ক্রিকেট বোর্ডের সভাপতি হলেও-দাদাগিরি ছাড়ছেন না সৌরভ
১৫অক্টোবর,মঙ্গলবার,ক্রীড়া ডেস্ক,নিউজ একাত্তর ডট কম: সৌরভ গাঙ্গুলি, ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিসিআই) সাবেক অধিনায়ক। এবার তিনি সভাপতি হচ্ছেন সেই ক্রিকেট বোর্ডের। সোমবারই বিষয়টি নিশ্চিত হয়ে গেছে। আগামী ২৩ অক্টোবর তার বোর্ডের কার্যভার গ্রহণ করার কথা। এ কারণে তাকে অনেক দায়িত্ব ছাড়তে হচ্ছে।তবে প্রায় এক দশক ধরে ভারতীয় টিভি চ্যানেল জি বাংলার নন-ফিকশন শো দাদাগিরিছাড়ছেন সৌরভ। ক্রিকেটের থিমে তৈরি শো টি সঞ্চালনা করেন তিনি। পশ্চিমবঙ্গের পাশাপাশি বাংলাদেশেও তুমুল জনপ্রিয় এই অনুষ্ঠান। আর এর পুরো কৃতিত্ব দাদার।এদিকে, আইপিএল ফ্র্যাঞ্চাইজি দিল্লি ক্যাপিটালসের কোচের দায়িত্ব ছাড়ছেন সৌরভ। ধারাভাষ্য ও কলাম লেখা থেকে বিরতি নিচ্ছেন। ক্রিকেট অ্যাসোসিয়েশন অব বেঙ্গলের (সিএবি) সভাপতির পদেও ইস্তফা দিচ্ছেন।
সমস্যা পাকিস্তানের ক্রিকেট সিস্টেমেই: মিসবাহ
১২অক্টোবর,শনিবার,ক্রীড়া ডেস্ক,নিউজ একাত্তর ডট কম: সময়টা মোটেও ভালো যাচ্ছে না পাকিস্তানের। অনভিজ্ঞ শ্রীলঙ্কা দলের কাছে টি-টোয়েন্টি সিরিজে ০-৩ হারতে হয়েছে পাকিস্তানকে। আর সেটাই মানতে পারছেন না পাকিস্তানের প্রধান কোচ মিসবাহ-উল-হক। শুধু কোচ নন, তিনি পাকিস্তানের প্রধান নির্বাচকের পদেও রয়েছেন। তার মতে, এই সিরিজ দেশের ক্রিকেট সিস্টেমের ব্যাপারে চোখ খুলে দিয়েছে সবার।পাকিস্তানের প্রাক্তন অধিনায়ক মিসবাহর মতে,আমাদের সবার কাছেই এই সিরিজ বাস্তব সম্পর্কে চোখ খুলে দিয়েছে। এই ক্রিকেটাররাই তো বেশ কিছুদিন ধরে খেলছে একসঙ্গে। মোটামুটি এই ক্রিকেটাররাই আমাদের এক নম্বরে তুলে এনেছিল। তিন থেকে চার বছর টানা খেলছেও এরা। কিন্তু এই সিরিজের ফলাফল আমাদের সিস্টেম সম্পর্কে সত্যিটা বের করে এনেছে। এমন দলের কাছে আমরা হেরেছি যাদের কিনা প্রধান ক্রিকেটাররাই আসেনি। এরপরে আর নিজেদের কী করে এক নম্বর ভাবব।মিসবাহর মতে, তিন বিভাগে শ্রীলঙ্কার সঙ্গে টক্কর দিতে পারেনি পাকিস্তান। মিসবাহ বলেছেন, আমরা সব বিভাগেই জঘন্য খেলেছি। শ্রীলঙ্কা তিন বিভাগেই টেক্কা দিয়েছে আমাদের।তরুণ লেগস্পিনার শাদাব খানের সাদামাটা পারফরম্যান্স নিয়ে মিডিয়ার সামনে মিসবাহ বলেছেন,সমস্যা হল, শাদাবের পরিবর্তে খেলানোর মতো কোনও রিস্টস্পিনার আছে কি না, সেটা আপনারাই বলুন। এমন কোনও রিস্টস্পিনার আছে কি যে পারফরম্যান্স করার পরও আমরা দলে নিইনি।এই পরাজয়ের দায় প্রয়োজনে নিজের উপরে নিতে আপত্তি নেই মিসবাহর। তবে তিনি মনে করিয়ে দিয়েছেন, আপনারা যদি আমাকে দায়ী করতে চান, করতেই পারেন। তবে সবে ১০ দিন হল আমি কোচ হিসেবে দায়িত্ব নিয়েছি।
সিপিএলে সিমন্স-ব্র্যাথওয়েটের তুমুল ঝগড়া!
০৮অক্টোবর,মঙ্গলবার,ক্রীড়া ডেস্ক,নিউজ একাত্তর ডট কম: ক্যারিবিয়ান প্রিমিয়ার লিগে (সিপিএল) তুমুল তর্কে জড়ালেন লেন্ডল সিমন্স ও কার্লোস ব্র্যাথওয়েট। সেন্ট কিটস অ্যান্ড নেভিস প্যাট্রিয়টসের অধিনায়ক ব্র্যাথওয়েট এবং ত্রিনবাগো নাইট রাইডার্সের ওপেনার সিমন্সের ঝগড়ার বিষয়টি আলোড়ন তুলেছে।ইতোমধ্যে তাদের ঝগড়ার সেই ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল।ম্যাচে সিমন্সের সঙ্গেই কথা কাটাকাটি হয় ব্র্যাথওয়েটের। ওই সময় দীনেশ রামদিনের সঙ্গে ব্যাট করেন সিমন্স। অষ্টম ওভারে ফাবিয়ান অ্যালেনের ডেলিভারি স্কোয়ারে ঠেলেন রামদিন। রান নেয়া শেষে প্রয়োজনীয় কথা বলার জন্য ক্রিজ ছেড়ে বাইরে আসেন তারা।এ সুযোগে বল দিয়ে স্টাম্পের বেল ফেলে দেন ব্র্যাথওয়েট। পরে রানআউটের আবেদন করেন তিনি। আম্পায়ার অবশ্য তার আবেদনে সাড়া দেননি। এ নিয়েই ব্র্যাথওয়েটের সঙ্গে উত্তপ্ত বাক্যবিনিময় করেন সিমন্স। পরিস্থিতি সামলাতে এগিয়ে আসেন আম্পায়াররা। দুজনকে সরিয়ে দেন তারা।এলিমিনেটর ম্যাচে প্রথমে ব্যাট করে নির্ধারিত ২০ ওভারে ৭ উইকেট হারিয়ে ১২৫ রান করে সেন্ট কিটস। লরি ইভান্স করেন দলীয় সর্বোচ্চ ৫৫ রান।৪ ওভারে মাত্র ১০ রান দিয়ে ২ উইকেট নেন সুনিল নারাইন। জবাবে ৮ বল ও ৬ উইকেট হাতে রেখে জয়ের লক্ষ্যে পৌঁছে যায় ত্রিনবাগো। ৪৭ বলে ৩টি করে চার-ছক্কায় ৫১ রানের ম্যাচ উইনিং ইনিংস খেলেন সিমন্স।
সামর্থ্যের সেরাটা দিতে পারিনি: মাহমুদুল্লাহ
২৫সেপ্টেম্বর,বুধবার,ক্রীড়া ডেস্ক,নিউজ একাত্তর ডট কম: চট্টগ্রামে আফগানিস্তানের কাছে একমাত্র টেস্ট ম্যাচটাও বাঁচাতে পারেনি বাংলাদেশ। নিজেদের তৃতীয় টেস্ট ম্যাচেই বাংলাদেশকে হারিয়ে চমক দেখায় টেস্ট ক্রিকেটের সর্বকনিষ্ঠ দল আফগানিস্তান। এরপর টি-টোয়েন্টি সিরিজেও নিজেদের প্রথম দেখায় বাংলাদেশকে পরাজিত করে তারা। দলের অভিজ্ঞ খেলোয়াড় মাহমুদুল্লাহ রিয়াদও হতাশ করেছেন টেস্ট, টি-টোয়েন্টি দুই ফরম্যাটেই। ফাইনাল ম্যাচের সংবাদ সম্মেলনে এসে নিজের এবং দলের অবস্থান তুলে ধরার চেষ্টা করেন তিনি। টেস্টে অবশ্যই হতাশাজনক ছিল। কারণ আমি শতভাগ বিশ্বাস করি যে আমাদের দল এরচেয়ে ভালো খেলতে পারে এবং সামর্থ্য আছে। টেস্ট ম্যাচ শেষ হওয়ার পর যখন নিজেদের মধ্যে কথা হলো তখন চিন্তা করলাম যে, না আমাদের শক্তভাবে ফিরতে হবে। এরপর টি-টোয়েন্টি সিরিজে আফগানিস্তানের সঙ্গে প্রথম ম্যাচটি হেরে যাই। আমরা সব মিলে কিছুটা ব্যাক-ফুটে ছিলাম সত্যি বলতে। এরপরও সবার ভেতরে যে স্পৃহাটি ছিল সেটি কাজে দিয়েছে দল হিসেবে। এই জিনিসগুলোর পুনরাবৃত্তি যেন না হয়। চট্টগ্রাম টেস্টে ব্যাট হাতে দুই ইনিংস মিলে করেছিলেন মাত্র ১৪ রান। উইকেট পেয়েছিলেন মাত্র ১টি। টি-টোয়েন্টি সিরিজে চার ম্যাচে রান করেছেন ১৪, ৪৪, ৬২ ও ৬। সব মিলে একটি মাত্র অর্ধশত রানের ইনিংস। অথচ তিনিও বোঝেন, তার কাছে দলের চাওয়া কি। একজন ক্রিকেটার হিসেবে আমি ফাইনাল ম্যাচটা খেলতে পারলে ভালো হতো। আর এটি আমাদের ক্রিকেটের জন্যই ভালো হতো। এই সিরিজে সবমিলিয়ে হতাশার জায়গা অনেক বেশিই ছিল। আমি আগে যেটি বললাম যে আমাদের যতটুকু সামর্থ্য ছিল আমরা সেই অনুযায়ী পারফর্ম করতে পারিনি। সামর্থ্য অনুযায়ী পারফর্ম করতে পারলে হয়তো আরও ভালো কিছু দেখাতে পারতাম প্রতিটি বিভাগে। মাহমুদুল্লাহ রিয়াদের এই সিরিজটা হতাশায় কাটলেও ফিরে আসতে চান নিজের সেরা ফর্মে। এর জন্য জাতীয় লিগকে লক্ষ্য করেছেন তিনি। কেন না, আগামী নভেম্বরে ভারতের মাটিতে খেলতে হবে টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের ম্যাচ। আছে টি-টোয়েন্টি সিরিজও। আমরা সবাই কম বেশি সিরিয়াস। কারণ আমরা যখন ক্রিকেট খেলতে যাই সেটা এনসিএল হোক বা বিসিএল হোক যেখানেই খেলি আমাদের পারফর্ম করতে হবে। পারফর্ম করলে মনে হয়না প্রশ্ন উঠবে। সবাই যার যার জায়গা থেকে পারফর্ম করার চেষ্টা করি। যখন আজ বৃষ্টি হচ্ছিল তখন আমরা এনসিএল নিয়ে কথা বলছিলাম কে কোন দলে খেলবে বা কার খেলা কোথায়। আমার মনে হয় সবাই পারফর্ম করার চেষ্টা করবে যারা ইন্ডিয়াতে খেলবে। আমি মনে হয় কোনও এক সংবাদ সম্মেলনে বলেছিলাম বিশ্বকাপে আমাদের আশানুরূপ ফলাফল আসেনি। এরপর আবার শ্রীলঙ্কায় গিয়ে তিনটা ম্যাচ হারলাম। অবশ্যই আপনি যখন ফলাফল খারাপ করবেন এটার নেতিবাচক দিক আপনার ভেতর অনুভব হয়। গোটা দলই এমন অনুভব করে। কারণ কেউই চায় না মাঠে গিয়ে হারতে। সারাদিন যখন আপনি এটার জন্য কষ্ট করবেন কিন্তু ফলাফল পাবেন না তখন স্বাভাবিকভাবেই আপনার মন খারাপ লাগবে। ব্যক্তিগতভাবে তো বটেই দলগত ভাবেও। সেই দিক থেকে এই সিরিজটি ভালো কেটেছে। আমাদের আত্মবিশ্বাস ফিরে এসেছে, আশা করছি এটা পরবর্তী সিরিজে ধরে রাখতে পারব ইনশাআল্লাহ্।
দীর্ঘ পাঁচ বছর পর আফগানদের হারাল বাংলাদেশ
২২সেপ্টেম্বর,রবিবার,ক্রীড়া ডেস্ক,নিউজ একাত্তর ডট কম: রশিদ খান, মুজিব উর রহমানদের ঘূর্ণি যেন বুঝে উঠতেই পারছিল না বাংলাদেশ। গত পাঁচ বছরে চারবার হার সাকিবদের। ২০১৪ সালে সবশেষ জয় পেয়েছিল বাংলাদেশ। ঘরের মাঠে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে। এরপর ভারতের দেরাদুনে তিন ম্যাচের সিরিজে হতে হয়েছে হোয়াইটওয়াশ। চলতি সিরিজেও নিজেদের প্রথম দেখায় ২৮ রানে হারতে হয়েছে স্বাগতিক বাংলাদেশকে। এ যেন আফগান জুজু। ত্রিদেশীয় সিরিজে আফগানিস্তান নিঃসন্দেহে শক্তিশালী দল। সেভাবেই শিরোপা জয়ের পথে এগোচ্ছে রশিদ খানের দল। তৃতীয় দল জিম্বাবুয়ের বিদায় নিশ্চিত হয়ে যাওয়ায় দুই ফাইনালিস্ট দলের জন্য আজকের ম্যাচটা গা গরমের হলেও বাংলাদেশের জন্য অনেক কিছু প্রমাণের ম্যাচ এটি। সন্ধ্যায় জহুর আহমেদ চৌধুরী স্টেডিয়ামে টস জিতে আফগানিস্তানকে ব্যাটিংয়ের আমন্ত্রণ জানায় স্বাগতিক অধিনায়ক সাকিব আল হাসান। ব্যাটিংয়ে নেমে শুরুটা দুর্দান্ত হয় আফগান দুই ওপেনারের কল্যাণে। রাহমানুল্লাহ গুরবাজ আর হযরতুল্লাহ জাযাইয়ের ব্যাটে ৯ ওভার ২ বলে আসে ৭৫ রান। তার আগে ইনিংসের দ্বিতীয় ওভারের পঞ্চম বলেই শফিউল ইসলামের করা বলে ফাইন লেগে উড়িয়ে মারতে গিয়ে ক্যাচ দিলেও মাহমুদুল্লাহ রিয়াদের হাত ফসকে যায় রাহমানুল্লাহ গুরবাজের ক্যাচ। এরপরই বাংলাদেশের উপর চেপে বসে দুই ওপেনার। ছয়জন বোলার বোলিং করলেও উইকেটের দেখা নেই। সপ্তম বোলার হিসেবে বল করতে এসে আফিফ হোসেন নেন এক ওভারে দুই উইকেট। জাযাইকে ৪৭ রানে ফেরানোর পর আসগর আফগনাকে ফেরান শূন্য রানে।রাহমানুল্লাহ গুরবাজ করেন ২৯ রান। বাকি ব্যাটসম্যানরা খেলতে পারেননি বড় ইনিংস। শেষদিকে শাফিকুল্লাহ’র ২৩ রান আফগানদের সংগ্রহ ৭ উইকেটে ১৩৮ রানে থামে। আফিফ হোসেন নেন ২ উইকেট। সমান ১টি করে উইকেট নেন সাইফউদ্দিন, শফিউল ইসলাম, সাকিব আল হাসান ও মুস্তাফিজুর রহমান। জবাবে ব্যাট করতে নেমে শুরুতেই দুই ওপেনার লিটন দাস আর নাজমুল হোসেন শান্তকে হারায় বাংলাদেশ। লিটনকে ৪ রানে ফেরান মুজিব আর শান্তকে ৫ রানে ফেরান নাভিন উল হক। দ্বিতীয় উইকেট জুটিতে মুশফিক-সাকিবের জুটি থেকে আসে ৫৮ রান। তাতেও নির্ভার থাকা যায়নি শেষ পর্যন্ত। মুশফিক ২৬ রানে ক্যাচ তুলে দেন করিম জানাতের বলে। এরপর মাহমুদুল্লাহ ৬, সাব্বির রহমান ১ আর আফিফ হোসেন বিদায় নেন ১ রান করে। এমন ধ্বংসস্তূপেও সাকিব তুলে নেন নিজের নবম অর্ধশতক। শেষ পর্যন্ত মোসাদ্দেককে সঙ্গে নিয়ে ৭০ রানে অপরাজিত থেকে ১ ওভার হাতে রেখে ৪ উইকেটের জয়ে দলকে বের করে নিয়ে আসেন আফগানদের কাছে হারের বৃত্ত থেকে। দীর্ঘ পাঁচ বছরের আফগান জুজুর অবসান ঘটল তবে! আফগানদের হয়ে ২টি করে উইকেট নেন নাভিন উল হক, রশিদ খান ও ১টি করে উইকেট নেন মুজিব, করিম জানাত।
শেষটা জয়ে রঙিন হলো মাসাকাদজার
২০সেপ্টেম্বর,শুক্রবার,ক্রীড়া ডেস্ক,নিউজ একাত্তর ডট কম: অবশেষে জয় পেল জিম্বাবুয়ে। জয়টা অধরাই থেকে যেত এই সিরিজে। এই ম্যাচটাই শেষ ম্যাচ হ্যামিল্টন মাসাকাদজার। ত্রিদেশীয় সিরিজ শুরুর আগেই ঘোষণা দিয়ে রেখেছিলেন জিম্বাবুয়ের এই গ্রেট ক্রিকেটার। আজকের ম্যাচটা তাই অনেক গুরুত্বের ছিল জিম্বাবুয়ের জন্য। জয়ের জন্য ১৫৬ রানের লক্ষ্য পায় জিম্বাবুয়ে। আগে ব্যাট করতে নেমে আফগান ওপেনার রাহমানুল্লাহ গুলবাজের ৪৭ বলে ৬১ আর হযরতুল্লাহ জাযাই করেন ৩১ রান। জবাবে ব্যাট করতে নেমে শুরু থেকেই আফগান বোলারদের উপর চড়াও হন জিম্বাবুয়ের দুই ওপেনার হ্যামিল্টন মাসাকাদজা ও ব্রেন্ডন টেইলর। পাওয়ার-প্লেতেই আসে ৪৬ রান। দলীয় ৪০ রানের মাথায় ১৯ রানে বিদায় নেন টেইলর। কিন্তু মাসাকাদজা ট্যাঁর শেষটা রঙিন করে নিয়েছেন ঠিকই। রশিদ খান, মুজিবদের বল একের পর এক বাউন্ডারিতে পাঠিয়ে তুলে নেন ২৭ বলে অর্ধশতক। দলকে প্রায় জিতিয়ে দিচ্ছিলেন একাই। ১২ ওভার ৫ বলে দলীয় ১১০ রানের মাথায় ৪২ বলে ৭১ রান করে ফেরেন সাজঘরে। ততোক্ষণে দলের জয়টা সময়ের ব্যপার জিম্বাবুয়ের। রেগিস চাকাবার ব্যাটে আসে ৩৯ রান। শেষদিকে শেন উইলিয়ামসের ২১ রানে ভর করে ১৯ ওভার ৩ বলে জয় তুলে নেয়। জয় পেতে মাত্র ৩ উইকেট হারাতে হয় জিম্বাবুয়েকে। জয়ের রঙে রঙিন সমাপ্তি ঘটলো মাসাকাদজার দীর্ঘ ১৯ বছরের বর্ণিল ক্যারিয়ারের। দীর্ঘ এই ক্যারিয়ারে ৩৮ টেস্টে তার রান ২ হাজার ২২৩ ও ২০৯ ওয়ানডেতে করেছেন ৫ হাজার ৬৫৮ রান। টি-টোয়েন্টিতে দেশের হয়ে সর্বোচ্চ ১ হাজার ৬৬২ রানের সঙ্গে আছে সর্বাধিক ১১টি অর্ধশতক। তিন ফরম্যাট মিলে ৫৭টি উইকেটও নিয়েছেন হ্যামিল্টন মাসাকাদজা।
চাপে আছে বাংলাদেশ : উইলিয়ামস
১৭সেপ্টেম্বর,মঙ্গলবার,ক্রীড়া প্রতিবেদক,নিউজ একাত্তর ডট কম: ত্রিদেশীয় সিরিজের প্রথম ম্যাচে জিম্বাবুয়ের সঙ্গে জিতে উড়তে থাকা বাংলাদেশ দল বড় ধাক্কা খায় দ্বিতীয় ম্যাচে আফগানিস্তানের কাছে হেরে। ঘরের মাঠে বাংলাদেশের এমন করুণ পরিণতি মেনে নিতে পারছে না দেশের সমর্থকেরাও। তবে ফাইনালে যেতে চট্টগ্রামে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে ম্যাচটা জিততেই হবে আগামীকাল বুধবার। আর টুর্নামেন্টে টিকে থাকতে হলে বাংলাদেশকে হারানো ছাড়া কোনও পথ নেই জিম্বাবুয়ের সামনে। আফগানদের কাছে জিম্বাবুয়ে হারলেও লড়াই করে হেরেছিল, তবে বাংলাদেশ লড়াইও করতে পারেনি আফগানদের সঙ্গে। ঘরের মাঠে এমন হারের পর স্বাগতিক দলের চাপে থাকাটাই স্বাভাবিক। এই চাপটা কাজে লাগাতে চায় জিম্বাবুয়ে। চট্টগ্রামের জহুর আহমেদ চৌধুরী স্টেডিয়ামে মঙ্গলবার সকালে অনুশীলন করে জিম্বাবুয়ে দল। এখানে কথা বলেন দলটির সিনিয়র ক্রিকেটার শন উইলিয়ামস কথা বলেন গণমাধ্যমের সঙ্গে। উইলিয়ামস জানান, দ্বিতীয় ম্যাচে হেরে ওরা (বাংলাদেশ) চাপে আছে। এই চাপটা আমাদের কাজে লাগাতে হবে। আপাতত আমরা নিজেদের কাজটা ঠিকভাবে চালিয়ে যাচ্ছি যাতে ম্যাচে প্রভাব বিস্তার করা যায়। সিরিজের প্রথম ম্যাচেও বাংলাদেশকে ভুগিয়ে ছেড়েছে জিম্বাবুয়ে। বলা যায়, হারতে হারতে জয় পায় বাংলাদেশ। দলের সিনিয়ররা যখন একের পর এক ব্যর্থ, তখন তরুণ আফিফ হোসেনের ব্যাটে ভর করে ৩ উইকেটের জয় পায় বাংলাদেশ। তাতেও বাংলাদেশের প্রতি সমীহের কমতি নেই জিম্বাবুয়ের। উইলিয়ামস স্বীকার করেন, ঘরের মাঠে বাংলাদেশ সবসময়ই কঠিন প্রতিপক্ষ। বাংলাদেশ খুব দল। ওদের দলে ভালো অলরাউন্ডার আছে। এই ফরম্যাটে যেকোনো কিছুই হতে পারে। ওদের দারুণ কিছু অভিজ্ঞ ক্রিকেটার আছে যেমন সাকিব, মাহমুদউল্লাহ, মুশফিক। ওরা সবাই দারুণ ক্রিকেটার। তবে আমরা নিজেদের কাজে মনোযোগ দিতে চাই, নিজেদের কাজগুলি করতে চাই নিজেদের জন্য। কেন না, সূক্ষ্ম ব্যাপারগুলো পার্থক্য গড়ে দেয় টি-টোয়েন্টি ম্যাচে।
চ্যালেঞ্জিং লক্ষ্য পেল বাংলাদেশ
১৫সেপ্টেম্বর,রবিবার,ক্রীড়া প্রতিবেদক,নিউজ একাত্তর ডট কম:১৯ রানেই নেই ৩ উইকেট। মনে হচ্ছিল, এবার অল্পতেই গুটিয়ে যাবে আফগানিস্তান। কিন্তু শেষতক দেখা গেল উল্টো চিত্র। মোহাম্মদ নবীর বিধ্বংসী এক ইনিংসে এই আফগানিস্তানই ৬ উইকেটে তুলেছে ১৬৪ রান। অর্থাৎ জিততে হলে ১৬৫ করতে হবে বাংলাদেশকে। মিরপুরে টস জিতে প্রথমে ব্যাটিংয়ে নেমে শুরুতেই চাপে পড়েছিল আফগানিস্তান। ইনিংসের প্রথম ডেলিভারি, আফগানিস্তানের ওপেনার রহমানউল্লাহ গুরবাজ বলটা ডিফেন্সই করেছিলেন। কিন্তু মোহাম্মদ সাইফউদ্দীন এমনই আনপ্লেয়বল এক ডেলিভারি দিলেন, ডিফেন্ড করেও উইকেটটা ধরে রাখতে পারলেন না আফগান ওপেনার। সাইফউদ্দীনের আউটসুইং ডেলিভারিটি উইকেটে লেগে স্ট্যাম্প কয়েক চক্কর ঘুরতে ঘুরতে বাতাসে ভাসতে থাকে। আসলেই চোখ ধাঁধিয়ে দেয়ার মতো এক ডেলিভারি, বিস্ময়ে তাকিয়ে রইলেন সবাই। শুরুতে উইকেট হারিয়েও অবশ্য থেমে থাকেনি আফগানিস্তান। দ্বিতীয় ওভার চলছিল তখন। সাকিবের চতুর্থ বলটি তুলে মারতে গিয়েছিলেন আরেক ওপেনার হজরতউল্লাহ জাজাই। কিন্তু বল অনেক ওপরে ওঠলেও সীমানা দড়ি পর্যন্ত যায়নি, ১ রানেই লিটন দাসের ক্যাচ হন জাজাই। তৃতীয় ওভারে এসে আরও এক উইকেট তুলে নেন সাইফউদ্দীন। ১৩ বলে ১১ রান করে নাজিব তারাকাই লেগ সাইডের বাউন্ডারিতে হন সাব্বির রহমানের ক্যাচ। তৃতীয় উইকেটে একটু প্রতিরোধ নাজিবুল্লাহ জাদরান আর আসগর আফগানের। তাদের ১৭ বলে ২১ রানের জুটিটি ভাঙেন সাকিব, নাজিবুল্লাহকে (৫) মিডঅফে সৌম্য সরকারের ক্যাচ বানিয়ে। ৪০ রানে ৪ উইকেট হারায় আফগানিস্তান। সেখান থেকে বড় এক জুটি মোহাম্মদ নবী আর আসগরের। ৫৩ রানেই এই জুটিটি আটকে যেতে পারতো। তাইজুল ইসলামকে তুলে মারতে গিয়ে বাউন্ডারিতে ক্যাচ হয়েছিলেন নবী, তিনি তখন ৩০ রানে। কিন্তু দুর্ভাগ্যজনকভাবে ওভারস্টেপিংয়ের কারণে সেই বলটি নো হয়ে যায়। নবী-আফগানের এই জুটিটিই ঘাম ঝরিয়েছে টাইগারদের। ৬২ বলে ৭৮ রান যোগ করেন তারা। কিছুতেই কিছু হচ্ছিল না। ১৭তম ওভারে আবারও সাইফউদ্দীনের হাতে বল তুলে দেন সাকিব। আর বল হাতে নিয়েই আরেকবার ঝলক দেখান এই অলরাউন্ডার। ৩৫ বলে ৪০ রান করা আসগরকে সাব্বিরের ক্যাচ বানান দ্বিতীয় বলে, পঞ্চম বলে দুর্দান্ত এক ইনসুইংগারে বোল্ড করেন গুলবাদিন নাইবকে । তবে নবী ঠিকই হাফসেঞ্চুরি তুলে নেন, ৪১ বলে। পরের সময়টায় তো আরও ভয়ংকর হয়ে উঠেন। আফগানিস্তানের বড় সংগ্রহ গড়ার কারিগর ছিলেন আসলে এই অলরাউন্ডারই। ৫৪ বলে ৮৪ রানে অপরাজিত থাকেন নবী, যে ইনিংসে ৩টি চারের সঙ্গে তিনি হাঁকিয়েছেন ৭টি ছক্কা! বাংলাদেশের পক্ষে বল হাতে সবচেয়ে সফল সাইফউদ্দীন। প্রথম তিন ওভারে ১৬ রান দিয়ে ৪ উইকেট নিলেও অবশ্য শেষ ওভারের ১৭ রান খরচায় মোট দিয়েছেন ৩৩। ৪ ওভারে ১৮ রান দিয়ে ২টি উইকেট নেন সাকিব।
নারী নির্যাতন মামলা থেকে রেহাই পেলেন ক্রিকেটার যুবরাজ সিং
১৩সেপ্টেম্বর,শুক্রবার,ক্রীড়া ডেস্ক,নিউজ একাত্তর ডট কম: নারী নির্যাতনের মামলা থেকে রেহাই পেলেন ক্রিকেটার যুবরাজ সিং ও তার পরিবারের লোকজন। বিগ বস-১০ এর প্রতিযোগী আকাঙ্ক্ষা শর্মা ৪ বছর আগে তার স্বামী জোরাভর সিং, দেবর যুবরাজ সিং, শাশুড়ি শবনম সিংয়ের বিরুদ্ধে মামলা করেছিলেন। আকাঙ্ক্ষা অভিযোগ করেছিলেন, যুবরাজ সিংয়ের ভাই জোরাভর ও পরিবারের লোকজন তার উপর মানসিক নির্যাতন করতেন। এ ঘটনায় তিনি যুবরাজ সিং, তার ভাই জোরাভর ও শাশুড়ির বিরুদ্ধে আদালতে মামলা করেন। পরে আদালত আকাঙ্ক্ষা ও জোরাভরের বিবাহবিচ্ছেদের নির্দেশ দেন। এদিকে, যুবরাজ ও তার পরিবারের উপর থেকে যাবতীয় অভিযোগ তুলে নিয়েছেন আকাঙ্ক্ষা। তিনি বলেন,আমার জন্য যুবরাজ ও তার পরিবারের কারও সম্মানহানি হলে আমি ক্ষমাপ্রার্থী। আদালত আমার দাম্পত্য জীবনে বিচ্ছেদের সম্মতি দিয়েছে। সব জায়গায় নিজের অভিযোগ জানানো হয়তো আমার উচিত হয়নি। আদালতের বাইরে যুবির পরিবারের লোকজনের কাছে ক্ষমাও চেয়েছেন আকাঙ্ক্ষা। সূত্র: ইন্ডিয়া টুডে