বুধবার, মে ২৩, ২০১৮

সৌদি রাজা ও যুবরাজকে ক্ষমতা থেকে সরানোর আহ্বান খালেদ বিন ফারহানের

সৌদি আরবের রাজা সালমান বিন আব্দুল আজিজ এবং যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানকে ক্ষমতাচ্যুত করার আহ্বান জানিয়েছেন প্রিন্স খালেদ বিন ফারহান। মধ্যপ্রাচ্যের সংবাদ মাধ্যম ‘মিডল ইস্ট আই’-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি অভ্যুত্থানের মাধ্যমে ক্ষমতা গ্রহণের জন্য তার দুই চাচা প্রিন্স আহমেদ বিন আব্দুল আজিজ ও প্রিন্স মুকরিন বিন আব্দুল আজিজের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি বলেছেন, তার আহ্বানে ইতোমধ্যে অনেকেই সাড়া দিয়েছেন।জার্মানিতে নির্বাসিত জীবনযাপন করছেন প্রিন্স খালেদ বিন ফারহান। তিনি বর্তমান রাজা ও যুবরাজের সমালোচনা করে বলেছেন, বর্তমান রাজা সালমান এবং তার ছেলে যুবরাজ মোহাম্মদ রাজপরিবারের অনেক ক্ষতি করেছেন। তারা যে মর্যাদা হানি করেছেন তা আর ফিরে পাওয়া যাবে না। রাজা ও যুবরাজের অযৌক্তিক ও বাজে সিদ্ধান্তের কারণেই সৌদি রাজপরিবারের ভাবমর্যাদা ক্ষুণ্ণ হয়েছে বলে তিনি মনে করেন।খালেদ বিন ফারহান বলেন, রাজা এবং তার ছেলেকে ক্ষমতা থেকে সরালে পুলিশ এবং সেনাবাহিনীসহ সবাই তাদের সমর্থন জানাবে। ইতোমধ্যে তিনি সেনাবাহিনী এবং পুলিশের কাছ থেকে অভ্যুত্থানের সমর্থনে অনেক ই-মেইল পেয়েছেন বলেও জানান। তিনি বলেন, বর্তমান যুবরাজ মোহাম্মাদ বিন সালমানের মানসিক সমস্যা রয়েছে। স্কুলে একসঙ্গে পড়ার সময় তিনি বিষয়টি উপলব্ধি করেছেন বলে জানান ফারহান। সৌদি আরবের নির্বাসিত প্রিন্স খালেদ বিন ফারহান এমন সময় এসব বক্তব্য দিলেন যখন যুবরাজ মোহাম্মাদ বিন সালমান এক মাসের বেশি সময় ধরে রহস্যজনকভাবে জনসমক্ষে আসছেন না। গত ২১ এপ্রিল রিয়াদে অভ্যুত্থান চেষ্টার পর থেকেই তাকে আর দেখা যাচ্ছে না। প্রিন্স ফারহান এ প্রসঙ্গে বলেছেন, ২১ এপ্রিলের ঘটনাও প্রমাণ করে সৌদি আরবে বর্তমান রাজার বিরুদ্ধে অভ্যুত্থানের প্রস্তুতি রয়েছে।...

যৌথ তদন্তে তুর্কি-বিদেশি গোয়েন্দারা,এরদোগানের ওপর হামলার তথ্য ফাঁস

তুর্কি প্রেসিডেন্ট রজব তাইয়্যেপ এরদোগানের ওপর হামলার প্রস্তুতির তথ্য পেয়েছে গোয়েন্দারা। হামলা সম্পর্কে গোয়েন্দা সংস্থার প্রতিবেদনসমূহ তদন্তের জন্য তুরস্ক ও বলকান রাষ্ট্রগুলোর গোয়েন্দারা যৌথভাবে কাজ করছে। তুর্কি গোয়েন্দা সংস্থার একটি সূত্রের উদ্ধৃতি দিয়ে সমপ্রচারকারী চ্যানেল টিআরটি এ খবর জানিয়েছে। নির্ধারিত সফরে বসনিয়া ও হারজেগোভিনা যাওয়ার কথা প্রেসিডেন্ট এরদোগানের। তার এই সফরের ঠিক আগ মুহূর্তে সম্ভাব্য এই হামলার তথ্য প্রকাশ পেল। দেশটিতে বসবাসরত তুর্কিদের কাছ থেকে সম্ভাব্য এই হামলার তথ্য পায় মেসিডোনিয়ার গোয়েন্দা সংস্থার সদস্যরা। পরে তথ্যটি তারা তুর্কি গোয়েন্দা সংস্থার কাছে স্থানান্তর করেন। তুর্কি উপ-প্রধানমন্ত্রী বেকির বোজাদাগ তার টুইটার পেজে লিখেছেন,আমরা জানি যে এমন কিছু গোষ্ঠী রয়েছে, যারা আমাদের এইরকম দৃঢ়চেতা নেতাকে সহ্য করতে পারে না, তাই তারা তাকে হত্যা করতে চায়। তার ওপর পরিকল্পিত হামলার অনেক প্রতিবেদন রয়েছে। আমাদের প্রেসিডিন্ট রজব তাইয়্যেপ এরদোগান এমন ব্যক্তি নন, যিনি হুমকিকে ভয় পাবেন এবং তার নীতি পরিবর্তন করবেন। যারা এখনো তাকে বুঝতে পারেননি, তারা বোকা। টানা ১১ বছর তুরস্কের প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন শেষে এরদোগান ২০১৪ সালে দেশটির প্রেসিডেন্ট হন। আগামী জুন মাসে তুরস্কের পরবর্তী প্রেসিডেন্ট নির্বাচন জন্য নির্ধারিত হয়েছে। এই নির্বাচনে এরদোগান দ্বিতীয় মেয়াদের জন্য অংশ নিচ্ছেন। এর আগে চলতি বছরের শুরুতে কসোভোর গোয়েন্দা সংস্থার সঙ্গে যৌথভাবে তুরস্কের জাতীয় গোয়েন্দা সংস্থার কর্মকর্তারা ফেতুল্লাহ গুলেনের ৬ সিনিয়র সদস্য আটক করেছিল। প্রসঙ্গত, গত বছর তুরস্কের বর্তমান প্রেসিডেন্টের দীর্ঘ সময় ক্ষমতায় থাকার সুযোগ সৃষ্টি করতে গণভোটের সময় দেশটির বাইরে এ ধরনের সমাবেশের আয়োজন করা হয়। কিন্তু তখন জার্মানীসহ ইউরোপীয় ইউনিয়নভুক্ত বেশ কয়েকটি দেশ ওই সমাবেশের ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করে। এ জন্য সারাজেভোতে এরদোগানের নির্বাচনী সমাবেশের আয়োজন করার সিদ্ধান্ত আঙ্কারা ও ব্রাসেলসের মধ্যে উত্তেজনা সৃষ্টি করছে। স্পুটনিক নিউজ, এএফপি।...

আফগানিস্তানে স্টেডিয়ামে বোমা হামলায় নিহত ৮

আফগানিস্তানের পূর্বাঞ্চলীয় প্রদেশ নানগড়হারের রাজধানী জালালাবাদের একটি স্টেডিয়ামে গতরাতে শক্তিশালী তিনটি বোমা বিস্ফোরণে আট জন নিহত ও আরো ৪৫ জন আহত হয়েছে। শনিবার দেশটির প্রাদেশিক সরকার এক বিবৃতিতে একথা জানিয়েছে। বিবৃতিতে আরও বলা হয়, শুক্রবার রাত ১১টা ২০ মিনিটের দিকে জালালাবাদ নগরীর পুলিশ ডিস্টিক্ট ১ এর ক্রিকেট স্টেডিয়ামে তিনটি বোমা বিস্ফোরণ ঘটে। সমন্বিত এই সন্ত্রাসী হামলায় হতাহতের এ ঘটনা ঘটে। খবর বার্তা সংস্থা সিনহুয়ার। বিস্ফোরণের আগে পবিত্র রমজান মাস উপলক্ষে একটি স্থানীয় ক্রিকেট ম্যাচ চলছিল। হতাহতদের অ্যাম্বুলেন্স ও পুলিশের গাড়িতে করে কাছের হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। আহতদের মধ্যে আট জনের অবস্থা আশঙ্কাজনক। নিহতদের মধ্যে এই ম্যাচটির আয়োজক হিদায়াতুল্লাহ্ জহির ও বেশ কয়েকজন স্থানীয় কর্মকর্তা রয়েছেন। প্রাদেশিক গভর্ণর হায়াতুল্লাহ হায়াত এই হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন। এখন পর্যন্ত কোন গোষ্ঠী বা সংগঠন হামলার দায়িত্ব স্বীকার করেনি।...

গাজায় ইসরাইলি হত্যা যুদ্ধাপরাধের শামিল: জাতিসংঘ

রোম সংবিধান অনুযায়ী গাজা উপত্যকায় ফিলিস্তিনিদের বিক্ষোভে ইসরাইলি গণহত্যা যুদ্ধাপরাধের শামিল। শুক্রবার ফিলিস্তিন ইস্যুতে একথা বলেছেন জাতিসংঘের বিশেষ দূত মাইকেল লিঙ্ক। জেনেভায় অনুষ্ঠিত জাতিসংঘের মানবাধিকার পরিষদের বিশেষ অধিবেশনে পূর্ব জেরুজালেমসহ দখলকৃত ফিলিস্তিন অঞ্চলে মানবাধিকার পরিস্থিতির বিষয়ে এই মন্তব্য করেন তিনি। ফিলিস্তিন ইস্যুতে মাইকেল লিঙ্ক এক ভিডিও বার্তার মাধ্যমে বলেন, আমি অবশ্যই ওই বেসামরিক লোকদের চালানো হত্যাকাণ্ডকে জেনেভা কনভেনশন এবং রোম সংবিধানের আওতায় যুদ্ধাপরাধ বলবো। তিনি বলেন, গাজায় বিক্ষোভকারীরা সম্পূর্নভাবে নিরস্ত্র এবং অহিংস। হাজার হাজার বিক্ষোভকারীরা শুধু তাদের উন্নত ভবিষ্যতের জন্য সেখানে বিক্ষোভ করছে। তারা কোনো অপরাধী নয়। লিঙ্ক আরও বলেন, গত সাত সপ্তাহ ধরে বেশিরভাগ লোকই তাদের দখলকৃত বাসভূমিতে শান্তিতে এবং স্বাধীনভাবে বসবাসের জন্য বিক্ষোভ করে যাচ্ছে। জাতিসংঘের মতে গত সাত সপ্তাহ ধরে ইসরাইলি সৈন্যদের হাতে প্রায় শতাধিক বিক্ষোভকারী নিহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে শিশু, সাংবাদিক, চিকিৎসক এবং বহু তরুণ ছিলেন। এছাড়াও প্রায় ১২ হাজার লোক আহত হয়েছেন।...

রমজানে দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি

রমজানের শুরুতেই রাজধানীর কাঁচাবাজারে দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির কারণে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন ক্রেতারা। গরু আর খাসির মাংস ছাড়া সরকার নির্ধারিত দামে বিক্রি হচ্ছে না অন্য কোনো পণ্য। তবে টানা বৃষ্টির কারণে বাজারে কিছুটা স্বস্তি ফিরেছে। হঠাৎ করে ৫০ টাকার বেগুন ৯০ টাকা, শসা ৫০ টাকা থেকে ৮০ টাকায় বিক্রি হতে দেখা গেলেও শুক্রবারে দেখা যায় ভিন্নচিত্র। বৃষ্টির কারণে শশা, গাজর, কাঁচামরিচ ও বেগুনের দাম গতকালের চেয়ে কিছুটা কমেছে।বাজার মনিটরিংয়ের অভাবে রমজানের শুরুতেই বাজারদরের ছন্দপতন দেখা দিয়েছে বলে অভিযোগ ক্রেতাদের। বাজারে সব সবজিই চড়া দামে বিক্রি হচ্ছে। ৪০ টাকা কেজির নিচে কোনো সবজি মিলছেই না।রাজধানীর বাজারে একমাত্র গরু আর খাসির মাংস ছাড়া আর কোনো পণ্যই সরকারের বেধে দেয়া দামে বিক্রি হচ্ছে না। রমজানের অজুহাতে ব্রয়লার বা দেশি মুরগি দুটোর দামই চড়া। পাইকারি বাজারে পেঁয়াজের দাম কমলেও মানছেন না বিক্রেতারা। সবজির বাজারেও বিশৃঙ্খল পরিস্থিতি...

ঈদের আগে ও পরে ৮দিন সিএনজি স্টেশন খোলা

ঈদ-উল-ফিতরের আগের চারদিন এবং পরের চারদিন সারাদেশের সিএনজি স্টেশনসমূহ দিনরাত খোলা থাকবে বলে জানিয়েছেন সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী এবং বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের এমপি। মন্ত্রী বুধবার মেঘনা সেতুর গজারিয়া প্রান্তে সেতুর নির্মাণ সাইটে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক দিয়ে আসন্ন ঈদযাত্রা নির্বিঘ্ন করতে সকল স্টেক-হোল্ডারদের সাথে এক মতবিনিময় সভায় একথা জানান। এসময় সংসদ সদস্য মোহাম্মদ সুবিদ আলী ভুঁইঞা, সেলিম ওসমান, নজরুল ইসলাম বাবু ও লিয়াকত হোসেন খোকা উপস্থিত ছিলেন। সভায় আগামী ৮ জুনের মধ্যে সারাদেশের চলমান জরুরি সড়ক মেরামতকাজ শেষ করতে সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তরকে নির্দেশনা দেয়া হয়। এছাড়া মহাসড়কে উল্টোপথে যেকোন ধরণের যানবাহন চলাচল বন্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণের পাশাপাশি ঈদের সময় অনাকাঙ্খিত দুর্ঘটনাকবলিত যানবাহন দ্রুত সরিয়ে নিতে পর্যাপ্ত পরিমাণ রেকার সংগ্রহে রাখারও সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। এসময় মন্ত্রী বলেন, ঈদে ঘরমুখো যাত্রীদের যাতায়াত নির্বিঘ্ন করতে সকল সরকারি সংস্থাকে সমন্বয়ের মাধ্যমে কাজ করতে হবে। তিনি গাড়ি চালকদের অতিরিক্ত ট্রিপ না দিয়ে যাত্রাশেষে বিশ্রামের সুযোগ করে দেয়ার জন্য পরিবহন মালিকদের প্রতি অনুরোধ জানান। যানবাহন চলাচল নির্বিঘ্ন করতে মেঘনা ও গোমতী সেতুর টোল প্লাজার ব্যবস্থাপনা আরও দক্ষতার সাথে সম্পন্ন করা হবে বলে মন্ত্রী সভায় জানান। সভায় সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের সচিব মো. নজরুল ইসলাম, সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তরের প্রধান প্রকৌশলী ইবনে আলম হাসান, মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাগণ, হাইওয়ে পুলিশ ও চট্টগ্রাম রেঞ্জ পুলিশের ডিআইজি, কুমিল্লা, নারায়ণগঞ্জ ও মুন্সিগঞ্জের জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপার, বিকেএমইএ, বিজিএমইএ, পরিবহন মালিক-শ্রমিক নেতৃবৃন্দসহ অন্যান্য স্টেক-হোল্ডারগণ অংশ নেন।...

চট্টগ্রাম মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের বিশেষ অভিযান

বন্দর নগরী চট্টগ্রামের কোতোয়ালী থানাধীন আইচ ফ্যাক্টরী রোড সংলগ্ন বাস্তুহানা কলোনী ধোপারমাঠস্থ রেলওয়ের জায়গায় জনৈক কামালের দখলীয় টিনসেড পরিত্যক্ত ঘরের পার্শ্বে হতে ৫০০ বোতল ফেন্সিডিল উদ্ধার করেছে মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ। পলাতক আসামী ১। মোঃ মনছুর (৩৫), পিতা-মৃত ফরিদ আহমেদ, সাং- আলমপুর, থানা-হাটহাজারী, জেলা-চট্টগ্রাম, বর্তমানে-৫১ আলকরণ, ৪নং গলি, নুরুল সওদাগরের বিল্ডিং, ৪র্থ তলা, থানা-কোতোয়ালী, জেলা-চট্টগ্রাম, ২) রাজিব দাশ (৩৭), পিতা-মোনা দাশ প্রকাশ গোপাল দাশ, সাং-বারীপাড়া (মিলন সেক্রেটারীর বাড়ি) থানা-বাঁশখালী, জেলা-চট্টগ্রাম, বর্তমানে- আলকরণ, থানা-কোতোয়ালী, জেলা-চট্টগ্রাম, ৩) মোক্তার হোসেন (৩০), পিতা-নাদেরুজ্জামান, সাং-আইচ ফ্যাক্টরী রোড, বাস্তুহারা কলোনী (ধোপার মাঠ), থানা-কোতোয়ালী, জেলা- চট্টগ্রাম, ৪) রকি প্রকাশ বড় রকি (২৫), পিতা-অজ্ঞাত, সাং-বাস্তুহারা কলোনী (ধোপার মাঠ), থানা-কোতোয়ালী, জেলা-চট্টগ্রাম। ২১ মে ২০১৮ খ্রিঃ তারিখ দিবাগত রাত ০১.১৫ ঘটিকায় মহানগর গোয়েন্দা বিভাগের পুলিশ পরিদর্শক জনাব অংসা থোয়াই মারমা এর নের্তৃত্বে এসআই/মোঃ জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী, এসআই/মোহাম্মদ হুমায়ুন কবির সঙ্গীয় অফিসার ও ফোর্স সহ গোপন সংবাদের ভিত্তিতে কোতোয়ালী থানাধীন আইচ ফ্যাক্টরী রোড সংলগ্ন বাস্তুহানা কলোনী ধোপারমাঠস্থ রেলওয়ের জায়গায় জনৈক কামালের দখলীয় টিনসেড পরিত্যক্ত ঘরের পার্শ্বে হতে ৫০০ বোতল ফেন্সিডিল উদ্ধার করা হয়। পলাতক আসামীদের বিরুদ্ধে কোতোয়ালী থানায় নিয়মিত মামলা রুজু করা হয়েছে।...

সাতক্ষীরার বিরল রোগে আক্রান্ত শিশু মুক্তামণি আর নেই

সাতক্ষীরার বিরল রোগে আক্রান্ত শিশু মুক্তামণি (১২) আর নেই। বুধবার সকাল সাড়ে ৮টার দিকে সদর উপজেলার নিজ গ্রাম দক্ষিণ কামারবায়সায় মুক্তামণির মৃত্যু হয় (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)।২০১৭ সালের জুলাইয়ে বিভিন্ন গণমাধ্যমে মুক্তামণির বিরল রোগের খবর প্রকাশের পর টনক নড়ে স্বাস্থ্য বিভাগের। প্রথমে স্বাস্থ্যসচিব তার চিকিৎসার দায়িত্ব নেন। পরে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা চিকিৎসার দায়ভার গ্রহণ করেন।ওই বছরের ১১ জুলাই ঢাকা মেডিকেলের বার্ন ইউনিটে ভর্তি করা হয় মুক্তামণিকে। সেখানে তার চিকিৎসায় গঠন হয় মেডিকেল বোর্ড। পরীক্ষা-নিরীক্ষায় ধরা পড়ে মুক্তামণির হাত রক্তনালীর টিউমারে আক্রান্ত। কয়েক দফা অস্ত্রোপচার করে অপসারণ করা হয় তার হাতের অতিরিক্ত মাংস পিণ্ড...

মাদকবিরোধী অভিযানে বন্দুকযুদ্ধে আরও ১১ মাদক কারবারি নিহত

দেশজুড়ে মাদকবিরোধী অভিযান অব্যাহত রয়েছে। এতে বিগত কয়েকদিনের মতো সোমবার দিনগত রাতেও প্রাণহানির ঘটনা ঘটেছে। সারাদেশে এদিন কথিত বন্দুকযুদ্ধে অন্তত ১১ জন নিহত হয়েছেন। বরাবরের মতো আইনশৃঙ্খলা বাহিনী দাবি করেছে, নিহতরা সবাই মাদক কারবারির সঙ্গে জড়িত। অভিযানে গিয়ে হামলার শিকার হলে আত্মরক্ষার্থে গুলি চালালে এসব প্রাণহানি হয়। সোমবার গভীর রাত থেকে মঙ্গলবার ভোর পর্যন্ত নিহতদের মধ্যে কুমিল্লা ও নীলফামারীতে ২ জন ছাড়া চট্টগ্রাম, নেত্রকোনা, চুয়াডাঙ্গা, ফেনী, দিনাজপুর, ব্রাহ্মণবাড়িয়া ও নারায়ণগঞ্জে একজন করে রয়েছেন। এ নিয়ে গত ১৭ মে গভীর রাত থেকে মঙ্গলবার ভোর পর্যন্ত সারাদেশে অন্তত ৩৬ ‘মাদক কারবারি’ নিহত হলেন। প্রতিনিধিদের পাঠানো তথ্যে সোমবার গভীর রাতের বন্দুকযুদ্ধের ঘটনাগুলো দেয়া হলো; কুমিল্লা কুমিল্লায় পুলিশের সঙ্গে কথিত বন্দুকযুদ্ধে দুই যুবক নিহত হয়েছেন। এ সময় গুলিবিদ্ধ হয়ে আহত হয়েছেন আরও একজন। সোমবার দিনগত রাত পৌনে একটার দিকে সদর উপজেলার ভারত সীমান্তবর্তী অরণ্যপুর গ্রামের বড় দিঘীর পাড়ে এ বন্দুকযুদ্ধের ঘটনা ঘটে। নিহতরা হলেন- কুমিল্লা সদরের শুভপুর এলাকার আলী মিয়ার ছেলে পেয়ার আলী (২৪) ও সদর দক্ষিণ উপজেলার চৌয়ারা-মহেশপুর গ্রামের আব্দুল মান্নানের ছেলে শরিফ (২৬)। আহত চাঁদপুরের শাহরাস্তির আজিজ নগরের নুরুল ইসলামের ছেলে মো. সেলিমকে (২৫) কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। পুলিশের দাবি, হতাহতরা সবাই এলাকার চিহ্নিত মাদক ব্যবসায়ী। বন্দুকযুদ্ধে কোতোয়ালি থানার এক পরিদর্শকসহ চার সদস্য আহত হন। তাদের প্রাথমিক চিকিৎসা দেয়া হয়েছে। কুমিল্লার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) তানভীর সালেহীন ইমন পরিবর্তন ডটকমকে জানান, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে সোমবার বিকেলে শহরের শুভপুর এলাকা থেকে ১০০ বোতল ফেনসিডিলসহ মাদক ব্যবসায়ী পিয়ার আলীকে গ্রেফতার করা হয়। জিজ্ঞাসাবাদে তিনি জানান, একটি পাজেরো জিপে করে মাদকের বড় চালান ঢাকায় পাঠানো হবে। পরে তাকে নিয়ে রাতে অরণ্যপুর গ্রামের বড়দিঘির পশ্চিমপাড়ে অভিযানে যায় পুলিশ। উপস্থিতি টের পেয়ে পাজেরো গাড়ি থেকে নেমে মাদক কারবারিরা পুলিশকে লক্ষ্য করে গুলি ছোড়ে। পুলিশও শর্টগান থেকে পাল্টা ৫২ রাউন্ড গুলি চালায়। উভয়পক্ষের মধ্যকার গোলাগুলির মধ্যে পড়ে পিয়ার আলী, শরীফসহ তিনজন গুলিবিদ্ধ হন। তাদের উদ্ধার করে কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাদের মৃত ঘোষণা করেন। পরে ঘটনাস্থল থেকে পাজেরো জিপ, একটি রিভলবার, দুই রাউন্ড গুলি, ৫০০ বোতল ফেনসিডিল ও ৫০ কেজি গাজা উদ্ধার করা হয়। বন্দুকযুদ্ধে আহত কোতোয়ালি মডেল থানার পরিদর্শক (ওসি-অপারেশন) রুপ কুমার সরকার, এসআই শাহ আলম, গোয়েন্দা পুলিশের এএসআই শাহীনূর ও কোতোয়ালি মডেল থানার কনস্টেবল তানভিরকে প্রাথমিক চিকিৎসা দেয়া হয়েছে। নিহত পিয়ার আলীর বিরুদ্ধে মাদক নিয়ে বিরোধের জেরে একটি হত্যাসহ ১৩টি এবং শরিফের বিরুদ্ধে ৫টি মামলা রয়েছে বলেও জানান পুলিশ সুপার তানভীর সালেহীন ইমন। নীলফামারী নীলফামারীর সৈয়দপুরে পুলিশের সঙ্গে কথিত বন্দুকযুদ্ধে দু’জন নিহত হয়েছেন। সোমবার মধ্যরাতে সৈয়দপুর শহরের গোলাহাট বধ্যভূমি এলাকায় এ বন্দুকযুদ্ধের ঘটনা ঘটে। নিহতরা হলেন- সৈয়দপুর শহরের ইসলামবাগের বাসিন্দা জনি ও নিচু কলোনী এলাকার বাসিন্দা শাহিন। সৈয়দপুর থানার ওসি শাহজাহান পাশা দাবি করেন, নিহতরা মাদক কারবারি সঙ্গে জড়িত। সোমবার গভীর রাতে মাদক বিরোধী অভিযানে গিয়ে বন্দুকযুদ্ধে তারা নিহত হন। এ সময় পুলিশের দুই সদস্যও আহত হয়েছেন বলে জানান তিনি। চুয়াডাঙ্গা চুয়াডাঙ্গার আলমডাঙ্গায় পুলিশের সঙ্গে কথিত বন্দুকযুদ্ধে একজন নিহত হয়েছেন। সোমবার রাত দেড়টার দিকে আলমডাঙ্গা রেল স্টেশনের অদূরে এই বন্দুকযুদ্ধের ঘটনা ঘটে। নিহত কামরুজ্জামান সাদু (৩৮) আলমডাঙ্গা উপজেলার হারদী গ্রামের মৃত ইমদাদুল হকের ছেলে। পুলিশের দাবি, কামরুজ্জামান সাদু এলাকার শীর্ষ মাদক ব্যবসায়ী। বন্দুকযুদ্ধের সময় দুই কর্মকর্তাসহ পুলিশের চার সদস্য আহত হয়েছেন। পুলিশের ভাষ্যে, আলমডাঙ্গা স্টেশনের পশ্চিম দিকের একটি জঙ্গলের ভিতরে ৮/১০ জন মাদক ব্যবসায়ী অবস্থান করছে- এমন সংবাদে পুলিশের একটি দল ওই স্থানে অভিযান শুরু করে। রাত দেড়টার দিকে মাদক ব্যবসায়ীরা পুলিশের ওপর অতর্কিত গুলিবর্ষণ শুরু করে। এ সময় পুলিশও পাল্টা গুলি চালালে শুরু হয় দু’পক্ষের মধ্যে গোলাগুলি। আলমডাঙ্গা থানার ওসি আবু জিহাদ ফকরুল আলম খাঁন জানান, গোলাগুলির খবর পেয়ে থানা থেকে আরও দুই প্লাটুন ফোর্স নিয়ে মাদক ব্যবসায়ীদের প্রতিরোধ গড়ে তোলা হয়। প্রায় আধা ঘণ্টাব্যাপী বন্দুকযুদ্ধের এক পর্যায়ে পিছু হটে মাদক ব্যবসায়ীরা। পরে ঘটনাস্থল থেকে গুলিবিদ্ধ কামরুজ্জামানের লাশ উদ্ধার করে হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়। ঘটনাস্থল থেকে একটি পিস্তল, তিন রাউন্ড গুলি ও এক বস্তা ফেনসিডিল উদ্ধার করা হয়েছে। বন্দুকযুদ্ধের সময় আহত আলমডাঙ্গা থানার উপ-পরিদর্শক জিয়াউর রহমান, সহকারী উপ-পরিদর্শক আব্দুল হামিদ, কনস্টেবল মাসুদ রানা ও কনস্টেবল রাকিবুল হোসেনকে প্রাথমিক চিকিৎসা দেয়া হয়েছে। অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) মো. কলিমুল্লাহ জানান, কামরুজ্জামান চুয়াডাঙ্গা জেলা পুলিশের মোস্ট ওয়ানটেড মাদক ব্যবসায়ী। তার বিরুদ্ধে আলমডাঙ্গা থানায় মাদক পাচারসহ ১২টি মামলা রয়েছে। চট্টগ্রাম চট্টগ্রাম নগরীর বায়েজিদ থানায় র‌্যাবের সঙ্গে কথিত বন্দুকযুদ্ধে শুক্কুর আলী (৪৫) নামে এক ব্যক্তি নিহত হয়েছেন। সোমবার গভীররাতে থানার ডেবারপাড় এলাকায় এ বন্দুকযুদ্ধের ঘটনা ঘটে। র‌্যাবের দাবি, নিহত শুক্কুর আলী চিহ্নিত মাদক ব্যবসায়ী। তার নামে একাধিক মামলা রয়েছে। র‌্যাব-৭ এর সিনিয়র সহকারী পরিচালক (মিডিয়া) মিমতানুর রহমান জানান, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ওই এলাকায় অভিযান চালায় র‌্যাব। উপস্থিতি টের পেয়ে মাদক ব্যবসায়ীরা র‌্যাবকে লক্ষ্য করে গুলি ছোড়ে। পরে র‌্যাবও পাল্টা গুলি চালালে মাদক ব্যবসায়ীরা পিছু হটে। পরে সেখান থেকে গুলিবিদ্ধ শুক্কুর আলীকে উদ্ধার করে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। ঘটনাস্থল থেকে ১০ হাজার পিস ইয়াবা, একটি ওয়ানশ্যুটার গান ও বিপুল পরিমাণ গাঁজা উদ্ধার করা হয়েছে বলেও জানান এই র‍্যাব কর্মকর্তা। নেত্রকোনা নেত্রকোনা সদর উপজেলায় পুলিশের সঙ্গে কথিত বন্দুকযুদ্ধে আমজাদ হোসেন নামে এক ব্যক্তি নিহত হয়েছেন। সোমবার দিনগত রাত দুইটার দিকে উপজেলার মেদনী ইউনিয়নের বড়য়ারী এলাকায় এ বন্দুকযুদ্ধের ঘটনা ঘটে। পুলিশের দাবি, নেত্রকোনা শহরের পশ্চিম নাগড়া এলাকার বাসিন্দা আমজাদ এলাকার চিহ্নিত মাদক ব্যবসায়ী। নেত্রকোনা মডেল থানার ওসি বোরহান উদ্দিন জানান, সোমবার রাতে আমজাদ হোসেনকে গ্রেফতার করা হয়। পরে তাকে নিয়ে সদর উপজেলার বড়য়ারী এলাকায় অভিযান চালানো হয়। এ সময় আমজাদের সহযোগীরা পুলিশের ওপর হামলা চালায়। পুলিশও পাল্টা জবাব দিলে উভয়পক্ষের মধ্যে বেশ কিছুক্ষণ বন্দুকযুদ্ধ শুরু হয়। পরে ঘটনাস্থল থেকে গুলিবিদ্ধ আমজাদ হোসেনকে উদ্ধার করে থানায় নেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। বন্দুকযুদ্ধে সদর থানার উপ-পরিদর্শক মহসিন, মামুন, মকবুল ও কনস্টেবল মালেক আহত হয়েছেন। তাদের নেত্রকোনা আধুনিক সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। ফেনী ফেনীতে র‍্যাবের সঙ্গে কথিত বন্দুকযুদ্ধে মঞ্জুরুল আলম মঞ্জু (৪৯) নামে এক ব্যক্তি নিহত হয়েছেন। সোমবার রাতে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের ফেনীর লেমুয়া নামক স্থানে এ বন্দুকযুদ্ধের ঘটনা ঘটে। মঞ্জুরুল আলম মঞ্জু চট্টগ্রাম জেলার সাতকানিয়া উপজেলার রুপকানিয়া গ্রামের হাজি আবদুল করিমের ছেলে। র‍্যাবের দাবি, মঞ্জুরুল আলম স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তালিকাভুক্ত মাদক ব্যবসায়ী। তার বিরুদ্ধে নারায়ণগঞ্জ ও চট্টগ্রাম জেলায় ডাকাতি ও মাদকের একাধিক মামলা রয়েছে। ফেনীস্থ র‍্যাব ক্যাম্পের কোম্পানি অধিনায়ক সাফায়াত জামিল ফাহিম জানান, রাতে র‍্যাব ফেনী ক্যাম্পের একটি দল গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ফেনীর লেমুয়ায় অভিযান চালায়। এ সময় মঞ্জুরুল আলম মঞ্জুর নেতৃত্বে একদল মাদক ব্যবসায়ী চট্টগ্রাম থেকে ঢাকা যাচ্ছিলেন। পথে লেমুয়া এলাকায় পৌঁছলে উপস্থিতি টের পেয়ে তারা র‍্যাবকে লক্ষ্য করে গুলি ছোড়ে। র‍্যাবও পাল্টা গুলি চালালে মঞ্জু গুলিবিদ্ধ হন। গুলিবিদ্ধ মঞ্জুরুলকে ফেনী সদর হাসপাতালে নিলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। ঘটনাস্থল থেকে একটি বিদেশি পিস্তল, ৭ রাউন্ড গুলি, ৫টি খোসা উদ্ধার করা হয়েছে বলেও জানান এই র‍্যাব কর্মকর্তা। দিনাজপুর দিনাজপুরের বিরামপুরে পুলিশের সঙ্গে কথিত বন্দুকযুদ্ধে মো. প্রবল হোসেন (৩৫) নামের এক ‘মাদক ব্যবসায়ী’ নিহত হয়েছেন। প্রবল হোসেন উপজেলার দক্ষিণ দামোদরপুর গ্রামের খলিল হোসেনের ছেলে। বিরামপুর থানার ওসি আব্দুর সবুর জানান, মঙ্গলবার ভোরে বিরামপুর থানার একটি দল পৌরসভার মনিরামপুর মাঠে টহল দিচ্ছিল। ওই সময় ১০-১২ জন মাদক ব্যবসায়ী তাদের লক্ষ্য করে গুলি ছোড়ে। পুলিশও পাল্টা গুলি করলে মো. প্রবল হোসেন মারা যান। এ সময় পুলিশের দুই এসআই রাম চন্দ্র ও খুরশিদ আলম আহত হন। তাদের উদ্ধার করে দিনাজপুর এম আব্দুর রহিম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। ঘটনাস্থল থেকে পুলিশ ১টি পিস্তল, ৩ রাউন্ড গুলি, ৫টি ককটেল ও ৯২ বোতল ফেনসিডিল উদ্ধার করে। ব্রাহ্মণবাড়িয়া ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বাঞ্ছারামপুরে র‍্যাবের সঙ্গে কথিত বন্দুকযুদ্ধে ধন মিয়া (৩০) নামে এক ব্যক্তি নিহত হয়েছেন। সোমবার মধ্যরাতে উপজেলার সোনারামপুরে এ বন্দুকযুদ্ধের ঘটনা ঘটে। ধন মিয়া উপজেলার মরিচাকান্দি এলাকার মো. হোসেন মিয়ার ছেলে। এ সময় তার স্ত্রী আরজিদা বেগমকে আটক করেছে র‍্যাব। র‍্যাবের দাবি, ধন মিয়া এলাকার চিহ্নিত মাদক ব্যবসায়ী। তার নামে থানায় একাধিক মামলা রয়েছে। র‍্যাব-১০ এর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মহিউদ্দিন ফারুকী জানান, রাতে স্ত্রী আরজুদা বেগমকে সঙ্গে নিয়ে ধন মিয়া নারায়ণগঞ্জ এলাকার একটি কুরিয়ার সার্ভিস থেকে ইয়াবার প্যাকেট নিয়ে প্রাইভেটকারে রওনা দেন। গোপন সংবাদে র‍্যাবের একটি দল তাদের পিছু নেয়। বিষয়টি আঁচ করে পেরে দ্রুত চালিয়ে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বাঞ্ছারামপুর উপজেলায় ঢুকে পড়লে সোনারামপুর এলাকায় একটি গর্তে তাদের গাড়ি ফেঁসে যায়। গাড়ি থেকে নেমে ধন মিয়া পালানোর চেষ্টা করেন। র‍্যাব পিছু নিলে তারা এলোপাথাড়ি গুলি ছোড়ে। র‍্যাবও পাল্টা গুলি চালালে ধন মিয়া ঘটনাস্থলেই নিহত হন। এ সময় তার স্ত্রী আরজুদা বেগমকে আটক করা হয়। ঘটনাস্থল থেকে ১২ হাজার পিছ ইয়াবা, একটি বিদেশি পিস্তল, ৬ রাউন্ড গুলি, এক্স করোলা একটি প্রাইভেটকার ও মাদক বিক্রির ৫০ হাজার টাকা উদ্ধার করা হয়। অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মহিউদ্দিন ফারুকী আরও জানান, ধন মিয়ার স্ত্রী ও উদ্ধারকৃত মালামাল বাঞ্ছারামপুর থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে। এই দম্পতির নাম উল্লেখ করে থানায় একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। নারায়ণগঞ্জ নারায়ণগঞ্জের আড়াইহাজারে র‍্যাবের সঙ্গে কথিত বন্দুকযুদ্ধে বাচ্চু খাঁন নামে এক ব্যক্তি নিহত হয়েছেন। মঙ্গলবার ভোরে আড়াইহাজারের শিমুলতলী এলাকায় এ বন্দুকযুদ্ধের ঘটনা ঘটে। নিহত বাচ্চু খাঁন রাজধানী ঢাকার উত্তরার উত্তরখান এলাকার আশরাফ খানের ছেলে। র‍্যাবের দাবি, বাচ্চু শীর্ষস্থানীয় মাদক ব্যবসায়ী। বন্দুকযুদ্ধের সময় উদ্ধার করা হয়েছে বিপুল পরিমাণ ইয়াবা, বিদেশি অস্ত্র ও একটি জিপ গাড়ি। র‍্যাব-১ এর কোম্পানি কমান্ডার আনোয়ার হোসেন জানান, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে মাদক উদ্ধারের জন্য অভিযান পরিচালনার সময় বাচ্চুসহ তিন মাদক ব্যবসায়ী দৌড়ে পালানোর চেষ্টা করেন এবং র‍্যাবকে লক্ষ্য করে গুলি ছোড়ে। এ সময় র‍্যাবও পাল্টা গুলি চালালে ঘটনাস্থলেই বাচ্চু নিহত হন। বাকি দু’জন পালিয়ে যেতে সক্ষম হন। এর আগে গত ১৭ মে গভীর রাতে সারাদেশে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে কথিত বন্দুকযুদ্ধে ৩ জন, ১৮ মে গভীর রাতে ৪ জন, ১৯ মে গভীর রাতে ৪ জন এবং ২০ মে গভীর রাতে ১৪ জন ‘মাদক কারবারি’ নিহত হন।...

রমজানে দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি

রমজানের শুরুতেই রাজধানীর কাঁচাবাজারে দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির কারণে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন ক্রেতারা। গরু আর খাসির মাংস ছাড়া সরকার নির্ধারিত দামে বিক্রি হচ্ছে না অন্য কোনো পণ্য। তবে টানা বৃষ্টির কারণে বাজারে কিছুটা স্বস্তি ফিরেছে। হঠাৎ করে ৫০ টাকার বেগুন ৯০ টাকা, শসা ৫০ টাকা থেকে ৮০ টাকায় বিক্রি হতে দেখা গেলেও শুক্রবারে দেখা যায় ভিন্নচিত্র। বৃষ্টির কারণে শশা, গাজর, কাঁচামরিচ ও বেগুনের দাম গতকালের চেয়ে কিছুটা কমেছে।বাজার মনিটরিংয়ের অভাবে রমজানের শুরুতেই বাজারদরের ছন্দপতন দেখা দিয়েছে বলে অভিযোগ ক্রেতাদের। বাজারে সব সবজিই চড়া দামে বিক্রি হচ্ছে। ৪০ টাকা কেজির নিচে কোনো সবজি মিলছেই না।রাজধানীর বাজারে একমাত্র গরু আর খাসির মাংস ছাড়া আর কোনো পণ্যই সরকারের বেধে দেয়া দামে বিক্রি হচ্ছে না। রমজানের অজুহাতে ব্রয়লার বা দেশি মুরগি দুটোর দামই চড়া। পাইকারি বাজারে পেঁয়াজের দাম কমলেও মানছেন না বিক্রেতারা। সবজির বাজারেও বিশৃঙ্খল পরিস্থিতি...

এবারের বাজেটের আকার হবে ৪ লাখ ৬০ হাজার কোটি টাকা

আগামী ৭ জুন ২০১৮-১৯ অর্থবছরের বাজেট জাতীয় সংসদে পেশ করা হবে বলে জানিয়েছেন অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আব্দুল মুহিত। বর্তমান সরকারের এটি শেষ বাজেট এ কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, এবারের বাজেটের আকার হবে ৪ লাখ ৬০ হাজার কোটি টাকা। অর্থমন্ত্রী আজ সোমবার সচিবালয়ে তার কার্যালয়ে ঢাকা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির (ডিসিসিআই) পরিচালনা পর্ষদের সদ্যস্যদের সঙ্গে বৈঠককালে এ কথা জানান। এ সময় মুহিত বলেন, বাজেটে শিক্ষা, স্বাস্থ্য, পয়ঃনিষ্কাশন, জ্বালানি ও বিদ্যুৎ এবং অবকাঠমো খাতকে প্রধান্য দেওয়া হবে। বর্তমান সরকার দারিদ্র দূরীকরণে সাফল্য দেখিয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন,দেশে বর্তমানে দারিদ্র পীড়িত মানুষের হার প্রায় ২ দশমিক ৪ ভাগ। তবে শতাংশ মানুষ চরম দারিদ্র সীমার মধ্যে রয়েছে বলেও তিনি জানান। বৈঠকে ডিসিসিআই সভাপতি আবুল কাসেম খান ঢাকা চেম্বারের নেতৃত্ব দেন। অর্থমন্ত্রী বলেন, দেশে দারিদ্র পীড়িত মানুষের সংখ্যা কমিয়ে আনার লক্ষ্যে সরকার সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনী সম্প্রসারণে অধিকতর মনোযোগ দিচ্ছে। ব্যাংকিং খাতে খেলাপি ঋণ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, রাষ্ট্রয়ত্ত্ব ব্যাংকগুলোর বেশকিছু সমস্যা রয়েছে। তবে এসব ব্যাংক প্রান্তিক জনগণের উন্নয়নে সরকারের বিভিন্ন কর্মসূচীতে অংশগ্রহণ করে থাকে। বাংলাদেশে কর্পোরেট করের হার খুবই বেশি উল্লেখ করে অর্থমন্ত্রী বলেন,এটা ক্রমান্বয়ে কমিয়ে আনার বিষয়টি সরকারের সক্রিয় বিবেচনাধীন রয়েছে। তিনি জানান, বাংলাদেশের রপ্তানি হার বাড়াতে তৈরি পোশাক খাতের অবদান আরোও বেশ কিছু বছর বজায়ে থাকবে এবং বাইরের দেশগুলোতে চামড়াজাত পণ্য রপ্তানির উজ্জ্বল সম্ভাবনা রয়েছে। অর্থমন্ত্রী বলেন, সরকারী কর্মকর্তা-কর্মচারীবৃন্দের নতুন বেতন কাঠামো বাস্তবায়নের ফলে দূর্নীতি কমেছে এবং আশা করা যাচ্ছে আগামী ৫ থেকে ১০ বছরের মধ্যে দূর্নীতি উল্লেখযোগ্য হারে কমে আসবে। তিনি জানান, সঞ্চয়পত্রের সুদের কমানোর বিষয়টি সরকারের সক্রিয় বিবেচনাধীন রয়েছে। ডিসিসিআই সভাপতি আবুল কাসেম খান এ সময় বলেন, জ্বালানী ও বিদ্যুৎ খাতের স্বল্পতা, বন্দর ব্যবস্থাপনায় অদক্ষতা, আর্থিক খাতে ঋণ প্রবাহের স্বল্পতা, ব্যবসা পরিচালনায় ব্যয় বৃদ্ধি এবং অবকাঠামো খাতের দূর্বলতা প্রভৃতি বিষয় দেশের বেসরকারি খাতের সম্প্রসারণ ও অর্থনৈতিক উন্নয়নে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করেছে। ঢাকা চেম্বারের সভাপতি বলেন, বর্তমান সরকার ঘোষিত ২০২১ সালের মধ্যে মধ্যম আয়ের দেশে পরিণত হওয়া এবং ২০৩০ সালের মধ্যে বাংলাদেশকে ৩০তম বৃহত্তম অর্থনীতির দেশে পরিণত করতে হলে ৮ থেকে ১০ শতাংশ জিডিপি প্রবৃদ্ধি অর্জন করতে হবে। জিডিপি প্রবৃদ্ধির এ হার অর্জন করতে হলে দেশি-বিদেশি বিনিয়োগ বৃদ্ধি, ব্যবসা বান্ধব নীতিমালা ও পরিকল্পনা প্রণয়ন, অবকাঠামো খাতের উন্নয়ন, মানবসম্পদের দক্ষতা উন্নয়ন ও গবেষণা এবং নতুন নতুন প্রযুক্তি উদ্ভাবনের ওপর গুরুত্ব দিতে হবে বলে তিনি জানান। ডিসিসিআই সভাপতি পাবলিক-প্রাইভেট পার্টনারশিপ মডালিটির আওতায় উন্নয়ন প্রকল্পের কার্যক্রম মনিটরিংয়ের জন্য ন্যাশনাল ইনফ্রাস্ট্রাক্চার ডেভেলপমেন্ট অ্যান্ড মনিটরিং অ্যাডভাইজরি অথরিটি (নিদমা) নামে একটি প্লাটফর্ম গঠণের করার প্রয়োজনীয়তার ওপরও গুরুত্বারোপ করেন।...

সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়তে ব্যাপক পরিকল্পনা গ্রহণ করছে সরকার

সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়তে বর্তমান ও ভবিষ্যত শ্রমবাজারের চাহিদা বিবেচনায় কারিগরি ও বৃত্তিমূলক শিক্ষার প্রসারে ব্যাপক পরিকল্পনা গ্রহণ ও বাস্তবায়ন করছে সরকার। রবিবার রাজধানীর ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউট মিলনায়তনে ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউট এবং বাংলাদেশ কারিগরি শিক্ষাবোর্ড যৌথ গবেষণার একটি বই প্রকাশ অনুষ্ঠানে এ কথা বলেছেন শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ।এ সময় শিক্ষামন্ত্রী বলেন, চতুর্থ শিল্প বিল্পবের প্রেক্ষিতে আগামীতে কর্মক্ষেত্রে যে পরিবর্তন সূচিত হবে সেখানে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর দক্ষতা না থাকলে কর্মনিশ্চয়তা ও জাতীয় উৎপাদনশীলতা ব্যাহত হবে।গবেষণা বইয়ের মোড়ক উন্মোচন করে শিক্ষা মন্ত্রী বলেন, শেখ হাসিনার নেতৃত্বে উন্নয়নশীল দেশে উত্তরণের স্বীকৃতি অর্জন ধরে রেখে উন্নত সমৃদ্ধ দেশের অভীষ্ট লক্ষ্য অর্জনে ২০৩০ সালে ১২৮ মিলিয়ন শ্রমশক্তিকে দক্ষ করে গড়ে তোলাই বাংলাদেশের সামনে বড় চ্যালেঞ্জ। এ চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় সরকারি উদ্যোগ বাস্তবায়নে সংশ্লিষ্ট স্টেকহোল্ডারদের বিশাল ভূমিকা রয়েছে।আইডিইবি’র সভাপতি এ কে এম এ হামিদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্ততা করেন কারিগরি ও মাদরাসা শিক্ষা বিভাগের প্রতিমন্ত্রী কাজী কেরামত আলী, এফবিসিসিআই’র সভাপতি মো. সফিউল ইসলাম মহিউদ্দিন, কারিগরি ও মাদরাসা বিভাগের অতিরিক্ত সচিব এ কে এম জাকির হোসেন ভূঞা...

পরীক্ষা বর্জন কর্মসূচি স্থগিত

রমজান ও সেশনজট বিবেচনায় রেখে পরীক্ষা বর্জন কর্মসূচি স্থগিত করেছেন কোটা সংস্কার আন্দোলকারীরা।শনিবার (১৯ মে) দুপুর সাড়ে ১২টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগারের সামনে সংবাদ সম্মেলনে এ ঘোষণা দেন কোটা আন্দোলনের আহ্বায়ক হাসান আল মামুন।এর আগে গত সোমবার (১৪ মে) শাহবাগের অবরোধ স্থগিত করে ক্লাস-পরীক্ষা বর্জন কর্মসূচি অব্যাহত রাখার ঘোষণা দেন আন্দোলনকারীদের যুগ্ম আহ্বায়ক নুরুল হক নুর।একদিন পর মঙ্গলবার (১৫ মে) দুপুরে হাসান আল মামুন বাংলানিউজকে বলেন, প্রধানমন্ত্রীর ঘোষণা অনুযায়ী কোটা বাতিলের প্রজ্ঞাপন চেয়ে চলমান ছাত্র ধর্মঘটে পরীক্ষা বর্জন না করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন আন্দোলনকারীরা। শনিবার সংবাদ সম্মেলনে পরীক্ষা বর্জন কর্মসূচি স্থগিত করার সেই ঘোষণাই দিলেন তিনি...

চমকের নাম মোসাদ্দেক!

মাস খানেক আগে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের কেন্দ্রীয় চুক্তি থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে মোসাদ্দেক হোসেন সৈকতকে। সেই মোসাদ্দেকই কিনা আফগানিস্তানের বিরুদ্ধে জাতীয় দলে ফিরলেন? সবচেয়ে হাস্যকর বিষয় হচ্ছে বিসিবির কেন্দ্রীয় চুক্তি থেকে বাদ পড়ার পর আর কোনো ম্যাচ খেলেননি এই ক্রিকেটার। তাহলে তাকে দলে ফেরানোর পেছনে কারণ কি? আর নির্বাচকদের কাছে যদি মনে হয় মোসাদ্দেকের পারফরম্যান্স তত খারাপ ছিল না, তাহলে কেন তাকে বিসিবির কেন্দ্রীয় চুক্তি থেকে বাদ দেওয়া হয়েছিল? আফগানিস্তানের বিরুদ্ধে তিন ম্যাচের টি-২০ সিরিজের জন্য চূড়ান্ত দল ঘোষণা করেছে বিসিবি। নতুন মুখ নেই। চমক কেবল মোসাদ্দেকের ফেরাটাই। টি-২০তে মোসাদ্দেকের অভিষেক হয়েছিল ২০১৬ সালের সেপ্টেম্বরে, আফগানিস্তানের বিরুদ্ধে। সংক্ষিপ্ত ফরম্যাটের এই ক্রিকেটে আহামরি কিছু পারফরম্যান্স দেখাতে পারেননি। খেলেছেন ছয় ম্যাচ। তবে জাতীয় দলের সঙ্গে নিজেকে সেভাবে মানিয়ে নিতে না পারলেও ঘরোয়া ক্রিকেটে দুর্দান্ত। বিসিএলের সব শেষ ম্যাচেও তার একটা সেঞ্চুরি রয়েছে। বল হাতেও দারুণ। বিশ্বসেরা অলরাউন্ডার সাকিব আল হাসানের বিকল্প হিসেবে মোসাদ্দেকের কথাই বার বার উঠে আসছিল। কিন্তু চাইলেই তো আর হঠাৎ করে সাকিবের বিকল্প হওয়া যায় না। এজন্য সময় দিতে হবে। কিন্তু গত মাসে হঠাৎ করে বিসিবির কেন্দ্রীয় চুক্তি থেকে বাদ দেওয়া হয় উদীয়মান এই তারকা ক্রিকেটারকে। তরুণ এক ক্রিকেটারকে চুক্তি থেকে বাদ দেওয়ার অর্থ হচ্ছে তাকে নিরুৎসাহিত করা! তারপর কোনো ম্যাচ না খেলানোর পরও কিভাবে সেই মোসাদ্দেক নির্বাচকের মন জয় করে নিলেন? প্রধান নির্বাচক মিনহাজুল আবেদীন নান্নুর ব্যাখ্যা, অলরাউন্ডারের চিন্তা থেকেই মোসাদ্দেককে সুযোগ দেওয়া হয়েছে। মিরাজের ফিটনেস নিয়ে কিছুটা সংশয় আছে আমাদের। এখন পর্যন্ত মিরাজ শতভাগ ফিট নয়। ধীরে ধীরে ওর অবস্থার উন্নতি হচ্ছে। মিরাজের বিকল্প হিসেবে মোসাদ্দেক হোসেনকে সুযোগ দেওয়া হয়েছে। কেন্দ্রীয় চুক্তি থেকে বাদ দেওয়ার পর মোসাদ্দেক কীভাবে নির্বাচকদের বিবেচনায় এসেছেন,ওটা অন্য বিষয় (চুক্তি)। আমরা মনে করছি, টি-২০তে ভালো বোলিং করার যথেষ্ট দক্ষতা আছে মোসাদ্দেকের। ও যথেষ্ট প্রতিভাবান। মাঝখানে একটু ছন্দপতন হয়েছিল। এ মুহূর্তে ফিটনেসসহ নানা বিষয়ে ওকে দেখেই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। নির্বাচকদের নাটকীয় সিদ্ধান্তে মোসাদ্দেক দলেও ফিরলেও কপাল পুড়েছে তাসকিন আহমেদের। দল থেকে বাদ পড়েছেন এই গতি তারকা। যদিও তাসকিন এই মুহূর্তে পুরোপুরি ফিট নন। পিঠের ব্যথা তাকে যথেষ্ট ভোগাচ্ছে। কিন্তু শতভাগ ফিট না হওয়ার পরও তো মেহেদী হাসান মিরাজকে দলে রাখা হয়েছে। তা ছাড়া কেবল চোটের কারণেই যে তাসকিনকে দলে রাখা হয়নি এমন নয়। পারফরম্যান্সের কারণেও তাকে আফগানিস্তান সিরিজের জন্য বিবেচনায় আনেননি নির্বাচকরা। তাসকিনকে দলে না রাখার ব্যাখ্যায় মিনহাজুল আবেদীন বলেন,চোট, পারফরম্যান্স দুইই তাসকিনকে বাদ দেওয়ার পেছনের কারণ। সে নিদাহাস ট্রফিতে গিয়েই চোটে পড়েছিল। তবে চোটটা বেশ আগের। চোট থেকে সেরে ওঠার চেষ্টা করছে তাসকিন। আমাদের বিশ্বাস ওয়েস্ট ইন্ডিজ সিরিজের আগে সেরে উঠবে সে। বিসিবির কেন্দ্রীয় চুক্তি থেকে বাদ পড়েছেন সৌম্য সরকারও। তা ছাড়া নিদাহাস ট্রফিতে দাপট দেখাতে পারেননি। কিন্তু আফগানিস্তান সিরিজে দলে জায়গা করে নিয়েছেন। মিনহাজুলের ব্যাখ্যা,টি-২০তে আমরা যত খেলোয়াড় নিয়ে চিন্তা করি সবার আগে ওর কথাটা চলে আসে। বিষয়টি নিয়ে আমরা অধিনায়ক এবং কোচের সঙ্গেও কথা বলেছি। ওরা সৌম্যের ব্যাপারে ইতিবাচক। কোর্টনি ওয়ালশের সঙ্গে আমাদের সব সময় কথা হয়। যেহেতু ও নিদাহাস ট্রফিতে দলে ছিল সে কারণেই কোচের পরামর্শে তাকে দলে রেখেছি। তাসকিন ছাড়াও টি-২০ দল থেকে বাদ পড়েছেন ইমরুল কায়েস ও নুরুল হাসান সোহান। আফগানিস্তানের বিপক্ষে বাংলাদেশ সাকিব আল হাসান (অধিনায়ক), মাহমুদুল্লাহ রিয়াদ (সহঅধিনায়ক), তামিম ইকবাল, সৌম্য সরকার, লিটন কুমার দাস, মুস্তাফিজুর রহমান, সাব্বির রহমান, মোসাদ্দেক হোসেন সৈকত, আরিফুল হক, মেহেদী হাসান মিরাজ, নাজমুল ইসলাম অপু, আবু হায়দার রনি, রুবেল হোসেন, আবু জায়েদ রাহী। স্ট্যান্ডবাই : নুরুল হাসান সোহান, আবুল হাসান রাজু, নাঈম হাসান।...

প্লে-অফ নিশ্চিত করল কলকাতা

১৭২ রানের টার্গেটে ইনিংসের গোড়াপত্তন করতে আসেন সুনীল নারিন ও ক্রিস লিন। নারিন শুরু থেকেই ঝড় তোলেন। ৯ বলে ৪ চার ও ২ ছক্কায় করেন ২৯ রান। এর পরের বলে আউট হন। তিনি যখন সাকিবের বলে মানিষ পান্ডের হাতে ক্যাচ দিয়ে ফিরছিলেন তখন স্কোরবোর্ডে কলকাতার রান ৩.৪ ওভারে ৫৫! এরপর ক্রিস লিন ও রবীন উথাপ্পা কার্যকরী এক জুটি গড়েন। তারা দুজন ৬৭ রান যোগ করে ১৩.১ ওভারে দলীয় সংগ্রহকে নিয়ে যান ১১৯ রানে। এরপর লিন ৪৩ বলে ৪ চার ও ৩ ছক্কায় ৫৫ রান করে আউট হন। ১৬.৩ ওভারের সময় দলীয় ১৪৯ রানের মাথায় উথাপ্পাও আউট হন। তিনি ৩৪ বলে ৩ চার ও ২ ছক্কায় ৪৫ রান করে যান। এরপর দিনেশ কার্তিক অপরাজিত ২৬ রানের ইনিংস খেলে ৫ উইকেট ও ২ বল হাতে রেখে দলকে জিতিয়ে মাঠ ছাড়েন। এ জয়ের ফলে তৃতীয় দল হিসেবে প্লে-অফ নিশ্চিত করল কলকাতা নাইট রাইডার্স। বল হাতে সিদ্ধার্ধ কল ও কার্লোস ব্রেথওয়েট ২টি করে উইকেট নেন। ১টি উইকেট নেন সাকিব আল হাসান। আগে ব্যাট করতে নেমে টপ অর্ডার ব্যাটসম্যানরা দারুণ শুরু করেছিলেন হায়দরাবাদের। শিখন ধাওয়ান ৩৯ বলে ৫০, শ্রীভাট গোস্বামী ২৬ বলে ৩৫, কেন উইলিয়ামসন ১৭ বলে ৩৬ ও মানিষ পান্ডে ২৫ রান করেন। তাতে বড় সংগ্রহের ভিত পেয়েছিল হায়দরাবাদ। কিন্তু মিডল অর্ডারের ব্যাটসম্যানরা সুবিধা করতে না পারায় ৯ উইকেট হারিয়ে ১৭২ রানের বেশি করতে পারেনি পয়েন্ট টেবিলের শীর্ষে থাকা অরেঞ্জ আর্মিরা। বল হাতে কলকাতার প্রাসিদ কৃষ্ণ ৪ ওভার বল করে ৩০ রান দিয়ে ৪টি উইকেট নেন। ম্যাচসেরা নির্বাচিত হন ক্রিস লিন।...

বাংলাদেশির গান সালমানের রেইস থ্রি-তে

যুক্তরাজ্যের হয়ে কিক বক্সিংয়ে পাঁচবার বিশ্ব চ্যাম্পিয়ান আলী জ্যাকো বাংলাদেশী বংশোদ্ভূত একজন ব্রিটিশ নাগরিক। কিকবক্সিং থেকে সংগীত শিল্পি হয়ে ওঠা আলী জ্যাকো এবার বলিউডে পদার্পন করেছেন। বলিউডের ভাইজান খ্যাত সালমান খানের আলোচিত ছবি রেইস থ্রি তে এবার গান গেয়েছেন তিনি। আগামী ঈদে মুক্তির অপেক্ষায় থাকা রেইস থ্রি ছবিতে আলী জ্যাকোর সেই গানটির কথা ও সুর তার নিজের করা। আলী জ্যাকো জানান, গত সেপ্টেম্বরে সালমান খান লন্ডনে যান। সেখানে তিনি আলী জ্যাকোর গাওয়া গানগুলো তাঁর পছন্দ হয়। পরে সেগুলো থেকে ৭টি ইংরেজি গান নিয়ে দেশে ফিরেন সালমান। সেখান থেকে গানগুলো পুনরায় বাছাই করে আই ফাউন্ড লাভ গানটি রেইস থ্রি তে ব্যবহারের সিদ্ধান্ত নেন। এরপর আলী জ্যাকো গত ডিসেম্বরে জ্যাকো ভারতে যান। সেখানে গানটির হিন্দি সংস্করণের আনুষ্ঠানিক কাজ সম্পন্ন করেন।রেইস থ্রি টিমের সবাই তার গিটারে স্বাক্ষর করেন। পরে গানটি হিন্দি সংস্করণ করে রেইস থ্রি তে ব্যবহার করা হয়। তবে হিন্দি সংস্করণে গানটিতে কে কণ্ঠ দিয়েছেন সেটি চমক হিসেবেই রেখেছে রেইস থ্রি টিম। এর আগে তার নিজের লিখা ও সুর করা একাধিক গানে তিনি কণ্ঠ দিয়েছেন। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য আই ফাউন্ড লাভ ওনলি থিং আই সি হোয়াট ইফ আই লাভড ইউ লাইক দ্যাট এবং আর্মি অব অ্যাঞ্জেলসের। আর্মি অব অ্যাঞ্জেলস ইতিমধ্যেই একটি ইংরেজি চলচ্চিত্রের সাউন্ড ট্র্যাক হিসেবে মনোনিত হয়েছে।...

মাহবুবুল এ খালিদের নতুন গান বিশ্বকাপ নিয়ে

অনলাইন ও ইউটিউবে মুক্তি পেলো রাশিয়া বিশ্বকাপ ফুটবল ২০১৮ নিয়ে গান।বিশ্ব তোমার দৃষ্টি ফেরাও শিরোনামের গানটি লিখেছেন এবং সুর করেছেন মাহবুবুল এ খালিদ। গানটিতে কণ্ঠ দিয়েছেন ক্লোজআপ ওয়ান তারকা পুলক অধিকারী এবং বাংলাদেশ আইডল সানজিদা মাহমুদ নন্দিতা। গানটি শনিবার (১৯ মে) মাহবুবুল এ খালিদের নিজস্ব ওয়েবসাইট খালিদসংগীত ডটকম (www.khalidsangeet.com)-এ মুক্তি দেওয়া হয়। একই সঙ্গে গানটির একটি মিউজিক ভিডিও মাহবুবুল এ খালিদের ইউটিউব চ্যানেল খালিদসংগীত-এ প্রকাশ করা হয়। বিশ্ব তোমার দৃষ্টি ফেরাও, বাহুবলে নয় ফুটবলে/ চলো সবাই দল বেঁধে যাই, খেলার মাঠে সকল বিভেদ ভুলে। এমন কথামালায় শুরু হয়েছে গানটি। কণ্ঠশিল্পী নন্দিতা গানটি সম্পর্কে বলেন, খালিদ ভাইয়ের লেখা গানগুলো সবসময় একটু ভিন্নধর্মী হয়। তার গানের কথায় কোনো না কোনো মেসেজ থাকে। ফুটবল বিশ্বকাপ নিয়ে তার লেখা এবং সুর করা নতুন এই গানটিও এর ব্যতিক্রম নয়। আশা করছি দর্শক-শ্রোতাদের কাছে গানটি অনেক ভালো লাগবে। ফুটবল বিশ্বকাপ নিয়ে চমৎকার মাহবুবুল এ খালিদের গানটি শুনতে লিংকে ক্লিক করুন-https://www.youtube.com/watch?v=46HMA4RqqV8...

শংখ নদীতে ডুবে ২ পর্যটকের মৃত্যু:বান্দরবানে

বান্দরবানে বেড়াতে এসে গোসল করতে নেমে শংখ নদীতে ডুবে দুই পর্যটকের মৃত্যু হয়েছে। শনিবার দুপুর ২টায় রুমা বাজার সংলগ্ন বড়ুয়া পাড়া ঘাটে এ ঘটনা ঘটে। রুমা উপজেলা নির্বাহী অফিসার সামসুল আলম এ তথ্য নিশ্চিত করে জানান, পানিতে ডুবে মারা যাওয়া শান্তনু সরকার (২৬) এবং জুনায়েদ আহসান জুয়েলের (২৪) মরদেহ উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে আসা হয়েছে। স্থানীয় সূত্র জানায়, শান্তনু সরকার ঢাকার ইউনাইটেড ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির সিএসই বিভাগের প্রভাষক এবং জুনায়েদ আহসান জুয়েল ঢাকা টেক্সটাইল ইউনিভার্সিটির ছাত্র। অন্য আরো দুই বন্ধুসহ তারা চার বন্ধু গত বৃহষ্পতিবার বান্দরবানের রুমা উপজেলায় বগালেক পর্যটন কেন্দ্রে থাকেন। শনিবার সেখান থেকে রুমা উপজেলা সদরে পৌঁছে ওই ৪ বন্ধু শংখ নদীর বড়ুয়া পাড়া ঘাটে নামে। এক পর্যায়ে তারা ডুবতে শুরু করলে দুইজন সাঁতরে তীরে আসতে পারলেও শান্তনুকে রক্ষা করতে গিয়ে জুনায়েদও পানিতে তলিয়ে যায়।...

সেন্টমার্টিনে আটকা পড়েছেন সাত শতাধিক পর্যটক

বৈরী আবহাওয়ার কারণে কক্সবাজারের সেন্টমার্টিনে বেড়াতে গিয়ে আটকা পড়েছেন সাত শতাধিক পর্যটক। এ ছাড়া ভ্রমণে আসা প্রায় তিন হাজার পর্যটক সেন্টমার্টিনে যেতে পারেননি। বঙ্গোপসাগর নিম্নচাপের প্রভাবে বৈরী আবহাওয়ায় উপকূলে ৩ নম্বর সতর্কতা সংকেত জারি থাকায় শনিবার সকালে টেকনাফ থেকে কোনো জাহাজ সেন্টমার্টিন যায়নি। ফলে পর্যটকরা ফিরতে পারছেন না। তবে আটকাপড়া পর্যটকরা নিরাপদে আছেন বলে জানিয়েছে স্থানীয় প্রশাসন। আটকে পড়া এই পর্যটকরা শুক্রবার সকালে সেন্টমার্টিন ভ্রমণে গিয়েছিলেন। কক্সবাজার আবহাওয়া অধিদপ্তরের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ও সহকারী আবহাওয়াবিদ উজ্জ্বল কান্তি পাল বলেন, নিম্নচাপটি আরও উত্তর-উত্তর-পশ্চিম দিকে অগ্রসর ও ঘনীভূত হয়ে গভীর নিম্নচাপ আকারে একই এলাকায় অবস্থান করছে। এর প্রভাবে উত্তর বঙ্গোপসাগরে গভীর সঞ্চারণশীল মেঘমালার সৃষ্টি হচ্ছে। এ কারণে আবহাওয়া অধিদপ্তর থেকে ৩ নম্বর সতর্কতা সংকেত জারি করা হয়েছে। পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত সাগর ও নাফ নদীতে মাছ শিকার ও পর্যটকবাহী জাহাজ চলাচল বন্ধ রাখতে বলা হয়েছে। সেনমার্টিনে আটকে পড়া ঢাকার পেট্রোবাংলার ব্যবস্থাপক (সাধারণ) জিয়াউর করিম মুঠোফোনে বলেন, শুক্রবার সকালে ১৭ জন বন্ধু মিলে সেন্টমার্টিন দ্বীপে ভ্রমণে আসি। শনিবার সকালে জানতে পারি বৈরী আবহাওয়ার কারণে টেকনাফ থেকে কোনো জাহাজ সেন্টমার্টিন যাচ্ছে না। ফলে দ্বীপে আটকা পড়েছি সবাই। আমাদের মতো দ্বীপে আরও শত শত পর্যটক আটকা পড়েছে। পর্যটকবাহী জাহাজ কেয়ারি সিন্দাবাদের ব্যবস্থাপক মো. শাহ আলম বলেন, সাগর উত্তাল ও বৈরী আবহাওয়ার জাহাজ চলাচল বন্ধ রয়েছে। ফলে ভ্রমণে আসা প্রায় সাত শতাধিক পর্যটক দ্বীপে আটকা পড়েছেন। তারা বিভিন্ন হোটেল-মোটেলে নিরাপদে আছেন। সাগর স্বাভাবিক হয়ে গেলে সেন্টমার্টিনে আটকে পড়া পর্যটকদের ফিরিয়ে আনা হবে। শনিবার দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ার কারণে প্রায় পাচঁ শতাধিক পর্যটক সেন্টমার্টিন যেতে পারেননি উল্লেখ করে শাহ আলম জানান, এতে যাত্রীদের টিকিটের টাকা ফেরত দিতে হয়েছে। সেন্টমার্টিন ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান নুর আহমদ জানান, শুক্রবার সন্ধ্যায় হঠাৎ আবহাওয়া খারাপ হওয়ায় শনিবার সকাল থেকে টেকনাফ-সেন্টমার্টিন রুটে জাহাজ চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। এতে সেন্টমার্টিনে হাজার খানেক পর্যটক আটকা পড়ে। এর মধ্যে শনিবার সকালেই ঝুঁকি নিয়ে ট্রলারে করে প্রায় তিনশ পর্যটক টেকনাফ ফিরে গেছেন। এরপরও দ্বীপে সাত শতাধিক পর্যটক আটকা পড়েছেন। তাদের যাতে খাবারসহ কোনো ধরনের অসুবিধা না হয়, সে ব্যাপারে খেয়াল রাখা হচ্ছে। টেকনাফ মডেল থানার পরিদর্শক (তদন্ত) শেখ আশরাফুজ্জামান বলেন, সেন্টমার্টিনে আটকেপড়া পর্যটকরা যেন হয়রানির শিকার না হন, সে বিষয়ে খোঁজখবর নেওয়া হচ্ছে। দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ার কারণে জাহাজ চলাচল বন্ধ থাকায় তারা টেকনাফ ফিরতে পারেনি। টেকনাফ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) জাহিদ হোসেন সিদ্দিকী বলেন, বৈরী আবহাওয়ার কারণে জাহাজ চলাচল বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। সেন্টমার্টিনে আটকেপড়া পর্যটকদের খোঁজখবর নেওয়া হয়েছে। তারা সবাই নিরাপদে আছেন। পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে তাদের ফিরিয়ে আনা হবে।...

ঐতিহাসিক ৭ মার্চ

উত্তাল মার্চের সপ্তম দিন আজ। জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের অমর ভাষণের সেই ঐতিহাসিক দিন। দিনটি বাঙালির ইতিহাসে অবিস্মরণীয় ও গৌরবের। বীর বাঙালি ঐতিহাসিক ৭ মার্চ দিনটিকে বিশেষ মর্যাদায় পালন করে। ২০১৭ সালের ৩০ অক্টোবর ইউনেস্কো ৭ মার্চের বঙ্গবন্ধুর ভাষণকে বিশ্ব ঐতিহ্য দলিল হিসেবে স্বীকৃতি দেয়। প্যারিসে ইউনেস্কোর প্রধান কার্যালয়ে সংস্থাটির মহাপরিচালক ইরিনা বুকোভা এ ঘোষণা দেন। সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, বঙ্গবন্ধুর ৭ মার্চের ভাষণ বিশ্বের আন্তর্জাতিক রেজিস্টার স্মৃতিতে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। এটি ইউনেস্কোর তৈরি বিশ্বের গুরুত্বপূর্ণ প্রামাণ্য ঐতিহ্যের একটি তালিকা। ঐতিহাসিক ৭ মার্চ উপলক্ষে রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পৃথক বাণী দিয়েছেন। দিনটি উপলক্ষে আওয়ামী লীগ নানা কর্মসূচি পালন করবে। এর মধ্যে আওয়ামী লীগের উদ্যোগে আজ দুপুর ২টায় রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে এক জনসভা অনুষ্ঠিত হবে। আওয়ামী লীগ সভাপতি এবং প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা জনসভায় প্রধান অতিথির ভাষণ দেবেন। ইউনেস্কোর নিজস্ব ওয়েবসাইটে বঙ্গবন্ধুর ৭ মার্চের ভাষণ বিশ্ব ঐতিহ্য স্মরণিকা হিসেবে নির্বাচনের কারণ সম্পর্কে বলা হয়েছে, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ঐতিহাসিক ৭ মার্চের ভাষণ ১৯৭১ সালের ৭ মার্চ বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান কর্তৃক প্রদত্ত। তিনি ১৯৭১ সালে বাংলাদেশের জনগণের স্বাধীনতা সংগ্রামে নেতৃত্ব দিয়েছেন। এর আগে ১৯৭০ সালের সাধারণ নির্বাচনে পাকিস্তান জাতীয় পরিষদে আওয়ামী লীগ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করেছিল। কিন্তু ওই সময় পাকিস্তানের সামরিক শাসক আওয়ামী লীগ নেতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের কাছে ক্ষমতা হস্তান্তরে অস্বীকৃতি জানায়। ওই ভাষণ কার্যকরভাবে বাংলাদেশের স্বাধীনতা ঘোষণা করেছিল। ২০১৭ সালের ১৮ নভেম্বর বিকালে রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে নাগরিক সমাবেশে ঢাকায় নিযুক্ত ইউনেস্কোর কান্ট্রি ডিরেক্টর বিট্রিচ কালদুল বলেন, জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ৭ মার্চের ঐতিহাসিক ভাষণকে ডকুমেন্টারি হেরিটেজ হিসেবে মেমোরি অব দ্য ওয়ার্ল্ড ইন্টারন্যাশনাল রেজিস্টারে যুক্ত করে নিয়েছে ইউনেস্কো। এজন্য ইউনেস্কোও গর্বিত। তিনি বলেন, বঙ্গবন্ধুর ৭ মার্চের ভাষণটি ঐতিহাসিক নথি ও প্রামাণ্য দলিল হিসেবে বিবেচনা করা হয়েছে। একটি ভাষণের মাধ্যমে একটি জাতিকে একত্রিত করার ইতিহাসের দলিল এটি। একটি স্বাধীন রাষ্ট্রের ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট। ভাষণটির ওপর অনেক পর্যালোচনা করে দেখা যায়, এর ঐতিহাসিক গুরুত্ব অপরিসীম। ১৯৭১ সালের এই দিনে তৎকালীন রেসকোর্স ময়দানে (বর্তমান সোহরাওয়ার্দী উদ্যান) সমবেত লাখো মানুষকে উদ্দেশ করে বঙ্গবন্ধু বলেন- এবারের সংগ্রাম আমাদের মুক্তির সংগ্রাম, এবারের সংগ্রাম স্বাধীনতার সংগ্রাম। পাকিস্তানি শাসকদের অত্যাচার-শোষণের বিরুদ্ধে ধারাবাহিক আন্দোলনে সাড়া দেয়া জনতার কাছে বঙ্গবন্ধুর এ ঘোষণা ছিল শতভাগ প্রত্যাশিত। ভাষণে বঙ্গবন্ধু কৌশলে বাংলাদেশের স্বাধীনতা ঘোষণা দিলেও ঘোষণার মর্মার্থ বুঝতে পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠী খানিক দ্বিধায় পড়ে। তবে নতুন দেশের স্বপ্নে বিভোর বাঙালি জাতি ঠিকই বুঝে নেয় বঙ্গবন্ধুর ভাষণের তাৎপর্য। পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠীর বিরুদ্ধে লড়াই শুরু করার আহ্বানের অধীর অপেক্ষায় ছিল বাঙালি জাতি। বঙ্গবন্ধুর ৭ মার্চের ভাষণ সেই অপেক্ষার অবসান ঘটায়। বঙ্গবন্ধুর স্বাধীনতার ডাক বিদ্যুৎগতিতে ছড়িয়ে পড়ে সারা দেশে। ইতিহাস ঘেঁটে জানা যায়, ৭ মার্চ বিকাল ৩টা ১৯ মিনিটে বঙ্গবন্ধু রেসকোর্স ময়দানে উপস্থিত হন। লাখো মানুষের উপস্থিতিতে ময়দান ছিল কানায় কানায় পূর্ণ। উপস্থিত জনতাকে বঙ্গবন্ধু যুদ্ধের প্রস্তুতি নিতে নির্দেশ দেন। বঙ্গবন্ধু বলেন, এরপর যদি একটি গুলি চলে, এরপর যদি আমার লোককে হত্যা করা হয়- তোমাদের কাছে আমার অনুরোধ রইল, প্রত্যেক ঘরে ঘরে দুর্গ গড়ে তোল। তোমাদের যার যা কিছু আছে তাই নিয়ে শত্রুর মোকাবিলা করতে হবে। আমি যদি তোমাদের হুকুম দিবার নাও পারি, তোমরা সব বন্ধ করে দেবে। ... রক্ত যখন দিয়েছি, রক্ত আরও দেব। এই দেশের মানুষকে মুক্ত করে ছাড়ব ইনশাআল্লাহ। ওইদিন একই মঞ্চে বঙ্গবন্ধুর ভাষণের আগে বক্তব্য রাখেন আ স ম আবদুর রব, নূরে আলম সিদ্দিকী, শাজাহান সিরাজ, আবদুল কুদ্দুস মাখন, আবদুর রাজ্জাক প্রমুখ। বঙ্গবন্ধুর এই ১৯ মিনিটের ভাষণ মুক্তিযুদ্ধের ৯ মাস দারুণ অনুপ্রেরণা জুগিয়েছিল। আজও অনেকের কাছে বঙ্গবন্ধুর ওই ভাষণ অফুরান অনুপ্রেরণার উৎস। একাত্তরের এই ঐতিহাসিক দিনে কেবল বঙ্গবন্ধুর তরফেই নয়, কমিউনিস্ট বিপ্লবীদের পূর্ববাংলা সমন্বয় কমিটি স্বাধীন বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে গেরিলা যুদ্ধের আহ্বান জানায়। সংগঠনটির প্রচারপত্রে আহ্বান জানানো হয়-আঘাত হানো সশস্ত্র বিপ্লব শুরু করো জনতার স্বাধীন পূর্ববাংলা কায়েম করো। পূর্ব পাকিস্তান ন্যাশনাল আওয়ামী পার্টি-ন্যাপ (মুজাফফর) পাকিস্তানের শাসনতন্ত্রের জন্য ১৭ দফা প্রস্তাব দেয়। ওই প্রস্তাবে বিচ্ছিন্ন হওয়ার অধিকারসহ আত্মনিয়ন্ত্রণের অধিকারও দাবি করা হয়। আওয়ামী লীগের কর্মসূচি : ঐতিহাসিক ৭ মার্চ উপলক্ষে আওয়ামী লীগের কর্মসূচির মধ্যে রয়েছে- আজ সকাল সাড়ে ৬টায় রাজধানীর ধানমন্ডির বঙ্গবন্ধু ভবনসহ দলীয় সব কার্যালয়ে জাতীয় ও দলীয় পতাকা উত্তোলন এবং সকাল ৭টায় বঙ্গবন্ধু ভবন প্রাঙ্গণে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতিকৃতিতে দলের পক্ষ থেকে শ্রদ্ধা নিবেদন। এছাড়া দিনটি উপলক্ষে দুপুর ২টায় রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে জনসভায় আওয়ামী লীগ সভাপতি এবং প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা প্রধান অতিথির ভাষণ দেবেন। আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ঐতিহাসিক ভাষণের স্মৃতিবিজড়িত ৭ মার্চ পালন করতে আওয়ামী লীগ ঘোষিত সব কর্মসূচি যথাযোগ্য মর্যাদায় পালনের জন্য সংগঠনের সর্বস্তরের নেতাকর্মী এবং সহযোগী ও ভ্রাতৃপ্রতিম সংগঠনসহ সর্বস্তরের জনগণ ও দেশবাসীর প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন।...

আবার মুখোমুখি দেশের বড় দুই রাজনৈতিক দল , টান টান উত্তেজনা

আগামীকাল ৮ ফেব্রুয়ারি জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলার রায়কে কেন্দ্র করে রাজধানী ঢাকাসহ সারা দেশে টান টান উত্তেজনা চলছে। দুর্নীতির মামলায় বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার সাজা হবে নাকি তিনি খালাস পাবেন, আর সাজা হলে কেমন হবে পরিস্থিতি তা নিয়ে সর্বমহলে আলোচনা আছে। এ অবস্থায় দীর্ঘদিন পর আবার মুখোমুখি দেশের দুই বড় রাজনৈতিক দল আওয়ামী লীগ ও বিএনপি। ৮ ফেব্রুয়ারি মাঠ দখলে মরিয়া উভয় দল। পাল্টাপাল্টি প্রস্তুতি চলছে দুই পক্ষেই। রায় নেতিবাচক হলে প্রতিবাদ কর্মসূচির প্রস্তুতি নিচ্ছে বিএনপি। আর রাজপথে কোনো ধরনের সহিংসতা করতে না দেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে আওয়ামী লীগ। ওইদিন গণপ্রতিরোধ গড়ে তোলারও ঘোষণা দিয়েছে সরকারি দল। যে কোন অরাজক পরিস্থিতি মোকাবিলায় সর্বোচ্চ সতর্কতায় থাকবে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। বিএনপির নেতা-কর্মীদের ধারণা, দুর্নীতি মামলায় দলের চেয়ারপারসনের বিরুদ্ধে নেতিবাচক রায় হবে। একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপিকে বাইরে রাখতেই সরকার এ পথে হাঁটছে বলে তারা মনে করে। সে কারণে রায় নেতিবাচক হলেই আন্দোলনে যাবে বিএনপি। এ জন্য সব ধরনের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। খালেদা জিয়ার অনুপস্থিতিতে কার পরামর্শে দল চলবে সেসব সিদ্ধান্তও হয়েছে। আগামী ৮ ফেব্রুয়ারি সকাল থেকেই গুলশান বিএনপি নেত্রীর বাড়ি থেকে পুরান ঢাকার বকশীবাজারের বিশেষ আদালত পর্যন্ত রাজপথে থাকবে দলটির নেতা-কর্মীরা। এ জন্য দলের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাদের দায়িত্ব বণ্টন করে দেওয়া হয়েছে। সহযোগী সংগঠনগুলোকেও সেভাবে প্রস্তুতি নিতে বলা হয়েছে। গুলশান থেকে বকশীবাজার পর্যন্ত খালেদা জিয়া যে পথ দিয়ে আদালতে যাবেন সে পথে মানববন্ধনের মাধ্যমে নেতা-কর্মীরা ঢাকার শক্তি জানান দেবেন। তবে কোনো ধরনের উসকানি দেবে না তারা। আওয়ামী লীগের একাধিক সূত্র জানায়, দুর্নীতি মামলায় খালেদা জিয়ার সাজা হবে বলে মনে করেন তারা। সে কারণে ওইদিন রাজপথে বিএনপি ব্যাপক সহিংসতা করতে পারে বলে তাদের কাছে খবর আছে। তাই ওইদিন সকাল থেকে রাজধানীর পাড়া-মহল্লায় সতর্ক থাকবে আওয়ামী লীগ, সহযোগী সংগঠন ও ১৪ দলের নেতা-কর্মীরা। তারা পরিস্থিতির আলোকেই ব্যবস্থা গ্রহণ করবে। এ জন্য সব ধরনের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। ইতোমধ্যে রাজধানীর সকল থানাসহ এবং সারাদেশে পুলিশ সুপারদের প্রয়োজনীয় নিদের্শনা দেওয়া হয়েছে বলেও জানা গেছে। এ প্রসঙ্গে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল বলেন, ৮ ফেব্রুয়ারিকে ঘিরে সব ধরনের নৈরাজ্য পরিস্থিতি মোকাবিলা করতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী প্রস্তুত আছে। কোনো নাশকতা ও নৈরাজ্য করতে দেওয়া হবে না। এদেশের মানুষ তা সহ্য করবে না। এদিকে কেন্দ্রীয় ১৪ দল বৈঠক করে খালেদা জিয়ার রায়ের দিন মাঠে সতর্ক থাকার ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। বৈঠক শেষে আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য স্বাস্থ্যমন্ত্রী ও সংগঠনের মুখপাত্র মোহাম্মদ নাসিম বলেন, ১৪ দলের নেতা-কর্মীরা সতর্ক থাকবে। শুধু ৮ ফেব্রুয়ারি নয়, নির্বাচন পর্যন্ত সজাগ ও সতর্ক থাকবে তারা। ঢাকা মহানগর উত্তর আওয়ামী লীগ ইতিমধ্যে বর্ধিত সভা করে তারা রাজপথে সক্রিয় থাকার কথা জানান দিয়েছেন। ঢাকা মহানগর দক্ষিণ আজ গুলিস্তানের দলীয় কার্যালয়ে বর্ধিত সভার আয়োজন করেছে। একইভাবে আজ আওয়ামী লীগের সম্পাদকমণ্ডলীর সঙ্গে দলের সহযোগী ও ভ্রাতৃপ্রতিম সংগঠনের যৌথ সভার আয়োজন করা হয়েছে। সভা থেকে আগামী ৮ ফেব্রুয়ারির করণীয় নিয়ে আলোচনা হওয়ার কথা রয়েছে। কারা কোথায় এবং কীভাবে অবস্থান করবেন সেটা নির্দেশনা দেওয়া হবে। রাজনীতির অন্দরমহলে আলোচনা হচ্ছে, বকশীবাজারের আদালত থেকে কোন দিকে যাবেন খালেদা জিয়া। নানা আলোচনা। নানা মত। খালেদা জিয়া খালাস পেলে বিকল্পের আলোচনা নেই। তিনি সোজা গুলশানে যেতে পারবেন। অন্য কোথাও যাওয়াও তারই মর্জি। রায় বিপক্ষে গেলে গন্তব্য কোন দিকে হবে। বাংলাদেশের প্রচলিত বিচার ব্যবস্থায় সাধারণত কারও দণ্ড হলে কারাগারে না গিয়ে আপিলের সুযোগ নেই। তৃণমূল অবশ্য খালেদা জিয়ার বিপক্ষে রায় গেলে হার্ডলাইনে যাওয়ার পক্ষে। ঢাকার বাইরের নেতাদের কেউ কেউ ইতিমধ্যে খালেদা জিয়ার সঙ্গে দেখা করে তাদের মনোভাবের কথা জানিয়েছেন। সূত্রমতে, রাষ্ট্রীয় সম্পদ ধ্বংস, জ্বালাও পোড়াও করা শুরু করে তাহলে স্থানীয় জনগণ, পুলিশকে সঙ্গে নিয়ে প্রতিরোধ গড়ে তুলবে আওয়ামী লীগ। বিএনপিকে রাজপথে সহিংসতা করতে দেবে না তারা। মূলত জাতীয় নির্বাচনের আগে বিএনপিকে সাংগঠনিক শক্তি দেখানোর সুযোগ দিতে নারাজ ক্ষমতাসীন দল। ...

খুলনার অভিজ্ঞতায় জয় চায় আওয়ামী লীগ,দৃষ্টি এবার গাজীপুরে

খুলনা সিটি করপোরেশনের জয়ের অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে গাজীপুরে জয় চায় আওয়ামী লীগ। এ জন্য কেন্দ্র থেকে তৎপরতা শুরু হয়েছে। অভ্যন্তরীণ সমস্যাগুলো নিরসনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। অনৈক্য দূর করে ঐক্যবদ্ধ হয়ে দলীয় প্রার্থীর পক্ষে কাজ করতে বলা হচ্ছে। স্থানীয় নেতাদের নিয়ে দফায় দফায় বৈঠক করছেন দলের শীর্ষ নেতারা। নির্বাচনের সার্বিক মনিটরিং করবেন আওয়ামী লীগ সভানেত্রী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। ইতিমধ্যে তিনি ঐক্যবদ্ধ প্রচারণা ও উন্নয়ন চিত্র তুলে ধরতে কেন্দ্রীয় ও গাজীপুরের নেতাদের নির্দেশনা দিয়েছেন। এমপি-মন্ত্রী ও নেতাদের হুঁশিয়ারি দিয়েছেন-কোনো অজুহাত শুনতে চান না তিনি। খুলনার চেয়ে আরও ভালো ব্যবধানে গাজীপুরে দলীয় প্রার্থী বিজয়ী হবে বলে মনে করছেন ক্ষমতাসীনরা। গোপালগঞ্জের পর আওয়ামী লীগের শক্তঘাঁটি বলা হয় গাজীপুরকে। এ ছাড়া গত সিটি নির্বাচনে বিএনপি প্রার্থী আবদুল মান্নানকে ভোট দিয়ে প্রত্যাশিত সেবা পায়নি নগরবাসী। তাই, এবার সরকারদলীয় প্রার্থীকেই বেছে নেবেন প্রত্যাশা নেতাদের। সে কারণে প্রথমে অভ্যন্তরীণ কোন্দল নিরসনের জন্য জোর চেষ্টা চালানো হচ্ছে। নির্বাচনী প্রচারণা না থাকলেও দলের বর্ধিত সভা, ইফতার পার্টি, ও কর্মিসভার মাধ্যমে আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীদের ঐক্যবদ্ধ থাকতে বলা হচ্ছে। সূত্রমতে, খুলনার কৌশল ও ফল গাজীপুর সিটি নির্বাচনের কৌশল প্রণয়ন সহজ করে দিয়েছে। খুলনার নেতাদের ঐক্যবদ্ধ প্রচারণা ও কৌশল গাজীপুরের নেতাদের চোখে আঙ্গুল দিয়ে বলছে, নির্বাচনে জিততে হলে ঐক্যের বিকল্প নেই। গাজীপুর সিটিতে নির্বাচনী প্রচারণা শুরু থেকেই অভ্যন্তরীণ সমস্যা ছিল। নির্বাচন স্থগিত হওয়ার কারণে পূর্বের ভুলত্রুটিগুলো সংশোধন করে জয়ের মিশনে মাঠে নামছে ক্ষমতাসীনরা। এই পর্যায়ে গত রবিবার আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় ১৩ জন নেতা গাজীপুরে গিয়ে স্থানীয় এমপি জাহিদ আহসান রাসেলের বাসায় বৈঠক করেছেন। বৈঠকে কেন্দ্রীয় নেতারা অনৈক্য দূর করে স্থানীয় নেতা-কর্মীদের ‘ঐক্যবদ্ধ’ হয়ে দলীয় মেয়রপ্রার্থী জাহাঙ্গীর আলমকে বিজয়ী করার নির্দেশ দেন। একই সঙ্গে জাহাঙ্গীর আলমকে উদার ও নমনীয় হয়ে সবাইকে সঙ্গে নিয়ে কাজ করতে বলেন নেতারা। সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্র এ তথ্য জানিয়েছে। গত সোমবার মন্ত্রিপরিষদ বৈঠকে অনির্ধারিত আলোচনায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, খুলনা সিটিতে আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীরা ঐক্যবদ্ধ ছিল। সরকারের উন্নয়নগুলো প্রচারণা চালানো হয়েছে। প্রার্থীরও ইমেজ ছিল। সব মিলে আমাদের জয় এসেছে। গাজীপুরের স্থানীয় এমপি ও মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল হক, মহিলা ও শিশু বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী মেহের আফরোজ চুমকির উদ্দেশে বলেন, এই নির্বাচনে কোনো রকম ঝামেলা যেন না হয়। ঐক্যবদ্ধ হয়ে প্রার্থীকে জয়ী করতে হবে। মনে রাখতে হবে, প্রার্থী কে হলো সেটা বিষয় নয়, নৌকাকে বিজয়ী করতে হবে। আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট জাহাঙ্গীর কবির নানক বলেন, খুলনার বিজয়ে দলীয় প্রচারণায় যে মূলমন্ত্র কাজে লাগানো হয়েছিল তা গাজীপুরের নির্বাচনেও কাজে লাগানো সম্ভব। খুলনায় আমাদের দলের নেতা-কর্মীরা ঐক্যবদ্ধভাবে মাঠে ছিল। গাজীপুরেও সেই সুযোগ কাজে লাগাব। তিনি বলেন, খুলনার মানুষ বর্তমান বিএনপির মেয়রের দ্বারা যেমন কোনো উন্নয়ন পায়নি, তেমনি গাজীপুরেও বিএনপির মেয়র কোনো উন্নয়ন করেনি। ভোটের মাধ্যমে খুলনার মানুষ যেমন জনপ্রিয় ব্যক্তিকে বিজয়ী করেছেন, ঠিক গাজীপুরেও তাই করবেন। এ প্রসঙ্গে সিটি নির্বাচনের সমন্বয়কের দায়িত্ব পাওয়া এবং ঢাকা বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক ব্যারিস্টার মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল বলেন, ‘সিটি নির্বাচনে এখনো প্রচারণা শুরু হয়নি। তাই এই মুহূর্তে আমরা সাংগঠনিক কার্যক্রম পরিচালনা করছি। আমরা দলকে গুছিয়ে নিচ্ছি। যেখানে ছোটখাটো সমস্যা ছিল সেগুলো নিরসন করছি।’ তিনি বলেন, ‘খুলনা সিটির চেয়ে গাজীপুরে ভোটার অনেক বেশি। তাই আমরা কেন্দ্রীয়ভাবে কোনো প্রচারণা চালাব না। অঞ্চলভিত্তিক প্রচারণায় বেশি গুরুত্ব দেব। এ জন্য সিটিকে আটটি ভাগে বিভক্ত করা হয়েছে। গাজীপুরের মানুষ নৌকাকে ভোট দিয়ে বিজয়ী করবেন—এমন আশা করতেই পারি।’ গাজীপুর সিটি নির্বাচন গত ১৫ মে হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু একটি রিটের কারণে তা স্থগিত হয়ে যায়। আপিল করা হলে তা আগামী ২৬ জুন ভোটগ্রহণের নির্দেশ দেয় আদালত। এতে করে এই এক মাস অতিরিক্ত সময় পায় প্রার্থীরা। গত ১৫ মে খুলনা সিটি করপোরেশন নির্বাচনে আওয়ামী লীগের প্রার্থীর বিজয়ে গাজীপুর মহানগর আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীরা অনেকটাই উজ্জীবিত। তারা মনে করছেন, রমজান মাস ও ঈদের কারণে এক মাস সময়ের মধ্যে দলীয় নেতা-কর্মীদের মান-অভিমান ভেঙে ঐক্যবদ্ধ আওয়ামী লীগ গাজীপুরে মেয়র পদে নৌকার বিজয়কে ছিনিয়ে আনতে সক্ষম হবে। এ ছাড়াও এই নির্বাচনকে জাতীয় নির্বাচনের আগে চ্যালেঞ্জ হিসেবেও দেখছেন কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতারা। সংসদ নির্বাচনের আগে জয়ের বিকল্প ভাবছেন তারা।...

বিএনপিকে সন্ত্রাসী সংগঠন হিসেবে আখ্যায়িত করে আগের দেয়া রায় বহাল রাখল কানাডার ফেডারেল কোর্ট

বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল, বিএনপিকে সন্ত্রাসী সংগঠন হিসেবে আখ্যায়িত করে আগের দেয়া রায় বহাল রেখে কানাডার ফেডারেল কোর্ট সেখানে আশ্রয়প্রার্থী এক যুবদল নেতার রিভিউ আবেদন খারিজ করে দিয়েছে। গত ৪ মে কানাডার ফেডারেল কোর্ট কামালের রিভিউ আপিলের রায় ঘোষণা করে, যা তাদের ওয়েবসাইটে প্রকাশ করা হয় সোমবার। রায়ের কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, বিএনপি’কে ‘সন্ত্রাসী দল’ বলে মন্ত্রীর বক্তব্যকেই আবারও মেনে নিয়েছেন ফেডারেল কোর্ট। আশ্রয়প্রার্থী মোস্তফা কামাল ২০১৫ সালে বাংলাদেশ ছেড়ে কানাডায় যান। তার আবেদনের বিষয়ে কানাডীয় সরকার আদালতকে তখন বলেছিল, তিনি বাংলাদেশে বিএনপি নামে যে রাজনৈতিক দলের সদস্য পরিচয়ে আশ্রয় চাচ্ছেন, সেই রাজনৈতিক দল সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে যুক্ত। দেশটির জননিরাপত্তা ও জরুরি তৎপরতা বিষয়ক মন্ত্রী আদালতে দাবী করেন, বিএনপি বল প্রয়োগের মাধ্যমে বাংলাদেশ সরকারকে ক্ষমতাচ্যুত করার চেষ্টা চালাচ্ছে। কানাডিয়ান বর্ডার সিকিউরিটি এজেন্সি (সিবিএসএ)-এর তৈরি একটি প্রতিবেদনের প্রেক্ষিতে এ দাবি করেন তিনি। মোস্তফা কামালের রিভিউ আবেদনের পর ফেডারেল কোর্ট কানাডার অভিবাসন ও শরণার্থী বোর্ডের অভিবাসন বিভাগ (আইডি)-কে জননিরাপত্তা ও জরুরি তৎপরতা বিষয়ক মন্ত্রীর দাবির সত্যতা যাচাইয়ের নির্দেশ দেন। ওই প্রতিবেদনসহ সম্পূর্ণ বিষয়টি যাচাই ও পুনর্বিবেচনা করে এবং পরবর্তী শুনানিগুলোতে মন্ত্রীর যুক্তি পর্যালোচনা করে আইডি কানাডা সরকারের আগের বক্তব্যই সঠিক বলে সিদ্ধান্তে আসে। আইডি তার সিদ্ধান্তে জানায় বিএনপির আচরণকে ‘উম্মত্ত সহিংসতা’ বলে আখ্যায়িত করে। ব্রিটিশ পত্রিকা দ্য গার্ডিয়ান, মানবাধিকার সংগঠন হিউম্যান রাইটস ওয়াচ ও অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালের প্রতিবেদন বিবেচনা করে আইডি এই সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে বলে উল্লেখ করা হয় রায়ে। কামাল ২০০৬ সাল থেকে ২০০৮ সাল পর্যন্ত বিএনপির প্রচার সম্পাদক ছিলেন বলে দাবী করেন। তার আশ্রয় প্রার্থনার আবেদন বাতিল হয়ে গেলে তিনি যুবদলের প্রচার সম্পাদক ছিলেন, বিএনপির নয় বলে রায় পুনর্বিবেচনার দাবী জানান। রিভিউতে বলা হয়, কামাল অনুবাদক ও উকিলের সহায়তা নিয়ে আবেদনের ফর্ম পূরণ করেছিলেন এবং শেষ মুহূর্তে তিনি তার দেয়া তথ্য অস্বীকার করেছেন। এছাড়াও যুবদল বিএনপিরই অঙ্গ সংগঠন, এই বিষয়টিও বিবেচনা করে আদালত।...

রমজানে স্বাস্থ্য ঠিক রাখার উপায়

রমজানে খাবার গ্রহণের ক্ষেত্রে সচেতনতা ও সতর্কতা মানুষের স্বাস্থ্যগত সমস্যা মোকাবেলা করতে পারে। পুষ্টিবিদদের মতামতের আলোকে জেনে নিন রমজানে স্বাস্থ্য ঠিক রাখার উপায়:ভাজাপোড়া খাবার না খাওয়া অনেকে মনে করেন ইফতারে ভাজা পোড়া না থাকলে ইফতারই হবে না। কিন্তু দিনভর অভুক্ত থাকার পর ভাজাপোড়া, তৈলাক্ত, গরম খাবার পেটে নানা ধরনের সমস্যা তৈরি করতে পারে। পেট জ্বালাপোড়া করতে পারে।সেহরি খাওয়ার অভ্যাস করা ফজরের আজানের কিছু আগে সেহরি খাওয়ার অভ্যাস করুন। এটাই সঠিক অভ্যাস। এ সময়ে সেহরি খাওয়ার ফলে ফজরের নামাজটাও পড়া হয়ে যাবে। তাছাড়া দিনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ খাবারও এটি।শীতল স্থানে অবস্থান করা দিনের সবচেয়ে গরম সময়টিতে শীতল স্থানে থাকার চেষ্টা করুন। হতে পারে অফিস, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান বা বাড়ি। শারীরিক পরিশ্রমের মাত্রা যথাসম্ভব কমিয়ে আনুন। সম্ভব হলে নিয়মিত বিরতিতে বিশ্রাম নিন।পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন থাকা নিয়মিত হাত ধোঁয়ার অভ্যাস করুন। পরিস্কার-পরিচ্ছন্ন থাকুন। কারো সর্দি-কাশি বা হাঁচি হলে সাবধান থাকুন। কারণ এর মাধ্যমে আপনার শরীরে ভাইরাস জ্বর বা এ জাতীয় কোনো রোগের জীবাণু সংক্রমণ ঘটতে পারে। আর ধূমপানের অভ্যাস থাকলে তা ত্যাগ করুন।পর্যাপ্ত ঘুমপর্যাপ্ত ঘুমের দিকেও লক্ষ্য রাখতে হবে। কেননা সাত থেকে আট ঘণ্টার কম ঘুম আপনার রোগ-প্রতিরোধ ক্ষমতাকে কমিয়ে দেবেধীরে ধীরে খাবার খানসারাদিন খাবার না খাওয়ায় রোজার মাসে শরীরের পুষ্টির চাহিদা থাকে আলাদা। তাই ইফতারে একসঙ্গে অনেক কিছু খাবেন না। ধীরে ধীরে খান। কিছু খেজুর এবং পানি দিয়ে ইফতার শুরু করুন এবং ধীরে ধীরে অন্য খাবারগুলো খান...

পায়ের গন্ধ দূর করবেন কীভাবে?

ছোট থেকে বড় অনেকেই পায়ে মোজা পরতে ভয় পান। কারণ কিছুক্ষণ পায়ে পরে থাকলেই মোজা থেকে কটু গন্ধ বেরয়। এমনকী এও দেখা গিয়েছে, মোজা না পরলেও পায়ে গন্ধ হচ্ছে অনেকের। গন্ধ হয়ে থাকে জুতো। প্রতিদিন রোদে না শুকিয়ে নিলে পায়ে পরা যায় না। খেয়াল করলে দেখা যাবে এই সব মানুষের পায়ের সঙ্গে হাতের তালুও ঘামে। বস্তুত, এই ঘাম বেরনোর সঙ্গেই রয়েছে শরীরে দুর্গন্ধ হওয়ার মূল যোগাযোগ। #ঘাম কেন হয়? ঘাম হল আমাদের শরীর থেকে বেরনো তরল পদার্থ। ত্বকের নিচে থাকা এক্রাইন গ্রন্থি থেকে ঘাম নির্গত হয়। দেহের তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণে রাখতে ঘর্মগ্রন্থির যথেষ্ট ভূমিকা রয়েছে। দেহের উষ্ণতার তুলনায় বাইরে পরিবেশের তাপমাত্রা বেড়ে গেলে আমরা ঘামতে শুরু করি। এভাবেই শরীর ঠান্ডা হয়। মানবশরীরে প্রায় ৪০ লক্ষ এক্রাইন গ্রন্থি ছড়িয়ে রয়েছে। মজার ব্যাপার হল, সারা শরীরে ঘর্মগ্রন্থি ছড়িয়ে থাকলেও হাত পায়ের তালুতে ঘর্মগ্রন্থির ঘনত্ব সবচাইতে বেশি। কারও কারও ক্ষেত্রে হাতের এবং পায়ের তালু বেশি ঘামে। এইসব মানুষের হাত ও পায়ের তালুর এক্রাইন গ্রন্থি কোনও কারণ ছাড়াই বেশি পরিমাণে ঘাম নিঃসরণ করে। এই ধরনের সমস্যাকে বলে পামোপ্লান্টার হাইপারহাইড্রোসিস। বাচ্চা থেকে বড় সবাই এই অসুখে ভুগতে পারেন। দেখা গিয়েছে, আবেগ, মানসিক চাপ নানা কারণে হাত এবং পায়ের তালু ঘামতে থাকে। অফিসের একটু কঠিন কাজ পড়ে গেলে, টেনশন হলে, বাড়ির বাইরে হঠাৎ কোনও অপ্রীতিকর পরিস্থিতিতে পড়লে হাতের ও পায়ের তালু ঘামার সঙ্গে হাত কাঁপার সমস্যাও হয়। ছাত্রছাত্রীদের ক্ষেত্রে হাত ঘামার কারণে পরীক্ষার খাতা ভিজে যায়। বড়দের ক্ষেত্রে জরুরি কাগজে সই করার সময় কাগজ ভিজে নষ্ট হয়ে যায়। এমনকী যাদের হাতের তালু ঘামার সমস্যা থাকে তাদের সেনাবাহিনীতেও নেওয়া হয় না। কারণ ঘামের কারণে হাত থেকে অস্ত্র পিছলে যাওয়ার আশঙ্কা থাকে। দেখা গিয়েছে যাঁদেরই বেশি ঘাম হয়, তাঁরা শরীর থেকে খুব খারাপ গন্ধ হওয়ার অভিযোগ জানান। #কেন হয় দুর্গন্ধ? আসলে শরীর থেকে ঘাম বেরলে বিশেষ ধরনের ব্যাকটেরিয়া বংশবৃদ্ধি করতে থাকে। এই ব্যাকটেরিয়ার নাম স্ট্যাফাইলোকক্কাস হোমিনিস। এই ব্যাকটেরিয়াই দুর্গন্ধের মূল উৎস। তাই যাঁদের পা বেশি ঘামে তারা মোজা পরলে পায়ে আর মোজায় বেশ দুর্গন্ধ হয়। # চিকিৎসা: এই ধরনের সমস্যার চটজলদি সমাধান নেই। তবে নানাভাবে চিকিৎসা করার সুযোগও রয়েছে। রোগীর অবস্থা বুঝে চিকিৎসক অ্যালুমিনিয়াম হেক্সাহাইড্রেট লোশন, ফর্ম্যালডিহাইড এবং গ্লুটারালডিহাইড দ্রবণ, বটুলিনিয়াম টক্সিন জাতীয় ইঞ্জেকশন ও আয়নটোফোরেসিস পদ্ধতিতে চিকিৎসা করার কথা ভাবেন। এমনকী দরকার পড়লে অপারেশনও রয়েছে। #লোশন: প্রতিদিন রাতে পা শুকনো করে মুছে নিয়ে তারপর অ্যালুমিনিয়াম হেক্সাহাইড্রেট লোশন মাখতে হবে। সকালে উঠে পা ধুয়ে ফেললেই চলে। রোগীকে একটানা বেশ কিছুদিন ধরে এইভাবে লোশন দিয়ে চিকিৎসা করতে হতে পারে। সাধারণত যে পথে ঘাম বেরিয়ে ত্বকে আসে, সেই কূপের মুখ বন্ধ করে দেয় লোশন। তবে পায়ের ফাটা অংশে এই লোশন ব্যবহার করা যাবে না। সেক্ষেত্রে পায়ে নানা ধরনের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া দেখা দেওয়ার আশঙ্কা থাকে। # দ্রবণ: রোগীরা চাইলে ফর্ম্যালডিহাইড এবং গ্লুটারালডিহাইড দ্রবণে হাত এবং পা ডুবিয়ে রাখতে পারেন। এভাবে ত্বকের উপরে আক্রান্ত জায়গাগুলির চিকিৎসা করা যায়। # আয়নটোফোরেসিস: একটি যন্ত্র এবং ট্যাপ কলের জলের সাহায্যে মৃদু বিদ্যুৎ তরঙ্গ (১৫ থেকে ২০ মিলি অ্যাম্পেয়ার) প্রয়োগ করা হয় ত্বকের উপরিভাগে। পর পর ১০ দিন ৩০ মিনিট করে এই চিকিৎসা চালাতে হয়। এরপর সপ্তাহে ১ বা ২ দিন এই চিকিৎসা করালেই চলে। এর সঙ্গে অ্যান্টিকোলিনার্জিক ওষুধও দেওয়া হতে পারে। # বটুলিনাম টক্সিন: হাত ও পায়ের ঘাম ও দুর্গন্ধ বাগে আনতে বটুলিনাম টক্সিন ইঞ্জেকশন দেওয়া যায়। ভয় পাওয়ার কিছু নেই। এই চিকিৎসা প্রায় ব্যথাহীন। ক্ষুদ্রাকৃতি সুঁচের সাহায্যে হাত পায়ের তালুতে ইঞ্জেকশনের সাহায্যে ওষুধ পুরে দেওয়া হয়। # মুখে খাওয়ার ওষুধ: মুখে খাওয়ার অ্যান্টিকোলিনার্জিক ওষুধ রয়েছে। ওষুধগুলি ঘাম নিঃসরণ রোধ করে। তবে এই ওষুধগুলির কিছু পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া রয়েছে। নিয়মিত এই ওষুধ সেবনে রোগীর মুখ ও চোখে চোখ শুষ্কভাব দেখা যায়। হতে পারে কোষ্ঠকাঠিন্য। কারও কারও ক্ষেত্রে ইউরিন করতেও সমস্যা দেখা দেয়। দুঃশ্চিন্তা কমানোর যে সমস্ত ওষুধ রয়েছে সেগুলি খেলেও সমস্যা কিছুটা কমে, তবে এই ধরনের ওষুধের প্রতি রোগীর আসক্ত হয়ে পড়ার আশঙ্কা থাকে। #অপারেশন: রোগীর শোচনীয় অবস্থা না হলে এবং সব ধরনের চিকিৎসা ব্যর্থ হলে তারপর অপারেশনের কথা ভাবেন চিকিৎসক। তবে সার্জারি করালে রোগীর সমস্যার স্থায়ী সমাধান হয়। এই অপারেশনের নাম সার্জিকাল সিমপ্যাথেকটমি। বড়সড় কাটাছেঁড়া করতে হয় না। মিনিমালি ইনভেসিভ এন্ডোস্কোপিক পদ্ধতিতে সার্জারি করা হয় বলে রোগীর শরীরে সামান্য ক্ষত তৈরি হয়। রোগী খুব দ্রুত সুস্থ হয়ে বাড়ি ফেরেন। ঘরোয়া উপায় #পায়ের দুর্গন্ধের কারণ কী? # শরীরের অত্যধিক ঘাম এবং মৃত কোষ হল ব্যাকটেরিয়ার খাবার। সেই খাবার খেয়ে ব্যাকটেরিয়া একধরনের রাসায়নিক নিঃসরণ করে। এই রাসায়নিকই দুর্গন্ধের উৎস। সারা শরীরের অন্যান্য অংশের থেকে পায়ে বেশি দুর্গন্ধ হওয়ার কারণ হল পা বেশি ঢাকাঢাকিতে থাকে। দেখবেন, বেশিরভাগ মানুষেরই মোজা খোলার পর পা থেকে দুর্গন্ধ বেরচ্ছে। মোজা এবং ঢাকা জুতো পরার কারণে পায়ে বায়ু চলাচলে সমস্যা হয়ে অতিরিক্ত ঘাম তৈরি হয়। তবে এছাড়াও নির্দিষ্ট অঞ্চলে রক্ত সঞ্চালন কম হওয়াও অত্যধিক ঘামের অন্যতম কারণ। ডায়াবেটিস মেলিটাস, হার্টের রোগ ইত্যাদি বিভিন্ন সমস্যা থেকে পায়ে স্বাভাবিক রক্তসঞ্চালন ব্যহত হওয়ার আশঙ্কা থাকে। প্রাচীন আয়ুর্বেদ শাস্ত্র অনুযায়ী, বায়ু, পিত্ত এবং কফ হল শরীরের চালিকাশক্তির উৎস। শরীরে এগুলির অসামঞ্জস্যতা নানাবিধ সমস্যা ডেকে আনে। এখানে সমস্যার মূলে রয়েছে পিত্ত। আয়ুর্বেদ মতে, পিত্ত প্রকৃতির মানুষের ঘাম বেশি হয়। পিত্ত প্রকৃতির মানুষের লক্ষণগুলি হল—এরা গরম সহ্য করতে পারেন না। অম্ল জাতীয় খাদ্য খান (টক)। অন্যান্যদের তুলনায় একটু বেশিই চনমনে থাকেন ইত্যাদি। এছাড়াও পিত্ত বৃদ্ধিকারক আহার (খাদ্য) এবং বিহারের (জীবনযাপন) মাধ্যমেও অনেকের শরীরে পিত্ত বৃদ্ধি পায়। আবার শরীর গঠনের সাতটি ধাতুর মধ্যে মেদ ধাতুর (ফ্যাট) পরিমাণ বেশি থাকলেও অতিরিক্ত ঘাম হয়। # শীতে পায়ে দুর্গন্ধের সমস্যা বাড়ে কেন? #এভাবে শীত বলে নির্দিষ্ট কোনও ঋতুকে দায়ী করা ঠিক নয়। আসলে সমস্যাটা হল ঘামের। বেশিরভাগ মানুষ সারা বছর খোলা জুতো পরেন। মোজাও পরেন না। ফলে পায়ে ভেন্টিলেশনের কোনও সমস্যা হয় না। তাই দুর্গন্ধও থাকে না। অথচ শীত আসতেই শুরু হয় মোজা এবং পা ঢাকা জুতোর ব্যবহার। সেখান থেকে ঘাম। ঘাম থেকে দুর্গন্ধ। তাই শীত বলে আলাদা করে বলা যায় না। যাঁদের বেশি ঘাম হয়, তাঁরা সারা বছরই এই সমস্যায় ভুগতে পারেন। # চিকিৎসা কী? # চিকিৎসার প্রথম ধাপ হল শরীরের সেই নির্দিষ্ট জায়গার যত্ন। এটা দুভাবে করা যেতে পারে। প্রথমটি হল, পায়ের ভেন্টিলেশন নিশ্চিত করা। আর দ্বিতীয়টি অবশ্যই সেই জায়গার ব্যাকটেরিয়া নিধন। এবার এমন কয়েকটি আয়ুর্বেদিক চিকিৎসা পদ্ধতি সম্বন্ধে জেনে নেওয়া যাক # জলে কয়েকটি নিম পাতা ফেলে ফুটিয়ে ফেলুন। এবার সেই জল সহনযোগ্য ঊষ্ণতায় এলে পা দুটিকে ভালো করে পরিষ্কার করতে হবে। নিমের অ্যান্টিব্যাকটেরিয়াল ক্ষমতা জীবাণু নিধনে বিশেষভাবে কার্যকরী # অগ্নেয়গিরি থেকে উঠে আসা লাভা জমে পাথরে (ভলক্যানিক রক) পরিণত হয়। এই পাথরের নাম জিওলাইট। বাজারে প্যাকেটের মধ্যে জিওলাইট ভরে বিক্রি করা হয়। এই পাউচ প্যাকেটটি মোজার মধ্যে ভরে ব্যবহার করলেও পায়ের দুর্গন্ধ দূর হয় # গরম জলে চা মিশিয়ে তার মধ্যে দুটি পা আধঘণ্টা চুবিয়ে রাখলেও উপকার পাবেন। চায়ে উপস্থিত ট্যানিন নামক পদার্থটি ভালো অ্যান্টিব্যাকটেরিয়াল ক্ষমতাসম্পন্ন # স্নান করার মোটামুটি আধঘণ্টা আগে পায়ে চন্দনাদি তেল ভালো করে মালিশ করে নিলেও পায়ে দুর্গন্ধের সমস্যা প্রতিহত করা সম্ভব # পায়ে ব্রাহ্মী তেল লাগালেও দুর্গন্ধ দূর হয় # এক্ষেত্রে আয়ুর্বেদের পঞ্চকর্ম থেরাপির অন্তর্গত বিরেচন (পারগেশন) অত্যন্ত ফলপ্রসূ। এই পদ্ধতিতে বিভিন্ন উপায়ে শরীরে ইলেকট্রোলাইটের ভারসাম্য বজায় রেখে প্রায় ৩০ বার মলত্যাগ করানো হয় # আমলকী হল পিত্তনাশক ফল। তাই প্রতিদিন ১ চামচ বা ৩ থেকে ৬ গ্রাম আমলকী চূর্ণ (পাউডার) ঘি-এর সঙ্গে মিশিয়ে খেলে শরীরের পিত্তবৃদ্ধিজনিত সমস্যা নিয়ন্ত্রণে আসে # প্রতিদিন ১ চামচ ত্রিফলা চূর্ণ (হরীতকী, আমলকী ও বহেরা) ঘি মিশিয়ে খেলে ভালো ফল পাবেন # বিভিন্ন যোগ ব্যায়ামের মধ্যে পিত্তনাশক হিসাবে প্রাণায়াম করা খুবই উপকারী। তাই নিয়মিত প্রাণায়াম করুন # এছাড়াও নিয়মকরে ব্যবহৃৎ মোজা ও জুতো পরিষ্কার করতে হবে। চেষ্টা করুন খোলা জুতো পরার। মোজা সুতির কাপড়ের হলেই ভালো। দিনের শেষে পা ভালো করে পা ধুয়ে নিন। পায়ের গন্ধ দূর করবেন কীভাবে? ...

দেশের বেসরকারি চিকিৎসাসেবা নিয়ন্ত্রণহীন হয়ে পড়ছে :টিআইবি

ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি) বলেছে, দেশের বেসরকারি চিকিৎসাসেবা খাতে বাণিজ্যিকীকরণের প্রবণতা প্রকট আকার ধারণ করেছে। ঘাটতি রয়েছে বেসরকারি চিকিৎসাসেবায় সরকারের যথাযথ মনোযোগের । এতে একদিকে এটি নিয়ন্ত্রণহীন হয়ে পড়ছে, অন্যদিকে কিছু ব্যক্তির এ খাত থেকে বিধিবহির্ভূত সুযোগ-সুবিধা আদায়ের সুযোগ সৃষ্টি হচ্ছে। আজ বুধবার রাজধানীর ধানমন্ডিতে টিআইবি কার্যালয়ে বেসরকারি চিকিৎসাসেবা : সুশাসনের চ্যালেঞ্জ ও উত্তরণের উপায় শীর্ষক গবেষণা প্রতিবেদন প্রকাশ করা হয়। গবেষণায় দেশের বিভিন্ন জেলায় নিবন্ধিত ১১৬টি (হাসপাতাল ৬৬টি এবং রোগনির্ণয় কেন্দ্র ৫০টি) বেসরকারি চিকিৎসাসেবা প্রতিষ্ঠান থেকে তথ্য সংগ্রহ করা হয়। গবেষণায় বেসরকারি চিকিৎসা খাত সংশ্লিষ্ট আইন ও নীতি পর্যালোচনা, প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা, এসব প্রতিষ্ঠানের চিকিৎসাসেবা, বেসরকারি চিকিৎসাসেবার বিপণন ব্যবস্থা, তথ্যের স্বচ্ছতা, তদারকির বিষয়গুলো পর্যবেক্ষণ করা হয়। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন টিআইবির নির্বাহী ব্যবস্থাপনা উপদেষ্টা সুমাইয়া খায়ের, টিআইবির গবেষণা ও পলিসি পরিচালক মোহাম্মদ রফিকুল হাসান। গবেষণা প্রতিবেদন উপস্থাপন করেন টিআইবির প্রোগ্রাম ম্যানেজার তাসলিমা আক্তার এবং ডেপুটি প্রোগ্রাম ম্যানেজার মো. জুলকারনাইন। ফলাফলে দেখা যায়, গবেষণায় অন্তর্ভুক্ত ১১৬টির মধ্যে ৯৭টি প্রতিষ্ঠান পরিবেশ অধিদপ্তরের ছাড়পত্র নেয়নি। এ ছাড়া বেসরকারি চিকিৎসাসেবা প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রম নিয়ন্ত্রণের জন্য প্রধান আইন দ্য মেডিকেল প্র্যাকটিস অ্যান্ড প্রাইভেট ক্লিনিকস অ্যান্ড ল্যাবরেটরিজ (রেগুলেশন) অরডিন্যান্স ১৯৮২ প্রণয়নের পর এখন পর্যন্ত হালনাগাদ করা হয়নি। এ আইনের কোনো বিধিমালাও করা হয়নি। দীর্ঘ এক দশকের বেশি সময় বেসরকারি চিকিৎসাসেবা আইনের খসড়া নিয়ে কাজ করা হলেও তা এখনো আইন হিসেবে প্রণয়ন করা হয়নি। অনুষ্ঠানে টিআইবির ট্রাস্টি বোর্ডের সভাপতি সুলতানা কামাল বলেন, বেসরকারি চিকিৎসা খাতে তদারকির চিহ্ন দেখতে পাই না। সরকার এ ক্ষেত্রে পুরো উদাসীন। সেখানে কি স্বার্থের দ্বন্দ্ব আছে সরকারের? কোনো ধরনের জবাবদিহির সম্মুখীন না হয়ে বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলো ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছে। যাঁরা তদারকের দায়িত্বে আছেন, তাঁরা তাঁদের কাজ গুরুত্বসহকারে নিচ্ছেন না। টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ইফতেখারুজ্জামান বলেন, বাংলাদেশে স্বাস্থ্যসেবা গ্রহণকারী খানার প্রায় সাড়ে ৬৩ শতাংশ বেসরকারি প্রতিষ্ঠান হতে সেবা নেয়। কিন্তু বাংলাদেশে বেসরকারি চিকিৎসাসেবা উচ্চ মুনাফাভিত্তিক খাত। মালিকেরা বেসরকারি চিকিৎসা প্রতিষ্ঠানকে ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠান হিসেবে নিয়েছে। তদারকির অভাব থাকায় সেবাগ্রহীতাদের জিম্মি করে উচ্চ মুনাফা আদায়ের সুযোগ রয়েছে।...

ম্যানিটোবায় কানাডার বাংলাদেশ হাইকমিশনের বিশেষ কন্স্যুলার সেবা প্রদান

ম্যানিটোবাস্থ বাংলাদেশিদের প্রতিনিধিত্বকারী সংগঠন কানাডা-বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন (সিবিএ) এবং অটোয়াস্থ বাংলাদেশ হাইকমিশনের যৌথ ব্যবস্থাপনায় ম্যানিটোবায় বসবাসরত বাংলাদেশি প্রবাসী ও অভিবাসীদের জন্য তিনদিনব্যপী বিশেষ কন্স্যুলার সেবা প্রদান করা হয়। কানাডায় নিযুক্ত বাংলাদেশের হাইকমিশনার জনাব মিজানুর রহমানের নেতৃত্বে ছয় সদস্যবিশিষট কন্স্যুলার সেবা প্রদানকারী দল ৪ ডিসেম্বত হতে ৬ ডিসেম্বর পর্যন্ত ম্যানিটোবাস্থ বাংলাদেশীদের প্রত্যক্ষ সহায়তা দেন। এই সর্বাংগীন সেবা কার্যক্রমের মধ্যে ছিল হাতে লেখা পাসপোর্ট প্রতিস্থাপন, নতুন মেশিন রিডেবল পাসপোর্ট প্রাপ্তি ও নবায়ন, এবং নাগরিকত্ব, জন্ম-নিবন্ধন ও ভোটার কার্ড এর আবেদনপত্র গ্রহণ, ফরম পুরণের খুঁটিনাটি সরাসরি তত্ত্বাবধান, প্রয়োজনীয় পরামর্শ দান, এবং আবেদনকারীদের ছবি ও আঙ্গুলের ছাপ গ্রহণ বা বায়োমেট্রিক তথ্য নিবন্ধন। সিবিএ সভাপতি মিসেস নাসরিন মাসুদ-এর নেতৃত্বে সংগঠনেরসকল নির্বাহীবৃন্দ সহযোগে একদল স্বেচ্ছাসেবি কন্স্যুলার সেবাসংশ্লিষ্ট যাবতীয় কর্মকান্ড তত্ত্ববধান করেন। আড়াইশত জনেরও অধিক বাংলাদেশি এই প্রত্যক্ষ সেবাসমূহ গ্রহণ করেন। ম্যানিটোবায় অবস্থানকালে হাইকমিশনার এবং আন্তর্জাতিক বাণিজ্য সম্প্রসারণের দায়িত্বে নিযুক্ত প্রথম সচিব মহোদয় স্থানীয় বণিক ও ব্যবসায়ী সংগঠনের নেতৃবৃন্দসহ কৃষিপণ্য উৎপাদন ও রপ্তানীসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিবর্গ ও স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের সঙ্গে একাধিক বৈঠকে মিলিত হন। বৈঠকে দ্বিপাক্ষিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয়াদি আলোচিত হয়। বাংলাদেশকে অযুত সম্ভাবনাময় অর্থনৈতিক সমৃদ্ধিমূখী দেশ হিসেবে উপস্থাপনের মাধ্যমে বাংলাদেশে কানাডিয় বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সম্প্রসারণের সুবিধাদিও আলোচিত হয়। ম্যানিটোবার বাংলাদেশিদের উৎসাহ-উদ্দীপনা ও প্রাণপ্রাচুর্যে আয়োজনটিশতভাগসফল হয়। ভবিষ্যতে সাহিত্য-সংস্কৃতিসহ বিভিন্ন প্রবাসী কর্মকান্ডে হাইকমিশন আরো বর্ধিত কলেবরে সেবা প্রদানের অংগীকার করেন। (ড. হেলাল মহিউদ্দীন, গবেষণা ফেলো, সেইন্ট পলস কলেজ, ম্যানিটোবা বিশ্ববিদ্যালয়) Press Release ...

ঐতিহাসিক ৭ মার্চ

উত্তাল মার্চের সপ্তম দিন আজ। জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের অমর ভাষণের সেই ঐতিহাসিক দিন। দিনটি বাঙালির ইতিহাসে অবিস্মরণীয় ও গৌরবের। বীর বাঙালি ঐতিহাসিক ৭ মার্চ দিনটিকে বিশেষ মর্যাদায় পালন করে। ২০১৭ সালের ৩০ অক্টোবর ইউনেস্কো ৭ মার্চের বঙ্গবন্ধুর ভাষণকে বিশ্ব ঐতিহ্য দলিল হিসেবে স্বীকৃতি দেয়। প্যারিসে ইউনেস্কোর প্রধান কার্যালয়ে সংস্থাটির মহাপরিচালক ইরিনা বুকোভা এ ঘোষণা দেন। সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, বঙ্গবন্ধুর ৭ মার্চের ভাষণ বিশ্বের আন্তর্জাতিক রেজিস্টার স্মৃতিতে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। এটি ইউনেস্কোর তৈরি বিশ্বের গুরুত্বপূর্ণ প্রামাণ্য ঐতিহ্যের একটি তালিকা। ঐতিহাসিক ৭ মার্চ উপলক্ষে রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পৃথক বাণী দিয়েছেন। দিনটি উপলক্ষে আওয়ামী লীগ নানা কর্মসূচি পালন করবে। এর মধ্যে আওয়ামী লীগের উদ্যোগে আজ দুপুর ২টায় রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে এক জনসভা অনুষ্ঠিত হবে। আওয়ামী লীগ সভাপতি এবং প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা জনসভায় প্রধান অতিথির ভাষণ দেবেন। ইউনেস্কোর নিজস্ব ওয়েবসাইটে বঙ্গবন্ধুর ৭ মার্চের ভাষণ বিশ্ব ঐতিহ্য স্মরণিকা হিসেবে নির্বাচনের কারণ সম্পর্কে বলা হয়েছে, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ঐতিহাসিক ৭ মার্চের ভাষণ ১৯৭১ সালের ৭ মার্চ বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান কর্তৃক প্রদত্ত। তিনি ১৯৭১ সালে বাংলাদেশের জনগণের স্বাধীনতা সংগ্রামে নেতৃত্ব দিয়েছেন। এর আগে ১৯৭০ সালের সাধারণ নির্বাচনে পাকিস্তান জাতীয় পরিষদে আওয়ামী লীগ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করেছিল। কিন্তু ওই সময় পাকিস্তানের সামরিক শাসক আওয়ামী লীগ নেতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের কাছে ক্ষমতা হস্তান্তরে অস্বীকৃতি জানায়। ওই ভাষণ কার্যকরভাবে বাংলাদেশের স্বাধীনতা ঘোষণা করেছিল। ২০১৭ সালের ১৮ নভেম্বর বিকালে রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে নাগরিক সমাবেশে ঢাকায় নিযুক্ত ইউনেস্কোর কান্ট্রি ডিরেক্টর বিট্রিচ কালদুল বলেন, জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ৭ মার্চের ঐতিহাসিক ভাষণকে ডকুমেন্টারি হেরিটেজ হিসেবে মেমোরি অব দ্য ওয়ার্ল্ড ইন্টারন্যাশনাল রেজিস্টারে যুক্ত করে নিয়েছে ইউনেস্কো। এজন্য ইউনেস্কোও গর্বিত। তিনি বলেন, বঙ্গবন্ধুর ৭ মার্চের ভাষণটি ঐতিহাসিক নথি ও প্রামাণ্য দলিল হিসেবে বিবেচনা করা হয়েছে। একটি ভাষণের মাধ্যমে একটি জাতিকে একত্রিত করার ইতিহাসের দলিল এটি। একটি স্বাধীন রাষ্ট্রের ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট। ভাষণটির ওপর অনেক পর্যালোচনা করে দেখা যায়, এর ঐতিহাসিক গুরুত্ব অপরিসীম। ১৯৭১ সালের এই দিনে তৎকালীন রেসকোর্স ময়দানে (বর্তমান সোহরাওয়ার্দী উদ্যান) সমবেত লাখো মানুষকে উদ্দেশ করে বঙ্গবন্ধু বলেন- এবারের সংগ্রাম আমাদের মুক্তির সংগ্রাম, এবারের সংগ্রাম স্বাধীনতার সংগ্রাম। পাকিস্তানি শাসকদের অত্যাচার-শোষণের বিরুদ্ধে ধারাবাহিক আন্দোলনে সাড়া দেয়া জনতার কাছে বঙ্গবন্ধুর এ ঘোষণা ছিল শতভাগ প্রত্যাশিত। ভাষণে বঙ্গবন্ধু কৌশলে বাংলাদেশের স্বাধীনতা ঘোষণা দিলেও ঘোষণার মর্মার্থ বুঝতে পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠী খানিক দ্বিধায় পড়ে। তবে নতুন দেশের স্বপ্নে বিভোর বাঙালি জাতি ঠিকই বুঝে নেয় বঙ্গবন্ধুর ভাষণের তাৎপর্য। পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠীর বিরুদ্ধে লড়াই শুরু করার আহ্বানের অধীর অপেক্ষায় ছিল বাঙালি জাতি। বঙ্গবন্ধুর ৭ মার্চের ভাষণ সেই অপেক্ষার অবসান ঘটায়। বঙ্গবন্ধুর স্বাধীনতার ডাক বিদ্যুৎগতিতে ছড়িয়ে পড়ে সারা দেশে। ইতিহাস ঘেঁটে জানা যায়, ৭ মার্চ বিকাল ৩টা ১৯ মিনিটে বঙ্গবন্ধু রেসকোর্স ময়দানে উপস্থিত হন। লাখো মানুষের উপস্থিতিতে ময়দান ছিল কানায় কানায় পূর্ণ। উপস্থিত জনতাকে বঙ্গবন্ধু যুদ্ধের প্রস্তুতি নিতে নির্দেশ দেন। বঙ্গবন্ধু বলেন, এরপর যদি একটি গুলি চলে, এরপর যদি আমার লোককে হত্যা করা হয়- তোমাদের কাছে আমার অনুরোধ রইল, প্রত্যেক ঘরে ঘরে দুর্গ গড়ে তোল। তোমাদের যার যা কিছু আছে তাই নিয়ে শত্রুর মোকাবিলা করতে হবে। আমি যদি তোমাদের হুকুম দিবার নাও পারি, তোমরা সব বন্ধ করে দেবে। ... রক্ত যখন দিয়েছি, রক্ত আরও দেব। এই দেশের মানুষকে মুক্ত করে ছাড়ব ইনশাআল্লাহ। ওইদিন একই মঞ্চে বঙ্গবন্ধুর ভাষণের আগে বক্তব্য রাখেন আ স ম আবদুর রব, নূরে আলম সিদ্দিকী, শাজাহান সিরাজ, আবদুল কুদ্দুস মাখন, আবদুর রাজ্জাক প্রমুখ। বঙ্গবন্ধুর এই ১৯ মিনিটের ভাষণ মুক্তিযুদ্ধের ৯ মাস দারুণ অনুপ্রেরণা জুগিয়েছিল। আজও অনেকের কাছে বঙ্গবন্ধুর ওই ভাষণ অফুরান অনুপ্রেরণার উৎস। একাত্তরের এই ঐতিহাসিক দিনে কেবল বঙ্গবন্ধুর তরফেই নয়, কমিউনিস্ট বিপ্লবীদের পূর্ববাংলা সমন্বয় কমিটি স্বাধীন বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে গেরিলা যুদ্ধের আহ্বান জানায়। সংগঠনটির প্রচারপত্রে আহ্বান জানানো হয়-আঘাত হানো সশস্ত্র বিপ্লব শুরু করো জনতার স্বাধীন পূর্ববাংলা কায়েম করো। পূর্ব পাকিস্তান ন্যাশনাল আওয়ামী পার্টি-ন্যাপ (মুজাফফর) পাকিস্তানের শাসনতন্ত্রের জন্য ১৭ দফা প্রস্তাব দেয়। ওই প্রস্তাবে বিচ্ছিন্ন হওয়ার অধিকারসহ আত্মনিয়ন্ত্রণের অধিকারও দাবি করা হয়। আওয়ামী লীগের কর্মসূচি : ঐতিহাসিক ৭ মার্চ উপলক্ষে আওয়ামী লীগের কর্মসূচির মধ্যে রয়েছে- আজ সকাল সাড়ে ৬টায় রাজধানীর ধানমন্ডির বঙ্গবন্ধু ভবনসহ দলীয় সব কার্যালয়ে জাতীয় ও দলীয় পতাকা উত্তোলন এবং সকাল ৭টায় বঙ্গবন্ধু ভবন প্রাঙ্গণে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতিকৃতিতে দলের পক্ষ থেকে শ্রদ্ধা নিবেদন। এছাড়া দিনটি উপলক্ষে দুপুর ২টায় রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে জনসভায় আওয়ামী লীগ সভাপতি এবং প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা প্রধান অতিথির ভাষণ দেবেন। আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ঐতিহাসিক ভাষণের স্মৃতিবিজড়িত ৭ মার্চ পালন করতে আওয়ামী লীগ ঘোষিত সব কর্মসূচি যথাযোগ্য মর্যাদায় পালনের জন্য সংগঠনের সর্বস্তরের নেতাকর্মী এবং সহযোগী ও ভ্রাতৃপ্রতিম সংগঠনসহ সর্বস্তরের জনগণ ও দেশবাসীর প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন।


দেশের বেসরকারি চিকিৎসাসেবা নিয়ন্ত্রণহীন হয়ে পড়ছে :টিআইবি

ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি) বলেছে, দেশের বেসরকারি চিকিৎসাসেবা খাতে বাণিজ্যিকীকরণের প্রবণতা প্রকট আকার ধারণ করেছে। ঘাটতি রয়েছে বেসরকারি চিকিৎসাসেবায় সরকারের যথাযথ মনোযোগের । এতে একদিকে এটি নিয়ন্ত্রণহীন হয়ে পড়ছে, অন্যদিকে কিছু ব্যক্তির এ খাত থেকে বিধিবহির্ভূত সুযোগ-সুবিধা আদায়ের সুযোগ সৃষ্টি হচ্ছে। আজ বুধবার রাজধানীর ধানমন্ডিতে টিআইবি কার্যালয়ে বেসরকারি চিকিৎসাসেবা : সুশাসনের চ্যালেঞ্জ ও উত্তরণের উপায় শীর্ষক গবেষণা প্রতিবেদন প্রকাশ করা হয়। গবেষণায় দেশের বিভিন্ন জেলায় নিবন্ধিত ১১৬টি (হাসপাতাল ৬৬টি এবং রোগনির্ণয় কেন্দ্র ৫০টি) বেসরকারি চিকিৎসাসেবা প্রতিষ্ঠান থেকে তথ্য সংগ্রহ করা হয়। গবেষণায় বেসরকারি চিকিৎসা খাত সংশ্লিষ্ট আইন ও নীতি পর্যালোচনা, প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা, এসব প্রতিষ্ঠানের চিকিৎসাসেবা, বেসরকারি চিকিৎসাসেবার বিপণন ব্যবস্থা, তথ্যের স্বচ্ছতা, তদারকির বিষয়গুলো পর্যবেক্ষণ করা হয়। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন টিআইবির নির্বাহী ব্যবস্থাপনা উপদেষ্টা সুমাইয়া খায়ের, টিআইবির গবেষণা ও পলিসি পরিচালক মোহাম্মদ রফিকুল হাসান। গবেষণা প্রতিবেদন উপস্থাপন করেন টিআইবির প্রোগ্রাম ম্যানেজার তাসলিমা আক্তার এবং ডেপুটি প্রোগ্রাম ম্যানেজার মো. জুলকারনাইন। ফলাফলে দেখা যায়, গবেষণায় অন্তর্ভুক্ত ১১৬টির মধ্যে ৯৭টি প্রতিষ্ঠান পরিবেশ অধিদপ্তরের ছাড়পত্র নেয়নি। এ ছাড়া বেসরকারি চিকিৎসাসেবা প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রম নিয়ন্ত্রণের জন্য প্রধান আইন দ্য মেডিকেল প্র্যাকটিস অ্যান্ড প্রাইভেট ক্লিনিকস অ্যান্ড ল্যাবরেটরিজ (রেগুলেশন) অরডিন্যান্স ১৯৮২ প্রণয়নের পর এখন পর্যন্ত হালনাগাদ করা হয়নি। এ আইনের কোনো বিধিমালাও করা হয়নি। দীর্ঘ এক দশকের বেশি সময় বেসরকারি চিকিৎসাসেবা আইনের খসড়া নিয়ে কাজ করা হলেও তা এখনো আইন হিসেবে প্রণয়ন করা হয়নি। অনুষ্ঠানে টিআইবির ট্রাস্টি বোর্ডের সভাপতি সুলতানা কামাল বলেন, বেসরকারি চিকিৎসা খাতে তদারকির চিহ্ন দেখতে পাই না। সরকার এ ক্ষেত্রে পুরো উদাসীন। সেখানে কি স্বার্থের দ্বন্দ্ব আছে সরকারের? কোনো ধরনের জবাবদিহির সম্মুখীন না হয়ে বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলো ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছে। যাঁরা তদারকের দায়িত্বে আছেন, তাঁরা তাঁদের কাজ গুরুত্বসহকারে নিচ্ছেন না। টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ইফতেখারুজ্জামান বলেন, বাংলাদেশে স্বাস্থ্যসেবা গ্রহণকারী খানার প্রায় সাড়ে ৬৩ শতাংশ বেসরকারি প্রতিষ্ঠান হতে সেবা নেয়। কিন্তু বাংলাদেশে বেসরকারি চিকিৎসাসেবা উচ্চ মুনাফাভিত্তিক খাত। মালিকেরা বেসরকারি চিকিৎসা প্রতিষ্ঠানকে ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠান হিসেবে নিয়েছে। তদারকির অভাব থাকায় সেবাগ্রহীতাদের জিম্মি করে উচ্চ মুনাফা আদায়ের সুযোগ রয়েছে।

তরুণ জনশক্তি হয়ে উঠুক মানবপুঁজি

সরকারি-বেসরকারি মিলিয়ে উচ্চশিক্ষা গ্রহণকারী শিক্ষার্থীদের একটি বড় অংশ প্রতিবছর বেকার থেকে যাচ্ছে। তাদের কর্মসংস্থান হচ্ছে না। কয়েক বছর ধরে দেশে বিনিয়োগ কম হওয়ায় শিল্প খাতে নতুন প্রকল্প হচ্ছে কম। সরকারি খাত বড় কিছু বিনিয়োগ হলেও এতে কর্মসংস্থানের গতি খুবই ধীর। অন্যদিকে দেশের আইটি খাতে চাহিদার তুলনায় বর্তমানে শ্রমিক কম রয়েছে ১৭ লাখ ২৭ হাজারের বেশি। সঙ্গে রয়েছে মধ্যম সারির কর্মকর্তা সংকটও। ফলে অনেক বেশি বেতনে বিদেশ থেকে দক্ষ জনশক্তি আনতে হচ্ছে বিভিন্ন সেক্টরে। বর্তমানে বাংলাদেশ ভারত, পাকিস্তান, শ্রীলংকা, চীনসহ বিভিন্ন দেশের প্রায় ১০ লাখ ডিপ্লোমা ডিগ্রিধারী পেশাজীবী বিভিন্ন এনজিও, তৈরি পোশাক, বস্ত্র খাতসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে চাকরি করছেন। বছরে তারা বাংলাদেশ থেকে নিয়ে যাচ্ছেন ২০ হাজার কোটি টাকা। ইউএনডিপি ও বাংলাদেশ ব্যাংকের গবেষণার তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে এ দেশে বেকারের সংখ্যা সাড়ে তিন কোটি। তার মধ্যে শিক্ষিত বেকার হচ্ছে ২ কোটি ২০ লাখ। বিশেষজ্ঞরা বলেছেন বেসরকারি খাতে শ্রমিক ও প্রযুক্তি জ্ঞানসম্পন্ন জনবলের দরকার হয় ৭০ শতাংশ। কিন্তু বাংলাদেশে উচ্চশিক্ষিতদের ৯০ শতাংশই সাধারণ শিক্ষায় শিক্ষিত, যার সঙ্গে শিল্প-কারখানা ও ব্যবসা-বাণিজ্য পরিচালনা সর্ম্পক থাকে না। চাকরি বা সন্তোষজনক চাকরি পাওয়া নিয়ে সাধারণ শিক্ষায় উচ্চশিক্ষিত তরুণদের মধ্যে হতাশা ক্রমেই বাড়ছে। অথচ শিক্ষা পরিচালনা কর্তৃপক্ষ দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের নতুন নতুন বিভাগ খুলছেন, কিন্তু এসব বিভাগের আদৌ প্রয়োজন আছে কি না, তা পরখ করে দেখছেন না। আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থার উপাত্ত মতে, বাংলাদেশের শ্রমশক্তি বছরে গড়ে ২ শতাংশ হারে বাড়ছে। এক হাজার শূণ্যপদের বিপরীতে এক লাখ মানুষের আবেদন পড়লে তা কাজের কথা নয়। সরকারের কর্মসংস্থানমুখী শিক্ষার ভূমিকা ছাড়া এই বিপুল মানুষের কর্মসংস্থান নিশ্চিত করা সম্ভব নয়। এর জন্য দরকার যথাযথ রাষ্ট্রীয় নীতি, যা সব সরকারকে মেনে চলতে হবে। গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র শুধু বিশেষ গোষ্ঠীর স্বার্থ দেখবে না, তাকে সবারটাই দেখতে হবে। সকলের কর্মক্ষম শিক্ষা নিশ্চিত করতে হবে। আমরা ১৯৭১ এর ত্যাগের মহিমাকে ধারণ করে নিজস্ব শক্তিমত্তার ওপর দাঁড়িয়ে দেশ পরিচালনায় না গিয়ে খাদ্য, বস্ত্র, বাসস্থান, শিক্ষা, প্রশাসন সবকিছুর জন্য বিদেশিদের সাহায্যের ওপর নির্ভর করেছি। এতে শ্রেণি বিশেষের বিত্তবৈভব বাড়লেও সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার মান তেমন বাড়েনি। শিক্ষা হয়ে পড়েছে অর্জনমুখী, কর্মমুখী নয়। কর্মঅর্জন শিক্ষায় বিকল্পতার কারণে এখনও মোট জনগোষ্ঠীর এক-চতুর্থাংশ অর্থাৎ প্রায় চার কোটি মানুষ দারিদ্রসীমার নিচে বাস করছে। আজও মাত্র ১৫ থেকে ২০ হাজার টাকা বেতনের চাকরির আশায় নৌকা ভর্তি হয়ে ঝুঁকিপূর্ণ সমুদ্র পাড়ি দিতে গিয়ে মৃত্যুবরণ করছে। সচ্ছল জীবনের আশায় দেশের মেয়েরা মধ্যপ্রাচ্যে শেখদের হাতে দৈহিক, মানসিক নির্যাতনের শিকার হচ্ছে, যা শুধু দুঃখজনক নয়, বিপুল আত্মত্যাগ পাওয়া স্বাধীন দেশের জন্য অমর্যাদাকর। এতকাল উন্নয়নের অন্তরায় হিসেবে শুধুই অভাবের কথা বলা হতো। এখন কিন্তু তা নয়। অর্থ এখন গৌণ। মূখ্য বিষয় শিক্ষার বিষয় বৈচিত্র্যতা। গতানুগতিক শিক্ষার ধারা থেকে বেড়িয়ে আসা। কর্মের হাতছানি দেওয়া শিক্ষাকে প্রতিপালন করা। অথচ আমরা দেখি ২০১৭ সাল বাংলাদেশের জাতীয় জীবনে আরও অনেক গুরুতর চ্যালেঞ্জ রেখে গেছে, যেগুলো এ বছর এবং তারও পরে জাতির ভবিষ্যতের জন্য মারাত্মক হুমকি হয়ে উঠবে। ক্রমেই এক অন্ধকারের মধ্যে আমরা প্রবেশ করছি। বিগত কিছু ঘটনা পর্ববেক্ষণ ও বিশ্লেষণ করলে মনে হয়, আমাদের জাতিয় গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গগুলোকে পঙ্গু করতেই সুপরিকল্পিত ও ধারাবাহিকভাবে আক্রমণ করা হচ্ছে। এই আক্রমণ ভেতর ও বাইরে- দুই জায়গা থেকে হচ্ছে। আক্রমণ হচ্ছে আমাদের তরুণ সমাজের ওপর মাদক নামক হাতিয়ারের ব্যবহারের মাধ্যমে। আক্রমণ অব্যাহত রয়েছে অর্থনৈতিক অঙ্গনে ব্যাংক লুট আর হাজার হাজার কোটি টাকা দেশ থেকে পাচারের মাধ্যমে। কত হাজার কোটি টাকা এ পর্যন্ত পাচার হয়েছে, তার সঠিক পরিসংখ্যান নেই। কেন্দ্রীয় ব্যাংক থেকে শুরু করে সরকারি ও বেসরকারি ব্যাংকগুলো নির্লজ্জভাবে লুণ্ঠিত হচ্ছে। আক্রমণের লক্ষ্যবস্তু হিসেবে সাংস্কৃতিক অঙ্গনও আছে। আমাদের তরুণদের লক্ষ্যবস্তুতেই আঘাত করছে। শুধু চাকরি করাটাই জীবনের লক্ষ্য হতে পারে না। আমদের উদ্যোক্তা হওয়ার মানসিকতা অর্জন করা জরুরি। উদ্যোক্ত হওয়াটা নিজের নয়, সমাজ ও জাতির রাষ্ট্রকে এর জন্য শিক্ষা, প্রযুক্তি, অবকাঠামো, উপকরণ যোগানের ব্যবস্থা করতে হবে। সহজে ব্যাংক ঋণ সরবরাহ করতে হবে। এক্ষেত্রে বিপরীত চিত্র দেখি। যাঁরা ঋণ ফেরত দেবেন না, তাঁদেরই ঋণ দেওয়া হচ্ছে। এতে প্রকৃত উদ্যোক্তারা ঋণ পাচ্ছেন না। এটা আর্থিক খাতের সুশাসনজনিত সমস্যা, যার সমাধান করতে পারে নিয়ন্ত্রক সংস্থা ও সরকার। বর্তমান পৃথিবী দ্রুত পরবর্তনশীল, পরিবর্তনই তার একমাত্র নিয়তি। দৈনন্দিন জীবনে পরিবর্তন আনতে প্রতিনিয়ত আসছে নিত্যনতুন প্রযুক্তি। এ কারণে প্রযুক্তিবিশ্বের কোন প্রযুক্তিগুলো শীর্ষে থাকবে, তা বলা কঠিন। তবে প্রযুক্তিবিশ্লেষকদের মতে, ২০১৮ সালে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, ক্রিপ্টো-কারেন্সি ও স্বচালিত বাহন- তিন ক্ষেত্রেই গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন আসবে। তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, স্যোশাল মিডিয়া বিহেভিয়ার, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার বিস্তৃত ব্যবহার, ব্যবসায় ডিপ লার্নিং, এআই ও আইওটিভিত্তিক আর্থিক সেবা এবং অগমেন্টেড রিয়ালিটিতে ব্যাপক অগ্রগতি ঘটবে। এশীয়-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে ব্যাংকিং খাতে ইন্টারনেট অব থিংস বা আইওটির ব্যবহার বাড়বে। ইউরোপে লেনদেন সেবা নিয়ে নতুন নীতিমালা প্রকাশ করা হবে। এতে আর্থিক খাতের প্রযুক্তি বা ফিনটেকভিত্তিক স্টার্টআপগুলো ব্যাংক গ্রাহকদের তথ্য কাজে লাগানোর সুযোগ পাবে। এতে ব্যাংকিং খাতে নতুন উদ্ভাবনের সুযোগ সৃষ্টি হবে। বছরটায় আমাদের ব্যবহার করা অনেক যন্ত্র যেমন চাবির রিং, স্মার্টফোন, ইন্টারনেটে যুক্ত গাড়ি, স্মার্টঘড়ি লেনদেনের যন্ত্র হিসেবে আবির্ভূত হবে। ২০১৯ সালের মধ্যে ৫জি ফোন বাজারে আসার সম্ভাবনা রয়েছে। সে হিসেবে ৫জি নেটওয়ার্ক চালুর বেশিরভাগ কাজ সম্পন্ন করতে হবে ২০১৮ সালের মধ্যেই। ইতোমধ্যে কয়েকটি দেশে ৫ জি নিয়ে জোর প্রস্তুতি চলছে। পরীক্ষামূলকভাবে একাধিবার চালু করে দেখা গেছে, তাতে ৪জির তুলনায় ১০ গুণ পর্যন্ত বেশি গতির ইন্টারনেট পাওয়া সম্ভব, যা ইন্টারনেট অব থিংসের ব্যবহার আরও বাড়িয়ে দেবে। এখন শুরু হবে পঞ্চম প্রজন্মের নেটওয়ার্ক। এবছর রাস্তায় নেমে আসবে রোবট। রেস্তোঁরা কিংবা হাসপাতালে মানুষকে সাহায্য করতে বা খাবার সরবরাহের কাজে রোবট নিয়ে কাজ করছে অনেক প্রতিষ্ঠান। এ রোবটগুলো জিপিএস, সেন্সর ও ক্যামেরার সাহায্যে চলাচল করে। এর সংখ্যা বাড়বে এবছরে। আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলেজিন্স বা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার যুগে প্রবেশ করেছি আমরা। এই প্রযুক্তি দিন দিন শুধু যে উন্নত হচ্ছে তা নয়, একই সঙ্গে বাড়ছে এর ব্যবহারও। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ব্যবহারের ক্ষেত্রও বাড়ছে প্রতিনিয়ত। আগে শুধু কিছু গেম এবং মানুষের সঙ্গে যোগাযোগ স্থাপনের জন্য এ প্রযুক্তির ব্যবহার সীমাবদ্ধ থাকলেও এখন নিত্যনতুন প্রায় সব ধরনের প্ল্যাটফর্ম, অ্যাপ কিংবা ডিভাইসে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা জুড়ে দেওয়ার হচ্ছে। এসবের সাথে সংযুক্তির মেলবন্ধন সমসাময়িক শিক্ষা দিকদর্শনভিত্তিক শিক্ষা বৈক্যলের ফলে তরুণের প্রতিভা ও মেধাশক্তি থাকলেও তা প্রকাশের ক্ষেত্রে একধরনের আত্মকেন্দ্রিকতা তৈরি হয়েছে। তবে ঢালাওভাবে বিষয়টি সত্য নয়। সামাজিক, বৈজ্ঞিানিক, মনস্তাত্ত্বিক বিশ্লেষণে উল্লেখ করা যেতে পারে যন্ত্রমানব সোফিয়াকে দেশে আনার মাধ্যমে একটা ইতিবাচক ঘটনা ঘটেছে। সোফিয়াকে আনার পর আমরা জানতে পেরেছি, আমাদের মেধাবী তরুণরা ডিজিটাল বাংলাদেশের মন্ত্রে উজ্জীবিত হয়েছে। আমাদের মতো দেশে সবচেয়ে বড় সমস্যা হচ্ছে ডিপ্লোমা শিক্ষার অভাব। এটা না থাকায় দেশে প্রযুক্তিদক্ষ লোকবলের অভাবে কাক্সিক্ষত হারে বেসরকারি বিনিয়োগ বাড়ছে না। পণ্য ও পেশাভিত্তিক ডিপ্লোমা প্রযুক্তিবিদ নিশ্চিত করতে পারে সরকার। সরকার যদি বিনিয়োগ বাড়ানোর পরিস্থিতি তৈরি করতে পারে, তাহলে বেকারত্ব সমস্যা এমনিতেই অনেকটা ঘুচে যাবে। এটাই এখন সবচেয়ে বেশি জরুরি। অন্যদিকে আমাদের মধ্যবিত্তের মানসিকতায়ও পরিবর্তন আনা জরুরি। তাদের ছেলে মেয়েরা যেন ডিপ্লোমা শিক্ষা গ্রহণে আগ্রহী হয়। ক্ষুদ্র ভূখ-ের অধিক জনসংখ্যার ঘনবসতির এই দেশকে গড়ে তুলতে দিন-রাত পরিশ্রম করতে হবে প্রতিটি তরুণকে। আজ ও আগামীর বাংলাদেশকে এগিয়ে নিতে হলে তরুণদের মধ্যে এর ইতিবাচক পরিবেশ তৈরি করতে হবে। যেখানে নেতিবাচক বিষয়গুলো হবে নির্বাসিত। শিক্ষাও প্রযুক্তিকে উপেক্ষা করে দেশকে এগিয়ে নেওয়া সম্ভব না। চতুর্থ শিল্প বিপ্লবের পথে বিশ্ব। এই বিপ্লবের প্রধান হাতিয়ার তথ্যপ্রযুক্তি। আর তথ্যপ্রযুক্তির মাধ্যমেই ডিজিটাল বাংলাদেশ বিনির্মাণে কাজ করছে সরকার। এই কার্যক্রম আরও বেগবান করতে ডিপ্লোমা শিক্ষাকে তৃণমূলে প্রসার ঘটাতে হবে। প্রতিবছর ১৪ লক্ষ তরুণ এসএসসি পরীক্ষা উত্তীর্ণ হয়। এরমধ্যে ১১ লক্ষই গ্রামের কৃষক, শ্রমিক, জেলে, তাঁতী, কামার, কুমারের ছেলে। তারা দুর্গম হাওর, বাওড়, দ্বীপ, উপকূল, বরেন্দ্র, পাহাড়, পর্বত সীমান্তের অধিবাসী। তাদের মেধা ও মণনে শহরের আলালের দুলালের চেয়ে কম নয়। তাদের রোগ প্রতিরোগ ক্ষমতা বেশী। সামান্য সোহাগ ভালবাসা দিক নির্দেশনা অর্থ ও মামার জোরের অভাবে তারা সামনের দিকে অগ্রসর হতে পারে না। অথচ গ্রামকে ব্যাপকভাবে উপেক্ষা করা হয়। তারা শহরমুখী হয়ে প্রতিষ্ঠিত হয়। গ্রামে যদি গ্রাম বাংলার গর্বিত সন্তানদের সম্মান ও কদর না থাকে তাহলে তারা গ্রামে যাবে কেনো? মনে রাখতে হবে গুণীর কদর যে সমাজে নেই সে সমাজে গুণী জন্মায় না। তারপরও নাড়ির টানে আমাদেরকে গ্রামে যেতে হবে, গ্রামকে বাঁচাতে হবে, রক্ষা করতে হবে গ্রামের পরিবেশকে। আমাদের অনিন্দ্য-সুন্দর গ্রামগুলোকে সব দিক থেকেই এগিয়ে নিতে হবে। এছাড়া যে আমাদের গত্যন্তর নেই। গ্রামের অপরিচিত ছেলে মেয়েটাই ডিপ্লোমা শিক্ষা গ্রহণ করে কদিন পরে হয়ে উঠতে পারে তুমুল জনপ্রিয় কেউ। আত্মবিশ্বাস, দৃঢ়তা, প্রতিভা আর পরিশ্রম সব কিছু দিয়ে চমকে দিতে পারে সবাইকে। প্রত্যয়ী এই তরুণদের নিজেকে তুলে ধরার মঞ্চ তেরি করার সময় এখনই। গ্রামের অধিকাংশ তরুণকে ডিপ্লোমা শিক্ষার সুযোগ করে দিতে হবে। ডিপ্লোমা শিক্ষা গ্রহণ করে নিজ গ্রামে শিল্প খামার, হাসপাতাল ক্লিনিক স্কুল গড়ে তোলার আদর্শে প্রনীত হবে। বেকারমুক্ত বাংলাদেশ গড়তে হলে নারী, পুরুষ, প্রতিবন্ধী সবার জন্য ডিপ্লোমা শিক্ষা। প্রতিটি উপজেলায় কমপক্ষে ১০টি সরকারি/বেসরকারিভাবে কৃষি, ভেটেরিনারি, লেদার, পলিটেকনিক, টেক্সটাইল, মেডিক্যাল টেকনোলজি, নার্সিং, ইনস্টিটিউট অব প্রাইমারি অ্যাডুকেশন, মেডিকেল ও ডেন্টাল অ্যাসিস্ট্যান্ট স্কুল প্রতিষ্ঠা করতে হবে। ইনস্টিটিউট স্থাপনের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় শিক্ষা-দীক্ষা ব্যবসা-বাণিজ্যে গ্রামগুলোতে প্রাণ চাঞ্চল্য ফিরে আসবে। পূরণ হবে সোনার বাংলা প্রতিষ্ঠার বাস্তবভিত্তিক রূপরেখা। খন রঞ্জন রায়, মহাসচিব ডিপ্লে¬ামা শিক্ষা গবেষণা কাউন্সিল, বাংলাদেশ। Khanaranjanroy@gmail.com

আজকের মোট পাঠক

32688

নিউজ একাত্তর ডট কম

সম্পাদক : মোহাম্মদ নাছির উদ্দিন চৌধুরী

নির্বাহী সম্পাদক : নুরুল ইসলাম ভুইয়া

একটি পপুলার মিডিয়া পাবলিকেশন এর প্রকাশনা

সম্পাদকীয় ও বানিজ্যিক কার্যালয় : ৪১৬/সি,খিলগাও ঢাকা। ফোন : ০৩১-২৭৭১১৮৮, ০১৮২৪২৪৫৫০৪, ০১৭৭৮৮৮৮৪৭২

চট্টগ্রাম কার্যালয় : ১০/১১ বি ৩য় তলা, হানিমুন টাওয়ার,পাহাড়তলী,চট্টগ্রাম।

ই-মেইল : newsekattor@gmail.com, editorekattor@gmail.com, কপিরাইট ©newsekattor.com কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত