স্পেনের তরুণ ফরোয়ার্ড ফেররান তোরেস। তিনি একাই করেছেন তিন গোল। বাকি তিন গোল করেছেন আলভারো মোরাতা, রদ্রি ও মিকেল ওয়ারজাবাল। ম্যাচের ১৭ মিনিটের সময় প্রথম গোলটি করেন দুর্দান্ত ফর্মে থাকা মোরাতা। মিনিট পাঁচেক আগে কানালেসের ইনজুরিতে মাঠে ঢোকা ফাবিয়ান রুইজের ভেতরে বাকানো কর্ণার থেকে ফাঁকায় দাঁড়িয়ে নিখুঁত হেড করেন মোরাতা। যা ঠেকানোর সাধ্য ছিল না জার্মান গোলরক্ষক ম্যানুয়েল নয়্যারের। প্রথমার্ধে আরও দুইবার উল্লাসে মাতে স্বাগতিক দলটি। ম্যাচের ৩৩ মিনিটে নিজের হ্যাটট্রিকের প্রথম গোলটি করেন ফেররান তোরেস। বাম পাশ দিয়ে উঠে আসা হোসে গায়ার কাছ থেকে বল পান রুইজ। তিনি সামনে বাড়িয়ে দেন ফেররানের উদ্দেশ্যে, যিনি সহজেই পরাস্ত করেন নয়্যারকে। এর মিনিট পাঁচেক পর আবারও আক্রমণে ওঠে স্পেন। একের পর এক আক্রমণে কোণঠাসা হয়ে থাকা জার্মানি সেই আক্রমণ কোনোমতে কর্ণারের বিনিময়ে ঠেকায়। তবে কোকের নেয়া সেই কর্ণার থেকেই দারুণ এক হেডে স্কোরশিটে নাম তোলেন রদ্রি, ৩-০ গোলে এগিয়ে থেকে বিরতিতে যায় স্পেন। ন্যুনতম ড্রয়ের খোঁজে মাঠে নামা জার্মানি প্রথমার্ধে কোনো সুযোগই তৈরি করতে পারেনি। দ্বিতীয়ার্ধে তাই তাদের লক্ষ্য ছিল ঘুরে দাঁড়ানোর। কিন্তু সেটিও করতে দেয়নি স্পেন। বারবার আক্রমণে উঠে জার্মানির রক্ষণের দুর্বলতা যেন চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিচ্ছিল লুইস এনরিকের শিষ্যরা। এরই মাঝে ৫৫ মিনিটের সময় নিজের দ্বিতীয় ও দলের হালি পূরণ করেন ফেররান। পাল্টা আক্রমণে হোসে গায়ার পাস থেকে নিখুঁত ফিনিশিংয়ে আনন্দে মাতেন এ তরুণ। এর ১৬ মিনিট পর ফাবিয়ান রুইজের পাস পেয়ে ডি-বক্সের বাইরে থেকে জোরালো শটে হ্যাটট্রিক পূরণ করেন ফেররান তোরেস। স্কোরলাইন তখন ৫-০, একের পর আক্রমণ আর গোল করে যেন ক্লান্ত স্পেন। তাই গোল করার চেয়ে নিজেদের মধ্যে বল দেয়া-নেয়ার দিকেই বেশি মনোযোগী হয় তারা। পুরো ম্যাচে স্পেনের জাল বরাবর একটি শটও নিতে পারেনি জার্মানি। উল্টো নির্ধারিত সময়ের এক মিনিট বাকি থাকতে জার্মানির জালে অর্ধ ডজন পূরণ করেন মিকেল ওয়ারজাবাল। জার্মানিকে ৬-০ গোলের বিশাল ব্যবধানে হারিয়ে নেশনস লিগে শিরোপা লড়াইয়ে নাম লিখিয়েছে স্পেন। চার নম্বর গ্রুপে ছয় ম্যাচ শেষে স্পেনের সংগ্রহ ১১ পয়েন্ট, অন্যদিকে জার্মানি পেয়েছে ৯ পয়েন্ট। ফলে শিরোপা লড়াই থেকে ছিটকে গেছে তারা।
নেপালকে রুখে দিয়ে সিরিজ বাংলাদেশের
১৭নভেম্বর,মঙ্গলবার,স্পোর্টস ডেস্ক,নিউজ একাত্তর ডট কম: প্রথম ম্যাচে জীবন ও সুফিলের গোলে জিতেছিল বাংলাদেশ। কিন্তু দ্বিতীয় ম্যাচে জয়ের ধারাবাহিকতা ধরে রাখতে পারেনি বাংলাদেশ। মুজিববর্ষ উপলক্ষে আয়োজিত সিরিজের দ্বিতীয় ম্যাচে নেপালের সঙ্গে গোলশূন্য ড্র করেছে স্বাগতিকরা। আর এতেই ১-০তে সিরিজ জয় নিশ্চিত করেছে বাংলাদেশ। প্রথম ম্যাচে নেপালের বিপক্ষে ২-০ গোলে জিতেছিল বাংলাদেশ। প্রথমার্ধে এগিয়ে ছিল ১-০ গোলে। তবে সিরিজের দ্বিতীয় ম্যাচে প্রথমার্ধে স্বাগতিকদের রুখে দিয়েছিল নেপাল। দ্বিতীয়ার্ধেও সুবিধা করতে না পারায় ড্র নিয়ে মাঠ ছাড়ে স্বাগতিকরা। বঙ্গবন্ধু জাতীয় স্টেডিয়ামে হাজারও দর্শকের উপস্থিতিতে শুরু থেকে দুই দল রক্ষণ জমাট রেখে আক্রমণে ওঠার চেষ্টা করেছে। বাংলাদেশ দলের প্রধান কোচ জেমি ডে করোনায় আক্রান্ত। তার জায়গায় সহকারী স্টুয়ার্ট ওয়াটকিস ডাগ আউটে। তার অধীনে একাদশে দুটি পরিবর্তন এনে নেমেছে বাংলাদেশ। ৪-২-৩-১ ফর্মেশনে গোলকিপার আশরাফুল ইসলাম রানা ও ইয়াসিন খান শুরু থেকে খেলছেন। ২ মিনিটের সময় প্রথম সুযোগ পায় বাংলাদেশ। সাদ উদ্দিনের ক্রসটি জমে যায় গোলকিপার কিরণ কুমারের তালুতে। পরের মিনিটে অবশ্য নেপালের তেজ তামাংয়ের দূরপাল্লার শট গোলকিপার রানার তালুবন্দী করতে তেমন কোনও সমস্যাই হয়নি। জামালরা লম্বা পাসে খেলার চেষ্টা করেছেন। তবে মাঝমাঠ আগের ম্যাচের মতো কিছুটা নিষ্প্রভ। নাবীব নেওয়াজ জীবন প্লে-মেকারের ভূমিকায় ঘাম ঝরিয়েছেন। একাধিক আক্রমণের উৎসে এই ফরোয়ার্ড। তরুণ স্ট্রাইকার সুমন রেজা দুটি সুযোগ পেয়েও লক্ষ্যভেদ করতে পারেননি। ২৩ মিনিটে জীবনের পাস থেকে সুমন রেজা বক্সের বাইরে থেকে জোরালো শট নিলেও তা ক্রসবারের একটু ওপর দিয়ে যায়। ৩১ মিনিটে জীবনের ক্রস থেকে সুমন রেজার আরও একটি দুর্বল শট গোলকিপার কিরণ সহজেই রুখে দিয়ে স্বাগতিকদের হতাশ করেন। দ্বিতীয়ার্ধে সুমন রেজার জায়গায় নামেন মাহবুবুর রহমান সুফিল। খেলায় কিছুটা গতি ফিরলেও গোল আসেনি। নেপাল এই অর্ধে আক্রমণ বাড়িয়ে খেলেছে। ৫৬ মিনিটে সতীর্থের ক্রস থেকে নেপালের সুজল শ্রেষ্ঠা পা ছোঁয়াতে পারেননি। তার আগেই ডিফেন্ডার তপু ক্লিয়ার করেন। ৫৯ মিনিটে বক্সের ভেতর থেকে সুফিলের পাসে মানিক মোল্লা লক্ষ্যে শট নিতে ব্যর্থ হন। দুই মিনিট পর মানিক ও ইব্রাহিমের জায়গায় নামেন বিপলু ও সোহেল রানা। কিন্তু তাতেও গোল আসেনি। বরং যোগ করা সময়ে নেপাল গোল পেলেও পেতে পারতো। বাধা হয়ে দাঁড়ায় বারপোস্ট। নবযুগ শ্রেষ্ঠা মাথা ছোঁয়ানোর পর গোলকিপার রানাকে ফাঁকি দিয়ে দূরের পোস্টে লাগলে রক্ষা বাংলাদেশের। খানিক পর রেফারি মিজানুর রহমানের শেষ বাঁশি বাজলে আতশবাজিতে রঙিন হয়ে উঠে বঙ্গবন্ধু স্টেডিয়ামের আকাশ। বাংলাদেশ একাদশ: আশরাফুল ইসলাম রানা, তপু বর্মণ, বিশ্বনাথ ঘোষ, রহমত মিয়া, ইয়াসিন খান, জামাল ভূঁইয়া, মানিক মোল্লা (বিপলু আহমেদ), ইব্রাহিম (সোহেল রানা), সাদ উদ্দিন, নাবীব নেওয়াজ জীবন ও সুমন রেজা (মাহবুবুর রহমান সুফিল)।
আইসিসি চেয়ারম্যান নির্বাচনে তিন দফা ভোট
১৭নভেম্বর,মঙ্গলবার,স্পোর্টস ডেস্ক,নিউজ একাত্তর ডট কম: ক্রিকেটের সর্বোচ্চ নিয়ন্ত্রক সংস্থা আইসিসির পরবর্তী চেয়ারম্যান নির্বাচনে হতে পারে তিন দফা ভোট। সোমবার শুরু হয়েছে আইসিসির চূড়ান্ত ত্রৈমাসিক সভা। সেখানেই ভোটের মাধ্যমে নির্বাচন করা হবে আইসিসির পরবর্তী চেয়ারম্যান। যেখানে সম্ভাবনা রয়েছে সর্বোচ্চ তিনবার ভোট হওয়ার। বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন চেয়ারম্যান ইমরান খাজা ও নিউজিল্যান্ড ক্রিকেট বোর্ডের প্রধান গ্রেগ বারক্লের মধ্যে হবে ভোট। চেয়ারম্যান নির্বাচনে গ্রহণ করা হবে মোট ১৬টি ভোট। আইসিসির পূর্ণাঙ্গ ১২ দেশের ক্রিকেট বোর্ডের প্রধান, সহযোগী সদস্য দেশগুলোর তিন প্রতিনিধি এবং স্বতন্ত্র নারী পরিচালক ইন্দ্রা নুয়ি দেবেন এই ১৬ ভোট। যেহেতু বর্তমানে চেয়ারম্যান পদে দায়িত্বপ্রাপ্ত রয়েছেন ইমরান খাজা, তাই তিনি ভোট দিতে পারবেন না। তবে নিউজিল্যান্ড ক্রিকেট বোর্ডের প্রধান হিসেবে বারক্লের থাকবে ভোটাধিকার। এই নির্বাচনে স্রেফ সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেলেই হবে না। জয়ী প্রার্থীকে পেতে হবে দুই-তৃতীয়াংশ তথা ন্যুনতম ১১টি ভোট। যদি দুই প্রার্থীর কেউই ১১ ভোট না পান, তাহলে আগামী সপ্তাহের শুরুর দিকে দ্বিতীয় দফায় হবে ভোটিং। সেখানেও যদি বিজয়ী না পাওয়া যায় তাহলে শেষবারের মতো আরেকবার ভোট দেবেন সবাই। এরপরেও যদি কেউ দুই-তৃতীয়াংশ না পান তাহলে একটা নির্ধারিত সময়ের জন্য ইমরান খাজাই বসবেন আইসিসি প্রধানের চেয়ারে। আইসিসি চেয়ারম্যান নির্বাচনের এ ভোটিং হবে ইলেক্ট্ররাল ভোটিং সিস্টেমে। চেয়ারম্যান হওয়ার জন্য অনেকে আগ্রহ প্রকাশ করলেও শেষপর্যন্ত এটি নেমে এসেছে ইমরান খাজা ও গ্রেগ বারক্লের মধ্যে। আগামী ২ ডিসেম্বরের মধ্যে নতুন চেয়ারম্যানের নাম প্রকাশ করতে হবে আইসিসিকে।
ক্ষমা চাইলেন সাকিব আল হাসান
১৬নভেম্বর,সোমবার,স্পোর্টস ডেস্ক,নিউজ একাত্তর ডট কম: বাংলাদেশ জাতীয় দলের ক্রিকেটার সাকিব আল হাসানকে নিয়ে বেশ কয়েকদিন ধরে আলোচনা-সমালোচনা হচ্ছে। এর নেপথ্যে কলকাতায় কালীপূজা উদ্বোধন করার ঘটনা। অবশেষে বিষয়টি খোলাসা করে সবার কাছে ক্ষমা চেয়েছেন তিনি। নিজের অফিসিয়াল ইউটিউব চ্যানেলে সোমবার একটি ভিডিও পোস্ট করেন সাকিব। সেখানে তিনি বলেন, আসলে বিষয়টি খুব সেনসিটিভ। প্রথমেই যা বলবো আমি নিজেকে একজন গর্বিত মুসলমান মনে করি। ভুলত্রুটি হবেই। ভুলত্রুটি নিয়েই আমরা চলাচল করি। আমার কোনো ভুল হয়ে থাকলে অবশ্যই ক্ষমা করবেন। আপনাদের মনে কষ্ট দিয়ে থাকলে অবশ্যই আমি ক্ষমা প্রার্থনা করছি। এরপর তিনি বলেন, এখন আসি পূজার বিষয়টি নিয়ে। মিডিয়াসহ সব জায়গায় এসেছে আমি পূজা উদ্বোধন করতে গিয়েছিলাম। কিন্তু তা করতে আমি যাইনি, কখনো করিওনি। ওখানকার ইনভাইটেশন কার্ড দেখলেই আপনারা বুঝবেন কে পূজা উদ্বোধন করেছেন। আর সেটা হয়েছে আমি যাওয়ার আগেই। টাইগার অলরাউন্ডার যোগ করেন, যেখানে আমার মূল প্রোগ্রাম হয়েছে সেটা অবশ্যই পূজা মন্ডপ ছিলো না। পাশে আরেকটি স্টেজ ছিল সেখানে পুরো অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়েছে। অনুষ্ঠান শেষে পূজা মন্ডপ ক্রস করার সময় পরেশ দা, যিনি আমাকে ইনভাইট করেছিলেন তার অনুরোধে প্রদীপ প্রজ্বলন করি। যেহেতু কলকাতায় আমি অনেকদিন খেলেছি, ওখানকার মানুষরা আমায় অনেক পছন্দ করে, সবার উৎসাহের কারণে সেখানে দাঁড়িয়ে ছবি তোলা হয়। সাকিব আরো বলেন, আমার যেখানে প্রোগ্রাম ছিল সেখানে পূজার কোনো অনুষ্ঠানই হয়নি। যেটা হয়েছে, দুই মিনিটের যে সময়ে আমি পূজা মন্ডপে ছিলাম সেটাতেই সবাই ধরে নিয়েছে আমি পূজার উদ্বোধন করেছি। কিন্তু এটা আমি কখনোই করিনি। এছাড়া একজন সচেতন মুসলমান হিসেবে আমি করবো না। ওখানে আমার যাওয়াটাই আসলে ঠিক হয়নি। আশা করি সবাই বিষয়টি ক্ষমাসুন্দর দৃষ্টিতে দেখবেন। আগামীতে এমন কোনো ঘটনার যেন পুনরাবৃত্তি হয় সেদিকেও খেয়াল রাখবো। এরপর আসলে কে পূজা মন্ডপের উদ্বোধন করেছিলেন সেটি জানিয়ে সাকিব বলেন, পূজার উদ্বোধক ছিলেন ফিরহাদ হাকীম। তিনি কলকাতা পৌরসভার প্রশাসনিক প্রধান ও পশ্চিমবঙ্গ সরকারের একজন মন্ত্রী। আমি আসার আগেই তিনি পূজার উদ্বোধন করেছেন। আমি আমার ধর্মকে ছোট করে অন্য ধর্মকে বড় করবো এমন কোনো ইচ্ছে আমার নেই। ইসলাম একটি শান্তির ধর্ম। আমার জ্ঞান যদিও কম, আমি চেষ্টা করছি, ভবিষ্যতেও চেষ্টা করবো ইসলাম সম্পর্কে যতটা জ্ঞান নেয়া যায়। দোয়া করবেন আমি যেন নিয়ম মেনে চলতে পারি। এর আগে গত বৃহস্পতিবার বেনাপোল স্থলবন্দর হয়ে ভারতে যান সাকিব। সেখানে কাজ শেষে শুক্রবার দুপুরে দেশে ফেরেন টাইগার অলরাউন্ডার।
পিএসএল ফাইনালে তামিমের লাহোর
১৬নভেম্বর,সোমবার,স্পোর্টস ডেস্ক,নিউজ একাত্তর ডট কম: পাকিস্তান সুপার লিগের ফাইনালে উঠে গেছে তামিম ইকবালের দল লাহোর কালান্দার্স। দ্বিতীয় এলিমিনেটর ম্যাচে মুলতান সুলতানসকে ২৫ রানে হারিয়ে প্রথমবারের মতো টুর্নামেন্টের ফাইনালের টিকিট নিশ্চিত করেছে লাহোর। মঙ্গলবার (১৭ নভেম্বর) রাতে শিরোপার লড়াইয়ে করাচি কিংসের মুখোমুখি হবে লাহোর। দুইটি দলই প্রথমবারের মতো উঠেছে ফাইনালে। এছাড়া পাকিস্তানের ঘরোয়া খেলাধুলায় লাহোর ও করাচির প্রতিদ্বন্দ্বিতাও বেশ পুরনো। তাই এক জমজমাট ফাইনালের আশায় ভক্ত-সমর্থকরা। রোববার রাতে দ্বিতীয় এলিমিনেটর ম্যাচে আগে ব্যাট করে তামিম ইকবাল ও ডেভিড উইসের ঝড়ে ১৮২ রানের বড় সংগ্রহ পায় লাহোর। জবাবে নিজের ইনিংসের পাঁচ বল বাকি থাকতেই ১৫৭ রানে অলআউট হয়ে গেছে মুলতান। ব্যাটে ঝড় তোলার পর বল হাতেও ৩ উইকেট নিয়েছেন উইস। পেশোয়ার জালমির বিপক্ষে প্রথম এলিমিনেটর ম্যাচে দারুণ শুরুর পর ১০ বলে ১৮ রান করে আউট হয়ে যান তামিম। সংক্ষিপ্ত এ ইনিংসে ২ চারের সঙ্গে ১টি ছক্কাও হাঁকান তিনি। ইনিংস বড় করতে না পারার আক্ষেপে পুড়েছেন দ্বিতীয় এলিমিনেটর ম্যাচেও। মুলতানের বিপক্ষে তামিমের ব্যাটিং ছিল আরও দায়িত্বশীল, বোঝা যাচ্ছিল বড় কিছু করার প্রত্যয় নিয়েই নেমেছেন তিনি। কিন্তু ৪.৫ ওভারের বেশি খেলতে পারেননি। জুনায়েদ খানের বলে টপ এজে আউট হওয়ার আগে ৫ চারের মারে ২০ বলে ৩০ রান করেছেন তামিম। অর্থাৎ দুই ম্যাচে তামিমের ব্যাট থেকে এসেছে ৩০ বলে ৪৮ রান, ছিল ৭ চার ও ১টি ছয়ের মার। ক্রমাগত নিজেকে ছাড়িয়ে যাওয়ার মিশনে মঙ্গলবারের ফাইনালে নিশ্চয়ই ইনিংস বড় করার মিশন নিয়ে নামবেন দেশসেরা এ ওপেনার। তামিমের ব্যাটে ঝড়ো সূচনা পেলেও লাহোরের জয়ের মূল কারিগর ডেভিড উইস। তামিমের ৩০ ছাড়াও স্বীকৃত ব্যাটসম্যানদের মধ্যে আরেক ওপেনার ফাখর জামান করেন ৩৬ বলে ৪৬ রান। বাকিরা ব্যর্থ হলে ১৫ ওভার শেষে দলের সংগ্রহ দাঁড়ায় ৫ উইকেটে ১১৫ রান। সেখান থেকে শেষের ৫ ওভারে আরও ৬৭ রান পায় লাহোর। যার পুরো অবদান উইসের। ইনিংসের শেষ দুই বলে জোড়া ছক্কাসহ মাত্র ২১ বলে ৫ চার ও ৩ ছয়ের মারে ৪৮ রানের টর্নেডো ইনিংস খেলেন উইস। তার ব্যাটিংয়ের সুবাদে ১৮২ রানের সংগ্রহ পায় লাহোর। ১৮৩ রানের বিশাল লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে শুরুটা দুর্দান্ত করেছিলেন মুলতানের দুই ওপেনার জিসান আশরাফ ও অ্যাডাম লাইথ। মাত্র ২৬ বলে দুজনে যোগ করেন ৪৭ রান। জিসান ফিরে গেলেও ঝড়ো ব্যাটিং চালিয়ে যান লাইথ, মাত্র ২৮ বলে পূরণ করেন ব্যক্তিগত ফিফটি। কিন্তু পঞ্চাশ পূরণের আর এক রানও করতে পারেননি লাইথ। তিনি ৪ চার ও ৩ ছয়ের মারে ৫০ রান করে ফেরার পর ভেঙে পড়ে মুলতানের ইনিংস। চেষ্টা করেছিলেন খুশদিল শাহ। তবে তার ১৯ বলে ৩০ রানের ইনিংস স্রেফ পরাজয়ের ব্যবধানই কমিয়েছে। শেষপর্যন্ত ১৫৭ রানে থামে মুলতানের ইনিংস। লাহোরের পক্ষে বল হাতে ৩টি করে উইকেট নিয়েছেন হারিস রউফ ও ডেভিড উইস। এছাড়া দিলবার হোসেন ও শাহিন আফ্রিদির শিকার ২টি করে উইকেট। স্বাভাবিকভাবেই ম্যাচসেরার পুরস্কার জিতেছেন ডেভিড উইস।