বুধবার, এপ্রিল ২১, ২০২১
টাইগার যুবাদের বিশ্বজয়ই বছরের সেরা প্রাপ্তি
২৯ডিসেম্বর,মঙ্গলবার,স্পোর্টস ডেস্ক,নিউজ একাত্তর ডট কম: দেখতে দেখতে ২০২০ সালের শেষ সপ্তাহ চলে এলো। সময়ে অতল গর্ভে হারিয়ে যাবে আরও একটি বছর। দেশের ক্রিকেটাঙ্গনের অন্যতম একটি ব্যস্ত সময় পার করার কথা ছিল এই বছরটি। কিন্তু করোনা ভাইরাসের প্রকোপের কারণে মার্চের পর থেকে পুরো বছরটি মাঠের বাইরে পার করতে হয়েছে। তার আগ পর্যন্ত হাতে গোনা কয়েকটি সিরিজ খেলেছে জাতীয় দল। প্রাপ্তি-অপ্রাপ্তির ২০২০ সালে বাংলাদেশের ক্রিকেট কেমন ছিল সেটাই দেখে নেওয়া যাক। বছরের শুরুতেই জানুয়ারিতে পাকিস্তান সফরে যায় টাইগাররা। নিরাপত্তাজনিত কারণে তিন ধাপে পাকিস্তান সফরের প্রথম ধাপের সফর শুরু হয় জানুয়ারিতে। ২৪, ২৫ ও ২৭ জানুয়ারি তিন ম্যাচের টি-টোয়েন্টি সিরিজ খেলে বাংলাদেশ। একটি ম্যাচ বৃষ্টি কারণে পরিত্যক্ত হয়। বাকি দুটি ম্যাচ শোচনীয়ভাবে হেরে দেশে ফিরে আসে মাহমুদউল্লাহর দল। ফেব্রুয়ারিতে ঘরের মাঠে জিম্বাবুয়েকে আমন্ত্রণ জানায় বাংলাদেশ। সেই ডাকে সাড়া দিয়ে একটি টেস্ট, তিনটি ওয়ানডে ও দুটি টি-টোয়েন্টি খেলতে সফরে আসে জিম্বাবুইয়ানরা। একমাত্র টেস্টে টাইগারদের কাছে পাত্তা পায়নি সফরকারীরা। ইনিংস ও ১০৬ রানের বড় ব্যবধানে হারে জিম্বাবুয়ে। ওয়ানডে সিরিজেও টাইগারদের কাছে পাত্তা পায়নি জিম্বাবুয়ে। তবে ওয়ানডে সিরিজ আলোচিত ছিল মশরাফির অধিনায়কত্বকে বিদায় বলার কারণে। শেষ ওয়ানডের আগে ম্যাচ পূর্ববর্তী সংবাদ সম্মেলনে জানিয়ে দেন অধিনায়ক হিসেবে শেষ ওয়ানডে সিরিজ নেতৃত্ব দিচ্ছেন তিনি। তাই তো মাশরাফির এমন ঘোষণায় আবেগঘন পরিবেশ তৈরি হয় সিলেট আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামে। টেস্ট ও ওয়ানডে সিরিজের মতো টি-টোয়েন্টি সিরিজেও দাপট দেখায় টাইগাররা। দুই ম্যাচ জিতে পুরো সিরিজটাই জিম্বাবুয়েকে হোয়াটওয়াশ করে রাসেল ডমিঙ্গোর শিষ্যরা। ফেব্রুয়ারি মাসেই দেশের ক্রিকেটে সবচেয়ে বড় অর্জন আসে অনূর্ধ্ব-১৯ দলের হাত ধরে। যেই অর্জনটা দেশের ক্রিকেটের জন্য প্রথমবার তারা বয়ে নিয়ে আসে। আকবর আলীর হাত ধরে অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপ ক্রিকেটের শিরোপা জেতে বাংলাদেশ। প্রথমবার কোনো সংস্করণে বিশ্ব চ্যাম্পিয়নের মর্যাদা পায় বাংলাদেশ। দক্ষিণ আফ্রিকায় অনুষ্ঠিত বিশ্বকাপের শ্বাসরুদ্ধকর ফাইনালে ভারতকে ৩ উইকেটে হারায় জুনিয়র টাইগাররা। প্রথমবারের মতো আইসিসির কোনো ইভেন্টে শিরোপা জেতে আকবর আলীর দল, তাও আবার বিশ্বকাপের মতো মঞ্চে। শুধু এই বছর নয় দেশের ক্রিকেটেরই সেরা প্রাপ্তি টাইগার যুবাদের বিশ্বজয়। মার্চের দ্বিতীয় সপ্তাহ থেকে দেশে শুরু হতে থাকে করোনার প্রভাব। দেশের সব শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ হয়ে যায়। এমন পরিস্থিতিতে ১৫ মার্চ ১২টি দল নিয়ে মাঠে গড়ায় ঢাকা প্রিমিয়ার লিগের (ডিপিএল) ২০১৯-২০ মৌসুমের খেলা। কিন্তু সেসময়ই দেশের ক্রীড়া মন্ত্রণালয় সব ধরনের খেলাধুলা বন্ধ ঘোষণা করে। তারই পরিপ্রেক্ষিতে ১৯ মার্চ বিসিবি সভাপতি নাজমুল হাসান পাপন সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে সব ধরনের ক্রিকেট স্থগিত ঘোষণা করেন। শুধুমাত্র বাংলাদেশ নয় পুরো ক্রিকেট বিশ্বেই এর প্রভাব পড়ে। যার ফলে একে একে বাংলাদেশের আয়ারল্যান্ড, অস্ট্রেলিয়া, নিউজিল্যান্ড ও শ্রীলঙ্কা সিরিজ স্থগিত হয়ে যায়। ক্রিকেটাররা হয়ে পড়েন ঘর বন্দি। জুলাই পর্যন্ত ক্রিকেটারার মাঠেই ফিরতে পারেনি। তবে ক্রিকেটাররা একেবারেই বসে ছিলেন না। সবাই সবার জায়গা থেকে ফিটনেস নিয়ে কাজ করে গেছেন। তবে এর বাইরেও তারা বিভিন্ন ধরনের সামজিক কর্মকাণ্ডে অংশ নেন। করোনায় কষ্ট পাওয়া মানুষের পাশে এসে দাঁড়ান মাশরাফি বিন মর্তুজা, মুশফিকুর রহিম, তামিম ইকবাল, তাসকিন আহমেদ, মোস্তাফিজুর রহমান সহ প্রায় সব ক্রিকেটার। এমনকি নিষেধাজ্ঞায় থাকা সাকিব আল হাসানও এই কর্মকাণ্ডে অংশ নেন। সংসদ সদস্য হওয়ায় মাশরাফি নিজ এলাকা নড়াইলে মানুষের পাশে গিয়ে দাড়ান। সরকারি সহযোগিতার পাশাপাশি ব্যক্তিগত সহায়তার হাত বাড়িয়ে দেন। করোনায় ক্ষতিগ্রস্তদের পাশে দাড়াতে ১৬ বছর ধরে ব্যবহার করা নিজের প্রিয় ব্রেসলেটটা নিলামে তোলেন। দেশীয় এক সংগঠন ৪২ লাখ টাকায় সেটি কিনে নেয়। মুশফিকুর রহিম টেস্ট ক্যারিয়াররে প্রথম ডাবল সেঞ্চুরি যে ব্যাটটি দিয়ে করেন সেই স্মারক ব্যাটটি নিলামে তোলেন করোনায় ক্ষতিগ্রস্তদের পাশে এসে দাঁড়াতে। ব্যাটটি ১৮ লাখ টাকায় কিনে নেন ক্রিকেট বিশ্বের আরেক নন্দিত তারকা পাকিস্তানের সাবেক অধিনায়ক ও অলরাউন্ডার শহীদ আফ্রিদি। সাকিব আল হাসান ২০১৯ সালের যে ব্যাট দিয়ে বিশ্বকাপ ইতিহাসের অন্যতম সেরা অলরাউন্ডিং পারফরম্যান্স করেছিলেন সেই ব্যাটটি নিলামে তোলেন। ২০ লাখ টাকায় সেই ব্যাটটি কিনে নেন যুক্তরাষ্ট্র প্রবাসী এক বাংলাদেশি। ছাড়াও তামিম, তাসকিনসহ অন্যান্য ক্রিকেটাররা ব্যক্তিগত ও দলীয়ভাবে করোনায় ক্ষতিগ্রস্তদের পাশে এসে দাঁড়ান। করোনা মহামারি বিরতির পর বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) তত্বাবধানে ১৯ জুলাই থেকে নয় জন ক্রিকেটার ঢাকা ও ঢাকার বাইরে সামাজিক দূরত্ব বজায় ব্যক্তিগত অনুশীলন শুরু করেন। পরে সময় বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে অন্যান্য ক্রিকেটাররটাও অনুশীলন শুরু করেন। অক্টোবর মাসে দেশের ক্রিকেটের অন্য কোনো কার্যক্রম না থাকলেও দেশের ক্রিকেটের জন্য গুরুত্বপূর্ণ একটি ঘটনা ঘটে। মার্চের ক্রিকেট স্থগিত হওয়ার পর অক্টোবর মাসে তিন দল নিয়ে বিসিবি আয়োজন করে বিসিবি প্রেসিডেন্ট কাপ। করোনা থেকে রক্ষা পেতে পুরো টুর্নামেন্টটি বিসিবি ক্রিকেটারদের জৈব সুরক্ষা বলয়ের মধ্যে রেখে আয়োজন করে। নাজমুল একাদশকে হারিয়ে এই টুর্নামেন্টের শিরোপা জেতে মাহমুদউল্লাহ একাদশ। ২৯ অক্টোবর দেশের ক্রিকেটের আরও গুরুত্বপূর্ণ দিন ছিল। সব ধরনের ক্রিকেটে থেকে আইসিসির এক বছরের নিষেধাজ্ঞা শেষে আবার মুক্ত হন সাকিব আল হাসান। জুয়াড়ির প্রস্তাব গোপন করার অপরাধে ২০১৯ সালের ২৯ অক্টোবর সবধরনের ক্রিকেট থেকে সাকিবকে আইসিসি এক বছর নিষিদ্ধ করেছিল। করোনার পরে নভেম্বরে বিসিবি এবার ঘরোয়া টি-টোয়েন্টি ক্রিকেট আয়োজন করে। দেশীয় ক্রিকেটারদের নিয়ে আয়োজন করা হয় ফ্রাঞ্চাইজিভিত্তিক টি-টোয়েন্টি টুর্নামেন্ট বঙ্গবন্ধু টি-টোয়েন্টি কাপ। পাঁচ দলের অংশগ্রহণে এই টুর্নামেন্টের ফাইনালে গাজী গ্রুপ চট্টগ্রামকে ৫ রানে হারিয়ে শিরোপা জেতে জেমকন খুলনা। এই টুর্নামেন্ট দিয়ে শেষ হয় করোনাময় ২০২০ সালের বাংলাদেশের ক্রিকেট। জাতীয় পর্যায়ে শীর্ষ স্থানীয় থাকা ক্রিকেটাররাই ক্রিকেটে ফিরতে পেরেছেন করোনার পর। তবে প্রথম, দ্বিতীয় ও তৃতীয় বিভাগে খেলা ক্রিকেটার ও নারী ক্রিকেটাররা এখনো ক্রিকেটে ফিরতে পারেনি। বিসিবি সভাপতি জানিয়েছেন করোনার ভ্যাকসিন আসলে অথবা করোনা পরিস্থিতি উন্নতি হলে দেশের ক্রিকেট আবার আগের মতো প্রাণ ফিরে পাবে।
কখনও মাদ্রিদে যাবেন না মেসি, ইঙ্গিত যুক্তরাষ্ট্রে নাম লেখানোর
২৮ডিসেম্বর,সোমবার,স্পোর্টস ডেস্ক,নিউজ একাত্তর ডট কম: লা লিগার শিরোপা খোয়ানো, উয়েফা চ্যাম্পিয়নস লিগে ২-৮ গোলের ভয়াবহ বিপর্যয় এবং শিরোপাশূন্য মৌসুম- ইউরোপিয়ান ফুটবলের ২০১৯-২০ মৌসুমটা দুঃস্বপ্নময় ছিল স্প্যানিশ ক্লাব বার্সেলোনার জন্য। এর সঙ্গে মরার ওপর খাঁড়ার ঘা হয়ে আসে দলের সবচেয়ে বড় তারকা লিওনেল মেসির ক্লাব ছাড়তে যাওয়ার ঘোষণা। চলতি মৌসুম শুরুর আগে মেসির ক্লাব ছাড়তে চাওয়ার ইচ্ছাকে ঘিরে বেশ অস্থির অবস্থার মধ্য দিয়েই যেতে হয়েছে বার্সেলোনাকে। একপর্যায়ে মনে হচ্ছিল, এবার ঠিকই বার্সা ছেড়ে অন্য কোনও ক্লাবে নাম লেখাবেন মেসি। তবে শেষপর্যন্ত ২০২০-২১ মৌসুমের জন্য বার্সায় থাকতে রাজি হয়েছেন তিনি। তবে এখনও নিশ্চিত নয়, ২০২০-২১ মৌসুম শেষে আদৌ বার্সেলোনায় থাকবেন কি না তিনি। কেননা এখনও পর্যন্ত নিজের শৈশবের ক্লাবটির সঙ্গে চুক্তি নবায়ন করেননি মেসি। আপাতত তার ইচ্ছা, চলতি মৌসুমটা ভালোভাবে শেষ করা এবং বার্সেলোনার হয়ে শিরোপা জেতার লক্ষ্যপূরণ করা। নতুন মৌসুমে কোথায় যেতে চান? সম্প্রতি লা সেক্সটায় দেয়া সাক্ষাৎকারে রাখা হয় এমন প্রশ্ন। উত্তরে পরিষ্কার করে কিছুই বলেননি মেসি। তবে একটি জিনিস সাফ জানিয়েছেন, বার্সেলোনা ছেড়ে মাদ্রিদের দুই ক্লাব তথা রিয়াল মাদ্রিদ ও অ্যাটলেটিকো মাদ্রিদে যাওয়া সম্ভব নয় তার পক্ষে। একইসঙ্গে মেসি ইঙ্গিত দিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্রে নাম লেখানোর। এটিও অবশ্য সরাসরি বলেননি তিনি। মূলত যুক্তরাষ্ট্রের জীবনযাপনের অভিজ্ঞতা উপভোগের ইচ্ছার কথা জানিয়েছেন পাঁচবারের ব্যালন ডি অর জয়ী এ ফুটবলার। যদিও শেষপর্যন্ত মৌসুম পুরোটা খেলার দিকেই জোর দিয়েছেন তিনি। মেসির ভাষ্য, রিয়াল মাদ্রিদ বা অ্যাটলেটিকো মাদ্রিদের জন্য ক্লাব ছাড়া অসম্ভব আমার জন্য। আমি সবসময়ই বলেছি, যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসের অভিজ্ঞতা উপভোগ করতে চাই আমি। কিন্তু আমি জানি না এটা হবে কি না। আমি আপাতত আগামী ছয় মাসের (মৌসুমের বাকি সময়) দিকে মনোযোগী। তিনি আরও যোগ করেন, আমি মৌসুম শেষে কী করব, সেটা এখনই বলা ঠিক হবে না। মূলত আমি নিজেও জানি না, মৌসুম শেষে কী হবে। এখন গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, দলের ভালোর কথা চিন্তা করা এবং মৌসুমের শিরোপা নিশ্চিত করা। মৌসুম শেষে বার্সেলোনা ছেড়ে গেলেও ক্যারিয়ার শেষে যেকোনও দায়িত্ব নিয়ে ক্লাবে ফেরার ইচ্ছার কথা জানিয়ে মেসি বলেন, আমি যদি কখনও বার্সেলোনা ছেড়ে যাই, তাহলে বার্সা এবং বার্সেলোনায় ফিরে আসতে চাইব। যখন আমি অবসর নেবো, তখন নিজের জ্ঞান দিয়ে কিছু অবদান রাখার জন্য ক্লাবে ফিরতে চাইব। এসময় বার্সেলোনার প্রতি নিজের ভালোবাসার কথা জানাতেও ভোলেননি মেসি, বার্সা আমার জীবন। আমি বার্সা এবং বার্সেলোনাকে ভালোবাসি। আমি ক্লাবের জন্য সবসময় নিজের সর্বোচ্চটা দিয়েছি। আমি এই জার্সির জন্য অনেক বেশি অনুভব করি। বার্সেলোনা আমার জীবন। আমি এই ক্লাব ও শহরে বেড়ে উঠেছি, সবকিছু এখানেই শিখেছি। এই ক্লাব আমাকে সবকিছু দিয়েছে। বার্সা এবং এই শহরের সঙ্গে আমার ভালোবাসার সম্পর্ক।
বর্ষসেরা ওয়ানডে ব্যাটসম্যান লিটন দাস
২৬ডিসেম্বর,শনিবার,স্পোর্টস ডেস্ক,নিউজ একাত্তর ডট কম: করোনা মহামারিতে ২০২০ সালে হয়নি ক্রিকেটের সিংহভাগ ম্যাচ। করোনাভাইরাসের দখলে চলে গেছে অনেক অনেক সিরিজ। তবু করোনার প্রকোপের আগে ও পরে সবমিলিয়ে চলতি বছর আন্তর্জাতিক ওয়ানডে ম্যাচ হয়েছে ৪৪টি। যার ৪২টিতে জয়-পরাজয়ের দেখা মিলেছে। একটি করে ম্যাচ টাই ও পরিত্যক্ত হয়েছে। আর এই ৪৪ ম্যাচের মধ্যে বাংলাদেশ খেলেছে মাত্র ৩টি। আর তিন ম্যাচ খেলেই বিশ্বের সব ব্যাটসম্যানকে পেছনে ফেলেছেন বাংলাদেশের লিটন দাস। ব্যক্তিগত সর্বোচ্চ রানের ইনিংসের মালিক হয়েছেন তিনি। এ বছর লিটন দাস এক ইনিংসে করেছেন ১৭৬ রান। যা বর্ষসেরার তালিকায় সবার উপরে। দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছেন আরেক বাংলাদেশি। ড্যাশিং ওপেনার ও বাংলাদেশ ওয়ানডে দলের অধিনায়ক তামিম ইকবাল। এক ইনিংসে তার সংগ্রহ ১৫৮ রান। চমক দেখিয়েছেন পল আয়ারল্যান্ড দলের স্টারলিং। শক্তিশালী ইংল্যান্ডের বিপক্ষে একটি ম্যাচে ১৪২ রান করে তৃতীয় স্থানটি নিজের করে নিয়েছেন। ভারতের বিপক্ষে সদ্য অনুষ্ঠিত ওয়ানডে সিরিজের একটি ম্যাচে ১৩১ রানের ইনিংস খেলে চতুর্থ স্থানে এসেছেন অসি তারকা স্টিভ স্মিথ। পঞ্চম স্থানটিতে আরও একটি চমক রয়েছে। বিশ্বের বাঘাবাঘা ব্যাটসম্যানদের পেছনে ফেলে ওমানের বিপক্ষে অপরাজিত ১২৯ রান খেলে তালিকার পঞ্চমে নাম লিখিয়েছেন নামিবিয়ার ক্রেইগ উইলিয়ামস। সমান রান করে উইলিয়ামসের পাশে নিজের নাম লিখিয়েছেন দক্ষিণ আফ্রিকার জানেমান মালান। ২০২০ সালে লিটন-তামিম ছাড়া আর কোনো ব্যাটসম্যান দেড়শ’ রানও করতে পারেনি। চলতি বছরের মার্চে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে তিন ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজ খেলেছিল বাংলাদেশ। সেই সিরিজের দ্বিতীয় ম্যাচে ২০টি বাউন্ডারি ও তিনটি ছক্কার মারে ১৫৮ রানের ইনিংস খেলেন তামিম ইকবাল। যা ছিল ওই দিন পর্যন্ত বাংলাদেশের পক্ষে ওয়ানডেতে সর্বোচ্চ ব্যক্তিগত রানের রেকর্ড। এর পরের ম্যাচেই ১৭৬ রানের অসাধারণ এক ইনিংস খেলে তামিমের সেই রেকর্ড নিজের করে নেন লিটন দাস। ১৬টি চার ও ৮টি ছয়ের মার ছিল তার সেই ইনিংসে। তামিম ও লিটনের পরপর দুই ম্যাচে খেলা ইনিংস দুটিই ২০২০ সালে ওয়ানডে ক্রিকেটে সর্বোচ্চ ব্যক্তিগত দুই ইনিংস হয়ে থাকল।
১২শ শীতার্ত পরিবারের পাশে রুবেল হোসেন
২৪ডিসেম্বর,বৃহস্পতিবার,স্পোর্টস ডেস্ক,নিউজ একাত্তর ডট কম: অসহায় ও দুস্থ মানুষদের সব সময় নিজের সামার্থ্য অনুযায়ী সাহায্য করার চেষ্টা করেন রুবেল হোসেন। করোনাকালীন তার প্রমাণ দিয়েছিলেন বাংলাদেশ জাতীয় ক্রিকেট দলের ৩০ বছর বয়সী এই পেসার। দেশজুড়ে এখন তীব্র শীত পড়ছে। আর এই সময় আবারও অসহায় মানুষদের পাশে দাঁড়ালেন বাগেরহাটের কৃতি সন্তান রুবেল। নিজ এলাকায় ১২০০ পরিবারকে দিয়েছেন শীতের কম্বল। এখানে থেমে থাকছে না ডানহাতি পেসারের কল্যাণমূলক কার্যক্রম। আরও কিছু নির্দিষ্ট পরিবারকে চিহ্নিত করে নিজ থেকে কম্বল পৌঁছে দেওয়ার পাশাপাশি ভবিষ্যতেও নিজের প্রচেষ্টা অব্যাহত রাখার আশ্বাস দিয়েছেন তিনি। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এমন মহৎ উদ্যোগের বিষয়টি নিজেই জানিয়েছেন রুবেল। বৃহস্পতিবার (২৪ ডিসেম্বর) নিজের অফিসিয়াল ফেসবুক পেজে অসহায়-শীতার্ত পরিবারগুলোকে নিজ হাতে কম্বল দেওয়ার কয়েকটি ছবি পোস্ট করে তিনি লেখেন, ‘আসসালামু আলাইকুম। করোনার শুরু থেকে আমি চেষ্টা করেছি আমার সামর্থ্য অনুযায়ী অসহায় ও দুস্থ মানুষের পাশে দাঁড়ানোর। আপনারা জানেন আমাদের দেশে প্রচন্ড শীত পড়েছে। এমন অবস্থায় আমার নিজ এলাকা বাগেরহাটে ১২০০ পরিবারের পাশে দাঁড়িয়েছি। শুধু তাই না। আরো নির্দিষ্ট কিছু পরিবার চিহ্নিত করে আমি নিজে থেকে রাতের বেলায় ঘরে ঘরে গিয়ে কম্বল পৌঁছে দেবো। চলতি শীতে আমার এই প্রচেষ্টা অব্যহত থাকবে ইনশাল্লাহ। আমার এই চেষ্টায় সার্বিক সহযোগিতার জন্য আমি আন্তরিকভাবে ধন্যবাদ জানাই বাগেরহাট সদর থানার ওসি কে এম আজিজুল ইসলাম ভাইসহ তার সঙ্গের সকল পুলিশ কর্মকর্তাদের।
লিডসের জালে ইউনাইটেডের হাফ ডজন গোল
২১ডিসেম্বর,সোমবার,স্পোর্টস ডেস্ক,নিউজ একাত্তর ডট কম: ১৬ বছর পর ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগে ফেরা লিডস ইউনাইটেডকে নিয়ে গোল উৎসবে মেতেছে ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড। প্রথম তিন মিনিটে দুই গোল করে ম্যাচে বড় জয়ের আভাস দেয় গুনার সুলশারের শিষ্যরা। শেষ পর্যন্ত লিডসকে ৬-২ গোলে বিধ্বস্ত করেছে তারা। এই জয়ে তৃতীয় স্থানে উঠে এল রেড ডেভিলসরা। রোববার (২০ ডিসেম্বর) ঘরের মাঠ ওল্ড ট্রাফোর্ডে জোড়া গোল করেন স্কট ম্যাকটমিনে ও ব্রুনো ফার্নান্দেস। একবার করে জালের দেখা পান ভিক্টর লিনদেলোভ ও ড্যানিয়েল জেমস। লিডসের দুই গোলদাতা লিয়াম কুপার, স্টুয়ার্ট ডালাস। ম্যাচের ৬৭ সেকেন্ডেই গোলের দেখা মেলে। ফের্নান্দেসের পাস পেয়ে ডি-বক্সের বাইরে থেকে ডান পায়ের জোরালো শটে ঠিকানা খুঁজে নেন ম্যাকটমিনে। পরের মিনিটে অঁতনি মার্সিয়ালের বাড়ানো বল ডি-বক্সে পেয়ে বাঁ পায়ের শটে নিজের দ্বিতীয় গোলটি করেন স্কটল্যান্ডের এই মিডফিল্ডার। লিগে তার আগের ৬৮ ম্যাচে গোল ছিল মাত্র ৬টি। প্রথমার্ধের ২০তম মিনিটে ব্রুনো ফার্নান্দেস ও ৩৭তম মিনিটে ভিক্টর লিন্ডেলফ আরও দুই গোল যোগ করলে ম্যাচ থেকে তখনই ছিটকে যায় লিডস। তবে বিরতির ঠিক আগে ব্যবধান কমান কুপার। কর্নারে হেডে জাল খুঁজে নেন স্কটল্যান্ডের এই ডিফেন্ডার। ৪-১ ব্যবধান নিয়ে বিরতিতে যায় ম্যানইউ। দ্বিতীয়ার্ধেও ম্যানইউর গোল উৎসব চলতেই থাকে। ৬৬তম মিনিটে ড্যানিয়েল জেমস ও ৭০তম মিনিটে পেনাল্টি থেকে গোল করেন ফার্নান্দেস। তবে খেলার শেষদিকে লিডসের স্টুয়ার্ট ডালাসের গোলে ব্যবধান আরেকটু কমায় লিডস। কিন্তু ততক্ষণে ম্যাচের ফলাফল নির্ধারিত হয়ে গেছে। ম্যাচের শেষ দিকে লিডসের ওপর চাপ বাড়াতে ডনি ফন ডে বিক এবং এদিনসন কাভানিকে নামায় ম্যানইউ কোচ গুনার সুলশার। কিন্তু গোলের ব্যবধান একই থেকে যায়। এই জয় ১৩ ম্যাচে আট জয় ও দুই ড্রয়ে ২৬ পয়েন্ট নিয়ে তিন নম্বরে আছে ইউনাইটেড। এক ম্যাচ বেশি খেলে ১৭ পয়েন্ট নিয়ে চতুর্দশ স্থানে আছে লিডস। লেস্টার সিটি ১৪ ম্যাচে ২৭ পয়েন্ট নিয়ে আছে দুইয়ে। ইউনাইটেডের সমান ২৬ পয়েন্ট নিয়ে চারে এভারটন। ২৫ পয়েন্ট নিয়ে পাঁচে টটেনহ্যাম। তবে ১৪ ম্যাচে ৩১ পয়েন্ট নিয়ে সবার ওপরে আছে বর্তমান চ্যাম্পিয়ন লিভারপুল।
রোনালদোর জোড়া গোল, জয়ে ফিরলো জুভেন্টাস
২০ডিসেম্বর,রবিবার,স্পোর্টস ডেস্ক,নিউজ একাত্তর ডট কম: ইতালিয়ান সিরি লিগে বড় জয় পেয়েছে জুভেন্টাস। তারা ৪-০ গোলে হারিয়েছে পার্মাকে। এমন জয়ে জোড়া গোল করেছেন ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো। এর মধ্য দিয়ে জয়ে ফিরল জুভেন্টাস। আগের ম্যাচে নিজেদের মাঠে আতালান্তার বিপক্ষে ড্র করেছিল শিরোপাধারীরা। শনিবার রাতে প্রতিপক্ষের মাঠে রোনালদোর জোড়া গোল ছাড়াও গোলের দেখা পেয়েছেন আলভারো মোরাতা ও দিজান ক্লুসেভেস্কি। ম্যাচের ২৩তম মিনিটে এগিয়ে যায় জুভেন্টাস। বাঁ দিক থেকে মোরাতার নিখুঁত আড়াআড়ি ক্রস পায় ক্লুসেভস্কি। প্রথম ছোঁয়ায় বাঁ পায়ের শটে জাল খুঁজে নেন এই সুইডিশ মিডফিল্ডার। এর রেশ কাটতে না কাটতেই ২৬তম মিনিটে মোরাতার উঁচু ক্রসে হেডে লক্ষ্যভেদ করেন আগের ম্যাচে আতালান্তার বিপক্ষে পেনাল্টি মিস করা রোনালদো। তাতে ২-০ ব্যবধান এগিয়ে থেকে বিরতিতে যায় আন্দ্রেয়া পিরলোর দল। দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতে ব্যবধান বাড়ান রোনালদো। র‌্যামজির পাস ধরে কোনাকুনি শটে দূরের পোস্ট দিয়ে লক্ষ্যভেদ করেন তিনি। চলতি মৌসুমে তারকা এই ফরোয়ার্ডের গোল হলো ১২টি। যা তিনি করেছেন মাত্র ৯ ম্যাচে। পাশাপাশি ৩৫ বছর বয়সী এই পর্তুগীজ তারকা দারুণ ফর্মে থাকা ইন্টার মিলানের রোমেলু লুকাকু ও এসি মিলানের ইব্রাহিমোভিচকেও পেছনে ফেলেছেন। ইব্রা ও লুকাকু করেছেন ১০ গোল। ম্যাচের ৮২তম মিনিটে রোনালদোকে তুলে ফেদেরিকো চিয়েসাকে নামান জুভেন্টাস কোচ। তিন মিনিট পর ফেদেরিকো বের্নারদেস্কির ক্রসে মোরাতা হেডে প্রতিপক্ষের জালে পাঠান বল। অবশ্য তাদের পাশাপাশি দারুণ খেলেছেন জুভেন্টাসের ৪৫ বছর বয়সী গোলরক্ষক জিয়ানলুইজি বুফন। তিনি দারুণ দক্ষতায় পার্মার বেশ কয়েকটি নিশ্চিত গোলের সুযোগ নসাৎ করে দিয়েছেন। তাতে ৪-০ ব্যবধানের বড় জয় নিয়ে মাঠ ছাড়ে আন্দ্রেয়া পিরলোর শিষ্যরা। এই জয়ে পয়েন্ট টেবিলের তৃতীয় স্থানে উঠে এসে জুভেন্টাস। ১৩ ম্যাচ থেকে তাদের সংগ্রহ ২৭ পয়েন্ট। ১২ ম্যাচ থেকে ২৮ পয়েন্ট নিয়ে এসি মিলান রয়েছে শীর্ষে।
ব্রাদার্সকে বাফুফের শোকজ
১৯ডিসেম্বর,শনিবার,স্পোর্টস ডেস্ক,নিউজ একাত্তর ডট কম: নির্ধারিত সময়ে দলবদল না করায় ব্রাদার্স ইউনিয়নকে কারণ দর্শানো নোটিশ (শোকজ) দিয়েছে বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশন। নিয়ম ভঙ্গ করায় কেন তাদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে না, এই মর্মে কারণ দর্শাতে রোববার দুপুর ১২টা পর্যন্ত ক্লাবটিকে সময় বেঁধে দিয়েছে বাফুফে। ব্রাদার্স ইউনিয়নের জবাব পাওয়ার পরই বাফুফের প্লেয়ার্স স্ট্যাটাস কমিটি রোববার বিকেলে সভায় বসে সিদ্ধান্ত নেবে বলে বাফুফে সূত্রে জানা গেছে। গত ১৫ ডিসেম্বর শেষ হয়েছে নতুন ফুটবল মৌসুমের দলবদল। ব্রাদার্স খেলোয়াড় তালিকা জমা দিয়েছে তার দুই দিন পর ১৭ ডিসেম্বর। এদিকে ফেডারেশন কাপে খেলার জন্য অন্য ১২ ক্লাব অংশগ্রহণে সম্মতির জন্য যে ফরম পূরণ করে দিয়েছে, বাফুফের প্রফেশনাল লিগ কমিটিতে ব্রাদার্স তাও দেয়নি। ১ ডিসেম্বর ছিল ফরম জমা দেয়ার শেষ দিন। বাফুফে একবার তাগাদা দেয়ার পরও ব্রাদার্স জমা দেয়নি বলে জানা গেছে। কারণ দর্শানো চিঠি পাওয়ার কথা স্বীকার করে ব্রাদার্স ইউনিয়নের ফুটবল ম্যানেজার আমের খান বলেছেন, হ্যাঁ, বাফুফে থেকে চিঠি পেয়েছি। আমরা সময়মতো জবাব দেব।
শ্বাসরুদ্ধকর ম্যাচে চট্টগ্রামকে হারিয়ে শিরোপা খুলনার
১৮ডিসেম্বর,শুক্রবার,স্পোর্টস ডেস্ক,নিউজ একাত্তর ডট কম: শহিদুল ইসলামের করা টুর্নামেন্টের শেষ বলটিকে বাউন্ডারির ওপারে পাঠিয়ে দিলেন নাহিদুল ইসলাম। কিন্তু সেই ছক্কায় আর কোনো লাভ হলো না গাজী গ্রুপ চট্টগ্রামের। ৫ রানে হেরে যেতে হলো পুরো টুর্নামেন্টে দাপটের সঙ্গে খেলা দলটিকে। উল্টো জয় হলো অভিজ্ঞতার। চট্টগ্রামকে হারিয়ে বঙ্গবন্ধু কাপ টি-টোয়েন্টি টুর্নামেন্টের প্রথম আসরের শিরোপা জিতে নিলো জেমকন খুলনা। খুলনার করা ১৫৫ রানের জবাবে ৬ উইকেট হারিয়ে ১৫০ রানে থেমে যেতে হলো মোহাম্মদ মিঠুনের চট্টগ্রামকে। ৫ রানের জয়ে শিরোপা উল্লাসে মেতে উঠলো মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ এবং মাশরাফি বিন মর্তুজার খুলনা। টুর্নামেন্টের শুরু থেকে অপ্রতিরোধ্য থাকলেও শেষ পর্যন্ত আর অভিজ্ঞতার সঙ্গে পেরে উঠল না গাজী গ্রুপ চট্টগ্রাম। প্রথম রাউন্ডে আট ম্যাচের মধ্যে সাতটিতে জেতা চট্টগ্রাম, প্লে-অফ পর্বে খেই হারিয়ে খোয়াল শিরোপাও। প্রথম কোয়ালিফায়ার ম্যাচের পর ফাইনালেও তারা হারল জেমকন খুলনার কাছে। শিরোপা নির্ধারণী ম্যাচটিতে টস জিতে খুলনাকে ব্যাট করতে পাঠায় চট্টগ্রাম অধিনায়ক মোহাম্মদ মিঠুন। টস হেরে আগে ব্যাট করতে নেমে অধিনায়ক মাহমুদউল্লাহর ৪৮ বলে ৭০ রানের ইনিংসের কল্যাণে ১৫৫ রানের লড়াকু সংগ্রহ দাঁড় করায় খুলনা। ফর্মে থাকা চট্টগ্রামের ব্যাটিং লাইনআপের জন্য এটি খুব বড় ছিল না। কিন্তু খুলনার নিয়ন্ত্রিত বোলিংয়ের বিপক্ষে নির্ধারিত ২০ ওভার শেষে ৬ উইকেটে ১৫০ রানের বেশি করতে পারেনি চট্টগ্রাম, খুলনা ম্যাচ জিতে নিয়েছে ৫ রানে। শেষ ওভারে জয়ের জন্য ১৬ রান প্রয়োজন ছিল চট্টগ্রামের। প্রথম পাঁচ বলে কোনো বাউন্ডারি হাঁকাতে পারেনি তারা, উল্টো হারায় দুইটি উইকেট। শেষ বলে ছক্কা হাঁকান নাহিদুল ইসলাম। কিন্তু এটি শুধুমাত্র পরাজয়ের ব্যবধান কমানো ছাড়া আর কোনও কাজেই আসেনি। ১৫৬ রান তাড়া করতে নেমে শুরুটা বেশ ভালোই করেছিলেন দুই ওপেনার লিটন দাস ও সৌম্য সরকার। শুভাগত হোমের করা দ্বিতীয় ওভারে মাত্র ২ রান হলেও, মাশরাফি বিন মর্তুজার প্রথম ও তৃতীয় ওভার থেকে মোট ২১ রান তুলে নেন চট্টগ্রামের দুই ওপেনার। তবে ইনিংসের চতুর্থ ওভারেই সৌম্যকে সোজা বোল্ড করে দেন শুভাগত, আউট হওয়ার আগে ১০ বলে ১২ রান করেন সৌম্য। উদ্বোধনী জুটি ভাঙার পর চাপে পড়ে যায় চট্টগ্রাম। পরের ওভারেই আল আমিন হোসেনের বলে লেগ বিফোরের ফাঁদে পড়েন অধিনায়ক মিঠুন (৫ বলে ৭)। শুরু থেকে ইতিবাচক ব্যাটিং করছিলেন লিটন। তিনি আউট হন দুর্ভাগ্যজনকভাবে। শহীদুল ইসলামের নিজের বোলিংয়েই দুর্দান্ত ফিল্ডিংয়ে রানআউটে কাটা পড়েন ২৩ বলে ২৩ রান করা লিটন। চতুর্থ উইকেট জুটিতে ডুবতে থাকা দলকে আশার আলো দেখান সৈকত আলি ও শামসুর রহমান শুভ। দুজন মিলে গড়েন ৩৪ বলে ৪৫ রানের জুটি। ইনিংসের প্রথম টাইম আউটের সময় চট্টগ্রামের সংগ্রহ ছিল ৩ উইকেটে ৫১ রান। পরের ৪ ওভার থেকে সৈকত ও শামসুর মিলে তুলে নেন ৪২ রান। ফলে শেষ ৭ ওভারে বাকি থাকে ৬৩ রান। তখন ১৪তম ওভারে মাত্র ৩ রান দেন আলআমিন, চাপ বাড়ে চট্টগ্রামের। ইনিংসের ১৫তম ওভারে ভাঙে শামসুর-সৈকত জুটি। হাসান মাহমুদের বলে ছক্কা মারতে গিয়ে লংঅনে শুভাগত হোমের হাতে ধরা পড়েন ২১ বলে ২৩ রান করা শামসুর। ম্যাচ জিততে সমীকরণ তখন ৩৪ বলে ৬০ রান। মনে হচ্ছিল, ম্যাচ চলে যাচ্ছে খুলনার দিকে। কিন্তু সেটি সহজেই মেনে নিতে রাজি ছিলেন সৈকত, সঙ্গী হিসেবে পেয়ে যান মোসাদ্দেক সৈকতকে। শেষ তিন ওভারে তাদের বাকি ছিল ৪০ রান। শহীদুল ইসলামের করা ১৮তম ওভারের প্রথম বলেই ছক্কা মেরে দেন সৈকত, পরের পাঁচ বল থেকে আসে একটি করে সিঙ্গেল, সমীকরণ নেমে আসে ১২ বলে ২৯ রানে। ততক্ষণে ক্যারিয়ারের প্রথম ফিফটি তুলে নেন সৈকত। হাসান মাহমুদ আসেন ১৯তম ওভার নিয়ে। দ্বিতীয় বলে মিসফিল্ডিংয়ে বাউন্ডারি ছেড়ে দেন শুভাগত, শেষ বলে ছক্কা মেরে দেন মোসাদ্দেক, সেই ওভারে আসে ১৩ রান। ম্যাচের দুই ইনিংস মিলে ৩৯ ওভার শেষে শিরোপার সমীকরণ নেমে আসে ৬ বলে ১৬ রান। খুলনার পক্ষে এ দায়িত্ব বর্তায় শহীদুলের কাঁধে। প্রথম বলে মিড উইকেটে মেরে সিঙ্গেল নেন সৈকত। পরের বলে মিডঅফ-লংঅফের মাঝামাঝিতে রেখে দুই রান নিয়ে নেন মোসাদ্দেক। সমীকরণ দাঁড়ায় ৪ বলে ১৩ রানে। লো ফুলটস পেয়েও তৃতীয় বলটি সীমানাছাড়া করতে পারেননি তিনি, আউট হয়ে যান লংঅনে থাকা শুভাগতর হাতে ধরা পড়ে। তার ব্যাট থেকে আসে ১৪ বলে ১৯ রান। পরের বলে হাফসেঞ্চুরিয়ান সৈকত আলিকে (৪৫ বলে ৫৩) সোজা বোল্ড করে দেন শহীদুল। মূলত তখনই নিশ্চিত হয়ে যায় খুলনার জয়। হ্যাটট্রিক বলে ১ রান নেন নাদিফ। শেষ বলে ছক্কা মেরে পরাজয়ের ব্যবধানটা ৫ রানে নামান নাহিদুল ইসলাম। খুলনার পক্ষে বল হাতে সর্বোচ্চ ২ উইকেট নেন শহীদুল। এছাড়া ১টি করে উইকেট যায় শুভাগত, আলআমিন ও হাসান মাহমুদের ঝুলিতে। এর আগে শিরোপা নির্ধারণী এই ম্যাচে টস জিতে আগে ফিল্ডিংয়ের সিদ্ধান্ত নেন চট্টগ্রাম অধিনায়ক মোহাম্মদ মিঠুন। টুর্নামেন্টের অন্যান্য ম্যাচগুলোর মতোই প্রথম ওভার তিনি তুলে দেন অফস্পিনার নাহিদুল ইসলামের হাতে। অধিনায়কের মুখে হাসি ফোটাতে একটি বলও নষ্ট করেননি নাহিদুল। প্রথম বলেই হাওয়ায় ভাসিয়ে খেলেন জহুরুল। মিড অফ থেকে খানিক পেছনে দৌড়ে গিয়ে তার ক্যাচ তালুবন্দী করেন মোসাদ্দেক সৈকত। আগের দুই ম্যাচে যথাক্রমে ৫৩ ও ৮০ রানের ইনিংস খেললেও ফাইনালে এসে ব্যর্থ হলেন জহুরুল। প্রথম বলেই ওপেনারকে হারানোর পরেও আক্রমণাত্মক ব্যাটিং করতে পিছপা হননি জাকির হাসান। নাহিদুলের প্রথম ওভারে আসে ২ রান। শরীফুল ইসলামের করা পরের ওভারের চতুর্থ বলে কাট করে পয়েন্ট দিয়ে চার মারেন জাকির। শেষ বলে টপ এজে কিপারের মাথার ওপর দিয়ে ছক্কা পেয়ে যান ইমরুল। তৃতীয় ওভারের প্রথম বলে উইকেট ছেড়ে বেরিয়ে এসে লংঅন দিয়ে দৃষ্টিনন্দন এক ছক্কা হাঁকান জাকির। শুরুর চাপটা কাটিয়ে ওঠার আভাস দিতে থাকে খুলনা। কিন্তু সে ওভারেই চতুর্থ বলে ছক্কা হাঁকানোর চেষ্টায় লংঅফে সৌম্য সরকারের হাতে ধরা পড়েন ইমরুল। আউট হওয়ার আগে ইমরুল করেন ৮ বলে ৮ রান। চমক হিসেবে চার নম্বরে নামানো হয় আরিফুল হককে। খুলনার চাপ আরও বাড়তে পারত চতুর্থ ওভারে। প্রথমবারের মতো আক্রমণে আসা রাকিবুল হাসানের করা ওভারের চতুর্থ বলটি ছিল খানিক শর্ট পিচড, সপাটে পুল করেন জাকির, তবে জোর পাননি তেমন; অবশ্য কপাল ভাল ছিল তার, মিডউইকেটে ঝাপিয়েও বলটি তালুবন্দী করতে পারেননি চট্টগ্রাম অধিনায়ক মিঠুন। তখন ১১ রানে খেলছিলেন জাকির। নাহিদুলের পরের ওভারে জোড়া বাউন্ডারি হাঁকিয়ে চট্টগ্রামের হতাশা বাড়ান এ বাঁহাতি ওপেনার। তবে বেশিদূর যেতে পারেননি তিনি। পাওয়ার প্লে'তে খুলনা করে ২ উইকেটে ৪২ রান। সপ্তম ওভারে ফের চট্টগ্রামকে আনন্দে ভাসান মোসাদ্দেক হোসেন সৈকত। তার প্রথম ওভারের তৃতীয় বলে ডিপ মিডউইকেটে মাহমুদুল হাসান জয়ের হাতে ক্যাচ তুলে দেন জাকির। তার ব্যাট থেকে আসে ৩ চার ও ১ ছয়ের ২০ বলে ২৫ রান। দলীয় পঞ্চাশের আগেই ৩ উইকেট হারিয়ে ব্যাকফুটে চলে যায় খুলনা, যেতে পারত চতুর্থ উইকেটও। ইনিংসের অষ্টম ওভারের দ্বিতীয় বলে মাহমুদউল্লাহকে লেগ বিফোর আউট দেন আম্পায়ার। রিভিউ নিয়ে বেঁচে যান খুলনা অধিনায়ক। পরে চতুর্থ উইকেটে রয়েসয়ে খেলতে শুরু করেন মাহমুদউল্লাহ ও আরিফুল। এরই মাঝে মোসাদ্দেকের করা ১১তম ওভারে পরপর দুই বলে ছয় ও চার মেরে রানরেট সাতে তোলেন মাহমুদউল্লাহ। যখন চাপ কাটিয়ে বড় সংগ্রহের পথে এগুনোর দিকে মন দিচ্ছিল খুলনা, তখনই তারা হারায় আরিফুলের উইকেট। শরীফুলের বোলিংয়ে দুর্দান্ত এক স্ট্রেইট ড্রাইভে চার মারার পরের বলেই উইকেটের পেছনে লিটন দাসের দুর্দান্ত ক্যাচে সাজঘরের পথ ধরেন ২৩ বলে ২১ রান করা আরিফুল। তার বিদায়ে উইকেটে আসেন শুভাগত, মুখোমুখি পঞ্চম বলে হাঁকান ছক্কা। কিন্তু তিনিও পারেননি বেশিক্ষণ থাকতে। ইনিংসের ১৬তম ওভারে শুভাগত ফেরেন ১২ বলে ১৫ রান করে। অন্যপ্রান্তে অধিনায়ক মাহমুদউল্লাহ হয়ে যান নিঃসঙ্গ যোদ্ধা। এরই মাঝে নিজের মুখোমুখি প্রথম বলেই ভুল বোঝাবুঝিতে রানআউট হন তরুণ শামীম পাটোয়ারি। শহীদুল ইসলামের আগে নামিয়ে দেয়া হয় মাশরাফিকে। তিনি এক চারের মারে ৫ রান করে আউট হয়ে যান। মাশরাফি ফিরে যাওয়ার পরের বলেই চার মারেন মাহমুদউল্লাহ, পৌঁছে যান ব্যক্তিগত পঞ্চাশে। মোস্তাফিজের করা ১৯তম ওভারটিতে আসে ৭ রান। শেষ ওভারে বোলিংয়ে আনা হয় সৌম্য সরকারকে। প্রথম বল ডট গেলেও, পরের চার বলে যথাক্রমে ২, ৪, ৬ ও ৪ মেরে দেন মাহমুদউল্লাহ। শেষ বলেও চেষ্টা করেছিলেন বাউন্ডারির, আসে ১ রান। সবমিলিয়ে শেষ ওভারে ১৭ রান তুলে দলীয় সংগ্রহটা ৭ উইকেটে ১৫৫ রানে পৌঁছে দেন খুলনা অধিনায়ক। তিনি শেষপর্যন্ত অপরাজিত থাকেন ৮ চার ও ২ ছয়ের মারে ৪৮ বলে ৭০ রান করে। বল হাতে চট্টগ্রামের পক্ষে ২টি করে উইকেট নেন নাহিদুল ইসলাম ও শরীফুল ইসলাম। এছাড়া মোসাদ্দেক ও মোস্তাফিজুর নেন ১টি করে উইকেট। সবমিলিয়ে টুর্নামেন্টের উইকেটসংখ্যা দাঁড়াল ২২। সূত্র: জাগো নিউজ
পিছিয়ে পড়েও জিতলো বার্সেলোনা
১৭ডিসেম্বর,বৃহস্পতিবার,স্পোর্টস ডেস্ক,নিউজ একাত্তর ডট কম: স্প্যানিশ লা লিগার ম্যাচে প্রথমে পিছিয়ে পড়ার পর ঘুরে দাঁড়িয়ে দারুণ এক জয় তুলে নিয়েছে বার্সেলোনা। ঘরের মাঠে রিয়াল সোসিয়েদাদকে ২-১ ব্যবধানে হারিয়েছে কাতালান ক্লাবটি। এই জয়ে পয়েন্ট টেবিলেও উন্নতি হয়েছে কোম্যানের দলের। বুধবার রাতে ক্যাম্প ন্যুয়ে প্রথমে উইলিয়ান জোসের গোলে এগিয়ে যায় অতিথি দল। পরে স্বাগতিকদের সমতায় টানেন জর্ডি আলবা। আর জয়সূচক গোলটি করেন ফ্রেংকি ডি ইয়ং। বার্সেলোনার মাঠে ম্যাচের ২৭তম মিনিটে প্রথম কর্নার পায় সোসিয়েদাদ। তা থেকেই এগিয়ে যায় তারা। বক্সের ডান দিক থেকে পোর্তুর গোলমুখে বাড়ানো বল অনায়াসে জালে পাঠান জোসে। তবে তাদের বেশিক্ষণ এগিয়ে থাকতে দেয়নি বার্সা। ৩১ মিনিটের মাথায় দারুণ বোঝাপোড়ায় দুর্বল ডান পায়ের শটে বক্সর বাইরে থেকে বল জালে জড়ান জর্ডি আলবা। তাতে সমতায় ফেরে স্বাগতিকরা। বিরতিতে যাওয়ার আগে বার্সেলোনাকে এগিয়ে নেন ফ্রেঙ্কি ডি ইয়ং। ৪৩ মিনিটে বাঁ দিক থেকে আলবার ক্রস ছয় গজ বক্সের মুখে ফাঁকায় পেয়ে অনায়াসে ডান পায়ের টোকায় লক্ষ্যভেদ করেন ডি ইয়ং। শুরুতে অবশ্য অফসাইডের পতাকা উঠেছিল, তবে ভিএআরের সাহায্যে গোলের বাঁশি বাজান রেফারি। তাতে ২-১ গোলে এগিয়ে থেকেই বিরতিতে যায় কাতালানরা। দ্বিতীয়ার্ধের দশম মিনিটে মুহূর্তের ব্যবধানে দুটি সুযোগ নষ্ট হয় বার্সেলোনার। ডান দিকের দুরূহ কোণ থেকে মেসির শট গোলরক্ষক ঠেকানোর পর ওই আক্রমণেই বাঁ দিক থেকে আলবার ক্রস গোলমুখে পেয়েও জালে বল পাঠাতে ব্যর্থ গ্রিজমান। ৩০ সেকেন্ড পর বাঁ দিক দিয়ে ওঠা আক্রমণে আবারও সুবর্ণ সুযোগ পান ফরাসি এই ফরোয়ার্ড; কিন্তু গোলরক্ষককে একা পেয়েও তার বরাবর শট নেন তিনি। বাকি সময়ে অবশ্য আর কোনো গোল হয়নি। জয়ের জন্য আর কোনো গোলের প্রয়োজনও হয়নি অবশ্য মেসি-গ্রিজমানদের। পুরো ম্যাচে বল দখল ও আক্রমণে একটু এগিয়ে বার্সেলোনা। লক্ষ্যে শট নেওয়ায় অবশ্য সোসিয়েদাদ এগিয়ে; তারা ৫টি, বার্সেলোনা ৪টি। তবে, নিশ্চিত সুযোগের হিসেবে বার্সেলোনা অনেক এগিয়ে ছিল। এই জয়ে ১১ ম্যাচ থেকে ২০ পয়েন্ট সংগ্রহ করে বার্সেলোনা উঠে এসেছে পয়েন্ট টেবিলের পঞ্চম স্থানে। অন্যদিকে এই হারে শীর্ষস্থান খুইয়েছে সোসিয়েদাদ। তাদের সমান ২৬ পয়েন্ট নিয়েই গোল ব্যবধানে এগিয়ে উপরে অ্যাতলেটিকো মাদ্রিদ।