আর্জেন্টিনাকে হারিয়ে দ্বিতীয় রাউন্ডে ক্রোয়েশিয়া
মাথা নিচু করে রয়েছেন। রাজ্যের হতাশা মাসেরানোর চেহারায়। হিগুয়াইনের মাথা চুইয়ে ঘাম ঝড়ে পড়ছে। কাবায়েরোর চোখে মুখে ক্ষমা চাওয়ার আকুতি। ৮০ মিনিটে লুকা মদ্রিচ যখন গোল করলেন তখনকার চিত্র এটি। এক ছবিতেই পুরো আর্জেন্টিনার চিত্র। বিশ্বকাপে শত আশা নিয়ে আসলেও টানা দুই ম্যাচ হেরে বিশ্বকাপ স্বপ্ন কার্যত শেষ হয়ে গেল মেসিদের। এখন অন্যদের উপর নির্ভর করছে আর্জেন্টিনার বিশ্বকাপের পরের রাউন্ডে যাওয়া। বিশ্বকাপের দ্বিতীয় রাউন্ডে ওঠার লক্ষ্যে ক্রোয়েশিয়ার বিপক্ষে মহাগুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে মাঠে নামে আর্জেন্টিনা। প্রথম ম্যাচে আইসল্যান্ডের বিপক্ষে ১-১ ব্যবধানে ড্র করে খাদের কিনারায় মেসির দল। সেখান থেকে বের হওয়ার লক্ষ্যে দ্বিতীয় ম্যাচে মাঠে নামে মেসিরা। কিন্তু ক্রোয়েশিয়ানদের কাছে কোথাও পাত্তা পায়নি মেসিরা। হোর্হে সাম্পাওলির দলকে ৩ -০ গোলে হারিয়ে দ্বিতীয় রাউন্ড নিশ্চিত করলো মদ্রিচ-রাকিতিচরা। দারুণ মিডফিল্ড নিয়ে ম্যাচের শুরুতেই আক্রমণ করতে থাকে ক্রোয়েশিয়া। ম্যাচের ৪ মিনিটেই এগিয়ে যেতে পারতো ক্রোয়েশিয়া। কিন্তু পেরেসিচের বা পায়ের শট আঙুলের টোকায় রক্ষা করেন আর্জেন্টাইন গোলরক্ষক কাবায়েরো। ১২ মিনিটে মেসিও সুযোগ পেয়েছিলেন গোলের। সতীর্থের মাথার উপর দিয়ে চিপ করা বলে পা ছোঁয়াতে ব্যর্থ হন এই বার্সা তারকা। ২১ মিনিটে লেফট উইং দিয়ে মার্কস আকুনিয়ার আচমকা বা পায়ের শট গোলবারে লেগে প্রতিহত হলে গোলবঞ্চিত হয় আর্জেন্টিনা। ৩০ মিনিটে আর্জেন্টিনার হয়ে গোলের সবচেয়ে সহজ সুযোগটি পেয়েছিলেন এনজো পেরেজ। মাত্র ছয় গজ দূর থেকে মেজার থেকে বল পেয়েও উন্মুক্ত গোলে বল না মেরে বাইরে পাঠান এই রিভার প্লেট তারকা। ম্যাচে তেমন কোন প্রভাবই রাখতে পারেননি মেসি। আর্জেন্টাইন ডিফেন্ডারদের ফাঁকি দিয়ে ৩৩ মিনিটে ভ্রাসালজিকোর ক্রসে মানজুকিচ হেড করলে তা লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়। গোল মুখের এত সামনে দাঁড়িয়ে এমন হেডে কার্যত হতাশা নেমে আসে ক্রোয়েটদের মাঝে। প্রথমার্ধের অতিরিক্ত সময়ে পেরেসিচ ফাঁকায় বল পেয়েও গোল করতে ব্যর্থ হন। গোলশূন্য অবস্থাতেই শেষ হয় প্রথমার্ধ। দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতেই আর্জেন্টিনাকে হতাশায় ডোবান গোলরক্ষক কাবায়েরো। সতীর্থদের পাস দেওয়ার পরিবর্তেই দিয়ে বসেন ক্রোয়েশিয়ার ফুটবলার রেবিচকে। মনে হচ্ছিল যেন পাসই ভুলে গেছেন তিনি! ডি বক্সের ভেতর থেকে দারুণ ভলিতে কাবায়েরোর মাথার উপর দিয়ে দুর্দান্ত গোলে ক্রোয়েশিয়াকে ১-০ গোলে এগিয়ে দেন তিনি। ক্যামেরায় মাঝে মাঝে ডিয়েগো ম্যারাডোনাকে দেখাচ্ছিল। হয়তো ১৯৮৬ সালের সেই ম্যারাডোনাকে মনে করে আর্জেন্টাইনদের আরেকটু চাঙ্গা করার ব্যর্থ প্রয়াস। ৬৪ মিনিটে গোল শোধের সুযোগ পেয়েছিলেন মেসি ও মেজা। কিন্তু গোললাইন থেকে সেটি রক্ষা করেন মেসিরই ক্লাব সতীর্থ রাকিতিচ। দলকে বাঁচাতে ৬৮ মিনিটে এনজো পেরেজের বদলি হিসেবে দিবালাকে নামান কোচ। কিন্তু তিনিও পারেননি আর্জেন্টিনার এই হতাশাজনক খেলার ধারা পাল্টাতে। আর্জেন্টিনার এই ম্যাচে ফিরে আসার চিন্তা ৮০ মিনিটেই কার্যত শেষ হয়ে যায়। ব্রোজোভিচের কাছ থেকে বল পেয়ে ডি বক্সের বাইরে থেকে দূরপাল্লার দর্শনীয় শটে কাবায়েরোকে পরাস্ত করেন এই রিয়াল মাদ্রিদ তারকা। ২-০ গোলে এগিয়ে থেকে আরো যেন শক্তিশালী ক্রোয়েশিয়ান ফুটবলাররা। ম্যাচের ৯২ মিনিটের মাথায় গোলরক্ষক কাবায়েরোকে বোকা বানান কোভাচিচ। এই মাদ্রিদ তারকার বাড়ানো পাস থেকে রাকিতিচ গোল করে আর্জেন্টিনাকে ৩-০ গোলের হার উপহার দেন। ৩-০ গোলের পরাজয়ে আর্জেন্টিনার দ্বিতীয় রাউন্ড ভাগ্য এখন সুতোয় ঝুলছে। অন্যদিকে মেসিদের হারিয়ে রাকিতিচ, মদ্রিচদের হাত ধরে আরো একবার বিশ্বকাপের নকআউট রাউন্ডে উঠলো ক্রোয়েশিয়া।
পেরুকে হারিয়ে ষোলোতে ফ্রান্স
এবারের বিশ্বকাপে ফেভারিট দলগুলোর মধ্যে নিজেদের প্রথম ম্যাচে একমাত্র জয় পেয়েছিল ফ্রান্স। অস্ট্রেলিয়াকে ২-১ গোলে হারিয়ে যাত্রা করেছিল দলটি। সেই ধারা বজায় রাখতে মরিয়া ছিলেন ফরাসিরা। পেরুর বিপক্ষে জয় ভিন্ন কিছুই মাথায় নেননি তারা। সেই যাত্রায় সফল ফ্রান্স। পেরুভিয়ানদের ১-০ গোলে হারিয়েছেন সাবেক বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা। এ জয়ে শেষ ষোলো নিশ্চিত করেছেন তারা। অসাধারণ স্কিলে জয়সূচক গোলটি করেছেন প্রতিশ্রুতিশীল ফুটবলার কিলিয়ান এমবাপ্পে। ১৯৭৮ বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনার কাছে হারার পর থেকে বিশ্বকাপে দক্ষিণ আমেরিকার কোনো দেশের কাছে হারেনি ফ্রান্স। এ নিয়ে জিতল ৪ ম্যাচ, ড্র হয় অন্য ৪টি। একাতেরিনবার্গে সতর্ক শুরু করে ফ্রান্স। সেখানে আক্রমণাত্মক সূচনা করে পেরু। ঘন ঘন আক্রমণে ওঠেন পেরুভিয়ানরা। প্রথমার্ধে ৫৩ শতাংশ বল দখলে রাখেন তারা। মূলত এরই খেসারত গুনতে হয়েছে তাদের। ৩৪ মিনিটে কাউন্টার অ্যাটাক থেকে গোল হজম করতে হয় পেরুকে। এসময় নিশানাভেদ করে ফ্রান্সকে লিড এনে দেন এমবাপ্পে। এতে ১-০ ব্যবধান নিয়ে বিরতিতে যায় ১৯৯৮ বিশ্ব চ্যাম্পিয়নরা। বিরতি থেকে ফিরে আক্রমণের গতি আরো বাড়ায় পেরু। মুহুর্মুহু আক্রমণে ফ্রান্স রক্ষণভাগে ত্রাস ছড়ায় ল্যাতিন আমেরিকার দলটি। এ অর্ধে ৫৭ শতাংশ বল দখলে রাখে তারা। বেশ কয়েকটি সুবর্ণ সুযোগও পায়। তবে স্বার্থ হাসিল করতে পারেনি। ফলে ভালো খেলেও হারের হতাশা নিয়ে মাঠ ছাড়তে হয় পেরুকে। এ হারে এক ম্যাচ আগেই বিদায় ঘণ্টা বাজল পেরুর।
বাংলাদেশ ফুটবল দলের দায়ীত্ব নিল ব্রাজিল
বাংলাদেশ ফুটবলকে বিশ্বে সবার সামনে আনার জন্য সকল প্রকার সহযোগিতার আশ্বাস দিয়েছেন ব্রাজিলের রাষ্ট্রদূত জোয়াও তাবাজারা ডি অলিভেইরা জুনিয়র। বৃহস্পতিবার (২১ জুন) যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী বীরেন শিকদারের সঙ্গে তার সচিবালয়স্থ কার্যালয়ে এক সৌজন্য সাক্ষাতে রাষ্ট্রদূত এ আশ্বাস দেন। জোয়াও তাবাজারা ডি অলিভেইরা জুনিয়র দক্ষ ফুটবলার তৈরিতে স্কুল পর্যায়ে নিবিড় সহযোগিতার কথা বলেন। তিনি বাংলাদেশে ফুটবল একাডেমি প্রতিষ্ঠা, ব্রাজিলের স্বনামধন্য কোচ ও খেলোয়াড়দের বাংলাদেশের ফুটবলের উন্নয়নে কাজে লাগানোর বিষয়েও আন্তরিকতা প্রকাশ করেন। সাক্ষাৎকালে তারা ক্রীড়ার উন্নয়নে বিভিন্ন বিষয়াদি নিয়ে মতবিনিময় করেন। এ সময় যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. আসাদুল ইসলাম, অতিরিক্ত সচিব এ বি এম রুহুল আজাদ, যুগ্মসচিব মো. ওমর ফারুক এবং বাংলাদেশে ফিফা বিশ্বকাপ ২০১৮ এর উম্মাদনা অবলোকন করতে ব্রাজিল থেকে আগত চারজন টিভি সাংবাদিক উপস্থিত ছিলেন।
গণভবনে মহিলা ক্রিকেটারদের প্রধানমন্ত্রীর সংবর্ধনা
এশিয়া কাপ টি-২০ টুর্নামেন্টে যে নৈপুণ্য দেখিয়েছে সেভাবে ভবিষ্যতেও বাংলাদেশের মহিলা ক্রিকেটাররা তাদের সাফল্য অব্যাহত রাখবে বলে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আশা প্রকাশ করেছেন। গতকাল বুধবার রাতে গণভবনে এশিয়া কাপ টি-২০ টুর্নামেন্টে বিজয়ী মহিলা ক্রিকেটারদের এক সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে তিনি বলেন, ‘আপনারা এশিয়া কাপে যে নৈপুণ্য দেখিয়েছেন সেখান থেকে পিছু হটবেন না বলে আমি আশাবাদী। আগামী দিনগুলোতে যে কোনো প্রতিযোগিতায় বিজয় অর্জনে দৃঢ় সংকল্পবদ্ধ থাকবেন বলে আমি আশা করি।’ গত ১০ জুন কুয়ালালামপুরে ম্যাচের চূড়ান্ত খেলায় বাংলাদেশ মহিলা ক্রিকেট দল ছয় বারের চ্যাম্পিয়ন ভারতকে তিন উইকেটে পরাজিত করে ঐতিহাসিক বিজয় অর্জন করে। মহিলা ক্রিকেটারদের পাশে থাকার দৃঢ় অঙ্গীকার ব্যক্ত করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সরকার ফুটবলের মতো সকল জেলায় ক্রিকেট টুর্নামেন্ট চালু করার পরিকল্পনা নিয়েছে। এশিয়া কাপে বাংলাদেশ দলের সাফল্যে আরো বহু খেলোয়াড় উত্সাহিত হবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিজয়ে খেলোয়াড়রা উল্লসিত হবে, তবে পরাজয়ে হতাশ হওয়া উচিত নয়। শেখ হাসিনা বলেন, সরকার চায় দেশের তরুণ প্রজন্ম ক্রীড়া ও সাংস্কৃতিক অঙ্গনসহ সর্বক্ষেত্রে সাফল্যজনকভাবে এগিয়ে যাক। অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী বীরেন সিকদার, বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের সভাপতি নাজমুল হাসান পাপন এবং ক্রিকেট দলের অধিনায়ক সালমা খাতুন বক্তব্য রাখেন।
ইরানকে হারিয়ে বিশ্বকাপে টিকে রইল স্পেন
বিশ্বকাপে দ্বিতীয় রাউন্ডে যাওয়ার সম্ভাবনা জিইয়ে রাখতে জিততেই হবে স্পেনকে। এমন কঠিন সমীকরণকে সামনে রেখে এশিয়ার পরাশক্তি ইরানের মুখোমুখি হয় স্পেন। ২০১৪ সালের পর যে দলটি কোন প্রতিযোগিতামূলক ম্যাচ হারেনি তাদের বিপক্ষে ম্যাচটি যে সহজ হবে না সেটা ভালো করেই জানতো ইনিয়েস্তারা। ইরানের শক্ত রক্ষণভাগের মোকাবেলায় ডিয়েগো কস্তার ভাগ্যপ্রসূত এক গোলে ইরানকে ১-০ গোলে হারায় স্পেন। দ্বিতীয় রাউন্ডে যাওয়ার সম্ভাবনা টিকিয়ে রাখলো ২০১০ সালের চ্যাম্পিয়নরা। পর্তুগালের বিপক্ষে একাদশে না থাকলেও দীর্ঘদিন পর ইনজুরি কাটিয়ে স্পেন একাদশে ফিরেছেন দানি কার্ভাহাল। অন্যদিকে কোকের পরিবর্তে ম্যাচে লুকাস ভাস্কুয়েজকে নামান স্পেন কোচ হিয়েরো। কিন্তু স্প্যানিশদের এতসব পরিকল্পনা সব ভেস্তে যায় কুইরোজের কৌশলের কাছে। ম্যাচের শুরু থেকেই আধিপত্য বিস্তার করে খেলতে থাকে স্পেন। কিন্তু ইরানের ডিফেন্ডারদের করা মার্কিংয়ে গোলের তেমন কোন সুযোগই তৈরি করতে পারেনি ইস্কো, ইনিয়েস্তা, সিলভারা। ইরানের গোলমুখে ম্যাচের প্রথম শটটি নেন ডেভিড সিলভা তাও ২৫ মিনিটের সময়। ফ্রি কিক থেকে সিলভার শট মানব দেয়ালে লেগে সরাসরি যায় ইরানের গোলরক্ষকের হাতে। পুরো প্রথমার্ধে ৮২ শতাংশ বল নিজেদের কাছে রেখেও ইরান ডিফেন্সে ভাঙন ধরাতে পারেনি স্পেন। প্রথমার্ধে দু’দল পেশি শক্তিরও বেশ ভালো ব্যবহার করে। ১৬বার রেফারি ফাউলের বাঁশি বাজালেও কেউ হলুদ কার্ড দেখেননি। গোলশূন্য অবস্থাতেই শেষ হয় স্পেনের গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচটি। দ্বিতীয়ার্ধে খোলস ছেড়ে বেরুতে থাকে স্প্যানিশ ফুটবলাররা। ৪৯ মিনিটে ইস্কোর কর্নার থেকে পিকের ফ্লিক গোলবারের সামান্য বাইরে দিয়ে চলে যায়। ৫৪ মিনিটেই ইরানের ১০ জনের ডিফেন্স ভাঙ্গেন ডিয়েগো কস্তা। মাঝমাঠ থেকে আন্দ্রেস ইনিয়েস্তা বল নিয়ে ডি বক্সের ভেতর ডিয়েগো কস্তাকে পাস দিলে সেটি ইরানের রক্ষণভাগের ফুটবলার ক্লিয়ার করতে গিয়ে অপ্রত্যাশিতভাবে কস্তার পায়ে বল জালে জড়ালে স্বস্তির গোল পায় স্পেন। এর ফলে বিশ্বকাপে দুই ম্যাচেই তিন গোল করলেন অ্যাটলেটিকো মাদ্রিদের কস্তা। ৬০ মিনিটে ইরানের তারেমির শট গোলবারের বাইরে চলে যায়। ৬৪ মিনিটেই গোল পেয়েছিল ইরান। এজাতোলাহি হেড থেকে গোল করলে উল্লাসে মাতে ইরান কিন্তু ভিডিও এসিস্ট্যান্ট রেফারির সহায়তায় নিয়ে গোলটিকে অফসাইডের কারণে বাতিল করে দেন রেফারি। ৭০ মিনিটে আবারো এগিয়ে যেতো পারতো স্পেন কিন্তু জেরার্ড পিকের শট গোললাইন থেকে দুই ইরানিয়ান ডিফেন্ডার শুয়ে রক্ষা করেন ইরানকে। ৮৩ মিনিটে গোল শোধের একদম কাছে চলে গেছিল ইরান। কিন্তু আমিরি ফাঁকা জায়গায় হেড করার সুযোগ পেয়েও সেটিকে গোলবারের উপর দিয়ে মারেন। ম্যাচের শেষ দিকে বল দখলের লড়াইতেই বেশি ব্যস্ত ছিল দলগুলো। শেষ দিকে আর কোন গোল না হলে ১-০ গোলের স্বস্তির জয় নিয়েই মাঠ ছাড়ে স্পেন। অন্যদিকে হেরেও দ্বিতীয় রাউন্ডের সম্ভাবনা টিকে রয়েছে ইরানের। শেষ ম্যাচে পর্তুগালের বিপক্ষে জিতলেই পরের রাউন্ডে চলে যাবে তারা।
মিশরকে ৩-১ গোলে উড়িয়ে নকআউট পর্বে রাশিয়া
মিশরের গড়া সব প্রতিরোধ দ্বিতীয়ার্ধে শুরুতেই ভেঙে্ গুড়িয়ে দিল রাশিয়া। ৩-১ গোলে মিশরকে হারিয়ে সবার আগে নকআউট পর্ব নিশ্চিত করেছে স্বাগতিক দল।নিজেদের প্রথম ম্যাচে সৌদি আরবকে ৫-০ গোলে উড়িয়ে দেওয়ার দ্বিতীয় ম্যাচেও বড় ব্যবধানে জয়ী হলো রাশিয়া। সেই সঙ্গে এবারের বিশ্বকাপের সর্বোচ্চ ৮ গোল দেওয়ার রেকর্ড গড়েলো স্বাগতিকরা। দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতেই আত্মঘাতি গোলে এগিয়ে যায় রাশিয়া। এরপর মাত্র ১৫ মিনিটের ব্যবধানে তিন গোলে বিশাল ব্যবধান গড়ে তুলে বিশ্বকাপের এবারের আয়োজকরা। দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতেই ৪৭ মিনিটে আলেক্সান্দর গোলোভিনের বাউন্সি শট পরিষ্কার করতে গিয়ে নিজেদের জালেই বল ঠেলে দেন মিশরের আহমেদ ফাতি (১-০)। ৫৯ মিনিটে দেনিস চেরিশভের গোলে ২-০ গোলের লিড পায় রাশিয়া। বিশ্বকাপে এটি তার তৃতীয় গোল। ফলে ক্রিস্টিয়ানো রোনালদোর সঙ্গে সর্বোচ্চ ৩ গোল করে তালিকায় শীর্ষে উঠে গেলেন তিনি। তিন মিনিট পরে আর্তেম জিউবার গোলে ৩-০ গোলে এগিয়ে যায় রাশিয়া। খেলার ৭৩ মিনিটে ভিডিও অ্যাসিটেন্ট রেফারি (ভিএআর) প্রযুক্তি থেকে পাওয়া পেনাল্টি থেকে লিভারপুল তারকা মোহামেদ সালাহ’র গোল দিয়ে রাশিয়ার সঙ্গে নিজদলের ব্যবধান কমান। এই পরাজয়ের ফলে প্রথম পর্ব থেকে সালাহ'র দল মিশরের বিদায় নিশ্চিত হলো। এর আগে সেইন্ট পিতার্সবুর্গে ম্যাচের শুরু রাশিয়ানদের আক্রমণে কোনঠাসা হয়ে পড়লেও সময় গড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে ঘুরে দাঁড়ায় মিশর। পাল্টা আক্রমণ করে খেলাকে গতিশীল করে তোলে। কিন্তু তাসের ঘরের মতোই ভেঙে পড়ে মিশরের সব প্রতিরোধ। মিশরকে ৩-১ গোলে হারিয়ে নকআউট পর্ব নিশ্চিত করে উল্লাসে মেতে ওঠে রাশিয়ানরা।
পোল্যান্ডকে ২-১ গোলে হারাল সেনেগাল
রাশিয়া বিশ্বকাপ যে নিজস্ব একটা গতি তৈরি করে নিয়েছে, সেটা প্রমাণ হলো সেনেগাল-পোল্যান্ড ম্যাচেও। এই দুই দলের মধ্য দিয়েই পূরণ হলো একটা বৃত্ত। বিশ্বকাপের ৩২টি দলই একটি করে ম্যাচ খেলে ফেলেছে ইতিমধ্যে। শেষ ম্যাচে মুখোমুখি হলো পোল্যান্ড আর সেনেগাল। এই ম্যাচে পোল্যান্ডের রক্ষণকে কাঁপিয়ে দিয়ে ২-১ গোলে হারিয়ে দিলো আফ্রিকান দেশ সেনেগাল। ২০০২ বিশ্বকাপের মতই জয় দিয়ে শুরু হলো তাদের। আফ্রিকার দেশগুলোর মধ্যে প্রথম দল হিসেবে জয় পেলো সেনেগালিজরা। এর চলতি বিশ্বকাপে আফ্রিকার প্রথম দল হিসেবে মিশরকে হারিয়েছে উরুগুয়ে। পরের ম্যাচে ইরানের কাছে হেরেছে মরক্কো। নাইজেরিয়া হেরেছে ক্রোয়েশিয়ার কাছে। তিউনিসিয়া হেরেছে ইংল্যান্ডের কাছে। শেষ প্রতিনিধি হিসেবে সেনেগালের কাছেই ছিল আফ্রিকান পতাকা। পোল্যান্ডকে শেষ পর্যন্ত ২-১ গোলে হারিয়ে আফ্রিকার সম্মানটা ধরে রাখতে পারলো তারা। ৩৭ মিনিটেই গোল করে সেনেগালকে এগিয়ে দেন ইদ্রিসা গুইয়ে। যদিও গোলটিকে আত্মঘাতি হিসেবেই ধরা হচ্ছে। কারণ, ইদ্রিসা গুইয়ের দুর্দান্ত শটটির গতিপথ আটকে দিয়েছিলেন থিয়াগো সিওনেক। তার পায়ের সঙ্গে লেগেই মূলতঃ বল চলে যায় পোল্যান্ডের জালে। প্রথমার্ধ শেষ হওয়ার ৮ মিনিট আগে গোল হজম করে বসে পোলিশরা। তার আগে সাদিও মানে এবং এমবায়ে নিয়াংয়ের সম্মিলিত আক্রমণ থেকে বক্সের মধ্যে বল পেয়েছিলেন ইদ্রিসা। দ্বিতীয়ার্ধ শুরুর পর ম্যাচের ৬০ মিনিটে আবারও এগিয়ে যায় সেনেগাল। এই গোলটায় অবশ্য পোল্যান্ডের ডিফেন্ডারদের অবদানই সবচেয়ে বেশি। কারণ, তাদের অমার্জনীয় ভুলেই এমবায়ে নিয়াং গোলটি পেয়ে যান। সেনেগালের রক্ষণ থেকে বলটা চলে আসে মিডফিল্ডে। ক্রিচোইয়াক ব্যাক পাস দিয়েছিলেন উঁচু করে। পরিবর্তিত খেলোয়াড় বেডনারেক পুরোপুরি অপ্রস্তুত অবস্থায় ছিলেন। বল বাঁচাতে অনেকখানি এগিয়ে এসেছিলেন গোলরক্ষক এসচিজনিও। কিন্তু তিনিও ক্লিয়ার করতে পারলেন না। বল ফাঁকি দিয়ে চলে যায় পোল্যান্ডের ডি বক্সে। সেখানে সামনে কেউ নেই। ফাঁকা পোস্ট। দৌড়ে বলে পেছন পেছন এলেন নিয়াং। আলতো শটে জড়িয়ে দিলেন পোল্যান্ডের জালে। সেনেগাল ২ : ০ পোল্যান্ড। খেলার ৮৬ মিনিটে একটি গোল শোধ করে দেয় পোল্যান্ড। কামিল গ্রোসিকির ফ্রি কিক থেকে ভেসে আসা বলে দারুণ এক হেড করেন গ্রেগোরিজ ক্রিচোইয়াক। সেই হেডটিই জড়িয়ে যায় সেনেগালের জালে। এরপর খেলার বাকি অংশে সমতায় ফেরার জন্য চেষ্টা করেও পারলো না আর পোল্যান্ড। শেষ বাঁশি বাজার সঙ্গে সঙ্গেই তাই জয়ের আনন্দে নেচে ওঠে সেনেগাল। ম্যাচের শুরু থেকে অবশ্য সেনেগালের রক্ষণে চাপ সৃষ্টি করে খেলার চেষ্টা করছিল পোল্যান্ড। কিন্তু ১৮ মিনিটেই গোলর দারুণ সুযোগ তৈরি করে নেয় সেনেগাল। জিয়েলিনস্কির একটি দুর্বল পাস থেকে বলের নিয়ন্ত্রন নেয় সেনেগালের সাবালি। বল নিয়ে এগিয়ে গিয়ে বক্সের মধ্যে এমবায়ে নিয়াংকে বল ঠেলে দেন সাবালি। অসাধারণ পাস। কিন্তু বলটিকে শটে পোস্টের ওপর দিয়ে পার করে দেন তিনি বাইরে। দারুণ আক্রমণের একটি বাজে ফিনিশিং ছিল ওটা। ৩০ মিনিটে লেওয়ানডস্কি একটা ভালো সুযোগ পেয়েছিলেন গোল করার। কিন্তু শেষ পর্যন্ত তিনি ব্যর্থ হলেন। একটি লং পাস থেকে বক্সের মধ্যে বল নিয়ন্ত্রণে নেয়ার চেষ্টা করেন তিনি। কিন্তু সেনেগাল গোলরক্ষক খাদিম এনদিয়াই তাকে ব্যর্থ করে দেন।
পেনাল্টি গোলে দ. কোরিয়াকে হারালো সুইডেন
গ্রুপ পর্বে নিজেদের প্রথম ম্যাচে দক্ষিণ কোরিয়াকে ১-০ গোলে হারিয়েছে সুইডেন। সুইডিশদের একমাত্র গোলটি আসে পেনাল্টি থেকে। নিঝনি নভোগরদ স্টেডিয়ামে ম্যাচের ৬৫তম মিনিটে স্পট কিক থেকে বল জালে পাঠাতে ভুল করেননি সুইডেন ডিফেন্ডার আন্দ্রেই গ্রাঙ্কভিস্ট। এর আগে ০-০ সমতা নিয়ে ম্যাচের প্রথামর্ধের খেলা শেষ করে সুইডেন ও এশিয়ার ফুটবলের পরাশক্তি দক্ষিণ কোরিয়া। নভোগোরদ মাঠে সুইডেন-কোরিয়ার লড়াইয়ে গোলবারে প্রথম শটটি দেখা যায় ম্যাচের ২০তম মিনিটে। বিশ্বকাপের ইতিহাসে ম্যাচের প্রথম শটের জন্য দ্বিতীয় দীর্ঘ সময় অপেক্ষার রেকর্ড এটি। আগের রেকর্ডটি ৫২ বছরের পুরনো। ১৯৬৬’র বিশ্বকাপে নেদারল্যান্ডস-কোস্টিারিকা ম্যাচে গোলবারে প্রথম শট নেয়া হয় ম্যাচের ২০.৫৯তম সেকেন্ডের মাথায়। এবারের বিশ্বকাপে কঠিন গ্রুপের তকমা পাচ্ছে এটি। আর এফ’ গ্রপের প্রথম ম্যাচে মেক্সিকোর কাছে শিরোপাধারী জার্মানির হারে তা হয়েছে আরো।
আর্জেন্টিনা ও আইসল্যান্ড ১-১ গোলে ড্র
শুক্রবার রাতেই আগে কত কি কীর্তি গড়লেন বর্তমান সময়ের দুই সেরা ফুটবলারের একজন ক্রিস্তিয়ানো রোনালদো। স্পেনের বিপক্ষে পর্তুগিজ এই তারকার হ্যাট্রিকের প্রথমটি গোলটি ছিল স্পটকিক থেকে। আর তৃতীয়টি ছিল অসাধারণ এক ফ্রি-কিক থেকে। শনিবার মস্কোর স্পার্তাকে আইসল্যান্ডের বিপক্ষে একই রকম সুযোগ পেয়েছিলেন আরেক বিশ্বসেরা ফুটবলার লিওনেল মেসি। পেয়েছিলেন পেনাল্টি শ্যুট। করেছিলেন বেশ কয়েকটি ফ্রি-কিকও। কিন্তু গোলের দেখা পাননি তিনি। সবচেয়ে বেশি মূল্য অবশ্য দিতে হয়েছে পেনাল্টি শ্যুট মিসের জন্য। এই গোলটি করতে পারলে বিশ্বকাপে নিজেদের প্রথম ম্যাচে জয় নিয়ে মাঠ ছাড়তে পারত আর্জেন্টিনা। কিন্তু তার বদলে পুচকে আইসল্যান্ডের বিপক্ষে ১-১- গোলের ড্র নিয়ে সন্তুষ্ট থাকতে হচ্ছে দুইবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের। এদিন ম্যাচের ১৯ মিনিটেই সার্জিও আগুয়েরোর গোলে ১-০ তে এগিয়ে যায় আর্জেন্টিনা। কিন্তু পিছিয়ে পড়ার ৪ মিনিটের মধ্যেই সেটি শোধ করে ১-১ গোলে সমতায় ফেরে আইসল্যান্ড। বিশ্বকাপে দেশের হয়ে প্রথম গোলটি করে আলফ্রেড ফিনবোগাসন। ম্যাচের ফলাফল ড্র হলেও ম্যাচ জুড়ে আধিপত্য ছিল আর্জেন্টিনারই। পুরো ম্যাচে আর্জেন্টিনার অর্ধে বল গিয়েছে আতে গোনা কয়েকবার। কিন্তু লিওনেল মেসিদের রুখে দিতে মরিয়া আইসল্যান্ড প্রতিপক্ষকে গোল দিতে খুব একটা আগ্রহ দেখায়নি এদিন। যদিও বেশ কিছু ভালো আক্রমণও তারা করেছিল। এদিন আইসল্যান্ডের বিপক্ষে ১১ শট নিয়েছেন মেসি। কিন্তু একটিও আইসল্যান্ডের জাল খুঁজে পায়নি। তবে মেসিদের রুখে দেওয়ার বড় কৃতিত্ব নিতে পারেন আইসল্যান্ডের গোলকিপার হ্যানেস থর হ্যালডরসন। তার দুর্দান্ত পারফরম্যান্সে বেশ কিছু গোল থেকে রক্ষা পায় আইসল্যান্ড। এদিন ম্যাচের ১৭তম মিনিটেই এগিয়ে যেতে পারত আর্জেন্টিনা। কিন্তু মেসির দূরপাল্লার শট আটকে দেন হ্যালডরসন। তবে তার দুই মিনিট পর আইসল্যান্ডের ডিফেন্সের জমাট বরফ ভাঙেন সার্জিও আগুয়েরো। ডি-বক্সের ভেতর থেকে বাঁ পায়ে শটে গোল করেন তিনি। বিশ্বকাপে এটি তার প্রথম গোল। কিন্তু ২৩তম মিনিটে গোল করে আর্জেন্টিনার হাসি মুছে দেন আলফ্রেড ফিনবোগাসন। বিশ্বকাপে দেশের হয়ে প্রথম গোল করে অনন্য এক ইতিহাসে নাম লেখান তিনি। ১-১ গোলে সমতায় ফেরে আইসল্যান্ড। গোল খেয়ে আক্রমণের ধার বাড়িয়ে দেয় মেসিরা। কিন্তু কোনভাবেই গোলের দেখা পায় না। এর মধ্যে ম্যাচের ৬৫ মিনিটে পেনাল্টি পায় আর্জেন্টিনা। স্পটকিক নেন মেসি নিজে। কিন্তু ডান পাশে ঝাঁপিয়ে পড়ে মেসির পেনাল্টি শট রুখে দেন আইসল্যান্ডের গোলকিপার। জাতীয় দলের জার্সি গায়ে এ নিয়ে চতুর্থবারের মতো পেনাল্টি শ্যুট মিস করলেন মেসি। এরপর বাকি সময়টা একের পর এক আক্রমণ করেও গোলের দেখা না পাওয়ায় ১-১ গোলে ড্র নিয়ে মাঠ ছাড়তে হয় মেসিদের।