DHAKA, 19 September 2017

ইউনিজয় ফনেটিক
সেই দিন কি আর আসবে ফিরে!

2016-11-27

Share This News -

আমার ছোট চোখ দুটি যদি হয় অতীতের স্বপ্ন ধরে রাখার দূরবীন, তাহলে আমার ছোট বেলার প্রতিটি মুহূর্ত, প্রতিটি দিন সেই অতীতের স্বপ্ন ধরে রাখা সারি সারি করে সাজানো একেকটা মহা মূল্যবান শো পিস। আমার বুকের ভেতরের শ্বাস-প্রশ্বাসের যন্ত্রটা যদি হয় পৃথিবীর সর্বোচ্চ গুদাম, তাইতো সেখানে সারি বেঁধে সাজানো পণ্যের বস্তার মত আছে আমার ছেলেবেলার সেই সু- মধুর সময় আনন্দঘন মুহূর্ত দিনগুলি। আমি ভুলতে চাইলেও ভুলতে পারি না। ছোট বেলার সেই দিন গুলি যেন একটা জীবন্ত চিত্র গুলি জীবনের স্মৃতির পাতায় এ্যালবাম হয়ে আমার পেছনে হেঁটে বেড়ায় সর্বক্ষণ। আমাকে মাঝে মাঝে স্মৃতির কাতর করে, টেনে হেঁচড়ে নিয়ে যায় সেই মাটির আঁকা বাঁকা মেঠো পথে, মটরশুঁটির লতায়, হলুদ সরিষা ফুলের ক্ষেতে মাঠ, গ্রামের ছোট ছোট নালা - দীঘির জলে, শাপলা ফোঁটা ঝিলের ধারে; আম গাছের তলায়, জাম গাছের মগ ঢালে, শীতের সকালে কুয়াশা চাঁদরে মোড়া খেজুর গাছের তলে, মাটির কলসে ভরা সেই টাটকা স্বাদের রসের কাছে। সুনিবিড় শান্তির নীড়, দক্ষিণের খোলা জানালা, সারি সারি সুপারি গাছের সাথে মায়ের নষ্ট হয়ে যাওয়া আঁচলের টুকরো দিয়ে বাধানো দোলনায়, টলমল পুকুরের পানি, আমাকে আজও হাতছানি দিয়ে জাগ্রত করে। ছোট বেলায় গ্রামের মাটির ঘর বাঁশের বেড়া নেড় দিয়ে বাঁধা চাল, ঘন সেই সবুজ প্রাকৃতিক দৃশ্য শ্বাস-নিশ্বাস নিয়ে বড় হয়েছি। এখনকার গ্রামের ইট পাথরের জীবনে যখন হাঁপিয়ে উঠি, বুকের গভীর ভিতরের জমানো হতাশাটা যখন বাতাসে ভাসিয়ে দিয়ে চোখ বন্ধ করে আরামদায়ক খাটে শরীরটা হেলিয়ে নিদ্রায় দেই, তখন আমার চোখের সামনে খেলা করে দিগন্ত বিস্তৃত শস্য-শ্যামল সবুজ খোলা মাঠ, নীল আকাশের মুক্ত তারা, সোনালী ধানের শীষ। গাঁয়ের দক্ষিণ পাশে ছোট ছোট পুকুর গুলো লাফ দিয়ে সাঁতার কাটা আঁকা বাঁকা খাল গুলিতে বাদ দিয়ে সেচ করে মাছ ধরার সেই দিন গুলি কি করে ভুলি? অবাধ্য জীবনের দুরন্ত স্মৃতি গুলি এখনো মনে হয় ছুটে যাই সেই গাঁয়ে, ডেকে নেই সব বন্ধুদের, আবার দল বেঁধে নিয়ে সেই শৈশবে পথে ছুটে যাই। ছবিটি মুন্সিগঞ্জ সাতগাও এলাকা থেকে তোলা।

ফিচার