সেঞ্চুরি হ্যাটট্রিক নিয়ে শীর্ষে আশরাফুল
ঢাকা প্রিমিয়ার লীগে টানা তিন ম্যাচে সেঞ্চুরি পেলেন মোহাম্মদ আশরাফুল। আসরে চার সেঞ্চুরি করে আগেই ইতিহাসে নিজের নাম লিখে ফেলেছিলেন আশরাফুল। যার দুটি ছিল গত দুই ম্যাচে। ২০শে মার্চ মোহামেডানের বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে শুরু। বৃহস্পতিবার অগ্রণী ব্যাংকের বিপক্ষে টানা দ্বিতীয় সেঞ্চুরির পর রোববার ব্রাদার্সের বিপক্ষে সেঞ্চুরির হ্যাটট্রিক পেয়ে গেলেন তিনি। লিস্ট এতে এক লীগে বাংলাদেশের কোনো ব্যাটসম্যানের তিন সেঞ্চুরির রেকর্ডই ছিল না। এবার প্রথম পর্বে দশ খেলায় অংশ নিয়ে তিন শতক হাকিয়ে সেই দুর্লভ রেকর্ড বা কৃতিত্বের অংশীদার হন মোহাম্মদ আশরাফুল। তবে আশরাফুলের রেকর্ডের দিনে নায়ক বনে গেছেন ব্রাদার্সের ওপেনার মিজানুর রহমান। রোববার মিজানুরের ঝড়ো সেঞ্চুরিতে ছয় উইকেটে জয় কুড়ায় ব্রাদার্স ইউনিয়ন। রেলিগেশন লীগে কলাবাগানের শেষ ম্যাচে টস জিতে ব্যাট করতে নামা আশরাফুল ৫০ এ পা রাখেন চার বাউন্ডারিতে ১০২ বলে। আর তার শত রান পূর্ণ হয় দশ চারে ১৩৭ বল থেকে। শেষ ৫০ রান করতে আশরাফুল খেলেন মাত্র ৩৫ বল। আশরাফুলের অপরাজিত সেঞ্চুরি ও ওয়ালিল করিমের হাফ সেঞ্চুরির ওপর ভর করে শেষ পর্যন্ত তিন উইকেটে ২৫২ রান সংগ্রহ করে কলাবাগান। লীগে সেঞ্চুরিতে তিনিই শীর্ষে। তিন সেঞ্চুরি করে আশরাফুলের পেছনে জাতীয় ক্রিকেট দলের লিটন দাস ও নাজমুল হোসেন শান্ত। তার পাঁচ সেঞ্চুরির দুটিই অগ্রণী ব্যাংকের বিপক্ষে। ব্রাদার্স ছাড়াও বাকি দুটি মোহামেডান ও প্রাইম দোলেশ্বরের বিপক্ষে। কলাবাগান সাবধানী শুরু করলেও ব্রাদার্সের শুরুটা ছিল ঠিক উল্টো। প্রথম দশ ওভারে কলাবাগানের সংগ্রহ যেখানে ছিল ৩৪, সেখানে ব্রাদার্সের দুই ওপেনার জুনায়েদ সিদ্দিকী ও মিজানুর রহমান তুলে ফেলেন ৬৭ রান। মিজানুরই ছিলেন বেশি আগ্রাসী। ৬৯ রানে যখন জুনায়েদ ফিরে যান তখন তার সংগ্রহ ছিল মাত্র ১৬। ৪৩ বলে ফিফটি করা মিজানুর এদিন সেঞ্চুরি পূর্ণ করেন মাত্র ৮৫ বলে। ১১৫ রান করে মিজানুর যখন আউট হন তখন ব্রাদার্সের সংগ্রহ ১৭৮। ১০৪ বলের ইনিংসে ১১টি বাউন্ডারি ও পাঁচটি ছক্কা হাঁকান মিজানুর। সেখান থেকে কলাবাগানের ম্যাচে ফেরার যতটুকু আশা ছিল তাও শেষ করে দেন ইয়াসির আলী ও নাজমুস সাদাত। পঞ্চম উইকেটে দুজনের ৭৫ রানের অবিচ্ছিন্ন জুটি ৫.৩ বল বাকি থাকতেই ব্রাদার্সের জয় নিশ্চিত হয়। ঘরোয়া লিস্ট এ আসর চলতি ঢাকা প্রিমিয়ার ডিভিশন ক্রিকেট লীগে সফল ব্যাটসম্যানের তালিকায় শীর্ষে উঠে এলেন মোহাম্মদ আশরাফুল। আসরের ১৩ ইনিংসে আশরাফুলের সংগ্রহ দাঁড়ালো ৬৬৫ রানে। ১৪ ম্যাচে ৬৬০ রান নিয়ে তালিকার দ্বিতীয় স্থানে রয়েছেন আবাহনী লিমিটেডের ওপেনার এনামুল হক বিজয়।
মুম্বাইয়ের হয়ে খেলতে ভারত গেলেন মোস্তাফিজ
মুম্বাই ইন্ডিয়ান্সের হয়ে আইপিএল খেলতে ঢাকা ছেড়েছেন মোস্তাফিজুর রহমান। নিজের সোশ্যাল মিডিয়া অ্যাকাউন্টে এ তথ্য মোস্তাফিজই জানিয়েছেন ভক্তদের। আইপিএলে নিজের প্রথম আসরে সানরাইজার্স হায়দরাবাদকে শিরোপা জিতিয়েছিলেন মোস্তাফিজ। দ্বিতীয় আসরে যদিও খুব একটা ভালো করতে পারেননি। নিজের ফর্মও ভালো ছিল না। এ কারণে এবার হায়দরাবাদ মোস্তাফিজকে আর ধরে রাখেনি। এই সুযোগটা কাজে লাগিয়ে মোস্তাফিজকে দলে ভিড়িয়েছে মুম্বাই ইন্ডিয়ান্স। নিজের ভ্যারিফায়েড ফেসবুক এবং টুইটার অ্যাকাউন্টে মোস্তাফিজ লিখেছেন,ভারতের উদ্দেশ্যে রওয়ানা হলাম। এখন তো আইপিএল সময়। মুম্বাই ইন্ডিয়ান্স স্কোয়াডে যোগ দেয়ার জন্য আর তর সইছে না। আইপিএলের উদ্দেশ্যে ইতিমধ্যেই মুম্বাই ইন্ডিয়ান্সের অনুশীলন শুরু হয়ে গেছে। রোহিত শর্মার দলে যোগ দিয়ে মোস্তাফিজ দলটির শক্তি আরো বাড়িয়ে দেবেন, সন্দেহ নেই তাতে।
জিম্বাবুয়ের অধিনায়ক ও পুরো কোচিং প্যানেলকে বরখাস্ত
বিশ্বকাপের মূল পর্বে জায়গা করে নিতে ব্যর্থ হওয়ায় দলটির অধিনায়ক এবং কোচের প্রতি পদত্যাগের জন্য আল্টিমেটাম ছুঁড়ে দিয়েছিল জিম্বাবুয়ে ক্রিকেট বোর্ড। তবে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কেউ পদত্যাগ না করায় অধিনায়ক ও পুরো কোচিং প্যানেলকে বরখাস্ত করেছে দেশটির ক্রিকেট বোর্ড। ক্রেমারের পরিবর্তে নতুন অধিনায়কের দায়িত্ব দেয়া হয়েছে ব্রেন্ডন টেলরকে। বরখাস্ত হওয়া জিম্বাবুয়ে কোচিং প্যানেলের মধ্যে রয়েছেন, প্রধান কোচ হিথ স্ট্রিক। যিনি বাংলাদেশে এক সময় পেস বোলিং কোচ হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। সঙ্গে রয়েছেন ব্যাটিং কোচ ল্যান্ড ক্লুজনার, বোলিং কোচ ডগলাস হোন্ডো, ফিল্ডিং কোচ ওয়াল্টার চাওয়াগুটা, ফিটনেস কোচ শিন বেল এবং টিম অ্যানালিস্ট স্ট্যানলি চিওজা। এছাড়াও বহিস্কার হতে যাওয়াদের মধ্যে রয়েছেন জিম্বাবুয়ে দলের কোচ ওয়েন জেমস এবং অনুর্ধ্ব-১৯ দলের কোচ স্টিফেন ম্যাঙ্গোঙ্গো। একই সঙ্গে নির্বাচক মন্ডলির প্রথম আহ্বায়ক তাতেন্দা টাইবুকেও তার দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দেয়া হয়েছে। বৃহস্পতিবার বিকেলে হিথ স্ট্রিকের কাছে পাঠানো মেইলে জিম্বাবুয়ে ক্রিকেট বোর্ডের এমডি ফয়সাল হাসনাইন লেখেন,আমাদের পরবর্তী আলোচনার আগে, আপনাকে আগামীকাল (শুক্রবার) বিকাল ৩টা পর্যন্ত সময় দেয়া হলো আপনি এবং আপনার পুরো কোচিং প্যানেল পদত্যাগ করবেন। বেধে দেয়া এই সময়ের পর টেকনিক্যাল টিমকে বহিষ্কার করা হবে এবং সঙ্গে সঙ্গেই তাদের এই বহিস্কারাদেশ কার্যকর হয়ে যাবে।
ভাগ্যে কী হতে যাচ্ছে আজ স্মিথদের
স্বাগতিক দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে কেপ টাউন টেস্টের তৃতীয় দিনে বল টেম্পারিংয়ে ধরা পড়েন অস্ট্রেলিয়ান খেলোয়াড় ক্যামেরন ব্যানক্রফট। পরে অধিনায়ক স্টিভেন স্মিথ জানান টেম্পারিং পরিকল্পিতভাবেই করা হয়েছে। এরপর থেকেই ঝড় চলছে ক্রিকেট বিশ্বে। ইতিমধ্যে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট সংস্থা (আইসিসি) ব্যানক্রফট ও স্মিথকে শাস্তিও দিয়েছে। তবে ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়া (সিএ) নিজেদের আইন অনুযায়ী শাস্তি দিতে চায় জড়িতদের। তাই সংস্থাটির ইন্টেগ্রিটি প্রধান ইয়ান রয়ের নেতৃত্বে তদন্ত শুরু হয় ঘটনার পরের দিন। আর এ তদন্তের রিপোর্ট প্রকাশ করার কথা রয়েছে আজ। বল টেম্পারিংয়ের স্বীকারোক্তির পরই রয় ও সিএর সভাপতি ডেভিড পিভার চলে যান দক্ষিণ আফ্রিকায়। খোদ অস্ট্রেলিয়ার প্রধানমন্ত্রী ম্যালকম টার্নবুল এ বিষয়ে নিষ্পত্তিমূলক ব্যবস্থা নিতে বলেছেন সিএকে। এর আগে দেশটির স্পোর্টস অ্যাসোসিয়েশন স্মিথকে অধিনায়কত্ব থেকে সরানোর আহ্বান জানায় সিএকে। অবশ্য সোমবারই স্মিথকে অজি দলের অধিনায়কত্ব থেকে এবং ডেভিড ওয়ার্নারকে সহ-অধিনায়কের দায়িত্ব থেকে সরানো হয়। রয় সোমবার থেকেই টিম হোটেলে খেলোয়াড়দের সাক্ষাৎকার নিচ্ছেন। এর আগে অস্ট্রেলিয়ান ক্রিকেটার্স অ্যাসোসিয়েশনের (এসিএ) প্রধান নির্বাহী অ্যালিস্টার নিকোলসন দুজন আইনজীবীকে নিয়ে খেলোয়াড়দের সঙ্গে কথা বলেন। সিরিজের শেষ টেস্ট খেলতে গতকাল রাতে জোহানেসবার্গের উদ্দেশ্যে কেপটাউন ছেড়েছে অজি ক্রিকেট দল। শুক্রবার এ টেস্ট শুরু হওয়ার আগেই সেখানে যোগদান করবেন সিএর প্রধান নির্বাহী জেমস সাদারল্যান্ড। তিনি রয়ের অনুসন্ধানে পাওয়া ফলাফল ঘোষণা করবেন। আইসিসি ইতিমধ্যে স্মিথকে এক টেস্টের জন্য নিষিদ্ধ এবং ম্যাচ ফির পুরোটা জরিমানা করেছে। ব্যানক্রফটকে ম্যাচ ফির শতকরা ৭৫ শতাংশ জরিমানার পাশাপাশি ৩টি ডিমেরিট পয়েন্ট দেয়া হয়েছে। এরপরও দক্ষিণ আফ্রিকায় সাদারল্যান্ডের আগমন প্রমাণ করে সিএ নিজেদের বিধান অনুযায়ী জড়িতদের শাস্তি দিতে চায়। পদ ছাড়ছেন লেহম্যান! ২০১৩তে ইংল্যান্ডে অ্যাশেজ সিরিজ শুরু হওয়ার আগে অস্ট্রেলিয়া দলে বিশৃঙ্খলার এক ঘটনা ঘটেছিলো। এ ঘটনার রেশ ধরে তৎকালীন কোচ মিকি আর্থারকে অপসারণ করে দায়িত্ব দেয়া হয় বর্তমান কোচ ড্যারেন লেহম্যানকে। এবার বল টেম্পারিংয়ের ঘটনায় লেহম্যান কোচের দায়িত্ব ছাড়ছেন বলে গুঞ্জন ওঠে ক্রিকেট বিশ্বে। গতকাল ইংল্যান্ডের সংবাদমাধ্যম দ্য গার্ডিয়ান জানায়, যে কোনো সময় অস্ট্রেলিয়ার কোচের দায়িত্ব থেকে সরে দাঁড়াচ্ছেন লেহম্যান। এছাড়া অধিনায়ক স্টিভেন স্মিথ, সহ-অধিনায়ক ডেভিড ওয়ার্নার, ক্যামেরন ব্যানক্রফটসহ টেম্পারিংয়ে যুক্ত সব খেলোয়াড়ই ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়ার (সিএ) শাস্তির মুখে পড়বেন। শনিবার স্বাগতিক দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে কেপটাউনে তৃতীয় টেস্টের তৃতীয় দিনে বল টেম্পারিং চেষ্টায় ধরা পড়েন ব্যানক্রফট। পরবর্তীতে স্মিথ দায় স্বীকার করে নেন। যদিও তিনি বলেছিলেন এই ঘটনায় কোচ লেহম্যানের কোনো হাত ছিল না। অবশ্য লেহম্যানের বিকল্প হিসেবে সাবেক অজি ক্রিকেটার জাস্টিন ল্যাঙ্গারকে কোচ হিসেবে ভেবে রেখেছে অস্ট্রেলিয়া। তবে স্মিথকে চিরতরে অস্ট্রেলিয়ার অধিনায়কের দায়িত্ব থেকে নিষিদ্ধ করা হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
বুধবারের মধ্যেই স্মিথ-ওয়ার্নারদের ভাগ্য নির্ধারণ হবে
বুধবারের মধ্যেই ভাগ্য স্মিথ-ওয়ার্নারদের ভাগ্য নির্ধারণ করবে ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়া। তদন্তে দোষী প্রমাণিত হলে কোচ ড্যারেন লেম্যানসহ অভিযুক্ত ক্রিকেটারদের কঠিন শাস্তি হতে পারে বলে আভাস দেশটির গণমাধ্যমে। টেম্পারিং কেলেঙ্কারিতে, আইপিএল দল রাজস্থান রয়্যালসের অধিনায়কের দায়িত্বও ছেড়ে দিয়েছেন স্মিথ। এদিকে এমন অস্বস্তিকর পরিবেশের মধ্যেই শেষ টেস্ট খেলতে জোহানেসবার্গে পৌঁছেছে অস্ট্রেলিয়া ক্রিকেট দল। অস্ট্রেলিয়া দলের জোহানেসবার্গে যাত্রাটা হতে পারতো ভিন্ন রকম। কেপটাউন টেস্ট জিতলে সিরিজ জয়ের পরিকল্পনা আর হেরে গেলে সিরিজ বাঁচানোর। কিন্তু বল টেম্পারিং কেলেঙ্কারিতে পুরো অস্ট্রেলিয়ার ক্রিকেটে বিরাজ করছে গুমোট এক পরিবেশ। যেখানে ক্রিকেটীয় ফলাফল আর মুখ্য নয়। আইসিসি এরই মধ্যে টেম্পারিং কেলেঙ্কারিতে জড়ির স্মিথ আর ব্যানক্রফটের শাস্তি ঘোষণা করেছে। তবে ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়ার তদন্তের ফলাফল এখনো বাকি। এরই মধ্যে দক্ষিণ আফ্রিকা উড়ে গেছেন ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়ার প্রধান নির্বাহী জেমস সাদারল্যান্ড। এই কেলেঙ্কারির তদন্ত করতে বোর্ডের দুই কর্মকর্তা ইয়ান রয় এবং প্যাট হাওয়ার্ডও জোহানেসবার্গে পৌঁছেছেন। বুধবারের মধ্যেই জানা যাবে স্মিথ-ওয়ার্নারদের ভাগ্য। এমন অবস্থায় থামছে নিন্দার ঝড়। অস্ট্রেলিয়ার গণমাধ্যম থেকে শুরু করে সাবেক ক্রিকেটার এমনকি দেশটির সরকারি কর্মকর্তারাও দুষছেন স্মিথদের। একজন বলেন, 'আইসিসি তাদের সিদ্ধান্ত দিয়েছে। কিন্তু ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়ার এখানে জোরালো ভূমিকা পালন করতে হবে। অস্ট্রেলিয়ার ক্রীড়াঙ্গনে গুরুত্বপূর্ণ একটা অংশ ক্রিকেট। আর এখানে ক্রিকেট দলের নেতৃত্ব নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। তাই ছাড় দেয়ার প্রশ্নই ওঠে না।' আরেকজন বলেন, 'স্মিথ খুব ভালো মনের মানুষ। আর মানুষ ভুল করতেই পারে। দুর্ভাগ্যজনকভাবে সেও একটি ভুল করেছে। আমার আশা সবাই তাকে ক্ষমা করবে।' দেখুন এটার সাথে দলটির নেতৃত্ব স্থানীয় যারা তারা জড়িত। তাই পরবর্তী অধিনায়ক নির্বাচনে সচেতন থাকতে হবে বোর্ডকে। টেম্পারিং কেলেঙ্কারি নিয়ে তপ্ত বিশ্ব ক্রীড়াঙ্গন। প্রভাব পড়েছে অন্য দেশের ক্রিকেটেও। ইন্ডিয়ান প্রিমিয়ার লিগ ক্রিকেট আইপিএলের এবারের আসরে রাজস্থান রয়্যালসের নেতৃত্ব দেয়ার কথা ছিলো স্মিথের। জাতীয় দলের পর, এবার রাজস্থানের দায়িত্বও ছেড়ে দিয়েছেন স্মিথ। অধিনায়কত্ব করবেন আজিংকা রাহানে।
ইন্ডিয়ান প্রিমিয়ার লিগ আইপিএলেও অধিনায়কত্ব ছাড়লেন স্মিথ
কেপটাউন টেস্টে বল টেম্পারিং বিতর্কের পরই স্টিভ স্মিথের অধিনায়কত্ব নিয়ে প্রশ্ন উঠতে শুরু করে। ঘরে-বাইরে সমালোচনার জেরে অস্ট্রেলিয়ার অধিনায়কের পদ থেকে সরে দাঁড়ান তিনি। এবার আসছে ইন্ডিয়ান প্রিমিয়ার লিগের (আইপিএল) দল রাজস্থান রয়্যালসের নেতৃত্ব থেকে সরে দাঁড়ালেন অজি তারকা।তার পরিবর্তে নিষেধাজ্ঞা কাটিয়ে ফেরা দলটিকে নেতৃত্ব দেবেন আজিঙ্কা রাহানে। সোমবার এক বিবৃতিতে রাজস্থান রয়্যালস এ তথ্য জানিয়েছে। বল বিকৃতি কাণ্ডে জড়িয়ে আছে ডেভিড ওয়ার্নারেরও নাম। অস্ট্রেলিয়ার সহ-অধিনায়কের পদ থেকেও সরে দাঁড়িয়েছেন তিনি। এবার আইপিএলের অন্যতম ফ্রাঞ্চাইজি সানরাইজার্স হায়দরাবাদের নেতৃত্ব থেকে ওয়ার্নারও সরে দাঁড়ান কিনা, সেটাই দেখার। তবে ফ্রাঞ্চাইজিটি তাকে নিয়ে এখনও কোনও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেয়নি। ইতিমধ্যে এক টেস্ট নিষিদ্ধ হয়েছেন স্মিথ। তার জন্য সম্ভবত আরও বড়সড় শাস্তি অপেক্ষা করছে। দেশের ভাবমূর্থি ক্ষুণ্ন করায় আজীবন নিষিদ্ধ হতে পারেন তিনি। একই সাজা ভোগ করতে হতে পারে ওয়ার্নারকে। ফলে আইপিএলের একাদশ আসরে তারা খেলতে পারবেন কি না তা নিয়ে শঙ্কা দেখা দিয়েছে।
এখনো কোন সঠিক পরিকল্পনা নেই ২০১৯ বিশ্বকাপ নিয়ে:নান্নু
বাংলাদেশ ক্রিকেট দলে হেড কোচ এখনো নিয়োগ না হওয়ায় ২০১৯ বিশ্বকাপের নির্বাচন প্রক্রিয়া সঠিক পরিকল্পনায় এগোতে পারছে না বলে মন্তব্য করেছেন প্রধান নির্বাচক মিনহাজুল আবেদীন নান্নু। প্রধান কোচের সঙ্গে সমন্বয় করেই বিশ্বকাপের দল নির্বাচন প্রক্রিয়া শুরু করবে বিসিবি। ফর্মে না থাকলেও যারা জাতীয় দলে আছেন, তাদের প্রতি নান্নু পরামর্শ দিয়েছেন, মানসিক ভাবে ক্রিকেটে আরো মনোযোগী হতে হবে। আর ১৫ মাসও নেই ২০১৯ ইংল্যান্ড বিশ্বকাপের। কিন্তু, বিশ্বকাপ সামনে রেখে প্রতিটি দেশই কয়েক বছর আগে দল নির্বাচন প্রক্রিয়া শুরু করে থাকে। তবে, বিপরীত চিত্র বাংলাদেশে। এখনো পুরোপুরি ভাবে দল নির্বাচন প্রক্রিয়া শুরু করতে পারেনি বিসিবি। কারণ টাইগারদের হেড কোচ নিয়োগ হয়নি এখনো। একটি দেশের জাতীয় দলের প্রধান কোচ না থাকলেও, কিভাবে হবে বিশ্বকাপের দল নির্বাচন প্রক্রিয়া? অকপটেই তা স্বীকার করছেন প্রধান নির্বাচক। বিসিবি প্রধান নির্বাচক মিনহাজুল আবেদীন নান্নু বলেন, প্রধান কোচ চলে যাওয়ার পর আবার নতুন যে কোচ হচ্ছে, তাহলে এরকম একটা প্ল্যান থাকবে। আমাদেরও ওয়ার্ল্ড কাপ নিয়ে যে প্ল্যানিং আছে সেভাবেই আগাবো।' বিশ্বকাপের ব্যাপারটি মাথায় রেখে বিসিবি উচিত দ্রুতই কোচ নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা এমনটাই বলছেন বিশ্লেষকরা। কিন্তু, একটা প্রশ্নের বরাবরই সম্মুখীন হতে হয় নির্বাচকদের। তা হলো দলে বেশ কয়েকজন ক্রিকেটার আছেন যারা নিয়মিত পারফর্ম না করেও, দিব্বি সুযোগ পাচ্ছেন। সুযোগ পাওয়া ঐ ক্রিকেটারদের সতর্ক বার্তা নান্নুর। নান্নু বলেন, 'একটা ব্যাটসম্যানের বড় সমস্যা হচ্ছে মানসিক কারণ এরা পরীক্ষিত পারফর্মার। আগে যথেষ্ট ভাল খেলেছে, এখন যদি আবারো মনোযোগ নিবেশ করে তাহলে আবারো তারা আগের মতই ভাল খেলবে।' শুধু জাতীয় দলই না। সামনে বাংলাদেশ 'এ' দল ও এইচপি দলে ব্যস্ত সুচি। যেখানে ঘরোয়া ক্রিকেটে পারফর্ম করা ক্রিকেটাররা সুযোগ পাবেন। তিনি আরো বলেন, '২০১৯ সালের ওয়ার্ল্ড কাপ মাথায় রেখেই কিন্তু আমরা প্ল্যান করছি। তো এইচপিতে আমরা এবার যেভাবে মনে করছি দ্রুত পরিবর্তন একটা থাকবে। আরেকটা থাকবে জাতীয় দলে পরিবর্তন।' বাংলাদেশ 'এ' দল কিংবা এইচপি হয়ে দারুণ কিছু করতে পারবেন তাদের অনেকেরই হয়তো কপাল খুলতে পারে বিশ্বকাপ দলের দরজার।
ক্রিকেটের বড় তারকা সাকিব আল হাসানের জন্মদিন আজ
আজ ২৪ মার্চ। বাংলাদেশের ক্রিকেট ইতিহাসের সবচেয়ে বড় তারকা সাকিব আল হাসানের জন্মদিন। দেশের ক্রিকেটে যার অসামান্য অবদান, তাকে শুভেচ্ছা জানিয়েছেন ভক্তরা। শুক্রবার রাজধানীর 'সাকিব সেভেন্টি ফাইভ' রেস্টুরেন্টে আয়োজিত অনুষ্ঠানে ভক্তদের সঙ্গে দেখা করেছেন সাকিব। জন্মদিনে টাইগারদের টেস্ট ও টি-টোয়েন্টি অধিনায়কের প্রতি নিরন্তর ভালোবাসা। বাংলাদেশ ক্রিকেট দল একদিন বিশ্বকাপ জিতবে। একটু একটু করে এই বিশ্বাসটা গাঢ় হচ্ছে। এই স্বপ্নের পথপ্রদর্শকদের মাঝে সবচেয়ে আস্থাভাজন নাম কোনটি? বেছে নিতে খুব একটা বেগ পেতে হয়না। নামটা সাকিব আল হাসান। নিঃসন্দেহে বাংলাদেশের ক্রিকেটের সবচেয়ে বড় বিজ্ঞাপন। গেলো কয়েক বছর ধরে অলরাউন্ডার র‌্যাঙ্কিংয়ের শীর্ষস্থানটা ব্যক্তিগত সম্পত্তি বানিয়ে ফেলা এই ক্রিকেটারকে শুধু পরিসংখ্যানের মাপকাঠিতে মাপা যথার্থ নয়। ক্রিকেটার সাকিব কিংবা মানুষ সাকিব। এই বিষয়গুলো নিয়ে আলোচনা হয়েছে অনেক। ২২ গজের মতোই স্পষ্টভাষী সাকিবকে নিয়ে নতুন করে কি বলার আছে! হয়তো নেই। কিন্তু, প্রিয় কিছু নিয়ে কথা যে শেষ হবার নয়। মানসপটে সাকিবের অবয়বটা চির রঙিন। জন্মদিনে ভক্তদের চাওয়া, আরো রঙিন হয়ে উঠুক এই তারকা ক্রিকেটারের ক্যারিয়ার। গেলো কয়েক বছরের মতোই বিশ্বসেরা অলরাউন্ডারের জন্মদিন উদযাপন করেছে তার ভক্তরা। সাকিব'স সেভেন্টি ফাইভ রেস্টুরেন্টে সারা দেশ থেকে আসা ভক্তদের নিয়ে কেক কাটেন টেস্ট ও টি-টোয়েন্টি অধিনায়ক। বিভিন্ন জেলা থেকে আসা ভক্তরা তাকে ফুল দিয়ে শুভেচ্ছা জানান। বিশেষ দিনে বাংলাদেশের ক্রিকেট আকাশের সবচেয়ে বড় নক্ষত্রটির প্রতি শুভকামনা। এগিয়ে যান, এগিয়ে নিন। বাংলাদেশের মানুষের বিশ্বজয়ের স্বপ্ন সত্য হোক সাকিবের হাতেই। শুভ জন্মদিন ফ্যান্টাসটিক সেভেন্টি ফাইভ।
খারাপ সময় কাটছেই না : তাসকিন
খারাপ সময় কাটছেই না। কঠিন সময় বললেও ভুল হবে না। দক্ষিণ আফ্রিকা সিরিজের পর বাদ পড়েন দল থেকে। আবারও ফিরেন নিদাহাস ট্রফিতে। কিন্তু কোনোভাবেই যে পাওয়া যাচ্ছে না আগের গতিময় তাসকিনকে। হতাশা নিয়ে বসে থাকবেন কেন? অতিরিক্ত পরিশ্রম করেও যদি আগের রেসে ফিরতে পারেন। সেটাই তো আসল চাওয়া। নিজের উপরও যেনো কিছুটা রাগ হচ্ছে তাসকিনের। কিন্তু কঠিন পরিশ্রম ছাড়া আর কি বা করতে পারেন? 'খারাপ সময় সবারই যায়। এটা জীবনেরই একটা অংশ। আমি কেবলমাত্র কঠোর পরিশ্রমটাই করতে পারি। এছাড়া আমার আর কিছুই করার নাই। আমি আমার হার্ডওয়ার্কটা করে যাই, আমার বিশ্বাস আল্লাহর রহমতে সব ঠিক হয়ে যাবে।' বলছিলেন তাসকিন আহমেদ। তাসকিনকে প্রশংসায় ভাসিয়েছেন কিংবদন্তি অস্ট্রেলিয়ান পেসার ব্রেট লি। নিদাহাস ট্রফি চলার সময় কয়েকবার কথাও হয়েছে তার সঙ্গে। তাসকিনের ফিটনেসে গুরুত্ব দিয়েছেন লি। খাদ্যাভ্যাস ও মানসিকভাবে চাঙ্গা থাকতেও পরামর্শ দিয়েছেন সাবেক অজি ফাস্ট বোলার। তাসকিন মনে করেন, ব্রেট লির সঙ্গে কথা বলার সুযোগ তার জন্য বিশাল প্রাপ্তির। তবে, ক্রিকেট জীবনটা শেখার জন্য মাশরাফি, সাকিবরাই যথেষ্ট। তাসকিন বলেন, 'ব্রেট লি ফিটনেস লেভেলের বিষয়ে কিছু কথা বলেছে এবং স্কিল... সবকিছুই আসলে নির্ভর করে প্রাকটিসের ওপর। এগুলো প্রাকটিস করে এগুলোর উন্নতি করতে হয় এবং তার সঙ্গে খাদ্যাভ্যাস এবং মানসিকভাবে শক্তিশালী হওয়াটাও খুবই গুরুত্বপূর্ণ।' আন্তর্জাতিক ক্রিকেট নিয়মিত খেলতে হলে আরো অনেক উন্নতি করতে হবে তাসকিনকে। সেই প্রতিজ্ঞা এখন এই ফাষ্ট বোলারের।