দারুণ জয় পাহাড় টপকে মাশরাফির রংপুরের
ক্রীড়া ডেস্ক: জ্বলে উঠলেন সাব্বির রহমান। তাঁর অসাধারণ একটি ইনিংসের ওপর ভর করে সিলেট সিক্সার্স পাহাড়সম ১৯৪ রান গড়ে। কিন্তু এই বিশাল লক্ষ্য টপকে গেল মাশরাফি বিন মুর্তজার রংপুর রাইডার্স। বিপিএলের এই ম্যাচে তারা চার উইকেটের দারুণ জয় তুলে নিয়েছে। আজ শনিবার সিলেট আন্তর্জাতিক স্টেডিয়ামে এই ম্যাচ জিতে তিন ম্যাচ পর জয়ে ফিরেছে রংপুর রাইডার্স। দলের ঝুলিতে কোনো রান যোগ না হওয়ার আগে ওপেনার ক্রিস গেইল সাজঘরে ফিরলেও এলেক্স হেলস (৩৩), রাইলি রুশো (৬১) ও এবি ডি ভিলিয়ার্সের (৩৪) মতো ব্যাটসম্যানদের দৃঢ়তায় গতবারের চ্যাম্পিয়নরা দারুণ জয় তুলে নিয়েছে। ফর্মের ধারাবাহিকতা অব্যাহত রেখে পেসার তাসকিন আহমেদ চার ওভার বল করে ৪২ রান দিয়ে চার উইকেট তুলে নিয়েও পারেননি দলের হার এড়াতে। এর আগে প্রথমে ব্যাট করতে নেমে সিলেটেরও শুরুটা ভালো হয়নি। দলীয় ১৩ রানের মাথায় সাজঘরে ফেরেন ওপেনার লিটন দাস। এর পরই ব্যাট হাতে রুখে দাঁড়ান তরুণ এই হার্ডহিটার ব্যাটসম্যান। নিকোলাস পুরানকে সঙ্গে নিয়ে শুধু দলের ঝুলিটাকেই সমৃদ্ধ করেননি, অনেকদিন পর খেললেন দরুণ একটি ইনিংস। শফিউল ইসলামের শিকার হয়ে সাজঘরে ফেরার আগে সাব্বির খেলেন ৮৫ রানের চমৎকার একটি ইনিংস। ৫১ বল খরচায় পাঁচটি চার ও ছয়টি ছক্কায় ইনিংসটি সাজিয়েছেন তিনি। আর ২৭ বলে ৪৭ রান করে শেষ পর্যন্ত অপরাজিত থাকেন। রংপুর অধিনায়ক মাশরাফি চার ওভার বল করে ৩১ রান দিয়ে দুই উইকেট নিয়েও পারেননি প্রতিপক্ষের বড় সংগ্রহের পথে বাধা হতে। এই জয়ে সাত ম্যাচে ছয় পয়েন্ট নিয়ে রংপুর তৃতীয় স্থানে উঠে গেছে। আর সিলেট সমান ম্যাচ খেলে চার পয়েন্ট নিয়ে রয়েছে ষষ্ঠ স্থানে রয়েছে।
১৮১ রানের বড় সংগ্রহ মাহমুদউল্লাহর খুলনার
ক্রীড়া ডেস্ক: এবারের বিপিএলে খুব একটা ভালো অবস্থানে নেই খুলনা টাইটানস। পয়েন্ট তালিকায় একেবারেই তলানিতে রয়েছে তারা। দেরিতে হলেও ঘুরে দাঁড়িয়েছে মাহমুদউল্লাহর দল। কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ানসের বিপক্ষে টসে হেরে প্রথমে ব্যাট করতে নেমে ১৮১ রানে বড় সংগ্রহ গড়ে তারা। আজ শুক্রবার সিলেট আন্তর্জাতিক স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত ম্যাচে খুলনা এই বড় সংগ্রহ গড়েছে জাতীয় দলের সাবেক ওপেনার জুনায়েদ সিদ্দিকীর কল্যাণে। ৪১ বলে ৭০ রানের চমৎকার একটি ইনিংস খেলে দলের বড় সংগ্রহের ভিত গড়ে দেন তিনি। এ ছাড়া তরুণ আল আমিন (৩২) ও ইংলিশ ব্যাটসম্যান দাউদ মালান (২৯) দুটি কার্যকরী ইনিংস খেলে দলকে এগিয়ে দিতে ভালো ভূমিকা রাখেন। একই মাঠে দিনের প্রথম ম্যাচে ঢাকা ডায়নামাইটস ছয় উইকেটে সহজেই হারিয়েছে সিলেট সিক্সার্সকে। সিলেটের করা ১৫৮ রানের জবাবে ঢাকা চার উইকেট হারিয়ে জয়ের লক্ষ্যে পৌঁছে। ঢাকার জয়ের নায়ক অধিনায়ক সাকিব আল হাসান। তাঁর ব্যাট ও বল হাতের চমৎকার নৈপুণ্যে আসরের অন্যতম ফেভারিট দলটি জয়ের উল্লাস করে। সাকিব প্রথমে বল হাতে দুই উইকেট নেন। পরে ৬১ রানের হার-না-মানা ইনিংস খেলে ঢাকাকে জেতাতে মূল ভূমিকা রাখেন।
আফ্রিকার বিপক্ষে ভাগ্য ফেরাতে চায় পাকিস্তান
আন্তর্জাতিক ডেস্ক: স্বাগতিক দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে ভাগ্য পরিবর্তনের লক্ষ্য নিয়ে শনিবার সেন্ট জর্জ পার্কে প্রথম ম্যাচ দিয়ে পাঁচ ওয়ানডে সিরিজ শুরু করবে সফরকারী পাকিস্তান। সদ্য শেষ হওয়া টেস্ট সিরিজে লজ্জাজনকভাবে পরাজিত হয়েছে সফরকারীরা। তিন ম্যাচ সিরিজে কোন টেস্টেই চতুর্থ দিন মধ্যাহ্ন বিরতি পর্যন্ত যেতে পারেনি উপমহাদেশের দলটি। তবে শর্ট পিচ বোলি নিয়ামক না হওয়ায় ৫০ ওভার ফর্মেটে তাদের আশাবাদী হওয়ার যথেষ্ঠ কারণ আছে। চলতি বছরের মাঝামাঝিতে ইংল্যান্ড এন্ড ওয়েলসে অনুষ্ঠিতব্য বিশ্বকাপের আগে এ সিরিজটি উভয় দলের জন্যই অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তৃতীয় টেস্ট শেষে সোমবার পাকিস্তান কোচ মিকি আর্থার বলেন, ‘টেস্টের তুলনায় ওয়ানডেতে নিঃসন্দেহে আমরা অনেক ভাল দল। ২০১৭ সালে ইংল্যান্ডের মাটিতে চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির শিরোপা জয় করে ওয়ানডে ক্রিকেটে নিজেদের সক্ষমতার প্রমান দিয়েছে পাকিস্তান। টুর্নামেন্টে বৃষ্টি বিঘ্নিত ম্যাচে দক্ষিণ আফ্রিকাকে পরাজিত করেছিল পাকিস্তান। সেই থেকে শুরু করে ওয়ানডে ক্রিকেটে পাকিস্তানেরজয়ের রেকর্ড ১৭-১০। গত বছরের শেষ দিকে টেস্ট ক্রিকেট থেকে অবসর নেয়া মোহাম্ম হাফিজ ও শোয়েব মালিকের অন্তর্ভুক্তিতে পাকিস্তানের ব্যাটিং লঅইন আপ শক্তিশালী হবে। তা ছাড়া দলের হয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভুমিকা পালন করতে পারেন দুই স্পিনার শাদাব খান ও ইমাদ ওয়াসিম। দলে আছে আক্রমণাত্মক ব্যাটসম্যান ফখনর জামান। শর্ট বলে নড়বড়ে বাঁ-হাতি এ ওপেনার টেস্ট সিরিজে চার ইনিংসে মাত্র ৩২ রান করলেও ওয়ানডে ক্রিকেটে তার স্কোরিং সক্ষমতা অতুলনীয়। ৫০ ওভার ফর্মেটে ৫৭ দশমিক ৯৫ গড়ে তার রান সংখ্যা ১২৭৫। চার স্পেশালিস্ট বোলার নিয়ে নিজেদের বিশ্বকাপ পরিকল্পনা সাজিয়েছে দক্ষিণ আফ্রিকা। তবে গুরুত্বপূর্ণ ব্যাটিং অর্ডারে সাত নম্বরে এখনো একজন ব্যাটিং অলরাউন্ডার ঠিক করতে পারেনি। তারা কেবলমাত্র সিরিজের প্রথম দুই ম্যাচের জন্য দল ঘোষণা করেছে। যেখানে ফাস্ট বোলার ডেল স্টেইন ও উইকেটরক্ষক কুইন্টন ডি কককে বিশ্রাম দেয়া হয়েছে। এমন পরিবর্তনে নিজকে প্রমানের আরেকটা সুযোগ পাচ্ছে ওপেনিং ব্যাটসম্যান আইডেন মার্করাম। কেননা এ ফর্মেটে এখনো নিজকে প্রমান করতে পারেননি।তিনি। এছাড়া টেস্ট সিরিজের সেরা খেলোয়াড় নির্বাচিত হওয়ার পুরস্কার হিসেবে ওয়ানডেতে ডাক পেয়েছেন পাস্ট বোলার ডুয়াইন অলিভার। দক্ষিণ আফ্রিকায় সবচেয়ে মন্থর গতির পিচ পোর্ট এলিজাবেথ, যা সফরকারীদের জন্য সহায়ক হবে। এ মাঠেই তাদের সর্বশেষ ২০১৩ সালের নভেম্বরে ওয়ানডে সিরিজ জিতেছিল সফরকারী পাকিস্তান। যা ছিল দক্ষিণ আফ্রিকার মাটিকে উপমহাদেশের দলটির একমাত্র ওয়ানডে সিরিজ জয়। দল: দক্ষিণ আফ্রিকা দল : ফাফ ডু-প্লেসিস (অধিনায়ক), হাশিম আমলা, আইডেন মার্করাম, রেজা হেনড্রিকস, ইমরান তাহির, হেনরিখ ক্লাসেন, ডেভিড মিলার, ড্যান প্যাটারসন, আন্দিলে ফেলুকুওয়াও, ডোয়াইন প্রিটোরিয়াস, কাগিসো রাবাদা, তাবরাইজ শামসি, ডুয়ান অলিভিয়ের, ফন ডার ডুসেন। পাকিস্তান: সরফরাজ আহমেদ (অধিনায়ক), বাবর আজম, ফাহিম আশরাফ, ফখর জামান, হাসান আলী, হুসেইন তালাত, ইমাদ ওয়াসিম, ইমাম উল হক, মোহাম্মদ আমির, মোহাম্মদ হাফিজ, মোহাম্মদ রিজওয়ান (উইকেটরক্ষক), শাদাব খনি, শাহিন আফ্রিদি, শান মাসুদ, শোয়েব মালিক, উসমান খান। সুচি: জানুয়ারী ১৯ প্রথম ওয়ানডে, পোর্ট এলিজাবেথ জানুয়ারী ২২ দ্বিতীয় ওয়ানডে, ডারবান জানুয়ারী ২৫ তৃতীয় ওয়ানডে, সেঞ্চুরিয়ন জানুয়ারী ২৭ চতুর্থ ওয়ানডে, জোহানেসবার্গ জানুয়ারী ৩০ পঞ্চম ওয়ানডে, কেপ টাউন।
বিপিএলে বাজি, ভারতীয় নাগরিকের ১ মাসের কারাদণ্ড
ক্রীড়া ডেস্ক: বিপিএলের ম্যাচকে ঘিরে বাজি ধরায় এক ভারতীয় নাগরিককে ১ মাসের কারাদণ্ড দিয়েছে ভ্রাম্যমাণ আদালত। সিলেটে ম্যাচ চলাকালীন ইমরান পাশার নামের বাজিকর হাতে নাতে ধরা পড়লে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মাইনুল হোসেন চৌধুরী এ আদেশ দেন। মাইনুল জানান, ইমরান মোবাইল ফোনের মাধ্যমে ভারতে অবস্থান করা মানুষের সাথে বাজি ধরছিল। মাঠে বসে সে তথ্য মাঠের বাইরে পাঠাচ্ছিল। যা মাঠে থাকা ভ্রাম্যমাণ আদালতের চোখে ধরা পড়ে। ধরা পরার পর তার কাছে কোন পাসপোর্ট পাওয়া যায় নি। অভিযুক্ত ব্যক্তি তার দোষ স্বীকার করেছেন এবং তার বাড়ি ভারতের বিহারে। বিপিএলের ম্যাচ ফিক্সিং ও বাজি রুখতে চলতি আসরে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড ঢাকা, চট্টগ্রাম ও সিলেটে ভ্রাম্যমাণ আদালতের ব্যবস্থা রেখেছে।
পাত্তাই পেল না সিলেট কুমিল্লার কাছে
ক্রীড়া ডেস্ক: বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগে (বিপিএল) ঘরের মাঠেও পাত্তা পেল না সিলেট সিক্সার্স। কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ান্সের বিপক্ষে ৮ উইকেটের বড় ব্যবধানে হেরেছে ডেভিড ওয়ার্নারের দল। মঙ্গলবার সিলেট আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামে ৬৯ রানের টার্গেটে খেলতে নেমে ২ উইকেট হারিয়ে ৫৩ বল বাকি থাকতেই জয় পায় কুমিল্লা। দলের পক্ষে অধিনায়ক ইমরুল কায়েস ২টি ছক্কা ও সমান চারে ২২ বলে অপরাজিত ৩০ এবং শামসুর রহমান ৩৭ বলে ৫টি চারের সাহায্যে ৩৪ রানে অপরাজিত থাকেন। তবে ব্যর্থ হন ওপেনার তামিম ইকবাল (০) ও এনামুল হক বিজয় (০)। টস হেরে আগে ব্যাট করতে নেমে সিলেট সিক্সার্সের ব্যাটসম্যানরা ছিলেন আসা-যাওয়ার মিছিলে। অলক কাপালি (৩৩*) ছাড়া আর কোনো ব্যাটসম্যান দুই অংক ছুঁতে পারেননি। কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ান্সের দুর্দান্ত বোলিংয়ে ১৪ দশমিক ৫ ওভারে মাত্র ৬৮ রানেই গুটিয়ে যায় সিলেট সিক্সার্স। কুমিল্লার পক্ষে মেহেদী হাসান ৪টি, ওয়াহাব রিয়াজ ৩টি, লিয়াম ডওসন ২টি এবং মোহাম্মদ সাইফউদ্দিন ১টি উইকেট লাভ করেন।-ইউএনবি
প্রিমিয়ার লিগ নিয়ে আশাবাদী মোহামেডান
ক্রীড়া ডেস্ক: লিগের জন্য মোহামেডান এখন অনেক গোছানো। ফেডারেশন কাপ এবং স্বাধীনতা কাপে দলের মধ্যে কিছুটা সমন্বয়হীনতার থাকলেও, সেটা দুর হয়ে গেছে। তাই আসন্ন প্রিমিয়ার লিগ ফুটবল নিয়ে বেশ আশাবাদী ক্লাব কর্তৃপক্ষ। অন্যদিকে, গেল বারের চেয়ে এবার আরো ভালো করবে আরামবাগ ক্রীড়া সংঘ। এমন দাবী দলের প্রধান কোচের। প্রিমিয়ার লিগের জন্য প্রস্তুতি নিয়েছে সেভবেই! গেল ক' মৌসুম ধরে ক্লাব ফুটবলে শুধু হতাশাই উপহার দিচ্ছে মোহামেডান। প্রিমিয়ার লিগ তো বটেই, ফেডারেশন কাপের সবচেয়ে সফল দলটাই যেন হারিয়ে খুঁজছে নিজেদের। যার ব্যতিক্রম হয়নি এবারো। চরম ব্যর্থতায় তাদের শেষ হয়েছে মৌসুমের প্রথম দুটি টুর্নামেন্ট। বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগ ইতিহাসে এখন পর্যন্ত টাইটেল না জেতা সাদাকালোরা, এবার কিছু একটা করবে এমনটা বলা যাচ্ছে না। তবে যে ভাঙ্গাচোরা অবস্থায় মৌসুম শুরু করেছিল। সেখান থেকে না'কি অনেকটাই বেরিয়ে এসেছে। সমন্বয় তৈরি হয়েছে ডিফেন্স, মিডফিল্ড আর ফরোয়ার্ড লাইন এই তিন বিভাগেই। তাই আবারো আশার সঞ্চার ক্লাব কর্তৃপক্ষে। ঢাকাই ফুটবলে জায়ান্ট কিলার হিসেবে সু-খ্যাতি থাকলেও, পারফরমেন্স দিয়ে ধীরে ধীরে সত্যিকারের জায়ান্টে পরিণত হচ্ছে আরামবাগ। গেলবার স্বাধীনতা কাপ জেতায় নিশ্চিতভাবেই একটা সমীহের যায়গায় দাঁড়িয়েছে তারা। সেই অবস্থানে দাড়িয়ে এবারো দল গড়েছেন মারুফুল হক। ছক কষছেন আরও ভালো কিছু করার। এবারের প্রিমিয়ার লিগে ময়মনসিংহের রফিক উদ্দিন ভূঁইয়া স্টেডিয়াম নিজেদের হোম ভেন্যু হিসেবে ব্যবহার করবে আরামবাগ। অথচ বিপিএল শুরুর মাত্র দিন তিনেক সময় থাকলেও, এখন সেখানে অনুশীলন করতে পারেনি তারা।
চট্টগ্রাম ভাইকিংসের মুখোমুখি কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ান্স
ক্রীড়া ডেস্ক : বিপিএলের অন্য ম্যাচে চট্টগ্রাম ভাইকিংসের মুখোমুখি হবে কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ান্স। মিরপুরের শেরে বাংলা জাতীয় স্টেডিয়ামে এই ম্যাচটি শুরু হবে রোববার সন্ধ্যা সাড়ে ছয়টায়। পয়েন্ট টেবিলে ভাইকিংস ও ভিক্টোরিয়ান্স দুই দলই আছে পাশাপাশি। তিনটি করে ম্যাচ খেলে দুই দলই পেয়েছে সমান দুটি করে জয়। দারুণ দল গড়েও রংপুরের বিপক্ষে মাত্র ৬৩ রানে অলআউটের লজ্জা পেতে হয়েছিল কুমিল্লাকে। তবে পরের ম্যাচেই রাজশাহী কিংসের বিপক্ষে ঘুরে দাঁড়িয়েছে দলটি। ইনজুরির কারণে অধিনায়ক স্টিভেন স্মিথ না থাকলেও, শহীদ আফ্রিদি, শোয়েব মালিক আছেন দারুণ ফর্মে। তামিম-ইমরুল সহ আছেন দেশীয় বেশকিছু তারকা। অন্যদিকে, খুলনা টাইটান্সের বিপক্ষে সুপার ওভারে জয় নিয়ে দারুণ আত্মবিশ্বাসী চট্টগ্রাম ভাইকিংস। মাঝারি মানের দল গড়েও, জয় পাচ্ছে দলটি। মুশি বাহিনীকে তাই সমীহ করেই খেলতে নামবে কুমিল্লা।
সুপার ওভারে খুলনাকে হারালো চিটাগং
ক্রীড়া ডেস্ক: বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগ (বিপিএল) টি-২০ ক্রিকেটের ইতিহাসে প্রথম সুপার ওভার অনুষ্ঠিত হলো চলমান অর্থাৎ ষষ্ঠ আসরে। ষষ্ঠ আসরের একাদশ ম্যাচে আজ শনিবার সুপার ওভারে খুলনা টাইটান্সকে হারালো চিটাগং ভাইকিংস। নির্ধারিত ২০ ওভারে ৬ উইকেটে ১৫১ রান করেছিল খুলনা টাইটান্স। জবাবে ২০ ওভারে ৮ উইকেটে ১৫১ রান করে চিটাগং ভাইকিংস। ফলে ম্যাচটি টাই হয়। পরে সুপার ওভারে বিজয়ী দল নির্ধারণ করা হয়। নিজেদের তৃতীয় ম্যাচে দ্বিতীয় জয়ের স্বাদ নিলো চিটাগং। অন্যদিকে টানা চার ম্যাচে হারের স্বাদ নিলো খুলনা। মিরপুর শেরে বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে টস জিতে প্রথমে ফিল্ডিং বেছে নেয় চিটাগং ভাইকিংস। দলকে ৩১ রানের সূচনা এনে দেন দলের দুই ওপেনার আয়ারল্যান্ডের পল স্টার্লিং ও জুনায়েদ সিদ্দিকী। দু জনের কেউই বড় ইনিংস খেলতে পারেননি। জুনায়েদ ১৫ বলে ২০ ও স্টার্লিং ১০ বলে ১৮ রান করেন। দুই ওপেনারের বিদায়ের পর ৭৭ রানের জুটি গড়েন ইংল্যান্ডের ডেভিড মালান ও অধিনায়ক মাহমুদুল্লাহ রিয়াদ। বড় ইনিংসের ইঙ্গিত দিয়ে হাফ-সেঞ্চুরির আগে থেমেছেন তারা। মালান ৪৩ বলে ৪৫ রান ও মাহমুদুল্লাহ ৩১ বলে ৩৩ রান করেন। এছাড়া ওয়েস্ট ইন্ডিজের কার্লোস ব্রার্থওয়েট ৫ বলে ১২ রান করেন। ফলে ২০ ওভারে ৬ উইকেটে ১৫১ রান করে খুলনা টাইটান্স। চিটাগং ভাইকিংসের বাঁ-হাতি স্পিনার সানজামুল ইসলাম ২টি উইকেট নেন। জবাবে দলীয় ১২ রানে আফগানিস্তানের ওপেনার মোহাম্মদ শেহজাদকে হারায় চিটাগং ভাইকিংস। তবে দ্বিতীয় উইকেটে ৩৯ রানে জুটি গড়ে চিটাগং-এর রানের চাকা সচল রেখেছিলেন দক্ষিণ আফ্রিকার ক্যামেরন ডেলপোর্ট ও ইয়াসির আলি। ডেলপোর্ট ১৭ রানে থামলেও ৩৪ বলে ৪১ রানের ছোট্ট ও দায়িত্বপূর্ণ ইনিংস খেলেন ইয়াসির। মিডল অর্ডারে জিম্বাবুয়ের সিকান্দার রাজা রানের খাতাই খুলতে পারেননি। ওয়েস্ট ইন্ডিজের ব্রার্থওয়েটের বলে বোল্ড হন তিনি। পরবর্তীতে শেষ ৫ ওভারে ৫২ রান প্রয়োজন পড়ে চিটাগং-এর। তখন উইকেটে ছিলেন অধিনায়ক মুশফিকুর রহিম ও মোসাদ্দেক হোসেন। বেশি দূর একসাথে যেতে পারেননি মুশফিক ও মোসাদ্দেক। ১৭তম ওভারে ১২ বলে ১২ রান করে বিদায় নেন মোসাদ্দেক। পরের ওভারে উইকেট পতনের তালিকায় নাম তুলেন মুশফিকও। ১টি চার ও ২টি ছক্কায় ২৬ বলে ৩৪ রান করেন মুশফিক। এরপর শেষ দিকে এসে, শেষ ওভার ১৯ রান দরকার ছিলো চিটাগং-এর। শেষ ওভারে বল হাতে নেন খুলনার আরিফুল হক। তার দ্বিতীয় ডেলিভারিতে নাইম হাসান এবং চতুর্থ ও পঞ্চম বলে ফ্রাঙ্কলিন ছক্কা মারেন। শেষ বলে ১ রান দরকার ছিলো চিটাগং-এর। শেষ বলে রান আউট হন ফ্রাঙ্কলিন। ফলে ম্যাচটি টাই হয়। ১৩ বলে ২৩ রান করে আউট হন ফ্রাঙ্কলিন। ২টি করে উইকেট নেন ব্রার্থওয়েট ও শরিফুল ইসলাম। টাই হওয়ায় ম্যাচটি সুপার ওভারে গড়ায়। বিপিএলের ইতিহাসে এটিই ছিল প্রথম সুপার ওভার। সেখানে প্রথমে ব্যাট করে চিটাগং ভাইকিংস। ১ ওভারে ১ উইকেটে ১১ রান করে চিটাগং। জবাবে ১ ওভারে ১ উইকেটে ১০ রান করে খুলনা। ফলে ম্যাচটি জিতে নেয় চিটাগং। সংক্ষিপ্ত স্কোর: খুলনা টাইটান্স: ১৫১/৬, ২০ ওভার (মালান ৪৫, মাহমুদুল্লাহ ৩৩, সানজামুল ২/৩৭)। চিটাগং ভাইকিংস: ১৫১/৮, ২০ ওভার (ইয়াসির ৪১, মুশফিক ৩৪, ব্রার্থওয়েট ২/৩০)। ফল: ম্যাচ টাই, সুপার ওভারে জিতলো চিটাগং ভাইকিংস।