রবিবার, জুলাই ১৫, ২০১৮
জিতিয়েই মাঠ ছেড়েছেন মুশফিক
শ্রীলঙ্কাকে শুরুতে ২১৪ রানের বিশাল সংগ্রহ জমা করতে দেখে বাংলাদেশের জয়ের আশা হয়তো ছেড়েই দিয়েছিলেন অনেকে। কিন্তু অসাধারণ ব্যাটিং করে দলকে জয়ের বন্দরে নিয়ে গেছেন বাংলাদেশের ব্যাটসম্যানরা। ৫ উইকেটের দুর্দান্ত এক জয় পেয়েছে মাহমুদউল্লাহর দল। ৩৫ বলে ৭২ রানের ঝড়ো ইনিংস খেলে দলকে জিতিয়েই মাঠ ছেড়েছেন মুশফিকুর রহিম। শ্রীলঙ্কার করা ২১৪ রানের জবাবে ব্যাট করতে নেমে শুরু থেকেই দাপুটে নৈপুণ্য দেখিয়েছেন বাংলাদেশের ব্যাটসম্যানরা। দুই ওপেনার তামিম ইকবাল ও লিটন দাসের ঝড়ো ব্যাটিং করে উদ্বোধনী জুটিতেই জমা করেছিলেন ৭৪ রান। প্রথম ১০ ওভারের মধ্যে অবশ্য দুজনেই ফিরেছেন সাজঘরে। ষষ্ঠ ওভারে দলীয় ৭৪ রানের মাথায় বাংলাদেশ হারিয়েছিল প্রথম উইকেট। ১৯ বলে ৪৩ রানের ঝড়ো ইনিংস খেলে ফিরেছিলেন লিটন। দশম ওভারে সাজঘরের পথে হেঁটেছেন তামিম। তিনি খেলেছেন ২৯ বলে ৪৭ রানের ইনিংস। তৃতীয় উইকেটে ৫১ রানের জুটি গড়ে দলকে জয়ের পথে আরও খানিকটা এগিয়ে দিয়েছিলেন মুশফিকুর রহিম ও সৌম্য সরকার। ১৫তম ওভারে সৌম্য ফিরেছিলেন ২৪ রান করে। মাহমুদউল্লাহর ব্যাট থেকে এসেছে ২০ রান। আর ৩৫ বলে ৭২ রানের অসাধারণ ইনিংস খেলে দলকে জয়ের বন্দরে নিয়ে গেছেন মুশফিক। শেষপর্যন্ত অপরাজিতই ছিলেন সাবেক এই অধিনায়ক। এর আগে টস হেরে ব্যাট করতে নেমে কুশল পেরেরার ৭৪, কুশল মেন্ডিসের ৫৭, উপুল থারাঙ্গার ৩২ ও ধনুস্কা গুনাথিলাকার ২৬ রানের ইনিংসগুলোতে ভর করে ২১৪ রান সংগ্রহ করেছে স্বাগতিক শ্রীলঙ্কা। বাংলাদেশের পক্ষে দারুণ বোলিং করে তিনটি উইকেট নিয়েছেন মুস্তাফিজুর রহমান। দুটি উইকেট গেছে অধিনায়ক মাহমুদউল্লাহর ঝুলিতে। লক্ষ্য ২১৫ রান। টি-টোয়েন্টিতে তা পাহাড়সম স্কোরই বটে। এই সংগ্রহ তাড়া করতে নেমে শুরুটা দারুণ করেছিল বাংলাদেশ। দুই ওপেনার তামিম ইকবাল ও লিটন দাস চমৎকার সূচনা এনে দেন দলকে। তারপরও কিছুটা সংশয় ছিলই, প্রতিপক্ষের এই বিশাল সংগ্রহ টপকাতে পারবে কি বাংলাদেশ। না, সব সংশয় দূরে ঠেলে দারুণ এক জয় পেয়েছে লাল-সবুজের দল। আর তা সম্ভব হয়েছে অভিজ্ঞ ব্যাটসম্যান মুশফিকুর রহিমের কল্যাণে। মুশফিকের হার-না-মানা ৭২ রানের ইনিংসের ওপর ভর করেই নিদাহাস ট্রফিতে বাংলাদেশ পাঁচ উইকেটের দারুণ জয় পেয়েছে। দলের প্রয়োজন মুহূর্তে বুক চিতিয়ে রুখে দাঁড়িয়েছেন দেশের অন্যতম সেরা এই ব্যাটসম্যান। মাত্র ৩৫ বলে এই ইনিংসটি খেলেন তিনি। পাঁচটি চার ও চারটি ছক্কায় এই ইনিংসটি সাজান তিনি। তাঁর চমৎকার ইনিংসের ওপরই ভর করেই মূলত জয় পেয়েছে বাংলাদেশ। অবশ্য এর আগে তামিম ও লিটন শুরু থেকে ঝড় তোলেন। লিটন মাত্র ১৯ বলে দুই চার ও পাঁচ ছক্কায় ৪৩ রান করে আউট হন। তার তামিম ২৯ বলে ৪৭ করে দলের জয়ের ভিত গড়ে দেন। মাঝে অধিনায়ক মাহমুদউল্লাহ ২০ রানের একটি ইনিংস খেলেন। যার ওপর ভর করেই সিরিজের প্রথম জয় পেয়েছে বাংলাদেশ। অবশ্য আসরে নিজেদের প্রথম ভারতের কাছে খুবই বাজে ভাবে হেরেছিল বাংলাদেশ। সে ম্যাচে তারা ছয় উইকেটে হেরেছে। ঘরের মাঠে দীর্ঘ ব্যর্থতার পর জয় এই বাংলাদেশ শিবিরে কিছুটা স্বস্তি এনে দিয়েছে।
নিদাহাস ট্রফির জন্য দল ঘোষণা
শ্রীলঙ্কার মাটিতে আসন্ন নিদাহাস টি-টোয়েন্টি ট্রফির জন্য ১৬ সদস্যের দল ঘোষণা করেছে বাংলাদেশ। বাংলাদেশ দলের সদস্যরা হলেন - সাকিব আল হাসান (অধিনায়ক), মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ, তামিম ইকবাল, সৌম্য সরকার, ইমরুল কায়েস, মুশফিকুর রহীম, সাব্বির রহমান, মোস্তাফিজুর রহমান, রুবেল হোসেন, তাসকিন আহমেদ, আবু হায়দার রনি, আবু জায়েদ রাহি, আরিফুল হক, নাজমুল অপু, নুরুল হাসান সোহান এবং মেহেদী হাসান মিরাজ। দলে ফিরেছেন ইমরুল, রুবেল, তাসকিন, সোহান, মিরাজ, রনি। বাদ পড়েছেন মেহেদী, সাইফুদ্দিন, আকিফ, জাকির। সর্বশেষ সিরিজের দলে থাকা নতুনদের মধ্যে নাজমুল অপু, আবু জায়েদ রাহি আর আরিফুল হক জায়গা ধরে রেখেছেন। কোর্টনি ওয়ালশই কোচ থাকছেন। আসন্ন নিদাহাস ট্রফিটি শুরু হচ্ছে আগামী ৬ মার্চ। উদ্বোধনী দিনে মুখোমুখি হবে স্বাগতিক শ্রীলঙ্কা আর ভারত। বাংলাদেশের প্রথম ম্যাচ ৮ মার্চ, ভারতের বিপক্ষে।
পিএসএল অভিষেকেই মোস্তাফিজের ২ উইকেট
মোস্তাফিজুর রহমানের গত বছর তেমন একটা ভালো কাটেনি। শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে ঘরের মাঠে দুই ম্যাচ টি-টোয়েন্টি সিরিজেও ভালো করতে পারেননি। পাকিস্তান সুপার লিগ (পিএসএল) দিয়ে কি তাহলে ফিরলেন সেই পুরোনো ফিজ? মুলতান সুলতানসের বিপক্ষে কাল আসরটিতে অভিষেকেই তাঁর শিকার ২২ রানে ২ উইকেট। ডট বল ছিল ১৪টি। লাহোর কালান্দার্সের ৬ বোলারের মধ্যে মোস্তাফিজই সবচেয়ে কম রানে বেশি উইকেট পেয়েছেন। কিন্তু কালান্দার্স জিততে পারেনি। মোস্তাফিজের অভিষেক মাটি করেছেন সুলতানদের পেসার জুনায়েদ খান। আগে ব্যাটিংয়ে নেমে ৫ উইকেট ১৭৯ রান তুলেছিল সুলতানস। জবাবে ১৭.২ ওভারেই ১৩৬ রানে গুটিয়ে গেছে মোস্তাফিজের কালান্দার্স। এর মধ্যে তারা শেষ ৭ উইকেট হারিয়েছে মাত্র ৪ রানে! সুলতানদের ৪৩ রানের এই জয়ের মূল কারিগর জুনায়েদ। পাকিস্তানের এ পেসার পিএসএলের ইতিহাসে তুলে নিয়েছেন দ্বিতীয় হ্যাটট্রিক! ১৫তম ওভারের শেষ বলে ফখর জামান (৪৯) যখন আউট হন, সুলতানসের স্কোর ৪ উইকেটে ১৩২। এরপর কীভাবে যেন দলটির আশ্চর্য পতন ঘটল! আর মাত্র ৪ রান যোগ করতেই তারা হারিয়েছে বাকি ৬ উইকেট। ১৬তম ওভারে ইমরান তাহির তুলে নিয়েছেন ২ উইকেট। এরপর জুনায়েদ খান এসে ১৭তম ওভারের তৃতীয়, চতুর্থ ও পঞ্চম বলে ফিরিয়েছেন যথাক্রমে ইয়াসির শাহ, ক্যামেরন ডেলপোর্ট ও রাজা হাসানকে। পিএসএলের ইতিহাসে প্রথম হ্যাটট্রিক মোহাম্মদ আমিরের। ২০১৬ সালে দুবাইয়ে আসরটির প্রথম সংস্করণে এই লাহোর কালান্দার্সের বিপক্ষেই হ্যাটট্রিক করেছিলেন পাকিস্তানের এ পেসার। এবার সেই দুবাইয়েই কালান্দার্সের কাছ থেকে আরও একটি হ্যাটট্রিক ছিনিয়ে নিলেন জুনায়েদ।
সিলেটে স্মরণীয় অভিষেক চায় বাংলাদেশ
নিজেদের সর্বোচ্চ স্কোর গড়ে দুই টুয়েন্টি টুয়েন্টি সিরিজের প্রথম ম্যাচে সফরকারী শ্রীলংকার কাছে ৬ উইকেটে হারের স্বাদ পেতে হয়েছে স্বাগতিক বাংলাদেশকে। তাই সিরিজে ১-০ ব্যবধানে পিছিয়ে টাইগাররা। সিরিজ হার এড়াতে হলে দ্বিতীয় ও শেষ টি-২০ ম্যাচে জিততেই হবে বাংলাদেশকে। আগামীকাল সিলেট আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত হবে এই টি-২০টি। এই ভেন্যুতে প্রথমবারের মত খেলতে নামছে বাংলাদেশ। বলতে গেলে, সিলেটের মাটিতে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে অভিষেক হচ্ছে টাইগারদের। তাই সিরিজের দ্বিতীয় ও শেষ টি-২০ জিতে সিরিজ হার এড়ানোর পাশাপাশি নিজেদের অভিষেক ম্যাচ স্মরণীয় করে রাখাই লক্ষ্য হবে বাংলাদেশের। পক্ষান্তরে ত্রিদেশীয় ও টেস্ট জয়ের পর টি-২০ সিরিজও জিততে মরিয়া থাকবে শ্রীলংকা। বিকেল পাঁচটায় শুরু হবে সিরিজের শেষ ম্যাচটি। ত্রিদেশীয় সিরিজের দুর্দান্ত শুরুর পরও রানার-আপ হয়ে সন্তুষ্ট থাকতে হয় বাংলাদেশকে। একইভাবে টেস্ট সিরিজেও শুরুটা ভালো ছিলো টাইগারদের। ব্যাটসম্যানদের দৃঢ়তায় চট্টগ্রামে সিরিজের প্রথম ম্যাচ ড্র করে বাংলাদেশ। তবে দ্বিতীয় ম্যাচে লজ্জার হার বরণ করে সিরিজ হেরে বসে টাইগাররা। ত্রিদেশীয় ও টেস্ট সিরিজ হারের দুঃস্মৃতিকে সঙ্গী করে দুই ম্যাচের টি-২০ লড়াই শুরু করে বাংলাদেশ। মিরপুরে সিরিজের প্রথম ম্যাচে শুরুটা দুর্দান্ত ছিলো বাংলাদেশের। সাবেক অধিনায়ক মুশফিকুর রহিম ও সৌম্য সরকারের জোড়া হাফ-সেঞ্চুরিতে ২০ ওভারে ৫ উইকেটে ১৯৩ রানের সংগ্রহ পায় বাংলাদেশ। টি-২০ ফরম্যাটে টাইগারদের সর্বোচ্চ দলীয় রানের রেকর্ড এটি। রেকর্ড গড়া ম্যাচে মুশফিকুর অপরাজিত ৬৬ ও সৌম্য ৫১ রান করেন। বাংলাদেশের ছুঁড়ে দেয়া বড় টার্গেট হেসেখেলেই টপকে যায় শ্রীলংকা। ওপেনার কুশল মেন্ডিসের ৫৩, দাসুন শানাকার অপরাজিত ৪২ ও থিসারা পেরেরার অপরাজিত ৩৯ রানে ২০ বল হাতে রেখেই জয় নিয়ে মাঠ ছাড়ে শ্রীলংকা। ফলে সিরিজে ১-০ ব্যবধানে লিড নেয় তারা। সিরিজ হার এড়াতে হলে দ্বিতীয় ম্যাচে জিততেই হবে বাংলাদেশকে। তবে কাজটি কঠিনই হবে তাদের। কারন সিলেটের ভেন্যুতে প্রথমবারের মত খেলতে নামছে বাংলাদেশ। এই ভেন্যুতে আগে কখনোই আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলেনি টাইগাররা। তারপরও সাহস যোগানোর রসদ রয়েছে বাংলাদেশের। কারন গত নভেম্বরে এই্ ভেন্যুতেই বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগ (বিপিএল) টি-২০ ক্রিকেটে বিভিন্ন ফ্র্যাঞ্চাইজির হয়ে বেশকটি ম্যাচ খেলে গেছে বাংলাদেশের খেলোয়াড়রা। সেই অভিজ্ঞতা শ্রীলংকার বিপক্ষে কতটা কাজে লাগাতে পারে বাংলাদেশ, সেটি এখন দেখার বিষয়। বাংলাদেশ দল : মাহমুদুল্লাহ রিয়াদ (অধিনায়ক), তামিম ইকবাল, সৌম্য সরকার, মুশফিকুর রহিম, সাব্বির রহমান, মুস্তাফিজুর রহমান, রুবেল হোসেন, মোহাম্মদ সাইফউদ্দিন, আবু হায়দার রনি, আবু জায়েদ রাহি, নাজমুল ইসলাম অপু, আরিফুল হক, মেহেদি হাসান, আফিফ হোসেন ও জাকির হাসান। শ্রীলংকা দল : দিনেশ চান্ডিমাল (অধিনায়ক), উপুল থারাঙ্গা, দানুস্কা গুনাথিলাকা, কুশল মেন্ডিস, থিসারা পেরেরা, আসলে গুনারতে নিরোশান ডিকবেলা, দাসুন শানাকা, ইসুরু উদানা, শেহান মাদুশঙ্কা, জেফরি ভান্দারসে, আকিলা ধনঞ্জয়া, আমিলা আপোনসো, জীবন মেন্ডিস ও আসিথা ফার্নান্দো।
শেষ টি-২০ ম্যাচের দল ঘোষণা
শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে দুই ম্যাচের টি-টুয়েন্টি সিরিজের শেষ ম্যাচের জন্য দল ঘোষণা করেছে বাংলাদেশ। প্রথম ম্যাচে রেকর্ড স্কোর গড়েও হার এড়াতে পারেনি বাংলাদেশ। সেই ম্যাচের দল নিয়েই দ্বিতীয় ম্যাচে খেলবে বাংলাদেশ। কোনো পরিবর্তন আনা হয়নি একাদশে। ইনজুরির কারণে দলে রাখা হয়নি সাকিব আল হাসানকে। অধিনায়ক থাকবেন মাহমুদুল্লাহ রিয়াদই। আগামী ১৮ ফেব্রুয়ারি সিলেটে দ্বিতীয় ও শেষ টি-টোয়েন্টি খেলতে নামবে বাংলাদেশ। বাংলাদেশ স্কোয়াড : তামিম ইকবাল, সৌম্য সরকার, মুশফিকুর রহিম, মাহমুদুল্লাহ রিয়াদ (অধিনায়ক), সাব্বির রহমান, মোস্তাফিজুর রহমান, রুবেল হোসেন, মোহাম্মদ সাইফউদ্দিন, আবু জায়েদ রাহী, আফিফ হোসেন, জাকির হোসেন, আরিফুল হক, মেহেদী হাসান, আবু হায়দার রনি, নাজমুল অপু ও মোহাম্মদ মিঠুন
রিয়াল-পিএসজি মুখোমুখি আজ রাতে
উয়েফা চ্যাম্পিয়ন্স লিগের শীর্ষ ষোলোর হাইভোল্টেজ ম্যাচে রিয়াল মাদ্রিদের প্রতিপক্ষ প্যারিস সেন্ট জার্মেই। এ ম্যাচ জিতে কোয়ার্টার ফাইনালের পথে এগিয়ে যেতে মরিয়া দু'দলই। মাদ্রিদের ঘরের মাঠ সান্তিয়াগো বার্নাব্যুয়ে ম্যাচটি শুরু হবে বুধবার বাংলাদেশ সময় রাত পৌনে ২টায়। একই সময় আরেক ম্যাচে ইংলিশ ক্লাব লিভারপুলকে আতিথ্য দেবে পর্তুগালের দল পোর্তো। লড়াইটা টাকার ঝনঝনানি বনাম ঐতিহ্যের। যুদ্ধটা আরবের শেখ বনাম আভিজাত্যের। চ্যাম্পিয়ন্স লিগের ইতিহাসের সবচাইতে সফল দলটির বিপক্ষে কামানের গোলায় তোপ দাগাচ্ছে পিএসজি। যেখানে রসদ হিসেবে তারা ব্যাবহার করছে বিশ্বের সবচাইতে দামি স্কোয়াড। তবে জীর্ণ ফর্ম কাটিয়ে হাইভোল্টেজ এই ম্যাচের আগে আবারো চিরচেনা চেহারায় রিয়াল মাদ্রিদ। গেলো ৪ ম্যাচে প্রতিপক্ষের জালে দলটি দিয়েছে ১৮টি গোল। এই ৪ ম্যাচে ৭ গোল করে ফর্মের তুঙ্গে বার্নাব্যুয়ের যুবরাজ ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো। চ্যাম্পিয়ন্স লিগে পিএসজির কাছে কখনই হারেনি মাদ্রিদিস্তানরা। তার ওপর ঘরের মাঠে ২০১৪ সালের পর এই লিগে অপরাজিত লস ব্লাঙ্কো'রা। কিন্তু গুরুত্বপূর্ণ এ ম্যাচের আগে সাসপেনশনের কারণে দলে নেই দানি কার্ভাহাল। রোনালদো, বেনজেমার সঙ্গে আক্রমণ ভাগে দেখা যেতে পারে লুকাস ভাসকেজকে। ফর্মেশন থাকবে আগের ম্যাচের ৩-৪-৩। অবশ্য সৈন্য সামন্ত নিয়ে সেয়ানে সেয়ান টক্কর দিতে প্রস্তুত পার্সিয়ানরা-ও। বিশেষ করে ভেরাত্তি, ডি মারিয়া, এমবাপ্পেরা ধ্বসিয়ে দিতে পারেন চীনের মহাপ্রাচীরও। ইনজুরির ছোবল আছে পিএসজি শিবিরেও। হিপ ইনজুরির কারণে এ ম্যাচ অনিশ্চিত দলটি সর্বোচ্চ গোলদাতা এডিনসন কাভানি। থাকছেন না বিন আরফা ও খুরজাওয়াও। তবে একজন আছেন। তিনি বিশ্বের সবচাইতে দামি ফুটবলার নেইমার। প্যারিসের রাজত্বে পাট বসিয়েছেন এই ব্রাজেলিয়ান ফরোয়ার্ড। এ মৌসুমে গোল করেছেন ২৮টি আর সতীর্থদের দিয়ে করিয়েছেন আরো ১৪টি। তাইতো রোনালদোর সঙ্গে তার দ্বৈরথ উপভোগে প্রস্তুত সারা বিশ্ব। তবে অমন হাইভোল্টেজের তকমা না থাকলেও জম্পেশ একটা লড়াইয়ের আভাস দিচ্ছে লিভারপুর আর পোর্তো। ইপিএলে শেষ ৫ ম্যাচের ৩টিতে পয়েন্ট খোয়ানো অলরেডরা সাউদাম্পটনকে হারিয়ে ফিরেছে জয়ের ট্র্যাকে। তবে কার্ড নিষেধাজ্ঞায় এ ম্যাচ খেলতে পারবেন না এমরি চ্যান। কিন্তু ইয়ুগেন ক্লপের তুরুপের তাস হতে পারেন দূর্দান্ত ফর্মে থাকা ফিরমিনো। সঙ্গে পর্তুগিজ এই দলটার বিপক্ষে এর আগের ৪ দেখায় না হারার রেকর্ড নির্ভার করছে অলরেডদের।
টেস্টে আব্দুর রাজ্জাকের রাজকীয় প্রত্যাবর্তনটা
দীর্ঘদিন পর টেস্টে আব্দুর রাজ্জাকের প্রত্যাবর্তনটা হলো রাজকীয়। দুর্দান্ত বোলিং করলেন তিনি। তার রঙিন প্রত্যাবর্তনের দিনে দারুণ বোলিং করলেন তাইজুল ইসলাম ও মোস্তাফিজুর রহমান। গোটা ইনিংসেই রাজ্জাককে যোগ্য সমর্থন দিয়ে গেলেন তারা। আর না বললেও চলে, তিন বাঁহাতি বোলারের স্পিন ও সুইং বিষে নীল হয়েছে শ্রীলংকা। ঢাকা টেস্টের প্রথম ইনিংসে ২২২ রানে গুটিয়ে গেছে সফরকারীরা। ৪ উইকেট শিকার করে লম্বা সময় ধরে উপেক্ষিত থাকার জবাব দিয়েছেন রাজ্জাক। সমানসংখ্যক উইকেট ঝুলিতে ভরে নিজের সামর্থের প্রমাণ দিয়েছেন তাইজুল। আর ২ উইকেট নিয়ে ভেলকি দেখিয়েছেন মোস্তাফিজ। বৃহস্পতিবার মিরপুরে টস জিতে প্রথমে ব্যাটিং নেন শ্রীলংকা অধিনায়ক দিনেশ চান্দিমাল। ব্যাটিং করতে নেমে শুরুতেই হোঁচট খায় সফরকারীরা। দলীয় ১৪ রানে লিটন দাসের স্ট্যাম্পিং বানিয়ে দিমুথ করনারত্নেকে ফিরিয়ে চমক দেখান অভিজ্ঞ স্পিনার আব্দুর রাজ্জাক। এ নিয়ে ৪ বছর পর জাতীয় দলের হয়ে খেলতে নেমে ভালো কিছুর আভাস দেন তিনি। এর পর ধনাঞ্জয়া ডি সিলভাকে নিয়ে শুরুর ধাক্কা সামলে উঠে এগিয়ে যাচ্ছিলেন কুশল মেন্ডিস। ধীরে ধীরে জমাট বেঁধে উঠছিল তাদের জুটি। বাংলাদেশকে চোখ রাঙাচ্ছিলেন তারা। এ পরিস্থিতিতে ডি সিলভাকে (১৯) ফিরিয়ে কার্যকরী ব্রেক থ্রু এনে দেন তাইজুল ইসলাম। দলীয় ৬২ রানে গত ম্যাচে সেঞ্চুরি করা ব্যাটসম্যানকে স্লিপে সাব্বির রহমানের ক্যাচ বানিয়ে ফেরান তিনি। এতে ভাঙে ৪৭ রানের জুটি। পরে দানুষ্কা গুনাথিলাকাকে নিয়ে দলকে এগিয়ে নেয়ার চেষ্টা করেন কুশল মেন্ডিস। তবে তাদের বেশি দূর এগোতে দেননি রাজ্জাক। দলীয় ৯৬ রানে লংকান শিবিরে জোড়া আঘাত হেনে চমক অব্যাহত রাখেন তিনি। পর পর দুই বলে ফিরিয়ে দেন গুনাথিলাকা ও অধিনায়ক দিনেশ চান্দিমালকে। এতে বিপর্যয়ে থেকে লাঞ্চ বিরতিতে যায় অতিথিরা। লাঞ্চ থেকে ফিরলেও শনির দশা কাটেনি শ্রীলংকার। একের পর এক টপ অর্ডার ব্যাটসম্যান ফিরলেও ভরসা হয়ে টিকেছিলেন মেন্ডিস। অবেশেষে দলীয় ১০৯ রানে বোল্ড করে তাকে ফিরিয়ে পথের কাঁটা সরান রাজ্জাক। ফলে লংকানদের ওপর নেমে আসে চরম বিপর্যয়। ফেরার আগে ৯৮ বলে ১০ চার ও ১ ছক্কায় ৬৮ রানের বীরোচিত ইনিংস খেলেন মেন্ডিস। এ বিপর্যয়ের মধ্যে নিরোশান ডিকভেলাকে বোল্ড করে ফিরিয়ে শ্রীলংকার টুঁটি চেপে ধরেন তাইজুল। এ অবস্থায় দিলরুয়ান পেরেরাকে নিয়ে প্রতিরোধ গড়ার চেষ্টা করেন রোশেন সিলভা। তারা এগুচ্ছিলেনও বেশ। তবে দলীয় ১৬২ রানে পেরেরাকে ফিরিয়ে সেই প্রতিরোধ গুঁড়িয়ে দেন এ বাঁহাতি স্পিনার। পেরেরার বিদায়ের পর আকিলা ধনাঞ্জয়াকে নিয়ে ফের প্রতিরোধ গড়ে তোলার চেষ্টা করেন রোশেন। ভালোই এগুচ্ছিলেনও তারা। মাথাব্যথার কারণ হয়ে দাঁড়ায় এ জুটি। দলীয় ২০৫ রানে মুশফিকের ক্যাচ বানিয়ে আকিলাকে (২০) ফিরিয়ে টাইগারদের মাথাব্যথা প্রশমন করেন মোস্তাফিজুর রহমান। এদিন দারুণ বোলিং করছিলেন মোস্তাফিজ। তবে উইকেটের দেখা মিলছিল না। অবশেষে কাঙ্ক্ষিত উইকেট পাওয়ার পর ফের শিকার পান তিনি। অল্প সময়ের ব্যবধানে সেই মুশফিকের ক্যাচ বানিয়ে রঙ্গনা হেরাথকে ফেরান কাটার মাস্টার। এতে শ্রীলংকার গুটিয়ে যাওয়া সময়ের ব্যাপার হয়ে দাঁড়ায়। শেষ পর্যন্ত ২২২ রানে অলআউট হয় তারা। রোশেনকে ফিরিয়ে প্রতিপক্ষ শিবিরে শেষ পেরেক ঠুকেন তাইজুল। ফেরার আগে ১২৪ বলে ৩ চার ও ১ ছক্কায় ৫৬ রানের লড়াকু ইনিংস খেলেন মিডল অর্ডার ব্যাটসম্যান।
মুখোমুখি হতে যাচ্ছে রিয়াল মাদ্রিদ এবং পিএসজি
আর মাত্র ১ সপ্তাহ। তারপরই সান্তিয়াগো বার্নাব্যুতে চ্যাম্পিয়ন্স লিগের সেরা ষোলোর প্রথম লেগের লড়াইয়ে মুখোমুখি হতে যাচ্ছে স্প্যানিশ জায়ান্ট রিয়াল মাদ্রিদ এবং ফরাসি জায়ান্ট পিএসজি। দুই দলে রয়েছেন ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো আর নেইমারের মত দুই মহাতারকা। বেশ কিছুদিন ধরেই নেইমারের রিয়ালে যাওয়ার গুঞ্জনটাই জোরদার হয়েছে। তবে ব্রাজিল সুপারস্টার এখন ১৪ ফেব্রুয়ারির ওই ম্যচের জন্য উন্মুখ হয়ে আছেন। নেইমার বলেছেন, 'রিয়ালের বিপক্ষে খেলার জন্য অন্য যে কোনো সময়ের চেয়ে আমি অধীর হয়ে আছি। আসলেই ম্যাচটির জন্য উন্মুখ হয়ে আছি। সত্যি বলতে, আশা করছি ম্যাচটা খুব দ্রুতই চলে আসবে। এই ম্যাচের জন্য আমরা অনেক কাজ করেছি। এ ধরনের ম্যাচ আমরা পছন্দ করি। একটা মানসম্পন্ন এবং খুব বড় একটা ক্লাবের বিপক্ষে খেলব আমরা।' সদ্যই ক্যারিয়ারে ৩৫০তম গোলের মাইলফলকে পা রেখেছেন পিএসজির এই ব্রাজিলিয়ান ফরোয়ার্ড। গত শনিবার রাতে লিগ ওয়ানে লিলের বিপক্ষে পিএসজির ৩-০ গোলে জেতা ম্যাচের দারুণ ফ্রি কিকে এই মাইলফলকে পৌঁছান তিনি। এটি চলতি লিগে ব্রাজিলিয়ান ফরোয়ার্ডের ১৮তম গোল। এ মুহূর্তে লিগে দ্বিতীয় স্থানে থাকা অলিম্পিক মার্শেইয়ের চেয়ে ১১ পয়েন্ট এগিয়ে থাকা পিএসজি শিরোপা পুনরুদ্ধারের পথে আছে। আরও পড়ুন: বিশ্বকাপ জিতেও বিনয়ী দ্রাবিড়; এক ওয়ানডে জিতেই শাস্ত্রীর লম্ফঝম্প লিগ ওয়ানের প্রস্তুতির পাশাপাশি আরও আগে থেকেই রিয়ালের বিপক্ষে ওই ম্যাচের প্রস্তুতি নিচ্ছে পিএসজি। টানা দুইবারের ইউরোপ সেরাদের বিপক্ষে জেতা যে খুব সহজ নয় তা খুব ভালো করেই জানেন তিনি। তাই জিনেদিন জিদানের শিষ্যদের সমীহ করে তিনি বলেছেন, 'আমরা অবশ্যই ওদের (রিয়াল মাদ্রিদ) শ্রদ্ধা করব। কিন্তু ম্যাচটা জয়ের জন্য সম্ভাব্য সেরা উপায়ে প্রস্তুতি নিচ্ছি।'