ইন্ডিয়ান প্রিমিয়ার লিগ আইপিএলেও অধিনায়কত্ব ছাড়লেন স্মিথ
কেপটাউন টেস্টে বল টেম্পারিং বিতর্কের পরই স্টিভ স্মিথের অধিনায়কত্ব নিয়ে প্রশ্ন উঠতে শুরু করে। ঘরে-বাইরে সমালোচনার জেরে অস্ট্রেলিয়ার অধিনায়কের পদ থেকে সরে দাঁড়ান তিনি। এবার আসছে ইন্ডিয়ান প্রিমিয়ার লিগের (আইপিএল) দল রাজস্থান রয়্যালসের নেতৃত্ব থেকে সরে দাঁড়ালেন অজি তারকা।তার পরিবর্তে নিষেধাজ্ঞা কাটিয়ে ফেরা দলটিকে নেতৃত্ব দেবেন আজিঙ্কা রাহানে। সোমবার এক বিবৃতিতে রাজস্থান রয়্যালস এ তথ্য জানিয়েছে। বল বিকৃতি কাণ্ডে জড়িয়ে আছে ডেভিড ওয়ার্নারেরও নাম। অস্ট্রেলিয়ার সহ-অধিনায়কের পদ থেকেও সরে দাঁড়িয়েছেন তিনি। এবার আইপিএলের অন্যতম ফ্রাঞ্চাইজি সানরাইজার্স হায়দরাবাদের নেতৃত্ব থেকে ওয়ার্নারও সরে দাঁড়ান কিনা, সেটাই দেখার। তবে ফ্রাঞ্চাইজিটি তাকে নিয়ে এখনও কোনও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেয়নি। ইতিমধ্যে এক টেস্ট নিষিদ্ধ হয়েছেন স্মিথ। তার জন্য সম্ভবত আরও বড়সড় শাস্তি অপেক্ষা করছে। দেশের ভাবমূর্থি ক্ষুণ্ন করায় আজীবন নিষিদ্ধ হতে পারেন তিনি। একই সাজা ভোগ করতে হতে পারে ওয়ার্নারকে। ফলে আইপিএলের একাদশ আসরে তারা খেলতে পারবেন কি না তা নিয়ে শঙ্কা দেখা দিয়েছে।
এখনো কোন সঠিক পরিকল্পনা নেই ২০১৯ বিশ্বকাপ নিয়ে:নান্নু
বাংলাদেশ ক্রিকেট দলে হেড কোচ এখনো নিয়োগ না হওয়ায় ২০১৯ বিশ্বকাপের নির্বাচন প্রক্রিয়া সঠিক পরিকল্পনায় এগোতে পারছে না বলে মন্তব্য করেছেন প্রধান নির্বাচক মিনহাজুল আবেদীন নান্নু। প্রধান কোচের সঙ্গে সমন্বয় করেই বিশ্বকাপের দল নির্বাচন প্রক্রিয়া শুরু করবে বিসিবি। ফর্মে না থাকলেও যারা জাতীয় দলে আছেন, তাদের প্রতি নান্নু পরামর্শ দিয়েছেন, মানসিক ভাবে ক্রিকেটে আরো মনোযোগী হতে হবে। আর ১৫ মাসও নেই ২০১৯ ইংল্যান্ড বিশ্বকাপের। কিন্তু, বিশ্বকাপ সামনে রেখে প্রতিটি দেশই কয়েক বছর আগে দল নির্বাচন প্রক্রিয়া শুরু করে থাকে। তবে, বিপরীত চিত্র বাংলাদেশে। এখনো পুরোপুরি ভাবে দল নির্বাচন প্রক্রিয়া শুরু করতে পারেনি বিসিবি। কারণ টাইগারদের হেড কোচ নিয়োগ হয়নি এখনো। একটি দেশের জাতীয় দলের প্রধান কোচ না থাকলেও, কিভাবে হবে বিশ্বকাপের দল নির্বাচন প্রক্রিয়া? অকপটেই তা স্বীকার করছেন প্রধান নির্বাচক। বিসিবি প্রধান নির্বাচক মিনহাজুল আবেদীন নান্নু বলেন, প্রধান কোচ চলে যাওয়ার পর আবার নতুন যে কোচ হচ্ছে, তাহলে এরকম একটা প্ল্যান থাকবে। আমাদেরও ওয়ার্ল্ড কাপ নিয়ে যে প্ল্যানিং আছে সেভাবেই আগাবো।' বিশ্বকাপের ব্যাপারটি মাথায় রেখে বিসিবি উচিত দ্রুতই কোচ নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা এমনটাই বলছেন বিশ্লেষকরা। কিন্তু, একটা প্রশ্নের বরাবরই সম্মুখীন হতে হয় নির্বাচকদের। তা হলো দলে বেশ কয়েকজন ক্রিকেটার আছেন যারা নিয়মিত পারফর্ম না করেও, দিব্বি সুযোগ পাচ্ছেন। সুযোগ পাওয়া ঐ ক্রিকেটারদের সতর্ক বার্তা নান্নুর। নান্নু বলেন, 'একটা ব্যাটসম্যানের বড় সমস্যা হচ্ছে মানসিক কারণ এরা পরীক্ষিত পারফর্মার। আগে যথেষ্ট ভাল খেলেছে, এখন যদি আবারো মনোযোগ নিবেশ করে তাহলে আবারো তারা আগের মতই ভাল খেলবে।' শুধু জাতীয় দলই না। সামনে বাংলাদেশ 'এ' দল ও এইচপি দলে ব্যস্ত সুচি। যেখানে ঘরোয়া ক্রিকেটে পারফর্ম করা ক্রিকেটাররা সুযোগ পাবেন। তিনি আরো বলেন, '২০১৯ সালের ওয়ার্ল্ড কাপ মাথায় রেখেই কিন্তু আমরা প্ল্যান করছি। তো এইচপিতে আমরা এবার যেভাবে মনে করছি দ্রুত পরিবর্তন একটা থাকবে। আরেকটা থাকবে জাতীয় দলে পরিবর্তন।' বাংলাদেশ 'এ' দল কিংবা এইচপি হয়ে দারুণ কিছু করতে পারবেন তাদের অনেকেরই হয়তো কপাল খুলতে পারে বিশ্বকাপ দলের দরজার।
ক্রিকেটের বড় তারকা সাকিব আল হাসানের জন্মদিন আজ
আজ ২৪ মার্চ। বাংলাদেশের ক্রিকেট ইতিহাসের সবচেয়ে বড় তারকা সাকিব আল হাসানের জন্মদিন। দেশের ক্রিকেটে যার অসামান্য অবদান, তাকে শুভেচ্ছা জানিয়েছেন ভক্তরা। শুক্রবার রাজধানীর 'সাকিব সেভেন্টি ফাইভ' রেস্টুরেন্টে আয়োজিত অনুষ্ঠানে ভক্তদের সঙ্গে দেখা করেছেন সাকিব। জন্মদিনে টাইগারদের টেস্ট ও টি-টোয়েন্টি অধিনায়কের প্রতি নিরন্তর ভালোবাসা। বাংলাদেশ ক্রিকেট দল একদিন বিশ্বকাপ জিতবে। একটু একটু করে এই বিশ্বাসটা গাঢ় হচ্ছে। এই স্বপ্নের পথপ্রদর্শকদের মাঝে সবচেয়ে আস্থাভাজন নাম কোনটি? বেছে নিতে খুব একটা বেগ পেতে হয়না। নামটা সাকিব আল হাসান। নিঃসন্দেহে বাংলাদেশের ক্রিকেটের সবচেয়ে বড় বিজ্ঞাপন। গেলো কয়েক বছর ধরে অলরাউন্ডার র‌্যাঙ্কিংয়ের শীর্ষস্থানটা ব্যক্তিগত সম্পত্তি বানিয়ে ফেলা এই ক্রিকেটারকে শুধু পরিসংখ্যানের মাপকাঠিতে মাপা যথার্থ নয়। ক্রিকেটার সাকিব কিংবা মানুষ সাকিব। এই বিষয়গুলো নিয়ে আলোচনা হয়েছে অনেক। ২২ গজের মতোই স্পষ্টভাষী সাকিবকে নিয়ে নতুন করে কি বলার আছে! হয়তো নেই। কিন্তু, প্রিয় কিছু নিয়ে কথা যে শেষ হবার নয়। মানসপটে সাকিবের অবয়বটা চির রঙিন। জন্মদিনে ভক্তদের চাওয়া, আরো রঙিন হয়ে উঠুক এই তারকা ক্রিকেটারের ক্যারিয়ার। গেলো কয়েক বছরের মতোই বিশ্বসেরা অলরাউন্ডারের জন্মদিন উদযাপন করেছে তার ভক্তরা। সাকিব'স সেভেন্টি ফাইভ রেস্টুরেন্টে সারা দেশ থেকে আসা ভক্তদের নিয়ে কেক কাটেন টেস্ট ও টি-টোয়েন্টি অধিনায়ক। বিভিন্ন জেলা থেকে আসা ভক্তরা তাকে ফুল দিয়ে শুভেচ্ছা জানান। বিশেষ দিনে বাংলাদেশের ক্রিকেট আকাশের সবচেয়ে বড় নক্ষত্রটির প্রতি শুভকামনা। এগিয়ে যান, এগিয়ে নিন। বাংলাদেশের মানুষের বিশ্বজয়ের স্বপ্ন সত্য হোক সাকিবের হাতেই। শুভ জন্মদিন ফ্যান্টাসটিক সেভেন্টি ফাইভ।
খারাপ সময় কাটছেই না : তাসকিন
খারাপ সময় কাটছেই না। কঠিন সময় বললেও ভুল হবে না। দক্ষিণ আফ্রিকা সিরিজের পর বাদ পড়েন দল থেকে। আবারও ফিরেন নিদাহাস ট্রফিতে। কিন্তু কোনোভাবেই যে পাওয়া যাচ্ছে না আগের গতিময় তাসকিনকে। হতাশা নিয়ে বসে থাকবেন কেন? অতিরিক্ত পরিশ্রম করেও যদি আগের রেসে ফিরতে পারেন। সেটাই তো আসল চাওয়া। নিজের উপরও যেনো কিছুটা রাগ হচ্ছে তাসকিনের। কিন্তু কঠিন পরিশ্রম ছাড়া আর কি বা করতে পারেন? 'খারাপ সময় সবারই যায়। এটা জীবনেরই একটা অংশ। আমি কেবলমাত্র কঠোর পরিশ্রমটাই করতে পারি। এছাড়া আমার আর কিছুই করার নাই। আমি আমার হার্ডওয়ার্কটা করে যাই, আমার বিশ্বাস আল্লাহর রহমতে সব ঠিক হয়ে যাবে।' বলছিলেন তাসকিন আহমেদ। তাসকিনকে প্রশংসায় ভাসিয়েছেন কিংবদন্তি অস্ট্রেলিয়ান পেসার ব্রেট লি। নিদাহাস ট্রফি চলার সময় কয়েকবার কথাও হয়েছে তার সঙ্গে। তাসকিনের ফিটনেসে গুরুত্ব দিয়েছেন লি। খাদ্যাভ্যাস ও মানসিকভাবে চাঙ্গা থাকতেও পরামর্শ দিয়েছেন সাবেক অজি ফাস্ট বোলার। তাসকিন মনে করেন, ব্রেট লির সঙ্গে কথা বলার সুযোগ তার জন্য বিশাল প্রাপ্তির। তবে, ক্রিকেট জীবনটা শেখার জন্য মাশরাফি, সাকিবরাই যথেষ্ট। তাসকিন বলেন, 'ব্রেট লি ফিটনেস লেভেলের বিষয়ে কিছু কথা বলেছে এবং স্কিল... সবকিছুই আসলে নির্ভর করে প্রাকটিসের ওপর। এগুলো প্রাকটিস করে এগুলোর উন্নতি করতে হয় এবং তার সঙ্গে খাদ্যাভ্যাস এবং মানসিকভাবে শক্তিশালী হওয়াটাও খুবই গুরুত্বপূর্ণ।' আন্তর্জাতিক ক্রিকেট নিয়মিত খেলতে হলে আরো অনেক উন্নতি করতে হবে তাসকিনকে। সেই প্রতিজ্ঞা এখন এই ফাষ্ট বোলারের।
এই বারের বিশ্বকাপে মেসিদের কালো জার্সি
আর ৮৫ দিন পর মাঠে গড়াবে রাশিয়া বিশ্বকাপ। এরই মধ্যে দলগুলো যেভাবে পাড়ছে নিজেদের তৈরি করে নিচ্ছে। শুক্রবার নিজেদের ঝালিয়ে নেয়ার ম্যাচে আর্জেন্টিনা খেলবে মূল পর্বে জায়গা না পাওয়া ইতালির। তবে এর আগে নিজের অ্যাওয়ে ম্যাচের জার্সি উন্মোচন করেছে দলগুলো। জার্সি প্রস্তুতকারক প্রতিষ্ঠান অ্যাডিডাস নয়টি দেশের জার্সি উন্মোচন করেছে। ইতিহাসে কখনো যা দেখা যায়নি, এবার তাই দেখা যাবে রাশিয়া বিশ্বকাপে। গত বিশ্বকাপের ফাইনালে জার্মানির কাছে হেরে শিরোপা ছোয়া হয়নি মেসি। ওই ম্যাচে নীল জার্সিতে মাঠে ছিলেন মেসি-হিগুয়েনরা। এবার সেই অ্যাঁয়ে জার্সি পাল্টে প্রথমবারের মত মেসিরা মাঠে নামবে কালো রঙের জার্সি পরে। জার্সি প্রস্তুতকারক প্রতিষ্ঠান অ্যাডিডাস সেই ছবি পোস্টও করেছে। তবে মূল জার্সি থাকবে আকাশি সাদা। এ জার্সির সঙ্গে আর্জেন্টিনার অনেক ইতিহাস জড়িত। ম্যারাডোনা ১৯৮৬ এর বিশ্বকাপে এই জার্সি পরেই মাঠ মাতিয়ে শিরোপা নিজেদের করে নিয়েছিলেন। ওই জার্সিতে খেলে গেছেন বাতিস্তুতার মত তারকারাও। জার্মানির জার্সিতে থাকছে সবুজাভ, যা ১৯৯০ বিশ্বকাপ সেমিফাইনালের জার্সির আদলে তৈরি। আশির দশকের শেষ দিকের আদলে স্পেনের অ্যাওয়ে জার্সি সাদা-নীল। এ ছাড়া রাশিয়া, বেলজিয়াম, সুইডেন, মেক্সিকো, কলম্বিয়া ও জাপানের অ্যাওয়ে জার্সিও উন্মোচন করা হয়েছে কাল। এদিকে নাইকির জার্সিতে খেলবে ক্রিস্তিয়ানো রোনালদোর পর্তুগাল। গতকাল উন্মোচন করা হয়েছে সেই জার্সিও।
ড্রেসিংরুমের দরজা ভেঙেছিলেন সাকিবই
নিদাহাস ট্রফি শেষ হলেও তার রেশ এখনও কাটেনি। ত্রিদেশীয় সিরিজের ফাইনাল ম্যাচ নিয়ে এখনও আলোচনা-সমালোচনা হচ্ছে। নিন্দুকেরাও বসে নেই। ভারতীয় একটি সংবাদমাধ্যম খবর প্রকাশ করেছে- ত্রিদেশীয় সিরিজে শ্রীলংকার বিপক্ষে খেলার দিনে ড্রেসিংরুমের দরজা নাকি সাকিব আল হাসানই ভেঙেছেন। কিছু সংবাদমাধ্যমের দাবি, বাংলাদেশি ক্রিকেটাররাই নাকি ড্রেসিংরুম ভাঙচুর করেছে! কিন্তু আসলে যে কাচ ভেঙেছেন, তার নাম প্রকাশিত হয়েছে। বাংলাদেশ-শ্রীলংকা ম্যাচ শেষে প্রেমাদাসা স্টেডিয়ামের ড্রেসিংরুমের কাচের দরজা ভেঙে গিয়েছিল। বিখ্যাত আন্তর্জাতিক সংবাদ সংস্থাগুলো ড্রেসিংরুমের ভাঙা কাচের ছবি প্রকাশ করেছে। কে বা কারা ভেঙেছিলেন ড্রেসিংরুমের কাচের দরজা, তা নিয়ে অভিযোগ আর পাল্টা অভিযোগ শুরু হয়ে গিয়েছিল। প্রশ্ন উঠেছিল- ড্রেসিংরুমের মতো সুরক্ষিত জায়গার কাচ ভাঙল কে? কিছু সংবাদমাধ্যমের দাবি, বাংলাদেশি ক্রিকেটাররাই নাকি ড্রেসিংরুম ভাঙচুর করেছে! শ্রীলংকার সাংবাদপত্র দ্য আইল্যান্ড এর রিপোর্ট অনুযায়ী, খেলার অব্যবহিত পরে ম্যাচ রেফারি ক্রিস ব্রড ক্যাটারারদের সঙ্গে কথাবার্তা বলেন। জানতে চেষ্টা করেন, ড্রেসিংরুমের কাচ ভেঙেছেন কে। সিসিটিভি ফুটেজ দেখে অবশ্য কিছু বোঝা যায়নি। দ্বীপরাষ্ট্রের সংশ্লিষ্ট সংবাদপত্রের রিপোর্ট অনুযায়ী, কর্মীরাই নাকি জানিয়েছেন, বাংলাদেশ অধিনায়ক সাকিব আল হাসানই রয়েছেন এর নেপথ্যে। তিনি নাকি বলপূর্বক ড্রেসিংরুমের দরজা বন্ধ করতে গিয়েই বিপত্তি ঘটিয়েছেন। সেদিন ম্যাচ চলাকালীন মেজাজও হারাতে দেখা গিয়েছিল সাকিবকে। আম্পায়ারের সিদ্ধান্তে চটে গিয়ে সতীর্থদের মাঠছাড়ার নির্দেশ দিয়েছিলেন বাংলাদেশ অধিনায়ক। নিজের মেজাজ নিয়ন্ত্রণ করতে না পেরে সাকিব হয়তো ড্রেসিংরুমের দরজা প্রবল জোরে বন্ধ করতে গিয়েছিলেন। আর তা করতে গিয়েই ভেঙে যায় দরজার কাচ।
রাশিয়ায় আমি শিরোপা জয়ের স্বপ্ন দেখি: মেসি
ফুটবলে পাঁচবারের বিশ্বসেরা হলেও নিজ দেশকে আজ পর্যন্ত একটি শিরোপাও এনে দিতে পারেননি লিওনেল মেসি। তাই এবার নিশানা তাক করেছেন রাশিয়া বিশ্বকাপে। নিজেদের প্রমাণের এটাই শেষ সুযোগ হতে পারে এই মর্মে তিনি সতীর্থদেরও সতর্ক করে দিয়েছেন। ম্যাজিক বয় মেসি ২০০৫ সালে জাতীয় দলে অভিষেকের পর কোপা আমেরিকার তিনটি আসরে রানার্স-আপ হয় আর্জেন্টিনা। ২০১৪ সালে ব্রাজিল বিশ্বকাপের ফাইনালে জার্মানির কাছে হেরে যায়। মেসি বলেন, আমরা রাশিয়ায় বিশ্বকাপ না জিতলে একমাত্র পথ খোলা থাকবে জাতীয় দল ছেড়ে দেওয়া। আমি রাশিয়ায় শিরোপা জয়ের স্বপ্ন দেখি। মেসির আর্জেন্টিনা রাশিয়া বিশ্বকাপের বাছাই পর্বে প্রত্যাশিত খেলা উপহার দিতে না পারলেও অনুমিতভাবেই চূড়ান্ত পর্বে অন্যতম ফেভারিটের তকমা নিয়েই মিশন শুরু করবে। আইসল্যান্ড, ক্রোয়েশিয়া ও নাইজেরিয়া ডি গ্রুপে তাদের প্রতিপক্ষ।
ছেলেরা বীরের মতো খেলেছে:পাপন
শিরোপা জয়ের দ্বারপ্রান্তে পৌছে গিয়েও কলম্বোর প্রেমাদাসা স্টেডিয়াম থেকে না পাওয়ার হতাশায় ডোবে বাংলাদেশ। শেষ বলের ছক্কায় জয় কেড়ে নেয় ভারত। বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) প্রেসিডেন্ট নাজমুল হাসান পাপনের চোখে, বীরের মতোই খেলেছে টাইগাররা। অনেক প্রাপ্তির ত্রিদেশীয় টি-২০ সিরিজ শেষে সোমবার (১৯ মার্চ) সকালে শ্রীলঙ্কা থেকে দেশে ফিরেছে লাল-সবুজের জার্সিধারীরা। সকাল সাড়ে ১১টায় ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছায় সাকিল আল হাসান ও তার দল। বাংলাদেশ দলকে স্বাগত জানাতে এয়ারপোর্টে ছিলেন বোর্ড প্রধান পাপন। ফাইনালে চ্যাম্পিয়ন হওয়ার এতো কাছে এসে হেরে গেলেও দলের পারফরম্যান্স নিয়ে গর্বিত তিনি। পাপন বলেন, ছেলেরা বীরের মতো খেলেছে। এটা ঠিক ভারতের কাছে হেরেছে। ছেলেদের কষ্টটা আমি দেখেছি। হারের পর ওরা ভেঙে পড়েছিল। মানসিক অবস্থা খুব নাজুক ছিল। খেলায় হার-জিত থাকবেই। এক দল জিতবে এক দল হারবে। প্রত্যেকটা ম্যাচেই বাংলাদেশ বীরের মতো খেলেছে। রোববার (১৮ মার্চ) অনুষ্ঠিত হাইভোল্টেজ ফাইনালে ভারতের বিপক্ষে শিরোপা জয়ের কাছে এসেও স্বপ্নভঙ্গ হয় বাংলাদেশের। টানটান উত্তেজনাপূর্ণ শ্বাসরুদ্ধকর ম্যাচটির শেষ বলে ছক্কা হাঁকিয়ে বাংলাদেশ সমর্থকদের হৃদয় ভাঙেন দিনেশ কার্তিক।
নিদাহাস ট্রফি ভারতের,হেরে গেল বাংলাদেশ
সাকিব সে রুমালটা কে যত্ন করে রেখে দিয়েছিলেন কোথাও? ২০১২ সালের এশিয়া কাপে সাকিব যে রুমাল দিয়ে অশ্রু মুছেছিলেন? এক হাত দিয়ে মুখ আড়াল করছেন সাকিব, তাঁর বুকে মাথা রেখে অঝোরে কাঁদছেন মুশফিক, এ ছবিটা ৬ বছর পরও আমাদের চোখের কোণে অশ্রু এনে দেয়। যে ছবিটা আমাদের বুকে অব্যক্ত এক হাহাকারের জন্ম দেয়, সে ছবিটা আজও মোছা গেল না। শেষ বলে কার্তিকের এক ছক্কায় ৪ উইকেটে হেরে গেল বাংলাদেশ। ফাইনাল ম্যাচ হলে এমনই হতে হয়! একটি ম্যাচ জমাতে যা দরকার হয়, সবই যেন ছিল। ১৬৭ রানের লক্ষ্য, ফাইনালের মতো চাপের ম্যাচে যেন আদর্শ। ১৮০ কিংবা ২০০ হলে বাংলাদেশ এগিয়ে থাকত, আবার ২০ রান কম হলে ভারত। উত্তেজনা জিইয়ে রাখতেই যেন বাংলাদেশ ঠিক মাপে মাপেই রানটা করেছিল! ভারতের রান তাড়ার প্রতিটি পদক্ষেপও যেন ঠিক সেই মাপেই হলো। ঝোড়ো শুরুতে মাত্র ১৫ বলেই ৩২ রান ভারতের। বাংলাদেশের কাঁধগুলো মাত্র ঝুলতে শুরু করেছিল, এমন অবস্থায় আউট ধাওয়ান! রানটা নড়ার আগেই সুরেশ রায়না আউট। ৩২ রানে ২ উইকেট হারাল ভারত। বাংলাদেশই তো এগিয়ে গেল, তাই না? ভুল, রোহিত শর্মা যে উইকেটে ছিলেন। চার-ছক্কা মারতে লাগলেন নিজের ইচ্ছামতো, অন্য প্রান্তে তাঁকে অনুসরণ করলেন লোকেশ রাহুল। দশম ওভারেই তাই লক্ষ্যের অর্ধেক তুলে ফেলল ভারত। ২ উইকেটে ৮৩ রান, পরিষ্কার এগিয়ে ভারত। এমন অবস্থায় ওভারের তৃতীয় বলে রুবেলের বাউন্সার। হুক করতে গিয়ে সাব্বিরের হাতে ধরা পড়লেন রাহুল। জমে উঠল ম্যাচটা। ম্যাচটা তবু জমছিল না। ওই যে রোহিত যে আউটই হচ্ছিলেন না। ক্যারিয়ারের ১৪তম ফিফটি পেয়ে গেছেন, ইনিংসের ১০ ওভারও পেরিয়ে গেছে। ইনিংসের দ্বিতীয় ভাগেই যে বেশি ভয়ংকর এই ওপেনার। ১৪তম ওভারে তাই ম্যাচটা জমালেন নাজমুল ইসলাম। তাঁর সৃষ্ট নাগিন নাচটা বিখ্যাত হয়ে গেলেও পুরো টুর্নামেন্টে নাজমুলের উদযাপন দেখা যাচ্ছিল না। আগের চার ম্যাচে যে একটা উইকেটও পাননি! ফাইনালে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ উইকেটটা তাঁর ভাগ্যে ছিল বলেই হয়তো। লং অন দিয়ে ছক্কা মারতে গিয়ে মাহমুদউল্লাহর কাছে ধরা পড়লেন রোহিত। ভারত তখন জয় থেকে ৬৯ রান দূরে, হাতে ৪০ বল। এভাবেই চলল ম্যাচের প্রতিটি মুহূর্ত। এক মুহূর্তে মনে হচ্ছে ভারতই জিতবে, পরের মুহূর্তেই বাংলাদেশ! সেটা বাংলাদেশের দিকে ঘুরিয়ে দিলেন মোস্তাফিজ। ৩ ওভারে ৩৫ রান দরকার ছিল ভারতের। মোস্তাফিজ এলেন, প্রথম ৪ বলই ডট! পরের বলে ১ রান। শেষ বলে আউট মনীষ পান্ডে। ম্যাচ তো বাংলাদেশের! কিন্তু রুবেলের ৩ বলেই আবারও ভারত ফেবারিট! প্রথম বলেই ছক্কা, পরের বলে চার, আবার ছক্কা! ১২ বলে ৩৪ রান থেকে ৯ বলে ১৮ রানের দূরত্বে ভারত। রুবেলের ওভারে এল ২২ রান। শেষ ওভারে মাত্র ১২ রান লাগবে ভারতের। শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে বাংলাদেশের ঠিক ১২ রানই দরকার ছিল। সমস্যা একটাই, বাংলাদেশের মূল বোলারদের আর কারও ওভার বাকি নেই! সৌমের প্রথম বলটা ওয়াইড। ৬ বলে ১১ রান। ডট, ১। ৪ বলে ১০ রান! আবারও ১, ৩ বলে ৯ রান। চতুর্থ বলে দুর্ভাগ্যক্রমে ৪, ২ বলে ৫ রান। পরের বল, উড়িয়ে মারলেন শংকর। দুই ফিল্ডার ধাক্কা খেলেন, তবে বল হাতছাড়া হলো না। আউট! ১ বলে ৫ রান দরকার ভারতের। বাংলাদেশের দরকার ৪-এর নিচে যেকোনো কিছু! এমন চাপ নিয়ে কখনো কি বল করেছেন সৌম্য? বাংলাদেশের কোনো বোলার? কার্তিকের এক ছক্কায় শেষ হয়ে গেল! ৮ বলে ২৯ রানের এক ইনিংসে বাংলাদেশের সব স্বপ্ন শেষ হয়ে গেল।