DHAKA, 19 September 2017

ইউনিজয় ফনেটিক
নারী নির্যাতন ও প্রতিরোধ

2016-12-05

Share This News -

আমাদের ন্যায় উন্নয়নশীল দেশের পুরুষ-শাসিত সমাজে নারীরা কোন না কোন ক্ষেত্রে নির্যাতিতা বা নিগৃহিতা হচ্ছে, এটা অস্বীকার করার কথা নয়। নারী ও পুরুষ উভয়েই স্রষ্টার সৃষ্ট শ্রেষ্ঠ প্রাণী বা ‘আশরাফুল মাকলুকাত’। সেই শ্রেষ্ঠ প্রাণী আজ আধুনিক সভ্যতার যুগেও চরমভাবে নির্যাতনের শিকার হবে তা ভাবতেও চিন্তাশক্তি আড়ষ্ট হয়ে যায়। ক্ষেত্র বিশেষে নারীরা আজ গৃহাভ্যন্তরেও নিরাপদ নয়। এক শ্রেণির পুরুষ মেয়েদের অসহায়ত্বের সুযোগে তাদেরকে ভোগের সামগ্রী বা পণ্য হিসেবে গণ্য করে ভোগের লালসা চরিতার্থ করতে গিয়ে মানব সভ্যতার ইতিহাসে কলঙ্কের অধ্যায় সূচনা করেছে। ফলে নারী নির্যাতন বন্ধে বা প্রতিরোধ করার লক্ষ্যে সরকার হতে আরম্ভ করে নারী সংগঠন ছাড়াও বিভিন্ন সামাজিক সাংস্কৃতিক ও রাজনৈতিক সংগঠন সকলেই কম বেশী এ ব্যাপারে সোচ্চার। প্রতিনিয়ত বিভিন্ন পত্র-পত্রিকায় নারী নির্যাতনের লোমহর্ষক ঘটনা প্রতিটি বিবেকবান ক্ষত-বিক্ষত করছে। নারী সমাজে তাদের অধিকার সংরক্ষণ করার জন্য পথে নেমেছে। বর্তমান সদাশয় সরকার নারী নির্যাতন বন্ধের ও প্রতিরোধের লক্ষ্যে কঠোর আইনও প্রণয়ন করেছে, সেই সমস্ত আইন কম বেশী দ্রুত প্রয়োগও হচ্ছে অধিকাংশ ক্ষেত্রে শাস্তির ব্যবস্থাও হচ্ছে। তথাপি কি নারী নির্যাতন বন্ধ হচ্ছে? না কাক্সিক্ষত ফল পাওয়া যাচ্ছে না। বরঞ্চ যৌতুকের অভিশাপে বলি দিতে হচ্ছে অসংখ্যা অসহায় নারীকে। তার কারণ কি? প্রতিকারই বা কি? তা প্রত্যেক সচেতন ব্যক্তিকে গভীরভাবে ও সুক্ষ্মভাবে চিন্তা করতে হবে। নারী মাতা, নারী ভগ্নি, নারী কন্যা, জায়াÑ এ কথা ভুলে গেলে চলবে না। তাই কবির ভাষায় বলতে হয় ‘এ বিশ্বে যা কিছু মহান সৃষ্টি চির কল্যাণকর, অর্ধেক তার করিয়াছে নারী, অর্দেক তার নর। কোন কালে একা হয়নি কো জয়ী পুরুষের তরবারী, প্রেরণা দিয়েছে। শক্তি দিয়েছে বিজয়ীলক্ষ্মী নারী। এই নারী আমাদের সমাজের অর্ধেক, তাদেরকে পশ্চাদে রেখে, হেয় প্রতিপন্ন করে সমাজের অগ্রগতি সম্ভব নয়। আমরা ইতিহাস পর্যালোচনা করলে দেখতে পাই যে আরব দেশে আইয়্যামে জাহেলিয়াতের যুগে যখন নারীদের জীবন্তাবস্থায় কবর দেওয়া হতো, নারীদের অভিশাপ মনে করা হতো, মনুষ্যত্ব পশুশক্তির বেদীমূলে আবদ্ধ ছিল, সেই ঘোর অমানিষার অন্ধকার হতে মানব সমাজকে রক্ষার জন্য পরিত্রাণ কর্তা হিসাবে আবির্ভূত হয়

ফিচার