বুধবার, ডিসেম্বর ১৩, ২০১৭
সেন্টমার্টিনে আটকা পড়েছেন সাত শতাধিক পর্যটক
বৈরী আবহাওয়ার কারণে কক্সবাজারের সেন্টমার্টিনে বেড়াতে গিয়ে আটকা পড়েছেন সাত শতাধিক পর্যটক। এ ছাড়া ভ্রমণে আসা প্রায় তিন হাজার পর্যটক সেন্টমার্টিনে যেতে পারেননি। বঙ্গোপসাগর নিম্নচাপের প্রভাবে বৈরী আবহাওয়ায় উপকূলে ৩ নম্বর সতর্কতা সংকেত জারি থাকায় শনিবার সকালে টেকনাফ থেকে কোনো জাহাজ সেন্টমার্টিন যায়নি। ফলে পর্যটকরা ফিরতে পারছেন না। তবে আটকাপড়া পর্যটকরা নিরাপদে আছেন বলে জানিয়েছে স্থানীয় প্রশাসন। আটকে পড়া এই পর্যটকরা শুক্রবার সকালে সেন্টমার্টিন ভ্রমণে গিয়েছিলেন। কক্সবাজার আবহাওয়া অধিদপ্তরের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ও সহকারী আবহাওয়াবিদ উজ্জ্বল কান্তি পাল বলেন, নিম্নচাপটি আরও উত্তর-উত্তর-পশ্চিম দিকে অগ্রসর ও ঘনীভূত হয়ে গভীর নিম্নচাপ আকারে একই এলাকায় অবস্থান করছে। এর প্রভাবে উত্তর বঙ্গোপসাগরে গভীর সঞ্চারণশীল মেঘমালার সৃষ্টি হচ্ছে। এ কারণে আবহাওয়া অধিদপ্তর থেকে ৩ নম্বর সতর্কতা সংকেত জারি করা হয়েছে। পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত সাগর ও নাফ নদীতে মাছ শিকার ও পর্যটকবাহী জাহাজ চলাচল বন্ধ রাখতে বলা হয়েছে। সেনমার্টিনে আটকে পড়া ঢাকার পেট্রোবাংলার ব্যবস্থাপক (সাধারণ) জিয়াউর করিম মুঠোফোনে বলেন, শুক্রবার সকালে ১৭ জন বন্ধু মিলে সেন্টমার্টিন দ্বীপে ভ্রমণে আসি। শনিবার সকালে জানতে পারি বৈরী আবহাওয়ার কারণে টেকনাফ থেকে কোনো জাহাজ সেন্টমার্টিন যাচ্ছে না। ফলে দ্বীপে আটকা পড়েছি সবাই। আমাদের মতো দ্বীপে আরও শত শত পর্যটক আটকা পড়েছে। পর্যটকবাহী জাহাজ কেয়ারি সিন্দাবাদের ব্যবস্থাপক মো. শাহ আলম বলেন, সাগর উত্তাল ও বৈরী আবহাওয়ার জাহাজ চলাচল বন্ধ রয়েছে। ফলে ভ্রমণে আসা প্রায় সাত শতাধিক পর্যটক দ্বীপে আটকা পড়েছেন। তারা বিভিন্ন হোটেল-মোটেলে নিরাপদে আছেন। সাগর স্বাভাবিক হয়ে গেলে সেন্টমার্টিনে আটকে পড়া পর্যটকদের ফিরিয়ে আনা হবে। শনিবার দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ার কারণে প্রায় পাচঁ শতাধিক পর্যটক সেন্টমার্টিন যেতে পারেননি উল্লেখ করে শাহ আলম জানান, এতে যাত্রীদের টিকিটের টাকা ফেরত দিতে হয়েছে। সেন্টমার্টিন ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান নুর আহমদ জানান, শুক্রবার সন্ধ্যায় হঠাৎ আবহাওয়া খারাপ হওয়ায় শনিবার সকাল থেকে টেকনাফ-সেন্টমার্টিন রুটে জাহাজ চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। এতে সেন্টমার্টিনে হাজার খানেক পর্যটক আটকা পড়ে। এর মধ্যে শনিবার সকালেই ঝুঁকি নিয়ে ট্রলারে করে প্রায় তিনশ পর্যটক টেকনাফ ফিরে গেছেন। এরপরও দ্বীপে সাত শতাধিক পর্যটক আটকা পড়েছেন। তাদের যাতে খাবারসহ কোনো ধরনের অসুবিধা না হয়, সে ব্যাপারে খেয়াল রাখা হচ্ছে। টেকনাফ মডেল থানার পরিদর্শক (তদন্ত) শেখ আশরাফুজ্জামান বলেন, সেন্টমার্টিনে আটকেপড়া পর্যটকরা যেন হয়রানির শিকার না হন, সে বিষয়ে খোঁজখবর নেওয়া হচ্ছে। দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ার কারণে জাহাজ চলাচল বন্ধ থাকায় তারা টেকনাফ ফিরতে পারেনি। টেকনাফ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) জাহিদ হোসেন সিদ্দিকী বলেন, বৈরী আবহাওয়ার কারণে জাহাজ চলাচল বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। সেন্টমার্টিনে আটকেপড়া পর্যটকদের খোঁজখবর নেওয়া হয়েছে। তারা সবাই নিরাপদে আছেন। পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে তাদের ফিরিয়ে আনা হবে।
জীর্নদশায় দাঁড়িয়ে আছে নওগাঁর জেলার প্রাচীন ও ঐতিহ্যবাহী দুবলহাটি রাজবাড়ী
রাজা নেই, রাজত্বও নেই, ২শত বছরের স্মৃতি নিয়ে রক্ষণাবেক্ষনের অভাবে জীর্নদশায় দাঁড়িয়ে আছে নওগাঁর জেলার প্রাচীন ও ঐতিহ্যবাহী দুবলহাটি রাজবাড়ী। নওগাঁ জেলা সদর হতে ৬ কিমি দুরে অবস্থিত প্রাচীন ও ঐতিহ্যবাহী দুবলহাটি রাজবাড়ীটি দীর্ঘ দিন পর্যটকদের আকর্ষনের কেন্দ্রবিন্দুতে ছিল। কতিথ সংক্ষিপ্ত ইতিহাস থেকে জানা যায়, দুবলহাটি রাজবাড়ী ও রাজত্ব স্থাপিত হবার পুর্বে সেখানে রঘুনাথনামের এক ব্যাক্তি দীঘলি বিলের মধ্যদিয়ে প্রবাহিত বর্তমানে অস্থিত্বহীন খয়রা নদী দিয়ে যাতায়যাত করে লবণ ও গুড়ের ব্যবসা করতেন। একদিন তিনি নদীতে নৌকা নোঙ্গর করলে স্বপ্নে দেখেন কে যেন তাকে বলছে তুই যেখানে নৌকা বেধেছিস সেখানে রাজেশ্বরী দেবীর প্রতিমা আছে, তুই সেখান থেকে তুলে স্থাপন কর। রঘুনাথ ভোরে নদীতে নেমে রাজেশ্বরী দেবীর প্রতিমা পেয়ে মাটির বেদী তৈরী করে প্রতিষ্ঠা করেন। এরপর তার ব্যবসার ব্যাপক উন্নতি হলে তার বিত্ত বৈভবের সংবাদ পৌছে যায় মোঘল দরবারে। মুশিদাবাদ মোঘল দরবার রঘুনাথের কাছ থেকে প্রতি বছর ২২ শত কৈ মাছ রাজস্ব নিয়ে তাকে জমিদারি প্রদান করেন। হরনাথ রায় চৌধুরী প্রথম রাজা খেতাব পেয়ে ছিলেন। রাজা হরনাথ রায় চৌধূরী ও তার পুত্র রাজা কিঙ্করী রায় চৌধুরী রাজত্ব আমলে ব্যাপক উন্নতি সাধিত রাজ বংশের। তখন তাদের বার্ষিক আয় ছিল সাড়ে চার লাখ টাকা। সে সময় ৫ একর এলাকা জুড়ে নির্মিত বিশাল রাজ প্রাসাদে ৩ তলা, ৪ তলা ভবনের সাড়ে ৩ শত ঘর ও ৭ টি আঙ্গিনা ছিল। প্রাসাদে ১ টি গোল্ডেন সিলভার ও ১টি আইভরির তৈরি সিংহাসন ছিল। ব্রিটিশরা উক্ত সিংহাসন দুটি নিয়ে যায় বলে যায়। প্রাসাদের ভিতরে মঞ্চ ছিল, নাটক ও যাত্রাপালা মঞ্চাঅনের জন্য । প্রসাদের বাইরে ছিল বিশাল দীঘি, মন্দির, দাতব্য চিকিৎসালয়, ১৬ চাকার রথসহ বিভিন্ন স্থাপনা। ১৮৬৪ সালে রাজ পরিবারের উদ্যোগে স্থাপিত স্কুলটি বর্তমানে রাজা হরনাথ উচ্চ বিদ্যালয় নামে পরিচালিত হচ্ছে। রাজ প্রাসাদের সামনের রোমান নকশার বড় বড় পিলারগুলো দেখলেই নওগাঁ, সিলেট, দিনাজপুর , পাবনা, বগুড়া, রংপূর, ভারতের কিছু অংশে রাজত্ব করা রাজা হরনাথ রায় চৌধুরীর রুচির পরিচয় পাওয়া যায়। রাজা হরনাথ রায় চৌধুরীর প্রজা নির্যাতনের অনেক করুন কাহিনী এখনো এলাকার সাধারন মানুষের মুখে মুখে প্রচলিত রয়েছে। পাশাপাশি রাজা হরনাথ রায় চৌধুরীর জনহিতকর ও শামাজিক কিছু কাজের কথাও এলাকায় প্রচলিত আছে। দুবলহাটি রাজবাড়ীটি ঐতিহ্যবাহী হলেও প্রততত্ত্ব বিভাগ রাজবাড়ীটির সামনে একটি সাইন বোর্ড টানানো ছাড়া আর কোন দায়িত্ব পালন করছেনা। যার কারনে প্রততত্ত্ব বিভাগের সম্পদ রাজবাড়ীটির লোহার বিম, দরজা-জানালা এলাকার দুর্বৃত্তরা আগেই খুলে নিয়ে গেছে। এখন দেয়ালের ইট খুলে নিয়ে যাচ্ছে কিছু এলাকাবাসী। এলাকার সচেতন মহল মনে করেন সরকার সু-দৃষ্টি দিয়ে রাজবাড়ীটি রক্ষনাবেক্ষন করলে এটিকে পর্যটন কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলা সম্ভব। সাপাহার (নওগাঁ) থেকে হাফিজুল হক :Press Release
আকাশে তারকা বিমান
তারকাদের আছে নানা রঙের শখ। কেউ শখে দ্বীপ কেনেন, কেউ নৌকা, কেউবা গাড়ি আবার কেউ কেনেন ব্যক্তিগত ব্যবহারের জন্য বিমান। বিমানের মালিক কয়েকজন তারকার কথা থাকছে। ক্রুজের দামি বিমান ক্রুজের দামি বিমান মিশন ইম্পসিবল, জ্যাক রিচারসহ অনেক চলচ্চিত্রে বিমানের অ্যাকশন দৃশ্যে দামি দামি বিমান ধ্বংস করেছেন টম ক্রুজ। সেই টম ক্রুজ গালফস্ট্রিম ফোর-এসপি নামের একটি বিমানের মালিক। ক্রুজের বিমানের দাম শুনলে চমকে যেতে পারেন—মাত্র ৩ কোটি ৮০ লাখ ডলার। সেলিন ডিওনের বিমান-প্রেম সেলিন ডিওনের বিমান-প্রেম কানাডিয়ান গায়িকা সেলিন ডিওনের শখের একটি জেট আছে। বোমবারডিয়ার গ্লোবাল এক্সপ্রেস জেট মডেলের একটি বিমানের মালিক এই গায়িকা। গেল কয়েক বছর ধরে বিমানে চড়ে ইনস্টাগ্রামে ছবি দেওয়া শখে পরিণত হয়ে গেছে এই তারকার। বৈমানিক জোলি! বৈমানিক জোলি! হলিউড অভিনয়শিল্পী অ্যাঞ্জেলিনা জোলি সাইরাস এসআর ২২ মডেলের একটি জেট বিমানের মালিক। শুধু মালিকই নন, জোলি একজন লাইসেন্সধারী বৈমানিকও বটে। মাঝেমধ্যেই সন্তানদের নিয়ে নাকি জোলি আকাশে উড়তে পছন্দ করেন। বাচ্চাদের নিয়ে ককপিটে মাঝেমধ্যেই বসেন তিনি।
পাঁচ মাসের গ্রাম
রাসমেলা দেখব বলে দুবলার চরের পথে পা বাড়িয়েছিলাম। খুলনা থেকে প্রায় ছয় ঘণ্টা লঞ্চে যাওয়ার পর চরে পৌঁছালাম ১ নভেম্বর। সুন্দরবন-লাগোয়া দুবলার চরের বালুতে পা ফেলার আগেই নাকে এল শুঁটকির গন্ধ। ঘণ্টাখানেক পর অবশ্য উৎকট গন্ধ নাক-সওয়া হয়ে গেল।মসজিদের কাজ তখনো চলছিলরাস উৎসব আয়োজনের ফাঁকেই জেলে গ্রাম ঘুরে বেড়ানো। অস্থায়ী এই গ্রামটি তখনো পুরোপুরি তৈরি হয়নি। ঘর তৈরির কাজ চলছে। কেউ কেউ বানাচ্ছেন মাছ শুকানো চাতাল, গড়ে উঠছে দোকান, হোটেল, উপাসনালয়সহ জীবনযাত্রার সবকিছুই। গ্রামের বাসিন্দারা এই চরে থাকবেন মাস পাঁচেক। এ সময় বসবাসের জন্য প্রয়োজনীয় সবকিছু গড়ে নিচ্ছেন নিজেদের মতো। এবার মৌসুম শুরু হয়েছে ২৩ অক্টোবর, ইলিশ ধরার ওপর নিষেধাজ্ঞা উঠে যাওয়ার পরদিন। দুবলার চরের মন্দিরচরের জেলে, মাছশ্রমিক ও ব্যবসায়ীরা খুলনা, যশোর, বাগেরহাট, সাতক্ষীরা, ভোলাসহ বিভিন্ন জেলা থেকে এসেছেন। এখানে সবাই যাঁর যাঁর কাজে ব্যস্ত, কথা বলার সময় নেই কারও যেন। ভোর থেকেই তুমুল ব্যস্ততা শুরু হয় তাঁদের। ট্রলারে মাছ ধরে নিয়ে আসেন জেলে। এরপর তা নদীর পানিতেই ধুয়ে আলাদা করা হয়। নানা জাতের মাছ আলাদা করার পর তা শ্রমিকেরা নিয়ে যান চাতালে। সেখানে মাছ কেটে প্রক্রিয়াজাত করে আলাদা চাতালে শুকাতে দেওয়া হয়। চার থেকে পাঁচ দিন লাগে মাছ শুকাতে। এরপর ব্যবসায়ীরা কিনে নিয়ে যান। মাছ ধরছেন জেলেরাকার্তিক চন্দ্র বিশ্বাস নামের এক শ্রমিক আটজনের দলের সঙ্গে এসেছেন। তাঁর বাড়ি খুলনার পাইকগাছায়। তাঁর কাছেই জানা গেল, প্রতি দলে ৮ থেকে ১০ জন করে থাকেন তাঁরা। গ্রামে জেলে, শ্রমিক ও ব্যবসায়ী মিলে প্রায় ১২ থেকে ১৫ হাজার মানুষ বসবাস করেন এই সময়টায়। প্রত্যেক জেলে এই পাঁচ মাসে ৮০ হাজার থেকে ১ লাখ টাকা আয় করেন।