টেস্টে আব্দুর রাজ্জাকের রাজকীয় প্রত্যাবর্তনটা
দীর্ঘদিন পর টেস্টে আব্দুর রাজ্জাকের প্রত্যাবর্তনটা হলো রাজকীয়। দুর্দান্ত বোলিং করলেন তিনি। তার রঙিন প্রত্যাবর্তনের দিনে দারুণ বোলিং করলেন তাইজুল ইসলাম ও মোস্তাফিজুর রহমান। গোটা ইনিংসেই রাজ্জাককে যোগ্য সমর্থন দিয়ে গেলেন তারা। আর না বললেও চলে, তিন বাঁহাতি বোলারের স্পিন ও সুইং বিষে নীল হয়েছে শ্রীলংকা। ঢাকা টেস্টের প্রথম ইনিংসে ২২২ রানে গুটিয়ে গেছে সফরকারীরা। ৪ উইকেট শিকার করে লম্বা সময় ধরে উপেক্ষিত থাকার জবাব দিয়েছেন রাজ্জাক। সমানসংখ্যক উইকেট ঝুলিতে ভরে নিজের সামর্থের প্রমাণ দিয়েছেন তাইজুল। আর ২ উইকেট নিয়ে ভেলকি দেখিয়েছেন মোস্তাফিজ। বৃহস্পতিবার মিরপুরে টস জিতে প্রথমে ব্যাটিং নেন শ্রীলংকা অধিনায়ক দিনেশ চান্দিমাল। ব্যাটিং করতে নেমে শুরুতেই হোঁচট খায় সফরকারীরা। দলীয় ১৪ রানে লিটন দাসের স্ট্যাম্পিং বানিয়ে দিমুথ করনারত্নেকে ফিরিয়ে চমক দেখান অভিজ্ঞ স্পিনার আব্দুর রাজ্জাক। এ নিয়ে ৪ বছর পর জাতীয় দলের হয়ে খেলতে নেমে ভালো কিছুর আভাস দেন তিনি। এর পর ধনাঞ্জয়া ডি সিলভাকে নিয়ে শুরুর ধাক্কা সামলে উঠে এগিয়ে যাচ্ছিলেন কুশল মেন্ডিস। ধীরে ধীরে জমাট বেঁধে উঠছিল তাদের জুটি। বাংলাদেশকে চোখ রাঙাচ্ছিলেন তারা। এ পরিস্থিতিতে ডি সিলভাকে (১৯) ফিরিয়ে কার্যকরী ব্রেক থ্রু এনে দেন তাইজুল ইসলাম। দলীয় ৬২ রানে গত ম্যাচে সেঞ্চুরি করা ব্যাটসম্যানকে স্লিপে সাব্বির রহমানের ক্যাচ বানিয়ে ফেরান তিনি। এতে ভাঙে ৪৭ রানের জুটি। পরে দানুষ্কা গুনাথিলাকাকে নিয়ে দলকে এগিয়ে নেয়ার চেষ্টা করেন কুশল মেন্ডিস। তবে তাদের বেশি দূর এগোতে দেননি রাজ্জাক। দলীয় ৯৬ রানে লংকান শিবিরে জোড়া আঘাত হেনে চমক অব্যাহত রাখেন তিনি। পর পর দুই বলে ফিরিয়ে দেন গুনাথিলাকা ও অধিনায়ক দিনেশ চান্দিমালকে। এতে বিপর্যয়ে থেকে লাঞ্চ বিরতিতে যায় অতিথিরা। লাঞ্চ থেকে ফিরলেও শনির দশা কাটেনি শ্রীলংকার। একের পর এক টপ অর্ডার ব্যাটসম্যান ফিরলেও ভরসা হয়ে টিকেছিলেন মেন্ডিস। অবেশেষে দলীয় ১০৯ রানে বোল্ড করে তাকে ফিরিয়ে পথের কাঁটা সরান রাজ্জাক। ফলে লংকানদের ওপর নেমে আসে চরম বিপর্যয়। ফেরার আগে ৯৮ বলে ১০ চার ও ১ ছক্কায় ৬৮ রানের বীরোচিত ইনিংস খেলেন মেন্ডিস। এ বিপর্যয়ের মধ্যে নিরোশান ডিকভেলাকে বোল্ড করে ফিরিয়ে শ্রীলংকার টুঁটি চেপে ধরেন তাইজুল। এ অবস্থায় দিলরুয়ান পেরেরাকে নিয়ে প্রতিরোধ গড়ার চেষ্টা করেন রোশেন সিলভা। তারা এগুচ্ছিলেনও বেশ। তবে দলীয় ১৬২ রানে পেরেরাকে ফিরিয়ে সেই প্রতিরোধ গুঁড়িয়ে দেন এ বাঁহাতি স্পিনার। পেরেরার বিদায়ের পর আকিলা ধনাঞ্জয়াকে নিয়ে ফের প্রতিরোধ গড়ে তোলার চেষ্টা করেন রোশেন। ভালোই এগুচ্ছিলেনও তারা। মাথাব্যথার কারণ হয়ে দাঁড়ায় এ জুটি। দলীয় ২০৫ রানে মুশফিকের ক্যাচ বানিয়ে আকিলাকে (২০) ফিরিয়ে টাইগারদের মাথাব্যথা প্রশমন করেন মোস্তাফিজুর রহমান। এদিন দারুণ বোলিং করছিলেন মোস্তাফিজ। তবে উইকেটের দেখা মিলছিল না। অবশেষে কাঙ্ক্ষিত উইকেট পাওয়ার পর ফের শিকার পান তিনি। অল্প সময়ের ব্যবধানে সেই মুশফিকের ক্যাচ বানিয়ে রঙ্গনা হেরাথকে ফেরান কাটার মাস্টার। এতে শ্রীলংকার গুটিয়ে যাওয়া সময়ের ব্যাপার হয়ে দাঁড়ায়। শেষ পর্যন্ত ২২২ রানে অলআউট হয় তারা। রোশেনকে ফিরিয়ে প্রতিপক্ষ শিবিরে শেষ পেরেক ঠুকেন তাইজুল। ফেরার আগে ১২৪ বলে ৩ চার ও ১ ছক্কায় ৫৬ রানের লড়াকু ইনিংস খেলেন মিডল অর্ডার ব্যাটসম্যান।
মুখোমুখি হতে যাচ্ছে রিয়াল মাদ্রিদ এবং পিএসজি
আর মাত্র ১ সপ্তাহ। তারপরই সান্তিয়াগো বার্নাব্যুতে চ্যাম্পিয়ন্স লিগের সেরা ষোলোর প্রথম লেগের লড়াইয়ে মুখোমুখি হতে যাচ্ছে স্প্যানিশ জায়ান্ট রিয়াল মাদ্রিদ এবং ফরাসি জায়ান্ট পিএসজি। দুই দলে রয়েছেন ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো আর নেইমারের মত দুই মহাতারকা। বেশ কিছুদিন ধরেই নেইমারের রিয়ালে যাওয়ার গুঞ্জনটাই জোরদার হয়েছে। তবে ব্রাজিল সুপারস্টার এখন ১৪ ফেব্রুয়ারির ওই ম্যচের জন্য উন্মুখ হয়ে আছেন। নেইমার বলেছেন, 'রিয়ালের বিপক্ষে খেলার জন্য অন্য যে কোনো সময়ের চেয়ে আমি অধীর হয়ে আছি। আসলেই ম্যাচটির জন্য উন্মুখ হয়ে আছি। সত্যি বলতে, আশা করছি ম্যাচটা খুব দ্রুতই চলে আসবে। এই ম্যাচের জন্য আমরা অনেক কাজ করেছি। এ ধরনের ম্যাচ আমরা পছন্দ করি। একটা মানসম্পন্ন এবং খুব বড় একটা ক্লাবের বিপক্ষে খেলব আমরা।' সদ্যই ক্যারিয়ারে ৩৫০তম গোলের মাইলফলকে পা রেখেছেন পিএসজির এই ব্রাজিলিয়ান ফরোয়ার্ড। গত শনিবার রাতে লিগ ওয়ানে লিলের বিপক্ষে পিএসজির ৩-০ গোলে জেতা ম্যাচের দারুণ ফ্রি কিকে এই মাইলফলকে পৌঁছান তিনি। এটি চলতি লিগে ব্রাজিলিয়ান ফরোয়ার্ডের ১৮তম গোল। এ মুহূর্তে লিগে দ্বিতীয় স্থানে থাকা অলিম্পিক মার্শেইয়ের চেয়ে ১১ পয়েন্ট এগিয়ে থাকা পিএসজি শিরোপা পুনরুদ্ধারের পথে আছে। আরও পড়ুন: বিশ্বকাপ জিতেও বিনয়ী দ্রাবিড়; এক ওয়ানডে জিতেই শাস্ত্রীর লম্ফঝম্প লিগ ওয়ানের প্রস্তুতির পাশাপাশি আরও আগে থেকেই রিয়ালের বিপক্ষে ওই ম্যাচের প্রস্তুতি নিচ্ছে পিএসজি। টানা দুইবারের ইউরোপ সেরাদের বিপক্ষে জেতা যে খুব সহজ নয় তা খুব ভালো করেই জানেন তিনি। তাই জিনেদিন জিদানের শিষ্যদের সমীহ করে তিনি বলেছেন, 'আমরা অবশ্যই ওদের (রিয়াল মাদ্রিদ) শ্রদ্ধা করব। কিন্তু ম্যাচটা জয়ের জন্য সম্ভাব্য সেরা উপায়ে প্রস্তুতি নিচ্ছি।'
অবশেষে চট্টগ্রাম টেস্ট ড্র
বাংলাদেশ ও শ্রীলঙ্কার মধ্যকার প্রথম টেস্ট ড্র হেয়েছে। প্রথম ইনিংসে ২০০ রানে এগিয়ে থেকে ইনিংস ঘোষণা করলে চট্টগ্রাম টেস্টের পঞ্চম দিন ৭ উইকেট নিয়ে কাটিয়ে দেওয়ার চ্যালেঞ্জ ছিল বাংলাদেশের সামনে। দুই উইকেট হারিয়ে দিন পার করে দিয়েছে স্বাগতিকরা। শুরুতে পথ দেখিয়েছেন বাংলাদেশের প্রথম ব্যাটসম্যান হিসেবে টেস্টের দুই ইনিংসে সেঞ্চুরি করা মুমিনুল হক ও লিটন দাস। দায়িত্বশীল ব্যাটিংয়ে শেষ করেছেন মাহমুদউল্লাহ ও মোসাদ্দেক হোসেন। দারুণ লড়াই করে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে চট্টগ্রাম টেস্ট ড্র করেছে বাংলাদেশ। দারুণ ব্যাটিংয়ে চট্টগ্রাম টেস্ট বাঁচিয়েছে বাংলাদেশ। দিনের খেলা ১৭ ওভার বাকি থাকতে ড্র মেনে নিয়েছেন দুই অধিনায়ক। দ্বিতীয় ইনিংসে ১০০ ওভারে ৫ উইকেটে ৩০৭ রান করে বাংলাদেশ। সে সময় ১০৭ রানে এগিয়ে ছিল স্বাগতিকরা। অধিনায়ক মাহমুদউল্লাহ ২৮ ও মোসাদ্দেক হোসেন ৮ রানে অপরাজিত থাকেন। দুই জনে অবিচ্ছিন্ন ষষ্ঠ উইকেটে ১৭.৪ ওভারে তুলেন ২৮ রান। সংক্ষিপ্ত স্কোর: শ্রীলঙ্কা ১ম ইনিংস: (তৃতীয় দিন শেষে ৫০৪/৩) ১৯৯.৩ ওভারে ৭১৩/৯ ডিক্লে. (করুনারত্নে ০, মেন্ডিস ১৯৬, ধনঞ্জয়া ১৭৩, রোশেন ১০৯, চান্দিমাল ৮৭, ডিকভেলা ৬২, দিলরুয়ান ৩২, হেরাথ ২৪, লাকমল ৯, কুমারা ২*; মুস্তাফিজ ৩২-৬-১১৩-১, সানজামুল ৪৫-২-১৫৩-১, মিরাজ ৪৯-০-১৭৪-৩, তাইজুল ৬৭.৩-১৩-২১৯-৪, মোসাদ্দেক ৩-০-২৪-০, মুমিনুল ২-০-৬-০, মাহমুদউল্লাহ ১-০-৭-০) বাংলাদেশ ১ম ইনিংস: ওভারে ৫১৩ (তামিম ৫২, ইমরুল ৪০, মুমিনুল ১৭৬, মুশফিক ৯২, লিটন ০, মাহমুদউল্লাহ ৮৩*, মোসাদ্দেক ৮, মিরাজ ২০, সানজামুল ২৪, তাইজুল ১, মুস্তাফিজ ৮; লাকমল ২৩.৫-৪-৬৮-৩, কুমারা ১৫-১-৭৯-০, দিলরুয়ান ২৭-৪-১১২-১, হেরাথ ৩৭-২-১৫০-৩, সান্দাকান ২২৩-১-৯২-২, ধনঞ্জয়া ৫-০-১২-০) বাংলাদেশ ২য় ইনিংস: ১০০ ওভারে ৩০৭/৫ (তামিম ৪১, ইমরুল ১৯, মুমিনুল ১০৫, মুশফিক ২, লিটন ৯৪, মাহমুদউল্লাহ ২৮*, মোসাদ্দেক ৮*; হেরাথ ২/৮০, লাকমল ০/২৫, ধনঞ্জয়া ১/৪১, দিলরুয়ান ১/৭৪, সান্দকান ১/৬৪, কুমারা ০/১৬, মেন্ডিস ০/২) ম্যান অফ দ্যা ম্যাচ হয়েছেন মুমিনুল হক। ফল: ২ ম্যাচের সিরিজের প্রথম টেস্ট ড্র। পরের টেস্ট ৮ ফেব্রুয়ারি শুরু হবে ঢাকায়।
মেন্ডিস-সিলভার ব্যাটে প্রতিরোধ শ্রীলংকার
লঙ্কানদের স্কোরবোর্ডে তখন কোন রান যোগ হয়নি। তার আগেই প্রতিপক্ষের শিবিরে আঘাত হানেন মেহেদী হাসান মিরাজ। চট্টগ্রাম টেস্টের দ্বিতীয় দিনে প্রথম ইনিংসে ব্যাট করতে নেমে শুরুতেই সাজঘরে ফিরেন করুনারত্নে। সে সময় টাইগার শিবিরে শুরু হয় উল্লাস। তবে সে উল্লাস বেশি সময় স্থায়িত্ব হয়নি। ম্যাচের বাকিটা সময় কেটেছে হতাশায়। দ্বিতীয় উইকেটে ১৮৭ রানের দারুণ জুটি গড়ে জবাবটা ভালোই দেওয়া শুরু করেন কুশল মেন্ডিস ও ধনঞ্জয় ডি সিলভা। টেস্টের দ্বিতীয় দিন শেষে শ্রীলঙ্কার স্কোরবোর্ডেও জমা হয়েছে এক উইকেট হারিয়ে ১৮৭ রান। বলা চলে ম্যাচ নিজেদের নিয়ন্ত্রণে রেখেছে লঙ্কানরা। প্রথম ইনিংসে এখনো ৩২৬ রানের বড় ব্যবধানে পিছিয়ে থাকলেও আগামীকাল তৃতীয় দিনের খেলা শ্রীলঙ্কা শুরু করবে ৯টি উইকেট হাতে নিয়ে। ফলে হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়েরই আভাস পাওয়া যাচ্ছে। দ্বিতীয় দিনের শেষপর্যায়ে শতক পূরণ করে ফেলেছেন ধনঞ্জয় ডি সিলভা। তৃতীয় দিনে তিনি ব্যাট করতে নামবেন ১০৪ রান নিয়ে। আর কুশল মেন্ডিসও পৌঁছে গেছেন শতকের দ্বারপ্রান্তে। অপরাজিত আছেন ৮৩ রান করে। এর আগে প্রথম ইনিংসে বাংলাদেশ সংগ্রহ করেছিল ৫১৩ রান। মুমিনুল হকের ১৭৬, মুশফিকুর রহিমের ৯২, মাহমুদউল্লাহর অপরাজিত ৮৩, তামিম ইকবালের ৫২, ইমরুল কায়েসের ৪০ রানের ইনিংসগুলোতে ভর করে প্রথম ইনিংসে শক্ত অবস্থানই গড়ে নিয়েছে স্বাগতিক বাংলাদেশ।
চট্টগ্রাম টেস্টের দ্বিতীয় দিনের খেলা চলছে
খেলায় মধ্যবিরোতি চলছে, এখন পর্যন্ত বাংলাদেশের সংগ্রহ ৭ উইকেটে ৪৬৭ রান মাহমুদুল্লা ৪৯ এবং সানজামুল ২৩ রানে অপরাজিত রয়েছে। এছাড়া আজ মুমিনুল হক ১৭৬, মোসাদ্দেক ৮, মেহেদী ২০ রান করে আউট হয়। ২য় দিনে বাংলাদেশের সংগ্রহ ২৮ ওভারে ৯৩ রান। আজ দিনের শুরুতে হেরাথ ২ উইকেট তুলেনেয়। এর আগে প্রথম দিন টস জিতে প্রথমে ব্যাট করে ৪ উইকেটে ৩৭৪ রান করেছিলো বাংলাদেশ। দিন শেষে মোমিনুল হক ১৭৫ ও অধিনায়ক মাহমুদুল্লাহ রিয়াদ ৯ রানে অপরাজিত থাকেন। এছাড়াও দলের পক্ষে তামিম ইকবাল ৫২, ইমরুল কায়েস ৪০, মুশফিকুর রহিম ৯২ ও লিটন কুমার দাস শুন্য রান করেন। শ্রীলংকার পক্ষে সুরাঙ্গা লাকমল ২টি এবং দিলরুয়ান পেরেরা-লক্ষণ সান্দাকান ১টি করে উইকেট নেন।
মুশফিক মুমিনুলের ব্যাটিং নৈপুন্যে বড় সংগ্রহের পথে বাংলাদেশ
ব্যাটসম্যানদের দাপটে প্রথম দিনটা নিজের করে নিলো বাংলাদেশ। তামিম ইকবাল এবং মুশফিকুর রহিমের ব্যাট থেকে এসেছে ফিফটি। আর সেঞ্চুরি হাঁকিয়ে অপরাজিত আছেন মুমিনুল হক। তাকে সঙ্গ দিয়ে যাচ্ছেন অধিনায়ক মাহমুদুল্লাহ রিয়াদ। চোটে পড়ায় দলে নেই নিয়মিত অধিনায়ক সাকিব আল হাসান। তার পরিবর্তে এদিন টস করেন মাহমুদুল্লাহ রিয়াদ। চট্টগ্রামে টসভাগ্যও সহায় হয় মাহমুদুল্লাহ'র। সিদ্ধান্ত নেন আগে ব্যাট করার। অধিনায়কে সিদ্ধান্তকে সঠিক প্রমাণ করেন দুই ওপেনার তামিম ইকবাল এবং ইমরুল কায়েস। দলীয় ৭২ রানে প্রথম উইকেট হারায় বাংলাদেশ। মাত্র ৫৩ বলে ৫২ রান করে দিলরুয়ান পেরেরার বলে বোল্ড হয়ে ফেরেন তামিম। লাঞ্চ বিরতির আগের বলে আরেক ওপেনার ইমরুল কায়েসকে এলবিডব্লি'র ফাঁদে ফেলেন সান্দাকান। রিভিউ নিলে হয়তো বেচে যেতেন পারতেন। তবে অপরপ্রান্ত থাকা মুমিনুলের সাড়া না পাওয়ায় সাজঘরে ফেরেন ইমরুল। এরপর শুরু হয় মুমিনুল কাব্য। টেস্টের প্রথম দিনে সবচেয়ে বেশি রান করা বাংলাদেশি মুমিনুল হক। তবে যেকোনো দিনে সর্বোচ্চ রান করা ব্যাটসম্যান সাকিব আল হাসান। ওয়েলিংটনে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে দ্বিতীয় দিনে ২১২ রান করেছিলেন সাকিব। এদিক থেকে মুমিনুলের অবস্থান সাকিবের পরেই। এদিন আরও একটি মাইলফলক স্পর্শ করেছেন মুমিনুল। বাংলাদেশি ব্যাটসম্যান হিসেবে দ্রুততম সময়ে দুই হাজারি ক্লাবে পা রেখেছেন মুমিনুল (৪৭ ইনিংসে)। এ ম্যাচে নামার আগে তার দরকার ছিলো ১৬০ রান। সাবলীল ব্যাটিংয়ে তামিমকে (৫৩ ইনিংসে) ছাড়িয় যান তিনি। সাকিব না থাকায় বাড়তি দায়িত্ব ছিলো মুশফিকের ওপর। দলে লিটন দাস থাকায় কিপিংও হয়তো করত হবে না। তাই আগেভাগেই ব্যাটে নামানো হয় মুশফিককে। ব্যাট হতে আস্থার প্রতিদান ঠিকই দিয়েছেন মুশি। এদিন সেঞ্চুরির সংখ্যায় তাকে স্পর্শ করেছেন মুমিনুল। মুশির সুযোগ এসেছিলো ফের মুমিনুলকে ছাড়িয়ে যাবার। তবে মাত্র ৮ রানের আক্ষেপ নিয়ে মাঠ ছাড়তে হয় তাকে। দিনের খেলা তখন বাকি মাত্র ছয় ওভারে মতো। উইকেটে এসে শ্বাস নেবার আগেই ফিরে যান লিটন দাস। লাকমলের বলে বোল্ড হয়ে ফিরে যান তিনি। শেষ বিকেলে টাইগারদের কিছুটা অস্বস্তিতেই ফেলে দেন লাকমল। তবে মাহমুদুল্লাহ'র সঙ্গে অপরাজিত থেকেই দিনের খেলা শেষ করেন মুমিনুল। টেস্টে নিজের ক্যারিয়ারসেরা ইনিংস থেকে মাত্র ৬ রান দূরে আছেন তিনি। প্রথম দিন শেষে সংক্ষিপ্ত স্কোর: বাংলাদেশ (প্রথম ইনিংস): ৩৭৪/৪ (তামিম ৫২, ইমরুল ৪০, মুশফিক ৯২, মুমিনুল ১৭৫*, মাহমুদুল্লাহ ৯*; লাকমল ২/৪৩)
টস জিতে ব্যাটিংয়ে বাংলাদেশ
চট্টগ্রাম টেস্টে টস জিতে ব্যাটিং বেছে নিয়েছেন বাংলাদেশের ভারপ্রাপ্ত অধিনায়ক মাহমুদউল্লাহ। ইনজুরির কারণে নিয়মিত অধিনায়ক সাকিব আল হাসান না থাকায় দলকে নেতৃত্ব দিচ্ছেন মাহমুদুল্লাহ রিয়াদ। আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অধিনায়কত্বের অভিষেক হচ্ছে তাঁর। টেস্ট অভিষেক হচ্ছে বাঁহাতি স্পিনার সানজামুল ইসলামের। চট্টগ্রামের স্পিন-উপযোগী উইকেটে তিন স্পিনার নিয়ে মাঠে নামছে বাংলাদেশ। সুযোগ হয়নি আবদুর রাজ্জাকের। একাদশে একমাত্র পেসার হিসেবে আছেন মোস্তাফিজুর রহমান। বাংলাদেশ একাদশ: তামিম ইকবাল, ইমরুল কায়েস, লিটন দাস, মুমিনুল হক, মাহমুদউল্লাহ, মুশফিকুর রহিম, মোসাদ্দেক হোসেন, মেহেদী হাসান মিরাজ, তাইজুল ইসলাম, মোস্তাফিজুর রহমান, সানজামুল ইসলাম। বাংলাদেশের সংগ্রহ ২০ ওভারে ১ উইকেটে ১০২ রান। ব্যাটিং এ আছে মুমিনল এবং ইমরুল
৫ উইকেটে জিতল বাংলাদেশ
যুব বিশ্বকাপে নিউজিল্যান্ডের কুইন্সটাউনে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে পঞ্চম স্থান নির্ধারণী প্লে অফে ইংল্যান্ডকে ৫ উইকেটে হারিয়েছে টাইগার যুবারা। ইংলিশদের গড়া ২১৬ রানের জবাবে ৫ উইকেট হারিয়ে জয় পায় বাংলাদেশ। এদিকে প্রথমে ব্যাট করতে নেমে দুর্দান্ত শুরু করলেও পরে আর তা ধরে রাখতে পারেনি ইংল্যান্ড। ৪৭.২ ওভারে ২১৬ রানেই গুটিয়ে যায় ইংলিশরা। ইংল্যান্ড দলীয় ১৭ রানের মাথায় প্রথম টম বেনটনের উইকেট হারায়। অধিনায়ক হ্যারি ব্রুক ও লিয়াম ব্ল্যাংকের পঞ্চাশোর্ধ্ব দুই ইনিংসে ইংল্যান্ড অনূর্ধ্ব-১৯ দল নিজেদের সংগ্রহটা অনেক ওপরে নিয়ে যাওয়ার স্বপ্নই দেখছিল। কিন্তু বাংলাদেশ অনূর্ধ্ব-১৯ দলের বোলাররা ইংল্যান্ডের সংগ্রহটা প্রত্যাশামাফিক হতে দেননি। শেষ ২২ ওভারে ৭৮ রানে ৯ উইকেট হারায় ইংলিশরা। বাংলাদেশের পক্ষে হাসান ও আফিফ ৩টি করে উইকেট পেয়েছেন। অনিক নিয়েছেন ২ উইকেট। অন্যদিকে, আজও দুর্দান্ত ছিলেন অলরাউন্ডার আফিফ হোসেন। ৮৬ বলে ৭১ রান করে জয়ের খুব কাছাকাছি এসে আউট হন তিনি। ইংলিশদের গড়া ২১৬ রানের বিপক্ষে ৫ উইকেট ও ১৫ বল হাতে রেখেই জয় নিশ্চিত করে বাংলাদেশ।