বুধবার, মে ২৩, ২০১৮
চমকের নাম মোসাদ্দেক!
মাস খানেক আগে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের কেন্দ্রীয় চুক্তি থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে মোসাদ্দেক হোসেন সৈকতকে। সেই মোসাদ্দেকই কিনা আফগানিস্তানের বিরুদ্ধে জাতীয় দলে ফিরলেন? সবচেয়ে হাস্যকর বিষয় হচ্ছে বিসিবির কেন্দ্রীয় চুক্তি থেকে বাদ পড়ার পর আর কোনো ম্যাচ খেলেননি এই ক্রিকেটার। তাহলে তাকে দলে ফেরানোর পেছনে কারণ কি? আর নির্বাচকদের কাছে যদি মনে হয় মোসাদ্দেকের পারফরম্যান্স তত খারাপ ছিল না, তাহলে কেন তাকে বিসিবির কেন্দ্রীয় চুক্তি থেকে বাদ দেওয়া হয়েছিল? আফগানিস্তানের বিরুদ্ধে তিন ম্যাচের টি-২০ সিরিজের জন্য চূড়ান্ত দল ঘোষণা করেছে বিসিবি। নতুন মুখ নেই। চমক কেবল মোসাদ্দেকের ফেরাটাই। টি-২০তে মোসাদ্দেকের অভিষেক হয়েছিল ২০১৬ সালের সেপ্টেম্বরে, আফগানিস্তানের বিরুদ্ধে। সংক্ষিপ্ত ফরম্যাটের এই ক্রিকেটে আহামরি কিছু পারফরম্যান্স দেখাতে পারেননি। খেলেছেন ছয় ম্যাচ। তবে জাতীয় দলের সঙ্গে নিজেকে সেভাবে মানিয়ে নিতে না পারলেও ঘরোয়া ক্রিকেটে দুর্দান্ত। বিসিএলের সব শেষ ম্যাচেও তার একটা সেঞ্চুরি রয়েছে। বল হাতেও দারুণ। বিশ্বসেরা অলরাউন্ডার সাকিব আল হাসানের বিকল্প হিসেবে মোসাদ্দেকের কথাই বার বার উঠে আসছিল। কিন্তু চাইলেই তো আর হঠাৎ করে সাকিবের বিকল্প হওয়া যায় না। এজন্য সময় দিতে হবে। কিন্তু গত মাসে হঠাৎ করে বিসিবির কেন্দ্রীয় চুক্তি থেকে বাদ দেওয়া হয় উদীয়মান এই তারকা ক্রিকেটারকে। তরুণ এক ক্রিকেটারকে চুক্তি থেকে বাদ দেওয়ার অর্থ হচ্ছে তাকে নিরুৎসাহিত করা! তারপর কোনো ম্যাচ না খেলানোর পরও কিভাবে সেই মোসাদ্দেক নির্বাচকের মন জয় করে নিলেন? প্রধান নির্বাচক মিনহাজুল আবেদীন নান্নুর ব্যাখ্যা, অলরাউন্ডারের চিন্তা থেকেই মোসাদ্দেককে সুযোগ দেওয়া হয়েছে। মিরাজের ফিটনেস নিয়ে কিছুটা সংশয় আছে আমাদের। এখন পর্যন্ত মিরাজ শতভাগ ফিট নয়। ধীরে ধীরে ওর অবস্থার উন্নতি হচ্ছে। মিরাজের বিকল্প হিসেবে মোসাদ্দেক হোসেনকে সুযোগ দেওয়া হয়েছে। কেন্দ্রীয় চুক্তি থেকে বাদ দেওয়ার পর মোসাদ্দেক কীভাবে নির্বাচকদের বিবেচনায় এসেছেন,ওটা অন্য বিষয় (চুক্তি)। আমরা মনে করছি, টি-২০তে ভালো বোলিং করার যথেষ্ট দক্ষতা আছে মোসাদ্দেকের। ও যথেষ্ট প্রতিভাবান। মাঝখানে একটু ছন্দপতন হয়েছিল। এ মুহূর্তে ফিটনেসসহ নানা বিষয়ে ওকে দেখেই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। নির্বাচকদের নাটকীয় সিদ্ধান্তে মোসাদ্দেক দলেও ফিরলেও কপাল পুড়েছে তাসকিন আহমেদের। দল থেকে বাদ পড়েছেন এই গতি তারকা। যদিও তাসকিন এই মুহূর্তে পুরোপুরি ফিট নন। পিঠের ব্যথা তাকে যথেষ্ট ভোগাচ্ছে। কিন্তু শতভাগ ফিট না হওয়ার পরও তো মেহেদী হাসান মিরাজকে দলে রাখা হয়েছে। তা ছাড়া কেবল চোটের কারণেই যে তাসকিনকে দলে রাখা হয়নি এমন নয়। পারফরম্যান্সের কারণেও তাকে আফগানিস্তান সিরিজের জন্য বিবেচনায় আনেননি নির্বাচকরা। তাসকিনকে দলে না রাখার ব্যাখ্যায় মিনহাজুল আবেদীন বলেন,চোট, পারফরম্যান্স দুইই তাসকিনকে বাদ দেওয়ার পেছনের কারণ। সে নিদাহাস ট্রফিতে গিয়েই চোটে পড়েছিল। তবে চোটটা বেশ আগের। চোট থেকে সেরে ওঠার চেষ্টা করছে তাসকিন। আমাদের বিশ্বাস ওয়েস্ট ইন্ডিজ সিরিজের আগে সেরে উঠবে সে। বিসিবির কেন্দ্রীয় চুক্তি থেকে বাদ পড়েছেন সৌম্য সরকারও। তা ছাড়া নিদাহাস ট্রফিতে দাপট দেখাতে পারেননি। কিন্তু আফগানিস্তান সিরিজে দলে জায়গা করে নিয়েছেন। মিনহাজুলের ব্যাখ্যা,টি-২০তে আমরা যত খেলোয়াড় নিয়ে চিন্তা করি সবার আগে ওর কথাটা চলে আসে। বিষয়টি নিয়ে আমরা অধিনায়ক এবং কোচের সঙ্গেও কথা বলেছি। ওরা সৌম্যের ব্যাপারে ইতিবাচক। কোর্টনি ওয়ালশের সঙ্গে আমাদের সব সময় কথা হয়। যেহেতু ও নিদাহাস ট্রফিতে দলে ছিল সে কারণেই কোচের পরামর্শে তাকে দলে রেখেছি। তাসকিন ছাড়াও টি-২০ দল থেকে বাদ পড়েছেন ইমরুল কায়েস ও নুরুল হাসান সোহান। আফগানিস্তানের বিপক্ষে বাংলাদেশ সাকিব আল হাসান (অধিনায়ক), মাহমুদুল্লাহ রিয়াদ (সহঅধিনায়ক), তামিম ইকবাল, সৌম্য সরকার, লিটন কুমার দাস, মুস্তাফিজুর রহমান, সাব্বির রহমান, মোসাদ্দেক হোসেন সৈকত, আরিফুল হক, মেহেদী হাসান মিরাজ, নাজমুল ইসলাম অপু, আবু হায়দার রনি, রুবেল হোসেন, আবু জায়েদ রাহী। স্ট্যান্ডবাই : নুরুল হাসান সোহান, আবুল হাসান রাজু, নাঈম হাসান।
প্লে-অফ নিশ্চিত করল কলকাতা
১৭২ রানের টার্গেটে ইনিংসের গোড়াপত্তন করতে আসেন সুনীল নারিন ও ক্রিস লিন। নারিন শুরু থেকেই ঝড় তোলেন। ৯ বলে ৪ চার ও ২ ছক্কায় করেন ২৯ রান। এর পরের বলে আউট হন। তিনি যখন সাকিবের বলে মানিষ পান্ডের হাতে ক্যাচ দিয়ে ফিরছিলেন তখন স্কোরবোর্ডে কলকাতার রান ৩.৪ ওভারে ৫৫! এরপর ক্রিস লিন ও রবীন উথাপ্পা কার্যকরী এক জুটি গড়েন। তারা দুজন ৬৭ রান যোগ করে ১৩.১ ওভারে দলীয় সংগ্রহকে নিয়ে যান ১১৯ রানে। এরপর লিন ৪৩ বলে ৪ চার ও ৩ ছক্কায় ৫৫ রান করে আউট হন। ১৬.৩ ওভারের সময় দলীয় ১৪৯ রানের মাথায় উথাপ্পাও আউট হন। তিনি ৩৪ বলে ৩ চার ও ২ ছক্কায় ৪৫ রান করে যান। এরপর দিনেশ কার্তিক অপরাজিত ২৬ রানের ইনিংস খেলে ৫ উইকেট ও ২ বল হাতে রেখে দলকে জিতিয়ে মাঠ ছাড়েন। এ জয়ের ফলে তৃতীয় দল হিসেবে প্লে-অফ নিশ্চিত করল কলকাতা নাইট রাইডার্স। বল হাতে সিদ্ধার্ধ কল ও কার্লোস ব্রেথওয়েট ২টি করে উইকেট নেন। ১টি উইকেট নেন সাকিব আল হাসান। আগে ব্যাট করতে নেমে টপ অর্ডার ব্যাটসম্যানরা দারুণ শুরু করেছিলেন হায়দরাবাদের। শিখন ধাওয়ান ৩৯ বলে ৫০, শ্রীভাট গোস্বামী ২৬ বলে ৩৫, কেন উইলিয়ামসন ১৭ বলে ৩৬ ও মানিষ পান্ডে ২৫ রান করেন। তাতে বড় সংগ্রহের ভিত পেয়েছিল হায়দরাবাদ। কিন্তু মিডল অর্ডারের ব্যাটসম্যানরা সুবিধা করতে না পারায় ৯ উইকেট হারিয়ে ১৭২ রানের বেশি করতে পারেনি পয়েন্ট টেবিলের শীর্ষে থাকা অরেঞ্জ আর্মিরা। বল হাতে কলকাতার প্রাসিদ কৃষ্ণ ৪ ওভার বল করে ৩০ রান দিয়ে ৪টি উইকেট নেন। ম্যাচসেরা নির্বাচিত হন ক্রিস লিন।
গোল্ডেন শু পুরস্কারের দোরগোড়ায় মেসি
ইউরোপিয়ান গোল্ডেন শু পুরস্কারের দাবি আরো জোরালো হলো লিওনেল মেসির। আর এবার এ পুরস্কার পেলে তিনি ছাড়িয়ে যাবেন ক্রিস্টিয়ানো রোনালদোকে। উভয়ের ঝুলিতে রয়েছে চারটি করে গোল্ডেন শু পুরস্কার। রোববার ইউরোপের শীর্ষ পাঁচ ফুটবল লীগের খেলা শেষে এমন পুরস্কারে প্রতিদ্বন্দ্বী বাকিদের অনেকটাই পেছনে ফেলেছেন বার্সেলোনার আর্জেন্টাইন ফরোয়ার্ড লিওনেল মেসি। বার্সেলোনার এক ম্যাচ বাকি রেখে স্প্যানিশ লা লিগায় মেসি পেয়েছেন ৩৪ গোল। যদিও বার্সেলোনার সর্বশেষ ম্যাচে দলের বাইরে ছিলেন মেসি। রোববার পর্দা নেমেছে ইংলিশ প্রিমিয়ার লীগ আসরের। এতে সম্ভাবনা শেষ মোহাম্মদ সালাহ ও হ্যারি কেইনের। এবারের ইংলিশ প্রিমিয়ার লীগে সালাহ ৩২ ও কেইন পেয়েছেন ৩০ গোল। এবার সুযোগ খোলা আছে কেবল চিরো ইম্মোবিলে, মাউরো ইকার্দি ও এডিনসন কাভানির। তবে, মেসিকে ছাড়িয়ে যেতে হলে অসাধারণ কিছু করে দেখাতে হবে তাদের। সিরি আ ফুটবল লীগে শেষ ম্যাচে ছয় গোল চাই ইম্মোবিলের। আর ইকার্দির চাই সাত গোল। ইতালিয়ান লীগে নিজেদের শেষ ম্যাচে ইকার্দির ইন্টার মিলানের মুখোমুখি হবে ইম্মোবিলের ল্যাজিও। আসরে ইতালিয়ান স্ট্রাইকার ইম্মোবিলে ২৯ ও আর্জেন্টাইন ফরোয়ার্ড ইকার্দি পেয়েছেন ২৮ গোল। মেসির মুঠো থেকে গোল্ডেন শু পুরস্কার ছিনিয়ে নিতে ফরাসি লীগ ওয়ানের শেষ ম্যাচে কাভানির চাই সাত গোল। প্যারিস সেইন্ট জার্মেইর (পিএসজি) জার্সি গায়ে চলতি মৌসুমের এক ম্যাচ বাকি রেখে ২৮ গোল রয়েছে কাভানির ঝুলিতে। তবে, আফসোস হতে পারে বেনফিকার ব্রাজিলিয়ান স্ট্রাইকার হোনাস গনসালভেস অলিভিয়েরার। পর্তুগিজ শীর্ষ লীগে এবার মেসির সমান ৩৪ গোল পেয়েছেন হোনাস। তবে, পর্তুগিজ লীগের জন্য গোলপ্রতি ধরা হয় ১.৫ পয়েন্ট। এ কারণে তালিকার অষ্টম স্থানে অবস্থান করছেন হোনাস। ক্যারিয়ারে মেসি গোল্ডেন শু পুরস্কার জিতেছেন ২০০৯-১০, ২০১১-১২, ২০১২-১৩ ও ২০১৬-১৭ মৌসুমে। রোনালদোর হাতে এ পুরস্কার ওঠে ২০০৭-০৮, ২০১০-১১, ২০১৩-১৪ (যুগ্ম) ও ২০১৪-১৫তে। এবারের ইউরোপিয়ান গোল্ডেন শু পুরস্কারের দৌড়ে ২৫ গোল নিয়ে তালিকার নবম স্থানে রয়েছেন রিয়াল মাদ্রিদের এ পর্তুগিজ স্ট্রাইকার। লীগের সর্বোচ্চ গোলদাতা খেলোয়াড় ক্লাব আসর পয়েন্ট (গোল) লিওনেল মেসি (আর্জেন্টিনা) বার্সেলোনা স্পেন ৬৮ (৩৪) মোহাম্মদ সালাহ (মিশর) লিভারপুল ইংল্যান্ড ৬৪ (৩২) হ্যারি কেইন (ইংল্যান্ড) টটেনহ্যাম ইংল্যান্ড ৬০ (৩০) চিরো ইম্মোবিলে (ইতালি) ল্যাজিও ইতালি ৫৮ (২৯) রবার্ট লেভানদস্কি (পোল্যান্ড) বায়ার্ন মিউনিখ জার্মানি ৫৮ (২৯) এডিনসন কাভানি (উরুগুয়ে) পিএসজি ফ্রান্স ৫৬ (২৮) মাউরো ইকার্দি (আর্জেন্টিনা) ইন্টার মিলান ইতালি ৫৬ (২৮) হোনাস অলিভিয়েরা (ব্রাজিল) বেনফিকা পর্তুগাল ৫১ (৩৪) রোনালদো (পর্তুগাল) রিয়াল মাদ্রিদ স্পেন ৫০ (২৫) লুইস সুয়ারেজ (উরুগুয়ে) বার্সেলোনা স্পেন ৫০ (২৫)
মুম্বাই খেলার সাহস পাচ্ছে কোথায়? মোস্তাফিজকে ছাড়া
অবশেষে জেগে উঠেছে মুম্বাই ইন্ডিয়ানস। হারের বৃত্তে ঘুরপাক খেতে খেতে জয়ের ধারায় ফিরেছে ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়নরা। টানা তিন জয়ে প্লে অফে খেলার সম্ভাবনা টিকিয়ে রেখেছে তারা। তবে কপাল পুড়েছে বাংলাদেশ বোলিং বিস্ময় মোস্তাফিজুর রহমানের। টানা পাঁচ ম্যাচে বসে থাকলেন তিনি।এ মুহূর্তে ১১ ম্যাচে ৫ জয়ে ১০ পয়েন্ট নিয়ে টেবিলের চারে আছে মুম্বাই। এর মধ্যে প্রথম ৬ ম্যাচেই মাঠে নেমেছিলেন দ্য ফিজ, ভালোও করেছিলেন। তা দুর্দান্ত করেও একাদশের বাইরে কেন তিনি? স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্নটা সামনে এসেছে। অনেকে এর সমালোচনাও করেছেন। আইপিএল বিশ্লেষক আকাশ চোপড়া তো সাফ জানিয়ে দিয়েছিলেন, মোস্তাফিজ ছাড়া খুব বেশি দূর এগোতে পারবে না মুম্বাই। মনে হয়, তার কথার বিপক্ষেই এবার ভেটো দিলেন আরেক বিশ্লেষক জহির খান। এতদিন মোস্তাফিজের পক্ষে সাফাই গেয়ে এলেও এবার তার বিপক্ষেই ইনসুইঙ্গার ছুড়লেন তিনি, হার্দিক পান্ডিয়ার অলরাউন্ড সত্তা জেগে উঠেছে। ব্যাট-বলে দুই এন্ডেই দুর্দান্ত করছে। এখন পুরো ৪ ওভারই বল করছে সে। ও এ কাজটি স্বচ্ছন্দে করতে পারায় বেন কাটিংকে নিয়ে ব্যাটিংয়ে শক্তিমত্তা বাড়াচ্ছে মুম্বাই। এ অজি অলরাউন্ডারও তার কাজটিও মোটামুটিভাবে পালন করে যাচ্ছে। মূলত এ কারণেই মোস্তাফিজের মতো বোলারকে ছাড়াই খেলার সাহস দেখাতে পারছে দলটি। চলমান আইপিএলে মুম্বাইয়ের হয়ে প্রথম ৬ ম্যাচেই মাঠে নামেন মোস্তাফিজ। বল হাতে প্রায় প্রতি মাচেই স্বমহিমায় উজ্জ্বল ছিলেন। তবে হারের ঘূর্ণি থেকে বের হতে পারছিল না দলটি। এতে বর্তমান চ্যাম্পিয়নদের প্লে অফে খেলা নিয়ে শঙ্কা দেখা দেয়। ফলে একাদশে পরিবর্তন আনতে বাধ্য হয় মুম্বাই। কাটা পড়েন মোস্তাফিজ। সুযোগ মেলে কাটিংয়ের। ভাগ্যও বদলে যায় আইপিএল ইতিহাসে সফলতম দলটির। এর পর থেকেই মাঠের বাইরে টাইগার কাটার মাস্টার।
রাজ্জাক ফের ক্রিকেটে ফিরছেন !
পাকিস্তানের এক সময়ের দুর্দান্ত অলরাউন্ডার আব্দুল রাজ্জাকের বয়স পেরিয়ে গেছে ৩৮ বসন্ত। কিন্তু এই বয়সে এসে ফের ক্রিকেটে ফেরার চিন্ত করছেন রাজ্জাক। সর্বশেষ প্রতিযোগিতামূলক ক্রিকেট খেলেছেন ২০১৪তে। এরপর থেকে কোচ বা পরামর্শক হিসেবে কাজ করতে দেখা গেছে তাকে। দেশের হয়ে ৩৪৩টি আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলা এই অলরাউন্ডার আসন্ন পাকিস্তানের ঘরোয়া মৌসুমে পিটিভির হয়ে প্রথম শ্রেণির ক্রিকেট খেলবেন। এ বিষয়ে সংবাদ মাধ্যমকে রাজ্জাক বলেন, আসন্ন মৌসুমে আমি পিটিভিকে নেতৃত্ব দিবো। খেলার জন্য নিজেকে দারুণ ফিট মনে হচ্ছে। আশা করি আসন্ন মৌসুমের পারফর্ম্যান্সে ভর করে আগামী পাকিস্তান সুপার লীগে (পিএসএল) সুযোগ পাবো। ভবিষ্যত পরিকল্পনা নিয়ে এরই মধ্যে নির্বাচকদের সঙ্গে আমি কথা বলেছি। তারা বলেছে, আমার পারফম্যান্স যদি আশানুরূপ হয়, তাহলে সামনে পিএসএলে হয়তো সুযোগ পেয়ে যাবো। পাকিস্তান জাতীয় দলের বাইরে দেশে ও বিদেশে মোট ১৮টি ক্লাবের হয়ে খেলেছেন আব্দুল রাজ্জাক। বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগ (বিপিএল), বিগব্যাশ ও কাউন্টি ক্রিকেটেও এক সময় দাপটের সঙ্গে খেলেছেন তিনি। ১৯৯৬তে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট শুরু করেন রাজ্জাক। ২০১৩তে সর্বশেষ আন্তর্জাতিক ম্যাচে মাঠে নামেন তিনি। পাকিস্তানের হয়ে ৪৬ টেস্ট, ২৬৫ ওয়ানডে ও ৩২টি আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টি ম্যাচ খেলেছেন রাজ্জাক। ১৯৯৯, ২০০৩ ও ২০১১’র ওয়ানডে বিশ্বকাপে খেলেছেন তিনি। প্রচুর অভিজ্ঞতাসম্পন্ন এই ক্রিকেটারের আপাতত স্বপ্ন ঘরোয়া পর্যায়ের প্রথম শ্রেণিতে ভালো খেলে পিএসএলে সুযোগ পাওয়া। কিন্তু জাতীয় দলে ফেরার কোনো স্বপ্ন নেই বলে জানান তিনি।
বার্সার চার তারকা এল ক্লাসিকো মিস করছেন
লা লিগার শিরোপা নিশ্চিত করেছে আগেই। এরপরও এল ক্লাসিকো বলে কথা। মর্যাদার লড়াই। এমন ম্যাচে প্রথম সারির চার খেলোয়াড়কে ছাড়াই মাঠে নামবে বার্সা। তবে ইনজুরি নিয়েই রিয়ালের বিপক্ষে খেলবেন ইনিয়েস্তা। ম্যাচটি শুরু হবে বাংলাদেশ সময় আজ (রোববার) রাত ১২.৪৫ মিনিটে। ম্যাচের আগে সংবাদ সম্মেলনে বার্সা কোচ ভালভার্দে বলেন, ‘আমরা গার্ড অব অনার নিয়ে ভাবছি না। জয়ের জন্যই মাঠে নামবো। তবে এ ম্যাচ খেলা হচ্ছে না আন্দ্রে গোমেজ, লুকাস ডিগনে, অ্যালেক্স ভিদাল এবং ইয়েরি মিনার।’ চলতি মৌসুমে এখনো হারের মুখ দেখনি বার্সা। তাই দলটির সামনে প্রথমবারের মত অপরাজিত থেকে মৌসুম শেষ করার সুযোগ। আর চলতি মৌসুম থেকে বার্সাকে বিদায় জানাচ্ছে ইনিয়েস্তা। তাই মৌসুমের শেষ ক্লাসিকো জিততে মরিয়া থাকবে দলের খেলোয়াড়রা। এদিকে স্প্যানিশ সংবাদ মাধ্যম মার্কা জানিয়েছে পায়ের পাতায় হালকা ইনজুরি আছে ইনিয়েস্তার। তবে এরপরও আজকের ম্যাচে খেলবেন এই তারকা, বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন দলের কোচ।
অসহায়দের পাশে দাঁড়ানোর আহ্বান মুশফিকের
সময় ও সুযোগ পেলেই অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ান মুশফিকুর রহিম। নিজ থেকে যতটুকু সম্ভব ততটুকু দিয়ে সাহায্য করেন। ফের তাকে সেই ভূমিকায় দেখা গেল। গতকাল হালকা অনুশীলনের পর রাজধানীর কল্যাণপুরে ‘চাইল্ড অ্যান্ড ওল্ড এইজ কেয়ারে’ যান মুশফিক। সেখানে অসহায়-অসুস্থ বৃদ্ধদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। তাদের সঙ্গে বেশ কিছুক্ষণ সময় কাটান। অতীত-বর্তমান জীবনযাপন সম্পর্কে জানতে চান। বিভিন্ন খোঁজখবর নেন। অসহায়-অসুস্থ বৃদ্ধদের পাশে দাঁড়ানোর আহ্বান জানিয়ে মুশফিক বলেন, তারা সবাই সংগ্রাম করে এখানে এসেছেন। তাদের অনেককেই আমরা চিনি না। তবে এদের দেখে বুঝতে পারি- আমরা কত ভালো আছি। যে যেখান থেকে পারি, এ রকম লোকদের সহায়তা করতে হবে। সুযোগ পেলে আরও বড় বড় কাজের সঙ্গে জড়িত থাকতে চাই। সেখানে মুশফিককে গান শুনান ‘লাফা’ নামে একজন। বাংলাদেশ উইকেটরক্ষক-ব্যাটসম্যানকে চিনতে না পারলেও কেউ অবাক হননি। মুশফিক বলেন, চাইলে তাদের সহযোগিতায় আরও অনেকেই এগিয়ে আসতে পারেন। আমি চাই, সমাজের সামর্থ্যবানরা এসব বৃদ্ধ-অসহায়দের পাশে এসে দাঁড়াক। তারা যদি শেষ সময়টা একটু সুখে কাটিয়ে যেতে পারেন, তা হলে এর চেয়ে ভালো কিছু আর হয় না। চেষ্টা থাকবে তাদের সঙ্গে সময় কাটানোর, সাহায্য করার। বৃদ্ধ-অসহায়দের জন্য ২০টি বেড এবং দুপুর ও রাতের খাবারের ব্যবস্থা করেন মুশফিক। গোড়ালির চোটের কারণে বিসিএলের পঞ্চম ও শেষ রাউন্ড খেলতে পারেননি তিনি। ছুটি কাটিয়ে মঙ্গলবার মিরপুরে হালকা রানিং করেন বাংলাদেশের সাবেক অধিনায়ক
লিগ চ্যাম্পিয়ন বার্সা-মেসির হ্যাটট্রিকে
জিতলেই শিরোপা-সহজ সমীকরণ সামনে রেখে জ্বলে উঠলেন লিওনেল মেসি। করলেন দারুণ এক হ্যাটট্রিক। তাতে দেপোর্তিভো লা করুনাকে হারিয়ে লা লিগার শিরোপা পুনরুদ্ধার করলো বার্সেলোনা। রোববার রাতে দেপোর্তিভোকে তাদেরই মাঠে ৪-২ গোলে হারায় বার্সেলোনা। দলটির কোচ হিসেবে প্রথম মৌসুমে লিগ শিরোপার স্বাদ পেলেন এরনেস্তো ভালভেরদে। শিরোপার হাতছানিতে মাঠে নামা বার্সেলোনার উৎসবের শুরু ম্যাচের সপ্তম মিনিটেই। ডি-বক্সের মধ্যে উসমান দেম্বেলের পাস পেয়ে উঁচু কোনাকুনি শটে দলকে এগিয়ে দেন ফিলিপে কৌতিনিয়ো। ১৭তম মিনিটে স্প্যানিশ ফরোয়ার্ড লুকাস পেরেস বল জালে পাঠালে উল্লাসে মাতে স্বাগতিকরা। তবে বেশ কিছুক্ষণ পর অফসাইডের বাঁশি বাজান রেফারি। ৩০তম মিনিটে লিওনেল মেসির দারুণ একটি ফ্রি-কিক ঝাঁপিয়ে কর্নারের বিনিময়ে ঠেকান গোলরক্ষক। ৩৮তম মিনিটে দ্বিতীয় গোল পেয়ে যায় বার্সেলোনা। ডান দিক থেকে পায়ের বাইরের অংশ দিয়ে উঁচু করে দূরের পোস্টে বল বাড়ান লুইস সুয়ারেস। আর দুরূহ কোণ থেকে ভলিতে গোলরক্ষককে পরাস্ত করেন মেসি। চলতি মৌসুমে মেসির এটি ৩০তম লা লিগা গোল। প্রথম খেলোয়াড় হিসেবে লা লিগায় সাত মৌসুমে ৩০ বা তার বেশি গোল করলেন আর্জেন্টিনা অধিনায়ক। পাল্টা আক্রমণে দুই মিনিট পরেই ব্যবধান কমায় দেপোর্তিভো। লুকাস পেরেসের নীচু শটে জায়গা থেকে নড়ার সুযোগ পাননি মার্ক-আন্ড্রে টের স্টেগেন। ৬৪তম মিনিটে ম্যাচে সমতা টেনে সমর্থকদের উচ্ছাসে ভাসায় দেপোর্তিভো। দারুণ এক পাসিং আক্রমণে গোলটি করেন তুরস্কের মিডফিল্ডার এমরে কোলাক। ৮১তম মিনিটে সুয়ারেসের একটি প্রচেষ্টা রুখে দেন গোলরক্ষক রুবেন মার্তিনেস। তবে শেষ পর্যন্ত দলকে বাঁচাতে পারেননি। তিন মিনিটের ব্যবধানে দুই গোল করে জয় ও শিরোপা নিশ্চিত করেন মেসি।
গাড়ির ধাক্কা তাসকিনের রিকশায়
সময়টা খুব বেশি ভালো যাচ্ছে না টাইগার পেসার তাসকিন আহমেদের। ইনজুরির কারণে আছেন মাঠের বাইরে। খেলা হয়নি বিসিএলের শেষ রাউন্ডে মাচগুলো। বাদ পড়েছেন জাতীয় দলের কেন্দ্রীয় চুক্তি থেকেও। এরই মধ্যে সড়ক দুর্ঘটনার শিকার হয়েছেন টাইগার এই পেসার। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমস ফেসবুকে এই স্ট্যাটাস দিয়ে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন এই তারকা পেসার। তাসকিন তার ফেসবুক পোস্টে লিখেছেন,আমি এবং জনি আহমেদ (বন্ধু) রিকশা করে যাচ্ছিলাম। হঠাৎ একটি প্রাইভেটকার এসে পিছন থেকে রিকশায় মেরে দিলো। আমি ও জনি দুজনেই রিকশাওয়ালার উপরে পড়ে যাই। তাই বেশি ব্যথা পাইনি। কয়দিন ধরেই হালকা-পাতলা ব্যথা পাওয়ার উপরেই আছি। সবগুলোই ফাঁড়া হিসেবে ধরলাম। ইনশাআল্লাহ, সব ঠিক হয়ে যাবে। ভালো সময় তোমার অপেক্ষায় রইলাম এবং তুমি খুব কাছেই আছ, এটা আমার বিশ্বাস। বেশ কিছুদিন ধরেই পিঠের ইনজুরিতে ভুগছেন তাসকিন। বর্তমানে তার পুনর্বাসন প্রক্রিয়া চলছে। এরই মধ্যে এবার সড়ক দূর্ঘটনার কবলে পড়লেন। তবে ভাগ্য সুপ্রসন্ন থাকায় গুরুতর কিছু হয়নি। হাত-পায়ে অল্প ব্যথা, চামড়া ছড়ে যাওয়া ছাড়া আর কোনো ক্ষতি হয়নি তার।