টস জিতে ব্যাটিংয়ে বাংলাদেশ
চট্টগ্রাম টেস্টে টস জিতে ব্যাটিং বেছে নিয়েছেন বাংলাদেশের ভারপ্রাপ্ত অধিনায়ক মাহমুদউল্লাহ। ইনজুরির কারণে নিয়মিত অধিনায়ক সাকিব আল হাসান না থাকায় দলকে নেতৃত্ব দিচ্ছেন মাহমুদুল্লাহ রিয়াদ। আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অধিনায়কত্বের অভিষেক হচ্ছে তাঁর। টেস্ট অভিষেক হচ্ছে বাঁহাতি স্পিনার সানজামুল ইসলামের। চট্টগ্রামের স্পিন-উপযোগী উইকেটে তিন স্পিনার নিয়ে মাঠে নামছে বাংলাদেশ। সুযোগ হয়নি আবদুর রাজ্জাকের। একাদশে একমাত্র পেসার হিসেবে আছেন মোস্তাফিজুর রহমান। বাংলাদেশ একাদশ: তামিম ইকবাল, ইমরুল কায়েস, লিটন দাস, মুমিনুল হক, মাহমুদউল্লাহ, মুশফিকুর রহিম, মোসাদ্দেক হোসেন, মেহেদী হাসান মিরাজ, তাইজুল ইসলাম, মোস্তাফিজুর রহমান, সানজামুল ইসলাম। বাংলাদেশের সংগ্রহ ২০ ওভারে ১ উইকেটে ১০২ রান। ব্যাটিং এ আছে মুমিনল এবং ইমরুল
৫ উইকেটে জিতল বাংলাদেশ
যুব বিশ্বকাপে নিউজিল্যান্ডের কুইন্সটাউনে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে পঞ্চম স্থান নির্ধারণী প্লে অফে ইংল্যান্ডকে ৫ উইকেটে হারিয়েছে টাইগার যুবারা। ইংলিশদের গড়া ২১৬ রানের জবাবে ৫ উইকেট হারিয়ে জয় পায় বাংলাদেশ। এদিকে প্রথমে ব্যাট করতে নেমে দুর্দান্ত শুরু করলেও পরে আর তা ধরে রাখতে পারেনি ইংল্যান্ড। ৪৭.২ ওভারে ২১৬ রানেই গুটিয়ে যায় ইংলিশরা। ইংল্যান্ড দলীয় ১৭ রানের মাথায় প্রথম টম বেনটনের উইকেট হারায়। অধিনায়ক হ্যারি ব্রুক ও লিয়াম ব্ল্যাংকের পঞ্চাশোর্ধ্ব দুই ইনিংসে ইংল্যান্ড অনূর্ধ্ব-১৯ দল নিজেদের সংগ্রহটা অনেক ওপরে নিয়ে যাওয়ার স্বপ্নই দেখছিল। কিন্তু বাংলাদেশ অনূর্ধ্ব-১৯ দলের বোলাররা ইংল্যান্ডের সংগ্রহটা প্রত্যাশামাফিক হতে দেননি। শেষ ২২ ওভারে ৭৮ রানে ৯ উইকেট হারায় ইংলিশরা। বাংলাদেশের পক্ষে হাসান ও আফিফ ৩টি করে উইকেট পেয়েছেন। অনিক নিয়েছেন ২ উইকেট। অন্যদিকে, আজও দুর্দান্ত ছিলেন অলরাউন্ডার আফিফ হোসেন। ৮৬ বলে ৭১ রান করে জয়ের খুব কাছাকাছি এসে আউট হন তিনি। ইংলিশদের গড়া ২১৬ রানের বিপক্ষে ৫ উইকেট ও ১৫ বল হাতে রেখেই জয় নিশ্চিত করে বাংলাদেশ।
শিরোপার জন্য বাংলাদেশের দরকার ২২২ রান
২১ ওভারেই একশ' পূরণ করে শ্রীলঙ্কা। হাতে তখনো ৮ উইকেট। ক্রিজে দুই সেট ব্যাটসম্যান উপল থারাঙ্গা এবং নিরোশান ডিকওয়ালা। সেই শ্রীলঙ্কাকেই শেষ পর্যন্ত মাত্র ২২১ রানেই বেঁধে ফেললো বাংলাদেশ। শুরুতেই উইকেট হারালেও রীতিমতো ঝড় তুলছিলেন লঙ্কান ব্যাটসম্যানরা। ৬ রানে গুনাথিলাকাকে ফেরানোর পর মেহেদী মিরাজের এক ওভারেই ২৪ রান তুলে নেন কুশাল মেন্ডিস। তবে মেন্ডিস ঝড়টা দ্রুতই থামিয়ে দেন অধিনায়ক মাশরাফি। মাহমুদুল্লাহ'র হাতে ক্যাচ দেয়ার আগে তিনি করেন ৯ বলে ২৮ রান। এরপর ডিকওয়ালার সঙ্গে ৭১ রানের এবং চান্দিমালের সঙ্গে ৪৫ রানের জুটি বেধে দলকে স্বস্তিদায়ক জায়গায় নিয়ে যান থারাঙ্গা। যদিও রানটা চেপেই রেখেছিলেন টাইগার বোলাররা। ৪২ রানে ডিকওয়ালাকে ফেরান মোহাম্মদ সাইফুদ্দিন। আর মোস্তাফিজের বলে বোল্ড হবার আগে থারাঙ্গা করেন ৫৬ রান। ওয়ানডেতে থাঙ্গার উইকেটটি মোস্তাফিজের পঞ্চাশতম উইকেট। এরমধ্য দিয়েই বাংলাদেশি বোলারদের মধ্যে দ্রুততম সময়ে পঞ্চাশ উইকেটের মাইলফলক স্পর্শ করলেন মোস্তাফিজ। রুবেলের বলে ২ রানে পেরেরা ফিরে গেলে চাপে পড়ে শ্রীলঙ্কা। লড়াই চালিয়ে যাচ্ছিলেন অধিনায়ক চান্দিমাল। ৪৫ রানে তাকে বোল্ড করে ফেরান রুবেল। এরপর মোস্তাফিজ-রুবেলদের নিয়ন্ত্রিত বোলিংয়ে আর বেশিদূর যেতে পারেনি লঙ্কানরা। ১০ ওভার বল করে ৪০ রান দিয়ে ৪টি উইকেট তুলে নিয়েছেন রুবেল। মোস্তাফিজের ২টির পাশাপাশি ১টি করে উইকেট নিয়েছেন মাশরাফি, মিরাজ এবং সাইফুদ্দিন। সংক্ষিপ্ত স্কোর: শ্রীলঙ্কা: ২২১/১০ (থারাঙ্গা ৫৬, ডিকওয়ালা ৪২, চান্দিমাল ৪৫; রুবেল ৪/৪৬, মোস্তাফিজ ২/২৯)
বোলিং নৈপুণ্যে জয় পেল অস্ট্রেলিয়া
ত্রিশতম ওভারে বোলিংয়ে আদিল রশিদকে এনে বেশির ভাগ ফিল্ডারদের ১৫ গজের মধ্যে নিয়ে এলেন ইংল্যান্ড অধিনায়ক এউইন মরগান। বোধ হয় ফাটকা খেলতে চেয়েছিলেন! জয় থেকে অস্ট্রেলিয়া তখন মাত্র ৪২ রান দূরে। হাতে ৫ উইকেট। এ অবস্থায় তো যেকোনো কিছুই ঘটতে পারে! ঘটানোর বেশ কাছেই পৌঁছে গিয়েছিলেন মরগান। পরবর্তী ৭ ওভারের মধ্যে আরও ২ উইকেট তুলে নিয়ে ভালোই চাপ সৃষ্টি করেছিলেন অস্ট্রেলিয়ার ওপর। কিন্তু শেষ রক্ষা হয়নি। ৭৮ বল হাতে রেখে ৩ উইকেটের জয় তুলে নিয়েছে অস্ট্রেলিয়া। সিরিজ খোয়ানোর পর চতুর্থ ম্যাচে স্টিভেন স্মিথের দলের এ জয় স্রেফ সান্ত্বনার। আগের তিন ম্যাচ জিতে আগেই সিরিজ নিজেদের করে নিয়েছে ইংল্যান্ড। রোববার পার্থে পঞ্চম ও শেষ ম্যাচ। প্রথম তিন ম্যাচেই দুর্দান্ত ব্যাটিং করেছেন ইংলিশ ব্যাটসম্যানরা। অ্যাডিলেডে সেটা করতে পারেনি ইংল্যান্ড। জস হ্যাজেলউড, প্যাট কামিন্স ও অ্যান্ড্র্রু টাইয়ের পেস তোপে ৪৪.৫ ওভারে মরগানের দল অলআউট হয়েছে মাত্র ১৯৬ রানে। কামিন্স নিয়েছেন ৪ উইকেট, ৩টি করে উইকেট হ্যাজেলউড ও টাইয়ের। আটে নেমে ক্রিস ওকস ৭৮ রান না করলে ইংলিশরা আরও অনেক কম রানে গুটিয়ে যেত। ছোট লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে গুটিয়ে যেতে পারত অস্ট্রেলিয়াও! তাঁদের শুরুটাও যে ভালো হয়নি। ৭০ রানের মধ্যে ফিরেছেন ডেভিড ওয়ার্নার, ক্যামেরন হোয়াইট ও স্টিভেন স্মিথ। ১১২ রানের মধ্যে মিচেল মার্শও ফিরে গেলে দারুণ কিছুর ইঙ্গিত পেয়েছিল ইংল্যান্ড। কিন্তু ট্রাভিস হেড দেখেছিলেন অন্য কিছুর ইঙ্গিত, সেঞ্চুরির। দলকে বিপদে দেখে একপ্রান্ত আগলে রেখে শম্বুক গতিতে ব্যাটিং করেছেন এমনও নয়। বরং ১৫ বাউন্ডারিতে বেশ দ্রুতগতিতেই রান তুলেছেন হেড। তাঁর ১০৫ বলের ইনিংসটি থমকে গেছে দলের জয় থেকে হাত ছোঁয়া দূরে। ৩৫তম ওভারের দ্বিতীয় বলে হেড যখন মার্ক উডের শিকার হলেন, জয় থেকে অস্ট্রেলিয়া তখন মাত্র ১৭ রানের দূরত্বে। হাতে ৪ উইকেট। দলকে জিতিয়ে মাঠ ছাড়তে পারলে সেঞ্চুরিও হয়ে যেত হেডের। কিন্তু সব হারানোর পর অস্ট্রেলিয়ার এ জয়ে হেডের সেঞ্চুরি (৯৬) না পাওয়াটাই আক্ষেপ হয়ে থাকবে। আর ইংল্যান্ডের আক্ষেপ শুধু স্বল্প স্কোরের জন্য হেডের পর কামিন্সকে তুলে নিয়েও জয় না পাওয়া। আর কয়েকটা রান যদি করা যেত!
কার হাতে উঠছে ত্রিদেশীয় সিরিজের ট্রফি
আজ ম্যাচ শেষেও এই হাসিটাই ধরে রাখতে চাইবেন মাশরাফি-মুশফিকরা। ফাইনালের আগে কাল মিরপুর শেরেবাংলা স্টেডিয়ামে বাংলাদেশ দলের গা-গরমের দৌড় l ছবি: প্রথম আলো আজ ম্যাচ শেষেও এই হাসিটাই ধরে রাখতে চাইবেন মাশরাফি-মুশফিকরা। ফাইনালের আগে কাল মিরপুর শেরেবাংলা স্টেডিয়ামে বাংলাদেশ দলের গা-গরমের দৌড় l ছবি: প্রথম আলো আবারও ফাইনাল। আবারও শিরোপার হাতছানি। আবারও কি...! অতীতের অভিজ্ঞতা থেকে তৃতীয় বাক্যে প্রকাশিত শঙ্কাটাও জেগে ওঠে। ওয়ানডেতে বাংলাদেশ এর আগে দুবার ফাইনাল খেললেও শিরোপার স্বাদ পায়নি। ২০১২ এশিয়া কাপে তীরে এসে ডুবেছিল তরি। সাকিব-মুশফিকদের কান্নায় ভেসে গিয়ে পাকিস্তানের কাছে মাত্র ২ রানের হার। ২০০৯ ত্রিদেশীয় সিরিজে ২ উইকেটে হারতে হয়েছিল শ্রীলঙ্কার কাছেও। মিরপুর শেরেবাংলা স্টেডিয়ামে রকেট ত্রিদেশীয় সিরিজের ফাইনালে আজও সেই শ্রীলঙ্কারই মুখোমুখি বাংলাদেশ। এবার কি চ্যাম্পিয়নের ট্রফিটা উঁচিয়ে ধরতে পারবে মাশরাফির দল? ঘরের মাঠে নিজেদের দর্শকদের সামনে খেলা বলে আশাবাদী হওয়াই যায়। কিন্তু পরশু লিগ পর্বের শেষ ম্যাচে এই শ্রীলঙ্কার কাছেই ১০ উইকেটের লজ্জাজনক পরাজয় বরণ করতে হয়েছে বাংলাদেশকে। সেই ধাক্কা আজ চাপ হয়ে বসবে না তো দলটির ওপর? মিরপুরে কাল সংবাদ সম্মেলনে যে কয়বার এসব প্রসঙ্গ উঠল, অধিনায়ক মাশরাফি বিন মুর্তজা বলে দিলেন, কোনো নেতিবাচক চিন্তা দলের মাথায় নেই। ফাইনাল খেলতে হবে ইতিবাচক মানসিকতা নিয়ে। এমনকি শেরেবাংলা স্টেডিয়ামে খেলা আগের দুটি ফাইনালের হতাশাও মনে আনতে চান না। ওই দুটি ফাইনালেই দলে ছিলেন মাশরাফি। প্রসঙ্গটি উঠতেই অধিনায়ক বলেন, এটা আসলে আমার মাথায় ছিল না। মনে না করালেই পারতেন। অতীতের দুঃখগাথা ভুলে আজকের ফাইনালকে মাশরাফি নিচ্ছেন নতুন একটা সুযোগ হিসেবে। প্রথমবারের মতো চ্যাম্পিয়ন হওয়ার সুযোগ। অধিনায়ক বলছিলেন, প্রত্যেকটি মানুষের জন্যই নতুন সুযোগ আসে। আমি হয়তো দুটি ফাইনালে ছিলাম। মুশফিক ছিল, সাকিব-তামিমও ছিল হয়তোবা। কিন্তু কাল (আজ) সম্পূর্ণ নতুন একটা ম্যাচ। আগের ম্যাচগুলো নিয়ে ভাবার দরকার মনে করছি না। শ্রীলঙ্কার অধিনায়ক দিনেশ চান্ডিমালের দর্শন ভিন্ন। তিনি ফাইনালের ফলাফল নিয়েই ভাবতে রাজি নন! সংবাদ সম্মেলনে বেশ কয়েকবারই বললেন,ভালো খেলাটাই আমাদের লক্ষ্য। সেই ভালো খেলার কাঙ্ক্ষিত ফল অবশ্যই জয়। কিন্তু মুখ ফুটে সেটি একবারও বলেননি লঙ্কান অধিনায়ক। এক প্রশ্নে বরং বেশ ভালো করেই বুঝিয়ে বললেন, ফল নয়, মাঠে নেমে ভালো খেলা নিয়েই ভাবি আমরা। দলে এখন এটাই সবচেয়ে বড় পরিবর্তন। এখন বলতে চন্ডিকা হাথুরুসিংহের দায়িত্ব নেওয়ার পরের সময়টাকেই বুঝিয়েছেন চান্ডিমাল। বাংলাদেশ দলের দায়িত্ব ছেড়ে গত মাসের শুরু থেকে তিনি শ্রীলঙ্কার কোচ। একসময় বাংলাদেশ দলের ড্রেসিংরুমে বসে প্রতিপক্ষের পথে কাঁটা বিছানোর কৌশল খুঁজতেন। এখন সেই কাজটাই করছেন বাংলাদেশের বিপক্ষে। বাংলাদেশের কোচ থাকার সুবাদে দলটির নাড়ি-নক্ষত্র জানেন। স্বাগতিক দলের বিপক্ষে ম্যাচগুলোয় শ্রীলঙ্কার সবচেয়ে বড় ভরসার নাম তাই হাথুরুসিংহে। চ্যাম্পিয়ন হতে পারলে বাংলাদেশের আনন্দ এ কারণেই বেড়ে যাবে অনেক। হাথুরুসিংহের দলকে তো হারানো গেল ফাইনালে! মাশরাফি-সাকিবরা শুরু থেকেই বলে আসছেন, শ্রীলঙ্কার সঙ্গে লড়াই মানে হাথুরুসিংহের সঙ্গে লড়াই নয়। তবু সিরিজে এখন পর্যন্ত যে দুবার বাংলাদেশ-শ্রীলঙ্কা মুখোমুখি হয়েছে, সাবেক কোচের সঙ্গে অদৃশ্য লড়াইটা ছিলই। প্রথম লড়াইয়ে বাংলাদেশ জিতলেও পরেরটিতে শ্রীলঙ্কার বিশাল জয়ে সেই দুঃখ কিছুটা ভুলে থাকবেন হাথুরুসিংহে। আর আজ সাবেক ছাত্রদের মতো তিনিও আছেন বিজয়োল্লাসে মেতে ওঠার অপেক্ষায়। ওয়ানডে ক্রিকেট অনেকটা ১০০ মিটার দৌড়ের মতো। ভালো শুরুই এগিয়ে দিতে পারে একটা দলকে। নিজের দলের কাছে মাশরাফিরও সেটাই প্রত্যাশা, ফাইনালে চাপ থাকেই। শ্রীলঙ্কাকে আগের ম্যাচে হারাতে পারলেও এটা থাকত। সবকিছু নির্ভর করবে আমরা কেমন শুরু করব তার ওপর। যারা স্নায়ু ঠিক রেখে খেলতে পারবে, তারাই এগিয়ে থাকবে। সিরিজের শুরু থেকেই সাকিব আল হাসান আর তামিম ইকবাল দেখাচ্ছেন বাংলাদেশ দলের প্রাণভোমরা তাঁরা দুজনই। তিনটি জয়ই এসেছে তাঁদের হাত ধরে। শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে শেষ ম্যাচে সাকিব-তামিম পারেননি, বাংলাদেশও পারেনি। বাংলাদেশ দলের মিডল অর্ডারের ব্যর্থতাও এই সিরিজে বহুল আলোচিত। তবে আজ সেখানে একটা পরিবর্তন আসতে পারে। গতকাল রাতের খবর, নাসির হোসেনের জায়গায় ফাইনালে খেলানো হতে পারে মেহেদী হাসান মিরাজকে। তামিমের ওপেনিং সঙ্গী হিসেবে এনামুল হক বিজয়ই খেলবেন নাকি সিরিজে প্রথমবারের মতো সুযোগ দেওয়া হবে মোহাম্মদ মিঠুনকে, টিম ম্যানেজমেন্টে আলোচনা ছিল সেটি নিয়েও। তবে পেসার আবুল হাসানের জায়গায় দলে ফেরা নিশ্চিত সাইফউদ্দিনের। দুপুরে মাশরাফির কথায়ও মিলেছিল একই রকম আভাস, দলে পরিবর্তন এলেও পেসারের জায়গায় পেসারই আসবেন, স্পিনার বা ব্যাটসম্যানের জায়গায় স্পিনার বা ব্যাটসম্যানই। মুখগুলো হয়তো বদলাতে পারে। শেরেবাংলা স্টেডিয়ামের ফাইনালের শেষ দৃশ্যটাও আজ একইভাবে বদলে দিতে চাইবে বাংলাদেশ। সাকিব-মুশফিকদের কান্না মোছার দৃশ্য ভুলিয়ে কনফেত্তি ওড়াতে চাইবে শিরোপা জয়ের উৎসবে।
এমন হার আশা করেননি মাশরাফি
ত্রিদেশীয় সিরিজে টানা তিন জয়ের পর বাজেভাবে হার। ম্যাচ শেষে সংবাদ সম্মেলনে অধিনায়ক মাশরাফি হারের জন্য কাউকে এককভাবে দায়ী না করলেও আক্ষেপ ছিল তার কন্ঠে। হারের বিষয়ে ম্যাশ বলেন, ম্যাচে আমরা হারতে পারি... তবে এভাবে হারা কাম্য নয়। আমরা বাজে খেলে হেরেছি। বলা যায় দিনটি আমাদের ছিলনা। সিরিজের প্রথম তিন ম্যাচে ওয়ান ডাউনে সাকিব আসায় মিডল ও লোয়ার অর্ডারে আরো বেশী চাপ পড়েছে। তবে যারা সুযোগ পেয়েছিল-বিজয়, নাসির, সাব্বির ও রাজু আরো দ্বায়িত্বশীল হলে দলের সংগ্রহ আরো ভালো হতে পারত। আরো কিছুটা সময় উইকেটে টিকতে পারলে অন্তত ১৫০ এর উপর রান হলেও ম্যাচে কিছুটা সুযোগ থাকত। বিশেষ করে বিজয় চার ম্যাচেই প্রথম আউট হয়েছেন ফাইনালে তাকে আরেকবার সুযোগ দেয়া হবে কিনা এ প্রশ্নে মাশরাফি জানান, এটা বলার সময় এখনও আসেনি। তবে চার ম্যাচেই তাকে সাপোর্ট দেয়া হয়েছে। প্রাপ্ত সুযোগটা তার কাজে লাগানো উচিত ছিল। আজকের হার ফাইনালে প্রভাব ফেলবে কিনা? এ প্রশ্নে মাশরাফি বলেন, এটি আমাদের জন্য এলার্মিং কল হতে পারে। মুশফিক, রিয়াদরা এ রকম পরিন্থিতিতে দলের হাল ধরেছেন অতীতে। এ হার থেকে শিক্ষা নিয়ে ফাইনালে যেন এমন ধরনের ভুল না হয় সেদিকে দৃষ্টি থাকবে মাশরাফির। উইকেট নিয়ে মাশনাফি বলেন, মুশফিক অনেক সময় মাঠে ছিল, এছাড়া লংকানরা যেভাবে ব্যাট করেছে তাতে উইকেট কঠিন ছিল বলা যাবেনা। চার উইকেট পড়ে যাওয়ার পরও মুশফিক ও সাব্বিরের উপর ভরসা ছিল মাশরাফির। তবে ছয় উইকেট যাওয়ার পর ম্যাচটা হাতছাড়া হয়েছে বলে মনে হয়েছে। তারপরও টেল এন্ডাররা আরেবটু সতর্ক হলে রানের অংক তিনের ঘরে যেতে পারত। আগের তিন ম্যাচে স্পিন দিয়ে বোলিং শুরু করালেও, আজ মাশরাফি নিজেই আসেন বোলিংয়ে, অপরপ্রান্তে করেন রাজু।
বাংলাদেশকে হারিয়ে ফাইনাল খেলতে চায় চান্ডিমাল
মিরপুরের উইকেট নিয়ে বিভ্রান্তিতে থাকলেও জয় ছাড়া অন্যকিছু ভাবছে না শ্রীলঙ্কা। সাকিব, তামিমদের প্রশংসায় ভাসিয়ে লঙ্কান ক্যাপ্টেন দিনেশ চান্ডিমাল বলেছেন, জিম্বাবুয়ের সঙ্গে নেট রানরেটে নির্ভর না করে বাংলাদেশকে হারিয়েই ফাইনাল খেলতে চান তারা। সেজন্য দলের সবাই নিজেদের সেরাটা দিতে মুখিয়ে আছেন বলেও জানান লঙ্কান অধিনায়ক। আশার পালে কিছুটা হাওয়া লেগেছে। সেটা জিম্বাবুয়ের কল্যাণে। তাই কিনা শিষ্যদের সঙ্গে নিয়ে আড়মোড়া ভেঙ্গে ফাইনালে চোখ হাথুরুর। দাপুটে বাংলাদেশের সামনে সাদাকালো টিম লঙ্কান। টাইগারদের সমীহ না করে উপায় নেই। তাই করলেন লঙ্কা ক্যাপ্টেন। দিনেশ চান্ডিমালের চোখে মুখে বিনয় ঝরল। বাংলাদেশের প্রশংসায় পঞ্চমুখ। তারপরও একটা জয়ের জন্য ব্যাকুল হয়ে আছেন তারা। সেটা যে কত কঠিন। তাও জানা আছে ক্যাপ্টেনের। শ্রীলঙ্কা দলের অধিনায়ক দিনেশ চান্ডিমাল বলেন, আমরা ম্যাচটাকে ফাইনালের আগে ফাইনাল ভাবছি না। মাথা ঠান্ডা রেখে খেলতে চাই আমরা। এমন টুর্নামেন্টে প্রথমেই দুই ম্যাচ হারলে ঘুরে দাঁড়ানো খুবই কঠিন। বাংলাদেশ সিরিজে খুবই ভালো করছে। আমাদের লক্ষ্য সিরিজে ঘুরে দাঁড়ানো। ইনজুরি লঙ্কানদের পেয়ে বসেছে। পুরো সিরিজে আতঙ্কের আরেক নামও ইনজুরি। তবে লঙ্কান ক্যাপ্টেন উন্মোচন করলেন আরও এক ধাঁধা। সেটা মিরপুরের উইকেট।রাখঢাক না রেখে জানিয়ে দিলেন, উইকেট নিয়ে বিভ্রান্তিতে আছে শ্রীলঙ্কা। চান্ডিমাল বলেন, তারা দুই-তিনটা উইকেট বানিয়েছে। আগামীকাল কোনটাতে খেলা হবে সেটা বুঝতে পারছি না। এত জটিল কেন করা হলো সেটাও বুঝতে পারছি না। এরপরও যে উইকেটেই খেলা হোক না কেন আমরা প্রতিযোগিতা করে জিততে চাই। অতিথি ক্যাপ্টেন যাই বলুন না কেন ছেড়ে কথা বলবে না বাংলাদেশও।
ছোট টার্গেটে বড় জয়
তামিম ইকবাল হাফ-সেঞ্চুরির সাথে সাকিব আল হাসানের ৫১ ও ৩ উইকেট শিকারের কারণে ত্রিদেশীয় ওয়ানডে সিরিজের পঞ্চম ম্যাচে জিম্বাবুয়েকে ৯১ রানের বড় ব্যবধানে হারালো টুর্নামেন্টে আগেই ফাইনাল নিশ্চিত করা স্বাগতিক বাংলাদেশ। টস জিতে প্রথমে ব্যাটিং করে ৫০ ওভারে ৯ উইকেটে ২১৬ রান করেছে স্বাগতিক বাংলাদেশ। তামিম ৭৬ ও সাকিব ৫১ রান করেন। জবাবে সাকিব ৩ ও মাশরাফি-সানজামুল-মুস্তাফিজুর ২টি করে উইকেট নিয়ে জিম্বাবুয়েকে ১২৫ রানেই অলআউট করে দেন। মিরপুর শেরে বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামের ম্যাচে টস জিতে প্রথমে ব্যাট করার সিদ্বান্ত নেন বাংলাদেশের অধিনায়ক মাশরাফি বিন মর্তুজা। তৃতীয় ওভারের প্রথম বলেই আউট হন ওপেনার এনামুল হক বিজয়। ৭ বলে ১ রান করে জিম্বাবুয়ের ডান-হাতি পেসার কাইল জার্ভিসের শিকার হন বিজয়। এরপর জিম্বাবুয়ের বোলারদের বিপক্ষে সতর্কতার সাথে ব্যাট চালান আরেক ওপেনার তামিম ও সাকিব। তাই রান তোলার গতিও ছিলো মন্থর। তবে দলের স্কোর তিন অংকে পৌঁছে দিতে পেরেছেন এ জুটি। দলকে শতকে পৌঁছাতে গিয়ে হাফ-সেঞ্চুরির স্বাদ নিয়েছেন তামিম-সাকিব। তামিম ওয়ানডে ক্যারিয়ারের ৪১তম ও সাকিব ৩৭তম হাফ-সেঞ্চুরির দেখা পান। হাফ-সেঞ্চুরির পর বেশি দূর যেতে পারেননি সাকিব। ৬টি চারে ৮০ বলে ৫১ রানে থামেন তিনি। দলীয় ১১২ রানে সাকিবের বিদায়ে উইকেটরক্ষক মুশফিকুর রহিমকে নিয়ে ইনিংস মেরামতের সিদ্বান্ত নেন তামিম। কিন্তু বড় জুটিতে ব্যর্থ তারা। জুটিতে ৩৫ রান আসার পর বিচ্ছিন্ন মুশফিকুর। ১টি ছক্কায় ২৫ বলে ১৮ রান করেন মুশি। মুশফিকুরের বিদায়ের পর যাওয়া আসার মিছিল শুরু করে বাংলাদেশের পরের দিকের ব্যাটসম্যানরা। দলীয় ১৭০ই রানে অষ্টম উইকেট হারিয়ে বসে বাংলাদেশ। এসময় মাহমুদুল্লাহ রিয়াদ ২, সাব্বির রহমান ৬, নাসির ২, মাশরাফি শূন্য রানে সাজ ঘরে ফেরেন। এছাড়া ৭৬ রানে থামেন তামিম। স্বীকৃত ব্যাটসম্যানদের ব্যর্থতায় দ্রুত গুটিয়ে যাবার শংকায় পড়ে বাংলাদেশ। তবে সেটি হতে দেননি শেষ তিন ব্যাটসম্যান সানজামুল ইসলাম, মুস্তাফিজুর রহমান ও রুবেল হোসেন। সানজামুল ১৯ রান করে ফিরলেও, মুস্তাফিজুর ১৮ ও রুবেল ৮ রান নিয়ে অপরাজিত থাকেন। জিম্বাবুয়ের অধিনায়ক গ্রায়েম ক্রেমার ৪টি ও জার্ভিস ৩টি উইকেট নেন। ফাইনালের পথে এগিয়ে থাকতে হলে ২১৭ রানের লক্ষ্যে ব্যাট হাতে ভালো শুরুর চেষ্টা করেছিলো জিম্বাবুয়ে। কিন্তু সেটি হতে দেননি বাংলাদেশের বোলাররা। মাশরাফি ও সাকিবের বোলিং তোপে ৩৪ রানেই ৪ উইকেট হারিয়ে বসে আফ্রিকার দলটি। ওপেনার হ্যামিল্টন মাসাকাদজা ৫ ও ক্রেইগ আরভিন ১১ রান করে মাশরাফির শিকার হন। আরেক ওপেনার সলোমন মির ৭ ও সাবেক অধিনায়ক ব্রেন্ডন টেইলর শূন্য রানে শিকার হন সাকিবের। দ্রুত ৪ উইকেট হারানোয় ব্যাকফুটে চলে যায় জিম্বাবুয়ে। এরপর শুরুর ধাক্কা সামলে উঠার চেষ্টা করেন সিকান্দার রাজা ও পিটার মুর। বাংলাদেশ বোলাদের ডেলিভারিগুলো দেখেশুনে খেলার চেষ্টা করেন রাজা ও মুর। এর মধ্যে এই জুটিতে ভাঙ্গন ধরান বাঁ-হাতি স্পিনার সানজামুল ইসলাম। ৪২ বলে ১৪ রান করা মুর ও ম্যালকম ওয়ালারকে শূন্য হাতে লেগ বিফোর ফাঁদে ফেলেন সানজামুল। ২৩তম ওভারে ৬ উইকেটে ৬৮ রানে পরিণত হয় জিম্বাবুয়ে। এরপর জিম্বাবুয়েকে লড়াইয়ে ফেরানোর চেষ্টা করেছিলেন রাজা। অধিনায়ক ক্রেমারকে নিয়ে রানের চাকা ঘুড়িয়েছেন রাজা। কিন্তু বেশিদূর যেতে পারেননি তারা। রাজা ৩৯ ও ক্রেমার ২৩ রান করে ফিরেন। তাদের বিদায়ের পর ১২৫ রানেই থেমে যায় জিম্বাবুয়ের ইনিংস। বাংলাদেশের সাকিব ৩টি, মাশরাফি-সানজামুল-মুস্তাফিজুর ২টি করে উইকেট নেন। স্কোর কার্ড : বাংলাদেশ ইনিংস : তামিম ৭৬, এনামুল ১, সাকিব ৫১, মুশফিকুর রহিম ১৮, মাহমুদুল্লাহ ২, সাব্বির ৬, নাসির ২, মাশরাফি ০, সানজামুল ১৯, মুস্তাফিজুর ১৮, রুবেল ৮। অতিরিক্ত (লে বা-২, নো-১, ও-১২) ১৫মোট (৯ উইকেট, ৫০ ওভার) ২১৬। উইকেট পতন : ১/৬ (এনামুল), ১/১১২ (সাকিব), ৩/১৪৭ (মুশফিকুর), ৪/১৫৬ (মাহমুদুল্লাহ), ৫/১৬৩ (তামিম), ৬/১৬৭ (সাব্বির), ৭/১৬৮ (নাসির), ৮/১৭০ (মাশরাফি), ৯/১৯৬ (সানজামুল)। জিম্বাবুয়ে বোলিং : জার্ভিস : ৯-০৪২-৩,/চাতারা : ৭-০-৩৩-১ (ও-৫, নো-১),/মুজারাবানি : ৭-০-৩৬-০ (ও-২),/রাজা : ১০-১-৩৯-১ (ও-১),/ক্রেমার : ১০-০-৩২-৪,/ওয়ালার : ৭-০-৩২-০। জিম্বাবুয়ে ইনিংস : হ্যামিল্টন ৫,সলোমন ৭,ক্রেইগ ১১,ব্রেন্ডন ০,সিকান্দার রাজা ৩৯,পিটার মুর ১৪,ম্যালকম ওয়ালার ০,ক্রেমার ২৩,জার্ভিস ১০,চাতারা ৮,মুজারাবানি ০। অতিরিক্ত (ও-৮) ৮। মোট (অলআউট, ৩৬.৩ ওভার) ১২৫ উইকেট পতন : ১/১৪ (মাসাকাদজা), ২/২০ (মির), ৩/২০ (টেইলর), ৪/৩৪ (আরভিন), ৫/৬৮ (মুর), ৬/৬৮ (ওয়ালার), ৭/৯৫ (ক্রেমার), ৮/১০৭ (রাজা), ৯/১১৮ (চাতারা), ১০/১২৫ (জার্ভিস)। বাংলাদেশ বোলিং : সাকিব : ৯-২-৩৪-৩ (ও-১),/মাশরাফি : ৬-০-২৯-২ (ও-২),/সানজামুল : ১০-০-২৮-২ (ও-১),/মুস্তাফিজুর : ৬.৩-৩-১৬-২,/রুবেল : ৫-১-১৮-১, ফল : বাংলাদেশ ৯১ রানে জয়ী। ম্যাচ সেরা : তামিম ইকবাল(বাংলাদেশ)।
ত্রিদেশীয় সিরিজের আজকের খেলায় বাংলাদেশকে হারাতে চায় জিম্বাবুয়ে
সিরিজে এখন যে অবস্থা তাতে শ্রীলঙ্কা-জিম্বাবুয়ের দুই দলই এখন বাংলাদেশের কৃপাপ্রার্থী হতে পারে।ত্রিদেশীয় সিরিজে পয়েন্ট তালিকার এখন যে অবস্থা তাতে বাংলাদেশের সাধারণ কোনো ক্রিকেটপ্রেমী এ রকম বলে ফেললে তাঁকে দোষ দেওয়া যাবে না। নিজেদের মধ্যে একটি করে ম্যাচ জিতে এখন মোটামুটি একই বিন্দুতে দাঁড়িয়ে জিম্বাবুয়ে ও শ্রীলঙ্কা। দুই দলের পয়েন্টই সমান (৪), তবে নেট রানরেটের ব্যবধানে সামান্য এগিয়ে জিম্বাবুয়ে। কাজেই ফাইনালে যাওয়াটা দুই দলের জন্যই নির্ভর করছে বাংলাদেশের বিপক্ষে ম্যাচের ওপর। কাল অনুশীলন শেষে জিম্বাবুয়ের মিডল অর্ডার ব্যাটসম্যান পিটার মুরও বলে গেলেন সে কথা, আমরা একটি লক্ষ্য নিয়ে এখানে এসেছি, শুধু অংশগ্রহণের জন্য নয়। বাংলাদেশের বিপক্ষে ভালো খেলতে দলের সবাই খুবই আত্মবিশ্বাসী। ফাইনাল খেলতে পারলে সেটা বিশাল ব্যাপার হবে দলের জন্য। মার্চে অনুষ্ঠেয় বিশ্বকাপ বাছাইপর্বের জন্য জিম্বাবুয়ে আত্মবিশ্বাস নিয়ে যেতে পারে বাংলাদেশের এই ত্রিদেশীয় সিরিজ থেকেই। কিন্তু প্রথম ম্যাচে অমন হতাশা-জাগানিয়া হারের পর বাংলাদেশকে হারানোর স্বপ্নটা কি দুঃসাহস হয়ে যাচ্ছে না! মুর একেবারেই একমত নন এর সঙ্গে, প্রথম ম্যাচে অনেক কিছুই আমাদের নিয়ন্ত্রণে ছিল না। কিন্তু উইকেট আর কন্ডিশনের সঙ্গে মানিয়ে নেওয়ার পর দ্বিতীয় ম্যাচে আমরা সামর্থ্যের প্রমাণ দিয়েছি। আমাদের সম্ভাবনাগুলো কাজে লাগাতে পারলে বাংলাদেশকে হারানো সম্ভব। তবে বলাটা যত সহজ, করে দেখানোটা যে অত সহজ নয়, সেটা স্বীকার করছেন জিম্বাবুয়ের এই ক্রিকেটার, আমরা সবাই জানি, বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় শক্তি স্পিন। তা ছাড়া শেষের দিককার ওভারগুলোয় মোস্তাফিজ আর রুবেল রীতিমতো ভয়ংকর। এই বিষয়গুলো বিবেচনায় এনেই আমরা প্রস্তুতি নিয়েছি। ম্যাচের গুরুত্বপূর্ণ পরিস্থিতিগুলোর নিয়ন্ত্রণ নিতে হবে। আমার বিশ্বাস আমরা সেটা করতে সক্ষম। জিম্বাবুয়ে আজ সত্যিই বাংলাদেশকে হারিয়ে দিলেও তাতেই সবকিছু হয়ে যাচ্ছে না। চাতকের মতো চেয়ে থাকতে হবে বাংলাদেশ-শ্রীলঙ্কা ম্যাচের দিকে। আপাতত অত দূর না ভেবে নিজেদের কাজ নিয়েই ভাবতে চায় ক্রেমারের দল। জিম্বাবুয়েকে ভাবাচ্ছে মিরপুরের উইকেটও। তিন ম্যাচে তিন ধরনের উইকেট পেয়ে খানিকটা অবাক মুর, আমরা যে তিনটা ম্যাচ খেলেছি, তিন ম্যাচের উইকেটই আলাদা। সেটা এক দিয়ে ভালো, তিনটি উইকেট সম্পর্কে একটা ভালো ধারণা হয়ে গেছে। কোনো দিন ২৮০ ভালো স্কোর, কোনো দিন ২৫০ আবার কোনো দিন ২০০ রানও ভালো। এখন আমাদের কাজ হলো, যে উইকেটই বাংলাদেশ তৈরি করুক না কেন তার জন্য প্রস্তুত থাকা। যত দ্রুত সম্ভব উইকেটের সঙ্গে মানিয়ে নেওয়া। জিম্বাবুয়ের ফাইনালে যাওয়ার স্বপ্ন পূরণের প্রাথমিক শর্ত সেটাই।

খেলাধূলা পাতার আরো খবর