বুধবার, মে ২৩, ২০১৮
ত্রিদেশীয় সিরিজের আজকের খেলায় বাংলাদেশকে হারাতে চায় জিম্বাবুয়ে
সিরিজে এখন যে অবস্থা তাতে শ্রীলঙ্কা-জিম্বাবুয়ের দুই দলই এখন বাংলাদেশের কৃপাপ্রার্থী হতে পারে।ত্রিদেশীয় সিরিজে পয়েন্ট তালিকার এখন যে অবস্থা তাতে বাংলাদেশের সাধারণ কোনো ক্রিকেটপ্রেমী এ রকম বলে ফেললে তাঁকে দোষ দেওয়া যাবে না। নিজেদের মধ্যে একটি করে ম্যাচ জিতে এখন মোটামুটি একই বিন্দুতে দাঁড়িয়ে জিম্বাবুয়ে ও শ্রীলঙ্কা। দুই দলের পয়েন্টই সমান (৪), তবে নেট রানরেটের ব্যবধানে সামান্য এগিয়ে জিম্বাবুয়ে। কাজেই ফাইনালে যাওয়াটা দুই দলের জন্যই নির্ভর করছে বাংলাদেশের বিপক্ষে ম্যাচের ওপর। কাল অনুশীলন শেষে জিম্বাবুয়ের মিডল অর্ডার ব্যাটসম্যান পিটার মুরও বলে গেলেন সে কথা, আমরা একটি লক্ষ্য নিয়ে এখানে এসেছি, শুধু অংশগ্রহণের জন্য নয়। বাংলাদেশের বিপক্ষে ভালো খেলতে দলের সবাই খুবই আত্মবিশ্বাসী। ফাইনাল খেলতে পারলে সেটা বিশাল ব্যাপার হবে দলের জন্য। মার্চে অনুষ্ঠেয় বিশ্বকাপ বাছাইপর্বের জন্য জিম্বাবুয়ে আত্মবিশ্বাস নিয়ে যেতে পারে বাংলাদেশের এই ত্রিদেশীয় সিরিজ থেকেই। কিন্তু প্রথম ম্যাচে অমন হতাশা-জাগানিয়া হারের পর বাংলাদেশকে হারানোর স্বপ্নটা কি দুঃসাহস হয়ে যাচ্ছে না! মুর একেবারেই একমত নন এর সঙ্গে, প্রথম ম্যাচে অনেক কিছুই আমাদের নিয়ন্ত্রণে ছিল না। কিন্তু উইকেট আর কন্ডিশনের সঙ্গে মানিয়ে নেওয়ার পর দ্বিতীয় ম্যাচে আমরা সামর্থ্যের প্রমাণ দিয়েছি। আমাদের সম্ভাবনাগুলো কাজে লাগাতে পারলে বাংলাদেশকে হারানো সম্ভব। তবে বলাটা যত সহজ, করে দেখানোটা যে অত সহজ নয়, সেটা স্বীকার করছেন জিম্বাবুয়ের এই ক্রিকেটার, আমরা সবাই জানি, বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় শক্তি স্পিন। তা ছাড়া শেষের দিককার ওভারগুলোয় মোস্তাফিজ আর রুবেল রীতিমতো ভয়ংকর। এই বিষয়গুলো বিবেচনায় এনেই আমরা প্রস্তুতি নিয়েছি। ম্যাচের গুরুত্বপূর্ণ পরিস্থিতিগুলোর নিয়ন্ত্রণ নিতে হবে। আমার বিশ্বাস আমরা সেটা করতে সক্ষম। জিম্বাবুয়ে আজ সত্যিই বাংলাদেশকে হারিয়ে দিলেও তাতেই সবকিছু হয়ে যাচ্ছে না। চাতকের মতো চেয়ে থাকতে হবে বাংলাদেশ-শ্রীলঙ্কা ম্যাচের দিকে। আপাতত অত দূর না ভেবে নিজেদের কাজ নিয়েই ভাবতে চায় ক্রেমারের দল। জিম্বাবুয়েকে ভাবাচ্ছে মিরপুরের উইকেটও। তিন ম্যাচে তিন ধরনের উইকেট পেয়ে খানিকটা অবাক মুর, আমরা যে তিনটা ম্যাচ খেলেছি, তিন ম্যাচের উইকেটই আলাদা। সেটা এক দিয়ে ভালো, তিনটি উইকেট সম্পর্কে একটা ভালো ধারণা হয়ে গেছে। কোনো দিন ২৮০ ভালো স্কোর, কোনো দিন ২৫০ আবার কোনো দিন ২০০ রানও ভালো। এখন আমাদের কাজ হলো, যে উইকেটই বাংলাদেশ তৈরি করুক না কেন তার জন্য প্রস্তুত থাকা। যত দ্রুত সম্ভব উইকেটের সঙ্গে মানিয়ে নেওয়া। জিম্বাবুয়ের ফাইনালে যাওয়ার স্বপ্ন পূরণের প্রাথমিক শর্ত সেটাই।
জিম্বাবুয়েকে হারিয়ে ফাইনালে উঠার লড়াইয়ে টিকে থাকলো শ্রীলংকা
ত্রিদেশীয় সিরিজে টানা দুই ম্যাচ হারের পর অবশেষে জয়ের মুখ দেখলো শ্রীলঙ্কা। জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে ৫ উইকেটের জয় পেলো তারা। কোচ হাথুরুসিংহের অধীনে এটি লঙ্কানদের প্রথম জয়। এ জয়ে টুর্নামেন্টের ফাইলের স্বপ্ন বাঁচিয়ে রাখলো লঙ্কানরা। কাজটা সহজ করে রেখেছিলেন বোলারাই। জিম্বাবুয়েকে আটকে দিয়েছিলেন ১৯৮ রানে। জবাবে শুরু থেকে দেখেশুনে খেলতে থাকা লঙ্কানদের ওপেনিং জুটি ভাঙে ৩৩ রানে। ১৭ রানে চাতারা বোল্ড করে ফেরান থারাঙ্গাকে। এরপর দুই কুশালের ৭০ রানের জুটিতে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে নেয় শ্রীলঙ্কা। তবে অর্ধশতক থেমে মাত্র ১ রান কম থাকতে মুজারিবানির বলে ফিরে যান কুশাল পেরেরা। কিছুক্ষণ পরেও ফেরেন কুশাল মেন্ডিস। মুজারিবানির দ্বিতীয় শিকারে পরিণত হবার আগে তার ব্যাট থেকে আসে ৩৬ রান। এরপর মাত্র ৭ রানে নিরোশান ডিকওয়েলা এবং ৯ রানে গুনারত্নে ফিরে গেলে কিছুটা চাপে পড়ে শ্রীলঙ্কা। তবে থিসারা পেরেরাকে সঙ্গে নিয়ে দলকে জয়ের বন্দরে পৌঁছে দেন অধিনায়ক দিনেশ চান্দিমাল। পেরেরা ৩৯ এবং চান্দিমাল অপরাজিত থাকেন ৩৮ রানে। এরআগে টস জিতে ব্যাটিংয়ে নেমে ভালই শুরু করে জিম্বাবুয়ে। তবে, ৪৪ রানে ওপেনিং জুটি ভাঙ্গেন থিসারা পেরেরা। তার পরই থিসারার জোড়া আঘাতে দ্রুতই ফেরেন ক্রেইগ আরভিন ও সলোমন মিরে। দলীয় ৫৬ রানে ৩ উইকেট হারানোর ধাক্কা সামলে উঠতে পারেনি আফ্রিকার দেশটি। নিয়মিত বিরতিতে উইকেট হারিয়েছে জিম্বাবুয়ে। প্রতিরোধ গড়া চেস্টা করেছেন ব্রেন্ডন টেইলর। কিন্তু, যোগ্য সঙ্গী পাননি। শেষ পর্যন্ত টেইলরের ৫৮ রানে ৬ ওভার বাকি থাকতে জিম্বাবুয়ে অলআউট হয় ১৯৮ রানে। থিসারা পেরেরা নেন ৪ উইকেট। জবাব দিতে নেমে সাবধানে শুরু করে লঙ্কানরা। কিন্তু, দলীয় ৩৩ রানে প্যাভিলিয়নে ফেরেন উপল থারাঙ্গা। এরপর অবশ্য উইকেট আগলে কুশল পেরেরা ও মেন্ডিস ৭০ রানে জুটি গড়েন। ফিফটি থেকে ১ রান দুরে থাকতে ফেরেন কুশল পেরেরা।
রেকর্ড ১৬৩ রানে জিতে ফাইনালে বাংলাদেশ
ঘরের মাঠে ২০০৮ সালের পর এই প্রথম অনুষ্ঠিত হচ্ছে ত্রিদেশীয় ক্রিকেট সিরিজ। ১০ বছর পর অনুষ্ঠানরত এই টুর্নামেন্টের ফাইনাল নিশ্চিতই হয়ে গেছে বাংলাদেশের। আজ নিজেদের দ্বিতীয় ম্যাচে শ্রীলঙ্কাকে ১৬৩ রানে হারিয়েই ফাইনালের টিকিট কেটে ফেলেন মাশরাফি-সাকিবরা। প্রশ্ন হতে পারে, কীভাবে? এই সিরিজে ম্যাচ জিতলে জয়ী দল পাচ্ছে ৪ পয়েন্ট করে। বোনাস পেলে যোগ হয় আরও ১ পয়েন্ট। প্রথম ম্যাচেও জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে ৮ উইকেটের বড় জয় পেয়েছিল বাংলাদেশ। বোনাস পয়েন্টটাও পাওয়া গিয়েছিল। আজও শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে জয়ে বোনাস পয়েন্ট যোগ হয়েছে বাংলাদেশের মোট পয়েন্টের সঙ্গে। দুই ম্যাচে জয়ের পয়েন্ট, সেই সঙ্গে বোনাস—বাংলাদেশের মোট পয়েন্ট এখন ১০। শ্রীলঙ্কা ও জিম্বাবুয়ে-দুই দলেরই আর দুটি করে ম্যাচ জেতা সম্ভব নয়। জিম্বাবুয়ে যদি দুই ম্যাচ জেতে, তাহলে অন্তত এক ম্যাচ হারতেই হবে শ্রীলঙ্কাকে, কারণ একটা ম্যাচে মুখোমুখি হবে তারা। শ্রীলঙ্কারও অবস্থা একই। একই অঙ্ক কষতে হচ্ছে তাদের। সিরিজে দুটি করে খেলা বাকি তিন দলেরই। লঙ্কানরা পরের ২টি ম্যাচ জিতলে তাদের পয়েন্ট হবে সর্বোচ্চ ১০ (বোনাসসহ)। বাংলাদেশ পরের দুটি হারলে ১০ পয়েন্ট কিন্তু থাকছেই। জিম্বাবুয়ে শ্রীলঙ্কাকে হারানোয় তাদের পয়েন্ট ৪। তারা সে ম্যাচে কোনো বোনাস পায়নি। তারা যদি পরের দুটি ম্যাচ জেতে (বোনাস নিয়ে), তাহলে তাদের পয়েন্ট হবে ১৪। দুটি ম্যাচ জিতলে শ্রীলঙ্কাকে অবশ্যই হারতে হবে। সে ক্ষেত্রে বাংলাদেশের ফাইনাল নিশ্চিতই। শ্রীলঙ্কা পরের দুই ম্যাচে বোনাস পয়েন্টসহ জিতলে তাদের সর্বোচ্চ পয়েন্ট হবে ১০। জিম্বাবুয়ে তখন বাংলাদেশকে বোনাসসহ হারালেও ৯ পয়েন্টের বেশি পাবে না। সে ক্ষেত্রে ফাইনালে চলে যাবে শ্রীলঙ্কাই।
মিরপুর স্টেডিয়ামের শততম ওয়ানডেতে শ্রীলংকার বিপক্ষে রোমাঞ্চকর জয় জিম্বাবুয়ের
থিসারা পেরেরা দুর্দান্ত লড়াইয়ের পরেও জিততে পারলো না শ্রীলঙ্কা। ত্রিদেশীয় সিরিজে নিজেদের প্রথম ম্যাচে জিম্বাবুয়ের কাছে হারলো ২ রানে। চান্ডিকা হাথুসিংহে দায়িত্ব নেয়ার পর প্রথম ম্যাচেই হার দেখতে হলো লঙ্কানদের। বড় টার্গেটে খেলতে নেমে মাত্র ১১ রান করে ফিরে যান অভিজ্ঞ ওপেনার উপল থারাঙ্গা। স্কোরবোর্ডে কোন রান যোগ না করেই চাতারার শিকার হন কুশাল মেন্ডিস। দ্রুত দুই উইকেট হারিয়ে চাপে পড়া দলকে টেনে তোলে কুশাল-ম্যাথুসের ৮৫ রানের জুটি। ৪২ রান করে দলকে শক্ত অবস্থান এনে দিলেও ৬৪ বল খরচ করে ফেলেন অধিনায়ক ম্যাথুস। তবে একপাশ থেকে হিসেবি ব্যাট করে যান কুশাল। সিকান্দার রাজার বলে মুজারাবানির হাতে ক্যাচ দেয়ার আগে কুশাল করেন ৮০ রান। পঞ্চম উইকেটে চান্দিমালের কার্যকরী ৩৪ রানের পর আর কেউ সেভাবে দাঁড়াতে পারেননি। তবে দায়িত্ব নিয়ে একাই লড়েছেন থিসারা। চাপের মধ্যেও ৬৪ রান করেন মাত্র ৩৭ বল খরচ করে। অসাধারণ ব্যাটিংয়ে দলকে জয়ের স্বপ্ন দেখান। চাতারার হাই ফুলটসে হাঁকিয়েছিলেন ছক্কার আশায় তবে এবার আর হলো না। ডিপ মিডউইকেটে ধরা পড়েন সিকান্দার রাজার হাতে। পেরেরা ফেরার সময় শ্রীলঙ্কার দরকার ছিলো ১৫ রান। শেষ পর্যন্ত ১.৫ ওভার বাকি থাকতেই ১২ রানে হেরে যায় শ্রীলঙ্কা। মিরপুর শের-ই বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামের শতক পূরণের ম্যাচে চতুর্থ সর্বোচ্চ রান তাড়া করে জেতার রেকর্ড গড়লো শ্রীলঙ্কা। এরআগে ২০১২ সালে পাকিস্তানের ৩৩০ রানের টার্গেটে জিতেছিলো ভারত। ২০১৪ সালে বাংলাদেশের ৩২৭ রান টপকেছিলো পাকিস্তান। একইবছর ভারতের দেয়া ২৯৭ রানের লক্ষ্য পার করেছিলো বাংলাদেশ। এরআগে দুপুরে টস জিতে জিম্বাবুয়েকে ব্যাটিংয়ে পাঠায়। সিকান্দার রাজার দুর্দান্ত ব্যাটিংয়ে লঙ্কানদের সামনে ২৯১ রানের লড়াকু টার্গেট দাঁড় করায় গ্রায়েম দল। দলের জন্য দুর্দান্ত শুরু এনে দেন দুই ওপেনার সুলেমান মিরে এবং হ্যামিলটন মাসাকাদজা। দলীয় ৭৫ রানে প্রথম উইকেট হারায় জিম্বাবুয়ে। ৩৪ রানে থিসারা পেরেরার শিকার হয়ে ফেরেন মিরে। আর ৭৩ রানের দারুণ এক ইনিংস খেলে থামেন মাসাকাদজা। ক্রেইগ এরভিন (২) অবশ্য দাঁড়াতে পরেননি তবে ব্রেন্ডন টেইলের সঙ্গে জুটি বেঁধে দলকে বড় সংগ্রহের দিকে নিয়ে যান দারুণ ফর্মে থাকা সিকান্দার রাজা। ৫১ বলে ৩৮ রানের হিসেবি ইনিংস খেলে ফেরেন টেইলর। তবে একপাশ আগলে লড়ে যান রাজা। তুলে ব্যাক টু ব্যাট হাফসেঞ্চুরি। ওয়ানডে ক্রিকেটে ক্যারিয়ারের দশম সেঞ্চুরি হাঁকানোর দিনে রাজা অপরাজিত থাকেন ৮১ রানে। ৬৭ বলের ইনিংসটি তিনি সাজিয়েছেন ৮ চার এবং ১ ছক্কায়। শেষ পর্যন্ত জিম্বাবুয়ের ইনিংস শেষ হয় ২৯০ রানে। সংক্ষিপ্ত স্কোর জিম্বাবুয়ে: ২৯০/৬ (মাসাকাদজা ৭৩, রাজা ৮১; পেরেরা ২/৪৩, গুনাথিলাকা ৩/৩৭) শ্রীলঙ্কা: ২৭৮/১০ (কুশাল ৮০, থিসারা ৬৪; চাতারা ৪/৩৩) ফলাফল: জিম্বাবুয়ে ১২ রানে জয়ী।
দাঁড়াতেই পারলো না ভারত, ২৫ বছরের হিসাব মিলল না
দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে দ্বিতীয় টেস্টে বড় ব্যবধানে হেরে গেলো ভারত। ফলে এক ম্যাচ হাতে রেখেই তিন ম্যাচের সিরিজ নিশ্চিত করলো স্বাগতিক দক্ষিণ আফ্রিকা। সংক্ষিপ্ত স্কোর: দক্ষিণ আফ্রিকা: ৩৩৫ এবং ২৫৮ ভারত: ৩০৭ এবং ১৫১ ফলাফল: দক্ষিণ আফ্রিকা ১৩৫ রানে জয়ী। ম্যাচসেরা: লুঙ্গিসানি এনগিডি পা-চ-চি-শ সাল কা হিসাব, বিজ্ঞাপনটা যে ভারতীয় গণমাধ্যমের বাড়াবাড়ি ছিল, সেটা সফরের আগেই বোঝা গিয়েছিল। তবু একটু আশা নিশ্চয় ছিল ভারতীয়দের। হাজার হলেও টেস্টের এক নম্বর দল তারা। কিন্তু সব আশা দুই সপ্তাহের মধ্যেই মিইয়ে গেল। সেঞ্চুরিয়ন টেস্টে ১৫১ রানে অলআউট হয়ে ১৩৫ রানে হেরেছে ভারত। সেই সঙ্গে এক টেস্ট আগেই সিরিজ হেরে গেছে সফরকারীরা। ২৫ বছর পুরোনো হিসাব আর মেলানো হলো কই! টেস্টে গত দুই বছর প্রায় স্বর্ণযুগ পার করেছে ভারত। শ্রীলঙ্কায় গিয়ে প্রথমবারের মতো টেস্ট সিরিজ জয়, দেশের মাটিতে অতিথি সব দলকে নাকানি-চোবানি খাওয়ানো। সময়-সুযোগ পেলে ক্যারিবীয় দ্বিপপুঞ্জে গিয়ে ক্যালিপসো সুরের সুধা পান করে টেস্ট র্যাাঙ্কিংয়ের চূড়ায় চলে গেছে বিরাট কোহলির দল। তাই দক্ষিণ আফ্রিকা সফরের আগে প্রত্যাশার বুদ্বুদ প্রায় গ্যাস বেলুন হয়ে উড়ে বেড়াচ্ছিল আকাশে। প্রোটিয়া পেস আক্রমণের তেজে বেলুনটা চুপসে গেল এক লহমায়। ২৮৭ রানের লক্ষ্য। সেটাই অনেক কঠিন হয়ে গিয়েছিল গতকাল। দুই ওপেনার আর অধিনায়ক কোহলি যে একদিন আগেই বিশ্রামে চলে গেলেন টেস্ট থেকে। ৩ উইকেট হারিয়ে তাই শেষ দিন শুরু করতে হয়েছে ভারতকে। জয়ের জন্য আজ দরকার ছিল ২৫২ রান। ধারাভাষ্যকার বলুন কিংবা বিশেষজ্ঞ সবাই ভারতের জয়ের সব দায়িত্ব চাপিয়ে দিলেন চেতেশ্বর পূজারার কাঁধে। এমন চাপই বোধ হয় কাল হলো। দিনের ১৯তম বলেই দৌড়ে তিন রান নিতে গিয়ে রানআউট পূজারা। ক্রিকেট ইতিহাসের ২৩তম ব্যাটসম্যান হিসেবে টেস্টের দুই ইনিংসে রানআউট হয়েছেন, এই রেকর্ড নিশ্চয়ই পোড়াবে তাঁকে। ৪৯ রানে চতুর্থ উইকেট হারাল ভারত। সেটা ৭ উইকেটে ৮৭ হয়ে গেল কিছু বুঝে ওঠার আগেই। লুঙ্গি এনগিডি ও কাগিসো রাবাদার পেস ও বাউন্স যে বুঝেই উঠতে পারছিলেন না বিশ্বসেরা ব্যাটিং লাইনআপ। তখন থেকেই ভারতের পরাজয়ের প্রহর গোনা শুরু। রোহিত শর্মা ও মোহাম্মদ শামি শেষ চেষ্টা করলেন। তবু ৫৪ রানে এক জুটি সে সময় খড়কুটো দিয়ে উত্তাল সাগরে ভাসার চেষ্টা। রাবাদার বলে শর্মা ফিরলেন। আর শেষটা করলেন এনগিডি। ৩৯ রানে ৬ উইকেট পাওয়া এনগিডি আবারও প্রমাণ করলেন, বোলারদের অভিষেক করানোর জন্য ভারতই সবচেয়ে প্রিয় প্রতিপক্ষ। দুই ইনিংস মিলিয়ে ৯০ রানে ৭ উইকেট নিয়ে উজ্জ্বল ভবিষ্যতের কথা জানিয়েছেন এই ফাস্ট বোলার। ভবিষ্যতের কথা হয়তো ভাবতে শুরু করেছে ভারতও। ২৫ তো মেলানো গেল না, ২৭/২৮/...বছরের হিসাব মেলাতে হবে তো!
ত্রিদেশীয় সিরিজে আজ জিম্বাবুইয়ে- শ্রীলঙ্কা ম্যাচ
ত্রিদেশীয় সিরিজ শুরু হয়েছে সোমবার। আজ সিরিজের দ্বিতীয় ম্যাচ অনুষ্ঠিত হবে। ম্যাচটিতে মিরপুর শেরেবাংলা স্টেডিয়ামে দুপুর ১২টায় শ্রীলঙ্কা-জিম্বাবুইয়ে লড়াই করবে। এই ম্যাচটির আগে জিম্বাবুইয়ে একটি ম্যাচ খেলেও ফেলেছে। দলটি হেরেছে। স্বাগতিক বাংলাদেশের কাছে ৮ উইকেটের বড় ব্যবধানে হেরেছে। শ্রীলঙ্কা সিরিজের নিজেদের প্রথম ম্যাচ খেলতে নামবে। ম্যাচটিতে জিততে চায় দুই দলই। সেই চাওয়া স্বাভাবিকভাবেই আসার কথা। বাংলাদেশের কাছে ৮ উইকেটে হেরে সিরিজে বিপাকে আছে জিম্বাবুইয়ে। আজ হারলে সিরিজের ফাইনালে ওঠার স্বপ্ন বাস্তবায়ন নাও হতে পারে। আর শ্রীলঙ্কার জন্য এ ম্যাচটিতে জেতা অনেক গুরুত্বপূর্ণ। কারণ দলটি সেই গত বছর জুন-জুলাই থেকেই টানা হারের মধ্যে আছে। সিরিজে জিতলে প্রথম ম্যাচেই তাদের জেতা হবে। সামনে এগিয়ে যাওয়ার আত্মবিশ্বাস মিলবে। এ সিরিজের আগে শ্রীলঙ্কা ও জিম্বাবুইয়ে দুই দল পরস্পরের বিপক্ষে গত বছর জুন-জুলাইয়ে পাঁচ ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজ খেলেছে। শ্রীলঙ্কার মাটিতে হয়েছে সিরিজটি। সিরিজে শ্রীলঙ্কা ৩-২ ব্যবধানে হেরেছে। সেটিই জিম্বাবুইয়ের শেষ ওয়ানডে সিরিজ ছিল। শ্রীলঙ্কা এরপর কয়েকটি সিরিজ খেলেছে। প্রতিটিতেই হেরেছে। কিন্তু জিম্বাবুইয়ে নিজেদের সর্বশেষ সিরিজে জয় পেয়েছে। শ্রীলঙ্কার বিপক্ষেই। তাই জিম্বাবুইয়ের আত্মবিশ্বাস আছে। অবশ্য ত্রিদেশীয় সিরিজের প্রথম ম্যাচ হারায় সেই আত্মবিশ্বাসে ঘাটতি থাকাটাই স্বাভাবিক। বাংলাদেশের মাটিতে শুক্রবার পা রেখেছে জিম্বাবুইয়ে। পরেরদিন একটি প্রস্তুতি ম্যাচ ছিল। কিন্তু দেরিতে আসায় সেই প্রস্তুতি ম্যাচটি খেলতে পারেনি। দুইদিন অনুশীলন করেই বাংলাদেশের বিপক্ষে খেলতে মাঠে নেমে পড়তে হয়েছে। প্রস্তুতি ম্যাচটি খেললে জিম্বাবুইয়ে হয়তো আরও ভাল খেলত। শ্রীলঙ্কা বাংলাদেশের মাটিতে পা রেখেছে শনিবার। জিম্বাবুইয়ের চেয়ে বেশি প্রস্তুত হওয়ার সুযোগ পেয়েছে। তিনদিন প্রস্তুতি নিয়েছে শ্রীলঙ্কা। এই প্রস্তুতি শেষে আজ তাদের সিরিজের মিশন শুরু করার পালা। আজ যদি জিম্বাবুইয়ে হারে তাহলে ফাইনালে ওঠার পথ কঠিন হয়ে যাবে। আর যদি শ্রীলঙ্কা হারে তাহলেও বিপাকে পড়ে যেতে পারে। গত জুন-জুলাই থেকে শ্রীলঙ্কার যে অবস্থা হয়েছে, টানা ১২ ম্যাচ হেরেছে। তাতে লঙ্কানদের অবস্থা বেগতিক বোঝাই যাচ্ছে। আত্মবিশ্বাসেও ঘাটতি থাকছে বোঝাই যাচ্ছে। এই দুর্বলতায় এখন জিম্বাবুইয়ে আঘাত করতে পারলে জয় তুলেও নিতে পারে। শ্রীলঙ্কা ও জিম্বাবুইয়ে এখন পর্যন্ত ৫৫টি ওয়ানডে খেলেছে। দুটি ম্যাচের রেজাল্ট হয়নি। বাকি ৫৩ ম্যাচের মধ্যে ৪৩টিতেই জিতেছে শ্রীলঙ্কা। জিম্বাবুইয়ে জিতেছে ১০ ম্যাচে। শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে সর্বশেষ দুটি ম্যাচেই জয়ের সুখস্মৃতি রয়েছে জিম্বাবুইয়ের। এখন বাংলাদেশের মাটিতে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে আজ কিছু করতে পারে কিনা জিম্বাবুইয়ে, সেদিকেই সবার নজর থাকছে।
রিয়াল ছেড়ে ম্যাঞ্চেস্টারে ফিরতে পারেন রোনাল্ডো
ক্রিশ্চিয়ানো রোনাল্ডো-কে কি পরের মরসুমে রিয়াল মাদ্রিদে খেলতে দেখা যাবে? স্প্যানিশ প্রচারমাধ্যমের খবর যদি ঠিক হয়, তা হলে কিন্তু সে রকম সম্ভাবনা কম। স্পেনের একটি প্রথম শ্রেণির সংবাদপত্র তো তাদের প্রথম পৃষ্ঠায় বড় করে লিখে দিয়েছে, রোনাল্ডোর নতুন গন্তব্য হতে চলেছে ম্যাঞ্চেস্টার ইউনাইটেড। ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগের যে ক্লাবে তিনি ছবছর কাটিয়ে এসেছেন। কেন হঠাৎ রোনাল্ডো এই সিদ্ধান্ত নিতে পারেন? প্রচারমাধ্যমের খবর অনুযায়ী, রোনাল্ডো নাকি রিয়াল প্রেসিডেন্ট ফ্লোরেন্তিনো পেরেজের ওপর ভীষণ অসন্তুষ্ট। সি আর সেভেন মনে করেন, তাঁকে দেওয়া প্রতিশ্রুতি রাখেনি ক্লাব। তাঁর সঙ্গে কথার খেলার করা হয়েছে। এও জানা গিয়েছে, কার্ডিফে চ্যাম্পিয়ন্স লিগ জেতার পরে নাকি রোনাল্ডোকে প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল, তাঁর সঙ্গে নতুন যে চুক্তি করা হবে, তাতে বর্তমান আর্থিক অঙ্কের চেয়ে তা অনেক বাড়িয়ে দেওয়া হবে। কিন্তু সেই কথা রাখা হয়নি। এও জানা গিয়েছে, কার্ডিফে চ্যাম্পিয়ন্স লিগে রিয়ালকে চ্যাম্পিয়ন করানোর পরে পেরেজ প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন, রোনাল্ডোর সঙ্গে নতুন করে চুক্তি করবে ক্লাব। এবং স্বাভাবিক ভাবেই সেই চুক্তির আর্থিক মূল্য অনেক বেশি হবে। কিন্তু শেষ পর্যন্ত তা হয়নি। রোনাল্ডো নাকি নিজের এই সিদ্ধান্তের কথা তাঁর ঘনিষ্ঠদের জানিয়েও দিয়েছেন। রোনাল্ডো ঘনিষ্ঠ এক জন বলেছেন, যা ঘটেছে, তাতে রোনাল্ডো তীব্র অসন্তুষ্ট। ও মনে করে ওর সঙ্গে বিশ্বাসভঙ্গ করা হয়েছে।রোনাল্ডো এর আগেও ইঙ্গিত দিয়েছিলেন, তিনি রিয়ালেই থাকতে চান, কিন্তু সে জন্য তাঁর শর্ত মানতে হবে। জাপানে ক্লাব কাপের পরে তিনি বলেছিলেন, আমি চাই রিয়ালে খেলেই ফুটবল থেকে অবসর নিতে। কিন্তু সেটা হবে কি না, তা একা আমার পক্ষে বলা সম্ভব নয়। আমি তো ক্লাব চালাই না। ক্লাবের দায়িত্বে অন্য লোক জন আছে। রোনাল্ডোর কথায় সে দিন পরিষ্কার ইঙ্গিত ছিল, তিনি রিয়ালেই থাকতে চান। কিন্তু সে ক্ষেত্রে তাঁর শর্ত মানতে হবে। এবং সেই শর্ত যে পারিশ্রমিক বৃদ্ধি, তা নিয়েও কোনও সন্দেহ নেই। রিয়াল মাদ্রিদের মুখ হয়ে উঠলেও ক্লাব প্রেসিডেন্ট পেরেজের সঙ্গে কিন্তু কখনও সে রকম ভাল সম্পর্ক গড়ে ওঠেনি সি আর সেভেনের। কারণ, ওই সময় বলা হতো রোনাল্ডো আসলে র্যাভমন ক্যাল্দেরনের নিয়ে আসা ফুটবলার। যে কারণে পেরেজের সঙ্গে কখনও সম্পর্কটা সহজ হয়নি পর্তুগিজ মহাতারকার। যার জেরে এই সিদ্ধান্ত নিতে পারেন রোনাল্ডো। সমস্যা হল, শেষ চারটে ব্যালন ডিওর জিতলেও রোনাল্ডো কিন্তু বিশ্বের সবচেয়ে দামি ফুটবলার নন। এমনকী উপার্জনের দিক দিয়েও তিনি পাঁচ নম্বরে রয়েছেন। লিওনেল মেসি, নেমার দ্য সিলভা স্যান্টোস জুনিয়রের পরে। যা গর্বে আঘাত করেছে বিশ্বের অন্যতম সেরা ফুটবলারের। যার ফল হতে পারে রিয়াল ত্যাগ।
দারুণ জয়ে সিরিজ শুরু টাইগারদের
ত্রিদেশীয় সিরিজের প্রথম ম্যাচে জিম্বাবুয়েকে ৮ উইকেটে হারিয়েছে বাংলাদেশ। তামিম ইকবালের ৮৪ ও মুশফিকুর রহিমের ১৪ রানে ভর করে এই জয় পান টাইগাররা। জিম্বাবুয়ের দেয়া ১৭১ রানের লক্ষ্যে ব্যাট করতে নামেন তামিম ও এনামুল হক। তাদের ৩০ রানের উদ্বোধনী জুটি করার কর ব্যক্তিগত ১৯ রান করে ফিরে যান বিজয়। আর বিজয়ের ফিরে যাওয়ার পর ক্রিজে আসেন সাকিব আল হাসান। আর সাকিব ও তামিমের ৭৮ রানের জুটিতে মূলত জয়ের ভিত্তি পান বাংলাদেশ। সাকিব ব্যক্তিগত ৩৭ রানের ফিরে যাওয়ার পর বাকি কাজটা শেষ করেন তামিম ও মুশফিক। এর আগে টস হেরে ব্যাট করতে নেমে সিকান্দার রাজার ৫২, পিজে মুরের ৩৩, ব্রেন্ডন টেলরের ২৪ রানের ইনিংসগুলোতে ভর করে স্কোরবোর্ডে ১৭০ রান জমা করতে পেরেছে জিম্বাবুয়ে। বাংলাদেশের পক্ষে দারুণ বোলিং করে তিন উইকেট নিয়েছেন সাকিব। দু'টি করে উইকেট পেয়েছেন রুবলে, মুস্তাফিজুর রহমান ও সানজামুল ইসলামের ঝুলিতে।
হার রোনাল্ডোদের, দূরে সরছে লিগ
লা লিগা খেতাব থেকে ক্রমে দূরে সরছে রিয়াল মাদ্রিদ। শনিবার ঘরের মাঠ সান্তিয়াগো বের্নাবাও স্টেডিয়ামে ভিয়ারিয়ালের কাছে হারলেন ক্রিশ্চিয়ানো রোনাল্ডোরা। ম্যাচের ৮৭ মিনিটে রিয়াল মাদ্রিদ রক্ষণের ভুলত্রুটি কাজে লাগিয়ে গোল করে যান বিপক্ষের পাবলো ফোরনালস। মরসুমে এটি জিনেদিন জিদানের দলের তৃতীয় হার। তবে এ দিন হারলেও প্রথমার্ধ এবং দ্বিতীয়ার্ধের একটা বড় সময় ম্যাচে প্রাধান্য রেখেছিলেন রোনাল্ডোরাই। কিন্তু গ্যারেথ বেল এবং ক্রিশ্চিয়ানো রোনাল্ডোদের ফিনিশিং-এর ব্যর্থতায় গোল পায়নি জিদানের দল। একই সঙ্গে উল্লেখ করতে হবে ভিয়ারিয়াল গোলকিপার সের্জিও আসেঞ্জো-র কথাও। বেশ কিছু অবিশ্বাস্য সেভ করে তিনি এ দিন আটকে দিয়েছিলেন রিয়ালের গোল পাওয়ার রাস্তা। ম্যাচের একদম অন্তিম লগ্নে রিয়াল মাদ্রিদ কর্নার পেলে সেই বল ধরে প্রতি-আক্রমণ শানিয়েছিল ভিয়ারিয়াল। আর সেখান থেকেই গোল। গোলের সময় রিয়াল মাদ্রিদ রক্ষণ থেকে বিপন্মুক্ত হওয়া বল জিদানের দলের গোলকিপার কেলর নাভাস-এর মাথার উপর দিয়ে তুলে জালের ভিতর জড়িয়ে দেন ভিয়ারিয়ালের পাবলো। এ দিন হারের ফলে ১৭ ম্যাচে রিয়ালের পয়েন্ট দাঁড়াল ৩২। লা লিগায় রোনাল্ডোরা এখন চতুর্থ। শীর্ষে থাকা মেসির বার্সেলোনার সংগ্রহ ৪৮ পয়েন্ট। রবিবার ম্যাচে রয়েছে বার্সেলোনার। যে ম্যাচে আর্নেস্তো ভালভার্দের দলের প্রতিপক্ষ রিয়াল সোসিদাদ। সেই ম্যাচ যদি মেসিরা জিতে যান, তা হলে রিয়াল মাদ্রিদের সঙ্গে বার্সেলোনার পয়েন্টের ব্যবধান হবে ১৯। লা লিগায় ক্রমশ পিছোতে থাকলেও ইতিমধ্যেই কোপা দেল রে কোয়ার্টার ফাইনালে গিয়েছে রিয়াল মাদ্রিদ। যেখানে আগামী সপ্তাহের মাঝপথে টনি ক্রুজ-দের প্রতিপক্ষ লেগানেস।