বুধবার, নভেম্বর ২১, ২০১৮
দ্বিতীয় রাউন্ডে পর্তুগাল
একটা ফুটবল ম্যাচের এত সুন্দর দৃশ্যপট বোধহয় কেউ আঁকতে পারবে কি-না সন্দেহ। ম্যাচের ৫৩ মিনিটে পেনাল্টি পায় পর্তুগাল। স্পট কিক থেকে পেনাল্টি মিস করে বসেন গ্রুপের প্রথম ম্যাচেই স্পেনের বিপক্ষে পেনাল্টিতে গোল করা রোনালদো। ম্যাচের উত্তেজনা ছড়ায় শেষ মিনিট পর্যন্ত। অতিরিক্ত সময়ে ভিএআরের সহায়তায় পেনাল্টি থেকে গোল করে ১-১ সমতায় আসে ইরান। কিন্তু সেটাও যথেষ্ট ছিল না তাদের জন্য। ড্র করে বিশ্বকাপের প্রথম রাউন্ড থেকেই বিদায় নিতে হলো এশিয়ার দেশ ইরানকে। অন্যদিকে স্পেন শেষ সময়ের গোলে ড্র করে গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হওয়াতে পর্তুগালকে দ্বিতীয় হয়েই সন্তুষ্ট থাকতে হলো গ্রুপে। বিশ্বকাপে গ্রুপ পর্বের নিজেদের শেষ ম্যাচে ইরানের বিপক্ষে মাঠে নামে পর্তুগাল। দ্বিতীয় রাউন্ডে উঠতে এই ম্যাচে ড্র করলেই চলতো পর্তুগালের। অন্যদিকে, জিততেই হতো এশিয়ান জায়ান্ট ইরানের। এমন কঠিন সমীকরণের ম্যাচে পর্তুগালের সঙ্গে সমান পাল্লা দিয়ে লড়াই করেছে ইরান। প্রথমার্ধে পর্তুগালের কারেজমার গোলে এগিয়ে গেলেও ম্যাচে অন্তিম মুহূর্তে গোল করে ইরানকে সমতায় ফেরান আনসারিফার্দ। প্রথম দুই ম্যাচের মতো এই ম্যাচেও শুরুতেই গোলের সুযোগ পেয়েছিলেন রোনালদো। কিন্তু তিন মিনিটের মাথায় ডি বক্সের ভেতর তার নেয়া শট রুখে দেন ইরানিয়ান গোলরক্ষক। ম্যাচের সবচেয়ে সহজ সুযোগটি আসেন নয় মিনিটি। হোয়াও মারিও ফাঁকা গোলপোস্ট পেয়েও বল গোলবারের বাইরে মারেন। ২৩ মিনিটে গোলের সুযোগ পেয়েছিল ইরানও। জাহানবাখশের বাড়ানো বল আজমাউনের পা ছোঁয়ার আগেই বলকে তালুবন্দী করেন পর্তুগিজ গোলরক্ষক রুই প্যাট্রিসিও। ৪০ মিনিটে ৩৫ গজ দূর থেকে রোনালদো দারুণ এক শট নিলেও সেটি রুখে দেন বেইরানভান্দ। রেফারি যখন বিরতির বাঁশি বাজাবেন ঠিক তার আগ মুহূর্তেই ম্যাচের প্রথম গোলটি করেন কারেজমা। ডান পাশে থেকে বল নিয়ে ডি বক্সের সামান্য বাইরে থেকে ডান পায়ের উল্টো দিক দিয়ে দুর্দান্ত শটে অসাধারণ গোল করে দলকে প্রথমার্ধে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে দেন বেসিকতাসে খেলা এই ফুটবলার। দ্বিতীয়ার্ধের শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক খেলতে থাকে পর্তুগাল। ৫৩ মিনিটে পেনাল্টি বক্সের ভেতর রোনালদোকে ফাউল করলে রেফারি এরিয়ে যান। পরবর্তীতে ভিএআরের সাহায্যে পেনাল্টির সিদ্ধান্ত দেন রেফারি। স্পট কিক থেকে রোনালদোর নেয়া শট রুখে দেন বেইরানভান্দ। ম্যাচের উত্তেজনা ছড়ায় শেষ দশ মিনিটে। ৮০ মিনিটের সময় ইরানের রক্ষণভাগের ফুটবলারকে কনুই দিয়ে আঘাত করার কারণে লাল কার্ডের শঙ্কায় পড়ে গিয়েছিলেন রোনালদো। ভিএআরের মাধ্যমে রেফারি ফাউল নিশ্চিত করে রোনালদোকে লাল কার্ড না দিয়ে হলুদ কার্ড দিয়ে সাবধান করেন। ম্যাচের অতিরিক্ত সময়ের দ্বিতীয় মিনিটে পর্তুগালের ডিফেন্ডার সেডরিকের হাতে বল লাগলেও রেফারি এরিয়ে যান। পরবর্তীতে ভিএআরের মাধ্যমে হ্যান্ডবল নিশ্চিত হয়ে পেনাল্টির সিদ্ধান্ত দেন। স্পট কিক থেকে ডান কর্নারের দুর্দান্ত শট করে ইরানের হয়ে বিশ্বকাপে প্রথম গোলটি করেন আনসারিফার্দ। সমতায় ফিরে ইরান সুযোগ পেয়েছিল ম্যাচটি জিতে যাওয়ার কিন্তু ৯৪ মিনিটে তারেমি পর্তুগিজ গোলরক্ষককে ফাঁকা পেয়েও গোল করতে ব্যর্থ হলে ড্র নিয়ে বিশ্বকাপ থেকে বিদায় নিতে হয় ইরানকে। অন্যদিকে, গ্রুপের দ্বিতীয় হয়ে পরবর্তী রাউন্ডে উরুগুয়ের সঙ্গে লড়াই করবে রোনালদোর পর্তুগাল।
বিশ্বের চোখ আর্জেন্টিনা-ব্রাজিলে
বিশ্বফুটবলের সবচেয়ে বড় প্রতিযোগিতা বিশ্বকাপ। শুরু থেকে বিশ্বকাপকে বলা হয় গ্রেটেস্ট শো অন আর্থ। তবে ইউরোপের পরাশক্তি দলগুলো খেললেও বিশ্বকাপের মূল আকর্ষণ লাতিন আমেরিকান শক্তি আর্জেন্টিনা ও ব্রাজিল। গোটা ফুটবল বিশ্ব দুই ভাগে বিভক্ত হয়ে যায়। লাতিন দেশ দুটি ছাড়াও উপমহাদেশের অধিকাংশ দেশে ছেয়ে যায় আকাশি-সাদা ও হলুদ-সবুজ পতাকায়। বাংলাদেশ এবং পশ্চিমবঙ্গের পাগল সমর্থকরা তো মারামারিও করেন! দলে যে মানেরই খেলোয়াড় থাকুক, বিশ্বকাপে তারা খেলতে আসে ফেভারিট তকমা নিয়ে। কিন্তু ২০১৮ রাশিয়া বিশ্বকাপে রীতিমতো বিপাকে বিশ্বফুটবলের দুই পরাশক্তি, গ্রুপের দুই ম্যাচ শেষে দ্বিতীয় রাউন্ড নিয়ে দোদুল্যমান। শুধু ব্রাজিল-আর্জেন্টিনা নয়, বিপাকে আছে বিশ্বচ্যাম্পিয়ন জার্মানি ও পর্তুগালও। মেক্সিকোর কাছে ১-০ গোলে হার দিয়ে বিশ্বকাপ শুরু করা জার্মানির জন্য গ্রুপ পর্বে শেষ দুটি ম্যাচ তাদের অলিখিত ফাইনাল। গত রাতে সুইডেনের বিপক্ষে খেলেছে প্রথমটি, ২৭ জুন প্রতিপক্ষ দক্ষিণ কোরিয়া। তবে ম্যাচ দুটি জিতলেই চলবে না, মেলাতে হবে সমীকরণও! মেক্সিকো ও সুইডেনের পয়েন্ট এখন ৩ করে। এ দুই দল একটি করে ও জার্মানি দুই ম্যাচ জিতলে তিন দলের পয়েন্ট হবে সমান ৬! তখন হবে গোল গড় হিসাব। ফলে তিন দলের লক্ষ্য গোল গড় বাড়ানো। তবে ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোর পর্তুগালের সামনে এত কঠিন সমীকরণ নেই, যতটা কঠিন আর্জেন্টিনার। ইরানের বিপক্ষে আগামীকাল শেষ ম্যাচে অন্তত ড্র করলেই শেষ ষোলোয় পর্তুগিজরা। কিন্তু গ্রুপ পর্বে বাদ পড়ার শঙ্কাও আছে প্রথম ম্যাচে হ্যাটট্রিক দিয়ে শুরু করা রোনালদো ব্রিগেটের! তারা ইরানের কাছে হারলে ও মরক্কোর সঙ্গে ড্র করলে মধ্যপ্র্যাচ্যের দেশটির সঙ্গে শেষ ষোলোয় যাবে স্প্যানিশরা। পর্তুগাল (৪/৩) ও স্পেন (৪/৩) হারলে ইরানের সঙ্গে কে দ্বিতীয় পর্বে যাবে চূড়ান্ত হবে গোল গড়ে। এ ছকে দুই দলের গড় (+১), গোল দেওয়া ও হজমে সমান। তখন চলে আসবে শেষ ম্যাচে হারের ব্যবধান, সেখানেও সমান হলে দুই দলের মুখোমুখি (৩-৩); নির্ধারণ করা না গেলে টস ভাগ্য! পরশু কোস্টারিকাকে ২-০ গোলে হারিয়ে ঘুরে দাঁড়িয়েছে ব্রাজিল; তারপরও তাদের সমীকরণ মেলাতে হবে। তবে সমীকরণ সহজ, ২৭ জুন সার্বিয়ার বিপক্ষে অন্তত হার এড়াতে হবে। তাতে পয়েন্ট হবে ৫, হেরে গেলেও সম্ভাবনা থাকবে, তখন সুইজারল্যান্ড-কোস্টারিকা ম্যাচের ফল দেখতে হবে। সে ম্যাচে জিতলে (৪) সুইসরা গ্রুপ সেরা, ব্রাজিল (৪) দ্বিতীয়। ছিটকে যাবে জয় দিয়ে বিশ্বকাপ শুরু করা সার্বিয়া। কিন্তু সার্বিয়া ও সুইসরা জিতলে বিদায় রাশিয়া বলতে হবে নেইমারদের, দুই ইউরোপিয়ান যাবে পরের ধাপে। ফলে ৪ পয়েন্ট নিয়ে আপাতত গোল গড়ে গ্রুপে শীর্ষে থাকলেও শক্ত পরীক্ষার সামনে ব্রাজিল। স্রেফ খাদের কিনারে আর্জেন্টিনা, প্রথম ম্যাচে আইসল্যান্ডের সঙ্গে ড্র (১-১) করার পর দ্বিতীয় ম্যাচে ৩-০ গোলে ক্রোয়েশিয়ার কাছে রীতিমতো বিধ্বস্ত! তবে এ মুহূর্তে মেসিনির্ভর দলের খেলার চেয়ে কোচ-খেলোয়াড় দ্বন্দ্ব নিয়ে বেশি কথা হচ্ছে। ক্রোয়াটদের বিপক্ষে বড় হারের পর মনের জোরও কমে গেছে! ক্রোয়াট ম্যাচে ২-০ হওয়ার পর স্যাটেলাইটের কল্যাণে মেসির চোখে-মুখে চরম হতাশা দেখেছে গোটা বিশ্ব। ২ ম্যাচে ১ পয়েন্ট নিয়ে ডি গ্রুপের তলানিতে তারা। এরপরও শেষ ষোলোয় উত্তরণের ক্ষীণ সম্ভাবনা আছে! কিন্তু পথ কঠিন, ২৬ জুন নাইজেরিয়ার বিপক্ষে শেষ ম্যাচ জিততেই হবে। তাতে গ্রুপে দ্বিতীয় হওয়ার সম্ভাবনা থাকবে। তবে এরই মধ্যে দ্বিতীয় পর্ব নিশ্চিত করা ক্রোয়াটদের বিপক্ষে আইসল্যান্ড ম্যাচের ফলও দেখতে হবে। আর্জেন্টিনা ও আইসল্যান্ড জিতলে দুই দলেরই পয়েন্ট হবে ৪। তখন আসবে গোল গড়, যেখানে আর্জেন্টিনার (১/৪) উপরে আইসল্যান্ড (১/৩)। সুপার ঈগলদের চাই ১ পয়েন্ট, সেটি তারা পেলে ও আইসল্যান্ড হারলে সব সমীকরণ বাদ। আর্জেন্টিনা-নাইজেরিয়া ড্র করলেও ক্রোয়াটরা ২-০ গোলে হারলে গোল গড়ে আইসল্যান্ড হবে গ্রুপ রানার্সআপ। তাদের পথও তো সহজ করে দেওয়ার ইঙ্গিত দিয়ে রেখেছেন ক্রোয়াট কোচ জাৎকো দালিচ, নকআউট পর্ব নিশ্চিত হয়ে যাওয়ায় দলের সেরা খেলোয়াড়দের বিশ্রাম দিচ্ছেন তিনি। গণমাধ্যমকে বলেছেন, দ্বিতীয় পর্বের আগে কেউ চোটে পড়ক চাই না। ক্রোয়াট কোচের বক্তব্যে আর্জেন্টিনা থেকে কোনো মন্তব্য না এলেও নাইজেরিয়া অধিনায়ক জন অবি মিকেল ধুয়ে দিয়েছেন দালিচকে। কেননা আফ্রিকান দেশটির সম্ভাবনা যে বেশি। গোটা বিশ্বের প্রত্যাশা, সমীকরণ মিলিয়ে বা যেভাবেই হোক, আর্জেন্টিনা ও ব্রাজিল দ্বিতীয় পর্বে পা রাখুক; নয়তো গ্রেটেস্ট শো অন আর্থের আমেজ থাকে না। দল ম্যাচ জয় ড্র হার গোল পয়েন্ট ক্রোয়েশিয়া ২ ২ ০ ০ ৫/০ ৬ নাইজেরিয়া ২ ১ ০ ১ ২/২ ৩ আইসল্যান্ড ২ ০ ১ ১ ১/৩ ১ আর্জেন্টিনা ২ ০ ১ ১ ১/৪ ১ দল ম্যাচ জয় ড্র হার গোল পয়েন্ট ব্রাজিল ২ ১ ১ ০ ৩/১ ৪ সুইজারল্যান্ড ২ ১ ১ ০ ৩/২ ৪ সার্বিয়া ২ ১ ০ ১ ২/২ ৩ কোস্টারিকা ২ ২ ০ ০ ০/৩ ০
সার্বিয়াকে হারিয়ে ব্রাজিলের পাশে সুইজারল্যান্ড
রাশিয়া বিশ্বকাপের গ্রুপপর্বে ইতোমধ্যে শেষ হয়ে গেছে ২৬টি ম্যাচ। প্রথম ২৫ ম্যাচে কোন দল পিছিয়ে পড়ার পর জেতেনি। তবে ২৬ তম ম্যাচে এসে সেই ধারার বত্যয় ঘটিয়েছে সুইজারল্যান্ড। গ্রুপ-ই এর নিজেদের দ্বিতীয় ম্যাচে দলটি মুখোমুখি হয়েছিল সার্বিয়ার। প্রথমার্ধে পিছিয়ে গিয়েছিল। তবে দ্বিতীয়ার্ধে ঠিকই দুই গোল করে ২-১ ব্যবধানে ম্যাচ জিতেছে সুইসরা। কালিনিনগ্রাদ স্টেডিয়ামে এই ম্যাচটি জিতলে সার্বিয়া নিশ্চিত করত শেষ ষোলতে খেলা। সর্বশেষ ১৯৯৮ সালের বিশ্বকাপে দলটি গ্রুপপর্বের বাধা পেরিয়েছিল। কিন্তু এদিনের পরাজয়ে সেই সম্ভাবনা অনেকটাই শঙ্কার মুখে পড়ে গিয়েছে। গ্রুপপর্বে নিজেদের শেষ ম্যাচে সার্বিয়া মুখোমুখি হবে ব্রাজিলের। সেই ম্যাচ জিতলে সার্বিয়ানদের শেষ ষোল নিশ্চিত হবে। তবে এটা যে অনেকটাই অসম্ভব তা আঁচ করতে ফুটবল বিশেষজ্ঞ হতে হয়না। ব্রাজিলের সাথে ড্র করলেও সার্বিয়ার সামনে একটা সুযোগ থাকবে। সেক্ষেত্রে সুইজারল্যান্ড যদি নিজেদের শেষ ম্যাচ হারে তবে গোল ব্যবধান হিসেব করে সম্ভাবনার পথ খুলতে পারে সার্বিয়ার জন্য। বর্তমানে ব্রাজিল ও সুইজারল্যান্ডের পয়েন্ট সমান, চার। যা ই-গ্রুপে সর্বোচ্চ। দুই দলেরই একটি করে ম্যাচ বাকি আছে। সুইসরা শেষ ম্যাচটি জিতলে নিশ্চিতভাবে চলে যাবে শেষ ষোলতে। ব্রাজিল যদি নিজেদের শেষ ম্যাচে সার্বিয়াকে হারায় তবে কোস্টা রিকার বিপক্ষে হারলেও সুইজারল্যান্ড চলে যাবে শেষ ষোল’তে। এই ম্যাচ দুই দলেরই কিছু ভাল সুযোগ এবং তা কাজে লাগাতে না পারার ব্যর্থতা খুব ভালভাবেই দেখেছে। ম্যাচের পঞ্চম মিনিটে প্রথম গোল করে এগিয়ে যায় সার্বিয়া। সুইজারল্যান্ডের ডিবক্সের বাইরে থেকে দুর্দান্ত একটি ক্রস তুলে দেন মিডফিল্ডার দুসান তাদিচ। তা থেকে দারুণ হেডে গোল করেন মিত্রোভিচ। প্রথমার্ধ ১-০ গোলে এগিয়ে থেকেই শেষ করে সার্বিয়া। দ্বিতীয়ার্ধে ম্যাচের ৫২ মিনিটে নিজেদের প্রথম গোলের দেখা পায় সুইজারল্যান্ড।সুইস মিডফিল্ডার জাদরান শাকিরির জোরালো শট ডিবক্সে প্রতিহত করেন সার্বিয়ান অধিনায়ক আলেকসান্দর কোলারভ। ফিরতি বল নিয়ে প্রায় ২৫ গজ দূর থেকে শট নেন জাকা। তার বুলেট গতির শট সার্বিয়ান রক্ষণ ও গোলকিপারকে ফাঁকি দিয়ে জড়িয়ে যায় জালে। পুরো ম্যাচজুড়ে বেশ ভাল খেলেছেন শাকিরি। সেভাবে কোন সুযোগ কাজে লাগাতে না পারলেও ম্যাচের ৯০তম মিনিটে সুইজারল্যান্ডের জয়সূচক গোলটি করেন এই মিডফিল্ডার।
আর্জেন্টিনাকে হারিয়ে দ্বিতীয় রাউন্ডে ক্রোয়েশিয়া
মাথা নিচু করে রয়েছেন। রাজ্যের হতাশা মাসেরানোর চেহারায়। হিগুয়াইনের মাথা চুইয়ে ঘাম ঝড়ে পড়ছে। কাবায়েরোর চোখে মুখে ক্ষমা চাওয়ার আকুতি। ৮০ মিনিটে লুকা মদ্রিচ যখন গোল করলেন তখনকার চিত্র এটি। এক ছবিতেই পুরো আর্জেন্টিনার চিত্র। বিশ্বকাপে শত আশা নিয়ে আসলেও টানা দুই ম্যাচ হেরে বিশ্বকাপ স্বপ্ন কার্যত শেষ হয়ে গেল মেসিদের। এখন অন্যদের উপর নির্ভর করছে আর্জেন্টিনার বিশ্বকাপের পরের রাউন্ডে যাওয়া। বিশ্বকাপের দ্বিতীয় রাউন্ডে ওঠার লক্ষ্যে ক্রোয়েশিয়ার বিপক্ষে মহাগুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে মাঠে নামে আর্জেন্টিনা। প্রথম ম্যাচে আইসল্যান্ডের বিপক্ষে ১-১ ব্যবধানে ড্র করে খাদের কিনারায় মেসির দল। সেখান থেকে বের হওয়ার লক্ষ্যে দ্বিতীয় ম্যাচে মাঠে নামে মেসিরা। কিন্তু ক্রোয়েশিয়ানদের কাছে কোথাও পাত্তা পায়নি মেসিরা। হোর্হে সাম্পাওলির দলকে ৩ -০ গোলে হারিয়ে দ্বিতীয় রাউন্ড নিশ্চিত করলো মদ্রিচ-রাকিতিচরা। দারুণ মিডফিল্ড নিয়ে ম্যাচের শুরুতেই আক্রমণ করতে থাকে ক্রোয়েশিয়া। ম্যাচের ৪ মিনিটেই এগিয়ে যেতে পারতো ক্রোয়েশিয়া। কিন্তু পেরেসিচের বা পায়ের শট আঙুলের টোকায় রক্ষা করেন আর্জেন্টাইন গোলরক্ষক কাবায়েরো। ১২ মিনিটে মেসিও সুযোগ পেয়েছিলেন গোলের। সতীর্থের মাথার উপর দিয়ে চিপ করা বলে পা ছোঁয়াতে ব্যর্থ হন এই বার্সা তারকা। ২১ মিনিটে লেফট উইং দিয়ে মার্কস আকুনিয়ার আচমকা বা পায়ের শট গোলবারে লেগে প্রতিহত হলে গোলবঞ্চিত হয় আর্জেন্টিনা। ৩০ মিনিটে আর্জেন্টিনার হয়ে গোলের সবচেয়ে সহজ সুযোগটি পেয়েছিলেন এনজো পেরেজ। মাত্র ছয় গজ দূর থেকে মেজার থেকে বল পেয়েও উন্মুক্ত গোলে বল না মেরে বাইরে পাঠান এই রিভার প্লেট তারকা। ম্যাচে তেমন কোন প্রভাবই রাখতে পারেননি মেসি। আর্জেন্টাইন ডিফেন্ডারদের ফাঁকি দিয়ে ৩৩ মিনিটে ভ্রাসালজিকোর ক্রসে মানজুকিচ হেড করলে তা লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়। গোল মুখের এত সামনে দাঁড়িয়ে এমন হেডে কার্যত হতাশা নেমে আসে ক্রোয়েটদের মাঝে। প্রথমার্ধের অতিরিক্ত সময়ে পেরেসিচ ফাঁকায় বল পেয়েও গোল করতে ব্যর্থ হন। গোলশূন্য অবস্থাতেই শেষ হয় প্রথমার্ধ। দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতেই আর্জেন্টিনাকে হতাশায় ডোবান গোলরক্ষক কাবায়েরো। সতীর্থদের পাস দেওয়ার পরিবর্তেই দিয়ে বসেন ক্রোয়েশিয়ার ফুটবলার রেবিচকে। মনে হচ্ছিল যেন পাসই ভুলে গেছেন তিনি! ডি বক্সের ভেতর থেকে দারুণ ভলিতে কাবায়েরোর মাথার উপর দিয়ে দুর্দান্ত গোলে ক্রোয়েশিয়াকে ১-০ গোলে এগিয়ে দেন তিনি। ক্যামেরায় মাঝে মাঝে ডিয়েগো ম্যারাডোনাকে দেখাচ্ছিল। হয়তো ১৯৮৬ সালের সেই ম্যারাডোনাকে মনে করে আর্জেন্টাইনদের আরেকটু চাঙ্গা করার ব্যর্থ প্রয়াস। ৬৪ মিনিটে গোল শোধের সুযোগ পেয়েছিলেন মেসি ও মেজা। কিন্তু গোললাইন থেকে সেটি রক্ষা করেন মেসিরই ক্লাব সতীর্থ রাকিতিচ। দলকে বাঁচাতে ৬৮ মিনিটে এনজো পেরেজের বদলি হিসেবে দিবালাকে নামান কোচ। কিন্তু তিনিও পারেননি আর্জেন্টিনার এই হতাশাজনক খেলার ধারা পাল্টাতে। আর্জেন্টিনার এই ম্যাচে ফিরে আসার চিন্তা ৮০ মিনিটেই কার্যত শেষ হয়ে যায়। ব্রোজোভিচের কাছ থেকে বল পেয়ে ডি বক্সের বাইরে থেকে দূরপাল্লার দর্শনীয় শটে কাবায়েরোকে পরাস্ত করেন এই রিয়াল মাদ্রিদ তারকা। ২-০ গোলে এগিয়ে থেকে আরো যেন শক্তিশালী ক্রোয়েশিয়ান ফুটবলাররা। ম্যাচের ৯২ মিনিটের মাথায় গোলরক্ষক কাবায়েরোকে বোকা বানান কোভাচিচ। এই মাদ্রিদ তারকার বাড়ানো পাস থেকে রাকিতিচ গোল করে আর্জেন্টিনাকে ৩-০ গোলের হার উপহার দেন। ৩-০ গোলের পরাজয়ে আর্জেন্টিনার দ্বিতীয় রাউন্ড ভাগ্য এখন সুতোয় ঝুলছে। অন্যদিকে মেসিদের হারিয়ে রাকিতিচ, মদ্রিচদের হাত ধরে আরো একবার বিশ্বকাপের নকআউট রাউন্ডে উঠলো ক্রোয়েশিয়া।
পেরুকে হারিয়ে ষোলোতে ফ্রান্স
এবারের বিশ্বকাপে ফেভারিট দলগুলোর মধ্যে নিজেদের প্রথম ম্যাচে একমাত্র জয় পেয়েছিল ফ্রান্স। অস্ট্রেলিয়াকে ২-১ গোলে হারিয়ে যাত্রা করেছিল দলটি। সেই ধারা বজায় রাখতে মরিয়া ছিলেন ফরাসিরা। পেরুর বিপক্ষে জয় ভিন্ন কিছুই মাথায় নেননি তারা। সেই যাত্রায় সফল ফ্রান্স। পেরুভিয়ানদের ১-০ গোলে হারিয়েছেন সাবেক বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা। এ জয়ে শেষ ষোলো নিশ্চিত করেছেন তারা। অসাধারণ স্কিলে জয়সূচক গোলটি করেছেন প্রতিশ্রুতিশীল ফুটবলার কিলিয়ান এমবাপ্পে। ১৯৭৮ বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনার কাছে হারার পর থেকে বিশ্বকাপে দক্ষিণ আমেরিকার কোনো দেশের কাছে হারেনি ফ্রান্স। এ নিয়ে জিতল ৪ ম্যাচ, ড্র হয় অন্য ৪টি। একাতেরিনবার্গে সতর্ক শুরু করে ফ্রান্স। সেখানে আক্রমণাত্মক সূচনা করে পেরু। ঘন ঘন আক্রমণে ওঠেন পেরুভিয়ানরা। প্রথমার্ধে ৫৩ শতাংশ বল দখলে রাখেন তারা। মূলত এরই খেসারত গুনতে হয়েছে তাদের। ৩৪ মিনিটে কাউন্টার অ্যাটাক থেকে গোল হজম করতে হয় পেরুকে। এসময় নিশানাভেদ করে ফ্রান্সকে লিড এনে দেন এমবাপ্পে। এতে ১-০ ব্যবধান নিয়ে বিরতিতে যায় ১৯৯৮ বিশ্ব চ্যাম্পিয়নরা। বিরতি থেকে ফিরে আক্রমণের গতি আরো বাড়ায় পেরু। মুহুর্মুহু আক্রমণে ফ্রান্স রক্ষণভাগে ত্রাস ছড়ায় ল্যাতিন আমেরিকার দলটি। এ অর্ধে ৫৭ শতাংশ বল দখলে রাখে তারা। বেশ কয়েকটি সুবর্ণ সুযোগও পায়। তবে স্বার্থ হাসিল করতে পারেনি। ফলে ভালো খেলেও হারের হতাশা নিয়ে মাঠ ছাড়তে হয় পেরুকে। এ হারে এক ম্যাচ আগেই বিদায় ঘণ্টা বাজল পেরুর।
বাংলাদেশ ফুটবল দলের দায়ীত্ব নিল ব্রাজিল
বাংলাদেশ ফুটবলকে বিশ্বে সবার সামনে আনার জন্য সকল প্রকার সহযোগিতার আশ্বাস দিয়েছেন ব্রাজিলের রাষ্ট্রদূত জোয়াও তাবাজারা ডি অলিভেইরা জুনিয়র। বৃহস্পতিবার (২১ জুন) যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী বীরেন শিকদারের সঙ্গে তার সচিবালয়স্থ কার্যালয়ে এক সৌজন্য সাক্ষাতে রাষ্ট্রদূত এ আশ্বাস দেন। জোয়াও তাবাজারা ডি অলিভেইরা জুনিয়র দক্ষ ফুটবলার তৈরিতে স্কুল পর্যায়ে নিবিড় সহযোগিতার কথা বলেন। তিনি বাংলাদেশে ফুটবল একাডেমি প্রতিষ্ঠা, ব্রাজিলের স্বনামধন্য কোচ ও খেলোয়াড়দের বাংলাদেশের ফুটবলের উন্নয়নে কাজে লাগানোর বিষয়েও আন্তরিকতা প্রকাশ করেন। সাক্ষাৎকালে তারা ক্রীড়ার উন্নয়নে বিভিন্ন বিষয়াদি নিয়ে মতবিনিময় করেন। এ সময় যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. আসাদুল ইসলাম, অতিরিক্ত সচিব এ বি এম রুহুল আজাদ, যুগ্মসচিব মো. ওমর ফারুক এবং বাংলাদেশে ফিফা বিশ্বকাপ ২০১৮ এর উম্মাদনা অবলোকন করতে ব্রাজিল থেকে আগত চারজন টিভি সাংবাদিক উপস্থিত ছিলেন।
গণভবনে মহিলা ক্রিকেটারদের প্রধানমন্ত্রীর সংবর্ধনা
এশিয়া কাপ টি-২০ টুর্নামেন্টে যে নৈপুণ্য দেখিয়েছে সেভাবে ভবিষ্যতেও বাংলাদেশের মহিলা ক্রিকেটাররা তাদের সাফল্য অব্যাহত রাখবে বলে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আশা প্রকাশ করেছেন। গতকাল বুধবার রাতে গণভবনে এশিয়া কাপ টি-২০ টুর্নামেন্টে বিজয়ী মহিলা ক্রিকেটারদের এক সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে তিনি বলেন, ‘আপনারা এশিয়া কাপে যে নৈপুণ্য দেখিয়েছেন সেখান থেকে পিছু হটবেন না বলে আমি আশাবাদী। আগামী দিনগুলোতে যে কোনো প্রতিযোগিতায় বিজয় অর্জনে দৃঢ় সংকল্পবদ্ধ থাকবেন বলে আমি আশা করি।’ গত ১০ জুন কুয়ালালামপুরে ম্যাচের চূড়ান্ত খেলায় বাংলাদেশ মহিলা ক্রিকেট দল ছয় বারের চ্যাম্পিয়ন ভারতকে তিন উইকেটে পরাজিত করে ঐতিহাসিক বিজয় অর্জন করে। মহিলা ক্রিকেটারদের পাশে থাকার দৃঢ় অঙ্গীকার ব্যক্ত করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সরকার ফুটবলের মতো সকল জেলায় ক্রিকেট টুর্নামেন্ট চালু করার পরিকল্পনা নিয়েছে। এশিয়া কাপে বাংলাদেশ দলের সাফল্যে আরো বহু খেলোয়াড় উত্সাহিত হবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিজয়ে খেলোয়াড়রা উল্লসিত হবে, তবে পরাজয়ে হতাশ হওয়া উচিত নয়। শেখ হাসিনা বলেন, সরকার চায় দেশের তরুণ প্রজন্ম ক্রীড়া ও সাংস্কৃতিক অঙ্গনসহ সর্বক্ষেত্রে সাফল্যজনকভাবে এগিয়ে যাক। অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী বীরেন সিকদার, বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের সভাপতি নাজমুল হাসান পাপন এবং ক্রিকেট দলের অধিনায়ক সালমা খাতুন বক্তব্য রাখেন।
ইরানকে হারিয়ে বিশ্বকাপে টিকে রইল স্পেন
বিশ্বকাপে দ্বিতীয় রাউন্ডে যাওয়ার সম্ভাবনা জিইয়ে রাখতে জিততেই হবে স্পেনকে। এমন কঠিন সমীকরণকে সামনে রেখে এশিয়ার পরাশক্তি ইরানের মুখোমুখি হয় স্পেন। ২০১৪ সালের পর যে দলটি কোন প্রতিযোগিতামূলক ম্যাচ হারেনি তাদের বিপক্ষে ম্যাচটি যে সহজ হবে না সেটা ভালো করেই জানতো ইনিয়েস্তারা। ইরানের শক্ত রক্ষণভাগের মোকাবেলায় ডিয়েগো কস্তার ভাগ্যপ্রসূত এক গোলে ইরানকে ১-০ গোলে হারায় স্পেন। দ্বিতীয় রাউন্ডে যাওয়ার সম্ভাবনা টিকিয়ে রাখলো ২০১০ সালের চ্যাম্পিয়নরা। পর্তুগালের বিপক্ষে একাদশে না থাকলেও দীর্ঘদিন পর ইনজুরি কাটিয়ে স্পেন একাদশে ফিরেছেন দানি কার্ভাহাল। অন্যদিকে কোকের পরিবর্তে ম্যাচে লুকাস ভাস্কুয়েজকে নামান স্পেন কোচ হিয়েরো। কিন্তু স্প্যানিশদের এতসব পরিকল্পনা সব ভেস্তে যায় কুইরোজের কৌশলের কাছে। ম্যাচের শুরু থেকেই আধিপত্য বিস্তার করে খেলতে থাকে স্পেন। কিন্তু ইরানের ডিফেন্ডারদের করা মার্কিংয়ে গোলের তেমন কোন সুযোগই তৈরি করতে পারেনি ইস্কো, ইনিয়েস্তা, সিলভারা। ইরানের গোলমুখে ম্যাচের প্রথম শটটি নেন ডেভিড সিলভা তাও ২৫ মিনিটের সময়। ফ্রি কিক থেকে সিলভার শট মানব দেয়ালে লেগে সরাসরি যায় ইরানের গোলরক্ষকের হাতে। পুরো প্রথমার্ধে ৮২ শতাংশ বল নিজেদের কাছে রেখেও ইরান ডিফেন্সে ভাঙন ধরাতে পারেনি স্পেন। প্রথমার্ধে দু’দল পেশি শক্তিরও বেশ ভালো ব্যবহার করে। ১৬বার রেফারি ফাউলের বাঁশি বাজালেও কেউ হলুদ কার্ড দেখেননি। গোলশূন্য অবস্থাতেই শেষ হয় স্পেনের গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচটি। দ্বিতীয়ার্ধে খোলস ছেড়ে বেরুতে থাকে স্প্যানিশ ফুটবলাররা। ৪৯ মিনিটে ইস্কোর কর্নার থেকে পিকের ফ্লিক গোলবারের সামান্য বাইরে দিয়ে চলে যায়। ৫৪ মিনিটেই ইরানের ১০ জনের ডিফেন্স ভাঙ্গেন ডিয়েগো কস্তা। মাঝমাঠ থেকে আন্দ্রেস ইনিয়েস্তা বল নিয়ে ডি বক্সের ভেতর ডিয়েগো কস্তাকে পাস দিলে সেটি ইরানের রক্ষণভাগের ফুটবলার ক্লিয়ার করতে গিয়ে অপ্রত্যাশিতভাবে কস্তার পায়ে বল জালে জড়ালে স্বস্তির গোল পায় স্পেন। এর ফলে বিশ্বকাপে দুই ম্যাচেই তিন গোল করলেন অ্যাটলেটিকো মাদ্রিদের কস্তা। ৬০ মিনিটে ইরানের তারেমির শট গোলবারের বাইরে চলে যায়। ৬৪ মিনিটেই গোল পেয়েছিল ইরান। এজাতোলাহি হেড থেকে গোল করলে উল্লাসে মাতে ইরান কিন্তু ভিডিও এসিস্ট্যান্ট রেফারির সহায়তায় নিয়ে গোলটিকে অফসাইডের কারণে বাতিল করে দেন রেফারি। ৭০ মিনিটে আবারো এগিয়ে যেতো পারতো স্পেন কিন্তু জেরার্ড পিকের শট গোললাইন থেকে দুই ইরানিয়ান ডিফেন্ডার শুয়ে রক্ষা করেন ইরানকে। ৮৩ মিনিটে গোল শোধের একদম কাছে চলে গেছিল ইরান। কিন্তু আমিরি ফাঁকা জায়গায় হেড করার সুযোগ পেয়েও সেটিকে গোলবারের উপর দিয়ে মারেন। ম্যাচের শেষ দিকে বল দখলের লড়াইতেই বেশি ব্যস্ত ছিল দলগুলো। শেষ দিকে আর কোন গোল না হলে ১-০ গোলের স্বস্তির জয় নিয়েই মাঠ ছাড়ে স্পেন। অন্যদিকে হেরেও দ্বিতীয় রাউন্ডের সম্ভাবনা টিকে রয়েছে ইরানের। শেষ ম্যাচে পর্তুগালের বিপক্ষে জিতলেই পরের রাউন্ডে চলে যাবে তারা।
মিশরকে ৩-১ গোলে উড়িয়ে নকআউট পর্বে রাশিয়া
মিশরের গড়া সব প্রতিরোধ দ্বিতীয়ার্ধে শুরুতেই ভেঙে্ গুড়িয়ে দিল রাশিয়া। ৩-১ গোলে মিশরকে হারিয়ে সবার আগে নকআউট পর্ব নিশ্চিত করেছে স্বাগতিক দল।নিজেদের প্রথম ম্যাচে সৌদি আরবকে ৫-০ গোলে উড়িয়ে দেওয়ার দ্বিতীয় ম্যাচেও বড় ব্যবধানে জয়ী হলো রাশিয়া। সেই সঙ্গে এবারের বিশ্বকাপের সর্বোচ্চ ৮ গোল দেওয়ার রেকর্ড গড়েলো স্বাগতিকরা। দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতেই আত্মঘাতি গোলে এগিয়ে যায় রাশিয়া। এরপর মাত্র ১৫ মিনিটের ব্যবধানে তিন গোলে বিশাল ব্যবধান গড়ে তুলে বিশ্বকাপের এবারের আয়োজকরা। দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতেই ৪৭ মিনিটে আলেক্সান্দর গোলোভিনের বাউন্সি শট পরিষ্কার করতে গিয়ে নিজেদের জালেই বল ঠেলে দেন মিশরের আহমেদ ফাতি (১-০)। ৫৯ মিনিটে দেনিস চেরিশভের গোলে ২-০ গোলের লিড পায় রাশিয়া। বিশ্বকাপে এটি তার তৃতীয় গোল। ফলে ক্রিস্টিয়ানো রোনালদোর সঙ্গে সর্বোচ্চ ৩ গোল করে তালিকায় শীর্ষে উঠে গেলেন তিনি। তিন মিনিট পরে আর্তেম জিউবার গোলে ৩-০ গোলে এগিয়ে যায় রাশিয়া। খেলার ৭৩ মিনিটে ভিডিও অ্যাসিটেন্ট রেফারি (ভিএআর) প্রযুক্তি থেকে পাওয়া পেনাল্টি থেকে লিভারপুল তারকা মোহামেদ সালাহ’র গোল দিয়ে রাশিয়ার সঙ্গে নিজদলের ব্যবধান কমান। এই পরাজয়ের ফলে প্রথম পর্ব থেকে সালাহ'র দল মিশরের বিদায় নিশ্চিত হলো। এর আগে সেইন্ট পিতার্সবুর্গে ম্যাচের শুরু রাশিয়ানদের আক্রমণে কোনঠাসা হয়ে পড়লেও সময় গড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে ঘুরে দাঁড়ায় মিশর। পাল্টা আক্রমণ করে খেলাকে গতিশীল করে তোলে। কিন্তু তাসের ঘরের মতোই ভেঙে পড়ে মিশরের সব প্রতিরোধ। মিশরকে ৩-১ গোলে হারিয়ে নকআউট পর্ব নিশ্চিত করে উল্লাসে মেতে ওঠে রাশিয়ানরা।

খেলাধূলা পাতার আরো খবর