মঙ্গলবার, মার্চ ২, ২০২১
সাকিব-মিরাজের ঘূর্ণিতে ১৪৮ রানে শেষ উইন্ডিজ
২২,জানুয়ারী,শুক্রবার,স্পোর্টস ডেস্ক,নিউজ একাত্তর ডট কম: শেষ পর্যন্ত ওয়েস্ট ইন্ডিজ এবার দলীয় তিন অঙ্ক পেরোনো রান পেয়েছে লোয়ার-অর্ডার ব্যাটসম্যানদের কল্যাণে। নয়তো শুরু থেকে বাংলাদেশের দুই স্পিনার মেহেদী হাসান মিরাজ-সাকিব আল হাসান যেভাবে ছোবল দেওয়া শুরু করেছিলেন তাতে শয়ের ঘরে পৌঁছানোর আগে গুটিয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা ছিল ক্যারিবিয়ানদের। মাত্র ৮৮ রানে ৮ উইকেট হারিয়ে বসেছিল উইন্ডিজ। সেখান থেকে দলকে তিন অঙ্কের ঘরে পৌঁছে দেন দুই লোয়ার অর্ডার ব্যাটসম্যান রভমেন পাওয়েল (৪১) ও আলঝেরি জোসেফের (১৭) দলীয় সর্বোচ্চ ৩২ রানের জুটি। তবে শেষ পর্যন্ত উইন্ডিজ থামে ৪৩.৪ ওভারে ১৪৮ রানে। এ নিয়ে আন্তর্জাতিক ওয়ানডেতে টানা দুই ম্যাচে প্রতিপক্ষকে দেড়শর নিচে অলআউট করল টাইগাররা। শুক্রবার (২২ জানুয়ারি) মিরপুরের শেরে বাংলা স্টেডিয়ামে সিরিজের দ্বিতীয় ওয়ানডেতে টসে জিতে ব্যাটিংয়ে নেমে শুরুতেই ব্যাটিং বিপর্যয়ে পড়ে উইন্ডিজ। ওপেনার সুনীল আমব্রিসকে (৬) দিয়ে শুরুটা করেন মোস্তাফিজুর রহমান। এরপর জোড়া আঘাত হানেন মিরাজ। ওয়ানডেতে অভিষেক হওয়া ওপেনার কিয়র্ন ওটলেকে (২৪) তামিম ইকবালের হাতে ক্যাচ বানানোর পর জশুয়া ডি সিলভাকে (৫) বোল্ড করেন তিনি। এরপর নিজের প্রথম ওভার করতে এসেই আন্দ্রে ম্যাকার্টিকে (৩) বোল্ড করেন সাকিব আল হাসান। আগের ম্যাচে ৪ উইকেট নিয়ে ম্যাচ সেরা হয়েছিলেন তিনি। সাকিব নিজের দ্বিতীয় শিকার বানান অধিনায়ক জেসন মোহাম্মদকে (১১) এলবিডব্লিউর ফাঁদে ফেলে। এর আগে বিপর্যয়ে পড়া উইন্ডিজকে আরও বিপদের মুখে ঠেলে রানের খাতা খোলার আগে রান আউট হয়ে সাজঘরে ফেরেন আগের ম্যাচে দলের সর্বোচ্চ রান সংগ্রাহক কাইল মায়ার্স। তবে চাপের মুখে পাল্টা আক্রমণ চালানোর চেষ্টা করেন এনক্রুমাহ বোনার (২০)। অবশ্য তাকে বোল্ড করে বেশি সুযোগ করতে দেননি হাসান মাহমুদ।
টস হেরে ফিল্ডিংয়ে বাংলাদেশ
২২,জানুয়ারী,শুক্রবার,স্পোর্টস ডেস্ক,নিউজ একাত্তর ডট কম: বুধবার সিরিজের প্রথম ওয়ানডেতে প্রত্যাশিত জয় দিয়ে ওয়ানডে সুপার লিগ শুরু করেছে বাংলাদেশ ক্রিকেট দল। আজ (শুক্রবার) সিরিজ নিশ্চিত করার লক্ষ্যে দ্বিতীয় ম্যাচে ওয়েস্ট ইন্ডিজের মুখোমুখি হচ্ছে স্বাগতিকরা। আগের ম্যাচে টস জিতে বোলিংয়ের সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন বাংলাদেশ অধিনায়ক তামিম ইকবাল। এবার টস জিতেছে ওয়েস্ট ইন্ডিজ। তবে তারা নিয়েছে আগে ব্যাটিংয়ের সিদ্ধান্ত। প্রথম ম্যাচে আগে ব্যাট করে ম্যাচ হারলেও, আজ ফের আগে ব্যাটিংয়ের সিদ্ধান্তই নিয়েছে ক্যারিবীয়রা। এ ম্যাচটি জিতলে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে সিরিজ জয়ের হ্যাটট্রিক হবে বাংলাদেশ দলের। তাদের বিপক্ষে ২০১৮ সালে ঘরের মাঠে ও তাদের মাঠে- উভয় সিরিজই জিতেছিল স্বাগতিকরা। এছাড়া সবমিলিয়ে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে পঞ্চম সিরিজ জয়ের হাতছানি বাংলাদেশের সামনে। উল্লেখ্য, সিরিজের প্রথম ম্যাচে আগে ব্যাট করে ১২২ রানে অলআউট হয়েছিল ওয়েস্ট ইন্ডিজ। বল হাতে ৪ উইকেট নেন দীর্ঘদিন পর মাঠে ফেরা সাকিব। এছাড়া অভিষিক্ত হাসান মাহমুদের ঝুলিতে যায় ৩ উইকেট। পরে ৪ উইকেট হারিয়ে ম্যাচ জিতে নেয় বাংলাদেশ।
মুম্বাই থেকে বাদ, অবসর নিয়ে নিলেন মালিঙ্গা
২১,জানুয়ারী,বৃহস্পতিবার,স্পোর্টস ডেস্ক,নিউজ একাত্তর ডট কম: বুধবার (২০ জানুয়ারি) ছিল আইপিএলের আসন্ন মৌসুমের নিলামের আগে নিজেদের রিটেইনড (ধরে রাখা) ও রিলিজড (ছেড়ে দেয়া) খেলোয়াড়দের তালিকা জমা দেয়ার শেষদিন। টুর্নামেন্টের সফলতম দল মুম্বাই ইন্ডিয়ানস তাদের স্কোয়াড থেকে ছেড়ে দিয়েছে সাতজনকে, যেখানে ছিল তারকা পেসার লাসিথ মালিঙ্গার নামও। এ তালিকা প্রকাশের কয়েক ঘণ্টা পর ফ্র্যাঞ্চাইজি ক্রিকেট থেকে অবসরের সিদ্ধান্ত জানিয়েছেন এ লঙ্কান কিংবদন্তি পেসার। মালিঙ্গার ফ্র্যাঞ্চাইজি ক্রিকেট ছাড়ার খবরটিও জানিয়েছে মুম্বাই ইন্ডিয়ানস কর্তৃপক্ষ। আইপিএলের দ্বিতীয় আসর থেকে টানা মুম্বাইয়ের হয়ে খেলেছেন মালিঙ্গা। আইপিএল ইতিহাসে এখনও পর্যন্ত সর্বোচ্চ উইকেট শিকারী মালিঙ্গা। টুর্নামেন্টের ১৩ আসরের মধ্যে ১০টিতে খেলেছেন তিনি। যেখানে ১২২ ম্যাচ খেলে তার শিকার ১৭০টি উইকেট। মুম্বাইয়ের হয়ে চারটি আইপিএল শিরোপা জিতেছেন তিনি। এছাড়া দলের বোলিং মেন্টর হিসেবেও কাজ করেছেন ২০১৮ সালে। মুম্বাই ইন্ডিয়ানস ছাড়াও ফ্র্যাঞ্চাইজি ক্রিকেটে মালিঙ্গার অন্যান্য উল্লেখযোগ্য দলগুলো হলো ক্যারিবিয়ান প্রিমিয়ার লিগে জ্যামাইকা তালাওয়াস, গায়ানা অ্যামাজন ওয়ারিয়র্স, বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগে খুলনা টাইটান্স, রংপুর রাইডার্স, বিগ ব্যাশ টি-টোয়েন্টিতে মেলবোর্ন স্টার্স। ঘরোয়া ও আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টি মিলিয়ে ২৯৫ ম্যাচে মালিঙ্গার শিকার ৩৯০ উইকেট। তার চেয়ে বেশি উইকেট আছে কেবল ওয়েস্ট ইন্ডিজের ডোয়াইন ব্রাভোর। গতবছরের মার্চে সবশেষ কোনো ম্যাচ খেলেছেন মালিঙ্গা। ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে ঘরের মাঠে খেলা সেই টি-টোয়েন্টি ম্যাচে অধিনায়কত্বও করেছিলেন তিনি। নিজের অবসরের সিদ্ধান্তের বিষয়ে মালিঙ্গা বলেছেন, পরিবারের সঙ্গে আলোচনার পর আমার মনে হয়েছে, ফ্র্যাঞ্চাইজি ক্রিকেট থেকে অবসরের এটাই সঠিক সময়। মহামারী পরিস্থিতি ও ভ্রমণে বিধি-নিষেধের কারণে আমার পক্ষে আগামী মৌসুমে ফ্র্যাঞ্চাইজি ক্রিকেট খেলা কঠিন। তাই এখনই সিদ্ধান্ত নেওয়ার ভালো সময়। তিনি আরও যোগ করেন, মুম্বাই ইন্ডিয়ানস কর্তৃপক্ষের সঙ্গেও এ বিষয়ে কথা বলেছি। তারা আমার কথা বুঝতে পেরেছে এবং আমাকে সমর্থন করেছে। মুম্বাই ইন্ডিয়ানস ফ্র্যাঞ্চাইজির সঙ্গে যুক্ত প্রত্যেককে এবং দুর্দান্ত ১২টি বছর কাটানোর জন্য সমর্থকদের ধন্যবাদ জানাই।
আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে প্রত্যাবর্তন জয়েই রাঙাল বাংলাদেশ
২০,জানুয়ারী,বুধবার,স্পোর্টস ডেস্ক,নিউজ একাত্তর ডট কম: প্রথম ইনিংসের পরই মোটামুটি ঠিক হয়ে গিয়েছিল ম্যাচের ফলাফল। অভিজ্ঞ সাকিব আল হাসান ও অনভিষিক্ত হাসান মাহমুদের বোলিং তোপে ১২২ রানে গুটিয়ে যায় ওয়েস্ট ইন্ডিজ। তবে সহজ লক্ষ্যে জয় যতটা সহজে আসার কথা ছিল, ঠিক ততটা সহজে পায়নি বাংলাদেশ। মাত্র ১২৩ রানের লক্ষ্য ছুঁতে চার উইকেট হারিয়েছে বাংলাদেশ, খেলেছে ৩৩.৫ ওভার। কাগজে-কলমে খর্বশক্তির ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে ৬ উইকেটের প্রত্যাশিত জয় দিয়েই ক্রিকেটে ফেরাটা রাঙিয়ে রাখল বাংলাদেশ। একইসঙ্গে নতুন বছরের শুরুটাও ইতিবাচকভাবেই করলো তামিম ইকবালের দল। দীর্ঘদিন পর মাঠে ফেরা সাকিব আল হাসানই সবার চেয়ে উজ্জ্বল। প্রথম বল হাতে মাত্র ৮ রানে ৪ উইকেটের পর ব্যাট হাতে করেছেন ১৯ রান। যা দলকে পাইয়ে দিয়েছে সহজ জয়। অথচ ম্যাচের শুরুটা দুর্দান্ত ছিল ওয়েস্ট ইন্ডিজের জন্য। টস হেরে ব্যাট করতে নেমে ইনিংসের প্রথম ওভারের শেষ বলে সোজা ডিপ স্কয়ার লেগ দিয়ে সীমানার বাইরে পাঠিয়ে দেন ওয়েস্ট ইন্ডিজ সহ-অধিনায়ক সুনিল অ্যামব্রিস। এমন শট দিচ্ছিল সাহসী ব্যাটিংয়ের বার্তা। কিন্তু মোস্তাফিজুর রহমানের করা দ্বিতীয় ওভারের দ্বিতীয় বলেই থেমে যায় অ্যামব্রিসের যাত্রা। ফিরতে হয় সাজঘরে। খালি চোখে মনে হচ্ছিল, মোস্তাফিজের উইকেট নেয়া ডেলিভারিটি পিচ করেছে লেগস্ট্যাম্পের বাইরে। তবে রিপ্লেতে দেখা গেছে মিডল স্ট্যাম্পেই ছিল সেই বল, যা আঘাত হানত মিডল-লেগ স্ট্যাম্পে। ফলে রিভিউ নিয়েও বাঁচতে পারেননি অ্যামব্রিস। নিজের মাত্র দ্বিতীয় বলেই প্রথম ব্রেকথ্রু এনে দেন মোস্তাফিজ। যা ছিল মূলত ওয়েস্ট ইন্ডিজের পতনের শুরু। দ্বিতীয় উইকেটও আসে মোস্তাফিজের বোলিংয়ে। এবার গালিতে দাঁড়িয়ে উড়ন্ত ক্যাচ নেন লিটন দাস। মোস্তাফিজের করা ইনিংসের ষষ্ঠ ওভারের দ্বিতীয় বলে অফস্ট্যাম্পের বাইরের ডেলিভারিটিতে ড্রাইভ করেছিলেন জশুয়া ডা সিলভা। ব্যাটের বাইরের কানায় লেগে বল চলে যায় গালি অঞ্চলে। যেখানে ছিলেন লিটন, ডানদিকে ঝাঁপিয়ে দুই হাতে বলটি তালুবন্দী করে বাজান জশুয়ার বিদায়ঘণ্টা। এরপর শুরু হয় বল হাতে সাকিবের ক্যালমা। আইসিসির এক বছরের নিষেষাজ্ঞা ও করোনাভাইরাসের কারণে বন্ধ থাকার কারণে দীর্ঘ ১৬ মাস পর খেলতে নেমে প্রায় একা হাতেই ক্যারিবীয়দের গুঁড়িয়ে দেন সাকিব। নিজের প্রথম ওভারে অন্তত তিনবার ব্যাটসম্যানের ব্যাটের কানায় বল লাগান সাকিব, সম্ভাবনা জাগান উইকেটের। প্রথম ওভারে উইকেট না পেলেও, পরে সাকিবের ঘূর্ণিতেই কুপোকাত হয়েছে ওয়েস্ট ইন্ডিজ। প্রথম স্পেলে টানা ৭ ওভার বল করেছেন তিনি। ক্যারিবীয় ইনিংসের ২৩তম ওভারে যখন আক্রমণ থেকে সরানো হয় সাকিবকে, তখন তার নামের পাশে বোলিং ফিগার ৭-২-৮-৩; এই স্পেলে ৩৪টি বলই ছিল ডট। পরে সাকিবের গড়ে দেয়া ভিতের ওপর দাঁড়িয়ে তিন উইকেট নেন অভিষিক্ত হাসান মাহমুদ, মেহেদি হাসান মিরাজের ঝুলিতে যায় এক উইকেট। ততক্ষণে ৯ উইকেট হারিয়ে ফেলে ওয়েস্ট ইন্ডিজ। তাদের গুটিয়ে দিতে ৩৩তম ওভারে ফের আনা হয় সাকিবকে। দ্বিতীয় বলেই তিনি তুলে নেন ক্যারিবীয়দের শেষ উইকেট। সবমিলিয়ে বোলিং ফিগার দাঁড়ায়ঃ ৭.২-২-৮-৪! ওয়েস্ট ইন্ডিজ গুঁড়িয়ে যায় মাত্র ১২২ রানে। ব্যাটসম্যানরা স্কোরবোর্ডে তেমন বড় সংগ্রহ দিতে না পারলেও ওয়েস্ট ইন্ডিজের বোলাররা ঠিকই নিজেদের উজাড় করে দিয়েছেন। অভিজ্ঞতার বিচারে বাংলাদেশ দলের অনেক পিছিয়ে থাকা এ ওয়েস্ট ইন্ডিজ দল বল হাতে ঠিকই কঠিন পরীক্ষা নিয়েছে স্বাগতিকদের। যেখানে বেশ কষ্টেই পাস করতে হয়েছে তামিম ইকবাল, লিটন দাসদের। বাংলাদেশের ব্যাটিং ইনিংসের শুরু থেকে টানা ৮ ওভার বোলিং করেন তরুণ পেসার আলঝারি জোসেফ। যেখানে প্রথম ৬ ওভার শেষে তার বোলিং ফিগার ছিল ৬-৩-৭-০। টানা মাপা লাইন-লেন্থে বোলিং করে লিটন-তামিমের নাভিশ্বাস উঠিয়েছেন আলঝারি। একেকটি রানের জন্য সংগ্রাম করতে হয়েছে দুই ওপেনারের। উদ্বোধনী জুটিতে ৪৭ রান করতে শেষ হয় ১৩.২ ওভার। ইনিংসের ১৪তম ওভারে সাজঘরে ফেরেন লিটন। বাঁহাতি স্পিনার আকিল হোসেনের শার্প টার্নে বোকা বনে যান ৩৮ বলে ১৪ রান করা লিটন। এরপর নিজের দশ ওভারের স্পেলের একদম শেষ বলে সাকিবকেও সরাসরি বোল্ড করেন আকিল হোসেন। তার ১০ ওভারের বোলিং ফিগার ছিল এক মেইডেনে ২৬ রানে ৩ উইকেট। মাঝে নাজমুল হোসেন শান্তকেও ফিরিয়েছিলেন আকিল। শান্ত করেন ১ রান। শান্ত, লিটনরা অল্পে ফিরলেও অধিনায়ক তামিম ইকবাল রয়েসয়ে খেলে এগুচ্ছিলেন ব্যক্তিগত ফিফটির দিকে। কিন্তু ৪৪ রানের মাথায় ক্যারিবীয় অধিনায়ক জেসন মোহাম্মদের বলে স্ট্যাম্পিং হন টাইগার অধিনায়ক। তখনও জয় থেকে ৪০ রান দূরে ছিল বাংলাদেশ। পরে দলীয় ১০৫ রানে ফিরে যান সাকিবও। ছোট লক্ষ্যে ৪ উইকেট হারিয়ে খানিক বিপাকেই পড়ে বাংলাদেশ। পঞ্চম উইকেটে আর বিপদ ঘটতে দেননি মুশফিকুর রহীম ও মাহমুদউল্লাহ। দুজন মিলে দেখেশুনে খেলেই শেষ করেন ম্যাচ। রিভার্স সুইপে চার মেরে ম্যাচ শেষ করেন ১৯ রানের ইনিংস খেলা মুশফিক। মাহমুদউল্লাহ অপরাজিত থাকেন ৯ রানে।
উইন্ডিজকে ১২২ রানেই গুটিয়ে দিল টাইগাররা
২০,জানুয়ারী,বুধবার,স্পোর্টস ডেস্ক,নিউজ একাত্তর ডট কম: নিষেধাজ্ঞা কাটিয়ে ফেরার সঙ্গে দেশের মাটিতে শততম ওয়ানডে। একইসঙ্গে এই দুই উপলক্ষকে বেশ ভালোভাবেই উদযাপন করলেন বিশ্বসেরা অলরাউণ্ডার সাকিব আল হাসান। মাত্র ৭.২ ওভার বল করেই তুলে নেন অধিনায়কসহ উইন্ডিজের ৪টি উইকেট। ক্যারিবিয়দের ধসিয়ে দিতে সাকিবের সঙ্গী হন অভিজ্ঞ মুস্তাফিজ ও অভিষিক্ত হাসান মাহমুদ। যাতে মাত্র ১২২ রানেই গুটিয়ে গেল সফরকারীরা। আজ বুধবার মিরপুরের শেরে বাংলায় টস জিতে ফিল্ডিং নেওয়া বাংলাদেশ দল পাওয়ার প্লে-তেই বেঁধে ফেলে ক্যারিবিয়ান ব্যাটসম্যানদের। তুলে নেয় দুই ওপেনারকে। দুই ওপেনারকেই ফিরিয়ে দেন মুস্তাফিজুর রহমান। বাঁহাতি এ পেসারের বলে এলবিডব্লিউ হন সুনিল আমব্রিস (৭)। আর গালিতে লিটন দাসের হাতে ধরা পড়েন জশুয়া ডি সিলভা (৯)। এর আগে প্রথম ওভারে ছক্কা হজম করা রুবেল হোসাইন ক্যারিবিয় ব্যাটসম্যানদের খুব একটা ভোগাতে না পারলেও দুর্দান্ত বল করে তিনটি উইকেট ঝুলিতে পোরেন অভিষিক্ত হাসান মাহমুদ। ৬ ওভার হাত ঘুরিয়ে এক মেডেনে ২৮ রানের বিনিময়ে এমন উজ্জ্বল পারফর্ম করে নির্বাচকদের প্রতিদান দেন এই তরুণ। এছাড়া কাটার মাস্টার মুস্তাফিজ ২০ রানে ২টি এবং স্পিনার মেহেদী হাসান মিরাজ পান একটি উইকেট। যাতে মাত্র ৩২.২ ওভারেই ওই রানে গুটিয়ে যায় উইন্ডিজ। দলের পক্ষে সর্বোচ্চ ৪০ রান আসে মিডল অর্ডার ব্যাটসম্যান কাইল মায়ার্স এর ব্যাট থেকে। ৫৬ বলে চারটি চার ও একটি ছয়ের সাহায্যে ওই ইনিংস খেলেন মায়ার্স। এছাড়া রোভম্যান পাওয়েলের ব্যাট থেকে আসে ২৮ রান। তার ৩১ বলের এই ইনিংসে ছিল ২টি করে চার ও ছক্কার মার।
বাংলাদেশ-ওয়েস্ট ইন্ডিজ সিরিজের টাইটেল স্পন্সর- লাভেলো
১৬,জানুয়ারী,শনিবার,স্পোর্টস ডেস্ক,নিউজ একাত্তর ডট কম: প্রায় দশ মাস পর আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে ফিরছে বাংলাদেশ ক্রিকেট দল। ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে এ সিরিজকে সামনে রেখে নতুন করে সব স্পন্সর নিচ্ছে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)। সবশেষ ঠিক হলো বঙ্গবন্ধু বাংলাদেশ-ওয়ানডে সিরিজর টাইটেল স্পন্সর। (শনিবার) বেলা ১২টার দিকে রাজধানীর ধানমন্ডিস্থ বিজিবি ব্যাংকোয়েট হলে এক সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে জানানো হয়েছে, আসন্ন সিরিজের টাইটেল স্পন্সর- লাভেলো আইসক্রিম এবং সিরিজে সহযোগিতা বা পাওয়ার্ড বাই হিসেবে থাকছে ওয়ালটন। সিরিজের টাইটেল ও গ্রাউন্ড ব্র্যান্ডিংয়ের দায়িত্ব পালন করবে মাত্রা। এসময় বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের পক্ষ থেকে উপস্থিত ছিলেন নির্বাহী প্রধান নিজামউদ্দিন চৌধুরী সুজন ও মিডিয়া ম্যানেজার জালাল ইউনুস। এছাড়া লাভেলো বাংলাদেশের ম্যানেজিং ডিরেক্টর মোহাম্মদ একরামুল হক, ওয়ালটনের নির্বাহী কর্মকর্তা উদয় হাকিম এবং মাত্রার পক্ষ থেকে সানাউল আরেফিন উপস্থিত ছিলেন। এর আগেই ঠিক করা হয়েছে বাংলাদেশ দলের টিম স্পন্সর হিসেবে থাকছে বেক্সিমকো এবং কিট (জার্সি) পার্টনার হিসেবে নেয়া হয়েছে আকাশ ডিটিএইচকে। এছাড়া সিরিজটির ব্রডকাস্টিং রাইট কিনে নিয়েছে ব্যান টেক লিমিটেড।
ওয়েস্ট ইন্ডিজ শিবিরে করোনার হানা
১৫,জানুয়ারী,শুক্রবার,স্পোর্টস ডেস্ক,নিউজ একাত্তর ডট কম: বাংলাদেশ সফরে আসা ওয়েস্ট ইন্ডিজ লেগস্পিনার হেইডেন ওয়ালশ জুনিয়রের শরীরে করোনাভাইরাস শনাক্ত হয়েছে। বর্তমানে স্বেচ্ছা-আইসোলেশনে আছেন তিনি। করোনায় আক্রান্ত হওয়ায় টাইগারদের বিপক্ষে আসন্ন তিন ওয়ানডে সিরিজ থেকে ছিটকে গেলেন তিনি। বাংলাদেশে পৌঁছানোর আগে করোনা পরীক্ষায় নেগেটিভ আসে তার। তবে গত বুধবার (১৩ জানুয়ারি) ঢাকায় পিসিআর টেস্টে পজিটিভ রিপোর্ট আসে তার। পিসিআর টেস্টে নেগেটিভ রিপোর্ট না আসা পযর্ন্ত স্বেচ্ছা-আইসোলেশনে থাকবেন তিনি। তবে সফরে থাকা ক্যারিবিয়ানদের আর কারও পজিটিভ রিপোর্ট আসেনি। আগামী ২০ জানুয়ারি ওয়ানডে ম্যাচ দিয়ে শুরু হবে বাংলাদেশ-ওয়েস্ট ইন্ডিজ সিরিজ। সফরে তিন ওয়ানডে ও দুটি টেস্ট খেলবে ক্যারিবিয়ানরা।
ইকার্দি-নেইমারের গোলে পিএসজি চ্যাম্পিয়ন
১৪,জানুয়ারী,বৃহস্পতিবার,স্পোর্টস ডেস্ক,নিউজ একাত্তর ডট কম: ফ্রেঞ্চ সুপার কাপ আবারও জিতে নিয়েছে প্যারিস সেন্ত জার্মেই (পিএসজি)। ঘরের মাঠে মার্সেইকে হারিয়ে মৌসুমের প্রথম শিরোপা ঘরে তুলেছে তারা। নেইমার-ইকার্দিরা গোলে ২-১ ব্যবধানে ট্রফি ধরে রাখল মাওরিসিও পচেত্তিনোর দল। বুধবার (১৩ জানুয়ারি) রাতে মার্সেইকে হারিয়ে টানা অষ্টম ও সব মিলে দশম শিরোপা ঘরে তুলে পিএসজি। এদিকে কোচিং ক্যারিয়ারে প্রথম শিরোপার স্বাদ পেলেন পিএসজির নতুন কোচ পচেত্তিনো। এর আগে তিনি টটেনহ্যাম হটস্পারকে ২০১৫ সালে কারাবাও কাপ ও ২০১৯ সালে উয়েফা চ্যাম্পিয়নস লিগের ফাইনালে তুলেছিলেন। কিন্তু শিরোপা জিততে পারেননি। ৩৯তম মিনিটে দলকে এগিয়ে নেন ইকার্দি। ডান দিক থেকে ইকার্দির হেড গোলরক্ষক ঠেকালেও বল নিয়ন্ত্রণে রাখতে পারেননি। বল পোস্টে লাগার পর ফাঁকা জালে পাঠান আর্জেন্টাইন ফরোয়ার্ড। অবশ্য তার আগে আরও একবার জালে বল জড়িয়েছিলেন এই তারকা। কিন্তু সেটি অফসাইডের কারণে বাতিল হয়। লম্বা এক মাসের ইনজুরি কাটিয়ে এই ম্যাচে মাঠে নেমেছিলেন নেইমার দ্য সিলভা জুনিয়র। ৬৫ মিনিটে অ্যাঙ্গেল ডি মারিয়াকে উঠিয়ে ২০২১ সালে প্রথমবারের মতো নেইমারকে মাঠে নামান কোচ। ৮৫ মিনিটে মাঠে নামাটা স্বার্থক করেন ব্রাজিলিয়ান ফরোয়ার্ড। এ সময় পেনাল্টি পায় মার্সেই। পেনাল্টি থেকে নেইমার গোল করে দলকে ২-০ ব্যবধানে এগিয়ে নেন। ১ গোলে এগিয়ে থেকে বিরতিতে যায় পিএসজি। ৬৫তম মিনিটে ডি মারিয়াকে উঠিয়ে নেইমারকে মাঠে নামান কোচ। মাঠে নামাটা ৮৫ মিনিটে স্বার্থক করেন ব্রাজিলিয়ান ফরোয়ার্ড। এ সময় পেনাল্টি পায় দল। মার্সেই গোলরক্ষক ডি-বক্সে ইকার্দিকে ফাউল করলে ভিএআরের সাহায্যে পেনাল্টির বাঁশি বাজান রেফারি। পেনাল্টি থেকে নেইমার গোল করে দলকে ২-০ ব্যবধানে এগিয়ে নেন। গত ১৩ ডিসেম্বর লিগ ওয়ানে লিওঁর বিপক্ষে গোড়ালিতে আঘাত পেয়ে স্ট্রেচারে মাঠ ছাড়ার নতুন বছরে এদিনই মাঠে নামেন নেইমার। আর নেমেই পেলেন গোল। তবে নির্ধারিত সময়ের এক মিনিট বাকি থাকতে ব্যবধান কমিয়ে ম্যাচ জমিয়ে তুলেছিলেন মার্সেইয়ের দিমিত্রি পায়েত। এ সময় তাকে গোল পেতে সহায়তা করেন ফ্লোরিয়ান থাউভিন। শেষ পর্যন্ত কোনো নাটকীয়তা ছাড়াই শিরোপা উৎসব করে পিএসজি। এ নিয়ে টানা অষ্টম ও সব মিলে দশম শিরোপা ঘরে তুললো ফরাসী ক্লাবটি।
রোনালদোর রেকর্ডের রাতে জুভেন্টাসের জয়
১১,জানুয়ারী,সোমবার,স্পোর্টস ডেস্ক,নিউজ একাত্তর ডট কম: ইতালিয়ান সিরিআ লিগে জয় পেয়েছে জুভেন্টাস। তারা ৩-১ গোলে হারিয়েছে সস্যুয়ালোকে। এমন জয়ে গোল পেয়েছেন ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো, অ্যারন রামসি ও দানিলো। আর এই গোলের সুবাদে রোনালদো ক্লাব ও জাতীয় দল মিলে সর্বোচ্চ গোলের মাইলফলক স্পর্শ করেন। চেকোস্লোভাকিয়ার সাবেক স্ট্রাইকার ইয়োসেপ বিকান ও রোনালদো দুজনেরই গোল সংখ্যা ৭৫৯টি করে। রোববার (১০ জানুয়ারি) রাতে নিজেদের মাঠ আলিয়াঞ্জ স্টেডিয়ামে ৩-১ গোলে জিতেছে শিরোপাধারীরা। এ নিয়ে লিগে প্রথমবার টানা তিন ম্যাচ জিতল। এই জয়ে এসি মিলানের সঙ্গে পয়েন্ট ব্যবধান কমিয়েছে সাদা-কালো শিবির। এদিন গোলশূন্য প্রথমার্ধের পর দ্বিতীয়ার্ধের পঞ্চম মিনিটে চ্যাম্পিয়নদের এগিয়ে নেন দানিলো। ডি-বক্সের অনেকটা বাইরে থেকে ডান পায়ের জোরালো শটে ঠিকানা খুঁজে নেন এই ব্রাজিলিয়ান ডিফেন্ডার। তবে জুভেন্টাসের এগিয়ে যাওয়ার আনন্দ বেশিক্ষণ স্থায়ী হয়নি। ৫৮তম মিনিটে সতীর্থের পাসে জোরালো শটে সফরকারীদের সমতায় ফেরান গ্রেগোয়া দুফেল। এর পরই পয়েন্ট হারানোর শঙ্কায় পড়ে জুভেন্টাস। পুরো দ্বিতীয়ার্থ ১০ জন নিয়ে খেলা সস্যুয়ালোকের বিরুদ্ধে গোল পেতে মরিয়া হয়ে গোল পাচ্ছিল না রোনালদোরা। তবে ৮২তম মিনিটে দলকে এগিয়ে নেন র..মজি। বাঁ দি থেকে সতীর্থের পাস ডি-বক্সে পেয়ে জালে পাঠান ওয়েলসের এই মিডফিল্ডার। যোগ করা সময়ে তৃতীয় গোলটি করেন রোনালদো। নিজেদের অর্ধ থেকে দানিলোর উঁচু করে বাড়ানো বল ধরে ডি-বক্সে ঢুকে গোলরক্ষককে পরাস্ত করেন পর্তুগিজ ফরোয়ার্ড। ১৬ ম্যাচে ৯ জয় ও ৬ ড্রয়ে ৩৩ পয়েন্ট নিয়ে চারে জুভেন্টাস। এক ম্যাচ বেশি খেলে ২৯ পয়েন্ট নিয়ে সাতে সস্যুয়ালো। ১৭ ম্যাচ থেকে ৪০ পয়েন্ট নিয়ে শীর্ষে আছে এসি মিলান। সমান ম্যাচে ৩৭ পয়েন্ট নিয়ে দুইয়ে ইন্টার মিলান। আর রোমা ৩৪ পয়েন্ট নিয়ে তিনে।