নিদাহাস ট্রফির শেষ ম্যাচে দলে থাকছেন সাকিব আল হাসান
ইনজুরির কারণে নিদাহাস ট্রফির দলের বাইরে রাখা হয়েছিল সাকিব আল হাসানকে। কিন্তু ইনজুরি থেকে সেরে ওঠায় প্রাথমিক পর্বের শেষ ম্যাচকে সামনে রেখে দলে যোগ দিতে যাচ্ছেন তিনি। বৃহস্পতিবার (১৫ মার্চ) দুপুরে এক ই-মেইল বার্তায় সাকিবের দলে যোগ দেওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড। আজই তিনি শ্রীলঙ্কার উদ্দেশ্যে ঢাকা ছাড়বেন। বিকেলের দলের সঙ্গে যোগ দিবেন। শুক্রবার শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে লিগ পর্বের শেষ ম্যাচে খেলবেন তিনি। গত জানুয়ারিতে অনুষ্ঠিত ত্রিদেশীয় সিরিজের ফাইনালে ফিল্ডিং করার সময় বাম হাতের আঙ্গুলের ইনজুরিতে পড়েন সাকিব আল হাসান। অর্থোপেডিকস বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিতে সাকিব গিয়েছিলেন থাইল্যান্ডে। সেখানেই বড় দুঃসংবাদ শোনেন তিনি। কমপক্ষে দুই সপ্তাহ ফিজিওথেরাপি নিতে হবে তাকে। আঙুলের চোটের ভয়াবহতা এতটা হবে, তা ভাবতে পারেনি কেউই। এরপর থাইল্যান্ড থেকে দেশে ফিরে অস্ট্রেলিয়া যান তিনি। সেখান থেকে বিশেষজ্ঞ ডাক্তার দেখিয়ে গেল রোববার দেশে ফিরেন তিনি। দেশে ফিরে সোমবার মিরপুর শের-ই-বাংলা ক্রিকেট স্টেডিয়ামে হালকা অনুশীলনও করেন। আজ দলে যোগ দিতে শ্রীলঙ্কার উদ্দেশ্যে ঢাকা ছাড়ছেন তিনি। শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে ২১৫ রান তাড়া করে জয়ের পর বুধবার ভারতের বিপক্ষে ১৭৭ রান তাড়া করে জয় পায়নি টাইগাররা। নিদাহাস ট্রফির ফাইনালে যেতে শুক্রবার শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে জয়ের কোনো বিকল্প নেই বাংলাদেশের। তাই এই ম্যাচে দলকে আরো শক্তিশালী করতে সাকিব আল হাসানকে অন্তর্ভূক্ত করা হয়েছে।
ইনজুরির কারণে ইংল্যান্ড সিরিজ থেকে ছিটকে পড়লেন সান্টনার
হাঁটুর ইনজুরির কারণে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে আসন্ন টেস্ট সিরিজ থেকে ছিটকে গেছেন ইন-ফর্ম অল-রাউন্ডার মিচেল সান্টনার। নিউজিল্যান্ড ক্রিকেট সূত্র আজ এই তথ্য নিশ্চিত করেছে। ইনজুরির মাত্রা এতটাই গুরুতর যে অস্ত্রোপচারের প্রয়োজন রয়েছে। আর এ কারণে অন্তত ছয় থেকে নয় মাস সান্টনারকে বিশ্রামে থাকতে হবে বলে সূত্রটি জানিয়েছে। আর তাই যদি হয় তবে আইপিএল ও ইংলিশ কাউন্টি কোনটাতেই খেলা হচ্ছেনা ২৬ বছর বয়সী এই অল-রাউন্ডারের। ইতোমধ্যেই আগামী ২২ মার্চ থেকে ইডেন পার্কে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে শুরু হওয়া দুই ম্যাচের টেস্ট সিরিজের জন্য ঘাষিত ১২জনের দল থেকে বাদ পড়েছেন সান্টনার। ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ওয়ানডে সিরিজে তিনি দারুন ফর্মে ছিলেন। ওই সিরিজে ব্যাট হাতে করেছেন দুটি হাফ সেঞ্চুরি। নিউজিল্যান্ড ক্রিকেট জানিয়েছে ম্যাচের সময় সে খানিকটা অস্বস্তি বোধ করেছিল। যে কারণে পরবর্তীতে তার হাঁটুতে স্ক্যান করা হয়। সেখানেই তার হাড়ের সমস্যা ধরা পড়ে, এর চিকিৎসা অস্ত্রোপচার ছাড়া সম্ভব নয় বলে চিকিৎসকরা জানিয়েছেন। নিউজিল্যান্ডের কোচ মাইক হেসন বলেছেন,তিন ধরনের ফর্মেটেই মিচেল আমাদের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ খেলোয়াড়। সে কারণেই আসন্ন সিরিজে আমরা নিশ্চিতভাবেই তাকে মিস করবো। এখন তার দ্রুত সুস্থ হয়ে ওঠা জরুরি। আশা করছি দ্রুতই সে সুস্থ হয়ে আমাদের মাঝে ফিরে আসবে। এদিকে কোমরের ইনজুরি কাটিয়ে দলে ফিরেছেন উইকেটরক্ষক বিজে ওয়াটলিং যা কিউই শিবিওে স্বস্তি ফিরিয়েছে। থাইয়ের ইনজুরির কারণে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে শেষ ওয়ানডেতে দলের বাইরে থাকা তারকা ব্যাটসম্যান রস টেইলরও দলে ফিরেছেন। সান্টনারের পরিবর্তে টেস্ট দলে ডাকা হয়েছে স্পিনিং অল-রাউন্ডার টড এ্যাস্টেলকে। নির্বাচক গেভিন লারসেন বলেছেন, টেস্ট ক্রিকেটে বিজে তার দক্ষতার প্রমান দিয়েছেন। মাঠ ও মাঠের বাইরে সে দারুন একজন মানুষ। নিউজিল্যান্ড : জিত রাভাল, টম ল্যাথাম, কেন উইলিয়ামসন (অধিনায়ক), রস টেইলর, হেনরি নিকোলস, কলিন ডি গ্র্যান্ডহোম, বিজে ওয়াটলিং, টড অ্যাস্টেল, টিম সাউদি, নিল ওয়াগনার, ম্যাট হেনরি, ট্রেন্ট বোল্ট।
আজ বিকেলে ভারতের মুখোমুখি হচ্ছে বাংলাদেশ
সহজ সমীকরণ নিয়েই বুধবার কলম্বোর প্রেমাদাসা স্টেডিয়ামে ভারতের বিপক্ষে মাঠে নামবে বাংলাদেশ। হারলে প্রতিপক্ষ ফাইনালে। আর জিতলে নিজেরাই এক পা দিয়ে রাখবে ফাইনালে। ফাইনালিস্ট নির্ধারিত হবে বাংলাদেশ-শ্রীলঙ্কা শেষ ম্যাচে। তবে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে আগের ম্যাচেই দুর্দান্ত জয় তুলে নেয়া বাংলাদেশের চোখ ফাইনালের দিকেই। আর দুই ম্যাচে টানা জয় পেয়ে উজ্জীবিত ভারতও। ৬ উইকেটে হার দিয়েই ভারতের বিপক্ষে নিদাহাস ট্রফি শুরু করেছিল বাংলাদেশ। কিন্তু শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে রেকর্ডগড়া জয় দিয়ে ঘুরে দাঁড়ানো বাংলাদেশের লক্ষ্য শুধুই ফাইনাল। মঙ্গলবারের সংবাদ সম্মেলনে মাহমুদউল্লাহ সেই স্বপ্নের কথা জানিয়ে বললেন, আমরা এই সফরে আসার আগেই আমাদের মনের মধ্যে গেঁথে নিয়েছিলাম যে আমরা ফাইনালে খেলবো। লক্ষ্য সব সময় জয়। তিনি বলেন, শেষ ম্যাচে জয়ের পর অনেক কিছু করে ফেলেছি এমন নয়, আমরা আমাদের পা মাটিতেই রাখছি। আমাদের টি-টুয়েন্টি স্কিল নিয়ে অনেক প্রশ্ন ছিল। আমি আশা করি আমরা তা দূর করতে পারবো ভালোভাবে। কিন্তু বৈচিত্র্যময় ভারতীয় বোলিং টাইগারদের কিছুটা ভাবাচ্ছে জানিয়ে মাহমুদউল্লাহ বলেন, ভারতীয় বোলাররা তাদের বলের গতিতে তারতম্য এনেছে, বিশেষ করে পেসাররা। তারা যখন ধীরে বল করছে টার্ন আদায় করে নিচ্ছে। পেসাররা গতির তারতম্য ঘটাচ্ছে। আমাদের এই বিষয়গুলো নিয়ে ভাবতে হবে। তবে বাংলাদেশি ব্যান্ড এর ক্রিকেট খেলে ভারতকে হারিয়ে ফাইনালের পথে এগিয়ে যাওয়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করলেন টাইগারদের অধিনায়ক মাহমুদউল্লাহ। নিদাহাস ট্রফির ৩ ম্যাচের ২টিতে জিতলেও নিজেদের অধিনায়কের অফ-ফর্ম নিয়ে দুশ্চিন্তা রয়েছে ভারতের। শিখর ধাওয়ান দারুণ ফর্মে থাকলেও সুরেশ রায়না বড় করতে পারছেন না ইনিংস। সর্বশেষ ম্যাচে দিনেশ কার্তিক ২৫ বলে ৩৯ করেছেন। মনিশ পান্ডে মিডল অর্ডারে স্বস্তি দিচ্ছেন। তবে বোলিংয়ে জয়দেব উনাদকাট তিন ম্যাচ খেললেও রান দিয়েছেন বেশি। শেষ দুই ম্যাচে শারদুল ভালো করেছেন। বৈচিত্র্যে ভালো করছেন বিজয়। শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে দুই ম্যাচেই বেশি বেশি রান দিয়েছেন স্পিনার যুজবেন্দ্র চাহাল। স্পিনার ওয়াশিংটন সুন্দর প্রত্যেক ম্যাচে পাওয়ার প্লেতে আসছেন। সব মিলিয়ে বাংলাদেশের বিপক্ষে জিতে সহজ পথেই ফাইনাল নিশ্চিত করতে চাইবে টি-টুয়েন্টি সংস্করণের প্রথম বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা।
জিতিয়েই মাঠ ছেড়েছেন মুশফিক
শ্রীলঙ্কাকে শুরুতে ২১৪ রানের বিশাল সংগ্রহ জমা করতে দেখে বাংলাদেশের জয়ের আশা হয়তো ছেড়েই দিয়েছিলেন অনেকে। কিন্তু অসাধারণ ব্যাটিং করে দলকে জয়ের বন্দরে নিয়ে গেছেন বাংলাদেশের ব্যাটসম্যানরা। ৫ উইকেটের দুর্দান্ত এক জয় পেয়েছে মাহমুদউল্লাহর দল। ৩৫ বলে ৭২ রানের ঝড়ো ইনিংস খেলে দলকে জিতিয়েই মাঠ ছেড়েছেন মুশফিকুর রহিম। শ্রীলঙ্কার করা ২১৪ রানের জবাবে ব্যাট করতে নেমে শুরু থেকেই দাপুটে নৈপুণ্য দেখিয়েছেন বাংলাদেশের ব্যাটসম্যানরা। দুই ওপেনার তামিম ইকবাল ও লিটন দাসের ঝড়ো ব্যাটিং করে উদ্বোধনী জুটিতেই জমা করেছিলেন ৭৪ রান। প্রথম ১০ ওভারের মধ্যে অবশ্য দুজনেই ফিরেছেন সাজঘরে। ষষ্ঠ ওভারে দলীয় ৭৪ রানের মাথায় বাংলাদেশ হারিয়েছিল প্রথম উইকেট। ১৯ বলে ৪৩ রানের ঝড়ো ইনিংস খেলে ফিরেছিলেন লিটন। দশম ওভারে সাজঘরের পথে হেঁটেছেন তামিম। তিনি খেলেছেন ২৯ বলে ৪৭ রানের ইনিংস। তৃতীয় উইকেটে ৫১ রানের জুটি গড়ে দলকে জয়ের পথে আরও খানিকটা এগিয়ে দিয়েছিলেন মুশফিকুর রহিম ও সৌম্য সরকার। ১৫তম ওভারে সৌম্য ফিরেছিলেন ২৪ রান করে। মাহমুদউল্লাহর ব্যাট থেকে এসেছে ২০ রান। আর ৩৫ বলে ৭২ রানের অসাধারণ ইনিংস খেলে দলকে জয়ের বন্দরে নিয়ে গেছেন মুশফিক। শেষপর্যন্ত অপরাজিতই ছিলেন সাবেক এই অধিনায়ক। এর আগে টস হেরে ব্যাট করতে নেমে কুশল পেরেরার ৭৪, কুশল মেন্ডিসের ৫৭, উপুল থারাঙ্গার ৩২ ও ধনুস্কা গুনাথিলাকার ২৬ রানের ইনিংসগুলোতে ভর করে ২১৪ রান সংগ্রহ করেছে স্বাগতিক শ্রীলঙ্কা। বাংলাদেশের পক্ষে দারুণ বোলিং করে তিনটি উইকেট নিয়েছেন মুস্তাফিজুর রহমান। দুটি উইকেট গেছে অধিনায়ক মাহমুদউল্লাহর ঝুলিতে। লক্ষ্য ২১৫ রান। টি-টোয়েন্টিতে তা পাহাড়সম স্কোরই বটে। এই সংগ্রহ তাড়া করতে নেমে শুরুটা দারুণ করেছিল বাংলাদেশ। দুই ওপেনার তামিম ইকবাল ও লিটন দাস চমৎকার সূচনা এনে দেন দলকে। তারপরও কিছুটা সংশয় ছিলই, প্রতিপক্ষের এই বিশাল সংগ্রহ টপকাতে পারবে কি বাংলাদেশ। না, সব সংশয় দূরে ঠেলে দারুণ এক জয় পেয়েছে লাল-সবুজের দল। আর তা সম্ভব হয়েছে অভিজ্ঞ ব্যাটসম্যান মুশফিকুর রহিমের কল্যাণে। মুশফিকের হার-না-মানা ৭২ রানের ইনিংসের ওপর ভর করেই নিদাহাস ট্রফিতে বাংলাদেশ পাঁচ উইকেটের দারুণ জয় পেয়েছে। দলের প্রয়োজন মুহূর্তে বুক চিতিয়ে রুখে দাঁড়িয়েছেন দেশের অন্যতম সেরা এই ব্যাটসম্যান। মাত্র ৩৫ বলে এই ইনিংসটি খেলেন তিনি। পাঁচটি চার ও চারটি ছক্কায় এই ইনিংসটি সাজান তিনি। তাঁর চমৎকার ইনিংসের ওপরই ভর করেই মূলত জয় পেয়েছে বাংলাদেশ। অবশ্য এর আগে তামিম ও লিটন শুরু থেকে ঝড় তোলেন। লিটন মাত্র ১৯ বলে দুই চার ও পাঁচ ছক্কায় ৪৩ রান করে আউট হন। তার তামিম ২৯ বলে ৪৭ করে দলের জয়ের ভিত গড়ে দেন। মাঝে অধিনায়ক মাহমুদউল্লাহ ২০ রানের একটি ইনিংস খেলেন। যার ওপর ভর করেই সিরিজের প্রথম জয় পেয়েছে বাংলাদেশ। অবশ্য আসরে নিজেদের প্রথম ভারতের কাছে খুবই বাজে ভাবে হেরেছিল বাংলাদেশ। সে ম্যাচে তারা ছয় উইকেটে হেরেছে। ঘরের মাঠে দীর্ঘ ব্যর্থতার পর জয় এই বাংলাদেশ শিবিরে কিছুটা স্বস্তি এনে দিয়েছে।
নিদাহাস ট্রফির জন্য দল ঘোষণা
শ্রীলঙ্কার মাটিতে আসন্ন নিদাহাস টি-টোয়েন্টি ট্রফির জন্য ১৬ সদস্যের দল ঘোষণা করেছে বাংলাদেশ। বাংলাদেশ দলের সদস্যরা হলেন - সাকিব আল হাসান (অধিনায়ক), মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ, তামিম ইকবাল, সৌম্য সরকার, ইমরুল কায়েস, মুশফিকুর রহীম, সাব্বির রহমান, মোস্তাফিজুর রহমান, রুবেল হোসেন, তাসকিন আহমেদ, আবু হায়দার রনি, আবু জায়েদ রাহি, আরিফুল হক, নাজমুল অপু, নুরুল হাসান সোহান এবং মেহেদী হাসান মিরাজ। দলে ফিরেছেন ইমরুল, রুবেল, তাসকিন, সোহান, মিরাজ, রনি। বাদ পড়েছেন মেহেদী, সাইফুদ্দিন, আকিফ, জাকির। সর্বশেষ সিরিজের দলে থাকা নতুনদের মধ্যে নাজমুল অপু, আবু জায়েদ রাহি আর আরিফুল হক জায়গা ধরে রেখেছেন। কোর্টনি ওয়ালশই কোচ থাকছেন। আসন্ন নিদাহাস ট্রফিটি শুরু হচ্ছে আগামী ৬ মার্চ। উদ্বোধনী দিনে মুখোমুখি হবে স্বাগতিক শ্রীলঙ্কা আর ভারত। বাংলাদেশের প্রথম ম্যাচ ৮ মার্চ, ভারতের বিপক্ষে।
পিএসএল অভিষেকেই মোস্তাফিজের ২ উইকেট
মোস্তাফিজুর রহমানের গত বছর তেমন একটা ভালো কাটেনি। শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে ঘরের মাঠে দুই ম্যাচ টি-টোয়েন্টি সিরিজেও ভালো করতে পারেননি। পাকিস্তান সুপার লিগ (পিএসএল) দিয়ে কি তাহলে ফিরলেন সেই পুরোনো ফিজ? মুলতান সুলতানসের বিপক্ষে কাল আসরটিতে অভিষেকেই তাঁর শিকার ২২ রানে ২ উইকেট। ডট বল ছিল ১৪টি। লাহোর কালান্দার্সের ৬ বোলারের মধ্যে মোস্তাফিজই সবচেয়ে কম রানে বেশি উইকেট পেয়েছেন। কিন্তু কালান্দার্স জিততে পারেনি। মোস্তাফিজের অভিষেক মাটি করেছেন সুলতানদের পেসার জুনায়েদ খান। আগে ব্যাটিংয়ে নেমে ৫ উইকেট ১৭৯ রান তুলেছিল সুলতানস। জবাবে ১৭.২ ওভারেই ১৩৬ রানে গুটিয়ে গেছে মোস্তাফিজের কালান্দার্স। এর মধ্যে তারা শেষ ৭ উইকেট হারিয়েছে মাত্র ৪ রানে! সুলতানদের ৪৩ রানের এই জয়ের মূল কারিগর জুনায়েদ। পাকিস্তানের এ পেসার পিএসএলের ইতিহাসে তুলে নিয়েছেন দ্বিতীয় হ্যাটট্রিক! ১৫তম ওভারের শেষ বলে ফখর জামান (৪৯) যখন আউট হন, সুলতানসের স্কোর ৪ উইকেটে ১৩২। এরপর কীভাবে যেন দলটির আশ্চর্য পতন ঘটল! আর মাত্র ৪ রান যোগ করতেই তারা হারিয়েছে বাকি ৬ উইকেট। ১৬তম ওভারে ইমরান তাহির তুলে নিয়েছেন ২ উইকেট। এরপর জুনায়েদ খান এসে ১৭তম ওভারের তৃতীয়, চতুর্থ ও পঞ্চম বলে ফিরিয়েছেন যথাক্রমে ইয়াসির শাহ, ক্যামেরন ডেলপোর্ট ও রাজা হাসানকে। পিএসএলের ইতিহাসে প্রথম হ্যাটট্রিক মোহাম্মদ আমিরের। ২০১৬ সালে দুবাইয়ে আসরটির প্রথম সংস্করণে এই লাহোর কালান্দার্সের বিপক্ষেই হ্যাটট্রিক করেছিলেন পাকিস্তানের এ পেসার। এবার সেই দুবাইয়েই কালান্দার্সের কাছ থেকে আরও একটি হ্যাটট্রিক ছিনিয়ে নিলেন জুনায়েদ।
সিলেটে স্মরণীয় অভিষেক চায় বাংলাদেশ
নিজেদের সর্বোচ্চ স্কোর গড়ে দুই টুয়েন্টি টুয়েন্টি সিরিজের প্রথম ম্যাচে সফরকারী শ্রীলংকার কাছে ৬ উইকেটে হারের স্বাদ পেতে হয়েছে স্বাগতিক বাংলাদেশকে। তাই সিরিজে ১-০ ব্যবধানে পিছিয়ে টাইগাররা। সিরিজ হার এড়াতে হলে দ্বিতীয় ও শেষ টি-২০ ম্যাচে জিততেই হবে বাংলাদেশকে। আগামীকাল সিলেট আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত হবে এই টি-২০টি। এই ভেন্যুতে প্রথমবারের মত খেলতে নামছে বাংলাদেশ। বলতে গেলে, সিলেটের মাটিতে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে অভিষেক হচ্ছে টাইগারদের। তাই সিরিজের দ্বিতীয় ও শেষ টি-২০ জিতে সিরিজ হার এড়ানোর পাশাপাশি নিজেদের অভিষেক ম্যাচ স্মরণীয় করে রাখাই লক্ষ্য হবে বাংলাদেশের। পক্ষান্তরে ত্রিদেশীয় ও টেস্ট জয়ের পর টি-২০ সিরিজও জিততে মরিয়া থাকবে শ্রীলংকা। বিকেল পাঁচটায় শুরু হবে সিরিজের শেষ ম্যাচটি। ত্রিদেশীয় সিরিজের দুর্দান্ত শুরুর পরও রানার-আপ হয়ে সন্তুষ্ট থাকতে হয় বাংলাদেশকে। একইভাবে টেস্ট সিরিজেও শুরুটা ভালো ছিলো টাইগারদের। ব্যাটসম্যানদের দৃঢ়তায় চট্টগ্রামে সিরিজের প্রথম ম্যাচ ড্র করে বাংলাদেশ। তবে দ্বিতীয় ম্যাচে লজ্জার হার বরণ করে সিরিজ হেরে বসে টাইগাররা। ত্রিদেশীয় ও টেস্ট সিরিজ হারের দুঃস্মৃতিকে সঙ্গী করে দুই ম্যাচের টি-২০ লড়াই শুরু করে বাংলাদেশ। মিরপুরে সিরিজের প্রথম ম্যাচে শুরুটা দুর্দান্ত ছিলো বাংলাদেশের। সাবেক অধিনায়ক মুশফিকুর রহিম ও সৌম্য সরকারের জোড়া হাফ-সেঞ্চুরিতে ২০ ওভারে ৫ উইকেটে ১৯৩ রানের সংগ্রহ পায় বাংলাদেশ। টি-২০ ফরম্যাটে টাইগারদের সর্বোচ্চ দলীয় রানের রেকর্ড এটি। রেকর্ড গড়া ম্যাচে মুশফিকুর অপরাজিত ৬৬ ও সৌম্য ৫১ রান করেন। বাংলাদেশের ছুঁড়ে দেয়া বড় টার্গেট হেসেখেলেই টপকে যায় শ্রীলংকা। ওপেনার কুশল মেন্ডিসের ৫৩, দাসুন শানাকার অপরাজিত ৪২ ও থিসারা পেরেরার অপরাজিত ৩৯ রানে ২০ বল হাতে রেখেই জয় নিয়ে মাঠ ছাড়ে শ্রীলংকা। ফলে সিরিজে ১-০ ব্যবধানে লিড নেয় তারা। সিরিজ হার এড়াতে হলে দ্বিতীয় ম্যাচে জিততেই হবে বাংলাদেশকে। তবে কাজটি কঠিনই হবে তাদের। কারন সিলেটের ভেন্যুতে প্রথমবারের মত খেলতে নামছে বাংলাদেশ। এই ভেন্যুতে আগে কখনোই আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলেনি টাইগাররা। তারপরও সাহস যোগানোর রসদ রয়েছে বাংলাদেশের। কারন গত নভেম্বরে এই্ ভেন্যুতেই বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগ (বিপিএল) টি-২০ ক্রিকেটে বিভিন্ন ফ্র্যাঞ্চাইজির হয়ে বেশকটি ম্যাচ খেলে গেছে বাংলাদেশের খেলোয়াড়রা। সেই অভিজ্ঞতা শ্রীলংকার বিপক্ষে কতটা কাজে লাগাতে পারে বাংলাদেশ, সেটি এখন দেখার বিষয়। বাংলাদেশ দল : মাহমুদুল্লাহ রিয়াদ (অধিনায়ক), তামিম ইকবাল, সৌম্য সরকার, মুশফিকুর রহিম, সাব্বির রহমান, মুস্তাফিজুর রহমান, রুবেল হোসেন, মোহাম্মদ সাইফউদ্দিন, আবু হায়দার রনি, আবু জায়েদ রাহি, নাজমুল ইসলাম অপু, আরিফুল হক, মেহেদি হাসান, আফিফ হোসেন ও জাকির হাসান। শ্রীলংকা দল : দিনেশ চান্ডিমাল (অধিনায়ক), উপুল থারাঙ্গা, দানুস্কা গুনাথিলাকা, কুশল মেন্ডিস, থিসারা পেরেরা, আসলে গুনারতে নিরোশান ডিকবেলা, দাসুন শানাকা, ইসুরু উদানা, শেহান মাদুশঙ্কা, জেফরি ভান্দারসে, আকিলা ধনঞ্জয়া, আমিলা আপোনসো, জীবন মেন্ডিস ও আসিথা ফার্নান্দো।
শেষ টি-২০ ম্যাচের দল ঘোষণা
শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে দুই ম্যাচের টি-টুয়েন্টি সিরিজের শেষ ম্যাচের জন্য দল ঘোষণা করেছে বাংলাদেশ। প্রথম ম্যাচে রেকর্ড স্কোর গড়েও হার এড়াতে পারেনি বাংলাদেশ। সেই ম্যাচের দল নিয়েই দ্বিতীয় ম্যাচে খেলবে বাংলাদেশ। কোনো পরিবর্তন আনা হয়নি একাদশে। ইনজুরির কারণে দলে রাখা হয়নি সাকিব আল হাসানকে। অধিনায়ক থাকবেন মাহমুদুল্লাহ রিয়াদই। আগামী ১৮ ফেব্রুয়ারি সিলেটে দ্বিতীয় ও শেষ টি-টোয়েন্টি খেলতে নামবে বাংলাদেশ। বাংলাদেশ স্কোয়াড : তামিম ইকবাল, সৌম্য সরকার, মুশফিকুর রহিম, মাহমুদুল্লাহ রিয়াদ (অধিনায়ক), সাব্বির রহমান, মোস্তাফিজুর রহমান, রুবেল হোসেন, মোহাম্মদ সাইফউদ্দিন, আবু জায়েদ রাহী, আফিফ হোসেন, জাকির হোসেন, আরিফুল হক, মেহেদী হাসান, আবু হায়দার রনি, নাজমুল অপু ও মোহাম্মদ মিঠুন