উইন্ডিজকে ৫ উইকেটে হারিয়ে সহজ জয় বাংলাদেশের
ক্রীড়া ডেস্ক: বিগত বছর তিনেক ধরেই ঘরের মাঠে অপ্রতিরোধ্য মাশরাফি-সাকিবরা। সেটি হোক অস্ট্রেলিয়া, ইংল্যান্ড কিম্বা ভারত, পাকিস্তানের বিপক্ষে। সব প্রতিপক্ষই টাইগারদের কাছে ধরাশয়ী। ব্যাতিক্রম হয়নি ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষেও। টেস্ট সিরিজে হোয়াইটওয়াশের পর উইন্ডিজ বধেই ওয়ানডে সিরিজ শুরু করল লাল সবুজের বাংলাদেশ। তিন ম্যাচ সিরিজের প্রথম ওয়ানডেতে সফরকারি ক্যারিবীয় দলকে ৫ উইকেটে হারিয়েছে মাশরাফি বিন মর্তজার দল। ওয়েস্ট ইন্ডিজের ছুঁরে দেয়া ১৯৬ রানের লক্ষ্য তাড়া করে ৫ উইকেট হারিয়ে জয়ের বন্দরে পৌঁছে য়ায় বাংলাদেশ। এই জয়ে তিন ম্যাচের সিরিজে ১-০ ব্যাবধানে এগিয়ে গেল স্বাগতিক দল। এদিন সতর্কতার সঙ্গেই শুরু করেছিলেন বাংলাদেশ দলের দুই ও পেনার দুই ওপেনার তামিম ইকবাল ও লিটন কুমার দাস। বিনা উইকেটে স্কোর বোর্ডে জমা করেছিলেন ৩৬ রান। কিন্তু অস্টম ওভারের শেষ বলে রোস্টন চেজের বলে দেবেন্দ্র বিশুর তালুবন্দি হয়ে ফিরে যান তামিম। পরের ওভারে থমাসের শিকার হয়ে সাজঘরে ফেরেন ইমরুল কায়েস। ৪২ রানে দুই উইকেট হারানোর পর লিটন দাসের সঙ্গে জুটি বাঁধেন অভিজ্ঞ মুশফিকুর রহীম। ৪৭ রানের জুটি গড়ে বিদায় নেন লিটন দাস। ৪১ রান করা এই ওপেনারকে বিদায় করেন পল। ক্রিজে এসেই মেরে খেলার চেষ্টা করেন সাকিব। তবে ৩০ রানের বেশি করতে পারেননি তিনি। অধিনায়ক পাওয়েলের বলে শাই হোপের হাতে ক্যাচ দিয়ে বিদায় নেন সাকিব। তবে অভিজ্ঞ মুশফিকুর রহীমের সঙ্গে জুটি বেঁধে কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্যে এগোচ্ছেন সৌম্য সরকার। প্রস্তুতি ম্যাচে তার অপরাজিত সেঞ্চুরিতে জিতেছিল বিসিবি একাদশ। এদিনও ব্যাট হাতে ছোট খাটো ঝড় তোলেন এই মারকুটে ব্যাটসম্যান। ১৩ বলে ২ চার এক ছক্কায় ১৯ রানে চেজের শিকার হন সৌম্য। তবে ম্যাচের হাফসেঞ্চুরি করে দলকে জিতিয়ে তবেই মাঠ ছাড়েন মুশফিকুর রহীম। ৬৯ বলে ৫৫ রান করেন করেন তিনি। অপর প্রান্তে ১৪ রানে অপরাজিত থাকেন মাহমুদউল্লাহ। রোববার (৯ডিসেম্বর) মিরপুর শেরে বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে ম্যাচে টস জিতে প্রথমে ব্যাট করার সিদ্বান্ত নেয় ওয়েস্ট ইন্ডিজ। বাংলাদেশ বোলারদের নিয়ন্ত্রিত বোলিং-এ শুরু থেকেই কোনঠাসা ছিলো ক্যারিবীয়রা। তাই ২শ রানের কোটাও স্পর্শ করতে পারেনি তারা। ৯ উইকেটে ১৯৫ রান করেছে সফরকারীরা। দলের পক্ষে শাই হোপ ৪৩, কেমো পল ৩৬, রোস্টন চেজ ৩২, মারলন স্যামুয়েলস ২৫, ড্যারেন ব্রাভো ১৯, অধিনায়ক রোভম্যান পাওয়েল ১৪, কাইরেন পাওয়েল ১০, শিমরোন হেটমায়ার ৬, কেমার রোচ অপরাজিত ৫ ও দেবেন্দ্র বিশু-ওশানে টমাস শুন্য রানে আউট হন। বাংলাদেশের অধিনায়ক মাশরাফি বিন মর্তুজা ১০ ওভারে ৩০ রানে ৩ উইকেট নেন। মুস্তাফিজুর রহমানও ৩ উইকেট নিয়েছেন। এছাড়া ১টি করে উইকেট নেন মেহেদি হাসান মিরাজ-সাকিব আল হাসান-রুবেল হোসেন।
ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে সিরিজে প্রথম একাদশে কারা থাকছেন
ক্রীড়া ডেস্ক: ঘরের মাঠে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে সিরিজে বেশ ছন্দেই আছে বাংলাদেশ। সাকিবের ইনজুরি কাটিয়ে দলে ফেরা টেস্ট সিরিজে ২-০ ব্যবধানে হোয়াইটওয়াশের আনন্দ বাড়িয়ে দিয়েছে। ওয়ানডে সিরিজ দিয়ে চোট কাটিয়ে দলে ফিরছেন ড্যাশিং ওপেনার তামিম ইকবালও। ফর্মে আছেন লিটন দাস, ইমরুল কায়েস ও সৌম্য সরকারের মতো ব্যাটসম্যানরা। তাই আজ ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে ওয়ানডে সিরিজের প্রথম ম্যাচে মিরপুরে কোন একাদশকে মাঠে দেখা যাবে, তা নিয়ে চলছে বিস্তর জল্পনা-কল্পনা। ঘোষিত ওয়ানডে দলে মুশফিকুর রহিম, মাহমুদউল্লাহ, মোহাম্মদ মিঠুন, মেহেদী হাসান মিরাজের পাশাপাশি পেসার হিসেবে আছেন মুস্তাফিজুর রহমান, রুবেল হোসেন, আবু হায়দার রনির মতো খেলোয়াড়রা। মোহাম্মদ সাইফউদ্দিন, আরিফুল হক কিংবা নাজমুল ইসলাম অপুর মতো খেলোয়াড়রাও প্রমাণ করেছেন নিজেদের। তবে দিবারাত্রির ম্যাচে শিশিরের কথা ভেবে তিনজন পেসার খেলানোর কথা বলেছেন মাশরাফি। শেষ পর্যন্ত কারা থাকছেন একাদশে, তা দেখার জন্য অপেক্ষা করতে হবে ম্যাচ শুরু হওয়া পর্যন্ত। আজ মিরপুর শেরেবাংলা স্টেডিয়ামে দুপুর ১টায় শুরু হবে সিরিজের প্রথম ওয়ানডে। এর পর একই ভেন্যুতে দ্বিতীয় ওয়ানডে ১১ ডিসেম্বর। আর ১৪ ডিসেম্বর সিরিজের তৃতীয় ও শেষ ওয়ানডে হবে সিলেটে। তিনটি টি-টোয়েন্টি ম্যাচ হবে যথাক্রমে ১৭, ২০ ও ২২ ডিসেম্বর। সম্ভাব্য বাংলাদেশ একাদশ : তামিম ইকবাল, সৌম্য সরকার, মোহাম্মদ মিঠুন, সাকিব আল হাসান, মুশফিকুর রহিম, মাহমুদউল্লাহ, মেহেদী হাসান মিরাজ, মাশরাফি বিন মুর্তজা (অধিনায়ক), মুস্তাফিজুর রহমান, রুবেল হোসেন ও নাজমুল ইসলাম অপু।
রিক্সনকে ফিল্ডিং কোচ হিসেবে নিয়োগ শ্রীলঙ্কার
ক্রীড়া ডেস্ক: ২০১৯ ওয়ানডে বিশ্বকাপকে সামনে রেখে স্টিভ রিক্সনকে ফিল্ডিং কোচ হিসেবে নিয়োগ দিয়েছে শ্রীলঙ্কা। ২৪ ডিসেম্বর তিনি দলের সঙ্গে যোগ দিতে পারেন। হেড কোচ চন্ডিকা হাতুরুসিংহে দলের ক্রিকেটারদের ফিল্ডিং নিয়ে বেশ হতাশ। তাই বেশকিছু দিন ধরেই নতুন ফিল্ডিং কোচ নিয়োগের ব্যাপারে আলোচনা চলছিল লঙ্কান বোর্ডে। শ্রীলঙ্কা অবশ্য বিশ্বের সেরা ফিল্ডিং কোচের দিকেই হাত বাড়িয়েছে। রিক্সন সর্বশেষ পাকিস্তান দলের সঙ্গে কাজ করে দলটির ফিল্ডিং শক্তি অনেক কার্যকর করেছেন। এছাড়া তার অস্ট্রেলিয়া ও নিউজিল্যান্ডের সহকারী কোচ হিসেবেও কাজ করার অভিজ্ঞতা রয়েছে। তিনি আইপিএলেও কাজ করেছেন।
৯ ক্রিকেটার নাম লেখালেন আইপিএল দ্বাদশ আসরে
ক্রীড়া ডেস্ক: ইন্ডিয়ান প্রিমিয়ার লিগের (আইপিএল) দ্বাদশ আসরে খেলার জন্য ইতিমধ্যেই সহস্রাধিক নাম জমা পড়েছে। দেশ-বিদেশের ১০০৩ জন ক্রিকেটার থেকে ফ্র্যাঞ্চাইজিগুলো বেছে নিতে পারবে মাত্র ৭০ জন ক্রিকেটার। এই ৭০ জনে জায়গা করে নেওয়ার লড়াইয়ে আছেন বাংলাদেশের ৯ ক্রিকেটার। প্রতিবারই ১০-১২ জনের নাম যায় বাংলাদেশ থেকে। কিন্তু দুই-একজনের বেশি সুযোগ পান না আইপিএলে। বিশ্বের সবচেয়ে জাঁকজমক এই ফ্র্যাঞ্চাইজি ক্রিকেটের আসরে বাংলাদেশের পোস্টার বয় হয়ে আছেন সাকিব আল হাসান। তাকে যথারীতি ধরে রেখেছে সানরাইজার্স হায়দরাবাদ। মুস্তাফিজুর রহমান গত তিন মৌসুম খেললেও এবার তাকে ছেড়ে দিয়েছে মুম্বাই ইন্ডিয়ান্স। এছাড়া বিসিবির নিষেধাজ্ঞা থাকায় খেলোয়াড়দের তালিকায় নাম দেননি মুস্তাফিজুর রহমান। বিদেশি লিগ খেলতে গিয়ে বারবার চোটে পড়ায় তার ওপর দুই বছরের এই নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে বিসিবি। এবাররে আইপিএলের জন্য ৭০ জন খেলোয়াড়ের শূন্যস্থান পূরণ করতে ১৮ ডিসেম্বর নতুন করে নিলাম অনুষ্ঠিত হবে। এজন্য পাঠানো হয়েছে বাংলাদেশের ৯ ক্রিকেটারের নাম। এই নিলামের তালিকায় বড় চমক হলো সদ্য টেস্ট অভিষিক্ত তরুণ স্পিনার নাঈম হাসান। বাকি ৮ ক্রিকেটার হচ্ছেন তামিম ইকবাল, মুশফিকুর রহিম, মাহমুদউল্লাহ, সৌম্য সরকার, লিটন দাস, ইমরুল কায়েস, সাব্বির রহমান এবং আবু হায়দার। আগামী বছরের ২৯ মার্চ থেকে শুরু হবে আইপিএলের দ্বাদশ তম আসর।
ওয়েস্ট ইন্ডিজকে ছাড় নয় : রুবেল
ক্রীড়া ডেস্ক: ওয়ানডে সিরিজে উইকেট ধরে রেখে খেলার লক্ষ্য নিয়ে মাঠে নামবে ব্যাটসম্যানরা। ১/২ রানের ওপর বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে টিম ম্যানেজমেন্ট। ওয়ানডে সিরিজের জন্য প্রথম দিনের প্রস্তুতি শেষে এমন ভাবনার কথাই বলেছেন পেসার রুবেল হোসেন। জানিয়েছেন, টেস্টে স্পিন আধিপত্য থাকলেও ওয়ানডে একাদশে খেলতে পারেন ২/৩ জন পেসার। ওয়ানডে সিরিজে জয়ের জন্যই মাঠে নামার প্রত্যয় রুবেল হোসেনের। ওয়েস্ট ইন্ডিজকে কোনো ছাড় নয়। পোশাক বদল হচ্ছে। কিন্তু বদলাবে না আক্রমণাত্মক মানসিকতা। ফিল্ডিং অনুশীলনে ক্রিকেটারদের শরীরী ভাষা বলছে, তারা আত্মবিশ্বাসী,আত্মপ্রত্যয়ী। শর্টার ফরম্যাটে ক্যারিবীয়রা ভালো খেলে এটা সবাই জানে। তাই পরিকল্পনাতেও যোগ হচ্ছে নতুন নতুন ভাবনা। ব্যাটসম্যানদের সিঙ্গেলস বের করার ওপর জোর দিচ্ছেন টাইগার গুরু। সঙ্গে স্ট্রাইক ধরে রেখে উইকেটে টিকে থাকার দীক্ষা। টেস্ট সিরিজে ক্যারিবীয়দের স্পিনের মায়াজালে ফেলে কাবু করেছে টাইগাররা। ওয়ানডেতে তেমনটা হবে না নিশ্চিত। বললেন, রুবেল হোসেনও। থাকবে পেসারদের ভূমিকা। তবে রুবেল দিয়ে রাখলেন হুংকার। ভারতের মাটিতে যেভাবে রান করেছে ওয়েস্ট ইন্ডিজ, তত সহজ হবে না বাংলাদেশে। পেসার রুবেল হোসেন বলেন,ইন্ডিয়াতে ওরা তিনশ প্লাস রানও করেছে। তো আমাদের কন্ডিশন হয়তো বা এতটা সহজ হবে না, আমাদের বলিং লাইনার, উইকেটে। আমার কাছে মনে হয় না সহজে ওরা এত ভালো স্কোর করতে পারবে।
দীর্ঘ দুই বছর পরে ওয়েস্ট ইন্ডিজ দলে ফিরেছেন ব্রাভো
ক্রীড়া ডেস্ক: বাংলাদেশের বিপক্ষে তিন ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজে ওয়েস্ট ইন্ডিজ দলে ফিরেছেন ব্যাটসম্যান ড্যারেন ব্রাভো। দীর্ঘ দুই বছর পরে জাতীয় দলে ফিরেছেন ক্যারিবীয় এই ক্রিকেটার। ব্রাভো ছাড়াও উইন্ডিজ দলে ফিরেছেন দুই অলরাউন্ডার কার্লোস ব্রাফেট এবং রোস্টন চেজ । আগামী ৯ ডিসেম্বর মিরপুর শের-ই বাংলা জাতীয় স্টেডিয়ামে শুরু হবে সিরিজের প্রথম ওয়ানডে। আসন্ন সিরিজে দলে নেই ক্যারিবীয় নিয়মিত অধিনায়ক জেসন হোল্ডার। যার জন্য এই সিরিজে সফরকারীদের হয়ে অধিনায়কত্বের দায়িত্ব পালন করবেন অলরাউন্ডার রোভম্যান পাওয়েল। তিন ম্যাচ সিরিজের দুটি ওয়ানডে হবে শের-ই বাংলা জাতীয় স্টেডিয়ামে। সিরিজের তৃতীয় এবং শেষ ওয়ানডে টি হবে আগামী ১৪ ই ডিসেম্বর সিলেট আন্তর্জাতিক স্টেডিয়ামে। ওয়ানডের পরে দুই ম্যাচের একটি টি-টোয়েন্টি সিরিজও খেলবে দুই দল। এর আগে দুই ম্যাচের টেস্ট সিরিজে ওয়েস্ট ইন্ডিজকে ২-০ তে হারিয়ে সিরিজ জিতেছে বাংলাদেশ। ওয়েস্ট ইন্ডিজ ওয়ানডে দল: রোভম্যান পাওয়েল (অধিনায়ক), মারলন স্যামুয়েলস, রোস্টন চেজ, দেবেন্দ্র বিশু, চন্দ্রপল হেমরাজ, শিমরন হেটমায়ার, ড্যারেন ব্রাভো, শাই হোপ, কার্লোস ব্রাফেট, কেমো পল, কাইরন পাওয়েল, ফ্যাবিয়ান অ্যালেন, কেমার রোচ, সুনীল অ্যামব্রিস, ওশানে টমাস।
নারী ফুটবলারদের এগিয়ে নিতে পাশে ইউনিসেফ
ক্রীড়া ডেস্ক: উগ্র মৌলবাদীদের রক্তচক্ষু-হুমকি উপেক্ষা করে দেশে আবার নারী ফুটবল চর্চা শুরু হয় ২০০৪ সালে; কাঠখড় পোড়ানো মেয়েদের ফুটবলে এখন সুবাতাস। পাল্টে গেছে মূলত ২০১৬ সালে বাছাই পর্বে গ্রুপ সেরা হয়ে এএফসি অনূর্ধ্ব-১৬ চ্যাম্পিয়নশিপে মূল পর্বে খেলার পর থেকেই। পরিশ্রমের ধারাবাহিকতায় এখন সুসময়। দক্ষিণ এশিয়া ও এশিয়া অঞ্চলে সাফল্য পাওয়া মেয়েদের পাশে দাঁড়াচ্ছে বিভিন্ন বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান। নভেম্বরে নারী ফুটবল উন্নয়নে বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনের সঙ্গে ৬ বছরের চুক্তি করেছে ঢাকা ব্যাংক। তাতে সিনিয়র ও বয়সভিত্তিক সব জাতীয় দলের খেলোয়াড়রা আর্থিকভাবে লাভবান হবেন। সে পথ ধরে মেয়েদের এগিয়ে নিতে পাশে এসে দাঁড়িয়েছে জাতিসংঘের আন্তর্জাতিক শিশু তহবিল (ইউনিসেফ)। বাফুফে ভবনে কাল দুই সংস্থার মধ্যে ২ বছরের চুক্তি স্বাক্ষর করেন বাফুফে সভাপতি কাজী সালাহউদ্দিন ও ইউনিসেফের বাংলাদেশ প্রতিনিধি অ্যাডওয়ার্ড বেগবেদার। চুক্তির অধীনে ৬৪ জেলায় প্রতিভা অন্বেষণ করবে ইউনিসেফ। পাশাপাশি অনূর্ধ্ব-১৬ ও জাতীয় দলের বিশেষ উন্নয়নেও সহযোগিতা করবে আন্তর্জাতিক সংগঠনটি। চুক্তি স্বাক্ষরের পর বাফুফে সভাপতি কাজী সালাহউদ্দিন বলেন,ইউনিসেফের মতো আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠান আমাদের সঙ্গে চুক্তি করেছে, তাতে আমরা গর্ববোধ করছি। এখানে টাকা-পয়সার প্রশ্নটা গুরুত্বপূর্ণ নয়, গুরুত্বপূর্ণ মর্যাদার। ইউনিসেফকে ধন্যবাদ জানাই এ সিদ্ধান্ত নেওয়ার জন্য। ইউনিসেফের বাংলাদেশ প্রতিনিধি অ্যাডওয়ার্ড বেগবেদার বলেন, এ উদ্যোগ বাংলাদেশের বিভিন্ন জায়গায় ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা প্রতিভা তুলে আনার মাধ্যমে খেলাধুলার জগতে আমাদের অংশীদারিত্ব বাড়ানোর সুযোগ তৈরি করবে। ২ বছরে ইউনিসেফ বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনকে কী দিচ্ছে, তা অবশ্য প্রকাশ করা হয়নি অনুষ্ঠানে। তবে এ চুক্তির অধীনে মেয়েদের জাতীয় ও অনূর্ধ্ব-১৬ দলের আন্তর্জাতিক ম্যাচের অনুশীলন জার্সিতে ইউনিসেফের লোগো ব্যবহৃত হবে; যেটা ব্যবহার করেছে স্প্যানিশ জায়ান্ট বার্সেলোনা।
অনেক কিছু প্রমাণ করার ছিল সিরিজে : সাকিব আল হাসান
ক্রীড়া ডেস্ক: অধিনায়ক হিসেবে দেশের মাটিতে প্রথম সিরিজ জয়, তাও আবার চোট থেকে ফিরে ওয়েস্ট ইন্ডিজকে ধবলধোলাই করে- সাকিব আল হাসানের জন্য এ সিরিজ অনেক প্রাপ্তির। ম্যাচ শেষে সংবাদ সম্মেলনে বললেন, কেন এ সিরিজটা অনেক বেশি স্পেশাল। মাস চারেক আগেই ওয়েস্ট ইন্ডিজের মাঠে গিয়ে ধবলধোলাই হয়েছিল বাংলাদেশ। এ জয় কি সেটা ফিরিয়ে দেওয়ার একটা উপলক্ষ? সাকিব অবশ্য সেই রকম মনে করছেন না,জবাব দেওয়া না, তবে এখন হোম অ্যান্ড অ্যাওয়ের একটা অ্যাডভান্টেজট থাকে। ওরা ওদের হোমের অ্যাডভান্টেজট নিতে পেরেছে, আমরা আমাদের হোমের অ্যাডভান্টেজটটা নিতে পেরেছি। ওভাবে হারার পর আমাদের অবশ্যই অনেক কিছু প্রমাণ করার ছিল। অ্যাট লিস্ট হোমে, সেটা আমরা করতে পেরেছি। সেটার জন্য আসলে আমি প্রতিটা টিম মেটকেই ধন্যবাদ জানাই, কোচিং স্টাফ থেকে শুরু করে সবাই যে এ জিনিষটায় বিশ্বাস করেছে, সিরিজ শুরুর আগে। সত্যি কথা বলতে, আমি অনেক ডিমান্ডিং ছিলাম এ সিরিজটাতে। সবার কাছেই খুব বেশ করে চাচ্ছিলাম। আলহামদুলিল্লাহ সবাই যার যার সাধ্য মতো চেষ্টা করেছে। কেউ হয়তো সফল হবে, কেউ হবে না। সবার মনের ভেতর ওই বিশ্বাসটা ছিল, সবাই দলের জেতার জন্য কন্ট্রিবিউশন রাখতে চায়। সবসময় রাখতে চায়, বাট আলাদা রকমের একটা আগ্রহ ছিল সেটা বোঝা যাচ্ছিল। তারপরও এ সিরিজ জয় অন্য জয়ের চাইতে কতটা আলাদা? এমন প্রশ্নের জবাবে সাকিব বলেন, দেখুন আমরা ১০০ এর ওপর টেস্ট ম্যাচ খেলেছি। এ প্রথম এমন কিছু করলাম। অবশ্যই স্পেশাল কিছু তা না হলে তো ১৮ বছরের মতো টেস্ট খেলেছি, ১০০ এর টেস্টের মতো খেলেছি। এ ফার্স্ট টাইম এরকম কিছু হলো। এর ভেতরে আমরা কিন্তু ছোট টিমের সঙ্গেও খেলেছি। তারপরও আমরা এমন কিছু করতে পারিনি। সো এটা আমাদের জন্য অনেক বড় একটা অ্যাচিভমেন্ট (পাওয়া) আমি মনে করি। এর আগে আমাদের ওপরের কোনো টিমকে হোম কন্ডিশনে হোয়াইটওয়াশ করিনি। সব কিছু মিলিয়ে আমাদের জন্য সিরিজটি অনেক বড় পাওয়ার সিরিজ ছিল। আগের দিন সংবাদ সম্মেলনে মাহমুদউল্লাহ বলছিলেন, এ সিরিজ শুরুর আগে ওয়েস্ট ইন্ডিজের ধবলধোলাইটা মনে করিয়ে সবাইকে তাতিয়ে দিয়েছিলেন সাকিব। ম্যাচ শেষে সংবাদ সম্মেলনে সাকিবকে সেটি মনে করিয়ে দিতে বললেন,আমি মনে করি যে আমরা যারা প্রতিটা প্লেয়ার ছিলাম ওয়েস্ট ইন্ডিজ সিরিজে, আমরা কেউই এ ধরনের পারফরম্যান্স এক্সপেক্ট করি নেই। আমরা এমন হারের পর মিটিং করেছি, তারপর স্ট্রংলি কামব্যাক করেছি ওয়ানডে-টি-টোয়েন্টিতে। যেহেতু আমরা টেস্ট ফরম্যাটে ভালো করিনি, আমাদের হোমে একটা সুযোগ ছিল প্রমাণ করার। ওই কারণেই আমরা চেয়েছিলাম কিছু একটা করি, যেন মানুষ অন্তত ভুলতে পারে বা বুঝতে পারে যে, না, তাদের হোমে সুবিধাটা তারা নিতে পেরেছে, আমাদের হোমে আমাদের যতটুকু করা সম্ভব ততটুকু করতে পেরেছি।
১১১ রানেই গুটিয়ে গেল উইন্ডিজ
ক্রীড়া ডেস্ক: বাংলাদেশের ৫০৮ রানের জবাবে নিজেদের প্রথম ইনিংসে ব্যাটিংয়ে নেমে বিপাকে পড়ে সফরকারী ওয়েস্ট ইন্ডিজ। ক্যারিবীয়ানরা ৩৯৭ রান পিছিয়ে থেকে অলআউট হয়েছে ১১১ রানে। মেহেদি মিরাজ ক্যারিয়ার সেরা বোলিং করে একাই তুলে নেন সাতটি উইকেট। সাকিব নেন তিনটি উইকেট। দ্বিতীয় দিন ইনিংসের প্রথম ওভারের শেষ বলেই সাকিব বোল্ড করে ফিরিয়ে দেন ক্যারিবীয়ান ওপেনার কার্লোস ব্রাথওয়েইটকে। এরপর মিরাজ বোল্ড করে ফিরিয়ে দেন আরেক ওপেনার কাইরন পাওয়েলকে (৪)। দলীয় ৬ রানে ক্যারিবীয়ানরা দুই ওপেনারকে হারায়। দলীয় ১৭ রানের মাথায় ইনিংসের নবম ওভারের শেষ বলে সাকিব বোল্ড করেন সুনীল অ্যামবিসকে (৭)। এরপর শিকারে আবারো যোগ দেন মিরাজ। ফিরিয়ে দেন রোস্টন চেজকে। দলীয় ২৯ রানে মিরাজ নিজের তৃতীয় উইকেট নিতে ফিরিয়ে দেন ১০ রান করা শাই হোপকে। টপঅর্ডারের পাঁচ ব্যাটসম্যানই বোল্ড হন। নাঈম হাসান নিজের প্রথম ওভারে এলবির ফাঁদে ফেলেন শিমরন হেটমেয়ারকে। আম্পায়ার আলিম দার আউট ঘোষণা করলেও রিভিউ নিয়ে বেঁচে যান হেটমেয়ার। দ্বিতীয় দিনের খেলা শেষে ৫ উইকেট হারিয়ে উইন্ডিজের সংগ্রহ দাঁড়ায় ৭৫ রান। তাতে স্বাগতিকদের থেকে ৪৩৩ রানে পিছিয়ে থাকে সফরকারীরা। তৃতীয় দিনের প্রথম সেশনের শুরুতে মিরাজ ফিরিয়ে দেন শিমরন হেটমেয়ারকে (৩৯)। নিজের বলে নিজেই দুর্দান্ত ক্যাচ নেন মিরাজ। দলীয় ৮৬ রানের মাথায় উইন্ডিজরা ষষ্ঠ উইকেট হারায়। স্কোরবোর্ডে আর দুই রান যোগ হতেই আবারো আঘাত হানেন মিরাজ। এবার ফিরিয়ে দেন দেবেন্দ্র বিশুকে। এর মধ্যদিয়ে নিজের পঞ্চম উইকেট পান মিরাজ। সাকিব নতুন ব্যাটসম্যান কেমার রোচের সহজ ক্যাচ তালুবন্দি করতে পারেননি। পরের ওভারে মিরাজ তার ষষ্ঠ উইকেট তুলে নেন, ফিরিয়ে দেন কেমার রোচকে। দলীয় ৯২ রানের মাথায় উইন্ডিজ তাদের অষ্টম উইকেট হারায়। দলীয় ১১০ রানে শেন ডরউইচকে (৩৭) এলবির ফাঁদে ফেলেন মিরাজ। তার আগে টাইগারদের হয়ে টেস্ট ক্যারিয়ারের তৃতীয় সেঞ্চুরি করেন মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ। ২৪২ বলে ১০টি বাউন্ডারিতে করেন ক্যারিয়ার সেরা ১৩৬ রান। অভিষিক্ত ওপেনার সাদমান ইসলাম করেন ৭৬ রান। দলপতি সাকিবের ব্যাট থেকে আসে ৮০ রান। জাতীয় দলের আবারো ফেরা লিটন খেলেন ৫৪ রানের ইনিংস। এছাড়া, ওপেনার সৌম্য সরকার ১৯, মুমিনুল হক ২৯, মোহাম্মদ মিঠুন ২৯, মুশফিকুর রহিম ১৪, মেহেদি হাসান মিরাজ ১৮, তাইজুল ইসলাম ২৬ আর নাঈম হাসান অপরাজিত ১২ রান করেন। তাতে বিরল এক রেকর্ডে নাম লেখায় বাংলাদেশের ইনিংস। ১১ ব্যাটসম্যানের প্রত্যেকের ডাবল ফিগারে যাওয়ার ঘটনা টেস্টের ইতিহাসে এ নিয়ে ঘটে মাত্র ১৪ বার। ওয়েস্ট ইন্ডিজের হয়ে দুটি করে উইকেট পান কেমার রোচ, দেবেন্দ্র বিশু, কার্লোস ব্রাথওয়েইট এবং জোমেল ওয়ারিকান। একটি করে উইকেট পান শিরমন লুইস এবং রোস্টন চেজ। চট্টগ্রাম টেস্টে বাংলাদেশ জিতেছিল ৬৪ রানের ব্যবধানে। নিজেদের খেলা সবশেষ ৫ টেস্টে টানা দুটিতেই জিতেছে বাংলাদেশ আর টানা তিনটিতেই হেরেছে ক্যারিবীয়ানরা। ২০০৯ সালে ওয়েস্ট ইন্ডিজ সফরে দুই ম্যাচের সিরিজে স্বাগতিকদের হোয়াইটওয়াশ করেছিল বাংলাদেশ। ২০০৯ সালে ওয়েস্ট ইন্ডিজ সফরে প্রথম টেস্টে চোট পেয়েছিলেন অধিনায়ক মাশরাফি বিন মুর্তজা। তার বদলে নেতৃত্বভার পেয়ে ওয়েস্ট ইন্ডিজকে ধবলধোলাই করেছিলেন সাকিব। ৯ বছর পর ওয়েস্ট ইন্ডিজকে আবারও ধবলধোলাইয়ের সুযোগ পেয়েছে বাংলাদেশ। শুক্রবার (৩০ নভেম্বর) সিরিজের দ্বিতীয় ও শেষ টেস্টে মিরপুরে স্বাগতিকদের মুখোমুখি হয় সফরকারী ওয়েস্ট ইন্ডিজ। ম্যাচটি সরাসরি সম্প্রচার করছে গাজী টিভি। এছাড়া, ম্যাচটি সরাসরি দেখতে পাচ্ছেন র‌্যাবিটহোলবিডিতে। বাংলাদেশ একাদশ: সাদমান ইসলাম, সৌম্য সরকার, মুমিনুল হক, মোহাম্মদ মিঠুন, সাকিব আল হাসান, মুশফিকুর রহিম, লিটন দাস, মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ, মেহেদি হাসান মিরাজ, তাইজুল ইসলাম এবং নাঈম হাসান। ওয়েস্ট ইন্ডিজ একাদশ: ক্রেইগ ব্রাথওয়েইট, কাইরন পাওয়েল, শাই হোপ, শিমরন হেটমেয়ার, সুনীল অ্যামব্রিস, রোস্টন চেজ, শেন ডরউইচ, শিরমন লুইস, দেবেন্দ্র বিশু, কেমার রোচ এবং জোমেল ওয়ারিকান।