চট্টগ্রাম ভাইকিংসের মুখোমুখি কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ান্স
ক্রীড়া ডেস্ক : বিপিএলের অন্য ম্যাচে চট্টগ্রাম ভাইকিংসের মুখোমুখি হবে কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ান্স। মিরপুরের শেরে বাংলা জাতীয় স্টেডিয়ামে এই ম্যাচটি শুরু হবে রোববার সন্ধ্যা সাড়ে ছয়টায়। পয়েন্ট টেবিলে ভাইকিংস ও ভিক্টোরিয়ান্স দুই দলই আছে পাশাপাশি। তিনটি করে ম্যাচ খেলে দুই দলই পেয়েছে সমান দুটি করে জয়। দারুণ দল গড়েও রংপুরের বিপক্ষে মাত্র ৬৩ রানে অলআউটের লজ্জা পেতে হয়েছিল কুমিল্লাকে। তবে পরের ম্যাচেই রাজশাহী কিংসের বিপক্ষে ঘুরে দাঁড়িয়েছে দলটি। ইনজুরির কারণে অধিনায়ক স্টিভেন স্মিথ না থাকলেও, শহীদ আফ্রিদি, শোয়েব মালিক আছেন দারুণ ফর্মে। তামিম-ইমরুল সহ আছেন দেশীয় বেশকিছু তারকা। অন্যদিকে, খুলনা টাইটান্সের বিপক্ষে সুপার ওভারে জয় নিয়ে দারুণ আত্মবিশ্বাসী চট্টগ্রাম ভাইকিংস। মাঝারি মানের দল গড়েও, জয় পাচ্ছে দলটি। মুশি বাহিনীকে তাই সমীহ করেই খেলতে নামবে কুমিল্লা।
সুপার ওভারে খুলনাকে হারালো চিটাগং
ক্রীড়া ডেস্ক: বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগ (বিপিএল) টি-২০ ক্রিকেটের ইতিহাসে প্রথম সুপার ওভার অনুষ্ঠিত হলো চলমান অর্থাৎ ষষ্ঠ আসরে। ষষ্ঠ আসরের একাদশ ম্যাচে আজ শনিবার সুপার ওভারে খুলনা টাইটান্সকে হারালো চিটাগং ভাইকিংস। নির্ধারিত ২০ ওভারে ৬ উইকেটে ১৫১ রান করেছিল খুলনা টাইটান্স। জবাবে ২০ ওভারে ৮ উইকেটে ১৫১ রান করে চিটাগং ভাইকিংস। ফলে ম্যাচটি টাই হয়। পরে সুপার ওভারে বিজয়ী দল নির্ধারণ করা হয়। নিজেদের তৃতীয় ম্যাচে দ্বিতীয় জয়ের স্বাদ নিলো চিটাগং। অন্যদিকে টানা চার ম্যাচে হারের স্বাদ নিলো খুলনা। মিরপুর শেরে বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে টস জিতে প্রথমে ফিল্ডিং বেছে নেয় চিটাগং ভাইকিংস। দলকে ৩১ রানের সূচনা এনে দেন দলের দুই ওপেনার আয়ারল্যান্ডের পল স্টার্লিং ও জুনায়েদ সিদ্দিকী। দু জনের কেউই বড় ইনিংস খেলতে পারেননি। জুনায়েদ ১৫ বলে ২০ ও স্টার্লিং ১০ বলে ১৮ রান করেন। দুই ওপেনারের বিদায়ের পর ৭৭ রানের জুটি গড়েন ইংল্যান্ডের ডেভিড মালান ও অধিনায়ক মাহমুদুল্লাহ রিয়াদ। বড় ইনিংসের ইঙ্গিত দিয়ে হাফ-সেঞ্চুরির আগে থেমেছেন তারা। মালান ৪৩ বলে ৪৫ রান ও মাহমুদুল্লাহ ৩১ বলে ৩৩ রান করেন। এছাড়া ওয়েস্ট ইন্ডিজের কার্লোস ব্রার্থওয়েট ৫ বলে ১২ রান করেন। ফলে ২০ ওভারে ৬ উইকেটে ১৫১ রান করে খুলনা টাইটান্স। চিটাগং ভাইকিংসের বাঁ-হাতি স্পিনার সানজামুল ইসলাম ২টি উইকেট নেন। জবাবে দলীয় ১২ রানে আফগানিস্তানের ওপেনার মোহাম্মদ শেহজাদকে হারায় চিটাগং ভাইকিংস। তবে দ্বিতীয় উইকেটে ৩৯ রানে জুটি গড়ে চিটাগং-এর রানের চাকা সচল রেখেছিলেন দক্ষিণ আফ্রিকার ক্যামেরন ডেলপোর্ট ও ইয়াসির আলি। ডেলপোর্ট ১৭ রানে থামলেও ৩৪ বলে ৪১ রানের ছোট্ট ও দায়িত্বপূর্ণ ইনিংস খেলেন ইয়াসির। মিডল অর্ডারে জিম্বাবুয়ের সিকান্দার রাজা রানের খাতাই খুলতে পারেননি। ওয়েস্ট ইন্ডিজের ব্রার্থওয়েটের বলে বোল্ড হন তিনি। পরবর্তীতে শেষ ৫ ওভারে ৫২ রান প্রয়োজন পড়ে চিটাগং-এর। তখন উইকেটে ছিলেন অধিনায়ক মুশফিকুর রহিম ও মোসাদ্দেক হোসেন। বেশি দূর একসাথে যেতে পারেননি মুশফিক ও মোসাদ্দেক। ১৭তম ওভারে ১২ বলে ১২ রান করে বিদায় নেন মোসাদ্দেক। পরের ওভারে উইকেট পতনের তালিকায় নাম তুলেন মুশফিকও। ১টি চার ও ২টি ছক্কায় ২৬ বলে ৩৪ রান করেন মুশফিক। এরপর শেষ দিকে এসে, শেষ ওভার ১৯ রান দরকার ছিলো চিটাগং-এর। শেষ ওভারে বল হাতে নেন খুলনার আরিফুল হক। তার দ্বিতীয় ডেলিভারিতে নাইম হাসান এবং চতুর্থ ও পঞ্চম বলে ফ্রাঙ্কলিন ছক্কা মারেন। শেষ বলে ১ রান দরকার ছিলো চিটাগং-এর। শেষ বলে রান আউট হন ফ্রাঙ্কলিন। ফলে ম্যাচটি টাই হয়। ১৩ বলে ২৩ রান করে আউট হন ফ্রাঙ্কলিন। ২টি করে উইকেট নেন ব্রার্থওয়েট ও শরিফুল ইসলাম। টাই হওয়ায় ম্যাচটি সুপার ওভারে গড়ায়। বিপিএলের ইতিহাসে এটিই ছিল প্রথম সুপার ওভার। সেখানে প্রথমে ব্যাট করে চিটাগং ভাইকিংস। ১ ওভারে ১ উইকেটে ১১ রান করে চিটাগং। জবাবে ১ ওভারে ১ উইকেটে ১০ রান করে খুলনা। ফলে ম্যাচটি জিতে নেয় চিটাগং। সংক্ষিপ্ত স্কোর: খুলনা টাইটান্স: ১৫১/৬, ২০ ওভার (মালান ৪৫, মাহমুদুল্লাহ ৩৩, সানজামুল ২/৩৭)। চিটাগং ভাইকিংস: ১৫১/৮, ২০ ওভার (ইয়াসির ৪১, মুশফিক ৩৪, ব্রার্থওয়েট ২/৩০)। ফল: ম্যাচ টাই, সুপার ওভারে জিতলো চিটাগং ভাইকিংস।
বদলে গেল বিপিএলের সময়সূচি
ক্রীড়া ডেস্ক: বিপিএলের ষষ্ঠ আসর মাঠে গড়িয়েছে ৫ জানুয়ারি থেকে। কিন্তু আগের আসরগুলোর মতো এবার দর্শকদের ঢল দেখা যাচ্ছে না মাঠে। আয়োজকদের নানারকম অব্যবস্থাপনা আর ম্যাচের সময় নিয়ে বিস্তর অভিযোগ মাঠ ও মাঠের বাইরের টিভি দর্শকদের। বহুমুখী সমালোচনার পর শেষ পর্যন্ত নড়েচড়ে বসেছে আয়োজকরা। আজ শনিবার থেকে থেকে বদলে যাচ্ছে বিপিএলের সময়সূচি। আজ থেকে বিপিএলে দিনের প্রথম ম্যাচটি দুপুর সাড়ে ১২টার পরিবর্তে শুরু হবে দুপুর দেড়টায়। আর দ্বিতীয় ম্যাচটি বিকেল সাড়ে ৫টার পরিবর্তে সন্ধ্যা সাড়ে ৬টায় শুরু হবে। তবে শুক্রবারে থাকা ম্যাচগুলো আগের মতোই দুপুর ২টা আর সন্ধ্যা ৭টায় শুরু হবে। টুর্নামেন্টের বাদবাকি সব ম্যাচের জন্য এই পরিবর্তিত সময়সূচি প্রযোজ্য হবে। বিপিএল গভর্নিং কাউন্সিলের সদস্য ও বিসিবির পরিচালক জালাল ইউনুস সংবাদমাধ্যমকে পরিবর্তিত সময়সূচির কথা নিশ্চিত করেছেন। বিপিএলের টেকনিক্যাল কমিটির প্রধানের দায়িত্বে থাকা জালাল ইউনুস বলেন, প্রথম কয়েকদিন মাঠে প্রত্যাশিত দর্শক হয়নি। আশা করছি পরিবর্তিত সময়ে ছাত্রছাত্রীসহ অনেকেই মাঠে উপস্থিত হবেন। শুরু থেকেই নিম্নমানের সম্প্রচার, ধারাভাষ্যে অসামঞ্জস্য, ডিআরএস সিস্টেমে স্নিকোমিটার ও আলট্রা এজ না থাকাসহ বিভিন্ন অভিযোগ চলছিল বিপিএলের এবারের আসর নিয়ে। তবে সময়সূচিতে পরিবর্তন এনে মাঠে দর্শক টানার ক্ষেত্রে বড় একটি ইতিবাচক পদক্ষেপ নিল বিপিএল কর্তৃপক্ষ।
রংপুরকে ২ রানে হারাল ঢাকা
ক্রীড়া ডেস্ক: বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগ (বিপিএল) টি-২০ ক্রিকেট টুর্নামেন্টের ষষ্ঠ আসরের উত্তেজনাপূর্ণ নবম ম্যাচে রংপুর রাইডার্সকে ২ রানে হারিয়েছে ঢাকা ডায়নামাইটস। নিজেদের তৃতীয় ম্যাচে হ্যাটট্রিক জয়ের স্বাদ নিলো ঢাকা। আর চতুর্থ ম্যাচে দ্বিতীয় হারের স্বাদ নিলো রংপুর রাইডার্স। মিরপুর শেরে বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে টস জিতে প্রথমে ফিল্ডিংয়ের সিদ্ধান্ত নেন রংপুর রাইডার্সের অধিনায়ক মাশরাফি বিন মর্তুজা। ব্যাটিংয়ে নেমে ৬৪ রানে ৪ উইকেট হারায় ঢাকা ডায়নামাইটস। তবে ছয় নম্বরে নেমে ঢাকাকে খেলায় ফেরান অধিনায়ক সাকিব আল হাসান ও ওয়েস্ট ইন্ডিজের কাইরন পোলার্ড। সাকিব ৩৭ বলে ৩৬ রান করেন। তবে ব্যাট হাতে দলের পক্ষে সর্বোচ্চ ৬২ রান করেন ওয়েস্ট ইন্ডিজের কাইরন পোলার্ড। তার ২৬ বলের ছোট্ট ও ঝড়ো ইনিংসে ৫টি চার ও ৪টি ছক্কা ছিলো। এছাড়া আন্দ্রে রাসেল ১৩ বলে ২৩, রনি তালুকদার ১৮ ও মিজানুর রহমান ১৫ রান করেন। রংপুরের পেসার শফিউল ইসলাম ৩টি, ইংল্যান্ডের খেলোয়াড় বেনি হাওয়েল-সোহাগ গাজী ২টি করে উইকেট নেন। জবাবে ওভার প্রতি ৯-এর বেশি টার্গেট নিয়ে খেলতে নেমে দলীয় ১৯ রানে ওয়েস্ট ইন্ডিজের মারকুটে ব্যাটসম্যান ক্রিস গেইলকে হারায় রংপুর। ৯ বলে ৮ রান করে ফিরেন গেইল। আরেক ওপেনার মেহেদি মারুফও বড় স্কোর গড়তে পারেননি। ১০ রান করেন তিনি। তবে তৃতীয় উইকেটে ১২১ রান যোগ করে রংপুরকে ম্যাচের লাগাম দিয়ে দেন দক্ষিণ আফ্রিকার রিলি রুশো ও মোহাম্মদ মিথুন। মিথুন ৪৯ রানে থেমে গেলেও রৌসু ৮৩ রানের দুর্দান্ত ইনিংস খেলেন। ৮টি চার ও ৪টি ছক্কায় ৪৪ বলে নিজের ইনিংসটি সাজান রুশো। তবে রুশো ও মিথুন ফিরে যাবার পর তাসের ঘরের মত ভেঙে পড়ে রংপুরের মিডল-অর্ডার ব্যাটসম্যান। ২ উইকেটে ১৪৬ রান থেকে ১৯ ওভারে ৯ উইকেটে ১৭০ রানে পরিণত হয় রংপুর। তাই শেষ ওভারে ১৪ রান প্রয়োজন পড়ে রংপুরের। কিন্তু শেষ পর্যন্ত ওই ওভার থেকে রংপুরের শেষ দুই ব্যাটসম্যান শফিউল ইসলাম ও নাজমুল ইসলাম ১১ রান করতে পারেন। শেষ পর্যন্ত ২০ ওভারে ৯ উইকেটে ১৮১ রান পর্যন্ত যেতে সক্ষম হয় রংপুর। ঢাকার আল ইসলাম ২৬ রানে ৪ উইকেট নেন। এ ম্যাচ দিয়েই টি-২০ ফরম্যাটে অভিষেক হয় ইসলামের। নিজের অভিষেক ম্যাচেই সেরা খেলোয়াড় নির্বাচিত হন ইসলাম। সংক্ষিপ্ত স্কোর : ঢাকা ডায়নামাইটস: ১৮৩/৯, ২০ ওভার (পোলার্ড ৬২, সাকিব ৩৬, শফিউল ৩/৩৫)। রংপুর রাইডার্স: ১৮১/৯, ২০ ওভার (রৌসু ৮৩, মিথুন ৪৯, ইসলাম ৪/২৬)। ফল : ঢাকা ডায়নামাইটস ২ রানে জয়ী। ম্যাচ সেরা : আল ইসলাম (রংপুর রাইডার্স)।
ঘুরে দাঁড়াতে মরিয়া সিলেট,আলো ছড়াতে চায় চিটাগং
ক্রীড়া ডেস্ক: বিপিএলে নিজেদের প্রথম ম্যাচে রংপুরকে আটকে দিলেও, সেরা পারফর্ম করতে পারেনি চিটাগং ভাইকিংস। তাই পরবর্তী ম্যাচে সব বিভাগে ইতিবাচক ক্রিকেট খেলার লক্ষ্য চিটাগং পেসার খালেদ আহমেদের। অন্যদিকে, প্রথম ম্যাচে হেরে ধাক্কা খেয়েছে সিলেট সিক্সার্স। তবে, পরের ম্যাচে জয়ের ধারায় ফিরতে বদ্ধপরিকর তারা। বিপিএলের গেল আসরে মাত্র ৩টি জয়ে টেবিলের তলানিতে ছিলো চিটাগং ভাইকিংস। এবার অবশ্য ষষ্ঠ আসরে জয় দিয়েই মিশন শুরু করে বন্দর নগরীর দলটি। হারিয়েছে আসরের বর্তমান চ্যাম্পিয়ন রংপুর রাউডার্সকে। গেলো ম্যাচে ভাইকিংসের বোলিং দৃষ্টি কেড়েছে। কিন্তু, ব্যাটসম্যানরা নিজেদের মেলে ধরতে ব্যর্থ হয়েছেন। এবার তাই ব্যাটিংয়ের উপর জোর দিয়েছে টিম ম্যানেজমেন্ট। এমনটাই জানান তরুণ পেসার খালেদ আহমেদ। কারণ এবারের আসরের চিটাগংয়ের লক্ষ্য শিরোপার রেসে টিকে থাকার। 'আমি যতটুকু দেখেছি, লো স্কোরিং ম্যাচ এমনই হয়। আমাদের কোচ ব্যাটিং নিয়ে অনেক কাজ করছেন। এই ম্যাচ থেকে আরো ভালো বোলিং, ব্যাটিং, ফিল্ডিং করার চেষ্টা থাকবে।' বলছিলেন খালেদ। তিনি বলেন, 'বিপিএল আমার জন্য অনেক চ্যালেঞ্জিং। আমি চাইবো এখানে অনেক ভালো করতে। এখানে ভালো করে আমি জাতীয় দলে পাকাপোক্ত হতে চাই।' অন্যদিকে, হার দিয়ে আসর শুরু করে সিলেট সিক্সার্স। নিজেদের প্রথম ম্যাচে তারকা সমৃদ্ধ কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ান্সের কাছে ৪ উইকেটে হেরে যায় ডেভিড ওয়ার্নারের দল। এবার জয়ের ধারায় ফিরতে চায় তারা। সেই ধারায় তিন বিভাগেই উন্নতি করার বিকল্প নেই মানছে ক্রিকেটাররা। তাই গেলো ম্যাচের ভুল শুধরে, ইতিবাচক ক্রিকেট খেলার প্রত্যয়। দলের পাকিস্তানি পেসার সোহেল তানভীর বলেন, দেখুন প্রথম ম্যাচে আমরা আশানুরূপ খেলতে পারি নি। তারপরও বোলিং ও ফিল্ডিংয়ে দলের ক্রিকেটাররা ভাল করেছে। পরবর্তী ম্যাচে সব বিভাগে সেরাটা খেলে জয়ের লক্ষেই মাঠে নামবো। বুধবার (৯ জানুয়ারি) দুপুর সাড়ে ১২টায় দিনের প্রথম ম্যাচে মুশফিকের চিটাগং ভাইকিংসের মুখোমুখি হবে ডেভিড ওয়ার্নারের সিলেট সিক্সার্স।
পরীক্ষায় কেমন সফল মিরাজ?
ক্রীড়া ডেস্ক: আগের দুই আসরে অটোমেটিক চয়েস হিসেবে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিশ্বকাপজয়ী অধিনায়ক ড্যারেন স্যামি অধিনায়কত্ব করেছেন রাজশাহী কিংসের। বিপিএলের ষষ্ঠ আসরে এবার স্যামি না থাকায় অধিনায়কের দায়িত্ব কে পেতে পারেন, সেটা নিয়ে একটা চাপা গুঞ্জন চলছিল। রাজশাহী অধিনায়কের নাম ঘোষণায় বিলম্ব হওয়ায় আলোচনার পালে লাগে প্রবল হাওয়া। দর্শক, সমর্থক সবার মধ্যেই একটা ধারণা ছিল যে চমক আসতে পারে অধিনায়ক নির্বাচনে। টুর্নামেন্ট শুরুর ঠিক আগ মুহূর্তে বেশ বড় চমক দিয়ে অধিনায়কের গুরুদায়িত্ব দেওয়া হয় তরুণ তুর্কি মেহেদী হাসান মিরাজকে। এ বছর রাজশাহীর দলটাকে বলা যায় ভাঙা হাট। আগের দুই আসরের অধিনায়ক স্যামি ছাড়াও দলে নেই অভিজ্ঞ মুশফিকুর রহিম, সামিত প্যাটেলের মতো খেলোয়াড়রা। তার পরও মুমিনুল হক, সৌম্য সরকার আর কাটার মাস্টার মুস্তাফিজকে দলে নিয়ে ঘাটতি পূরণ করার চেষ্টা করেছে দলটি। বিদেশি কোটায় রায়ান টেন ডেসক্যাট আর পাকিস্তানি মোহাম্মদ হাফিজকে দলে নেয় কিংসরা। আর গত দুই আসরে দলে থাকা পাকিস্তানি স্পিডস্টার মোহাম্মদ সামিকে এবারও পাচ্ছে দলটি। কিন্তু অধিনায়ক পদটিতে স্যামির বিকল্প বের করতে বেশ গলদঘর্ম হয় পদ্মাপাড়ের দলটি। শেষ পর্যন্ত বাংলাদেশ জাতীয় দলের অফস্পিনার মেহেদী হাসান মিরাজকে অধিনায়কের হটসিট বুঝিয়ে দেয় রাজশাহী কিংস। কিন্তু অধিনায়ক হিসেবে প্রথম ম্যাচ খেলতে নেমে বেশ বড়সড় একটা ধাক্কা খেয়েছেন মিরাজ। ম্যাচে পরিস্থিতি অনুযায়ী বিকল্প পরিকল্পনার অভাব, খাপছাড়া পারফরম্যান্স আর প্রয়োজনের মুহূর্তে দলটির অনভিজ্ঞতা প্রথম ম্যাচেই চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিয়েছে শক্তিশালী ঢাকা ডায়নামাইটস। অধিনায়ক মিরাজের পারফরম্যান্সও ছিল একেবারেই তলালির দিকে। দলের বোলিং আক্রমণের সূচনা করতে এসে বেধড়ক মার খেয়েছেন মিরাজ। তিন ওভার বোলিং করে একটি উইকেট পেলেও ৩৮ রান গুনতে হয় মিরাজকে। ১৯০ রান তাড়া করতে নেমে ব্যাটিংয়ে এসেও হতাশ করেন মিরাজ। পঞ্চম উইকেটের পতনের পর নেমে তিন বল খেলে মাত্র ১ রান করে রুবেলের বলে আউট হয়ে যান অধিনায়ক মিরাজ। শেষাবধি অসহায় আত্মসমর্পণ করে ৮৩ রানের বড় পরাজয় নিয়ে মাঠ ছাড়ে মিরাজের দল। টুর্নামেন্টের প্রথম ম্যাচেই রাজশাহীর এমন দৈন্যদশায় সমর্থকদের কাঠগড়ায় দাঁড়াতে হচ্ছে অধিনায়ক মিরাজকে। দলের বিপর্যয়ে দায়িত্ব নিয়ে খেলার মতো মানসিক শক্তি আর প্রতিকূল পরিস্থিতিতে সতীর্থদের উজ্জীবিত করে ভিন্ন পরিকল্পনা নিয়ে অগ্রসর হওয়ার সামর্থ্য অধিনায়ক মিরাজের আছে কি না, সেটা ভেবে দেখার কথা বলছেন ক্রিকেট বিশ্লেষকরাও। কিন্তু অধিনায়কত্বে একেবারেই আনকোরা নন মিরাজ। মিরাজকে বলা হয়ে থাকে বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ অধিনায়ক। দুবাইতে এশিয়া কাপের ফাইনাল ম্যাচে হেরে যাওয়ার পর বেদনাহত মিরাজকে অধিনায়ক মাশরাফি সান্ত্বনা দিতে গিয়ে ভবিষ্যতে বাংলাদেশ দলকে নেতৃত্ব দেওয়ার জন্য মানসিকভাবে আরো শক্ত হতে বলেছিলেন। ২০১৬ সালে দেশের মাটিতে অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপে মিরাজের নেতৃত্বেই প্রথমবারের মতো সেমিফাইনালে ওঠে বাংলাদেশ। কিন্তু বিপিএলের মতো বড় একটি আসরে সিনিয়রদের নেতৃত্ব দিতে গিয়ে মিরাজ প্রথম পরীক্ষায় অকৃতকার্য হয়েছেন বলা যায়। তরুণ কাঁধে বড় বোঝা নিয়ে সামনের ম্যাচগুলোতে ঘুরে দাঁড়ানোর জন্য অবশ্য অনেক সুযোগ পাবেন মিরাজ। সে ক্ষেত্রে ছন্নছাড়া রাজশাহী দলটিকে এক সুতোয় গাঁথতে হবে মিরাজকে। আর মাঠে করতে হবে পরিকল্পনার বাস্তবায়ন, অধিনায়কোচিত সিদ্ধান্তে প্রয়োগ করতে হবে নতুন পরিকল্পনা। নিজের পারফরম্যান্স দিয়েও সৃষ্টি করতে হবে দৃষ্টান্ত।
হার দিয়ে শুরু চ্যাম্পিয়ন রংপুরের
ক্রীড়া ডেস্ক: লক্ষ্য মাত্র ৯৯ রান, সহজেই এই রান টপকে যাওয়ার কথা। বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগের (বিপিএল) উদ্বোধনী দিনে প্রথম ম্যাচে এই রান টাপকাতেও বেশ হিমশিম খেতে হয়েছিল চিটাগং ভাইকিংসের। গতবারের চ্যাম্পিয়ন রংপুর রাইডার্সের বিপক্ষে ম্যাচে অতি কষ্টে তিন উইকেটে জিতেছে মুশফিকুর রহিমের দল। আজ শনিবার মিরপুর শেরেবাংলা স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত ম্যাচের বোলিং বান্ধব উইকেটে কোনো দলের ব্যাটসম্যানরাই খুব একটা সুবিধা করতে পারেনি। তবে মোহাম্মদ শেহজাদ (২৭) ও মুশফিকুর রহিম (২৫) দারুণ দুটি ইনিংস খেলে চিটাগংয়ের জয়ে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখেন। পুঁজি কম হলেও রংপুর বোলাররা চেষ্টা করেছিলেন দলের হারের ব্যবধান কমাতে। বিশেষ করে মাশরাফি বিন মুর্তজা চার ওভার বল করে ২৪ রান দিয়ে উইকেট তুলে নেন। আর শফিউল ইসলাম ও ফরহাদ রেজা একটি করে উইকেট পান। এর আগে চিটাগং বোলারদের নিয়ন্ত্রিত বোলিংয়ে একেবারেই বেহাল দাশা হয়েছিল রংপুর ব্যাটসম্যানদের। এক রবি বোপারা ছাড়া কোনো ব্যাটসম্যানই পারেননি নিজের নামের প্রতি সুবিচার করতে। বোপারা খেলেন ৪৪ রানের দরুণ একটি ইনিংস। এক সময় তো মানে হয়েছিল বিপিএলের সর্বনিম্ন স্কোরও করতে পারবে না রংপুর। দলীয় মাত্র ৩৫ রানে সাত উইকেট হারিয়ে ফেলেছিল তারা। রংপুর ব্যাটসম্যানদের সামনে ভয়ঙ্কর হয়ে উঠেছিলেন রবার্ট ফ্রাইলিঙ্ক। চার ওভার বল করে চার উইকেট তুলেন নেন তিনি। দারুণ বল করেছেন তরুণ বাংলাদেশি স্পিনার নাঈম হাসান, তিনি নেন দুই উইকেট। তবে এই ম্যাচের অন্য রকম একটি আকর্ষণ, প্রথমবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়ে মাঠে নেমেছেন মাশরাফি। নড়াইল-২ আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হওয়ার পর আজই প্রথম মাঠে নামেন তিনি। তিনি বিপিএলে রংপুর রাইডার্সের অধিনায়ক। এই ম্যাচে আরেকটি চমক নিষেধাজ্ঞা কাটিয়ে পাঁচ বছর পর বিপিএলে ফিরেছেন সাবেক অধিনায়ক মোহাম্মদ আশরাফুল। ম্যাচ ফিক্সিংয়ের কারণে নিষিদ্ধ ছিলেন তিনি। তবে ব্যাটিংয়ে নেমে খুব একটা সুবিধা করতে পারেননি। ৫ বল খেলে মাত্র ৩ রান করেন তিনি। এনটিভি
মাঠে নামছেন এমপি মাশরাফি,অন্য রকম আকর্ষণ প্রথম ম্যাচেই
ক্রীড়া ডেস্ক: বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগে (বিপিএল) উদ্বোধনী দিনে মুখোমুখি হচ্ছে গতবারের চ্যাম্পিয়ন রংপুর রাইডার্স ও চিটাগং ভাইকিংস। এই ম্যাচে অন্য রকম একটি আকর্ষণ থাকছে, প্রথমবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়ে ক্রিকেট ম্যাচ খেলতে নামছেন মাশরাফি বিন মুর্তজা। নড়াইল-২ আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হওয়া এই ক্রিকেটার রংপুর রাইডার্সেরও অধিনায়ক। এখন মাশরাফি খেলোয়াড়ের পাশাপাশি পুরোদস্তুর রাজনীতিবিদ। আপাতত খেলোয়াড় পরিচয়টাই তাঁর কাছে বড়, এখানে (মাঠে) খেলোয়াড় হিসেবে আমি পরিচিত, সংসদ সদস্য হিসেবে নয়। আমি আশা করি আপনারা সবাই আমাকে সেভাবেই দেখবেন। অন্য সময় যেভাবে খেলি, এখনো সেভাবেই খেলব। গত বছর মাশরাফির নেতৃত্বে রংপুর শিরোপা জিতেছিল। এবারও আশাবাদী রংপুরকে শিরোপার উল্লাসে মাতাতে। বলেছেনও,গতবার আমরা চ্যাম্পিয়ন হয়েছি। এবারের দলটি গতবারের চেয়েও ভালো। তাই আশাবাদী এই দলকে নিয়ে শিরোপা জিততে। এবারের আসরে অংশ নেবে সাতটি দল। দলগুলো হলো ঢাকা ডায়নামাইটস, রাজশাহী কিংস, সিলেট সিক্সার্স, কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ানস, রংপুর রাইডার্স, খুলনা টাইটানস ও চিটাগং ভাইকিংস। আসরের তিনটি ভেন্যু ঠিক হয়েছে। মিরপুর শেরেবাংলা স্টেডিয়াম, চট্টগ্রাম জহুর আহমেদ চৌধুরী স্টেডিয়াম ও সিলেট আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামে হবে ম্যাচগুলো। বর্তমান সূচি অনুযায়ী ঢাকায় প্রথম পর্বের খেলা হবে ১৬ জানুয়ারি পর্যন্ত। এরপর সিলেটে ১৮ ও ১৯ জানুয়ারি দুদিন চারটি ম্যাচ হবে। ২১ থেকে ২৩ জানুয়ারি তিনদিন মিরপুরে শেরেবাংলা স্টেডিয়ামে হয়েই চট্টগ্রামে চলে যাবে বিপিএল। ২৫ থেকে ৩০ জানুয়ারি খেলা হবে জহুর আহমেদ চৌধুরী স্টেডিয়ামে। এরপর ১ থেকে ৯ ফেব্রুয়ারি মিরপুর শেরেবাংলা স্টেডিয়ামে হবে শেষ পর্বের খেলা।
পরিচালনা করবেন অসুস্থ শরীরেই কাজী হায়াৎ
বিনোদন ডেস্ক: যুক্তরাষ্ট্রে চিকিৎসা নিচ্ছেন বরেণ্য পরিচালক কাজী হায়াৎ। অন্যদিকে শুটিংয়ের জন্য প্রস্তুত তাঁর ৫০তম চলচ্চিত্র বীর। আগামী ১০ তারিখ থেকে ছবির শুটিং শুরু হওয়ার কথা। যেহেতু তিনি দেশে নেই, তাই শোনা যাচ্ছিল কাজী হায়াতের হয়ে ছবিটি পরিচালনা করবেন আরেক সফল নির্মাতা শাহিন সুমন। তবে খোদ শাহিন সুমন জানালেন, তিনি নন, অসুস্থ শরীর নিয়ে কাজী হায়াৎই পরিচালনার কাজটি করবেন। আর শাহিন সুমন কাজ করবেন সহযোগী হিসেবে। শাহিন সুমন বলেন, অনেকেই মনে করছেন, আমি কাজী হায়াৎ স্যারের হয়ে বীর ছবিটি পরিচালনা করব। আসলে বিষয়টি এমন নয়। ছবিটি অসুস্থ শরীর নিয়েই পরিচালনা করবেন কাজী হায়াৎ। আমি সহযোগী পরিচালক হিসেবে ছবির সঙ্গে থাকব। এবং ছবিটি শেষ করে দেবো। কাজী হায়াৎকে নিয়ে শাহিন সুমন বলেন, কাজী হায়াৎ স্যার অনেক গুণী নির্মাতা। আমাদের সিনিয়র, সেই হিসেবে শ্রদ্ধা-ভালোবাসা থেকেই আমি কাজটির সঙ্গে থাকতে চাই। আমি চাই স্যার সুস্থ হয়ে দেশে ফিরে আশুক, তারপর তিনি সেটে বসে থাকুক। শটগুলো আমাকে বুঝিয়ে দিক, উনি কী চাচ্ছেন। সেই অনুযায়ী আমি কাজটি করি। এতে করে আমার ঝুলিতে অভিজ্ঞতা সঞ্চয় হবে বলে আমি মনে করি। কাজী হায়াতের প্রধান সহকারী কাজী মনির বলেন, গত ২ তারিখ হায়াৎ স্যার যুক্তরাষ্ট্রের হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। দু-একদিনের মধ্যে উনার অপারেশন হওয়ার কথা রয়েছে। সে ক্ষেত্রে আমাদের ছবির শুটিং ১০ তারিখ না হয়ে কিছুদিন পেছাতে হতে পারে। হাসপাতাল থেকে হায়াৎ স্যার সবার কাছে দোয়া চেয়েছেন। আপনারা সবাই উনার জন্য দোয়া করবেন। বীর ছবিতে জুটি বেঁধে অভিনয় করছেন শাকিব খান ও শবনম বুবলী। শাহিন সুমন পরিচালিত একটু প্রেম দরকার ছবির কাজ নিয়ে এখন তাঁরা ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছেন। চলতি বছরের শুরুতে নিউইয়র্কের মাউন্ট সিনাই হাসপাতালে একবার চিকিৎসা নেন কাজী হায়াৎ। সম্প্রতি আবারও অসুস্থ বোধ করছিলেন তিনি। ২০০৪ সালে হৃৎপিণ্ডে দুটি রিং বসানো হয়েছিল প্রখ্যাত এই চলচ্চিত্র নির্মাতার। ২০০৫ সালে ওপেন হার্ট সার্জারি করা হয় কাজী হায়াতের। এরপর গত বছরের জানুয়ারিতে আবারও হৃৎপিণ্ডে সমস্যা দেখা দিলে বরেণ্য এই নির্মাতা প্রধানমন্ত্রীর কাছে সাহায্যের জন্য আবেদন করেন। তারপর চলতি বছর প্রধানমন্ত্রীর কাছ থেকে ১০ লাখ টাকা অনুদান পান কাজী হায়াৎ।