প্রকাশ : 2020-05-30

দু দফা ক্ষমতায় থেকেও বিএনপি জিয়া হত্যার বিচার না করা রহস্যজনক

৩০মে,শনিবার,নিজস্ব প্রতিবেদক,নিউজ একাত্তর ডট কম: বেগম খালেদা জিয়া দু'দফা ক্ষমতায় থেকেও জিয়া হত্যার বিচার না করা রহস্যজনক বলে মন্তব্য করেছেন তথ্যমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ড. হাছান মাহমুদ। শনিবার (৩০ মে) দুপুরে রাজধানীর ধানমন্ডিতে আওয়ামী লীগ সভাপতির রাজনৈতিক কার্যালয়ে সমসাময়িক বিষয়ে সাংবাদিকদের সাথে সংক্ষিপ্ত মত বিনিময়কালে জিয়ার মৃত্যুবার্ষিকীতে বিএনপি মাজারে যায়, কিন্তু জিয়া হত্যার বিচার চায় না' - এ বিষয়ে মন্তব্য চাইলে মন্ত্রী এ কথা বলেন। ড. হাছান মাহমুদ বলেন, জিয়াউর রহমানের স্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া দুই দফায় দশ বছর প্রধানমন্ত্রী ছিলেন, আরো একবার বিতর্কিত নির্বাচনের মাধ্যমে এক মাসের বেশি ক্ষমতা কুক্ষিগত করে রেখেছিলেন। এটি সত্যিই রহস্যজনক যে জিয়াউর রহমান হত্যার বিচার তিনি করলেন না। সে কারণে জনগণের মনেও এটি প্রশ্ন যে, জিয়া হত্যার বিচার করলে থলের বিড়াল বেরিয়ে যাবে, এজন্যই কি তিনি বিচার করেননি!' তিনি আরও বলেন, 'সরকারের সুদক্ষ ব্যবস্থাপনার কারণেই এখনো আশেপাশের দেশ ও ইউরোপ-আমেরিকার চেয়ে আমাদের দেশে করোনায় আক্রান্তদের মৃত্যুহার অনেক কম, কিন্তু রুহুল কবির রিজভী সাহেবসহ বিএনপি নেতারা যেভাবে কথাবার্তা বলছেন, তাতে মনে হয়, তারা বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার উপদেষ্টার দায়িত্ব পেয়েছেন।' বিএনপিকে আশেপাশের দেশসহ বিশ্বের দিকে তাকানোর অনুরোধ জানিয়ে তিনি বলেন, 'পাকিস্তানে করোনা সংক্রমণের হার আমাদের চেয়ে বেশি। ভারতে সংক্রমণ চীনকে ছাড়িয়ে গেছে। আর বেলজিয়ামে সংক্রমিতদের মৃত্যুহার ১৫ শতাংশ, ব্রিটেনে ১৪, যুক্তরাষ্ট্রে ৬, ভারতে ৩ দশমিক ২, পাকিস্তানে ২ এর বেশি আর আমাদের দেশে ১ দশমিক ৩৬ শতাংশ। আমাদের স্বাস্থ্য ব্যবস্থাপনা যদি ভালো না হতো, তাহলে মৃত্যুহার ভারত-পাকিস্তানের মতো বা তার চেয়ে বেশি হতো। মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর সার্বক্ষণিক মনিটরিং ও সংশ্লিষ্ট সকলের অক্লান্ত পরিশ্রমের ফলেই আমরা মৃত্যুহার কমিয়ে রাখতে সক্ষম হয়েছি। বিএনপিকে অনুরোধ জানাবো, মিথ্যাচার না করে জনগণের পাশে এসে দাঁড়ান, আর আমাদের দুয়ার খোলা আছে, প্রয়োজনে আমাদের সাথে আপনারা একযোগে জনগণকে সহায়তা করার জন্য কাজ করতে পারেন', বলেন আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক। ড. হাছান আরো বলেন, 'যাদের প্রয়োজন সেইসব মানুষকে খুঁজে খুঁজে ত্রাণ দেয়া হচ্ছে। কেউ চায়নি, কিন্তু মোবাইলে আড়াই হাজার টাকা করে পৌঁছে গেছে, দাবি না থাকা সত্ত্বেও কওমী মাদ্রাসা ও মসজিদগুলোতে সহায়তা পৌঁছেছে। সাংবাদিক, শিল্পীসহ বিভিন্ন পেশার অসহায় মানুষের জন্য প্রধানমন্ত্রী সহায়তা দিচ্ছেন। আমি বিএনপি'কে একটু চক্ষু মেলিয়া আশেপাশের দেশে কোথাও এমন ত্রাণ ও সহায়তা দেয়া হয়েছে কি না দেখতে অনুরোধ জানাই। করোনা মহামারি মোকাবিলায় উহানে করোনার প্রাদুর্ভাব দেখা দেবার সাথে সাথে দেশের মানুষের সুরক্ষার জন্য প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বিভিন্ন পদক্ষেপের কথা উল্লেখ করে তথ্যমন্ত্রী বলেন, মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর গতিশীল নেতৃত্ব ও সময়োপযোগী বিচক্ষণ সিদ্ধান্ত সব শঙ্কা-আশংকা মিথ্যে প্রমাণ করেছে। করোনা সুরক্ষায় সরকারি ছুটি ঘোষণার পর থেকে প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনা দেশে ইতিহাসের বৃহত্তম ত্রাণ কার্যক্রম শুরু করেন। সে কারণে গত দু'মাসের বেশি প্রায় সব কাজ বন্ধ থাকার পরও পরম সৃষ্টিকর্তার অনুগ্রহ আর আমাদের চেষ্টায় একজন মানুষও অনাহারে মৃত্যুবরণ করেনি। আওয়ামী লীগের স্বাস্থ্য বিষয়ক সম্পাদক ড. রোকেয়া সুলতানা, দপ্তর সম্পাদক ব্যারিস্টার বিপ্লব বড়ুয়া, উপ-প্রচার সম্পাদক আমিনুল ইসলাম আমিন ও উপ-দপ্তর সম্পাদক সায়েম খান এসময় উপস্থিত ছিলেন।

জাতীয় পাতার আরো খবর