টিকে থাকার লড়াইয়ে ইপিএলে লিভারপুল-ম্যানসিটি দ্বৈরথ
অনলাইন ডেস্ক: ইপিএলের শীর্ষে ওঠার লড়াইয়ের সুপার হাইভোল্টেজ ম্যাচে, মুখোমুখি দুই জায়ান্ট লিভারপুল আর ম্যানচেস্টার সিটি। অ্যানফিল্ডে দু'দলের দ্বৈরথ মাঠে গড়াবে রোববার বাংলাদেশ সময় রাত সাড়ে ৯টায়। এর আগে সন্ধ্যা সোয়া ৭টায় চেলসির প্রতিপক্ষ সাউদাম্পটন। আর বিকেল ৫টায় আর্সেনাল লড়বে ফুলহ্যামের বিপক্ষে। ইপিএলের শিরোপার দ্বৈরথ নয়, নয় কোন টিকে থাকার লড়াই-ও। তবুও ৮ম রাউন্ডের ম্যাচে লিভারপুল-সিটির দ্বৈরথ পাচ্ছে বাড়তি মাত্রা। কারণ গেল কয়েক মৌসুম ধরে এ দু'দলের উত্তাপ মাঠ ছাপিয়ে পৌঁছে গেছে গ্যালারীতেও। এবারের পেক্ষাপট'তো আরো চমকপ্রদ। ১৯৮৯/৯০ মৌসুমের পর আর কখনও ইংলিশ লিগ টাইটেল না জেতা অলরেডদের এবারের শুরুটা দূর্দান্ত। ৭ ম্যাচের ৬টিতে জয়। ১৯ পয়েন্ট আর গোল ব্যবধানে পিছিয়ে টেবিলের ২ নম্বরে। শীর্ষে ওঠার লড়াইটা সমান পয়েন্ট নিয়ে টেবিল টপার বর্তমান চ্যাম্পিয়ন সিটিজেনদের বিপক্ষেই। তবে সেখানে আছে সংশয়। হাটুর ইনজুরি ছিটকে দিয়েছে চেম্বালিন'কে। তবে ফিরছেন কেইটা আর অ্যাডাম লালানা। সিটির বিপক্ষে এ ম্যাচে ক্লপের রক্ষকৌশল হতে পারে ৪-৩-৩। সঙ্গে আছে সমৃদ্ধ ইতিহাস। দু'দলের এ পর্যন্ত ২১০ দেখায় ১০৪ বার জিতেছে অলরেডরা। এমনকি ২০১২ সালের পর ১৭ দেখায় মাত্র ৪বারই হেরেছে লিভারপুর। তবে দলটা যখন ম্যানসিটি তখন, তাদের মাপা যাবে না ওসব পরিসংখ্যানের পাল্লায়। ৪-১-৪-১ কৌশলে গোলরক্ষক ব্রাভোকে ছাড়া সবাইকে পাচ্ছেন গার্দিওলা। তার ওপর ইপিএলের শেষ ৬০ ম্যাচে ম্যানসিটি হেরেছে মাত্র ৩বার। লিভারপুল সিটি দ্বৈরথে নজর থাকবে টেবিলের ৩ এ থাকা চেলসিরও। কারণ সাউদাম্পটনের বিপক্ষে বড় জয় পেলে আর এ দুদলের ম্যাচ ড্র হলে টেবিলের শীর্ষে উঠবে তারা। সাউদাম্পটনের বিপক্ষে ম্যাচের নিয়মিত একাদশে ফিরছেন হ্যাজার্ড। সঙ্গে দ্যা সেইন্টস'দের বিপক্ষে ব্লু'দের শেষ ৫ ম্যাচে শতভাগ জয়ের রেকর্ড বাড়তি অনুপ্রাণিত করছে সারি শিষ্যদের। ফুলহ্যামের বিপক্ষে আরেক জায়ান্ট আর্সেনালের লড়াই শীর্ষ চার এ ফেরার। তবে গানার শিবিরে আছে ইনজুরির লম্বা লাইন। মাইটল্যান্ড, লরেন্ট কোসিয়েলনি, পিওতর চেক। তালিকায় আরো আছেন জেনকিনসন। তবুও ওজিল অবামেয়াং আর রামসি'তে ভর করে ফুলহ্যাম বাধা পেরুতে চায় উনাই এমিরির দল।
লাওসকে হারিয়ে বঙ্গবন্ধু গোল্ডকাপে শুভ সূচনা বাংলাদেশর
অনলাইন ডেস্ক: লাওসকে হারিয়ে বঙ্গবন্ধু গোল্ডকাপে শুভ সূচনা করেছে বাংলাদেশ। সোমবার সিলেট জেলা স্টেডিয়ামে টুর্নামেন্টের উদ্বোধনী ম্যাচে লাল-সবুজ জার্সিধারীরা জিতেছে ১-০ গোলে। প্রথমার্ধ গোলশূন্য থাকার পর ৫৯ মিনিটে ম্যাচের একমাত্র গোলটি করেন বিপলু আহমেদ। শুরু থেকে বাংলাদেশ প্রাধান্য নিয়ে খেললেও গোল আদায় করতে পারছিল না কিছুতে। আক্রমনভাগের দুই খেলোয়াড় নাবীব নেওয়াজ জীবন ও মাহবুবুর রহমান সুফিল একের পর এক সহজ সুযোগগুলো নষ্ট করায় হতাশ হয়ে উঠছিল সিলেট জেলা স্টেডিয়ামের গ্যালারির প্রায় ২৫ হাজার দর্শক। একের পর এক সুযোগ নষ্ট হওয়ার পর প্রত্যাশিত গোল আসে ৫৯ মিনিটে। জীবনের বাঁকানো শট গোলরক্ষক শট ফিরিয়ে দিলে ফিরতি বলে শট নেন সুফিল। এবারও লাওসের গোলরক্ষক ঠেকিয়ে দেন। তবে বল পোস্টের সামনেই পড়ে। বিপলুর শটে লাওসের গোলরক্ষকের পায়ে লেগে জড়িয়ে যায় জালে। বাংলাদেশ এগিয়ে যেতে পারতো ১১ মিনিটেই। ডিফেন্ডার ওয়ালি ফয়সালের লম্বা পাস ধরে বাম দিক দিয়ে ঢুকে শট নিয়েছিলেন নাবীব নেওয়াজ জীবন। বল ক্রসবারে বাতাস দিয়ে বাইরে গেলে রক্ষা পায় লাওস। ২৩ মিনিটে জীবনের ক্রসে ফাঁকায় দাঁড়িয়েও বল-মাথার সংযোগ ঘটাতে পারেননি রবিউল হাসান। ২৫ মিনিটে বক্সে গোলরক্ষককে একা পেয়েও শরীরের সব শক্তি প্রয়োগ করে বল বাইরে মারেন মাহবুবুর রহমান সুফিল। ৩৬ মিনিটে প্রতি আক্রমণ থেকে লাওসের বউনকংয়ের শট ডান দিকে ঝাপিয়ে লুফে নেন বাংলাদেশের গোলরক্ষক আশরাফুল ইসলাম রানা। ৪৭ মিনিটে সুফিল আবার সহজ মিস করেন। বক্সের সামনে থেকে তিনি বল মারেই বাইরে। ৪৯ মিনিটে লাওসের সামনে সুযোগ এসেছিল। ডান দিক দিয়ে দ্রæত গতিতে ঢুকে নাথফাসুক শট নিলে ক্রসবারে বাতাস দিয়ে বাইরে চলে যায়। বাংলাদেশ একাদশ : আশরাফুল ইসলাম রানা, ওয়ালি ফয়সাল, বিশ্বনাথ ঘোষ, তপু বর্মন, টুটুল হোসেন বাদশা, বিপলু আহমেদ (মামুনুল ইসলাম), জামাল ভুঁইয়া, মাসুক মিয়া জনি, রবিউল হাসান (জাফর ইকবাল), মাহবুবুর রহমান সুফিল(ইব্রাহিম) ও নাবীব নেওয়াজ জীবন।
৬ গোলের কীর্তি স্বপ্নার
অনলাইন ডেস্ক: থিম্পু, ৩০ সেপ্টেম্বর- বাংলাদেশ নারী ফুটবল দলের কোচ গোলাম রব্বানী ছোটন তার দলের পাওয়া বলে থাকেন সিরাত জাহান স্বপ্নাকে। কোচ কেন তাকে এই তকমা দিয়েছেন তা সাফ অনূর্ধ্ব-১৮ ফুটবলে নিজেরে প্রথম ম্যাচেই প্রমাণ করে দিলেন রংপুরের মেয়ে। রোববার পাকিস্তানের বিপক্ষে ১৭-০ গোলে জিতেছে বাংলাদেশ। আর এই ম্যাচে একাই ৬ গোল করেছেন বাংলাদেশী এ কিশোরী। বাংলাদেশের কিশোরীদের মাঠে নামা আর গোল উৎসব অনেকটা সমার্থক হয়ে গেছে। এই ক-দিন আগেই ঘরের মাঠে এএফসসি অনূর্ধ্ব-১৬ ফুটবলের বাছাইয়ে গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হয়েছে বাংলাদেশ। যেখানে ৪ ম্যাচে ২৭ গোল করে বাংলাদেশের কিশোরীরা। তার আগে ভুটানে সাফ অনূর্ধ্ব-১৫ ফুটবলে ভারতের কাছে হেরে রানার্সআপ হলেও গেল বছর ডিসেম্বরে একই টুর্নামেন্টের শিরোপা জয় করে বাংলাদেশ। এই আসরগুলোর কোনোটিতেই খেলা হয়নি স্বপ্নার। বয়সের কারণে কৃষ্ণা, সানজিদা, মৌসুমী, মাজিয়াদের নিয়ে তাকেও থাকতে হয়েছে দর্শক হয়ে। অনূর্ধ্ব-১৮ সাফে অবশ্য আর দর্শক হয়ে থাকতে হয়নি। রোববার মাঠে নামলেন। আর প্রথম ম্যাচেই জানান দিলেন দুর্দান্ত কিছুর। জাতীয় দলের স্ট্রাইকার স্বপ্না ২০১৬ সালে মেয়েদের সিনিয়র সাফে ৫ গোল করেছিলেন। ৬ গোল করেছিলেন সেবার সাবিনা খাতুন। ১২ গোল করে অবশ্য টুর্নামেন্টের সর্বোচ্চ গোলদাতা হন ভুটানের সাবিত্রা। তবে অনূর্ধ্ব-১৮ সাফের প্রথম ম্যাচেই সর্বোচ্চ গোলদাতা হওয়ার দাবিটা জানান দিয়ে রাখলেন ১৭ বছরের কিশোরী। এক ম্যাচে ৬ গোল করার পর একজন ফুটবলারের অনুভূতি কী হতে পারে? যে কোনো পর্যায়ের ফুটবলেই এমন কীর্তিকে বড় করে দেখতেই হবে। স্বপ্নারও যে এক ভালোলাগা ছুঁয়ে গেছে তা বলার অপেক্ষা রাখে না। কিন্তু কী আশ্চর্য, পাকিস্তানের বিপক্ষে নিজে ৬ গোল ও দল হিসেবে ১৭ গোল করার পরও কিনা স্বপ্নার কণ্ঠে আফসোস। এদিন ভুটানে ম্যাচের পর সংবাদ সম্মেলনে স্বপ্না বলেন, আমি মনে করি আমরা অনেক গোল মিস করেছি। আমরা যদি গোল মিস না করতাম তাহলে গোল গড় আরো বেশি হতো। তবে আমাদের যে লক্ষ্য ছিল সেটা আমরা পূরণ করতে পেরেছি। পাকিস্তানের বিপক্ষে দাপুটে এই জয়ে বাংলাদেশের সেমি ফাইনাল নিশ্চিত হয়ে গেছে। মঙ্গলবার গ্রুপের শেষ ম্যাচে বাংলাদেশের মেয়েদের প্রতিপক্ষ নেপাল। যে ম্যাচে যে কোনো ব্যবধানে জয় পেলেই বা ড্র করলেই গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হবে বাংলাদেশ। স্বপ্না অবশ্য জয়ের কথাই বলে গেলেন, নেপাল শক্তিশালী দল। আমরা চেষ্টা করবো শতভাগ দিয়ে খেলার এবং জয় তুলে নেওয়ার। আমরা জেতার জন্যই মাঠে নামবো। রংপুরের জয়রামের মেয়ে স্বপ্না উঠে এসেছেন বঙ্গমাতা আন্তঃপ্রাথমিক ফুটবলের মধ্য দিয়ে। ২০১১ ও ২০১২ সালে বঙ্গমাতা ফুটবলে খেলেছেন। এর দুই বছর পরই অনূর্ধ্ব-১৬ জাতীয় দলে ডাক পান। ২০১৪ সালে এএফসি অনূর্ধ্ব-১৪ আঞ্চলিক ফুটবলে চ্যাম্পিয়ন হয় বাংলাদেশ। সেই দলেরও অন্যতম সারথী ছিলেন স্বপ্না। ঢাকায় ২০১৬ সালে এএসসি অনূর্ধ্ব-১৬ ফুটবলের বাছাইয়ে চ্যাম্পিয়ন হয়ে মূলপর্বে খেলে বাংলাদেশ। সেই দলেরও অন্যতম প্রধান তারকা ছিলেন স্বপ্না। সিনিয়র সাফে রার্নাসআপ হওয়ার পিছনে ৫ গোল করে রেখেছেন বড় অবদান। প্রথমবারের মতো আয়োজিত অনূর্ধ্ব-১৮ সালেও রাখলেন সেই ধারাবাহিকতার ছাপ। প্রথম ম্যাচেই ৬ গোল করার পর গুরু ছোটনের মতো স্বপ্নাকে দেশের নারী ফুটবলের পাওয়ার না বলে উপায় আছে কি!
বিকালেই দেশের উদ্দেশ্যে রওনা হবেন মাশরাফি, মুশফিকরা।
অনলাইন ডেস্ক: আরও একবার হারতে হয়েছে শেষ বলে, আরও একবার শিরোপা জয়ের স্বপ্নের মৃত্যু ঘটেছে ফাইনাল ম্যাচে। দুবাইতে এশিয়া কাপের ফাইনাল ম্যাচে একদম শেষ বলে হেরে রানারআপ থেকেই শেষ হয়েছে বাংলাদেশ ক্রিকেট দলের এশিয়া কাপ। এশিয়া কাপের এ মিশন শেষ করে আরব আমিরাতে বাড়তি সময় পার করবে না বাংলাদেশ দল। শনিবার বিকালেই চেপে বসবেন দেশের উদ্দেশ্যে। বাংলাদেশ সময় আনুমানিক ৪.৩০ মিনিটের ফ্লাইটে দেশের উদ্দেশ্যে রওনা হবেন মাশরাফি, মুশফিকরা। দেশে ফিরতে বেজে যাবে রাত ১১.১৫ মিনিট। টুর্নামেন্টে মাশরাফিরা সফল নাকি ব্যর্থ সে নিয়ে আলোচনা হবে বিস্তর। তবে সেরা দুই সেনানী সাকিব আল হাসান ও তামিম ইকবালকে ছাড়াই যে দৃঢ়তা দেখিয়েছে দল তা সত্যিই প্রশংসার দাবীদার। দেশে ফিরে এশিয়া কাপ স্কোয়াডের বেশিরভাগ খেলোয়াড়ই থাকবেন বিশ্রামে। শারীরিক ধকল কাটিয়ে নিজেদের প্রস্তুত করতে হবে আসন্ন জিম্বাবুয়ে সিরিজের জন্য। বাংলাদেশের বিপক্ষে ৩টি ওয়ানডে এবং ২টি টেস্ট খেলতে ১৬ অক্টোবর ঢাকায় আসবে জিম্বাবুয়ে ক্রিকেট দল। ২১ অক্টোবর দুই দলের প্রথম ওয়ানডে মিরপুরে। জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে সিরিজের প্রথম টেস্টের মধ্য দিয়েই আন্তর্জাতিক টেস্ট ক্রিকেটে অভিষেক হয়ে যাবে সিলেট আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামে। এ সিরিজের জন্য জাতীয় দলের ক্যাম্প শুরু হবে ১০ অক্টোবর থেকে। এছাড়া স্কোয়াডের বেশ কয়েকজন খেলোয়াড় রোববার বিশ্রাম নিয়ে সোমবারই নেমে পড়বেন মাঠে। কারণ ১ অক্টোবর থেকে শুরু হবে জাতীয় ক্রিকেট লিগ। যেখানে জাতীয় দলের একাধিক ক্রিকেটার লিগের শুরু থেকেই থাকবেন।
মুশফিক-মুস্তাফিজদের দুর্দান্ত জয়
অনলাইন ডেস্ক: আবুধাবি পাকিস্তানের অন্যতম হোম গ্রাউন্ড। এখানে তাদের চমৎকার রেকর্ড। আর তপ্ত মরুর শহরে এবারই প্রথম বাংলাদেশ। সাকিব, তামিমের মতো সেরা দুই সদস্য আবার দলের বাইরে। শুরুতে মহা ব্যাটিং বিপর্যয়। ১২ রানে নেই তিন উইকেট। অসংখ্য প্রতিকূলতা। সেই প্রতিকূলতা জয় করেই এশিয়া কাপের ফাইনালে ওঠে গেছে বাংলাদেশ। পাকিস্তানের বিপক্ষে ডু অর ডাই ম্যাচে মাশরাফিরা জিতেছে ৩৭ রানে (বাংলাদেশ ২৩৯, পাকিস্তান ২০২)। মাঠে উপস্থিত হাজার দশেক প্রবাসী প্রিয় দলের জয় প্রাণভরে উপভোগ করেছেন। মুশফিক (৯৯ রান) ও মিথুনের (৬০ রান) দারুণ ব্যাটিং ও পরে বোলারদের দুর্দান্ত বোলিংয়ে মনে রাখার মতো জয়টা তুলে নেয় বাংলাদেশ। অসাধারণ বোলিং করেছেন মুস্তাফিজ। ৪৩ রানে ৪ উইকেট নিয়ে পাকিস্তান ব্যাটিংয়ে ধ্বস নামান তিনি। গত ম্যাচেও কাটার বয়ের কারণে শেষ ওভারের নাটক জিতেছিল বাংলাদেশ। ২৪০ রানের টার্গেট ছিল পাকিস্তানের সামনে। তেমন বড় টার্গেট নয়। তবে এই রানই যে তাদের জন্য এতটা কঠিন হয়ে উঠবে, ভাবা যায়নি। মিরাজের হাত ধরে শুরুতেই উইকেট পেয়ে উজ্জ্বিবিত হয়ে ওঠে দল। মিরাজ ১ রানে ফেরান ফকর জামানকে। এরপর জ্বলে ওঠেন মুস্তাফিজুর রহমান। দারুণ স্পেল, পরপর দুই উইকেট। বাবর আজমকে ১ রানে এলবির ফাঁদে ফেলেন কাটার বয়। মুস্তাফিজের পরের শিকার সরফরাজ আহমেদ। তবে তাতে বড় অবদান উইকেট কিপার মুশফিকের রহিমের।এবং যেভাবে তিনি পড়ে গিয়েছিলেন তাতে ভয়ের কারণই ছিল। উইকেটের পেছনে ক্যাচ দিয়েছিলেন সরফরাজ। ক্যাচটি সহজ ছিল না। ঝাপিয়ে পড়ে দুই হাতে বল তালুবন্দি করেন মুশি। তিনি এমনভাবে পড়ে ক্যাচটি ধরেছিলেন যে, শরীরের পুরো ভর পড়েছিল বুক ও কোঁমরের উপর।তিনি হয়তো একটু ব্যথাও পেয়েছিলেন। মাত্র ১৮ রানে তিন উইকেট ফেলে দিয়ে জয়ের স্বপ্ন দেখা শুরু করে দেয় টাইগাররা। কিন্তু চতুর্থ উইকেটে ইমামুল হক ও শোয়েব মালিক দৃঢতা দেখান। বড় পার্টনারশিপের দিকে যাচ্ছিলেন তারা। ৬৭ রান যোগ করার পর রুবেলের বলে মাশরাফির অসাধারণ ক্যাচে পরিণিত হন শোয়েব। এর কিছু পর শাদাব খানকে ৪ রানে স্লো মিডিয়াম পেসে বিদায় করেন সৌম্য সরকার। ৯৪ রানে ৫ উইকেট নেই পাকিস্তানের। ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ বাংলাদেশর হাতে। তবে এখান থেকে দলকে টেনে নিতে থাকেন বিপজ্জনক ইমামুল হক। তিনি এমন এক ব্যাটসম্যান যিনি একাই ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দিতে জানেন। তাকে সঙ্গ দেন আসিফ আলী। অবশ্য ২২ রানের মাথায় ফিরতে পারতেন এই আসিফ। কিন্তু মুস্তাফিজের বলে ক্যাচ ছাড়েন মুশফিকের জায়গায় কিপিং করা লিটন দাস। অবশেষে সেই আসিফকে মিরাজের বলে আসিফকে ৩১ রানে স্ট্যাম্প করেন লিটন। ১২১ রানের জুটি ভাঙার পর স্বস্তি ফিরে বাংলাদেশ শিবিরে। সেই স্বস্তি আনন্দে রূপ নেয় যখন ৮৩ রানে ইমামুল হককে মাহমুদউল্লাহ রিয়াদের বলে ত্বরিৎ স্ট্যাম্পিং করেন লিটন। জয় তখন সময়ের ব্যাপার হয়ে দাঁড়ায়। গ্যালারিতে বাংলাদেশি সমর্থকদের উল্লাস শুরু হয়ে যায়। এরপর হাসান আলীকে ৮ রানে মুস্তাফিজ বিদায় করেন। মোহাম্মদ নেওয়াজকেও ৮ রানে বিদায় করেন মুস্তাফিজ। ৫০ ওভারে ৯ উইকেটে পাকিস্তান থামে ২০২ রানে। মুস্তাফিজ ছাড়াও ভালো বল করেছেন অন্য সবাই। ২ উইকেট নেন মিরাজ। একটি করে পান রুবেল, সৌম্য ও রিয়াদ। এরআগে টসে জিতে ব্যাট করতে নামে বাংলাদেশ। মুশফিকের ৯৯ ও মিথুনের ৬০ রানের কল্যাণে ৪৮.৫ ওভারে ২৩৯ রান তুলে বাংলাদেশ। শুরুটা জঘন্য হয়েছিল। নাজমুল হাসান শান্তকে বাদ দিয়ে সৌম্য সরকারকে একাদশে নিয়েও লাভ হয়নি। ৫ বলে ০ রানে ফিরে গিয়ে আবারও প্রমাণ করলেন আপাতত আন্তর্জাতিক ক্রিকেট খেলার অবস্থায় নাই তিনি। গত সাত ওয়ানডেতে তার ব্যাট থেকে এসেছে ০, ২৮, ৩, ৩, ০, ৮, ০। সৌম্যর অফ ভয়াবহ অফ ফর্ম অন্য দুই ফরম্যাটেও। গত ১১ টি-টোয়েন্টি ইনিংসে সৌম্য করেন যথাক্রমে ০, ১৪, ২৪, ১, ১০, ১, ৩, ১৫, ০, ১৪, ৫। আর সর্বশেষ সাত টেস্ট ইনিংস তার রান যথাক্রমে ১০, ৮, ১৫, ৩৩, ৯, ৯, ৩। সাকিবের জায়গায় সুযোগ পাওয়া মুমিনুল হক দারুণ চার মেরেছিলেন শুরুতেই। ভালো করার ঘোষণা ছিল ওই চারে। কিন্তু পরক্ষণেই বোল্ড হয়ে যান তিনি। লিটন এক ইনিংস একদিন ভালো করেন তো, ৫/৭ ইনিংসে রান নেই। গত ম্যাচে ৪২ রান করা লিটন এদিন থামেন ৬ রানে। মহা বিপর্যয়। ১২ রানে তিন উইকেট শেষ। ম্যাচের বারটা বাজিয়ে দিয়ে গেছেন তিন ব্যাটসম্যান। এখান থেকে দলকে টেনে তুলা শুধু কঠিন নয়, খুবই কঠিন। তবে এমন কঠিন কাজ বহুবার করে দেখিয়েছেন মুশফিক। শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে এশিয়া কাপের প্রথম ম্যাচে এমন পরিস্থিতিতে দলকে টেনে তুলেছিলেন ১৫০ বলে ১৪৪ রান করে। সঙ্গে পেয়েছিলেন মোহাম্মদ মিথুনকে। মিথুন করেছিলেন লড়াকু ৬৩ রান। মুশফিক-তৃতীয় উইকেট জুটিতে এসেছিল রেকর্ড ১৩১। পাকিস্তানের বিপক্ষে এটাই চতুর্থ উইকেট জুটিতে সর্বোচ্চ রানের জুটি। চরম বিপদে দলকে আবারও উদ্ধার করলেন এই জুটি। আজ চতুর্থ জুটিতে ১৪৪ রান যোগ করেন মুশফিক ও মিথুন। ৮৪ বলে ৬০ রান করার পর আউট হন মিথুন। তবে মুশফিক তরতর করে এগিয়ে যাচ্ছিলেন মুশি। এগিয়ে যাচ্ছিলেন ৭ নম্বরে ওয়ানডে সেঞ্চুরির দিকে। কিন্তু এক ৯৯ রান করার (মুশফিকই একমাত্র বাংলাদেশি ব্যাটসম্যান যিনি ১ রানের জন্য সেঞ্চুরি পেলেন না) পর শাহিন শাহ আফ্রিদির বলে ফিরতে হয় তাকে। ১ রানের আফসোস তো বটেই, দলও ভীষণভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হলো। মুশফিক উইকেট থাকলে স্কোরের চেহারা অন্যরকম হতে পারত। গত ম্যাচে দারুণ খেলা ইমরুলকে এদিনও সাবলীল মনে হচ্ছিল। কিন্তু ১০ বলে ৯ করার তাকে ফিরতে হয় এলবি হয়ে। এরপর মিরাজ আউট হন ১২ বলে ১১ রান করে। দায়িত্ব নিয়ে খেলছিলেন মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ। কিস্তু তাকে বিদায় নিতে হয় ২৫ বলে ২১ রান করার পর। ১২ বলে ১৪ রান করে মাশরাফি আউট হয়ে গেলে ৭ বল বাকি থাকতেই ২৩৯ রানে অলআউট হয়ে যায় বাংলাদেশ।পাকিস্তানের জুনায়েদ খান মাত্র ২০ রান দিয়ে ৪ উইকেট নেন। সংক্ষিপ্ত স্কোর ফল: ৩৭ রানে জয়ী বাংলাদেশ। বাংলাদেশ ইনিংস: ২৩৯ (৪৮.৫ ওভার) (লিটন দাস ৬, সৌম্য সরকার ০, মুমিনুল হক ৫, মুশফিকুর রহিম ৯৯, মোহাম্মদ মিথুন ৬০, ইমরুল কায়েস ৯, মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ ২৫, মেহেদী হাসান মিরাজ ১২, মাশরাফি বিন মুর্তজা ১৩, রুবেল হোসেন ১, মোস্তাফিজুর রহমান ০*‍; জুনায়েদ খান ৪/১৯, শাহীন শাহ আফ্রিদি ২/৪৭, হাসান আলী ২/৬০, মোহাম্মদ নওয়াজ ০/৩৯, শোয়েব মালিক ০/১৪, শাদব খান ১/৫২)। পাকিস্তান ইনিংস: ২০২/৯ (৫০ ওভার) (ফখর জামান ১, ইমাম-উল-হক ৮৩, বাবর আজম ১, সরফরাজ আহমেদ ১০, শোয়েব মালিক ৩০, শাদব খান ৪, আসিফ আলী ৩১, মোহাম্মদ নওয়াজ ৮, হাসান আলী ৮, শাহীন শাহ আফ্রিদি ১৪* জুনায়েদ খান ৩*; মেহেদী হাসান মিরাজ ২/২৭, মোস্তাফিজুর রহমান ৪/৪৩, মাশরাফি বিন মুর্তজা ০/৩৩, রুবেল হোসেন ১/৩৮, মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ ১/৩৮, সৌম্য সরকার ১/১৯)।
মরু শহর দুবাইয়ে উড়লো মাশরাফিদের বিজয় কেতন
অনলাইন ডেস্ক: দুবাই ইন্টারন্যাশনাল ক্রিকেট স্টেডিয়ামের গ্যালারি প্রথমবার বাংলাদেশি সমর্থকদের উচ্ছ্বাসে ভাসলো। ২৫ হাজার সিটের গ্যালারির ৯০ শতাংশই ছিল লাল সবুজের জার্সির দখলে।পরবাসে কঠোর পরিশ্রম করা বাংলাদেশিরা প্রাণভরে উপভোগ করলেন মুশফিক- মাশরাফিদের বীরত্ব। অস্ট্রেলিয়া, শ্রীলঙ্কা, ওয়েস্ট ইন্ডিজের পর এবার মরু শহর দুবাইয়ে উড়লো মাশরাফিদের বিজয় কেতন। ব্যাট বলের অসাধারণ নৈপুণ্যে এশিয়া কাপে নিজেদের প্রথম ম্যাচে শ্রীলঙ্কাকে ১৩৭ রানের বিরাট ব্যবধানে হারিয়ে শুভসূচনা করেছে বাংলাদেশ। এই জয়ে টুর্নামেন্টের দ্বিতীয় রাউন্ডে এক পা দিয়ে রাখলো মাশরাফির দল। ২০ তারিখ আবুধাবিতে পরের ম্যাচে বাংলাদেশের প্রতিপক্ষ আফগানিস্তান। প্রথমে ব্যাট করতে নেমে মুশফিকের তুখোড় সেঞ্চুরিতে(১৫০ বলে ১৪৪ রান) ৪৯.৩ ওভারে ২৬১ রানে অলআউট হয় বাংলাদেশ। জবাবে ৩৫.২ ওভারে ১২৪ রানে শেষ হয়ে যায় শ্রীলঙ্কা। ম্যাচের আগের দিন মাশরাফি বলেছিলেন, যে কোনো টুর্নামেন্টের প্রথম ম্যাচটা গুরুত্বপূর্ণ। প্রচণ্ড গরমে এমনিতেই হাসফাস আবস্থা ক্রিকেটারদের। দুবাইয়ে শ্রীলঙ্কা অনেকটাই অভ্যস্ত পাকিস্তানের সঙ্গে নিয়মিত এখানে সিরিজ খেলার কারণে। বাংলাদেশ কতটা গরমের সঙ্গে মানিয়ে নিয়ে পারফর্ম করতে পারবে, তা নিয়ে সংশয় ছিলই। সন্দিহান ছিল খোদ টিম ম্যানেজমেন্টর।তবে দুবাইয়ের কঠিন কন্ডিশনের সঙ্গে মানিয়ে নিয়ে দারুণ জয় তুলে নিল বাংলাদেশ। ব্যাটিংয়ের শুরুটা খুবই জঘন্য ছিল বাংলাদেশের। ২ রানে ২ উইকেট পড়ে গেল। ২ রান করে আহত হয়ে মাঠ ছাড়লেন তামিম। এই পরিস্থিতিতে ঘুরে দাঁড়ানো সহজ ছিল না। তবে মুশফিক- মিথুন মিলে অসাধ্য সাধন করলেন। ২ থেকে তারা রান নিয়ে গেলেন ১৩৪ এ। ১৩২ রানের রেকর্ড জুটি (তৃতীয় উইকেটে)। মিথুন করলেন ৬৮ বলে ৬৩। যদিও দুটো ক্যাচ দিয়েছিলেন তিনি। অসাধারণ বীরত্ব দেখিয়ে ১৫০ বলে ক্যারিয়ার সেরা ১৪৪ রান করে দলকে ২৬১ রানে নিয়ে যান মুশফিক। ব্যস, ভালো একটা ভিত পেয়ে যায় বাংলাদেশ। পুরোপুরি ব্যাটিং উইকেট। ২৬২ রান করা লঙ্কানদের জন্য খুব কঠিন হবে-এটা অবশ্য ভাবা যায়নি। তবে শুরু থেকে দুর্দান্ত বোলিং করে লঙ্কান ব্যাটসম্যানদের একের পর এক বিপদে ফেললেন মাশরাফি-মুস্তাফিজ-মিরাজ। নিয়মিত উইকেট পড়তে থাকলো শ্রীলঙ্কার। ৬৯ রানে নেই ৭ উইকেট। কতদূর যাবে শ্রীলঙ্কা? বাংলাদেশের বিপক্ষে শ্রীলঙ্কার সর্বনিম্ম স্কোর ১৪৭ রান, মিরপুরে ২০০৯ সালে। আজ তবে কী নতুন রেকর্ড হবে? শেষ পর্যন্ত হলোও তাই। মাত্র ১২৪ রানে গুটিয়ে গেল শ্রীলঙ্কা। বাংলাদেশের বিপক্ষে শ্রীলঙ্কার সর্বনিম্ম স্কোর এখন এটাই। সবাই ভালো বোলিং করলেন। মাশরাফি, মুস্তাফিজ, মিরাজ নেন দুটি করে উইকেট। একটি করে পান সাকিব, মোসাদ্দেক ও রুবেল। সংক্ষিপ্ত স্কোর ফল: ১৩৭ রানে জয়ী বাংলাদেশ। বাংলাদেশ ইনিংস: ২৬১ (৪৯.৩ ওভার) (তামিম ইকবাল ২*, লিটন দাস ০, সাকিব আল হাসান ০, মুশফিকুর রহিম ১৪৪, মোহাম্মদ মিথুন ৬৩, মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ ১, মোসাদ্দেক হোসেন সৈকত ১, মেহেদী হাসান মিরাজ ১৫, মাশরাফি বিন মুর্তজা ১১, রুবেল হোসেন ২, মোস্তাফিজুর রহমান ১০; লাসিথ মালিঙ্গা ৪/২৩, সুরঙ্গা লাকমল ১/৪৬, আমিলা আপোনসো ১/৫৫, থিসারা পেরেরা ১/৫১, দিলরুয়ান পেরেরা ০/২৫, ধনঞ্জয়া ডি সিলভা ২/৩৮, দাসুন শানাকা ০/১৯)। শ্রীলঙ্কা ইনিংস: ১২৪ (৩৫.২ ওভার) (উপুল থারাঙ্গা ২৭, কুসল মেন্ডিস ০, কুসল পেরেরা ১১, ধনঞ্জয়া ডি সিলভা ০, অ্যাঞ্জেলো ম্যাথুজ ১৬, দাসুন শানাকা ৭, থিসারা পেরেরা ৬, দিলরুয়ান পেরেরা ২৯, সুরঙ্গা লাকমল ২০, আমিলা আপোনসো ৪, লাসিথ মালিঙ্গা ৩*; মাশরাফি বিন মুর্তজা ২/২৫, মোস্তাফিজুর রহমান ২/২০, মেহেদী হাসান মিরাজ ২/২১, সাকিব আল হাসান ১/৩১, রুবেল হোসেন ১/১৮, মোসাদ্দেক হোসেন সৈকত ১/৮)।
দুর্দান্ত সেঞ্চুরি মুশফিকের
অনলাইন ডেস্ক: এশিয়া কাপের উদ্বোধনী ম্যাচে এক মালিঙ্গাকেই সামলাতে পারছেন না বাংলাদেশর ব্যাটসম্যানরা। ইনিংসের প্রথম ওভারেই লিটন দাস ও সাকিব আল হাসানকে শিকার করেন এই লঙ্কান পেসার। আর দ্বিতীয় স্পেলে মোহাম্মাদ মিঠুন এবং মোসাদ্দেক হোসেনকে। তবে দমে যাননি মুশফিকুর রহীম। নিজের দীর্ঘ অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে নিজে তুলে নিয়েছেন ৬ষ্ঠ ওয়ানডে সেঞ্চুরি। সেই সাথে দলকে এনে দিয়েছেন সম্মানজনক স্কোর। ইনিংসের দ্বিতীয় ওভারে সুরাঙ্গা লাকমলের করা শেষ বলে বাঁ-হাতের কব্জিতে আঘাত পান তামিম। এরপর প্রচণ্ড ব্যথা অনুভব করেন তিনি। শেষ পর্যন্ত ২ রান নিয়ে রিটায়ার্ড হার্ট হয়ে মাঠ ছেড়েছেন দেশসেরা ওপেনার। এরপর বাংলাদেশ তিন অঙ্কের ঘরে পৌঁছাতে পারে কি না, তা নিয়ে সংশয় জেগেছিল। তবে চতুর্থ উইকেটে মোহাম্মদ মিঠুনকে নিয়ে দারুন প্রতিরোধ গড়েন অভিজ্ঞ মুশফিকুর রহীম। ১৭.৩ বলে ৭৮ রানের জুটি গড়ে তালেন তারা। প্রথমে মিঠুন দারুণ এক ফিফটি তুলে নেন। এরপর মুশফিক। তুলে নিয়েছেন ৩০তম ফিফটি। এরপর ১৩১ রানের এই জুটি ভেঙেছে মিঠুনের বিদায়ে। নতুন নেমে মাহমুদউল্লাহও ফিরে গেছেন ১ রান করে। তবে ক্যারিয়ারের ৩০ তম ফিফটিকে সেঞ্চুরিতে রুপান্তর করেছেন মুশফিক। ১২৪ বলে এশিয়া কাপে নিজের দ্বিতীয় সেঞ্চুরি তুলে নেন এই উইকেটরক্ষ ব্যাটসম্যান। ওয়ানডে ক্যারিয়ারে এটি তার ৬ষ্ঠ সেঞ্চুরি। এই প্রতিবেদন লিখা পর্যন্ত ৮ উইকেটে ২২৯ রান সংগ্রহ করেছে বাংলাদেশ। শনিবার দুবাই আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামে টস নামক ভাগ্য পরীক্ষায় জিতে এশিয়া কাপের ১৪তম আসরে নিজেদের মিশন শুর করল বাংলাদেশ। শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে নিজেদের প্রথম ম্যাচে টস জিতে আগে ব্যাটিং বেছে নিয়েছেন লাল সবুজ দলের অধিনায়ক মাশরাফি বিন মর্তুজা।
এক হাত দিয়েই ব্যাট করলেন তামিম
অনলাইন ডেস্ক: ৪৭তম ওভারে ওভারে ২২৯ রানে থেমে যাওয়ার কথা ছিল বাংলাদেশের ইনিংস। যদিও তখনও একটা উইকেট ছিল। কিন্তু বাঁ-হাতের কব্জিতে আঘাত পেয়ে আগেই অবসর নিয়েছিলে তামিম ইকবাল। যেতে হয়েছিল হাসপাতালে। সেখান থেকে ব্যান্ডেজ নিয়ে ফিরেছিলেন এই ওপেনার। মাঠে নামারই কথা নয়। কিন্তু দেশপ্রেমের উজ্জল দৃষ্টান্ত স্থাপন করে তিনি নেমে গেলেন। এবং এক হাত দিয়েই খেললেন তামিম। সঙ্গ দিলেন মুশফিককে। আর তাতেই বাংলাদেশ পেয়ে গেল লড়াই করার মতো পুঁজি। এদিন এক মালিঙ্গাকে সামলাতে হিমসিম খেয়েছে বাংলাদেশর ব্যাটসম্যানরা। ইনিংসের প্রথম ওভারেই লিটন দাস ও সাকিব আল হাসানকে শিকার করেন এই লঙ্কান পেসার। এরপর ইনিংসের দ্বিতীয় ওভারে সুরাঙ্গা লাকমলের করা শেষ বলে বাঁ-হাতের কব্জিতে আঘাত পান তামিম। এরপর প্রচণ্ড ব্যথা অনুভব করেন তিনি। শেষ পর্যন্ত ২ রান নিয়ে রিটায়ার্ড হার্ট হয়ে মাঠ ছেড়েছেন দেশসেরা ওপেনার। এরপর বাংলাদেশ তিন অঙ্কের ঘরে পৌঁছাতে পারে কি না, তা নিয়ে সংশয় জেগেছিল। তবে চতুর্থ উইকেটে মোহাম্মদ মিঠুনকে নিয়ে দারুন প্রতিরোধ গড়েন অভিজ্ঞ মুশফিকুর রহীম। ১৭.৩ বলে ৭৮ রানের জুটি গড়ে তালেন তারা। প্রথমে মিঠুন দারুণ এক ফিফটি তুলে নেন। এরপর মুশফিক। তুলে নিয়েছেন ৩০তম ফিফটি। ইনিংসের দ্বিতীয় ওভারে সুরাঙ্গা লাকমলের করা শেষ বলে বাঁ-হাতের কব্জিতে আঘাত পান তামিম। এরপর প্রচণ্ড ব্যথা অনুভব করেন তিনি। শেষ পর্যন্ত ২ রান নিয়ে রিটায়ার্ড হার্ট হয়ে মাঠ ছেড়েছেন দেশসেরা ওপেনার। এরপর বাংলাদেশ তিন অঙ্কের ঘরে পৌঁছাতে পারে কি না, তা নিয়ে সংশয় জেগেছিল। তবে চতুর্থ উইকেটে মোহাম্মদ মিঠুনকে নিয়ে দারুণ প্রতিরোধ গড়েন অভিজ্ঞ মুশফিকুর রহীম। ১৭.৩ বলে ৭৮ রানের জুটি গড়ে তালেন তারা। প্রথমে মিঠুন দারুণ এক ফিফটি তুলে নেন। এরপর মুশফিক। তুলে নিয়েছেন ৩০তম ফিফটি। এরপর ১৩১ রানের এই জুটি ভেঙেছে মিঠুনের বিদায়ে। নতুন নেমে মাহমুদউল্লাহও ফিরে গেছেন ১ রান করে। তবে ক্যারিয়ারের ৩০ তম ফিফটিকে সেঞ্চুরিতে রূপান্তর করেছেন মুশফিক। ১২৪ বলে এশিয়া কাপে নিজের দ্বিতীয় সেঞ্চুরি তুলে নেন এই উইকেটরক্ষ ব্যাটসম্যান। ওয়ানডে ক্যারিয়ারে এটি তার ৬ষ্ঠ সেঞ্চুরি। শেষ পর্যন্ত অলআউট হওয়ার আগে ২৬১ রান সংগ্রহ করে বাংলাদেশ। শনিবার দুবাই আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামে টস নামক ভাগ্য পরীক্ষায় জিতে এশিয়া কাপের ১৪তম আসরে নিজেদের মিশন শুর করল বাংলাদেশ। শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে নিজেদের প্রথম ম্যাচে টস জিতে আগে ব্যাটিং বেছে নিয়েছেন লাল সবুজ দলের অধিনায়ক মাশরাফি বিন মর্তুজা।
এশিয়া কাপের সর্বোচ্চ রান সংগ্রহ করেছেন যে পাঁচজন
অনলাইন ডেস্ক: ছয় জাতির অংশগ্রহণে শনিবার সংযুক্ত আরব আমিরাতে বসছে এশিয়া কাপের এবারের আসর। এ ক্রিকেট আসর চলবে চলতি মাসের ২৮ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত। আসর মাঠে গড়ানোর আসুন জেনে নেই টুর্নামেন্টের ইতিহাসে সর্বোচ্চ রান সংগ্রাহকদের সম্পর্কে- সনাৎ জয়াসুরিয়া (১৯৯০-২০০৮): লঙ্কান ‘পাওয়ার হিটিং’ ওপেনিং ব্যাটসম্যান সনাৎ জয়াসুরিয়া ১৯৯০ থেকে ২০০৮ সাল পর্যন্ত এশিয়া কাপে মোট ২৫টি ম্যাচে খেলেছেন। এই ২৫ ম্যাচের ২৪ ইনিংসে ব্যাটিং করে ৫৩ গড়ে মোট ১২২০ রান করেছেন সাবেক এই লঙ্কান অধিনায়ক। তার সর্বোচ্চ স্কোর ১৩৯ রান। এশিয়া কাপের রেকর্ডে তার নামের পাশে ৬ সেঞ্চুরি আর ৩ ফিফটি আছে। সবমিলিয়ে এশিয়া কাপে ১৩৯টি বাউন্ডারি আর ২৩টি ছক্কা হাঁকিয়েছেন তিনি। এই টুর্নামেন্টে তার স্ট্রাইক রেট ১০২.৫। কুমার সাঙ্গাকারা (২০০৪-২০১৪): জয়াসুরিয়ার পরের স্থানটিও একজন লঙ্কানের। শ্রীলঙ্কার হয়ে সবচেয়ে উজ্জ্বল ক্যারিয়ারের মালিক কুমার সাঙ্গাকারা আছেন দ্বিতীয় স্থানটিতে। শ্রীলঙ্কার সাবেক এই অধিনায়ক এশিয়া কাপে মোট ২৪টি ম্যাচ খেলে ২৩ ইনিংসে ব্যাট হাতে নেমেছিলেন। এশিয়া কাপে এই উইকেটরক্ষক-ব্যাটসম্যানের মোট রান ১০৭৫। ব্যাটিং গড় ৪৯, সর্বোচ্চ স্কোর ১২১। এশিয়া কাপে চার সেঞ্চুরি ও আট ফিফটির কীর্তি আছে তার নামের পাশে। শচীন টেন্ডুলকার (১৯৯০-২০১২): তিন নম্বরে আছেন ভারতের ব্যাটিং কিংবদন্তী শচিন টেন্ডুলকার। এশিয়া কাপে মোট ২১ ইনিংসে ব্যাট করে ৫১ গড়ে ৯৭১ রান করেছেন ওয়ানডেতে সর্বোচ্চ রানের মালিক। এশিয়া কাপে তার সর্বোচ্চ রান ১১৪। লিটল মাস্টারের নামের পাশে এই টুর্নামেন্টে দুই সেঞ্চুরি ও সাত ফিফটি। ১৯৯০-৯১ এবং ১৯৯৫ সালের এশিয়া কাপজয়ী ভারত দলের সদস্য ছিলেন শচীন। ২০১০ সালের আসরে তিনি বিশ্রামে ছিলেন। বিরাট কোহলি (২০১০-২০১৬): অবাক হওয়ার কিছু নেই এত শিগগিরই তালিকার শীর্ষ পাঁচে চলে এসেছেন ভারতীয় দলের বর্তমান অধিনায়ক বিরাট কোহলি। তবে অবাক করার বিষয় হলো মাত্র ১৪ ইনিংস খেলেই এশিয়া কাপের সেরা ব্যাটসম্যানদের তালিকায় ঠাঁই পেয়েছেন তিনি। ২০১০ থেকে ২০১৬ এই সময়ে বর্তমান বিশ্বের সেরা এই ব্যাটসম্যান ৬৪ গড়ে ৭৬৬ রান করেছেন। এমনকি কোহলির ব্যাটিং গড় সেরা পাঁচের বাকিদের চেয়ে ঢের বেশি। তার স্ট্রাইক রেট ৯৯.৬। এশিয়া কাপে কোহলির সেঞ্চুরি আছে ৩টি, ফিফটি আছে ২টি। আসন্ন এশিয়া কাপে বিশ্রামে থাকায় মাঠে নামা হচ্ছে না তার। অর্জুনা রানাতুঙ্গা (১৯৮৪-১৯৯৭): তালিকার পাঁচ নম্বর স্থানে আছেন শ্রীলঙ্কার বিশ্বকাপজয়ী অধিনায়ক অর্জুনা রানাতুঙ্গা। এশিয়া কাপে ১৯ ম্যাচ খেলে ৫৭ গড়ে ৭৪১ রান করেছেন তিনি। সর্বোচ্চ স্কোর অপরাজিত ১৩১ রান। ১৯৮৬ ও ১৯৯৭ সালের এশিয়া কাপজয়ী শ্রীলঙ্কা দলের সদস্য ছিলেন তিনি। দুই আসরের ফাইনালেই হাফ-সেঞ্চুরি করার কীর্তি গড়েছিলেন তিনি। এশিয়া কাপে এক সেঞ্চুরি ও ৬ ফিফটি আছে রানাতুঙ্গার নামের পাশে।

খেলাধূলা পাতার আরো খবর