অবশেষে চট্টগ্রাম টেস্ট ড্র
বাংলাদেশ ও শ্রীলঙ্কার মধ্যকার প্রথম টেস্ট ড্র হেয়েছে। প্রথম ইনিংসে ২০০ রানে এগিয়ে থেকে ইনিংস ঘোষণা করলে চট্টগ্রাম টেস্টের পঞ্চম দিন ৭ উইকেট নিয়ে কাটিয়ে দেওয়ার চ্যালেঞ্জ ছিল বাংলাদেশের সামনে। দুই উইকেট হারিয়ে দিন পার করে দিয়েছে স্বাগতিকরা। শুরুতে পথ দেখিয়েছেন বাংলাদেশের প্রথম ব্যাটসম্যান হিসেবে টেস্টের দুই ইনিংসে সেঞ্চুরি করা মুমিনুল হক ও লিটন দাস। দায়িত্বশীল ব্যাটিংয়ে শেষ করেছেন মাহমুদউল্লাহ ও মোসাদ্দেক হোসেন। দারুণ লড়াই করে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে চট্টগ্রাম টেস্ট ড্র করেছে বাংলাদেশ। দারুণ ব্যাটিংয়ে চট্টগ্রাম টেস্ট বাঁচিয়েছে বাংলাদেশ। দিনের খেলা ১৭ ওভার বাকি থাকতে ড্র মেনে নিয়েছেন দুই অধিনায়ক। দ্বিতীয় ইনিংসে ১০০ ওভারে ৫ উইকেটে ৩০৭ রান করে বাংলাদেশ। সে সময় ১০৭ রানে এগিয়ে ছিল স্বাগতিকরা। অধিনায়ক মাহমুদউল্লাহ ২৮ ও মোসাদ্দেক হোসেন ৮ রানে অপরাজিত থাকেন। দুই জনে অবিচ্ছিন্ন ষষ্ঠ উইকেটে ১৭.৪ ওভারে তুলেন ২৮ রান। সংক্ষিপ্ত স্কোর: শ্রীলঙ্কা ১ম ইনিংস: (তৃতীয় দিন শেষে ৫০৪/৩) ১৯৯.৩ ওভারে ৭১৩/৯ ডিক্লে. (করুনারত্নে ০, মেন্ডিস ১৯৬, ধনঞ্জয়া ১৭৩, রোশেন ১০৯, চান্দিমাল ৮৭, ডিকভেলা ৬২, দিলরুয়ান ৩২, হেরাথ ২৪, লাকমল ৯, কুমারা ২*; মুস্তাফিজ ৩২-৬-১১৩-১, সানজামুল ৪৫-২-১৫৩-১, মিরাজ ৪৯-০-১৭৪-৩, তাইজুল ৬৭.৩-১৩-২১৯-৪, মোসাদ্দেক ৩-০-২৪-০, মুমিনুল ২-০-৬-০, মাহমুদউল্লাহ ১-০-৭-০) বাংলাদেশ ১ম ইনিংস: ওভারে ৫১৩ (তামিম ৫২, ইমরুল ৪০, মুমিনুল ১৭৬, মুশফিক ৯২, লিটন ০, মাহমুদউল্লাহ ৮৩*, মোসাদ্দেক ৮, মিরাজ ২০, সানজামুল ২৪, তাইজুল ১, মুস্তাফিজ ৮; লাকমল ২৩.৫-৪-৬৮-৩, কুমারা ১৫-১-৭৯-০, দিলরুয়ান ২৭-৪-১১২-১, হেরাথ ৩৭-২-১৫০-৩, সান্দাকান ২২৩-১-৯২-২, ধনঞ্জয়া ৫-০-১২-০) বাংলাদেশ ২য় ইনিংস: ১০০ ওভারে ৩০৭/৫ (তামিম ৪১, ইমরুল ১৯, মুমিনুল ১০৫, মুশফিক ২, লিটন ৯৪, মাহমুদউল্লাহ ২৮*, মোসাদ্দেক ৮*; হেরাথ ২/৮০, লাকমল ০/২৫, ধনঞ্জয়া ১/৪১, দিলরুয়ান ১/৭৪, সান্দকান ১/৬৪, কুমারা ০/১৬, মেন্ডিস ০/২) ম্যান অফ দ্যা ম্যাচ হয়েছেন মুমিনুল হক। ফল: ২ ম্যাচের সিরিজের প্রথম টেস্ট ড্র। পরের টেস্ট ৮ ফেব্রুয়ারি শুরু হবে ঢাকায়।
মেন্ডিস-সিলভার ব্যাটে প্রতিরোধ শ্রীলংকার
লঙ্কানদের স্কোরবোর্ডে তখন কোন রান যোগ হয়নি। তার আগেই প্রতিপক্ষের শিবিরে আঘাত হানেন মেহেদী হাসান মিরাজ। চট্টগ্রাম টেস্টের দ্বিতীয় দিনে প্রথম ইনিংসে ব্যাট করতে নেমে শুরুতেই সাজঘরে ফিরেন করুনারত্নে। সে সময় টাইগার শিবিরে শুরু হয় উল্লাস। তবে সে উল্লাস বেশি সময় স্থায়িত্ব হয়নি। ম্যাচের বাকিটা সময় কেটেছে হতাশায়। দ্বিতীয় উইকেটে ১৮৭ রানের দারুণ জুটি গড়ে জবাবটা ভালোই দেওয়া শুরু করেন কুশল মেন্ডিস ও ধনঞ্জয় ডি সিলভা। টেস্টের দ্বিতীয় দিন শেষে শ্রীলঙ্কার স্কোরবোর্ডেও জমা হয়েছে এক উইকেট হারিয়ে ১৮৭ রান। বলা চলে ম্যাচ নিজেদের নিয়ন্ত্রণে রেখেছে লঙ্কানরা। প্রথম ইনিংসে এখনো ৩২৬ রানের বড় ব্যবধানে পিছিয়ে থাকলেও আগামীকাল তৃতীয় দিনের খেলা শ্রীলঙ্কা শুরু করবে ৯টি উইকেট হাতে নিয়ে। ফলে হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়েরই আভাস পাওয়া যাচ্ছে। দ্বিতীয় দিনের শেষপর্যায়ে শতক পূরণ করে ফেলেছেন ধনঞ্জয় ডি সিলভা। তৃতীয় দিনে তিনি ব্যাট করতে নামবেন ১০৪ রান নিয়ে। আর কুশল মেন্ডিসও পৌঁছে গেছেন শতকের দ্বারপ্রান্তে। অপরাজিত আছেন ৮৩ রান করে। এর আগে প্রথম ইনিংসে বাংলাদেশ সংগ্রহ করেছিল ৫১৩ রান। মুমিনুল হকের ১৭৬, মুশফিকুর রহিমের ৯২, মাহমুদউল্লাহর অপরাজিত ৮৩, তামিম ইকবালের ৫২, ইমরুল কায়েসের ৪০ রানের ইনিংসগুলোতে ভর করে প্রথম ইনিংসে শক্ত অবস্থানই গড়ে নিয়েছে স্বাগতিক বাংলাদেশ।
চট্টগ্রাম টেস্টের দ্বিতীয় দিনের খেলা চলছে
খেলায় মধ্যবিরোতি চলছে, এখন পর্যন্ত বাংলাদেশের সংগ্রহ ৭ উইকেটে ৪৬৭ রান মাহমুদুল্লা ৪৯ এবং সানজামুল ২৩ রানে অপরাজিত রয়েছে। এছাড়া আজ মুমিনুল হক ১৭৬, মোসাদ্দেক ৮, মেহেদী ২০ রান করে আউট হয়। ২য় দিনে বাংলাদেশের সংগ্রহ ২৮ ওভারে ৯৩ রান। আজ দিনের শুরুতে হেরাথ ২ উইকেট তুলেনেয়। এর আগে প্রথম দিন টস জিতে প্রথমে ব্যাট করে ৪ উইকেটে ৩৭৪ রান করেছিলো বাংলাদেশ। দিন শেষে মোমিনুল হক ১৭৫ ও অধিনায়ক মাহমুদুল্লাহ রিয়াদ ৯ রানে অপরাজিত থাকেন। এছাড়াও দলের পক্ষে তামিম ইকবাল ৫২, ইমরুল কায়েস ৪০, মুশফিকুর রহিম ৯২ ও লিটন কুমার দাস শুন্য রান করেন। শ্রীলংকার পক্ষে সুরাঙ্গা লাকমল ২টি এবং দিলরুয়ান পেরেরা-লক্ষণ সান্দাকান ১টি করে উইকেট নেন।
মুশফিক মুমিনুলের ব্যাটিং নৈপুন্যে বড় সংগ্রহের পথে বাংলাদেশ
ব্যাটসম্যানদের দাপটে প্রথম দিনটা নিজের করে নিলো বাংলাদেশ। তামিম ইকবাল এবং মুশফিকুর রহিমের ব্যাট থেকে এসেছে ফিফটি। আর সেঞ্চুরি হাঁকিয়ে অপরাজিত আছেন মুমিনুল হক। তাকে সঙ্গ দিয়ে যাচ্ছেন অধিনায়ক মাহমুদুল্লাহ রিয়াদ। চোটে পড়ায় দলে নেই নিয়মিত অধিনায়ক সাকিব আল হাসান। তার পরিবর্তে এদিন টস করেন মাহমুদুল্লাহ রিয়াদ। চট্টগ্রামে টসভাগ্যও সহায় হয় মাহমুদুল্লাহ'র। সিদ্ধান্ত নেন আগে ব্যাট করার। অধিনায়কে সিদ্ধান্তকে সঠিক প্রমাণ করেন দুই ওপেনার তামিম ইকবাল এবং ইমরুল কায়েস। দলীয় ৭২ রানে প্রথম উইকেট হারায় বাংলাদেশ। মাত্র ৫৩ বলে ৫২ রান করে দিলরুয়ান পেরেরার বলে বোল্ড হয়ে ফেরেন তামিম। লাঞ্চ বিরতির আগের বলে আরেক ওপেনার ইমরুল কায়েসকে এলবিডব্লি'র ফাঁদে ফেলেন সান্দাকান। রিভিউ নিলে হয়তো বেচে যেতেন পারতেন। তবে অপরপ্রান্ত থাকা মুমিনুলের সাড়া না পাওয়ায় সাজঘরে ফেরেন ইমরুল। এরপর শুরু হয় মুমিনুল কাব্য। টেস্টের প্রথম দিনে সবচেয়ে বেশি রান করা বাংলাদেশি মুমিনুল হক। তবে যেকোনো দিনে সর্বোচ্চ রান করা ব্যাটসম্যান সাকিব আল হাসান। ওয়েলিংটনে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে দ্বিতীয় দিনে ২১২ রান করেছিলেন সাকিব। এদিক থেকে মুমিনুলের অবস্থান সাকিবের পরেই। এদিন আরও একটি মাইলফলক স্পর্শ করেছেন মুমিনুল। বাংলাদেশি ব্যাটসম্যান হিসেবে দ্রুততম সময়ে দুই হাজারি ক্লাবে পা রেখেছেন মুমিনুল (৪৭ ইনিংসে)। এ ম্যাচে নামার আগে তার দরকার ছিলো ১৬০ রান। সাবলীল ব্যাটিংয়ে তামিমকে (৫৩ ইনিংসে) ছাড়িয় যান তিনি। সাকিব না থাকায় বাড়তি দায়িত্ব ছিলো মুশফিকের ওপর। দলে লিটন দাস থাকায় কিপিংও হয়তো করত হবে না। তাই আগেভাগেই ব্যাটে নামানো হয় মুশফিককে। ব্যাট হতে আস্থার প্রতিদান ঠিকই দিয়েছেন মুশি। এদিন সেঞ্চুরির সংখ্যায় তাকে স্পর্শ করেছেন মুমিনুল। মুশির সুযোগ এসেছিলো ফের মুমিনুলকে ছাড়িয়ে যাবার। তবে মাত্র ৮ রানের আক্ষেপ নিয়ে মাঠ ছাড়তে হয় তাকে। দিনের খেলা তখন বাকি মাত্র ছয় ওভারে মতো। উইকেটে এসে শ্বাস নেবার আগেই ফিরে যান লিটন দাস। লাকমলের বলে বোল্ড হয়ে ফিরে যান তিনি। শেষ বিকেলে টাইগারদের কিছুটা অস্বস্তিতেই ফেলে দেন লাকমল। তবে মাহমুদুল্লাহ'র সঙ্গে অপরাজিত থেকেই দিনের খেলা শেষ করেন মুমিনুল। টেস্টে নিজের ক্যারিয়ারসেরা ইনিংস থেকে মাত্র ৬ রান দূরে আছেন তিনি। প্রথম দিন শেষে সংক্ষিপ্ত স্কোর: বাংলাদেশ (প্রথম ইনিংস): ৩৭৪/৪ (তামিম ৫২, ইমরুল ৪০, মুশফিক ৯২, মুমিনুল ১৭৫*, মাহমুদুল্লাহ ৯*; লাকমল ২/৪৩)
টস জিতে ব্যাটিংয়ে বাংলাদেশ
চট্টগ্রাম টেস্টে টস জিতে ব্যাটিং বেছে নিয়েছেন বাংলাদেশের ভারপ্রাপ্ত অধিনায়ক মাহমুদউল্লাহ। ইনজুরির কারণে নিয়মিত অধিনায়ক সাকিব আল হাসান না থাকায় দলকে নেতৃত্ব দিচ্ছেন মাহমুদুল্লাহ রিয়াদ। আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অধিনায়কত্বের অভিষেক হচ্ছে তাঁর। টেস্ট অভিষেক হচ্ছে বাঁহাতি স্পিনার সানজামুল ইসলামের। চট্টগ্রামের স্পিন-উপযোগী উইকেটে তিন স্পিনার নিয়ে মাঠে নামছে বাংলাদেশ। সুযোগ হয়নি আবদুর রাজ্জাকের। একাদশে একমাত্র পেসার হিসেবে আছেন মোস্তাফিজুর রহমান। বাংলাদেশ একাদশ: তামিম ইকবাল, ইমরুল কায়েস, লিটন দাস, মুমিনুল হক, মাহমুদউল্লাহ, মুশফিকুর রহিম, মোসাদ্দেক হোসেন, মেহেদী হাসান মিরাজ, তাইজুল ইসলাম, মোস্তাফিজুর রহমান, সানজামুল ইসলাম। বাংলাদেশের সংগ্রহ ২০ ওভারে ১ উইকেটে ১০২ রান। ব্যাটিং এ আছে মুমিনল এবং ইমরুল
৫ উইকেটে জিতল বাংলাদেশ
যুব বিশ্বকাপে নিউজিল্যান্ডের কুইন্সটাউনে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে পঞ্চম স্থান নির্ধারণী প্লে অফে ইংল্যান্ডকে ৫ উইকেটে হারিয়েছে টাইগার যুবারা। ইংলিশদের গড়া ২১৬ রানের জবাবে ৫ উইকেট হারিয়ে জয় পায় বাংলাদেশ। এদিকে প্রথমে ব্যাট করতে নেমে দুর্দান্ত শুরু করলেও পরে আর তা ধরে রাখতে পারেনি ইংল্যান্ড। ৪৭.২ ওভারে ২১৬ রানেই গুটিয়ে যায় ইংলিশরা। ইংল্যান্ড দলীয় ১৭ রানের মাথায় প্রথম টম বেনটনের উইকেট হারায়। অধিনায়ক হ্যারি ব্রুক ও লিয়াম ব্ল্যাংকের পঞ্চাশোর্ধ্ব দুই ইনিংসে ইংল্যান্ড অনূর্ধ্ব-১৯ দল নিজেদের সংগ্রহটা অনেক ওপরে নিয়ে যাওয়ার স্বপ্নই দেখছিল। কিন্তু বাংলাদেশ অনূর্ধ্ব-১৯ দলের বোলাররা ইংল্যান্ডের সংগ্রহটা প্রত্যাশামাফিক হতে দেননি। শেষ ২২ ওভারে ৭৮ রানে ৯ উইকেট হারায় ইংলিশরা। বাংলাদেশের পক্ষে হাসান ও আফিফ ৩টি করে উইকেট পেয়েছেন। অনিক নিয়েছেন ২ উইকেট। অন্যদিকে, আজও দুর্দান্ত ছিলেন অলরাউন্ডার আফিফ হোসেন। ৮৬ বলে ৭১ রান করে জয়ের খুব কাছাকাছি এসে আউট হন তিনি। ইংলিশদের গড়া ২১৬ রানের বিপক্ষে ৫ উইকেট ও ১৫ বল হাতে রেখেই জয় নিশ্চিত করে বাংলাদেশ।
শিরোপার জন্য বাংলাদেশের দরকার ২২২ রান
২১ ওভারেই একশ' পূরণ করে শ্রীলঙ্কা। হাতে তখনো ৮ উইকেট। ক্রিজে দুই সেট ব্যাটসম্যান উপল থারাঙ্গা এবং নিরোশান ডিকওয়ালা। সেই শ্রীলঙ্কাকেই শেষ পর্যন্ত মাত্র ২২১ রানেই বেঁধে ফেললো বাংলাদেশ। শুরুতেই উইকেট হারালেও রীতিমতো ঝড় তুলছিলেন লঙ্কান ব্যাটসম্যানরা। ৬ রানে গুনাথিলাকাকে ফেরানোর পর মেহেদী মিরাজের এক ওভারেই ২৪ রান তুলে নেন কুশাল মেন্ডিস। তবে মেন্ডিস ঝড়টা দ্রুতই থামিয়ে দেন অধিনায়ক মাশরাফি। মাহমুদুল্লাহ'র হাতে ক্যাচ দেয়ার আগে তিনি করেন ৯ বলে ২৮ রান। এরপর ডিকওয়ালার সঙ্গে ৭১ রানের এবং চান্দিমালের সঙ্গে ৪৫ রানের জুটি বেধে দলকে স্বস্তিদায়ক জায়গায় নিয়ে যান থারাঙ্গা। যদিও রানটা চেপেই রেখেছিলেন টাইগার বোলাররা। ৪২ রানে ডিকওয়ালাকে ফেরান মোহাম্মদ সাইফুদ্দিন। আর মোস্তাফিজের বলে বোল্ড হবার আগে থারাঙ্গা করেন ৫৬ রান। ওয়ানডেতে থাঙ্গার উইকেটটি মোস্তাফিজের পঞ্চাশতম উইকেট। এরমধ্য দিয়েই বাংলাদেশি বোলারদের মধ্যে দ্রুততম সময়ে পঞ্চাশ উইকেটের মাইলফলক স্পর্শ করলেন মোস্তাফিজ। রুবেলের বলে ২ রানে পেরেরা ফিরে গেলে চাপে পড়ে শ্রীলঙ্কা। লড়াই চালিয়ে যাচ্ছিলেন অধিনায়ক চান্দিমাল। ৪৫ রানে তাকে বোল্ড করে ফেরান রুবেল। এরপর মোস্তাফিজ-রুবেলদের নিয়ন্ত্রিত বোলিংয়ে আর বেশিদূর যেতে পারেনি লঙ্কানরা। ১০ ওভার বল করে ৪০ রান দিয়ে ৪টি উইকেট তুলে নিয়েছেন রুবেল। মোস্তাফিজের ২টির পাশাপাশি ১টি করে উইকেট নিয়েছেন মাশরাফি, মিরাজ এবং সাইফুদ্দিন। সংক্ষিপ্ত স্কোর: শ্রীলঙ্কা: ২২১/১০ (থারাঙ্গা ৫৬, ডিকওয়ালা ৪২, চান্দিমাল ৪৫; রুবেল ৪/৪৬, মোস্তাফিজ ২/২৯)
বোলিং নৈপুণ্যে জয় পেল অস্ট্রেলিয়া
ত্রিশতম ওভারে বোলিংয়ে আদিল রশিদকে এনে বেশির ভাগ ফিল্ডারদের ১৫ গজের মধ্যে নিয়ে এলেন ইংল্যান্ড অধিনায়ক এউইন মরগান। বোধ হয় ফাটকা খেলতে চেয়েছিলেন! জয় থেকে অস্ট্রেলিয়া তখন মাত্র ৪২ রান দূরে। হাতে ৫ উইকেট। এ অবস্থায় তো যেকোনো কিছুই ঘটতে পারে! ঘটানোর বেশ কাছেই পৌঁছে গিয়েছিলেন মরগান। পরবর্তী ৭ ওভারের মধ্যে আরও ২ উইকেট তুলে নিয়ে ভালোই চাপ সৃষ্টি করেছিলেন অস্ট্রেলিয়ার ওপর। কিন্তু শেষ রক্ষা হয়নি। ৭৮ বল হাতে রেখে ৩ উইকেটের জয় তুলে নিয়েছে অস্ট্রেলিয়া। সিরিজ খোয়ানোর পর চতুর্থ ম্যাচে স্টিভেন স্মিথের দলের এ জয় স্রেফ সান্ত্বনার। আগের তিন ম্যাচ জিতে আগেই সিরিজ নিজেদের করে নিয়েছে ইংল্যান্ড। রোববার পার্থে পঞ্চম ও শেষ ম্যাচ। প্রথম তিন ম্যাচেই দুর্দান্ত ব্যাটিং করেছেন ইংলিশ ব্যাটসম্যানরা। অ্যাডিলেডে সেটা করতে পারেনি ইংল্যান্ড। জস হ্যাজেলউড, প্যাট কামিন্স ও অ্যান্ড্র্রু টাইয়ের পেস তোপে ৪৪.৫ ওভারে মরগানের দল অলআউট হয়েছে মাত্র ১৯৬ রানে। কামিন্স নিয়েছেন ৪ উইকেট, ৩টি করে উইকেট হ্যাজেলউড ও টাইয়ের। আটে নেমে ক্রিস ওকস ৭৮ রান না করলে ইংলিশরা আরও অনেক কম রানে গুটিয়ে যেত। ছোট লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে গুটিয়ে যেতে পারত অস্ট্রেলিয়াও! তাঁদের শুরুটাও যে ভালো হয়নি। ৭০ রানের মধ্যে ফিরেছেন ডেভিড ওয়ার্নার, ক্যামেরন হোয়াইট ও স্টিভেন স্মিথ। ১১২ রানের মধ্যে মিচেল মার্শও ফিরে গেলে দারুণ কিছুর ইঙ্গিত পেয়েছিল ইংল্যান্ড। কিন্তু ট্রাভিস হেড দেখেছিলেন অন্য কিছুর ইঙ্গিত, সেঞ্চুরির। দলকে বিপদে দেখে একপ্রান্ত আগলে রেখে শম্বুক গতিতে ব্যাটিং করেছেন এমনও নয়। বরং ১৫ বাউন্ডারিতে বেশ দ্রুতগতিতেই রান তুলেছেন হেড। তাঁর ১০৫ বলের ইনিংসটি থমকে গেছে দলের জয় থেকে হাত ছোঁয়া দূরে। ৩৫তম ওভারের দ্বিতীয় বলে হেড যখন মার্ক উডের শিকার হলেন, জয় থেকে অস্ট্রেলিয়া তখন মাত্র ১৭ রানের দূরত্বে। হাতে ৪ উইকেট। দলকে জিতিয়ে মাঠ ছাড়তে পারলে সেঞ্চুরিও হয়ে যেত হেডের। কিন্তু সব হারানোর পর অস্ট্রেলিয়ার এ জয়ে হেডের সেঞ্চুরি (৯৬) না পাওয়াটাই আক্ষেপ হয়ে থাকবে। আর ইংল্যান্ডের আক্ষেপ শুধু স্বল্প স্কোরের জন্য হেডের পর কামিন্সকে তুলে নিয়েও জয় না পাওয়া। আর কয়েকটা রান যদি করা যেত!