রবিবার, জুলাই ১৫, ২০১৮
রাশিয়ায় আমি শিরোপা জয়ের স্বপ্ন দেখি: মেসি
ফুটবলে পাঁচবারের বিশ্বসেরা হলেও নিজ দেশকে আজ পর্যন্ত একটি শিরোপাও এনে দিতে পারেননি লিওনেল মেসি। তাই এবার নিশানা তাক করেছেন রাশিয়া বিশ্বকাপে। নিজেদের প্রমাণের এটাই শেষ সুযোগ হতে পারে এই মর্মে তিনি সতীর্থদেরও সতর্ক করে দিয়েছেন। ম্যাজিক বয় মেসি ২০০৫ সালে জাতীয় দলে অভিষেকের পর কোপা আমেরিকার তিনটি আসরে রানার্স-আপ হয় আর্জেন্টিনা। ২০১৪ সালে ব্রাজিল বিশ্বকাপের ফাইনালে জার্মানির কাছে হেরে যায়। মেসি বলেন, আমরা রাশিয়ায় বিশ্বকাপ না জিতলে একমাত্র পথ খোলা থাকবে জাতীয় দল ছেড়ে দেওয়া। আমি রাশিয়ায় শিরোপা জয়ের স্বপ্ন দেখি। মেসির আর্জেন্টিনা রাশিয়া বিশ্বকাপের বাছাই পর্বে প্রত্যাশিত খেলা উপহার দিতে না পারলেও অনুমিতভাবেই চূড়ান্ত পর্বে অন্যতম ফেভারিটের তকমা নিয়েই মিশন শুরু করবে। আইসল্যান্ড, ক্রোয়েশিয়া ও নাইজেরিয়া ডি গ্রুপে তাদের প্রতিপক্ষ।
ছেলেরা বীরের মতো খেলেছে:পাপন
শিরোপা জয়ের দ্বারপ্রান্তে পৌছে গিয়েও কলম্বোর প্রেমাদাসা স্টেডিয়াম থেকে না পাওয়ার হতাশায় ডোবে বাংলাদেশ। শেষ বলের ছক্কায় জয় কেড়ে নেয় ভারত। বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) প্রেসিডেন্ট নাজমুল হাসান পাপনের চোখে, বীরের মতোই খেলেছে টাইগাররা। অনেক প্রাপ্তির ত্রিদেশীয় টি-২০ সিরিজ শেষে সোমবার (১৯ মার্চ) সকালে শ্রীলঙ্কা থেকে দেশে ফিরেছে লাল-সবুজের জার্সিধারীরা। সকাল সাড়ে ১১টায় ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছায় সাকিল আল হাসান ও তার দল। বাংলাদেশ দলকে স্বাগত জানাতে এয়ারপোর্টে ছিলেন বোর্ড প্রধান পাপন। ফাইনালে চ্যাম্পিয়ন হওয়ার এতো কাছে এসে হেরে গেলেও দলের পারফরম্যান্স নিয়ে গর্বিত তিনি। পাপন বলেন, ছেলেরা বীরের মতো খেলেছে। এটা ঠিক ভারতের কাছে হেরেছে। ছেলেদের কষ্টটা আমি দেখেছি। হারের পর ওরা ভেঙে পড়েছিল। মানসিক অবস্থা খুব নাজুক ছিল। খেলায় হার-জিত থাকবেই। এক দল জিতবে এক দল হারবে। প্রত্যেকটা ম্যাচেই বাংলাদেশ বীরের মতো খেলেছে। রোববার (১৮ মার্চ) অনুষ্ঠিত হাইভোল্টেজ ফাইনালে ভারতের বিপক্ষে শিরোপা জয়ের কাছে এসেও স্বপ্নভঙ্গ হয় বাংলাদেশের। টানটান উত্তেজনাপূর্ণ শ্বাসরুদ্ধকর ম্যাচটির শেষ বলে ছক্কা হাঁকিয়ে বাংলাদেশ সমর্থকদের হৃদয় ভাঙেন দিনেশ কার্তিক।
নিদাহাস ট্রফি ভারতের,হেরে গেল বাংলাদেশ
সাকিব সে রুমালটা কে যত্ন করে রেখে দিয়েছিলেন কোথাও? ২০১২ সালের এশিয়া কাপে সাকিব যে রুমাল দিয়ে অশ্রু মুছেছিলেন? এক হাত দিয়ে মুখ আড়াল করছেন সাকিব, তাঁর বুকে মাথা রেখে অঝোরে কাঁদছেন মুশফিক, এ ছবিটা ৬ বছর পরও আমাদের চোখের কোণে অশ্রু এনে দেয়। যে ছবিটা আমাদের বুকে অব্যক্ত এক হাহাকারের জন্ম দেয়, সে ছবিটা আজও মোছা গেল না। শেষ বলে কার্তিকের এক ছক্কায় ৪ উইকেটে হেরে গেল বাংলাদেশ। ফাইনাল ম্যাচ হলে এমনই হতে হয়! একটি ম্যাচ জমাতে যা দরকার হয়, সবই যেন ছিল। ১৬৭ রানের লক্ষ্য, ফাইনালের মতো চাপের ম্যাচে যেন আদর্শ। ১৮০ কিংবা ২০০ হলে বাংলাদেশ এগিয়ে থাকত, আবার ২০ রান কম হলে ভারত। উত্তেজনা জিইয়ে রাখতেই যেন বাংলাদেশ ঠিক মাপে মাপেই রানটা করেছিল! ভারতের রান তাড়ার প্রতিটি পদক্ষেপও যেন ঠিক সেই মাপেই হলো। ঝোড়ো শুরুতে মাত্র ১৫ বলেই ৩২ রান ভারতের। বাংলাদেশের কাঁধগুলো মাত্র ঝুলতে শুরু করেছিল, এমন অবস্থায় আউট ধাওয়ান! রানটা নড়ার আগেই সুরেশ রায়না আউট। ৩২ রানে ২ উইকেট হারাল ভারত। বাংলাদেশই তো এগিয়ে গেল, তাই না? ভুল, রোহিত শর্মা যে উইকেটে ছিলেন। চার-ছক্কা মারতে লাগলেন নিজের ইচ্ছামতো, অন্য প্রান্তে তাঁকে অনুসরণ করলেন লোকেশ রাহুল। দশম ওভারেই তাই লক্ষ্যের অর্ধেক তুলে ফেলল ভারত। ২ উইকেটে ৮৩ রান, পরিষ্কার এগিয়ে ভারত। এমন অবস্থায় ওভারের তৃতীয় বলে রুবেলের বাউন্সার। হুক করতে গিয়ে সাব্বিরের হাতে ধরা পড়লেন রাহুল। জমে উঠল ম্যাচটা। ম্যাচটা তবু জমছিল না। ওই যে রোহিত যে আউটই হচ্ছিলেন না। ক্যারিয়ারের ১৪তম ফিফটি পেয়ে গেছেন, ইনিংসের ১০ ওভারও পেরিয়ে গেছে। ইনিংসের দ্বিতীয় ভাগেই যে বেশি ভয়ংকর এই ওপেনার। ১৪তম ওভারে তাই ম্যাচটা জমালেন নাজমুল ইসলাম। তাঁর সৃষ্ট নাগিন নাচটা বিখ্যাত হয়ে গেলেও পুরো টুর্নামেন্টে নাজমুলের উদযাপন দেখা যাচ্ছিল না। আগের চার ম্যাচে যে একটা উইকেটও পাননি! ফাইনালে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ উইকেটটা তাঁর ভাগ্যে ছিল বলেই হয়তো। লং অন দিয়ে ছক্কা মারতে গিয়ে মাহমুদউল্লাহর কাছে ধরা পড়লেন রোহিত। ভারত তখন জয় থেকে ৬৯ রান দূরে, হাতে ৪০ বল। এভাবেই চলল ম্যাচের প্রতিটি মুহূর্ত। এক মুহূর্তে মনে হচ্ছে ভারতই জিতবে, পরের মুহূর্তেই বাংলাদেশ! সেটা বাংলাদেশের দিকে ঘুরিয়ে দিলেন মোস্তাফিজ। ৩ ওভারে ৩৫ রান দরকার ছিল ভারতের। মোস্তাফিজ এলেন, প্রথম ৪ বলই ডট! পরের বলে ১ রান। শেষ বলে আউট মনীষ পান্ডে। ম্যাচ তো বাংলাদেশের! কিন্তু রুবেলের ৩ বলেই আবারও ভারত ফেবারিট! প্রথম বলেই ছক্কা, পরের বলে চার, আবার ছক্কা! ১২ বলে ৩৪ রান থেকে ৯ বলে ১৮ রানের দূরত্বে ভারত। রুবেলের ওভারে এল ২২ রান। শেষ ওভারে মাত্র ১২ রান লাগবে ভারতের। শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে বাংলাদেশের ঠিক ১২ রানই দরকার ছিল। সমস্যা একটাই, বাংলাদেশের মূল বোলারদের আর কারও ওভার বাকি নেই! সৌমের প্রথম বলটা ওয়াইড। ৬ বলে ১১ রান। ডট, ১। ৪ বলে ১০ রান! আবারও ১, ৩ বলে ৯ রান। চতুর্থ বলে দুর্ভাগ্যক্রমে ৪, ২ বলে ৫ রান। পরের বল, উড়িয়ে মারলেন শংকর। দুই ফিল্ডার ধাক্কা খেলেন, তবে বল হাতছাড়া হলো না। আউট! ১ বলে ৫ রান দরকার ভারতের। বাংলাদেশের দরকার ৪-এর নিচে যেকোনো কিছু! এমন চাপ নিয়ে কখনো কি বল করেছেন সৌম্য? বাংলাদেশের কোনো বোলার? কার্তিকের এক ছক্কায় শেষ হয়ে গেল! ৮ বলে ২৯ রানের এক ইনিংসে বাংলাদেশের সব স্বপ্ন শেষ হয়ে গেল।
নিদাহাস ট্রফির টস হেরে ব্যাটিংয়ে বাংলাদেশ
নিদাহাস ট্রফি ত্রিদেশীয় টি-টোয়েন্টি সিরিজে এখন পর্যন্ত দুইটি ম্যাচ জিতেছে বাংলাদেশ দল। দুইটি ম্যাচে পরে ব্যাট করে জিতেছে টাইগাররা। কিন্তু ফাইনালে চস জিততে পারেননি সাকিব আল হাসান। চাই আগে ব্যাট করতে নামছে লাল সবুজের দল। বাংলাদেশ সময় সন্ধা সাড়ে ৭টায় কলম্বোর প্রেমাদাসা স্টেডিয়ামে শুরু হবে শিরোপা লড়াই। টস শেষে বাংলাদেশ দলের অধিনায়ক সাকিব আল হাসান বলেছেন,উইকেট খুব ভালো মনে হচ্ছে, আশা করি একই রকম থাকবে। আমাদের জন্য এই ম্যাচ খুব গুরুত্বপূর্ণ। আবেগ নিয়ন্ত্রণে রাখছে সবাই। চার ম্যাচেই আমরা জয়ের সুযোগ পেয়েছিলাম, কিন্তু ভারতের বিপক্ষে আমাদের সেরাটা খেলতে হবে। একই দল নিয়ে খেলব আমরা। শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে জয়ী একাদশ নিয়েই আজ মাঠে নামছে বাংলাদেশ। তবে ভারতের একাদশে একটি পরিবর্তন এসেছে। মোহাম্মদ সিরাজের বদলে বাঁহাতি পেসার জয়দেব উনাড়কাটকে নেয়া হয়েছে। গত শুক্রবার (১৬ মার্চ) অবিশ্বাস্য এক জয়ে স্বাগতিক শ্রীলঙ্কাকে হারিয়ে নিদাহাস ট্রফির ফাইনালে উঠে বাংলাদেশ দল। নিদাহাস ট্রফি জিততে হলে আজ ব্যাটিং, বোলিং এবং ফিল্ডিং এই তিন বিভাগে জ্বলে উঠতে হবে সাকিব আল হাসানের দলকে। সেই লক্ষ্য সামনে রেখেই মাঠে নেমেছে টাইগাররা। ত্রিদেশীয় সিরিজের এমন ফাইনালে বাংলাদেশ আগেও খেলেছে। তাও গুনে গুনে চারবার। দুইবার প্রতিপক্ষ শ্রীলঙ্কা, একবার করে ভারত ও পাকিস্তান। প্রতিপক্ষ বদলালেও ভাগ্য বদলায়নি। কখনোই জেতা হয়নি ত্রিদেশীয় সিরিজের ফাইনাল, চুমু আঁকা হয়নি আরাধ্যের ট্রফিতে। আগের চার ফাইনালেই স্বপ্নভঙ্গ, বেদনা-হতাশার ইতিহাস। নিঃশ্বাস দূরত্বে থাকা শিরোপা উঁচিয়ে উল্লাস করেছে প্রতিপক্ষ শিবির, টাইগার শিবির তা শুধু চেয়ে চেয়েই দেখেছে। কাকতালীয় হলেও সত্য, সেই চার ফাইনালেরই ভেন্যু ছিল মিরপুর। এবার ভেন্যু ভিন্ন, কলম্বোর প্রেমাদাসা স্টেডিয়াম। নিদাহাস টুর্নামেন্টের ফাইনালে আজ সন্ধ্যা সাড়ে ৭টায় শুরু হবে ফাইনালের মহারণ, বাংলাদেশের প্রতিপক্ষ যেখানে ভারত। পঞ্চমবারের ফাইনালে ভাগ্য বদলাবে বাংলাদেশের? বাংলাদেশ একাদশ: সাকিব আল হাসান (অধিনায়ক), তামিম ইকবাল, লিটন দাস, সৌম্য সরকার, মুশফিকুর রহীম, মাহমুদউল্লাহ, সাব্বির রহমান, মেহেদী হাসান মিরাজ, মোস্তাফিজুর রহমান, রুবেল হোসেন, নাজমুল ইসলাম। ভারত একাদশ: রোহিত শর্মা (অধিনায়ক), শিখর ধাওয়ান, সুরেশ রায়না, লোকেশ রাহুল, মনিশ পান্ডে, দিনেশ কার্তিক, বিজয় শঙ্কর, ওয়াশিংটন সুন্দর, শারদুল ঠাকুর, জুজবেন্দ্র চাহাল, জয়দেব উনাড়কাট।
শ্রীলংকার মাঠে বাংলাদেশ-ভারত লড়াই আজ
শ্রীলংকায় ত্রিদেশীয় সিরিজ নিদাহাস ট্রফির ফাইনালে আজ ভারতের বিপক্ষে নামবে বাংলাদেশ। কলম্বোর প্রেমাদাসা স্টেডিয়ামে বাংলাদেশ সময় আজ রোববার সন্ধ্যা সাড়ে ৭টায় ত্রিদেশীয় টি-২০ সিরিজ শুরু হবে। এক ম্যাচে অনেক হিসাব মেলানোর আছে বাংলাদেশের। টি ২০ তে দু দলের আগের সাত ম্যাচে কখনও ভারতকে হারাতে না পারার হতাশার গল্পটা নতুন করে লেখার চ্যালেঞ্জ। টেস্ট মর্র্যাদা পাওয়ার পর দ্বিপক্ষীয় সিরিজের বাইরে কখনও কোনো প্রতিযোগিতার শিরোপা জিততে না পারার ধারায় ছেদ টানার চ্যালেঞ্জ। আজ জিতলে খুলে যাবে ফাইনালের গেরোও। এমন ম্যাচে বাড়তি চাপ তো থাকবেই। আশার কথা হল, সিরিজে নিজেদের আগের ম্যাচেই স্নায়ুচাপের সবচেয়ে বড় পরীক্ষায় উতরে গেছে বাংলাদেশ। শুক্রবার শ্রীলংকার বিপক্ষে অলিখিত সেমিফাইনালে রূপ নেয়া প্রাথমিক পর্বের শেষ ম্যাচের শেষ ওভারে মাঠ ও মাঠের বাইরে যে অগ্নিগর্ভ পরিস্থিতি তৈরি হয়েছিল, তা ছাড়িয়ে গেছে আগের সবকিছুই। নিদাহাস ট্রফির ফাইনাল নিশ্চিত হওয়ার পরই বাংলাদেশ দলের জন্য এক কোটি টাকা বোনাস ঘোষণা করেছে বিসিবি। ফাইনালে জিততে পারলে আরও বড় বোনাস অপেক্ষা করছে সাকিব-তামিমদের জন্য। তবে ভারতকে হারাতে বাড়তি প্রেরণার প্রয়োজন নেই বাংলাদেশ দলের। বাংলাদেশ যেভাবে ঘুরে দাঁড়িয়েছে তাতে ভারতও আজ চাপে থাকবে। প্রাথমিক পর্বে অবশ্য দু বার বাংলাদেশকে হারিয়েছে তারা। কোহলি-ধোনিদের মতো মূল খেলোয়াড়দের ছাড়াই টানা তিন ম্যাচ জিতে ফেভারিটের মতোই ফাইনালে উঠেছে ভারত। তবে গত কয়েক বছরে বাংলাদেশ-ভারত দ্বৈরথ যে নতুন রূপ নিয়েছে, তাতে নির্ভার থাকতে পারছেন না দিনেশ কার্তিক। শনিবার কলম্বোয় ম্যাচপূর্ব সংবাদ সম্মেলনে দলের প্রতিনিধি হয়ে আসা ভারতের এই উইকেটকিপার-ব্যাটসম্যান জানালেন, বাংলাদেশের বিপক্ষে এখন যেকোনো ম্যাচই কঠিন। কারণটাও ব্যাখ্যা করেছেন কার্তিক,উপমহাদেশের কন্ডিশনে বাংলাদেশ এখন খুবই ভালো দল। চাপ থাকবেই। সমস্যা হল, আমাদের সমর্থকরা ধরেই নেন বাংলাদেশের বিপক্ষে আমরা জিতব। জিতলে কোনো বাহবা নেই। কিন্তু হারলেই শুনতে হয়,তোমরা বাংলাদেশের কাছে হেরেছ। কী করেছ তোমরা? আমি নিশ্চিত, এবারও তাই ঘটবে। তবে আমরা এখন পর্যন্ত টুর্নামেন্টে সফল। শেষ ম্যাচটাও জিততে চাই। আমি নিশ্চিত, খুব ভালো একটা ম্যাচ হবে। বাংলাদেশের সম্ভাব্য একাদশ: তামিম ইকবাল, সৌম্য সরকার, লিটন দাস, মুশফিকুর রহিম (উইকেটরক্ষক), সাকিব আল হাসান (অধিনায়ক), মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ, সাব্বির রহমান, মেহেদী হাসান মিরাজ, মোস্তাফিজুর রহমান, রুবেল হোসেন, নাজমুল অপু।
নুরুল এবং সাকিবের জরিমানা
শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে ম্যাচের শেষ ওভারে দুই দলের মধ্যে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। মাঠে থাকা মাহমুদুল্লাহ রিয়াদ এবং রুবেল হোসেনকে খেলা ছেড়ে দিয়ে বেরিয়ে আসতে বলেন ক্ষুব্ধ সাকিব। এ সময় মাঠের আম্পায়ারদের সঙ্গে কথার লড়াইয়ে জড়িয়ে পড়েন মাহমদুল্লাহও। এ সময় পানি হাতে মাঠে প্রবেশ করা বাংলাদেশ দলের নুরুল হাসান সোহানও লঙ্কান ক্রিকেটারদের সঙ্গে বিতণ্ডায় জড়িয়ে পড়েন। থিসারা পেরেরার সঙ্গে কিছুটা ধাক্কাধাক্কিও হয় তার। ম্যাচ শেষে কুশাল মেন্ডিসের সঙ্গেও কথার লড়াইয়ে জড়িয়ে পড়েন সোহান। প্রথম বলের পর ওভারের দ্বিতীয় বলটিও বাউন্সার করেন ইসুরু উদানা। লেগ আম্পায়ার নো বলের সংকেত দিলেও সেটি বাতিল করে দেন প্রথম আম্পায়ার। এই নিয়েই মূলত যতো সমস্যা। শেষ পর্যন্ত সিদ্ধান্তে অটল থাকে আম্পায়াররা। তবে ম্যাচটি জিতে নেয় বাংলাদেশ। ম্যাচ জিতলেও আচরণবিধি ভাঙার জন্য শাস্তি পেয়েছেন বাংলাদেশ অধিনায়ক সাকিব আল হাসান ও নুরুল হাসান। দু্ই জনকেই ম্যাচ ফির ২৫ শতাংশ জরিমানা করা হয়েছে। একই সঙ্গে তাদের নামের পাশে যোগ হয়েছে একটি করে ডিমেরিট পয়েন্ট। ২০১৬ সালে ডিমেরিট পয়েন্ট চালু হওয়ার পর এই প্রথম ডিমেরিট পয়েন্ট পেলেন তারা।
দূর্দান্ত জয় পেল বাংলাদেশ
শেষ তিন ওভারে জয়েরে জন্য দরকার ছিলো ৩৯ রান। ৫ রানে ব্যাট করছিলেন সাকিব আল হাসান আর ১৬ রান ছিলো মাহমুদুল্লাহর। তবে সতেরতম ওভারের শেষ বলে উদানার বলে ধনঞ্জয়ের হাতে ক্যাচ দিয়ে ফেরেন সাকিব (৭)। ২ ওভারে তখনও দরকার ২৩ রান। কঠিন কাজটা আরও কঠিন হয়ে যায় মাহমুদুল্লাহর জন্য। তবে কঠিন কাজের কাজীই তো মাহমুদুল্লাহ। কিন্তু যোগ্য সঙ্গী পেলেন কই! পরের ওভারে সিঙ্গেল নিতে গিয়ে রানআউট হয়ে ফিরলেন মেহেদী মিরাজ। শেষ ওভারে দরকার ছিলো ১২ রান। প্রথম বল ডট দিয়ে পরের বলেই রান আউট হলেন মোস্তাফিজ। তবে স্ট্রাইক পেলেন মাহমুদুল্লাহ। চার হাঁকিয়ে পরের বলে ২ রান। পরের বলেই ছক্কা হাঁকিয়ে বীরবেশে মাঠ ছাড়লেন মাহমুদুল্লাহ। একটি বল তখনও বাকি। ২ উইকেটের জয় নিয়ে নিদাহাস ট্রফির ফাইনালে উঠলো বাংলাদেশ। লক্ষ্য ১৬০ রান। খুব বড় না হলেও একেবারে মামুলি বলার উপায় নেই। তবে শুরুতেই দুই উইকেট হারিয়ে বিপাকে পড়ে যায় বাংলাদেশ। ওপেনার লিটন দাস ফেরেন স্কোরবোর্ডে কোন রান যোগ না করেই। এদিন তৃতীয় উইকেটে ব্যাট করার সুযোগ পেয়ে সেটাকে কাজে লাগাতে পারেননি সাব্বির রহমান। ধনঞ্জয়ের বলে এগিয়ে এসে খেলতে গিয়ে স্ট্যাম্পিংয়ের শিকার হন সাব্বির (১৩)। একপাশ আগলে রাখা তামিমের সঙ্গে যোগ দেন দারুণ ছন্দে থাকা মুশফিকুর রহিম। তবে তিনিও যেতে পারেননি বেশিদূর। মুশির ব্যাট থেকে এদিন আসে ২৮ রান। আন্তর্জাতিক টি-২০'তে ক্যারিয়ারের পঞ্চম অর্ধশতক তুলে নিয়ে ফিরে যান তামিমও (৫০)। ছন্দ হারানো সৌম্য (১০) এক ওভার পরেই। মাত্র ১২ রানের ব্যবধানে ৩ উইকেট হারিয়ে চাপে পড়ে বাংলাদেশ। অধিনায়ক সাকিবকে সঙ্গে নিয়ে চাপ সামালে দেয়ার চেষ্টা করেন মিস্টার কুল মাহমুদুল্লাহ। সংক্ষিপ্ত স্কোর: বাংলাদেশ:১৬০/৮ (তামিম ৫০, মাহমুদুল্লাহ ৪৩*; ধনঞ্জয় ২/৩৭)। শ্রীলঙ্কা: ১৫৯/৭ (কুশাল ৬১, থিসারা ৫৮; মোস্তাফিজ ২/৩৯)। বাংলাদেশ ২ উইকেটে জয়ী। আগামী রোববার ফাইনালে ভারতের মুখোমুখি হবে টাইগাররা।
নিদাহাস ট্রফির শেষ ম্যাচে দলে থাকছেন সাকিব আল হাসান
ইনজুরির কারণে নিদাহাস ট্রফির দলের বাইরে রাখা হয়েছিল সাকিব আল হাসানকে। কিন্তু ইনজুরি থেকে সেরে ওঠায় প্রাথমিক পর্বের শেষ ম্যাচকে সামনে রেখে দলে যোগ দিতে যাচ্ছেন তিনি। বৃহস্পতিবার (১৫ মার্চ) দুপুরে এক ই-মেইল বার্তায় সাকিবের দলে যোগ দেওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড। আজই তিনি শ্রীলঙ্কার উদ্দেশ্যে ঢাকা ছাড়বেন। বিকেলের দলের সঙ্গে যোগ দিবেন। শুক্রবার শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে লিগ পর্বের শেষ ম্যাচে খেলবেন তিনি। গত জানুয়ারিতে অনুষ্ঠিত ত্রিদেশীয় সিরিজের ফাইনালে ফিল্ডিং করার সময় বাম হাতের আঙ্গুলের ইনজুরিতে পড়েন সাকিব আল হাসান। অর্থোপেডিকস বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিতে সাকিব গিয়েছিলেন থাইল্যান্ডে। সেখানেই বড় দুঃসংবাদ শোনেন তিনি। কমপক্ষে দুই সপ্তাহ ফিজিওথেরাপি নিতে হবে তাকে। আঙুলের চোটের ভয়াবহতা এতটা হবে, তা ভাবতে পারেনি কেউই। এরপর থাইল্যান্ড থেকে দেশে ফিরে অস্ট্রেলিয়া যান তিনি। সেখান থেকে বিশেষজ্ঞ ডাক্তার দেখিয়ে গেল রোববার দেশে ফিরেন তিনি। দেশে ফিরে সোমবার মিরপুর শের-ই-বাংলা ক্রিকেট স্টেডিয়ামে হালকা অনুশীলনও করেন। আজ দলে যোগ দিতে শ্রীলঙ্কার উদ্দেশ্যে ঢাকা ছাড়ছেন তিনি। শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে ২১৫ রান তাড়া করে জয়ের পর বুধবার ভারতের বিপক্ষে ১৭৭ রান তাড়া করে জয় পায়নি টাইগাররা। নিদাহাস ট্রফির ফাইনালে যেতে শুক্রবার শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে জয়ের কোনো বিকল্প নেই বাংলাদেশের। তাই এই ম্যাচে দলকে আরো শক্তিশালী করতে সাকিব আল হাসানকে অন্তর্ভূক্ত করা হয়েছে।
ইনজুরির কারণে ইংল্যান্ড সিরিজ থেকে ছিটকে পড়লেন সান্টনার
হাঁটুর ইনজুরির কারণে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে আসন্ন টেস্ট সিরিজ থেকে ছিটকে গেছেন ইন-ফর্ম অল-রাউন্ডার মিচেল সান্টনার। নিউজিল্যান্ড ক্রিকেট সূত্র আজ এই তথ্য নিশ্চিত করেছে। ইনজুরির মাত্রা এতটাই গুরুতর যে অস্ত্রোপচারের প্রয়োজন রয়েছে। আর এ কারণে অন্তত ছয় থেকে নয় মাস সান্টনারকে বিশ্রামে থাকতে হবে বলে সূত্রটি জানিয়েছে। আর তাই যদি হয় তবে আইপিএল ও ইংলিশ কাউন্টি কোনটাতেই খেলা হচ্ছেনা ২৬ বছর বয়সী এই অল-রাউন্ডারের। ইতোমধ্যেই আগামী ২২ মার্চ থেকে ইডেন পার্কে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে শুরু হওয়া দুই ম্যাচের টেস্ট সিরিজের জন্য ঘাষিত ১২জনের দল থেকে বাদ পড়েছেন সান্টনার। ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ওয়ানডে সিরিজে তিনি দারুন ফর্মে ছিলেন। ওই সিরিজে ব্যাট হাতে করেছেন দুটি হাফ সেঞ্চুরি। নিউজিল্যান্ড ক্রিকেট জানিয়েছে ম্যাচের সময় সে খানিকটা অস্বস্তি বোধ করেছিল। যে কারণে পরবর্তীতে তার হাঁটুতে স্ক্যান করা হয়। সেখানেই তার হাড়ের সমস্যা ধরা পড়ে, এর চিকিৎসা অস্ত্রোপচার ছাড়া সম্ভব নয় বলে চিকিৎসকরা জানিয়েছেন। নিউজিল্যান্ডের কোচ মাইক হেসন বলেছেন,তিন ধরনের ফর্মেটেই মিচেল আমাদের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ খেলোয়াড়। সে কারণেই আসন্ন সিরিজে আমরা নিশ্চিতভাবেই তাকে মিস করবো। এখন তার দ্রুত সুস্থ হয়ে ওঠা জরুরি। আশা করছি দ্রুতই সে সুস্থ হয়ে আমাদের মাঝে ফিরে আসবে। এদিকে কোমরের ইনজুরি কাটিয়ে দলে ফিরেছেন উইকেটরক্ষক বিজে ওয়াটলিং যা কিউই শিবিওে স্বস্তি ফিরিয়েছে। থাইয়ের ইনজুরির কারণে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে শেষ ওয়ানডেতে দলের বাইরে থাকা তারকা ব্যাটসম্যান রস টেইলরও দলে ফিরেছেন। সান্টনারের পরিবর্তে টেস্ট দলে ডাকা হয়েছে স্পিনিং অল-রাউন্ডার টড এ্যাস্টেলকে। নির্বাচক গেভিন লারসেন বলেছেন, টেস্ট ক্রিকেটে বিজে তার দক্ষতার প্রমান দিয়েছেন। মাঠ ও মাঠের বাইরে সে দারুন একজন মানুষ। নিউজিল্যান্ড : জিত রাভাল, টম ল্যাথাম, কেন উইলিয়ামসন (অধিনায়ক), রস টেইলর, হেনরি নিকোলস, কলিন ডি গ্র্যান্ডহোম, বিজে ওয়াটলিং, টড অ্যাস্টেল, টিম সাউদি, নিল ওয়াগনার, ম্যাট হেনরি, ট্রেন্ট বোল্ট।