বুধবার, মে ২৩, ২০১৮
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ৪ হাজার পুলিশ,তোপের মুখে কলকাতা-চেন্নাই ম্যাচ
সন্ধ্যায় তামিলনাড়ুতে গড়ানোর কথা এবারের আইপিএলের পঞ্চম ম্যাচ। ঘরের মাঠে কলকাতা নাইট রাইডার্সকে আতিথ্য দেবে চেন্নাই সুপার কিংস। তবে অশনিসংকেত হয়ে দেখা দিয়েছে কাভেরী নদীর পানির হিস্যা নিয়ে আন্দোলন। আরও এক দফা আন্দোলনে নেমেছেন তামিলনাড়ুর অধিবাসীরা। প্রাণকেন্দ্র চিপাউক স্টেডিয়ামের চারপাশ। শঙ্কা জেগেছে, এ আন্দোলনের মুখে ম্যাচটি নির্বিঘ্নে হবে তো? ম্যাচটি বাতিল বা স্থগিত করতে চাপ দিয়ে যাচ্ছেন আন্দোলনকারীরা। কাভেরী নদীর পানি নিয়ে কর্নাটক ও তামিলনাড়ুর মধ্যে দ্বন্দ্ব আছে। বারবার বৈঠকে বসেও এ সমস্যার সমাধান আসেনি। এতদিন এ জন্য কর্নাটকীদের দায়ী করে আসছিলেন তামিল বাসিন্দারা। এবার তাদের সঙ্গে কেন্দ্রীয় সরকারকে কাঠগড়ায় দাঁড় করালেন তারা। তাদের দাবি, উদ্ভূত সমস্যা সমাধানে কর্ণপাত করছে না সরকার। বহুল আলোচিত ও বিতর্কিত এ সমস্যা সমাধানে কেন্দ্র কাভেরী ব্যবস্থাপনা পর্ষদ গঠন না করা পর্যন্ত ম্যাচটি বাতিল বা স্থগিতের দাবি জানিয়েছেন রাজনৈতিক দল ও আন্দোলনকারীরা। দর্শকদের ম্যাচটি বয়কটের আহ্বানও জানিয়েছেন তারা। তাদের এমন দাবিতে ম্যাচ চলাকালীন অপ্রীতিকর পরিস্থিতির উদ্রেক ঘটতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। এতে নড়েচড়ে বসেছে তামিলনাড়ু প্রশাসন। ম্যাচে অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি এড়াতে ৪ হাজার পুলিশ মোতায়েন করেছে তারা।
শুভ সূচনা কেকেআরের ব্যাঙ্গালুরুকে হারিয়ে
৮ বলে তখন বাকি আর মাত্র ৪ রান। তখনই গ্যালারিতে দাঁড়ানো শাহরুখ খানের দিকে তাক করলো ক্যামেরা। জায়ান্ট স্ক্রিনে নিজেকে দেখতে পেয়েই দু’হাত তুলে ধরলেন বলিউড বাদশাহ। সঙ্গে সঙ্গেই উল্লাসে ফেটে পড়লো পুরো ইডেন গার্ডেন। স্বপ্নের নায়ককে এত কাছ থেকে দেখার আনন্দের সঙ্গে কলকাতাবাসীর জন্য যোগ হলো বিজয়ের আনন্দও। বিরাট কোহলি, এবি ডি ভিলিয়ার্স আর ব্রেন্ডন ম্যাককালামদের নিয়ে গড়া শক্তিশালী রয়েল চ্যালেঞ্জার্স ব্যাঙ্গালুরুকে ৪ উইকেটে হারিয়ে দিয়ে নিজেদের মাঠে একাদশতম আইপিএলে শুভ সূচনা করেছে শাহরুখ খানের দল কলকাতা নাইট রাইডার্স। হাতে তখনও বাকি ছিল ৭ বল। কলকাতার জয়ের মূলে শেষ পর্যন্ত অবদান রাখেন অধিনায়ক দিনেশ কার্তিক। মাত্রই কিছুদিন আগে শ্রীলঙ্কায় নিদাহাস ট্রফির ফাইনালে বাংলাদেশের বিপক্ষে শেষ বলে ছক্কা মেরে ভারতকে ট্রফি জিতিয়েছিলেন কার্তিক। সেই পারফরম্যান্সই যেন তিনি টেনে নিয়ে আসলেন ইডেন গার্ডেনে। যদিও ১৯তম ওভারের ৫ম বলে খেজরোলিয়াকে বাউন্ডারি মেরে কেকেআরের জয় নিশ্চিত করেন বিনয় কুমার। কিন্তু ২৯ বলে ৩৫ রান নিয়ে শেষ পর্যন্ত দলকে জিতিয়েই মাঠ ছাড়েন অধিনায়ক দিনেশ কার্তিক। জয়ের জন্য ১৭৭ রানের লক্ষ্যে ব্যাট করতে নেমে ক্রিস লিনের উইকেট হারিয়ে কিছুটা বিপদে পড়ে কেকেআর। তবে রীতিমত ওপেনারে পরিণত হওয়া সুনিল নারিন ঠিকই ঝড় তুলেছিলেন। ১৯ বলে তিনি ৫০ রানর টর্নেডো ইনিংস খেলে কেকেআরের জয় ত্বরান্বিত করে দিয়ে যান। রবিন উথাপ্পা ১২ বলে ১৩ রান করে বিদায় নেন। ২৫ বলে ৩৪ রান করে আউট হন নিতিশ রানা। ১১ নল খেলে আন্দ্রে রাসেল ১৫ রানের ঝড় তুলে বিদায় নিলেও কেকেআরের জয় ঠেকাতে পারেনি বিরাট কোহলিরা। এর আগে টস হেরে ব্যাট করতে নেমে ডি ভিলিয়ার্সের ৪৪ এবং ব্রেন্ডন ম্যাককালামের ৪৩ রানের ওপর ভর করে ৭ উইকেট হারিয়ে ১৭৬ রা করে রয়েল চ্যালেঞ্জার্স ব্যাঙ্গালুরু। মানদ্বীপ সিং করেন ৩৭ রান এবং বিরাট কোহলি করেন ৩১ রান।
যা বললেন ধোনি জয়ের নায়ক ব্র্যাভোকে নিয়ে
আইপিএলের এগারোতম আসরের প্রথম ম্যাচে শনিবার ওয়াংখেড়ে স্টেডিয়ামে মুখোমুখি হয় মুম্বাই ইন্ডিয়ান্স ও চেন্নাই সুপার কিংস। উত্তেজনাপূর্ণ এই ম্যাচে নির্বাসন কাটিয়ে ফেরা ধোনির চেন্নাই এক উইকেটে হারিয়েছে মুম্বাইকে। ৩০ বলে ৬৮ রানের বিধ্বংসী ইনিংস খেলে চেন্নাইয়ের ক্যারিবিয়ান অলরাউন্ডার ব্র্যাভো। আর এই তারকাকে প্রশংসায় ভাসাতে ভুল করেননি অধিনায়ক ধোনি। ম্যাচ শেষে ধোনি বলেন,যেভাবে ব্র্যাভো ব্যাট করেছে দারুণ। ওকে দায়িত্ব নিয়ে খেলতে দেখে সত্যি ভালো লাগছে। আমরা আরও ভালো ব্যাট করতে পারতাম। তবে এই মুহূর্তে ম্যাচের পজিটিভ দিকগুলোকেই গুরুত্ব দেবো আমি। এদিন ৩০ বলে ৬৮ রানের বিধ্বংসী ইনিংসে ধোনিদের নিশ্চিত হারতে বসা ম্যাচকে জয়ে বদলে দেন এই ক্যারিবিয়ান অলরাউন্ডার। ৭টি ছয়, ৩টি চারের সঙ্গে ৩০ বলে ৬৮ রানের ইনিংস খেলে ম্যাচ জেতার দোরগোড়ায় নিয়ে আসেন ক্যারিবিয়ান ক্রিকেটার। উল্লেখ্য, ২০১১ থেকে ২০১৫ এই পাঁচ বছর চেন্নাই সুপার কিংসে ধোনির সতীর্থ ছিলেন ব্র্যাভো। ২০১৩ এবং ২০১৫ সালে চেন্নাইয়ের হয়ে সর্বোচ্চ উইকেট নিয়ে বেগুনি টুপি জিতেছিলেন এই ক্যারিবিয়ান ক্রিকেটার। ২০১৫ সালে বেটিংয়ে জড়িয়ে চেন্নাই সুপার কিংস দলটি আইপিএল থেকে নির্বাসিত হলে গুজরাট লায়ন্সের হয়ে খেলেন এই ক্যারিবিয়ান ক্রিকেটার। ২০১৮ সালে আইপিএলে কাম ব্যাক করে ৬.৪০ কোটি টাকার বিনিময়ে ব্র্যাভোকে নিজেদের স্কোয়াডে ধরে রাখে চেন্নাই সুপার কিংস।
আফ্রিদিকে পেছনে ফেলার সুযোগ,অনন্য রেকর্ডের সামনে সাকিব
ইন্ডিয়ান প্রিমিয়ার লিগে (আইপিএল) কোলকাতা নাইট রাইডার্সের হয়ে সাত বছর খেলছেন বাংলাদেশের অন্যতম সেরা ক্রিকেটার সাকিব আল হাসান। তবে চলতি আসরে তিনি খেলবেন সানরাইজার্স হায়দরাবাদের জার্সিতে। ৯ এপ্রিল প্রথম ম্যাচ খেলবেন তিনি। তবে আইপিএলের এই আসরে পাকিস্তানের অলরাউন্ডারের শহীদ আফ্রিদিকে ছাড়িয়ে যাওয়ার সুযোগ থাকছে সাকিবের সামনে। রাজস্থান রয়্যালসের বিপক্ষে আগামী ম্যাচটি হবে সাকিবের টি-টোয়েন্টি ক্যারিয়ারের ২৫৫ নম্বর ম্যাচ। জাতীয় দল ও বিভিন্ন ফ্র্যাঞ্চাইজির হয়ে আগের ২৫৪ ম্যাচে তিনি উইকেট নিয়েছেন ২৯৪টি। অন্যদিকে পাকিস্তানি অলরাউন্ডার আফ্রিদি এখন পর্যন্ত ২৭৪ ম্যাচ খেলে ৩০০ উইকেট নিয়েছেন। তাই চলতি আইপিএল আসরে সাকিব ৭টি উইকেট নিতে পারলেই ছাড়িয়ে যাবেন শহীদ আফ্রিদিকে। আর ৬টি উইকেট নিতে পারলেই পঞ্চম কোনো বোলার হিসেবে টি-টোয়েন্টিতে ৩০০ উইকেট শিকারের মাইলফলক স্পর্শ করবেন। এই তালিকায় শীর্ষে আছেন ডোয়াইন ব্রাভো ৩৭৫ ম্যাচে ৪১৩ উইকেট নিয়েছেন তিনি। দ্বিতীয় অবস্থানে আছেন শ্রীলঙ্কার লাসিথ মালিঙ্গা। তিনি নিয়েছেন ২৫৬ ম্যাচে ৩৪৮ উইকেট। সুনীল নারিন ২৭১ ম্যাচে পেয়েছেন ৩১৭ উইকেট আর পাকিস্তানের শহীদ আফ্রিদি ২৭৪ ম্যাচে তুলে নিয়েছেন ৩০০ উইকেট। এর পরই বাংলাদেশের সাকিবের অবস্থান। তিনি ২৫৪ ম্যাচে ২৯৪ উইকেট পেয়েছেন।
'জ্বলে উঠতে তৈরি সাকিব' আপনি তৈরি তো?
কলকাতা নাইট রাইডার্স দলে টানা ৭ মৌসুম কাটানোর পর ইন্ডিয়ান প্রিমিয়ার লীগে (আইপিএল) এবার সাকিব আল হাসানের নতুন ঠিকানা সানরাইজার্স হায়দরাবাদ। আর নতুন দলে যোগ দিয়ে কমলা জার্সিধারী হায়দরাবাদের জন্য সবার সমর্থন চাইলেন সাকিব। আগামী শনিবার মাঠে গড়াচ্ছে আইপিএলের ১১তম আসর। তবে সানরাইজার্স হায়দরাবাদের প্রথম ম্যাচ ৯ই এপ্রিল, রাজস্থান রয়্যালসের বিপক্ষে। ওই ম্যাচ সামনে রেখে হায়দরাবাদের রাজীব গান্ধী আন্তর্জাতিক স্টেডিয়ামে সানরাইজার্স দলের সঙ্গে অনুশীলন করেছেন সাকিবও। বাংলাদেশের এ বিশ্বসেরা অলরাউন্ডারকে দলে পেয়ে হায়দরাবাদ ভীষণ খুশি। নিজেদের ওয়েবসাইটে তারা লিখেছে,অলরাউন্ডার সাকিব আল হাসান যোগ দিয়েছেন দলে। তার প্রথম ম্যাচ দেখতে অধীর অপেক্ষায়। পরে সাকিবকে নিয়ে আরেকটি পোস্ট দেয় হায়দরাবাদ। যেখানে লেখা হয়, ২০১৮ এর আইপিএলে আমাদের তারকা সাকিব ব্যাট ও বল হাতে জ্বলে উঠতে তৈরি। আপনি তৈরি তো? শুধু হায়দরাবাদ নয়। সাকিব নিজেও এক ভিডিও বার্তায় দলের জন্য সবার সমর্থন চেয়েছেন। তিনি বলেন, আমি মনে করি, আমাদের এমন একটা দল, যারা সব বাধা পেরিয়ে যাওয়ার সামর্থ্য রাখে। অবশ্যই এটি একটি দীর্ঘ টুর্নামেন্ট। সবাইকে ফিট থাকতে হবে এবং সেরা ছন্দে থেকে এগিয়ে যেতে হবে। যেভাবে সমর্থন দিচ্ছেন, সেভাবেই দিয়ে যান। আশা করছি, আপনাদের জন্য আমরা গৌরব বয়ে আনতে পারবো।
সাকিব ভালো বন্ধু এবং গ্রেট অলরাউন্ডার-বললেন ইউসুফ পাঠান
ইন্ডিয়ান প্রিমিয়ার লিগে (আইপিএল) দীর্ঘদিন কলকাতা নাইট রাইডার্সের (কেকেআর) হয়ে খেলেছেন সাকিব আল হাসান ও ইউসুফ পাঠান। এবছর কেকেআর তাদের ছেড়ে দিলেও কাকতালীয়ভাবে দুজনই আবার সানরাইজার্স হায়দরাবাদের জার্সিতে মাঠে নামবেন। আগামী ৯ এপ্রিল নিজেদের প্রথম ম্যাচে রাজস্থান রয়্যালসের বিপক্ষে মাঠে নামার আগে ভারতের এনডিটিভিকে একটি দীর্ঘ সাক্ষাৎকার দিয়েছেন ইউসুফ পাঠান। সেখানে সাকিবকে নিয়েও কথা বলেছেন জাতীয় দলের বাইরে থাকা এই ভারতীয় অলরাউন্ডার। সাকিবকে নিয়ে এনডিটিভির প্রশ্ন ছিল এরকম- আরেকজন অলরাউন্ডার হিসেবে সাকিবের সঙ্গে কোনো প্রতিদ্বন্দ্বিতা দেখছেন কিনা? জবাবে ইউসুফ পাঠান বলেন,সাকিব ভালো বন্ধু এবং গ্রেট অলরাউন্ডার। আমরা কেকেআর টিমেও একসঙ্গে খেলেছি। তাকে আমি প্রতিযোগিতার চেয়ে একজন সঙ্গী হিসেবে মনে করি। আমরা দুজনেই দলের সাফল্যের জন্য অবদান রাখতে মুখিয়ে আছি। তবে হায়দরাবাদে শুধু সাকিব-পাঠান নন, দলে অলরাউন্ডার তালিকায় আরও আছেন কার্লোস ব্রাথওয়েট, মোহাম্মদ নবী, ক্রিস জর্ডান, দিপক হুদা, বিপুল শর্মা।
আরেক রেকর্ড মাশরাফি বিন মুর্তজার
ওয়ানডে ক্রিকেটে এক মৌসুমে বাংলাদেশের বোলারদের মধ্যে সর্বাধিক উইকেটের মালিক মাশরাফি বিন মুর্তজা। ২০০৬ সালে ২৭ ম্যাচে ৪৯ উইকেট দখল করে রেকর্ডবুকে নিজের নাম লেখান ওয়ানডে অধিনায়ক। ঢাকা প্রিমিয়ার লীগের গত আসরে লিস্ট এ ক্রিকেটে এক আসরে সর্বাধিক ৩৫ উইকেট দখলে নিয়ে রেকর্ড গড়েছিলেন গাজী গ্রুপ ক্রিকেটার্সের বাঁহাতি পেস বোলার আবু হায়দার রনি। ঢাকা প্রিমিয়ার ডিভিশন ক্রিকেট লীগের এক আসরে এটাই ছিল এতদিন পর্যন্ত সেরা সাফল্য। গতকাল ১৫তম ম্যাচ খেলতে নেমে রেকর্ড থেকে এক উইকেট দূরে ছিলেন মাশরাফি। এদিন নিজের পঞ্চম ওভারেই ওপেনার রবিউলকে ফিরিয়ে তুলে নেন ৩৬তম উইকেট। আর তাতে আবু হায়দার রনির এক মৌসুমে নেয়া ৩৫ উইকেটকে টপকে যান মাশরাফি। ম্যাচ শেষে তার উইকেট সংখ্যা ৩৮। ঢাকা প্রিমিয়ার ক্রিকেট লীগের এক আসরে এর আগে মাশরাফির সেরা সাফল্য ছিল ২৯ উইকেট। ২০০৯-১০ মৌসুমে আবাহনীর হয়ে এমন কীর্তি গড়েছিলেন বাংলাদেশের ওয়ানডে অধিনায়ক। নিজের সেই সাফল্যকে একই দলের জার্সিতে ছাড়িয়ে গেলেন এবার। যদিও ঢাকা প্রিমিয়ার ডিভিশন ক্রিকেট লীগকে আইসিসি লিস্ট এ মর্যাদা দিয়েছে ২০১৩ সালে। সে কারণেই তার কীর্তি রেকর্ডবুকে নেই। আগের কীর্তিটা রেকর্ডবুকে না থাকলেও গতকাল মাশরাফির এই রেকর্ডটা উঠে গেছে রেকর্ডবুকে। এরপর এক এক করে মাশরাফি ভেঙেছেন ঢাকা প্রিমিয়ার লীগে ২০১৩-১৪ মৌসুমে গাজী ট্যাংক ক্রিকেটার্সের আরাফাত সানি ও ফরহাদ রেজার ২৯ উইকেটের রেকর্ড। ২০১৬ সালে ভিক্টোরিয়ার শ্রীলঙ্কান স্পিনার চতুরঙ্গ ডি সিলভার ৩০ উইকেট, ২০১৪-১৫ মৌসুমে প্রাইম দোলেশ্বরের বাঁহাতি স্পিনার ইলিয়াস সানির ৩১ উইকেট, ২০১৭ সালে প্রাইম দোলেশ্বরের বাঁহাতি স্পিনার আরাফাত সানির ৩৪ উইকেট। ২০১৭ সালে গাজী গ্রুপ ক্রিকেটার্সের আবু হায়দার রনির ৩৫ উইকেটের রেকর্ড ভেঙে ৩৮ উইকেটের মাইলফলক স্পর্শ করেছেন মাশরাফি। ক্যারিয়ারের শেষলগ্নে দাঁড়িয়ে মাশরাফি একের পর এক কীর্তি গড়েই চলছেন। এই লীগেই অনেক অর্জন তার। ঢাকা লীগে এবারই প্রথমবারের মতো ৫ উইকেটের মুখ দেখেছেন। এক ইনিংসে ৫ বলে হ্যাটট্রিকসহ ৪ উইকেটে লিস্ট এ ক্রিকেটে অষ্টম বোলার হিসেবে রেকর্ডও গড়েছেন। তবে চলমান আসরে বোলিংয়ে শ্রেষ্ঠত্বের লড়াইয়ে মাশরাফিকে ভালোই চ্যালেঞ্জ ছুড়েছিলেন মোহামেডানের পেস বোলার কাজী অনিক। ১১ ম্যাচে ২৮ উইকেটে থামতে হয়েছে কাজী অনিককে। মোহামেডানের বিদায়ে অনিক থামলেও ঠিকই মাশরাফির পেছনে ছুটছেন লিজেন্ড অব রূপগঞ্জের বাঁহাতি স্পিনার আসিফ হাসান ও প্রাইম দোলেশ্বরের ফরহাদ রেজা। ২৮ উইকেট নিয়ে অনিকের সঙ্গে যৌথভাবে দুই নম্বরে আছেন এরা দুজন। ২৭ উইকেট নিয়ে তিন নম্বরে আছেন শেখ জামালের রকিবুল হক ও লিজেন্ড অব রূগপঞ্জের মোহাম্মদ শহীদ। চলতি আসরে শীর্ষ ছয় বোলার নাম ম্যাচ ওভার মেডেন রান উইকেট গড় সেরা ৪ উই. মাশরাফি (আবাহনী) ১৫ ১২২.৫ ৯ ৫৪০ ৩৮ ১৪.২১ ৬/৪৪ ৪ অনিক (মোহামেডান) ১১ ৯৮.৫ ৫ ৬৩৫ ২৮ ১৯.১০ ৬/৪৯ ৩ আসিফ (রূপগঞ্জ) ১৫ ১৩৬.৫ ১০ ৫৬৪ ২৮ ২০.১৪ ৪/২৩ ১ ফরহাদ রেজা (দোলেশ্বর) ১৫ ১২৩.৩ ৬ ৭৫১ ২৮ ২৬.৮২ ৪/৩৭ ২ রকিবুল হক (শেখ জামাল) ১৩ ৯৮.৪ ২ ৪৪৩ ২৭ ১৬.৪০ ৫/৩৩ ১ শহীদ (রূপগঞ্জ) ১৫ ১৪০ ৯ ৬৮৯ ২৭ ২৫.৫১ ৪/২৬ ২
সেঞ্চুরি হ্যাটট্রিক নিয়ে শীর্ষে আশরাফুল
ঢাকা প্রিমিয়ার লীগে টানা তিন ম্যাচে সেঞ্চুরি পেলেন মোহাম্মদ আশরাফুল। আসরে চার সেঞ্চুরি করে আগেই ইতিহাসে নিজের নাম লিখে ফেলেছিলেন আশরাফুল। যার দুটি ছিল গত দুই ম্যাচে। ২০শে মার্চ মোহামেডানের বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে শুরু। বৃহস্পতিবার অগ্রণী ব্যাংকের বিপক্ষে টানা দ্বিতীয় সেঞ্চুরির পর রোববার ব্রাদার্সের বিপক্ষে সেঞ্চুরির হ্যাটট্রিক পেয়ে গেলেন তিনি। লিস্ট এতে এক লীগে বাংলাদেশের কোনো ব্যাটসম্যানের তিন সেঞ্চুরির রেকর্ডই ছিল না। এবার প্রথম পর্বে দশ খেলায় অংশ নিয়ে তিন শতক হাকিয়ে সেই দুর্লভ রেকর্ড বা কৃতিত্বের অংশীদার হন মোহাম্মদ আশরাফুল। তবে আশরাফুলের রেকর্ডের দিনে নায়ক বনে গেছেন ব্রাদার্সের ওপেনার মিজানুর রহমান। রোববার মিজানুরের ঝড়ো সেঞ্চুরিতে ছয় উইকেটে জয় কুড়ায় ব্রাদার্স ইউনিয়ন। রেলিগেশন লীগে কলাবাগানের শেষ ম্যাচে টস জিতে ব্যাট করতে নামা আশরাফুল ৫০ এ পা রাখেন চার বাউন্ডারিতে ১০২ বলে। আর তার শত রান পূর্ণ হয় দশ চারে ১৩৭ বল থেকে। শেষ ৫০ রান করতে আশরাফুল খেলেন মাত্র ৩৫ বল। আশরাফুলের অপরাজিত সেঞ্চুরি ও ওয়ালিল করিমের হাফ সেঞ্চুরির ওপর ভর করে শেষ পর্যন্ত তিন উইকেটে ২৫২ রান সংগ্রহ করে কলাবাগান। লীগে সেঞ্চুরিতে তিনিই শীর্ষে। তিন সেঞ্চুরি করে আশরাফুলের পেছনে জাতীয় ক্রিকেট দলের লিটন দাস ও নাজমুল হোসেন শান্ত। তার পাঁচ সেঞ্চুরির দুটিই অগ্রণী ব্যাংকের বিপক্ষে। ব্রাদার্স ছাড়াও বাকি দুটি মোহামেডান ও প্রাইম দোলেশ্বরের বিপক্ষে। কলাবাগান সাবধানী শুরু করলেও ব্রাদার্সের শুরুটা ছিল ঠিক উল্টো। প্রথম দশ ওভারে কলাবাগানের সংগ্রহ যেখানে ছিল ৩৪, সেখানে ব্রাদার্সের দুই ওপেনার জুনায়েদ সিদ্দিকী ও মিজানুর রহমান তুলে ফেলেন ৬৭ রান। মিজানুরই ছিলেন বেশি আগ্রাসী। ৬৯ রানে যখন জুনায়েদ ফিরে যান তখন তার সংগ্রহ ছিল মাত্র ১৬। ৪৩ বলে ফিফটি করা মিজানুর এদিন সেঞ্চুরি পূর্ণ করেন মাত্র ৮৫ বলে। ১১৫ রান করে মিজানুর যখন আউট হন তখন ব্রাদার্সের সংগ্রহ ১৭৮। ১০৪ বলের ইনিংসে ১১টি বাউন্ডারি ও পাঁচটি ছক্কা হাঁকান মিজানুর। সেখান থেকে কলাবাগানের ম্যাচে ফেরার যতটুকু আশা ছিল তাও শেষ করে দেন ইয়াসির আলী ও নাজমুস সাদাত। পঞ্চম উইকেটে দুজনের ৭৫ রানের অবিচ্ছিন্ন জুটি ৫.৩ বল বাকি থাকতেই ব্রাদার্সের জয় নিশ্চিত হয়। ঘরোয়া লিস্ট এ আসর চলতি ঢাকা প্রিমিয়ার ডিভিশন ক্রিকেট লীগে সফল ব্যাটসম্যানের তালিকায় শীর্ষে উঠে এলেন মোহাম্মদ আশরাফুল। আসরের ১৩ ইনিংসে আশরাফুলের সংগ্রহ দাঁড়ালো ৬৬৫ রানে। ১৪ ম্যাচে ৬৬০ রান নিয়ে তালিকার দ্বিতীয় স্থানে রয়েছেন আবাহনী লিমিটেডের ওপেনার এনামুল হক বিজয়।
মুম্বাইয়ের হয়ে খেলতে ভারত গেলেন মোস্তাফিজ
মুম্বাই ইন্ডিয়ান্সের হয়ে আইপিএল খেলতে ঢাকা ছেড়েছেন মোস্তাফিজুর রহমান। নিজের সোশ্যাল মিডিয়া অ্যাকাউন্টে এ তথ্য মোস্তাফিজই জানিয়েছেন ভক্তদের। আইপিএলে নিজের প্রথম আসরে সানরাইজার্স হায়দরাবাদকে শিরোপা জিতিয়েছিলেন মোস্তাফিজ। দ্বিতীয় আসরে যদিও খুব একটা ভালো করতে পারেননি। নিজের ফর্মও ভালো ছিল না। এ কারণে এবার হায়দরাবাদ মোস্তাফিজকে আর ধরে রাখেনি। এই সুযোগটা কাজে লাগিয়ে মোস্তাফিজকে দলে ভিড়িয়েছে মুম্বাই ইন্ডিয়ান্স। নিজের ভ্যারিফায়েড ফেসবুক এবং টুইটার অ্যাকাউন্টে মোস্তাফিজ লিখেছেন,ভারতের উদ্দেশ্যে রওয়ানা হলাম। এখন তো আইপিএল সময়। মুম্বাই ইন্ডিয়ান্স স্কোয়াডে যোগ দেয়ার জন্য আর তর সইছে না। আইপিএলের উদ্দেশ্যে ইতিমধ্যেই মুম্বাই ইন্ডিয়ান্সের অনুশীলন শুরু হয়ে গেছে। রোহিত শর্মার দলে যোগ দিয়ে মোস্তাফিজ দলটির শক্তি আরো বাড়িয়ে দেবেন, সন্দেহ নেই তাতে।