অবসরের ঘোষণা ডিফেন্সিভ মিডফিল্ডার হাভিয়ের মাচেরানো
মাঠে গড়িয়েছে রাশিয়া বিশ্বকাপের নকআউট পর্ব। এর প্রথম ম্যাচে ফ্রান্সের কাছে ৪-৩ গোলে বিধ্বস্ত হয়েছে আর্জেন্টিনা। এতে বিশ্বকাপ থেকে বিদায় নিশ্চিত হয়েছে দুইবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের। এমন পরাজয়ের পর আন্তর্জাতিক ফুটবল থেকে অবসরের ঘোষণা দিয়েছেন ডিফেন্সিভ মিডফিল্ডার হাভিয়ের মাচেরানো। ম্যাচ শেষে হতাশায় মুষড়ে পড়েন আর্জেন্টাইন খেলোয়াড়েরা। বিষণ্নতার ছাপ ছিল মাচেরানোর চোখেমুখেও। বহু কষ্টে নিজের আবেগ নিয়ন্ত্রণে রাখেন। পরক্ষণেই মাঠে উপস্থিত অজস্র সমর্থকদের সান্ত্বনা দিয়ে বিদায় অভিবাদন জানান তিনি। আর্জেন্টিনার জার্সি গায়ে ১৪৭ ম্যাচে প্রতিনিধিত্ব করেছেন মাচেরানো। দীর্ঘ দেড় যুগের ক্যারিয়ারে দলের অন্যতম ভরসা ছিলেন তিনি। তুখোড় প্রতিভাবান না হলেও লড়াকু হিসেবে সুখ্যাতি ছিল মাচেরানোর। ৩৪ বছর বয়সী ফুটবলার বলেন, বিদায় বলার এখনই সময়। সময় এসেছে বাইরে থেকে দলকে সমর্থন করার। আশা করি, নতুন প্রজন্ম আর্জেন্টিনার জন্য সুনাম বয়ে নিয়ে আসবে। চলতি বছর প্রিয় ক্লাব বার্সেলোনা ছেড়ে চীনের হেবেই ফরচুনে যোগ দিয়েছেন মাচেরানো। সেখানে তিনি পাশে পাচ্ছেন সাবেক গুরু ক্রিস কোলেম্যানকে। গুঞ্জন ছড়িয়েছে, তার পথ ধরে অবসরের ঘোষণা দিতে পারেন ছোট ম্যাজিসিয়ান লিওনেল মেসি। তার মানে কোনো বিশ্বকাপ ছাড়াই ফুটবলকে বিদায় জানাচ্ছেন তিনি।
আয়ারল্যান্ডকে হারিয়ে বাংলাদেশের মেয়েদের প্রথম সিরিজ জয়
বাংলাদেশের মেয়েরা যেন এই মুহূর্তে টগবগ করে ‍ফুটছে। ঈদের আগে এশিয়া কাপ জয় করে ইতিহাস তৈরি করেছিল। এবার তারাই আয়ারল্যান্ড সফরে গিয়ে আরেকটি নতুন ইতিহাস রচনা করল। তিন ম্যাচের টি-টোয়েন্টি সিরিজে এক ম্যাচ হাতে রেখে জিতে নিয়েছে। শেষ ৬ বলে ৬ রানের হিসাবটা দারুণ এক পুলে এক ঝটকায় মিলিয়ে দিয়েছেন সানজিদা। আয়ারল্যান্ড মেয়েদের ৪ উইকেটে হারিয়ে এশিয়া কাপের পর আরেক ইতিহাস গড়েছে বাংলাদেশ। মেয়েরা সিরিজ জিতে গেল প্রথমবারের মতো, সেটিও আবার এক ম্যাচ বাকি থাকতে। প্রথমে ব্যাট করতে নামা আয়ারল্যান্ডকে ১২৪ রানে আটকে ফেলে বাংলাদেশ। প্রথম ম্যাচে ৫ উইকেট নেয়া জাহানারা আলম দ্বিতীয় ম্যাচেও ভালো করেছেন। ১৫ রানে নিয়েছেন ২ উইকেট। ১২৫ রানের লক্ষ্যে তাড়া করতে নামা বাংলাদেশকে শেষের দিকে একটু কঠিন পরীক্ষাই দিতে হয়েছে। শামীমা সুলতানা ও ফারজানা হকের দুরন্ত ব্যাটিংয়ে ভালোভাবেই এগোচ্ছিল বাংলাদেশ। দুজনে মিলে দ্বিতীয় উইকেটে যোগ করেন ৭৫ রান। মেয়েদের টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে এটিই বাংলাদেশের বড় জুটি। শামীমা করেন ৫১ আর ফারজানা ৩৬। এই জুটি ভাঙতেই ছন্দপতন ঘটে মেয়েদের। ১ উইকেটে ৯৬ থেকে আচমকাই ২১ রানের মধ্যে ৫ উইকেট হারিয়ে বসে। তবে ১১ রানে অপরাজিত থেকে সানজিদা ম্যাচটি ঠিকই বের করে নিয়ে গেছেন। আগামী মাসে হল্যান্ডে হবে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের বাছাইপর্ব। তার আগে আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে তিন ম্যাচের টি-টোয়েন্টি সিরিজ খেলছে বাংলাদেশ। বাছাইপর্বেও যে চমক থাকছে সেটি তো আইরিশদের হারানোতেই বোঝা গেল।
বিদায় নিলো জার্মানি
এফ গ্রুপে নিজেদের শেষ ম্যাচে দক্ষিণ কোরিয়ার কাছে ২-০ গোলে হেরে চলতি ফুটবল বিশ্বকাপ থেকে বিদায় নিলো বর্তমান চ্যাম্পিয়ন জার্মানি। এই জয়ে কোন লাভ হয়নি দক্ষিণ কোরিয়ার। তবে ৩ খেলায় ৩ পয়েন্ট নিয়ে টেবিলের তৃতীয় স্থানে থেকে গ্রুপ পর্ব থেকেই বিশ্বকাপ মিশন শেষ করলো জার্মানরা। নিজেদের বিশ্বকাপ ইতিহাসে এই প্রথম গ্রুপ পর্ব থেকে বিদায় নিলো জার্মানি। শেষ ষোলোতে খেলতে হলে জয় ছাড়া অন্য কোন পথ খোলা ছিলো না জার্মানির। তবে জিতলেই হবে না এই গ্রুপের অন্য ম্যাচে মেক্সিকোর কাছে সুইডেনের হার বা ড্রর স্বাদ নিতে হবে। এমন সমীকরন নিয়ে কাজানে শুরুটা ভালোই ছিলো জার্মানির। তবে সফল হতে পারেনি তারা। বল দখলে রেখে ম্যাচের নিয়ন্ত্রন হাতে মুঠোয় রেখেছিলো জার্মানরা। এতে বেশ কোনঠাসা হয়ে পড়ে দক্ষিণ কোরিয়া। ১৪ মিনিটে টসি ক্রুসের ক্রসে হেড নিয়েছিলেন সামি খেদিরা। কিন্তু সেটি রুখে দেন দক্ষিণ কোরিয়ার গোলরক্ষক চো হিউয়ান উ। ২ মিনিট পর আবারো আক্রমন করে জার্মানি। এবারের আক্রমনে নেতৃত্ব দেন মেসুত ওজিল। ডান-প্রান্ত দিয়ে ওজিল ক্রসে মাথায় স্পর্শ করেছিলেন নিকলাস সুয়েলে। এবারও দক্ষিণ কোরিয়ার গোলমুখে প্রাচীর হয়ে দাঁড়িয়ে যান হিউয়ান। আক্রমনের চাপ সামলে ২৫ মিনিটে প্রথমবারের মত জার্মানির শিবিরে আক্রমন করে দক্ষিণ কোরিয়া। লি ইয়ং ক্রস থেকে বল পেয়ে যান লি জাই সুং। কিন্তু তার শট প্রতিপক্ষের রক্ষণভাগের খেলোয়াড়রা রুখে দেন। তাই ম্যাচের প্রথমার্ধে দুদলের বেশকটি আক্রমন নষ্ট হয়। ফলে ম্যাচের প্রথমার্ধ গোলশুন্যই থাকে। দ্বিতীয়ার্ধে গোলের জন্য মরিয়া হয়ে উঠে জার্মানি। ৪৮ মিনিটে গোলের সুযোগ পেয়ে যায় তারা। কিন্তু এবার গোলের সুযোগ মিস করে মিডফিল্ডার লিয়ন গোরেতকা। ৪৯ মিনিটে প্রায় ১৫ গজ দূর থেকে ক্রুসের ডান পায়ের শট দক্ষিণ কোরিয়ার বার ঘেষে চলে যায়। ৫৪ মিনিটেও মধ্যমাঠ থেকে বল পেয়ে দক্ষিণ কোরিয়ার বিপদ সীমানায় ঢুকে পড়েন জার্মানির খাদিরি। কিন্তু তার নেয়া শট আটকে দেন দক্ষিণ কোরিয়ার গোলরক্ষক হিউয়ান উ। দ্বিতীয়ার্ধে মাঠে ফিরে যেভাবে আক্রমন করেছে জার্মানি, তাতে ঐ অর্ধে ১০ থেকে ১২ টি গোল আদায় করে নিতে পারতো তারা। কিন্তু জার্মানিকে গোল বঞ্চিত করতে দক্ষতা দেখিয়েছে দক্ষিণ কোরিয়া। তাই নির্ধারিত ৯০ মিনিট শেষে গোলের স্বাদ নিতে পারেনি জার্মানি। গোলের স্বাদ নিতে না পারায় ঐ সময়ই বিশ্বকাপ থেকে ছিটকে পড়ে জার্মানি। কারন ততক্ষণে সুইডেন ৩-০ গোলে মেক্সিকোকে হারিয়ে দেয়। ফলে মেক্সিকোর সাথে শেষ ষোলোতে জায়গা করে নেয় সুইডেনই। এ অবস্থায় জার্মানি ও দক্ষিণ কোরিয়ার ম্যাচ গড়ায় ইনজুরি সময়ে। ইনজুরি সময়ের দ্বিতীয় মিনিটে জার্মানিকে গোল হজম করতে বাধ্য করে দক্ষিণ কোরিয়া। গোলটি করেন কিম ইয়ং গোন। এখানেই থেমে যায়নি দক্ষিণ কোরিয়ার গোলের স্বাদ। ইনজুরি সময়ের ষষ্ঠ মিনিটে আবারো গোল হজম করতে হয় জার্মানিকে। দক্ষিণ কোরিয়ার সীমানায় কর্ণারের জন্য জার্মানির সকল খেলোয়াড়ই উপরে উঠে আসেন। এমনকি গোলরক্ষকও। কর্ণারের পর বল পেয়ে যায় জার্মানির গোলমুখে রক্ষণভাগ থেকে জোড়ালো শট নেন দক্ষিণ কোরিয়ার জু সি জং। বলের পেছনে দৌঁড়ে গিয়ে ছয় গজ দূর থেকে বলে হাল্কা ছোয়ায় গোল করেন সন হিউং মিন। ফলে ২-০ গোলে অবিস্মরনীয় জয় নিয়ে মাঠ ছাড়ে দক্ষিণ কোরিয়া। বিশ্ব কাপ থেকে বিদায় ঘটে বর্তমান চ্যাম্পিয়ন জার্মানির।বাসস
শেষ ষোলো নিশ্চিত করলো ব্রাজিল
সহজ জয় দিয়ে ফুটবল বিশ্বকাপের গ্রুপ পর্বের খেলা শেষ করলো পাঁচবারের চ্যাম্পিয়ন ব্র্রাজিল। গতরাতে ‘ই’ গ্রুপের নিজেদের শেষ ম্যাচে ব্রাজিল ২-০ গোলে হারায় সার্বিয়াকে। এই জয়ে ৩ খেলায় ৭ পয়েন্ট নিয়ে গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হয়ে শেষ ষোলোতে উঠলো ব্রাজিল। ম্যাচ হেরে ৩ খেলায় ৩ পয়েন্ট নিয়ে গ্রুপ পর্ব থেকেই বিশ্বকাপ শেষ করলো সার্বিয়া। গ্রুপের অন্য ম্যাচে সুইজারল্যান্ড ২-২ গোলে ড্র করেছে কোস্ট রিকার সাথে। ফলে ড্র করে শেষ ষোলো নিশ্চিত করলো সুইজারল্যান্ড। ৩ খেলায় ৫ পয়েন্ট নিয়ে গ্রুপ রানার্স-আপ সুইজারল্যান্ড। মস্কোতে ম্যাচের দ্বিতীয় মিনিটেই সার্বিয়ার সীমানায় আক্রমন করে ব্রাজিল। মধ্যমাঠ থেকে বল পেয়ে বাঁ-প্রান্ত দিয়ে মিডফিল্ডার ফিলিপ কুটিনহোকে পাস দেন অধিনায়ক নেইমার। বল পেয়ে সেটিকে গোলের পরিণত করতে পারেননি কুটিনহো। শুরুটা যেভাবে করেছিলো, তাতে মনে হয়েছিলো সার্বিয়ার উপর চাপ বৃদ্ধি করবে ব্রাজিল। কিন্তু ব্রাজিলকে আক্রমন করার সুযোগ দেয়নি সার্বিয়া। তাই প্রথম ২৪ মিনিটে ঐ একটি আক্রমনই ছিলো তাদের। ২৫ মিনিটে দ্বিতীয়বারের মত আক্রমনে যায় ব্রাজিল। নেইমারের বাঁ-পায়ের শট রুখে দেন সার্বিয়ার গোলরক্ষক ভøাদিমির স্টয়কোভিচ। অবশ্য দ্বিতীয় আক্রমনের আগে ম্যাচের ১০ মিনিটে ডিফেন্ডার মার্সেলোকে হারায় ব্রাজিল। গোঁড়ালির ইনজুরিতে পড়ে মাঠ ত্যাগ করেন তিনি। তার জায়গায় মাঠে নামেন আরেক ডিফেন্ডার ফিলিপ লুইস। দীর্ঘক্ষণ পর ৩৪ মিনিটে একটি আক্রমন করে সার্বিয়া। মিডফিল্ডার দুসান টেডিচ আক্রমনের রচনা করেছিলেন। কিন্তু সেটি সাফল্যের মুখ দেখনি। স্ট্রাইকার আলেক্সান্ডার মিট্রোভিচ গোলে পরিণত করতে পারেননি। তবে ২ মিনিট পর দারুন একটি পাস থেকে দুর্দান্ত গোল করে ব্রাজিলকে এগিয়ে দেন পাওলিনহো। মধ্যমাঠ থেকে হাওয়ায় ভাসিয়ে পাওলিনহোকে বলের যোগান দিয়েছিলেন কুটিনহো। সেই বলে আলতো ছোয়ায় সার্বিয়ার গোলরক্ষকের মাথার উপর বল জালে পাঠিয়ে দেন পাওলিনহো। ফলে ১-০ গোলে এগিয়ে যায় ব্রাজিল। পিছিয়ে পড়ে ম্যাচে সমতা আনতে মুখিয়ে উঠে সার্বিয়া। এরপর ম্যাচের ৪০ মিনিটে পরিকল্পিত আক্রমনে যায় সার্বিয়া। কিন্তু ডি-বক্স থেকে বাঁ-পায়ে বলে শট নিয়ে সেটি গোলবারের উপর দিয়ে মারেন টেডিচ। প্রথমার্ধের খেলা শেষ হবার শেষ মূর্হুতে লুইসের কাছ থেকে বল পেয়ে দূরপাল্লার শট নিয়েছিলেন নেইমার। কিন্তু সেটি গোলবারের পাশ দিয়ে চলে যায়। তাই পাওলিনহোর গোলে এগিয়ে থেকেই ম্যাচের প্রথমভাগের লড়াই শেষ করে ব্রাজিল। এসময় বল দখলেও এগিয়ে ছিলো ব্রাজিল। ৬১ শতাংশ বল নিজেদের দখলে রাখতে সক্ষম হয় তারা। দ্বিতীয়ার্ধে বল গড়ানোর বেশ কিছু সময় পর ভালো একটি আক্রমন করে ব্রাজিল। ৫৭ মিনিটে মধ্যমাঠ থেকে নেইমারের উদ্দেশ্যে লম্বা পাস দেন কুটিনহো। বল পেয়ে সার্বিয়ার বিপদ সীমানায় ঢুকে গোলরক্ষককে একা পেয়েছিলেন নেইমার। কিন্তু নেইমারের দুর্বল শট সার্বিয়ার গোলরক্ষক স্টয়কোভিচ পা দিয়ে কর্ণারের বিনিময়ে রক্ষা করেন। নেইমারের এই ভুলের ৪ মিনিট পর গোলের সেরা সুযোগ হাতছাড়া করে সার্বিয়া। ডান-প্রান্ত দিয়ে ব্রাজিলের বিপদ সীমানায় বল ক্রস করেন মিডফিল্ডার ফিলিপ কস্টিচ। তার শট হাত দিয়ে সরিয়ে দেন ব্রাজিলের গোলরক্ষক এলিসন। কিন্তু বল গিয়ে পড়ে ফাঁকায় দাড়ানো স্ট্রাইকার মিট্রোভিচের সামনে। ঐ অবস্থায় মাথা নিচু করে গোলমুখে হেড নিয়েছিলেন মিট্রোভিচ। তার হেড গিয়ে আটকায় ব্রাজিলের রক্ষণভাগের খেলোয়াড় মিরান্ডার পায়ে। ফলে নিশ্চিত গোল বঞ্চিত হয় সার্বিয়া। সার্বিয়ার গোল বঞ্চিত হলেও, ৬৮ মিনিটে ব্যবধান দ্বিগুন করে ফেলে ব্রাজিল। নেইমারের কর্ণার থেকে হেডে গোল করেন গেল বিশ্বকাপের অধিনায়ক থিয়াগো সিলভা(২-০)। এরপর ৮৬ মিনিটে গিয়ে আবারো বলার মত আক্রমন করে ব্রাজিল। সার্বিয়ার গোলমুখে জটলার মধ্যে হঠাৎই ফাঁকায় বল পেয়ে যান নেইমার। এবারও দুর্বল শট নেন তিনি। তাই এবারও নেইমারের শট ডান-হাত দিয়ে রুখে দিতে সমস্যা হয়নি স্টয়কোভিচের। শেষদিকে স্কোরলাইনে আর কোন পরিবর্তন না হলে ২-০ গোলে ম্যাচ জিতে মাঠ ছাড়ে ব্রাজিল। সেই সাথে শেষ ষোলোর টিকিটও পায় নেইমারের দল। শেষ ষোলোতে আগামী ২ জুলাই ব্রাজিলের প্রতিপক্ষ মেক্সিকো।বাসস
গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচে দুর্দান্ত জয় পেল আর্জেন্টিনা
আবারও খাদে পড়তে গিয়েও ঘুরে দাঁড়াল আর্জেন্টিনা। বিশ্বকাপের প্রথম দুই ম্যাচে মাত্র ১ পয়েন্ট পাওয়া দলটিই দুর্দান্ত জয় পেল গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচে। লিওনেল মেসির গোলের তারা এগিয়ে যাওয়ার পর নাইজেরিয়া পেনাল্টি গোলে শঙ্কায় পড়েছিল তাদের বিশ্বকাপে টিকে থাকার সম্ভাবনা। তবে খেলা শেষ হওয়ার ৪ মিনিট আগে মার্কোস রোহোর দুর্দান্ত গোলে নকআউটে উঠল আর্জেন্টিনা। ২-১ গোলের জয়ে ডি গ্রুপের রানার্সআপ তারা। মঙ্গলবার গ্রুপের আরেক ম্যাচে ক্রোয়েশিয়া ২-১ গোলে হারিয়েছে আইসল্যান্ডকে। আর্জেন্টিনাকে প্রথম ম্যাচে রুখে দেওয়া আইসল্যান্ড ১ পয়েন্ট নিয়েই বিদায় নিলো বিশ্বকাপ থেকে। আর তাদের বিপক্ষে দারুণ জয়ে ৩ পয়েন্ট পাওয়া নাইজেরিয়া ছিটকে গেল আর্জেন্টাইনদের কাছে হেরে। ৪ পয়েন্ট পাওয়া আর্জেন্টিনার শেষ ষোলোর প্রতিপক্ষ সি গ্রুপের চ্যাম্পিয়ন ফ্রান্স। সেন্ট পিটার্সবার্গে প্রথম আক্রমণ চালায় নাইজেরিয়া। কিন্তু সুবিধা করতে পারেনি। ৯ মিনিটে আহমেদ মুসার শটটি গোলবারের উপর দিয়ে চলে যায়। চার মিনিট পর হাভিয়ের মাসচেরানো পা থেকে বল হারালে কেলেচি আইহিনাচো আর্জেন্টিনার রক্ষণকে একটু চাপে ফেলেছিলেন। তবে মাসচেরানোই ভুল শুধরে নেন তাকে প্রতিহত করে। পরের মিনিটে আকাশি-নীল উদযাপনে মেতে ওঠে গ্যালারি। এভার বানেগার লম্বা ক্রস বক্সের কিছুটা দূর থেকে পেয়ে ঊরু দিয়ে বল নিয়ন্ত্রণে নেন লিওনেল মেসি। তারপর ডান পায়ের চমত্কার কোনাকুনি শট নেন তিনি, নাইজেরিয়ার গোলরক্ষক ফ্রাঙ্কিস উজোহার ধরাছোঁয়ার বাইরে দিয়ে বল দূরের পোস্ট দিয়ে জড়ায় জালে। বিশ্বকাপে এটি ছিল মেসির ষষ্ঠ গোল, আর রাশিয়ার এই আসরে শততম গোল। ২৭ মিনিটে আরেকটি গোলের সুযোগ পায় আর্জেন্টিনা। মেসির বাড়িয়ে দেওয়া বল নিয়ে হিগুয়েইন ঢুকে পড়েছিলেন প্রতিপক্ষের বক্সে। কিন্তু সামনে এগিয়ে এসে তাকে বাধা দেন উজোহা। ৩২ মিনিটে দারুণ মুহূর্ত তৈরি করেছিলেন আনহেল দি মারিয়া। দ্রুত গতিতে তিনি বক্সে ঢোকার আগে বালোগান তাকে ফাউল করে হলুদ কার্ড দেখেন। এই ফ্রি কিক থেকে মেসির শট বাঁ দিকে ঝাপিয়ে পড়ে ঠেকান। বল উজোহার হাত ছুঁয়ে পোস্টে আলতো স্পর্শ করে লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়। প্রথমার্ধ আর্জেন্টিনা শেষ করেছে ১-০ গোলে এগিয়ে থেকে। কিন্তু দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতে নাইজেরিয়া সমতা ফেরায়। ৪৯ মিনিটে এতেবোর কর্নার কিক বক্সে ঢোকার মুহূর্তে মাসচেরানো ফাউল করেন বোলোগানকে। ভিডিও অ্যাসিস্ট্যান্ট রেফারি দেন পেনাল্টির সিদ্ধান্ত, মাসচেরানো দেখেন হলুদ কার্ড। ১২ গজ দূর থেকে লক্ষ্যে শট নেন ভিক্টর মোসেস। ৫১ মিনিটে তার ধীর গতির নিচু শটের বিপরীত দিকে ঝাপিয়ে পড়েন আরমানি, বল জড়ায় জালে। সমতা ফেরানো আনন্দে মাতে আফ্রিকানরা। নাইজেরিয়া দারুণ সুযোগ পায় ৭২ মিনিটে। আর্জেন্টিনার রক্ষণের ফাঁক থাকার সুযোগ নিয়ে বক্সের বেশ দূর থেকে শট নেন এনদিদি। তার জোরালো শট ক্রসবারের উপর দিয়ে চলে যায়। চার মিনিট পর আরেকটি পেনাল্টির শঙ্কায় পড়ে আর্জেন্টিনা। মার্কোস রোহো ডিবক্সের মধ্যে বল বিপদমুক্ত করেন, কিন্তু তার মাথা ছুঁয়ে হাতে লাগে। ভিএআর দেখে রেফারি সিদ্ধান্তে পৌঁছান, ইচ্ছা করে বল হাত দিয়ে নিয়ন্ত্রণ করেননি রোহো। ৮১ মিনিটে রোহোর পাস বক্সের মধ্যে পেয়েও কাজে লাগাতে পারেননি হিগুয়েইন। তার শট অনেক উঁচু দিয়ে চলে যায় মাঠের বাইরে। দুই মিনিট পর আরমানি দারুণ সেভে নাইজেরিয়াকে এগিয়ে যেতে দেননি। ৮৬ মিনিটে মেরকাদোর নিখুঁত ক্রস বক্সের মাঝখান থেকে প্রথম শটেই জালে পাঠান রোহো।
দ্বিতীয় রাউন্ডে পর্তুগাল
একটা ফুটবল ম্যাচের এত সুন্দর দৃশ্যপট বোধহয় কেউ আঁকতে পারবে কি-না সন্দেহ। ম্যাচের ৫৩ মিনিটে পেনাল্টি পায় পর্তুগাল। স্পট কিক থেকে পেনাল্টি মিস করে বসেন গ্রুপের প্রথম ম্যাচেই স্পেনের বিপক্ষে পেনাল্টিতে গোল করা রোনালদো। ম্যাচের উত্তেজনা ছড়ায় শেষ মিনিট পর্যন্ত। অতিরিক্ত সময়ে ভিএআরের সহায়তায় পেনাল্টি থেকে গোল করে ১-১ সমতায় আসে ইরান। কিন্তু সেটাও যথেষ্ট ছিল না তাদের জন্য। ড্র করে বিশ্বকাপের প্রথম রাউন্ড থেকেই বিদায় নিতে হলো এশিয়ার দেশ ইরানকে। অন্যদিকে স্পেন শেষ সময়ের গোলে ড্র করে গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হওয়াতে পর্তুগালকে দ্বিতীয় হয়েই সন্তুষ্ট থাকতে হলো গ্রুপে। বিশ্বকাপে গ্রুপ পর্বের নিজেদের শেষ ম্যাচে ইরানের বিপক্ষে মাঠে নামে পর্তুগাল। দ্বিতীয় রাউন্ডে উঠতে এই ম্যাচে ড্র করলেই চলতো পর্তুগালের। অন্যদিকে, জিততেই হতো এশিয়ান জায়ান্ট ইরানের। এমন কঠিন সমীকরণের ম্যাচে পর্তুগালের সঙ্গে সমান পাল্লা দিয়ে লড়াই করেছে ইরান। প্রথমার্ধে পর্তুগালের কারেজমার গোলে এগিয়ে গেলেও ম্যাচে অন্তিম মুহূর্তে গোল করে ইরানকে সমতায় ফেরান আনসারিফার্দ। প্রথম দুই ম্যাচের মতো এই ম্যাচেও শুরুতেই গোলের সুযোগ পেয়েছিলেন রোনালদো। কিন্তু তিন মিনিটের মাথায় ডি বক্সের ভেতর তার নেয়া শট রুখে দেন ইরানিয়ান গোলরক্ষক। ম্যাচের সবচেয়ে সহজ সুযোগটি আসেন নয় মিনিটি। হোয়াও মারিও ফাঁকা গোলপোস্ট পেয়েও বল গোলবারের বাইরে মারেন। ২৩ মিনিটে গোলের সুযোগ পেয়েছিল ইরানও। জাহানবাখশের বাড়ানো বল আজমাউনের পা ছোঁয়ার আগেই বলকে তালুবন্দী করেন পর্তুগিজ গোলরক্ষক রুই প্যাট্রিসিও। ৪০ মিনিটে ৩৫ গজ দূর থেকে রোনালদো দারুণ এক শট নিলেও সেটি রুখে দেন বেইরানভান্দ। রেফারি যখন বিরতির বাঁশি বাজাবেন ঠিক তার আগ মুহূর্তেই ম্যাচের প্রথম গোলটি করেন কারেজমা। ডান পাশে থেকে বল নিয়ে ডি বক্সের সামান্য বাইরে থেকে ডান পায়ের উল্টো দিক দিয়ে দুর্দান্ত শটে অসাধারণ গোল করে দলকে প্রথমার্ধে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে দেন বেসিকতাসে খেলা এই ফুটবলার। দ্বিতীয়ার্ধের শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক খেলতে থাকে পর্তুগাল। ৫৩ মিনিটে পেনাল্টি বক্সের ভেতর রোনালদোকে ফাউল করলে রেফারি এরিয়ে যান। পরবর্তীতে ভিএআরের সাহায্যে পেনাল্টির সিদ্ধান্ত দেন রেফারি। স্পট কিক থেকে রোনালদোর নেয়া শট রুখে দেন বেইরানভান্দ। ম্যাচের উত্তেজনা ছড়ায় শেষ দশ মিনিটে। ৮০ মিনিটের সময় ইরানের রক্ষণভাগের ফুটবলারকে কনুই দিয়ে আঘাত করার কারণে লাল কার্ডের শঙ্কায় পড়ে গিয়েছিলেন রোনালদো। ভিএআরের মাধ্যমে রেফারি ফাউল নিশ্চিত করে রোনালদোকে লাল কার্ড না দিয়ে হলুদ কার্ড দিয়ে সাবধান করেন। ম্যাচের অতিরিক্ত সময়ের দ্বিতীয় মিনিটে পর্তুগালের ডিফেন্ডার সেডরিকের হাতে বল লাগলেও রেফারি এরিয়ে যান। পরবর্তীতে ভিএআরের মাধ্যমে হ্যান্ডবল নিশ্চিত হয়ে পেনাল্টির সিদ্ধান্ত দেন। স্পট কিক থেকে ডান কর্নারের দুর্দান্ত শট করে ইরানের হয়ে বিশ্বকাপে প্রথম গোলটি করেন আনসারিফার্দ। সমতায় ফিরে ইরান সুযোগ পেয়েছিল ম্যাচটি জিতে যাওয়ার কিন্তু ৯৪ মিনিটে তারেমি পর্তুগিজ গোলরক্ষককে ফাঁকা পেয়েও গোল করতে ব্যর্থ হলে ড্র নিয়ে বিশ্বকাপ থেকে বিদায় নিতে হয় ইরানকে। অন্যদিকে, গ্রুপের দ্বিতীয় হয়ে পরবর্তী রাউন্ডে উরুগুয়ের সঙ্গে লড়াই করবে রোনালদোর পর্তুগাল।
বিশ্বের চোখ আর্জেন্টিনা-ব্রাজিলে
বিশ্বফুটবলের সবচেয়ে বড় প্রতিযোগিতা বিশ্বকাপ। শুরু থেকে বিশ্বকাপকে বলা হয় গ্রেটেস্ট শো অন আর্থ। তবে ইউরোপের পরাশক্তি দলগুলো খেললেও বিশ্বকাপের মূল আকর্ষণ লাতিন আমেরিকান শক্তি আর্জেন্টিনা ও ব্রাজিল। গোটা ফুটবল বিশ্ব দুই ভাগে বিভক্ত হয়ে যায়। লাতিন দেশ দুটি ছাড়াও উপমহাদেশের অধিকাংশ দেশে ছেয়ে যায় আকাশি-সাদা ও হলুদ-সবুজ পতাকায়। বাংলাদেশ এবং পশ্চিমবঙ্গের পাগল সমর্থকরা তো মারামারিও করেন! দলে যে মানেরই খেলোয়াড় থাকুক, বিশ্বকাপে তারা খেলতে আসে ফেভারিট তকমা নিয়ে। কিন্তু ২০১৮ রাশিয়া বিশ্বকাপে রীতিমতো বিপাকে বিশ্বফুটবলের দুই পরাশক্তি, গ্রুপের দুই ম্যাচ শেষে দ্বিতীয় রাউন্ড নিয়ে দোদুল্যমান। শুধু ব্রাজিল-আর্জেন্টিনা নয়, বিপাকে আছে বিশ্বচ্যাম্পিয়ন জার্মানি ও পর্তুগালও। মেক্সিকোর কাছে ১-০ গোলে হার দিয়ে বিশ্বকাপ শুরু করা জার্মানির জন্য গ্রুপ পর্বে শেষ দুটি ম্যাচ তাদের অলিখিত ফাইনাল। গত রাতে সুইডেনের বিপক্ষে খেলেছে প্রথমটি, ২৭ জুন প্রতিপক্ষ দক্ষিণ কোরিয়া। তবে ম্যাচ দুটি জিতলেই চলবে না, মেলাতে হবে সমীকরণও! মেক্সিকো ও সুইডেনের পয়েন্ট এখন ৩ করে। এ দুই দল একটি করে ও জার্মানি দুই ম্যাচ জিতলে তিন দলের পয়েন্ট হবে সমান ৬! তখন হবে গোল গড় হিসাব। ফলে তিন দলের লক্ষ্য গোল গড় বাড়ানো। তবে ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোর পর্তুগালের সামনে এত কঠিন সমীকরণ নেই, যতটা কঠিন আর্জেন্টিনার। ইরানের বিপক্ষে আগামীকাল শেষ ম্যাচে অন্তত ড্র করলেই শেষ ষোলোয় পর্তুগিজরা। কিন্তু গ্রুপ পর্বে বাদ পড়ার শঙ্কাও আছে প্রথম ম্যাচে হ্যাটট্রিক দিয়ে শুরু করা রোনালদো ব্রিগেটের! তারা ইরানের কাছে হারলে ও মরক্কোর সঙ্গে ড্র করলে মধ্যপ্র্যাচ্যের দেশটির সঙ্গে শেষ ষোলোয় যাবে স্প্যানিশরা। পর্তুগাল (৪/৩) ও স্পেন (৪/৩) হারলে ইরানের সঙ্গে কে দ্বিতীয় পর্বে যাবে চূড়ান্ত হবে গোল গড়ে। এ ছকে দুই দলের গড় (+১), গোল দেওয়া ও হজমে সমান। তখন চলে আসবে শেষ ম্যাচে হারের ব্যবধান, সেখানেও সমান হলে দুই দলের মুখোমুখি (৩-৩); নির্ধারণ করা না গেলে টস ভাগ্য! পরশু কোস্টারিকাকে ২-০ গোলে হারিয়ে ঘুরে দাঁড়িয়েছে ব্রাজিল; তারপরও তাদের সমীকরণ মেলাতে হবে। তবে সমীকরণ সহজ, ২৭ জুন সার্বিয়ার বিপক্ষে অন্তত হার এড়াতে হবে। তাতে পয়েন্ট হবে ৫, হেরে গেলেও সম্ভাবনা থাকবে, তখন সুইজারল্যান্ড-কোস্টারিকা ম্যাচের ফল দেখতে হবে। সে ম্যাচে জিতলে (৪) সুইসরা গ্রুপ সেরা, ব্রাজিল (৪) দ্বিতীয়। ছিটকে যাবে জয় দিয়ে বিশ্বকাপ শুরু করা সার্বিয়া। কিন্তু সার্বিয়া ও সুইসরা জিতলে বিদায় রাশিয়া বলতে হবে নেইমারদের, দুই ইউরোপিয়ান যাবে পরের ধাপে। ফলে ৪ পয়েন্ট নিয়ে আপাতত গোল গড়ে গ্রুপে শীর্ষে থাকলেও শক্ত পরীক্ষার সামনে ব্রাজিল। স্রেফ খাদের কিনারে আর্জেন্টিনা, প্রথম ম্যাচে আইসল্যান্ডের সঙ্গে ড্র (১-১) করার পর দ্বিতীয় ম্যাচে ৩-০ গোলে ক্রোয়েশিয়ার কাছে রীতিমতো বিধ্বস্ত! তবে এ মুহূর্তে মেসিনির্ভর দলের খেলার চেয়ে কোচ-খেলোয়াড় দ্বন্দ্ব নিয়ে বেশি কথা হচ্ছে। ক্রোয়াটদের বিপক্ষে বড় হারের পর মনের জোরও কমে গেছে! ক্রোয়াট ম্যাচে ২-০ হওয়ার পর স্যাটেলাইটের কল্যাণে মেসির চোখে-মুখে চরম হতাশা দেখেছে গোটা বিশ্ব। ২ ম্যাচে ১ পয়েন্ট নিয়ে ডি গ্রুপের তলানিতে তারা। এরপরও শেষ ষোলোয় উত্তরণের ক্ষীণ সম্ভাবনা আছে! কিন্তু পথ কঠিন, ২৬ জুন নাইজেরিয়ার বিপক্ষে শেষ ম্যাচ জিততেই হবে। তাতে গ্রুপে দ্বিতীয় হওয়ার সম্ভাবনা থাকবে। তবে এরই মধ্যে দ্বিতীয় পর্ব নিশ্চিত করা ক্রোয়াটদের বিপক্ষে আইসল্যান্ড ম্যাচের ফলও দেখতে হবে। আর্জেন্টিনা ও আইসল্যান্ড জিতলে দুই দলেরই পয়েন্ট হবে ৪। তখন আসবে গোল গড়, যেখানে আর্জেন্টিনার (১/৪) উপরে আইসল্যান্ড (১/৩)। সুপার ঈগলদের চাই ১ পয়েন্ট, সেটি তারা পেলে ও আইসল্যান্ড হারলে সব সমীকরণ বাদ। আর্জেন্টিনা-নাইজেরিয়া ড্র করলেও ক্রোয়াটরা ২-০ গোলে হারলে গোল গড়ে আইসল্যান্ড হবে গ্রুপ রানার্সআপ। তাদের পথও তো সহজ করে দেওয়ার ইঙ্গিত দিয়ে রেখেছেন ক্রোয়াট কোচ জাৎকো দালিচ, নকআউট পর্ব নিশ্চিত হয়ে যাওয়ায় দলের সেরা খেলোয়াড়দের বিশ্রাম দিচ্ছেন তিনি। গণমাধ্যমকে বলেছেন, দ্বিতীয় পর্বের আগে কেউ চোটে পড়ক চাই না। ক্রোয়াট কোচের বক্তব্যে আর্জেন্টিনা থেকে কোনো মন্তব্য না এলেও নাইজেরিয়া অধিনায়ক জন অবি মিকেল ধুয়ে দিয়েছেন দালিচকে। কেননা আফ্রিকান দেশটির সম্ভাবনা যে বেশি। গোটা বিশ্বের প্রত্যাশা, সমীকরণ মিলিয়ে বা যেভাবেই হোক, আর্জেন্টিনা ও ব্রাজিল দ্বিতীয় পর্বে পা রাখুক; নয়তো গ্রেটেস্ট শো অন আর্থের আমেজ থাকে না। দল ম্যাচ জয় ড্র হার গোল পয়েন্ট ক্রোয়েশিয়া ২ ২ ০ ০ ৫/০ ৬ নাইজেরিয়া ২ ১ ০ ১ ২/২ ৩ আইসল্যান্ড ২ ০ ১ ১ ১/৩ ১ আর্জেন্টিনা ২ ০ ১ ১ ১/৪ ১ দল ম্যাচ জয় ড্র হার গোল পয়েন্ট ব্রাজিল ২ ১ ১ ০ ৩/১ ৪ সুইজারল্যান্ড ২ ১ ১ ০ ৩/২ ৪ সার্বিয়া ২ ১ ০ ১ ২/২ ৩ কোস্টারিকা ২ ২ ০ ০ ০/৩ ০
সার্বিয়াকে হারিয়ে ব্রাজিলের পাশে সুইজারল্যান্ড
রাশিয়া বিশ্বকাপের গ্রুপপর্বে ইতোমধ্যে শেষ হয়ে গেছে ২৬টি ম্যাচ। প্রথম ২৫ ম্যাচে কোন দল পিছিয়ে পড়ার পর জেতেনি। তবে ২৬ তম ম্যাচে এসে সেই ধারার বত্যয় ঘটিয়েছে সুইজারল্যান্ড। গ্রুপ-ই এর নিজেদের দ্বিতীয় ম্যাচে দলটি মুখোমুখি হয়েছিল সার্বিয়ার। প্রথমার্ধে পিছিয়ে গিয়েছিল। তবে দ্বিতীয়ার্ধে ঠিকই দুই গোল করে ২-১ ব্যবধানে ম্যাচ জিতেছে সুইসরা। কালিনিনগ্রাদ স্টেডিয়ামে এই ম্যাচটি জিতলে সার্বিয়া নিশ্চিত করত শেষ ষোলতে খেলা। সর্বশেষ ১৯৯৮ সালের বিশ্বকাপে দলটি গ্রুপপর্বের বাধা পেরিয়েছিল। কিন্তু এদিনের পরাজয়ে সেই সম্ভাবনা অনেকটাই শঙ্কার মুখে পড়ে গিয়েছে। গ্রুপপর্বে নিজেদের শেষ ম্যাচে সার্বিয়া মুখোমুখি হবে ব্রাজিলের। সেই ম্যাচ জিতলে সার্বিয়ানদের শেষ ষোল নিশ্চিত হবে। তবে এটা যে অনেকটাই অসম্ভব তা আঁচ করতে ফুটবল বিশেষজ্ঞ হতে হয়না। ব্রাজিলের সাথে ড্র করলেও সার্বিয়ার সামনে একটা সুযোগ থাকবে। সেক্ষেত্রে সুইজারল্যান্ড যদি নিজেদের শেষ ম্যাচ হারে তবে গোল ব্যবধান হিসেব করে সম্ভাবনার পথ খুলতে পারে সার্বিয়ার জন্য। বর্তমানে ব্রাজিল ও সুইজারল্যান্ডের পয়েন্ট সমান, চার। যা ই-গ্রুপে সর্বোচ্চ। দুই দলেরই একটি করে ম্যাচ বাকি আছে। সুইসরা শেষ ম্যাচটি জিতলে নিশ্চিতভাবে চলে যাবে শেষ ষোলতে। ব্রাজিল যদি নিজেদের শেষ ম্যাচে সার্বিয়াকে হারায় তবে কোস্টা রিকার বিপক্ষে হারলেও সুইজারল্যান্ড চলে যাবে শেষ ষোল’তে। এই ম্যাচ দুই দলেরই কিছু ভাল সুযোগ এবং তা কাজে লাগাতে না পারার ব্যর্থতা খুব ভালভাবেই দেখেছে। ম্যাচের পঞ্চম মিনিটে প্রথম গোল করে এগিয়ে যায় সার্বিয়া। সুইজারল্যান্ডের ডিবক্সের বাইরে থেকে দুর্দান্ত একটি ক্রস তুলে দেন মিডফিল্ডার দুসান তাদিচ। তা থেকে দারুণ হেডে গোল করেন মিত্রোভিচ। প্রথমার্ধ ১-০ গোলে এগিয়ে থেকেই শেষ করে সার্বিয়া। দ্বিতীয়ার্ধে ম্যাচের ৫২ মিনিটে নিজেদের প্রথম গোলের দেখা পায় সুইজারল্যান্ড।সুইস মিডফিল্ডার জাদরান শাকিরির জোরালো শট ডিবক্সে প্রতিহত করেন সার্বিয়ান অধিনায়ক আলেকসান্দর কোলারভ। ফিরতি বল নিয়ে প্রায় ২৫ গজ দূর থেকে শট নেন জাকা। তার বুলেট গতির শট সার্বিয়ান রক্ষণ ও গোলকিপারকে ফাঁকি দিয়ে জড়িয়ে যায় জালে। পুরো ম্যাচজুড়ে বেশ ভাল খেলেছেন শাকিরি। সেভাবে কোন সুযোগ কাজে লাগাতে না পারলেও ম্যাচের ৯০তম মিনিটে সুইজারল্যান্ডের জয়সূচক গোলটি করেন এই মিডফিল্ডার।
আর্জেন্টিনাকে হারিয়ে দ্বিতীয় রাউন্ডে ক্রোয়েশিয়া
মাথা নিচু করে রয়েছেন। রাজ্যের হতাশা মাসেরানোর চেহারায়। হিগুয়াইনের মাথা চুইয়ে ঘাম ঝড়ে পড়ছে। কাবায়েরোর চোখে মুখে ক্ষমা চাওয়ার আকুতি। ৮০ মিনিটে লুকা মদ্রিচ যখন গোল করলেন তখনকার চিত্র এটি। এক ছবিতেই পুরো আর্জেন্টিনার চিত্র। বিশ্বকাপে শত আশা নিয়ে আসলেও টানা দুই ম্যাচ হেরে বিশ্বকাপ স্বপ্ন কার্যত শেষ হয়ে গেল মেসিদের। এখন অন্যদের উপর নির্ভর করছে আর্জেন্টিনার বিশ্বকাপের পরের রাউন্ডে যাওয়া। বিশ্বকাপের দ্বিতীয় রাউন্ডে ওঠার লক্ষ্যে ক্রোয়েশিয়ার বিপক্ষে মহাগুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে মাঠে নামে আর্জেন্টিনা। প্রথম ম্যাচে আইসল্যান্ডের বিপক্ষে ১-১ ব্যবধানে ড্র করে খাদের কিনারায় মেসির দল। সেখান থেকে বের হওয়ার লক্ষ্যে দ্বিতীয় ম্যাচে মাঠে নামে মেসিরা। কিন্তু ক্রোয়েশিয়ানদের কাছে কোথাও পাত্তা পায়নি মেসিরা। হোর্হে সাম্পাওলির দলকে ৩ -০ গোলে হারিয়ে দ্বিতীয় রাউন্ড নিশ্চিত করলো মদ্রিচ-রাকিতিচরা। দারুণ মিডফিল্ড নিয়ে ম্যাচের শুরুতেই আক্রমণ করতে থাকে ক্রোয়েশিয়া। ম্যাচের ৪ মিনিটেই এগিয়ে যেতে পারতো ক্রোয়েশিয়া। কিন্তু পেরেসিচের বা পায়ের শট আঙুলের টোকায় রক্ষা করেন আর্জেন্টাইন গোলরক্ষক কাবায়েরো। ১২ মিনিটে মেসিও সুযোগ পেয়েছিলেন গোলের। সতীর্থের মাথার উপর দিয়ে চিপ করা বলে পা ছোঁয়াতে ব্যর্থ হন এই বার্সা তারকা। ২১ মিনিটে লেফট উইং দিয়ে মার্কস আকুনিয়ার আচমকা বা পায়ের শট গোলবারে লেগে প্রতিহত হলে গোলবঞ্চিত হয় আর্জেন্টিনা। ৩০ মিনিটে আর্জেন্টিনার হয়ে গোলের সবচেয়ে সহজ সুযোগটি পেয়েছিলেন এনজো পেরেজ। মাত্র ছয় গজ দূর থেকে মেজার থেকে বল পেয়েও উন্মুক্ত গোলে বল না মেরে বাইরে পাঠান এই রিভার প্লেট তারকা। ম্যাচে তেমন কোন প্রভাবই রাখতে পারেননি মেসি। আর্জেন্টাইন ডিফেন্ডারদের ফাঁকি দিয়ে ৩৩ মিনিটে ভ্রাসালজিকোর ক্রসে মানজুকিচ হেড করলে তা লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়। গোল মুখের এত সামনে দাঁড়িয়ে এমন হেডে কার্যত হতাশা নেমে আসে ক্রোয়েটদের মাঝে। প্রথমার্ধের অতিরিক্ত সময়ে পেরেসিচ ফাঁকায় বল পেয়েও গোল করতে ব্যর্থ হন। গোলশূন্য অবস্থাতেই শেষ হয় প্রথমার্ধ। দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতেই আর্জেন্টিনাকে হতাশায় ডোবান গোলরক্ষক কাবায়েরো। সতীর্থদের পাস দেওয়ার পরিবর্তেই দিয়ে বসেন ক্রোয়েশিয়ার ফুটবলার রেবিচকে। মনে হচ্ছিল যেন পাসই ভুলে গেছেন তিনি! ডি বক্সের ভেতর থেকে দারুণ ভলিতে কাবায়েরোর মাথার উপর দিয়ে দুর্দান্ত গোলে ক্রোয়েশিয়াকে ১-০ গোলে এগিয়ে দেন তিনি। ক্যামেরায় মাঝে মাঝে ডিয়েগো ম্যারাডোনাকে দেখাচ্ছিল। হয়তো ১৯৮৬ সালের সেই ম্যারাডোনাকে মনে করে আর্জেন্টাইনদের আরেকটু চাঙ্গা করার ব্যর্থ প্রয়াস। ৬৪ মিনিটে গোল শোধের সুযোগ পেয়েছিলেন মেসি ও মেজা। কিন্তু গোললাইন থেকে সেটি রক্ষা করেন মেসিরই ক্লাব সতীর্থ রাকিতিচ। দলকে বাঁচাতে ৬৮ মিনিটে এনজো পেরেজের বদলি হিসেবে দিবালাকে নামান কোচ। কিন্তু তিনিও পারেননি আর্জেন্টিনার এই হতাশাজনক খেলার ধারা পাল্টাতে। আর্জেন্টিনার এই ম্যাচে ফিরে আসার চিন্তা ৮০ মিনিটেই কার্যত শেষ হয়ে যায়। ব্রোজোভিচের কাছ থেকে বল পেয়ে ডি বক্সের বাইরে থেকে দূরপাল্লার দর্শনীয় শটে কাবায়েরোকে পরাস্ত করেন এই রিয়াল মাদ্রিদ তারকা। ২-০ গোলে এগিয়ে থেকে আরো যেন শক্তিশালী ক্রোয়েশিয়ান ফুটবলাররা। ম্যাচের ৯২ মিনিটের মাথায় গোলরক্ষক কাবায়েরোকে বোকা বানান কোভাচিচ। এই মাদ্রিদ তারকার বাড়ানো পাস থেকে রাকিতিচ গোল করে আর্জেন্টিনাকে ৩-০ গোলের হার উপহার দেন। ৩-০ গোলের পরাজয়ে আর্জেন্টিনার দ্বিতীয় রাউন্ড ভাগ্য এখন সুতোয় ঝুলছে। অন্যদিকে মেসিদের হারিয়ে রাকিতিচ, মদ্রিচদের হাত ধরে আরো একবার বিশ্বকাপের নকআউট রাউন্ডে উঠলো ক্রোয়েশিয়া।

খেলাধূলা পাতার আরো খবর