শনিবার, মে ৩০, ২০২০
নতুন বলটা ব্যবহার করা জরুরি: কোর্টনি ওয়ালশ
২জুলাই২০১৯,মঙ্গলবার,ক্রীড়া ডেস্ক,নিউজ একাত্তর ডট কম: সেমিফাইনালের যুদ্ধে টিকে থাকতে হলে ভারতের বিপক্ষে জিততেই হবে বাংলাদেশকে। এই ম্যাচে সাফল্য পেতে হলে ব্যাটিংয়ের পাশাপাশি বোলিংয়েও ভালো করতে হবে। এই ম্যাচে নতুন বলে ভালো করা খুব গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করেন দলের পেস বোলিং কোর্টনি ওয়ালশ। ভারতের বিপক্ষে ম্যাচ নিয়ে সাংবাদিকদের ওয়ালশ বলেন,আমাদের শুরুতেই ভালো বল করতে হবে। নতুন বলটা ব্যবহার করা খুব জরুরি। ম্যাচের পিচ নিয়ে পেস বোলিং কোচ বলেন,দেখি, বার্মিংহ্যামের আবহাওয়া কেমন থাকে। যদি মনে হয় বল ঘুরবে, শুরুতে উইকেট তোলার জন্য স্পিনার আনতে পারি। কিন্তু যদি বল সুইং করে, তাহলে পেসাররা বল করবে। মাঠে গিয়েই সব সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। অধিনায়ক মাশরাফি বিন মুর্তজা সম্পর্কে ওয়ালশ বলেন,আমি জানি সে বেশি উইকেট পায়নি, কিন্তু এটিই তো শেষ কথা নয়। তা ছাড়া তার উইকেট পাওয়া নিয়ে আমি চিন্তিত নই। লাইন-লেস্থ ঠিক রাখলে, ব্যাটসম্যানদের মারার সুযোগ না দিলেই আমি সন্তুষ্ট। বোলিং উদ্বোধন কে করবেন, এ সম্পর্কে সাবেক এই ক্যারিবীয় পেসার বলেন,নতুন বলে বল করার জন্য সবাই প্রস্তুত। দলে তিনজন পেসার খেলছে। এঁদের মধ্যে যে কেউ বল ওপেন করবে। সাত ম্যাচে সমান তিন জয়-পরাজয়ে ৭ পয়েন্ট নিয়ে বাংলাদেশ এখন ষষ্ঠ অবস্থানে। আগামীকাল নিজেদের অষ্টম ম্যাচে শক্তিশালী ভারতের মুখোমুখি হবে টাইগাররা। শেষ চারের আশা বাঁচিয়ে রাখতে হলে ভারতের বিপক্ষে ম্যাচটি জিততেই হবে বাংলাদেশকে। ভারতকে ঠেকাতে পারলে পাকিস্তানের সমান ৯ পয়েন্ট হবে বাংলাদেশের। এরপর তাকিয়ে থাকতে হবে পাকিস্তান ম্যাচের দিকে। কারণ ভারতকে হারালে পাকিস্তানের বিপক্ষে ম্যাচটি হবে অলিখিত কোয়ার্টার ফাইনাল। শুক্রবার সেই ম্যাচে পাকিস্তান-বাংলাদেশের মধ্যে যে জিতবে, সেই চলে যেতে পারে শেষ চারে। কিন্তু এর মধ্যেও রয়েছে আরো হিসাব। পাকিস্তানকে হারালেও বাংলাদেশের সেমিফাইনাল খেলা অনেকটাই নির্ভর করবে নিউজিল্যান্ড-ইংল্যান্ড ম্যাচের ফলের ওপর। ৩ জুলাইয়ের সেই ম্যাচ ইংল্যান্ড জিতে গেলে সেমিফাইনালের স্বপ্ন শেষ হয়ে যেতে পারে বাংলাদেশের।
বাংলাদেশ ও পাকিস্তানের সেমির সমীকরণ কঠিন করল ইংল্যান্ড
১জুলাই ২০১৯,সোমবার,ক্রীড়া ডেস্ক,নিউজ একাত্তর ডট কম: জমে উঠেছে আইসিসি বিশ্বকাপের শেষ চারের সমীকরণ। গতকাল রোববার এজবাস্টনে ভারতকে ৩১ রানে হারিয়ে সেমিফাইনালের হিসাব-নিকাশ জটিল করে ফেলেছে ইংল্যান্ড। ইংরেজদের এই জয়ে বাংলাদেশ ও পাকিস্তানের সেমিফাইনালে খেলার সম্ভাবনা কঠিন হয়ে গেছে। আট ম্যাচে ১০ পয়েন্ট নিয়ে পয়েন্ট টেবিলে স্বাগতিকদের অবস্থান এখন চতুর্থ স্থানে। ৩ জুলাই নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে মাঠে নামবে এউইন মরগানের দল। ওই ম্যাচে জয় পেলেই সেমিফাইনাল নিশ্চিত হয়ে যাবে ইংল্যান্ডের। তাদের পয়েন্ট হবে ১২। অন্যদিকে, বাংলাদেশ তখন যদি ভারত ও পাকিস্তানের বিপক্ষে জয়ও পায়, তাহলেও সেমিতে যেতে পারবে না। কারণ, বাংলাদেশের পয়েন্ট হবে ১১। পাকিস্তানের ক্ষেত্রেও তাই। তাদের পয়েন্ট এখন ৯। তারা যদি বাংলাদেশকে হারিয়ে দেয়, তবে তাদের পয়েন্ট হবে ১১। এদিকে, ইংল্যান্ড যদি নিউজিল্যান্ডের কাছে হেরে যায়, আর বাংলাদেশ যদি ভারত ও পাকিস্তানকে হারাতে পারে, সে ক্ষেত্রে সেমিতে যাবে টাইগাররা। আর যদি ইংল্যান্ড ও বাংলাদেশ তাদের পরবর্তী ম্যাচগুলোতে পরাজিত হয়, তাহলে সেমির টিকেট পাবে পাকিস্তান। তবে ইংল্যান্ড যদি হেরেও যায় আর বাংলাদেশ যদি শুধু পাকিস্তানের বিপক্ষে জয়লাভ করে, তাহলে শেষ চারে পৌঁছে যাবে ভারত, নিউজিল্যান্ড ও ইংল্যান্ড। অস্ট্রেলিয়া আগেই সেমির টিকিট নিশ্চিত করেছে। সেমিতে ইংল্যান্ড, বাংলাদেশ নাকি পাকিস্তান যাবে তার জন্য আপাতত মঙ্গলবার ভারত ও বাংলাদেশ ম্যাচ পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে। ওই ম্যাচে যদি বাংলাদেশ জয়লাভ করে, তাহলে ৩ জুলাই নিউজিল্যান্ড ও ইংল্যান্ডের ম্যাচের দিকে সবাইকে তাকিয়ে থাকতে হবে। ৩ জুলাইয়ের ম্যাচে ইংল্যান্ড জিতলে করলে সব হিসাব-নিকাশ শেষ হয়ে যাবে।
সেমির সমীকরণটি কেমন হবে বাংলাদেশের?
৩০জুন২০১৯,রবিবার,ক্রীড়া ডেস্ক,নিউজ একাত্তর ডট কম: জমে উঠেছে চলতি বিশ্বকাপের শেষ চারে ওঠার লড়াই। এখন পর্যন্ত সেমিফাইনাল নিশ্চিত করা একমাত্র দল অস্ট্রেলিয়া। আট ম্যাচের সাতটিতে জিতে অসিদের পয়েন্ট ১৪। পয়েন্ট টেবিলের দ্বিতীয় স্থানে আছে ভারত। ছয় ম্যাচ খেলে পাঁচটিতে জয় ও একটি ম্যাচ পরিত্যক্ত হওয়ায় তাদের পয়েন্ট ১১। আট ম্যাচে পাঁচ জয় ও দুই হার নিয়ে তৃতীয় স্থানে থাকা নিউজিল্যান্ডের পয়েন্টও ১১। আর টেবিলের চতুর্থ স্থানে উঠে আসা পাকিস্তানের পয়েন্ট ৯। আট ম্যাচ খেলে চারটি ম্যাচে জয় পেয়েছে তারা। একটি ম্যাচ বৃষ্টির কারণে পরিত্যক্ত হয়ে গেছে পাকিস্তানের। আজ রোববার বিশ্বকাপের একমাত্র ম্যাচে খেলতে নামছে ভারত ও স্বাগতিক ইংল্যান্ড। আজ জিতলেই সেমিফাইনাল নিশ্চিত হয়ে যাবে ভারতের। অন্যদিকে, জয় চাইবে ইংল্যান্ডও। কারণ, সেমির টিকেট পেতে চাইলে আজকের ম্যাচসহ বাকি অন্য ম্যাচটিও জিততে হবে ইংল্যান্ডকে। বাংলাদেশের জন্য এখন সেমিফাইনালের পথের হিসাব অনেকটাই পরিষ্কার হয়ে গেছে। টাইগারদের শেষ চারের হিসাবটি এখন এমন : * পাকিস্তানের সঙ্গে বাংলাদেশকে শেষ ম্যাচটি জিততেই হবে। * ইংল্যান্ড তাদের বাকি দুটি ম্যাচ (আজকের ম্যাচটিসহ) হারলে বাংলাদেশ কেবল শেষ ম্যাচ, অর্থাৎ পাকিস্তানের বিপক্ষে জিতেই সেমিতে যেতে পারবে। * ইংল্যান্ড নিজেদের বাকি দুটি ম্যাচই জিতলে অন্য কোনো দলের সেমিতে যাওয়ার কোনো সুযোগ নেই। * ইংল্যান্ড তাদের দুটি ম্যাচের একটি জিতলে এবং বাংলাদেশ যদি ভারতের বিপক্ষে হেরে যায়, তাহলে ইংল্যান্ডকে অপেক্ষা করতে হবে পাকিস্তান বনাম বাংলাদেশ ম্যাচের ফলের জন্য। ওই ম্যাচে পাকিস্তান জিতলে তারাই উঠে যাবে সেমিতে। আর বাংলাদেশ জিতলে ইংল্যান্ডই উঠবে সেমিতে। * অন্যদিকে শ্রীলঙ্কা তাদের বাকি দুই ম্যাচের দুটোই জিতলে এবং বাংলাদেশ ভারতের কাছে হেরে পাকিস্তানের বিপক্ষে জিতলে এবং ইংল্যান্ড তাদের দুটি ম্যাচই হেরে গেলে শ্রীলঙ্কাই সেমিতে উঠে যাবে। * আর বাংলাদেশ যদি ভারতকে হারিয়ে দিতে পারে এবং ইংল্যান্ড যদি আজ ভারতের কাছে হারে, তাহলে বাংলাদেশ বনাম পাকিস্তান ম্যাচে যে দল জিতবে, সে দলই শেষ চারে জায়গা করে নেবে। এখন বাংলাদেশের জন্য সহজতম হিসাব হলো, ইংল্যান্ড তাদের দুটি ম্যাচই হারলে এবং শ্রীলঙ্কা একটি ম্যাচে হারলে, বাংলাদেশ ভারতের কাছে হারলেও পাকিস্তানের বিপক্ষে শেষ ম্যাচ জিতলেই সেমিফাইনালে চলে যাবে।
পাকিস্তানের জয়ে চাপ বাড়ল বাংলাদেশের
২৭জুন২০১৯,বৃহস্পতিবার,ক্রীড়া ডেস্ক,নিউজ একাত্তর ডট কম: ১৯৯২ বিশ্বকাপের পথেই হাঁটছে পাকিস্তান! সেবার দলটির প্রথম ছয় ম্যাচের ফলের সঙ্গে হুবহু মিল রয়েছে এবার। নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে সপ্তম ম্যাচেও সাদৃশ্যটা বজায় রাখলেন সাবেক বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা। ৯২ বিশ্বকাপে নিজেদের সপ্তম ম্যাচে দাপুটে জয় তুলে নিয়ে সেমিফাইনালে খেলার আশা বাঁচিয়ে রেখেছিলেন ইমরান খান বাহিনী। এজবাস্টনেও ঠিক একই পথে হাঁটলেন সরফরাজ আহমেদ ব্রিগেড। কিউইদের ৬ উইকেটে হারিয়ে সেমিতে খেলার স্বপ্ন জিইয়ে রাখলেন তারা। এ জয়ে কাণ্ডারির ভূমিকা পালন করেন বাবর আজম। দারুণ ব্যাটিংয়ে তুলে নেন ওয়ানডে ক্যারিয়ারে দশম সেঞ্চুরি। ইনিংসের শেষ পর্যন্ত ব্যাটিং করে ১২৭ বলে ১০১ রানে অপরাজিত থাকেন তিনি। সেঞ্চুরিয়ান বাবরকে যোগ্য সঙ্গ দেন হারিস সোহেল। ৭৬ বলে ৬৮ রানের ঝলমলে ইনিংস খেলেন তিনি। তাতে আরামসে নিউজিল্যান্ডের দেয়া ২৩৮ রানের টার্গেট টপকে যায় পাকিস্তান। বল হাতে মাত্র ২৮ রান খরচায় ৩ উইকেট নিয়ে কিউইদের অল্প রানে বেঁধে রাখেন শাহীন আফ্রিদি। স্বভাবতই দুই কিউই জেমস নিশামের হার না মানা লড়াকু ৯৭ এবং কলিন ডি গ্র্যান্ডহোমের ৬৪ রানের ইনিংসটি কার্যত কোনো কাজেই আসেনি। দেয়ালে পিঠ ঠেকে যাওয়ার পর দুর্দান্ত কামব্যাক করেছে পাকিস্তান। একপেশে জয়ে সাত ম্যাচে ৭ পয়েন্ট নিয়ে টেবিলের ছয়ে উঠে এসেছে আনপ্রেডিক্টেবল দলটি। তাদের (-০.৯৭৬) সমান পয়েন্ট নিয়ে রানরেটে এগিয়ে থাকায় টেবিলের পাঁচে বাংলাদেশ (-০.১৩৩)। তবে পাকিস্তানের এ জয়ে টাইগারদের ওপর চাপ কিছুটা হলেও বাড়ল। দুদলেরই পয়েন্ট সমান, হাতেও রয়েছে সমান দুটি করে ম্যাচ। অর্থাৎ সেমিতে ওঠার দৌড়ে হাড্ডাহাড্ডি লড়াই করতে হবে উভয় দলকে।
ইতিহাস গড়ে এক লাফে পাঁচে বাংলাদেশ
১৮ জুন২০১৯,মঙ্গলবার,ক্রীড়া ডেস্ক,নিউজ একাত্তর ডট কম: ইশ, শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে যদি বৃষ্টি না আসতো! নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে যদি আরও ২৫-৩০ রান করতে পারতাম! বাংলাদেশ অধিনায়ক মাশরাফী বিন মোর্ত্তজা হয়তো আফসোস করছেন, আর কপাল চাপরাচ্ছেন। এই দুই দলের বিপক্ষে যদি অধিনায়কের ভাবনা অনুযায়ী হতো বাংলাদেশ স্বাগতিক ইংল্যান্ডের উপরেই অবস্থান করতো। প্রকৃতির লীলা খেলার কাছে আফসোস করে কীইবা হবে। যা হওয়ার তা হয়ে গেছে। এখন সামনে এগোনোর পালা। প্রথম ম্যাচে দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে জয়। দ্বিতীয় ম্যাচে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে আক্ষেপের হার। তৃতীয় ম্যাচে স্বাগতিক ইংল্যান্ডের কাছে বিব্রতকর হারে দিশেহারা হয়ে পড়ে বাংলাদেশ শিবির। তার মধ্যে বাতিল হয় শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে ম্যাচ। দ্বীপরাষ্ট্রটির বিপক্ষে বাংলাদেশ নিশ্চিত পয়েন্ট ধরে রেখেছিল! এতে আরও বিপর্যস্ত হয়ে পড়েন মাশরাফীরা। দরকার ছিল একটি জয়ের। এই একটি জয়ই বদলে দিতে পারে সব। গতকাল সোমবার টনটনে ক্যারিবীয়দের সঙ্গে জয় পাল্টেও দিয়েছে সব! নানা আলোচনা-সমালোচনা, কত জল্পনা-কল্পনা সব ধুলোয় নিঃশেষ হয়ে গেছে একটি মাত্র জয়ে। এই জয়ে বাংলাদেশ পয়েন্ট টেবিলে আট নম্বর থেকে এক লাফে উঠে আসে পাঁচ নম্বরে। বাংলাদেশের সামনে আছে ইংল্যান্ড, নিউজিল্যান্ড, ভারত ও অস্ট্রেলিয়া। পাঁচ ম্যাচে দুই জয় ও এক হারে বাংলাদেশের পয়েন্ট পাঁচ। টাইগাররা একটি পয়েন্ট পেয়েছে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে বাতিল হওয়া ম্যাচটি থেকে। এই ম্যাচটি যদি হতো পয়েন্ট টেবিলে মাশরাফীদের অবস্থান আরও উঁচুতে থাকতো। তবে সবচেয়ে আনন্দের বিষয় হচ্ছে ক্যারিবীয়দের বিপক্ষে পাওয়া জয়ে বাংলাদেশ ফিরে এসেছে বিশ্বকাপের কক্ষপথে। ক্যারিবীয়দের বিপক্ষে বাংলাদেশ শুধু জয়ই পায়নি, ইতিহাসও সৃষ্টি করেছে। রান তাড়া করে (৩২১) বিশ্বকাপ ইতিহাসে টাইগারদের সবচেয়ে বড় জয়। বিশ্বকাপের ইতিহাসে রান তাড়া করে জয়গুলোর মধ্যে এটি দ্বিতীয় জয়। টনটনে সাকিবের অপরাজিত সেঞ্চুরি (১২৪*) সঙ্গে লিটন দাসের ঝোড়ো হাফসেঞ্চুরিতে (৯৪*) ইতিহাস গড়তে পারে বাংলাদেশ। বাংলাদেশের সামনে এখন আফগানিস্তান, অস্ট্রেলিয়া, ভারত ও পাকিস্তান। সেমিফাইনালে যেতে হলে বাংলাদেশকে তিনটি দলকে হারাতেই হবে। যদি দুটি ম্যাচ জেতে তাহলে জটিল সমীকরণের সামনে পড়তে হবে। সেক্ষেত্রে শেষ চারে যাওয়ার সম্ভাবনা ক্ষীণ হয়ে যাবে। তবে ক্রিকেট মাঠের খেলা, মাঠে সেরাটা দিতে পারলে বদলে যাবে কাগজ-কলমের সব হিসেব-নিকেশ। বাংলাদেশের পরবর্তী খেলা চ্যাম্পিয়ন অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে। স্মিথ-ওয়ার্নারদের বিপক্ষে খেলতে নামার আগে সাকিবদের টনিক হিসেবে কাজ করবে ক্যারিবীয়দের পক্ষে পাওয়া এই জয়। আগামী বৃহস্পতিবার চ্যাম্পিয়ন অস্ট্রলিয়ার বিপক্ষে মাঠে নামবে টাইগাররা। সাকিব-লিটনরা এমন ফর্ম ধরে রাখতে পারলে অজিদের হারানোও অসম্ভব কিছু হবে না!
সেমির স্বপ্নে টাইগাররা মাঠে নামবে আজ
১৭জুন২০১৯,সোমবার,ক্রীড়া ডেস্ক,নিউজ একাত্তর ডট কম: সেমিফাইনাল খেলার স্বপ্নে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে বাংলাদেশ মাঠে নামবে আজ। চলতি বিশ্বকাপে ১ জয়, ২ হার ও পরিত্যক্ত ১ ম্যাচে টাইগারদের সংগ্রহ মাত্র ৩ পয়েন্ট। এতে চিন্তার ভাজ বাংলাদেশের কপালে। সেমিফাইনালে যাবার পথে নিশ্চিন্ত অবস্থানে নেই মাশরাফি বাহিনী। এ অবস্থায় নিজেদের পঞ্চম ম্যাচে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে মুখোমুখি হচ্ছে বাংলাদেশ। এই ম্যাচ না জিতলে শেষ চারের লড়াই থেকে ছিটকে যাচ্ছে না কোনো দলই। তবে অনেকটাই বন্ধ হয়ে যাবে সম্ভাবনার দুয়ার। জয়টা তাই খুব জরুরি দুই দলের জন্যই। ক্যারিবীয়দের বিপক্ষে ভালো খেলার টনিক হিসেবে আয়ারল্যান্ডে ত্রিদেশীয় সিরিজের সুখস্মৃতি মনে করতে পারে। ঐ আসরে লিগ পর্বে দু বার ও ফাইনালে ওয়েস্ট ইন্ডিজকে বিধ্বস্ত করে ত্রিদেশীয় সিরিজে অপরাজিত চ্যাম্পিয়ন হয়েছিলো বাংলাদেশ। সেই সুখস্মৃতিতে উজ্জীবিত হয়ে জয়ের ধারায় ফেরার লক্ষ্য মাশরাফি-সাকিবদের। ইংল্যান্ডের টনটনের দ্য কুপার অ্যাসোসিয়েটস কাউন্টি গ্রাউন্ডে রোববার বাংলাদেশ সময় বিকেল ৩টা ৩০ মিনিটে শুরু হবে বাংলাদেশ-ওয়েস্ট ইন্ডিজ ম্যাচ। এই ভেন্যুটি সমারসেট কাউন্টি গ্রাউন্ড নামেও পরিচিত। জয় দিয়ে এবারের বিশ্বকাপ শুরু করেছিলো বাংলাদেশ। কেনিংটন ওভালে শক্তিশলী দক্ষিণ আফ্রিকাকে ২১ রানে হারায় টাইগাররা। প্রোটিয়াদের বিপক্ষে জয়ের পর নিউজিল্যান্ডের সাথেও জয়ের স্বপ্ন দেখছিলো বাংলাদেশ। কিন্তু ২ উইকেটে কিউইদের কাছে হেরে টুর্নামেন্টে প্রথম ধাক্কা খায় বাংলাদেশ। এরপর নিজেদের তৃতীয় ম্যাচে স্বাগতিক ইংল্যান্ডের বিপক্ষে কার্ডিফের পয়মন্ত ভেন্যুতে ১০৬ রানের বড় ব্যবধানে হারে বাংলাদেশ। দুটি হারের সাথে শ্রীলংকার বিপক্ষে বৃষ্টির কারনে পরিত্যক্ত হয় খেলা। যে কারণে নিজেদের লক্ষ্যের পথে দুঃশ্চিন্তায় পড়ে গেছে বাংলাদেশ। এবার ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে জয় তুলে নিয়ে কিছুটা চিন্তামুক্ত হতে মরিয়া টাইগাররা। পয়েন্ট টেবিলে বাংলাদেশের মত একই অবস্থা ওয়েস্ট ইন্ডিজের। ৪ খেলায় ১ জয় ২টি হার ও ১টি পরিত্যক্ত ম্যাচে ৩ পয়েন্ট ক্যারিবীয়দের। তবে রান রেটে এগিয়ে থাকায় টেবিলের ষষ্ঠস্থানে রয়েছে ওয়েস্ট ইন্ডিজ। পাকিস্তানের বিপক্ষে ৭ উইকেটের জয় দিয়ে এবারের বিশ্বকাপে যাত্রা শুরু করে ওয়েস্ট ইন্ডিজ। এরপর অস্ট্রেলিয়ার কাছে ১৫ রানে হারে তারা। দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে তাদের তৃতীয় ম্যাচটি বৃষ্টিতে ভেসে যায়। ফলে পয়েন্ট ভাগাভাগি করে দু দল। নিজেদের চতুর্থ ম্যাচে স্বাগতিক ইংল্যান্ডের কাছে ৮ উইকেটে ম্যাচ হারে জেসন হোল্ডারের দল। বাংলাদেশ দল : মাশরাফি বিন মর্তুজা (অধিনায়ক), সাকিব আল হাসান (সহ-অধিনায়ক), মুশফিকুর রহিম, লিটন দাস, মোহাম্মদ মিঠুন, মাহমুদুল্লাহ, মেহেদি হাসান মিরাজ, মোহাম্মদ সাইফ উদ্দিন, মোসাদ্দেক হোসেন, আবু জায়েদ রাহি, রুবেল হোসেন, মুস্তাফিজুর রহমান। ওয়েস্ট ইন্ডিজ দল : জেসন হোল্ডার (অধিনায়ক), ফাবিয়ান অ্যালেন, কার্লোস ব্রাথওয়েট, ড্যারেন ব্রাভো, শেলডন কটরেল, শানন গ্যাব্রিয়েল, ক্রিস গেইল, শিমরোন হেটমায়ার, শাই হোপ, এভিন লুইস, অ্যাসলে নার্স, নিকোলাস পুরান, কেমার রোচ, আন্দ্রে রাসেল ও ওশানে থমাস।
ভারত-পাকিস্তান ম্যাচেও বড় বাধা হতে পারে বৃষ্টি
১৬জুন২০১৯,রবিবার,ক্রীড়া ডেস্ক,নিউজ একাত্তর ডট কম: বিশ্বকাপের মঞ্চে ভারতের সামনে ২০১৭ সালে অনুষ্ঠিত চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফি হারের বদলা নেওয়ার সুযোগ। রোববার ম্যানচেস্টারের ওল্ড ট্র্যাফোর্ডে ২০১৯ বিশ্বকাপের ম্যাচ খেলতে নামছে ভারত-পাকিস্তান। এই বিশ্বকাপের সবচেয়ে বড় শত্রু হয়ে উঠেছে বৃষ্টি। এরই মধ্যে চারটি ম্যাচ বৃষ্টির কারণে বাতিল হয়ে গেছে। পুরো পয়েন্ট পেতে পারত যেসব দল, তাদের না খেলেই পেতে হয়েছে এক পয়েন্ট। আর যাদের পয়েন্ট পাওয়ার কথাই ছিল না, তারাও পেয়ে গেছে এক পয়েন্ট। যার ফলে অসন্তোষ তৈরি হয়েছে দলগুলোর মধ্যে। রোববারও ভারত-পাকিস্তান ম্যাচে কালো মেঘের অবস্থান রয়েছে। যা দেখে মনে করা হচ্ছে, ম্যাচের শুরুর সময়ের আশপাশে হালকা বৃষ্টিও হতে পারে। তবে এত দিন যা দেখা গেছে তাতে হালকা বৃষ্টি কোথাও হয়নি। এমন বৃষ্টি হয়েছে যে ম্যাচ ভেস্তে গেছে। সংবাদমাধ্যম এনডিটিভি তাদের খবরে জানায়, স্থানীয় সময় সকাল ১০.৩০ (বাংলাদেশ সময় দুপুর ৩.৩০) থেকে বিকেল ৫টা (বাংলাদেশ সময় রাত ১০.০০) পর্যন্ত পরিস্থিতি ম্যাচের অনুকূলে থাকবে না। আবহাওয়ার পূর্বাভাস দেওয়া ওয়েবসাইট আকুওয়েদার-এর পূর্বাভাস অনুযায়ী, ম্যানচেস্টারে বৃষ্টি হবে স্থানীয় সময় দুপুর ১২টা থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত। এখানে আরো পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে, সারা দিন এখানে তাপমাত্রা থাকবে ১৭ ডিগ্রির আশপাশে। ভারত-পাকিস্তান ম্যাচের দুদিন আগেই ম্যানচেস্টারে প্রবল বৃষ্টি হয়েছে। পিচ ঢেকে রাখা হয়েছে। স্কয়ারও ঢেকে রাখা হয়েছে। কিন্তু কিছুক্ষণ পরেই বৃষ্টি থেমে যায় এবং সূর্য ওঠে। আর এটাই ভারত-পাকিস্তান ম্যাচকে ভরসা দিচ্ছে। যে ম্যাচ দেখতে গোটা বিশ্ব থেকে সমর্থকরা ছুটে এসেছে। ভেস্তে যাওয়াটা বিশ্বকাপের জন্য খুব খারাপ উদাহরণ হয়ে থাকবে। এরই মধ্যে এই আবহাওয়ায় খেলা এবং রিজার্ভ ডে নিয়ে প্রশ্ন উঠে গিয়েছে আইসিসির বিরুদ্ধে। যদি ভারত-পাকিস্তান ম্যাচ ভেস্তে যায়, তা হলে সেই প্রশ্ন যে বাড়বে সেটাই স্বাভাবিক। যে চারটি ম্যাচ ভেস্তে গিয়েছে তার মধ্যে একটি ছিল ভারত-নিউজিল্যান্ডের ম্যাচও। পাকিস্তানেরও একটি ম্যাচ বৃষ্টির জন্য ভেস্তে গেছে। ভারতের সামনে বিশ্বকাপের মঞ্চে পাকিস্তানের বিরুদ্ধে ৬-০ থেকে ফল ৭-০ করার লক্ষ্য। পাকিস্তান সেখানে চাইবে বিশ্বকাপে ভারতের বিরুদ্ধে জয়ের মুখ।
বৃষ্টিতে বিপদে বাংলাদেশ
১১জুন২০১৯,মঙ্গলবার,ক্রীড়া ডেস্ক,নিউজ একাত্তর ডট কম: ব্রিস্টলে বিপদে পড়ল বাংলাদেশ। শেষ পর্যন্ত পণ্ড হলো বাংলাদেশ-শ্রীলঙ্কা ম্যাচ। ব্রিস্টলের আকাশ অঝোরে কাঁদছে। গতকাল থেকে শুরু হওয়া এই বৃষ্টি শেষ পর্যন্ত ভাসিয়ে নিয়ে গেলো ম্যাচটি। ম্যাচ ভেস্তে যাওয়ায় ১টি করে পয়েন্ট পেল দুই দল। তাতে বরং ক্ষতিই হয়েছে বাংলাদেশের। এর আগে তিন ম্যাচের দুটিতে হেরে খাদের কিনারায় চলে যাওয়া বাংলাদেশের সামনে এই ম্যাচটা ছিল মহা গুরুত্বপূর্ণ। তা তো আর হয়নি বরং স্বপ্ন ভঙ্গের কারণ হয়ে দাঁড়ালো এই বৃষ্টি। আগামী পাঁচ ম্যাচ তাই নক-আউট ম্যাচের মতোই হয়ে গেল। এই পাঁচ ম্যাচের চারটিতেই জিততে হবে, যদি সেমিফাইনালে খেলতে হয়। এদিকে চার ম্যাচের একটিতে জয় আর একটিতে হেরেছে শ্রীলঙ্কা। বাকি দুই ম্যাচ পণ্ড হয়েছে বৃষ্টিতে। যে কারণে লঙ্কানদের পয়েন্ট এখন ৪। চার পয়েন্ট নিয়ে পয়েন্ট তালিকায় পাঁচ নম্বরে শ্রীলঙ্কা আর ৩ পয়েন্ট নিয়ে ছয় নম্বরে বাংলাদেশ। ম্যাচ পণ্ড হওয়ায় মাশরাফি জানালেন তিনি মোটেও খুশি নন। তিনি বলেন,আমি সত্যিই আশাহত হয়েছি। আবহাওয়ার উপর যদিও কারোও হাত নেই তবুও বিশ্বকাপের মতো আসরে ম্যাচ পণ্ড হওয়া খুবই হতাশার। পরের ম্যাচের জন্য পাঁচ দিন সময় পাবো। দেখা যাক কি হয়। আগামী ম্যাচের আগে বাংলাদেশ দল বিরতি পাচ্ছে ৫ দিন। ১৭ জুন ওয়েস্ট ইন্ডিজের মুখোমুখি হবে টাইগাররা। উইন্ডিজ মিশন শেষে ২০ জুন অস্ট্রেলিয়া, ২৪ জুন আফগানিস্তান, ২ জুলাই ভারত আর গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচে পাকিস্তানের বিপক্ষে ৫ই জুলাই লড়বেন মাশরাফিরা।
বাংলাদেশকে ৩৮৭ রানের টার্গেট
৮জুন২০১৯,শনিবার,অনলাইন ডেক্স,নিউজ একাত্তর ডট কম:জেসন রয়ের দুর্দান্ত ব্যাটিংয়ে বাংলাদেশের বিপক্ষে রানের পাহাড় গড়ছে ইংল্যান্ড। নির্ধারিত ওভার শেষে ৬ উইকেটে ৩৮৬ রান করেছে স্বাগতিকরা। ইংল্যান্ড বিশ্বকাপে এটিই এখনও পর্যন্ত সর্বোচ্চ দলীয় সংগ্রহ। আর বিশ্বকাপের ইতিহাসে এটি ইংল্যান্ডের সর্বোচ্চ রানের ইনিংস। এর আগে ব্যাঙ্গালুরুতে ভারতের বিপক্ষে ২০১১ সালে ইংল্যান্ড বিশ্বকাপের সর্বোচ্চ ৩৩৮ রান করেছিল। তাই ম্যাচ জিততে হলে কার্ডিফে বাংলাদেশকে ৩৮৭ রান করতে হবে। সেটি করতে পারলে বিশ্বকাপে রান চেজের নতুন ইতিহাস তৈরি হবে। কার্ডিফে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে শনিবার বিকেলে টস জিতে ফিল্ডিংয়ের সিদ্ধান্ত নেন বাংলাদেশ অধিনায়ক মাশরাফি বিন মর্তুজা। জেসন রয়ের ১৫৩ রানের দুর্দান্ত ইনিংসের সুবাদে বড় স্কোরের ভিত্তি তৈরি হয় ইংলিশদের। শুরুতে ব্যাটিংয়ে নেমে জেসন রয় ও জনি বেয়ারস্ট জুটি ১২৮ রানের দারুণ একটা ওপেনিং জুটি গড়েন। এরপর মাশরাফির বলে মেহেদি হাসান মিরাজের হাতে ক্যাচ দিয়ে ফিরে যান বেয়ারস্ট। আউট হওয়ার আগে ৬৫ বল থেকে ১০টি চার ও একটি ছক্কার মারে ৭৪ রানের ইনিংস খেলেন তিনি। এরপর রুটকে ফিরিয়ে দ্বিতীয় উইকেটের পতন ঘটান সাইফুদ্দিন। তার বলে দলীয় ২০৫ রানে ব্যক্তিগত ২১ রানে ফিরেন জো রুট। তবে জেসন রয়কে ব্যক্তিগত নবম সেঞ্চুরি করা থেকে বিরত থাকতে পারেনি বাংলাদেশ। শেষ পর্যন্ত ৩৫তম ওভারের চতুর্থ বলে দলীয় ২৩৫ রানে আউট হন রয়। এর আগেই ১২১ বল থেকে ১৪টি চার ও পাঁচটি ছক্কার মারে ১৫৩ রানের দুর্দান্ত ইনিংস খেলেন তিনি। সেই সুবাদে ইংল্যান্ডকে বড় স্কোরের ভিত্তি নির্মাণ করে দিয়েছেন এই ইংলিশ ওপেনার। পরবর্তী ব্যাটসম্যানদের মধ্যে জস বাটলার ৬৪ ও ইয়ন মরগান ৩৫ রান করেন। ৯ বল থেকে ২৭ রান নিয়ে প্লাঙ্কেট ও ৮ বল থেকে ১৮ রান নিয়ে ক্রিস ওয়েকস অপরাজিত রয়েছেন। প্রথম ম্যাচে দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে জয় এবং দ্বিতীয় ম্যাচে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে অল্প ব্যবধানে হেরে যায় বাংলাদেশ। অপরদিকে ইংল্যান্ড নিজেদের প্রথম ম্যাচে দক্ষিণ আফ্রিকাকে হারিয়েছিল। দ্বিতীয় ম্যাচে তারা পাকিস্তানের কাছে ১৪ রানে হেরেছে। তৃতীয় ম্যাচটি তাই অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ দুদলের কাছেই।