দিল্লির জামিয়ার ক্যাম্পাসে ঢুকে শিক্ষার্থীদের পেটালো পুলিশ

১৬ডিসেম্বর,সোমবার,আন্তর্জাতিক ডেস্ক,নিউজ একাত্তর ডট কম: দাউ দাউ করে জ্বলছে একের পর এক বাস। কুণ্ডলি পাকানো কালো ধোঁয়ায় ঢেকে গেছে আকাশ। নাগরিকত্ব আইনে সংশোধনের প্রতিবাদে এতদিন যে দৃশ্য দেখা যাচ্ছিল পশ্চিমবঙ্গ ও আসামে এবার সেটির সাক্ষী হলো ভারতের রাজধানী দিল্লির দক্ষিণ অংশ। রোববার বিকেলে দক্ষিণ দিল্লির জামিয়া মিলিয়া ইসলামিয়া সংলগ্ন নিউ ফ্রেন্ডস কলোনিতে এই ঘটনার পর দিল্লি পুলিশ বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে ঢুকে ছাত্রছাত্রীদের ওপর চড়াও হয়। জামিয়ার ক্যাম্পাসের মধ্যে কেন্দ্রীয় লাইব্রেরিতে কাঁদানে গ্যাস ছোড়া হয়। সে সময় বহু ছাত্রছাত্রী সেখানে পড়াশোনা করছিলেন। তাদের অনেকেই পুলিশের লাঠি ও কাঁদানে গ্যাসে আহত হন। অভিযোগ উঠেছে, টয়লেটে ঢুকেও শিক্ষার্থীদের পিটিয়েছে পুলিশ। বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্মীদেরও বেধড়ক লাঠিপেটা করা হয়। লাইব্রেরির বাইরের ছাত্রছাত্রীদের মাথার ওপরে হাত তুলে লাইন দিয়ে হাঁটিয়ে ক্যাম্পাস থেকে বার করে দেয়া হয়। জামিয়ার বেশ কয়েকজন ছাত্রছাত্রীকে পুলিশ আটক করেছে বলে জানা গেছে। পুলিশের এই আচরণে ক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীদের প্রশ্ন, আমরা কি দাগী অপরাধী? আটক সহপাঠীদের অবিলম্বে মুক্তির দাবিতে গতকাল রাতেই কয়েকশ শিক্ষার্থী দিল্লি পুলিশের সদর দপ্তর ঘেরাও করেন। মাঝরাতের কড়া ঠান্ডা উপেক্ষা করেও চলতে থাকে তাদের বিক্ষোভ। কারও কারও হাতে ছিল গান্ধীর ছবি। পরিস্থিতি আয়ত্বের বাইরে যেতে পারে, সেই আশঙ্কায় জলকামান ও কাঁদানে গ্যাস নিয়ে তৈরি ছিল পুলিশও। এদিকে কংগ্রেস নেত্রী প্রিয়াঙ্কা গান্ধী টুইট করে বলেন, দেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে ঢুকে শিক্ষার্থীদের পেটানো হচ্ছে। যে সময়ে সরকারের উচিত এগিয়ে এসে মানুষের কথা শোনা, তখন বিজেপি সরকার উত্তর-পূর্ব, উত্তরপ্রদেশ, দিল্লিতে সাংবাদিক ও শিক্ষার্থীদের ওপরে দমনপীড়ন চালিয়ে নিজের নিয়ন্ত্রণ কায়েম করছে। এই সরকার কাপুরুষ। #লজ্জা। শুনে নিন মোদিজি, তারা ভারতীয় যুবা, আজ নয় কাল, তাদের কথা শুনতেই হবে। অন্যদিকে গতকাল রাতেই বিক্ষোভ শুরু হয়েছে কলকাতার যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়, হায়দরাবাদের মৌলানা আজাদ উর্দু বিশ্ববিদ্যালয়, বেনারস হিন্দু বিশ্ববিদ্যালয়, আইআইটি মুম্বাইসহ বেশ কয়েকটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে। আজ দিল্লি জুড়ে ছাত্র ধর্মঘটের ডাক দিয়েছে ছাত্র সংগঠনগুলোর একাংশ। শুক্রবারও জামিয়া মিলিয়ার শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা নতুন নাগরিকত্ব আইনের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ-মিছিল করেছিলেন। তখনও পুলিশ লাঠি এবং কাঁদানে গ্যাস ব্যবহার করে। বহু শিক্ষার্থী আহত হন। কিন্তু গতকাল নিউ ফ্রেন্ডস কলোনি এলাকায় বিক্ষোভে তারা অংশ নেননি বলে জানিয়েছেন জামিয়ার শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা। বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের বিবৃতি, রোববারের বিক্ষোভে জামিয়ার শিক্ষার্থীরা ছিলেন না। আশপাশের মানুষ বিক্ষোভ করেছেন। দিল্লি পুলিশ অমিত শাহর স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অধীন। জামিয়ার চিফ প্রক্টর ওয়াসিম আহমেদ খান বলেন, পুলিশ গায়ের জোরে, বিনা অনুমতিতে ক্যাম্পাসে ঢুকেছে। আমাদের কর্মী, শিক্ষার্থীদের পেটানো হয়েছে। জোর করে ক্যাম্পাস ছাড়তে বাধ্য করা হয়েছে। জামিয়ার উপাচার্য নাজমা আখতার পুলিশের কাজকে নিন্দনীয় বলেছেন। রোববার দুপুর থেকেই দক্ষিণ দিল্লির জামিয়া সংলগ্ন এলাকায় বিক্ষোভ শুরু হয়। নিউ ফ্রেন্ডস কলোনি, মাতা মন্দির রোড, মথুরা রোডে পুলিশের সঙ্গে খণ্ডযুদ্ধ বাধে বিক্ষোভকারীদের। বেপরোয়া লাঠি চালায় পুলিশ। বেশ কিছু বাইক ও দিল্লি পরিবহন নিগমের তিনটি বাস জ্বালিয়ে দেন বিক্ষোভকারীরা। অনেকের অভিযোগ, পুলিশ নিজেই বাসে আগুন ধরিয়েছে। আগুন নেভাতে গিয়ে আক্রান্ত হন দমকলকর্মীরা। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে ওই চত্বরে মেট্রোরেলের একাধিক স্টেশন বন্ধ করে দেয়া হয়। এরপরই পুলিশ জামিয়া ক্যাম্পাসে চড়াও হয়। ক্যাম্পাসের গেটে বেধড়ক লাঠিপেটা করার পাশাপাশি বেশ কয়েকজনকে আটকও করা হয়। পুলিশ অবশ্য কারও পরিচয় জানায়নি। এরই মধ্যে জামিয়ার ঘটনা নিয়ে কাঁদা ছোঁড়াছুঁড়ি শুরু হয়েছে। জামিয়ার এ ঘটনার জন্য দিল্লির বিজেপি প্রদেশ সভাপতি মনোজ তিওয়ারি ক্ষমতাসীন আম আদমি পার্টি (আপ)-র ওপর দায় চাপিয়েছেন। যদিও আপ সেই অভিযোগ অস্বীকার করেছে। মুখ্যমন্ত্রী অরবিন্দ কেজরিওয়াল দিল্লির উপ-রাজ্যপালের সঙ্গে কথাও বলেন। দিল্লির এ দিনের ঘটনার পরে কংগ্রেস নেতা রণদীপ সুরজেওয়ালা বলেন, বিরোধ করলেই এখন দেশদ্রোহী! জামিয়া এর টাটকা উদাহরণ। ...

নাগরিকত্ব আইন নিয়ে সুর নরম অমিত শাহর

১৫ডিসেম্বর,রবিবার,আন্তর্জাতিক ডেস্ক,নিউজ একাত্তর ডট কম: নাগরিকত্ব আইন কার্যকর হওয়ার পর ভারতের আসাম ও পশ্চিমবঙ্গসহ বিভিন্ন রাজ্যে আন্দোলন জোর হয়েছে। ব্যাপক চাপের মুখে সুর নরম করেছেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। এমন পরিস্থিতিতে আইনে পরিবর্তন আনার কথাও বলেছেন তিনি। বৃহস্পতিবার ভারতের রাষ্ট্রপতি রামনাথ কোবিন্দের সইয়ের পর সেদিন রাত থেকেই কার্যকর হয়েছে নাগরিকত্ব সংশোধনী আইন। আর এরপর রীতিমতো অগ্নিগর্ভ হয়ে ওঠে আসাম ও পশ্চিমবঙ্গ। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসামে কারফিউ জারি করা হয়। কারফিউ জারি করা হয় উত্তর-পূর্ব ভারতের আরেক রাজ্য মেঘালয়েও। তারপরও বিক্ষোভ কমার নাম নেই। উল্টো বিক্ষোভের মধ্যেই আসামের পাঁচজনের মৃত্যু হয়। এদিকে নাগরিকত্ব সংশোধনী আইন নিয়ে পুরো দেশের পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে বাইরে চলে যাওয়ায়, এর দায় কংগ্রেসের ওপর চাপিয়েছেন অমিত শাহ। তার দাবি, মানুষকে ভুল তথ্য দিয়ে উস্কানি দিচ্ছে কংগ্রেস। কংগ্রেসই দেশে আশান্তি ছড়াচ্ছে বলেও দাবি করেন তিনি। অন্যদিকে ব্যাপক বিক্ষোভের মুখে এখন এই আইনে পরিবর্তন আনার কথা বলেছেন ভারতের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। ঝাড়খণ্ডে এক নির্বাচনী প্রচারে গিয়ে অমিত বলেন, তিনি মেঘালয়ের মুখ্যমন্ত্রী ও সেখানের মন্ত্রীদের সঙ্গে শুক্রবার কথা বলেছেন। তিনি বলেন, তারা (মেঘালয়ের মুখ্যমন্ত্রী ও প্রতিনিধিদল) আমাকে কিছু পরিবর্তন (আইনে) আনতে অনুরোধ করেছেন। ভারতের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, আমি সাংমাজিকে (কনরাড সাংমা) বলেছি আমার সঙ্গে দেখা করতে। এরপরই অমিত শাহ জানান, ক্রিস্টমাসের পর সম্ভবত মেঘালয়ের মুখ্যমন্ত্রী কনরাড সাংমার সঙ্গে তিনি বৈঠকে বসবেন। সেখানে একটি সংগঠিত আলোচনা হবে বলে দাবি করেন অমিত শাহ। পাশাপাশি তিনি বলেন, কারোর ভয় পাওয়ার কিছু নেই। ...

ব্রিটেনের নির্বাচনে জয় পেলেন আরেক বাঙালি নারী

১৫ডিসেম্বর,রবিবার,আন্তর্জাতিক ডেস্ক,নিউজ একাত্তর ডট কম: ব্রিটেনের এবারের নির্বাচনে জয় পেয়েছেন পাঁচজন বাঙালি নারী। এই পাঁচ নারীই লেবার পার্টি নির্বাচনে থেকে অংশ নিয়ে জয়ী হয়েছেন। যদিও তাদের দল নির্বাচনে ধরাশায়ী হয়েছে ক্ষমতাসীন কনজারভেটিভদের হাতে। তবে খুব শক্তিশালীভাবেই জয় তুলে নিয়েছে এই পাঁচ বঙ্গকন্যা। এই পাঁচ নারীর মধ্যে চারজনই বাংলাদেশি বংশোদ্ভুত। তবে পঞ্চম নারী হচ্ছেন ব্রিটিশ বাঙালি লিসা নন্দী। তিনি ম্যানচেস্টারের উইগান আসন থেকে জয়লাভ করেছেন। ব্রিটিশ মা ও বাঙালি বাবার কন্যা লিসা ২১,০৪২ ভোটে জিতেছেন। তাঁর প্রতিদ্বন্দ্বী কনজারভেটিভ প্রার্থী অ্যাশলে উইলিয়ামস ১৪৩১৪ ভোট পেয়েছেন। ২০১০ সাল থেকে এই আসনটি লিসার দখলে রয়েছে। তবে এবারের লড়াই সবচেয়ে কঠিন ছিল বলে উল্লেখ করেছেন তিনি। সমর্থকদের উদ্দেশে তার বার্তা, আপনারা আমায় প্রতিটি দিন অনুপ্রেরণা দিয়েছেন। সাধারণ মানুষ ৯ বছর ধরে আমার ওপরে আস্থা রেখেছেন। সবাইকে এজন্য ধন্যবাদ। লিসা দুই দফায় শ্যাডো মিনিস্টার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। লিসার বাবা দীপক নন্দী ছিলেন কলকাতার বাসিন্দা। ১৯৫৬ সালের মার্চে তার বাবা ব্রিটেনে এসে বসবাস শুরু করেন। ১৯৭৯ সালে যুক্তরাজ্যে লিসার জন্ম। যুক্তরাজ্যে বর্ণবাদী হামলা রুখে দিতে কাজ করছেন তিনি। এদিকে গুরুত্বপূর্ণ এই নির্বাচনে জয় পাওয়া বাংলাদেশি বংশোদ্ভুত নারী হচ্ছেন- বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবর রহমানের নাতনি টিউলিপ সিদ্দিক, রুশনারা আলী, রূপা হক ও আফসানা বেগম। ...

নাগরিকত্ব আইনের সংশোধনী নিয়ে সুপ্রিম কোর্টে মামলা করা কে এই মহুয়া

১৪ডিসেম্বর,শনিবার,আন্তর্জাতিক ডেস্ক,নিউজ একাত্তর ডট কম: নাগরিকত্ব আইনের সংশোধনী নিয়ে বৃহস্পতিবার মধ্যরাতে বিজ্ঞপ্তি জারি করেছিল মোদি সরকার। শুক্রবার সকালে সুপ্রিম কোর্ট খুলতেই তার বিরুদ্ধে মামলা ঠুকলেন তৃণমূল সাংসদ মহুয়া মৈত্র। প্রধান বিচারপতি শরদ এ বোবডের বেঞ্চে মহুয়ার আইনজীবী অনুরোধ জানান, দ্রুত এই মামলার শুনানি হওয়া দরকার। তার অনুরোধ ছিল, শুক্রবারই শুনানি হোক। না হলে সোমবার। কিন্তু প্রধান বিচারপতি জানান, দ্রুত শুনানির জন্য রেজিস্ট্রারের কাছে যেতে হবে। তৃণমূল সাংসদের আইনজীবীদের আশা, আগামী সপ্তাহেই এর শুনানি হতে পারে। মহুয়া মৈত্রের জন্ম ১৯৭৫ সালের ৫ মে। যুক্তরাষ্ট্রের ম্যাসাচুসেটসে মাউন্ট হলিয়োক থেকে তিনি গনিত ও অর্থনীতি নিয়ে পড়াশুনা করেছেন। এরপর যুক্তরাষ্ট্র ও ব্রিটেনে জে.পি মরগ্যান ব্যাংকের হয়ে কাজ করেছেন। ২০০৯ সালে ভারতীয় কংগ্রেস পার্টিতে যোগদান করেন মহুয়া। এর পরের বছরই পশ্চিমবঙ্গের মুখমন্ত্রী মমতা বন্দোপাধ্যায়ের তৃণমূল কংগ্রেসে যোগ দেন মহুয়া মৈত্র। এ বছর ভারতীয় লোকসভায় প্রথমবারের মতো এমপি নির্বাচিত হন পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য সরকারে ক্ষমতাসীন দল তৃণমূল কংগ্রেস পার্টির মহুয়া মৈত্র। সংসদে প্রথম ভাষণে নজর কাড়েন তিনি। ওই ভাষণে তিনি ফ্যাসিবাদ বা কর্তৃত্ববাদী জাতীয়তাবাদের প্রাথমিক লক্ষণসমূহ নিয়ে বক্তব্য দেন যেটিকে 'বছরের সেরা' ভাষণ হিসেবে আখ্যা দেয়া হয়। মহুয়া ছাড়াও সুপ্রিম কোর্টে নাগরিকত্ব আইন সংশোধনীকে অসাংবিধানিক বলে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে মামলা করেছেন কংগ্রেসের রাজ্যসভা সাংসদ জয়রাম রমেশও। এর পর রিহাই মঞ্চ ও সিটিজেনস এগেন্সট হেট নামক দুটি অসরকারি সংগঠনও সুপ্রিম কোর্টে একসঙ্গে মামলা করেছে। বৃহস্পতিবারই ইন্ডিয়ান ইউনিয়ন অব মুসলিম লিগ সুপ্রিম কোর্টে মামলা করেছিল। বিল পাশের আগেই বছরের গোড়ায় আসামের বিদ্বজ্জনেরা নাগরিকত্ব সংশোধনী বিলের বিরুদ্ধে মামলা করেছিলেন। তখন সুপ্রিম কোর্ট বলেছিল, এই বিল পাশের পরে শুনানি হবে। জয়রাম রমেশশের পিটিশনে বলা হয়েছে, নাগরিকত্ব আইনে সংশোধন সংবিধানের মৌলিক অধিকারের ভিতে নির্লজ্জ হামলা। তার অভিযোগ, সংবিধানের ১৪-তম অনুচ্ছেদ ও ২১-তম অনুচ্ছেদে প্রদত্ত মৌলিক অধিকার লঙ্ঘন করা হচ্ছে। কারণ নাগরিকত্ব দেওয়ার প্রশ্নে ধর্ম ও ভূখণ্ডের ভিত্তিতে ভেদাভেদ করা হয়েছে।- বিডি প্রতিদিন ...

নগরীতে মুক্তিযুদ্ধের বিজয় Raillyর নেতৃত্বে নওফেল

১৬ডিসেম্বর,সোমবার,চট্টগ্রাম প্রতিনিধি,নিউজ একাত্তর ডট কম: সারাদেশের মত চট্টগ্রামেও বিজয় Raily বের হয়েছে। আজ সোমবার (১৬ ডিসেম্বর) সকাল সাড়ে ১০টায় শিক্ষা উপমন্ত্রী ও মুক্তিযুদ্ধের বিজয় মেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ব্যারিস্টার মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেলের নেতৃত্বে এ Railly বের হয়। Raillyলিটি নগরীর প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে। উদ্বোধনী বক্তব্যে নওফেল বলেন, আজ আমরা জানান দেব, বঙ্গবন্ধুর সুযোগ্য কন্যা জননেত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বাংলাদেশের রাজনীতি থেকে মুক্তিযুদ্ধবিরোধী সব অপশক্তিকে চিরবিদায় জানাবো। প্রতিবছর আমরা জানান দিয়ে যাবো, এ প্রজন্ম স্বাধীনতাবিরোধী রাজনৈতিক শক্তিকে পরিত্যাগ করেছে এবং করতে থাকবে। জাতীয় পতাকা, বঙ্গবন্ধু, প্রধানমন্ত্রী, জাতীয় চার নেতা ও এবিএম মহিউদ্দিন চৌধুরীর ছবি ছিল Raillyrলির অগ্রভাগে। সুসজ্জিত বাদক দল, শিল্প পুলিশ, রেলওয়ে পুলিশ, আনসার ব্যাটালিয়ন, আওয়ামী লীগ, শ্রমিক লীগ, যুবলীগ, ছাড়াও বিভিন্ন রাজনৈতিক দল, শ্রমিক সংগঠন, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান Railly তে অংশ নেয়।বিপিসি, ইস্টার্ন রিফাইনারি, বন্দর কর্তৃপক্ষ, চট্টগ্রাম ওয়াসা সুসজ্জিত গাড়িতে বর্তমান সরকারের বিভিন্ন উন্নয়নচিত্র প্রদর্শন করে Raillyলিতে।...

বরিশালে যাত্রীবাহী লঞ্চের ধাক্কায় ক্লিংকারবাহী কার্গো ডুবি

১৫ডিসেম্বর,রবিবার,বরিশাল প্রতিনিধি,নিউজ একাত্তর ডট কম: বরিশাল নদীবন্দরের অপরপাড় চরকাউয়া খেয়াঘাট সংলগ্ন কীর্তনখোলা নদীতে যাত্রীবাহী লঞ্চের ধাক্কায় ক্লিংকারবাহী একটি কার্গো ডুবে গেছে। শনিবার রাত সাড়ে দশটার দিকে চরকাউয়া খেয়াঘাট সংলগ্ন কীর্তনখোলা নদীতে এ দুর্ঘটনা ঘটে। জানা গেছে, বরগুনা থেকে তিন শতাধিত যাত্রী নিয়ে ছেড়ে আসা শাহরুখ-২ লঞ্চের সাথে চট্টগ্রাম থেকে এ্যাংকর সিমেন্টের ১২০০ মেট্রিক টন ক্লিংকার বহনকারী কার্গো হাজী মো. দুদু মিয়া-১ এর মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। সংঘর্ষের ফলে ক্লিংকারবাহী এ্যাংকর সিমেন্টের মালিকাধীন কার্গোটি ডুবে যায় এবং লঞ্চের সামনের অংশটি ছিদ্র হয়ে যায়। তাই বিআইডব্লিউটিএ লঞ্চটি নদীর তীরে ভিড়িয়ে যাত্রীদের নামিয়ে যাত্রা বাতিল করে। বিকল্প ব্যবস্থায় কিছু যাত্রী বরগুনা-ঢাকাগামী পূবালী-১ লঞ্চে ঢাকায় পাঠানো হয়। যাত্রীদের অনেকেই ঐসময় ঘুমিয়ে ছিলেন। হঠাৎ জোরে ধাক্কা লাগলে তারা আতঙ্কিত হয়ে পড়েন। বিশেষ করে নারী ও শিশু যাত্রীরা কান্না জুড়ে দেয়। তবে লঞ্চ চরকাউয়া খেয়াঘাটে ভিড়ানো হলে যাত্রীরা নিরাপদে তীরে নেমে পড়েন। টার্নিং করার সময় কার্গোটির চালক হঠাৎ ঘুরিয়ে দেয়ায় দুর্ঘটনা ঘটে বলে জানান শাহরুখ-২ লঞ্চের সুপারভাইজর সেলিম হোসেন মারুফ। অপরদিকে এ্যাংকর সিমেন্ট কোম্পানীর জিএম আনসার আলী হাওলাদার বলেন, লঞ্চের ভুলের কারণেই এই দুর্ঘটনা ঘটেছে। দুর্ঘটনার পর ঘটনাস্থলে প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার সঙ্গে ছুটে আসেন সিটি মেয়র সেরনিয়াবাত সাদিক আবদুল্লাহ। ...

টেকনাফে গ্রেপ্তারের পরদিন বন্দুকযুদ্ধে দুই যুবক নিহত

১৪ডিসেম্বর,শনিবার,টেকনাফ প্রতিনিধি,নিউজ একাত্তর ডট কম: কক্সবাজারের টেকনাফে উপজেলায় গ্রেপ্তারের পরদিন পুলিশের সঙ্গে কথিত বন্দুকযুদ্ধে দুই যুবক নিহত হয়েছেন। নিহতরা হলেন মো. আমিন প্রকাশ নুর হাফেজ (৩২) ও মো. সোহেল (২৭)। আজ শনিবার ভোরে উপজেলার হ্নীলা রাঙ্গিখালী গাজি পাড়ার পশ্চিম পাহাড়ের পাদদেশে এই বন্দুকযুদ্ধের ঘটনায় ওই দুই যুবক নিহত এবং পুলিশের পাঁচ সদস্য আহত হন বলে জানিয়েছে পুলিশ। এর আগে গতকাল শুক্রবার ভোরে ৮ লাখ ইয়াবা ও ৬টি অস্ত্রসহ ওই দুই যুবকসহ চারজনকে গ্রেপ্তার করে Rab। টেকনাফ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) প্রদীপ কুমার দাশ জানান, ১৩ ডিসেম্বর ভোর রাতে Rab- 8 লাখ ইয়াবা, ৬টি আগ্নেয়াস্ত্রসহ শীর্ষ মাদক ব্যবসায়ী মো. আমিন প্রকাশ নুর হাফেজ (৩২) মো. সোহেল (২৭), সৈয়দ নুর (২৭), ও সৈয়দ আলম প্রকাশ কালু (৪৫)-এই চারজনকে গ্রেপ্তার করে থানায় হস্তান্তর করে। পরে তাদের বিরুদ্ধে অস্ত্র ও মাদক আইনে মামলা দায়ের করা হয়। পরে জিজ্ঞাসাবাদে তারা জানায়, তাদের কাছে বিপুল পরিমাণ ইয়াবা ও অস্ত্র সংরক্ষিত আছে। পরে আজ শনিবার ভোরে পুলিশের একটি দল তাদের নিয়ে হ্নীলা রাঙ্গিখালী গাজী পাড়ার পশ্চিম পাহাড়ের পাদদেশে অভিযানে যায়। সেখানে নুর হাফেজ ও সোহেলের লোকজন পুলিশের কাছ থেকে আসামিদের ছিনিয়ে নিতে গুলি ছুঁড়লে আত্মরক্ষার্থে পুলিশও গুলি চালায়। এ সময় নুর হাফেজ ও সোহেল গুলিবিদ্ধ হয়। এ ছাড়াও পুলিশের পাঁচ সদস্যও আহত হয়। পরে গুলিবিদ্ধ অবস্থায় নুর হাফেজ ও সোহেলকে উদ্ধার করে প্রথমে টেকনাফ স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ও পরে কক্সবাজার সদর হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। টেকনাফ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) প্রদীপ কুমার দাশ আরও জানান, ঘটনাস্থল থেকে ৬টি দেশীয় অস্ত্র, ৯৫ হাজার পিস ইয়াবা, ১৮ রাউন্ড কার্তুজ ও ১৮টি কার্তুজের খোসা পাওয়া গেছে। লাশ ময়নাতদন্তের জন্য কক্সবাজার মর্গে রয়েছে। এ বিষয়ে মামলার প্রস্তুতি চলছে। ...

রাজশাহীতে বাসের ধাক্কায় মোটরসাইকেলের দুই আরোহীর মৃত্যু

১২ডিসেম্বর,বৃহস্পতিবার,রাজশাহী প্রতিনিধি,নিউজ একাত্তর ডট কম: রাজশাহীতে বাসের ধাক্কায় মোটরসাইকেলের দুই আরোহীর মৃত্যু হয়েছে। বৃহস্পতিবার দুপুরে রাজশাহী নগরীর উপকণ্ঠ কাটাখালীর বাংলাট্রাক এলাকায় এই দুর্ঘটনা ঘটে।পরে আহতদের উদ্ধার করে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হলে চিকিৎসক তাদের মৃত ঘোষণা করেন। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন হাসপাতালের ৩১ নম্বর ওয়ার্ডে চিকিৎসক সালেহ মাহমুদ রাজি। তিনি বলেন, সড়ক দুর্ঘটনার পরে অতিরিক্ত রক্তক্ষরণে মৃত্যু হয়েছে। নিহত একজনের নাম পাপুল সে নাটোর বাগাতিপাড়া এলাকার আব্দুল ওহাব ছেলে আর একজনের নাম আব্দুল হাদি।তিনি নাটোরের একই এলাকার কালুর ছেলে। নিহতদের লাশ মর্গে রাখা হয়েছে। কাটাখালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জিল্লুর রহমান বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, আহতদের উদ্ধার করে রামেক হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।...

ফেসবুকের মাধ্যমে হারানো মেয়ের খোঁজ পেলেন মা

১০ডিসেম্বর,মঙ্গলবার,সীতাকুণ্ড প্রতিনিধি,নিউজ একাত্তর ডট কম: ফেসবুকের কল্যাণে হারানো মেয়ে আরিশাকে খুঁজে পেলেন মা হাসিনা বেগম। ঘটনাটি ঘটেছে গতকাল সোমবার সীতাকুণ্ডের সলিমপুর এলাকায়। মা হাসিনা আক্তার ঘর থেকে বের হয়ে রেললাইনের পাশে একটি ক্ষেতে ছাগল নিয়ে যান। সঙ্গে যায় মেয়ে আরিশাও। মা মেয়েকে বসিয়ে ঘরে যান। ফিরে এসে দেখেন মেয়ে নেই। মা ও পরিবারের অন্য সদস্যরা বিভিন্ন দিকে খুঁজতে থাকেন মেয়েকে। কোনও জায়গায় খুঁজে না পেয়ে মা ও পরিবারের সদস্যরা কান্নাকাটি করতে থাকেন। তখন তারা পাশে ফৌজদার পুলিশ ফাঁড়িতে আশ্রয় নেন। পুলিশও শিশু আরিশাকে খুঁজতে থাকেন। বেলা তখন তিনটা। পাশের বাড়ির এক লোক এসে শিশু আরিশার মাকে বলেন আরিশার ছবি ফেইসবুকে দেখা গেছে। তখন তারা দ্রুত ফেসবুকে ছবি পোস্টকারীর সঙ্গে যোগাযোগ করেন। ছবি পোস্টকারী জুয়েল বলেন, রেল লাইনের পাশে একটি মেয়েকে বসে কাঁদতে দেখে তিনি মেয়েটির কাছে যান। তখন সঙ্গে সঙ্গে তিনি মেয়েটির একটি ছবি ফেইসবুকে পোস্ট দেন। পোস্ট দেওয়ার প্রায় পাঁচ থেকে ছয় ঘণ্টা পর এক লোক আমার সঙ্গে ফেইসবুকে যোগাযোগ করেন। পরে স্থানীয় মেম্বার ও ফৌজদার হাট পুলিশের উপস্থিতে শিশু আরিশাকে তার মায়ের কাছে তুলে দেওয়া হয়। শিশু আরিশার মা হাসিনা বেগম বলেন, যখন আরিশাকে কোথাও খুঁজে পাওয়া যাচ্ছিল না, তখন আমার কাছে মনে হয়েছিল আরিশাকে কেউ না কেউ তুলে নিয়ে গেছে। মেয়েকে পেয়ে তিনি ফেসবুকে পোস্ট দেওয়া জুয়েলের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান। ...

এক কেজি পেঁয়াজের বিমান ভাড়া ১৫০ টাকা : বাণিজ্যমন্ত্রী

১২ডিসেম্বর,বৃহস্পতিবার,অর্থনীতি ডেস্ক,নিউজ একাত্তর ডট কম: দেশে পেঁয়াজের ঘাটতি মেটাতে উড়োজাহাজে করে প্রতি কেজি ১৫০ টাকা ভাড়া দিয়ে পেঁয়াজ আমদানি করা হয়েছে। মানুষের উপকারের জন্য সরকার এটা করেছে। বললেন বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি। আজ বৃহস্পতিবার রাজধানীর কারওয়ান বাজারে টিসিবি ভবনে বাংলাদেশ প্রতিযোগিতা কমিশন আয়োজিত এক আলোচনা সভায় মন্ত্রী এ কথা বলেন। বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, পেঁয়াজের দাম বৃদ্ধিতে ব্যবসায়ীরা সুযোগ নিয়েছে। ২৯ সেপ্টেম্বর ভারত যখন পেঁয়াজ রপ্তানি বন্ধ করে দেয়। সেদিন সন্ধ্যায় ঢাকার বাজারে পেঁয়াজের দাম দ্বিগুণ হয়ে যায়। কিন্তু সেসময় বাজারে যে পেঁয়াজ ছিল তাতো আমদানি আগেই করা হয়েছে। তাদের ধরলে বলে এখন সুযোগ পেয়েছে বলে লাভ করছে। তারা আসলে সুযোগ নিয়েছে। পেঁয়াজের দাম এমন একটা পর্যায়ে থাকা উচিত, যেখানে থাকলে কৃষকের লোকসান হবে না আবার সাধারণ মানুষেরও ক্রয় ক্ষমতার মধ্যে থাকবে বলে মনে করেন বাণিজ্যমন্ত্রী। বাংলাদেশ প্রতিযোগিতা কমিশনের চেয়ারপারসন মো. মফিজুল ইসলামের সভাপতিত্বে সেমিনারে আরও বক্তব্য রাখেন ড. শামসুল আলম, বাণিজ্য সচিব ড. জাফর উদ্দিন, এফবিসিসআই সভাপতি শেখ ফজলে ফাহিম প্রমুখ। পাশাপাশি, প্রতিযোগিতা কমিশনের কার্যক্রমের বিষয়ে প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গর্ভনর ড. ফরাসউদ্দিন। ...

সয়াবিন তেলের দাম বেড়েছে

২৮নভেম্বর,বৃহস্পতিবার,অর্থনীতি ডেস্ক,নিউজ একাত্তর ডট কম: রাজধানীর খুচরা বাজারে খোলা সয়াবিন তেলের দাম বাড়লেও উৎপাদকরা বলছেন, এর পেছনে তাদের কোনো হাত নেই। রাষ্ট্রায়ত্ত সংস্থা বাংলাদেশ ট্যারিফ কমিশনও বলছে, এই সময়ে কোম্পানিগুলো তেলের দাম বাড়াবে না। কিন্তু খুচরা বাজারে তেলের দাম ঠিকই বেড়ে গেছে। পাইকারি ব্যবসায়ীদের অজুহাত, আন্তর্জাতিক বাজারে বুকিং রেট বাড়ায় তেলের দাম বাড়ছে। যদিও এখনকার বুকিং করা তেল বাজারে আসবে কয়েক মাস পর। খুচরা ও পাইকারি বিক্রেতারা জানিয়েছেন, ১৫ দিনের ব্যবধানে প্রতি কেজি খোলা সয়াবিন তেলের দাম লিটারে ৫-৭ টাকা পর্যন্ত বেড়ে ৮৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে, যা আগে বিক্রি হতো ৭৮-৮০ টাকায়। আর পামওয়েলের দাম প্রতি লিটারে ৫ টাকা বেড়ে ৭০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। তবে বোতলজাত সয়াবিন তেলের দাম বাড়েনি। কোম্পানিভেদে প্রতি লিটার সয়াবিন বিক্রি হচ্ছে ১০০-১১০ টাকা দরে। জানতে চাইলে রাজধানীর কারওয়ান বাজারের তেল বিক্রেতা আবুল কাশেম জানান, প্রতি লিটার খোলা সয়াবিনে ৫-৭ টাকা পর্যন্ত দাম বেড়েছে। পাইকারি বাজারে দাম বৃদ্ধির কারণেই এই দাম বাড়ানো হয়েছে। রাজধানীর বৃহৎ পাইকারি বাজার মৌলভীবাজারের ব্যবসায়ী মোহাম্মদ আলী বলেন, আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম বাড়তি। বুকিং রেট (এলসি মূল্য) বেড়ে যাওয়ায় প্রতি মণ সয়াবিনে ২০০ টাকা এবং পাম ওয়েলে ৩৩০ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে। রাষ্ট্রীয় বিপণন সংস্থা ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশের (টিসিবি) বাজার বিশ্লেষণ বলছে, এক মাসের ব্যবধানে খোলা সয়াবিন তেলের দাম প্রায় দুই শতাংশ পর্যন্ত বেড়েছে। যেখানে পামওয়েলের দাম বেড়েছে ৮ শতাংশ পর্যন্ত। সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র বলছে, আন্তর্জাতিক বাজারে পামওয়েলের দাম বৃদ্ধি পেয়েছে বলে এর প্রভাব দেশি বাজারেও পড়েছে। তবে এ বিষয়টি স্বীকার করছে না ট্যারিফ কমিশন। তারা বলছে, আন্তর্জাতিক বাজারে সয়াবিন তেলের দাম স্থিতিশীল রয়েছে। তবে চীন-মার্কিন বাণিজ্যযুদ্ধের কারণে পামওয়েলের দাম বেড়েছে। জানা যায়, বর্তমানে আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতি টন সয়াবিন ৬৭১-৬৮০ ডলার এবং পামওয়েল ৬৩১-৬৫০ ডলারে বিক্রি হচ্ছে। দুটি কোম্পানি বোতলজাত তেলের দাম বৃদ্ধির একটি প্রস্তাবনা দিয়েছিল ট্যারিফ কমিশনের কাছে। তবে ট্যারিফ কমিশন তাদের আবেদনটি বাতিল করে দিয়ে বলেছে, দাম বৃদ্ধি করতে হলে ভোজ্যতেল পরিশোধন ও বাজারজাতকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর সংগঠনের মাধ্যমে সিদ্ধান্ত নিয়ে সম্মিলিতভাবে আবেদন করতে হবে। তখন যাচাই-বাছাই শেষ করে তবেই দাম বৃদ্ধির অনুমতি দেয়া হবে। গতকাল বুধবার ট্যারিফ কমিশনে ভোজ্যতেল উৎপাদনকারী, পরিশোধনকারী শিল্পের বিদ্যমান সমস্যা ও সম্ভাব্য সমাধান নিয়ে একটি সভা অনুষ্ঠিত হয়। যেখানে শীর্ষস্থানীয় উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান সিটি গ্রুপ, মেঘনা গ্রুপ, বসুন্ধরা গ্রুপ, টিকে গ্রুপ, বাংলাদেশ এডিবল ওয়েল, এস আলমসহ বেশ কয়েকটি প্রতিষ্ঠান উপস্থিত ছিলো। বৈঠক শেষে বাংলাদেশ ট্যারিফ কমিশনের চেয়ারম্যান মো. নূর-উর-রহমান বলেন, উৎপাদনকারী ও বাজারজাতকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে কথা হয়েছে, তারা তেলের দাম বাড়াবে না বলে আমাদের জানিয়েছে। তাই আপাতত তেলের দাম বৃদ্ধির কোনো সুযোগ নেই। খোলা সয়াবিনের দাম বৃদ্ধিতে কোম্পানিগুলোর কোনো ভূমিকা রয়েছে কিনা- জানতে চাইলে সিটি গ্রুপের নির্বাহী পরিচালক বিশ^জিত সাহা বলেন, বোতলজাত তেলের দাম বাড়েনি, আগের দামেই আমরা বিক্রি করছি। তবে খোলা তেলের বাজার আমাদের নিয়ন্ত্রণে নেই। এ বিষয়ে আমরা কিছু বলতে পারব না। ...

প্রাথমিকের শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষার ফল চলতি মাসেই

০২ডিসেম্বর,সোমবার,শিক্ষা ডেস্ক,নিউজ একাত্তর ডট কম: প্রাথমিকের শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষার ফল ডিসেম্বরের প্রথম সপ্তাহে প্রকাশ হতে পারে বলে জানিয়েছে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় সূত্র। প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সচিব আকরাম আল হোসেন বলেছেন, এর মাধ্যমে সারাদেশে সাড়ে ১৮ হাজার সহকারী শিক্ষক নিয়োগ দেয়া হবে। সারাদেশে শূন্য আসনের ভিত্তিতেই সংখ্যা নির্ধারণ করা হয়েছে। আগামী জানুয়ারি থেকে এসব শিক্ষকরা পাঠদান শুরু করবে। সচিব বলেন, নিয়োগ কার্যক্রম শেষে নতুন করে সারাদেশে প্রাক প্রাথমিক পর্যায়ে ২৬ হাজার শিক্ষক নিয়োগ দেয়া হবে। এ প্রস্তাব সচিব কমিটিতে পাঠানো হবে। সেখান থেকে অনুমোদন পেলে প্রজ্ঞাপন জারি করে নিয়োগ কার্যক্রম শুরু হবে। নিয়োগ কার্যক্রম শুরু করতে ইতোমধ্যে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরকে প্রস্তুতি শুরুর নির্দেশনা দেয়া হয়েছে বলেও তিনি জানান তিনি। ...

৪১তম বিসিএসের বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ

২৭নভেম্বর,বুধবার,শিক্ষা ডেস্ক,নিউজ একাত্তর ডট কম: ৪১তম বিসিএসের জন্য ৫ ডিসেম্বর থেকে আবেদন করা যাবে। বুধবার (২৭ নভেম্বর) বিকেলে বাংলাদেশ সরকারি কর্মকমিশনের (পিএসসি) ওয়েবসাইটে প্রকাশিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। বিসিএসে ২ হাজার ১৬৬ জনকে নেওয়া হবে। প্রার্থীর বয়স ১ নভেম্বর থেকে গণনা করা হবে। প্রার্থীকে অনলাইনে আবেদন জানুয়ারির ৪ তারিখের মধ্যে করতে বলা হয়েছে। এবার সবচেয়ে বেশি নেওয়া হবে শিক্ষা ক্যাডারে। এই ক্যাডারে ৯০৫ জনকে নিয়োগ দেওয়া হবে। এর মধ্যে বিসিএস শিক্ষায় ৮৯২ জন প্রভাষক, কারিগরি শিক্ষা বিভাগে ১০ জন প্রভাষক নেওয়া হবে। শিক্ষার পর বেশি নিয়োগ হবে প্রশাসন ক্যাডারে। প্রশাসনে ৩২৩ জনকে নিয়োগ দেওয়া হবে। পুলিশে ১০০ জন, বিসিএস স্বাস্থ্যতে সহকারী সার্জন পদে ১১০ জন ও সহকারী ডেন্টাল সার্জন পদে ৩০ জনকে নেওয়া হবে। পররাষ্ট্রে ২৫ জন, আনসারে ২৩ জন, অর্থ মন্ত্রণালয়ে সহকারী মহা হিসাবরক্ষক (নিরীক্ষা ও হিসাব) ২৫ জন, সহকারী কর কমিশনার (কর) ৬০ জন, সহকারী কমিশনার (শুল্ক ও আবগারি) ২৩ জন ও সহকারী নিবন্ধক ৮ জন নেওয়া হবে। পরিসংখ্যান ও তথ্য ব্যবস্থাপনা বিভাগে পরিসংখ্যান কর্মকর্তা ১২ জন, রেলপথ মন্ত্রণালয়ে সহকারী যন্ত্র প্রকৌশলী ৪ জন, সহকারী ট্রাফিক সুপারিনটেনডেন্ট ১ জন, সহকারী সরঞ্জাম নিয়ন্ত্রক ১ জন, সহকারী প্রকৌশলী (সিভিল) ২০ জন, সহকারী প্রকৌশলী (যান্ত্রিক) ৩ জন নেওয়া হবে। তথ্য মন্ত্রণালয়ে সহকারী পরিচালক বা তথ্য কর্মকর্তা বা গবেষণা কর্মকর্তা পদে ২২ জন, সহকারী পরিচালক (অনুষ্ঠান) পদে ১১ জন, সহকারী বার্তা নিয়ন্ত্রক পদে ৫ জন, সহকারী বেতার প্রকৌশলী পদে ৯ জন, স্থানীয় সরকার বিভাগে বিসিএস জনস্বাস্থ্য প্রকৌশলে সহকারী প্রকৌশলী পদে ৩৬ জন, সহকারী বন সংরক্ষক পদে ২০ জন। সহকারী পোস্ট মাস্টার জেনারেল পদে ২ জন, বিসিএস মৎস্যে ১৫ জন, পশুসম্পদে ৭৬ জন, কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা ১৮৩ জন ও বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ৬ জন, বিসিএস বাণিজ্যে সহকারী নিয়ন্ত্রক ৪ জন। পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ৪ জন, বিসিএস খাদ্যে সহকারী খাদ্যনিয়ন্ত্রক ৬ জন ও সহকারী রক্ষণ প্রকৌশলী ২ জন, বিসিএস গণপূর্তে সহকারী প্রকৌশলী (সিভিল) ৩৬ জন ও সহকারী প্রকৌশলী (ই/এম) ১৫ জনসহ মোট ২ হাজার ১৩৫ জন কর্মকর্তাকে এই বিসিএসে নিয়োগ করা হবে। ...

ভারতকে বড় ব্যবধানে হারাল ক্যারিবীয়রা

১৬ডিসেম্বর,সোমবার,ক্রীড়া ডেস্ক,নিউজ একাত্তর ডট কম: টি-টোয়েন্টি সিরিজে ২-১ ব্যবধানে সিরিজ জিতলেও ওয়ানডে সিরিজে এসে প্রথম ম্যাচেই ৮ উইকেটে হেরেছে স্বাগতিক ভারত। ২৮৮ রানের লক্ষ্যে ব্যাট করতে নেমে ২ ওভার এক বল হাতে রেখেই জয় তুলে নিয়েছে ওয়েস্ট-ইন্ডিজ। তিন ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজের প্রথম ওয়ানডেতে চেন্নাইয়ের এমএ চিদম্বরম স্টেডিয়ামে টস জিতে স্বাগতিকদের ব্যাটিংয়ের আমন্ত্রণ জানায় উইন্ডিজ অধিনায়ক কায়রন পোলার্ড। ব্যাট করতে নেমে শুরুটা ভালো করতে পারেনি ভারতীয় তিন টপ-অর্ডার। ওপেনার রোহিত শর্মা ২৩ রানে বিদায়ের আগে ৬ রানে বিদায় নেন আরেক ওপেনার লোকেশ রাহুল আর ভিরাট কোহলি ফেরেন ৪ রানে। এরপর ৭০ রানের ইনিংস খেলেন শ্রেয়াস আইয়ার আর ৭১ রানের ইনিংস খেলেন ঋষভ পন্থ। শেষদিকে উম্মেশ যাদবের ৪০ ও রবীন্দ্র জাদেযার ২১ রানে ভর করে ৫০ ওভারে ৮ উইকেটে ২৮৭ রান তুলে ভারত। ক্যারিবীয়দের হয়ে ২টি করে উইকেট নেন শেলডন কট্রেল, কেমো পল ও আলজারি জোশেপ। ১ উইকেট নেন কাইরন পোলার্ড। জবাবে ব্যাট করতে নেমে যেন টেস্ট খেললেন উইন্ডিজ ওপেনার শাই হোপ। আরেক ওপেনার সুনীল অ্যাম্ব্রিস ৯ রানে সাজঘরে ফিরলেও হোপ খেলেন ১৫১ বলে ১০২ রানের ইনিংস। অপরাজিতই থেকে যান শেষ পর্যন্ত। হোপ ছাড়াও শতক হাঁকান শিমরন হেটমেয়ার। ১০৬ বলে খেলেন ১৩৯ রানের ইনিংস। হেটমেয়ার আউট হয়ে গেলেও নিকোলাস পুরাণ অপরাজিত ২৯ রানে অপরাজিত থেকে ম্যাচ শেষ করেন হোপকে নিয়ে। ভারতের হয়ে একটি করে উইকেট নেন দ্বীপক চাহার ও মোহাম্মদ শামী। সিরিজের দ্বিতীয় ম্যাচ অনুষ্ঠিত হবে ১৮ ডিসেম্বর ভিশাখাপত্থম স্টেডিয়ামে। ...

ফের পাকিস্তানের স্পিন বোলিং পরামর্শদাতা মুস্তাক আহমেদ

১৪ডিসেম্বর,শনিবার,ক্রীড়া ডেস্ক,নিউজ একাত্তর ডট কম: সাবেক লেগ-স্পিনার মুস্তাক আহমেদকে জাতীয় দলের স্পিন বোলিং পরামর্শদাতা হিসেবে নিয়োগ করল পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড। আগামী এক বছরের জন্য মুস্তাক এই দায়িত্বে থাকবেন। সূত্রের খবর, পাকিস্তান দলের লেগ-স্পিনার ইয়াসির শাহের বোলিং ধারালো করতে প্রয়োজনীয় পরামর্শ দেবেন মুস্তাক আহমেদ। অস্ট্রেলিয়ার বিরুদ্ধে দুই ম্যাচের টেস্ট সিরিজে ৪ উইকেট নিয়েছেন ইয়াসির। পাকিস্তানের ঘরোয়া ক্রিকেটসহ অনূর্ধ্ব-১৬ ও অনূর্ধ্ব-১৯ দলের বোলিং পরামর্শদাতা হিসেবেও তিনি কাজ করবেন। এর আগেও পাকিস্তান ক্রিকেট দলকে কোচিং করানোর সুযোগ পেয়েছেন সাবেক লেগ-স্পিনার মুস্তাক আহমেদ। ২০১৪ সালের মে মাসে জাতীয় দলের স্পিন বোলিং পরামর্শদাতা হিসেবেই তাকে নিয়োগ করেছিল পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড (পিসিবি)। সেসময় পাক জাতীয় দলের প্রধান কোচ ছিলেন সাবেক কিংবদন্তি পেসার ওয়াকার ইউনিস। দেশের হয়ে ৫২টি টেস্ট ও ১৪৪টি ওয়ান ডে খেলা মুস্তাক ২০০৮ থেকে ইংল্যান্ডের স্পিনং কোচিংয়ের দায়িত্ব সামলেছেন। ১৯৯০ থেকে ২০০৩ সাল পর্যন্ত এই ১৩ বছর দেশের হয়ে প্রতিনিধিত্ব করেছেন ৷ ১৯৯২ পাকিস্তানের বিশ্বকাপ জয়ী দলের সদস্য ছিলেন তিনি ৷ টেস্টে ১৮৫টি এবং ওয়ানডেতে ১৬১টি উইকেট নেওয়া লেগ-স্পিনারের উপর আবার আস্থা দেখাল পিসিবি। আন্তর্জতিক স্তরে অভিজ্ঞতার কথা বিবেচনা করেই লেগ-স্পিনারকেই স্পিন বোলিংয়ের পরামর্শদাতা হিসেবে বেছে নেন পিসিবি কর্মকর্তারা। ...

এশিয়ার সেরা আবেদনময়ী নারী আলিয়া

১৪ডিসেম্বর,শনিবার,বিনোদন ডেস্ক,নিউজ একাত্তর ডট কম: বলিউড অভিনেত্রী আলিয়া ভাট। এশিয়ার সবচেয়ে আবেদনময়ী নারী হিসেবে নির্বাচিত হয়েছেন তিনি। সম্প্রতি যুক্তরাজ্যভিত্তিক সাপ্তাহিক ম্যাগাজিন ইস্টার্ন আইয়ের অনলাইন ভোটের মাধ্যমে নির্বাচিত হয়েছেন তিনি। এ নিয়ে আলিয়া ভাট বলেন, আমি সব সময় বিশ্বাস করি, সত্যিকারের সৌন্দর্যটা ঠিক দেখার বিষয় নয়। যখন আমি বুড়ো হব, আমার চেহারা বদলে যাবে। কিন্তু একটা সুন্দর হৃদয় আমাকে সব সময় সুন্দর রাখবে। আর এটিই সৌন্দর্যের মূলকথা। ২০১৮ সালে এই তালিকায় আলিয়া ভাটের জায়গায় নাম ছিল দীপিকা পাডুকোনের। এ বছর তিনি সেরা আবেদনময়ী এশিয়ার তালিকার দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছেন। অপরদিকে টানা পাঁচ বছরের মতো সবচেয়ে আবেদনময়ী পাকিস্তানি নারী হয়েছেন মাহিরা খান। এশিয়ার সেরা আবেদনময়ী ৫০ জনের তালিকার ষষ্ঠ অবস্থানে রয়েছেন ক্যাটরিনা কাইফ। আর প্রিয়াঙ্কা চোপড়া হয়েছেন দশম। সেরা ৫০ এ স্থান পাওয়া সবচেয়ে কম বয়সি তারকার নাম অনন্যা পান্ডে। তিনি হয়েছেন ৩৬তম। সবচেয়ে বেশি বয়সি সাবেক বিশ্বসুন্দরী ঐশ্বরিয়া রাই। তালিকায় তার অবস্থান ৩৯তম। এছাড়া দশকের সেরা আবেদনময়ী নারী হয়েছেন দীপিকা পাড়ুকোন। দ্বিতীয় প্রিয়াঙ্কা চোপড়া, তৃতীয় মাহিরা খান। এই তালিকায় স্থান পেতে হলে ইন্ডাস্ট্রিতে অন্তত ১০ বছর ধরে কাজ করতে হয়। এর আগের সপ্তাহে পুরুষদের তালিকা থেকে জানা গিয়েছিল, দশকের সেরা আবেদনময় পুরুষ হয়েছেন ঋত্বিক রোশন। সূত্র : হিন্দুস্তান টাইমস...

চুম্বন নিয়ে মুখ খুললেন শ্বেতা

০৯ডিসেম্বর,সোমবার,বিনোদন ডেস্ক,নিউজ একাত্তর ডট কম: হিন্দি টেলিভিশনের দর্শক তাকে চেনে প্রেরণা হিসাবেই। তিনি শ্বেতা তিওয়ারি। সম্প্রতি মুক্তি পেয়েছে শ্বেতা অভিনীত ওয়েব সিরিজ হাম তুম অ্যান্ড দেম-এর ট্রেলার। যেখানে বোল্ড অবতারে ধরা পড়েছেন অভিনেত্রী। ট্রেলারে একটি দৃশ্যে সহ অভিনেতা অক্ষয় ওবেরয়কে চুম্বন করতে দেখা গেছে শ্বেতাকে। এধরনের বোল্ড দৃশ্যে শ্বেতা প্রথমবার অভিনয় করছেন। তবে মা-কে এমন চরিত্রে অভিনয় করতে দেখে কী বলছেন শ্বেতার বছর ১৯ এর মেয়ে পলক? সম্প্রতি পিঙ্ক ভিলাকে দেয়া সাক্ষাৎকারে সেকথাই খোলসা করেছেন শ্বেতা। তার কথায়, আমি ভীষণই ভয় পেয়ে গিয়েছিলাম। যখন প্রমোটা দেখলাম নির্মাতাদের কিছুটা আতঙ্কিত হয়েই জিজ্ঞাসা করেছিলাম এটা কী! আমি ঠিক বুঝতে পারছিলাম না, এটা আমার মা, পরিবার ও বন্ধরা কীভাবে নেবে? প্রথমে আমি ট্রেলারটা আমার মেয়ে পলককে পাঠাই এবং প্রশ্ন করি, কোনও দ্বিধা না রেখে এনিয়ে তুমি তোমার মতামত জানাতে পারো। ও আমায় লেখে, মা দারুণ, খুব ভালো। তখনই আমি আবারও ওয়েব সিরিজের নির্মাতাদের ডেকে আবারও জানাই, আমি দুঃখিত যে এই দৃশ্যটার জন্য আমি ওদের সঙ্গে এত ঝগড়া করেছি। পুরো বিষয়টা একতাও জানতে পারে আর সেকারণেই বোধহয় ও এটা নিয়ে মন্তব্য করেছিল।-বিনোদন২৪ ...

শত বছরের পুরোনো দুর্গাবাড়ী

বাঙালি হিন্দু সমাজের প্রধান ধর্মীয় উৎসব শারদীয়া দুর্গোৎসব। আর এই পুজোয় আপনিও ঘুরে আসতে পারেন সিলেটের শত বছরের পুরোনো দুর্গাবাড়ী থেকে। আর খরচের কথা ভাবছেন, মাত্র ৮০০ টাকা।শোনা যায় কলকাতার পাথরঘাটা নামক স্থানের এক সম্ভ্রান্ত জমিদার এই দুর্গাবাড়ী প্রতিষ্ঠান করেন। এই ব্যাপারে ব্রজেন্দ্র নারায়ণ চৌধুরী সম্পাদিত স্মৃতি প্রতিতি নামক বই এ উল্লেখ আছে। ব্রজেন্দ্র নারায়ণ চৌধুরী ছিলেন সিলেট সরকারি মহিলা কলেজের প্রতিষ্ঠাতা। স্বদেশি আন্দোলনে অনেক বীর এখানে এসে মায়ের পায়ে নিজের রক্ত দিয়ে প্রতিজ্ঞা করতেন নিজের আদর্শ থেকে এক চুলও বিচ্যুত হবেন না। স্বদেশকে পরাধীনতা থেকে মুক্ত করেই তবে ঘরে ফিরবেন।টিলার ওপর মূল মন্দির অবস্থিত। অর্ধশত সিঁড়ি ডিঙিয়ে আপনাকে পৌঁছাতে হবে মূল মন্দিরে। মূল মন্দিরে স্থাপিত দুর্গা প্রতিমা শত বছর ধরে পুজিত হয়ে আসছেন। পাশেই আছে আপনার বসার জন্য জায়গা। এর সাথেই আছে শিব মন্দির। টিলার থেকে দূরের দৃশ্য আপনাকে অভিভূত করবে। পূজার সময় ধূপ-ধূনার মোহনীয় গন্ধ আপনাকে নিয়ে যাবে এক অন্য জগতে।কীভাবে যাবেন,দুর্গাবাড়ী মন্দির যেতে হলে আপনাকে বাস/টেনে করে আসতে হবে সিলেট শহরে। প্রতিদিন ঢাকা থেকে সিলেটের উদ্দেশে বাস/ট্রেন ছাড়ে, ভাড়া পড়বে ৩২০ টাকা থেকে এক হাজার ২০০ টাকা। সিলেট শহরের যেকোনো প্রান্ত থেকে দুর্গাবাড়ী যাব বললেই আপনাকে নিয়ে যাবে শত বছরের পুরোনো দুর্গাবাড়িতে। রিকশা/সিএনজি ভাড়া নেবে ৮০ থেকে ১৫০ টাকা।...

ঈদের ছুটিতে পর্যটন নগরী কক্সবাজারে

বর্ষা মৌসুম তারপরও ঈদের ছুটিতে পর্যটন নগরী কক্সবাজারে ছুটে আসছেন পর্যটকরা। তাদের স্বাগত জানাতে প্রস্তুত কক্সবাজার। সৈকত শহরের ৪ শতাধিক হোটেল-মোটেল-গেষ্টহাউজ ও কটেজ কর্তৃপক্ষের প্রস্তুতিও শেষ। আর পর্যটকদের নিরাপত্তায় বিশেষ ব্যবস্থা নিয়েছে ট্যুরিস্ট পুলিশও। রমজানে বিশ্বের দীর্ঘতম সমুদ্র সৈকত কক্সবাজার পর্যটক শূন্য থাকলেও ঈদের ছুটিতে ভ্রমণ পিপাসুদের ঢল নামে এই সৈকতে। বর্ষা মৌসুম হওয়ায় প্রথমে পর্যটকের সংকটের আশঙ্কা দেখা দিয়েছিল কক্সবাজারে। তবে সব আশঙ্কাকে উড়িয়ে দিয়ে এরই মধ্যে হোটেল-মোটেল-গেস্ট হাউস ও কটেজের প্রায় ৮০ শতাংশ কক্ষ বুকড হয়ে গেছে। আর ব্যবসায়ীরাও নতুন সাজে সাজিয়েছেন তাদের প্রতিষ্ঠান। হোটেল কর্তৃপক্ষও পর্যটকদের নানান সুযোগ-সুবিধা দেয়াসহ শেষ করছে যাবতীয় প্রস্তুতি। তারা আশা , প্রতি বছরেই মতো এবারও ঈদের ছুটিতে ভালো ব্যবসা হবে। বর্ষা মৌসুম তাই সাগর উত্তাল থাকবে। এক্ষেত্রে অনাকাঙ্কিত দুর্ঘটনা এড়াতে পর্যটকদের সমুদ্রে স্নান ও নিরাপত্তায় কঠোর ব্যবস্থা নেয়ার দাবি জানালেন হোটেল ওনার্স এসোসিয়েশনের এ নেতা। কক্সবাজার হোটেল ওনার্স এসোসিয়েশনের মুখপাত্র মো. সাখাওয়াত হোসাইন জানান, 'সমুদ্র উত্তাল থাকবে। এখানে লাইফগার্ড ও পুলিশ ট্যুরিস্টদের তৎপরতাটা বৃদ্ধি করলে আমার মনে হয়, যারা কক্সবাজারে আসবেন তারা নিবিঘ্নে এখান থেকে ফিরতে পারবেন।' আর ট্যুরিস্ট পুলিশের এ কর্মকর্তা জানালেন, ঈদের ছুটিতে পর্যটকরা যাতে স্বাচ্ছন্দ্যে কক্সবাজার ভ্রমণ করতে পারে সেজন্য সব ধরণের পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে।...

১৬ ডিসেম্বর বাঙালি জাতির জীবনের সর্বোচ্চ এক গৌরবের দিন

১৬ডিসেম্বর,সোমবার,বিশেষ প্রতিবেদন,নিউজ একাত্তর ডট কম: ১৬ ডিসেম্বর আমাদের বিজয়ের দিন। এই দিনটিকে রাষ্ট্রীয়ভাবে, আন্তর্জাতিকভাবে বিশেষ সম্মানের সঙ্গে দেখা হয়। বাঙালি জাতির মুক্তির জন্য ১৯৭১ সালের ২৬ মার্চ স্বাধীনতা ঘোষণার পর দীর্ঘ ৯ মাস রক্তক্ষয়ী যুদ্ধের মধ্য দিয়ে বিজয় অর্জিত হয়। একাত্তরের ১৬ ডিসেম্বর বর্বর পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর আত্মসমর্পণের মধ্য দিয়ে স্বাধীনতা লাভ করে বাংলাদেশ। দিনটি বাঙালি জাতির জীবনে সর্বোচ্চ গৌরবের দিন। যতদিন পৃথিবীর বুকে বাংলাদেশ থাকবে, বাঙ্গালি জাতি থাকবে, ততদিন এই দিনটির গুরুত্ব ও সম্মান অক্ষুণ থাকবে। বাঙ্গালি জাতির ইতিহাস লড়াই-সংগ্রামের ইতিহাস, আত্মত্যাগের ইতিহাস। সেই ইতিহাসের পথ ধরেই বাঙালি জাতি পরাধীনতার শৃঙ্খল ভাঙতে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নেতৃত্বে ১৯৭১ সালে সশস্ত্র মুক্তিযুদ্ধে ঝাপিয়ে পড়ে। শাসন-শোষণ ও নির্যাতনের বিরুদ্ধে বাঙালি একে একে গড়ে তোলে আন্দোলন-সংগ্রাম। বায়ান্নের ভাষা আন্দোলন, ৫৪ এর যুক্তফ্রন্ট নির্বাচন, ৬২ এর শিক্ষা আন্দোলন, ৬দফা, ৬৯ এর গণঅভ্যুত্থান, ৭০ এর নির্বাচনে বিজয় লাভের মধ্য দিয়ে বাঙালি চূড়ান্ত বিজয়ের লড়াইয়ের জন্য প্রস্তুত হতে থাকে। বায়ান্নের ভাষা আন্দোলনের মাধ্যমে বাঙালির যে আন্দোলন শুরু হয় ঊনসত্তরের গণঅভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে সেই আন্দোলন চূড়ান্ত রুপ নেয়। যার চূড়ান্ত পরিণতি ঘটে মুক্তিযুদ্ধে বিজয়ের মধ্য দিয়ে। ১৯৭১ সালের ৭ মার্চ তৎকালীন রেসকোর্স ময়দানে (বর্তমানে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে) লাখ লাখ মানুষের সমাবেশে দেওয়া ঐতিহাসিক ভাষণে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বাঙালি জাতিকে মুক্তিযুদ্ধের জন্য প্রস্তত থাকার নির্দেশ দেন। তিনি ঘরে ঘরে দুর্গ গড়ে তোলার, যার যা কিছু আছে, তাই নিয়ে শত্রুর মোকাবেলা করার আহ্বান জানান। বঙ্গবন্ধুর ডাকে সাড়া দিয়ে প্রস্তুতি নিতে থাকে বাঙালি জাতি। ২৫ মার্চ কালো রাতে নিরীহ বাঙালির ওপর ঝাপিয়ে পড়ে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনি, শুরু করে গণহত্যা। শুরু হয় রক্তক্ষয়ী মুক্তিযুদ্ধ। দীর্ঘ ৯ মাস ধরে চলে এই যুদ্ধ। পাক হানাদার বাহিনী বাঙালির স্বাধীনতার সপ্নকে ভেঙে দিতে শুরু করে বর্বর গণহত্যা। গণহত্যার পাশাপাশি নারীনির্যাতন, ধর্ষণ, শহরের পর শহর, গ্রামের পর গ্রাম জ্বালিয়ে দেয় হানাদাররা। বাংলাদেশ পরিণত হয় ধ্বংস স্তুপে। আধুনিক অস্ত্র-সস্ত্রে সজ্জিত পাকিস্তান সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে অদম্য সাহস ও জীবনবাজি রেখে যুদ্ধ করে এদেশের কৃষক, শ্রমিক, ছাত্র, যুব, নারীসহ সব শ্রেনী-পেশার সর্বস্তরের বাঙালি। এই সময় বাংলাদেশের মানুষের পাশে দাঁড়ায় প্রতিবেশী ভারত। অস্ত্র, সৈন্য, খাদ্য, আশ্রয়সহ সার্বিক সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দেয়। আন্তর্জাতিক পরিসরে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের পক্ষে বিশাল ভূমিকা রাখে রাশিয়া (তৎকালীন সোভিয়েত ইউনিয়ন)। এছাড়া মুক্তিযুদ্ধের সঙ্গে একাত্মতা প্রকাশ করে এগিয়ে আসে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের মুক্তিকামী মানুষ। ৯ মাসের রক্তক্ষয়ী মুক্তিযুদ্ধে প্রায় ৩০ লাখ মানুষ শহীদ হন। বাঙালি জাতির মরণপণ যুদ্ধ এবং দুর্বার প্রতিরোধের মুখে পাক হানাদার বাহিনী ও তাদের দোসররা পরাজয়ের চূড়ান্ত পর্যায় বুঝতে পেরে বিজয়ের দুই দিন আগে জাতির সূর্যসন্তান বুদ্ধিজীবীদের বেছে বেছে হত্যা করে। অবশেষে বঙ্গবন্ধুর আহ্বানে ও নেতৃত্বে দীর্ঘ নয় মাস সশস্ত্র মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে চূড়ান্ত বিজয় অর্জিত হয় ১৬ ডিসেম্বর। ওই দিন বিকেলে পাকিস্তানি বাহিনী রেসকোর্স ময়দানে মিত্রবাহিনীর কাছে আত্মসমর্পণ করে। জাতি পায় স্বাধীন রাষ্ট্র, নিজস্ব পতাকা ও জাতীয় সংগীত। বঙ্গবন্ধুর অপরিসীম ত্যাগ ও আপোষহীন নেতৃত্বে পৃথিবীর মানচিত্রে জন্ম নেয় স্বাধীন-সার্বভৌম বাংলাদেশ। ৩০ লাখ শহিদ এবং দুই লাখ মা-বোনের অসামান্য আত্মত্যাগের বিনিময়ে আমরা পেয়েছি স্বাধীন বাংলাদেশ। লেখকঃ মোঃ ইরফান চৌধুরী,প্রকাশক,ই-প্রিয়২৪,প্রাবন্ধিক ও মানবাধিকার কর্মী,(ছাত্র)। ...

মানবাধিকার হলো ভয় ও পরাধীনতা থেকে মুক্তি

১০ডিসেম্বর,মঙ্গলবার,বিশেষ প্রতিবেদন,নিউজ একাত্তর ডট কম: মানবাধিকার হচ্ছে একজন মানুষের জন্মগত অধিকার। আর এই অধিকার কেউ কাউকে দেয় না। মানুষ হিসেবে তার প্রাপ্র এই অধিকার। একজন পরিপূর্ণ মানুষ হিসেবে বেড়ে ওঠার জন্য এই অধিকার দরকার। সর্বপরি মানবাধিকার হলো সব ধরনের ভয় ও পরাধীনতা থেকে মুক্তি। যা কিছু একজন মানুষের মর্যদাকে রক্ষা করে,সুরক্ষিত করে মর্যদাকে নানাভাবে বিকশিত হতে সাহায্য করে সেটিই হচ্ছে মানবাধিকার। তাই এইখানে একজন মানুষের সাথে আচরণ কি রকম হবে,তার জীবনের প্রতি কোন প্রকার হুমকি আছে কিনা,তার শিক্ষার সুযোগ ও চিন্তার স্বাধীনতা থাকবে কিনা,মানুষ হিসেবে অন্যের কাছ থেকে সম্মান পাওয়ার,মর্যদা পাওয়ার অধিকার রাখে কিনা এই সব কিছু মিলেই মানবাধিকারের ধারণা। মানবাধিকার সার্বজনীন। পৃথিবীর সব মানুষ তিনি যে দেশেরই হোক না কেন,গ্রামে বা শহরে যেখানেই বাস করুক,যে ধর্মেরই হোক সবার অধিকার সমান। একইভাবে সব মানুষ,নারী,পুরুষ,শিশু যাই হোক না কেন,যে ভাষাতেই কথা বলুক না কেন সবারই হবে সমান অধিকার। মানবাধিকারের একটি অন্যতম নীতি হচ্ছে মানুষের জন্মগত অধিকার গুলো কেউ কখনো কারো কাছ থেকে কেড়ে নিতে পারে না। এমনকি কোন মানুষ নিজেও কখনো তার মানবাধিকার ত্যাগ করতে পারে না। এছাড়াও বিভিন্ন ধরনের মানবাধিকার রয়েছে। যেমনঃ বাকস্বাধীনতার অধিকার,নির্ভয়ে স্বাধীনভাবে চলাফেরা করার অধিকার,জীবনধারণের অধিকার,সুন্দর ও সুশৃঙ্খলভাবে পরিবার পরিচালনার অধিকার, রাষ্ট্রে শান্তিতে বসবাস করার অধিকার,চুরি-ডকাতি ও সন্ত্রাসীদের হাত থেকে বাঁচার অধিকার,জুলুম-অত্যাচার ও নির্যাতনের হাত থেকে বাঁচার অধিকার,মিথ্যা ও বানোয়াট মামলা থেকে বাঁচার অধিকার,নিজের জমি-জমা,গাছ-পালা ও বাগান-বাড়ি সন্ত্রাসীদের লুট-পাট থেকে রক্ষার অধিকার,অন্যায়ভাবে কারো হামলা থেকে বাঁচার অধিকার,স্বাধীনভাবে চাকরি-বাকরি ও ব্যবসা বাণিজ্য করার অধিকার,সন্তানদের নৈতিক শিক্ষায় গড়ে তোলার পরিবেশ পাওয়ার অধিকার,দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষার অধিকার,দেশ,জাতি,সমাজ ও রাষ্ট্রকে কল্যাণরুপে গড়ে তোলার অধিকার,মানব সেবার অধিকার,পেট্রোল বোমার আঘাত থেকে বেঁচে থাকার অধিকার,জনসভা ও সভা-সমাবেশ করার অধিকার,গণতান্ত্রিক অধিকার সহ জননিরাপত্তার অধিকারও মানুষের মৌলিক মানবাধিকার। এছাড়াও বিভিন্ন ধরনের মানবাধিকার রয়েছে। মোট কথা- মানুষের মৌলিক জীবন ধারণের জন্য প্রয়োজনীয় সকল নিয়ামকের ওপর যৌক্তিক ও ন্যায়সঙ্গত অধিকার প্রতিষ্ঠাই হচ্ছে মানবাধিকার। মানবাধিকার কথাটি বাংলাদেশের প্রতিটি মানুষের নিকট অতি সুপরিচিত ও তাৎপর্যপূর্ন একটি শব্দ,মানবাধিকার শব্দের ইংরেজী প্রতি শব্দ হচ্ছে ঐঁসধহ জরমযঃং। বাংলা ভাষার দুটি গুরুত্বপূর্ণ শব্দের সমন্বয়ে মানবাধিকার শব্দটি গঠিত হয়েছে। একটি শব্দ- মানব অপরটি অধিকার। প্রথমটির অর্থ হচ্ছে মানুষ আর দ্বিতীয়টির অর্থ হচ্ছে যারা মানুষ তাদের অধিকার। অর্থ্যাৎ মানবাধিকার কথাটির পরিপূর্ণ অর্থ দাড়ায় মানুষের অধিকার। মৌলিক চাহিদা পূরণসহ নিরাপত্তামূলক জীবনযাপনের নিশ্চয়তা বিধান করা সরকার ও মানবাধিকার সংরক্ষণ সংশ্লিষ্ট সংস্থাসমূহের প্রধান লক্ষ্য হওয়া উচিত। তাই শুধু অন্ন, বস্ত্র,বাসস্থান,শিক্ষা ও চিকিৎসা নয় বরং এগুলোর পাশাপাশি অন্যান্য সকল অধিকার যথাযথভাবে নিশ্চিত করতে পারলেই কেবল মানবাধিকার নিশ্চিত হবে। নির্যাতিত নিপীড়িত ও বঞ্চিত মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠায় সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ট মহামানব আমাদের প্রিয় নবী হযরত মুহাম্মদ (সাঃ) আজীবন সংগ্রাম করে গেছেন। গোটা পৃথিবীর মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠায় ও রক্ষায় তিনি সংগ্রাম করেছেন। আমাদের মহান সৃষ্টিকর্তা আল্লাহ তায়ালা পবিত্র কুরআনে দ্ব্যর্থহীনভাবে নির্যাতিত নিপিড়ীত মানবতার পাশে দাঁড়ানোর ঘোষনা করেছেন। তিনি বলেছেন; কি কারনে তোমরা সেসব নারী,পুরুষ ও শিশুদের খাতিরে আল্লাহর অনুসৃত পথে সংগ্রাম করছো না? অথচ যারা নির্যাতিত নিপিড়ীত ও দুর্বল হবার কারণে আমার নিকট ফরিয়াদ করছে। এবং বলছে; হে আল্লাহ! তুমি আমাদের এ জালিমদের অত্যাচার থেকে বের করে নাও। অথবা তোমার পক্ষ থেকে আমাদের জন্য কোন দরদী-বন্ধু ও সাহায্যকারী পাঠিয়ে দাও,(সূরা নিসা-৭৫)। আমাদের দেশে অতীত নেতৃত্ব দানে যারা স্মরণীয় ও বরণীয় হয়ে আছেন, তারাও আমরণ মানবাধিকার প্রতিষ্ঠা ও আইনের শাসনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল ছিলন। শেরে বাংলা এ.কে ফজলুল হক,হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী,বাঙালি জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান,মাওলানা আব্দুল হামিদ খান ভাসানী তাদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য। আমাদের দেশের পবিত্র সংবিধানে ও গণতন্ত্র ও মৌলিক অধিকার প্রতিষ্ঠার কথা সন্নিবেশিত রয়েছে। সংবিধানের ১১ অনুচ্ছেদে সুস্পষ্টভাবে উল্লেখ আছে- প্রজাতন্ত্র হবে একটি গণতন্ত্র যেখানে মৌলিক মানবাধিকার ও স্বাধীনতার নিশ্চয়তা থাকিবে। মানবসত্তার মর্যদা ও মূল্যের প্রতি শ্রদ্ধাবোধ নিশ্চিত হইবে। এবং প্রশাসনের সকল পর্যায়ে ও নির্বাচিত প্রতিনিধিদের মাধ্যমে জনগনের কার্যকর অংশগ্রহন নিশ্চিত হইবে। লেখকঃ মোঃ ইরফান চৌধুরী,প্রকাশক,ই-প্রিয়২৪,প্রাবন্ধিক ও মানবাধিকার কর্মী,(ছাত্র)। ...

রাজাকারদের উত্তরসূরীদের সঙ্গে আপস নয়: কাদের

১৬ডিসেম্বর,সোমবার,রাজনীতি ডেস্ক,নিউজ একাত্তর ডট কম: সাম্প্রদায়িক অপশক্তির কারণে স্বাধীনতাকে এখনো সুসংহত করা যায়নি বলে জানিয়েছেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের। সোমবার (১৬ ডিসেম্বর) সকালে জাতীয় স্মৃতিসৌধে শ্রদ্ধা জানানো শেষে সাংবাদিকদের এ কথা বলেন তিনি। একই সঙ্গে রাজাকারদের উত্তরসূরীদের সঙ্গে কোনো আপস নয় মন্তব্য করে স্বাধীনতা বিরোধী শক্তির বিরুদ্ধে জনগণকে ঐক্যবদ্ধ করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন ওবায়দুল কাদের। তিনি বলেন, স্বাধীনতা বিরোধী, সাম্প্রদায়িক অপশক্তি, মুক্তিযুদ্ধে পাকিস্তানি হানাদারদের দোসর ও তাদের প্রেতাত্মারা আজও বাংলার মাটিতে বিজয়কে সুসংহতকরণের পথে অন্তরায় হয়ে দাঁড়িয়েছে। স্বাধীনতা বিরোধী কোনো শক্তি এবং তাদের বংশধরদের ব্যাপারে আমাদের কোনো আপস নেই। যারা মুক্তিযুদ্ধের সপক্ষের শক্তি কেবল তারাই আওয়ামী লীগ করতে পারবে।...

ভারতের সঙ্গে টানাপোড়েন সৃষ্টি হোক সেটা আমরা চাই না

১৫ডিসেম্বর,রবিবার,রাজনীতি ডেস্ক,নিউজ একাত্তর ডট কম: আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেছেন, ভারতের সঙ্গে আমাদের বাইলেটারেল (দ্বিপাক্ষিক) রিলেশন খুব ভাল। ইতিবাচক সম্পর্ক আছে, এ সম্পর্কে কোনো টানাপোড়েন সৃষ্টি হোক সেটা আমরা চাই না। রোববার (১৫ ডিসেম্বর) রাজধানীর বঙ্গবন্ধু অ্যাভিনিউয়ে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আওয়ামী লীগের ২১তম জাতীয় সম্মেলন উপলক্ষে স্বেচ্ছাসেবক ও শৃঙ্খলা উপকমিটির এক সভা অনুষ্ঠিত হয়। ওবায়দুল কাদের বলেন, এনআরসির বিষয়টি আমরা গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করছি। ভারত আমাদের প্রতিবেশী দেশ। একটা স্বার্বভৌম দেশ, স্বাধীন দেশ। ভারতের পার্লামেন্ট যে আইন পাশ হয়, লোক সভায়, রাজ্যসভায় সেটা তাদের অভ্যন্তরীণ বিষয়। এর প্রতিক্রিয়া কি হতে পারে, সে ব্যাপারে আমাদের বক্তব্য পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ভারতের হাইকমিশনারের মাধ্যমে জানিয়ে দিয়েছে। বিষয়টি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় দেখছে। তিনি আরও বলেন, যদি কোনো সমস্যা হয় তাহলে আমরা আলাপ আলোচনা করে সমাধান খুঁজে নেবে। ভারতের সাথে আমাদের বাইলেটারাল (দ্বিপাক্ষিক) আলোচনার সুযোগ আছে। আসন্ন জাতীয় সম্মেলন স্মরণকালের সবচেয়ে বড় সম্মেলন হতে যাচ্ছে বলেও এ সময় আশাবাদ ব্যক্ত করেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক। তিনি জানান, আওয়ামী লীগের ২১ তম জাতীয় সম্মেলনে শৃঙ্খলা উপকমিটি ২ হাজার লোক দায়িত্ব পালন করবে। সম্মেলনে শৃঙ্খলা বজায় রাখার জন্য। স্মরণকালের সর্ববৃহৎ সম্মলেন হবে। শৃঙ্খলার দিক থেকেও স্মরণীয় হবে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালের সভাপতিত্বে উপকমিটির সভায় উপস্থিত ছিলেন আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর কবির নানক, সাংগঠনিক সম্পাদক আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম, উপ দফতর সম্পাদক ব্যারিস্টার বিপ্লব বড়ুয়া প্রমুখ। ...

স্বামীর শ্রেষ্ঠ সম্পদ ঈমানদার স্ত্রী

৩০অক্টোবর,বুধবার,মো:ইরফান চৌধুরী,চট্টগ্রাম,নিউজ একাত্তর ডট কম: যে কারণে স্বামীর জন্য ঈমানদার স্ত্রী শ্রেষ্ঠ সম্পদ: হাদিসে সে বিষয়গুলো রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সুস্পষ্ট ভাষায় বর্ণনা করেছেন। তিনি পুরুষের জন্য চারটি বিষয়কে শুভলক্ষণ বলেছেন। আর তা হলো- নেককার নারী, প্রশস্ত ঘর, সৎ প্রতিবেশী এবং সহজ প্রকৃতির আনুগত্যশীল-পোষ্য বাহন। পক্ষান্তরে চারটি জিনিসকে কুলক্ষণা বলেছেন। তার মধ্যে একটি হলো বদকার নারী। (হাকেম, সহিহ আল জামে) অন্য হাদিসে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম একজন ঈমানদার স্ত্রীকে তার স্বামীর জন্য শ্রেষ্ঠ সম্পদ হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন। হাদিসটি তুলে ধরা হলো- হজরত ছাওবান রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন,যখন এ আয়াত নাজিল হলো- আর যারা সোনা-রূপা সঞ্চয় করে (আয়াতের শেষ পর্যন্ত); তখন আমরা নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের সঙ্গে কোনো এক সফরে ছিলাম। তখন তাঁর এক সাহাবি বললেন, এটাতো (আয়াত) সোনা-রূপা সর্ম্পকে নাজিল হলো। আমরা যদি জানতে পারতাম কোন সম্পদ উত্তম, তবে তা সঞ্চয় করতাম। তখন রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন, তোমাদের কারো শ্রেষ্ঠ সম্পদ হলো- আল্লাহর জিকিরকারী রসনা (জিহ্বা); কৃতজ্ঞ অন্তর; এবং ঈমানদার স্ত্রী, যে তার ঈমানের (দ্বীনের) ব্যাপারে তাকে (স্বামীকে) সহযোগিতা করে। (মুসনাদে আহমদ, তিরমিজি, ইবনে মাজাহ, মিশকাত) হাদিসের ব্যাখ্যাগ্রন্থ মাজাহেরে হক এ হাদিসের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ব্যাখ্যা বর্ণনা করেছেন। এ হাদিসে প্রিয়নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ঈমানদার স্ত্রীর ব্যাপারে গুরুত্ব দিয়েছেন। একজন ঈমানদার স্ত্রী তার স্বামীর জন্য সর্বোত্তম সম্পদও বটে। দ্বীনের ব্যাপারে স্বামীকে সহযোগিতার মর্মার্থ হলো- ঈমানদার স্ত্রী ধর্মীয় কার্যক্রম ও দ্বীনি দায়িত্বসমূহ পালনের ক্ষেত্রে তার স্বামীকে সহযোগিতা করবে। যেমন- নামাজের সময় হলে তার স্বামীকে নামাজের কথা স্মরণ করিয়ে দেবে; রমজান মাসের রোজা রাখার ব্যাপারে স্বামীকে সহযোগিতা করবে। অনুরূপভাবে একজন ঈমানদার স্ত্রী তার স্বামীকে ব্যবসা-বাণিজ্য, চাকরি-বাকরি, পরিবারের আনুসাঙ্গিক কাজকর্মসহ অন্যান্য সব ইবাদত-বন্দেগিতেও স্বামীকে বুদ্ধি পরামর্শ ও উপদেশ দিয়ে যথাসাধ্য সহযোগিতা করবে। ঈমানদার স্ত্রী বাড়িতে এমন পরিবেশ এবং আবহ সৃষ্টি করবে, যাতে স্বামী সারাক্ষণ পূণ্যকর্মে লিপ্ত থাকেন। অপকর্ম, অবৈধ উপার্জন এবং হারাম পেশা থেকে বিরত থাকেন। এমনকি স্বামী যদি কোনো মন্দ কাজে লিপ্ত হন তবে ঈমানদার স্ত্রী তাকে সেই মন্দ কাজ থেকে ফিরিয়ে আনবে। অবাধ্য স্বামীকে মন্দ কাজ থেকে ফিরিয়ে আনতে তার চেষ্টা অব্যাহত থাকবে। এ কারণেই রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ঈমানদার নেক্কার স্ত্রীকে স্বামীর জন্য সর্বোত্তম সম্পদ হিসেবে ঘোষণা করেছেন। আল্লাহ তাআলা মুসলিম উম্মাহ সব নারীকে দ্বীনদার ও ঈমানদার হিসেবে কবুল করুন। পৃথিবীর সব মুমিন নারীকে নেককার সন্তান, নেককার স্ত্রী ও নেককার মা হওয়ার তাওফিক দান করুন। আমিন। ...

মিষ্টি খেয়েও নিয়ন্ত্রণে থাকবে ডায়াবেটিস

ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে না থাকলে শরীরে বিভিন্ন ধরনের রোগ বাসা বাধে। তাই সুস্থ থাকতে হলে অবশ্যই ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে রাখতে হবে। অনেকে মনে করেন ডায়াবেটিস রোগীরা মিষ্টি খেতে পারবেন না। আপনি জানেন কি? নিয়ম মেনে ডায়াবেটিস রোগীরা মিষ্টি খেতে পারবেন। আসুন জেনে নিই যেসব নিয়ম মেনে ডায়াবেটিস রোগীরা মিষ্টি খেতে পারবেন? ১. ডায়াবেটিস রোগীদের সব থেকে বড় শত্রু হলো দুধ। মিষ্টি তৈরির জন্য প্রয়োজন হয় দুধের। তাই দুধ ছাড়া যদি অন্য কিছু দিয়ে মিষ্টি তৈরি করা যায়, তবে তা ডায়েটের প্রথম ধাপেই আমরা ব্লাড সুগার অনেকটাই নিয়ন্ত্রণ করতে পারব। ২: দুধ ছাড়াও আরও অনেক উপাদান আছে, যা দিয়ে বাড়িতে বসে মিষ্টি বানানো যায়। দুধের বিকল্প হিসাবে আপনি বেছে নিতে পারেন, প্রাকৃতিক মধু, নারিকেলের মাখন, গুড়, নারিকেলের চিনি প্রভৃতি। ৩. দুধের বিকল্প হিসাবে মিষ্টি তৈরিতে অ্যালমণ্ড, সয়াদুধ বা নারিকেলের দুধ অথবা বাদাম দুধও ব্যবহার করে দেখতে পারেন। ৪. এসব খাওয়ার আগে আপনাকে সুগারের লেভেল চেক করে নিতে হবে। কারণ না হলে আপনি বুঝতে পারবেন না যে খাবারগুলো আপনি রোজ গ্রহণ করছেন, সেগুলো আপনার শরীরের ব্লাড সুগারে কতটা প্রভাব ফেলছে। এ নিয়মগুলো মেনে চললে উৎসবের দিনে পরিবার-পরিজনের সঙ্গে হয়ে উঠুন আরও চনমনে প্রাণবন্ত।...

দেশের বিস্ময় বালিকা নানজীবার গল্প

সাক্ষাৎকার ডেস্ক,নিউজ একাত্তর ডট কম: নানজীবা খান। তার বয়স কিন্তু এখনও পেরোয়নি ১৮র কোঠা। আর এই বহুমুখী প্রতিভার অধিকারী টিনএজার এরই মধ্যে জন্ম দিয়ে চলেছেন এক একটি বিশ্বয়। ট্রেইনি পাইলট, সাংবাদিক, নির্মাতা, উপস্থাপিকা, টিভি টক শো'র অতিথি, লেখক, ব্র্যান্ড অ্যাম্বাসেডর, বিএনসিসি ক্যাডেট অ্যাম্বাসেডর এবং বিতার্কিক হিসেবে স্বাক্ষর রেখে চলেছেন নিজের প্রতিভার। আকাশ ছোঁয়ার স্বপ্ন নিয়ে অ্যারিরাং ফ্লাইং স্কুল-এ ট্রেইনি পাইলট হিসেবে চলছে তার অধ্যয়ন। এছাড়া তিনি কাজ করছেন শিশু সাংবাদিক হিসেবে, কাজ করছেন বিটিভির নিয়মিত উপস্থাপক হিসেবে, ব্রিটিশ আমেরিকান রিসোর্স সেন্টারের ব্র্যান্ড অ্যাম্বাসেডর হিসেবে কাজ করছেন। প্রামাণ্যচিত্র নির্মাতা হিসেবে পেয়েছেন ইউনিসেফের মিনা মিডিয়া অ্যাওয়ার্ড। আর সম্প্রতি ইউনিসেফের অধীনে বাংলাদেশের একমাত্র প্রতিনিধি হিসেবে কাজ করে এসেছেন দেশের বাইরেও। এই নিয়ে ১১টি দেশে কাজ করার অভিজ্ঞতা জমা হয়েছে তার ঝুলিতে। লেখক হিসেবে এবারের বই মেলায় প্রকাশিত হয়েছে তার গবেষণামূলক গ্রন্থ- অটিস্টিক শিশুরা কেমন হয়। প্রথম সংস্করণের সব বই বিক্রি হয়ে যাওয়ার পর ২য় সংস্করণ প্রকাশিত হয়েছে। বইটি প্রকাশ করেছে অন্বেষা প্রকাশন। বইটির প্রচ্ছদও করেছেন নানজীবা নিজে। তথ্যসমৃদ্ধ বইটি ইতোমধ্যে পাঠক সমাদৃত হয়েছে। প্রশ্ন আসে কিভাবে শুরু এই নানজীবার পথচলা? উত্তরে জানা যায়, নানজীবার শুরুটা হয়েছিল পাঁচ বছর বয়সে রঙ তুলি দিয়ে। মায়ের হাত ধরে গিয়েছিল কিশলয় কচিকাঁচার মেলায় ছবি আঁকা ও আবৃত্তি শিখতে। ২০০৭ সালে জীবনের প্রথম প্রতিযোগিতা জয়নুল কামরুল ইন্টারন্যাশনাল চিলড্রেন পেন্টিং কম্পিটিশনে অংশগ্রহণ এবং পুরস্কার অর্জন করেন। জীবনের প্রথম অর্জনই ছিল আন্তর্জাতিক। সেই থেকে পথ চলা শুরু। ছবি আঁকার জন্য বেশ কিছু জাতীয় এবং আন্তর্জাতিক পুরস্কার তার ঝুলিতে জমা হয়। ছবি আঁকার পাশাপাশি কবিতা আবৃত্তিতেও প্রশিক্ষণ নেন। বিভিন্ন দিবসগুলোর সকাল থেকে সন্ধ্যা কাটতো বিভিন্ন অনুষ্ঠানে মঞ্চে কবিতা আবৃত্তি করার মাধ্যমে। ২য় শ্রেণীতে পড়াকালীন বিটিভির- কাগজ কেটে ছবি আঁকি অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে মিডিয়ায় তার পথ চলা শুরু। বর্তমানে বিটিভিতে- আমরা রঙ্গিন প্রজাপতি, আমাদের কথা, আনন্দ ভুবন, ও শুভ সকাল অনুষ্ঠান উপস্থাপনা করছেন। ১৩ বছর বয়সে জীবনের প্রথম স্বল্প দৈর্ঘ্যের চলচ্চিত্র- কেয়ারলেস পরিচালনা করেন। তার পরিচালিত প্রথম প্রামাণ্যচিত্র সাদা কালোর জন্য ইউনিসেফের মিনা মিডিয়া অ্যাওয়ার্ড অর্জন করেন। আর এটি তৈরি করতে যা টাকা খরচ হয়েছে তার সবই ছিল তার টিফিনের জমানো টাকা। তারপর- গ্রো আপ, দ্য আনস্টিচ পেইন সহ আরও কিছু প্রামাণ্য চিত্র নির্মাণ করেন নানজীবা। ৮ম শ্রেণীতে পড়াকালীন শুরু হয় শিশু সাংবাদিক হিসেবে তার পথচলা। জীবনের ১ম সাক্ষাতকার নিয়েছিলেন বিশ্বসেরা অলরাউন্ডার সাকিব আল হাসানের। পর্যায়ক্রমে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী, পররাষ্ট্রমন্ত্রী, সংস্কৃতিমন্ত্রী, অর্থমন্ত্রী, শিক্ষামন্ত্রী, ভূমিমন্ত্রী, খাদ্যমন্ত্রী, বেসামরিক বিমান ও পর্যটন মন্ত্রী,সমাজকল্যাণ মন্ত্রী, টেলিযোগাযোগমন্ত্রী, তথ্য-প্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী, স্পিকার ড. শিরিন শারমিন চৌধুরী, মেয়র সাঈদ খোকনসহ বিভিন্ন পেশার বিশিষ্ট মানুষ যেমন- সায়মা ওয়াজেদ পুতুল, সেলিনা হোসেন, ইমদাদুল হক মিলন, হাবিবুল বাশার, আবেদা সুলতানা, সাদেকা হালিম, নিশাত মজুমদার, ফরিদুর রেজা সাগর, জুয়েল আইচ, মীর আহসান, Rabর প্রধান বেনজির আহমেদ, ব্রিগেডিয়ার জেনারেল এস এম ফেরদৌস। বিদেশও উজ্জ্বল সাংবাদিক নানজীবা। ওয়ার্ল্ড ডিবেট সোসাইটির পরিচালক অ্যালফ্রেড স্পাইডার ও ভারতের প্রতিরক্ষামন্ত্রী, প্রধানমন্ত্রী ও রাষ্ট্রপতির সঙ্গে সাক্ষাতের সুযোগও হয়েছে তার। একাদশ শ্রেণিতে পড়াকালীন দায়িত্ব পালন করেছেন ক্যামব্রিয়ান ডিবেটিং সোসাইটির ভাইস প্রেসিডেন্ট হিসেবে। স্কুল ও কলেজ জীবনে বিতার্কিক হিসেবে অর্জন করেছেন বেশ কিছু জাতীয় এবং আন্তর্জাতিক পুরস্কার। পেয়েছেন উপস্থিত ইংরেজি বক্তৃতায় বিএনসিসি ও ভারত্বেশ্বরী হোমসের প্রথম পুরস্কার। দ্বাদশ শ্রেণীতে পড়াকালীন- বিএনসিসি ক্যাডেট অ্যাম্বাসেডর হিসেবে বাংলাদেশ ন্যাশনাল ক্যাডেট কোর থেকে ৩ ধাপে লিখিত এবং মৌখিক পরীক্ষার পরে সারা দেশের হাজার হাজার ক্যাডেটদের মধ্য থেকে বিএনসিসি-র সবচেয়ে দীর্ঘ এবং ব্যয়বহুল সফর ভারতে অংশগ্রহণ করেন। ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী, রাষ্ট্রপতি প্রণব মুখার্জীর সাথে সাক্ষাৎ এবং প্রতিরক্ষামন্ত্রীর সাক্ষাৎকার নেয়ার সুযোগ হয়। রাশিয়া, ভারত, সিঙ্গাপুর, কাজাকিস্তান, কিরগিজস্তান, ভিয়েতনাম, শ্রীলংকা, নেপাল, ভুটান, মালদ্বীপসহ মোট ১১ টি দেশের সামনে বাংলাদেশকে তুলে ধরেছেন। প্রশিক্ষণের অংশ হিসেবে করেছেন বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর রাইফেলে ফায়ারিং, অ্যাসোল্ট কোর্স, বেয়নোট ফাইটিং ও সশস্ত্র সালাম। শতগুণে গুণান্বিত নানজীবার বিনয়ের এক চরম উদাহরণ। সর্বশেষ তাই সময় নিউজকে তিনি বলেন, কাজ শেখার চেষ্টা করছি। আমি কখনই শুধু দেশ নিয়ে ভাবি না। আমার লক্ষ্য সবসময় আন্তর্জাতিক। আমি চাই মানুষ নানজীবাকে দিয়ে গোটা বাংলাদেশ চিনুক। সেই সাথে আকাশে ওড়ার স্বপ্নও পূরণ করতে চাই। আর আমার সব কাজের প্রেরণা আমার ছোট ভাই ও আমার মা। আমি সকলের ভালোবাসা চায়। ...

শোকাবহ আগস্ট,শুরু হচ্ছে আওয়ামী লীগের মাসব্যাপি কর্মসূচি

০১আগস্ট,বৃহস্পতিবার,অনলাইন ডেস্ক,নিউজ একাত্তর ডট কম:শোকাবহ আগস্ট। ১৯৭৫ সালের এ মাসেই বাঙালি হারিয়েছে হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ সন্তান জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে। ২০০৪ সালের ২১শে আগস্ট গ্রেনেড হামলা চালিয়ে হত্যা চেষ্টা হয়েছিল প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে। ভাগ্যক্রমে সেদিন তিনি বেঁচে গেলেও এই ঘটনায় প্রয়াত প্রেসিডেন্ট জিল্লুর রহমানের সহধর্মিণী, আওয়ামী লীগের সেই সময়ের মহিলা বিষয়ক সম্পাদিকা আইভি রহমানসহ ২৪ জন নিহত এবং পাঁচ শতাধিক নেতা-কর্মী আহত হন। পঁচাত্তরের পনেরই আগস্ট কালরাতে ঘাতকরা শুধু বঙ্গবন্ধুকেই হত্যা করেনি, তাদের হাতে একে একে প্রাণ দিয়েছেন বঙ্গবন্ধুর সহধর্মিনী বঙ্গমাতা বেগম ফজিলাতুন্নেছা মুজিব, বঙ্গবন্ধুর সন্তান শেখ কামাল, শেখ জামাল, শিশু শেখ রাসেলসহ পুত্রবধু সুলতানা কামাল ও রোজি জামাল। পৃথিবীর এই ঘৃণ্যতম হত্যাকাণ্ড থেকে বাঁচতে পারেননি বঙ্গবন্ধুর সহোদর শেখ নাসের, ভগ্নিপতি আব্দুর রব সেরনিয়াবাত, ভাগ্নে শেখ ফজলুল হক মনি, তার সহধর্মিনী আরজু মনি ও কর্নেল জামিলসহ পরিবারের ১৬ জন সদস্য ও আত্মীয়-স্বজন। সেনাবাহিনীর কিছুসংখ্যক বিপথগামী সদস্য সপরিবারে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধুকে হত্যা করার পর গোটা বিশ্বে নেমে আসে শোকের ছায়া এবং ছড়িয়ে পড়ে ঘৃণার বিষবাষ্প। প্রতিবারের মত এবারও ১৫ই আগস্টকে সামনে রেখে আগস্টের প্রথম দিন থেকেই শুরু হচ্ছে আওয়ামী লীগসহ সহযোগী ও ভ্রাতৃপ্রতীম সংগঠনগুলোর মাসব্যাপি কর্মসূচি। বিভিন্ন সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনও এ মাসে বিস্তারিত কর্মসূচি গ্রহণ করেছে। শোকের মাসের প্রথম দিন মধ্য রাত ১২টা ১ মিনিটে প্রথম প্রহরে আলোর মিছিলের মধ্য দিয়ে মাসব্যাপী কর্মসূচি শুরু করে স্বেচ্ছাসেবক লীগ। সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক পংকজ দেবনাথ জানান, মিছিলটি ধানমন্ডি ৩২নং সড়ক ধরে বঙ্গবন্ধু স্মৃতি জাদুঘর অভিমুখে যাত্রা করবে। আজ সকালে কৃষকলীগের উদ্যোগে অনুষ্ঠিত হবে স্বেচ্ছায় রক্তদান কর্মসূচি। বিকাল ৩টায় বঙ্গবন্ধু স্মৃতি জাদুঘর প্রাঙ্গণে এ কর্মসূচির উদ্বোধন করবেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের। এ মাসের অন্যান্য কর্মসূচির মধ্যে রয়েছে বঙ্গমাতা বেগম শেখ ফজিলতুন্নেসা মুজিব, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের বড় ছেলে শেখ কামালের জন্মদিন পালন, ১৭ই আগস্ট দেশব্যাপী সিরিজ বোমা হামলা এবং ২১শে আগস্ট ভয়াবহ গ্রেনেড হামলা দিবস স্মরণ এবং জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের মৃত্যুবার্ষিকী পালন। শোকাবহ আগষ্টে অনলাইন নিউজ পোর্টাল www.newsekattor.com ও সংবাদের কাগজ পত্রিকার পক্ষ থেকে বিনম্র শ্রদ্ধা ।...

১৬ ডিসেম্বর বাঙালি জাতির জীবনের সর্বোচ্চ এক গৌরবের দিন

১৬ডিসেম্বর,সোমবার,বিশেষ প্রতিবেদন,নিউজ একাত্তর ডট কম: ১৬ ডিসেম্বর আমাদের বিজয়ের দিন। এই দিনটিকে রাষ্ট্রীয়ভাবে, আন্তর্জাতিকভাবে বিশেষ সম্মানের সঙ্গে দেখা হয়। বাঙালি জাতির মুক্তির জন্য ১৯৭১ সালের ২৬ মার্চ স্বাধীনতা ঘোষণার পর দীর্ঘ ৯ মাস রক্তক্ষয়ী যুদ্ধের মধ্য দিয়ে বিজয় অর্জিত হয়। একাত্তরের ১৬ ডিসেম্বর বর্বর পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর আত্মসমর্পণের মধ্য দিয়ে স্বাধীনতা লাভ করে বাংলাদেশ। দিনটি বাঙালি জাতির জীবনে সর্বোচ্চ গৌরবের দিন। যতদিন পৃথিবীর বুকে বাংলাদেশ থাকবে, বাঙ্গালি জাতি থাকবে, ততদিন এই দিনটির গুরুত্ব ও সম্মান অক্ষুণ থাকবে। বাঙ্গালি জাতির ইতিহাস লড়াই-সংগ্রামের ইতিহাস, আত্মত্যাগের ইতিহাস। সেই ইতিহাসের পথ ধরেই বাঙালি জাতি পরাধীনতার শৃঙ্খল ভাঙতে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নেতৃত্বে ১৯৭১ সালে সশস্ত্র মুক্তিযুদ্ধে ঝাপিয়ে পড়ে। শাসন-শোষণ ও নির্যাতনের বিরুদ্ধে বাঙালি একে একে গড়ে তোলে আন্দোলন-সংগ্রাম। বায়ান্নের ভাষা আন্দোলন, ৫৪ এর যুক্তফ্রন্ট নির্বাচন, ৬২ এর শিক্ষা আন্দোলন, ৬দফা, ৬৯ এর গণঅভ্যুত্থান, ৭০ এর নির্বাচনে বিজয় লাভের মধ্য দিয়ে বাঙালি চূড়ান্ত বিজয়ের লড়াইয়ের জন্য প্রস্তুত হতে থাকে। বায়ান্নের ভাষা আন্দোলনের মাধ্যমে বাঙালির যে আন্দোলন শুরু হয় ঊনসত্তরের গণঅভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে সেই আন্দোলন চূড়ান্ত রুপ নেয়। যার চূড়ান্ত পরিণতি ঘটে মুক্তিযুদ্ধে বিজয়ের মধ্য দিয়ে। ১৯৭১ সালের ৭ মার্চ তৎকালীন রেসকোর্স ময়দানে (বর্তমানে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে) লাখ লাখ মানুষের সমাবেশে দেওয়া ঐতিহাসিক ভাষণে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বাঙালি জাতিকে মুক্তিযুদ্ধের জন্য প্রস্তত থাকার নির্দেশ দেন। তিনি ঘরে ঘরে দুর্গ গড়ে তোলার, যার যা কিছু আছে, তাই নিয়ে শত্রুর মোকাবেলা করার আহ্বান জানান। বঙ্গবন্ধুর ডাকে সাড়া দিয়ে প্রস্তুতি নিতে থাকে বাঙালি জাতি। ২৫ মার্চ কালো রাতে নিরীহ বাঙালির ওপর ঝাপিয়ে পড়ে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনি, শুরু করে গণহত্যা। শুরু হয় রক্তক্ষয়ী মুক্তিযুদ্ধ। দীর্ঘ ৯ মাস ধরে চলে এই যুদ্ধ। পাক হানাদার বাহিনী বাঙালির স্বাধীনতার সপ্নকে ভেঙে দিতে শুরু করে বর্বর গণহত্যা। গণহত্যার পাশাপাশি নারীনির্যাতন, ধর্ষণ, শহরের পর শহর, গ্রামের পর গ্রাম জ্বালিয়ে দেয় হানাদাররা। বাংলাদেশ পরিণত হয় ধ্বংস স্তুপে। আধুনিক অস্ত্র-সস্ত্রে সজ্জিত পাকিস্তান সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে অদম্য সাহস ও জীবনবাজি রেখে যুদ্ধ করে এদেশের কৃষক, শ্রমিক, ছাত্র, যুব, নারীসহ সব শ্রেনী-পেশার সর্বস্তরের বাঙালি। এই সময় বাংলাদেশের মানুষের পাশে দাঁড়ায় প্রতিবেশী ভারত। অস্ত্র, সৈন্য, খাদ্য, আশ্রয়সহ সার্বিক সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দেয়। আন্তর্জাতিক পরিসরে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের পক্ষে বিশাল ভূমিকা রাখে রাশিয়া (তৎকালীন সোভিয়েত ইউনিয়ন)। এছাড়া মুক্তিযুদ্ধের সঙ্গে একাত্মতা প্রকাশ করে এগিয়ে আসে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের মুক্তিকামী মানুষ। ৯ মাসের রক্তক্ষয়ী মুক্তিযুদ্ধে প্রায় ৩০ লাখ মানুষ শহীদ হন। বাঙালি জাতির মরণপণ যুদ্ধ এবং দুর্বার প্রতিরোধের মুখে পাক হানাদার বাহিনী ও তাদের দোসররা পরাজয়ের চূড়ান্ত পর্যায় বুঝতে পেরে বিজয়ের দুই দিন আগে জাতির সূর্যসন্তান বুদ্ধিজীবীদের বেছে বেছে হত্যা করে। অবশেষে বঙ্গবন্ধুর আহ্বানে ও নেতৃত্বে দীর্ঘ নয় মাস সশস্ত্র মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে চূড়ান্ত বিজয় অর্জিত হয় ১৬ ডিসেম্বর। ওই দিন বিকেলে পাকিস্তানি বাহিনী রেসকোর্স ময়দানে মিত্রবাহিনীর কাছে আত্মসমর্পণ করে। জাতি পায় স্বাধীন রাষ্ট্র, নিজস্ব পতাকা ও জাতীয় সংগীত। বঙ্গবন্ধুর অপরিসীম ত্যাগ ও আপোষহীন নেতৃত্বে পৃথিবীর মানচিত্রে জন্ম নেয় স্বাধীন-সার্বভৌম বাংলাদেশ। ৩০ লাখ শহিদ এবং দুই লাখ মা-বোনের অসামান্য আত্মত্যাগের বিনিময়ে আমরা পেয়েছি স্বাধীন বাংলাদেশ। লেখকঃ মোঃ ইরফান চৌধুরী,প্রকাশক,ই-প্রিয়২৪,প্রাবন্ধিক ও মানবাধিকার কর্মী,(ছাত্র)।


দেশের বিস্ময় বালিকা নানজীবার গল্প

সাক্ষাৎকার ডেস্ক,নিউজ একাত্তর ডট কম: নানজীবা খান। তার বয়স কিন্তু এখনও পেরোয়নি ১৮র কোঠা। আর এই বহুমুখী প্রতিভার অধিকারী টিনএজার এরই মধ্যে জন্ম দিয়ে চলেছেন এক একটি বিশ্বয়। ট্রেইনি পাইলট, সাংবাদিক, নির্মাতা, উপস্থাপিকা, টিভি টক শো'র অতিথি, লেখক, ব্র্যান্ড অ্যাম্বাসেডর, বিএনসিসি ক্যাডেট অ্যাম্বাসেডর এবং বিতার্কিক হিসেবে স্বাক্ষর রেখে চলেছেন নিজের প্রতিভার। আকাশ ছোঁয়ার স্বপ্ন নিয়ে অ্যারিরাং ফ্লাইং স্কুল-এ ট্রেইনি পাইলট হিসেবে চলছে তার অধ্যয়ন। এছাড়া তিনি কাজ করছেন শিশু সাংবাদিক হিসেবে, কাজ করছেন বিটিভির নিয়মিত উপস্থাপক হিসেবে, ব্রিটিশ আমেরিকান রিসোর্স সেন্টারের ব্র্যান্ড অ্যাম্বাসেডর হিসেবে কাজ করছেন। প্রামাণ্যচিত্র নির্মাতা হিসেবে পেয়েছেন ইউনিসেফের মিনা মিডিয়া অ্যাওয়ার্ড। আর সম্প্রতি ইউনিসেফের অধীনে বাংলাদেশের একমাত্র প্রতিনিধি হিসেবে কাজ করে এসেছেন দেশের বাইরেও। এই নিয়ে ১১টি দেশে কাজ করার অভিজ্ঞতা জমা হয়েছে তার ঝুলিতে। লেখক হিসেবে এবারের বই মেলায় প্রকাশিত হয়েছে তার গবেষণামূলক গ্রন্থ- অটিস্টিক শিশুরা কেমন হয়। প্রথম সংস্করণের সব বই বিক্রি হয়ে যাওয়ার পর ২য় সংস্করণ প্রকাশিত হয়েছে। বইটি প্রকাশ করেছে অন্বেষা প্রকাশন। বইটির প্রচ্ছদও করেছেন নানজীবা নিজে। তথ্যসমৃদ্ধ বইটি ইতোমধ্যে পাঠক সমাদৃত হয়েছে। প্রশ্ন আসে কিভাবে শুরু এই নানজীবার পথচলা? উত্তরে জানা যায়, নানজীবার শুরুটা হয়েছিল পাঁচ বছর বয়সে রঙ তুলি দিয়ে। মায়ের হাত ধরে গিয়েছিল কিশলয় কচিকাঁচার মেলায় ছবি আঁকা ও আবৃত্তি শিখতে। ২০০৭ সালে জীবনের প্রথম প্রতিযোগিতা জয়নুল কামরুল ইন্টারন্যাশনাল চিলড্রেন পেন্টিং কম্পিটিশনে অংশগ্রহণ এবং পুরস্কার অর্জন করেন। জীবনের প্রথম অর্জনই ছিল আন্তর্জাতিক। সেই থেকে পথ চলা শুরু। ছবি আঁকার জন্য বেশ কিছু জাতীয় এবং আন্তর্জাতিক পুরস্কার তার ঝুলিতে জমা হয়। ছবি আঁকার পাশাপাশি কবিতা আবৃত্তিতেও প্রশিক্ষণ নেন। বিভিন্ন দিবসগুলোর সকাল থেকে সন্ধ্যা কাটতো বিভিন্ন অনুষ্ঠানে মঞ্চে কবিতা আবৃত্তি করার মাধ্যমে। ২য় শ্রেণীতে পড়াকালীন বিটিভির- কাগজ কেটে ছবি আঁকি অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে মিডিয়ায় তার পথ চলা শুরু। বর্তমানে বিটিভিতে- আমরা রঙ্গিন প্রজাপতি, আমাদের কথা, আনন্দ ভুবন, ও শুভ সকাল অনুষ্ঠান উপস্থাপনা করছেন। ১৩ বছর বয়সে জীবনের প্রথম স্বল্প দৈর্ঘ্যের চলচ্চিত্র- কেয়ারলেস পরিচালনা করেন। তার পরিচালিত প্রথম প্রামাণ্যচিত্র সাদা কালোর জন্য ইউনিসেফের মিনা মিডিয়া অ্যাওয়ার্ড অর্জন করেন। আর এটি তৈরি করতে যা টাকা খরচ হয়েছে তার সবই ছিল তার টিফিনের জমানো টাকা। তারপর- গ্রো আপ, দ্য আনস্টিচ পেইন সহ আরও কিছু প্রামাণ্য চিত্র নির্মাণ করেন নানজীবা। ৮ম শ্রেণীতে পড়াকালীন শুরু হয় শিশু সাংবাদিক হিসেবে তার পথচলা। জীবনের ১ম সাক্ষাতকার নিয়েছিলেন বিশ্বসেরা অলরাউন্ডার সাকিব আল হাসানের। পর্যায়ক্রমে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী, পররাষ্ট্রমন্ত্রী, সংস্কৃতিমন্ত্রী, অর্থমন্ত্রী, শিক্ষামন্ত্রী, ভূমিমন্ত্রী, খাদ্যমন্ত্রী, বেসামরিক বিমান ও পর্যটন মন্ত্রী,সমাজকল্যাণ মন্ত্রী, টেলিযোগাযোগমন্ত্রী, তথ্য-প্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী, স্পিকার ড. শিরিন শারমিন চৌধুরী, মেয়র সাঈদ খোকনসহ বিভিন্ন পেশার বিশিষ্ট মানুষ যেমন- সায়মা ওয়াজেদ পুতুল, সেলিনা হোসেন, ইমদাদুল হক মিলন, হাবিবুল বাশার, আবেদা সুলতানা, সাদেকা হালিম, নিশাত মজুমদার, ফরিদুর রেজা সাগর, জুয়েল আইচ, মীর আহসান, Rabর প্রধান বেনজির আহমেদ, ব্রিগেডিয়ার জেনারেল এস এম ফেরদৌস। বিদেশও উজ্জ্বল সাংবাদিক নানজীবা। ওয়ার্ল্ড ডিবেট সোসাইটির পরিচালক অ্যালফ্রেড স্পাইডার ও ভারতের প্রতিরক্ষামন্ত্রী, প্রধানমন্ত্রী ও রাষ্ট্রপতির সঙ্গে সাক্ষাতের সুযোগও হয়েছে তার। একাদশ শ্রেণিতে পড়াকালীন দায়িত্ব পালন করেছেন ক্যামব্রিয়ান ডিবেটিং সোসাইটির ভাইস প্রেসিডেন্ট হিসেবে। স্কুল ও কলেজ জীবনে বিতার্কিক হিসেবে অর্জন করেছেন বেশ কিছু জাতীয় এবং আন্তর্জাতিক পুরস্কার। পেয়েছেন উপস্থিত ইংরেজি বক্তৃতায় বিএনসিসি ও ভারত্বেশ্বরী হোমসের প্রথম পুরস্কার। দ্বাদশ শ্রেণীতে পড়াকালীন- বিএনসিসি ক্যাডেট অ্যাম্বাসেডর হিসেবে বাংলাদেশ ন্যাশনাল ক্যাডেট কোর থেকে ৩ ধাপে লিখিত এবং মৌখিক পরীক্ষার পরে সারা দেশের হাজার হাজার ক্যাডেটদের মধ্য থেকে বিএনসিসি-র সবচেয়ে দীর্ঘ এবং ব্যয়বহুল সফর ভারতে অংশগ্রহণ করেন। ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী, রাষ্ট্রপতি প্রণব মুখার্জীর সাথে সাক্ষাৎ এবং প্রতিরক্ষামন্ত্রীর সাক্ষাৎকার নেয়ার সুযোগ হয়। রাশিয়া, ভারত, সিঙ্গাপুর, কাজাকিস্তান, কিরগিজস্তান, ভিয়েতনাম, শ্রীলংকা, নেপাল, ভুটান, মালদ্বীপসহ মোট ১১ টি দেশের সামনে বাংলাদেশকে তুলে ধরেছেন। প্রশিক্ষণের অংশ হিসেবে করেছেন বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর রাইফেলে ফায়ারিং, অ্যাসোল্ট কোর্স, বেয়নোট ফাইটিং ও সশস্ত্র সালাম। শতগুণে গুণান্বিত নানজীবার বিনয়ের এক চরম উদাহরণ। সর্বশেষ তাই সময় নিউজকে তিনি বলেন, কাজ শেখার চেষ্টা করছি। আমি কখনই শুধু দেশ নিয়ে ভাবি না। আমার লক্ষ্য সবসময় আন্তর্জাতিক। আমি চাই মানুষ নানজীবাকে দিয়ে গোটা বাংলাদেশ চিনুক। সেই সাথে আকাশে ওড়ার স্বপ্নও পূরণ করতে চাই। আর আমার সব কাজের প্রেরণা আমার ছোট ভাই ও আমার মা। আমি সকলের ভালোবাসা চায়।

বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে সাংবাদিকদের অবদান চিরস্মরণীয়

০৭ডিসেম্বর,শনিবার,নিউজ একাত্তর ডট কম: বহু মুক্তিযুদ্ধ পৃথিবীর বুকে ঘটে গেছে। পরাধীনতা থেকে মুক্তিই যার প্রধান শর্ত। যুদ্ধগুলো ছিল মূলত সবল জাতির বিরুদ্ধে দূর্বল জাতির অস্তিত্ব রক্ষার লড়াই। বাংলাদেশের জাতীয় জীবনে বাঙালী জাতির স্বাধীনতার লড়াই- ই ছিল মুক্তিযুদ্ধ। দীর্ঘদিনের শোষণ আর বঞ্চনার ফলশ্রুতি ছিল এই মুক্তিযুদ্ধ। সেদিন বাংলাদেশ বলে পৃথিবীর মানচিত্রে কোনো দেশ ছিল না। আজকের বাংলাদেশ সেদিন পূর্ব পাকিস্তান। ১৯৪৭ এর ১৪ই আগষ্ট ভারতবর্ষ ভাগ হয়ে দুটো স্বাধীন সার্বভৌম রাষ্ট্র পৃথিবীর বুকে জন্ম নিল ভারতবর্ষ ও পাকিস্তান নাম নিয়ে । পশ্চিম বাংলা রয়ে গেল ভারতবর্ষে আর পূর্ব বাংলা হলো পশ্চিম পাকিস্তানের একটি প্রদেশ , নাম হলো পূর্ব পাকিস্তান।১৯৪৭ খ্রিষ্টাব্দে ইংরেজদের অধীনতা থেকে মুক্ত হবার পর সেদিন বাঙালী জীবনে নতুন ভোর আর নতুন বাচার প্রতিশ্রুতি। কিন্তু তা হলো না ১৯৪৭ থেকে আবার শুরু হলো নতুন সংগ্রাম। আবার জন্ম নিল বাংলা মায়ের বহু স্বাধীনতা সংগ্রামী সন্তান।১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধের সময় পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী যখন বুঝতে পেরেছিল, তাদের পরাজয় অনিবার্য তখনই পরিকল্পিতভাবে তারা জাতিকে মেধাশূন্য করার পরিকল্পনা গ্রহণ করে। নবগঠিত এই দেশটি যাতে শিক্ষা ও সাংস্কৃতিক দিক থেকে দুর্বল থাকে, কখনো মাথা তুলে দাঁড়াতে না পারে, সেজন্য তারা জাতির সূর্য-সন্তান বুদ্ধিজীবীদের নিধন করার এক কুৎসিত এবং লোমহর্ষক পরিকল্পনা করে। তাদের পরিকল্পনার মূল সহযোগী ছিল আল-বদর বাহিনী। এরাই ১১ ডিসেম্বর থেকে ব্যাপকভাবে বুদ্ধিজীবী নিধন পরিকল্পনার বাস্তবায়ন শুরু করে। সেই পরিকল্পনা অনুযায়ী ১৪ ডিসেম্বর রাতে পাকিস্তানি বাহিনী তাদের দেশীয় দোসরদের সঙ্গে নিয়ে দেশের বরেণ্য সকল শিক্ষাবিদ, গবেষক, চিকিৎসক, প্রকৌশলী, সাংবাদিক, কবি ও সাহিত্যিকদের চোখ বেঁধে নিজ নিজ বাড়ি থেকে তুলে আনে এবং পৈশাচিক নির্যাতনের পর হত্যা করে। পরিকল্পিত এই নারকীয় হত্যাযজ্ঞটিই বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রামের ইতিহাসে বুদ্ধিজীবী হত্যাকা- নামে পরিচিত। উইকিপিডিয়া থেকে প্রাপ্ত তথ্যমতে, মুক্তিযুদ্ধের সময় সারা দেশে ১ হাজার ১শ ১১ জন বুদ্ধিজীবীকে হত্যা করা হয়েছিল। এর ভেতর ১৩ জন ছিলেন সাংবাদিক। বাংলাদেশের স্বাধীনতা আন্দোলনে যুদ্ধপূর্ব পাকিস্তান শাসনামলে দৈনিক ইত্তেফাক, সংবাদ, পূর্বদেশ, জনপদ, অবজারভার বাঙালির চেতনাকে যেভাবে স্বাধিকার থেকে স্বাধীনতা আন্দোলনকে উদ্বুদ্ধ ও ঐকমত্য তৈরিতে ভূমিকা পালন করেছিল তা ইতিহাস হয়ে আছে। পরম শ্রদ্ধেয় তফাজ্জল হোসেন মানিক মিয়া, জহুর আহমেদ চৌধুরী, আহমেদুল কবির, আব্দুস সালাম, আবদুল গাফ্ফার চৌধুরী, এম. আর আক্তার মুকুল, রণেশ দাশগুপ্ত, কামাল লোহানী, সন্তোষ গুপ্তসহ নির্ভীক সাংবাদিকদের ভূমিকা আমাদের স্বাধীনতা আন্দোলনে আজো মাইলফলক হিসেবে চিহ্নিত। জীবন দিতে হয়েছে বেশ কয়েকজন সাংবাদিককে। একদল সাহসী সাংবাদিক ও সাহিত্যিক দেশের ভেতরে-বাইরে, অবরুদ্ধ রণাঙ্গনে বসে, পালিয়ে, গোপনে, প্রকাশ্যে বের করেন একাধিক সংবাদপত্র। মুক্তিযুদ্ধের শুরুতে পাকিস্তান বাহিনীর মর্টারের গোলায় তিনটি দৈনিক পত্রিকার প্রেস ও অফিস ধ্বংস হয়ে যায়। এগুলো হলো দৈনিক ইত্তেফাক, সংবাদ ও দ্য পিপল। ১৯৭১ সালের ২৬ মার্চ বিকেল ৪ টার দিকে ইত্তেফাক অফিসে দুটি ট্যাঙ্ক থেকে গোলা ছুড়ে সেই অফিসটি জ্বালিয়ে দেয়া হয়। ৩১ মার্চ খুব সকালে দখলদার পাকিস্তানি সেনাবাহিনী বংশালে অবস্থিত তৎকালীন দৈনিক সংবাদ অফিসে আগুন লাগিয়ে দেয়। তাতে শহীদ হন ওই পত্রিকার এক সময়কার সহকারি সম্পাদক সাংবাদিক এ কে এম শহীদুল্লা। যিনি শহীদ সাবের নামে পরিচিত। তিনি সংবাদ অফিসেই রাত কাটাতেন। অগ্নিদগ্ধ হয়ে তিনি মারা যান। মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণকারী সাংবাদিকদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হচ্ছেন দৈনিক পূর্বদেশ ও জয়বাংলা পত্রিকার সাংবাদিক আবুল মনজুর, চট্টগ্রামের মাসিক বান্ধবী পত্রিকার সাংবাদিক ও স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রের কথিকা পাঠিকা বেগম মুশতারী শফি, দৈনিক পাকিস্তান পত্রিকার সাংবাদিক ও স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রের কথক আবু তোয়াব খান, দৈনিক অবজারভার পত্রিকার সাংবাদিক ও স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রের চরমপত্র পাঠক এম.আর. আখতার মুকুল, সাংবাদিক ওয়াহিদুল হক, দৈনিক পূর্বদেশ পত্রিকার সাংবাদিক ও স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রের কথক মোহাম্মদ সলিমুল্লাহ, দৈনিক পূর্বদেশ ও জয়বাংলা পত্রিকার সাংবাদিক ও স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রের কথক রণজিত পাল চৌধুরী, দি পিপলের সাংবাদিক আবিদুর রহমান, দৈনিক ইত্তেফাক ও জয়বাংলা পত্রিকার মোহাম্মদুল্লাহ চৌধুরী, স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রের ইংরেজি বিভাগের সংগঠক আলমগীর কবির, খুলনার সাংবাদিক ও প্রধানমন্ত্রী কার্যালয়ের তথ্য কর্মকর্তা আলী তারেক, সাংবাদিক রণেশ দাশ গুপ্ত, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র ও সাংবাদিক মুছা সাদেক, দৈনিক সংবাদ পত্রিকার আবুল হাসনাত, দৈনিক পূর্বদেশ পত্রিকার মহাদেব সাহা, দৈসিক অবজারভার ও জয়বাংলা পত্রিকার এ.বি.এম.মুসা, সাপ্তাহিক হলিডের সাদেক খান, বাংলার বাণীর শফিকুল আজিজ মুকুল ও আমির হোসেন, দৈনিক আজাদ ও জয়বাংলা পত্রিকার আমিনুল হক বাদশা, দৈনিক অবজারভার পত্রিকার মৃণাল কুমার রায় ও জালাল উদ্দিন, দৈনিক বার্তা পত্রিকার আব্দুর রাজ্জাক চৌধুরী, দৈনিক আজাদী পত্রিকার সাধন কুমার ধর, দৈনিক পূর্বদেশ পত্রিকা এবং জয়বাংলা পত্রিকার সম্পাদক আব্দুল গাফফার চৌধুরী, দৈনিক অবজারভার পত্রিকার ফয়েজ আহমেদ, দৈনিক পূর্বদেশ পত্রিকার কামাল লোহানী, দৈনিক সংবাদ পত্রিকার সন্তোষ গুপ্ত, দৈনিক ইত্তেফাক পত্রিকার আল মাহমুদ, দি পিপল এর নির্মলেন্দু গুণসহ আরও অনেকে। এসব সাংবাদিকদের প্রায় সবাই স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রের সাথে কোন না কোন ভাবে যুক্ত ছিলেন। এখানে উল্লেখ করা প্রয়োজন, মহান মুক্তিযুদ্ধের সময় স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্র বিশ্বব্যাপী মুক্তিযুদ্ধের স্বপক্ষে সমর্থন আদায়ে এবং মুক্তিযোদ্ধাদের মনোবল চাঙ্গা রাখতে সংবাদসহ বিভিন্ন অনুষ্ঠান প্রচার করে। আর এই স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রের সঙ্গে জড়িত ছিলেন এক ঝাঁক নির্ভিক সাংবাদিক, সাহিত্যিক, শিল্পীসহ বহু বুদ্ধিজীবী। এ প্রসঙ্গে স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রের জনপ্রিয় রম্যকথিকা বিষয়ক অনুষ্ঠান চরমপত্র এর কথক ও লেখক সাংবাদিক এম আর আক্তার মুকুল, সংবাদভিত্তিক কথিকা বিশ্ব জনমতের কথক সাংবাদিক সাদেকীন, রম্যকথিকা পিন্ডির প্রলাপ অনুষ্ঠানের কথক আবু তোয়াব খান এর কথা বিশেষভাবে উল্লেখ করা যায়। ফয়েজ আহমদ, মোহাম্মদ উল্লাহ চৌধুরী, আবদুল গাফ্ফার চৌধুরী, কামাল লোহানী প্রমুখ সাংবাদিকরা স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রের সংবাদ বিভাগে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। কামাল লোহানী ছিলেন সংবাদ বিভাগের প্রধান। মুক্তিযুদ্ধকালীন কতজন সাংবাদিক শহীদ হয়েছিলেন তার সঠিক তথ্য না পাওয়া গেলেও উল্লেখযোগ্যরা হচ্ছেন, সিরাজুদ্দীন হোসেন, কার্যনিবাহী সম্পাদক দৈনিক ইত্তেফাক (নিহত ১০ ডিসেম্বর), শহীদুল্লাহ কায়সার, সহ- সম্পাদক দৈনিক সংবাদ (নিহত ১৪ ডিসেম্বর), শহীদ সাবের, সহকারী সম্পাদক দৈনিক সংবাদ (নিহত ৩১মার্চ), নিজাম উদ্দিন আহমেদ, জেনারেল ম্যানেজার পি.পি.আই সংবাদদাতা, বিবিসি, (নিহত ১২ ডিসেম্বর), আ.ন.ম গোলাম মোস্তফা, সিনিয়র সম্পাদক দৈনিক পূর্বদেশ, (নিহত ১১ ডিসেম্বর), চিশতি হেলালুর রহমান, বিশ্ববিদ্যালয় সংবাদদাতা দৈনিক আজাদ (নিহত ২৫ মার্চ), সৈয়দ নাজমুল হক, চিফ রিপোর্টার পি.পি.আই সংবাদদাতা, সি.বি.এস (নিহত ১১ ডিসেম্বর), খন্দকার আবু তালেব, সহ-সম্পাদক দৈনিক পয়গাম (নিহত ২৯ মার্চ), শেখ হাবিবুর রহমান, প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি ঝিনাইদহ প্রেসক্লাব (নিহত ১০ এপ্রিল), আবুল বাশার চৌধুরী, সাংবাদিক দৈনিক মর্নিং নিউজ (নিহত অক্টোবর), আবু সাঈদ, আঞ্চলিক প্রধান দৈনিক আজাদ-রাজশাহী, (নিহত ২৮ জুন), শেখ আব্দুল মান্নান (লাডু) সাংবাদিক দৈনিক অবজারভার, মোহাম্মদ আখতার, কর্মাধ্যক্ষ সাপ্তাহিক লালনা (নিহত ১৪ ডিসেম্বর), সেলিনা আক্তার পারভীন, সম্পাদিকা শিলালিপি (নিহত ১৪ ডিসেম্বর)। যুদ্ধের নয় মাসে অবরুদ্ধ বাংলাদেশ থেকে ব্যক্তি ও বিভিন্ন সংগঠনের উদ্যোগে বেশ কিছু পত্রিকা প্রকাশিত হয়েছিল। ১৯৭১ সালের মে মাসে স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্র নিয়মিত অনুষ্ঠান প্রচারের আগে এই পত্রিকাগুলোই ছিল যুদ্ধ সংক্রান্ত তথ্যপ্রাপ্তির প্রধান উৎস। যুদ্ধের শুরুতেই মুক্তিযুদ্ধের সপক্ষে ৩০ মার্চ উত্তর জনপদের এক মুক্তাঞ্চল নওগাঁ মহকুমা শহর থেকে নিয়মিতভাবে- দৈনিক জয় বাংলা পত্রিকা প্রকাশিত হয়। ১১ এপ্রিল পর্যন্ত মুক্তিযুদ্ধের একমাত্র এই দৈনিকটি প্রকাশিত হয়। ১৪ এপ্রিল নওগাঁ শহরে হানাদার বাহিনী ঢুকে পড়ে। সম্পাদক এদিন ভারত চলে যান। পঞ্চাশের দশকের শেষ থেকে প্রকাশিত হয়েছিল মাসিক-চিত্রাঙ্গদা। সিলেটের লেখক-সাংবাদিকদের পরিশ্রমের ফসল হিসেবে প্রতি সোমবার প্রকাশিত সাপ্তাহিক-জন্মভূমি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। জন্মভূমিতে প্রধানত প্রকাশ পেতো মুক্তিযুদ্ধকে ঘিরে প্রতিবেদন, আলোচনা, ব্যাঙ্গ চিত্র, ছবি প্রভৃতি। সাপ্তাহিক- বাংলার বাণী বিশিষ্ট ভূমিকা পালন করে। ২৫ মার্চ পাকিস্তানি বাহিনীর গণহত্যা শুরু হলে স্বভাবতই- বাংলার বাণীর প্রকাশনা বন্ধ হয়ে যায়। পরে এই পত্রিকার প্রকাশক ও সম্পাদক শেখ ফজলুল হক মণি মুজিবনগর থেকে বাংলার বাণী প্রকাশের ব্যবস্থা করেন। ৭ এপ্রিল ঠাকুরগাঁও থেকে প্রকাশিত হয় আরও একটি দৈনিক পত্রিকা- দৈনিক বাংলাদেশ। সম্পাদক ছিলেন গাজী মাজহারুল হুদা। মাত্র ছয়টি সংখ্যা প্রকাশের পর এটি বন্ধ হয়ে যায়। পরে মুক্তাঞ্চল তেতুলিয়া থেকে পত্রিকাটির আর চারটি সংখ্যা (১৮-৩০ জুন) প্রকাশিত হয়। মুক্তিযুদ্ধের ব্যাপক প্রচার ও বাংলাদেশ সরকারের মুখপত্র হিসেবে ১১ই মে ১৯৭১,জয় বাংলা পত্রিকা আত্মপ্রকাশ করে। সাপ্তাহিক জয়বাংলা ছিল মুজিবনগর সরকারের নিয়মিত রাজনৈতিক মুখপত্র। সম্পাদক ছিলেন মুজিবনগর সরকারের তথ্য দফতরের জনাব আব্দুল মান্নান। আব্দুল গাফফার চৌধুরীর সম্পাদনায় প্রকাশিত এই পত্রিকা দেশে-বিদেশে বিপুলভাবে সমাদৃত হয়। মুক্তিযুদ্বের সময় চট্টগ্রামের দৈনিক আজাদীর ভূমিকা ছিল প্রশংসনীয়। রণাঙ্গণ ছিল মুক্তিফৌজের সাপ্তাহিক মুখপত্র। সম্পাদক রণদূত। রণদূত সম্পাদকের ছদ্মনাম। ১১ জুলাই থেকে টাঙ্গাইল জেলা মুক্তিফৌজের বেসামরিক দপ্তর থেকে প্রকাশিত। ১৩ জুন থেকে প্রকাশিত হয় স্বাধীন বাংলার সাপ্তাহিক মুখপত্র বঙ্গবাণী। সম্পাদক কে এম হোসেন। ফিরোজ প্রিন্টিং প্রেস নওগাঁ থেকে মুদ্রিত এবং এম এ জলিল কর্তৃক প্রকাশিত হয়। ১৯৭১ সালের জুন মাসে ঢাকার রমনা থেকে সাপ্তাহিক বাংলাদেশ একটি পত্রিকা প্রকাশিত হয়। ২২ জুন থেকে ২০ নভেম্বর পর্যন্ত পত্রিকাটির ১০টি সংখ্যা পাওয়া যায়। ১৯৭১ সালের আগস্ট মাসে প্রকাশিত হয় সংবাদ নিবন্ধ সাপ্তাহিক বাংলার মুখ। সম্পাদক সিদ্দিকুর রহমান আশরাফী। রঞ্জিত প্রকাশনীর পক্ষে সম্পাদক কর্তৃক পলাশ আর্ট প্রেস, মুজিবনগর, বাংলাদেশ থেকে মুদ্রিত ও প্রকাশিত। স্বাধীন বাংলার সাপ্তাহিক মুখপত্র ছিল স্বাধীন বাংলা। প্রতিষ্ঠাতা সম্পাদিকা মিসেস জাহানারা কামরুজ্জামান। সম্পাদক এসএমএ আল মাহমুদ চৌধুরী কর্তৃক সম্পাদিত ও প্রকাশিত এবং বলাকা প্রেস, জামানগঞ্জ, রাজশাহী, বাংলাদেশ থেকে এমএ মজিদ কর্তৃক মুদ্রিত। ১৯৭১ সালের ১৬ জুন তারিখে প্রকাশিত হয় জাতীয়তাবাদী সাপ্তাহিক মুখপত্র স্বদেশ। জুলাই মাসে পূর্ব পাকিস্তানের (বাংলাদেশ) কমিউনিস্ট পার্টির মুখপত্র হিসেবে প্রকাশিত হয় সাপ্তাহিক মুক্তিযুদ্ধ। ১৯৭১ সালের জুলাই মাসে সরকার কবীর খানের সম্পাদনায়, কেজি মোস্তফার সার্বিক তত্ত্বাবধানে মুক্তি বাহিনীর সাপ্তাহিক মুখপত্র- সোনার বাংলা প্রকাশিত হয়। গেরিলা যুদ্ধের কলাকৌশলের খবর সংবলিত পত্রিকা- সাপ্তাহিক বিপ্লবী বাংলাদেশ প্রকাশিত হয় বরিশাল থেকে। রংপুরের রৌমারী মুক্তাঞ্চল থেকে আগস্ট মাসে সাইক্লোস্টাইলে প্রকাশিত হয় স্বাধীন বাংলার মুক্ত অঞ্চলের সাপ্তাহিক মুখপত্র সাপ্তাহিত অগ্রদূত। সম্পাদক আজিজুল হক। মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক মাসিক সাহিত্যপত্র- মুক্তি শত্রু পরিবেষ্টিত বাংলাদেশ থেকে সাইক্লোস্টাইলে প্রকাশিত হয়। সম্পাদক ছিলেন শরাফউদ্দিন আহমেদ। বাংলাদেশ ন্যাশনাল আওয়ামী পার্টির সাপ্তাহিক মুখপত্র ছিল নতুন বাংলা। বাংলাদেশ ন্যাশনাল আওয়ামী পার্টি (সভাপতি অধ্যাপক মোজাফফর আহমদ) কর্তৃক বাংলাদেশ থেকে মুদ্রিত ও প্রকাশিত। এই পত্রিকায় মুক্তিযুদ্ধের খবরসহ আন্তর্জাতিক বিশ্বে বাংলাদেশের ইস্যুকে তুলে ধরার লক্ষ্যে বিভিন্ন নিবন্ধ ছাপা হতো। ২০ সেপ্টেম্বর করিমগঞ্জ থেকে প্রকাশিত হয় বাংলাদেশের মুক্তি সংগ্রামে সিলেট জেলার নির্ভীক স্বাধীন মুখপত্র সাপ্তাহিক মুক্ত বাংলা। ১৯৭১ সালের ২০ সেপ্টেম্বর মুজিব নগর ও সিলেট থেকে একযোগে প্রকাশিত হতে থাকে গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের কণ্ঠস্বর সাপ্তাহিক বাংলা। সেপ্টেম্বর মাসে মুজিবনগর থেকে মোহাম্মদ জিন্নাত আলীর সম্পাদনায় প্রকাশিত হয়,মুক্তিযোদ্ধা ও সংগ্রামী জনতার মুখপত্র- সাপ্তাহিক দাবানল। সেপ্টেম্বরের শেষার্ধে প্রকাশিত হয় সাপ্তাহিক প্রতিনিধি। মওলানা ভাসানীর অনুসারী আব্দুর রহমান সিদ্দিকীর সম্পাদনায় ১৮ অক্টোবর প্রকাশিত হয়,বাংলাদেশের মুখপত্র। মুক্ত বাংলা নামের একটি পত্রিকা বাংলাদেশের কোনো এক স্থান থেকে প্রকাশিত এক পাতার ক্ষুদে পত্রিকা। মুক্তিফৌজের সাপ্তাহিক মুখপত্র হিসেকে জাগ্রত বাংলা প্রকাশিত হত। ময়মনসিংহ জেলা ও উত্তর ঢাকার বেসামরিক দপ্তর আসাদনগর (ডাকাতিয়া) থেকে প্রকাশিত ও প্রচারিত। রংপুর থেকে- রণাঙ্গন নামে আরও একটি পত্রিকা প্রকাশিত হতো। সাপ্তাহিক বাংলাদেশ নামে একটি পত্রিকা তড়িৎ সংগ্রাম পরিষদ কর্তৃক প্রকাশিত হতো। কমিউনিস্ট বিপ্লবীদের পূর্ব বাংলা সমন্বয় কমিটির চট্টগ্রাম বিভাগের পাক্ষিক মুখপত্র হিসেবে স্বাধীন বাংলা প্রকাশিত হতো। বাংলাদেশের জনযুদ্ধের মুখপত্র- হিসেবে ১৯৭১ সালের ২৭ অক্টোবর ফেরদৌস আহমদ কোরেশীর সম্পাদনায় প্রকাশিত হয় দেশবাংলা। নভেম্বর মাসে সিলেট অঞ্চল থেকে তুষার কান্তি করের সম্পাদনায় প্রকাশিত হয়- সংগ্রামী বাংলার কণ্ঠস্বর,সাপ্তাহিক দুর্জয় বাংলা। খোন্দকার শামসুল আলম দুদুর সম্পাদনায় সেপ্টেম্বর মাসে বাংলাদেশের সংগ্রামী জনতার সাপ্তাহিক মুখপত্র- সাপ্তাহিক স্বাধীন বাংলা পত্রিকা প্রকাশিত হয়। এছাড়া নোয়াখালী থেকে সাপ্তাহিক আমার দেশ, তেঁতুলিয়া থেকে সাপ্তাহিক সংগ্রামী বাংলা, ঢাকা থেকে সাপ্তাহিক অভিযান, লন্ডন থেকে বাংলাদেশ সংবাদপত্র পরিক্রমা, বাংলাদেশ নিউজ লেটার, পাক্ষিক বাংলাদেশ টুডে, ও সাপ্তাহিক জনমত, অ্যামেরিকা থেকে বাংলাদেশ পত্র, শিখা, স্ফুলিঙ্গ, বাংলাদেশ নিউজ লেটার, বাংলাদেশ ওয়েস্ট কাস্ট নিউজ বুলেটিন প্রকাশিত হতো। গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের বাংলাদেশ মিশন বহির্বিশ্ব প্রচার দফতর কর্তৃক মুজিবনগর বাংলাদেশ থেকে প্রকাশিত হয় ইংরেজি পত্রিকা সাপ্তাহিক বাংলাদেশ। পত্রিকাটি ১৯৭১ সালের জুন থেকে ডিসেম্বর মাস পর্যন্ত নিয়মিত প্রকাশিত হতো। ১৯৭১ সালের ২৪ সেপ্টেম্বর মুজিবনগর থেকে প্রকাশিত হয়,বাংলাদেশের সংগ্রামী জনগণের মুখপত্র- ইংরেজি পাক্ষিক দি ন্যাশন। মুজিবনগর থেকে প্রকাশিত হয় সাপ্তাহিক উত্তাল পদ্মা। এসএম ইকবাল, মিন্টু বসু, হেলাল উদ্দিনের সম্পাদনায় অনিয়মিত অর্ধ-সাপ্তাহিক বাংলাদেশে ১৭ এপ্রিল বরিশাল থেকে প্রকাশিত হয়। ভারতের গৌহাটি থেকে প্রকাশিত হয় মুক্তি। দি পিপল নামের একটি ইংরেজি পত্রিকা প্রকাশিত হয় আবিদুর রহমান এর সম্পাদনায়। স্বাধীন বাংলা-সোনার দেশ নামের একটি পত্রিকা প্রকাশিত হতো রাজশাহী থেকে। এসব পত্রিকা ছাড়াও আরো অনেক পত্র-পত্রিকা মুক্তিযুদ্ধের সময় প্রকাশিত হয়েছে। এসব পত্র-পত্রিকার উদ্দেশ্য একটাই ছিল,বাংলাদেশকে পরাধীনতা মুক্ত করা। এসব পত্র-পত্রিকায় যেসব সাংবাদিকরা কাজ করেছেন তারা জীবনের ঝুঁকি নিয়ে দেশ মাতৃকার মুক্তির লক্ষ্যে কাজ করেছেন। বীর মুক্তিযোদ্ধাদের বিজয়ের খবর সংগ্রহ করতে চলে গেছেন যুদ্ধ ক্ষেত্রে। সংগ্রহ করেছেন পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর পৈশাচিকতার ছবিও। তারপর সেগুলো পত্রিকায় প্রকাশ করে বাংলাদেশের স্বাধীনতার পক্ষে সৃষ্টি করতেন জনমত। গভীর শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করছি সেইসব সাংবাদিকদের যারা বাংলাদেশের মহান স্বাধীনতা যুদ্ধে শহীদ হয়েছেন। লেখকঃ মোহাম্মদ নাছির উদ্দিন চৌধুরী, সাংবাদিক,কলামিষ্ট ,সম্পাদক নিউজ একাত্তর ডট কম ও চট্টগ্রাম ব্যুরো প্রধান,দৈনিক আজকের বিজনেস বাংলাদেশ ।

আজকের মোট পাঠক

32718

নিউজ একাত্তর ডট কম

সম্পাদক : মোহাম্মদ নাছির উদ্দিন চৌধুরী

নির্বাহী সম্পাদক : আহাম্মদ হোসেন ভুইয়া

একটি পপুলার মিডিয়া পাবলিকেশন এর প্রকাশনা | রেজি নং: চ-১২৪২৭/১৭

সম্পাদকীয় ও বানিজ্যিক কার্যালয় : ৪১৬/সি,খিলগাও ঢাকা ০২৪৩১৫০৪৮৮, ০১৮২৪২৪৫৫০৪, ০১৭৭৮৮৮৮৪৭২

চট্টগ্রাম কার্যালয় : ১৯/২০/২১ বি ৩য় তলা, হানিমুন টাওয়ার,পাহাড়তলী,চট্টগ্রাম।

ই-মেইল : newsekattor@gmail.com, editorekattor@gmail.com, কপিরাইট ©newsekattor.com কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত