কয়েক ঘন্টা পরই বিশ্বকাপের পর্দা উঠবে
আর মাত্র কয়েক ঘন্টা। এরপরই ফুটবল প্রেমিদের দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান হচ্ছে। জমকালো উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের মধ্যে দিয়ে রাশিয়ার লুঝনিকি স্টেডিয়ামে পর্দা উঠছে ২১তম ফুটবল বিশ্বকাপের। এটিই এবারের বিশ্বকাপে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভেন্যু। বছরখানেক আগে ৩৫০ বিলিয়ন ইউরো ব্যায়ে শেষ হয়েছে এর সংস্কারকাজ। এখন যা পুরোপুরি তৈরি ‘দ্য গ্রেটেস্ট শো অন আর্থ’-এর জন্য। ৩২ টি দেশ নিয়ে বৃহস্পতিবার বাংলাদেশ সময় সন্ধ্যা ৭টায় পর্দা উঠবে বিশ্বকাপের ২১তম আসরের। এর পরই রাত ৯টায় মাঠে গড়াবে বল। উদ্বোধনী ম্যাচে মুখোমুখি হবে স্বাগতিক রাশিয়া ও সৌদি আরব। লুঝনিকি স্টেডিয়ামে এ ম্যাচটি ছাড়াও হবে একটি সেমিফাইনাল ও ফাইনালসহ মোট ৭টি ম্যাচ। আজ থেকে আট বছর আগে ২০১০ সালের ডিসেম্বরে রাশিয়ার মাটিতে বিশ্বকাপ আয়োজনের সিদ্ধান্ত হয়। যদিও তা নিয়ে বির্তক ছিল আগ্রহী বাকি দেশগুলোর মধ্যে ছিল। এ তালিকার প্রথমেই ছিল ইংল্যান্ড। যারা বাদ পড়ে যায় ভোটাভুটির প্রথম পর্বে। দেশটির সাবেক প্রধানমন্ত্রী ডেভিড ক্যামেরন তো অভিযোগ তোলেন, দুর্নীতির মাধ্যমে স্বাগতিক হওয়ার অধিকার আদায় করেছে রাশিয়া। সাবেক ফিফা প্রেসিডেন্ট সেপ ব্লাটার পর্যন্ত পরবর্তী সময়ে স্বীকার করেছেন, ভোটের আগেই নির্ধারিত হয়ে যায়, ২০১৮ বিশ্বকাপ ফুটবল হবে রাশিয়ায়। এরআগে ১৯৮০ সালে লুঝনিকি স্টেডিয়ামে অলিম্পিকের উদ্বোধনী ও সমাপনী অনুষ্ঠান হয়েছিল। এরপর ব্যাপক পরিচিতি পেয়েছিল ৬২ বছর আগে নির্মিত এ স্টেডিয়ামটি। দেশটির প্রথম প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির লেনিনের নামেই প্রথম নামকরণ করা হয়েছিল এ স্টেডিয়ামের। ১৯৯২ সালের পর স্টেডিয়ামের নাম হয় ‘লুঝনিকি’। মস্কোভো নদীর বাঁকে জন্মানো সুগভীর তৃণক্ষেত্র থেকে ‘লুঝনিকি’ নামটির উৎপত্তি। ২১তম বিশ্বকাপের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের ব্যাপ্তি মাত্র ৩০ মিনিট। বিশ্বকাপের থিম সং ‘লিভ ইট আপ’-এর মধ্যে দিয়ে শুরু হবে মূল মহড়ন। থিম সং নিয়ে সবার সামনে হাজির হবেন উইল স্মিথ এবং নিকি জ্যাম। উদ্বোধনী মঞ্চে বিশ্বখ্যাত দুই শিল্পী রবি উইলিয়ামস ও আইদা গারিয়ুফুলিনার সঙ্গে উপস্থিত থাকবেন ব্রাজিলীয় ফুটবল গ্রেট রোনালদোও। এদিকে রাশিয়ান স্থানীয় তারকাদের নানা রকম আয়োজনে মাতবে পুরো গ্যালারি। অনুষ্ঠানের পাশাপাশি তুলে ধরা হবে রাশিয়ার সংস্কৃতির বিভিন্ন দিক। পুরো গ্যালারির সামনে জিমন্যাস্ট এবং ট্র্যামপোলিনিস্টরাও পারফর্ম করবেন। বিশ্বকাপের আগের আসরের মতো এবারও রোমাঞ্চের কমতি নেই। সব কিছুর পরও রয়েছে চাপা সংশয়। কিন্তু সব কিছু ছাপিয়ে রাশানরা ঠিকই দারুণ একটি বিশ্বকাপ উপহার দেবে। এমনটাই বিশ্বাস আয়োজকদের।
সেই রবি উদ্বোধনী মঞ্চে!
মাত্র দুই বছরে কিভাবে সবকছিু পাল্টে যাওয়ার অপেক্ষায়! নাকি বিশ্বকে নতুন বার্তা দিতে চাচ্ছে রাশিয়া? বিশ্ব মাতাতে সব প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে লেলিনের দেশ। তারই অংশ হিসেবে বিশ্বকাপের উদ্বোধনী অনুষ্ঠান মাতাতে নিয়ে আসা হচ্ছে বৃটিশ পপ গায়ক রবি উইলিয়ামসকে। সেই উইলিয়ামস, যার গানের উপর নিষেধাজ্ঞা জারির দাবিতে বছর দুই আগেই সরব হয়েছিল রাশিয়ার গণমাধ্যম। হয়েছিল প্রতিবাদ সভাও। বিশ্ব খ্যাত এই পপ গায়কের প্রকাশিত দ্য বুটস ইন অ্যালবামে এমন কিছু শব্দ ব্যবহার করা হয়েছিল যাতে অপমানিত বোধ করেছিলেন রাশিয়ানরা। সেই রবিই থাকবেন উদ্বোধনী মঞ্চে রোনালদোর সঙ্গে। আগামীকাল রাশিয়া বনাম সউদী আরব ম্যাচ শুরু হওয়ার আধা ঘন্টা আগে হবে একটি সংক্ষিপ্ত উদ্বোধনী অনুষ্ঠান। ম্যাচ শুরু হবে বাংলাদেশ সময় রাত নটায়। তার মানে রাত সাড়ে আটটার দিকে লুঝনিকি স্টেডিয়ামের আশি হাজার দর্শককে সুরের মুর্ছনায় বাধবেন রবি। এসময় একমাত্র ফুটবলার হিসেবে তার পাশে থাকবেন ব্রাজিলের সাবেক তারকা রোনালদো। আগের সূচিতে সামান্য রদবদল করে করা হয়েছে এই সূচি। পরশু ফিফার পক্ষ থেকে এমনটিই জানানো হয়েছে। রবি ছাড়াও গানে গানে মঞ্চ মাতাতে দেখা যাবে রাশিয়ার যুব সমাজের জনপ্রিয় গায়িকা আইদা গ্যারিফ্লনাকে। আর স্বাগতিক হিসেবে অনুষ্ঠানে রাশিয়ান সাস্কৃতির ছোঁয়া তো থাকবেই। নিজেদের ইতিহাসে দ্বিতীয়বারের মত বিশ্বের সর্ববৃহৎ ক্রীড়াজজ্ঞের আয়োজন করতে যাচ্ছে রাশিয়া। ১৯৮০ সালে মস্কো অলিম্পিকের পর এই প্রথম বড় কোন ক্রীড়াজজ্ঞ বসছে লেলিনের দেশে। এখন পর্যন্ত সব ঠিকঠাক আছে বলেই মনে হচ্ছে। রাশিয়ার বিরধী দেশগুলো নিরাপত্তা নিয়ে নানান বাহানা করলেও এখন পর্যন্ত এমন কোন আলামত পাওয়া যায়নি। লুঝনিকিও বিশ্ব মাতাতে প্রস্তুত। শেষবারের মত টানা হচ্ছে তুলির আচড়। মাঠের ঘাস কেটে ফুটিয়ে তোলা হচ্ছে রাশিয়া নামটি। যারা উদ্বোধনী অনুষ্টানের টিকিট পাননি তাদের জন্য মাঠের বাইরে সংযুক্ত করা হয়েছে বিশাল পর্দা। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানেই একটা বার্তা পাওয়া যায় বৈকি বাকি কাজটাও সংগঠকরা কিভাবে সম্পন্ন করতে পারবেন। তবে রবি ও আইদা কিভাবে বিশ্বকে মুগ্ধতায় মাতাবেন সেটাই মূলত রয়েছে আগ্রহের কেন্দ্রবিন্দুতে। দুজনই অবশ্য প্রতিশ্রতি দিয়েছেন ভক্তদের মোহিত করার। রবি বলেছেন, রাশিয়ায় এসে ফের গান শোনাবার সুযোগ পাচ্ছি এবং সেটা দুর্দান্ত একটি অনুষ্ঠানে এটা আমার কাছে বিরাট ব্যাপার। এটা যেন স্বপ্ন ছোঁয়ার মতো ব্যাপার। আমি এমন কিছু শোনাব যা সারা বিশ্ব মনে রাখবে। আর আইদার মন্তব্য, আমার কল্পনাতেও কখনও আসেনি যে বিশ্বকাপের মঞ্চে নিজেকে কোনওদিন মেলে ধরতে পারব। আমাদের দেশে বিশ্বকাপ। সেখানে উদ্বোধনের দিন গান করার সুযোগ। এমন কিছু করতে হবে যাতে সবাই মনে রাখে। তবে রবির মত বিতর্কিত তারকাকে এনে উদ্বোধনী অনুষ্ঠান ভদিমির পুতিনের দেশ কিভাবে সামাল দেন এর উপর নির্ভর করছে অনেক কিছুই। এটাও হতে পারে, প্রবল আলোচনা সত্তেও বিতর্কিত রবিকে নিয়ে আসা মানে বিশ্বের সামনে রাশিয়াকে উন্মুক্ত করে দেয়ার এক বহিপ্রকাশ।
যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে উ.কোরিয়ার নতুন সম্পর্কের আভাস
কোরীয় উপদ্বীপের সমাজতান্ত্রিক দেশটির রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে নতুন সম্পর্ক স্থাপনের কথা ভাবছে উত্তর কোরিয়া। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে উত্তর কোরিয়ার নেতা কিম জং উনের ঐতিহাসিক সম্মেলনের একদিন আগে দেশ দুটির মধ্যে নতুন সম্পর্কের এমন আভাস এলো। আগামীকাল মঙ্গলবার সিঙ্গাপুরের সেনতোসা দ্বীপে তাদের এই বৈঠক হতে যাচ্ছে। ইতোমধ্যে রোববার সন্ধ্যায় সিঙ্গাপুর পৌঁছেছেন দুই নেতা। যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে গত কয়েক দশক ধরে উত্তর কোরিয়ার সম্পর্ক বেশ বৈরি। দেশ দুটির মধ্যে নতুন সম্পর্কের ইঙ্গিত সেই বৈরি সম্পর্ক উন্নয়নেরই পূর্বাভাস। সিঙ্গাপুর পৌঁছে ট্রাম্প এই টুইটার বার্তায় জানান, সিঙ্গাপুরে পৌঁছতে পেরে খুব ভালো লাগছে। চারদিকে উদ্দীপনা কাজ করছে। বহুলপ্রত্যাশিত এই সম্মেলন নিয়ে খুব ভালো অনুভব করছেন বলেও জানান ট্রাম্প। ট্রাম্প আশা প্রকাশ করেন, এই সম্মেলনের মধ্যে দিয়ে একটি পথ সৃষ্টি হবে, যা অবশেষে পরমাণু অস্ত্রমুক্ত উত্তর কোরিয়ার জন্ম দেবে।
ফাইনালে শিরোপা জিতে আমরা খুব খুশি: সালমা
এশিয়া কাপের গত ছয় আসরে চ্যাম্পিয়ন ভারত। দলটি এশিয়ান ক্রিকেটে অন্যতম শক্তিশালী। পাকিস্তান-শ্রীলংকার মতো দলকে বলে কয়েই হারিয়ে দেয় ভারত। ভারত-পাকিস্তান এবং শ্রীলংকার তুলনায় বাংলাদেশ নারী ক্রিকেট দল নামে মাত্র। সদ্য শেষ হওয়া এশিয়া কাপে খেলতে যাওয়ার ঠিক আগে দক্ষিণ আফ্রিকা সফরে গিয়ে তিন ম্যাচের টি-টোয়েন্টি সিরিজে ধবল ধোলাই হয় সালমা খাতুনের নেতৃত্বাধীন দলটি। যে কারণে মালয়েশিয়ায় অনুষ্ঠিত এশিয়া কাপে অংশ নিতে যাওয়ার আগে তেমন কোনো প্রত্যাশা ছিলো না সালমাদের কাছে। ক্রিকেট বোর্ডের বাড়তি প্রত্যাশা না থাকায় স্বাধীনভাবেই খেলার রসদ পান সালমা-জাহানারারা। আর সেই স্বাধীনতাই তাদের স্বপ্নপূরণে সহায়ক হয়েছে। এশিয়া কাপের হট ফেবারিট ভারতকে তিন উইকেটে হারিয়ে প্রথমবারের মতো শিরোপা নিশ্চিত করেছে বাংলাদেশ নারী ক্রিকেট দল। রোববার মালয়েশিয়ায় শক্তিশালী ভারতকে ৩ উইকেটে হারিয়ে এশিয়া কাপের শিরোপা নিশ্চিত করার পর বাংলাদেশ নারী দলের অধিনায়ক সালমা খাতুন বলেন, টুর্নামেন্টে আমাদের হারানোর কিছু ছিল না। ভারতের ছিল অনেক। এখানে আমাদের অনেক কিছুই পাওয়ার ছিল। শিরোপা জয়ের মধ্য দিয়ে আমরা আমাদের স্বপ্ন পূরণ করতে সক্ষম হয়েছি। টুর্নামেন্টের প্রথম ম্যাচে শ্রীলংকার বিপক্ষে আগে ব্যাট করে ৬৩ রানে অলআউট হয়ে যাওয়া বাংলাদেশ ৬ উইকেটে হেরে যায়। সেই অবস্থা থেকে সফল ভাবেই ঘুরে দাঁড়ায় সালমা খাতুনের নেতৃত্বাধীন দলটি। এশিয়া কাপের শিরোপা জয়ের পর সালমা খাতুন বলেন, টুর্নামেন্টে আমাদের শুরুটা ভালো হয়নি। তবে পরের ম্যাচগুলোতে আমরা ভালোভাবেই ঘুড়ে দাঁড়াতে সক্ষম হয়েছি। ফাইনালে শিরোপা জিতে আমরা খুব খুশি। আমাদের এখন একটাই লক্ষ্য এই পারফরম্যান্সের ধারাবাহিকতা ধরে রাখা।
ইতিহাস গড়ে এশিয়া কাপে চ্যাম্পিয়ন বাংলাদেশ
দেরাদুনে সাকিব আল হাসানরা বাংলাদেশের ক্রিকেটকে বিব্রতকর পরিস্থিতির মধ্যে ফেলে দিয়েছে। অন্যদিকে, মালয়েশিয়া থেকে মেয়েরা দিল বড় সুখবর। এ যেন ঈদের আগে আরেক ঈদের আনন্দ। প্রথমবার এশিয়া কাপে ইতিহাস রচনা করে চ্যাম্পিয়ন হয়েছে বাংলাদেশের মেয়েরা। রোববার ফাইনালে ভারতকে ১১২ রানেই থামিয়ে দিয়েছে বাংলাদেশের মেয়েরা। জবাবে বাংলাদেশ ৭ উইকেট হারিয়ে জয়ের লক্ষ্যে পৌঁছে যায়। বাংলাদেশ ক্রিকেট ইতিহাসে সর্বোচ্চ সাফল্য এটি। এরআগে বাংলাদেশের মেয়েদের শিরোপা জয় তো দূরের কথা কখনো ফাইনালেই উঠতে পারেনি। এর আগে যে ছয়বার এশিয়া কাপ হয়েছে। সবগুলোই নিয়ে গেছে ভারত। এবার প্রথম পর্বে ভারতকে হারানো দেখেই বোঝা গিয়েছিল সালমার দল অন্যরকম কিছুই ঘটাতে চলেছে। শেষ অবধি হলোও তাই। মেয়েদের ক্রিকেটে শক্তিধর ভারতকে হারিয়ে এশিয়া কাপ জয় করল মেয়েরা। এই জয়ে ছেলেদের ক্রিকেটের দুর্দশা সামান্য হলেও মুছবে। মজার ব্যাপার, বাংলাদেশের ফুটবল যখন ধুকছিল ঠিক তখনেই সামনে এসেছিল মেয়েররা। তাদের একের পর এক সাফল্যে ছেলেদের ব্যর্থতা খানিকটা আড়াল হয়। একইভাবে ক্রিকেটেও যখন গর্তে পড়েছে জাতীয় দল ঠিক তখনই মেয়েদের এশিয়া জয় বাংলাদেশের মানুষকে পুলকিত করছে। ঠিক মতো সুযোগ সুবিধা দিলে এই মেয়েরা যে আরো বড় সম্মান বয়ে নিয়ে আসবে সেটি এখন পানির মতো পরিস্কার। এদিন ১১৩ রানের লক্ষ্যে ব্যাট করতে নেমে বাংলাদেশকে দারুন শুরু এনে দেন দুই ওপেনার শারমিন সুলতানা আর আয়েশা খাতুন। দুজনে মিলে তোলেন ৩৫ রান। আয়েশাকে (১৭) হারানোর পরপরই বাংলাদেশ হারায় অপর ওপেনার শারমিনকে (১৬)। এরপর খানিকটা দিকভ্রান্ত হয়ে পড়ে বাংলাদেশ। তবে দলকে টেনে নিয়ে যান নিগার সুলতানা (২৭) ও রুমানা আহমেদ (২৩)। তবুও ম্যাচটি শেষ ওভার অবধি গড়ায়। যেখানে স্নায়ুচাপের পরীক্ষা দিয়ে বাংলাদেশকে জিতিয়েছেন জাহানারা আলম। শেষ বলে দরকার ছিল ২ রান। এক বলে ২ রানই নিয়েছেন এই পেসার। ম্যাচসেরা হয়েছেন রুমানা আহমেদ। এরআগে নির্ধারিত ২০ ওভারে ৯ উইকেটে ১১২ রানে তোলে ভারত। টসে জিতে বোলিংয়ে নেমে চতুর্থ ওভারেই ভারতীয় ওপেনার স্মৃতি মন্দনাকে(৭) রান আউট করেন সালমা। ভারতের রানের চাকাও শুরুতে ভালোই আটকে রাখে বাংলাদেশ। প্রথম ৫ ওভারের মধ্যে ২৩টি বল ‘ডট’ দিয়েছে বোলারেরা। রান তোলার চাপে পড়ে সপ্তম ওভারে দীপ্তি শর্মাকেও (৪) হারায় ভারত। তাঁকে সরাসরি বোল্ড করেন জাহানারা। ভারতের স্কোর তখন ৬.৪ ওভারে ২ উইকেটে ২৬। এখান থেকে ৬ রানের ব্যবধানে ভারতের আরও ২টি উইকেট তুলে নিয়েছে মেয়েরা। সাত, আট ও নয়-এই তিন ওভারে ৩ উইকেট হারায় ভারত। দীপ্তি ফিরে যাওয়ার পরের ওভারেই ওপেনার মিতালি রাজকে (১১) তুলে নেন খাদিজা। নবম ওভারে আনজুয়া পাতিল (৩) আউট হয়েছেন নিজের দোষে। ৮.২ ওভারে রান নিতে গিয়ে নিজের প্রান্তে ফেরার সময় উইকেটরক্ষকের থ্রো দেখে তিনি উইকেট ঢেকে দৌড়ান। সালমারা ‘অবস্ট্রাক্টিং দ্য ফিল্ড’ আউটের আবেদন করলে টেলিভিশন রিপ্লে দেখে আউট ঘোষণা করেন থার্ড আম্পায়ার। ১৩তম ওভারে ভেদা কৃঞ্চমূর্তিকেও তুলে নেন অধিনায়ক সালমা। তাঁকে বোল্ড আউট করেন এই স্পিনার। ১৫তম ওভারে একাই ২ উইকেট তুলে নেন রুমানা আহমেদ। খাদিজার করা শেষ ওভারের প্রথম বলে রান আউটের শিকার হন ভারতের পেসার ঝুলন গোস্বামি। সতীর্থরা এক প্রান্তে তেমন ভালো করতে না পারলেও দলের ইনিংসটা বলতে গেলে একাই টেনেছেন ভারতের অধিনায়ক হারমনপ্রীত কাউর। ৪১ বলে ৫৬ রানের ইনিংস খেলেন তিনি। বাংলাদেশের হয়ে সবচেয়ে সফল খাদিজা ও রুমানা। দুজনেই ২টি করে উইকেট নেন। ভারতের রানের চাকা আটকে রাখায় দারুণ অবদান রেখেছেন নাহিদা আক্তার ও সালমা খাতুন। ১ উইকেট নেওয়া সালমা ১৩টি ‘ডট’ দিয়েছেন। নাহিদা উইকেট না পেলেও ১৬টি ‘ডট’ দিয়েছেন।
বাংলাদেশ-আফগান সিরিজ : বাকি রইল হোয়াইটওয়াশ
সিরিজ জয়ের প্রত্যয় নিয়ে দেশত্যাগ করেছিল বাংলাদেশ ক্রিকেট দল। কিন্তু জয় তো দূরে থাক ভারতের দেরাদুনে আফগানস্তানদের সঙ্গে লড়াইও করতে পারছে না সাকিব আল হাসানের দল । প্রথম টি-টোয়েন্টিতে ৪৫ রানে হারের পর এবার ৬ উইকেটের পরাজয়। তিন ম্যাচ সিরিজে টাইগারদের এখন কেবল হোয়াইটওয়াশ হওয়াটাই বাকি। রাজিব গান্ধি আন্তর্জতিক স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠেয় প্রথম ম্যাচে টস জিতে বল বেছে নিয়েছিলেন বাংলাদেশ দলপতি; ভাগ্য সহায় হয়নি। একই মাঠে গতকালও টসভাগ্যে হাসেন সাকিব। এবার নেয়া হলো ব্যাট; কিন্তু তাতেও ভাগ্য দবল হলো না। রশিদ খান রহস্যই উদঘটন করা যাচ্ছে না কোন ভাবেই। প্রথম ম্যাচে ১৩ রানে ৩ উইকেট নিয়ে ম্যাচসেরা হওয়া এই লেগ স্পিনার এবার ১২ রানে নিয়েছেন ৪ উইকেট। উইকেট চারটিও একবার দেখুন তামিম (৪৮ বলে ৪৩, বোল্ড), সাকিব (৭ বলে ৩, ক জদরান), সৌম্য (৯ বলে ৩, ক আসগর) ও মোসাদ্দেক (প্রথম বলেই এলবিডবিউ)। ৪ উইকেট হারিয়ে বাংলাদেশ যখন একশ পেরিয়েছে তখনই দৃশ্যপটে আসেন রশিদ। এসেই এক ওভারে তুলে নেন সাকিব, তামিম ও মোসাদ্দেককে, পরের ওভারে সৌম্যকে। মুহূর্তেই ৪ উইকেটে ১০১ থেকে ৮ উইকেটে ১০৮ রানে পরিণত হয় স্কোরবোর্ড। আবু হায়দারের (১৪ বলে ২১) ক্যামিওয় স্কোরটা দাঁড়ায় ৮ উইকেটে ১৩৪। মুজিব কোন উইকেট না পেলেও ৪ ওভারে দেন মাত্র ১৫ রান, নবী নিয়েছেন ১৯ রানে ২টি। মামুলি রান তাড়া করতে ১৮.৫ ওভার খেলা লাগলেও জয়ের পথেই ছিল আফগানরা। ৩৮ রানের উদ্বোধনী জুটির পর রানের গতি কমে আসলেও উইকেট সংরক্ষণে রেখে এগুতে থাকে স্বাগতিকরা। রুবেলের করা ১৯তম ওভারে দুটি করে ছক্কা-চারে ২০ রানের হিসাবটা মিলিয়ে নেন মোহাম্মাদ নবী (১৫ বলে ৩১)। আফগানদের হয়ে ৪১ বলে সর্বোচ্চ ৪৯ রান করেন সামিউল্লাহ শেনওয়ারি। একই মাঠে আগামীকাল অনুষ্ঠিত হবে তৃতীয় ও শেষ ম্যাচ। বাংলাদেশ : ২০ ওভারে ১৩৪/৮ আফগানিস্তান : ১৮.৫ ওভারে ১৩৫/৪ ফল : আফগানিস্তান ৬ উইকেটে জয়ী। সিরিজ : আফগানিস্তান ২-০ ব্যাবধানে এগিয়ে।
নতুন রেকর্ড রশিদ খানের
একের পর এক চমক দেখানো রশিদ খানের প্রাপ্তির ঝুলিতে যোগ হলো নতুন অর্জন। রোববার বাংলাদেশের বিপক্ষে খেলতে নেমে নিজেকে অনন্য এক উচ্চতায় নিয়ে গেছেন আফগানিস্তানের এ লিগ স্পিনার। ১৯ বছর বয়সি এ স্পিনার টি-টোয়েন্টিতে দ্রুততম ৫০ উইকেট নেওয়ার কীর্তি গড়েছেন। সময়ের বিবেচনায় (২ বছর ২২০ দিন) দ্রুততম ৫০ উইকেট পাওয়ার রেকর্ড গড়ছেন রশিদ খান। এছাড়া ম্যাচ বিবেচনায় হয়েছেন দ্বিতীয় দ্রুততম। নিজের প্রথম ওভারের প্রথম বলে মুশফিকুর রহিমের উইকেট নেন রশিদ খান। উইকেটের হাফ সেঞ্চুরি পূর্ণ করতে ১ উইকেট দূরে ছিলেন তিনি। মুশফিক নিজের উইকেট বিলিয়ে আসায় দ্রুতই উদযাপনে মাতেন এ স্পিনার। পরের বলে নেন সাব্বির রহমানের উইকেট। এরপর মোসাদ্দেককেও আউট করেন। সব মিলিয়ে বাংলাদেশের বিপক্ষে ৩ ওভারে ১৩ রানে ৩ উইকেট নিয়েছেন রশিদ খান। রশিদ খানের আগে সময়ের বিবেচনায় দ্রুততম ৫০ উইকেট নেওয়ার কীর্তি গড়েছিলেন সাঈদ আজমল (২ বছর ২৯৬ দিন)। ম্যাচ বিচেনায় ৩১ ম্যাচে মাইলফলকে পৌঁছেছেন রশিদ খান। শ্রীলঙ্কার অ্যাঞ্জেলো ম্যাথুউস মাত্র ২৬ ম্যাচে ৫০ উইকেটের মাইলফক ছুঁয়েছিলেন। রশিদ খানের সঙ্গে সমান ৩১ ম্যাচে ৫০ উইকেট পেয়েছিলেন দক্ষিণ আফ্রিকার ইমরান তাহির। টি-টোয়েন্টিতে ৫০ উইকেট নেওয়ার রেকর্ড গড়ার আগে ওয়ানডের আরেকটি রেকর্ড ভেঙেছিলেন রশিদ খান। ওয়ানডেতে দ্রুততম ১০০ উইকেটের মালিক তিনি। মাত্র ৪৪ ম্যাচে রেকর্ড একশ উইকেট পেয়েছিলেন এ লেগ স্পিনার।
যেতে পারছেন না সাকিবদের সঙ্গে মুস্তাফিজ
আইপিএল থেকে ফিরে জাতীয় দলের ক্যাম্পে যোগ দিয়েছিলেন মুস্তাফিজ। কিন্তু ওয়ালশ তাকে দুইদিনের বিশ্রাম দিয়েছেন। কারণ মুম্বাইয়ের শেষ ম্যাচে বাঁ পায়ের আঙ্গুলে চোট পান কাটার মাস্টার। ফলে আফগানিস্তানের বিপক্ষে সিরিজে অংশ নিতে মঙ্গলবার সাকিবদের সঙ্গে যেতে পারছেন না মুস্তাফিজুর রহমান। বাংলাদেশ ক্রিকেটের মিডিয়া বিভাগ সোমবার রাতে বিষয়টি জানিয়েছে।আইপিএলে সময়টা ভালো যায়নি কাটার মাস্টার মুস্তাফিজুর রহমানের। খুব ভালো করতে পারেননি। অবশ্য খুব খারাপও করেননি। তবে দলের কম্বিনেশনের জন্য বেশ কিছু ম্যাচে তাকে বসে থাকতে হয়েছে। শেষ ম্যাচে পায়ের আঙ্গুলে ব্যথা পেয়েছেন। তবে মুস্তাফিজকে নিয়ে বেশ সতর্ক বাংলাদেশ দলের ভারপ্রাপ্ত কোচ কোর্টনি ওয়ালশ।কাটার মাস্টারকে নিয়ে কোনো রকম ঝুঁকি নিতে চান না কোচ। তাই বিশ্রাম দেওয়া হয়েছে মুস্তাফিজকে। ওয়ালশের দাবি, ভারতে আমরা সেরা ফর্মের মুস্তাফিজকে চাই। সে অনেক উন্নতি করেছে। সে তার শক্তিও ফিরে পেয়েছে। আমি মনে করি, আফগানিস্তানের বিপক্ষে সে তার পুরো গতি দিয়ে বোলিং করতে পারবে। সে ভালো করবে।
চমকের নাম মোসাদ্দেক!
মাস খানেক আগে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের কেন্দ্রীয় চুক্তি থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে মোসাদ্দেক হোসেন সৈকতকে। সেই মোসাদ্দেকই কিনা আফগানিস্তানের বিরুদ্ধে জাতীয় দলে ফিরলেন? সবচেয়ে হাস্যকর বিষয় হচ্ছে বিসিবির কেন্দ্রীয় চুক্তি থেকে বাদ পড়ার পর আর কোনো ম্যাচ খেলেননি এই ক্রিকেটার। তাহলে তাকে দলে ফেরানোর পেছনে কারণ কি? আর নির্বাচকদের কাছে যদি মনে হয় মোসাদ্দেকের পারফরম্যান্স তত খারাপ ছিল না, তাহলে কেন তাকে বিসিবির কেন্দ্রীয় চুক্তি থেকে বাদ দেওয়া হয়েছিল? আফগানিস্তানের বিরুদ্ধে তিন ম্যাচের টি-২০ সিরিজের জন্য চূড়ান্ত দল ঘোষণা করেছে বিসিবি। নতুন মুখ নেই। চমক কেবল মোসাদ্দেকের ফেরাটাই। টি-২০তে মোসাদ্দেকের অভিষেক হয়েছিল ২০১৬ সালের সেপ্টেম্বরে, আফগানিস্তানের বিরুদ্ধে। সংক্ষিপ্ত ফরম্যাটের এই ক্রিকেটে আহামরি কিছু পারফরম্যান্স দেখাতে পারেননি। খেলেছেন ছয় ম্যাচ। তবে জাতীয় দলের সঙ্গে নিজেকে সেভাবে মানিয়ে নিতে না পারলেও ঘরোয়া ক্রিকেটে দুর্দান্ত। বিসিএলের সব শেষ ম্যাচেও তার একটা সেঞ্চুরি রয়েছে। বল হাতেও দারুণ। বিশ্বসেরা অলরাউন্ডার সাকিব আল হাসানের বিকল্প হিসেবে মোসাদ্দেকের কথাই বার বার উঠে আসছিল। কিন্তু চাইলেই তো আর হঠাৎ করে সাকিবের বিকল্প হওয়া যায় না। এজন্য সময় দিতে হবে। কিন্তু গত মাসে হঠাৎ করে বিসিবির কেন্দ্রীয় চুক্তি থেকে বাদ দেওয়া হয় উদীয়মান এই তারকা ক্রিকেটারকে। তরুণ এক ক্রিকেটারকে চুক্তি থেকে বাদ দেওয়ার অর্থ হচ্ছে তাকে নিরুৎসাহিত করা! তারপর কোনো ম্যাচ না খেলানোর পরও কিভাবে সেই মোসাদ্দেক নির্বাচকের মন জয় করে নিলেন? প্রধান নির্বাচক মিনহাজুল আবেদীন নান্নুর ব্যাখ্যা, অলরাউন্ডারের চিন্তা থেকেই মোসাদ্দেককে সুযোগ দেওয়া হয়েছে। মিরাজের ফিটনেস নিয়ে কিছুটা সংশয় আছে আমাদের। এখন পর্যন্ত মিরাজ শতভাগ ফিট নয়। ধীরে ধীরে ওর অবস্থার উন্নতি হচ্ছে। মিরাজের বিকল্প হিসেবে মোসাদ্দেক হোসেনকে সুযোগ দেওয়া হয়েছে। কেন্দ্রীয় চুক্তি থেকে বাদ দেওয়ার পর মোসাদ্দেক কীভাবে নির্বাচকদের বিবেচনায় এসেছেন,ওটা অন্য বিষয় (চুক্তি)। আমরা মনে করছি, টি-২০তে ভালো বোলিং করার যথেষ্ট দক্ষতা আছে মোসাদ্দেকের। ও যথেষ্ট প্রতিভাবান। মাঝখানে একটু ছন্দপতন হয়েছিল। এ মুহূর্তে ফিটনেসসহ নানা বিষয়ে ওকে দেখেই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। নির্বাচকদের নাটকীয় সিদ্ধান্তে মোসাদ্দেক দলেও ফিরলেও কপাল পুড়েছে তাসকিন আহমেদের। দল থেকে বাদ পড়েছেন এই গতি তারকা। যদিও তাসকিন এই মুহূর্তে পুরোপুরি ফিট নন। পিঠের ব্যথা তাকে যথেষ্ট ভোগাচ্ছে। কিন্তু শতভাগ ফিট না হওয়ার পরও তো মেহেদী হাসান মিরাজকে দলে রাখা হয়েছে। তা ছাড়া কেবল চোটের কারণেই যে তাসকিনকে দলে রাখা হয়নি এমন নয়। পারফরম্যান্সের কারণেও তাকে আফগানিস্তান সিরিজের জন্য বিবেচনায় আনেননি নির্বাচকরা। তাসকিনকে দলে না রাখার ব্যাখ্যায় মিনহাজুল আবেদীন বলেন,চোট, পারফরম্যান্স দুইই তাসকিনকে বাদ দেওয়ার পেছনের কারণ। সে নিদাহাস ট্রফিতে গিয়েই চোটে পড়েছিল। তবে চোটটা বেশ আগের। চোট থেকে সেরে ওঠার চেষ্টা করছে তাসকিন। আমাদের বিশ্বাস ওয়েস্ট ইন্ডিজ সিরিজের আগে সেরে উঠবে সে। বিসিবির কেন্দ্রীয় চুক্তি থেকে বাদ পড়েছেন সৌম্য সরকারও। তা ছাড়া নিদাহাস ট্রফিতে দাপট দেখাতে পারেননি। কিন্তু আফগানিস্তান সিরিজে দলে জায়গা করে নিয়েছেন। মিনহাজুলের ব্যাখ্যা,টি-২০তে আমরা যত খেলোয়াড় নিয়ে চিন্তা করি সবার আগে ওর কথাটা চলে আসে। বিষয়টি নিয়ে আমরা অধিনায়ক এবং কোচের সঙ্গেও কথা বলেছি। ওরা সৌম্যের ব্যাপারে ইতিবাচক। কোর্টনি ওয়ালশের সঙ্গে আমাদের সব সময় কথা হয়। যেহেতু ও নিদাহাস ট্রফিতে দলে ছিল সে কারণেই কোচের পরামর্শে তাকে দলে রেখেছি। তাসকিন ছাড়াও টি-২০ দল থেকে বাদ পড়েছেন ইমরুল কায়েস ও নুরুল হাসান সোহান। আফগানিস্তানের বিপক্ষে বাংলাদেশ সাকিব আল হাসান (অধিনায়ক), মাহমুদুল্লাহ রিয়াদ (সহঅধিনায়ক), তামিম ইকবাল, সৌম্য সরকার, লিটন কুমার দাস, মুস্তাফিজুর রহমান, সাব্বির রহমান, মোসাদ্দেক হোসেন সৈকত, আরিফুল হক, মেহেদী হাসান মিরাজ, নাজমুল ইসলাম অপু, আবু হায়দার রনি, রুবেল হোসেন, আবু জায়েদ রাহী। স্ট্যান্ডবাই : নুরুল হাসান সোহান, আবুল হাসান রাজু, নাঈম হাসান।