বুধবার, এপ্রিল ২১, ২০২১
১২ হাজারি ক্লাবে মুশফিক
৫,ফেব্রুয়ারী,শুক্রবার,স্পোর্টস ডেস্ক,নিউজ একাত্তর ডট কম: তিন ফরম্যাটের আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে ১২ হাজার রানের মালিকদের কাতারে নাম লেখালেন মুশফিকুর রহিম। এর আগে বাংলাদেশের জার্সিতে এই কীর্তির একমাত্র মালিক ছিলেন তামিম ইকবাল। শুক্রবার (৫ ফেব্রুয়ারি) চট্টগ্রামের জহুর আহমেদ চৌধুরী স্টেডিয়ামে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে চলতি প্রথম টেস্টের তৃতীয় দিনে এই মাইলফলক অতিক্রম করেন মুশফিক। ৩৭৮তম আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলতে নামা মুশফিকের পরের অবস্থানটি সাকিব আল হাসানের। তবে এই মাইলফলক স্পর্শ করতে এখনও ৭৭ রান করতে হবে বিশ্বসেরা অলরাউন্ডারকে। এর আগে ২০১৮ সালের ডিসেম্বরে এই উইন্ডিজের বিপক্ষেই ওয়ানডে সিরিজের দ্বিতীয় ম্যাচে অর্ধশতক হাঁকিয়ে প্রথম বাংলাদেশি ব্যাটসম্যান হিসেবে তিন ফরম্যাট মিলিয়ে ১২ হাজারি ক্লাবে প্রবেশ করেন তামিম। টাইগার ওপেনার ৩৪৫টি আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলে এখন পর্যন্ত ১৩ হাজার ৪৭৫ রান করেছেন।
৮ গোলের থ্রিলার শেষে সেমিতে বার্সা
৪,ফেব্রুয়ারী,বৃহস্পতিবার,স্পোর্টস ডেস্ক,নিউজ একাত্তর ডট কম: ৯০ মিনিটে ম্যাচ শেষ হয়নি। ২-২ গোলে ড্র। এরপর খেলা গড়ালো অতিরিক্ত সময়ে। কারণ, সেমিফাইনালিস্ট বাছাই করে নিতে হবে। এই অতিরিক্ত সময়ে গোল হলো আরও ৪টি। মোট ৮ গোলের থ্রিলার। ১২০ মিনিট শেষে বিজয়ী দলের নাম বার্সেলোনা। ব্যবধান ৫-৩। প্রতিপক্ষের নাম গ্রানাডা। কিন্তু বার্সেলোনার ঘাম ছুটিয়ে দিয়েছে তারা। নির্ধারিত ৯০ মিনিটে তো তারা বার্সাকে ২-০ গোলে হারিয়েই দিয়েছিল প্রায়। ৮৮ মিনিটে গ্রিজম্যান এবং ইনজুরি সময়ে যদি জর্দি আলবা গোলটি করতে না পারতেন, তাহলে ২-০ ব্যবধানে হেরেই কোয়ার্টার ফাইনাল থেকে বিদায় নিতে হতো বার্সাকে। সব মিলিয়ে শ্বাসরূদ্ধকর একটি ম্যাচ ছিল বার্সা এবং গ্রানাডার মধ্যে। বার্সার জন্য ম্যাচটি ছিল অ্যাওয়ে। গ্রানাডার হোম ভেন্যু নুয়েভো লস কারামেন্সে। ঘরের মাঠে ম্যাচ হলেও পুরোপুরি আধিপত্য বিস্তার করে খেলেছিল বার্সেলোনা। কিন্তু ধারার বিপরীতে গোল দিয়ে বসে উল্টো স্বাগতিক গ্রানাডাই। ম্যাচের ৩৩ এবং ৪৭ মিনিটে এগিয়ে গিয়েছিল গ্রানাডাই। ৩৩ মিনিটে কেন্ডি এবং ৪৭ মিনিটে গোল করেন রবার্তো সোলদাদো। ২-০ গোলে পিছিয়ে পড়ে যেন দিশেহারা অবস্থা বার্সার। একের পর এক চেষ্টা করেও গ্রানাডার জাল খুঁজে পাচ্ছিলেন না লিওনেল মেসিরা। তবে ম্যাচের চিত্র ভোজবাজির মত পাল্টে যায় নির্ধারিত সময়ের একেবারে শেষ মুহূর্তে। বার্সার মধ্যে যখন পরাজয়ের পুরো হতাশা ভর করছিল, গ্রানাডাও জয়ের আশা ম্যাচে অনেকটাই শিথিলতা তৈরি করেছিল, তখনই সুযোগটা গ্রহণ করে বার্সা। ৮৮ মিনিটে দুর্দান্ত এক গোল করেনে আন্তোনিও গ্রিজম্যান। ম্যাচের শেষ বাঁশি বাজবে, ঠিক তার আগেই (৯০+৩ মিনিটে) গ্রানাডার জালে বল জড়িয়ে দিলেন জর্দি আলবা। তার আগেই অবশ্য মেসির একটি শট ফিরে আসে গ্রানাডার পোস্টে লেগে। ম্যাচ দাঁড়িয়ে গেলো ২-২ গোলের সমতায়। সুতরাং ম্যাচ গড়ালো অতিরিক্ত সময়ে। এই অর্ধটা কাটলো বার্সার আধিপত্যের মধ্য দিয়ে। ১০০তম মিনিটে গোল করে বার্সাকে প্রথমবার লিড এনে দেন আন্তোনিও গ্রিজম্যান। এটা তার দ্বিতীয় গোল। এর তিনি মিনিট পরই পেনাল্টি থেকে গোল করে গ্রানাডাকে সমতায় ফেরান ফেডে ভিকো। ম্যাচের ১০৮ মিনিটে বার্সাকে আবারও লিড এনে দিলেন ফ্রাঙ্কি ডি জং। ১১৩তম মিনিটে বার্সার জয় নিশ্চিত করা গোল করেন জর্দি আলবা। ম্যাচে এটা তার দ্বিতীয় গোল। ১২০ মিনিট শেষে ৫-৩ ব্যবধানে জয় নিয়েই মাঠ ছাড়ে লিওনেল মেসির বার্সেলোনা।
সাউদাম্পটনকে গোল বন্যায় ভাসালো ম্যানইউ
৩,ফেব্রুয়ারী,বুধবার,স্পোর্টস ডেস্ক,নিউজ একাত্তর ডট কম: টানা পয়েন্ট হারিয়ে শিরোপার দৌড় থেকে কিছুটা পিছিয়ে পড়েছিল ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড। এবার সাউদাম্পটনকে উড়িয়ে জয়ে ফিরলো রেড ডেভিলরা। মঙ্গলবার রাতে ওল্ড ট্র্যাফোর্ডে ৯ জনের প্রতিপক্ষের জালে ৯ বার বল জড়িয়েছে ওলে গানার সুলশারের শিষ্যরা। জোড়া গোল করেন অঁতনি মার্শিয়াল। একটি করে গোল করেন অ্যারন ওয়ান-বিসাকা, মার্কাস রাশফোর্ড, এডিনসন কাভানি, স্কট ম্যাকটমিনে, ব্রুনো ফের্নান্দেস ও ড্যানিয়েল জেমস। অন্যটি আত্মঘাতী। ম্যাচের শুরু আর শেষ দিকে লাল কার্ড দেখেন সাউদাম্পটনের দুই খেলোয়াড়। ম্যাচ শুরু হওয়ার ৮২ সেকেন্ডে স্কট ম্যাকটোমিনেকে ফাউল করে সরাসরি লাল কার্ড দেখেন প্রথমবার একাদশে সুযোগ পাওয়া সাউদাম্পটনের আলেক্সান্দ্রে জ্যাংকেউইজ। গোল উৎসবের শুরুটা করেন অ্যারন ওয়ান-বিসাকা। ম্যাচের ১৮তম মিনিটে লুক শর ক্রস থেকে দলকে এগিয়ে দেন তিনি। ৭ মিনিটের ব্যবধানে স্কোরলাইন ২-০ করেন রাশফোর্ড। ম্যাসন গ্রিনউডের অ্যাসিস্টে ২৫ মিনিটে সেইন্টস কিপার অ্যালেক্স ম্যাকক্যার্থিকে পরাস্ত করেন এই ইংলিশ স্ট্রাইকার। স্বাগতিকদের তৃতীয় গোলটি উপহার দেয় সাউদাম্পটন। রাশফোর্ডের ক্রস ঠেকাতে গিয়ে ৩৪তম মিনিটে নিজেদের জালে বল জড়ান জ্যান বেডনারেক। প্রথমার্ধের এক দম শেষ দিকে ব্যবধান ৪-০ করেন উরুগুইয়ান স্ট্রাইকার এডিনসন কাভানি। দ্বিতীয়ার্ধে কাভানিকে উঠিয়ে মাঠে নামানো হয় অঁতনি মার্শিয়ালকে। ৬৯তম মিনিটে দলের হয়ে পঞ্চম গোলটি করেন এই বদলি খেলোয়াড়। ষষ্ঠ গোলটি করেন ম্যাকটোমিনে। ৮৬তম মিনিটে বক্সের মধ্যে মার্শালকে ফাউলকে করে লাল কার্ড দেখেন সাউদাম্পটনের বেডনারেক। পেনাল্টি থেকে গোল করেন ব্রুনো ফের্নান্দেস। শেষ দুটি গোল করেন মার্শাল ও ড্যানিয়েল জেমস। প্রিমিয়ার লীগে এই নিয়ে তৃতীয়বার কোনো ৯-০ গোলে জিতল। ১৯৯৫ সালে ইপসউইচ টাউনের বিপক্ষে ম্যানইউ ৯-০ গোলে, ২০১৯ সালে সাউদাম্পটনের বিপক্ষে লেস্টার সিটি একই ব্যবধানে জিতেছিল। শীর্ষে থাকা ম্যানসিটির সমান ৪৪ পয়েন্ট পেয়ে দ্বিতীয় স্থানে ২২ ম্যাচ খেলা ম্যানইউ। দুটি ম্যাচ কম খেলে গোলব্যবধানে এগিয়ে থেকে তাদের উপরে পেপ গার্দিওলার শিষ্যরা।
বিশ্বকাপের আগে আরেক বিশ্বকাপের আয়োজক কাতার
২,ফেব্রুয়ারী,মঙ্গলবার,স্পোর্টস ডেস্ক,নিউজ একাত্তর ডট কম: ২০২২ বিশ্বকাপের আয়োজক কাতার। ২০০২ সালের জাপান-দক্ষিণ কোরিয়ার পর আবারও বিশ্বকাপের আয়োজক হতে চলেছে এশিয়ান কোনও দেশ। তার আগে ক্লাব বিশ্বকাপও আয়োজন করবে মধ্যপ্রাচ্যের দেশটি। ২০২০ ক্লাব বিশ্বকাপের সাতটি ম্যাচ বসবে কাতারে। আগামী ৪ ফেব্রুয়ারি বসবে দ্বিতীয় রাউন্ডের ম্যাচ। কনকাকাফ চ্যাম্পিয়নস লিগ জয়ী ম্যাক্সিকান দল টাইগরেস ইউএসএলের খেলবে এএফসি চ্যাম্পিয়নস লিগ জয়ী কোরিয়ান দল উলসানের বিপক্ষে। একই দিন আফ্রিকান চ্যাম্পিয়ন লিগ জয়ী আল দুহাইলের প্রতিপক্ষ আল আহলি। আসরটি গেল বছরের ডিসেম্বরে বসার কথা ছিল। আয়োজক হবার কথা ছিল নিউজিল্যান্ড। স্বাগতিক দল হিসেবে খেলার কথা ছিল দেশটির সর্বোচ্চ লিগের চ্যাম্পিয়ন অকল্যান্ড এফসি। যদিও মহামারীর কারণে আয়োজক হতে পারছে না কিউইরা। তাই কাতারে বসবে এবারের আসর। কাতারি লিগের চ্যাম্পিয়ন দল আহলি পেয়েছে খেলার সুযোগ। দ্বিতীয় রাউন্ডে জয়ী দুই দল লড়বে সেমিফাইনালে। টাইগরেস ইউএসএল বনাম উলসানের মধ্যকার জয়ী দলটি ৮ ফেব্রুয়ারি খেলবে কনমেবল অঞ্চলের চ্যাম্পিয়ন ব্রাজিলিয়ান দল পালমেইরাসের সঙ্গে। ৯ ফেব্রুয়ারি উয়েফা চ্যাম্পিয়নস লিগ জয়ী বায়ার্ন মিউনিখের মুখোমুখি হবে আল দুহাইলের ও আল আহলির মধ্যে যেকোনও একটি দল। ১২ ফেব্রুয়ারি সেমিতে জয়ী দুই দল লড়বে শিরোপার জন্য। এদিকে সাত ফেব্রুয়ারি পঞ্চম ও ১১ ফেব্রুয়ারি তৃতীয় স্থান নির্ধারণী ম্যাচ বসবে।
আর্সেনালের মাঠে স্বস্তির ড্র ম্যানইউর
৩১,জানুয়ারী,রবিবার,স্পোর্টস ডেস্ক,নিউজ একাত্তর ডট কম: সুযোগ ছিলো দুই দলের হাতেই। কিন্তু না ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড না আর্সেনাল পারলো গোল করতে। শেষ পর্যন্ত গোলশূন্য হয় ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগে নিজেদের মাঠে ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের সঙ্গে পয়েন্ট ভাগাভাগি করল মিকেল আর্তেতার দল। এমিরেটস স্টেডিয়ামে শনিবার দুই দলের ম্যাচটি হয়েছে গোলশূন্য ড্র। আর্সেনালের বিপক্ষে টানা দুই লিগ ম্যাচ হারের পর ড্র করা ইউনাইটেড ২১ ম্যাচে ৪১ পয়েন্ট নিয়ে আছে লিগ টেবিলে দ্বিতীয় স্থানে। সমান ম্যাচে ৩১ পয়েন্ট নিয়ে অষ্টম স্থানে আছে আর্সেনাল আক্রমণ-পাল্টা আক্রমণে জমে ওঠা খেলায় সুযোগ তৈরি করছিল দুই দলই। শেষ দিকে গোলের জন্য মরিয়া হয়ে ওঠে দুই দলই। জয় না মিললেও দারুণ একটি ক্লাব রেকর্ড গড়েছে ইউনাইটেড। এ নিয়ে প্রতিপক্ষের মাঠে টানা ১৮ লিগ ম্যাচ অপরাজিত থাকার কীর্তি গড়ল তারা।
তুই সফল হবি- আব্দুর রাজ্জাককে মাশরাফী
২৯,জানুয়ারী,শুক্রবার,স্পোর্টস ডেস্ক,নিউজ একাত্তর ডট কম: লম্বা সময় ধরে গুঞ্জন চলছে জাতীয় দলের নির্বাচকের দায়িত্বে দেখা যেতে পারে বাঁহাতি অফ-স্পিনার আব্দুর রাজ্জাককে। সেটা অবশেষে সত্য হয়েছে। জাতীয় দলের দুই নির্বাচক মিনহাজুল আবেদীন নান্নু ও হাবিবুল বাশারের প্যানেলে যুক্ত হয়েছেন আব্দুর রাজ্জাকও। বুধবার বিসিবির অনলাইন সভায় নেয়া হয়েছে এই সিদ্ধান্ত। বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের এই সিদ্ধান্তে খুশি ক্রিকেট ভক্ত থেকে শুরু করে ক্রিকেট সংশ্লিষ্ট সবাই। আব্দুর রাজ্জাককে শুভ কামনা জানান সবাই। সেই রেষ অনেকটা কেটে গেছে গত দুই দিনে। তবে কাছের বন্ধু, সতীর্থ মাশরাফী বিন মোর্ত্তজা একটু দেরি করেই শুভেচ্ছা জানিয়েছে নতুন নির্বাচককে। শুক্রবার দুপুরে ফেসবুক পোস্টে মাশরাফী জানান, খান আবদুর রাজ্জাক (রাজ), বন্ধু একটু দেরি হয়ে গেল শুভ কামনা জানাতে। হয়তো আমার মতো অনেক মানুষ তোর এই অর্জনে খুশি হয়েছে তবে আমার যে জায়গাটায় সবচেয়ে বেশি আনন্দ হচ্ছে সেটা হলো তুই ক্রিকেট কত গভীরে বুঝতি তা দেখানোর সুযোগ এবার পেয়েছিস। আব্দুর রাজ্জাক কতটা গভীর থেকে ক্রিকেট বুঝতেন সেটাও স্মরণ করিয়ে দিয়েছেন মাশরাফী। লিখেছেন, এতদিন সবাই বল হাতে রাজ্জাকের পারফর্ম দেখেছে, এবার দেখবে মস্তিষ্কের পারফর্ম। জানি তুই তোর সেরাটাই দিবি, এবং সফলও হবি ইনশাআল্লাহ। এতদিন বা হাতের ভেলকি দেখেছে সবাই এবার দেখবে তোর মস্তিস্কের, যা নিয়ে কোনদিনও আমার সংশয় ছিল না। অনেক সংকটে তোর সাথে কথা বলেছি বলেই বলছি, তুই বিজয়ী হবি ইনশাআল্লাহ। আব্দুর রাজ্জাকের অর্জনে ক্রিকেট বোর্ডকে ধন্যবাদও জানান মাশরাফী বিন মোর্ত্তজা। ক্রিকেট বোর্ডকে ধন্যবাদ জানাই মানুষটাকে যথাযথ সম্মান প্রদর্শনের জন্য। ভালোবাসা অবিরাম বন্ধু।
ক্যারিবীয়দের হোয়াইটওয়াশ করে- ফুল মার্কস পেল টাইগাররা
২৫,জানুয়ারী,সোমবার,স্পোর্টস ডেস্ক,নিউজ একাত্তর ডট কম: সবমিলিয়ে ২৬তম কিংবা ক্যারিবীয়দের বিপক্ষে পঞ্চম সিরিজ জয়টা ঢাকায়ই নিশ্চিত করে এসেছিল বাংলাদেশ ক্রিকেট দল। চট্টগ্রামের জহুর আহমেদ চৌধুরী স্টেডিয়ামে শেষ ম্যাচটিতে লক্ষ্য ছিল হোয়াইটওয়াশের। সেইসঙ্গে ওয়ানডে সুপার লিগে নিজেদের প্রথম সিরিজে পূর্ণ ত্রিশ পয়েন্টও নিশ্চিত করার। সেই লক্ষ্যে নেমে- ফুল মার্কস নিয়েই পাস করেছে তামিম ইকবালের দল। শুধু সিরিজ জয়ই নয়, ওয়েস্ট ইন্ডিজকে দ্বিতীয় এবং সবমিলিয়ে প্রতিপক্ষকে ১৪তম বারের মতো হোয়াইটওয়াশ করার কীর্তি দেখিয়েছে বাংলাদেশ। প্রথম দুই ম্যাচে যথাক্রমে ৭ ও ৬ উইকেটে জেতার পর আজ তৃতীয় ম্যাচে বাংলাদেশের জয়ের ব্যবধান ১২০ রান। নিজেদের ওয়ানডে ইতিহাসে এ নিয়ে ১৫টি ম্যাচে ১০০ বা তার বেশি রানের ব্যবধানে জিতল টাইগাররা। ম্যাচটিতে আগে ব্যাট করে চার ফিফটিতে বাংলাদেশ দাঁড় করিয়েছিল ২৯৭ রানের বড় সংগ্রহ। যার জবাবে ওয়েস্ট ইন্ডিজ অলআউট হয়েছে ১৭৭ রানে। আগের দুই ম্যাচে ১২২ ও ১৪৮ রানে অলআউট হওয়া ক্যারিবীয়রা এ ম্যাচে প্রথমবারের মতো পেরিয়েছে দেড়শ রানের কোটা, যা স্রেফ পরাজয়ের ব্যবধানই কমাতে পেরেছে। রান তাড়া করতে নেমে ফের ছন্নছাড়া ব্যাটিং প্রদর্শনী দেখিয়েছে ওয়েস্ট ইন্ডিজ। নিজের প্রথম স্পেলে দুই উইকেট তুলে নিয়ে শুরুর ধাক্কাটা দেন মোস্তাফিজুর রহমান। পরে কিপটে বোলিংয়ে লাগামটা নিজেদের হাতেই রাখেন টাইগার অফস্পিনার মেহেদি হাসান মিরাজ। খানিক খরুচে বোলিং করলেও দলের পক্ষে সর্বোচ্চ ৩ উইকেট শিকার করেছেন এ ম্যাচ দিয়েই দলে ফেরা মোহাম্মদ সাইফউদ্দিন। ওয়েস্ট ইন্ডিজের হয়ে পুরো সিরিজে ধারাবাহিক খেলা রভম্যান পাওয়েল রান পেয়েছেন আজও। সৌম্য সরকারের বলে লেগ বিফোরের ফাঁদে পড়ার আগে ৪৯ বলে ৪৭ রান করেন রভম্যান। এনক্রুমাহ বোনারের ব্যাট থেকে এসেছে ৩১ রান। এর বাইরে রেয়মর রেইফার (২৭), জেসন মোহাম্মদরা (১৭) ভালো শুরুর ইঙ্গিত দিয়েও অল্পেই থেমে গেছেন। বাংলাদেশের পক্ষে বল হাতে ৯ ওভারে ৫১ রান খরচায় ৩ উইকেট নিয়েছেন সাইফউদ্দিন। মোস্তাফিজ ৬ ওভারে ২৪ রান দিয়ে নিয়েছেন ২ উইকেট। বাংলাদেশের অফস্পিনারদের মধ্যে সবচেয়ে মিতব্যয়ী বোলিংয়ের রেকর্ড গড়ে ১০ ওভারে মাত্র ১৮ রানের বিনিময়ে ২ উইকেট শিকার করেছেন মেহেদি মিরাজ। এছাড়া ১টি করে উইকেট গেছে তাসকিন আহমেদ ও সৌম্য সরকারের নামে। এর আগে টস হেরে ব্যাট করতে নেমে প্রথম পাওয়ার প্লে'টা ভালোভাবেই কাজে লাগিয়েছে টাইগাররা। প্রথম ১০ ওভারে ২ উইকেট হারালেও, স্কোরবোর্ড যোগ হয় ৫৩ রান। তবে এরপর কমতে থাকে রানের গতি। পরের ২০ ওভারে আসে মাত্র ৮৪ রান। আগের দুই ম্যাচের মতোই হতাশ করেন দুই তরুণ লিটন দাস ও নাজমুল হোসেন শান্ত। ইনিংসের প্রথম ওভারের পঞ্চম বলে রানের খাতা খোলার আগেই সাজঘরে ফিরে যান লিটন। দ্বিতীয় উইকেটে অধিনায়ক তামিম ইকবালের সঙ্গে ৩৭ রান যোগ করে কাইল মায়ারসের বলে লেগ বিফোরের ফাঁদে ধরা পড়েন ৩০ বলে ২০ রান করা শান্ত। দুই তরুণ ব্যর্থ হলেও, পরে চার অভিজ্ঞই তুলে নিয়েছেন নিজেদের ব্যক্তিগত ফিফটি। ইনিংসের শুরুতে বেশ সাবলীল ছিলেন তামিম। একপর্যায়ে তিনি মাত্র ২৭ বলে করেন ২৮ রান। এরপর যেন বন্দী হয়ে যান খোলসে। পঞ্চাশে যেতে খেলে ফেলেন ৭০টি বল। যেখানে ছিল মাত্র ২টি চারের মার। তবে ফিফটি পূরণের ঠিক পরের বলেই নিজের ট্রেডমার্ক ইনসাইড আউট শটে হাঁকান ইনিংসের প্রথম ছক্কা। যদিও ইনিংসটি বেশি বড় করতে পারেননি টাইগার অধিনায়ক। তৃতীয় উইকেটে তামিম ও সাকিব মিলে যোগ করেন ৯৩ রান। কিন্তু এতে খেলে ফেলেন ১১৬টি বল। দুজনের কেউই ইনিংসের মাঝপথে সাবলীল ব্যাটিং করতে পারেননি। সিঙ্গেলস-ডাবলস বের করতে রীতিমতো লড়াই করতে হয়েছে দুজনকেই। জুটি বেঁধে ২ হাজার রানের মাইলফলক পূরণ করেছেন সাকিব ও তামিম। তাদের জুটি ভাঙে দলীয় ১৩১ রানে গিয়ে, তামিম ব্যক্তিগত ৬৪ রানে সাজঘরে ফিরে গেলে। ক্যারিয়ারের ৪৯তম ফিফটিতে খেলা ৮০ বলের ইনিংসে ৩ চারের সঙ্গে ১ ছক্কা হাঁকান তিনি। তামিম ফিরে যাওয়ার পর ৪৮তম ওয়ানডে ফিফটি তুলে নেন সাকিব। তিনি ৩ চারের মারে ফিফটি পূরণ করতে খেলেন ৭৮ বল। তামিমের সমান ৮০ বল খেলে সাকিব আউট হন ৫১ রান করে। সাকিবের বিদায়ের পর রানের গতি বাড়ানোর মিশনে নামেন ব্যক্তিগত সম্পর্কে 'ভায়রা ভাই' মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ ও মুশফিকুর রহীম। যা বেশ সফলভাবেই করেন এ দুজন। তাদের জুটিতে আসে ৭২ রান, মাত্র ৫৮ বলে। মূলত মুশফিক-মাহমুদউল্লাহর জুটিতেই আসে ২৮৭ রানের বড় সংগ্রহ। সাকিব-তামিম যেখানে করেন ধীরগতির ফিফটি, সেখানে বলের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে রান তুলেছেন মাহমুদউল্লাহ ও মুশফিক। ক্যারিয়ারের ৩৯তম ফিফটি করতে মুশফিক খেলেন ৪৭ বল। মাহমুদউল্লাহর ১৭তম ফিফটি আসে মাত্র ৪০ বলে। দারুণ এক ছয়ের মারে পঞ্চাশ পূরণ করেন মাহমুদউল্লাহ। তাদের ব্যাটেই মূলত শেষ ১০ ওভারে ১০০ রান পায় বাংলাদেশ। পুরো ৫০ ওভার শেষ করে আসতে পারেননি মুশফিক। তিনি সাজঘরে ফেরেন ৪৭তম ওভারে, খেলেন ৫৫ বলে ৬৪ রানের ইনিংস। যেখানে ছিল ৪ চারের সঙ্গে ২টি ছয়ের মার। তবে শেষপর্যন্ত খেলেছেন মাহমুদউল্লাহ। ৪৪ বলের ইনিংসে সমান ৩টি করে চার-ছয়ের মারে ৬৪ রান করেন মাহমুদউল্লাহ। এছাড়া সৌম্য সরকার ৮ বলে ৭ ও সাইফউদ্দিন ২ বলে ৫ রান করেন। ওয়েস্ট ইন্ডিজের পক্ষে ২টি করে উইকেট নেন রেয়মন রেইফার ও আলঝারি জোসেফ।
হোয়াইটওয়াশ নয়, ক্যারিবীয়দের লক্ষ্য ১০ পয়েন্ট
২৪,জানুয়ারী,রবিবার,স্পোর্টস ডেস্ক,নিউজ একাত্তর ডট কম: সর্বশেষ সাত ম্যাচেই টাইগারদের কাছে হেরেছে ওয়েস্ট ইন্ডিজ। শক্তিমত্তার বিচারে আগের দলের তুলনায় বর্তমান দলে পার্থক্য থাকলেও ক্রিকেটে যে কোনও দলই খেলতে নামে জয়ের লক্ষ্যে। চলতি সিরিজের প্রথম দুই ম্যাচে হেরে ইতোমধ্যে ব্যাকফুটে উইন্ডিজ, খুইয়েছে সিরিজও। তাই শেষ ম্যাচ জিতে অন্তত ১০ পয়েন্ট পেতে চায় ক্যারিবীয়রা। হ্যাঁ, চলমান আইসিসি ওয়ানডে চ্যাম্পিয়নশিপ বা ওয়ানডে সুপার লিগের কারণে এখন একটি জয় পেলেই ১০ পয়েন্ট। বাংলাদেশ যেমন টানা দুটি ম্যাচ জিতে বিশে বিশ পূর্ণ করেছে। শেষ ম্যাচেও হারলে হোয়াইটওয়াশ হবে ক্যারিবীয়রা। অন্যদিকে, পুরো ত্রিশ পয়েন্ট পকেটে পুরবে বাংলাদেশ। তাই তো হোয়াইটওয়াশের লজ্জা এড়ানোর প্রচেষ্টা নিয়েই শেষ ম্যাচটি জিতে অন্তত ১০টি পয়েন্ট পাওয়ার প্রবল আকাঙ্ক্ষা সফরকারীদের। এ বিষয়ে দলের প্রধান কোচ ফিল সিমন্স বলেন, আমরা ৩০ পয়েন্টের জন্যই এসেছিলাম। এখনও ১০ পয়েন্ট নিয়ে যাওয়ার সুযোগ আছে। আমাদের মূল লক্ষ্য থাকবে এই ১০ পয়েন্ট অর্জন। এদিকে, চলমান এই আইসিসি সুপার লিগের শীর্ষ আটটি দল জায়গা করে নেবে ২০২৩ বিশ্বকাপের মূলপর্বে। বাকিদের খেলতে হবে বাছাইপর্ব। দুর্বল দল পাঠিয়ে এখন নিশ্চয়ই অনুশোচনা হচ্ছে ক্যারিবীয় বোর্ডের। অবশ্য পর্যায়ক্রমে উন্নতির ছাপ দেখছেন সিমন্স। তিনি বলেন, ১২০ রান থেকে সেদিন ১৪০ রান করলাম। আমাদের এখন ২৩০ বা ২৫০ রানের মতো করতে হবে। তাতে প্রতিদ্বন্দ্বিতা হবে, বোলাররা রসদ নিয়ে লড়তে পারবে। এদিকে, টানা দুই ম্যাচ জেতার পাশাপাশি সিরিজ নিজেদের করে নেয়ায় তৃতীয় তথা শেষ ম্যাচে টাইগার শিবিরে মিলেছে কয়েকটি পরিবর্তনের আভাস। এ বিষয়ে দলীয় অধিনায়ক তামিম ইকবাল খান বলেন, তাসকিন-সাইফউদ্দিনের মতো ক্রিকেটাররা এখনও একাদশে সুযোগ পাননি। দলে জায়গা পেতে কঠিন প্রতিযোগিতা চলছে। তিনি আরও বলেন, চট্টগ্রামে শেষ ম্যাচের আগে এটি কোনও উদ্বেগজনক বিষয় নয়। সবারই খেলার সুযোগ পাওয়া উচিত। যারা এখনও খেলার সুযোগ পাননি, তারা সবাই ভালো করার সামর্থ্য রাখে। আমি নিশ্চিত, তৃতীয় ওয়ানডেতে আমাদের কিছু পরিবর্তন হবে এবং আশা করি, যারা আসবে ভালো করবে।
হোয়াইটওয়াশ মিশনে চট্টগ্রামে টাইগাররা
২৩,জানুয়ারী,শনিবার,স্পোর্টস ডেস্ক,নিউজ একাত্তর ডট কম: ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে এক ম্যাচ হাতে রেখেই সিরিজ নিশ্চিত করে ফেলেছে বাংলাদেশ। মিরপুর শেরে বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে হওয়া সিরিজের প্রথম দুই ম্যাচে সহজ জয়ই পেয়েছে টাইগাররা। এবার হোয়াইটওয়াশ মিশনে রাজধানী ঢাকা ছেড়ে চট্টগ্রামে পৌঁছেছে তামিম বাহিনী। (শনিবার) দুপুর গড়াতেই বন্দর নগরীতে চলে গেছে টাইগাররা। বেলা পৌনে একটায় চট্টগ্রামের শাহ আমানত বিমানবন্দরে নেমেছেন তামিম ইকবাল, সাকিব আল হাসান, মুশফিকুর রহীম, মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ, লিটন দাস, সৌম্য সরকার, মেহেদি হাসান মিরাজ, মোস্তাফিজুর রহমানরা। শুধু স্বাগতিক বাংলাদেশই নয়, শনিবার বেলা ১২টার ফ্লাইটে একসঙ্গে ঢাকা থেকে চট্টগ্রামের উদ্দেশ্যে রওনা হয়ে দুপুর পৌনে ১টায় বন্দর নগরীতে গিয়ে পৌঁছেছে জেসন মোহাম্মদের ওয়েস্ট ইন্ডিজও। গত ২০ জানুয়ারি (বুধবার) প্রথম ম্যাচে ৬ উইকেটে জয়ের পর শুক্রবার (২২ জানুয়ারি) শেরে বাংলা স্টেডিয়ামে ওয়েস্ট ইন্ডিজকে ৭ উইকেটে হারিয়ে সিরিজ নিজেদের করে নিয়েছে তামিম ইকবালের দল। আগামী ২৫ জানুয়ারি (সোমবার) চট্টগ্রামের সাগরিকার জহুর আহমেদ চৌধুরী স্টেডিয়ামে তৃতীয় ও শেষ ওয়ানডে। তবে তামিমের দল এরই মধ্যে সিরিজ নিশ্চিত করে ফেলায় এখন শেষ ম্যাচটি অনেকটাই গুরুত্বহীন হয়ে পড়েছে। সেটা এখন শুধুই আনুষ্ঠানিকতায় পরিণত হয়েছে। এখন স্বাগতিকদের সামনে রয়েছে ক্যারিবীয়দের হোয়াইটওয়াশ করার সুবর্ণ সুযোগ। উল্লেখ্য, ২০১৮ সালের ডিসেম্বরে দুই দলের শেষ ওয়ানডে সিরিজে বাংলাদেশ জিতেছিল ২-১ ব্যবধানে। সেবার প্রথম ম্যাচ জিতলেও দ্বিতীয় খেলায় হেরেছিল মাশরাফি বিন মর্তুজার দল। তাই সিরিজ জিততে অপেক্ষায় থাকতে হয় শেষ ম্যাচ পর্যন্ত। তারপর তৃতীয় ম্যাচে গিয়ে জয় ধরা দেয়। এবার অবশ্য চিত্র ভিন্ন। প্রথম দুই ম্যাচ জিতে সিরিজ বিজয়ের উৎসব রাজধানীতেই করে ফেলেছে টাইগাররা। সোমবারের ম্যাচটি জিতলে ক্যারিবীয়দের হোয়াইটওয়াশ করার পাশাপাশি পূর্ণ ৩০ পয়েন্ট নিয়েই ওয়ানডে সুপার লিগের প্রথম সিরিজ শেষ হবে বাংলাদেশের।