অনেক কিছু প্রমাণ করার ছিল সিরিজে : সাকিব আল হাসান
ক্রীড়া ডেস্ক: অধিনায়ক হিসেবে দেশের মাটিতে প্রথম সিরিজ জয়, তাও আবার চোট থেকে ফিরে ওয়েস্ট ইন্ডিজকে ধবলধোলাই করে- সাকিব আল হাসানের জন্য এ সিরিজ অনেক প্রাপ্তির। ম্যাচ শেষে সংবাদ সম্মেলনে বললেন, কেন এ সিরিজটা অনেক বেশি স্পেশাল। মাস চারেক আগেই ওয়েস্ট ইন্ডিজের মাঠে গিয়ে ধবলধোলাই হয়েছিল বাংলাদেশ। এ জয় কি সেটা ফিরিয়ে দেওয়ার একটা উপলক্ষ? সাকিব অবশ্য সেই রকম মনে করছেন না,জবাব দেওয়া না, তবে এখন হোম অ্যান্ড অ্যাওয়ের একটা অ্যাডভান্টেজট থাকে। ওরা ওদের হোমের অ্যাডভান্টেজট নিতে পেরেছে, আমরা আমাদের হোমের অ্যাডভান্টেজটটা নিতে পেরেছি। ওভাবে হারার পর আমাদের অবশ্যই অনেক কিছু প্রমাণ করার ছিল। অ্যাট লিস্ট হোমে, সেটা আমরা করতে পেরেছি। সেটার জন্য আসলে আমি প্রতিটা টিম মেটকেই ধন্যবাদ জানাই, কোচিং স্টাফ থেকে শুরু করে সবাই যে এ জিনিষটায় বিশ্বাস করেছে, সিরিজ শুরুর আগে। সত্যি কথা বলতে, আমি অনেক ডিমান্ডিং ছিলাম এ সিরিজটাতে। সবার কাছেই খুব বেশ করে চাচ্ছিলাম। আলহামদুলিল্লাহ সবাই যার যার সাধ্য মতো চেষ্টা করেছে। কেউ হয়তো সফল হবে, কেউ হবে না। সবার মনের ভেতর ওই বিশ্বাসটা ছিল, সবাই দলের জেতার জন্য কন্ট্রিবিউশন রাখতে চায়। সবসময় রাখতে চায়, বাট আলাদা রকমের একটা আগ্রহ ছিল সেটা বোঝা যাচ্ছিল। তারপরও এ সিরিজ জয় অন্য জয়ের চাইতে কতটা আলাদা? এমন প্রশ্নের জবাবে সাকিব বলেন, দেখুন আমরা ১০০ এর ওপর টেস্ট ম্যাচ খেলেছি। এ প্রথম এমন কিছু করলাম। অবশ্যই স্পেশাল কিছু তা না হলে তো ১৮ বছরের মতো টেস্ট খেলেছি, ১০০ এর টেস্টের মতো খেলেছি। এ ফার্স্ট টাইম এরকম কিছু হলো। এর ভেতরে আমরা কিন্তু ছোট টিমের সঙ্গেও খেলেছি। তারপরও আমরা এমন কিছু করতে পারিনি। সো এটা আমাদের জন্য অনেক বড় একটা অ্যাচিভমেন্ট (পাওয়া) আমি মনে করি। এর আগে আমাদের ওপরের কোনো টিমকে হোম কন্ডিশনে হোয়াইটওয়াশ করিনি। সব কিছু মিলিয়ে আমাদের জন্য সিরিজটি অনেক বড় পাওয়ার সিরিজ ছিল। আগের দিন সংবাদ সম্মেলনে মাহমুদউল্লাহ বলছিলেন, এ সিরিজ শুরুর আগে ওয়েস্ট ইন্ডিজের ধবলধোলাইটা মনে করিয়ে সবাইকে তাতিয়ে দিয়েছিলেন সাকিব। ম্যাচ শেষে সংবাদ সম্মেলনে সাকিবকে সেটি মনে করিয়ে দিতে বললেন,আমি মনে করি যে আমরা যারা প্রতিটা প্লেয়ার ছিলাম ওয়েস্ট ইন্ডিজ সিরিজে, আমরা কেউই এ ধরনের পারফরম্যান্স এক্সপেক্ট করি নেই। আমরা এমন হারের পর মিটিং করেছি, তারপর স্ট্রংলি কামব্যাক করেছি ওয়ানডে-টি-টোয়েন্টিতে। যেহেতু আমরা টেস্ট ফরম্যাটে ভালো করিনি, আমাদের হোমে একটা সুযোগ ছিল প্রমাণ করার। ওই কারণেই আমরা চেয়েছিলাম কিছু একটা করি, যেন মানুষ অন্তত ভুলতে পারে বা বুঝতে পারে যে, না, তাদের হোমে সুবিধাটা তারা নিতে পেরেছে, আমাদের হোমে আমাদের যতটুকু করা সম্ভব ততটুকু করতে পেরেছি।
১১১ রানেই গুটিয়ে গেল উইন্ডিজ
ক্রীড়া ডেস্ক: বাংলাদেশের ৫০৮ রানের জবাবে নিজেদের প্রথম ইনিংসে ব্যাটিংয়ে নেমে বিপাকে পড়ে সফরকারী ওয়েস্ট ইন্ডিজ। ক্যারিবীয়ানরা ৩৯৭ রান পিছিয়ে থেকে অলআউট হয়েছে ১১১ রানে। মেহেদি মিরাজ ক্যারিয়ার সেরা বোলিং করে একাই তুলে নেন সাতটি উইকেট। সাকিব নেন তিনটি উইকেট। দ্বিতীয় দিন ইনিংসের প্রথম ওভারের শেষ বলেই সাকিব বোল্ড করে ফিরিয়ে দেন ক্যারিবীয়ান ওপেনার কার্লোস ব্রাথওয়েইটকে। এরপর মিরাজ বোল্ড করে ফিরিয়ে দেন আরেক ওপেনার কাইরন পাওয়েলকে (৪)। দলীয় ৬ রানে ক্যারিবীয়ানরা দুই ওপেনারকে হারায়। দলীয় ১৭ রানের মাথায় ইনিংসের নবম ওভারের শেষ বলে সাকিব বোল্ড করেন সুনীল অ্যামবিসকে (৭)। এরপর শিকারে আবারো যোগ দেন মিরাজ। ফিরিয়ে দেন রোস্টন চেজকে। দলীয় ২৯ রানে মিরাজ নিজের তৃতীয় উইকেট নিতে ফিরিয়ে দেন ১০ রান করা শাই হোপকে। টপঅর্ডারের পাঁচ ব্যাটসম্যানই বোল্ড হন। নাঈম হাসান নিজের প্রথম ওভারে এলবির ফাঁদে ফেলেন শিমরন হেটমেয়ারকে। আম্পায়ার আলিম দার আউট ঘোষণা করলেও রিভিউ নিয়ে বেঁচে যান হেটমেয়ার। দ্বিতীয় দিনের খেলা শেষে ৫ উইকেট হারিয়ে উইন্ডিজের সংগ্রহ দাঁড়ায় ৭৫ রান। তাতে স্বাগতিকদের থেকে ৪৩৩ রানে পিছিয়ে থাকে সফরকারীরা। তৃতীয় দিনের প্রথম সেশনের শুরুতে মিরাজ ফিরিয়ে দেন শিমরন হেটমেয়ারকে (৩৯)। নিজের বলে নিজেই দুর্দান্ত ক্যাচ নেন মিরাজ। দলীয় ৮৬ রানের মাথায় উইন্ডিজরা ষষ্ঠ উইকেট হারায়। স্কোরবোর্ডে আর দুই রান যোগ হতেই আবারো আঘাত হানেন মিরাজ। এবার ফিরিয়ে দেন দেবেন্দ্র বিশুকে। এর মধ্যদিয়ে নিজের পঞ্চম উইকেট পান মিরাজ। সাকিব নতুন ব্যাটসম্যান কেমার রোচের সহজ ক্যাচ তালুবন্দি করতে পারেননি। পরের ওভারে মিরাজ তার ষষ্ঠ উইকেট তুলে নেন, ফিরিয়ে দেন কেমার রোচকে। দলীয় ৯২ রানের মাথায় উইন্ডিজ তাদের অষ্টম উইকেট হারায়। দলীয় ১১০ রানে শেন ডরউইচকে (৩৭) এলবির ফাঁদে ফেলেন মিরাজ। তার আগে টাইগারদের হয়ে টেস্ট ক্যারিয়ারের তৃতীয় সেঞ্চুরি করেন মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ। ২৪২ বলে ১০টি বাউন্ডারিতে করেন ক্যারিয়ার সেরা ১৩৬ রান। অভিষিক্ত ওপেনার সাদমান ইসলাম করেন ৭৬ রান। দলপতি সাকিবের ব্যাট থেকে আসে ৮০ রান। জাতীয় দলের আবারো ফেরা লিটন খেলেন ৫৪ রানের ইনিংস। এছাড়া, ওপেনার সৌম্য সরকার ১৯, মুমিনুল হক ২৯, মোহাম্মদ মিঠুন ২৯, মুশফিকুর রহিম ১৪, মেহেদি হাসান মিরাজ ১৮, তাইজুল ইসলাম ২৬ আর নাঈম হাসান অপরাজিত ১২ রান করেন। তাতে বিরল এক রেকর্ডে নাম লেখায় বাংলাদেশের ইনিংস। ১১ ব্যাটসম্যানের প্রত্যেকের ডাবল ফিগারে যাওয়ার ঘটনা টেস্টের ইতিহাসে এ নিয়ে ঘটে মাত্র ১৪ বার। ওয়েস্ট ইন্ডিজের হয়ে দুটি করে উইকেট পান কেমার রোচ, দেবেন্দ্র বিশু, কার্লোস ব্রাথওয়েইট এবং জোমেল ওয়ারিকান। একটি করে উইকেট পান শিরমন লুইস এবং রোস্টন চেজ। চট্টগ্রাম টেস্টে বাংলাদেশ জিতেছিল ৬৪ রানের ব্যবধানে। নিজেদের খেলা সবশেষ ৫ টেস্টে টানা দুটিতেই জিতেছে বাংলাদেশ আর টানা তিনটিতেই হেরেছে ক্যারিবীয়ানরা। ২০০৯ সালে ওয়েস্ট ইন্ডিজ সফরে দুই ম্যাচের সিরিজে স্বাগতিকদের হোয়াইটওয়াশ করেছিল বাংলাদেশ। ২০০৯ সালে ওয়েস্ট ইন্ডিজ সফরে প্রথম টেস্টে চোট পেয়েছিলেন অধিনায়ক মাশরাফি বিন মুর্তজা। তার বদলে নেতৃত্বভার পেয়ে ওয়েস্ট ইন্ডিজকে ধবলধোলাই করেছিলেন সাকিব। ৯ বছর পর ওয়েস্ট ইন্ডিজকে আবারও ধবলধোলাইয়ের সুযোগ পেয়েছে বাংলাদেশ। শুক্রবার (৩০ নভেম্বর) সিরিজের দ্বিতীয় ও শেষ টেস্টে মিরপুরে স্বাগতিকদের মুখোমুখি হয় সফরকারী ওয়েস্ট ইন্ডিজ। ম্যাচটি সরাসরি সম্প্রচার করছে গাজী টিভি। এছাড়া, ম্যাচটি সরাসরি দেখতে পাচ্ছেন র‌্যাবিটহোলবিডিতে। বাংলাদেশ একাদশ: সাদমান ইসলাম, সৌম্য সরকার, মুমিনুল হক, মোহাম্মদ মিঠুন, সাকিব আল হাসান, মুশফিকুর রহিম, লিটন দাস, মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ, মেহেদি হাসান মিরাজ, তাইজুল ইসলাম এবং নাঈম হাসান। ওয়েস্ট ইন্ডিজ একাদশ: ক্রেইগ ব্রাথওয়েইট, কাইরন পাওয়েল, শাই হোপ, শিমরন হেটমেয়ার, সুনীল অ্যামব্রিস, রোস্টন চেজ, শেন ডরউইচ, শিরমন লুইস, দেবেন্দ্র বিশু, কেমার রোচ এবং জোমেল ওয়ারিকান।
নাকাল ওয়েস্ট ইন্ডিজ সাকিব-মিরাজের ঘূর্ণিতে
অনলাইন ডেস্ক: প্রথম ইনিংসে বাংলাদেশ গড়েছে রানের পাহাড়। স্বাগতিকদের গড়া বিশাল সংগ্রহের চাপটা যেন সামলাতেই পারছে না সফরকারী ওয়েস্ট ইন্ডিজ। ঢাকায় সিরিজের দ্বিতীয় টেস্টের প্রথম ইনিংসে অতিথি দলটি ব্যাট করতে নেমে চরম ব্যাটিং বিপর্যয়ে পড়ে। আজ শনিবার মিরপুর শেরেবাংলা স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত ম্যাচের দ্বিতীয় দিন শেষে ওয়েস্ট ইন্ডিজ প্রথম ইনিংসে ২৪ ওভারে ৭৫ রান গড়ে। তারা উইকেট হারিয়েছে পাঁচটি। দুই স্পিনার সাকিব আল হাসান ও মেহেদী হাসান মিরাজের ঘূর্ণিতে নাকাল অবস্থা হয়েছে তাদের। সফরকারীরা এখনও ৪৩৩ রানে পিছিয়ে আছে। এরআগে বাংলাদেশের প্রথম ইনিংসে করে ৫০৮ রান। যাতে সবচেয়ে বড় ভূমিকা রাখেন মাহমুদউল্লাহ। ২৪২ বল খেলে ১৩৬ রানের চমৎকার একটি ইনিংস খেলেন তিনি। তরুণ ওপেনার সাদমান ইসলাম খেলেন ৭৬ রানের চমৎকার একটি ইনিংস, যাতে তিনি বল খরচ করেছেন ১৯৯টি। আর মুমিনুল ও মিঠুন ২৯ রান করে নেন। ওপেনার সৌম্য সরকার করেন ১৯ রান। পরে পঞ্চম উইকেট জুটিতে সাকিব-মুশফিক কিছুটা প্রতিরোধ গড়ে তোলেন। কিন্তু মুশফিক দ্রুত ফিরে গেলে (১৪) কিছুটা চাপে পড়ে যায় দল। তবে সেই চাপ সামলে দলকে এগিয়ে নেন সাকিব ও মাহমুদউল্লাহ জুটি। দুজনে ১১১ রানের জুটি গড়েন। তবে সাকিব ১৩৯ বলে ৮০ রান করে আউট হন। এক টেস্ট পর দলে ফিরে আট নম্বরে ব্যাট করতে নেমে লিটন দাস ৫৪ রানের চমৎকার একটি ইনিংস খেলেন।
অনন্য কীর্তি মুশফিকের
ক্রীড়া ডেস্ক: বাংলাদেশের দ্বিতীয় ব্যাটসম্যান হিসেবে টেস্ট ক্রিকেটে চার হাজার রানের মাইলফলক স্পর্শ করলেন সাবেক অধিনায়ক মুশফিকুর রহিম। ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে সিরিজের দ্বিতীয় টেস্টের প্রথম ইনিংসে ১৪ রান করে এই কীর্তি গড়েন তিনি । ৬৬ টেস্ট খেলে এই মাইলফলক স্পর্শ করেন মুশফিক। ঢাকা টেস্ট খেলতে নামার আগে মাইলফলক থেকে ৮ রান দূরে ছিলেন তিনি। মুশফিকের আগে বাংলাদেশের হয়ে টেস্ট ক্রিকেটে প্রথম বাংলাদেশি হিসেবে চার হাজার রান করেন ড্যাশিং ওপেনার তামিম ইকবাল। ৫৬ ম্যাচের ১০৮ ইনিংসে ৪০৪৯ রান নিয়ে সবার উপরে আছেন তিনি। ৬৬ ম্যাচের ১২৩ ইনিংসে ৪০০৬ রান নিয়ে তালিকার দ্বিতীয় স্থানে আছেন মুশফিক।
এক ম্যাচ হাতে রেখেই গ্রুপ সেরা হয়ে শেষ ষোলোতে রিয়াল
ক্রীড়া ডেস্ক: অনেকদিন বাদে জ্বলে উঠতে দেখা গেল গ্যারেথ বেলকে। নিজে করলেন এক গোল, আরেকটিতে রাখলেন অবদান। তাতে এএস রোমাকে ২-০ ব্যবধানে হারিয়ে এক ম্যাচ হাতে রেখেই গ্রুপ সেরা হয়ে চ্যাম্পিয়ন্স লিগের শেষ ষোলো নিশ্চিত করেছে রিয়াল মাদ্রিদ। আগের ম্যাচে লা লিগায় এইবারের মাঠে ৩-০ গোলে বিধ্বস্ত হয়েছিল রিয়াল। রোমে ওই ফাঁড়া কাটিয়ে উঠতে সক্ষম হয়েছে সান্তিয়াগো সোলারির শিষ্যরা। দুটি গোলই অবশ্য ম্যাচের দ্বিতীয়ার্ধে পেয়েছে রিয়াল। ৪৭ মিনিটে রোমা ডিফেন্ডার ফেদেরিকো ফ্যাজিওর ভুলের সুযোগ নিয়ে দলকে এগিয়ে দেন বেল। ৫৯ মিনিটে রিয়ালের ব্যবধানটা দ্বিগুণ করে ফেলেন লুকাস ভাজকেস। বেলের উড়ন্ত ক্রসে মাথা ছুঁইয়ে বল মাটিতে নামিয়ে আনেন বেনজেমা। এরপর সহজেই লক্ষ্যভেদ করেন ভাজকেস। পরে আর কোনো গোল না পেলেও সহজ জয় নিয়েই মাঠ ছাড়ে সোলারির শিষ্যরা। অপরদিকে, ভিক্টোরিয়া প্লজেনের কাছে সিএসকেএ মস্কো ২-১ গোলে পরাজিত হওয়ায় হেরেও এই গ্রুপ থেকে নকআউট পর্ব নিশ্চিত হয়ে গেছে রোমার। আফসোস যে গ্রুপ সেরা হওয়ার সুযোগটা আর থাকল না তাদের। নিজেদের শেষ ম্যাচে সিএসকেএ মস্কোর কাছে রিয়াল হেরে গেলে আর ভিক্টোরিয়া প্লজেনের বিপক্ষে রোমা জয় পেলেও; হেড টু হেড ব্যবধানে এগিয়ে গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হবে রিয়ালই।
প্রথম ম্যাচের জয় দলকে উজ্জীবিত রাখবে: আকরাম খান
ক্রীড়া ডেস্ক: কঠিন উইকেটে প্রথম ইনিংসে বাংলাদেশের ব্যাটসম্যানরা দারুণ ব্যাট করেছে। তবে টস জেতা ম্যাচ জয়ে বড় ভূমিকা রেখেছে। এমনটাই মন্তব্য করেছেন বিসিবি'র ক্রিকেট অপারেশন্স চেয়ারম্যান আকরাম খান। প্রথম ম্যাচের জয় দলকে উজ্জীবিত রাখবে। আর শুধু স্পিন উইকেট নয়, পেস উইকেটেও ভাল করার মতো বোলার রয়েছে বাংলাদেশ দলে। মন্তব্য করেন আকরাম খান। চট্টগ্রাম লাকি গ্রাউন্ড। আরো একবার সাগরিকার পাড়ে কীর্তি গড়লো টাইগাররা। টেস্ট অঙ্গনে ১৮ বছরে পথ চলায় ঘরের মাঠে উইন্ডিজকে প্রথমবার ঘরের মাঠে হারালো বাংলাদেশ। ৫ দিনের টেস্ট মাত্র আড়াই দিনে জয়। এই জয় কিংবা উইকেট নিয়ে কথা হতে পারে অনেক। তবে কন্ডিশনের সুবিধা হোম টিম পাবে তা মানছেন সবাই। আড়াই দিনের এই টেস্টে টাইগারদের নিয়ে সমালোচনার জায়গা যেমন রয়েছে, তেমন রয়েছে প্রশংসার অনেক দিকও। এমন কঠিন উইকেটে প্রথম ইনিংসে মুমিনুলের সেঞ্চুরি কিংবা সবচেয়ে কম বয়সে অভিষিক্ত নাঈমের ৫ উইকেট পাওয়ার বিশ্ব রেকর্ড। সুযোগটা যারা পাচ্ছেন তারাই প্রমাণ দিচ্ছেন নিজেদের। যা কিনা আশাবাদী করছে বিসিবিকে। বিসিবি পরিচালক আকরাম খান বলেন, মুমিনুল নাঈম রায়হানরা যে পার্টনারশিপটা করেছে সেটা কিন্তু আমাদের ম্যাচটা হাতে এনে দিয়েছে। স্পিনাররা তো ভালো করেছেই। ইম্পর্ট্যান্ট কথা হলো রান করাটা খুবই দরকার ছিল। সেটা কিন্তু আমরা প্রথম ইনিংসে করতে পেরেছি। যারা চান্স পাচ্ছে তারা কিন্তু নিজেদের প্রুফ করছে। সবাই যখনই ভালো করে সেটা বাংলাদেশ ক্রিকেটের জন্য ভালো হয়। চট্টগ্রাম টেস্টের দূবোর্ধ্য স্পিন উইকেট নিয়ে হচ্ছে অনেক কথা। এমন উইকেটে খেলে বাইরের কন্ডিশনে গিয়ে সাদা পোশাকে কতটা মানিয়ে নিতে পারবে টাইগাররা। তবে বিসিবি পরিচালনা প্রধান বলছেন, টাইগার শিবিরে রয়েছে প্রতিশ্রুতিশীল পেসার। যাদের সক্ষমতা রয়েছে সিমিং কন্ডিশনে ভাল করার। হোম টিমের শক্তির বিচারে ঢাকা টেস্টেও স্পিনিং উইকেট রাখার আভাস দিলেন বিসিবি'র এই পরিচালক। তবে দ্বিতীয় টেস্টের দলে আসতে পারে পরিবর্তন।
রাজনীতিতে কেন? নিজেই বললেন মাশরাফি বিন মোর্তজা
ক্রীড়া ডেস্ক: আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আওয়ামীলীগ থেকে মনোনয়ন নিশ্চিত হয়েছে বাংলাদেশ ক্রিকেট দলের ওয়ানডে অধিনায়ক মাশরাফী বিন মোত্তোর্জার। রাজনীতিতে মাশরাফীর আগমন নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেইসবুকে একটি পোস্ট দিয়েছেন ম্যাশ। যেখানে রাজনীতিতে আসা এবং আওয়ামী লীগে যোগ দেয়ার উদ্দেশ্যগুলো তুলে ধরেন। মাশরাফীর রাজনীতিতে আশা নিয়ে ভক্ত সমর্থকদের মাঝে নেতিবাচক প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়। এর প্রেক্ষিতে এই স্ট্যাটাস দেন মাশরাফী। এতে তিনি লিখেন, দেশের সামগ্রীক উন্নতির জন্য রাজনীতিতে আশার প্রয়োজনীয়তা অনুভব করেছেন তিনি। তাছাড়া ছোট বেলা থেকে দেশের মানুষের জন্য কাজ করার ইচ্ছা ছিল ম্যাশের। যার বড় মাধ্যম মনে করেছেন রাজনীতিকে। ক্রিকেট মাঠের মতো রাজনীতিতেও দেশের পরিবর্তনে সবাইকে পাশে চেয়েছেন ওয়ানডে অধিনায়ক। পাঠকদের জন্য মাশরাফি বিন মোর্তজার পুরো স্ট্যাটাসটি নিচে তুলে দেয়া হলো- ২০০১, ক্রিকেটের আঙিনায় পথচলা শুরু। আজ ২০১৮। এই প্রায় দেড় যুগে ক্রিকেট যা খেলেছি, জীবন দিয়ে খেলেছি। কখনও আপোস করিনি। আগামী বিশ্বকাপ পর্যন্ত আপোস করতেও চাই না। বাকিটা মহান আল্লাহর ইচ্ছা। রাজনীতির তাড়না আমার ভেতরে ছিলই। কারণ, সবসময় বিশ্বাস করেছি, রাজনীতি ছাড়া দেশের উন্নয়ন জোরালোভাবে সম্ভব নয়। ক্রিকেট খেলেছি, আপনাদের ভালোবাসা পেয়েছি। নাহলে হয়তোবা ২০১১ সালেই হারিয়ে যেতাম। এই মাশরাফিই হয়তো এতদিনে থাকতো না। ২০১১ সালে আপনাদের কাছ থেকে যে ভালোবাসা পেয়েছি, তা আমাকে এই সাত বছর চলতে সহায়তা করেছে। এবার আমার সামনে সুযোগ এসেছে আমার দেশের মানুষের জন্য কিছু করার। বিশ্বকাপের পরের সাড়ে চার বছর আমার জন্য কী অপেক্ষায় আছে, সেটাও জানি না। তাই আমি সময়কে মূল্যায়ন করেছি। সময়ের ডাক শুনেছি। কারণ আমি বিশ্বাস করি, সময়ের কাজ সময়েই করা উচিত। বঙ্গবন্ধুকে দেখার সৌভাগ্য হয়নি, কিন্তু তার কথা জেনে, উপলব্ধি করেই বেড়ে উঠেছি। পড়াশোনা করে, অনেকের কাছে শুনে যতটুকু জেনেছি, সেসব থেকেই উনাকে হৃদয়ে ধারণ করেছি। অার মুক্তিযুদ্ধের চেতনা পারিবারিকভাবেই অামার অস্থি-মজ্জায়, মননে-মগজে। এখন বঙ্গবন্ধু-কন্যা জননেত্রী শেখ হাসিনা যে উন্নয়ন কাজ করছেন, তার সারথি হয়ে আমার এলাকার জন্য কিছু করতে চাই। এটা যদি করতে না পারি, তাহলে আমার কাছে মনে হবে, আমার এলাকার প্রতি আমি মোটেও সুবিচার করছি না। বঞ্চিত করছি। ক্রিকেট খেলতে খেলতে সামাজিক দায়বদ্ধতার জায়গা থেকে যতটুকু সামাজিক কাজ করেছি; আমার মনে হয়েছে, সেটুকুই যথেষ্ট নয়। আরও বড় পরিসরে করার সুযোগ খুঁজেছি সবসময় এবং রাজনীতি আমাকে সেই সুযোগটা করে দিচ্ছে। কোনো ব্যক্তি বা কোনো দলকে আঘাত করার জন্য আমি রাজনীতিতে আসছি না। যে যার আদর্শ নিয়ে সুন্দর জীবন-যাপন করবে, পারস্পরিক ভ্রাতৃত্ববোধে সহনশীল ও সহযোগিতাপূর্ণ রাজনৈতিক সংস্কৃতি বিরাজ করবে, সেটিই আমার চাওয়া। অনেকেই প্রশ্ন তুলছেন, আমাদের মতো মানুষ কেন রাজনীতিতে আসবে! সত্যি বলতে, আমি জানি না, আমি কেমন মানুষ। ভালো মানুষ হিসেবে আমার যে পরিচিতি ছড়িয়েছে, সেটাও আমার ভেতর বারবার প্রশ্ন জাগিয়েছে, কেন আমি ভালো মানুষ? দুটি বল করে, আপনাদের কয়েকটি আনন্দের মূহুর্ত উপহার দিয়ে, দু'জনকে জড়িয়ে ধরেই যদি ভালো মানুষ হওয়া যায়, তাহলে স্রেফ এরকম ভালো মানুষ হওয়ার ইচ্ছা আমার কখনোই ছিল না। সত্যিকার অর্থেই আমি কেমন মানুষ, আমার বিশ্বাস, সেটি বিচার করার সময় সামনে। যদি আমি নির্বাচনে জয়লাভ করতে পারি এবং আমার দল সরকার গঠন করে, তার পর আমার কর্মেই ফুটে উঠবে আমি কতটা ভালো মানুষ। জানি, বলা যত সহজ, কাজ করে দেখানো তার চেয়ে অনেক বড় চ্যালেঞ্জ। কিন্তু চ্যালেঞ্জটা নিতে আমি পিছপা হইনি। চাইলেই আমি নিজের সহজাত পরিবেশের ভেতর থাকতে পারতাম। কিন্তু আমি স্বপ্ন দেখি, আমার এলাকার মানুষ সমৃদ্ধির পথে অারেক ধাপ এগিয়ে যাক। অালো ছড়িয়ে পড়ুক নড়াইলবাসীর উপর। অামি চাই সমৃদ্ধ নড়াইল। সেই পথে আমার যত কষ্টই হোক, অামি থাকবো অামার প্রিয় নড়াইলবাসীর পাশে। মনোনয়নপত্র কেনার সপ্তাহখানেক আগে আমার মেয়েকে আমি ব্যাংককের সবচেয়ে বড় হাসপাতালে নিয়ে গিয়েছিলাম। সেই সামর্থ্য আল্লাহ আমাকে দিয়েছেন। কিন্তু আমি ভেবেছি, ওই মানুষটির কথা, যে আরও অনেক জটিল রোগে আক্রান্ত হয়েও প্রাপ্য চিকিৎসা পাচ্ছে না। আমি ভেবেছি সেই ছেলে-মেয়েদের কথা, যারা প্রতিভাবান হয়েও মফস্বল থেকে উচ্চশিক্ষার দুয়ার পর্যন্ত যেতে পারছে না। ভেবেছি খেটে খাওয়া সেই মানুষদের কথা, যারা দিন-রাত পরিশ্রম করেও প্রাপ্যটুকু অনেক সময় পাচ্ছে না। আমি বিশ্বাস করি, বাংলাদেশের সব সচেতন, যোগ্য ও ভালো মানুষের রাজনীতিতে আসা উচিত। অনেকেই হয়তো সাহস করে উঠতে পারেননা নানা কারণে, মানসিক সীমাবদ্ধতায়। আমার মনে হয়েছে, মানসিক বাধার সেই দেয়াল ভাঙা জরুরি। তাই ভেতরের তাগিদ পূরণের উদ্যোগটা আমিই নিলাম। ক্রিকেটের মাঠে দেড় যুগ ধরে তিলতিল করে গড়ে ওঠা মাশরাফির অবস্থান হয়তো আজ অনেকের কাছে প্রশ্নবিদ্ধ হয়েছে রাজনীতির মাঠে নামার কারণে। কিন্তু আমি নিজে সত্যিকার অর্থেই রোমাঞ্চিত নতুন কিছুর সম্ভাবনায়। আমি আশা করি এমন কিছু করতে পারব, যা দেখে ভবিষ্যতে হাজারও মাশরাফি এগিয়ে আসবে ইনশাল্লাহ। আমি আবারও বলছি, কোনো ব্যক্তি বা দলকে আঘাত করার ইচ্ছে আমার নেই। কেবল সময়ের দাবি মেটানোর চেষ্টা করছি মাত্র। আশা করি, আপনাদের ভালোবাসা আমাকে এই ইনিংসেও সামনে এগিয়ে নিয়ে যাবে। আপনাদের সমর্থন ও দোয়ায় সিক্ত হতে চাই।
টেস্ট জয়ের আনন্দটাই আলাদা: সাকিব
ক্রীড়া ডেস্ক: চট্টগ্রামে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিরুদ্ধে প্রথম টেস্টে অসাধারণ এক জয়ের পর দলের আত্মবিশ্বাস অনেকটাই বেড়ে গেছে টাইগারদের। এই আত্মবিশ্বাস পূঁজি করেই ঢাকায় দ্বিতীয় টেস্টে ক্যারিবিয়ানদের মুখোমুখি হতে চান সাকিব আল হাসান। গতকাল ম্যাচ শেষে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে এমন আশার কথাই শোনালেন অধিনায়ক। সাকিব বললেন, টেস্ট জয়ের আনন্দটাই আলাদা। ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে চট্টগ্রাম টেস্ট জিততে পেরে খুব ভাল লাগছে। দ্রুততম সময়ে ৩ হাজার রান ও ২০০ উইকেট পেয়ে যেমন আনন্দিত হয়েছি, তার চেয়েও বেশি আনন্দ পেয়েছি দল জিতেছে বলে। দল যদি না জিততো তাহলে ২০০ উইকেটের আনন্দটা থাকতো না। জিতেছি বলেই অনুভূতিটা অনেক ভাল। পুরো দল ভাল খেলেছে। দল যখন একটা ম্যাচ জেতে তখন দলের সবার আত্মবিশ্বাস বেড়ে যায়। আশা করি এটা ধরে রাখা যাবে। এই আত্মবিশ্বাস নিয়েই আমরা দ্বিতীয় টেস্ট খেলবো। ম্যাচের টার্নিং পয়েন্ট কোনটা ছিল জানতে চাইলে সাকিব বলেন, টার্নিং পয়েন্ট আসলে অনেকগুলো। ছোট ছোট জিনিসগুলোই আসলে অনেক বড় টার্নিং পয়েন্ট হয়ে যায়। সেটা ওদের ক্ষেত্রেও যেমন, আমাদের বেলায়ও তেমন। ছোট ছোট কিছু পার্টনারশিপ হয়েছে যা আমাদের জয়ে অনেক সাহায্য করেছে। বড় দিক থেকে বলতে গেলে, প্রথম ইনিংসে আমাদের ব্যাটিংটাকেই বলতে হবে। যে রান আমরা করেছি, সেটা বড় এডভান্টেজ ছিল। যদিও আমার ধারণা দ্বিতীয় ইনিংসে ব্যাটিংটা আরেকটু ভালো করতে পারতাম। কিন্তু এধরনের উইকেটে এরকম হতেই পারে। ওই সম্পর্কে আমরা সজাগ ছিলাম। প্রথমে উইকেট দেখার পরেই ধারণা করেছিলাম খেলাটা এমনই হবে, হাই স্কোরিং ম্যাচ হবে না। ঢাকা টেস্টের আগে যে কয়টা দিন সময় আছে নিজের ফিটনেস নিয়ে কাজ করতে চান সাকিব। বলেন, চট্টগ্রামে প্রথম টেস্টের আগে আমি মাত্র তিনটা সেশন ব্যাটিং করেছি। দুই মাস পরে এসে কোনো ফিটনেসের কাজ না করে এই সংক্ষিপ্ত ব্যাটিং সেশন ছিল খুবই সামান্য। আমার জন্য খুবই কঠিন কাজ ছিল। তবে আলহামদুলিল্লাহ যে ভালভাবে ম্যাচটা শেষ করতে পেরেছি। আমি নিশ্চিত যে দ্বিতীয় ম্যাচটা আমি আরো বেটার অবস্থায় খেলতে পারব। ওপেনিং ব্যাটসম্যান নিয়ে দুঃশ্চিন্তা আছে কিনা এমন প্রশ্নে সাকিব বলেন, হ্যাঁ, প্রতিদিনই আমাদের ১০ রানে ২ উইকেট চলে যাওয়াটা খুবই দুঃখজনক বিষয়। এটা আমাদের জন্য একটু এলার্মিং। তবে আশা করি দ্বিতীয় টেস্টে তামিম ইকবাল ফিট হয়ে যাবে। তাহলে কিছুটা হলে ওপেনিংয়ে আমাদের ভরসার জায়গা তৈরি হবে। টাইগার স্পিনারদের উচ্ছ্বসিত প্রশংসা করে সাকিব বলেন, আমাদের যে ক-জন স্পিনার আছে সবাই কোয়ালিটি স্পিনার। বিশেষ করে উইকেটে যদি হেল্প থাকে। একদমই যদি হেল্প না থাকে তাহলে হয়তো আমাদের বোলারদের অতটা কার্যকরী মনে হবে না। হেল্প পেলে তারা অনেক ভাল করবে। তবে একটা জিনিস মনে হয়, আমাদের ওভারঅল উন্নতি করতে হবে। সেটা হচ্ছে গেম সেন্সটা থাকা উচিত। কোন সিচুয়েশনে কি করতে হবে। অভিষেক ম্যাচে নাঈমকে কেমন দেখলেন জানতে চাইলে অধিনায়ক বলেন, অভিষেক ম্যাচ হিসেবে প্রথম ম্যাচে নাঈম অসাধারণ বল করেছে। আজকে থেকে গতকাল উইকেটে হেল্প কম ছিল। ওই অবস্থাতেই সে ৫ উইকেট পেয়েছে। আমি মনে করি ওর উজ্জ্বল ভবিষ্যত আছে। তবে ওকে টেস্টে আরো কিছু বিষয় শিখতে হতে পারে। তবে একটা বিষয় বলবো যে নাঈম খুবই সাহসী ক্রিকেটার।
ক্যারিয়ারের অষ্টম সেঞ্চুরি তুলে নিলেন মুমিনুল হক
অনলাইন ডেস্ক: ক্যারিয়ারের অষ্টম সেঞ্চুরি তুলে নিলেন মুমিনুল হক। টেস্ট ক্রিকেটে বাংলাদেশের আর একজনেরই আটটি সেঞ্চুরি রয়েছে। তিনি তামিম ইকবাল। চোটের কারণে তিনি জিম্বাবুয়ে সিরিজের পর ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষেও নেই। আর মুমিনুল এই সুযোগটাই কাজে লাগিয়ে তামিমকে ছুঁয়ে ফেললেন। এ প্রতিবেদন লেখার সময় বাংলাদেশ ৩ উইকেট হারিয়ে স্কোরবোর্ডে তুলেছে ২০২ রান। মুমিনুল ১১০ ও সাকিব ২০ রান নিয়ে ব্যাট করছেন। মুমিনুল সেঞ্চুরি তুলে নিয়েছেন অনেকটাই ওয়ানডে মেজাজে। ১৩৫ বল নিয়েছেন সেঞ্চুরি করতে। সবমিলিয়ে বাউন্ডারি মেরেছেন ১০টি, ছয় একটি। এদিন চট্টগ্রামের জহুর আহমেদ চৌধুরী স্টেডিয়ামে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে সিরিজের প্রথম টেস্টে টস জিতে ব্যাটিংয়ে নামা বাংলাদেশ প্রথম ওভারেই হারিয়েছে সৌম্য সরকারের উইকেট। কেমার রোচের তৃতীয় বলটি সৌম্যর ব্যাট ছুঁয়ে জমা পড়ল উইকেটরক্ষকের গ্লাভসে। ১ রানে নেই প্রথম উইকেট। জিম্বাবুয়ে সিরিজে লিটন দাসের সঙ্গে ওপেনিং করেছিলেন ইমরুল কায়েস। ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে লিটনকে বাদ দিয়ে সেই জায়গায় নিয়ে আসা হলো সৌম্যকে। কিন্তু ফল বদলাল না। শুরুতেই আউট হয়ে গেলেন সৌম্য। তাঁর বিদায়ের পর বাংলাদেশকে কক্ষপথে রেখেছিলেন মুমিনুল হক ও ইমরুল কায়েস। কিন্তু মধ্যাহ্ন বিরতির ঠিক আগের বলে ইমরুল জোমেলো ওয়ারিকানের বলে সুনীল অ্যামব্রিসকে ক্যাচ দিয়ে ফিরেছেন। তখস বাংলাদেশের সংগ্রহ ছিল ২ উইকেটে ১০৫। ইমরুল আউট হয়েছেন ৪৪ রান করে। মুমিনুল-ইমরুল মিলে গড়েছিলেন ১০৪ রানের জুটি। শুরু থেকেই দুর্দান্ত খেলছেন মুমিনুল। ঢাকা টেস্টে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে প্রথম ইনিংসে ১৬১ রানের ইনিংস খেলেছিলেন। তবে দ্বিতীয় ইনিংসে রান পাননি। উইন্ডিজের বিপক্ষে সেটি যেন পুষিয়ে দিতেই নেমেছেন। এখন অবধি উইকেটের চারপাশে খেলেছেন মুমিনুল নিখুঁতভাবে। তবে ৪০ রানের ইনিংসে একবার জীবন পাওয়া ইমরুল কাজে লাগাতে পারলেন না। অ্যামব্রিসকে শট লেগে যে ক্যাচটি দিয়েছেন সেটি দৃষ্টিকটু ঠেকেছে। এই ম্যাচ দিয়ে টেস্ট অভিষেক হয়েছে নাঈম হাসানের। তাঁকে টেস্ট ক্যাপ পরিয়ে দিয়েছেন মুশফিকুর রহীম। বাদ পড়েছেন লিটন দাস ও খালেদ আহমেদ। আরিফুল হকের জায়গায় দলে ঢুকেছেন নিয়মিত অধিনায়ক সাকিব আল হাসান।