আসাম রাজ্যে আবারো বিষাক্ত মদপানে অর্ধশত চা-শ্রমিক নিহত

২৩ফেব্রুয়ারী,শনিবার,আন্তর্জাতিক ডেস্ক,নিউজ একাত্তর ডট কম: আসাম রাজ্যে আবারো বিষাক্ত মদপানে অর্ধশত ব্যক্তি নিহত হয়েছেন বলে ভারতের বিভিন্ন গণমাধ্যমের খবরে বলা হয়েছে। এর মধ্যে ১১ জনই নারী। আজ শনিবার সকালের এসব প্রতিবেদনে আরো উল্লেখ করা হয়েছে, আশঙ্কাজনক অবস্থায় আরো অনেককে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। হতাহতরা সবাই চা-বাগানের দরিদ্র শ্রমিক। এ ঘটনায় নিহতের সংখ্যা আরো বাড়তে পারে বলে রাজ্য পুলিশের তরফ থেকে জানানো হয়েছে। তবে বিভিন্ন গণমাধ্যমের নিহতের সংখ্যা ৩২, ৪১ থেকে ৬৬ পর্যন্ত দেখানো হয়েছে। রাজ্য বিধানসভার স্থানীয় বিধায়ক মৃণাল শইকিয়া সংবাদসংস্থা থমসন রয়টার্সকে বলেন, প্রায় ১০০ জন শ্রমিক ওই বিষমদ পান করেছিলেন। খাওয়ার পরেই অসুস্থ হয়ে পড়েন তাঁরা। পরে তাঁদের হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। রয়টার্সের প্রতিবেদনে নিহতের সংখ্যা ৪১ বলে উল্লেখ করা হয়েছে। রাজ্য পুলিশের ডেপুটি সুপারিনটেনডেন্ট পার্থ প্রতিম সাইকিয়ার বরাত দিয়ে দিল্লিভিত্তিক অনলাইন পোর্টাল নিউজএইটটিন এক প্রতিবেদনে উল্লেখ করেছে, গত বৃহস্পতিবার রাতে আসাম রাজ্যের গুয়াহাটি থেকে ৩১০ কিলোমিটার দূরে গোলাঘাটের শালমিরা চা বাগানে মদ পান করে অসুস্থ হয়ে পড়েন শ্রমিকরা। পরে তাঁদের হাসপাতালে নেওয়া হলে একে একে নিহতের সংখ্যা বাড়তে পারে। নিহতের সংখ্যা আরো বাড়তে পারে বলে জানিয়েছে স্থানীয় পুলিশ। এই প্রতিবেদনে নিহতের সংখ্যা ৬৬ বলে উল্লেখ করা হয়েছে। শালমিরা চা-বাগানের কাছেই জুগিবাড়ি এলাকায় অবৈধভাবে তৈরি দেশীয় মদ কারখানার মালিকসহ দুই ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন পুলিশের কর্মকর্তা পার্থ প্রতিম। তিনি আরো জানান, এ ঘটনায় জড়িত সন্দেহভাজন অন্য ব্যক্তিদেরও গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে। এনডিটিভির এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ওই এলাকায় গ্লাসপ্রতি ১০ থেকে ২০ টাকায় অবৈধ দেশীয় মদ পাওয়া যায়। এতে নিহতের সংখ্যা ৩২ বলে উল্লেখ করা হয়েছে। এর আগেও বিষাক্ত মদ খেয়ে উত্তরপ্রদেশ ও উত্তরাখণ্ডে নিহত হয়েছিলেন ১০০ জনেরও বেশি মানুষ। তার দুই সপ্তাহ যেতে না যেতেই আবারো আসাম রাজ্যে ঘটলো এ ঘটনা।...

রাজধানীর চকবাজারের অগ্নিকাণ্ড আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে

২১ফেব্রুয়ারী,বৃহস্পতিবার,আন্তর্জাতিক ডেস্ক,নিউজ একাত্তর ডট কম: বাংলাদেশের রাজধানীর পুরান ঢাকার চকবাজারে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের খবর স্থানীয় সব গণমাধ্যমের মতো আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমগুলোও বেশ গুরুত্বের সঙ্গে প্রকাশ করেছে। ভারতীয় গণমাধ্যম টাইমস অব ইন্ডিয়ার প্রতিবেদনে সরকারি কর্মকর্তা ও প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাত দিয়ে বলা হয়, বাংলাদেশের রাজধানীর পুরান ঢাকার একটি ভবনে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে কমপক্ষে ৭০ জন এবং প্রায় ৫০ জন আহত হয়েছেন। দমকলকর্মীরা নয় ঘণ্টারও বেশি সময় ধরে চেষ্টা চালিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। পাকিস্তানের শীর্ষস্থানীয় গণমাধ্যম ডন ফরাসি বার্তা সংস্থা এএফপির বরাত দিয়ে প্রকাশিত প্রতিবেদনটিতে জানায়, বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকার পুরোনো অংশের একটি ভবনে আগুন লেগে কমপক্ষে ৬৯ জন নিহত হয়েছেন। ভবনটিতে রাসায়নিক পদার্থের গুদাম ছিল বলেও এই প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়। কাতার-ভিত্তিক গণমাধ্যম আল জাজিরার অনলাইন ভার্সনে এ সংক্রান্ত প্রতিবেদনটিকে প্রধান খবর হিসেবে রাখা হয়েছে। দমকল কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে এতে বলা হয়, বাংলাদেশের রাজধানীর পুরান ঢাকার একটি ভবনের কয়েকটি অ্যাপার্টমেন্টে বিধ্বংসী অগ্নিকাণ্ডে কমপক্ষে ৭০ জন মারা গেছেন। আগুন নিয়ন্ত্রণ কক্ষের কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে মৃতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে। স্থানীয় সরকারি কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে এএফপি জানায়, ঢাকার একটি ঐতিহাসিক এলাকায় একাধিক অ্যাপার্টমেন্ট ব্লকে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় কমপক্ষে ৭০ জন নিহত হয়েছেন। ফায়ার সার্ভিসের বরাত দিয়ে আরও জানায়, রাসায়নিক দ্রব্যের গুদাম হিসেবে ব্যবহৃত একটি ভবন থেকে আগুনের সূত্রপাত। যুক্তরাজ্য-ভিত্তিক বার্তা সংস্থা রয়টার্স ফায়ার সার্ভিস অ্যান্ড সিভিল ডিফেন্সর পরিচালক জুলফিকার রহমানের বরাত দিয়ে জানায়, বাংলাদেশের রাজধানীর পুরান ঢাকায় কয়েকটি ভবনে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে ৭০ জনের মতো মানুষ মারা গেছেন। এই সংখ্যা বাড়তে পারে বলেও বার্তা সংস্থাটিকে জানান এই বাংলাদেশি সরকারি কর্মকর্তা। যুক্তরাষ্ট্র-ভিত্তিক গণমাধ্যম সিএনএন এই অগ্নিকাণ্ডে কমপক্ষে ৭০ জন নিহত এবং ৪০ জন আহত হয়েছেন বলে জানায়। ঢাকা পুলিশের ডেপুটি কমিশনার ইবরাহিম খানের বরাত দিয়ে গণমাধ্যমটি জানায়, একটি গাড়ির জ্বালানি সিলিন্ডার বিস্ফোরণ থেকে এই অগ্নিকাণ্ডের সূত্রপাত হয় বলে মনে করা হচ্ছে। ভারতের পশ্চিমবঙ্গ-ভিত্তিক গণমাধ্যম আনন্দবাজারে প্রকাশিত এ সংক্রান্ত প্রতিবেদনে দমকল বাহিনী ও প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাত দিয়ে বলা হয়, ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড ঢাকার একটি বহুতলে। বিধ্বংসী আগুনে পুড়ে এবং বিষাক্ত ধোঁয়ায় শ্বাসরুদ্ধ হয়ে মৃত্যু হয়েছে অন্তত ৭০ জনের। দুর্ঘটনাটি ঘটে বুধবার রাত সাড়ে ১০টা নাগাদ ঢাকার চকবাজার এলাকায়।...

চকবাজারের ভয়াবহ আগুনের ঘটনায় পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতার শোক

২১ফেব্রুয়ারী,বৃহস্পতিবার,আন্তর্জাতিক ডেস্ক,নিউজ একাত্তর ডট কম: চকবাজারের ভয়াবহ আগুনের ঘটনায় শোক প্রকাশ করেছেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এক টুইট বার্তায় শোক প্রকাশ করেন তিনি। বৃহস্পতিবার সকালে মমতা লিখেন, বাংলাদেশে ভয়াবহ অগ্নিকান্ডের খবরে খুবই শোকাহত হলাম। নিহতদের পরিবারকে জানাই সমবেদনা। আহতদের দ্রুত আরোগ্য কামনা করি। রাজধানীর চকবাজারের আগুনের ঘটনায় এখন পর্যন্ত ৭০টি মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) জাবেদ পাটোয়ারী। তিনি জানান, মৃতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে। জাবেদ পাটোয়ারী বলেন, কেমিক্যাল গোডাউনে রাসায়নিক পদার্থ ছিল। ফলে আগুন খুব দ্রুত ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা ছিল। দ্রুত আগুন ছড়িয়েও পড়ে। পরে ফায়ার সার্ভিসের কর্মীদের নিরলস পরিশ্রমের কারণে তা নিয়ন্ত্রণে আনা গেছে। পুরো ভবন খুঁজে দেখা হচ্ছে আরও মৃতদেহ আছে কিনা। তিনি বলেন, রাসায়নিক গুদামের ভবনের সামনে কয়েকটি গাড়ি ছিল যেগুলো গ্যাসে চলতো। এই আগুনের কারণে গাড়িগুলো বিস্ফোরিত হয়। আরেকটি গাড়ির ভেতর অনেকগুলো সিলিন্ডার ছিল হয়তো আশপাশের বাড়িতে ও হোটেলে গ্যাস সরবরাহের জন্য সেগুলো ছিল। ওই গাড়িটিতে ভয়াবহ বিস্ফোরণ হয়। ফলে মৃতের সংখ্যা ও ক্ষয়ক্ষতির সংখ্যা অনেক বেড়ে যায়। ...

নিরাপত্তা তুলে নিল ১৮ বিচ্ছিন্নতাবাদী নেতার ওপর থেকে ভারত

২১ফেব্রুয়ারী,বৃহস্পতিবার,আন্তর্জাতিক ডেস্ক,নিউজ একাত্তর ডট কম: ভারতের জম্মু-কাশ্মীরের পুলওয়ামায় জঙ্গি হামলার জেরে এবার কাশ্মীরি বিচ্ছিন্নতাবাদীদের বিরুদ্ধে আরো বড় পদক্ষেপ নিল ভারতের কেন্দ্রীয় সরকার। নতুন করে ১৮ জন বিচ্ছিন্নতাবাদী নেতার ওপর থেকে নিরাপত্তা তুলে নিয়েছে তারা। বুধবার ভারতের কেন্দ্রীয় সরকারের পক্ষ থেকে এই পদক্ষেপের কথা জানানো হয়। ভারতের কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্রের তরফে জানানো হয়, ভারত সরকার মনে করছে বিচ্ছিন্নতাবাদীদের নিরাপত্তা দিয়ে অর্থ নষ্ট হচ্ছে কেন্দ্রের। এই অর্থ আরো ভালোভাবে ব্যবহার করা সম্ভব। এবারে নতুন করে জম্মু-কাশ্মীরের যে সমস্ত বিচ্ছিন্নতাবাদী নেতাদের ওপর থেকে নিরাপত্তা তুলে নেওয়া হলো তাঁদের মধ্যে অন্যতম হলেন এসএএস গিলানি, ইয়াসিন মালিক, আব্দুল গনি শাহ, নঈম আহমেদ খান, জাফর আকবর ভাট প্রমুখ। এর আগে গত রোববার ভারতের জম্মু-কাশ্মীরের পাঁচ হুরিয়ত নেতার নিরাপত্তা তুলে নেওয়া হয়েছিলো। সেই পাঁচ হুরিয়ত নেতার মধ্যে ছিলেন মিরওয়াইজ ওমর ফারুক, আব্দুল গনি ভাট, ওমর ফারুক, বিলাল লোন, হাসিম কুরেশি ও সাবির শাহ। সেই সময়েই সরকারি নির্দেশিকায় বলা হয়, কোনো কারণ বা অজুহাতেই ওই সমস্ত নেতাদের কোনো অবস্থাতেই নিরাপত্তা বা সরকারি গাড়ি দেওয়া যাবে না। শুধু গাড়ি বা নিরাপত্তাতেই শেষ নয়। এ ছাড়াও যদি কোনোরকম সরকারি সুবিধা এঁরা ভোগ করে থাকেন সেটাও প্রত্যাহার করার হুকুম জারি করা হয় ওই নির্দেশিকায়। গত রোববারের পর বুধবার জম্মু-কাশ্মীরের ১৮ জন বিচ্ছিন্নতাবাদী নেতা ছাড়াও আরো ১৫৫ জন রাজনৈতিক কর্মীর সুরক্ষা তুলে নেওয়া হয়েছে। এর ফলে অন্তত এক হাজার পুলিশকর্মী ও ১০০টি গাড়ি নিরাপত্তা দেওয়ার কাজ থেকে মুক্ত হবে।...

চট্টগ্রামে ডবলমুরিং থানা এলাকায় সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ গেল বাবা-ছেলের

২৩ফেব্রুয়ারী,শনিবার,অনলাইন ডেক্স,নিউজ একাত্তর ডট কম: মহানগরীর ডবলমুরিং থানার কদমতলী এলাকায় কাভার্ড ভ্যানের ধাক্কায় মোটর সাইকেল আরোহী বাবা ও ছেলের মৃত্যু হয়েছে। শুক্রবার রাত পৌনে ১২টার দিকে কদমতলীর ধনিয়ালাপাড়া মসজিদের সামনে এ দুর্ঘটনা ঘটে। নিহত মো. সগীর (৪২) মনসুরাবাদ এলাকায় মুদি দোকানী ও তার ছেলে মো. জোনায়েদ (১২) আগ্রাবাদ গণপূর্ত বিদ্যা নিকেতনের পঞ্চম শ্রেণির ছাত্র। ডবলমুরিং থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মো. জহির হোসেন জানান, শুক্রবার রাতে ধনিয়ালাপাড়া মসজিদের সামনে দ্রুতগতির একটি কাভার্ড ভ্যান মোটর সাইকেলটিকে সজোরে ধাক্কা দিলে ঘটনাস্থলেই মোটর সাইকেল আরোহী বাবা ও ছেলে মারা যায়। তিনি আরও বলেন, দুর্ঘটনার খবর পেয়ে ঘটনাস্থল থেকে মরদেহ দুটি উদ্ধার করে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। দুমড়ে-মুচড়ে যাওয়া মোটর সাইকেলটি থানায় এনে রাখা হয়েছে।...

ফেনীর মহীপাল থেকে ট্রাকবোঝাই অবৈধ কাঠ জব্দ

২৩ফেব্রুয়ারী,শনিবার,অনলাইন ডেক্স,নিউজ একাত্তর ডট কম: ফেনীতে ট্রাকভর্তি সেগুন ও গামারী কাঠ জব্দ করেছেন বন বিভাগের সদস্যরা। শনিবার (২৩ ফেব্রুয়ারি) সকালে মহীপাল থেকে কাঠগুলো জব্দ করা হয়। ট্রাকটিতে ইট পরিবহনের আড়ালে কাঠগুলো ঢাকায় আনছিলো পাচারচক্র। বন বিভাগ জানায়, ট্রাকে করে সেগুন ও গামারী পাচার হচ্ছে এমন খবরের ভিত্তিতে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের মহীপাল এলাকায় অভিযান চালানো হয়। এ সময় সন্দেহ হলে ইটবোঝাই একটি ট্রাক জব্দ করা হয়। পরে তল্লাশি চালিয়ে ইটের নিচে রাখা ৩০০ ঘনফুট সেগুন ও গামারী কাঠ পাওয়া যায়। তবে চালক পালিয়ে যাওয়ায় তাকে আটক করা সম্ভব হয়নি। তদন্ত করে কাঠ পাচারের সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হবে বলেও জানান বন কর্মকর্তারা।...

জমি দখল নিয়ে সংঘর্ষে কক্সবাজারে নিহত ২

২৩ফেব্রুয়ারী,শনিবার,অনলাইন ডেক্স,নিউজ একাত্তর ডট কম: কক্সবাজারে জমি দখল নিয়ে বিরোধের জের ধরে দু পক্ষের সংঘর্ষে গুলিবিদ্ধ হয়ে ২ জন নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন অন্তত ১০ জন। শনিবার (২৩ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে পেকুয়া উপজেলার বিলাহাছুরা এলাকায় এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। পুলিশ জানায়, জমি দখলকে কেন্দ্র করে মমতাজুল ইসলাম ও জালাল উদ্দিনের মধ্যে বেশ কিছুদিন ধরে বিরোধ চলছিল। এর জেরে আজ দুপুরে দু পক্ষের মধ্যে বাকবিতণ্ডা হয়। এক পর্যায়ে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে তারা। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। এসময় ঘটনাস্থল ৭টি দেশীয় অস্ত্র উদ্ধার করা হয়। পরে ঘটনাস্থল থেকে নেজাম ও আজিজুল নামে দুইজনের গুলিবিদ্ধ লাশ উদ্ধার করে সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠায় পুলিশ।...

দেশের বিভিন্ন স্থানে সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত ৬

২৩ফেব্রুয়ারী,শনিবার,অনলাইন ডেক্স,নিউজ একাত্তর ডট কম: টাঙ্গাইল ও ধামরাইসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে সড়ক দুর্ঘটনায় ছয়জন নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন অন্তত ২১ জন। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, শনিবার (২৩ ফেব্রুয়ারি) ভোরে বঙ্গবন্ধু সেতুর পূর্ব পাশে কালীহাতি এলাকায় চাঁপাইনবাবগঞ্জ থেকে ঢাকামুখী মাইক্রোবাসকে ধাক্কা দেয় একটি ট্রাক। এতে ঘটনাস্থলে চালক মোশাররফ হোসেন মুসা ও যাত্রী সৈয়দ শাহজামালের মৃত্যু হয়। আহত হন অন্তত ৬ জন। তাদের উদ্ধার করে টাঙ্গাইল মেডিকেলে ভর্তি করে ফায়ার সার্ভিস। এদিকে, ধামরাইয়ে ঢাকা-আরিচা মহাসড়কে যাত্রীবাহী দুটি বাসের মুখোমুখি সংঘর্ষে দু জন নিহত হয়েছেন। আহত ১৫ জনকে উদ্ধার করে বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।...

কুমিল্লার একটি বেসরকারি হাসপাতালে আগুন

২৩ফেব্রুয়ারী,শনিবার,অনলাইন ডেক্স,নিউজ একাত্তর ডট কম: কুমিল্লার একটি বেসরকারি হাসপাতালে আগুনে একজন দগ্ধ হয়েছেন।এসময় আহত হয়েছেন অন্তত ১০ জন। ফায়ার সার্ভিস জানায়, শুক্রবার রাত ৯টার দিকে নগরীর ঝাউতলা এলাকায় মুন হাসপাতালের নবম তলার প্যাথলজি বিভাগের একটি কক্ষে আগুন লাগে। মুহূর্তের মধ্যে ওই কক্ষের আসবাবপত্র ও দরজা জানালার পর্দায় আগুন ছড়িয়ে পড়ে। এতে ল্যাবে দায়িত্বরত মাকছুদা আক্তার নামে একজন নার্স দগ্ধ হন। এ সময় আগুন আতঙ্কে হুড়োহুড়ি করে নামতে গিয়ে অন্তত ১০ জন আহত হয়েছেন। খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের একটি ইউনিট প্রায় আধাঘণ্টার চেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। তবে আগুনের সূত্রপাত সম্পর্কে তাৎক্ষণিকভাবে কিছু জানাতে পারেনি ফায়ার সার্ভিস।...

বাংলাদেশ ব্যাংকের চুরি হওয়া রিজার্ভের অর্থ উদ্ধার কাজ চলমান : অর্থমন্ত্রী

২০ফেব্রুয়ারী,বুধবার,অনলাইন ডেক্স,নিউজ একাত্তর ডট কম: অর্থমন্ত্রী আ. হ. ম মুস্তফা কামাল জানিয়েছেন, বাংলাদেশ ব্যাংকের চুরি হওয়া রিজার্ভের অর্থ উদ্ধার কাজ এখনও চলমান রয়েছে। মঙ্গলবার সংসদে ৩০০ বিধিতে দেয়া এক বিবৃতিতে তিনি বলেন,রিজার্ভ চুরি সম্পর্কে পর্যাপ্ত প্রমাণাদি পাওয়া গেছে। এসব প্রমাণাদিসহ যুক্তরাষ্ট্রের আদালতে মামলা করার জন্য ২০১৮ সালে যুক্তরাষ্ট্র ভিত্তিক একটি আইনী প্রতিষ্ঠানকে দায়িত্ব দেয়া হয়। তারা গত জানুয়ারি মাসে যুক্তরাষ্ট্রের আদালতে আমাদের পক্ষে মামলা দায়ের করেছেন। নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যেই আমরা এ মামলাটি দায়ের করতে পেরেছি। অর্থমন্ত্রী বলেন, আর্থিক খাতে ব্যবস্থাপনার পাশাপাশি বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভের ব্যবস্থাপনাও বাংলাদেশ ব্যাংক করে থাকে। বাংলাদেশ ব্যাংকের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভটি যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থিত ফেডারেল রিজার্ভ ব্যাংক অব নিউইয়র্কে সংরক্ষণ করা হয়। পৃথিবীর প্রায় সকল দেশের রিজার্ভ এখানেই সংরক্ষণ করা হয়। তিনি বলেন, অত্যন্ত দুঃখজনক বিষয় হলো-বিগত ২০১৬ সালের জানুয়ারিতে হ্যাকিংয়ের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল রিজার্ভ ব্যাংকে সংরক্ষিত আমাদের বৈদেশিক মুদ্রার একটি অংশ শ্রীলংকা ও ফিলিপাইনে পাচার করা হয়। তথ্য প্রযুক্তির অপব্যবহারের মাধ্যমে আন্তর্জাতিক হ্যাকাররা ৭০টি ভুয়া পেমেন্ট ইনস্ট্রাকশনের মাধ্যমে ৯৫১ মিলিয়ন মার্কিন ডলার পাচারের চেষ্টা চালায়। এর মধ্যে ৫টি ভুয়া পেমেন্ট ইনস্ট্রাকশনের মাধ্যমে ১০১ মিলিয়ন মার্কিন ডলার ট্রান্সফার কার্যকর করার পর নিউইয়র্ক ফেডারেল রিজার্ভ সন্দিহান হয়ে বাকি পেমেন্ট ইনস্ট্রাকশনগুলো এক্সিকিউট করেনি। অর্থমন্ত্রী বলেন, রিজার্ভ চুরির বিষয়টি নজরে আসার সাথে সাথে সরকার চুরির অর্থ উদ্ধার, চুরি সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠান চিহ্নিতকরণ এবং ভবিষ্যৎ চুরিরোধে সকল পদক্ষেপ গ্রহণ করে। এরই ধারাবাহিকতায় বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গভর্নর ড. ফরাস উদ্দিনের নেতৃত্বে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করে এবং তিনি দ্রুত সরকারের কাছে একটি তদন্ত রিপোর্ট দাখিল করেন। পরবর্তীতে পুলিশের সিআইডিকে এ বিষয়ে অধিকতর তদন্তের দায়িত্ব দেয়া হয়। তদন্ত কার্যক্রম এখনও চলমান রয়েছে। ড. ফরাস উদ্দিনের রিপোর্টটি যাতে এ তদন্তে প্রভাব না ফেলে, এ জন্য তা প্রকাশ করা হয়নি। তিনি বলেন, রিজার্ভ চুরির বিষয়টি একটি আন্তর্জাতিক অপরাধ এবং এর সাথে বিদেশী একাধিক প্রতিষ্ঠান জড়িত রয়েছে। এই বিবেচনায় বাংলাদেশ সরকারের অনুরোধে ইউএসর এফবিআই এবং ফিলিপাইন সরকার তদন্তে নামে। এরই ধারাবাহিকতায় শ্রীলংকা থেকে ২০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার তাৎক্ষণিকভাবে উদ্ধার করা হয় এবং ফিলিপাইন থেকে ১৪ দশমিক ৬৩ মিলিয়ন মার্কিন ডলার ফেরত আনা হয়েছে। বাকি ৬৬ দশমিক ৩৭ মিলিয়ন মার্কিন ডলার উদ্ধারের কার্যক্রম চলমান রয়েছে। মন্ত্রী জানান, ইতোমধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের এফবিআই নিজ দেশে হ্যাকারদের বিরুদ্ধে মামলা করে এবং ফিলিপাইনে এন্টি মানি লন্ডারিং কাউন্সিল মানি লন্ডারিংয়ের সাথে জড়িতদের বিরুদ্ধে মামলা করে।...

নিয়মের মধ্যে থেকে সেবা দিলে ব্যাংকের সংখ্যা বাড়ানো কোনো সমস্যা নয়: অর্থমন্ত্রী

১৯ফেব্রুয়ারী,মঙ্গলবার,অনলাইন ডেক্স,নিউজ একাত্তর ডট কম: শ্রেণিকৃত ঋণ বর্তমান ব্যাংক খাতের প্রধান সমস্যা উল্লেখ করে খুব শিগগিরই একটি অডিট পরিচালনা করার কথা জানিয়েছেন অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল। সোমবার অর্থনৈতিক বিষয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির সভায় যোগ দেয়ার আগে এ কথা বলেন। এ সময় তিনি বলেন, কেন্দ্রীয় ব্যাংকের প্রয়োজনেই নতুন তিন ব্যাংকের অনুমোদন দেয়া হয়েছে। আর নিয়মের মধ্যে থেকে সেবা দিলে ব্যাংকের সংখ্যা বাড়ানো কোনো সমস্যা নয়। দেশে ব্যাংকের সংখ্যা বৃদ্ধি নিয়ে নানা বিতর্কের মধ্যেই রোববার বাংলাদেশ ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদের সভায় অনুমোদন দেয়া হয় নতুন তিন ব্যাংক। এর ফলে ৫৯টি ব্যাংকের সঙ্গে যুক্ত হতে যাচ্ছে বেঙ্গল, পিপলস ও সিটিজেন ব্যাংক। চাহিদা থাকলে ও কাঙ্ক্ষিত সেবা দিতে পারলে নতুন ব্যাংকের অনুমোদন কোনো সমস্যা নয় বলে মনে করেন অর্থমন্ত্রী। শ্রেণিকৃত ঋণকে ব্যাংক খাতের মূল সমস্যা উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, এ সমস্যা থেকে উত্তোরণে শিগগিরই পরিচালনা করা হবে বিশেষ অডিট। আগে ব্যাংক খাতে পরিশোধিত মূলধন ৪শ কোটি টাকা থাকলেও বর্তমানে ৫শ কোটি টাকা করার সিদ্ধান্ত ইতিবাচক বলে মনে করেন অর্থমন্ত্রী। ...

আরও ১৩ হাজার শিক্ষা প্রতিষ্ঠান পাচ্ছে আধুনিক ভবন

১৫ ফেব্রুয়ারী,শুক্রবার,অনলাইন ডেক্স,নিউজ একাত্তর ডট কম: সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে সম্যক সুযোগ-সুবিধা দেয়ার লক্ষ্যে ২০২১ সালের মধ্যে সব শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে আধুনিক ও দৃষ্টিনন্দন ভবন নির্মাণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। এতে ব্যয় হচ্ছে ২৫ হাজার কোটি টাকা। এই অবকাঠামো নির্মাণ কাজে প্রাধান্য পেয়েছে মাদ্রাসা ও কারিগরি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। শিক্ষা প্রকৌশল অধিদফতর সূত্রে জানা গেছে, গত ১০ বছরে সারা দেশের দুই হাজার ৪০০ মাদ্রাসায় নতুন ভবন নির্মাণ করা হয়েছে। নির্বাচিত আরও এক হাজার ৮০০টি মাদ্রাসায় একাডেমিক ভবন নির্মাণের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশনায় গত ১০ বছরে ২০০৯ থেকে ২০১৮ শিক্ষাখাতে ব্যাপক পরিবর্তন আনা হয়েছে। এই সময়ের মধ্যে ১১ হাজার ৩০৬টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ভবন নির্মাণ সম্পন্ন হয়েছে। আর ১২ হাজার ৬৭৩টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ভবন নির্মাণ কাজ ২০২১ সালের মধ্যে শেষ করা হবে। আর ব্যাপক সংস্কার করা হয়েছে পুরনো জরাজীর্ণ ভবনগুলোর। শিক্ষা প্রকৌশল অধিদফতরের (ইইডি) মাধ্যমে গত ১০ বছরে সারা দেশে মোট ২৩ হাজার ৯৭৯টি নতুন ভবন নির্মাণ করা হয়েছে। বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের জরাজীর্ণ আরও সাত হাজার ৬৪১টি ভবন সংস্কার করা হয়েছে। শিক্ষা প্রকৌশল অধিদফতরের প্রধান প্রকৌশলী দেওয়ান মোহাম্মদ হানজালা বলেন, প্রধানমন্ত্রীর দিক নির্দেশনা এবং শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের গাইড লাইন অনুযায়ী শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে আধুনিক সুযোগ-সুবিধার বিবেচনা করে ভবন নির্মাণ করা হয়েছে। আর ই-টেন্ডারিংয়ের মাধ্যমে অবকাঠামো নির্মাণের কার্যাদেশ দেওয়ায় নির্মাণ কাজের গুণগত মান ও স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা হয়েছে। দেওয়ান মোহাম্মদ হানজালা জানান, সরকারি হাইস্কুল ও কলেজগুলোতে শিক্ষার্থীর সংখ্যা বিবেচনায় নিয়ে ৬ থেকে ১০তলা পর্যন্ত ভবন নির্মাণ করা হচ্ছে। বাড়তি সুবিধা দিতে লিফটও স্থাপন করা হচ্ছে ভবনগুলোতে। এই পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে প্রতি বছর দেড় হাজার থেকে দুই হাজার শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে নতুন ভবন নির্মাণ করা সম্ভব হবে। ২০২১ সালের পর স্কুল, কলেজ ও মাদ্রাসায় অবকাঠামো নির্মাণের আর কোনও কাজ বাকি থাকবে না। ...

আরো ২ কোটি মানুষের হাতে বই তুলে দিতে চায় বিশ্ব সাহিত্য কেন্দ্র

৭ ফেব্রুয়ারী ,অনলাইন ডেক্স,নিউজ একাত্তর ডট কম : আলোকিত মানুষের খোঁজে পেরিয়ে আসা চার দশক। জ্ঞানের প্রদীপ জ্বালাতে ৯০ লাখ পাঠকের হাতে তুলে দেয়া হয়েছে বই। আগামী এক দশকে বই তুলে দেয়া হবে আরো দুই কোটি পাঠকের হাতে। সেই স্বপ্নের কথা জানালেন বিশ্ব সাহিত্য কেন্দ্রের প্রতিষ্ঠাতা আবদুল্লাহ আবু সায়ীদ। যাত্রা শুরু ১৯৭৮ সালের ১৭ ডিসেম্বর। আজকের এই বহুতল ভবনের আড়ালে রয়ে গেছে লাল রঙের দোতালা দালান। উদার ছাদ। আম্রমুকুল আর মহুয়ার সৌরভ এবং এক চিলতে সবুজ। বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রের কাজও বেড়েছে। পাঠচক্র, স্কুল-কলেজ কর্মসূচি, আলোর ইশকুল এবং পাঠকের দরজায় বই পৌঁছে দিতে ভ্রাম্যমাণ পাঠাগার। বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রের প্রতিষ্ঠাকালীন সদস্য আমীরুল ইসলাম বলেন, স্কুল কলেজ এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা আছেই। এর সংগে যে ঘাটতি থাকে ভালোবাসা মানুষের প্রতি মমতা প্রকৃতির প্রতি প্রেম এই প্রত্যেকটি জিনিস সুন্দরভাবে অন্তর্জগতে তৈরি হয়। ঠিক এই কারণেই বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রের প্রাতিষ্ঠানিক প্রয়োজনীয়তা ফুরাবে না।' পাঠ্যক্রমের বইয়ে হাঁপিয়ে উঠা শিক্ষার্থীদের আনন্দ পাঠ উপহার যেমন দিয়েছে বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্র, তেমনি সমাজের আঁধার কাটাতে সকল বয়সী মানুষকে বইয়ের আলোয় আলোকিত করতে সময়ের সঙ্গে খাপ খাইয়ে নতুন উপায় খুঁজে বেড়াচ্ছে কেন্দ্র। অধ্যাপক আবদুল্লাহ আবু সায়ীদ বিশ্বাস করেন, প্রযুক্তির আলো বইয়ের আলোকে ম্লান করতে পারবে না। তিনি বলেন, পুঁজিবাদ টাকা চায়, তার ফলে মানুষ সুন্দর বড় উন্নত জীবন থেকে সরে সে একটা পণ্যে পরিণত হয়েছে। এই বইকে যদি পৃথিবী ছেড়ে যায় তাহলে সেদিন মানুষ এবং জন্তুর কোন পার্থক্য থাকবে না।' জন্মদিন পেরিয়ে এসে ৮ ফেব্রুয়ারি বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রকে ঘিরে উৎসবে মেতে উঠার জন্য তৈরি আলোর পথের যাত্রীরা। মানুষের স্বপ্ন এবং চিন্তার প্রতিফলন ঘটাতে হলে বই পাঠের কোন বিকল্প নেই। ৪০ বছর ধরে বই চর্চা করে যাচ্ছে বিশ্ব সাহিত্য কেন্দ্র। বর্তমানে প্রযুক্তির ব্যবহার বেড়ে গেলেও মানুষের মাঝে বই চর্চাকে চ্যালেঞ্জ হিসেবে নিতে চায় এই সংস্থাটি। ...

বার্সেলোনার মুখোমুখি হচ্ছে সেভিয়া

২৩ফেব্রুয়ারী,শনিবার,ক্রীড়া ডেস্ক,নিউজ একাত্তর ডট কম: লা লিগায় কঠিন পরীক্ষায় পড়তে যাচ্ছে বর্তমান চ্যাম্পিয়ন বার্সেলোনা। শীর্ষস্থান মজবুত রাখার মিশনে এবার কাতালানদের প্রতিপক্ষ সেভিয়া। স্তাদিও র‌্যামন সানচেজে ম্যাচটি শুরু হবে শনিবার (২৩ ফেব্রুয়ারি) রাত সোয়া ৯টায়। একই দিন ফ্রেঞ্চ লিগ ওয়ানে নিমের বিপক্ষে খেলবে পিএসজি। এই ম্যাচটি শুরু হবে রাত ১০টায়। দারুন একটা মৌসুম শুরু করেছিল বার্সেলোনা। লিগের মধ্যপথ পর্যন্ত এক প্রকার ধরাছোঁয়ার বাইরে ছিলো তারা। কিন্তু সম্প্রতি পরপর কয়েকটি ম্যাচে পয়েন্ট খোয়ানোয় প্রতিদ্বন্দ্বীরা শ্বাস ফেলছে ঘাড়ে। তাই পা হড়কালেই শিরোপার স্বপ্নটা ধুসর হয়ে উঠতে পারে কাতালানদের কাছে। লিগের ২৫তম রাউন্ডে সেভিয়ার বিপক্ষে কঠিন পরীক্ষাই দিতে হতে পারে বার্সেলোনার। যদিও প্রথম পর্বে তাদের বড় ব্যবধানেই হারিয়েছিল মেসি-সুয়ারেজরা। কিন্তু এবারের ম্যাচটা স্তাদিও র;্যামন সানচেজে বলেই যত ভাবনা। যেখানে বাঘা বাঘা প্রতিপক্ষরা হোঁচট খায় হর হামেশাই! এমন ম্যাচে বার্সেলোনার জন্য দুঃসংবাদ বয়ে আনছে ইনজুরির লম্বা তালিকা। খেলতে পারবেন না রাফিনহা, আর্থার আর থমাস ভার্মালেন। কোচের চিন্তা আরো বাড়াচ্ছে গেলো ম্যাচে মেসির নিষ্প্রভ হয়ে থাকা। তাই বাড়তি দায়িত্বই নিতে হবে সুয়ারেজ ডেম্বেলে কৌতিনিওদের। এবারের মৌসুমে দশ জয় আর সাত হারে টেবিলের চার নম্বরে অবস্থান করছে সেভিয়া। তাই পয়েন্ট টেবিলে বার্সেলোনার সঙ্গে ব্যবধানটা তাদের স্পষ্ট। সেটা কমানোর সুযোগ এবার ঘরের মাঠে। কিন্তু এ জন্য তাদের লড়তে হবে স্রোতের প্রতিকূলে। দলে আছে এক গাদা ইনজুরি সমস্যা। তারপরও পাবলো মাকিনের শিষ্যরা। এদিকে বরাবরের মতোই এবারও ফ্রেঞ্চ লিগ ওয়ানের লড়াইটা একবারেই ম্যাড়ম্যাড়ে। ২৪তম রাউন্ড শেষে একক ভাবে শীর্ষে অবস্থান পিএসজির। এক ম্যাচ করে বেশি খেলেও প্রতিপক্ষদের অবস্থান বেশ খানিকটা দুরে। তাই অনেকটা নির্ভার হয়েই এই ম্যাচে মাঠে নামবে এমেরির শিষ্যরা। যদিও প্যারিসিয়ান শিবিরে আছে ইনজুরির থাবা। বেশ লম্বা সময়ের জন্য ছিটকে গেছেন নেইমার। ইনজুরি বেশ ভোগাচ্ছে এডিনসন কাভানিকেও। তারপরও এমবাপ্পে-ডি মারিয়ারা যে ভাবে নিজেদের মেলে ধরছেন তাতে স্রেফ উড়ে যাওয়াটাই স্বাভাবিক টেবিলে ১০ নম্বরে থাকা নিমে'র!...

যা বললেন ম্যাচের পর মাশরাফি

২১ফেব্রুয়ারী,বৃহস্পতিবার,ক্রীড়া ডেস্ক,নিউজ একাত্তর ডট কম: নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে তিন ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজে হোয়াইটওয়াশ বাংলাদেশ। সাদা বলের সিরিজটির একটি ম্যাচেও কিউইদের বিপক্ষে প্রতিরোধ গড়তে পারেনি মাশরাফি বিন মুর্তজার দল। বুধবার ডানেডিনে ম্যাচ শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেছেন টাইগার দলপতি। পর পর তিন ম্যাচে ব্যর্থতার পাশাপাশি ইতিবাচক বিষয়গুলোও আলোচনা করেছেন মাশরাফি। তিনি বলেন, আমাদের মিডল ওয়ার্ডার-লোয়ার মিডল ওয়ার্ডারে কিছু রান পেয়েছে। মিঠুন দুইটা ম্যাচে রান পেয়েছে। সাব্বির ১০০ করেছে। সাইফুদ্দিন রান করছে আজকে ভালো বোলিংও করেছে। পজেটিভ বিষয় যেগুলো আছে সেগুলো হয়তো পেছনের দিকে। তবে দলের জন্য অবশ্যই এগুলো লাভজনক। তবে অবশ্যই ম্যাচ জিততে হলে টপ অর্ডার থেকে ভালো কিছু করতে হবে। নেগেটিভ যা আছে সঙ্গে পজেটিভ বিষয়গুলো বললাম। পাশাপাশি যে ভুল-ত্রুটিগুলো আমরা করেছি সেগুলো নিয়ে অবশ্যই আমাদের কাজ করার আছে। এদিন বল হাতে ব্যর্থ হলেও শুরুর দিকে ফিল্ডিংটা ঠিকই ছিল। গেল দুই ম্যাচ সেঞ্চুরি করা মার্টিন গাপটিলকে দুর্দান্ত ক্যাচে ফিরিয়েছেন তামিম ইকবাল। তবে ইনিংসের শেষ দিকে ফের এলোমেলো বাংলাদেশ। অধিনায়কের মতে, ফিল্ডিং চাইলে ইমপ্রুভ করা যায়। বোলিং-ব্যাটিং কিছুটা সময়ের ব্যাপার। এখানে স্কিলের ব্যাপার আছে। ফিল্ডিংয়ে চেষ্টা করলে দেখতে ভালো লাগে, চেষ্টাটা বোঝা যায়।। হয়তো সবাই মানসিকভাবে একটু ধাক্কা খেয়েছিল। একটু তাড়াহুড়োও ছিল, তাই ওলট-পালট হয়েছে। যে ফিল্ডার থাকে তারা বিভ্রান্ত হয়ে যায়। আর সব সময় একই ছন্দে তো থাকা সম্ভব নয়, ক্যাচ মিস তো হতেই পারে। ৩৯তম ওভারের দ্বিতীয় ওভারে ফিরে যান রস টেইলর। চার উইকেটে ব্ল্যাকক্যাপসদের দলীয় সংগ্রহ দাঁড়ায় ২০৪ রান। ঠিক ওই সময়ে ২৪ বলে ৩৭ রানের একটি কার্যকরীয় ইনিংস খেলেন জিমি নিশাম। আর এই ইনিংসটিই সফরকারী অধিনায়কের চোখে ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দিয়েছে। মাশরাফি বলেন, নিশামের ইনিংসটাই টার্নিং পয়েন্ট। ৩৫ ওভার পর্যন্ত তাদেরকে আমরা এমন একটা জায়গায় রেখেছিলাম, ওই সময় আরেকটু ভালো বোলিং বা ফিল্ডিং করলে ওদেরকে ৩০০র নিচে রাখারও একটা সুযোগ ছিল। চারজন পড়ে যাওয়া মানে ওদের টেল এন্ডারে জুটি না হতে দিলে অবশ্যই ওদেরকে আটকে রাখার সুযোগ ছিল। তবে ওই সময় যে শট খেলেছে বা ঝুঁকি নিয়েছে তাতে ওরা সফল হয়েছে। আর আমরা পারিনি।...

২৫ ফেব্রুয়ারি মুক্তি পাচ্ছে,রেইন লাভ

২৩ফেব্রুয়ারী,শনিবার,বিনোদন ডেস্ক,নিউজ একাত্তর ডট কম: অনলাইনে মুক্তি পেতে যাচ্ছে আলোচিত নির্মাতা ভিকি জাহেদের নতুন স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র রেইন লাভ। এটি মুক্তি পাবে জনপ্রিয় অডিও-ভিডিও লেবেল সিএমভির ইউটিউব চ্যানেলে। প্রতিষ্ঠানটি এবারই প্রথম নিজস্ব তত্ত্বাবধনে কোনও স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র নির্মাণ করলো। রেইন লাভ-এর প্রধান দুই চরিত্রে অভিনয় করেছেন জনপ্রিয় মুখ নাদিয়া খানম ও নতুন মুখ সাজিব জামান। রেইন লাভ- প্রসঙ্গে অভিনেত্রী নাদিয়া খানম বলেন, ভিকি ভাইয়ার সাথে এটা আমার পঞ্চম স্বল্পদৈর্ঘ্য। এরমধ্যে মায়া, দূরবীন ও আজ আমার পালা নামের কাজগুলো দর্শক অনেক পছন্দ করেছে। এবারের গল্পটি অনেক সুন্দর। গল্পের ক্লাইমেক্স দর্শকদের ভাবাবে। ছবির গল্প প্রসঙ্গে ভিকি জানান, রেইন লাভ হচ্ছে মাঘের শীতে বৃষ্টির গল্প। আর এই অদ্ভূত-অসময়ে ঝরে পড়া বৃষ্টি দুটি সাধারণ ছেলে-মেয়ের জীবনে অসাধারণ কিছু মুহূর্তের সৃষ্টি করে। যে মুহূর্তগুলো ওদের জীবন পাল্টে দেয়। কীভাবে পাল্টে দেয়, সেটি স্পষ্ট হবে ছবিটি দেখলে। রেইন লাভ- মুক্তি পাচ্ছে ২৫ ফেব্রুয়ারি।...

সারাকে ডেট করা নিয়ে পরামর্শ দিয়েছেন সৎমা কারিনা

২১ফেব্রুয়ারী ,বৃহস্পতিবার,বিনোদন ডেস্ক,নিউজ একাত্তর ডট কম: বলিউডে অভিষেকের পরপরই নজর কেড়েছেন সারা আলী খান। কেদারনাথ- সিনেমায় অভিনয় দক্ষতা দেখে সারাকে মনে গেঁথেছেন অনেকেই। পরের ছবি সিম্বা তেও নিজেকে নতুন করে চিনিয়েছেন সারা। পরিবারের প্রায় সকলেই অভিনয় পেশার সঙ্গে যুক্ত হবার সুবাদে সারা বেশ কিছু সুবিধা পান। সদস্যদের কাছ থেকে পরামর্শ নেন নিয়মিত। সৎমা কারিনা তাকে বিভিন্ন পরামর্শের পাশাপাশি ডেট করা নিয়েও পরামর্শ দেন। সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে এ বিষয়ে জানিয়েছেন কারিনা নিজেই। সাক্ষাৎকারে কারিনার সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন তার প্রিয় বন্ধু অমৃতা। তিনি কারিনার কাছে জানতে চান, ডেটিংয়ের কোনও পরামর্শ সারাকে দাও কি? হেসে জবাব দেন কারিনা। তিনি বলেন, প্রথম হিরোর সঙ্গে ডেট না করার পরামর্শ দিয়েছি। কেদারনাথ সিনেমায় সুশান্ত সিংহ রাজপুতের সঙ্গে কাজ করেছেন সারা। ভক্তরা ভাবছেন হয়ত সুশান্তের সঙ্গে ডেট না করার পরামর্শ দিয়েছেন কারিনা। ১৯৯১ সালে অমৃতা সিং-কে বিয়ে করেন সাইফ আলী খান। অমৃতা ছিলেন সাইফের থেকে ১২ বছরের বড়। তাদের ঘরে জন্ম হয় ছেলে ইব্রাহিম আলী খান এবং মেয়ে সারা আলী খান। দুই সন্তানের জন্মের পর পরই অমৃতা সিং-এর সঙ্গে ২০০৪ সালে বিচ্ছেদ হয়ে যায় সাইফের। এরপর ২০১২ সালে এক সময়ের সহঅভিনেত্রী কারিনা কাপুরকে বিয়ে করেন সাইফ আলী খান। বর্তমানে সাইফ ও কারিনার ঘরে তৈমুর নামে এক পুত্র সন্তান রয়েছে।- আরটিভি...

শত বছরের পুরোনো দুর্গাবাড়ী

বাঙালি হিন্দু সমাজের প্রধান ধর্মীয় উৎসব শারদীয়া দুর্গোৎসব। আর এই পুজোয় আপনিও ঘুরে আসতে পারেন সিলেটের শত বছরের পুরোনো দুর্গাবাড়ী থেকে। আর খরচের কথা ভাবছেন, মাত্র ৮০০ টাকা।শোনা যায় কলকাতার পাথরঘাটা নামক স্থানের এক সম্ভ্রান্ত জমিদার এই দুর্গাবাড়ী প্রতিষ্ঠান করেন। এই ব্যাপারে ব্রজেন্দ্র নারায়ণ চৌধুরী সম্পাদিত স্মৃতি প্রতিতি নামক বই এ উল্লেখ আছে। ব্রজেন্দ্র নারায়ণ চৌধুরী ছিলেন সিলেট সরকারি মহিলা কলেজের প্রতিষ্ঠাতা। স্বদেশি আন্দোলনে অনেক বীর এখানে এসে মায়ের পায়ে নিজের রক্ত দিয়ে প্রতিজ্ঞা করতেন নিজের আদর্শ থেকে এক চুলও বিচ্যুত হবেন না। স্বদেশকে পরাধীনতা থেকে মুক্ত করেই তবে ঘরে ফিরবেন।টিলার ওপর মূল মন্দির অবস্থিত। অর্ধশত সিঁড়ি ডিঙিয়ে আপনাকে পৌঁছাতে হবে মূল মন্দিরে। মূল মন্দিরে স্থাপিত দুর্গা প্রতিমা শত বছর ধরে পুজিত হয়ে আসছেন। পাশেই আছে আপনার বসার জন্য জায়গা। এর সাথেই আছে শিব মন্দির। টিলার থেকে দূরের দৃশ্য আপনাকে অভিভূত করবে। পূজার সময় ধূপ-ধূনার মোহনীয় গন্ধ আপনাকে নিয়ে যাবে এক অন্য জগতে।কীভাবে যাবেন,দুর্গাবাড়ী মন্দির যেতে হলে আপনাকে বাস/টেনে করে আসতে হবে সিলেট শহরে। প্রতিদিন ঢাকা থেকে সিলেটের উদ্দেশে বাস/ট্রেন ছাড়ে, ভাড়া পড়বে ৩২০ টাকা থেকে এক হাজার ২০০ টাকা। সিলেট শহরের যেকোনো প্রান্ত থেকে দুর্গাবাড়ী যাব বললেই আপনাকে নিয়ে যাবে শত বছরের পুরোনো দুর্গাবাড়িতে। রিকশা/সিএনজি ভাড়া নেবে ৮০ থেকে ১৫০ টাকা।...

ঈদের ছুটিতে পর্যটন নগরী কক্সবাজারে

বর্ষা মৌসুম তারপরও ঈদের ছুটিতে পর্যটন নগরী কক্সবাজারে ছুটে আসছেন পর্যটকরা। তাদের স্বাগত জানাতে প্রস্তুত কক্সবাজার। সৈকত শহরের ৪ শতাধিক হোটেল-মোটেল-গেষ্টহাউজ ও কটেজ কর্তৃপক্ষের প্রস্তুতিও শেষ। আর পর্যটকদের নিরাপত্তায় বিশেষ ব্যবস্থা নিয়েছে ট্যুরিস্ট পুলিশও। রমজানে বিশ্বের দীর্ঘতম সমুদ্র সৈকত কক্সবাজার পর্যটক শূন্য থাকলেও ঈদের ছুটিতে ভ্রমণ পিপাসুদের ঢল নামে এই সৈকতে। বর্ষা মৌসুম হওয়ায় প্রথমে পর্যটকের সংকটের আশঙ্কা দেখা দিয়েছিল কক্সবাজারে। তবে সব আশঙ্কাকে উড়িয়ে দিয়ে এরই মধ্যে হোটেল-মোটেল-গেস্ট হাউস ও কটেজের প্রায় ৮০ শতাংশ কক্ষ বুকড হয়ে গেছে। আর ব্যবসায়ীরাও নতুন সাজে সাজিয়েছেন তাদের প্রতিষ্ঠান। হোটেল কর্তৃপক্ষও পর্যটকদের নানান সুযোগ-সুবিধা দেয়াসহ শেষ করছে যাবতীয় প্রস্তুতি। তারা আশা , প্রতি বছরেই মতো এবারও ঈদের ছুটিতে ভালো ব্যবসা হবে। বর্ষা মৌসুম তাই সাগর উত্তাল থাকবে। এক্ষেত্রে অনাকাঙ্কিত দুর্ঘটনা এড়াতে পর্যটকদের সমুদ্রে স্নান ও নিরাপত্তায় কঠোর ব্যবস্থা নেয়ার দাবি জানালেন হোটেল ওনার্স এসোসিয়েশনের এ নেতা। কক্সবাজার হোটেল ওনার্স এসোসিয়েশনের মুখপাত্র মো. সাখাওয়াত হোসাইন জানান, 'সমুদ্র উত্তাল থাকবে। এখানে লাইফগার্ড ও পুলিশ ট্যুরিস্টদের তৎপরতাটা বৃদ্ধি করলে আমার মনে হয়, যারা কক্সবাজারে আসবেন তারা নিবিঘ্নে এখান থেকে ফিরতে পারবেন।' আর ট্যুরিস্ট পুলিশের এ কর্মকর্তা জানালেন, ঈদের ছুটিতে পর্যটকরা যাতে স্বাচ্ছন্দ্যে কক্সবাজার ভ্রমণ করতে পারে সেজন্য সব ধরণের পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে।...

বঙ্গবন্ধু উপাধির অর্ধশত বছর

২৩ফেব্রুয়ারী,শনিবার,অনলাইন ডেক্স,নিউজ একাত্তর ডট কম: ১৯৬৯ সালের ২৩ ফেব্রুয়ারি। হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ বাঙালি শেখ মুজিবুর রহমান বঙ্গবন্ধু উপাধিতে ভূষিত হয়েছিলেন এই দিনে। সেই উপাধি অর্জনের ৫০ বছর আজ (২৩ ফেব্রুয়ারি)। ১৯৬৬-র ৮ মে গভীর রাতে ৬ দফা কর্মসূচি প্রদানের অভিযোগে দেশরক্ষা আইনে শেখ মুজিব গ্রেফতার হয়েছিলেন। ৩৩ মাস পর ৬৯-এর ২২ ফেব্রুয়ারি মুক্তিলাভ করেন তিনি। আগরতলা মামলা থেকে সবেমাত্র মুক্তি লাভ করে ফিরে আসা শেখ মুজিবুর রহমানকে ২৩ ফেব্রুয়ারি গণসংবর্ধনা দেয়ার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। সেদিনের রেসকোর্স বর্তমানে সোহরাওয়ার্দী উদ্যান নামে পরিচিত। রেসকোর্স ময়দানে লাখ লাখ সেদিন জনতার ঢল নেমেছিল। কেন্দ্রীয় ছাত্র সংগ্রাম পরিষদ আয়োজিত ওই বিশাল গণসংবর্ধনায় তৎকালীন ডাকসুর সভাপতি, শেখ মুজিবের একনিষ্ঠ সহচর তোফায়েল আহমেদ মাইকে ঘোষণা করেন, কৃতজ্ঞ বাঙালি জাতি ঋণের বোঝা হালকা করতে চায়। জাতির পক্ষ থেকে প্রিয় নেতাকে উপাধি দিতে চাই। রেসকোর্স ময়দান প্রকম্পিত করে প্রায় ১০ লাখ মানুষ দু হাত তুলে সমর্থন করেন তাকে। এরপর তোফায়েল আহমেদ বলেন, এবার বক্তৃতা করবেন আমাদের প্রিয় নেতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। নেতাজী সুভাষচন্দ্র বসু, রবীন্দ্রনাথ যাকে মহাত্মা উপাধি দিয়েছিলেন সেই মোহনদাস করমচাঁদ গান্ধী, দেশবন্ধু চিত্তরঞ্জন দাশ, শেরে বাংলা একে ফজলুল হকসহ পৃথিবীতে অনেকেই বিভিন্ন সময় বিভিন্ন উপাধি পেয়েছেন। কিন্তু ফাঁসির মঞ্চ থেকে মুক্ত হয়ে, গণমানুষের ভালোবাসায় সিক্ত হয়ে, এমন আনুষ্ঠানিকতার মধ্য দিয়ে কেউ উপাধি পাননি। এরপর থেকেই জাতির জনক শেখ মুজিবুর রহমান হয়ে গেলেন বাঙালির প্রিয় বঙ্গবন্ধু। ...

আজ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকের শুভ জন্মদিন

৪ ফেব্রুয়ারী,অনলাইন ডেক্স,নিউজ একাত্তর ডট কম: সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকের আজ ১৫ তম জন্মদিন। মার্ক জাকারবার্গের হাত ধরে ২০০৪ সালের ৪ ফেব্রুয়ারি ফেসবুকের যাত্রা শুরু হয়। হার্ভার্ড ইউনিভার্সিটির শিক্ষার্থীদের অনলাইনে একত্রীকরণের পরিকল্পনা থেকে দ্য ফেসবুক নাম নিয়ে শুরু হয় ফেসবুকের যাত্রা। ৪৭৯ বিলিয়ন ডলার বাজারমূল্যের প্রতিষ্ঠানটির বর্তমানে ব্যবহারকারীর সংখ্যা প্রায় ২৩২ কোটি। ২০১৮ সালে ফেসবুকের মোট মুনাফা ছিল ২২ দশমিক ১ বিলিয়ন ডলার, যা ২০১৭ সালের চেয়ে ৩৯ শতাংশ বেশি। ফেসবুকের বিরুদ্ধে গোপনীয়তা রক্ষা না করা এবং ক্ষতিকর কন্টেন্ট ছড়ানোয় ভূমিকা রাখার অভিযোগ উঠলেও ফেসবুক ব্যবহারকারীর সংখ্যা দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে। ...

একটু সময় দিলে আমরা সব কাটিয়ে উঠতে পারবো: মোশাররফ

২৩ফেব্রুয়ারী,শনিবার,অনলাইন ডেক্স,নিউজ একাত্তর ডট কম: সাংগঠনিক শক্তি জোরদার করতে বিএনপি পুনর্গঠনের কাজ শুরু হয়েছে বলে জানিয়েছেন দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন। শনিবার (২৩ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে জাতীয় প্রেসক্লাবে বেগম জিয়ার উপদেষ্টা তৈমুর আলম খন্দকারের দু টি বইয়ের মোড়ক উন্মোচন অনুষ্ঠানে তিনি এ তথ্য জানান। দল সংগঠিত না করে জনগণকে নেতৃত্ব দেয়া সম্ভব নয় বলেও মন্তব্য করেন মোশাররফ। বিএনপি স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন বলেন,বিএনপি প্রস্তুত আছে। আমরা এখন হতভম্ব। একটু সময় দিলে আমরা সব কাটিয়ে উঠতে পারবো। তিনি আরো বলেন, যে যে জায়গায় আমাদের দুর্বলতা আছে সেগুলোকে চিহ্নিত করে ইতিমধ্যে আমরা দলের পুনর্গঠন শুরু করেছি। সংগঠনকে শক্তিশালী না করে জনগণকে নেতৃত্ব দিতে পারবো না। তাই সংগঠনকে শক্তিশালী করতে আমাদের কিছুদিন সময় নিতে হবে।...

অগ্নিকাণ্ড নিয়ে বিএনপির বক্তব্য দায়িত্বজ্ঞানহীন: তথ্যমন্ত্রী

২২ফেব্রুয়ারী,শুক্রবার,অনলাইন ডেক্স,নিউজ একাত্তর ডট কম: পুরান ঢাকার চকবাজারের অগ্নিকাণ্ড নিয়ে বিএনপির বক্তব্যকে দায়িত্বজ্ঞানহীন ও সম্পূর্ণ অগ্রহণযোগ্য বলে অভিহিত করে আওয়ামী লীগের প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক, তথ্যমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ বলেছেন, যারা পেট্রোলবোমা মেরে মানুষ পুড়িয়ে মারে তাদের মুখে অগ্নিকাণ্ড নিয়ে অমূলক সমালোচনা শোভা পায় না। তিনি বলেন, সরকারবিরোধী আন্দোলনের নামে বিএনপি মানুষ পুড়িয়ে হত্যা করেছে, সে দায় নেতা হিসেবে বেগম জিয়া বা মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, কেউই এড়াতে পারেন না। তথ্যমন্ত্রী বলেন, ওই পেট্রোলবোমা হামলা চকবাজার ট্রাজেডির মতো এমন দুর্ঘটনা ছিল না। যারা মানুষ পুড়িয়ে হত্যা করে, তাদের মুখে অগ্নিকাণ্ড নিয়ে এমন মন্তব্য শোভা পায় না। ড. হাছান শুক্রবার সকালে রাজধানীর শিল্পকলা একাডেমির চিত্রশালা হলে অভিনয় শিল্পীসংঘের দ্বি-বার্ষিক সম্মেলন উদ্বোধনের পর সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে এ কথা বলেন। তথ্যমন্ত্রী বলেন, মর্মান্তিক এ ঘটনায় মানবতার মমতাময়ী মা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বিনিদ্র রাত কাটিয়েছেন, বারবার দিকনির্দেশনা দিয়েছেন, সরকার পূর্ণ তৎপর রয়েছে।' তিনি বলেন, এ ধরনের দুর্ঘটনায় সরকারের পাশে দাঁড়িয়ে পরিস্থিতি মোকাবিলা করতে বিএনপির সহায়তা করা উচিত । প্রতিবেশী দেশ ভারতের উদাহরণ দিয়ে ড. হাছান বলেন, নির্বাচনের কয়েক মাস আগের সময়টিতেও সে দেশে বিরোধী দল দুর্যোগ মোকাবিলায় সরকারের সাথে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে কাজের ঘোষণা দিয়েছে। এটি দুর্ঘটনা নাকি উদ্দেশ্যমূলক, এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন,সেটি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে, তদন্ত শেষে দুর্ঘটনার কারণ বেরিয়ে আসবে। জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের গণশুনানির বিষয়ে তথ্যমন্ত্রী বলেন, দেশ আজ মর্মাহত, শোকাহত। এমন সময়ে গণশুনানির নামে নাটক না করে তাদের উচিত মানুষের পাশে দাঁড়ানো। মহান স্বাধীনতাযুদ্ধে অংশ নেয়া ও অনুপ্রেরণাদায়ী সকল শিল্পীর প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানিয়ে ড. হাছান মাহমুদ বলেন, শিল্পচর্চা জাতিকে সমৃদ্ধ করে। দেশের সংস্কৃতি অঙ্গনে অভিনয় শিল্পীদের অবদান সমুন্নত রাখতে বর্তমান সরকার গণমাধ্যমের যুগান্তকারী বিকাশ সাধনসহ বাস্তবমুখী পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। চলতি বছরে একুশে পদকপ্রাপ্ত তিন শিল্পী সুবর্ণা মুস্তফা, লিয়াকত আলী লাকী ও লাকী ইনামকে এ সময় অভিনয় শিল্পী সংঘের সম্মাননা স্মারক তুলে দেন তথ্যমন্ত্রী। অভিনয়শিল্পী সংঘের সভাপতি শহিদুল আলম সাচ্চুর সভাপতিত্বে সৈয়দ হাসান ইমাম, মামুনুর রশীদ, ড. ইনামুল হক, তৌকির আহমেদ, আফসানা মিমি, মাহফুজ, তানভীন সুইটি, তানিয়া, আহসান হাবিব নাসিমসহ কয়েকশ অভিনয় শিল্পী সম্মেলনে অংশ নেন।...

সুস্থ থাকতে সব খাবার পাতে

১১ ফেব্রুয়ারী ,সোমবার,অনলাইন ডেক্স,নিউজ একাত্তর ডট কম : ষাটের দশকে সেভেন কান্ট্রিজ স্টাডিতে বিজ্ঞানীরা জানান যে ভূমধ্যসাগরের আশপাশের এলাকায় চর্বিসমৃদ্ধ খাবার খাওয়া সত্ত্বেও মানুষের হৃদরোগ কম হয়। তার অন্যতম কারণ হিসাবে উঠে আসে অলিভ অয়েল, বাদাম ও সামুদ্রিক মাছ। তাঁদের খাবারের প্রায় সব চর্বিটুকুই আসত অলিভ অয়েল, বাদাম ও সামুদ্রিক মাছ থেকে৷ অলিভ অয়েল ও বাদাম (আমন্ড, চিনেবাদাম, কাজু, হেজেলনাট, ম্যাকাডামিয়া নাট) হল মোনোআনস্যাচুরেটেড ফ্যাটি অ্যাসিড বা মুফা-র বড় উৎস৷এছাড়া অ্যাভোক্যাডো, বাদাম ক্যানোলাস্যাফ্ তেল, ন্যাচারাল পিনাট বাটারেও প্রচুর মুফা আছে৷যদিও এদের ক্যালোরি একটু বেশি৷এছাড়া আর কোনও দোষ নেই৷কাজেই নিয়মিত অল্প করে মুফা সমৃদ্ধ খাবার খানা। সামুদ্রিক মাছে আছে পলিআনস্যাচুরেটেড ফ্যাটি অ্যাসিড বা পুফা৷আখরোট, সয়াবিনের দুধ ও টোফু, সূর্যমুখী তিসি ও কুমড়োর বীজ, সানফ্লাওয়ার সয়াবিন ও কর্ন অয়েলেও বেশ ভাল পরিমাণে আছে৷ ওমেগা থ্রি ভার্সেস ওমেগা সিক্স: পুফা মূলত দু রকম৷ওমেগাথ্রি ও ওমেগাসিক্স ফ্যাটি অ্যাসিড৷খারাপ কোলেস্টেরল ও ট্রাইগ্লিসারাইড কমাতে, ভাল কোলেস্টেরল বাড়াতে এদের ভূমিকা আছে৷শরীরের অন্যান্য আরও কাজেও লাগে তারা৷ সবচেয়ে ভাল ফল পেতে সারা দিনের খাবারে ওমেগাসিক্স ও ওমেগাথ্রির অনুপাত সমান থাকা দরকার৷ নাহলে ২ : ১ বা নিদেনপক্ষে ৪ : ১ রাখতেই হবে৷ না হলে হৃদরোগ, ডায়াবিটিস, অ্যার্থ্রাইটিস, অ্যালঝাইমার ডিজিজ, ক্যানসার ইত্যাদির আশঙ্কা বেড়ে যেতে পারে৷বয়সের ছাপ পড়তে পারে দ্রুত৷মন মেজাজ খারাপ হওয়া থেকে শুরু করে ডিপ্রেশনের প্রকোপ বাড়তে পারে৷কাজেই কীভাবে ওমেগাসিক্স কম খেয়ে ওমেগাথ্রি সমৃদ্ধ খাবার বেশি খাওয়া যায়, তা নিয়ে চিন্তা ভাবনা করা দরকার৷ খাবারে ওমেগা সিক্স ও ওমেগা থ্রি-র অনুপাত ঠিক থাকলে স্মৃতিশক্তি ভাল থাকে, ক্লান্তি কমে, প্রকোপ কমে স্কিজোফ্রেনিয়া এডিএইচ ডিসঅর্ডারের মতো রোগের৷ কী খাবেন, কীভাবে খাবেন: তৈলাক্ত ও সামুদ্রিক মাছে এবং অর্গানিক পশুর মাংসে ভাল জাতের ওমেগা থ্রি আছে প্রচুর পরিমাণে৷আছে আখরোট, তিসি, ব্রাসেল্স স্প্রাউট, পালং, পার্সলে ইত্যাদিতেও৷তবেতামানেকিছুটাখাটো৷তাও সবধরনের খাবার মিলিয়ে মিশিয়ে খেলে প্রয়োজন মিটে যায়৷কোনও কারণে খাওয়া সম্ভব না হলে সাপ্লিমেন্ট খেতে পারেন৷ প্রক্রিয়াজাত খাবার কম খেলে ওমেগা সিক্স এর ঝামেলা কম থাকে৷কম থাকে ট্রান্সফ্যাটের বিপদ৷কাজেই কেক, বিস্কুট, প্যাকেটজাত ফুড, ইনস্ট্যান্ট নুডুল্স, আইসক্রিম ইত্যাদি খাওয়া কমান৷ সয়াবিন, বাদাম ও বীজে ওমেগা সিক্স বেশি থাকলেও এ সবের অন্য উপকার আছে বলে অল্প করে খাওয়া ভাল৷ ছাঁকা তেলে ভাজা যত কম খাওয়া যায় তত ভাল৷টাটকা তেলে ভেজে খেলে ক্ষতি কম হলেও, একেবারে নেই এমন নয়৷আর পোড়া তেলে ভাজলে তো কথাই নেই৷ট্রান্সফ্যাটে ভরপুর থাকে সে খাবার৷ অল্প করে ফুল ফ্যাট খাবার খান৷যেমন, হোল মিল্ক, ফুল ফ্যাট ইয়োগার্ট বা চিজ৷লো ক্যালোরি সুষম খাবার খাওয়ার পাশাপাশি সপ্তাহে দু এক দিন এক চামচ ঘি ও মাখন খেতে পারেন৷খেতেপারেনপিনাটবাটার৷তৈলাক্তমাছসপ্তাহেদু দিন অবশ্যই খাবেন৷বাকিদিনে দেশি চিকেন, জৈব খাবার বা ঘাস খেয়ে বড় হওয়া গরু বা পাঁঠার মাংসের লিন কাট, দেশি মুরগির ডিম, রাজমা, ছোলা, ডাল, সয়াবিন খান৷কখনওসখনও পোর্ক খেলেও লিন কাটই খাবেন৷ বাঙালি রান্না সর্ষের তেলে করাই ভাল৷ক্যানোলা বা ফ্ল্যাক্সসিড অয়েলেও রাঁধতে পারেন৷আর অলিভ অয়েল ব্যবহার করুন স্যালাড ড্রেসিংয়ে বা সতে শাক সব্জি চিকেনে৷পাউরুটিতে মাখনের বদলে লাগিয়ে খেতে পারেন। অলিভ অয়েল ফ্রিজে রাখুন৷নাহলে আলো ও তাপে তার উপকারী দিক কমে দিনে দিনে৷কম তেলে ঢিমে আঁচে রান্না করুন খাবারদাবার৷ স্ন্যাক্স হিসেবে অল্প সেঁকা বাদাম খান, সপ্তাহে ৪-৫ দিন৷ক্যালোরি বেশি বলে ২৫ গ্রামের বেশি না খাওয়াই ভাল৷হার্ট, কোলেস্টেরল, সব ঠিক থাকবে৷রক্তচাপ বেশি থাকলে নুন ছাড়া খাবেন৷তেল, বীজ বা বাদাম স্বাদে বা গন্ধে তেতো লাগলে বুঝবেন তার উপকার কমতে শুরু করেছে বা কমে গেছে৷তখন তাকে বাদ দিয়ে দেওয়াই শ্রেয়৷ ...

জেনে রাখুন,বাচ্চাদের স্মৃতিশক্তি বৃদ্ধি করে যে খাবার

১ ফেব্রুয়ারী ,শুক্রবার,অনলাইন ডেক্স,নিউজ একাত্তর ডট কম :সন্তান হওয়ার পর তাদের মেধাবিকাশ নিয়ে সব বাবা-মাই খুব চিন্তিত থাকেন। শুধু চিন্তা করলেই হবে না, বাচ্চার মেধাবিকাশের পাশাপাশি স্মৃতিশক্তিও যেন ভালো হয় সেদিকেও খেয়াল রাখতে হবে। জেনে রাখুন এমনই কিছু খাবার যা বাচ্চাদের মস্তিষ্কের বিকাশের জন্য উপকারী। ওটমিল : ব্রেকফাস্টে বাচ্চাকে খাওয়াতে পারেন। এতে স্বাস্থ্যও ভালো থাকবে, কোষ্ঠকাঠিন্যের সমস্যা থাকবে না। মাছ : মাছে আছে প্রচুর পরিমাণে ওমেগা থ্রি ফ্যাটি এসিড এবং ডিএইচএ। বহু গবেষণায় দেখা গেছে যে খাবারে কম পরিমাণে ডিএইচএ থাকলে স্মৃতিশক্তি ও বুদ্ধিজনিত সমস্যা দেখা দিতে পারে। বাদাম : আমন্ড বা যে কোনো বাদামে আছে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন। তবে বিশেষ করে কাজু বাদামে থাকে প্রচুর পরিমাণে ওমেগা থ্রি ফ্যাটি এসিড। তাই সন্তানকে বাদাম খাওয়াতে ভুলবেন না। ফল : যেসব ফল এবং সবজিতে বেসি পরিমাণে অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট থাকে, তা মস্তিষ্কের পক্ষে খুব ভালো। ব্লুবেরি ও স্ট্রবেরিতে থাকে সবচেয়ে বেশি পরিমাণে অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট যা মনোযোগ এবং শর্ট টার্ম মেমরি ভালো রাখতে সাহায্য করে। ড্রাই ফ্রুটস : ড্রাই ফ্রুটসে প্রচুর পরিমাণে আয়রন থাকে যা বাচ্চাকে সজাগ রাখতে সাহায্য করে। বাচ্চার ব্রেকফাস্টে বা টিফিনে কিশমিশ, চেরি ইত্যাদি ড্রাই ফ্রুটস দিয়ে দিতে পারেন। দই : যে বাচ্চারা ক্যালসিয়াম সমৃদ্ধ খাবার খায় তারা অনেক চটপট ও কোনো নতুন জিনিস শিখে নিতে পারে। ক্যালসিয়াম বাচ্চাদের হাড় মজবুত করে এবং অ্যাক্টিভ থাকতে সাহায্য করে। বাচ্চাকে দিনে একবার দই খাওয়াতে চেষ্টা করুন। ডিম : ডিমে প্রচুর পরিমাণে কোলিন থাকে যা শরীরে নিউরোট্রান্সমিটার অ্যাসিটিলকোলিন তৈরি করতে সাহায্য করে। শরীরে যদি সঠিক পরিমাণে অ্যাসিটিলকোলিন তৈরি না হয় তাহলে, কোনো কিছু মনে রাখতে অসুবিধা হতে পারে। ডিমে ওমেগা থ্রি ফ্যাটি এসিড থাকে যা বাচ্চার মস্তিষ্কের পক্ষে খুবই ভলো।...

বাংলাদেশে জঙ্গি ঘাঁটি গড়তে দেব না: একান্ত সাক্ষাৎকারে হাসিনা

অনলাইন ডেস্ক :আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে জিতে ক্ষমতায় এলে লন্ডন থেকে খালেদা জিয়ার পুত্র তারেক রহমানকে ফিরিয়ে এনে বিচার করতে চান শেখ হাসিনা। ভোটের মুখে ভারতীয় সাংবাদিকদের দেওয়া একটি সাক্ষাৎকারে বুধবার এ কথা জানিয়েছেন তিনি। সেই সঙ্গে পাকিস্তানের নাম না-করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ভবিষ্যতেও বাংলাদেশের ভূখণ্ডকে ভারত-সহ কোনও প্রতিবেশী দেশের বিরুদ্ধে সন্ত্রাসের ঘাঁটি করতে দেব না। আসন্ন ভোটে জয়ের প্রশ্নে আশাবাদী হয়েও সতর্ক থাকতে চাইছেন আওয়ামি লিগ নেত্রী। তাঁর কথায়, বিএনপি ও জামাতে ইসলামির জোট ভালই জানে, তারা নির্বাচনে জিততে পারবে না। সন্ত্রাস প্রশ্নে তাদের অতীত রেকর্ড খুব খারাপ। ভোট বানচালের চেষ্টা করতে পারে তারা। কিন্তু এ বার আমরা শুধু নই, দেশবাসীও সতর্ক।আলাপচারিতায় এ দিন বাংলাদেশের স্বাধীনতার লড়াই নিয়ে স্মৃতিতে ডুব দিয়েছেন হাসিনা। কৃতজ্ঞতা জানিয়েছেন প্রয়াত প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গাঁধীকে। একই সঙ্গে সাম্প্রতিক অতীত অর্থাৎ ২০১৩-১৪ সালের বাংলাদেশ পরিস্থিতি নিয়েও সরব হয়েছেন তিনি। তাঁর কথায়, মনে করে দেখুন ২০১৩ সালেরডিসেম্বরে বিএনপি-জামাত কী ভাবে স্কুলে, বাসে, অটোয়, স্টিমারে আগুন দিয়েছিল। বাবার সামনে শিশুর গায়ে আগুন ধরায়। বাস থেকে নামিয়ে ড্রাইভারের গায়ে পেট্রোল ঢালে। এটা কোন ধরনের আন্দোলন? কী অর্জন হয় এ থেকে? মানুষের সমর্থন পাচ্ছে না, তাই এ বারেও গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া নস্যাৎ করতে চাইছে তারা।চলতি ভোট প্রস্তুতিতে একটি চিত্র খুবই স্পষ্ট। বাংলাদেশের রাস্তাঘাটে আওয়ামি লিগের প্রতীক নৌকার অজস্র পোস্টার ব্যানার চোখে পড়লেও বিএনপির ধানের শিস কার্যত অনুপস্থিত। বিএনপি নেতাদের অভিযোগ, বিভিন্ন কেন্দ্রে ছিঁড়ে ফেলা হচ্ছে তাদের পোস্টার। প্রচারও করতে দিচ্ছে না আওয়ামি লিগ। অনেকে বলছেন, বিএনপি শিবির যেন ঝড়ের আগে থম মেরে রয়েছে। বিষয়টি জানতে চাওয়া হলে শেখ হাসিনার ব্যাখ্যা, আমরাও দেখছি। ওদের প্রার্থী রয়েছে কিন্তু পোস্টার নেই। অভ্যন্তরীণ লড়াইয়ের কারণে ওরা অনেক জায়গায় পোস্টার লাগাতে পারছে না, আর নালিশ করছে আমাদের নামে। আসলে ওরা প্রত্যেকটি আসন নিলামে চড়িয়েছিল। যে বেশি টাকা দিয়েছে তাকে টিকিট দিয়েছে। এক একটি আসনে একাধিক প্রার্থীকে মনোনয়ন দিয়েছে প্রথমে। পরে এক জনকে রেখে বাকিদের বাতিল করেছে। স্বাভাবিক ভাবেই ওদের যারা পুরনো লোক, তাঁরা ক্ষুব্ধ হয়েছেন। পুরো বিষয়টির কলকাঠি নাড়া হচ্ছে লন্ডন থেকে। লন্ডনে থাকা তারেককে ফিরিয়ে আনার প্রশ্নে হাসিনার বক্তব্য, তিনি গ্রেনেড হামলা-সহ বহু অপরাধে যুক্ত। তারেক বাংলাদেশের নাগরিক। তাই বিচারের জন্য ব্রিটিশ সরকারের সঙ্গে কথা বলে তাঁকে ফিরিয়ে আনা হবে।ভোটের আগে পাক দূতাবাসের মাধ্যমে আইএসআই তৎপরতা বাড়াচ্ছে বলে খবর প্রকাশিত হয়েছে। হাসিনার বক্তব্য, আমরাও জানি এই তৎপরতা চলছে। আসলে বিএনপির অনেক নেতার শরীরটা পড়ে থাকলেও আত্মা রয়েছে ওখানে। তবে এ জন্য আইএসআইকে দোষ দিই না। বিএনপি নেতাদেরই দিই। অস্ত্র চোরাকারবার আর হাওয়ালা থেকে করা অঢেল টাকায় লন্ডনে বসে তারা বাংলাদেশের গণতন্ত্রকে ধ্বংস করতে চাইছে।ভারতের সঙ্গে স্থলসীমান্ত চুক্তির বিষয়টি উল্লেখ করে হাসিনার বক্তব্য, গোটা বিশ্বের কাছে এটা একটা উদাহরণ। ছিটমহল বিনিময়ের মত বিষয় নিয়ে বহু দেশের মধ্যে যুদ্ধ বেধে যায়। কিন্তু আমরা কি সুন্দরভাবে করলাম! একটা বিষয় দেখেছি যে বাংলাদেশের কোনও বিষয় এলে ভারতের বিভিন্ন রাজনৈতিক দলগুলি তাদের নিজেদের মধ্যে বিরোধিতা ভুলে যেন এক হয়ে যায়।ভারতের সঙ্গে স্থলসীমান্ত চুক্তির বিষয়টি উল্লেখ করে হাসিনা বলেন, গোটা বিশ্বের কাছে এটা একটা উদাহরণ। ছিটমহল বিনিময়ের মতো বিষয় নিয়ে বহু দেশের মধ্যে যুদ্ধ বেধে যায়। কিন্তু আমরা কী সুন্দর মিটমাট করলাম! একটা বিষয় দেখেছি, বাংলাদেশের কোনও বিষয় এলে ভারতের রাজনৈতিক দলগুলি বিরোধিতা ভুলে যেন এক হয়ে যায়! কিন্তু সব বিষয়ে এক হয় কি? এই মুহূর্তে কোনও বিতর্কিত মন্তব্য করতে নারাজ বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী। এমনকি বাংলাদেশের ইলিশের ভারতে রফতানির বিষয়টিতেও বিশদে কিছু বলতে চাইলেন না। হাসিমুখে শুধু জানিয়েছেন, পানি পেলেই তিনি ইলিশ দিতে তৈরি! আনন্দবাজার পত্রিকাকে দেওয়া মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর সাক্ষাৎকারটি পাঠকদের উদ্দেশ্যে প্রকাশ করা হল।...

তরুণ প্রজন্ম আওয়ামী লীগের জয়ে কতটা সমর্থন দেবে?

অনলাইন ডেস্ক :বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা শুক্রবার সারা দেশ থেকে নির্বাচিত কিছু তরুণদের সঙ্গে বিশেষ এক আলোচনা অনুষ্ঠানে বসেছিলেন। বলা হচ্ছে, তাদের পরামর্শ ও পরিকল্পনার কথা শুনেছেন তিনি। বাংলাদেশে কাছাকাছি সময়ে বড় যে আন্দোলনগুলো হয়েছে সেগুলো প্রায় সবই তরুণদের আন্দোলন। সবচাইতে আলোচিত কোটা আন্দোলন বা নিরাপদ সড়ক আন্দোলন যেভাবে সামাল দেয়া হয়েছে তাতে আওয়ামী লীগের সাথে তরুণ প্রজন্মের দূরত্ব তৈরি হয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে। বাংলাদেশে এবারের নির্বাচনে প্রথমবার ভোটারের সংখ্যা প্রায় আড়াই কোটি। পাঁচই জানুয়ারি বিতর্কিত নির্বাচনের আগে ২০০৮ সালের নির্বাচনে আওয়ামী লীগের ইশতেহারে যে পাঁচটি বিষয় সবচাইতে গুরুত্ব দেয়া হয়েছিলো তার অন্যতম হল যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের ইস্যু। ডিজিটাল বাংলাদেশ’ ইস্যুও তরুণদের আকর্ষণ করতে প্রচারণায় ব্যবহার করা হয়েছে। বলা হয় সেবার তরুণ প্রজন্ম আওয়ামী লীগের জয়ে ভূমিকা রেখেছিলো। আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক খালিদ মাহমুদ চৌধুরীকে জিজ্ঞেস করেছিলাম তারা তরুণদের এবার কিভাবে আকর্ষণ করার চেষ্টা করছেন? তিনি বলছেন, আমরাতো পৃথিবীটা তাদের হাতের মুঠোর ভেতরে এনে দিয়েছি, দিন বদলের সনদ ডিজিটাল বাংলাদেশের মধ্য দিয়ে। তারা পৃথিবীর যে প্রান্তে বিচরণ করতে চায় সেখানেই তারা যেতে পারে। এই যে সুবিধাগুলো তাদেরকে দিয়েছে বর্তমান সরকার। তথ্য প্রযুক্তিতে অভূতপূর্ব উন্নয়ন সাধন করেছি। এগুলো সবকিছু হচ্ছে তরুণদের জন্য। কিন্তু বাংলাদেশের তরুণ ভোটাররা বুঝতে শেখার পর গত দশ বছর আওয়ামী লীগ ছাড়া আর কোন দলকে ক্ষমতায় দেখেনি। অন্য কোন দলকে যাচাই করার কোন সুযোগ তারা পায়নি। কাছাকাছি সময়ে তাদের জন্য সবচাইতে গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু ছিল কোটা সংস্কার ও সড়ক নিরাপত্তা আন্দোলন। এ দুটি আন্দোলনই একটি পর্যায়ে ক্ষমতাসীনদের জন্য বিব্রতকর হয়ে উঠেছিলো। দুটি আন্দোলনের ক্ষেত্রেই সরকারের ভূমিকা সেসময় প্রশ্নের মুখে পড়েছিলো। কোটা সংস্কারের আন্দোলনের ক্ষেত্রে সরকার প্রতিশ্রুতি দিয়েও তা রাখছে না বলে ক্ষোভ তৈরি হয়েছিলো। শেষমেশ সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন হলেও অনেক নাটক ও বিলম্বের পর। এই আন্দোলন দুটি তারা সঠিকভাবে সামাল দেননি বলে মনে করেন নির্বাচন পর্যবেক্ষক সংস্থা ব্রতীর প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা শারমিন মুরশিদ। তিনি বলছেন এর প্রভাব ভোটে হয়ত পরতে পারে। তিনি বলছেন, দুটো আন্দোলনই নির্বাচনের খুব কাছাকাছি সময়ের মধ্যেই হয়েছে। আরও সেনসিটিভভাবে এটা সামাল দেয়া যেতো। তা করা হয়নি বা করতে পারেনি সরকার। তরুণদের কিছু ইনসেনসিটিভ কিছু ঘটনার অভিজ্ঞতা হয়েছে। সেটার কিছু প্রভাবতো পড়বে তবে তিনি মনে করছেন, বর্তমান সরকার একটা যায়গায় তরুণদের উপর অনেক নজর দিয়েছে। তথ্য প্রযুক্তি বিষয়ক যে উন্নয়ন কর্মকাণ্ড তারা করার চেষ্টা করেছে সেখানে তরুণদের মাথায় রেখে অনেক কাজ হয়েছে। সেটিও নিশ্চয়ই কোন প্রভাব ফেলবে। তবে এই মুহূর্তে তরুণদের জন্য কোন ইস্যুটা সবচাইতে গুরুত্বপূর্ণ, তারা কি চায়, তাদের কোন বিষয়টি সবচাইতে দরকার, তাদের উদ্দেশ্য করে ইশতেহারে এমন কিছু থাকে না যা তাদের আকর্ষণ করতে পারে, বলছিলেন তিনি। তরুণরা আসলে কি চায়? সেটি বোঝার জন্য অনেকের সংগে কথা বলে মনে হল চাকরী বিষয়টা এই বেশিরভাগের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। কথা হচ্ছিলো নিশিতা মিতুর সাথে। তিনি এবছর ঢাকার একটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পাশ করে বের হয়েছেন। বাংলাদেশে এই বয়সী আরও অনেকের মতোই সরকারি চাকরির পরীক্ষা দিতে নিজেকে প্রস্তুত করছেন। তিনি বলছিলেন তার কাছে এখন সবচাইতে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হল একটা ভালো চাকরি। তিনি বলছেন, কোটা আন্দোলন নিয়ে একটা সেইযে ঘোলাটে পরিবেশ, তার একটা স্বচ্ছ অবস্থান এটাই বোধহয় তরুণরা এখন সবচেয়ে বেশি ভাবছে।...

বঙ্গবন্ধু উপাধির অর্ধশত বছর

২৩ফেব্রুয়ারী,শনিবার,অনলাইন ডেক্স,নিউজ একাত্তর ডট কম: ১৯৬৯ সালের ২৩ ফেব্রুয়ারি। হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ বাঙালি শেখ মুজিবুর রহমান বঙ্গবন্ধু উপাধিতে ভূষিত হয়েছিলেন এই দিনে। সেই উপাধি অর্জনের ৫০ বছর আজ (২৩ ফেব্রুয়ারি)। ১৯৬৬-র ৮ মে গভীর রাতে ৬ দফা কর্মসূচি প্রদানের অভিযোগে দেশরক্ষা আইনে শেখ মুজিব গ্রেফতার হয়েছিলেন। ৩৩ মাস পর ৬৯-এর ২২ ফেব্রুয়ারি মুক্তিলাভ করেন তিনি। আগরতলা মামলা থেকে সবেমাত্র মুক্তি লাভ করে ফিরে আসা শেখ মুজিবুর রহমানকে ২৩ ফেব্রুয়ারি গণসংবর্ধনা দেয়ার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। সেদিনের রেসকোর্স বর্তমানে সোহরাওয়ার্দী উদ্যান নামে পরিচিত। রেসকোর্স ময়দানে লাখ লাখ সেদিন জনতার ঢল নেমেছিল। কেন্দ্রীয় ছাত্র সংগ্রাম পরিষদ আয়োজিত ওই বিশাল গণসংবর্ধনায় তৎকালীন ডাকসুর সভাপতি, শেখ মুজিবের একনিষ্ঠ সহচর তোফায়েল আহমেদ মাইকে ঘোষণা করেন, কৃতজ্ঞ বাঙালি জাতি ঋণের বোঝা হালকা করতে চায়। জাতির পক্ষ থেকে প্রিয় নেতাকে উপাধি দিতে চাই। রেসকোর্স ময়দান প্রকম্পিত করে প্রায় ১০ লাখ মানুষ দু হাত তুলে সমর্থন করেন তাকে। এরপর তোফায়েল আহমেদ বলেন, এবার বক্তৃতা করবেন আমাদের প্রিয় নেতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। নেতাজী সুভাষচন্দ্র বসু, রবীন্দ্রনাথ যাকে মহাত্মা উপাধি দিয়েছিলেন সেই মোহনদাস করমচাঁদ গান্ধী, দেশবন্ধু চিত্তরঞ্জন দাশ, শেরে বাংলা একে ফজলুল হকসহ পৃথিবীতে অনেকেই বিভিন্ন সময় বিভিন্ন উপাধি পেয়েছেন। কিন্তু ফাঁসির মঞ্চ থেকে মুক্ত হয়ে, গণমানুষের ভালোবাসায় সিক্ত হয়ে, এমন আনুষ্ঠানিকতার মধ্য দিয়ে কেউ উপাধি পাননি। এরপর থেকেই জাতির জনক শেখ মুজিবুর রহমান হয়ে গেলেন বাঙালির প্রিয় বঙ্গবন্ধু।


বাংলাদেশে জঙ্গি ঘাঁটি গড়তে দেব না: একান্ত সাক্ষাৎকারে হাসিনা

অনলাইন ডেস্ক :আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে জিতে ক্ষমতায় এলে লন্ডন থেকে খালেদা জিয়ার পুত্র তারেক রহমানকে ফিরিয়ে এনে বিচার করতে চান শেখ হাসিনা। ভোটের মুখে ভারতীয় সাংবাদিকদের দেওয়া একটি সাক্ষাৎকারে বুধবার এ কথা জানিয়েছেন তিনি। সেই সঙ্গে পাকিস্তানের নাম না-করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ভবিষ্যতেও বাংলাদেশের ভূখণ্ডকে ভারত-সহ কোনও প্রতিবেশী দেশের বিরুদ্ধে সন্ত্রাসের ঘাঁটি করতে দেব না। আসন্ন ভোটে জয়ের প্রশ্নে আশাবাদী হয়েও সতর্ক থাকতে চাইছেন আওয়ামি লিগ নেত্রী। তাঁর কথায়, বিএনপি ও জামাতে ইসলামির জোট ভালই জানে, তারা নির্বাচনে জিততে পারবে না। সন্ত্রাস প্রশ্নে তাদের অতীত রেকর্ড খুব খারাপ। ভোট বানচালের চেষ্টা করতে পারে তারা। কিন্তু এ বার আমরা শুধু নই, দেশবাসীও সতর্ক।আলাপচারিতায় এ দিন বাংলাদেশের স্বাধীনতার লড়াই নিয়ে স্মৃতিতে ডুব দিয়েছেন হাসিনা। কৃতজ্ঞতা জানিয়েছেন প্রয়াত প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গাঁধীকে। একই সঙ্গে সাম্প্রতিক অতীত অর্থাৎ ২০১৩-১৪ সালের বাংলাদেশ পরিস্থিতি নিয়েও সরব হয়েছেন তিনি। তাঁর কথায়, মনে করে দেখুন ২০১৩ সালেরডিসেম্বরে বিএনপি-জামাত কী ভাবে স্কুলে, বাসে, অটোয়, স্টিমারে আগুন দিয়েছিল। বাবার সামনে শিশুর গায়ে আগুন ধরায়। বাস থেকে নামিয়ে ড্রাইভারের গায়ে পেট্রোল ঢালে। এটা কোন ধরনের আন্দোলন? কী অর্জন হয় এ থেকে? মানুষের সমর্থন পাচ্ছে না, তাই এ বারেও গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া নস্যাৎ করতে চাইছে তারা।চলতি ভোট প্রস্তুতিতে একটি চিত্র খুবই স্পষ্ট। বাংলাদেশের রাস্তাঘাটে আওয়ামি লিগের প্রতীক নৌকার অজস্র পোস্টার ব্যানার চোখে পড়লেও বিএনপির ধানের শিস কার্যত অনুপস্থিত। বিএনপি নেতাদের অভিযোগ, বিভিন্ন কেন্দ্রে ছিঁড়ে ফেলা হচ্ছে তাদের পোস্টার। প্রচারও করতে দিচ্ছে না আওয়ামি লিগ। অনেকে বলছেন, বিএনপি শিবির যেন ঝড়ের আগে থম মেরে রয়েছে। বিষয়টি জানতে চাওয়া হলে শেখ হাসিনার ব্যাখ্যা, আমরাও দেখছি। ওদের প্রার্থী রয়েছে কিন্তু পোস্টার নেই। অভ্যন্তরীণ লড়াইয়ের কারণে ওরা অনেক জায়গায় পোস্টার লাগাতে পারছে না, আর নালিশ করছে আমাদের নামে। আসলে ওরা প্রত্যেকটি আসন নিলামে চড়িয়েছিল। যে বেশি টাকা দিয়েছে তাকে টিকিট দিয়েছে। এক একটি আসনে একাধিক প্রার্থীকে মনোনয়ন দিয়েছে প্রথমে। পরে এক জনকে রেখে বাকিদের বাতিল করেছে। স্বাভাবিক ভাবেই ওদের যারা পুরনো লোক, তাঁরা ক্ষুব্ধ হয়েছেন। পুরো বিষয়টির কলকাঠি নাড়া হচ্ছে লন্ডন থেকে। লন্ডনে থাকা তারেককে ফিরিয়ে আনার প্রশ্নে হাসিনার বক্তব্য, তিনি গ্রেনেড হামলা-সহ বহু অপরাধে যুক্ত। তারেক বাংলাদেশের নাগরিক। তাই বিচারের জন্য ব্রিটিশ সরকারের সঙ্গে কথা বলে তাঁকে ফিরিয়ে আনা হবে।ভোটের আগে পাক দূতাবাসের মাধ্যমে আইএসআই তৎপরতা বাড়াচ্ছে বলে খবর প্রকাশিত হয়েছে। হাসিনার বক্তব্য, আমরাও জানি এই তৎপরতা চলছে। আসলে বিএনপির অনেক নেতার শরীরটা পড়ে থাকলেও আত্মা রয়েছে ওখানে। তবে এ জন্য আইএসআইকে দোষ দিই না। বিএনপি নেতাদেরই দিই। অস্ত্র চোরাকারবার আর হাওয়ালা থেকে করা অঢেল টাকায় লন্ডনে বসে তারা বাংলাদেশের গণতন্ত্রকে ধ্বংস করতে চাইছে।ভারতের সঙ্গে স্থলসীমান্ত চুক্তির বিষয়টি উল্লেখ করে হাসিনার বক্তব্য, গোটা বিশ্বের কাছে এটা একটা উদাহরণ। ছিটমহল বিনিময়ের মত বিষয় নিয়ে বহু দেশের মধ্যে যুদ্ধ বেধে যায়। কিন্তু আমরা কি সুন্দরভাবে করলাম! একটা বিষয় দেখেছি যে বাংলাদেশের কোনও বিষয় এলে ভারতের বিভিন্ন রাজনৈতিক দলগুলি তাদের নিজেদের মধ্যে বিরোধিতা ভুলে যেন এক হয়ে যায়।ভারতের সঙ্গে স্থলসীমান্ত চুক্তির বিষয়টি উল্লেখ করে হাসিনা বলেন, গোটা বিশ্বের কাছে এটা একটা উদাহরণ। ছিটমহল বিনিময়ের মতো বিষয় নিয়ে বহু দেশের মধ্যে যুদ্ধ বেধে যায়। কিন্তু আমরা কী সুন্দর মিটমাট করলাম! একটা বিষয় দেখেছি, বাংলাদেশের কোনও বিষয় এলে ভারতের রাজনৈতিক দলগুলি বিরোধিতা ভুলে যেন এক হয়ে যায়! কিন্তু সব বিষয়ে এক হয় কি? এই মুহূর্তে কোনও বিতর্কিত মন্তব্য করতে নারাজ বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী। এমনকি বাংলাদেশের ইলিশের ভারতে রফতানির বিষয়টিতেও বিশদে কিছু বলতে চাইলেন না। হাসিমুখে শুধু জানিয়েছেন, পানি পেলেই তিনি ইলিশ দিতে তৈরি! আনন্দবাজার পত্রিকাকে দেওয়া মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর সাক্ষাৎকারটি পাঠকদের উদ্দেশ্যে প্রকাশ করা হল।

বসবাসযোগ্য হোক ঢাকা পরিকল্পিত শিক্ষার আশা

লন্ডনভিত্তিক ম্যাগাজিন দ্যা ইকোনমিস্টের ইন্টেলিজেন্স ইউনিট বা ইআইইউ বাসযোগ্যতা নির্ণয়ে বিশ্বের ১৪০টি শহরের যে তালিকা প্রকাশ করেছে সেখানে বসবাসের অযোগ্য শহর হিসেবে এবারও দ্বিতীয় অবস্থান ধরে রেখেছে বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকা। এটি অবশ্য প্রকাশ করেছে ১৪ আগস্ট ২০১৮ সালে। তাদের জরিপ অনুযায়ী বিশ্বের বাসযোগ্য শহরগুলোর মধ্যে প্রথম ১০টি হলো- অস্ট্রিয়ার ভিয়েনা, অস্টেলিয়ার মেলবোর্ন, জাপানের ওসাকা, কানাডার ক্যালগেরি, অস্ট্রেলিয়ার সিডনি, কানাডার ভ্যাঙ্কুভার, জাপানের টোকিও, কানাডার টরেন্টো, ডেনমার্কের কোপেনহেগেন ও অস্ট্রেলিয়ার অ্যাডিলেড। বিপরীতে বিশ্বের সবচেয়ে বসবাসের অযোগ্য শহরগুলোর প্রথমে রয়েছে সিরিয়ার দামেস্ক। তালিকার পরবর্তী শহরগুলো হলো- ঢাকা, নাইজেরিয়ার লাগোস, পাকিস্তানের করাচি, পাপুয়া নিউগিনির পোর্ট মরিসবি। ২০১১ সাল থেকে সিরিয়ায় দেশি-বিদেশি বহুমুখী যুদ্ধ চলছে। বিমান হামলা, বোমা বিস্ফোরণ এমনকি রাসায়নিক অস্ত্রের ব্যবহারও হচ্ছে সেখানে। ফলে দামেস্কের বসবাস অযোগ্য শহরের তালিকায় এক নম্বরে থাকা অস্বাভাবিক নয়; কিন্তু আমাদের স্বপ্নছোঁয়া উন্নয়নশীল দেশের রাজধানী ঢাকা বছরের পর বছর বসবাস অযোগ্য শহরের তালিকার তলানিতে থাকাটা গভীর বেদনা আর শংকা তৈরি করে। যদি সিরিয়ায় যুদ্ধ না থাকত তবে ঢাকা বসবাস অযোগ্য নগরীর তালিকায় শীর্ষে অবস্থান করত, এই ভাবনাও আমাদের কাচুঁমাচুঁ করে। অবশ্য আশংকা তো আর নতুন নয়। রাজধানী ঢাকা আর নাগরিক সমস্যা সমার্থক শব্দে পরিণত হয়েছে বহু আগেই। আমাদের প্রাণের শহর বর্তমানে ঢাকার ভেতরের চিত্র দিন দিন প্রত্যাশার বেড়াজাল ছিন্ন করছে। শহরের ভেতর দিয়ে প্রবাহিত হওয়া বুড়িগঙ্গা, তুরাগ, শীতলক্ষ্যা ও বালু নদী দখলদারিত্বের কবলে পড়ে আবদ্ধ জলাভূমিতে পরিণত হয়েছে ঐতিহাসিক এই নদ-নদী। নতুন মাত্রা যোগ হয়েছে দুর্বিষহ যানজট, গ্যাস-বিদ্যুৎ-পানি সংকট, পয়ঃনিস্কাশনের জটিলতা, দুর্গন্ধময় ও বিষাক্ত বাতাস, দূষিত পরিবেশ, অসম্ভব ঘনবসতি, ভেজাল খাবার, গাড়ির বিষাক্ত ধোঁয়া, বর্জ্য ব্যবস্থাপনার দুর্দশা, জলাবদ্ধতা, ফুটপাত দখল, চাঁদাবাজি, মাদকের ভয়াল ছোবল, ছিনতাই, আকাশছোঁয়া দ্রব্যমূল্য, লাগামহীন বাসা ভাড়া, আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির ক্রমাবনতি ইত্যাদি নানা সমস্যা। অসংখ্য সমস্যার মধ্যে যেটি প্রধান হয়ে উঠেছে তা হচ্ছে যানজট। এ সমস্যা এখন নিত্যদিনের নৈমিক্তিক বিষয়। যানজটে মানুষের কী পরিমাণ ক্ষতি হয়, তার হিসাব বিভিন্ন সংস্থা বিভিন্ন সময়ে দিয়েছে। বুয়েটের এক গবেষণায় বলা হয়েছে যানজটের কারণে বছরে ২২ হাজার কোটি টাকার ক্ষতি হয়, বেসরকারি গবেষণা সংস্থা পিপিআরসি বলেছে ২০ হাজার কোটি টাকা। সর্বশেষ জাতিসংঘের ইউএনডিপি এক গবেষণায় বলেছে, যানজটে বছরে ক্ষতি হয় ৩৫ হাজার ১০০ কোটি টাকা। বাস্তবতা হয়তো আরো ব্যাপক, ভিন্ন, আমাদের অন্তরাত্মা বিমর্ষ বিদির্ণ। ঢাকা মহানগরে যানবাহনের অনিয়ন্ত্রিত বৃদ্ধি ও বিভিন্ন নির্মাণকাজের কারণে বায়ুদূষণ আশঙ্কাজনক; মিরপুর ১০ নম্বর গোলচত্বরে মাত্রা সবচেয়ে বেশি। সেখানে প্রতি ঘনমিটার বাতাসে পার্টিকুলেট ম্যাটার (পিএম) ১৭২ মাইক্রোগ্রাম। অথচ জাতীয়ভাবে পিএম ৬৫ মাইক্রোগ্রাম। জনস্বাস্থ্য পরিস্থিতিও ভয়াল ভয়াবহ। মশাবাহিত রোগ; যেমন- চিকুনগুনিয়া, ডেঙ্গু প্রভৃতির ঝুঁকি রয়েছে যথেষ্ট মাত্রায়। ময়লা-আবর্জনার কারণে দূষিত পরিবেশ; পেটের পীড়া, জন্ডিস ও টাইফয়েড আক্রান্ত হয় মানুষ। ঢাকার একটি বার্ষিক উপদ্রব ডায়রিয়া। বছরে দুবার, বর্ষার শুরুতে ও শেষে এ উপদ্রব দেখা দেয়। পয়োনিস্কাশন ভালো নয়। বিশ্বব্যাংকের হিসাবে ঢাকার মলমূত্রের মাত্র ২ শতাংশের নিরাপদ নিষ্কাশন হয়। বাকিটা মিশে যায় প্রকৃতিতে, পানির উৎসে। বিবিএস ও ইউনিসেফের তথ্য মতে, ঢাকায় সরবরাহ করা পানির দুই-তৃতীয়াংশে মলবাহিত জীবাণু থাকে। এটি জনস্বাস্থ্যের অন্যতম বড় ঝুঁকি। স্যানিটেশন ব্যবস্থা ভালো নয় বলে একটু বৃষ্টি হলেই স্যুয়ারেজ, ড্রেন আর পাইপের পানি একাকার হয়ে যায়। বর্ষাকালে জলাবদ্ধতা প্রকট সমস্যা। ঘন্টাখানেকের টানা বৃষ্টিতেই তলিয়ে যায় ঢাকার রাস্তাঘাট। কিছু এলাকা; যেমন- মিরপুর, মানিকনগর, মালিবাগ, ওয়্যারলেস, তেজগাঁও, পল্লবীর কালশী রোড, দৈনিক বাংলা মোড়ে রাস্তায় পানি থইথই করে। ভোগান্তিতে পড়ে নগরবাসী। সবচেয়ে বেশি বিপদে পড়ে স্কুল-কলেজগামী শিক্ষার্থী ও অফিসগামী যাত্রীরা। বেশির ভাগ রাস্তা ও গলি অপ্রশস্ত, ইট-খোয়া-বিটুমিন ওঠা, ময়লায় ভর্তি। এসবের ফল যানজট। রাস্তার সংস্কার ও রক্ষণাবেক্ষণ নেই। সারা বছর খোঁড়াখুঁড়ি চলে। আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি উদ্বেগজনক না হলেও সন্তোষজনক নয়। ছিনতাই-রাহাজানি নিত্য ঘটনা; খুনখারাবি আছে। বাজারও নিয়ন্ত্রণহীন, বিশেষ করে শাকসবজির বাজার। পাইকারি ও খুচরা দরে পার্থক্য অনেক। বাসযোগ্যতার সূচকে এসব তথ্য-উপাত্ত বিবেচনা করেই তালিকা চূড়ান্ত করে। অপরিকল্পিত নগরায়নের ফলশ্রুতিতে যেসব সমস্যা মাথা চাড়া দিয়ে ওঠে তার সবগুলোর উপস্থিতি এখানে ক্রমশ স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। কোনো কোনো সমস্যা এতটাই প্রকট আকার ধারণ করেছে যে, সেগুলোর সমাধান আদৌ সম্ভবপর কিনা তা ভাবনার বিষয়। দেশের রাজধানী শহরে বসবাসকারী নাগরিকদের যে ধরনের সুযোগ-সুবিধা ভোগ করার কথা তার ধারে কাছেও নাই অভাগা নগরবাসী। তারপরও প্রতিদিনই অসংখ্য মানুষ ঢুকছে এ শহরের পেটে। বিদ্যমান জনগোষ্ঠীর সঙ্গে যুক্ত হচ্ছে আরো কিছু মানুষ, সেই সঙ্গে যুক্ত হচ্ছে নতুন নতুন সমস্যা আর প্রকট হয়ে উঠছে পুরাতন সমস্যা। এক দুঃসহ জীবন পার করছে এই নগরবাসী। বিভিন্ন সময় ঢাকা শহরকে বাসযোগ্য করার উপায় নিয়ে অনেক নগরবিশারদ, জ্ঞানী গুণী ব্যক্তি তাদের মতামত তুলে ধরার চেষ্টা করেন। প্রতিটি সরকারই বিভিন্ন সময়ে তাদের নানামুখী পদক্ষেপের কথা ঘোষণা করে নগরবাসীকে আশ্বস্ত করে থাকে। কখনো কখনো কিছু বিচ্ছিন্ন পদক্ষেপ চোখেও পড়ে। এসব পদক্ষেপের বেশির ভাগই সফলতার দ্বারপ্রান্তে পৌঁছতে পারে না। মাঝপথেই হোঁচট খায়, অর্থের অপচয় হয়, জনগণের ভোগান্তি যে স্তরে ছিল সেই স্তরেই আটকে থাকে। ভাবা হয়ে থাকে অতিরিক্ত জনসংখ্যাই মূল সমস্যা। যে পরিমাণ মানুষ এখানে বাস করে তার ভার সহ্য করার ক্ষমতা এ শহরটি হারিয়ে ফেলেছে। বাকশক্তি থাকলে নিশ্চিত অনেক আগেই চিৎকার করে জানিয়ে দিত এ অক্ষমতার কথা। ঘর থেকে বের হলেই চোখে পড়বে হাজারো মানুষের নানামুখী । রাস্তাঘাট, টার্মিনাল, শপিংমল, পার্কÑ কোথায় নেই মানুষের ভিড়। সরকারি হিসাবে ঢাকায় বর্তমান বসবাসরত জনসংখ্যা ১ কোটি ৬৫ লক্ষ। আর প্রতি বর্গকিলোমিটার বাস করে ৪৫ হাজারেরও বেশি মানুষ। এসব মানুষের বাসস্থান পয়ঃনিস্কাশন সুবিধা পানি, গ্যাস, বিদ্যুৎ চলাচলের পর্যাপ্ত যানবাহন বাস, রিকশা, চিকিৎসার জন্য হাসপাতাল, ক্লিনিক, শিক্ষার জন্য স্কুল, কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয় তো কোন না কোনভাবে ব্যবস্থা হচ্ছে। এত মানুসের চাওয়া পূরণ করা এই শহরটির পক্ষে সম্ভব কিনা তাও তো ভাবনায় ফেলার কথা। সকল নাগরিকের পরিপূর্ণ সুযোগ-সুবিধা দেওয়ার মতো সম্পদ, সামর্থ্য এ রাষ্ট্রের যেমন নেই, সামর্থ্য থাকলেও এই ছোট্ট জায়গায় সে ধরনের সুযোগ-সুবিধা সৃষ্টি করাও সম্ভব নয়। একারণেই জনসংখ্যার ভার কমানো, শহরমুখী প্রবণতা রোধ করার জোরালে পদক্ষেপই অযোগ্য এই শহরটিকে বাসযোগ্য করে গড়ে তোলার প্রথম পদক্ষেপ। গ্রামে কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা, জীবনযাত্রার মান সুযোগ-সুবিধা সৃষ্টির জন্যই স্লোগান হচ্ছে আমার গ্রাম, আমার শহর আর তা সম্ভব হলে গ্রামাঞ্চলে বিকল্প কাজের সুযোগ সৃষ্টির মাধ্যমে মৌল মানবিক চাহিদা মিটিয়ে আমার গ্রাম স্বপ্ন পূরণ সম্ভব হবে। অন্যদিকে শহরমুখী প্রবণতাও রোধ করা যাবে। গ্রামে প্রচুর সম্পদ ও কর্মসংস্থানের সুযোগ রয়েছে। কিন্তু দুঃখজনক যে, প্রতিটি সরকার ঢাকা শহরের বিভিন্ন সমস্যা সমাধান যত পদক্ষেপ নিয়েছে, যত অর্থ ব্যয় করেছে বা যত পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে, তার এক-দশমাংশ পদক্ষেপও নেয়নি গ্রামাঞ্চলে। স্থানীয় সম্পদ কাজে লাগিয়ে বিকল্প কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করে শহরমুখী প্রবণতা রোধ করা যেতো। গ্রামীণ পরিবেশের সাথে খাপ খাইয়ে প্রয়োজন নিরীখে কর্মসংস্থানমুখী শিক্ষাতেও জোর দেওয়া হয়নি। একটি জাতির উন্নতির চাবিকাঠি হলো ডিপ্লোমা শিক্ষা। দারিদ্র বিমোচন, স্বনির্ভর জাতি গঠন ও সামগ্রিক উন্নয়নের জন্য ডিপ্লোমা শিক্ষাই হচ্ছে প্রধান অবলম্বন। মেধা ও মননে আধুনিক এবং চিন্তা চেতনায় অগ্রসর একটি সুশিক্ষিত জাতিই একটি দেশকে উন্নতির শিখরে পৌঁছে দিতে পারে। সেজন্যই ডিপ্লোমা শিক্ষাকে জাতির মেরুদ- বলা হয়। জাতির মেরুদ- শিক্ষা, জ্ঞান, প্রযুক্তিতে দক্ষ মানবসম্পদ হিসেবে গড়ে তোলার ক্ষেত্রে ডিপ্লোমা শিক্ষার ভূমিকা অনস্বীকার্য। ডিপ্লোমা শিক্ষার উদ্দেশ্য হলো- জ্ঞান সঞ্চারণ, নতুন জ্ঞানের উদ্ভাবন এবং উদ্ভাবিত জ্ঞান কাজে লাগিয়ে দক্ষ জনশক্তি গড়ে তোলা। দুভার্গ্য যে এসমস্ত প্রযুক্তিমুখী শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বেশীরভাগই রাজধানীমুখী ঢাকা শহরে প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে। ডিপ্লোমা শিক্ষা নিয়ন্ত্রণকারী বিচ্ছিন্ন মতাদর্শের ভিন্ন ভিন্ন ৭টি প্রতিষ্ঠানও ঢাকা শহরে। বাংলাদেশের সরকারি বেসরকারি মিলিয়ে স্বাস্থ্য, কৃষি, মেরিন প্রকৌশল শিক্ষায় ১১৭২ টি ইনস্টিটিউটের মধ্যে ঢাকাতেই প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে অর্ধেকের বেশি ৬১৮ টি। বাকি ৫৫৪ প্রতিটি করা হয়েছে ৩৩টি জেলায়। ৩০টি জেলায় কোন ডিপ্লোমা ইনস্টিটিউট প্রতিষ্ঠা করা হয়নি। উল্লেখ করা প্রয়োজন যে কেবল প্রকৌশল বিষয়টি নিয়ে মাতামাতি করলে উৎপাদনমুখী শিক্ষার মাত্র ৭/৮ ভাগ করা হয়, বাকীরা থাকে আঁধারে। ঢাকায় প্রতিষ্ঠিত ৬১৮টি ইনস্টিটিউটে প্রতি বছর প্রায় ৪০ হাজার ছাত্র-ছাত্রী ভর্তি হয়। শিক্ষার্থীরা উত্তীর্ণ হয়ে ঢাকায় অবস্থিত সরকারি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে চাকরি করেন। বাকি অল্প কিছু নিজেই শিল্প, কারখানা, খামার, হাসপাতাল, ক্লিনিক গড়ে তুলেন। ঢাকায় পরিবার পরিজন নিয়ে স্থায়ীভাবে বসবাস করে ঢাকা শহরের উপর জনসংখ্যার বাড়তি চাপ সৃষ্টি করেন। অন্যদিকে বাকি ৩৩টি জেলায় ডিপ্লোমা ইনস্টিটিউটের স্বল্পতা এবং ৩০টি জেলায় ডিপ্লোমা শিক্ষা প্রতিষ্ঠান না থাকা সত্বেও এসএসসি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ ছাত্র/ছাত্রীরা প্রতিবছর ডিপ্লোমা শিক্ষা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। বিভাগ, জেলা, উপজেলায় প্রতিষ্ঠিত ইপিজেট, স্পেশাল ইকোনামিক জোন, বিসিক শিল্প নগরীতে প্রতিষ্ঠিত শিল্পগুলোতে প্রশিক্ষিত দক্ষ যোগ্যতাসম্পন্ন জনবল নিয়োগ দেওয়া যাচ্ছে না। হাসপাতাল, ক্লিনিকে প্রশিক্ষণবিহীন অদক্ষ লোক নিয়োগ দিয়ে প্রায় প্রতিদিনই ভুল চিকিৎসার শিরোনাম হচ্ছে। ঢাকা শহরের জনসংখ্যার চাপ হ্রাস করতে হলে প্রতিটি উপজেলায় জেলায় ডিপ্লোমা ইনস্টিটিউট নির্মাণ করে শিল্প কারখানা, খামার, হাসপাতাল, ক্লিনিকে ডিপ্লোমা ডিগ্রিধারীদের নিয়োগ নিশ্চিত করতে হবে। ঢাকা শহরে নতুন করে কোন শিল্প কারখানা, হাসপাতাল, ক্লিনিক যাতে গড়ে না উঠে তার জন্য ডিপ্লোমা ইনস্টিটিউট অনুমোদন স্থগিত করতে হবে। এই চিন্তা থেকেই পরিকল্পিত ডিপ্লোমা শিক্ষা ব্যবস্থা, পরিকল্পিত শিল্প কারখানা, হাসপাতাল, ক্লিনিক পরিকল্পিত ঢাকা মহানগরী, পরিকল্পিত বাংলাদেশ গড়ে উঠবে। ডিপ্লোমা শিক্ষার্থী ও পেশাজীবীদের সমন্বিত কর্মফলে দূর হবে আঞ্চলিক উন্নয়ন বৈষম্য। দেশের সামগ্রিক অর্থনীতি হবে আলোকিত রাজধানীর নাগরিকরাও আলাদা মর্যাদা ভোগ করার সুযোগ সৃষ্টি হবে। খন রঞ্জন রায়, মহাসচিব,ডিপ্লেমা শিক্ষা গবেষণা কাউন্সিল,khanaranjanroy@gmail.com

আজকের মোট পাঠক

32842

নিউজ একাত্তর ডট কম

সম্পাদক : মোহাম্মদ নাছির উদ্দিন চৌধুরী

নির্বাহী সম্পাদক : আহাম্মদ হোসেন ভুইয়া

একটি পপুলার মিডিয়া পাবলিকেশন এর প্রকাশনা | রেজি নং: চ-১২৪২৭/১৭

সম্পাদকীয় ও বানিজ্যিক কার্যালয় : ৪১৬/সি,খিলগাও ঢাকা ০২৪৩১৫০৪৮৮, ০১৮২৪২৪৫৫০৪, ০১৭৭৮৮৮৮৪৭২

চট্টগ্রাম কার্যালয় : ১৯/২০/২১ বি ৩য় তলা, হানিমুন টাওয়ার,পাহাড়তলী,চট্টগ্রাম।

ই-মেইল : newsekattor@gmail.com, editorekattor@gmail.com, কপিরাইট ©newsekattor.com কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত