টানটান উত্তেজনা শেষ আটের যুদ্ধ শুরু কাল
কী খেলাটাই না হচ্ছে রাশিয়ায়! প্রায় প্রতি ম্যাচেই স্নায়ুবিকল করা টানটান উত্তেজনা। অঘটনের ঘনঘটা। তাতে ফুটবল রোমান্টিকদের তৃষিত নয়ন জুড়াচ্ছে কিনা, বলা মুশকিল। তবে এটা নিশ্চিত যে, এমন অঘটনপ্রসবা বিশ্বকাপ খুব কমই দেখেছে ফুটবল। গ্রুপপর্ব ও দ্বিতীয় রাউন্ড শেষে ৩২ দলের বিশ্বকাপ নেমে এসেছে আট দলে। আগামীকাল শুরু হবে শেষ আটের যুদ্ধ। কোয়ার্টার ফাইনালে জায়গা করে নেয়া আট দলের চারটিই সাবেক বিশ্বচ্যাম্পিয়ন। ব্রাজিল, উরুগুয়ে, ফ্রান্স ও ইংল্যান্ড। বাকি চার দলের মধ্যে বেলজিয়াম ও ক্রোয়েশিয়াকে নিয়ে কোনো প্রশ্ন না থাকলেও স্বাগতিক রাশিয়া ও সুইডেনের শেষ আটে উঠে আসাটা বড়সড় চমকই। আরও বড় চমক ঝরে যাওয়া নামগুলো। জার্মানি, আর্জেন্টিনা, স্পেন, পর্তুগাল। তবে শেষ ষোলোতে যে তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতা দেখা গেছে তাতে স্পষ্ট বড়-ছোটর ব্যবধান এখন ঊনিশ-বিশ। দ্বিতীয় রাউন্ডে আট ম্যাচের তিনটি নিষ্পত্তি হয়েছে টাইব্রেকারে। বাকি পাঁচ ম্যাচে একাধিক গোলের ব্যবধানে জিতেছে শুধু ব্রাজিল। শুধু স্কোরলাইন নয়, পারফরম্যান্সেও একমাত্র ব্রাজিলই সত্যিকারের ফেভারিটের মতো পা রেখেছে শেষ আটে। মেক্সিকোর বিপক্ষে ২-০ গোলে জেতা ম্যাচে সেলেকাওদের ছন্দময় আক্রমণাত্মক ফুটবল মন ভরিয়ে দিয়েছে সমর্থকদের। দ্বিতীয় রাউন্ডে ব্রাজিল ছাড়া শুধু সুইডেন গোল হজম করেনি। আগামীকাল দ্বিতীয় কোয়ার্টার ফাইনালে আসরের ‘কালো ঘোড়া’ বেলজিয়ামের মুখোমুখি হবে ব্রাজিল। এবারের আসরে এখন পর্যন্ত সর্বোচ্চ ১২ গোল করা বেলজিয়ামের সোনালি প্রজন্ম বড় স্বপ্নই দেখছে। কিন্তু ব্রাজিল-বাধা পেরোতে অবিশ্বাস্য কিছুই করে দেখাতে হবে তাদের। দ্বিতীয় রাউন্ডে পুঁচকে জাপানের কাছেই প্রায় আটকে গিয়েছিল বেলজিয়াম। শেষ ২১ মিনিটে তিন গোল করে এ যাত্রায় শেষ রক্ষা হলেও ব্রাজিলের জমাট রক্ষণ এভাবে ভাঙা যাবে না। চার ম্যাচে সাত গোল করার বিপরীতে মাত্র একটি গোল হজম করেছে সেলেকাওরা। ছন্দে ফেরা নেইমারকেও সামলাতে হবে বেলজিয়ামকে। একই দিনে প্রথম কোয়ার্টার ফাইনালে দেখা হবে ফ্রান্স ও উরুগুয়ের। সাদা চোখে ফ্রান্সকে ফেভারিট মনে হলেও উরুগুয়েকে পিছিয়ে রাখার সুযোগ নেই। টানা চার জয়ের পাশাপাশি ব্রাজিলের সঙ্গে যুগ্মভাবে সবচেয়ে কম এক গোল হজম করেছে উরুগুয়ে। শেষ ষোলোর হিরো এডিনসন কাভানি চোট কাটিয়ে সুয়ারেজের সঙ্গে জুটি বাঁধতে পারলে অগ্নিপরীক্ষাই অপেক্ষা করছে ফরাসি রক্ষণের জন্য। কিলিয়ান এমবাপ্পের গতির ঝড়ে আর্জেন্টিনার নড়বড়ে রক্ষণ ধসে পড়লেও ওই ম্যাচে ফ্রান্সও কিন্তু তিন গোল হজম করেছিল। উরুগুয়ের রক্ষণ যেমন বালির বাঁধ নয়, তেমনি আক্রমণভাগও নয় ক্ষুরধার। শনিবার শেষ আটের শেষ দুই ম্যাচে দেখা হবে রাশিয়া-ক্রোয়েশিয়া এবং ইংল্যান্ড-সুইডেনের। সুইডেন ছাড়া বাকি তিন দলই কোয়ার্টার ফাইনালে উঠেছে টাইব্রেকারের ভাগ্য-পরীক্ষায় জিতে। স্পেনের করুণ পরিণতি দেখার পরও ঝুঁকি নিয়ে বলে দেয়া যায় সোচিতে রাশিয়ার বিপক্ষে পরিষ্কার ফেভারিট মডরিচের ক্রোয়েশিয়া। তবে সামারায় সুইডেন-বাধা পেরোনো মোটেও সহজ হবে না ইংল্যান্ডের জন্য। অধিনায়ক হ্যারি কেন সর্বোচ্চ ছয় গোল করে গোল্ডেন বুটের লড়াইয়ে এগিয়ে থাকলেও দলের অন্য স্ট্রাইকাররা একদমই ছন্দে নেই। বিপরীতে সুইডেন শেষ আটে উঠে এসেছে পুরোপুরি দলীয় প্রচেষ্টায়। সু ইডেনের স্বপ্নযাত্রা থামাতে কেন-নির্ভরতা থেকে বেরিয়ে আসতে হবে ইংল্যান্ডকে। এখানেও চলে আসছে ব্রাজিলের কথা। দলে নেইমারের মতো মহাতারকা থাকার পরও ব্রাজিলের বড় শক্তি দলের গভীরতা ও ভারসাম্য। রেকর্ড পাঁচবারের বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন এগিয়ে আরেকটি দিকেও। গত বিশ্বকাপে কোয়ার্টার ফাইনালে উঠেছিল যে আটটি দল, তাদের মধ্যে এবার টিকে আছে কেবল ব্রাজিল, ফ্রান্স ও বেলজিয়াম। সেবার শেষ আটেই থেমেছিল ফ্রান্স ও বেলজিয়ামের বিশ্বকাপ যাত্রা। এবার তার পুনরাবৃত্তি হলে ব্রাজিলের ‘হেক্সা’ আর কে আটকাবে!
কোয়ার্টারে ইংল্যান্ড
নকআউট পর্বের প্রায়সব ম্যাচই উত্তেজনার রেণু ছড়িয়েছে। ব্যতিক্রম হলো না কলম্বিয়া-ইংল্যান্ডের মহারণটাও। কাল মস্কোতে ল্যাটিন আমেরিকা ও ইউরোপিয়ান জায়ান্ট দল দুটির লড়াইটা শেষ অবধি নিষ্পত্তি হলো টাইব্রেকারে। যেখানে কলম্বিয়াকে হারিয়ে বাজিমাত করল ইংল্যান্ড। রাশিয়া বিশ্বকাপের দ্বিতীয় রাউন্ডের শেষ লড়াইটা জমে উঠেছিল ম্যাচের শুরু থেকেই। আক্রমণ-পাল্টা আক্রমণে ম্যাচের রোমাঞ্চ উঠে গিয়েছিল বৃহস্পতির তুঙ্গে। কিন্তু মুহুর্মুহু আক্রমণের পরও গোলমুখ খুলতে পারেনি কোনো দলই। তাই নিষ্ফলাভাবেই শেষ হয়েছে প্রথমার্ধের খেলা। বিরতির পর পুরোদমে জমে ওঠে দুই মহাদেশের দুর্দান্ত লড়াইটা। অবশেষে ৫৭ মিনিটে গর্জে ওঠে গ্যালারি। এগিয়ে যায় ইংল্যান্ড। ৫৪ মিনিটে কর্নার কিকের সময় হ্যারি কেনকে কোমড় ধরে টানতে টানতে ডি-বক্সে ফেলে দেন কার্লোস সানচেজ। অবধারিতভাবেই পেনাল্টি পায় ইংল্যান্ড। পেনাল্টি থেকে রাশিয়া বিশ্বকাপে নিজের ছয় নাম্বার গোলটি করেন হ্যারি কেন। তন্মধ্যে ইংলিশ অধিনায়কের তিনটি গোলই হলো স্পট কিক থেকে। এতে নিজেকে সবার ধরাছোঁয়ার বাইরে নিয়ে গেলেন এই টটেনহাম স্ট্রাইকার। গোল্ডেন বুট জয়ে তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী রোমেলু লুকাকু এবং ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো। তারা দুজনই করেছেন সমান ৪টি গোল। শেষের জন ইতোমধ্যে বিশ্বকাপ থেকে ছিটকে পড়ায় কেনের নাগাল আর তিনি পাচ্ছেন না। তিনটি করে গোল করেছেন কিলিয়ান এমবাপ্পে, এডিনসন কাভানি, আর্টেম ডিজুবা, ডেনিশ চেরিশেভ ও ডিয়েগো কস্টা। কেনের গোলকে অবলম্বন করে জয়ের স্বপ্নই দেখছিল ইংল্যান্ড। কিন্তু নাটকটা জমে উঠল দ্বিতীয়ার্ধের ইনজুরি টাইমে। যোগ করা সময়ের তৃতীয় মিনিটে কুয়াদ্রাদোর দুর্দান্ত ক্রসে মাথা ছুঁয়ে ইংল্যান্ডের জালে বল জড়ান ইয়েরি মিনা। আর তাতেই নির্ধারিত সময়ে ম্যাচটা অমীমাংসিত থাকল ১-১ গোলে। ম্যাচ গড়ায় অতিরিক্ত ৩০ মিনিটে। কিন্তু তাতেও দ্বিতীয়বার গোলের দেখা পায়নি কোনো দল। ম্যাচের ভাগ্য নির্ধারণে চূড়ান্ত আশ্রয় হিসেবে নেওয়া হয় পেনাল্টি শ্যুট আউটের।
কোয়ার্টার ফাইনালে সুইডেন
১২ বছর পর বিশ্বকাপে ফিরে আসা সুইডেন রাশিয়া বিশ্বকাপে এগিয়ে গেছে আরেক ধাপ। এমিল ফোর্সবার্গের একমাত্র গোলে সুইজারল্যান্ডকে হারিয়ে কোয়ার্টার-ফাইনালে উঠেছে ১৯৫৮ বিশ্বকাপের রানার্সআপরা। রাশিয়ার সেন্ট পিটার্সবার্গে শেষ আটে যাওয়ার লড়াইয়ে মুখোমুখি হয়েছিলো দুই ইউরোপিয়ান দেশ সুইডেন এবং সুইজারল্যান্ড। সুইডেন গ্রুপ পর্বের ম্যাচে জার্মানির কাছে হারলেও গ্রুপ সেরা হয়ে শেষ ষোলোয় উঠেছে। আর সুইজারল্যান্ড গ্রুপ পর্বে প্রথম ম্যাচে ব্রাজিলকে ১-১ গোলে আটকে দেয়। গ্রুপ সেরা হয়ে শেষ ষোলোয় না আসলেও শক্তির বিচারে এগিয়ে সুইজার‌ল্যান্ড। র‌্যাংকিংও তাদের হয়ে কথা বলছে। তবে হিসেবে নিকেষ বাদ দিয়ে গোল শূন্য সমতায় প্রথমার্ধ শেষ করে দল দুটি। এরপর ম্যাচের ৬৬ মিনিটে ফোর্সবার্গের গোলে এগিয়ে যায় সুইডেন। সুইসদের বিপক্ষে ১-০ গোলের লিড নেয়। ম্যাচে বল দখলের হিসেবেও সুইডেনের থেকে এগিয়ে ছিল সুইজার‌ল্যান্ড। তবে সুইডেন গোল দিয়ে এগিয়ে যাওয়ার মতো ভালো কিছু আক্রমণ করেছে এ ম্যাচের শুরুতে। গোল করে এগিয়ে যাওয়ার ভালো সুযোগ সুইজারল্যান্ডও পেয়েছে। মঙ্গলবার ম্যাচের শুরুতেই গোল দেওয়ার সুযোগ পায় সুইডেন। এবারের বিশ্বকাপে কাউন্টার অ্যাটাকের দারুণ প্রয়োগ দেখা গেছে। সুইডেনও কাউন্টার অ্যাটাক নির্ভর খেলেছে গ্রুপ পর্বে। শেষ ষোলোয়ও তা থেকে গোল পেয়ে যাচ্ছিল স্ক্যান্ডিনেভিয়ান জায়ান্ট কিলাররা। সাত মিনিটে আবার আক্রমণ করে সুইডেন। তার পরের মিনিটে আর সুযোগ বলা চলে না। গোল মিস করেছে সুইডেন। ২৪ মিনিটে সুইসদের আক্রমণে গোল খেতে বসেছিল সুইডেন। ২৮ মিনিটে আবার গোলের সুযোগ পায় সুইজারল্যান্ড। কিন্তু কাজে লাগাতে পারেনি সে সুযোগ। ৩৪ মিনিটে গোল মিস করে জাকা মাথায় হাত তুলেছেন। ৩৮ মিনিটে প্রথমার্ধের সেরা সুযোগটি পায় সুইডেন। পায়ের টাস দিয়ে গোল করতে চেয়েছিলেন সুইডেন ফুটবলার। কিন্তু হেড দিলে হয়তো গোল পেয়ে যেতেন তিনি। প্রথমার্ধে কোন গোল করতে না পেরে শেষ পর্যন্ত গোল শূন্য সমতা নিয়ে শেষ করেছে দু'দল।
কোয়ার্টার ফাইনালে ব্রাজিল নেইমার ম্যাজিকে
এখন পর্যন্ত প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ যেসব ম্যাচে নেইমার গোল করেছেন তার কোনোটি হারেনি ব্রাজিল। আবার বিশ্বকাপে ব্রাজিলের বিপক্ষে কখনো জেতেনি মেক্সিকো। শুধু তাই না, এই আসরের জায়ান্ট কিলার এবং প্রতিভাবান দলটি কোনো বিশ্বকাপের নক আউট পর্বে পিছিয়ে পড়ে কখনো জিততে পারেনি। আরো আছে। গেল ৬ বিশ্বকাপের শেষ ষোল থেকেই বাদ পড়েছে তারা। এবারও তাই হলো। নেইমার একটি রেকর্ড গোলের জন্ম দিলেন গোলশূন্য প্রথমার্ধ শেষ হওয়ার ৬ মিনিট পরই। আর সেই গোলেই ২০১৮ রাশিয়া বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে উঠে গেল ব্রাজিল। ১-০ গোলের হারে ‘কুফা’ শেষ ষোল থেকেই বিদায় মেক্সিকোর। brazil neymarসোমবার ভোলগা নদীর কাছের শহর সামারায় সমানে সমান প্রথমার্ধের পর দ্বিতীয়ার্ধটাও রোমাঞ্চ ছড়িয়েছে। হয়েছে গতির খেলা। কিন্তু প্রথমার্ধের শুরুতে প্রবল গতিতে ঝড়ের মতো আক্রমণে গিয়েই বুঝি ক্লান্তির মুখে পড়েছিল মেক্সিকানরা। তাদের ক্লান্ত করে তারপরই গোছানো আক্রমণে গেছে রেকর্ড ৫বারের বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন ব্রাজিল। প্রথমার্ধে তারপরও গোল পায়নি। বিরতি থেকে ফিরেই অন্য ব্রাজিল, অন্য নেইমার। চেনা ব্রাজিল, চেনা নেইমার। ম্যাজিকাল নেইমার। ৪৮ মিনিটে কুতিনহো নেইমারের কর্নার থেকে একটুর জন্য গোল মিস করলেন। কিন্তু ৫১ মিনিটে ৫১ মিনিটে নেইমার এবারের বিশ্বকাপে তার দ্বিতীয় গোল করে ১-০ গোলের লিড এনে দিলেন। উৎসবমুখর ব্রাজিল। কিন্তু মেক্সিকোর কফিনে শেষ পেরেকটা ঠুকে দেওয়ার ব্যবস্থাটাও করেছেন সেই নেইমার। গেল তিন ম্যাচে যাকে অপেক্ষাকৃত বিবর্ণ লেগেছে। এবার ফিরমিনহোকে দিয়ে ৮৮ মিনিটে গোল করালেন। চ্যাম্পিয়নদের মরণফাঁদ হয়ে ওঠা রাশিয়া বিশ্বকাপে ব্রাজিল সেরা দল হিসেবেই দেখা দিল যেন। জার্মানি, আর্জেন্টিনা ও স্পেনের বিদায় হয়ে গেছে। কিন্তু এটা ব্রাজিল দল! নেইমার-কুতিনহো ছাড়াও তারা ভরা দুর্দান্ত নৈপুণ্যের দল। একসাথেই যেন এদিন জ্বলে উঠলেন তারা। রাত ১২টায় বেলজিয়াম-জাপান ম্যাচের বিজয়ীর বিপক্ষে কোয়ার্টার ফাইনাল লড়াই ব্রাজিলের।
ব্রাজিলের দিকেই চোখ আজ
তাতারদের সেনা ছাউনি নয়তো এটা! মধ্যযুগে তাতার সেনাবাহিনীর দৌরাত্ম্যে কাঁপন ধরত সভ্য জগতের মানুষদের। সেই তাতারদের ছাউনিই যেন সামারা অ্যারিনা। গেটটা দূর থেকে দেখা যায় না। গোলকধাঁধার মতো। ভলান্টিয়াররা হাতের ইশারায় দেখালেও বুঝতে কষ্ট হয়। গেট পেরিয়ে দুর্গের ভিতরে আসতেই থমকে যেতে হয়। ভিন্ন জগৎ থেকে ছুটে এসেছে কোনো ইউএফও! এই বুঝি বেরিয়ে এলো কোনো এলিয়েন! ইউএফওর আদলে তৈরি করা হয়েছে সামারা অ্যারিনা। রাশিয়া বিশ্বকাপ এই একটা দিক থেকে দারুণ বৈচিত্র্যময়। একেকটা স্টেডিয়ামের বৈশিষ্ট্য একেক রকম। তাতার ঐতিহ্য আর মহাজাগতিক ইউএফওর আধুনিক ধ্যান-ধারণা নিয়ে তৈরি করা লড়াইয়ের ময়দানেই আজ মুখোমুখি হচ্ছে ব্রাজিল মেক্সিকো। নকআউট পর্বের প্রথম রাউন্ড থেকে আর্জেন্টিনা ও পর্তুগালের বিদায়ের পর বেশ চাপে আছে ব্রাজিল সমর্থকরা। এই চাপমুক্ত হতেই মাঠে নামবেন নেইমাররা। হেক্সা জয়ের মিশনে এগিয়ে যেতে আজ যে জিততেই হবে তিতের দলটাকে! পরীক্ষায় ফেল মারলেই বাড়ির পথ ধরতে হবে! ব্রাজিলের সামনে এ এক কঠিন চ্যালেঞ্জ। কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানে বিশ্ববিখ্যাত দুই ফুটবলার মেসি ও রোনালদোর দল বিদায় নিয়েছে। নেইমার কী পারবেন সেই চ্যালেঞ্জে বিজয়ী হতে।মেসি চাও, মেসি চাও (বিদায় মেসি, বিদায় মেসি)। গ্রুপ পর্বে ক্রোয়েশিয়ার কাছে আর্জেন্টিনা হেরে যাওয়ার পর ব্রাজিলীয় সমর্থকরা এই সুর তুলেছিল বিশ্বকাপের শহরগুলোতে। কিন্তু নকআউট পর্বের প্রথম রাউন্ডে ফ্রান্সের কাছে হেরে যাওয়ার পর সেই সুরটা আর শোনা গেল না। কেমন যেন নিষ্প্রভ হয়ে গেছে ব্রাজিলও! আর্জেন্টিনার বিদায় ভয় ধরিয়ে দিয়েছে হলুদ জার্সিধারীদেরও! সামারাতে আর্জেন্টিনার প্রতি কটাক্ষ করে কেউ কিছু আর বলে না। ব্রাজিল সমর্থকরা নানা দিক থেকে এসে মিলে গেছে সামারায় মূল স্রোতের সঙ্গে। এই স্রোতটা আজ হবে সামারা অ্যারিনা অভিমুখী। তবে মেক্সিকান সমর্থকরাও কম নয় সংখ্যায়। তাদের বৈচিত্র্যময় পোশাক আর মোহনীয় অঙ্গ-ভঙ্গি মন কাড়ে অনেকেরই। রঙিন মেক্সিকানদের দিকে তাকিয়ে অনেক রাশানই তাদের পক্ষ নিয়েছে। গতকাল মেক্সিকানদের জন্যই বিশেষ একটা কার্নিভালের আয়োজন করেছিল সামারা। বর্ণিল এই কার্নিভালে মেক্সিকানরা তাদের সংস্কৃতি তুলে ধরেছে। সঙ্গে ছিল ব্রাজিল সমর্থকরাও। সাম্বা নাচের দেখা মিলেছিল এই কার্নিভালে। আর ছিল স্বাগতিক রাশানরা। কার্নিভালের এই আয়োজনটা যেন যুদ্ধের আগের সৈনিকদের মধ্যে উন্মাদনা ছড়িয়ে দেওয়ার জন্যই! আজ মাঠে নামবেন নেইমার, কটিনহো, পলিনহো, মার্সেলোরা। অন্যদিকে রাফায়েল মারকুয়েজ আর হার্নান্দেজরা। দুই দলের মধ্যে এই কার্নিভাল কতটা উন্মাদনা ছড়াতে পেরেছে বলা কঠিন। তবে নকআউট পর্বের এই ম্যাচ ঘিরে এরই মধ্যে উত্তেজনার পারদ চড়েছে অনেকটা। বিশেষ করে আর্জেন্টিনা ও পর্তুগালের বিদায়ের পর ব্রাজিল এখন খুব সতর্ক। গতকাল সংবাদ সম্মেলনে ব্রাজিল কোচ তিতেও করে গেলেন একই মন্তব্য।মেক্সিকো খুব ভালো দল। আমরা সর্বোচ্চ সতর্ক থেকেই ম্যাচটা খেলতে নামব। অতীত পরিসংখ্যান একটা বড় বিষয়। বিশ্বকাপের মতো মঞ্চে এটা আরও সত্যি হয়ে উঠে। ব্রাজিল-মেক্সিকো লড়াই নতুন শতাব্দীতে এক ভিন্ন মাত্রাই পেয়েছে। ১৯৯৯ সালের পর দুই দলের ১৫ বারের লড়াইয়ে ৭ বারই জিতেছে মেক্সিকো। ব্রাজিল জিতেছে কেবল ৫ বার! অবশ্য দুই দলের মোট ৪০ বারের লড়াইয়ে ব্রাজিলের জয় ২৩টি। মেক্সিকোর জয় ১০টি। বিশ্বকাপে নিজেদের মধ্যে শেষ ম্যাচটা গোল শূন্য ড্র করেছিল ব্রাজিল-মেক্সিকো। দুটিই আমেরিকান দল। একটি ল্যাটিন, অপরটি উত্তর আমেরিকার। ব্রাজিল ছন্দে আছে। নেইমার দারুণ খেলছেন। কটিনহো নিয়মিতই গোল বানিয়ে দিচ্ছেন সতীর্থদের। বিশ্বকাপে এখনো পর্যন্ত হলুদ জার্সিতে শৈল্পিক ফুটবল উপহার দিয়েছেন কটিনহোই। অবশ্য নেইমার ইনজুরি থেকে ফিরেও ভালোই করছেন। দিনে দিনেই তার উন্নতি চোখে পড়ছে। এবারের বিশ্বকাপে বেশিরভাগ দলই খেলছে অলআউট ফুটবল। আর্জেন্টিনা-ফ্রান্স অলআউট খেলেছে বলেই তো ৭টা গোলের ম্যাচ নিয়ে উৎসব করেছে সমর্থকরা। ব্রাজিল-মেক্সিকোও তেমনই উৎসবমুখর হোক, এটাই সমর্থকদের কামনা। জয়-পরাজয় তো কাউকে না কাউকে মেনে নিতেই হবে!
অবসরের ঘোষণা ডিফেন্সিভ মিডফিল্ডার হাভিয়ের মাচেরানো
মাঠে গড়িয়েছে রাশিয়া বিশ্বকাপের নকআউট পর্ব। এর প্রথম ম্যাচে ফ্রান্সের কাছে ৪-৩ গোলে বিধ্বস্ত হয়েছে আর্জেন্টিনা। এতে বিশ্বকাপ থেকে বিদায় নিশ্চিত হয়েছে দুইবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের। এমন পরাজয়ের পর আন্তর্জাতিক ফুটবল থেকে অবসরের ঘোষণা দিয়েছেন ডিফেন্সিভ মিডফিল্ডার হাভিয়ের মাচেরানো। ম্যাচ শেষে হতাশায় মুষড়ে পড়েন আর্জেন্টাইন খেলোয়াড়েরা। বিষণ্নতার ছাপ ছিল মাচেরানোর চোখেমুখেও। বহু কষ্টে নিজের আবেগ নিয়ন্ত্রণে রাখেন। পরক্ষণেই মাঠে উপস্থিত অজস্র সমর্থকদের সান্ত্বনা দিয়ে বিদায় অভিবাদন জানান তিনি। আর্জেন্টিনার জার্সি গায়ে ১৪৭ ম্যাচে প্রতিনিধিত্ব করেছেন মাচেরানো। দীর্ঘ দেড় যুগের ক্যারিয়ারে দলের অন্যতম ভরসা ছিলেন তিনি। তুখোড় প্রতিভাবান না হলেও লড়াকু হিসেবে সুখ্যাতি ছিল মাচেরানোর। ৩৪ বছর বয়সী ফুটবলার বলেন, বিদায় বলার এখনই সময়। সময় এসেছে বাইরে থেকে দলকে সমর্থন করার। আশা করি, নতুন প্রজন্ম আর্জেন্টিনার জন্য সুনাম বয়ে নিয়ে আসবে। চলতি বছর প্রিয় ক্লাব বার্সেলোনা ছেড়ে চীনের হেবেই ফরচুনে যোগ দিয়েছেন মাচেরানো। সেখানে তিনি পাশে পাচ্ছেন সাবেক গুরু ক্রিস কোলেম্যানকে। গুঞ্জন ছড়িয়েছে, তার পথ ধরে অবসরের ঘোষণা দিতে পারেন ছোট ম্যাজিসিয়ান লিওনেল মেসি। তার মানে কোনো বিশ্বকাপ ছাড়াই ফুটবলকে বিদায় জানাচ্ছেন তিনি।
আয়ারল্যান্ডকে হারিয়ে বাংলাদেশের মেয়েদের প্রথম সিরিজ জয়
বাংলাদেশের মেয়েরা যেন এই মুহূর্তে টগবগ করে ‍ফুটছে। ঈদের আগে এশিয়া কাপ জয় করে ইতিহাস তৈরি করেছিল। এবার তারাই আয়ারল্যান্ড সফরে গিয়ে আরেকটি নতুন ইতিহাস রচনা করল। তিন ম্যাচের টি-টোয়েন্টি সিরিজে এক ম্যাচ হাতে রেখে জিতে নিয়েছে। শেষ ৬ বলে ৬ রানের হিসাবটা দারুণ এক পুলে এক ঝটকায় মিলিয়ে দিয়েছেন সানজিদা। আয়ারল্যান্ড মেয়েদের ৪ উইকেটে হারিয়ে এশিয়া কাপের পর আরেক ইতিহাস গড়েছে বাংলাদেশ। মেয়েরা সিরিজ জিতে গেল প্রথমবারের মতো, সেটিও আবার এক ম্যাচ বাকি থাকতে। প্রথমে ব্যাট করতে নামা আয়ারল্যান্ডকে ১২৪ রানে আটকে ফেলে বাংলাদেশ। প্রথম ম্যাচে ৫ উইকেট নেয়া জাহানারা আলম দ্বিতীয় ম্যাচেও ভালো করেছেন। ১৫ রানে নিয়েছেন ২ উইকেট। ১২৫ রানের লক্ষ্যে তাড়া করতে নামা বাংলাদেশকে শেষের দিকে একটু কঠিন পরীক্ষাই দিতে হয়েছে। শামীমা সুলতানা ও ফারজানা হকের দুরন্ত ব্যাটিংয়ে ভালোভাবেই এগোচ্ছিল বাংলাদেশ। দুজনে মিলে দ্বিতীয় উইকেটে যোগ করেন ৭৫ রান। মেয়েদের টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে এটিই বাংলাদেশের বড় জুটি। শামীমা করেন ৫১ আর ফারজানা ৩৬। এই জুটি ভাঙতেই ছন্দপতন ঘটে মেয়েদের। ১ উইকেটে ৯৬ থেকে আচমকাই ২১ রানের মধ্যে ৫ উইকেট হারিয়ে বসে। তবে ১১ রানে অপরাজিত থেকে সানজিদা ম্যাচটি ঠিকই বের করে নিয়ে গেছেন। আগামী মাসে হল্যান্ডে হবে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের বাছাইপর্ব। তার আগে আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে তিন ম্যাচের টি-টোয়েন্টি সিরিজ খেলছে বাংলাদেশ। বাছাইপর্বেও যে চমক থাকছে সেটি তো আইরিশদের হারানোতেই বোঝা গেল।
বিদায় নিলো জার্মানি
এফ গ্রুপে নিজেদের শেষ ম্যাচে দক্ষিণ কোরিয়ার কাছে ২-০ গোলে হেরে চলতি ফুটবল বিশ্বকাপ থেকে বিদায় নিলো বর্তমান চ্যাম্পিয়ন জার্মানি। এই জয়ে কোন লাভ হয়নি দক্ষিণ কোরিয়ার। তবে ৩ খেলায় ৩ পয়েন্ট নিয়ে টেবিলের তৃতীয় স্থানে থেকে গ্রুপ পর্ব থেকেই বিশ্বকাপ মিশন শেষ করলো জার্মানরা। নিজেদের বিশ্বকাপ ইতিহাসে এই প্রথম গ্রুপ পর্ব থেকে বিদায় নিলো জার্মানি। শেষ ষোলোতে খেলতে হলে জয় ছাড়া অন্য কোন পথ খোলা ছিলো না জার্মানির। তবে জিতলেই হবে না এই গ্রুপের অন্য ম্যাচে মেক্সিকোর কাছে সুইডেনের হার বা ড্রর স্বাদ নিতে হবে। এমন সমীকরন নিয়ে কাজানে শুরুটা ভালোই ছিলো জার্মানির। তবে সফল হতে পারেনি তারা। বল দখলে রেখে ম্যাচের নিয়ন্ত্রন হাতে মুঠোয় রেখেছিলো জার্মানরা। এতে বেশ কোনঠাসা হয়ে পড়ে দক্ষিণ কোরিয়া। ১৪ মিনিটে টসি ক্রুসের ক্রসে হেড নিয়েছিলেন সামি খেদিরা। কিন্তু সেটি রুখে দেন দক্ষিণ কোরিয়ার গোলরক্ষক চো হিউয়ান উ। ২ মিনিট পর আবারো আক্রমন করে জার্মানি। এবারের আক্রমনে নেতৃত্ব দেন মেসুত ওজিল। ডান-প্রান্ত দিয়ে ওজিল ক্রসে মাথায় স্পর্শ করেছিলেন নিকলাস সুয়েলে। এবারও দক্ষিণ কোরিয়ার গোলমুখে প্রাচীর হয়ে দাঁড়িয়ে যান হিউয়ান। আক্রমনের চাপ সামলে ২৫ মিনিটে প্রথমবারের মত জার্মানির শিবিরে আক্রমন করে দক্ষিণ কোরিয়া। লি ইয়ং ক্রস থেকে বল পেয়ে যান লি জাই সুং। কিন্তু তার শট প্রতিপক্ষের রক্ষণভাগের খেলোয়াড়রা রুখে দেন। তাই ম্যাচের প্রথমার্ধে দুদলের বেশকটি আক্রমন নষ্ট হয়। ফলে ম্যাচের প্রথমার্ধ গোলশুন্যই থাকে। দ্বিতীয়ার্ধে গোলের জন্য মরিয়া হয়ে উঠে জার্মানি। ৪৮ মিনিটে গোলের সুযোগ পেয়ে যায় তারা। কিন্তু এবার গোলের সুযোগ মিস করে মিডফিল্ডার লিয়ন গোরেতকা। ৪৯ মিনিটে প্রায় ১৫ গজ দূর থেকে ক্রুসের ডান পায়ের শট দক্ষিণ কোরিয়ার বার ঘেষে চলে যায়। ৫৪ মিনিটেও মধ্যমাঠ থেকে বল পেয়ে দক্ষিণ কোরিয়ার বিপদ সীমানায় ঢুকে পড়েন জার্মানির খাদিরি। কিন্তু তার নেয়া শট আটকে দেন দক্ষিণ কোরিয়ার গোলরক্ষক হিউয়ান উ। দ্বিতীয়ার্ধে মাঠে ফিরে যেভাবে আক্রমন করেছে জার্মানি, তাতে ঐ অর্ধে ১০ থেকে ১২ টি গোল আদায় করে নিতে পারতো তারা। কিন্তু জার্মানিকে গোল বঞ্চিত করতে দক্ষতা দেখিয়েছে দক্ষিণ কোরিয়া। তাই নির্ধারিত ৯০ মিনিট শেষে গোলের স্বাদ নিতে পারেনি জার্মানি। গোলের স্বাদ নিতে না পারায় ঐ সময়ই বিশ্বকাপ থেকে ছিটকে পড়ে জার্মানি। কারন ততক্ষণে সুইডেন ৩-০ গোলে মেক্সিকোকে হারিয়ে দেয়। ফলে মেক্সিকোর সাথে শেষ ষোলোতে জায়গা করে নেয় সুইডেনই। এ অবস্থায় জার্মানি ও দক্ষিণ কোরিয়ার ম্যাচ গড়ায় ইনজুরি সময়ে। ইনজুরি সময়ের দ্বিতীয় মিনিটে জার্মানিকে গোল হজম করতে বাধ্য করে দক্ষিণ কোরিয়া। গোলটি করেন কিম ইয়ং গোন। এখানেই থেমে যায়নি দক্ষিণ কোরিয়ার গোলের স্বাদ। ইনজুরি সময়ের ষষ্ঠ মিনিটে আবারো গোল হজম করতে হয় জার্মানিকে। দক্ষিণ কোরিয়ার সীমানায় কর্ণারের জন্য জার্মানির সকল খেলোয়াড়ই উপরে উঠে আসেন। এমনকি গোলরক্ষকও। কর্ণারের পর বল পেয়ে যায় জার্মানির গোলমুখে রক্ষণভাগ থেকে জোড়ালো শট নেন দক্ষিণ কোরিয়ার জু সি জং। বলের পেছনে দৌঁড়ে গিয়ে ছয় গজ দূর থেকে বলে হাল্কা ছোয়ায় গোল করেন সন হিউং মিন। ফলে ২-০ গোলে অবিস্মরনীয় জয় নিয়ে মাঠ ছাড়ে দক্ষিণ কোরিয়া। বিশ্ব কাপ থেকে বিদায় ঘটে বর্তমান চ্যাম্পিয়ন জার্মানির।বাসস
শেষ ষোলো নিশ্চিত করলো ব্রাজিল
সহজ জয় দিয়ে ফুটবল বিশ্বকাপের গ্রুপ পর্বের খেলা শেষ করলো পাঁচবারের চ্যাম্পিয়ন ব্র্রাজিল। গতরাতে ‘ই’ গ্রুপের নিজেদের শেষ ম্যাচে ব্রাজিল ২-০ গোলে হারায় সার্বিয়াকে। এই জয়ে ৩ খেলায় ৭ পয়েন্ট নিয়ে গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হয়ে শেষ ষোলোতে উঠলো ব্রাজিল। ম্যাচ হেরে ৩ খেলায় ৩ পয়েন্ট নিয়ে গ্রুপ পর্ব থেকেই বিশ্বকাপ শেষ করলো সার্বিয়া। গ্রুপের অন্য ম্যাচে সুইজারল্যান্ড ২-২ গোলে ড্র করেছে কোস্ট রিকার সাথে। ফলে ড্র করে শেষ ষোলো নিশ্চিত করলো সুইজারল্যান্ড। ৩ খেলায় ৫ পয়েন্ট নিয়ে গ্রুপ রানার্স-আপ সুইজারল্যান্ড। মস্কোতে ম্যাচের দ্বিতীয় মিনিটেই সার্বিয়ার সীমানায় আক্রমন করে ব্রাজিল। মধ্যমাঠ থেকে বল পেয়ে বাঁ-প্রান্ত দিয়ে মিডফিল্ডার ফিলিপ কুটিনহোকে পাস দেন অধিনায়ক নেইমার। বল পেয়ে সেটিকে গোলের পরিণত করতে পারেননি কুটিনহো। শুরুটা যেভাবে করেছিলো, তাতে মনে হয়েছিলো সার্বিয়ার উপর চাপ বৃদ্ধি করবে ব্রাজিল। কিন্তু ব্রাজিলকে আক্রমন করার সুযোগ দেয়নি সার্বিয়া। তাই প্রথম ২৪ মিনিটে ঐ একটি আক্রমনই ছিলো তাদের। ২৫ মিনিটে দ্বিতীয়বারের মত আক্রমনে যায় ব্রাজিল। নেইমারের বাঁ-পায়ের শট রুখে দেন সার্বিয়ার গোলরক্ষক ভøাদিমির স্টয়কোভিচ। অবশ্য দ্বিতীয় আক্রমনের আগে ম্যাচের ১০ মিনিটে ডিফেন্ডার মার্সেলোকে হারায় ব্রাজিল। গোঁড়ালির ইনজুরিতে পড়ে মাঠ ত্যাগ করেন তিনি। তার জায়গায় মাঠে নামেন আরেক ডিফেন্ডার ফিলিপ লুইস। দীর্ঘক্ষণ পর ৩৪ মিনিটে একটি আক্রমন করে সার্বিয়া। মিডফিল্ডার দুসান টেডিচ আক্রমনের রচনা করেছিলেন। কিন্তু সেটি সাফল্যের মুখ দেখনি। স্ট্রাইকার আলেক্সান্ডার মিট্রোভিচ গোলে পরিণত করতে পারেননি। তবে ২ মিনিট পর দারুন একটি পাস থেকে দুর্দান্ত গোল করে ব্রাজিলকে এগিয়ে দেন পাওলিনহো। মধ্যমাঠ থেকে হাওয়ায় ভাসিয়ে পাওলিনহোকে বলের যোগান দিয়েছিলেন কুটিনহো। সেই বলে আলতো ছোয়ায় সার্বিয়ার গোলরক্ষকের মাথার উপর বল জালে পাঠিয়ে দেন পাওলিনহো। ফলে ১-০ গোলে এগিয়ে যায় ব্রাজিল। পিছিয়ে পড়ে ম্যাচে সমতা আনতে মুখিয়ে উঠে সার্বিয়া। এরপর ম্যাচের ৪০ মিনিটে পরিকল্পিত আক্রমনে যায় সার্বিয়া। কিন্তু ডি-বক্স থেকে বাঁ-পায়ে বলে শট নিয়ে সেটি গোলবারের উপর দিয়ে মারেন টেডিচ। প্রথমার্ধের খেলা শেষ হবার শেষ মূর্হুতে লুইসের কাছ থেকে বল পেয়ে দূরপাল্লার শট নিয়েছিলেন নেইমার। কিন্তু সেটি গোলবারের পাশ দিয়ে চলে যায়। তাই পাওলিনহোর গোলে এগিয়ে থেকেই ম্যাচের প্রথমভাগের লড়াই শেষ করে ব্রাজিল। এসময় বল দখলেও এগিয়ে ছিলো ব্রাজিল। ৬১ শতাংশ বল নিজেদের দখলে রাখতে সক্ষম হয় তারা। দ্বিতীয়ার্ধে বল গড়ানোর বেশ কিছু সময় পর ভালো একটি আক্রমন করে ব্রাজিল। ৫৭ মিনিটে মধ্যমাঠ থেকে নেইমারের উদ্দেশ্যে লম্বা পাস দেন কুটিনহো। বল পেয়ে সার্বিয়ার বিপদ সীমানায় ঢুকে গোলরক্ষককে একা পেয়েছিলেন নেইমার। কিন্তু নেইমারের দুর্বল শট সার্বিয়ার গোলরক্ষক স্টয়কোভিচ পা দিয়ে কর্ণারের বিনিময়ে রক্ষা করেন। নেইমারের এই ভুলের ৪ মিনিট পর গোলের সেরা সুযোগ হাতছাড়া করে সার্বিয়া। ডান-প্রান্ত দিয়ে ব্রাজিলের বিপদ সীমানায় বল ক্রস করেন মিডফিল্ডার ফিলিপ কস্টিচ। তার শট হাত দিয়ে সরিয়ে দেন ব্রাজিলের গোলরক্ষক এলিসন। কিন্তু বল গিয়ে পড়ে ফাঁকায় দাড়ানো স্ট্রাইকার মিট্রোভিচের সামনে। ঐ অবস্থায় মাথা নিচু করে গোলমুখে হেড নিয়েছিলেন মিট্রোভিচ। তার হেড গিয়ে আটকায় ব্রাজিলের রক্ষণভাগের খেলোয়াড় মিরান্ডার পায়ে। ফলে নিশ্চিত গোল বঞ্চিত হয় সার্বিয়া। সার্বিয়ার গোল বঞ্চিত হলেও, ৬৮ মিনিটে ব্যবধান দ্বিগুন করে ফেলে ব্রাজিল। নেইমারের কর্ণার থেকে হেডে গোল করেন গেল বিশ্বকাপের অধিনায়ক থিয়াগো সিলভা(২-০)। এরপর ৮৬ মিনিটে গিয়ে আবারো বলার মত আক্রমন করে ব্রাজিল। সার্বিয়ার গোলমুখে জটলার মধ্যে হঠাৎই ফাঁকায় বল পেয়ে যান নেইমার। এবারও দুর্বল শট নেন তিনি। তাই এবারও নেইমারের শট ডান-হাত দিয়ে রুখে দিতে সমস্যা হয়নি স্টয়কোভিচের। শেষদিকে স্কোরলাইনে আর কোন পরিবর্তন না হলে ২-০ গোলে ম্যাচ জিতে মাঠ ছাড়ে ব্রাজিল। সেই সাথে শেষ ষোলোর টিকিটও পায় নেইমারের দল। শেষ ষোলোতে আগামী ২ জুলাই ব্রাজিলের প্রতিপক্ষ মেক্সিকো।বাসস